শব্দচয়ন ও শব্দ প্রয়োগে শিষ্টাচার (৫৭৫৬-৫৭৭৮)
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান সময় ও কালকে গালি-গালাজ করে, অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই রাত্রি ও দিবস (এর পরিবর্তন সাধিত হয়)।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে দুঃখ দেয়, সে সময়কে গালি দেয়, অথচ আমিই সময়, রাত ও দিন আমিই পরিবর্তন করে থাকি।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পবিত্র ও মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে দুঃখ দেয়, সে বলে, হায় সময়ের দুর্ভাগ্য। (আমার সময় মন্দ)! তোমাদের কেউ যেন হায় সময়ের দুর্ভাগ্য না বলে। কারণ, আমিই তো সময়; আর রাত্রি ও দিবস আমিই পরিবর্তন করে থাকি; আমি যখন ইচ্ছা করি তখন তাদের দু'টিকে সংকুচিত করে দেই।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন হায়! সময়ের ধ্বংস' না বলে। কারণ আল্লাহ সময়ের নিয়ন্ত্রক।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সময়কে গালি-গালাজ করো না। কারণ, আল্লাহ সময়ের পরিবর্তনকারী।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সময়কে গালি দিবে না। কারণ, আল্লাহ সময়ের নিয়ন্ত্রক। আর তোমাদের কেউ আঙ্গুরকে (বুঝাবার জন্য) 'আনব' এর পরিবর্তে 'কারমা' বলবে না। কারণ, 'কারমা' বদান্যতা ও মর্যাদা হলো মুসলিম লোক।
আমর আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা (আঙ্গুরকে) "আল কারম" বলো না, কারণ 'কারম' হলো মুমিনের অন্তর।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আঙ্গুরকে (আল-কারম) নামে ডেকো না। কারণ আল কারম হলো মুসলিম ব্যক্তি।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই তোমাদের কেউ যেন (আঙ্গুরকে) আল-কারম' না বলে। কারণ আল-কারম হলো মুমিনের অন্তর।
ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সে সব হাদীস যা আবূ হুরাইরাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এ কথা বলে তিনি কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেন, সে সবের একটি হলো- রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ আঙ্গুরকে কখনো (আল-কারম) বলবে না। "আল-কারম" তো মুসলিম লোক।
আলী ইবন খাশরাম .... আল্কামাহ ইবন ওয়ায়িল তার পিতার সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা (আঙ্গুরকে) আল-কারম' বলো না বরং 'আল হাবালাহ' বলো। (বর্ণনাকারী বলেন,) তিনি এ কথা বলে আঙ্গুরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলকামাহ্ ইবন ওয়ায়িল কে তার পিতার সনদে নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি। তিনি বলেন, তোমরা (আঙ্গুরকে) আল-কারম' বলো না।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন আমার আব্দ ও আমাত তথা আমার বান্দা, আমার বান্দী না বলে। কারণ তোমাদের সকল পুরুষই আল্লাহর বান্দা এবং তোমাদের সকল নারীই আল্লাহর বান্দী। সুতরাং বলবে, গোলামী, ওয়া জারিয়াতী, ওয়া ফাতায়া, ওয়া ফাতাতী' আমার সেবক, আমার সেবিকা।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই তোমাদের কেউ যেন আমার দাস না বলে। কারণ, তোমাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর দাস ও বান্দা। তবে সে বলবে আমার সেবক। আর কোন আবদ যেন তার মনিবকে আমার রব্ব' না বলে বরং বলবে আমার সাইয়্যিদ (মনিব ও নেতা)
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ .... আমাশ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের উভয়ের বর্ণনাতে রয়েছে, গোলাম তার সাইয়্যিদ ও মনিবকে আমার মাওলা' বলবে না। এবং (প্রথম সূত্রের) বর্ণনাকারী আবূ মুআবিয়াহ্ এর বর্ণিত হাদীসে বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, কারণ, তোমাদের মাওলা হলেন আল্লাহ।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সেসব হাদীস, যা আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এ কথা বলে তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। (সে সবের একটি হলো) রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, তোমাদের কেউ (মনিব সম্পর্কে এভাবে) বলবে না যে, তোমার রব্বকে পান করাও, তোমার রব্বকে খাবার দাও, তোমার রব্বকে ওযু করাও। তিনি আরও বলেন, তোমাদের কেউ যেন না বলে আমার রব্ব এবং বলবে আমার সাইয়্যিদ তথা সরদার বা নেতা, আমার মাওলা বা মনিব। আর তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমার দাস আমার দাসী, বরং বলবে, আমার সেবক, আমার সেবিকা।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ (নিজের দুরবস্থা প্রকাশে) বলবে না আমার মন খবীস (পিশাচ-ইতর-নিকৃষ্ট) হয়ে গেছে; বরং বলবে, আমার মন সংকুচিত ও ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে। এ ভাষ্য আবূ কুরায়ব বর্ণিত হাদীসের। আর আবূ বকর নবী (ﷺ) থেকে যা উল্লেখ করেছেন তাতে (কিন্তু, তবে) শব্দটির উল্লেখ নেই।
আবূ কুরায়ব .... আবূ মুআবিয়াহ্ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে অত্র হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ উমামাহ্ ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ তার পিতা সাহল এর সানাদে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ, আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে বলবে না; বরং আমার মন সংকুচিত ও বিমর্ষ হয়ে গেছে বলবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ সাঈদ খুদরী এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলের খাটো আকৃতির একটি স্ত্রীলোক দু'জন দীর্ঘাঙ্গী মেয়েলোকের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল। সে (উচু হওয়ার জন্য) এবং লোকদের চোখে ধরা না পড়ার জন্যে কাঠের দুটি পা তৈরি করে নিল এবং সোনা দিয়ে একটি বড় আংটি প্রস্তুত করে পরে তার ভিতরে মিশক ভরে দিল। আর তা হলো সুগন্ধি কূলের সেরা সুগন্ধি। পরে সে ঐ দু'মেয়েলোকের মধ্য থেকে চলতে লাগলো এবং লোকেরা তাকে চিনতে পারল না। সে সময় তার হাত দিয়ে এভাবে ঝাড়া দিল। (এ কথা বলে) বর্ণনাকারী শুবাহ তার হাত ঝাড়া দিলেন (এবং স্ত্রীলোকটির হাত ঝাড়ার ধরণ নকল করলেন)।
আমর আন্ নাকিদ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বনী ইসরাঈলের এক নারীর কথা বর্ণনা করলেন যে, তার আংটিটি মিশক ভরাট করে রেখেছিল। (এ বিষয়ে তিনি বললেন) আর মিশক হলো সর্বোত্তম সুগন্ধি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কারো নিকট কোন ফুল আনা হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কারণ, তা ওজনে হালকা এবং ঘ্রাণ উত্তম।
হারূন ইবন সাঈদ আইলী, আবূ তাহির ও আহমাদ ইবন ঈসা .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার অভ্যস্ত ছিলেন যে, যখন তিনি সুগন্ধির ধোয়া নিতেন, তখন সুগন্ধিযুক্ত কাঠের উদ (চন্দন কাঠ) ধোয়া নিতেন। তিনি এর সাথে কোন কিছু মিলাতেন না। আবার (কখনো) চন্দন কাঠের সঙ্গে কর্পূর ছিটিয়ে দিতেন। তারপর বলতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ রকমভাবে সুগন্ধি জ্বালাতেন।