bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

রোযা (২৩৮৬-২৬৭০)

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাস আসলে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলে বন্দী করা হয়।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাস উপস্থিত হলে রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আল হুলওয়ানী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে .... এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) রমযান মাস প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা (রমাযানের) চাঁদ না দেখে রোযা শুরু করবে না এবং চাঁদ (শাওওয়াল মাসের চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি এক হাতের উপর অন্য হাত মেরে (ইঙ্গিত করে) বললেন, মাস এ রকম, এ রকম এবং তৃতীয়বারে বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে হাত মারলেন (মাস উনত্রিশ দিনে)। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর (ঈদ কর)। আর যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

ইবন নুমায়র ... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সূত্রেও আবূ উসামাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আছেঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি আরো বলেন, যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। হাদীসটি আবূ উসামাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমাযান মাসের কথা আলোচনা করে বললেন, মাস উনত্রিশ দিনেও হয়। এ সময় তিনি তার হস্তদ্বয়ের আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, মাস এতো দিনে হয়, মাস এতো দিনে হয়। তারপর বললেন, তোমরা পূর্ণ কর। কিন্তু ত্রিশ দিনের কথা উল্লেখ করেননি।

যুহায়র ইবন হারব .... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাস সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ মাস (কোন কোন সময়) উনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি পুনরায় বলেন, মাস গণনা কর। কিন্তু তিনি ত্রিশ দিনের কথা বলেননি।

হুমায়দ ইবন মাস আদাহ্ আল বাহিলী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাধারণত মাস উনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই (রমাযানের) চাঁদ না দেখে রোজা পালন করো না এবং ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ কর।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাস উনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই তোমরা নতুন চাঁদ দেখে রোজা রাখা শুরু কর এবং নতুন চাঁদ (শাওয়ালের চাঁদ) দেখে ইফত্বার কর (ঈদ কর)। আর আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজুর .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা পালন কর (রাখা শুরু কর) এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিনে মাস পূর্ণ কর।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে মাস হয়। তৃতীয়বার তিনি তার বৃদ্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, উনত্রিশ দিনেও মাস (পূর্ণ) হয়।

সাহল ইবন উসমান .... আবদুল্লাহ ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাস এত দিনে, এত দিনে ও এত দিনে হয়ে থাকে। এ সময় তিনি প্রথমে দশ আঙ্গুলে, দ্বিতীয়বার দশ আঙ্গুলে এবং তৃতীয়বার নয় আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এত এত এবং এত দিনেও মাস হয়। তিনি দু'বার হাত মেরে তার সব আঙ্গুলগুলো খুলে ধরলেন এবং তৃতীয়বার তিনি বাম অথবা ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন (ইঙ্গিত করে দেখালেন, কোন কোন মাস উনত্রিশ দিনে হয়)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসন্না .... উকবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উনত্রিশ দিনেও মাস হয়। শুবাহ এ হাদীস বর্ণনা করার সময় তার দু হাত তিনবার বন্ধ করে দেখালেন এবং তৃতীয়বার তার বুড়ো আঙ্গুলটি বাকা (নীচু) করে রাখলেন। উকবাহ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, মাস ত্রিশ দিনেও হয় এবং দু' হাত তিনবার বন্ধ করেছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার .... সাঈদ ইবন আমর ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন উমারকে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা উম্মী (নিরক্ষর) জাতি। আমরা লেখিনা এবং হিসাবও করি না। মাসে দিনের সংখ্যা এত, এত এবং এত। তৃতীয়বারে তিনি নিজ হাতের বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে দু' হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন (তিনবার ইঙ্গিতে উনত্রিশ দিন প্রমাণ করলেন)। আর কোন কোন মাস এত, এত এবং এত দিনেও হয় (পূর্ণ ত্রিশ দিন হয়ে থাকে)।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আসওয়াদ ইবন কায়স থেকে এ সূত্রে হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে "দ্বিতীয় মাসের ত্রিশদিন" এ কথা উল্লেখ নেই।

আবূ কামিল আল জাহদারী .... সা'দ ইবন উবায়দাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, "আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে"। অতঃপর ইবন উমার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কবে জানলে আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দশটি আঙ্গুলের মাধ্যমে ইঙ্গিত করে দু'বার বলতে শুনেছিঃ "মাস এত দিনে ও এত দিনে হয়। তিনি দু'বার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন। তৃতীয়বারও তিনি তাই করলেন এবং সবগুলো আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ রাখলেন অথবা নীচু করে রাখলেন। (মাস কখনো উনত্রিশ দিনে আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। কাজেই মাস শেষ না হলে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে মাসের মধ্যরাত কোনটি)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন সওম আরম্ভ করবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশদিন রোজা পালন করবে।

আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম আল জুমাহী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (রমাযানের) চাঁদ দেখে রোজা পালন শুরু কর এবং (শাওয়ালের) চাঁদ দেখে ইফত্বার (ঈদ) কর। আর যদি (নতুন চাঁদ উদয়ের দিন) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে রোজা পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে দিনের সংখ্যা (ত্রিশ দিন) পূর্ণ কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চাঁদ দেখে রোজা পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর (রোজা সমাপ্ত কর)। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে তোমরা যদি মাসের আরম্ভ বা শেষ সম্পর্কে সন্দিহান হও তাহলে ঐ মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযানের একদিন কিংবা দু'দিন পূর্বে তোমরা (নাফল) সওম পালন করো না, তবে যে পূর্ব থেকেই এ সময়ের রোযায় অভ্যস্ত সে সওম পালন করতে পারে।

ইয়াহইয়া ইবন বিশর আল হারীরী, ইবন মুসান্না ও আবূ উমার এবং যুহায়র ইবন হারব, .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রমযান মাস শুরু হওয়ার একদিন বা দু' দিন পূর্ব থেকে রোজা পালন করো না। কিন্তু যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট একদিনে সর্বদাই রোজা পালন করে থাকে, আর ঐ নির্দিষ্ট দিনটি যদি চাঁদ উঠার দিন (বা তার আগের দিন) হয় তাহলে সে ঐ দিন রোজা পালন করতে পারে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) এক মাসের জন্য তার স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকার শপথ করলেন। যুহরী বলেন, উরওয়াহ আমাকে এটা আয়িশাহ এর সূত্রে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, শপথের পর আমি দিন গণনা করছিলাম, উনত্রিশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বপ্রথম আমার কাছে আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো একমাস আমাদের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকার শপথ করেছেন, অথচ আপনি উনত্রিশ দিন অতিবাহিত করে এসেছেন। আমি তো দিনগুলোর পূর্ণ হিসাব রেখেছি। (একমাসের একদিন বাকী আছে) তিনি বললেনঃ মাস তো উনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাসের জন্য তার স্ত্রীদের সন্নিধ্য ত্যাগ করেছিলেন। তিনি উনত্রিশতম দিনে আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, আজ তো উনত্রিশ দিন? তখন তিনি বললেনঃ উনত্রিশ দিনেও মাস হয়। তিনি তার উভয় হাত তিনবার একত্রে মিলিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন। তৃতীয়বার তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ রাখলেন।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার স্ত্রীদের থেকে একমাস বিচ্ছিন্ন থাকলেন। অতঃপর তিনি উনত্রিশতম দিনের সকালে আমাদের কাছে আসলেন। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজ তো আমরা উনত্রিশতম দিনের সকালে উপনীত হয়েছি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ মাস তো উনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি তিনবার উভয় হাত মিলালেন। প্রথম দু'বার উভয় হাতের সব আঙ্গুলগুলো একত্রে মিলালেন এবং তৃতীয়বার নয়টি আঙ্গুল একত্রে মিলালেন ও ইঙ্গিতে উনত্রিশ দিনে মাস বললেন।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একবার তার স্ত্রীদের সান্নিধ্য থেকে একমাস দূরে থাকার শপথ করলেন। অতঃপর উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে তিনি সকালে অথবা বিকালে তাদের কাছে আসলেন। তাকে বলা হলো, হে আল্লাহর নবী! আপনি এক মাস আমাদের কাছে না আসার শপথ করেছেন। তিনি (ﷺ) বললেন, উনত্রিশ দিনেও মাস হয়।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত। .... এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... সাদ ইবন ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার এক হাত দিয়ে অপর হাতের উপর আঘাত করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, মাস এভাবে এবং এভাবে। তিনি (ﷺ) তৃতীয়বারে একটি আঙ্গুল নীচু করে রাখলেন।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... মুহাম্মাদ ইবন সা'দ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ দশ দিন এবং নয় দিন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহযায .... ইসমাঈল ইবন আবূ খালিদ থেকে এ সানাদে উপরোক্ত দু'টি হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর ..... কুরায়ব থেকে বর্ণিত। হারিসের কন্যা উম্মুল ফাযল তাকে সিরিয়ায় মুআবিয়াহ এর নিকট পাঠালেন। কুরায়ব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমযান এসে গেল। আমি জুমুআর রাতে রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরে এলাম। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রোজা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমুআর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যা, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা রোজা পালন করেছে। এমনকি মুআবিয়াহ্-ও রোজা পালন করছেন। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোযা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফত্বার করব। আমি বললাম, আপনি কি মুআবিয়াহ এর চাঁদ দেখা ও রোজা পালন করাকে (রমাযান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেনঃ না, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে রোজা পালন করা ও ইফতার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূল বাখতারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা উমরাহ করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মক্কা ও ত্বায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত) "বাত্বনে নাখলাহ" নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে চাঁদ দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এ তো তিনদিনের চাঁদ, আবার কেউ বলল দু'দিনের। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবন "আব্বাস এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা চাঁদ দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এতো দু'দিনের চাঁদ আবার কেউ কেউ বলেছে এতো তিন দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন রাতে চাঁদ দেখেছে? আমরা বললাম, অমুক দিন, অমুক রাতে। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেদিন রাতে চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং চাঁদ সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবূল বাখতারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমরা যখন যাতু ইরক নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম তখন রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমরা এক ব্যক্তিকে ইবন আব্বাস এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। ইবন আব্বাস বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন, যদি তোমাদের নিকট অপ্রকাশিত থাকে (মেঘের কারণে) তাহলে তোমরা (ত্রিশ দিনে) মাস পূর্ণ কর।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুর রহমান ইবন আবূ বকরাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঈদের দু'মাস অসম্পূর্ণ হয় না। সে মাস দুটি হলো- রমযান ও যিলহাজ্জ।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ বকরাহ তার পিতা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ঈদের দু'মাস অসম্পূর্ণ হয় না। খালিদের বর্ণিত হাদীসে আছেঃ ঈদের দু' মাস হচ্ছে রমযান এবং যিলহাজ্জ।

আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ ... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। যখন এ আয়াত "পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে"-(আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৭) নাযিল হলো, তখন আদী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার বালিশের নীচে একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের রশি রেখে দিয়েছি। এগুলোর দ্বারা আমি রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে থাকি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) (হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে) বললেন, তোমার বালিশ তো খুবই চওড়া। জেনে রাখো, এ-তো রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।

উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী ... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিতও। তিনি বলেন, "পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে"(আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৭) নাযিল হল, তখন লোকেরা একটি কালো এবং একটি সাদা রশি রাখত। তারা উভয় রশি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকত। এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা (ফজরের) কথাটি নাযিল করে বিষয়টির অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূরীভূত হলো।

মুহাম্মদ ইবন সাহল আত তামীমী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিতও। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত "তোমরা সাদা রেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর" অবতীর্ণ হলো- কোন ব্যক্তি রোজা পালন করার ইচ্ছা করত এবং নিজের উভয় পায়ে সাদা ও কালো দুটি সূতা বেধে নিত। অতঃপর সাদা ও কালো বর্ণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার করতে থাকত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা "ফজরের" কথাটি অবতীর্ণ করলেন। তখন তারা সকলেই জানতে পারল যে, সাদা ও কালো রেখার অর্থ হলো রাত (রাতের অন্ধকার) ও দিন (দিনের আলো)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবন মাকতুমের আযান শুনতে না পাওয়া পর্যন্ত পানাহার করতে থাক।"

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবন মাকতুমের আযান না শুনা পর্যন্ত পানাহার করতে থাক।"

ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু'জন মুয়াযযিন ছিলেন, তারা হলেন, বিলাল ও উম্মু মাকতুমের অন্ধ ছেলে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বিলাল রাতেই আযান দেয়। অতএব ইবন উম্মু মাকতুম আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ দু'জনের আযানের ব্যবধান ছিল যে, একজন আযান দিয়ে নামত অপরজন আযান দিতে আরোহণ করত।

ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক, ইবন মুসান্না এরা উবায়দুল্লাহ এর বরাতে ইবন নুমায়রের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই যেন বিলালের আযান অবশ্যই তার সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা সে রাতেই আযান দেয়, যাতে তোমাদের কিয়ামকারীগণ সাহরী খেতে শুরু করে এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি সাহরী খাওয়ার জন্য জাগে। তিনি তার হাতে আঙ্গুল ফাকা করে দু'জনের আযানের সময়ের ব্যবধান বুঝালেন।

ইবন নুমায়র .... সুলায়মান আত তায়মী এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেনঃ এটাকে ফজর বলে না- এ বলে তিনি তার আঙ্গুলগুলো একত্র করলেন অতঃপর তা মাটির (পৃথিবীর) দিকে উল্টালেন। বরং ফজর এটাকে বলে- এ বলে তিনি তাসবীহ পাঠের আঙ্গুলের উপর আরেক তাসবীহ পাঠের আঙ্গুল স্থাপন করে তার দু'হাত সম্প্রসারণ করলেন।

আবূ বকর ইবন শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, জারীর ও মু'তামির উভয়েই সুলায়মান আত তায়মী এর বরাতে অত্র সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মু'তামির এর হাদীস এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে "তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দেন বরং কিয়ামকারীদেরকে ফিরিয়ে দেন। জারীরের হাদীসে এ কথাও আছে যে, লম্বা রেখাকে ফজর বলে না বরং ফজর বলে প্রশস্ত আলোকে।"

শায়বান ইবন ফাবরূখ .... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, বিলালের আহ্বান যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া থেকে ধোকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখাও; যতক্ষণ পর্যন্ত না তা বিস্তৃত হয়ে প্রতিভাত হয়।

যুহায়র ইবন হারব .... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে ধোকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখা ও যা স্তম্ভের ন্যায় দেখা যায়, যতক্ষণ না তা বিস্তৃত উদ্ভাসিত হবে।

আবূ রবী আয যাহরনী ... সামুৱাহ ইবন জুনদুব (রযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিলালের আযান এবং আকাশ প্রান্তে এ লম্বা রেখা যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে ধোকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না এ শুভ্র রেখা পূর্বকাশে এভাবে বিস্তৃত হয়। হাম্মদ বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উভয় হাত দ্বারা আড়াআড়ি হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ বিলালের আযান এবং এ শুভ্র রেখা যেন তোমাদেরকে ধোকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সুবহে সাদিক সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়।

ইবন মুসান্না .... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ আলোচনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, সাহরীতে বারাকাত রয়েছে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ..... আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাদের ও কিতাবীদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী খাওয়া।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ তাহির .... মূসা ইবন উলাইয়্যা এর সূত্রে এ সানাদে হাদীস বর্ণিত আছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ..... যায়দ ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাহরী খেয়ে সালাতে দাড়ালাম। রাবী আনাস বলেন আমি যায়দ ইবন সাবিত কে জিজ্ঞেস করলাম, সাহরী ও আযানের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মতো সময়ের।

আমর আন নাকিদ ও ইবন মুসান্না .... কতাদাহ্ এর এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফত্বার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।

কুতায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব ..... সাহল ইবন সা'দ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ আতিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাসরুক আয়িশাহ্ এর নিকট গেলাম এবং তঁকে বললাম, হে মুহাম্মাদ এর সাহাবীবৃন্দের দু' ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তি ইফত্বার ও নামাজ ত্বরান্বিত করে এবং অন্য এক ব্যক্তি ইফতার ও নামাজ বিলম্ব করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কোন ব্যক্তি যে ইফত্বার ও সালাত তরাস্থিত করে? আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করতেন। আবূ কুরায়ব বলেন, অপরজন হলেন, আবূ মূসা।

আবূ কুরায়ব ... আবূ আতিয়াহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাসরুক আয়িশাহ্ এর নিকট গেলাম। এরপর মাসরুক তাকে বললেন, মুহাম্মাদ(ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যে দু' ব্যক্তি যারা কল্যাণজনক কাজে কোন প্রকার অবহেলা প্রদর্শন করেন না, তাদের একজন মাগরিব এবং ইফত্বারের মধ্যে ত্বরা করেন। আর অপরজন মাগরিব ও ইফত্বারে বিলম্ব করেন। তিনি বললেন যে, কোন ব্যক্তি সে মাগরিব ও ইফত্বারে ত্বরা করেন? তিনি বললেন, তিনি আবদুল্লাহ। তখন আয়িশাহ্ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র ... উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রাত আসে, দিন চলে যায় এবং সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন রোজা পালনকারী ইফতার করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আওফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাসে কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ এর সঙ্গী ছিলাম। সূর্য ডুবে গেলে তিনি বললেন, হে অমুক! অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আনো। সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! এখনো দিন রয়ে গেছে। পুনরায় তিনি বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। তখন সে অবতরণ করল এবং ছাতু গুলে তার নিকট পেশ করল। নবী (ﷺ) পান করলেন এবং হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, সূর্য এদিক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং রাত্র যখন এদিক থেকে ঘনিয়ে আসবে, তখন রোজা পালনকারী ইফত্বার করবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইবন আবূ আওফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। যখন সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হতে দিন। পুনরায় তিনি বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, দিন আমাদের আরো বাকী রয়েছে। এরপর সে অবতরণ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য ছাতু গুলে আনলো। তিনি পান করলেন এবং হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, যখন তোমরা দেখবে যে, এদিক থেকে রাত্র ঘনিয়ে আসছে, তখন রোজা পালনকারীর ইফতারের সময় হবে।

আবূ কামিল ..... আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ভ্রমণ করলাম। এ সময় তিনি সওমরত ছিলেন। যখন সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, হে অমুক! তুমি অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। এরপর তিনি ইবন মুসহির এবং আব্বাস ইবন আওওয়াম এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

ইবন আবূ উমার, ইসহাক, উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ও ইবন মুসান্না .... ইবন আবূ আওফা এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইবন মুসহির, আব্বাস ও আবদুল ওয়াহিদ এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের কারো হাদীসের মধ্যে রমযান মাসের কথা উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে হুশায়ম ব্যতীত তাদের বর্ণনায় "এবং যখন রাত্র এদিক থেকে ঘনিয়ে আসে" এ কথাটিও উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। এতে সাহাবীগণ বললেন, আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন। তিনি বললেন, আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। আমাকে খাওয়ানো ও পান করানো হয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান সাসে সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। তা দেখে সাহাবীগণও সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। এরপর তিনি তাদেরকে সওমে বিসাল করতে নিষেধ করলেন। এতে তাকে প্রশ্ন করা হল, আপনি তো সওমে বিসাল করছেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি তোমাদের মতো নই। আমাকে তো খাওয়ানো হয় এবং পান করানো হয়।

আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সমাদ .... ইবন উমার এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রমযান মাসের কথা উল্লেখ নেই।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। তখন মুসলিমদের এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার মতো কে আছে? আমি রাত্রি যাপন করি এমতাবস্থায় যে, আমার প্রতিপালক আমাকে খাওয়ান এবং আমাকে পান করান। সাহাবীগণ সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের সাথে একদিন এবং পরে আরেক দিন সওমে বিসাল করলেন। এরপর তারা চাঁদ দেখলেন, তখন তিনি বললেন, চাঁদ আরো দেরীতে দেখা দিলে আমিও সওমে বিসাল দীর্ঘায়িত করতাম। তারা সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি শাস্তি স্বরূপ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সওমে বিসাল থেকে বিরত থাক। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা তো আমার মতো নও। আমি এমতাবস্থায় রাত্রি যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। তাই তোমরা তোমাদের সামথ্যে যতটুকু কুলায়, ততটুকু আমল কর।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (হাদীসের শেষে কয়েকটি শব্দ পরিবর্তন হলেও অর্থ একই)।

ইবন নুমায়র ..... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। এরপর বর্ণনাকারী আবূ যুরআহ থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযান মাসে একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন। আমি তার পাশে এসে দাড়ালাম। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসেও তার পাশে দাড়ালেন। এভাবে আমরা এক দল লোক হয়ে গেলাম। এরপর নবী (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা তার পেছনে আছি, তখন তিনি সালাত সংক্ষেপ করে ফেললেন। তারপর তিনি আপন গৃহে চলে গেলেন এবং এমন (দীর্ঘ) সালাত আদায় করলেন যে, এভাবে তিনি আমাদের সাথে সালাত আদায় করতেন না। সকালে আমরা তাকে বললাম, রাত্রে আপনি আমাদের সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন কি? তিনি বললেন, হ্যা, তাই তো আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে ঐ কাজের, যা আমি করেছি। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের শেষভাগে আবার সওমে বিসাল করতে আরম্ভ করলেন। এ দেখে কতিপয় সাহাবীও সওমে বিসাল শুরু করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, লোকদের কী হল, তারা যে সওমে বিসাল আরম্ভ করেছে! তোমরা আমার মত নও। আল্লাহর শপথ! যদি মাস দীর্ঘায়িত হতো, তবে আমি এমনভাবে সওমে বিসাল করতাম যার ফলে সীমালঙ্ঘনকারীগণ সওমে বিসাল করা ছেড়ে দিত।

আসিম ইবন নাযর আত তায়মী .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাসের প্রথমাংশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। এ দেখে মুসলিমদের কতিপয় লোক সওমে বিসাল আরম্ভ করে দিলেন। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছার পর তিনি বললেন, যদি আমাদের জন্য মাস দীর্ঘায়িত করে দেয়া হতো তবে আমি এমনভাবে সওমে বিসাল করতাম যাতে সীমালঙ্ঘনকারীরা সীমালংঘন করা ছেড়ে দিত। এরপর তিনি বললেন, তোমরা তো আমার মতো নও অথবা বললেন, আমি তো তোমাদের মতো নই। কারণ আমার প্রতিপালক তো আমাকে পানাহার করান।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দয়াবশতঃ সবাইকে সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তো সওমে বিসাল করেন। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের মতো নই। আমাকে তো আমার প্রতিপালক পানাহার করান।

আলী ইবন হুজুর ... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় তার কোন কোন স্ত্রীকে চুমু দিতেন। তারপর তিনি হেসে দিলেন।

আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী ও ইবন আবূ উমর .... সুফইয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবন কাসিম কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি তোমার আব্বাকে আয়িশাহ থেকে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছ যে, নবী (ﷺ) সওমের অবস্থায় তাকে চুমু দিতেন? তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, হ্যা, শুনেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় আমাকে চুমু দিতেন। তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে, নিজের কামোদ্দীপনাকে আয়ত্বে রাখতে পারে, যেমন আয়ত্বে রাখতে সক্ষম ছিলেন রাসুলুল্লাহ(ﷺ)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও শুজা ইবন মাখলাদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) চুম্বন ও স্পর্শ করতেন। তবে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ রাখায় তোমাদের সবার চেয়ে তিনি অধিকতর শক্তিশালী ছিলেন।

আলী ইবন হুজুর ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় চুমু দিতেন। তিনি তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিকতর ক্ষমতাবান ছিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) স্পর্শ করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আসওয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাসরুক আয়িশাহ এর নিকট গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, সওমের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তার স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করতেন? তিনি বললেন, হ্যা, করতেন। তবে তিনি তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলেন অথবা বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম? এ ব্যাপারে আবূ আসিম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ইয়াকুব আদ দাওরাকী .... আসওয়াদ এবং মাসরুক থেকে বর্ণিত। একদা তারা দু'জন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য আয়িশাহ এর নিকট গমন করলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় তাকে চুমু দিতেন।

ইয়াহইয়া ইবন বিশর আল হারীরী .... ইয়াহইয়া ইবন কাসীর এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সিয়ামের মাসেও (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযান মাসে সওমের অবস্থায় নবী (ﷺ) তার স্ত্রীদেরকে চুমু দিতেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... হাফসাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমের অবস্থায় চুমু দিতেন।

আবূ রবী আয যাহরানী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হাফসাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... উমার ইবন আবূ সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন, সওম পালনকারী ব্যক্তি চুম্বন করতে পারে কি? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, কথাটি উম্মু সালামাকে জিজ্ঞেস কর। (তাকে জিজ্ঞেস করার পর) তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, শোন, আল্লাহর শপথ আমি আল্লাহ তাআলাকে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ভয় করি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ বকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ তার আলোচনায় বললেন, জানাবাত অবস্থায় কারো ভোর হলে তার সওম হবে না। এরপর এ কথাটি আমি আবদুর রহমান ইবন হারিস এর নিকট বর্ণনা করলাম। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তারপর আবদুর রহমান চললেন। আমিও তার সাথে সাথে চললাম। আমরা আয়িশাহ এবং উম্মু সালামাহ্ এর নিকট গেলাম। এরপর আবদুর রহমান তাদের উভয়কে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললেন, নবী (ﷺ) ইহতিলাম ব্যতিরেকে ও জানাবাতের অবস্থায় ভোর করতেন এবং সওম পালন করতেন। তারপর আমরা মারওয়ানের নিকট আসলাম এবং আবদুর রহমান তার সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলেন। এরপর মারওয়ান বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি আবূ হুরায়রার নিকট যাও এবং তার কথাটি রদ করে দাও। এরপর আমি আবূ হুরায়রার নিকট গেলাম। এ সময় আবূ বকর আবদুর রহমানের সাথে ছিলেন। আবদুর রহমান এ নিয়ে আবূ হুরায়রার সঙ্গে আলোচনা করলেন। আবূ হুরায়রাহ বললেন, তোমার নিকট তারা উভয়েই কি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, তারা উভয়েই এ কথা বলেছেন। তখন আবূ হুরায়রাহ বললেন, বস্তুত তারাই সর্বাধিক অবগত। তারপর আবূ হুরায়রাহ তার এ কথাটিকে ফাযল ইবন আব্বাসের প্রতি সম্পর্কিত করে বললেন, আমি এ কথাটি ফাযলের (ইবন আব্বাস) থেকে শুনেছিলাম, নবী (ﷺ) থেকে শুনিনি। রাবী বলেন, এরপর আবূ হুরায়রাহ্ এ বিষয়ে তার মত পরিবর্তন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবদুল মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, তারা রমযানের কথা বলেছে কি? তিনি বললেন, হ্যা অনুরূপই নবী (ﷺ) ইহতিলাম ব্যতিরেকেও জানাবাত অবস্থায় ভোর করতেন। এরপর সওম পালন করতেন।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর সমধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাসে ইহতিলাম ছাড়াই নবী (ﷺ) এর জানাবাত অবস্থায় ফজরের সালাতের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সওম পালন করতেন।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ বকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মারওয়ান তাকে উম্মু সালামাহ্ এর নিকট পাঠালেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য যার জানাবাতের অবস্থায় ভোর হলো, সে সওম পালন করতে পারবে কি? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইহতিলাম ব্যতিরেকে স্ত্রী সহবাসের কারণে গোসল ফরয হওয়া অবস্থায় ভোর হতো। এরপর তিনি সওম ভঙ্গও করতেন না এবং সওমের কাযাও করতেন না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ এবং উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ই বলেন, রমাযান মাসে ইহতিলাম ছাড়াই স্ত্রী সহবাসের কারণে জানাবাতের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভোর হতো, এরপর তিনি সওম পালন করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করার জন্য এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এলো। এ সময় তিনি দরজার পেছন থেকে কথাগুলো শুনছিলেন। লোকটি বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! জানাবাতের অবস্থায় আমার ফজরের সময় হয়ে যায়, এমতাবস্থায় আমি সওম পালন করতে পারি কি? উত্তরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, জানাবাতের অবস্থায় আমারও ফজরের সালাতের সময় হয়ে যায়, আমি তো সওম পালন করি। এরপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো আমাদের মতো নন। আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপর সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার আশা, আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে সর্বাধিক ভয় করি এবং আমি সর্বাধিক অবগত ঐ বিষয় সম্পর্কে, যা থেকে আমার বিরত থাকা আবশ্যক।

আহমাদ ইবন উসমান আন্‌ নাওফালী .... সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মু সালামাহ্ কে প্রশ্ন করলেন, জানাবাতের অবস্থায় যার ভোর হয়, সে সওম পালন করবে কি? তিনি বললেন, ইহতিলাম ছাড়াই জানাবাতের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভোর হতো এবং তিনি সওম পালন করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি বললেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে? সে বলল, আমি রমাযানে সওমরত অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি যাকে তুমি আযাদ করে দিতে পার? সে বলল, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ক্রমাগত দু' মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। পুনরায় নবী (ﷺ) বললেন, তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। তারপর সে বসে গেল। এরপর নবী (ﷺ) এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হল। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো সদকাহ করে দাও। তখন সে বলল, আমার চেয়েও অভাবী লোককে সদকাহ করে দিব? (মদীনার) দুটি কংকরময় ভূমির মধ্যস্থিত স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী পরিবার আর একটিও নেই। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) হেসে দিলেন। এমনকি তার সামনের দাতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন, তাহলে যাও এবং তোমার পরিবারকে খেতে দাও।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মুহাম্মদ ইবন মুসলিম আয যুহরী এর সনদে ইবন উয়ায়নাহ্ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে "বিয়ারকিং ফিহি তামরুন" এরপর "ওয়াহুয়াজঝানবিল" শব্দটি উল্লেখ রয়েছে এবং এতে নবী (ﷺ) এর হাসির কথা উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রমযান মাসে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রশ্ন করল। তখন তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি? সে বলল, না। তিনি আবার বললেন, তুমি দু' মাস সওম পালন করতে পারবে কি? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... যুহরী থেকে এ সানাদে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভেঙ্গে ফেলার কারণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এর কাফফারাহ হিসেবে একটি গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি ইবন উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমযানের সওম ভেঙ্গে ফেলার কারণে নবী (ﷺ) তাকে নির্দেশ দিলেন, হয় তো সে একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা দু'মাস সওম পালন করবে অথবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে এ সানাদে ইবন উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমি জ্বলে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কেন? সে বলল, রমযানের দিনে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তাহলে সাদাকা দাও, সাদাকা দাও। সে বলল, আমার নিকট কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বসার জন্য নির্দেশ দিলেন। এমতাবস্থায় দু' টুকরি ভর্তি খাদ্য আসল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এগুলো সাদাকা করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তবে এ হাদীসের প্রথমে "সাদাকা করো, সাদাকা করো" শব্দ দু'টো উল্লেখ নেই এবং এতে "দিনের বেলায়" কথাটিও উল্লেখ নেই।

আবূ ত্বাহির .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমযান মাসে মসজিদের মধ্যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো জ্বলে গিয়েছি, আমি তো জ্বলে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, কী হয়েছে তার? সে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তাহলে সাদাকা কর। সে বলল, আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর নবী আমার কিছুই নেই এবং এ ব্যাপারে আমি সক্ষম নই তিনি বললেন, বসো। সে বসল, লোকটি বসা থাকতেই এক ব্যক্তি গাধা হাকিয়ে আসল। এর উপর ছিল খাদ্য। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঐ অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায়, যে কিছুক্ষণ পূর্বে এসেছিল? লোকটি দাড়াল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এগুলো সাদাকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ছাড়া অন্য লোকদেরকে সাদাকা করে দিব? আল্লাহর শপথ আমরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত, আমাদের কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে এগুলো তোমরা খেয়ে ফেল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, (মক্কা) বিজয়ের বছর রমযান মাসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওমরত অবস্থায় সফরে বের হলেন। অতঃপর কাদীদ নামক স্থানে পৌছাবার পর তিনি সওম ভেঙ্গে ফেললেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যখনই কোন নতুন বিষয় প্রকাশ পেত, তার সাহাবীগণ তা অনুসরণ করতেন।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... যুহরী থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন, সুফইয়ান বলেছেন যে, আমি জানি না এ কার কথা তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শেষোক্ত কথাটি গ্রহণ করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যুহরী থেকে এ সানাদের সাথে বর্ণনা করেছেন। যুহরী বলেন, সওম পালন না করা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সর্বশেষ কাজ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শেষোক্ত কাজকেই গ্রহণ করা হতো। তিনি বলেন, রমযানের তের দিন অতিবাহিত হবার পর ভোরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা প্রবেশ করেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন শিহাব থেকে এ সানাদে লায়স এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন শিহাব বলেন, সাহাবীগণ প্রত্যেক নতুন বিষয়ের অনুসরণ করতেন। যে বিষয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ থেকে পেতেন সাহাবীগণ একে রহিতকারী ও অধিকতর বলিষ্ঠ মনে করতেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রমযান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে বের হলেন। যখন তিনি উসফান নামক স্থানে পৌছলেন তখন তিনি পানি ভর্তি পাত্র আনার জন্য বললেন এবং লোকদেরকে দেখাবার জন্য দিনেই তা পান করে সওম ভেঙ্গে ফেললেন এবং এ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করলেন। ইবন আব্বাস বলেন, যেহেতু রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সফরে কখনো) সওম পালন করেছেন আবার কখনো ইফতার করেছেন, তাই কেউ ইচ্ছা করলে সওম পালন করতে পারে আবার কেউ ইচ্ছা করলে সওম পালন ছেড়ে দিতে পারে।

আবূ কুরায়ব ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সওম পালন করে তার প্রতি দোষারোপ করো না এবং তার প্রতিও না যে সওম ছেড়ে দেয়। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরের অবস্থায় (কখনো) রোজা পালন করেছেন (আবার কখনও) সওম ছেড়ে দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের বছর রমযান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার (মক্কা) উদ্দেশে বের হলেন। এরপর যখন তিনি "কুরা'উল গামীম" নামক স্থান পৌছলেন, তখন লোকেরাও সওমরত ছিল। এরপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন। এমনকি লোকেরা তার দিকে তাকাতে লাগল। এরপর তিনি পানি পান করলেন। তখন তাকে বলা হল, কতিপয় লোক সওমরত রয়েছে। তিনি বললেন, তারা অবাধ্য, তারা অবাধ্য।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... জাফার থেকে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তাকে বলা হল, মানুষের জন্য সওম পালন করা কষ্টাতীত হয়ে পড়েছে। আপনি কী করেন, তারা সেদিকে তাকিয়ে আছে। এ কথা শুনে তিনি আসরের পর এক পাত্র পানি চাইলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। এ সময় তিনি এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, লোকেরা তার কাছে জটলা করে আছে এবং তাকে ছায়া করে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে? তারা বললেন, লোকটি রোজা পালনকারী। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সফরে তোমাদের সওম পালন করা কোন নেকীর কাজ নয়।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন। এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন উসমান আন্‌ নাওফালী .... শুবাহ থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। শুবাহ বলেন, এ সানাদে ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীরের মাধ্যমে অতিরিক্ত এ কথাও আমার নিকট পৌছেছে যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যে সুবিধা দিয়েছেন তা গ্রহণ করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন সে মুখস্থ বলতে পারেনি।

হাদ্দাব ইবন খালিদ ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের ষোল দিন অতিবাহিত হবার পর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ সময় আমাদের কেউ রোজা পালন করছিলেন, আবার কেউ তা ছেড়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু এতে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকুদ্দামী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ... কাতাদাহ্ থেকে এ সানাদে হাম্মামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আত তায়মী, উমার ইবন আমির ও হিশামের বর্ণনায় রমযানের আঠার দিন অতিবাহিত হয়েছে কথাটি বর্ণিত আছে। সাঈদের বর্ণনায় বারোই রমযান এবং শুবার বর্ণনায় সতের অথবা উনিশ রমাযানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রমযান মাসে সফর করতাম কিন্তু সওম পালনকারীকে তার সওমের কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সওম ভঙ্গকারীকেও তার সওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না।

আমর আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযান মাসে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম। এ সময় আমাদের কেউ সওম পালন করেছেন, আবার কেউ সওম ছেড়েও দিয়েছেন। কিন্তু সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে খারাপ মনে করতেন না এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে খারাপ মনে করতেন না। তারা মনে করতেন, যার সামথ্য আছে সে-ই সওম পালন করছে, এটাই তার জন্য উত্তম। আর যে দুর্বল সে সওম ছেড়ে দিয়েছে, এটাও তার জন্য উত্তম।

সাঈদ ইবন আমর আশআসী, সাহল ইবন উসমান, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও হুসায়ন ইবন হুরায়স .... আবূ সাঈদ আল খুদরী ও জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ই বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফর করেছি। এমতাবস্থায় সওম পালনকারী সওম পালন করেছেন এবং সওম যারা ছাড়তে চেয়েছেন, তারা ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু এতে কেউ একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হুমায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযান মাসে সফরকালে সওমের বিধান কী? এ সম্বন্ধে আনাস কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, রমযান মাসে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফর করেছি। এ সময় সওম পালনকারী ব্যক্তি সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তির কোন নিন্দা করেনি এবং সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তিও সওম পালনকারীর কোন নিন্দা করেনি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... হুমায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরের উদ্দেশে বের হলাম এবং রোজা পালন করলাম। লোকেরা আমাকে বলল, তুমি পুনরায় সওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আনাস আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ সফরকালে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি। অনুরূপভাবে সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি। অতঃপর আমি ইবন আবূ মুলায়কাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আয়িশাহ্ থেকে আমাকে অনুরূপ হাদীস শুনালেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সাথে আমরা সফরে ছিলাম। আমাদের কেউ সওম পালন করেছেন, আবার কেউ ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর প্রচণ্ড গরমের সময় আমরা এক প্রান্তরে অবতরণ করলাম। চাঁদর বিশিষ্ট লোকেরাই আমাদের মধ্যে সর্বাধিক ছায়া লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের কেউ কেউ নিজ হাত দ্বারা সূর্যের কিরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করছিলেন। অবশেষে সওম পালনকারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং সওম ত্যাগকারীরা সুস্থ থাকল। এরপর তারা তাবু খাটালো এবং উটকে পানি পান করালো তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ সওম পরিত্যাগকারীরা সাওয়াব অর্জন করে নিল।

আবূ কুরায়ব ... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। তখন কেউ কেউ সওম পালন করলেন, আবার কেউ কেউ সওম ছেড়ে দিলেন। এরপর যারা সওম ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা শক্তিমত্তার সাথে কাজ করলেন এবং সওম পালনকারী ব্যক্তিগণ কাজে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ সওম পরিত্যাগকারীরা নেকী অর্জন করে নিল।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... কাযাআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট গেলাম। তার নিকট মানুষের খুব ভীড় ছিল। যখন লোকজন পৃথক হয়ে এদিক ওদিক চলে গেল, তখন আমি বললাম, আমি আপনার নিকট ঐসব কথা জিজ্ঞেস করব না যা লোকেরা জিজ্ঞেস করেছে। আমি তাকে সফরের অবস্থায় সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সওমরত অবস্থায় মক্কার (মক্কা) দিকে রওনা করলাম। এরপর একস্থানে আমরা অবতরণ করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এখন তোমরা শত্রুদের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছে। এখন সওম ভঙ্গ করাই তোমাদের জন্য শক্তিশালী থাকার উপায় এবং এটা তোমাদের জন্য বিশেষ এক অবকাশ। তখন আমাদের কতক লোক সওম পালন করল, আবার কতক লোক ইফতার করল। এরপর আমরা অন্য এক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন তিনি বললেন, ভোরেই তোমরা শত্রুর মুকাবিলা করবে। সুতরাং ইফত্বারই তোমাদের জন্য শক্তি বর্ধক। তাই তোমরা ইফত্বার কর। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ নির্দেশ অবশ্য পালনীয় ছিল। তাই আমরা সকলেই সওম ভঙ্গ করলাম। এরপর আমরা দেখেছি, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরের অবস্থায় সওম পালন করতাম।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযাহ ইবন আমর আল আসলামী রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সফরের অবস্থায় সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সওম পালন কর, আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সওম ছেড়ে দাও।

আবূ রবী আয্‌ যাহরানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযাহ ইবন আমর আল আসলামী রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি তো অনবরত সওম পালন করি। সফরের অবস্থায়ও সওম পালন করব কি? তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে সওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয়, তবে ছেড়ে দাও।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... হিশাম থেকে এ সানাদে হাম্মাদ ইবন যায়দের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমি সর্বদা সওম পালন করি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হামযাহ বলেন, আমি সর্বদা সওম পালন করি। সুতরাং সফরে আমি কি সওম পালন করব?

আবূ ত্বহির ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ... হামযাহ ইবন আমর আল আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! সফরের অবস্থায় রোজা পালনের ক্ষমতা আমার রয়েছে। এ সময় রোজা পালন করলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তিনি বললেন, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিশেষ অবকাশ, যে তা গ্রহণ করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি কেউ রোজা পালন করতে চায়, তবে তার কোন গুনাহ হবে না। হারুন তার হাদীসের মধ্যে "এটা ছাড়" কথাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু "আল্লাহর পক্ষ থেকে" কথাটি উল্লেখ করেননি।

দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবূ দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক প্রচণ্ড গরমের দিনে রমযান মাসে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরে বের হলাম। গরম এত প্রচণ্ড ছিল যে, আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ হাত মাথার উপর তুলে ধরেছিল। আর মাত্র রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবদুল্লাহ ইবন রওয়াহাহ্ ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউই সওম পালনকারী ছিল না।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী ... উম্মু দারদা থেকে বর্ণিত। আবূ দারদা বলেছেন যে, প্রচণ্ড গরমের দিনে কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। গরম এতো প্রচণ্ড ছিল যে, লোকেরা নিজ নিজ হাত মাথার উপরে রেখে দিয়েছিল। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবদুল্লাহ ইবন রওয়াহাহ ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউই সওম পালনকারী ছিল না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মুল ফাযল বিনতু হারিস থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা আরাফার দিন তার নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোজা পালন (করা না করা) সম্পর্কে আলোচনা করছিল। তাদের কেউ কেউ বলল, তিনি সওমরত নন। এরপর আমি তার নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম, তিনি আরাফাতে উটের উপর বসা অবস্থায় ছিলেন। দুধটুকু তিনি তখনি পান করে নিলেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আবূ নাযর থেকে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি "তিনি উটের উপর বসা অবস্থায় ছিলেন" বাক্যটি উল্লেখ করেননি। অধিকন্তু এতে তিনি উম্মুল ফাযলের আযাদকৃত গোলাম উমায়র থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেন।

যুহায়র ইবন হারব ... সলিম আবূ আন নাযর থেকে এ সানাদে ইবন উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এখানেও উম্মুল ফাযুলের আযাদকৃত গোলাম উমায়র থেকে বর্ণিত।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী আরাফার দিন তার রোজা পালনের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। [উম্মুল ফাযল বলেন] আমরাও সেখানে রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এ সময়ে আমি তার নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম। তখন তিনি আরাফার ময়দানে ছিলেন। এরপর তিনি তা পান করে নিলেন।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী মায়মুনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা আরাফার দিন নবী (ﷺ) এর সওম পালন করার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। এরপর মায়মূনাহ তার নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলেন, এ সময় তিনি "মাওকাফ" এর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি তা পান করে নিলেন। আর লোকেরা তার দিকে তাকিয়ে রইল।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শরা জাহিলী যুগে আশুরার দিন রোজা পালন করত। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও এ দিন সওম পালন করতেন। এরপর যখন তিনি মদীনায় হিজরত করলেন, তখনও তিনি আশুরার সওম পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও তা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর যখন রমযানের রোজা কে ফরয করা হলো, তখন যার ইচ্ছা, সে আশুরা সওম পালন করত আর যার ইচ্ছা, সে তা ছেড়ে দিত।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে প্রথমাংশে "রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও এ সওম পালন করতেন" এ কথাটির উল্লেখ করেন। অবশ্য এ হাদীসে শেষাংশে রয়েছে, "এরপর আশূরার দিন সওম পালন করা ছেড়ে দেয়া হল" সুতরাং যার ইচ্ছা সে এ দিন সওম পালন করত এবং যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত এবং বর্ণনাকারী জারীরের বর্ণনামতে এ কথাটিকে নবী (ﷺ) এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত করেননি।

আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে আশূরার দিন সওম পালন করা হত। এরপর যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, তখন যার ইচ্ছা সে এদিন সওম পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আশুরার দিনে রোজা পালন করার নির্দেশ দিতেন। যখন রমযানের রোজা ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা সে আশূরার দিনে সওম পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত।

কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শরা জাহিলী যুগে আশুরার দিন সওম পালন করত। রমযানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার ইচ্ছা সে এদিন সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা, সে তা ছেড়ে দিবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে লোকেরা আশূরার দিন রোজা পালন করত। রমযানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এদিন রোজা পালন করেছেন এবং মুসলিমগণও। যখন রমযানের রোজা ফরয হল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আশূরার দিন আল্লাহর দিনসমূহের একটি দিন। সুতরাং যার ইচ্ছা সে এ দিন রোজা পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, আশুরার দিন সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা রোজা পালন করত। তোমাদের মধ্যে যে এ দিনে রোজা পালন করতে আগ্রহী, সে এ দিনে রোজা পালন করতে পারে। আর যে অপছন্দ করে, সে ছেড়ে দিতে পারে।

আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি আশুরার দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, জাহিলী যুগে এ দিনে লোকেরা রোজা সাধনা করত। যদি কেউ এদিনে সওম পালন করতে চায়, সে এ দিনে রোজা পালন করবে। আর কেউ যদি এদিনে সওম পালন করতে না চায়, সে সওম পালন করবে না। আবদুল্লাহ তার অভ্যস্ত দিনে না হলে আশূরার সওম পালন করতেন না।

মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট আশূরার দিনের রোজা সম্পর্কে কথা তোলা হল। তারপর তিনি লায়স ইবন সা'দ এর অনুরূপই বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন উসমান আন্‌ নাওফালী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আশূরার দিবস সম্পর্কে কথা তোলা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা রোজা পালন করত। যার ইচ্ছা সে এ দিন সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে এ দিনে সওম পালন করবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশআস ইবন কায়স আবদুল্লাহ এর নিকট গেলেন। তখন তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! তুমি খাওয়ার জন্য কাছে এসো। তিনি বললেন, আজ কি আশূরার দিন নয়? তিনি বললেন, তুমি কি জান আশুরা দিন কী? আশআস বললেন, সে আবার কী? তিনি বললেন, রমযানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রোজা পালন করতেন। যখন রমযানের রোজা ফরয হল তখন তা ছেড়ে দেয়া হল।

যুহায়র ইবন হারব ও উসমান ইবন আবূ শয়বাহ ... আমাশ থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তারা বলেছেন, "যখন রমাযানের বিধান নাযিল হল তখন তা ছেড়ে দেয়া হয়।"

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... কায়স ইবন সাকান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশুরার দিন আশআস ইবন কায়স আবদুল্লাহ এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আহার করছিলেন। তিনি আশআসকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ নিকটে এসো, খানা খাও। তিনি বললেন, আমি তো সওম পালন করছি। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ বললেন, আমরা এ সওম পালন করতাম। পরে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম.... আলকামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশআস ইবন কায়স ইবন মাসউদ এর নিকট গেলেন। সেটা আশূরার দিন ছিল। তখন তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এ দেখে আশআস বললেন, হে আবদুর রহমানের পিতা! আজ তো আশূরার দিন। তিনি বললেন, রমাযানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিনে সিয়াম পালন করা হতো। কিন্তু রমযানের সিয়াম ফরয হলে এ দিনের সিয়াম পালন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন তুমি যদি সওম না রেখে থাক তবে খাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আশূরার দিন আমাদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দিতেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি আমাদের খোজ-খবর নিতেন। কিন্তু যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল তখন তিনি আমাদেরকে আদেশও করেননি, বাধাও করেননি এবং কোন খোজ-খবর আর নেননি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান কে মদীনায় খুতবায় বলতে শুনলেন যখন তিনি মদীনায় এসেছিলেন, তখন আশুরার দিবসে তিনি তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, এ হল আশুরা দিবস। আল্লাহ তোমাদের উপর এ দিনের সওম ফরয করেননি। তবে আমি সওম পালন করছি। তাই তোমাদের মধ্যে যে সওম পালন করতে পছন্দ করে, সে পালন করবে আর যে পছন্দ করেনি, সে করবে না।

আবূ তাহির .... ইবন শিহাব থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবন আবূ উমর .... যুহরী থেকে এ সানাদে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ) কে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছেন যে, আমি সওম পালনকারী। যে সওম পালনের ইচ্ছা করে, সে যেন সওম পালন করে, অতঃপর তিনি মালিক এবং ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (হিজরত করে) মদীনায় এলেন এবং তিনি ইয়াহুদীদেরকে আশুরার দিন রোজা পালন করতে দেখতে পেলেন। এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এ সে দিন যে দিন আল্লাহ মূসা ও বনী ইসরাঈলকে ফিরআওনের উপর বিজয়ী করেছেন। তার সম্মানার্থে আমরা সওম পালন করে থাকি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মূসা এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করার নির্দেশ দিলেন।

ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি ... আবূ বিশর থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসে "তারা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করল" এ স্থলে "তিনি তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন" বাক্যটি বর্ণিত আছে।

ইবন আবী উমর .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় হিজরত করে ইয়াহুদীদেরকে আশুরার দিন সওম পালনরত দেখতে পেলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন দিনের সওম পালন করছ, তারা বলল, এ মহান দিনে আল্লাহ তাআলা মূসা ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআওন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর মূসা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে এ দিনে সওম পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে সওম পালন করছি। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমরা তো তোমাদের থেকে মূসা এর অধিক নিকটবর্তী এবং হাক্বদার। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ সওম পালন করলেন এবং সওম পালন করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন।

ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ... আইয়ূব থেকে এ সানাদের সাথে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ইবন সাঈদ ইবন জুবায়র এ হাদীস সরাসরি নবী (ﷺ) থেকে শুনেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী সম্প্রদায় আশুরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করত এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গণ্য করত। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর।

আহমাদ ইবন মুন্‌যির ... কায়স এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের ইয়াহুদীরা আশূরার দিন সওম পালন করত, তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোশাকে সুসজ্জিত করত। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস কে আশুরার দিনে রোজা পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ দিন ব্যতীত রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন মাসকে অন্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করে রোজা পালন করেছেন বলেও আমার জানা নেই।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ ইয়াযীদ এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ্ .... হাকাম ইবন আ'রাজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর কাছে পৌছলাম। এ সময় তিনি যমযমের কাছে চাঁদর বিছানো অবস্থায় বসা ছিলেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমাকে আশুরা দিবসের রোজা পালন সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে তিনি বললেন, মুহররম মাসের চাঁদ দেখার পর তুমি এর তারিখগুলো গুণে রাখবে। এরপর নবম তারিখে সওম অবস্থায় তোমার যেন ভোর হয়। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি সেদিন রোজা পালন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ... হকাম ইবন আ'রাজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যমযমের কাছে ইবন আব্বাস চাঁদর বিছিয়ে বসে থাকা অবস্থায় আমি তাকে আশূরার দিবসে সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এরপর তিনি হাজিব ইবন উমার এর হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আশূরার দিন রোজা পালন করেন এবং লোকদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়াহুদ এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও রোজা পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়ে যায়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি আগামী বছর বেচে থাকি তবে মুহাররমের নবম তারিখেও রোজা পালন করব। আবূ বকর বলেন, নবম তারিখই হচ্ছে আশুরার দিন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সালামাহ্ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আশুরার দিন আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন লোকদের মধ্যে এ কথা ঘোষণা করে যে, যে রোজা পালন করেনি, সে যেন রোজা পালন করে এবং যে আহার করেছে, সে যেন রাত পর্যন্ত তার সওম পূর্ণ করে।

আবূ বকর ইবন নাফি আল আবদী .... রুবায়'ই বিনতু মুআববিয ইবন আফরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আশুরার দিন ভোরে এক ব্যক্তিকে মদীনার পার্শ্ববর্তী আনসারী সাহাবীগণের জনপদে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন এ ঘোষণা করে দেয় যে, রোজারত অবস্থায় যার ভোর হয়েছে, সে যেন তার সওমকে পূর্ণ করে। আর যার ইফত্বার অবস্থায় ভোর হয়েছে, সে যেন তার দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত অবস্থায় পূর্ণ করে। এরপর আমরা এ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের ছোট ছোট সন্তানদেরকেও আল্লাহ চাহে তো সওম পালনে অভ্যস্ত করে তুলতাম। আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম এবং তাদের জন্য পশমের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাওয়ার জন্য কাঁদত, তখন আমরা তাদেরকে সে খেলনা প্রদান করতাম। এমনি করে ইফতারের সময় হয়ে যেত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... খালিদ ইবন যাকওয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রুবায়'ই বিনতু মুআববিয কে আশুরার রোজা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার বার্তাবাহককে আনসারদের গ্রামে পাঠালেন .... হাদীসের বাকি অংশ বিশর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। শুধু এতটুকু ব্যতিক্রম রয়েছে, আমরা এদের জন্য পশম দিয়ে খেলনা তৈরি করতাম এবং এগুলো আমাদের সাথেই নিয়ে যেতাম। এরা আমাদের কাছে খাবার চাইলে আমরা এ খেলনা এদের হাতে দিতাম। এটা তাদেরকে রোজা পূর্ণ করা পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আযহারের মুক্ত গোলাম আবূ উবায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন উমর ইবন খাত্ত্বাব এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। তিনি এসে নামাজ আদায় সমাপ্ত করে লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। এতে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন, আর দ্বিতীয় হলো যেদিন তোমরা কুরবানীর গোশত খেয়ে থাক।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন- কুরবানীর ঈদের দিন আর ঈদুল ফিতরের দিন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... কাযাআহ থেকে আবূ সাঈদ আল খুদরী এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি তার (আবূ সাঈদ) কাছে একটি হাদীস শুনলাম যা আমার অত্যন্ত পছন্দ হলো। আমি তাকে বললাম, আপনি এ হাদীস রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শুনেছেন। তিনি বললেন, আমি যা শুনিনি এমন কথা তার নামে চালিয়ে দিতে পারি? এবার তিনি বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ দু'দিন রোজা পালন করা সমীচীন নয়। কুরবানীর ঈদের দিন এবং রমযানে ঈদুল ফিতরের দিন।

আবূ কামিল আল জাহদারী ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেনঃ ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... যিয়াদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবন উমর এর কাছে এসে বলল, আমি একদিন রোজা পালন করব বলে মানত করেছি। ঘটনাক্রমে ঐ দিনই ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের দিন পড়েছে। ইবন উমর বললেন, আল্লাহ তাআলা মানত পূর্ণ করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন।

ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন।

সুরায়জ ইবন ইউনুস .... নুবায়শাহ আল হুযালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আইয়্যামে তাশরীক হচ্ছে পানাহার করার দিন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... নুবায়শাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ বলেছেন, আমি আবূল মালীহি এর সাথে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তিনি আমাকে নবী (ﷺ) থেকে হুশায়মের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত রয়েছে যে, "এ দিন আল্লাহকে স্মরণ করার দিন"।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন কা'ব ইবন মালিক থেকে। বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এবং আওস ইবন হাদাসান কে আইয়্যামে তাশরীকে একটি ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন। অতঃপর তারা রসূলের বাণী ঘোষণা করে শুনিয়ে দিলেনঃ মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর মিনায় অবস্থানের দিনগুলো হচ্ছে পানাহার করার দিন।

আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবরাহীম ইবন ত্বহমান থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে উল্লেখ আছে তারা উভয়ে ঘোষণা করলেন।

আমর আন নাকিদ .... মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন জাফার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ যখন কাবাহ ঘর প্রদক্ষিণ করছিলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি জুমুআর দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, কাবাহ ঘরের প্রভুর শপথ! হ্যা, তিনি নিষেধ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির থেকে এ সূত্রেও নবী (ﷺ) এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআর দিন কেউ যেন রোজা পালন না করে। কিন্তু যদি কেউ জুমুআর দিনের আগে বা পরে একদিন রোজা পালন করে তাহলে সে জুমুআর দিন সিয়াম পালন করতে পারে।

আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রাতগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র জুমুআর রাতকে জাগরণের (নৈশ ইবাদাতের) জন্য নির্দিষ্ট করে নিও না, আর দিনগুলোর মধ্যে শুধু জুমুআর দিনকে সিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করে নিও না। তবে যদি তোমাদের কেউ সর্বদা (নাফল) রোজা পালন করে আর এ সিয়ামের (ধারাবাহিকতার) মধ্যে জুমুআর দিন এসে যায় তাহলে ভিন্ন কথা। সে ঐদিন (নাফল) সিয়াম পালন করতে পারে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সালামাহ্ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "যারা রোজা পালন করতে সক্ষম (অথচ রোজা পালন করতে চায় না) তারা ফিদইয়াহ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে" যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, কেউ যদি রমযানের রোজা পালন করতে না চাইতো সে রোজা ভাঙ্গত এবং তার পরিবর্তে ফিদইয়াহ্ আদায় করে দিত। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তা পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুম মানসূখ (রহিত) করে দিল।

আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমিরী .... সালামাহ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে রমযান মাসে আমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা হত রোজা পালন করত আর যে চাইত ভঙ্গ করত এবং এর বিনিময়ে সিয়ামের ফিদইয়াহ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হলঃ "কাজেই আজ হতে যে ব্যক্তিই এ মাসের সম্মুখীন হবে তার জন্য এ পূর্ণ মাসের রোজা পালন করা একান্ত কর্তব্য।"

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছি, আমার রমযান মাসের রোজা অবশিষ্ট থেকে যেত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি শা'বান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে তা আদায় করার সুযোগ পেতাম না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি বলেছেন, আর রমযানের সিয়ামের কাযা আদায়ের ব্যাপারে শা'বান পর্যন্ত বিলম্ব করার কারণ হলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাতে নিযুক্ত থাকা।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এ সানাদেও উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেন, আমার মনে হয় তার এরূপ দেরী করার কারণ ছিল নবী (ﷺ) এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকা।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আমর আন্‌ নাকিদ .... ইয়াহইয়া থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমাতে তার ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার আল মাক্কী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের (রসূলের স্ত্রীগণের) মধ্যে কেউ যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে রোজা ভঙ্গ করত তাহলে সে শাবান মাস আসার পূর্বে কোন সময়ই রোযা করার সুযোগ পেত না।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির উপর কাযা রোজা থাকলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা পূর্ণ করবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার মা মারা গেছেন। তার এক মাসের রোযা বাকি আছে। তিনি বলেন, মনে কর তার (তোমার মায়ের) উপর যদি কোন ঋণ থাকত তাহলে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যা। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ (বা পাওনা) পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশী হাক (হক) রয়েছে।

আহমাদ ইবন উমার আল ওয়াকীঈ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা মারা গেছেন এবং তার এক মাসের রোজা বাকি আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা আদায় করে দিব? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকত তাহলে তুমি কি তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দিতে? সে বলল, হ্যা। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ তো পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশী দাবীদার। সুলায়মান বলেন, হাকাম ও সালামাহ্ ইবন কুহায়ল উভয়ই বলেছেন, যখন মুসলিম আল বাত্বীন এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তখন আমরা উভয়ই সেখানে বসা ছিলাম। অতঃপর তারা উভয়ই বলেন, আমরা মুজাহিদকে এ হাদীসটি ইবন আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি।

আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... ইবন আব্বাস থেকে এ সূত্রেও নবী (ﷺ) এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইসহাক ইবন মানসূর, ইবন আবূ খালাফ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা তার মানতের সওম বাকি রেখেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা পূর্ণ করব? তিনি বললেন, মনে কর তোমার মায়ের পক্ষ থেকে ঋণ বাকি ছিল। তুমি তা পরিশোধ করে দিলে। এতে কি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ হয়ে যেত? সে (মহিলা) বলল, হ্যা। এবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে সওম রেখে দাও।

আলী ইবন হুজুর আস্ সা'দী .... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দাহ থেকে পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় এক মহিলা তার কছে এসে বলল, আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম, আমার মা মারা গেছেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং ঐ দাসী উত্তরাধিকার সূত্রে পুনরায় তোমার মালিকানাধীনে ফিরে আসবে। সে (মহিলা) আবার বলল, হে আল্লাহর রসূল! তার এক মাসের রোজা বাকি আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে এ রোজা পালন করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যা, তার পক্ষ থেকে তুমি রোজা পালন কর। আবার সে বলল, তিনি কখনো হাজ্জ করেননি। আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তার পক্ষ থেকে হাজ্জও কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। ... ইবন মুসহিরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে দু' মাসের সওমের কথা উল্লেখ আছে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন বুরায়দাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন স্ত্রীলোক নবী (ﷺ) এর নিকট আসল। ... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে এক মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ আছে।

ইসহাক ইবন মানসূর .... সুফইয়ান থেকে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে দু' মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ রয়েছে।

ইবন আবূ খালাফ .... সুলায়মান ইবন বুরায়দাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, এক মহিলা নবী (ﷺ) এর কাছে আসল। .... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে এক মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ আছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রোজা অবস্থায় আহার করার জন্য আমন্ত্রিত হয়, তখন সে যেন বলে, আমি রোজা পালনকারী।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ বর্ণনা করেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোনদিন রোজা অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়, সে সেন অশ্লীল কথাবার্তা ও জাহিলী আচরণ না করে। যদি কেউ তাকে গালাগালি করে বা তার সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে উদ্যত হয় তখন সে যেন বলে, আমি রোজা পালনকারী, আমি রোজা পালনকারী।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মানব সন্তানের যাবতীয় কাজ তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা, এটা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিব"। সে মহান সত্তার শপথ, যার হাতের মুঠোয় মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই রোজা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোজা ঢাল স্বরূপ।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "মানব সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়।" মহান আল্লাহ বলেন, "আদম সন্তানের যাবতীয় আমল তার নিজের জন্য কিন্তু রোজা বিশেষ করে আমার জন্যেই রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।" সুতরাং যখন তোমাদের কারো সওমের দিন আসে সে যেন ঐ দিন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করতে চায়, সে যেন বলে, "আমি একজন সিয়াম পালনকারী। সে মহান আল্লাহর শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! সিয়াম পালনকারীদের মুখের দুর্গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও উত্তম হবে। আর সিয়াম পালনকারীদের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। এর মাধ্যমে সে অনাবিল আনন্দ লাভ করে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারীর মাধ্যমে আনন্দ পায় আর দ্বিতীয়টি হলো যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হবে তখন সে তার সিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে।"

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ সাঈদ আল আশাজ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানব সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "কিন্তু রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিফল দান করব। বান্দা আমারই জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।" সিয়াম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি তার ইফত্বারের সময় এবং অপরটি তার প্রতিপালক আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। রোজা পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, "রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিফল দান করব।" সিয়াম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফত্বর করে আনন্দিত হয়, অপরটি হলো যখন সে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে আনন্দিত হবে। সে মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মিশকের সুগন্ধের চেয়েও তীব্র।

ইসহাক ইবন উমার ইবন সুলায়ত্ব (সালীত্ব) আল হুযালী .... যিরার ইবন মুররাহ আবূ সিমান থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে আরো আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যখন রোজা পালনকারী আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাকে প্রতিদান দিবেন তখন সে আনন্দিত হবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে রাইয়্যান' নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোজা পালনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর রোজা পালনকারীগণ ছাড়া অন্য কেউ তাদের সাথে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কিয়ামতের দিন রোজা পালনকারীদেরকে ডেকে বলা হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর রোজা পালনকারীদের শেষ লোকটি প্রবেশ করার সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। অতঃপর সে দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধের সময়) একদিন রোজা পালন করবে আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে এ দিনের (সিয়ামের) বারাকাতে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সুহায়ল থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইসহাক ইবন মানসূর ও আবদুর রহমান ইবন বিশর আল আবদী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা পালন করে, আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, "হে আয়িশাহ! তোমাদের কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তিনি বললেন, আমি রোজা পালনকারী। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইরে চলে গেলেন। পরে আমাদের জন্য উপহার হিসেবে কিছু জিনিস আসলো এবং সাথে সাথে আমাদের কাছে কিছু সংখ্যক মেহমানও আসলো। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফিরে আসলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে কিছু জিনিস এসেছে এবং কয়েকজন মেহমানও এসেছে (তাই হাদিয়্যার বেশীর ভাগ তাদেরকে খাইয়ে দিয়েছি)। আমি তা থেকে কিছু অংশ আপনার জন্য লুকিয়ে রেখেছি। তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, তা হলো হায়স (খেজুর, পনির ও আটার সমন্বয়ে তৈরি হালুয়া)। তিনি বললেন, তা নিয়ে এসো। অতঃপর আমি তা নিয়ে আসলাম। তিনি তা খেয়ে বললেন, আমি ভোরে সিয়াম পালন করেছিলাম। ত্বলহাহ বলেন, আমি এ হাদীসটি মুজাহিদের কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলেন, এটা (এভাবে নাফল সিয়াম ভেঙে ফেলা) এমন ব্যক্তির সাথে তুল্য যে নিজের সম্পদ থেকে সাদাকা বের করে। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে তা দিতেও পারে আর রেখেও দিতে পারে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) আমার কাছে এসে বললেন, তোমাদের কাছে কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে আমি রোজা পালন করলাম। আর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে হায়স (ঘি বা পনির মিশ্রিত খেজুর) হাদিয়াহ দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমাকে তা দেখাও; অবশ্য আমি সকালে সিয়ামের নিয়্যাত করেছি। অতঃপর তিনি তা খেলেন।

আমর ইবন মুহাম্মাদ আন্‌ নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়েছে বা পান করেছে সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে বললাম, নবী (ﷺ) কি রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ মাস রোজা পালন করতেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি আজীবন রমযান ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি অন্তত কিছু রোজা পালন করেননি।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি কখনও একটি পূর্ণ মাস (নাফল) রোজা পালন করতেন? তিনি বললেন, আমার জানা মতে তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও কাটেনি যে মাসে তিনি (দু'একটি) সিয়াম পালন করেননি।

আবূ রবী আয যাহরানী ... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে নবী (ﷺ) এর রোজা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আর কখনো তিনি একাধারে পানাহার (সিয়াম পালন না করে) কাটিয়ে দিতেন। যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক দিন যাবৎ সিয়াম পালন করেননি, তিনি অনেক দিন সিয়াম পালন করেননি। আয়িশাহ আরো বলেন, তিনি মদীনায় আসার পর আমি তাকে রমযান মাস ছাড়া কখনো পূর্ণ একটি মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি।

কুতায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম ... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সানাদে অধঃস্তন রাবী হিশাম ও মুহাম্মাদের নাম উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একাধারে রোজা পালন করতে থাকতেন। ফলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার এমনভাবে তিনি ক্রমাগত সিয়াম ছাড়তে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) সিয়াম পালন করবেন না। আমি তাকে কখনো রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক সিয়াম পালন করতেও দেখিনি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন্‌ নাকিদ .... আবূ সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম পালন করে যাচ্ছেন (হয়ত আর বিরত হবেন না)। আবার তিনি কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন না করে অতিবাহিত করতেন যে, আমরা বলতাম, হয়ত তিনি আর রোজা পালন করবেন না। আমি তাকে শা'বান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক (নাফল) সিয়াম পালন করতে দেখিনি। তিনি পুরো শাবান মাসেই সিয়াম পালন করতেন (কয়েক দিন ছাড়া পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম পালন করতেন)।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শা'বান মাসে যত রোজা পালন করতেন সারা বছরে অন্য কোন মাসে তিনি এত অধিক রোজা পালন করতেন না। আর তিনি (লোকদের উদ্দেশে) বলতেন, "তোমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশী পার আমল কর। কেননা, আল্লাহ তাআলা (তোমাদেরকে সাওয়াব দানে) ক্লান্ত বা বিরক্ত হবেন না যতক্ষণ তোমরা অক্ষম হয়ে না পড়বে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে যা কোন বান্দা অব্যাহতভাবে করে থাকে- যদিও তা পরিমাণে কম হয়।

আবূ রবী যাহরানী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাস ছাড়া আর কখনো পূর্ণ মাস রোজা পালন করতেন না। তিনি যখন রোজা পালন করতেন তখন ক্রমাগত সিয়াম পালন করে যেতেন। ফলে লোকেরা বলত, আল্লাহর কসম! হয়ত তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন তিনি সিয়াম ছেড়ে দিতেন একাধারেই বিরতি দিতে থাকতেন। এমনকি লোকেরা বলত আল্লাহর কসম! তিনি হয়ত আর সিয়াম পালন করবেন না।

মুহাম্মদ ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি .... আবূ বিশর এর সূত্রে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, নবী (ﷺ) মদীনাতে আসার পর কখনো একাধারে এক মাস (নাফল) রোজা পালন করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... উসমান ইবন হাকীম আল আনসারী বলেন, আমি রজব মাসের রোজা সম্পর্কে সাঈদ ইবন জুবায়র কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একাধারে রোজা পালন করতে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি হয়ত আর রোজা ছাড়বেন না। আবার তিনি এমনভাবে ক্রমাগত রোজা না রেখে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) রোজা পালন করবেন না।

আলী ইবন হুজর ও ইবরাহীম ইবন মূসা .... উসমান ইবন হাকীম থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

যুহায়র ইবন হারব, ইবন আবূ খালাফ ও আবূ বকর ইবন নাফি .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রোজা পালন করে যেতেন, এমনকি বলা হত তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন,তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আবার তিনি সিয়াম থেকে এমনভাবে বিরত থাকতেন যে, বলা হত তিনি অনেক দিন রোজা থেকে বিরত রয়েছেন, অনেক দিন বিরত রয়েছেন।

আবূ ত্বহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অবহিত করা হলো যে, আমি বলছি, আমি যতদিন বেচে থাকব সারা রাতে নামাজ আদায় করব এবং সর্বদা দিনের বেলা রোজা পালন করব। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ কথা বলেছ? আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এ কাজ করতে পারবে না, কারণ তোমার সে সামর্থ্য নেই। পড়, নিদ্রাও যাও। আর প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম পালন কর। কেননা প্রত্যেক নেক কাজের জন্য দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়। এতেই সারা জীবন সিয়াম পালন করার সাওয়াব পাওয়া যাবে। রাবী বলেন, আমি আরয করলাম, আমি এর চেয়েও বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে একদিন রোজা পালন কর এবং অতঃপর দুদিন সিয়াম পালন থেকে বিরত থাক। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সিয়াম পালন কর এবং একদিন বিরত থাক। এটাই দাউদ-এর সিয়াম। আর এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ মত তিন দিনের সিয়াম পালন করাকে যদি আমি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে এটা আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চেয়েও পছন্দনীয় হত।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আর রূমী .... ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আবূ সালামার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশে রওনা হলাম। অবশেষে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে পৌছলাম। তার বাড়ির সামনেই ছিল একটি মসজিদ। আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম এবং তাকে খবর দেয়ার জন্য একটি লোক পাঠালাম। তিনি বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা ইচ্ছে করলে ঘরে গিয়েও বসতে পার অথবা এখানেও বসতে পার। আমরা বললাম, অবশ্যই আমরা এখানে বসব। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস আমার কাছে বলেছেন, আমি সর্বদা রোজা পালন করতাম এবং প্রতি রাতেই (রাত ভর) কুরআন তিলাওয়াত করতাম। পরে হয়ত বা আমার ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর কাছে আলোচনা করা হয়েছে অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি নিজেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি গিয়ে তার কাছে হাজির হলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, তুমি নাকি সর্বদা সিয়াম পালন কর এবং প্রতি রাতেই (সারা রাত) কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যা, হে আল্লাহর নবী! আমি কল্যাণ লাভ করার উদেশেই তা করে থাকি। তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা পালন করাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, (এরূপ করো না)। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, যারা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে তাদেরও তোমার উপর অধিকার রয়েছে। আর তোমার উপর তোমার দেহেরও হক্ব আছে। তাই তুমি আল্লাহর নবী দাউদ এর সিয়াম অনুসরণ কর। কেননা তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ইবাদাত করতেন। আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন, আমি রললাম, হে আল্লাহর নবী দাউদ এর সিয়াম কী? তিনি বললেন, দাউদ একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না (একদিন পরপর সিয়াম পালন করতেন)। তিনি (আরো) বললেন, তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী পড়ার সামর্থ রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি বিশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি দশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর নবী এর চেয়েও বেশী পারি। তিনি বললেন, তুমি সাতদিন অন্তর কুরআন খতম কর, তবে এর চেয়ে বেশী পড়ো না। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক্ব আছে, তোমার সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও তোমার উপর হক্ব আছে, আর তোমার শরীরেরও তোমার উপর হক্ব আছে। আবদুল্লাহ বলেন, আমি (সর্বদা সিয়াম পালন করে) নিজের উপর কঠোরতা করেছি। ফলে (আমার উপরও) কঠোরতা চেপে বসেছে। তিনি আরো বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, তোমার জানা নেই হয়ত বা তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করবে (তখন তোমার পক্ষে এত বেশী আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে)। নবী (ﷺ) যা বলেছিলেন বাস্তবে তাই হলো। আমি যখন বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লাম তখন অনুশোচনা করে বলতাম, "হায়! আমি যদি নবী (ﷺ) এর দেয়া অবকাশটুকু গ্রহণ করতাম!

যুহায়র ইবন হাব .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর কর্তৃক এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে প্রতি মাসে তিনদিন করে রোজা পালন করাই যথেষ্ট'- এ কথার পরে আরো আছে, "কেননা প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে তার দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়, আর এভাবে তা সারা বছরের সিয়ামের সমতুল্য গণ্য হয়"। তিনি তার বর্ণিত হাদীসে আরো উল্লেখ করেছেন, "আমি বললাম, আল্লাহর নবী দাউদ এর সিয়াম কী (ছিল)? তিনি বললেন, বছরের অর্ধেক (একদিন সিয়াম পালন করা ও একদিন সিয়াম ভাঙ্গা)। তিনি (এ হাদীসে) কুরআন তিলাওয়াতের প্রসঙ্গে কিছুই উল্লেখ করেননি। এ বর্ণনায় তিনি "তোমার সাক্ষাত-প্রার্থীদেরও তোমার উপর হক্ব আছে"- এ কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং এতে আছেঃ তোমার সন্তানেরও তোমার উপর হক্ব আছে।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি প্রতি মাসে একবার করে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। আবদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, আরো বেশী পড়ার সামর্থ রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিশ দিন অন্তর একবার কুরআন খতম কর। রাবী বলেন, আমি আবার আরয করলাম, আমার আরো (বেশী পাঠ করার) শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর একবার সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। তবে এর চেয়ে বেশী (তিলাওয়াত) করো না। (কারণ এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে কুরআন খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার সুযোগ হয় না)।

আহমাদ ইবন ইউসুফ আল আযদী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবদুল্লাহ! (বেশী বেশী রাত জেগে) তুমিও অমুক ব্যক্তির মতো হয়ে যেও না। সে রাত জেগে জেগে নামাজ আদায় করত, অতঃপর রাত জেগে ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জানতে পারলেন, আমি অনবরত রোজা পালন করি এবং রাত ভর নামাজ আদায় করি। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি তার সাথে দেখা করি। তিনি বললেন, আমি খবর পেয়েছি, তুমি অনবরত সিয়াম পালন কর, বিরতি দাও না, আর রাত ভর সালাত আদায় কর। এরপর আর এরূপ করবে না। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের অংশ (হক্ব) আছে, তোমার দেহ ও আত্মার অংশ আছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনেরও অংশ আছে। কাজেই তুমি সিয়ামও পালন কর, বিরতিও দাও, সালাতও আদায় কর, ঘুমও যাও। তুমি দশ দিনে একদিন সিয়াম পালন কর, তাহলে বাকি নয়টি দিনেরও সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমি নিজের মধ্যে এর চেয়েও অধিক সিয়াম পালন করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ-এর মত সিয়াম পালন কর। তিনি (আবদুল্লাহ) বললেন, হে আল্লাহর নবী দাউদ কিভাবে সিয়াম পালন করতেন? তিনি (নবী) বললেন, দাউদ একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন বিরতি দিতেন। এ জন্যেই (দুর্বল হতেন না এবং) দুশমনের সম্মুখীন হলে (ময়দান ছেড়ে) পালাতেন না। আবদুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ ব্যাপারে কে আমার দায়িত্ব নিবে? আতা বলেন, আমি জানি না, অনবরত সিয়াম পালন করার বিষয়টি কিভাবে আলোচনায় আসল। নবী (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম পালন করল সে যেন কোন সিয়ামই পালন করেনি। যে ব্যক্তি সব সময় সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি, যে ব্যক্তি সদাসর্বদা সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ... ইবন জুরায়জ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, আবূ আব্বাস শাইর তাকে অবহিত করেছেন। (ইমাম মুসলিম বলেনঃ) তিনি হলেন আবূ আব্বাস আস্ সায়িব ইবন ফাররূখ। তিনি মক্কার (মক্কা) অধিবাসী এবং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন আমর! তুমি তো একাধারে সওম (রোযা) পালন করে যাচ্ছ। সারারাত ইবাদাতে দাড়িয়ে থাক। তুমি এরূপ করলে তাতে তোমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। যে ব্যক্তি সর্বদা সওম পালন করল, সে মূলত সওম পালন করল না। মাসে তিন দিন সওম পালন করা পূর্ণ মাস পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, দাউদ এর ন্যায় সওম পালন কর। তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন ছেড়ে দিতেন এবং পলায়ন করতেন না যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন।

আবূ কুরায়ব .... হাবীব ইবন আবূ সাবিত থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এতে আরও আছে, "এবং তুমি শ্ৰান্ত-ক্লান্ত হয়ে পড়বে।"

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমাকে তোমার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি সারা রাত দাড়িয়ে নামাজ আদায় কর এবং দিনের বেলা সওম রাখ? আমি বললাম, আমি অবশ্য করি। তিনি বলেন, তুমি এরূপ করতে গেলে অনিদ্রার কারণে তোমার চোখ কোটরগত হবে এবং তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে। তোমার চোখের হক্ব রয়েছে, তোমার দেহের হক্ব রয়েছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনের হক্ব রয়েছে। অতএব তুমি রাতে ইবাদাতও করবে এবং নিদ্রাও যাবে। সওমও পালন করবে, আবার তা বাদও দিবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় সওম হচ্ছে দাউদ এর সওম এবং তার নিকট পছন্দনীয় নামাজ হচ্ছে দাউদ এর সালাত। তিনি অর্ধরাত ঘুমাতেন। অতঃপর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদাতে থাকতেন। অতঃপর এক-ষষ্ঠাংশ রাত ঘুমাতেন। তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন বাদ দিতেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সওম হচ্ছে দাউদ এর সওম। তিনি বছরের অর্ধেক কাল সওম পালন করতেন। মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় নামাজ হচ্ছে দাউদ এর সালাত। তিনি অর্ধ রাত ঘুমাতেন, অতঃপর সালাতে দাড়াতেন, অতঃপর শেষ রাতে ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি অর্ধ রাত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদাত করতেন। রাবী ইবন জুরায়জ বলেন, আমি আমর ইবন দীনারকে বললাম, আমর ইবন আস কি এ কথা বলতেন যে, তিনি অর্ধরত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদাতে থাকতেন? তিনি বললেন, হ্যা।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ কিলাবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আবুল মালীহ অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি তোমার পিতার সাথে আবদুল্লাহ ইবন আমর এর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের নিকট বললেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমার সওম সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে এলেন। আমি তার জন্য একটি চামড়ার বালিশ বিছিয়ে দিলাম। তাতে খেজুরের আশ ভর্তি ছিল। তিনি মাটির উপর বসে গেলেন এবং বালিশটি তার ও আমার মাঝে পড়ে থাকল। তিনি আমাকে বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (আমি এর অধিক সওম পালন করতে সক্ষম) তিনি বললেন, তাহলে পাচদিন। আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল (আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি)। তিনি বললেন, তাহলে সাতদিন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে নয়দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি)। তিনি বললেন, তাহলে এগার দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি) নবী (ﷺ) বললেন, দাউদ এর সওমের উপর কোন সওম নেই। তিনি বছরের অর্ধেক একদিন যদি এ সওম পালন করতেন, আরেক দিন বাদ দিতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি একদিন সওম পালন করলে পরের দিনের সাওয়াব পাবে। তিনি বলেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দু'দিন সওম পালন কর। তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক সওম পালন করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি চারদিন সওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সাওয়াব লাভ করবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দাউদ এর সওম পালন কর যা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সওম। তিনি পর্যায়ক্রমে একদিন সওম পালন করতেন এবং পরের দিন বাদ দিতেন।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন আমর! আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি দিনের বেলা সওম পালন কর এবং রাতের বেলা সালাতে থাক, তুমি এরূপ করো না। কারণ তোমার উপর তোমাদের দেহের একটি অংশ (হক্ব) রয়েছে, তোমার উপর তোমার চোখের অংশ রয়েছে এবং তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অংশ রয়েছে। তুমি সওমও পালন কর এবং বাদও দাও। প্রতি মাসে তিনদিন করে সওম পালন কর এবং এটাই হল সারা বছরের সওম (এর নিয়ম)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার আরও শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে দাউদ এর সওম এর মতো সওম পালন কর। পর্যায়ক্রমে একটি সওম পালন কর এবং একদিন বাদ দাও। আবদুল্লাহ বলতেন, হায়! আমি যদি সহজটার উপর আমল করতাম!

শায়বান ইবন ফারুখ .... মুআযাহ্ আল আদাবিয়্যাহ নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ এর কাছে জানতে চাইলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন কোন দিন তিনি সওম পালন করতেন? আয়িশাহ্ বললেন, তিনি মাসের যে কোন দিন সওম পালন করতে দ্বিধা করতেন না।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাকে বললেন অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) তিনি কোন ব্যক্তিকে বলেছেন এবং তিনি তা শুনলেন, হে অমুক তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে সওম পালন করেছিলে? সে বলল, না। তিনি বললেন, যখন তুমি তা ভঙ্গ করবে, তখন দু'দিন সওম পালন করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ..... আবূ কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন। উমর তার অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, "আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তার ও তার রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" উমর কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল (ﷺ) এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হল। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে পর্যায়ক্রমে দু'দিন সওম পালন করে ও একদিন সওম ত্যাগ করে, তার অবস্থা কীরূপ? তিনি বললেন, এ সামর্থ্য কার আছে? (সামর্থ্য) থাকলে বেশ ভাল কথা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাউদ এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারাহ হয়ে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ কাতাদাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। এতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্ট হলেন। তখন উমর বললেন, আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দীন হিসেবে, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর (আমাদের) রসূল হিসেবে এবং আমাদের কৃত বাইআতের উপর আমরা সন্তুষ্ট। অতঃপর সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি, ইফত্বারও করেনি, সে সওম পালন করেনি এবং সওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দু'দিন সওম পালন করা ও একদিন সওম পালন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, এভাবে সওম পালনের সামর্থ্য কার আছে? অতঃপর একদিন সওম পালন ও দু'দিন সওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সওম পালনের সামর্থ্য দান করেন। অতঃপর একদিন সওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, তা আমার ভাই দাউদ এর সওম। অতঃপর সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে। তিনি আরও বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমযান মাস সওম পালন করাই হল সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। অতঃপর আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারাহ হয়ে যাবে। অতঃপর আশুরার সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, বিগত বছরের গুনাহের কাফফারাহ হয়ে যাবে। এ হাদীসে শুবাহ এর বর্ণনায় আরও আছে, "অতঃপর সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল।" কিন্তু আমাদের বৃহস্পতিবারের কথা ভুলবশতঃ বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা তার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী .... গইলান ইবন জারীর এর সূত্রে এ সানাদে শুবাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে তিনি (গইলান) সোমবারের উল্লেখ করেছেন কিন্তু বৃহস্পতিবারের উল্লেখ করেননি।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ কতাদাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে।

হাদ্দাব ইবন খালিদ .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি শা'বান মাসের মধ্যভাগে সওম পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তুমি সওম পালন করনি, তখন দু'দিন সওম পালন করে নিও।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে কিছু দিন সওম পালন করেছিলে? সে বলল, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তার বদলে রমযানের রোজা শেষ করে দু'দিন সিয়াম পালন করবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি এক মাসের শা'বান মাসের মধ্যভাগে কিছু দিন রোজা পালন করেছ? সে বলল, না। তিনি তাকে বললেন, রমাযানের সওম পালন শেষ করে তুমি একদিন বা দু'দিন সওম পালন কর। এ সম্পর্কে শুবাহ এর সন্দেহ রয়েছে এবং রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি দু' দিনের কথা বলেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন কুদামাহ ও ইয়াহইয়া ইবন লু'লু'য়ী .... আবদুল্লাহ ইবন হানী ইবন আখী মুতাররিফ থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযানের সিয়ামের পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের সওম এবং ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে রাতের সালাত।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, ফরয নামাজ সমূহের পর কোন সালাত এবং রমযান মাসের সিয়ামের পর কোন সওম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ফারয সালাত সমূহের পর গভীর রাতের সালাত সর্বোত্তম এবং রমযান মাসের সিয়ামের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের সওম সর্বোত্তম।

আবূ বকর ইবন শায়বাহ্ .... আবদুল মালিক ইবন উমায়র থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও আলী ইবন হুজ্‌র .... আবূ আইয়্যুব আল আনসারী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ রমযান মাসের রোজা পালন করে পরে শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোজা পালন করা সারা বছর সওম পালন করার মত।

ইবন নুমায়র .... আবূ আইয়ুব আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ আইয়ূব থেকে অনুরূপ বর্ণিত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্ন দেখানো হল যে, (রমাযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত নিহিত রয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমযানের শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে তা অন্বেষণ করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রমাযানের) শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে লায়লাতুল কদর অন্বেষণ কর।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যক্তি (রমাযানের) ২৭ তম রাতে লায়লাতুল কদর দেখতে পেল। নবী (ﷺ) বললেন, আমাকেও তোমাদের মতো স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, তা রমাযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... সলিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত, তার পিতা [আবদুল্লাহ] বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লায়লাতুল কদর সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কতিপয় লোককে দেখনো হল যে, তা রমাযানের প্রথম সাতদিনের মধ্যে, আবার কতিপয় লোককে দেখানো হয়েছে যে, তা শেষ সাতদিনের মধ্যে। অতএব (রমাযানের) শেষ দশকের মধ্যে তা অন্বেষণ কর।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উকবাহ ইবন হুরায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (রমাযানের) শেষ দশ দিনে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষের সাত রাতে অলসতা না করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবালাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাত অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন (রমাযানের) শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (রমযানের) শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের নয় রাতে।

আবূ তহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাকে স্বপ্লে কদরের রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে ঘুম থেকে জাগানোর ফলে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তা শেষ দশকে অন্বেষণ কর। রাবী হারমালাহ বলেছেন, "আমি তা ভুলে গেছি"।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (রমাযানের) মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। অতঃপর ২০তম দিন অতিবাহিত হবার পর এবং ২১তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তার সঙ্গে যারা ইতিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমাযান মাসের মাঝের দশকে তিনি ইতিকাফ করলেন- যে রাতে তার ইতিকাফ হতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে (পুনরায়) ইতিকাফ আরম্ভ করলেন ও লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি সাধারণত এ (মধ্যম) দশকে ইতিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ইতিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায়, যেন নিজ ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এ (কদরের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম, কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্লে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, ২১ তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের নামাজ থেকে ফিরলেন, তখন আমি তার মুখমণ্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম।

ইবন আবূ উমর .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করতেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, "সে যেন তার ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে।" তিনি আরো বলেন, "তার কপাল মুবারক কাদা ও পানিতে সিক্ত ছিল।"

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তুর্কি তাবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেন এবং তাবুর দরজায় একটি চটাই ঝুলানো ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাবুর কোণে রাখলেন, এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তার নিকট এগিয়ে এলো। তিনি বললেন, এ রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি (রমাযানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক (লোক) এসে আমাকে বলল, লায়লাতুল কদর শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে। লোকেরা তার সঙ্গে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বললেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং আমি যেন সে রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সিজদা করছি। (রাবী বলেন), তিনি ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের সালাতে দাড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি স্বচক্ষে কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের নামাজ শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন তার কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমাযানের শেষ দশকের ২১তম রাত।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সালামাহ্ বলেন, আমরা পরস্পর কদরের রাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এরপর আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট এলাম এবং তিনি ছিলেন আমার বন্ধু। আমি তাকে বললাম, আপনি কি আমাদের সাথে খেজুর বাগানে যাবেন না? তিনি একটি চাঁদর পরিহিত অবস্থায় বের হলেন। আমি তাকে বললাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লায়লাতুল কদর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমরা রমযান মাসের মাঝের দশকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। আমরা ২১তম দিন ভোরে (ইতিকাফ থেকে) বের হলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বললেন, আমাকে স্বপ্নযোগে কদরের রাত দেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমি তা তুলে গেছি অথবা আমাকে ভুলানো হয়েছে। তোমরা শেষ দশ দিনের প্রতিটি বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ কর। আমি আরও দেখেছি যে, আমি কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ইতিকাফ করেছে, সে যেন পুনরায় তার ইতিকাফে ফিরে যায়। আবূ সাঈদ বলেন, আমরা (ইতিকাফের অবস্থায়) ফিরে গেলাম। আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখতে পাইনি। ইতিমধ্যে একখণ্ড মেঘ এলো এবং আমাদের উপর বৃষ্টি হল, এমন কি মসজিদের ছাদ হতে পানি প্রবাহিত হল। মসজিদের ছাদ খেজুর ডাটার ছাউনিযুক্ত ছিল। ফজরের নামাজ আদায় করা হল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা দিতে দেখলাম, এমন কি আমি তার কপালে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।

আবদ ইবন হুমায়দ, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর থেকে এ সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে উভয়ের (মা'মার ও আল আওযাঈ) বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামাজ শেষ করে ফিরলেন তখন আমি তার কপালে ও নাকের ডগায় কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন খাল্লাদ .... আবূ সাঈদ আল খুদর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কদরের রাত অন্বেষণের উদ্দেশে তা তার কাছে সুস্পষ্ট হবার পূর্বে রমযানের মধ্যেই দশদিন ইতিকাফ করলেন। দশদিন অতিবাহিত হবার পর তিনি তাবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতএব তা গুটিয়ে ফেলা হল। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, তা শেষ দশ দিনের মধ্যে আছে। তাই তিনি পুনরায় তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। তা খাটানো হল। এরপর তিনি লোকদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে লোক সকল! আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং আমি তোমাদের তা জানানোর জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু দু' ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া করতে করতে উপস্থিত হল এবং তাদের সাথে ছিল শয়তান। তাই আমি তা ভুলে গেছি। অতএব তোমরা তা রমযান মাসের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ কর তোমরা তা ৯ম, ৭ম ও ৫ম রাতে অন্বেষণ কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ সাঈদ! আপনি সংখ্য সম্পর্কে আমাদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। তিনি বললেন, হ্যা, আমরাই এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। আমি বললাম ৯ম, ৭ম, ৫ম সংখ্যাগুলো কী? তিনি বললেন, যখন ২১তম রাত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ২২তম রাত শুরু হয়- তখন তা হচ্ছে ৯ম তারিখ, ২৩ রাত অতিক্রান্ত হবার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৭ম তারিখ এবং ২৫তম রাত অতিবাহিত হবার পরের দিনটি হচ্ছে ৫ম তারিখ।

সাঈদ ইবন আমর ইবন সাহল ইবন ইসহাক ইবন মুহাম্মাদ ইবন আশআস ইবন কায়স আল কিন্‌দী ও আলী ইবন খাশরম .... আবদুল্লাহ ইবন উনায়স থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমাকে কদরের রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখানো হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩ তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে (ফজরের) নামাজ আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তার কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী আবদুল্লাহ ইবন উনায়স বলতেন, তা ছিল ২৩ তম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাসের শেষ দশ দিনে তোমরা কদরের রাত (ইবন নুমায়রের বর্ণনায়) অন্বেষণ কর এবং (ওয়াকী এর বর্ণনায়) সন্ধানে সচেষ্ট হও।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইবন উমার .... যির ইবন হুবায়শ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবন কাব কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে- সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি এ কথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমযান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি দৃঢ় শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামাত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে- যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উদয় হবে কিন্তু তাতে আলোকরশ্মি থাকবে না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উবাই ইবন কা'ব কদরের রাত সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর শপথ! কদরের রাত সম্পর্কে আমি খুব ভাল করেই জানি। শুবাহ বলেন, আমার জানামতে তা হচ্ছে, সে রাত যে রাতে জেগে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে রমযানের ২৭তম রজনী। "তা হচ্ছে সে রাত, যে রাতে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।" এ বাক্যটুকু সম্পর্কে শুবাহ সন্দেহে পতিত হয়েছেন এবং বলেছেন, আমার এক বন্ধু তার শায়খের সূত্রে আমার নিকট ঐ কথা বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে কদরের রাত সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে সে (রাত) স্মরণ রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হবে থালার একটি টুকরার ন্যায়।