bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

জানাযাহ (২০০৯-২১৫৩)

আবূ কামিল জাহদারী ফুযায়ল ইবন হুসায়ন ও উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইয়াহইয়া ইবন উমারাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা মুমূর্ষ ব্যক্তিকে "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" (আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই) তালকীন দাও (পড়াও)।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... সুলায়মান ইবন বিলাল সকলে ঐ সানাদে বর্ণনা করেছেন।

আবূ শায়বাহ-এর পুত্রদ্বয় উসমান ও আবূ বকর, আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা মুমূর্য ব্যক্তিকে "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" (আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই) তালকীন করো।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিমের ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলেঃ আল্লাহ যা হুকুম করেছেন- "ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন" (আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তারই কাছে ফিরে যাব) বলে এবং এ দোয়া পাঠ করে- "আল্ল-হুম্মা' জুৱনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম মিনহা- ইল্লা- আখলাফাল্ল-হু লাহ খয়রাম মিনহা-" (হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসীবাতে সাওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন।)। উম্মু সালামাহ্ বলেন, এরপর যখন আবূ সালামাহ ইনতিকাল করেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কোন মুসলিম আবূ সালামাহ থেকে উত্তম? তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি হিজরত করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছে গেছেন। এতদসত্ত্বেও আমি এ দোয়াগুলো পাঠ করলাম। এরপর মহান আল্লাহ আবূ সালামার স্থলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মতো স্বামী দান করেছেন। উম্মু সালামাহ বলেন, আমার নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিয়ের পয়গাম পৌছাবার উদ্দেশে হাতিব ইবন আবূ বালতাআহ-কে পাঠালেন। আমি বললাম, আমার একটা কন্যা আছে আর আমার জিদ বেশী। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার কন্যা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব যাতে তিনি তাকে তার কন্যার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন। আর (তার সম্পর্কে) দোয়া করব যেন আল্লাহ তার জিদ দূর করে দেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কোন বান্দার ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলে "ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জাউন, আল্ল-হুম্মা' জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম মিনহা ইল্লা- আজারাহুল্ল-হু ফী মুসীবাতিহী ওয়া আখলাফা লাহ্‌ খয়রাম মিনহা-" (আমরা আল্লাহর জন্যে এবং আমরা তারই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে এ মুসীবাতের বিনিময় দান কর এবং এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর। তবে আল্লাহ তাকে তার মুসীবাতের বিনিময় দান করবেন এবং তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করবেন।)। উম্মু সালানাহ বলেন, এরপর যখন আবূ সালামাহ ইনতিকাল করলেন, আমি ঐরূপ দোয়া করলাম যেরূপ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাকে তার চেয়েও উত্তম নিআমাত রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে স্বামীরূপে দান করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, .... পরবর্তী বর্ণনা উসামাহ এর হাদীস সদৃশ। তবে এ কথাটুকু বাড়িয়েছেনঃ উম্মু সালামাহ বলেন, এরপর যখন আবূ সালামাহ ইনতিকাল করলেন, আমি মনে মনে বললামঃ আবূ সালামাহ এর চেয়ে উত্তম মানুষ কে আছেন যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিশিষ্ট সাহাবী? অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে দৃঢ়তা দান করলেন এবং আমি ঐরূপ দোয়া করলাম। উম্মু সালামাহ বলেন, এরপর আমার বিয়ে হল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা পীড়িত ব্যক্তি অথবা মৃত ব্যক্তির নিকট হাজির হও তখন তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য কর। কেননা তোমরা যেরূপ বল তার ওপর ফেরেশতাগণ আমীন বলেন। উম্মু সালামাহ্ বলেন, এরপর যখন আবূ সালামাহ ইনতিকাল করলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আবূ সালামাহ্ ইনতিকাল করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "তুমি বল, হে আল্লাহ আমাকে ও তাকে ক্ষমা কর এবং তার পরে আমাকে উত্তম পরিণাম দান কর" উম্মু সালামাহ বলেন, অতঃপর আমি তা বললাম। আল্লাহ আমাকে তার (আবূ সালামাহ-এর) চেয়ে উত্তম প্রতিদান হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে দান করলেন।

যুহায়র ইবন হারব .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ সালামাহকে দেখতে এলেন, তখন চোখ খোলা ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন, যখন রূহ কবয করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে। আবূ সালামাহ এর পরিবারের লোকেরা কান্না শুরু করে দিল। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে ভাল কথা ছাড়া কোন খারাপ কিছু বলাবলি করো না। কেননা, তোমরা যা কিছু বল তার স্বপক্ষে মালায়িকাহ আমীন' বলে থাক। এরপর তিনি এভাবে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ আবূ সালামাহ কে ক্ষমা কর এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে উচু করে দাও, তুমি তার বংশধরদের অভিভাবক হয়ে যাও। হে রাব্বুল আলামীন তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তার কবরকে প্রশস্ত কর এবং তা জ্যোতির্ময় করে দাও।"

মুহাম্মাদ ইবন মূসা আল কাত্ত্বান আল ওয়াসিতী .... খালিদ আল হাযযা একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ব্যতিক্রম এই যে, এ সূত্রে বলেছেন, "তার পরিবার পরিজনদের অভিভাবক হও।" এছাড়া বলেছেন, তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও কিন্তু "আফসিহ" শব্দটি এ বর্ণনায় নেই। খালিদ আল হাযযা এ কথাটুকুও বর্ণনা করেছেন, সপ্তম অন্য আরেকটি দোয়া আছে যা আমি ভুলে গেছি।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কি দেখ না, মানুষ যখন মারা যায় তার চোখ খোলা থেকে যায়? লোকেরা বলল, হ্যা দেখেছি। তিনি বলেনঃ যখন তার চোখ তার রূহকে অনুসরণ করে তখন এ অবস্থা হয়।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আলা থেকে একই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ সালামাহ ইনতিকাল করলেন আমি (আক্ষেপ করলাম) বললাম, আহ! নির্বাসিত ব্যক্তি! আহ! বিদেশ ভূমিতে মারা গেল! আমি তার জন্য এমনভাবে (বুক ফাটিয়ে) কান্নাকাটি করব যা মানুষের মাঝে চর্চা হতে থাকবে। আমি কান্নার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় একজন মহিলা আমাকে সঙ্গ দেয়ার মনোভাব নিয়ে মদীনায় উচু এলাকা থেকে আসলেন এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সামনে এগিয়ে এসে বললেনঃ আরে! তুমি কি শয়তানকে ঐ ঘরে ঢুকাতে চাচ্ছ যেখান থেকে মহান আল্লাহ তাকে দু'বার তাড়িয়ে দিয়েছেন? (উম্মু সালামাহ বলেন) এ কথা শুনামাত্র আমি কান্না বন্ধ করলাম এবং আর কাঁদলাম না।

আবূ কামিল আল জাহদারী .... উসামাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় তার এক কন্যা তার কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তার একটা শিশু অথবা ছেলে মুমূর্ষ অবস্থায় আছে, তিনি যেন এখানে আসেন। নবী (ﷺ) সংবাদ বাহককে বললেন, তুমি গিয়ে তাকে বল, আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা তারই আর যা দান করেছেন তাও তারই। আর প্রত্যেক বস্তুর জন্য তার কাছে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তাকে বলে দাও যেন সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করে। সংবাদদাতা ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আল্লাহর কসম দিয়ে বলেছেন, যাতে আপনি একটু আসেন। উসামাহ বলেন, এরপর নবী (ﷺ) উঠে রওয়ানা হলেন। সা'দ ইবন উবাদাহ ও মুআয ইবন জাবাল তার সাথে গেলেন আমিও তাদের সাথে গেলাম। সেখানে পৌছলে শিশুটিকে তার কাছে উঠিয়ে আনা হল। বাচ্চাটির রূহ এমনভাবে ধড়ফড় করছে যেন পুরাতন মশকের মধ্যে ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। এ করুণ অবস্থা দেখে তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সা'দ নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন, একি হে আল্লাহর রসূল? তিনি উত্তরে বললেন, এ হচ্ছে দয়া, যা আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের অন্তঃকরণে সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে দয়ালু ও স্নেহপরায়ণদের প্রতি দয়া করেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... সকলেই আসিম আল আহওয়াল থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসটি অপেক্ষাকৃত পূর্ণাঙ্গ ও লম্বা।

ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা আস্ সদাফী ও আমর ইবন সুওওয়াদ আল আমিরী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন উবাদাহ কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আওফ, সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ কে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেখতে গেলেন। তিনি সেখানে পৌছে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অবস্থা কি শেষ? লোকেরা বলল, না হে আল্লাহর রসূল! অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁদতে লাগলেন। উপস্থিত লোকেরা তার কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি শোননি যে, আল্লাহ তাআলা চোখের অশ্রুর কারণে ও হৃদয়ের অস্থিরতার জন্যে বান্দাকে শাস্তি দিবেন না? বরং তিনি এ কারণে আযাব করবেন বা করুণা প্রদর্শন করবেন, তিনি জিহবার দিকে ইঙ্গিত করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আল আনায়ী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় আনসারদের জনৈক ব্যক্তি তার নিকট এসে তাকে সালাম করল। অতঃপর সে ফিরে যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনসারদের ভাই! আমার ভাই সা'দ ইবন উবাদাহ কেমন আছে? সে বলল, ভাল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে কে তাকে দেখতে যাবে? এই বলে তিনি উঠলেন। আমরাও তার সাথে উঠে রওয়ানা হলাম। আমাদের সংখ্যা দশের অধিক ছিল। আমাদের পায়ে জুতা-মোজাও ছিল না। গায়ে জামাও ছিল না। মাথায় টুপিও ছিল না। আমরা পায়ে হেঁটে কঙ্করময় পথ অতিক্রম করে সেখানে গিয়ে পৌছলাম। তার পাশে উপস্থিত লোকেরা সরে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাথী সাহাবীগণ সা'দ-এর কাছে গেলেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার আল আবদী .... সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করা হচ্ছে প্রকৃত ধৈর্য।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার পুত্রের মৃত্যু শোকে কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। স্ত্রীলোকটি বলল, আপনি তো আমার মতো মুসীবাতে পড়েননি। যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন, কেউ তাকে বলল, ইনিই তো রসূলুল্লাহ (ﷺ)। এ কথা শুনে মহিলার অবস্থা মৃতবৎ হয়ে গেল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরজায় এসে দেখল তার দরজায় কোন দ্বাররক্ষী নেই। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, প্রকৃত সবর হচ্ছে প্রথম আঘাতের সময় ধৈর্য ধারণ করা অথবা বলেছেন, বিপদের প্রথম লগ্নে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী, উকবাহ ইবন মুকরিম আল আম্মী, আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী ... সকলে শুবাহ থেকে এ সূত্রে উসমান ইবন উমর-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবদুস সামাদ এর হাদীসে আছে, নবী (ﷺ) কবরের নিকট ক্ৰন্দনরত এক মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্‌ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। হাফসাহ উমারের জন্য (ঘাতক কর্তৃক আহত হলে) কাঁদছিলেন। তখন উমর বললেন, হে স্নেহের কন্যা! তুমি কি জান না রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (বহঃ) .... উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন কবরে আযাব দেয়া হয়।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন কবরে আযাব দেয়া হয়।

আলী ইবন হুজুর আস সা'দী ... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমর (আততায়ীর আঘাতে) আহত হন এবং সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। লোকেরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করল। যখন তার জ্ঞান ফিরে এল, তিনি বললেন, তোমরা কি জান না রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়?

আলী ইবন হুজর .... আবদুল্লাহ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমর গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব আক্ষেপ করে বলতে লাগলেন, আহ! ভাই উমার! উমর তাকে বললেন, হে সুহায়ব! তোমার কি মনে নেই, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিততদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয় হয়?

আলী ইবন হুজুর ..... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমার গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব তার গৃহ থেকে রওয়ানা হয়ে উমারের কাছে এলেন এবং তার সামনে দাড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। উমর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ, আমার জন্য কাঁদছ? তিনি বললেন, কসম আল্লাহর। হে আমীরুল মুমিনীন। হ্যা, আপনার জন্যই কাঁদছি। উমার বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি তো অবশ্যই জান রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জন্য কান্নাকাটি করা হবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। তিনি [আবূ মূসা] বলেন, এরপর আমি এ কথাটি মূসা ইবন তলহার কাছে বললাম। তিনি বললেন, আয়িশাহ্ বলতেন, যাদের আযাবের কথা বলা হয়েছে, তারা ছিল ইয়াহুদী সম্প্রদায়।

আমর আন নাকিদ ... আনাস থেকে বর্ণিত। উমার ইবন খাত্ত্বাব যখন আহত হলেন, হাফসাহ সশব্দে কাঁদতে লাগলেন। তখন উমর বললেন, ওগো হাফসাহু তুমি কি শোননি রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার জন্য উচ্চস্বরে ক্ৰন্দন করা হয় তাকে শাস্তি দেয়া হবে? তার প্রতি সুহায়ব-ও কাঁদতে থাকলে উমর তাকেও বললেন, হে সুহায়ব! তুমি কি জান না যার জন্য চিৎকার করে বান্নাকাটি করা হয় তাকে আযাব দেয়া হবে?

দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ মুলায়কাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর এর পাশে বসা ছিলাম এবং আমরা উসমানের কন্যা উম্মু আবান এর জানাযাহ পড়ার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। আর তার (ইবন উমার) নিকটেই ছিল আমর ইবন উসমান। এমন সময় ইবন আব্বাস আসলেন, তাকে একজন পথ নির্দেশনাকারী হাতে ধরে নিয়ে আসছে। আমার ধারণা সে তাকে ইবন উমারের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন। আমি উভয়ের মাঝখানে ছিলাম। হঠাৎ ঘর থেকে একটা (কান্নার) আওয়াজ শুনা গেল। তখন ইবন উমর বলেন, মনে হয় তিনি আমরের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন যেন তিনি উঠে তাদেরকে (কান্না থেকে) বিরত রাখেন- আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর এ কথাটা সাধারণভাবে বলেই ছেড়ে দিলেন।

অতঃপর ইবন আব্বাস বললেন, আমরা একবার আমীরুল মুমিনীন উমার ইবন খাত্ত্বাব-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা "বায়দা' নামক স্থানে পৌছলাম, হঠাৎ জনৈক ব্যক্তিকে একটা গাছের ছায়ায় অবস্থানরত দেখলাম। উমর আমাকে বললেন, এগিয়ে যাও তো গিয়ে দেখ আমাকে জানাও ঐ ব্যক্তি কে? আমি গিয়ে দেখলাম তিনি সুহায়ব। আমি ফিরে এসে বললাম, আপনি আমাকে আদেশ করেছেন, ঐ ব্যক্তির পরিচয় জেনে আপনাকে জানাতে। তিনি হচ্ছেন, সুহায়ব। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন, তাকে আমাদের সাথে মিলিত হতে বল। আমি বললাম, তার সাথে তার পরিবারবর্গ রয়েছে। তিনি বললেন, তার সাথে পরিবারবর্গ থাকলে তাতে কি আছে। কখনও আইয়ুব বলেছেন- "তাকে বল- সে যেন আমাদের নিকট আসে।" এরপর যখন আমরা মদীনায় পৌছলাম, অল্প সময়ের মধ্যেই আমীরুল মুমিনীন উমার আহত হলেন। সুহায়ব তাকে দেখতে এসে দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, আহ! ভাই উমার! আহ সঙ্গী উমার! উমর শুনে বললেন, সুহায়ব। তুমি কি অবহিত নও, অথবা শোননি- আইয়ুব বলেছেনঃ অথবা বলেছেন, "তুমি কি জান না, তুমি কি শোন না।" রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শান্তি দেয়া হয়। আবদুল্লাহ বলেন, তিনি এ কথাটা সাধারণভাবে বলে ছিলেন। কিন্তু উমর "কোন কোন লোকের" শব্দ উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশাহ এর নিকট গেলাম এবং তাকে ইবন উমার এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আযাব দেয়া হবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আযাব আল্লাহ তাআলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। "আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করবে না"- (ইসরা ১৭ঃ ১৫)। আইয়ূব বলেন, ইবন আবূ মুলায়কাহ বলেছেন, আমাকে কাসিম ইবন মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আয়িশাহ্ এর নিকট যখন উমর ও ইবন উমার-এ বক্তব্য পৌছল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে এমন দু' ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ মুলায়কাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কায় উমর ইবন আফফান এর এক কন্যা ইনতিকাল করলে আমরা তার জানাযায় হাজির হওয়ার জন্য আসলাম। জানাযায় ইবন উমর ও ইবন আব্বাস উপস্থিত হলেন। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বলেন, আমি উভয়ের মাঝখানে বসে ছিলাম। অথবা তিনি বলেন, প্রথমে আমি একজনের পাশে বসে ছিলাম। অতঃপর অন্যজন এসে আমার পাশে বসে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার তার সামনে বসা আমর ইবন উসমানকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কান্নাকাটি করা থেকে কেন বারণ করছ না? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।

ইবন আব্বাস বললেন, উমর তো কোন কোন লোকের কথা বলতেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি একবার উমারের সাথে মক্কাহ থেকে রওয়ানা হয়ে "বায়দা" নামক সমতল ভূমিতে পৌছলাম। দেখলাম, একটা গাছের ছায়ায় একদল আরোহী। তাদেরকে দেখে তিনি [উমর] বললেন, গিয়ে দেখ তো, এরা কারা? আমি গিয়ে দেখলাম তথায় সুহায়ব। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এসে তাকে (উমার) খবর দিলাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে ডেকে আন। আদেশ পেয়ে আমি সুহায়ব এর নিকট ফিরে এসে বললাম চলুন, আমীরুল মুমিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করুন। এরপর যখন উমর আহত হন, সুহায়ব তাকে দেখতে এসে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আহ! ভাই উমার! আহ! সঙ্গী উমার! উমর বললেন, হে সুহায়ব! আমার জন্য কাঁদছ? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়।

ইবন আব্বাস বলেন, উমর ইনতিকাল করলে আমি অত্র হাদীসটি আয়িশাহ এর নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, উমর কে আল্লাহ রহমত করুন। কখনও না আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও এমন হাদীস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তাআলা তার আযাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়িশাহ আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, "কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।" বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবন আব্বাস বললেন, "এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।" ইবন আবূ মুলায়কাহ বলেন, আল্লাহর কুসম! ইবন উমর এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি।

আবদুর রহমান ইবন বিশর .... ইবন আবূ মুলায়কাহ থেকে বর্ণিত। আমরা উম্মু আবান বিনতু উসমান এর যামানায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ তবে তিনি এ হাদীস ইবন উমার-এর সূত্রে সরাসরি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ুব ও ইবন জুরায়জ এটাকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়।

খালাফ ইবন হিশাম ও আবুর রাবী আয যাহরানী .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ এর কাছে ইবন উমারের বক্তব্য "মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়" উল্লেখ করা হল। তিনি বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানের (ইবন উমর) প্রতি রহমত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদীর জানাযাহ যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আযাব দেয়া হচ্ছে।

আবূ কুরায়ব .... হিশাম তার পিতা [উরওয়াহ ইবন যুবায়র] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ-এর নিকট উল্লেখ করা হল, ইবন উমর সরাসরি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।" তিনি বললেন, ইবন উমার ভুলে গেছেন। আসলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এইঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বদরের একটা কুপের পাশে দাড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে অথচ তিনি (ইবন উমার) এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছে। তিনি (ﷺ) যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য। অতঃপর তিনি (আয়িশাহ) এ দু'টি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন"- (আন নামল ২৭ঃ ৭০, সূরাহ রুম ৩০ঃ ৫২)। এবং "আপনি কবরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন"- (ফা-ত্বির ৩৫ঃ ২২২)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাটা তখন বলেছিলেন তখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে একই সূত্রে আবূ উসামাহ এর হাদীসের সমর্থনে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ উসামাহ এর বর্ণিত হাদীসই পূর্ণাঙ্গ।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ এর কাছে শুনেছেন যখন তার কাছে উল্লেখ করা হল যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আয়িশাহ বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানকে (ইবন উমার) ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি (প্রকৃত কথাটা) ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ইয়াহুদী নারীর করের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বললেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আলী ইবন রবীআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর কারাযাহ ইবন কা'ব। মুগীরাহ ইবন শুবাহ বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, কিয়ামতের দিন তাকে এর জন্য আযাব দেয়া হবে।

আলী ইবন হুজর আস সা'দী .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইবন আবূ উমর .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন মানসূর [শব্দাবলী তার] .... আবূ মালিক আল আশআর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে জাহিলী যুগের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। (১) বংশের গৌরব, (২) অন্যকে বংশের খোটা দেয়া, (৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা, (৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ উমর .... আমরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ-কে বলতে শুনেছেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যায়দ ইবন হারিসাহ জাফর ইবন আবূত তলিব ও আবদুল্লাহ ইবন রওয়াহাহ এর শাহাদাতের খবর পৌছল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিমর্ষচিত্তে বসে পড়লেন। তার চেহারায় শোকের ছাপ ফুটে উঠল। আয়িশাহ বলেন, আমি দরজার ফাক দিয়ে তাকিয়ে তাদের লাশ দেখছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! জাফার এর স্ত্রীগণ অথবা তার পরিবারের মহিলার কান্নাকাটি করছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে গিয়ে তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করার জন্য আদেশ করলেন। লোকটি গিয়ে ফিরে এসে জানাল যে, তারা তার কথা শুনছে না। তখন দ্বিতীয়বার তাকে আদেশ করলেন যেন গিয়ে তাদেরকে নিষেধ করে। লোকটি গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। আয়িশাহ বলেন, আমার মনে হয় এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এবার গিয়ে তাদের মুখে কিছু মাটি ঢেলে দাও। আয়িশাহ বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে ভূলুষ্ঠিত করুক। আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে যে আদেশ করেছেন, তা তুমি পালন করছ না বা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিরক্ত করা থেকেও রেহাই দিচ্ছ না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূত তাহির, আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... সকলেই ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয বর্ণিত হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পরিশ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকছ না।

আবূর রাবী আয যাহরানী .... উম্মু আত্বিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বায়আতের সঙ্গে এ ওয়াদাও নিয়েছেন যে, আমরা যেন মৃতের জন্যে বিলাপ করে কান্নাকাটি না করি। কিন্তু পরে মাত্র পাচজন মহিলা ছাড়া আমাদের কোন মহিলাই তা পালন করেনি। তারা হচ্ছেন- উম্মু সুলায়ম, উন্মুল আলা, আবূ সাবুরাহ-এর কন্যা ও মুআয-এর স্ত্রী প্রমুখ।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মু আতিয়্যিাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়আতের সময় আমাদের নিকট থেকে এ ওয়াদা নিয়েছেন- যেন আমরা বিলাপ করে কান্নাকাটি না করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে পাচজন মহিলা ব্যতীত আর কেউই এ ওয়া'দা পালন করতে পারেনি। উম্মু সুলায়ম এদের অন্যতম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল- "সে মহিলারা আপনার নিকট এ কথার ওপর বাইয়াত করছে যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শারীক করবে না এবং কোন ভাল কাজে তারা নাফরমানী করবে না- (মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ১২)" উম্মু আতিয়্যাহ বলেন, মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তবে অমুকের পরিবার, তারা জাহিলী যুগে আমার সহায়তা করেছিল অতএব আমার ওপর তাদের সহায়তা করা জরুরী। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাকে অনুমতি দিয়ে) বললেন, আচ্ছা! অমুকের পরিবার ছাড়া।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... উম্মু আত্বিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে (মহিলাদেরকে) জানাযার অনুসরণ করতে (পিছনে যেতে) নিষেধ করা হত। কিন্তু আমাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে জানাযায় অনুগমনে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আমাদেরকে কঠোরতা আরোপ করা হয়নি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কন্যা (যায়নাব)-কে গোসল দেয়ার সময় তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন, "তাকে তিনবার, পাচবার অথবা প্রয়োজনবোধে এর চেয়ে অধিক বড়ইপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও এবং শেষে কিছুটা কর্পূর দিয়ে দাও।" তোমরা গোসল শেষ করলে আমাকে খবর দিও। আমরা গোসল শেষ করে তাকে খবর দিলাম। তিনি (ﷺ) তার নিজ লুঙ্গি আমাদের কাছে দিয়ে বললেন, এ কাপড় তার গায়ে জড়িয়ে দাও।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। আমরা তার (যায়নাব) মাথার চুল আচড়িয়ে তিনভাগে ভাগ করে দিয়েছি।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূর রাবী আয যাহরানী, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কোন কন্যা ইনতিকাল করেন। ইবন উলাইয়্যাহ এর বর্ণনায় আছে। উম্মু আতিয়্যাহ বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যাকে গোসল দেয়ার সময় তিনি আমাদের নিকট আসলেন। মালিক এর হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা ইনতিকাল করলে তিনি আমাদের কাছে আসলেন, অনুরূপ ইয়াযীদ ইবন যুরাই এর হাদীস যা .... উম্মু আতিয়্যাহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... উম্মু আতিয়াহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ তিনবার, পাচবার, সাতবার বা এর চেয়েও অধিকবার গোসল দেয়া যদি তোমরা প্রয়োজনবোধ কর তাই করবে। এরপর হাফসাহ উম্মু আতিয়্যাহ সূত্রে বলেন, আমরা তার মাথার চুলকে তিন গোছায় ভাগ করে দিয়েছি।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ তাকে (যায়নাবকে) বেজোড় সংখ্যায় গোসল দাও তিনবার, পাচবার বা সাতবার। আর উম্মু আতিয়াহ বলেছেন, আমরা তার চুলকে তিন গোছায় বিভক্ত করে আচড়ে দিয়েছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা যায়নাব যখন ইনতিকাল করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেন, তাকে বেজোড় সংখ্যায় গোসল দাও, তিনবার বা পাচবার। আর পঞ্চমবারের সাথে কর্পূর দাও অথবা বলেছেন কিছু কর্পূর দাও গোসল শেষ করে আমাকে খবর দিও। উম্মু আতিয়্যাহ বলেন, গোসল শেষ করে আমরা তাকে খবর দিলাম। তিনি (ﷺ) আমাদের কাছে তার লুঙ্গি দিয়ে বললেন, এটা কাফনের ভিতরে তার গায়ে জড়িয়ে দাও।

আমুর আন নাকিদ .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা তার এক মৃত কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেন, তাকে বেজোড় সংখ্যায় পাচবার বা তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। অবশিষ্ট বর্ণনায় আইয়ুব ও আসিম-এর বর্ণনার অনুরূপ। আর হাদীস বর্ণনাকালে উম্মু আতিয়্যিাহ বললেন, এরপর আমরা তার চুলকে তিন গোছায় ভাগ করে দু' কানের দু' দিকে ও কপালের দিকে ঝুলিয়ে দিলাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাকে তার (রসূলের) মৃত কন্যাকে গোসল দেয়ার আদেশ করলেন, তাকে বললেন, তার ডানদিক থেকে আরম্ভ কর এবং তার ওযুর অঙ্গগুলো আগে ধৌত করো।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কন্যার গোসল দেয়ার সময় তাদেরকে বলে দিলেনঃ তোমরা তার ডান দিক থেকে আরম্ভ কর এবং তার ওযুর অঙ্গগুলো আগে ধুয়ে নাও।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব [শব্দগুলো ইয়াহইয়া-এর] .... খাব্বাব ইবন আরাত থেকে বর্ণিত। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে হিজরত করলাম। অতএব, আল্লাহর কাছে আমাদের পুরস্কার পাওয়া অনিবার্য হয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ এভাবে দুনিয়া থেকে চলে গেলেন যে, তার পুরস্কারের কোন কিছুই তিনি ভোগ করেননি। মুসআব ইবন উমায়র তাদের অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন শাহাদাত বরণ করেন। তাকে কাফন দেয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। আমরা যখন তা দিয়ে তার মাথা ঢাকলাম পা বেরিয়ে আসল। আর যখন পায়ের উপর রাখলাম, মাথা বেরিয়ে আসল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "তোমরা চাদরটি এভাবে পরাও যাতে তা মাথা জড়িয়ে থাকে আর তার পা ইযখির নামক (এক প্রকার) শুকনো ঘাস দিয়ে ঢেকে দাও।" এছাড়া আমাদের মধ্যে কারো কারো ফল পেকে গেছে, যা তারা আহরণ করছে।

উসমান ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মিনজাব ইবন হারিস আত তামিমী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আমাশ থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব [শব্দগুলো ইয়াহইয়ার] .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে (সিরিয়ার) সাহুল নগরীর তৈরি সাদা তিন কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হয়। তন্মধ্যে জামা ও পাগড়ি ছিল না। (তার নিকট সংরক্ষিত) "জোড়া কাপড় সম্পর্কে মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল যে, তা কাফনের উদ্দেশে খরিদ করা হয়েছে কিনা? তাই তা রেখে দেয়া হল এবং সাহুল নগরীর তৈরি সাদা তিন কাপড়েই কাফন দেয়া হল। এদিকে আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর জোড়াটা নিয়ে বললেন, আমি অবশ্যই তা সংরক্ষণ করব এবং আমি নিজেকে এর দ্বারা কাফন দিব। তিনি পুনরায় বললেন, আল্লাহ যদি এটা তার নবীর জন্য পছন্দ করতেন, তবে অবশ্যই তিনি তা দিয়ে কাফনের ব্যবস্থা করতেন। অতঃপর তা বিক্রি করে তিনি তার মূল্য সাদাকা করে দিলেন।

আলী ইবন হুজুর আস সা'দী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রথমে ইয়ামানী জোড়া কাপড়ে রাখা হয়েছিল, যা ছিল আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর এর। অতঃপর তা তার থেকে খুলে ফেলা হল এবং ইয়ামান দেশের সাহল নগরের তৈরি কাপড়ের তিন কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হল। এতে পাগড়ী ও কামিজ ছিল না। অতঃপর আবদুল্লাহ জোড়া চাদরটা তুলে বললেনঃ এ কাপড়ে আমার কাফন দেয়া হবে। একটু পর আবার বললেন, যে কাপড় দিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কাফন দেয়া হয়নি তা দিয়ে আমার কাফন দেয়া হবে? অতঃপর তিনি তা সাদাকা করে দিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সকলে হিশাম থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসে আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর-এর ঘটনা উল্লেখ নেই।

ইবন আবূ উমর .... আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কয়টি কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, তিন কাপড়ে যা সাহুল অঞ্চলের তৈরি ছিল।

যুহায়র ইবন হারব, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইনতিকাল করলে তাকে ইয়ামানী চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবদ ইবন হুমায়দ, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... যুহরী থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবনশ শাইর .... আবুয যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে বলতে শুনেছেন। একদিন নবী (ﷺ) খুতবাহ দিতে গিয়ে তার সাহাবীগণের মধ্যে জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি মারা গেলে তাকে অপর্যাপ্ত কাপড়ে কাফন দেয়া হয় এবং তাকে রাত্রিবেলা কবর দেয়া হয়। নবী (ﷺ) আমাদেরকে এই বলে তিরস্কার করলেন যে, কেন তাকে রাত্রিবেলা দাফন করা হল। অথচ তিনি তার জানাযাহ পড়তে পারলেন না, কোন মানুষ নিরুপায় না হলে এরূপ করা ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) বললেন, যখন তোমাদের কেউ তার মুসলিম ভাইকে কাফন দিবে সে যেন ভাল কাপড় দিয়ে কাফনের ব্যবস্থা করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা জানাযার সালাত যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আদায় কর। যদি নেক্কার লোকের জানাযাহ হয়ে থাকে তবে তো কল্যাণকর, কল্যাণের দিকে তাকে আগে বাড়িয়ে দিবে। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে তা অকল্যাণ। এ অকল্যাণ অশুভকে তোমাদের গর্দান থেকে দ্রুত সরিয়ে দিবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবূদ ইবন হুমায়দ, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে মা'মার এর বর্ণনায় হাদীসে উল্লেখ আছে, তিনি বলেন, আমি এ হাদীসটা মারফু হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানি।

আবুত তহির, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা জানাযাহ যথাসম্ভব শীর্ঘ আদায় কর। কেননা, যদি তা নেককার লোকের জানাযাহ হয়ে থাকে, তবে তোমরা তাকে দ্রত কল্যাণের নিকটবর্তী করে দাও। আর যদি এর বিপরীত হয়, তা হবে অকল্যাণকর, যা তোমরা নিজেদের গর্দান থেকে দ্রুত নামিয়ে দাও।

আবূত তহির, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করা পর্যন্ত লাশের সাথে থাকে, তাকে এক কীরাত সাওয়াব দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত লাশের সাথে উপস্থিত থাকে, তাকে দু' কীরাত সাওয়াব দান করা হবে। কেউ জিজ্ঞেস করল, দু কীরাত বলতে কি পরিমাণ বুঝায়? তিনি বললেন, দুটি বিরাট পাহাড় সমতুল্য। আবূত তহির বর্ণিত হাদীস এ পর্যন্ত শেষ হল। বাকী দু'জন বর্ণনাকারী আরো বর্ণনা করেছেন যে, ইবন শিহাব বলেন, সালিম ইবন আবদুল্লাহ বলেছেন এবং ইবন উমর জানাযার সালাত আদায় করতে চলে যেতেন। যখন তার নিকট আবূ হুরায়রাহ বর্ণিত হাদীস পৌছল তখন তিনি বললেন, আমরা তো বহু কীরাত বরবাদ করে দিয়েছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবৃ হুরাররাহ থেকে নবী (ﷺ) এর কথা "বিরাট দু' পাহাড় সমতুল্য পর্যন্ত" বর্ণিত হয়েছে। আবদুল আ'লা ও আবদুর রাযযাক উভয়ে হাদীসের পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি। আবদুল আ'লা এর হাদীসে "শেষ না হওয়া পর্যন্ত" এবং আবদুর রাযযাক এর হাদীসে "কবরে না রাখা পর্যন্ত" বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল মালিক ইবন শুআরব ইবন লায়স .... আবূ হুরায়রাহ থেকে এবং তিনি নবী (ﷺ) থেকে মামার এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় বলেছেন, যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত জানাযার অনুসরণ করে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করে এবং লাশের অনুসরণ করে না তার জন্য রয়েছে এক কীরাত সাওয়াব। আর যে ব্যক্তি লাশের অনুসরণ করে তার জন্য রয়েছে দু' কীরাত। কেউ জিজ্ঞেস করল "দু কীরাত" বলতে কি পরিমাণ বুঝায়? তিনি বললেন, এর ছোটটি উহুদ পাহাড় সমতুল্য।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত সাওয়াব, আর যে ব্যক্তি মৃতকে কবরে রাখা পর্যন্ত এর অনুসরণ করে, তার জন্য রয়েছে দু' কীরাত সাওয়াব। আবূ হাযিম বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ কে জিজ্ঞেস করলাম কীরাতে পরিমাণ কতটুকু? তিনি বললেন, উহুদ পাহাড়ের সমতুল্য।

শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনছিঃ যে ব্যক্তি জানাযার অনুসরণ করে তার জন্য রয়েছে এক কীরাত সাওয়াব। এটা শুনে ইবন উমর বললেন, আবূ হুরায়রাহ আমাদের কাছে অতিরঞ্জিত করেছে। এরপর তিনি আয়িশাহ এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে এর সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশাহ আবূ হুরায়রাহ (রাবিঃ) এর কথাটি সত্যায়িত করলেন। এরপর ইবন উমর বললেন, আমরা তো বহু সংখ্যক কীরাত থেকে বঞ্চিত হলাম।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... সা'দ ইবন ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর এর নিকট বসা ছিলেন। এমন সময় খাব্বাব (মাকসুরাহ ওয়ালা) এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন উমার! আপনি কি আবূ হুরায়রাহ এর কথা শুনছেন না? তিনি বললেন, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সাথে ঘর থেকে বের হয় এবং জানাযার সালাত আদায় করে, অতঃপর দাফন করা পর্যন্ত জানাযার সাথে থাকে, তাকে দু' কীরাত সাওয়াব দান করা হবে। প্রতিটি কীরাত্ব উহুদ পাহাড় সমতুল্য সাওয়াব লাভ করবে। ইবন উমর এ কথা যাচাই করার জন্য খাব্বাবকে আয়িশাহ-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। খাব্বাব চলে গেলে ইবন উমার মসজিদের কাকর থেকে এক মুষ্ঠি কাকর হাতে নিলেন এবং খাব্বাব ফিরে না আসা পর্যন্ত তা হাতে নিয়ে নড়াচড়া করছিলেন। খাবাব ফিরে এসে বললেন, আয়িশাহ বলেছেন, আবূ হুরায়রাহ ঠিকই বলেছেন। ইবন উমর তার কঙ্কর জমিনের উপর ছুড়ে মেরে বললেন, আমরা অবশ্যই বহু সংখ্যক কীরাত বরবাদ করে দিয়েছি।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোলাম সাওবান থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করে তাকে এক কীরাত সাওয়াব দান করা হয়। আর সে যদি দাফন কার্যেও শারীক থাকে, তবে দু' কীরাত সাওয়াব লাভ করবে। এক কীরাত্ব উহুদ সমতুল্য।

(হাম্মদ) ইবন বাশশার, ইবন মুসান্না, যুহারর ইবন হারব .... সকলে কতাদাহ থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ও হিশাম এর বর্ণিত হাদীসে আছে, নবী (ﷺ) কে কীরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তা উহুদ পাহাড় সমতুল্য।

হাসান ইবন ঈসা .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির ওপর যখন একদল মুসলিম যাদের একশ হবে জানাযার সালাত আদায় করে এবং সবাই তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে, তবে তার জন্য এ সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি (সাল্লাম ইবন আবূ মুত্বী") বলেন, আমি এ হাদীসটি শুআয়ব ইবন হাবহাব এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আমাকে এ হাদীস আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন মারূফ, হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও ওয়ালীদ ইবন শুজা আস্ সাকূনী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। কুদায়দ অথবা উসকান নামক স্থানে তার একটি পুত্র সন্তান মারা গেল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! দেখ কিছু লোক একত্রিত হয়েছে কিনা? আমি বের হয়ে দেখলাম কিছু একত্রিত হয়েছে। আমি তাকে খবর দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বল তাদের সংখ্যা কি চল্লিশ হবে? বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে লাশ বের করে নাও। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম মারা গেলে, তার জানাযায় যদি এমন চল্লিশজন দাড়িয়ে যায় যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শারীক করে না তবে মহান আল্লাহ তার অনুকূলে তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আলী ইবন হুজুর [শব্দগুলো ইয়াহইয়া-এর] .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি জানাযাহ বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা প্রশংসা করল। নবী (ﷺ) বলেন, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে। (আরেকবার) একটা জানাযাহ বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিন্তু লোকেরা তার দুর্নাম করল। নবী (ﷺ) তার সম্পর্কে ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে (তিনবার) বললেন। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ওপর আমার মা-বাপ উৎসর্গ হোক! একটা জানাযাহ অতিক্রম করলে তার প্রতি ভাল মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে- বললেন! আর একটা জানাযাহ অতিক্রমকালে তার প্রতি খারাপ মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে- বললেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেনঃ তোমরা যার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করেছ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমরা যার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমর জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী।

আবূর রাবী আয যাহরানী, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কাছ দিয়ে একটা জানাযাহ অতিক্রম করল। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আনাস এর সূত্রে আবদুল আযীয এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। তবে আবদুল আযীয এর হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ কতাদাহ ইবন রিবাঈ থেকে বর্ণিত। একবার রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর কাছ দিয়ে একটা জানাযাহ বয়ে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি বলেন, "মুসতারীহুন" ও "ওয়া মুসতারাহুন মিনহু" (সে শান্তিলাভকারী এবং তার প্রস্থানে শান্তি লাভ হয়)। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! "মুসতারীহুন" ও "ওয়া মুসতারাহুন মিনহু" এর মানে কি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঈমানদার বান্দা হলে এ ব্যক্তি দুনিয়ার কষ্ট মুসীবাত থেকে নিস্কৃতি লাভ করবে। আর পাপীষ্ট বান্দা হলে এ ব্যক্তি থেকে আল্লাহর বান্দারা, অত্র অঞ্চল, বৃক্ষরাজি ও পশু-পাখি সবাই পরিত্রাণ লাভ করবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ কাতাদাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর বর্ণিত হাদীসে আছে, সে ব্যক্তি দুনিয়ার ক্লেশ থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমত লাভ করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনসাধারণকে নাজাশীর ইনতিকালের সংবাদ শুনালেন, যেদিন তিনি ইনতিকাল করেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাতের স্থানে গিয়ে চার তাকবীরে সালাতুল জানাযাহ আদায় করেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবিসিনিয়ার অধিপতি নাজাশীর যে দিন মৃত্যু হয় সে দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তার মৃত্যুর খবর দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। ইবন শিহাব বলেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব আমাকে বলেছেন যে, আবূ হুরায়রাহ তার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে সালাতের স্থান কাতার করলেন। এরপর তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করলেন এবং এতে (অতিরিক্ত) চার তাকবীর বললেন।

আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... উভয় সূত্রেই ইবন শিহাব থেকে উকায়ল এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ..... জবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজাশীর জন্য গায়েবানা জানাযাহ আদায় করেছেন এবং চার তাকবীরে সালাতুল জানাযাহ আদায় করেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .. জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, (নাজাশী ইনতিকাল করলে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ আল্লাহর এক নেক্কার বান্দাহ ইনতিকাল করেছেন। এরপর তিনি উঠে গিয়ে আমাদের সামনে ইমাম হয়ে তার জন্য সালাতুল জানাযাহ আদায় করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব [শব্দাবলী তার] .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজাশী ইনতিকাল করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের এক ভাই ইনতিকাল করেছেন। অতএব তোমরা উঠ এবং তার জন্য সালাত আদায় কর। জাবির বলেন, আমরা উঠে গিয়ে দু'টি সারি বাধলাম।

যুহায়র ইবন হারব, আলী ইবন হুজর, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের এক ভাই (নাজাশী) ইনতিকাল করেছেন। অতএব তোমরা উঠে তার জন্য সালাত আদায় কর। যুহায়রের বর্ণনায় "তোমাদের ভাই" বর্ণিত হয়েছে।

হাসান ইবনর রাবী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... শাবী' থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃতকে দাফন করার পর একটা কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করেছেন এবং চার তাকবীর উচ্চারণ করেছেন। শায়বানী বলেন, আমি শা'বীকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা আপনার কাছে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস। এটি হাসান এর বর্ণিত হাদীসের শব্দ। আর ইবন নুমায়র এর বর্ণনাতে রয়েছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা তাজা কবরের নিকট পৌছে এর উপর সালাত আরম্ভ করলে সবাই তার পিছনে সারিবদ্ধ হল। তিনি চার তাকবীর উচ্চারণ করলেন। আমি আমিরকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যার কাছে ইবন আব্বাস এসেছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, হাসান ইবনর রাবী ও আবূ কামিল, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, 'উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাদের কারো হাদীসে এ কথা উল্লেখ নেই যে, নবী (ﷺ) তার জানাযায় চার তাকবীর উচ্চারণ করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আবূ গাসসান মুহাম্মাদ ইবন আমর আর রায়ী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে এরং তিনি নবী (ﷺ) থেকে কবরের উপর তার জানাযার সালাত সম্পর্কে শায়বানীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাদের হাদীসে চার তাকবীরের কথা বর্ণিত হয়নি।

ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আরআরাহ্ আস্ সামী .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করেছেন।

আবূর রাবী আয যাহরানী ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী [শব্দগুলো আবূ কামিল এর] ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। একটি কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা অথবা যুবক মসজিদে নবাবীতে ঝাড়ু দিত। কিছুদিন তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) না দেখে তার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবীগণ বললেন, সে তো মারা গেছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? বর্ণনাকারী বলেন, খুব সম্ভব তারা বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তারা তাকে কবর দেখিয়ে দিলে তিনি (ﷺ) তার কবরের উপর সালাতুল জানাযাহ আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ এসব কবর অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। মহান আল্লাহ আমার সালাতের দরুন তা আলোকিত করে দিন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ আমাদের জানাযাহসমূহে চারটি তাকবীর উচ্চারণ করতেন। আর তিনি কোন জানাযায় পাচ তাকবীরও দিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ (পাচবার) তাকবীর দিতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আমির ইবন রবীআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা জানাযাহ নিয়ে যেতে দেখ তখন দাড়িয়ে যাও। যে পর্যন্ত তা তোমাদেরকে পশ্চাতে ফেলে না যায় অথবা তা মাটিতে রেখে দেয়া না হয় (ততক্ষণ দাড়িয়ে থাক)।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ, হারমালাহ্ .... সকলেই ইবন শিহাব থেকে একই সানাদে বর্ণনা করেছেন এবং ইউনুস বর্ণিত হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন- কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমহ .... আমর ইবন রবীআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা জানাযাহ দেখতে পাও এবং তার সাথে যদি না যাও, তবে জানাযাহ এগিয়ে না যাওয়া অথবা মাটিতে না রাখা পর্যন্ত দাড়িয়ে থেকো।

আবূ কামিল, ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম, ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সকলেই নাফি থেকে এ সূত্রে লায়স ইবন সাদ এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ব্যতিক্রম এই যে, ইবন জুরায়জ এর হাদীসের বর্ণনা নিম্নরূপঃ নবী (ﷺ) বলেন, যখন তোমাদের কেউ জানাযাহ দেখতে পায়, তখন তার দাড়িয়ে যাওয়া উচিত। আর সে জানাযার অনুসরণ না করে তবে তা অগ্রসর হয়ে তাকে পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকা উচিত।

উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা জানাযার অনুগামী হও তখন জানাযাহ মাটিতে না রাখা পর্যন্ত বসবে না।

সুরায়জ ইবন ইউনুস, আলী ইবন হুজর, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না [শব্দগুলো তার] ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা জানাযার পিছনে পিছনে চল, তখন তা মাটিতে রাখা পর্যন্ত বসে না।

সুরায়জ ইবন ইউনুস ও আলী ইবন হুজুর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার একটি লাশ নিয়ে যেতে দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার সাথে দাড়িয়ে গেলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এতো এক ইয়াহুদী মেয়েলোকের লাশ। তিনি বললেন মৃত্যু একটা ভয়াবহ জিনিস। অতএব যখন তোমরা জানাযাহ (লাশ) দেখ, দাড়িয়ে যাও।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ যুবায়র থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জাবির কে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ এক ইয়াহুদীর লাশ যেতে দেখে এবং তা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকলেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবুয যুবায়র থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জাবির কে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ এক ইয়াহুদীর লাশ যেতে দেখে এবং তা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আমর ইবন মুররাহ ইবন আবূ লায়লার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, কায়স ইবন সা'দ ও সাহল ইবন হুনায়ফ কাদিসিয়্যাতে ছিলেন। তাদের কাছ দিয়ে একটা জানাযাহ অতিক্রম করলে তারা উভয়ে দাড়িয়ে গেলেন। তাদেরকে বলা হল, এটা তো অত্র এলাকার (এক অমুসলিমের) লাশ। তারা বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ দিয়ে একটি জানাযাহ অতিক্রম করলে তিনি দাড়িয়ে যান। তখন কেউ তাকে বলল, এটা এক ইয়াহুদীর লাশ! তিনি বললেনঃ সেকি একটি প্রাণী নয়?

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আমর ইবন মুররাহ থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তারা বললেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় আমাদের নিকট দিয়ে একটি লাশ অতিক্রম করল।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির [শব্দগুলো তার] ..... ওয়াকিদ ইবন আমর ইবন মুআয থেকে বর্ণিত। আমরা এক জানাযায় দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় নাফি ইবন জুবায়র আমাকে দেখতে পেলেন। তিনি তখন লাশ নীচে রাখার জন্য বসে বসে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এখানে দাড়িয়ে আছ কেন? আমি উত্তর দিলাম। লাশটি রাখার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি। কেননা আবূ সাঈদ আল খুদরী এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। নাফি এ কথা শুনে বললেন, মাসউদ ইবন হাকাম আলী ইবন আবূ তলিব এর সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে দাড়িয়েছেন পরে বসে গেছেন (এ অভ্যাস পরিত্যাগ করেছেন)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... মাসউদ ইবন হাকাম আল আনসারী আলী ইবন আবূ তলিব কে জানাযার ব্যাপারে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম দিকে দাড়াতেন এবং পরে বসে পড়তেন। নাফি ইবন জুবায়র কথাটা এজন্য বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওয়াকিদ ইবন আমর কে দেখলেন তিনি লাশ নীচে রাখার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছেন।

আবূ কুরায়ব .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে একই সানাদে বর্ণিত হয়েছে।

যুহায়র ইবন হারব .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জানাযায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাড়াতে দেখে দাড়িয়েছি এবং বসতে দেখে বসে গেছি।

মুহাম্মদ ইবন আবূ বকর আল মুকদ্দামী ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... শুবাহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... জুবায়র ইবন নুফায়র থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি আওফ ইবন মালিক কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক জানাযায় যে দোয়া পড়লেন, আমি তার সে দোয়া মনে রেখেছি। দোয়ায় তিনি এ কথাগুলো বলেছিলেন, "আল্ল-হুম্মাগফির লাহু ওয়ারহাম্‌হু ওয়া আ-ফিহী ওয়াফু আনহু ওয়া আকরিম নুযুলাহ্‌ ওয়া ওয়াসসি' মুদখালাহু ওয়াগসিলহু বিলমা-য়ি ওয়াস্‌সালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্কীহী মিনাল খাত্বা-ইয়া- কামা- নাক্কায়তাস সাওবাল আবইয়াযা মিনাদদানাসি ওয়া আবদিলহু দা-রান খায়রাম মিন দা-রহী ওয়া আহলান খায়রাম মিন আহলিহী ওয়া য়াওজান খায়রাম মিন যাওজিহী ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা ওয়া আইয্‌হ মিন আযা-বিল কবরি আও মিন আযা-বিন্না-র" (হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও ও তার প্রতি দয়া কর। তাকে নিরাপদে রাখ ও তার ক্রটি মার্জনা কর। তাকে উত্তম সামগ্ৰী দান কর ও তার প্রবেশ পথকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা মুছে দাও এবং পাপ থেকে এরূপভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপ সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। তাকে তার ঘরকে উত্তম ঘরে পরিণত কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান কর, তার স্ত্রীর তুলনায় উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে বাচাও।)। বর্ণনাকারী আওফ ইবন মালিক বলেন, তার মূল্যবান দোয়া শুনে আমার মনে আকাঙ্খা জাগল, আমি যদি সে মৃত ব্যক্তি হতাম।

আবদুর রহমান ইবন জুবায়র .... আওফ ইবন মালিক সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অত্র হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মুআবিয়াহ ইবন সালিহ হতে উভয় সানাদে ইবন ওয়াহব এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবুত তহির ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী [শব্দগুলো আবূ তহির-এর] ... আওফ ইবন মালিক আল আশজাঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে জানাযার সালাতে এভাবে দোয়া করতে শুনেছিঃ "আল্ল-হুমমাগফিরলাহু ওয়ারহামহু ওয়াফু আনহু ওয়া-আ-ফিহী ওয়া আকরিম নুযুলাহ্‌ ওয়াসসি' মুদখালাহ্‌ ওয়াগসিলহু বিমা-য়িন ওয়াসালজিন ওয়াবারাদিন ওয়ানাক্কীহী মিনাল খাতা-ইয়া- কামা- ইউনাক্কাস সাওবুল আবইরায়ু মিনাদদানাস ওয়া আবদিলহু দা-রান খায়রাম মিন দা-রিহী ওয়া আহলান খায়রাম মিন আহলিহী ওয়া যাওজান খায়রাম মিন যাওজিহী ওয়াকিহী ফিতনাতিল কবরি ওয়াআযা-বিন না-র" ("হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও ও তার প্রতি দয়া কর। তার ক্রটি মার্জন কর ও তাকে বিপদ মুক্ত কর। তার উত্তম আপ্যায়নের ব্যবস্থা কর ও তার আশ্রয়স্থলকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে মুছে দাও। তাকে পাপরাশ থেকে এভাবে পরিষ্কার করে দাও যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। তাকে তার বর্তমান ঘরের পরিবর্তে আরও উত্তম ঘর দান কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান কর, বর্তমান স্ত্রী অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী দান কর এবং তাকে কবর আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে বাচাও)। আওফ ইবন মালিক বলেন, ঐ মৃত ব্যক্তির প্রতি রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর এরূপ দোয়া দেখে মনে আকাঙ্ক্ষা জাগল যে, আমি যদি এ মৃত ব্যক্তি হতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী .... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করতাম। তিনি উম্মু কাব এর জানাযাহ আদায় করছিলেন। তিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযাহ আদায়কালে তার মাঝ বরাবার দাড়িয়েছিলেন।

আবৃ বাকর ইবন শায়বাহ, আলী ইবন হুজুর .... সকলেই হুসায়ন থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তারা উম্মু কা'ব এর কথা উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উকবাহ ইবন মুকরাম আল আম্মী ... সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় তরুণ বালক ছিলাম। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা মনে রাখতে পারতাম। তবে একমাত্র এ কারণে আলোচনা করতে আমার বিবেক আমাকে বাধা দিত যে, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আমার চেয়ে বয়োঃজ্যেষ্ঠ লোক উপস্থিত থাকত। আমি তার পিছনে এক মহিলার জানাযাহ আদায় করলাম। সে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তার জানাযাহ আদায়কালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দেহের মাঝ বরাবর দাড়িয়েছেন। ইবন মুসান্না-এর রিওয়ায়াতে এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ আমাকে আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দাহ শুনিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি (ﷺ) তার সালাত আদায়কালে তার দেহের মাঝ বরাবর দাড়িয়েছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ শব্দগুলো ইয়াহইয়ার ..... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট রশিবিহীন একটি ঘোড়া হাজির করা হল। তিনি ইবন দাহদাহ এর জানাযাহ শেষ করে এর পিঠে আরোহণ করলেন। আর আমরা তার চার পাশে হেঁটে চলছিলাম।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার [শব্দগুলো ইবন মুসান্না-এর] .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন দাহদাহ (মারা গেলে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযাহ আদায় করলেন। এরপর তার কাছে একটা লাগামবিহীন ঘোড়া হাজির করা হল। জনৈক ব্যক্তি তা রশি দিয়ে বাধল। তিনি (ﷺ) এর পিঠে আরোহণ করলেন। ঘোড়াটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিয়ে লাফিয়ে চলতে লাগল। আর আমরা তার পিছনে দৌড়িয়ে অনুসরণ করলাম। জাবির বলেন, অতঃপর কাফিলার মধ্যে জনৈক ব্যক্তি বলল, নবী (ﷺ) বলেছেন, বহু সংখ্যক খেজুরের ছড়া ইবন দাহদাহ এর জন্য জান্নাতে ঝুলে রয়েছে। শুবাহ-এর বর্ণনায় আবূ দাহদাহ' উল্লেখ আছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমির ইবন সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস তার মৃত্যুকালীন পীড়ার সময় বলেছেন, তোমরা আমার জন্য একটা কবর ঠিক করে রাখ এবং আমার কবরের উপর এভাবে ইট স্থাপন কর যেভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কবরে করা হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না শব্দাবলী তার .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কবরের লাল বর্ণের একটা চাদর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ইমাম মুসলিম বলেন, আবূ জামারাহ-এর নাম হচ্ছে নাসর ইবন ইমরান ও আবূ তায়ইয়্যাহ এর প্রকৃত নাম ইয়ায়ীদ ইবন হুমায়দ উভয়ে 'সারাখ্‌স' এ ইনতিকাল করেছেন।

আবুত তহির আহমাদ ইবন আমর ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... সুমামাহ ইবন শুফাই থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রোম সাম্রাজ্যের রূদিস নামক উপদ্বীপে ফুযালাহ ইবন উবায়দ এর সঙ্গে ছিলাম। আমাদের একজন সঙ্গী মারা গেলে ফুযালাহ তাকে কবরস্থ করতে আদেশ দিলেন। অতঃপর তার কবরকে সমান করে তৈরি করা হল। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি, তিনি (ﷺ) কবরকে সমতল করে তৈরি করতে আদেশ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবন হারব ..... আবূল হাইয়্যাজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী বলেন, আমি কি তোমাকে এমনভাবে পাঠাব না, যে কাজে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হচ্ছে কোন (জীবের) প্রতিকৃতি বা ছবি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে এবং কোন উচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে দিবে।

আবূ বকর ইবন খাল্লাদ আল বাহিলী .... হাবীব থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, মূর্তি বিলুপ্ত এবং ছবি ধ্বংস করে দিবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে ও কবরের উপর গৃহ নিৰ্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ যুবায়র জানিয়েছেন যে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি ... উপরের হাদীসের অনুরূপ।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কবর পাকা করতে নিষেধ করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো জলন্ত অঙ্গারের উপর বসে থাকা এবং তাতে তার কাপড় পুড়ে গিয়ে শরীরের চামড়া দগ্ধীভূত হওয়া কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আমর আন নাকিদ .... উভয়েই সুহায়ল থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আলী ইবন হুজুর আস সা'দী .... আবূ মারসাদ আল গানবী (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কখনো কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাতও আদায় করবে না।

হাসান ইবনর রাবী আল বাজালী .... আবূ মারসাদ আল গানবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কবরের দিকে সালাত আদায় করো না এবং কবরের উপর বসো না।

আলী ইবন হুজুর আস সা'দী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হান্‌যালী [শব্দাবলী ইসহাক-এর] .... আব্বাস ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস এর লাশ মসজিদে নিয়ে আসতে ও মসজিদের ভিতরে জানাযার সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিলেন। উপস্থিত লোকেরা তার আদেশ পালনে অসম্মতি প্রকাশ করল। তিনি বললেন, লোকেরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল! রসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহায়ল ইবন বায়যা এর জানাযার সালাত মসজিদেই আদায় করেছিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। যখন সা'দ ইবন আব ওয়াক্কাস ইনতিকাল করলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণ তার লাশ মসজিদে নিয়ে আসার জন্য বলে পাঠালেন যাতে তারাও তার জানাযাহ আদায় করতে পারেন। উপস্থিত লোকেরা তাই করল। তাকে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ঘরের সামনে রাখা হল এবং তারা তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তাকে বাবুল জানায়িয (জানাযাহ বের করার দরজা) দিয়ে যা মাকাইদ এর দিকে ছিল, বের করা হল। লোকেরা এ খবর জানতে পেয়ে বলল, কি ব্যাপার! জানাযাহ মসজিদে ঢুকানো হয়েছে? আয়িশাহ এর নিকট এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেন, লোকেরা কেন এত শীঘ্র সমালোচনায় প্রবৃত্ত হল, যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই? মসজিদে জানাযাহ নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে লোকেরা সমালোচনা করল, অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহায়ল ইবন বায়যা এর সালাতে জানাযাহ মসজিদের ভিতরেই আদায় করেছেন। ইমাম মুসলিম বলেন, সুহায়ল ইবন ওয়াদা বায়যা এর পুত্র। তার মায়ের নাম বায়যা।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি [শব্দগুলো রাফি] .... আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। যখন সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস ইনতিকাল করলেন আয়িশাহ বললেন, তোমরা তার লাশ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ কর। আমি তার জানাযাহ পড়ব। তখন লোকেরা অস্বীকৃতি জানালে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়যা এর দু' ছেলে সুহায়ল ও তার ভাইয়ের (সাহল এর) জানাযার সালাত মসজিদেই আদায় করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর অভ্যাস ছিল, যেদিন তার কাছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাত্রি যাপনের পালা আসত, তিনি শেষ রাত্রে উঠে (বাকী কবরস্থানে) চলে যেতেন এবং এভাবে দোয়া করতেনঃ "আসসালা-মু আলায়কুম দা-রা কাওমিন মুমিনীনা ওয়া আতা-কুম মা তআদূনা গদান মুআজজালুনা ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্ল-হু বিকুম লা-হিকূন আল্ল-হুমমাগফিরলি আহলি বাকীউল গরকাদ" (তোমাদের ওপর সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক, ওহে ঈমানদার কবরবাসীগণ! তোমাদের কাছে পরকালে নির্ধারিত যেসব বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা তোমাদের নিকট এসে গেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ! বাকী গারকদি কবরবাসীদেরকে ক্ষমা করে দাও।)। কিন্তু কুতায়বাহ-এর বর্ণনায় "তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে" কথাটি নেই।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... মুহাম্মাদ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে নবী (ﷺ) থেকে ও আমার তরফ থেকে হাদীস বর্ণনা করে শোনাব না? আমরা বললাম, অবশ্যই! ইমাম মুসলিম হাজ্জাজ আল আ'ওয়ার থেকে শুনেছেন .... জনৈক কুরায়শী আবদুল্লাহ থেকে মুহাম্মাদ ইবন কায়স ইবন মাখরামাহ ইবন মুত্ত্বালিব একদিন আমাকে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে আমার পক্ষ থেকে ও আমার আমার আম্মাজান থেকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাব? রাবী আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ধারণা করলাম তিনি তার জননী মাকে বুঝাচ্ছেন। এরপর তিনি বললেন, "আয়িশাহ বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার পক্ষ থেকে ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাব? আমরা বললাম, হ্যা অবশ্যই। তিনি বলেন, যখন ঐ রাত আসত যে রাতে নবী (ﷺ) আমার কাছে থাকতেন। তিনি এসে তার চাদর রেখে দিতেন, জুতা খুলে পায়ের কাছে রাখতেন। পরে নিজ তহবন্দের (লুঙ্গি) একদিক বিছানায় বিছিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। অতঃপর মাত্র কিছু সময় যতক্ষণে তিনি ধারণা করতেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, বিশ্রাম গ্রহণ করতেন। অতঃপর উঠে ধীরে ধীরে নিজ চাদর নিতেন এবং জুতা পরিধান করতেন। পরে আস্তে আস্তে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়তেন। অতঃপর কিছু সময় নিজেকে আত্মগোপন করে রাখতেন। একদিন আমি আমার জামা মাথার উপর স্থাপন করে তা দিয়ে মাথাটা ঢেকে লুঙ্গি পরিধান করে, অতঃপর তার পেছনে রওয়ানা হলাম। যেতে যেতে তিনি বাকী'তে" (কবরস্থানে) পৌছলেন। তথায় তিনি দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি তিনবার হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন। এবার গৃহের দিকে ফিরে রওয়ানা করলে আমিও রওয়ানা হলাম। তিনি (ﷺ) দ্রুত রওয়ানা করলে আমিও দ্রুত চলতে লাগলাম। তাকে আরও দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে দেখে আমি আরও দ্রুত চলতে লাগলাম। এরপর আমরা দৌড়াতে আরম্ভ করলে আমি দৌড়ে তার আগেই ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং বিলম্ব না করে শুয়ে পড়লাম। একটু পরে তিনি গৃহে প্রবেশ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়িশাহ! তোমার কি হল? কেন হাপিয়ে পড়েছ? আয়িশাহ বলেন, আমি জবাব দিলাম না, তেমন কিছু না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হয় তুমি নিজে আমাকে ব্যাপারটা খুলে বলবে নতুবা মহান আল্লাহ আমাকে তা জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ওপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। এরপর তাকে ব্যাপারটা জানিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, তুমিই সে কালো ছায়াটি যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম। আমি বললামঃ জী হ্যা। তিনি (ﷺ) আমার বুকে একটা থাপ্পড় মারলেন যাতে আমি ব্যথা পেলাম। অতঃপর বললেন, তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ ও তার রসূল তোমার ওপর অবিচার করবেন? আয়িশাহ বলেন, যখনই মানুষ কোন কিছু গোপন করে, আল্লাহ তা অবশ্যই জানেন। হ্যা অবশ্যই জানেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তুমি আমাকে দেখেছ এ সময় আমার কাছে জিবরীল এসেছিলেন এবং আমাকে ডাকছিলেন। অবশ্য তা তোমার কাছে গোপন রাখা হয়েছে। আর আমিও তা গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় মনে করে তোমার নিকট গোপন রেখেছি। যেহেতু তুমি তোমার কাপড় রেখে দিয়েছ, তাই তিনি তোমার কাছে আসেননি। আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ তাই তোমাকে জাগানো সমীচীন মনে করিনি। আর আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, তুমি ভীত বিহ্বল হয়ে পড়বে। এরপর জিবরীল বললেন, আপনার প্রভু আপনার প্রতি আদেশ করছেন, বাকী'র কবরবাসীদের নিকট গিয়ে তাদের জন্য দোয়া ইসতিগফার করতে। আয়িশাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাদের জন্য কীভাবে দোয়া করব? তিনি বললেনঃ তুমি বল, "এ বাসস্থানের অধিবাসী ঈমানদার মুসলিমদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্য থেকে যারা আগে বিদায় গ্রহণ করেছে আর যারা পিছনে বিদায় নিয়েছে সবার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুবায়র ইবন হারব .... সুলায়মান ইবন বুরায়দাহ তার পিতা [বুরায়দাহ ইবন হুসায়ব ইবন আবদুল্লাহ] থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তারা যখন কবরস্থানে যেতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দোয়া শিখিয়ে দিতেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আবূ বকর এর বর্ণনানুযায়ী বলত "আসসালা-মু আলা- আহলিদ দিয়া-র" (কবরবাসীদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক।)। আর যুহায়র-এর বর্ণনায় আছেঃ "আসসালা-মু আলায়কুম আহলাদ দিয়া-র মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্ল-হু লালা-হিকূনা আসআলুল্ল-হা লানা- ওয়ালাকুমুল আ-ফিয়াহু" (হে কবরবাসী ঈমানদার মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছি।)।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব ও মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ [শব্দাবলী ইয়াহইয়া-এর] .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার প্রভুর নিকট আমার মায়ের জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার অনুমতি চাইলে আমার প্রভু আমাকে অনুমতি দান করেননি। আর তার কবর যিয়ারাত করার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার মায়ের কবর যিয়ারাত করতে গেলেন। তিনি (ﷺ) কাঁদলেন এবং আশেপাশের সবাইকে কাঁদালেন। তিনি (ﷺ) বললেন, আমি আমার প্রভুর নিকট মায়ের জন্য ইস্তিগফারের অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হল না। আমি তার কবর যিয়ারাত করার জন্য অনুমতি চাইলে আমাকে অনুমতি দেয়া হল। অতএব তোমরা কবর যিয়ারাত কর। কেননা কবর যিয়ারাত তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না [শব্দগুলোর আবূ বকর ও ইবন নুমায়র এর] ... ইবন বুরায়দাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বুরায়দাহ ইবন হুসায়ব ইবন আবদুল্লাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর বিয়ারাত করতে নিষেধ করতাম। (এখন অনুমতি দিচ্ছি) তোমরা কবর যিয়ারাত করতে পার। আমি ইতোপূর্বে তিনদিনের বেশী কুরবানী গোশত রাখার ব্যাপারে তোমাদেরকে নিষেধ করতাম। এখন তোমাদের যতদিন ইচ্ছা রাখতে পার। এছাড়া আমি তোমাদেরকে পানির পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা যে কোন পানির পাত্রে তা তৈরি করতে পার। তবে নেশার বস্তু (মাদকদ্রব্য) পান করো না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন আবু উমার, মুহাম্মাদ রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দাহ তার পিতা থেকে নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই এ হাদীস আবূ সিনান এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।

আওন ইবন সাল্লাম আল কূফী .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট জনৈক ব্যক্তির লাশ উপস্থিত করা হল। সে চ্যাপ্টা তীরের আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করেননি।