bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শুভেচ্ছা (সালাম) (৫৫৪০-৫৭৫৫)

উকবাহ ইবন মুকরাম ও মুহাম্মাদ ইবন মারযুক .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সওয়ারী পদচারীকে, পদচারী বসে থাকা লোককে এবং কম সংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম করবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ তালহার আব্বা আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (গৃহের সম্মুখের উন্মুক্ত) উঠানে বসে গল্প-গুজব করতেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দাড়িয়ে বললেন, রাস্তা-ঘাটে বসে বৈঠকে করা তোমাদের কি আচরণ? রাস্তাঘাটে মাজলিস করা তোমরা ছেড়ে দাও। আমরা বললাম, আমরা তো কাউকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশে বসিনি। আমরা বসে শলা-পরামর্শ ও আলোচনা করছি। তিনি বললেন, যদি তা না করলেই নয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে- আর তা হলো চোখ নিচু রাখা, সালামের উত্তর দেয়া এবং ভাল কথা বলা।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা পথে বৈঠক করা হতে সাবধান থাকে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! রাস্তায় বসা ব্যতীত আমাদের উপায় নেই। সেখানে আমরা আলাপচারিতায় থাকি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিতান্তই যদি তোমাদের বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। তারা প্রশ্ন করলেন, রাস্তার হক কি? তিনি বললেন, দৃষ্টি নিচু রাখা, (কাউকে) কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের উত্তর দেয়া এবং সৎ কাজের নির্দেশ করা ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যায়দ ইবন আসলাম হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাচটি। অপর বর্ণনায় আবদ ইবন হুমায়দ আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচটি ব্যাপারে মুসলিমের জন্যে তার ভাইয়ের সম্পর্কে ওয়াজিব। ১. সালামের উত্তর দেয়া, ২. হাচিদাতাকে (তার "আলহামদু লিল্লাহ' বলার উত্তরে) ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে দোয়া করা, ৩. দাওয়াত কবুল করা, ৪. অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এবং ৫. জানাযার সঙ্গে শারীক হওয়া। (রাবী) আবদুর রাযযাক বলেন, মা'মার এ হাদীস যুহরী হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করতেন, তারপর তিনি ইবন মুসাইয়্যাব এর সানাদে আবূ হুরাইরাহ হতে পূর্ণ সানাদে রিওয়ায়াত করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমের প্রতি মুসলিমের হক ছয়টি। প্রশ্ন করা হলো- সেগুলো কী, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, (সেগুলো হলো-) ১. কারো সাথে তোমার দেখা হলে তাকে সালাম করবে, ২, তোমাকে দাওয়াত করলে তা তুমি কবুল করবে, ৩. সে তোমার নিকট ভাল উপদেশ চাইলে, তুমি তাকে ভাল উপদেশ দিবে, ৪. সে হাচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ্ বললে, তার জন্যে তুমি (ইয়ারহামুকাল্লাহ্ বলে) রহমতের দোয়া করবে, ৫. সে পীড়িত হলে তার সেবা-শুশ্রুষা করবে এবং ৬. সে মৃত্যুবরণ করলে তার (জানাযার) সাথে যাবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসমাঈল ইবন সালিম .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আহলে কিতাবের কেউ যদি তোমাদের সালাম করে তোমরা (শুধু এতটুকু) বলবে- ওয়া আলাইকুম (তোমাদের প্রতিও)।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ নবী (ﷺ) কে প্রশ্ন করলেন, আহলে কিতাবরা তো আমাদের সালাম দিয়ে থাকে, আমরা কেমন করে তাদের উত্তর দিব? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, "ওয়া আলাইকুম"।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ্ ও ইবন হুজর .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা যে সময় তোমাদের প্রতি সালাম দেয়, সে সময় তাদের কেউ বলে "আসসামু আলাইকুম" (তোমাদের মরণ হোক)। তখন তুমি বলবে 'ওয়া আলাইকা'– (তোমারও- হোক)!

যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন- তখন তোমরা বলবে "ওয়া আলাইকুম" তোমারও (মৃত্যু হোক)।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইয়াহুদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট (দেখা করার জন্যে) অনুমতি চাইল। তারা সে সময় বলল, "আসসামু আলাইকুম" তোমাদের মরণ হোক! তখন আয়িশাহ্‌ বললেন, "বাল আলাইকুমুস্সামু ওয়াল্লানাত" বরং তোমাদের উপরে মরণ ও লানাত হোক। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়িশাহ্ আল্লাহ তাআলা সকল বিষয়ে সহনশীলতা পছন্দ করেন। আয়িশাহ বললেন, আপনি কি তাদের কটুক্তি শুনেননি? তিনি বললেন, আমিও তো বলে দিয়েছি "ওয়া আলাইকুম" (তোমাদের উপরেও)।

হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী আবদ ইবন হুমায়দ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ দু'জনের বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তো বলেছি- আলাইকুম' (তোমাদের উপরে) তারা 'و' অব্যয়টির উল্লেখ করেননি।

আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কয়েকজন ইয়াহুদী আসলো। তারা বলল- হে আবূল কাসিম তোমার মৃত্যু হোক। তিনি বললেন, তোমাদের উপরেও। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম- বরং তোমাদের মৃত্যু ও অপমান হোক। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়িশাহ! তুমি অশ্লীলভাষী হয়ো না। তিনি বললেন, তারা কি বলেছে, তা কি আপনি শুনেননি? তিনি বললেন, তারা যা বলেছিল, তা-ই কি আমি তাদের ফিরিয়ে দেইনি? আমি বলেছি-'ওয়া আলাইকুম তোমাদের উপরেও।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন, আয়িশাহ্ তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেললেন এবং তাদের বকা দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চুপ কর, হে আয়িশাহ! কারণ আল্লাহ তাআলা অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পছন্দ করেন না। তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। সে সময় মহামহিমান্বিত আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন- আর যখন তারা (ইয়াহুদীরা) আপনার নিকট আসে, সে সময় তারা আপনাকে এমন (কতিপয় বাক্য বলে) সম্ভাষণ করে, যেমন (বাক্য দ্বারা) আল্লাহ আপনাকে সম্ভাষণ করেননি....." (আল-মুজালাদাহ ৫৮ঃ ৮) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবন শা'ইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীদের কিছু লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম দিল। তারা বলল- আসসামু আলাইকা ইয়া আবাল কাসিম'। তিনি বললেন, "ওয়া আলাইকুম"। তখন আয়িশাহ বললেন, সে সময় তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছিলেন- তারা কি বলল, আপনি কি শোনেননি? তিনি বললেন- হ্যা, শুনেছি এবং তাদের উপর তা ফিরিয়ে দিয়েছি। তাদের বিপক্ষে আমাদের (প্রার্থনা) মঞ্জুর করা হয় কিন্তু আমাদের বিপক্ষে তাদের (প্রার্থনা) কবুল করা হয় না।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের আগে বাড়িয়ে সালাম করো না এবং তাদের কাউকে রাস্তায় দেখলে তাকে রাস্তার পাশে চলতে বাধ্য করো।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব .... ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে আছে- 'যখন তোমরা ইয়াহুদীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে...। আর শুবাহ হতে গৃহীত ইবন জা'ফার বর্ণিত হাদীসে আছে- তিনি আহলে কিতাব সম্বন্ধে বলেছেন। ... আর জারীর বর্ণিত হাদীসে আছে- যখন তোমরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে'... তিনি মুশরিকদের কোন দলের নাম উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল বালকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় তিনি তাদের সালাম দিলেন।

ইসমা'ঈল ইবন সালিম সাইয়্যার এর সানাদে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আমর ইবন আলী ও মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ .... সাইয়্যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাবিত বুনানী এর সাথে হাটতে ছিলাম। তিনি একদল কিশোরের নিকট দিয়ে গমনের সময় তাদের সালাম দিলেন এবং (তখন) সাবিত হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি আনাস এর সাথে পায়ে হেঁটে চলছিলেন। তিনি (আনাস) একদল কিশোরের নিকট দিয়ে গেলেন এবং তাদের সালাম দিলেন, আনাস হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি (একবার) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পায়ে হেঁটে চলছিলেন, তিনি (নবী (ﷺ)) কিশোরদের নিকট দিয়ে চললেন এবং তাদের সালাম দিলেন।

আবূ কামিল জাহদারী ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন মাস'উদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমার নিকট তোমার জন্যে প্রবেশাধিকার হলো পর্দা উঠিয়ে রাখা এবং (ঘরে) আমার আলাপচারিতা শুনতে পাওয়া। যে পর্যন্ত না আমি তোমাকে বারণ করি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হাসান ইবন উবাইদুল্লাহ হতে উপরোক্ত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান আমাদের উপরে আসার পর সাওদাহ তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন, তিনি ছিলেন স্বাস্থ্যবতী, দেহাকৃতিতে তিনি মহিলাদের উপরে থাকতেন; যারা তাকে চিনতো, তাদের নিকট নিজেকে আড়াল করতে পারতেন না। তখন উমার ইবন খাত্তাব তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, হে সাওদাহ্ আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের নিকট আড়াল করতে পারবে না। চিন্তা করে দেখো, কিভাবে তুমি বের হচ্ছে? আয়িশাহ্ বলেন, এ কথা শুনে তিনি ফিরে আসলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে ছিলেন এবং রাতের আহার করছিলেন। তার হাতে সে সময় গোশতের টুকরো একটি হাড় ছিল। সাওদাহ (প্রবেশ করে বললেন,) হে আল্লাহর রসূল! আমি বের হয়েছিলাম, উমার আমাকে এ এ কথা বলেছে। আয়িশাহ বলেন, সে সময় আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। অতঃপর তার উপর হতে (ওয়াহীর) অবস্থা উঠিয়ে নেয়া হয় এবং হাড়টি তখনও তার হাতেই ছিল, তা তিনি রেখে দেননি। তখন তিনি বললেন, তোমাদের দরকারে বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে (এ বর্ণনা আবূ কুরায়ব-এর)। আর আবূ বকর বর্ণিত বর্ণনাতে রয়েছে- "তার দেহাকৃতি নারীদের উর্ধ্বে থাকত"। আবূ বকর তার বর্ণিত হাদীসে বেশি বর্ণনা করেছেন যে, বর্ণনাকারী হিশাম বলেছেন, পায়খানার প্রয়োজনে।

আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন এমন এক নারী, যার শরীর অন্যদের তুলনায় উচু থাকত। তিনি (আরও) বলেছেন, আর তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের খাবার গ্রহণ করছিলেন।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... হিশাম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীগণ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার (প্ৰস্ৰাব-পায়খানায় যাওয়ার) সময় রাতের বেলা 'মানসি' এর দিকে বেরিয়ে যেতেন। 'মানসি' হলো প্রশস্ত খোলা জায়গা। ওদিকে উমার ইবন খাত্তাব রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতেন আপনার স্ত্রীগণের প্রতি পর্দার বিধান আরোপ করুন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটি করেননি। একরাতে ইশার সময় নবী (ﷺ) এর স্ত্রী সাওদাহ বিনতু যাম্আহ বের হলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী নারী। উমার তাকে ডাক দিয়ে বললেন, হে সাওদাহ্! আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি। পর্দার বিধান অবতীর্ণ করার প্রতি দৃঢ় প্রত্যাশায় তিনি এমন করলেন। আয়িশাহ বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা পর্দা-বিধি অবতীর্ণ করলেন।

আমর আন্‌ নাকিদ .... ইবন শিহাব হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আলী ইবন হুজর, মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হুঁশিয়ার! কোন পুরুষ কোন বয়স্কা নারীর সাথে কিছুতেই রাত্রি যাপন করবে না; তবে যদি সে তার স্বামী হয় কিংবা মাহরাম হয় (তাহলে করতে পারে)।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন রুমহ .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হুঁশিয়ার! (বেগানাহ) নারীদের নিকট তোমরা প্রবেশ করা পরিত্যাগ করো। সে সময় আনসারীদের এক লোক বলল- দেবর সম্পর্কে আপনার কি মতামত? তিনি বললেন দেবর তো মৃত্যু তুল্য।

আবূ তাহির .... ইয়াযীদ আবূ হাবীব হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

আবূ তাহির .... ইবন ওয়াহব বলেন, লায়স ইবন সা'দ কে আমি বলতে শুনেছি যে, শব্দের অর্থ স্বামীর ভাই (দেবর-ভাসুর) এবং স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে তার (স্বামীর ভাইয়ের) সমপর্যায়ের চাচাত ভাই প্রমুখ।

হারূন ইবন মারূফ ও (বিকল্প সানাদে) আবূ তাহির .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস [আব্দুর রহমান ইবন জুবায়র-এর নিকট] হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, (বানু) হাশিম সম্প্রদায়ের একদল লোক আসমা বিনতু উমায়স এর নিকট প্রবেশ করলো। তারপর আবূ বকর সিদ্দীক-ও (গৃহে) প্রবেশ করলেন- তখন তিনি [আসমা], তার সহধর্মিণী ছিলেন। তাদের দেখতে পেয়ে ঐ বিষয়টি (অনুমতি ছাড়া প্রবেশ) অপছন্দ করলেন। তিনি তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আলোচনা করলেন এবং (এ কথাও) বললেন, অকল্যাণ কিছুই দেখিনি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ অবশ্যই তাকে এ থেকে পবিত্র রেখেছেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাড়িয়ে বললেন, আমার আজকের এ দিনের পরে কোন পুরুষ তার সঙ্গে একজন পুরুষ বা দু'জন পুরুষ ছাড়া কোন এমন মহিলার নিকট প্রবেশ করবে না যার স্বামী উপস্থিত নেই।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ..... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীগণের কোন একজনের সাথে ছিলেন, সে সময় তার নিকট দিয়ে এক লোক যাচ্ছিল। তিনি তাকে ডাকলেন। সে (কাছে) আসলে তিনি বললেন, ওহে! এটা আমার অমুক স্ত্রী। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! অপর কারো সম্বন্ধে আমি মন্দ ধারণা করলেও হয়ত করতাম, কিন্তু আপনার সম্বন্ধে তো মন্দ ধারণা করতাম না। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ শয়তান মানুষের রক্ত সঞ্চারণের শিরায় শিরায় চলাফেরা করে থাকে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সাফিয়্যাহ্ বিনতু হুয়াই হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফরত ছিলেন। আমি রাত্রিতে তার সাথে দেখা করতে এলাম। (কিছু সময়) তার সাথে কথা বললাম, এরপর ফিরে যাওয়ার জন্যে উঠলাম। তিনিও আমাকে বিদায় দেয়ার জন্যে আমার সঙ্গে উঠলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), সে সময় তার [সাফিয়্যাহ্] বাসস্থান ছিল উসামাহ্ ইবন যায়দ এর ঘরে। তখন (সেখান দিয়ে) আনসারীদের দু' লোক গমন করছিলেন। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে (এক মহিলার সঙ্গে) দেখতে পেয়ে জলদি যেতে লাগল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ তোমরা দু'জন আস্তে আস্তে যাও। এ কিন্তু সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই (আমার স্ত্রী)। তারা দু'জন বলল, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রসূল (আমরা তো কিছু ভাবিনি) তিনি বললেনঃ শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় চলাফেরা করে। আর আমি আশঙ্কা করলাম যে, শয়তান তোমাদের দু'জনের মনে কোন মন্দ ধারণা ঢেলে দিবে অথবা (বর্ণনা সন্দেহ) এ বিষয়ে কোন কিছু তৈরি করতে পারে।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আলী ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে (নবাবীতে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইতিকাফের সময় তিনি তার সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি তার সাথে কিছু সময় আলোচনা করলেন, তারপর প্রত্যাবর্তনের জন্যে উঠে দাড়ালেন। নবী (ﷺ)-ও তাকে বিদায় দিতে উঠে দাড়ালেন .....। অতঃপর (পূর্ববর্তী হাদীসের রাবী) মা'মার বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) বললেন শয়তান মানুষের রক্ত সঞ্চারণের শিরায় শিরায় পৌছে। "প্রবাহিত হয়" বলেননি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ ওয়াকিদ লায়সী থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণের এক দলও ছিল। এ সময় তিনজনের একটি জামাআত সামনে আসলো। এদের দু'জন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে অগ্রসর হলো, আর একজন চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা দু'জন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে থেমে গেল। তারপর তাদের একজন সমাবেশের মধ্যে একটু খোলা জায়গা দেখতে পেয়ে সেখানে বসে গেল, দ্বিতীয়জন তাদের (মাজলিসের) পিছনে বসল আর তৃতীয় লোক পেছনে ফিরে চলে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (মজলিস) সমাপ্ত করে বললেন, শুন! তিনজনের ক্ষুদে দলটি সম্বন্ধে কি আমি তোমাদের সংবাদ দিব না? তাদের একজন তো আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিল, আল্লাহ তাআলাও তাকে আশ্রয় দিলেন। আর একজন লজ্জা সংকোচ করল, আল্লাহ তার লজ্জা (এর মর্যাদা) রক্ষা করলেন। আর তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়ে নিলো, আল্লাহ তাআলাও তার হতে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন।

আহমাদ ইবন আল-মুনযির ও ইসহাক ইবন মানসূর .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর হতে বর্ণিত যে, ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ তালহাহ্ এ সূত্রে তার নিকট হুবহু অর্থের হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির .... ইবন উমার নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কখনো কোন লোককে তার বসার জায়গা হতে উঠিয়ে দিয়ে সেথায় না বসে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব, ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কোন লোক কোন লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেথায় বসবে না বরং তোমরা (বলবে) প্রশস্ত করে দাও, জায়গা বিস্তার করে দাও।

আবূ রাবী, আবূ কামিল, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে (উপরোক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী) লায়স বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এদের বর্ণিত হাদীসে "বরং তোমরা বিস্তৃত করে দাও, প্রশস্ত করে দাও" (কথাটি) বর্ণনা করেননি। আর (তৃতীয় সানাদের) বর্ণনাকারী ইবন জুরায়জ বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমি নাফিকে প্রশ্ন করলাম (এ বিধান) জুমুআর দিনের জন্য? তিনি বললেন, জুমুআহ ও অন্যান্য (সকল) দিবসের জন্যে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যেন তার ভাইকে তার বসার জায়গা হতে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে না বসে। আর ইবন উমর এর আচরণ ছিল যে, কোন লোক তার জন্যে নিজের বসার স্থান থেকে উঠে গেলে তিনি সেথায় বসতেন না।

আবদ ইবন হুমায়দ আবদুর রাযযাক ও মা'মার হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ জুমুআর দিনে তোমাদের কেউ (মসজিদের কাতার হতে) তার ভাইকে উঠিয়ে দিয়ে তার বসার জায়গায় বসবে না বরং সে বলবে, 'বিস্তার করে দিন'।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (তার স্থান থেকে) (কিছু সময়ের জন্যে) উঠে যায় .... এ বর্ণনা কুতাইবাহ এর ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী আবদুল আযীয এর এবং অপর ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী আবূ আওয়ানাহ্ এর বর্ণিত হাদীসে আছে, যে লোক তার জায়গা ছেড়ে উঠে যাওয়ার পর আবার সেখানে ফিরে আসে, তাহলে সে সেই স্থানে (পুনরায় বসার ব্যাপারে) বেশি হকদার।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবূ কুরায়ব .... উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, এক হিজড়া তার নিকট বসা ছিল। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ছিলেন। সে উম্মু সালামাহ্ এর ভাইকে বলতে লাগল- হে আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়াহ! যদি আগামী দিনে আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে তায়িফ বিজয়ী করেন, তাহলে আমি আপনাকে গাইলান-কন্যাকে দেখাবো, সে চারটি নিয়ে সম্মুখে আসে আর আটটি নিয়ে পশ্চাৎদিকে যায়।" রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ ধরনের কথা বলতে শুনে বললেন, এ যেন তোমাদের নিকট আর প্রবেশ না করে।

আবূদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক হিজড়া নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণীগণের নিকট প্রবেশ করত। মানুষজন তাকে বুদ্ধি জ্ঞানহীন হিজড়াদের অন্তর্ভুক্ত মনে করত। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) একদিন গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন সে তার কোন এক স্ত্রীর নিকট ছিল আর সে এক মহিলার (দেহ সৌষ্ঠবের) বর্ণনা দিয়ে বলছিল- 'যখন সম্মুখে অগ্রসর হয় তখন চার (ভাজ) নিয়ে অগ্রসর হয় এবং যখন পশ্চাতে ফিরে তখন আটটি নিয়ে ফিরে যায়। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সাবধান! এ তো দেখছি এখানকার (নারী রহস্যের) বিষয়াদি বুঝে শুনে। সে যেন তোমাদের নিকট কখনো প্রবেশ না করে। তিনি [আয়িশাহ্] বলেন, তারপর তারা তার থেকে পর্দা করতো।

মুহাম্মাদ ইবন আলা আবূ কুরায়ব হামদানী .... আসমা বিনতু আবূ বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়র আমাকে বিবাহ করলেন, সে সময় একটি ঘোড়া ব্যতীত কোন যোগ্য সম্পদ, গোলাম বা অন্য কোন কিছু দুনিয়াতে তার ছিল না। তিনি বলেন, আমি তার ঘোড়াটাকে ঘাস খাওয়াতাম, তার পারিবারিক কাজকর্মেও সঙ্গ দিতাম। আমি তার যত্ন নিতাম, তার পানিবাহী উটের জন্যে খর্জুর (খেজুর) বীচি কুড়াতাম, তাকে ঘাস খাওয়াতাম, পানি নিয়ে আসতাম, তার ঢোল ইত্যাদি মেরামত করতাম এবং (রুটির জন্য) আটা মাখতাম। তবে আমি ভাল রুটি বানাতে পারতাম না। তাই আমার কতিপয় আনসারী সাথীর মনিরা আমাকে রুটি পাকিয়ে দিত। তারা ছিল স্বার্থহীন রমণী। আমি যুবায়র এর জমি থেকে যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জায়গীর রূপে দিয়েছিলেন (সেখান থেকে) খেজুর বীচি (কুড়িয়ে) আমার মাথায় করে বয়ে আনতাম। সে (জমি) ছিল এক ক্রোসের দু-তৃতীয়াংশ (প্রায় দু'মাইল) দূরে অবস্থিত। তিনি বলেন, আমি একদিন আসছিলাম আর বীচি ('র বোঝা) আমার মাথায় ছিল। (পথে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দেখা পেলাম, সে সময় তার সাথে সাহাবীগণের একটি ক্ষুদ্র দল ছিল। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং (তার বাহন উটটিকে বসাবার জন্যে) ইখ ইখ (আওয়াজ) করলেন যাতে আমাকে সেটির পেছনে উঠিয়ে নিতে পারেন। তিনি আসমা বলেন, আমি লজ্জাবোধ করলাম আর আমি ছিলাম তোমার [যুবায়র] আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি [যুবায়র] বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমার মাথায় করে বীচি বয়ে আনাটা (আমার নিকট) তার সাথে তোমার আরোহণের চাইতে অনেক কঠিন (ও কষ্টকর)। তিনি বলেন, অতঃপর (আব্বা) আবূ বকর আমার নিকট একটি খাদিম প্রেরণ করলেন। ঘোড়াটি দেখা-শুনার কাজে সে আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে গেল। সে যেন আমাকে এ দায়িত্ব হতে মুক্ত করেছিল।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল-গুবারী .... ইবন আবূ মুলাইকাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, আসমা বলেছেন, আমি পারিবারিক কাজে যুবায়র এর সেবা করতাম। তার একটি ঘোড়া ছিল। আমি তা দেখাশুনা করতাম। ঘোড়াটির দেখাশুনা করার চেয়ে কোন কর্ম আমার নিকট ভারী ছিল না। আমি তার জন্যে ঘাস যোগাড় করতাম, তার দেখাশুনা ও সেবা-পরিচর্যা করতে থাকতাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি একটি খাদিম পেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী এলে তিনি তাকে একটি খাদিম দিলেন। তিনি [আসমা] বলেন, সে (খাদিম) ঘোড়ার দেখাশুনায় আমার জন্যে যথেষ্ট হলো এবং আমি দায়িত্বমুক্ত হলাম। তখন এক অভাবী লোক আমার নিকট এসে বলল, হে আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। তিনি বললেন, তোমাকে আমি অনুমতি দিয়ে ফেললে যুবায়র (সম্ভবত) তা বাতিল করবে। তাই এক কাজ করো, যুবায়র উপস্থিত থাকা অবস্থায় তুমি এসে আমার নিকট প্রস্তাব করবে। ঠিক সময় এসে সে বলল, হে আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন, আমার গৃহ ব্যতীত তোমার জন্যে মদীনায় আর কোন স্থান নেই (কি)? সে সময় যুবায়র তাকে বললেন, একটা অভাবী মানুষকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দিতে তুমি বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে কেন? তারপর সে (সেথায়) ক্রয়-বিক্রয় করে (বেশকিছু) আয় করল, আমি খাদিমটি তার নিকট বিক্রি করে দিলাম। এ সময় যুবায়র আমার নিকট প্রবেশ করল তখনও তার (বিক্রয়কৃত) মূল্য আমার কোলের উপর ছিল। সে বলল ওগুলো আমাকে দান করে দাও। তিনি বলেন, (আমি বললাম), আমি ওগুলো সাদাকা করে দিয়েছি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... ইবন উমার হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তিনজন থাকবে, তখন একজনকে রেখে দু'জনে কানে কানে কথা বলবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমর এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে মালিক বর্ণিত হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন দু'জন আর একজনকে বাদ দিয়ে দু'জনে চুপিচুপি কথা বলবে না, যে পর্যন্ত না অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মিশে যাও- এ কারণে যে, তাহলে তাকে দুর্ভাবনায় ফেলে দিবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন দু'জন তাদের সঙ্গীকে বাদ দিয়ে কানাঘুষা করবে না, (কারণ) তা তাকে দুর্ভাবনায় ফেলবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমর .... আল্ আমাশ এর সানাদে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন আবূ উমার মাক্কী .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লে জিবরীল এ দোয়া পড়ে তাকে ফুকে দিতেন, তিনি বলতেন, আল্লাহর নামে-তিনি আপনাকে (ব্যাধি) সুস্থতা দান করুন, সব ব্যাধি থেকে আপনাকে মুক্ত করুন, আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে এবং যখন সে হিংসা করে এবং সকল প্রকার কুদৃষ্টি ব্যক্তির ক্ষতি হতে।

বিশর ইবন হিলাল সাওওয়াফ .... সাঈদ হতে বর্ণনা করেন যে, জিবরীল নবী (ﷺ) এর নিকট আগমন করে বললেন, হে মুহাম্মাদ। আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি (জিবরীল) বললেনঃ আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুক করছি- সে সব জিনিস হতে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব আত্মার খারাবী অথবা হিংসুকের কুদৃষ্টি হতে আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুক করছি।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো ঐ সমস্ত (হাদীস), যা আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কয়েকটি হাদীস আলোচনা করেন। সেগুলোর অন্যতম একটি হলো- রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুদৃষ্টির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাস্তব।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী, হাজ্জাজ ইবন শাইর ও আহমাদ ইবন খিরাশ .... ইবন আব্বাস এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুদৃষ্টির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাস্তব'। কোন বিষয় যদি ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত, তাহলে কুদৃষ্টি ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত এবং তোমাদের (কুদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের)-কে গোসল করতে বলা হলে তোমরা গোসল করাবে।

আবূ কুরায়ব ..... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাবীদ ইবন আসাম নামে বানু যুৱায়ক সম্প্রদায়ের এক ইয়াহুদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যাদু করল। তিনি বলেন, এ যাদুর কারণে এমনও হত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্মরণ হত যে কোন (পার্থিব) কাজ তিনি করছেন, অথচ (প্রকৃতভাবে) তিনি তা করছেন না। পরিশেষে একদিনে কিংবা এক রাত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন; আবার দোয়া করলেন, আবার দোয়া করলেন। অতঃপর বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি অনুধাবন করতে পেরেছে যে, আল্লাহ আমাকে সে ব্যাপারে সমাধান দিয়েছেন, যে ব্যাপারে আমি তার নিকট সমাধান চেয়েছিলাম? (তা এভাবে যে) (দু'জন ফেরেশতা) দু'লোক (মানুষের বেশ ধরে) আমার নিকট আসলো। তাদের একজন আমার মস্তকের নিকট এবং অপরজন আমার পায়ের নিকট বসল। অতঃপর আমার মাথার নিকটের লোক পায়ের নিকটের লোককে অথবা আমার পায়ের নিকটের লোকটি আমার মাথার নিকটের লোকটিকে বলল, লোকটির ব্যাধি কি? (অপরজন) বলল, যাদুগ্রস্ত। (প্রথম জন) বলল, কে তাকে যাদু করেছে? (দ্বিতীয় জন) বলল- লাবীদ ইবন আসাম। (প্রথমজন) বলল, কোন জিনিসে? (দ্বিতীয় জন) বলল- চিরুনি, (আচড়ানোর সময় চিরুনির সঙ্গে) উঠা চুল, (আরও) বলল, পুরুষ খেজুরের ফুলের বেষ্টনীতে। (প্রথমজন) বলল, তা কোথায়? (দ্বিতীয় জন) বলল- যা আরওয়ান কুয়ায়। তিনি [আয়িশাহ্] বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কতিপয় সাহাবীকে সাথে নিয়ে সেথায় আসলেন। তারপর (ফিরে এসে) বললেন, হে আয়িশাহ্! আল্লাহর কসম, সে (কূপের) পানি যেন মেহেদীপাতা ভিজানো (পানি) এবং সেখানকার খেজুর গাছ যেন শয়তানের মস্তিষ্ক। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আপনি তা (জনসমক্ষে) পুড়ে ফেললেন না কেন? তিনি বললেন, না, (আমি তা উচিত মনে করেনি)। কেননা, আল্লাহ আমাকে তো রোগমুক্ত করেছেন-আর লোকদেরকে কোন অকল্যাণে উত্তেজিত করা অপছন্দ করছি। আমি সে ব্যাপারে নির্দেশ দিলাম। ফলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যাদু করা হলো .... আবূ কুরায়ব এ হাদীসটি বিস্তারিত বর্ণনাসহ (উপরোক্ত) ইবন নুমায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাতে এ কথাটিও বলেছেন- পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুপের নিকট গমন করলেন এবং সেটির (চার) দিকে লক্ষ্য করলেন। তাতে একটি খেজুর গাছ রয়েছে। তিনি [আয়িশাহ] আরও বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আপনি তা (লোকালয়ে) বের করে ফেলেন। এ বর্ণনায় জ্বালিয়ে দেয়ার অংশটি বর্ণনা করেননি এবং আমি সে সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো, (কথাটিও) বর্ণনা করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব হারিসী .... আনাস হতে বর্ণনা করেন যে, এক ইয়াহুদী নবী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বিষ মিশানো ছাগলের গোশত নিয়ে আসলো। তিনি সেখান হতে (কিয়দংশ) খেলেন। অতঃপর তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি তার কাছে (সে কেন এমন করল) এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলল, আমি আপনাকে হত্যা করার ইচ্ছা করছিলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এ বিষয়ে তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না অথবা তিনি বললেনঃ আমার উপরে ক্ষমতা দিবেন এমন নয়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা (সাহাবীগণ) বললেন, আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আলজিভ ও তালুতে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমি সর্বদা লক্ষ্য করতাম।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... হিশাম ইবন যায়দ বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, একজন ইয়াহুদী নারী গোশতে বিষ মিশিয়ে তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসলো। .... (উপরোক্ত রিওয়ায়াতের) বর্ণনাকারী খালিদ এর বর্ণিত হাদীসের অর্থানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কোন মানুষ পীড়িত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ডান হাত দ্বারা তাকে মুছে দিতেন, তারপর বলতেনঃ সমস্যা বিদূরিত করে দিন, হে জনগণের পালনকর্তা! আর সুস্থতা দান করুন, আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা ও মুক্তি ছাড়া আর কোন (প্রকৃতপক্ষে নির্ভরযোগ্য) শিফা নেই। এমন নিরাময় করুন যার পর কোন রোগব্যাধি বাকী না থাকে। পরবর্তীতে যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পীড়িত হলেন তখন অসুখে অতি দুর্বল হয়ে পড়লেন, সে সময় আমি তার হাত তুলে ধরলাম- যাতে আমিও তেমন করে (মুছে) দিতে পারি তিনি (ﷺ) যেমন করে (মুছে) দিতেন। কিন্তু তিনি আমার হাত থেকে তার হাত টেনে (ছাড়িয়ে) নিলেন। অতঃপর বললেনঃ হে আল্লাহ আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে মহান সঙ্গীর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন! তিনি [আয়িশাহ] বলেন, হঠাৎ আমি দেখলাম যে, তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন (ইন্তিকাল করেছেন)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমাশ হতে জারীর এর সূত্রে বর্ণিত। কিন্তু হুশায়ম ও শুবাহ বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- তিনি তার হস্ত দ্বারা তাকে (রোগীকে) মুছে দিলেন। আর (সুফইয়ান) সাওরী বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- তিনি তার ডান হস্ত দ্বারা তাকে মুছে দিলেন। আর সুফইয়ান এর সূত্রে আমাশ হতে ইয়াহইয়া বর্ণিত হাদীসের অবশিষ্টাংশে বর্ণনাকারী বলেছেন- পরে আমি এ হাদীস মানসূর কে শুনালে তিনি ইবরাহীম মাসরুক ও আয়িশাহ হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করে আমাকে শুনালেন।

শইবন ইবন ফারুখ .... আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন রোগ গ্রস্থ ব্যাক্তিকে দেখলে বলতেনঃ "সমস্যা বিদূরিত করে দিন হে লোকেদের প্রতিপালনকারী! তাকে সুস্থ করে দিন, আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার শিফা ব্যতীত কোন শিফা নেই- এমন শিফা, যার পরে কোন রোগ-ব্যাধি বাকী থাকে না।"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন রোগগ্রস্ত ব্যক্তির নিকট গেলে তার জন্য দোয়া করতেনঃ "বিপদাপদ সমস্যা বিদূরিত করে দিন হে মানুষের প্রতিপালক আর আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদানকারী, আপনার শিফা ছাড়া কোন শিফা নেই; এমন সুস্থতা দিন, যার পরে কোন রোগ-ব্যাধি বাকী না থাকে।" কিন্তু আবূ বকর সূত্রে বর্ণিত আছে- তার জন্যে দোয়া করতেন এবং বলতেন .....। এছাড়া তিনি বলেছেন, আর আপনিই সুস্থতা দানকারী।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বর্ণনা (উপরোল্লিখিত) আবূ আওয়ানাহ এবং জারীর এর হাদীসের অবিকল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব ... আয়িশা হতে বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এ দুয়া দিয়ে ঝাড় ফুক করতেন- "হে জনগণের প্রতিপালক বিপদাপদ সমস্যা বিদূরিত করুন, আপনার কাছেই রয়েছে উপশম। আপনি ছাড়া আর কেউ-ই (বিপদ) দূরকারী নেই।"

আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম হিশাম এর সানাদে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সুরায়জ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিবারবর্গের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মুআববিযাত সূরাগুলো পড়ে তাকে ফুক দিতেন। পরবর্তীতে তিনি যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হলেন তখন আমি তাকে ফুক দিতে লাগলাম এবং তার-ই হাত দিয়ে তার দেহটি মুছে দিতে লাগলাম। কেননা, আমার হাতের তুলনায় তার হাত ছিল অনেক বারাকাতপূর্ণ। আর ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব মুআববিযাত দ্বারা ঝাড়ফুক করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মুআববিযাত পাঠ করে স্বশরীরে দম করতেন। তার ব্যাধি কঠিন রূপ ধারণ করলে আমি তা পড়ে তার হাত দ্বারা তার দেহটি মুছে দিতাম ঐ হাতের বারাকাতের আশায়।

আবূ তাহির, হারমালাহ, আবদ ইবন হুমায়দ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, উকবাহ ইবন মুকরাম ও আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী .... ইবন শিহাব হতে মালিকের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মালিকের হাদীস ছাড়া তাদের কারো হাদীসে 'তার হাতের বারাকাতের আশায়' কথাটি নেই। ইউনুস ও যিয়াদ বর্ণিত হাদীসে আছে- নবী (ﷺ) অসুস্থ হয়ে গেলে নিজেকে মুআববিযাত দ্বারা দম করতেন এবং নিজহস্তে স্বশরীর মুছতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ কে ঝাড়ফুক সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারীদের একটি পরিবারকে যে কোন বিষধর প্রাণীর বিষক্রিয়া হতে মুক্তির জন্যে ঝাড়ফুক করার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারীদের একটি গৃহের লোকদের বিষাক্ত জন্তুর বিষক্রিয়া থেকে (রোগমুক্তি লাভের আশায়) ঝাড়ফুক করতে অনুমতি দিয়েছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিয়ম করে ছিলেন যে, মানুষ তার (শরীরের) কোথাও অসুস্থতা অনুভব করলে অথবা তাতে কোন ফোঁড়া বা আঘাতপ্রাপ্ত (হয়ে) থাকলে- রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার আঙ্গুল দ্বারা এ রকম করতেন- (এ কথা বলে এভাবে করার ধরণ বুঝানোর জন্য)। বর্ণনাকার সুফইয়ান তার বুড়ে আঙ্গুলটি জমিনে রাখলেন- অতঃপর তা তুলে নিলেন এবং সে সময় এ দোয়া পড়তেন "আল্লাহর নামে- আমাদের জমিনের ধূলামাটি আমাদের কারো (মুখের) লালার সঙ্গে (মিলিয়ে)- আমাদের পালনকর্তর আদেশে তা দিয়ে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভের উদ্দেশে (মালিশ করছি)।" তবে ইবন আবূ শাইবাহ্ (তার বর্ণনাতে) বলেছেন- 'শিফা দান করা হয়'। এবং যুহায়র বলেছেন, আমাদের রোগীর সুস্থতা লাভের উদ্দেশে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে চোখলাগা হতে (মুক্ত হওয়ার জন্য) ঝাড়ফুক করার আদেশ করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... মিস্আর হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কুদৃষ্টি হতে (বাচার জন্য) ঝাড়ফুক করার আদেশ করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে ঝাড়ফুকের ব্যাপারে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিষাক্ত জন্তুর বিষক্রিয়া, পার্শ্বঘা ও চোখলাগা থেকে (বাচার জন্য) ঝাড়ফুক করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুদৃষ্টি লাগা, বিষাক্ত জন্তুর বিষক্রিয়া ও বিষাক্ত পার্শ্বঘা থেকে বেচে থাকতে ঝাড়ফুকের অনুমতি দিয়েছেন।

আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ এর গৃহে একটি বালিকার মুখমণ্ডলে (কালো বা হলুদ) দাগ লক্ষ্য করে বললেন, তার কুদৃষ্টি লেগেছে, তার জন্য ঝাড়ফুক করো। তার চেহারায় হলুদ দাগ পড়ার কারণে।

উকবাহ ইবন মুকরাম আম্মী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাযম পরিবারকে সাপের ছোবলে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীকে ঝাড়ফুক করার অনুমতি দেন এবং আসমা বিনতু উমায়স কে বললেন, আমার ভাই জাফার এর ছেলে-মেয়েদের কি হলো যে, তাদের শরীর আমি দুর্বল দেখতে পাচ্ছি? তাদের কি অভাব দেখা দিয়েছে? তিনি (আসমা) বললেন, না কিন্তু তাদের উপর তাড়াতাড়ি কুনযর লেগে যায়। তিনি বললেন, তুমি তাদের ঝাড়-ফুক কর। তিনি বললেন, তখন আমি তার নিকট (দোয়াটি) উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) তুমি তাদের ঝাড়ফুক করে দাও।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু আমরকে সাপের ছোবলে আক্রান্ত রোগীর ঝাড়ফুকের অনুমতি দেন। আবূ যুবায়র আরও বলেছেন- আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে আরও বলতে শুনেছি যে, একটি বিছা আমাদের এক লোককে ছোবল দিল। আমরা সেথায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বসা ছিলাম। তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি (তাকে) ঝেড়ে দেই? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কোন লোক যদি তার ভাইয়ের (কোনও) উপকার করতে পারে, সে যেন (তা) করে।

সা'দ ইবন ইয়াহইয়া উমাবী .... ইবন জুরায়জ (থেকে) উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেছেন- তখন ব্যক্তিদের মাঝে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে ঝাড়ফুক করতে পারি? তিনি (শুধু) ঝাড়ফুক করি বলেননি (বরং 'তাকে' শব্দটিও বলেছেন)।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একজন মামা ছিলেন, যিনি বিচ্ছুর ছোবলে ঝাড়ফুক করতেন। এ সময় (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ঝাড়ফুক নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। সে সময় তিনি (আমার মামা) তার খিদমাতে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঝাড়ফুক হারাম করে দিয়েছেন। হে আল্লাহর রসূল! আমি তো বিছার ছোবল থেকে আত্মরক্ষার্থে ঝাড়ফুক করে থাকি? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোন উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তা করে।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

আবূ কুরায়ব .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক সময়) ঝাড়ফুক নিষিদ্ধ করে দিলেন। অতঃপর আমর ইবন হাযম সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের নিকট একটি ঝাড়ফুক ছিল, যা দিয়ে আমরা বিচ্ছুর ছোবলে ঝাড়ফুক করতাম, এখন আপনি তো ঝাড়ফুক নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী জাবির বলেন, তারা তা তার নিকট উপস্থাপন করল। তখন তিনি বললেন, কোন সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের কোনও উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তার উপকার করে।

আবূ তাহির .... আওফ ইবন মালিক আশজা'ঈ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহিলী (মূর্খতার) যুগে (বিভিন্ন) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুক করতাম। এজন্যে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আবেদন করলাম- হে আল্লাহর রসূল! এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করো, ঝাড়ফুকে কোন দোষ নেই- যদি তাতে কোন শিরক (জাতীয় কথা) না থাকে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কিছু সংখ্যক সাহাবী কোন এক সফরে ছিলেন, তারা কোন একটি আরব সম্প্রদায়ের বসতির নিকট দিয়ে রাস্তা অতিক্রমকালে তাদের নিকট মেহমানদারীর ব্যাপারে বললেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করল না। পরে তাদেরকে তারা বলল, তোমাদের দলে কি কোন ঝাড়ফুককারী আছে? কারণ, বসতির সর্দারকে সাপে দংশন করেছে অথবা (বর্ণনাকারীর সংশয় তারা বলল-) বিপদগ্রস্ত হয়েছে। সে সময় এক লোক বলল, হ্যা। তারপরে সে তার নিকট গমন করে সূরা আল-ফাতিহাহ দ্বারা ঝাড়ফুক করল। যার দরুন ব্যক্তিটি ভাল হয়ে গেল এবং ঝাড়ফুককারীকে বকরীর একটি ক্ষুদ্র পাল দেয়া হলো। সে তা নিতে আপত্তি জানালো এবং সে বলল, যতক্ষণ তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা না করি (ততক্ষণ গ্রহণ করতে পারি না)। অতঃপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বিষয়টি তার নিকট বর্ণনা করে সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর শপথ আমি ফাতিহাতুল কিতাব ছাড়া ভিন্ন কোন কিছু দিয়ে ঝাড়ফুক করিনি। সে সময় তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, তুমি কি করে বুঝলে যে, তা দিয়ে ঝাড়ফুক করা যায়? অতঃপর বললেন, তাদের নিকট থেকে তা নিয়ে নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমার জন্যও একাংশ রেখো।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি ..... আবূ বিশর হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে (ওঝা) উম্মুল কুরআন- সূরা আল-ফাতিহাহ পাঠ করতে লাগল এবং তার থু-থু একত্র করে থুক দিতে লাগল। ফলে ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে গেল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি স্থানে নামলাম। অতঃপর আমাদের নিকট একটি মহিলা এসে বলল, এলাকার সর্দারকে সাপে কেটেছে, তোমাদের মাঝে কি কোন ঝাড়ফুককারী আছে? সে সময় আমাদের এক লোক উঠে তার সাথে গেল- সে যে সুন্দর ঝাড়ফুক করতে পারে তা আমাদের জানা ছিল না। সে সূরা আল-ফাতিহাহ্ দ্বারা তাকে ঝাড়ফুক করল। এতে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন তারা তাকে একপাল বকরী দিল এবং আমাদের দুধ পান করাল। আমরা বললাম, তুমি কি ভাল ঝাড়ফুক করতে জানতে? সে বলল, আমি তো সূরা আল-ফাতিহাহ ব্যতীত আর কিছু দিয়ে তাকে ঝাড়ফুক করিনি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বললাম, তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গমন না করা পর্যন্ত ঐ বকরীগুলোকে এখান হতে নিয়ে যেও না। তারপরে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তার নিকট তা পেশ করলাম। তিনি বললেন, সে-কি করে বুঝল যে, এ সূরাটি দ্বারা ঝাড়ফুক করা যায়? তোমরা বকরীগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যও তোমাদের সাথে একটি অংশ রেখ।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হিশাম এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন- সে সময় তার সঙ্গে আমাদের এক লোক উঠে দাড়াল- যাকে আমরা ঝাঁড়ফুক বিষয়ে (পারদর্শী) মনে করতাম না।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... উসমান ইবন আবূল আস-সাকাফী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার দেহে অনুভব করছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার 'বিসমিল্লা-হ' বলবে এবং সাতবার বলবে- "আল্লাহ এবং তার ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- যা আমি অনুভব করি এবং যা ধারণা করি তার অনিষ্ট হতে।"

ইয়াহইয়া ইবন খালাফ আল-বাহিলী .... আবদুল আ'লা হতে বর্ণনা করেন যে, উসমান ইবন আবূল আস নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন- হে আল্লাহর রসূল! শয়তান আমার, আমার নামাজ ও কিরাআতের মধ্যে বাধা হয়ে দাড়ায় এবং সব কিছুতে গোলমাল বাধিয়ে দেয়। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা এক (প্রকারের) শয়তান যার নাম 'খিনযিব'। যে সময় তুমি তার উপস্থিতি বুঝতে পারবে তখন (আউয়ুবিল্লাহ পড়ে) তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে তিনবার তোমার বাম পাশে থুথু ফেলবে। তিনি বলেন, তারপরে আমি তা করলাম আর আল্লাহ আমার হতে তা দূর করে দিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... তিনি উসমান ইবন আবূল আস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এর নিকট এলেন। তারপর অবিকল (হাদীস) বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সালিম ইবন নূহ 'তিনবার' এর কথাটি তার হাদীসে বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মদ ইবন রাফি .... উসমান ইবন আবূল আস-সাকাফী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! .... অতঃপর তাদের বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন মারূফ এবং আবূ তাহির ও আহমাদ ইবন ঈসা .... জাবির এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন- প্রতিটি ব্যাধির প্রতিকার রয়েছে। অতএব রোগে যথাযথ ঔষধ প্রয়োগ করা হলে আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য লাভ হয়।

হারূন ইবন মারূফ ও আবূ তাহির .... আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদাহ বর্ণনা করেন যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল-মুকান্‌না কে অসুস্থতার দরুন দেখতে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি বললেন- যে পর্যন্ত না তুমি শিঙ্গা লাগাবে সে পর্যন্ত আমি স্থান ত্যাগ করব না। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তাতে শিফা রয়েছে।

নাসর ইবন আলী জাহযামী .... আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জাবির ইবন আবদুল্লাহ আমাদের পরিবারে এলেন, তখন জনৈক লোক খুজলী-পাচড়ায় অথবা (বর্ণনা সংশয়)- তিনি বললেন, আঘাতে অসুস্থ হয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কি অসুস্থতাবোধ করছো? সে বলল- আমার খুজলি-পাচড়া আমাকে ভয়ঙ্কর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। তিনি তখন (খাদিমকে) বললেন, হে যুবক! আমার নিকট একজন শিঙ্গা প্রয়োগকারী (বৈদ্য) নিয়ে আসো। তখন তিনি তাকে বললেন, বৈদ্যকে দিয়ে আপনি কি করবেন, হে আবূ আবদুল্লাহ? তিনি বললেন, আমি তাতে একটা শিঙ্গার নল ঝুলাতে চাই। সে বলল, আল্লাহর শপথ মাছি আমার শরীরে বসলে কিংবা কাপড়ের ছোয়া আমার শরীরে লাগলে তা-ই আমাকে বেদনা দেয় এবং আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে (তাহলে শিঙ্গার বেদনা কি করে সহ্য করবো)? তারপরে তিনি যখন ঐ ব্যাপারে তার ধৈর্যহারা লক্ষ্য করলেন তখন বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের ব্যবস্থাপত্রের কোন কিছুতে যদি কল্যাণ থেকে থাকে তাহলে তা শিঙ্গার নল অথবা মধুর শরবত পান অথবা আগুনের সেঁকে রয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (আরও) বলেছেন- (নিতান্ত প্রয়োজন না পড়লে) আমি গরম লোহার সেক লাগিয়ে চিকিৎসা করা অপছন্দ করি। বর্ণনাকারী বলেন, সে একজন শিঙ্গাবিদ (বৈদ্য) নিয়ে এলো, সে তার শিঙ্গা লাগাল। ফলে ব্যথানুভূতি বিদূরিত হয়ে গেল।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ এবং মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, উম্মু সালামাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শিঙ্গা লাগানোর বিষয়ে অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে শিঙ্গা লাগিয়ে দেয়ার জন্য আবূ তাইবাহ-কে নির্দেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় যে, তিনি (ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী) বলেছেন যে, সে ছিল তার দুধ ভাই অথবা নাবালক কিশোর।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কা'ব এর নিকট জনৈক ডাক্তার প্রেরণ করলেন। সে তার একটি ধমনী কর্তন করে দিল, পরে লোহা গরম করে (রক্ত বন্ধ করার জন্য) তাতে সেঁক দিয়ে দিল।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবন মানসূর .... আমাশ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি 'সে তার একটি ধমনী কর্তন করে দিল' কথাটি বর্ণনা করেননি।

বিশর ইবন খালিদ .... আবূ সুফইয়ান বলেন, আমি জাবির কে বলতে শুনেছি যে, খন্দক যুদ্ধে উবাই এর হাত (কিংবা পা) এর মূল ধমনীতে তীর লাগানো হলো, তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লোহা গরম করে দাগ দিলেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন মুআয এর মূল রগে তীর লাগানো হলো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্বহস্তে একটি তীর ফলক দ্বারা তার রগ কর্তন করে দাগ দিয়ে দিলেন। তারপরে তা ফুলে উঠলে দ্বিতীয়বার দাগ দিয়ে দিলেন।

আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখর দারিমী .... ইবন আব্বাস হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) শিঙ্গা নিলেন ও শিঙ্গাবিদকে তার বিনিময় দিলেন এবং একবার তিনি নাকে ঔষধের ফোটা নিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আমর ইবন আমির আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শিঙ্গা নিয়েছিলেন- আর তিনি (যথার্থ পারিশ্রমিকও দিয়েছিলেন- কেননা, তিনি) মজুরির বিষয়ে কারো প্রতি যুলুম করতেন না।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমার এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপ, তাই পানি দিয়ে তাকে শীতল করো।

ইবন নুমায়র ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমার এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জ্বরের প্রচণ্ডতা আসে জাহান্নামের তাপ হতে। তাই পানি দিয়ে তোমরা তাকে শীতল করবে।

হারূন ইবন সাঈদ আইলী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমার বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের সঞ্চিত উত্তাপ; তাই তাকে পানি দিয়ে নিভিয়ে দাও।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম এবং হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন উমার থেকে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের সঞ্চিত উত্তাপ; তাই তাকে পানি দিয়ে শীতল করে দাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের সঞ্চিত উত্তাপ; তাই তাকে পানি দ্বারা শীতল করো।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আসমা হতে বর্ণিত যে, তার নিকট জ্বরাক্রান্ত কোন স্ত্রীলোককে নিয়ে আসা হলে তিনি পানি নিয়ে আসতে বলতেন। এরপর তা তার বক্ষের উপর ঢেলে দিতেন এবং বলতেন- রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাকে পানি দিয়ে শীতল করো। তিনি আরও বলেছেন, তা জাহান্নামের সঞ্চিত উত্তাপ।

আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে [আবূ কুরায়ব এর ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী] ইবন নুমায়র এর বর্ণিত হাদীসে আছে 'তার (রোগিনী) ও তার জামার ফাকা জায়গার মধ্যে পানি প্রবাহিত করে দিতেন'। আর (অন্য ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী) উসামাহ্ এর হাদীসে তা জাহান্নামের সঞ্চিত তাপ কথাটি তিনি বর্ণনা করেননি।

হান্নাদ ইবন সারী .... আবায়াহ্ ইবন রিফাআহ্ এর সানাদে তার দাদা রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি যে, জ্বর জাহান্নামের তীব্র উত্তাপের অংশ বিশেষ, তাই তোমরা তাকে পানি দ্বারা শীতল করো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবূ বকর ইবন নাফি .... রাফি ইবন খাদীজ রিওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ হতে (উদ্ভূত)। তাই তোমাদের পক্ষ হতে তাকে পানি দিয়ে শীতল করো। তবে বর্ণনাকারী আবূ বকর 'তোমাদের পক্ষ হতে' অংশটুকু বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুস্থতার সময় তার মুখের কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম; তখন তিনি ইঙ্গিত করলেন যে, আমার মুখে ওষুধ দিও না। আমরা বললাম, এটা ওষুধের প্রতি রোগীর অনীহার কারণ। অতঃপর যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, তোমাদের সবার মুখের কিনারায় ওষুধ ঢেলে দেয়া হবে- তবে আব্বাস ছাড়া; কেননা তিনি তোমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... উক্কাশাহ ইবন মিহসান এর ভগ্নি উম্মু কায়স বিনতু মিহসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক ছেলেকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম, সে তখনও (সাধারণ) খাবার গ্রহণের বয়সে পৌছেনি- বাচ্চাটি তার শরীরে প্রস্রাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং তা ছিটিয়ে দিলেন।

তিনি বলেন, আর একবার আমি আমার (এক) ছেলেকে নিয়ে তার নিকট প্রবেশ করলাম- যার গলদেশে ব্যথার কারণে আমি তার (নাসারন্দ্রে পাকানো নেকড়া দ্বারা) যন্ত্রণা সারানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। তিনি বললেন, নেকড়ার এ প্রক্রিয়ায় তোমাদের ছেলে-মেয়ের গলার ব্যথার চিকিৎসা করো কেন? তোমরা (বরং) হিন্দুস্তানী চন্দন ব্যবহার করবে। কারণ এতে সাতটি (রোগের) নিরাময় আছে। তন্মধ্যে একটি গলা ব্যথায় নাকে হিন্দী চন্দনের নির্যাস দেয়া হবে, আর চোয়ালের এক পার্শ্ব দিয়ে ঢেলে দেয়া হবে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত যে, উম্মু কায়স বিনতু মিহসান তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে বাইআত গ্রহণকারিণী প্রথম পর্যায়ের মুহাজির নারীগণের অন্যতমা। আর তিনি হলেন বানু আসাদ ইবন খুযাইমার একজন সদস্য উক্কাশাহ ইবন মিহসান এর ভগ্নি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (উম্মু কায়স) আমাকে সংবাদ জানিয়েছেন যে, তিনি তার একটি ছেলেকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন, যে তখনও (সাধারণ) খাদ্য খাওয়ার উপযোগী হয়নি। আর তখন তিনি পাকানো নেকড়া নাসারন্দ্রে ঢুকিয়ে ঐ ছেলেটির গলা ব্যথা সারানোর ব্যবস্থা করে ছিলেন। বর্ণনাকারী ইউনুস বলেন, ঘাড়ের আশেপাশে ব্যথা বা রক্ত জমার আশঙ্কায় নাসিকারন্দ্রে নেকড়া ঢুকিয়ে নিরাময়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন। তোমরা পাকানো নেকড়া ঢুকিয়ে তোমাদের বাচ্চাদের নিরাময়ের বন্দোবস্ত করো কেন? তোমরা (বরং) এ ভারতীয় চন্দন ব্যবহার করবে, কেননা তাতে নিশ্চয়ই সাতটি (রোগের) ওষুধ আছে।

বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ বলেন, তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তার ঐ ছেলেটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সামান্য পানি নিয়ে আসতে বললেন এবং তিনি প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন, কিন্তু একেবারে পুরোপুরি তা ধুলেন না।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির .... আবূ হুরাইরাহ্ বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, কালো জিরায় সকল প্রকার রোগের উপশম আছে- তবে আসসাম' ব্যতীত। আর আসসা-ম' হলো মৃত্যু। আর আল হাব্বাতুস সাওদা হলো (স্থানীয় ভাষায়) শূনীয' (কালো জিরা)।

আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে (পূর্বোক্ত) উকায়ল এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে (দ্বিতীয় সানাদে) সুফইয়ান ও (প্রথম সূত্রে) ইউনুস এর হাদীসে আল হাব্বাতুস সাওদা রয়েছে। (তার বিশ্লেষণে) তিনি 'শূনীয' শব্দটি বলেননি।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত্যু ছাড়া এমন কোন রোগ নেই কালো জিরায় যার আরোগ্যতা নেই।

"আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স ইবন সা'দ উরওয়াহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, তার নীতি ছিল যে, যখন তার পরিবারের কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করতো এবং সে প্রেক্ষিতে মহিলাগণ একত্রিত হত, তারপরে পরিবারের লোক ও বিশিষ্ট (আত্মীয়) ছাড়া অবশিষ্টরা চলে যেত, তখন তিনি এক ডেকচি তালবীনা রান্না করার আদেশ দিতেন। তা রান্না করা হত; অতঃপর 'সারীদ' প্রস্তুত করে তালবীনাহ্ তার উপর ঢেলে দেয়া হত। অতঃপর তিনি বলতেন, এটা হতে তোমরা খাও। কারণ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তালবীনাহ রোগীর মনে প্রশান্তি দেয় এবং দুঃখ কিছুটা লাঘব করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমার ভাইয়ের উদরাময় হচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। সে তাকে মধুপান করালো। তারপর এসে বলল, আমি তাকে মধু পান করিয়েছি কিন্তু তার পীড়া আরও বেড়ে গেছে। তিনি এভাবে তাকে তিনবার বললেন। অতঃপর লোকটি চতুর্থবার এসে বললে, নবী (ﷺ) বললেন, তাকে মধু পান করাও। লোকটি বলল, মধুপান করিয়েছি কিন্তু উদরাময় ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহই সত্য বলেছেন, তোমার ভাইয়ের পেটের যন্ত্রণাটি মিথ্যা। অতঃপর পুনরায় তাকে পান করালে সুস্থ হয়ে গেল।

আমর ইবন যুররাহ্ ... আবূ সাঈদ খুদরী বর্ণনা করেন, জনৈক লোক নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমার ভাইয়ের উদরাময় হয়েছে। তিনি বললেন, তাকে মধু পান করাও। ... হাদীসের বাকী অংশটুকু শুবাহ বর্ণিত হাদীসের অর্থেই বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমির হতে বর্ণিত। তিনি তার আব্বা সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস উসামাহ্ ইবন যায়দ কে এ মর্মে প্রশ্ন করতে শুনেছেন যে, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্লেগ সম্বন্ধে কি শুনেছেন? তখন উসামাহ্ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্লেগ একটি আযাব যা বনী ইসরাঈল অথবা (বর্ণনা সংশয়) যারা তোমাদের আগে ছিল তাদের উপরে প্রেরণ করা হয়েছিল। অতএব তোমরা কোন মহল্লায় প্লেগের ব্যাপারে শুনলে সেখানে যেও না। আর কোন এলাকায় প্লেগ চোখে পড়লে এবং তোমরা সেখানে অবস্থানরত থাকলে সেখান হতে বের হয়ে যাবে না। বর্ণনাকারী আবূ নাযর বলেছেন, শুধু পলায়নের লক্ষ্যে সে জায়গা ছেড়ে যেও না।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্লেগ শাস্তির প্রতীক। মহীয়ান গরীয়ান আল্লাহ তাআলা তা দ্বারা তার বান্দাদের কতিপয় ব্যক্তিকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। তাই কোন অঞ্চলে এর প্রভাবের খবর পেলে তোমরা সেথায় যেও না এবং তোমরা কোন অঞ্চলে অবস্থানকালে সেখানে প্লেগ লক্ষ্য করলে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে না। এ বর্ণনা কানাব এর। আর কুতাইবাহ্ এর বর্ণনাও সে রকম।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... উসামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ প্লেগ একটি গযব, যা তোমাদের পূর্বেকার লোকদের উপরে অথবা বনী ইসরাঈলের উপরে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং কোন অঞ্চলে তা লক্ষ্য করলে তা থেকে পালানোর জন্য সে অঞ্চল ছেড়ে যেও না এবং কোন অঞ্চলে প্লেগ লক্ষ্য করলে সেথায় অনুপ্রবেশও করো না।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আমির ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। জনৈক লোক সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস কে প্লেগ সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে উসামাহ্ ইবন যায়দ বললেন, আমি সে ব্যাপারে তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তা একটি গযব অথবা একটি মহামারী যা আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের একটি উপদল কিংবা তোমাদের পূর্বেকার কোন একদল ব্যক্তির উপরে প্রেরণ করেছিলেন। অতএব কোন অঞ্চলে তার কথা তোমরা জানলে সেথায় তোমরা প্রবেশ করো না; তদ্রুপ কোন অঞ্চলে তোমাদের উপর তা এসে পড়লে সেখান থেকে পালিয়ে যেও না।

আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ আমর ইবন দীনার হতে ইবন জুরায়জ এর সূত্রে তার বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... উসামাহ্ ইবন যায়দ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেন, এ রোগ একটি মহামারী যা দ্বারা তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক উম্মাতকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। অতঃপর তা জমিনেই রয়ে গেছে, তাই এক সময় তা চলে যায় ও আরেক সময় তা ফিরে আসে। অতএব যে লোক কোন অঞ্চলে এ রোগের কথা শুনতে পায় সে যেন কোনক্রমেই সেখানে না যায়, আর যে লোক কোথাও থাকা অবস্থায় সেথায় তা এসে পড়ে সেখান হতে যেন সে পালিয়ে না যায়।

আবূ কামিল জাহদারী .... যুহরী হতে ইউনুস এর সূত্রে তার বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হাবীব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় ছিলাম। তখন আমার নিকট সংবাদ আসলো যে, কুফায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। তখন আতা ইবন ইয়াসার প্রমুখ সাহাবাগণ আমাকে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তুমি কোন অঞ্চলে অবস্থান করবে সেখানে তা প্রকাশ পেলে সেখান থেকে বের হয়ো না। আর যদি তোমার নিকট খবর পৌছে যে, তা কোন অঞ্চলে রয়েছে, তাহলে সেখানে গমন করো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম-এ বর্ণনা কার পক্ষ হতে? তারা বললেন, আমির ইবন সা'দ হতে তিনি তা বর্ণনা করে থাকেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তার নিকট গেলাম। তারা বলল, তিনি গৃহে নেই। তখন আমি তার ভাই ইবরাহীম ইবন সা'দ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, উসামাহ যখন সা'দকে হাদীস শুনাচ্ছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, এ রোগ একটি মহামারী অথবা একটি আযাব কিংবা আযাবের অবশিষ্টাংশ' যা দ্বারা তোমাদের পূর্বেকার কতিপয় লোককে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। অতএব কোন অঞ্চলে তোমাদের অবস্থানকালে যদি তা থাকে সে সময় সেখান থেকে তোমরা বের হয়ো না। আর যদি তোমাদের নিকট খবর আসে যে, তা কোন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে, তবে সেখানে গমন করো না। হাবীব বলেন, তখন আমি ইবরাহীম কে বললাম, আপনি কি শুনেছেন যখন উসামাহ্ সা'দ এর নিকট হাদীস বর্ণনা করছিলেন, আর তিনি তা অস্বীকার করেননি? তিনি বললেন, হ্যা।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ এর সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি হাদীসের শুরুতে আতা ইবন ইয়াসার সম্পর্কিত ঘটনা পেশ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ ইবন মালিক খুযাইমাহ্ ইবন সাবিত ও উসামাহ্ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর শুবাহ এর হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবরাহীম ইবন সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ্ ইবন যায়দ ও সা'দ বসে বসে আলাপ করছিলেন। তারা উভয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (পূর্বোল্লেখিত) বর্ণনাকারীদের হাদীসের মতো।

ওয়াহব ইবন বাকিয়্যাহ .... ইবরাহীম ইবন সা'দ ইবন মালিক তার পিতা (সা'দ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোল্লিখিত বর্ণনাকারীদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে রিওয়ায়াত করেন যে, উমার শামের (সিরিয়ার) দিকে রওয়ানা হলেন। 'সারগ' নামক স্থান পর্যন্ত পৌছলে আজনাদ' অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ ও তার সহকর্মীগণ তার সাথে দেখা করলেন। তখন তারা সংবাদ দিলেন যে, শামে মহামারী আরম্ভ হয়েছে। ইবন আব্বাস বলেন, তখন উমার বললেন- প্রাথমিক যুগের মুহাজিরদের আমার নিকট ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে নিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে সংবাদ দিলেন যে, শামে মহামারী আরম্ভ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চাইলেন। অতঃপর তারা দ্বন্দ্বে পড়ে গেল। তাদের কেউ কেউ বলল, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যথাযথ মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সঙ্গে অনেক প্রবীণ লোক এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ রয়েছেন। তাই আমরা তাদেরকে এ মহামারীর সম্মুখে ছেড়ে দেয়া যুক্তিসঙ্গত মনে করি না। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! তারপর বললেন, আনসারীদের আমার নিকট ডেকে আনো। আমি তাদেরকে তার নিকট ডেকে নিয়ে আসলে তিনি তাদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তারা মুহাজিরদের পন্থা অনুকরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের মতো তাদের মধ্যেও দ্বিমত সৃষ্টি হলো। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন। তারপর তিনি বললেন, (মক্কাহ) বিজয়ের পূর্বে হিজরতকারী কুরায়শের মুরুব্বীদের যারা এখানে আছেন, তাদের আমার নিকট পাঠাও। আমি তাদেরকে ডেকে আনলাম। তাদের দুজনও কিন্তু ভিন্নমত পোষণ করলেন না। তারা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাদেরকে এ মহামারীর দিকে ঠেলে দিবেন না। তখন উমার লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ভোরে সওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও ভোরে সওয়ারীর উপর আরোহণ করবে। তখন আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ বললেন, আল্লাহর তাকদীর হতে ভেগে যাওয়া? তখন উমার বললেন, হে আবূ উবাইদাহ! তুমি ছাড়া অন্য কেউ এমন বললে, (রাবী বলেন) উমার তার বিরুদ্ধাচরণ অপছন্দ করতেন। (তিনি বললেন) হ্যা! আমরা আল্লাহর তাকদীর হতে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হও যার দুটি প্রান্তর রয়েছে, যার একটু সবুজ শ্যামল, অপরটি তৃণশূন্য; সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে। রাবী বলেন, এ সময় আব্দুর রহমান ইবন আওফ এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তার কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমার নিকট (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় সেটার খবর শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যেয়ো না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় তা দেখা দেয়, তখন তা হতে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর চলে গেলেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ মা'মার উপরোক্ত সূত্রে মালিক বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। মা'মার এর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন [উমার] আবূ উবাইদাহকে আরো বললেন, বলো তো, সে যদি তৃণশূন্য উপত্যকায় চড়ায় আর সবুজ শ্যামল উপত্যকা পরিত্যাগ করে তাহলে তুমি কি তাকে ব্যর্থ সাব্যস্ত করবে? তিনি বললেন, হ্যা! তিনি বললেন, তাহলে এবার চলো। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তীতে সফর করে তিনি মদীনায় এসে বললেন, এটি অবস্থান স্থল অথবা তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ, এটি অবতরণ স্থল।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ইবন শিহাব হতে উপরোল্লিখিত সানাদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন হারিস এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেননি যে, আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবীআহ হতে বর্ণিত যে, উমার শামের দিকে সফরে বের হলেন, 'সারগ' পর্যন্ত গমন করলে তার নিকটে (খবর) আসল যে, শামে মহামারী লক্ষ্য করা গেছে। তখন আবদুর রহমান ইবন আওফ তাকে সংবাদ দিলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন অঞ্চলে মহামারীর (সংবাদ) শুনবে, তখন তার দিকে অগ্রসর হবে না। আর যখন কোন অঞ্চলে সেটা দেখা দিবে, আর তোমরা সেখানে রয়েছো, তাহলে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে যেও না। অতঃপর উমার ইবন খাত্তাব সার্‌গ হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। সালিম ইবন আবদুল্লাহ (ইবন উমার) হতে ইবন শিহাব এর বর্ণনাতে রয়েছে যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ এর হাদীসের অনুসরণে উমার লোকদের নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। (এ হাদীস সে সময়ের) যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, ক্ষুধায় পেট কামড়ানো পোকা (বা সফর মাসের অগ্রপশ্চাৎকরণ) ও মৃত মানুষের আত্মা হতে পেচার জন্ম বলতে কিছু নেই। সে সময় জনৈক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে সে উট পালের কি অবস্থা, যা কোন বালুকাময় ভূমিতে থাকে যা ব্যাধমুক্ত, বলবান। অতঃপর সেখানে খোচ-পাচড়া আক্রান্ত (কোন) উট এসে তাদের মধ্যে প্রবেশ করে তাদের সবগুলোকে পাচড়ায় আক্রান্ত করে দেয়? তিনি বললেন, তাহলে প্রথম (উট)টিকে কে সংক্রমিত করেছিল?

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও হাসান আল হুলওয়ানী আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ, অনাহারে পেট কামড়ানো পোকা ও হামাহ- এসবের কোন অস্তিত্ব নেই। সে সময় জনৈক বেদুঈন আরব বলল, হে আল্লাহর রসূল! বর্ণনাকার ইউনুস কর্তৃক রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের অবিকল।

আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান দারিমী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ বলতে কিছু নেই .....। সে সময় জনৈক বেদুঈন আরব দণ্ডায়মান হলো, .... এর পরের অংশ ইউনুস ও সালিহ্ এর হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। (পূর্বোক্ত সূত্রে) যুহরী বলেন, সায়িব ইবন ইয়াযীদ ইবন উখতু নামির বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, অনাহারে পেট কামড়ানো পোকা এবং হামাহ্ বলতে কোন অস্তিত্ব নেই।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ সালামাহ্ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আওফ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ (এর অস্তিত্ব) নেই। তিনি আরও বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ব্যাধিযুক্ত উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলোকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) ধারে কাছে আনবে না। আবূ সালামাহ্ বলেন, আবূ হুরাইরাহ এ দুটি হাদীসই রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ তার (প্রথম হাদীসের) সংক্রমণ নেই বলা হতে চুপ থাকেন এবং অসুস্থ উটপালের মালিক সুস্থ উটপালের মালিকের নিকট আনবে না- এ বর্ণনায় অটল থাকেন। বর্ণনাকারী বলেন, (একদিন) আল হারিস ইবন আবূ যুবাব তিনি আবূ হুরাইরাহ এর চাচাত ভাই বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি তো আপনাকে বলতে শুনতাম, আপনি এ হাদীসের সঙ্গে আরও একটি হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন, যা বর্ণনায় আপনি এখন নিচুপ রয়েছেন। আপনি বলতেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ নেই'। তখন আবূ হুরাইরাহ অস্বীকার করলেন এবং বললেন, অসুস্থ পালের মালিক সুস্থ পালের মালিকের নিকট নিয়ে যাবে না। তখন হারিস এ নিয়ে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হলেন। ফলে আবূ হুরাইরাহ গোস্বা হয়ে হাবশী ভাষায় কিছু একটা বললেন। তিনি হারিস কে বললেন, তুমি কি বুঝতে পেরেছো আমি কি বলেছি? তিনি বললেন, না। আবূ হুরাইরাহ বললেন, আমি বলেছি, আমি অস্বীকার করছি। আবূ সালামাহ্ বলেন, আমার জীবনের কসম! আবূ হুরাইরাহ নিশ্চয়ই আমাদের নিকট হাদীস রিওয়ায়াত করতেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন 'সংক্রমণ নেই'। এখন আমি জানি না যে, আবূ হুরাইরাহ ভুলে গেলেন, নাকি একটি দ্বারা অপরটিকে রহিত করে দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবূদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ (এর বাস্তবতা) নেই- ঐ সঙ্গে এও বর্ণনা করতেন, পালের মালিক (তার) অসুস্থ উট অন্য মালিকের সুস্থ উটপালের নিকট নিয়ে আসবে না। অবশিষ্টাংশ বর্ণনাকারী ইউনুস এর হাদীসের হুবহু।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণে পেচা, নক্ষত্র (প্রভাবে বর্ষণ) ও (ক্ষুধায় পেট কামড়ানো) পোকা- এসবের অস্তিত্ব নেই।

আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ ও (মাঠে ময়দানে পথ ভুলানো নানা রঙে রূপধারী) ভূত-প্রেত (এর অস্তিত্ব) নেই।

আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ইবন হাইয়্যান .... জাবির হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, পথ ভুলানো ভূত এবং ক্ষুধায় পেট কামড়ানো পোকা (এর অস্তিত্ব) নেই।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, সংক্রামক ব্যাধি, অনাহারে পেট কামড়ানো পোকা ও পথ ভুলানো ভূত (এর অস্তিত্ব) নেই। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি আবূ যুবায়র কে তার শিষ্যদের নিকট নবী (ﷺ) এর বাণী এর ব্যাখ্যা দিতে শুনেছি। আবূ যুবায়র বলেছেন, পেটের পোকা। জাবির কে প্রশ্ন করা হলো- কি রকম? তিনি বললেন, কথিত পেটের পোকাসমূহ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এর বিশ্লেষণ করেননি। আবূ যুবায়র বলেছেন, তা সেসব ভূত-প্রেত, যারা বিভিন্ন রূপ ধরে মানুষকে রাস্তা তুলায়।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ বলেন, নবী (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কোন কুলক্ষণ নেই। তবে তার মাঝে উত্তম হলো ফাল তথা শুভ-লক্ষণ। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ফাল কি? তিনি বললেন, (যেমন) এমন কিছু কথা উত্তম, যা তোমাদের কেউ শুনতে পায়।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারী উকায়ল এর হাদীসে আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি আমি শুনেছি' বলেননি। আর রাবী শুআয়ব তার হাদীসে বলেছেন, নবী (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, যেমন মা'মার বলেছেন।

হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন সংক্রমণ ও কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই; তবে ফাল ও শুভলক্ষণ (ভাল শব্দ তথা উত্তম কথা) আমাকে বিমোহিত করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক এর সানাদে মালিক এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সংক্রমণ ও কুলক্ষণ (এর বৈধতা) নেই। তবে আমাকে আনন্দ দেয় ফল ও সুলক্ষণ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন বলা হলো, ফাল কী? তিনি বললেন, উত্তম কথা।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ নেই। আর আমি পছন্দ করি উত্তম ফাল তথা ভাল কথা।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সংক্রমণ, পেঁচা ও কু-ধারণা (বিশ্বাসের বৈধতা) নেই; আর আমি ভাল 'ফাল' পছন্দ করি।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অশুভ লক্ষণ আছে ঘর, নারী ও ঘোড়ায়।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ ও অশুভ বলতে কিছু নেই; তবে অশুভ লক্ষণ আছে তিনটি বস্তুতে স্ত্রী, ঘোড়া ও বাড়িতে।

ইবন আবূ উমার .... আবদুল্লাহ এর দু'পুত্র সালিম ও হামযাহ্ তাদের পিতার সানাদেনবী (ﷺ) থেকে, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব সালিম তার পিতার সানাদে নবী (ﷺ) থেকে, আমর আন্‌ নাকিদ আবদুল্লাহ ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে, আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী সালিম তার পিতার সানাদে নবী (ﷺ) থেকে অশুভ লক্ষণের ব্যাপারে বর্ণনাকারী মালিক বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকার ইউনুস ইবন ইয়াযীদ ছাড়া এদের কেউ ইবন উমার কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে সংক্রমণ ও অশুভ উল্লেখ করেননি।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম .... ইবন উমার এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন। যদি কোন কিছুতে অশুভ বলতে কিছু থাকে, তা হবে ঘোড়া, গৃহ ও মেয়ে লোক এটা সত্য।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ... শুবাহ উপরোল্লিখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণন করেছেন। কিন্তু তিনি (এটা সত্য) শব্দটি বলেননি।

আবূ বকর ইবন ইসহাক .... হামযাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমার এর সানাদে তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি অশুভ লক্ষণ কোন কিছুতে থেকে থাকে, তাহলে তা রয়েছে ঘোড়া, ঘর-বাড়ি ও নারীর মাঝে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তা থাকে তাহলে নারী, ঘোড়া ও ঘর-বাড়ি অশুভ লক্ষণ।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সাহল ইবন সা'দ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্‌যালী আবূ যুবায়র .... জাবির থেকে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন কিছুতে যদি (অশুভ লক্ষণ) থেকে থাকে, তাহলে ঘর (আবাসস্থল), খাদিম ও ঘোড়া (এ তিনটি জিনিসে) রয়েছে।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... মুআবিয়াহ্ ইবন হাকাম সুলামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কিছু কর্মকাণ্ড আমরা অজ্ঞতার যুগে করতাম, (তার মধ্যে একটি হল) আমরা জ্যোতিষীদের নিকট যেতাম। তিনি বললেন, আর জ্যোতিষীর নিকটে যেয়ো না। আমি বললাম, আমরা (নানা পদ্ধতিতে) ভাগ্য গণনা করতাম। তিনি বললেন, সেটি এমন একটি জিনিস, যা তোমাদের কেউ তার মনে উপলব্ধি করে, তবে সেটি যেন তোমাদের (কাজ-কর্ম হতে) বিরত না রাখে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবদ ইবন হুমায়দ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... যুহরী হতে উপরোক্ত সূত্রে ইউনুস বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী মালিক তার বর্ণিত হাদীসে 'শুভাশুভ' এর কথা উল্লেখ করেছেন। তাতে 'জ্যোতিষী' এর ব্যাপারটি উল্লেখ নেই।

মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মুআবিয়াহ ইবন হাকাম সুলামী এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে, মুআবিয়াহ্ হতে আবূ সালামাহ্ এর সানাদে যুহরী এর অবিকল বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া ইবন কাসীর বর্ধিত করে বলেছেন, আমি (মুআবিয়াহ্) বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে, যারা রেখা এঁকে (ভাগ্য নির্ধারণ) করে থাকে। তিনি বললেন, নবীদের মধ্যে একজন নবী রেখা অঙ্কন (ভাগ্য নির্ণয়) করতেন। সুতরাং যার রেখা তার (রেখার) অবিকল হবে তা সেরূপই (সত্যই)।

আব্‌দ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! জ্যোতিষীরা কোন ব্যাপারে আমাদের কোন কথা বলত, অতঃপর তা আমরা বাস্তবে প্রত্যক্ষ করতাম। তিনি বললেন, সেটি একটি বাস্তব সত্য কথা, যা কোন জিন চুরি করে এনে সেটি তার দোসর ঠাকুরের কর্ণে প্রবেশ করাতো, আর সে তার সঙ্গে একশটি অবাস্তব মিথ্যা জুড়ে দিত।

সালামাহ্ ইবন শাবীব .... উরওয়াহ্ বলতেন, আয়িশাহ্ বলেছেন, একদল লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জ্যোতিষীদের ব্যাপারে জানতে চাইলো। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বললেন, ওরা (বাস্তব) কোন কিছুর উপরে (প্রতিষ্ঠিত) নয়। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তারা তো প্রায় সময় এমন কিছু বিষয়ে (আগাম) কথা বলে, যা বাস্তব হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন। ঐ (একটি) কথা বাস্তব সত্যের অন্তর্ভুক্ত, যা জিনেরা চুরি করে নিয়ে আসে এবং মুরগীর মতো কুট্‌ কুট্‌ করে তা তার দোসরের শ্রবণশক্তিতে ঢুকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা তার সঙ্গে শতাধিক মিথ্যা জুড়ে দেয়।

আবূ তাহির .... ইবন শিহাব হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে যুহরী হতে মাকিল এর হুবহু বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন, নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যে আনসারদের জনৈক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছে যে, তারা এক রাত্রে নবী (ﷺ) এর সাথে বসা ছিলেন। সে সময় একটি নক্ষত্র পতিত হলো, যার দরুন আলোকিত হয়ে উঠল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বললেন, এ ধরনের (তারকা) পতিত হলে অজ্ঞতার যুগে তোমরা কি বলতে? তারা বলল, আল্লাহ এবং তার রসূলই অধিক ভাল জানেন। আমরা বলতাম, আজ রাতে মনে হয় কোন মহান লোকের ভূমিষ্ঠ হয়েছে অথবা কোন মহান লোক মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জেনে রাখো যে, তা কারো মৃত্যু কিংবা কারো জন্মের কারণে পতিত হয় না; কল্যাণময় ও মহান নামের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যখন কোন বিষয়ের সমাধান দেন, তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করে। অতঃপর তাসবীহ পাঠ করে সে আকাশের ফেরেশতারা, যারা তাদের পার্শ্ববর্তী পরিশষে তাসবীহ পাঠ এ নিকটবর্তী (পৃথিবীর) আসমানের অধিবাসীদের পর্যন্ত পৌছে। অতঃপর আরশ বহনকারীদের (ফেরেশতা) পার্শ্ববর্তী যারা তারা আরশ বহনকারীদের বলে তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন? সে সময় তিনি তাদের যা কিছু বলেছেন, তারা সে সংবাদ বর্ণনা করে। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আসমানসমূহের অধিবাসীরা একে অপরকে সংবাদ আদান-প্রদান করে। পরিশেষে এ নিকটবর্তী আকাশে সংবাদ পৌছে। সে সময় জিনেরা অতর্কিতে গোপন খবরটি শুনে নেয় এবং তাদের দোসর জ্যোতিষীদের নিকট পৌছিয়ে দেয়, আর সাথে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দেয়। ফলে যা তারা ঠিকঠাকভাবে নিয়ে আসতে পারে, তাই ঠিক হয়; তবে তারা তাতে (কথামালা) সুবিন্যস্ত ও সংযোজন করে।

যুহায়র ইবন হারব আবূ তাহির, হারমালাহ ও সালামাহ্ ইবন শাবীব .... যুহরী হতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইউনুস বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আনসার সাহাবীগণের কতিপয় লোক আমাকে বলেছেন। আর আওযাঈ এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তবে তারা সেটার মধ্যে (কথামালা) সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে দেয়। আর ইউনুস এর হাদীসে আছে, এতে তারা অতিরিক্ত ও অতিরঞ্জিত করে। ইউনুস বর্ণিত হাদীসে বাড়িয়ে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "পরিশেষে যখন তাদের অন্তর হতে সংশয় দূর করে দেয়া হয, সে সময় তারা বলে, তোমাদের স্রষ্টা কি বললেন? তারা বলে, ঠিকই বলেছেন"- (সাবা ৩৪ঃ ২৩)। আর মাকিল বর্ণিত হাদীসে আওযাঈ যেমন বলেছেন, তবে তাতে তারা সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে এরই উল্লেখ আছে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনায়ী .... নবী (ﷺ) এর কতক স্ত্রীর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক আররাফ-এর (গণকের) নিকট গেল এবং তাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করল, চল্লিশ রাত্রি তার কোন নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমর ইবন শারীদ-এর সানাদে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাকীফ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে জনৈক কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। নবী (ﷺ) তার নিকট (খবর) পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বাইআত করে নিয়েছি; তুমি ফিরে যাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পিষ্ঠে দু'টি শুভ্র রেখাযুক্ত বিষধর সর্প হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। কারণ সেটি চোখের জ্যোতি হরণ করে নেয় এবং গর্ভস্থিত সন্তানের উপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেলে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম হিশাম .... উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন এবং বলেন, 'লেজবিহীন পিঠে দু'টি শুভ্র রেখাযুক্ত সৰ্প (সাপ)।

আমর ইবন মুহাম্মাদ আন নাকিদ .... সালিম তার পিতা সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন সব সাপ যেগুলোর পিঠে দু'টি শুভ্র রেখাযুক্ত ও লেজবিহীন সাপ মেরে ফেলে। কারণ, এ দুটি গর্ভপাত ঘটায় এবং চোখের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বর্ণনাকারী বলেন, তাই ইবন উমার যে কোন সৰ্প (সাপ) পেলে সাথে সাথে তাকে মেরে ফেলতেন। (একদিন) আবূ লুবাবাহ ইবন আবদুল মুনযির কিংবা যায়দ ইবন খাত্তাব তাকে লক্ষ্য করলেন যে, তিনি একটি সাপ মারার জন্য ছুটছেন। তখন তিনি [আবূ লুবাবাহ বা যায়দ] বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরবাড়িতে বসবাসকারী (সাপ) হত্যা করতে বারণ করেছেন।

হাজিব ইবন ওয়ালীদ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি কুকুর ধ্বংসের নির্দেশ প্রদান করতে শুনেছি- তিনি বলতেন, সাপ আর কুকুরগুলো মেরে ফেল। আর (বিশেষত) পিঠে ডোরাকাটা ও লেজকাটা সাপ মেরে ফেল। কেননা, এ দুটি মানুষের চোখের শক্তি কেড়ে নেয় এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটায়। (সানাদের মধ্যবর্তী) বর্ণনাকার যুহরী বলেন, আমাদের অনুমানে সেটি তাদের বিষের কারণে; তবে এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী সালিম বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন, তারপরে আমার অবস্থা এমন হলো যে, কোন সর্প দেখলেই আমি তাকে হত্যা না করে ছাড়তাম না। একদিনের ঘটনা, আমি গৃহে অবস্থান করে এমন একটি একটি সাপ ধাওয়া করছিলাম। তখন যায়দ ইবন খাত্তাব অথবা আবূ লুবাবাহ্ আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর আমি ধাওয়া করছিলাম। তিনি বললেন, থামো! হে আবদুল্লাহ! তখন আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এদের হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর-বাড়িতে অবস্থানকারী সাপ ধ্বংস করতে বারণও করেছেন।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া, আবদ ইবন হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে (শেষ সানাদে) বর্ণনাকারী সালিহ্ বলেছেন, 'পরিশেষে আবূ লুবাবাহ ইবন আবদুল মুন্‌যির এবং যায়দ ইবন খাত্তাব আমাকে প্রত্যক্ষ করলেন .... এবং তারা উভয়ে বললেন যে, তিনি ঘর-বাড়িতে অবস্থানকারী সাপ হত্যা করতে বারণ করেছেন। আর (প্রথম সূত্রের) বর্ণনাকার ইউনুস বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- 'সব ধরনের সাপ মেরে ফেল'। তিনি পিঠে ডোরাকাটা বিশিষ্ট ও লেজকাটা সাপ কথাটি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... নাফি হতে বর্ণনা করেন যে, আবূ লুবাবাহ ইবন উমার এর সঙ্গে তার গৃহে তার জন্য একটি দরজা খুলে নেয়ার বিষয়ে কথা বলছিলেন- যেটা দ্বারা তিনি মসজিদের দিকে চলাচলের রাস্তা কাছাকাছি করতে পারবেন। তখন কিশোররা (দেয়াল খুড়তে গিয়ে) একটি সাপের খোলস পেল। সে সময় আবদুল্লাহ বললেন, ওটিকে সন্ধান করে বের করে হত্যা কর। তখন আবূ লুবাবাহ বললেন, তোমরা সেটিকে হত্যা করো না। কারণ, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর-বাড়িতে অবস্থানকারী সাপগুলোকে হত্যা করতে বারণ করেছেন।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার সব ধরনের সাপ মেরে ফেলতেন। পরিশেষে আবূ লুবাবাহ ইবন আবদুল মুন্‌যির আল-বাদ্‌রী আমাদের হাদীস শুনালেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহের সাপগুলোকে হত্যা করতে বারণ করেছেন। অতঃপর তিনি [ইবন উমার] তা থেকে সংযত রইলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি খবর দিয়েছেন যে, তিনি আবূ লুবাবাহ কে ইবন উমার এর নিকট (হাদীসের) সংবাদ দিতে শুনেছেন এ মর্মে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহের (ছোট-খাটো) সাপগুলো হত্যা করতে বারণ করেছেন।

ইসহাক ইবন মূসা আনসারী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার আবূ লুবাবাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে .... (ভিন্ন সূত্রে) আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা যুবাঈ আবদুল্লাহ হতে এ মর্মে বর্ণিত যে, আবূ লুবাবাহ তাকে (হাদীসের) সংবাদ দিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ী-ঘরে অবস্থানকারী সাপগুলো হত্যা করতে বারণ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ লুবাবাহ ইবন আবদুল মুনযির আনসারী কুবায় বসবাস করতেন। অতঃপর তিনি স্থান পরিবর্তন করে মদীনায় (মসজিদে নবাবীর সন্নিকটে) আসলেন। এমতাবস্থায় যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার তার [আবূ লুবাবাহ-এর] সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তার জন্য ছোট আকারে একটি দরজা খুলছিলেন। অকস্মাৎ সে সময় তারা বাড়ি ঘরে অবস্থানকারী একটি সাপ লক্ষ্য করলেন। তারা ওটিকে হত্যা করতে অগ্রসর হলে আবূ লুবাবাহ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেগুলো মেরে ফেলতে বারণ করেছেন। তিনি (ওগুলো বলে) বাড়ি-ঘরে অবস্থানকারী সাপ বুঝাতে চেয়েছেন। আর লেজকাটা ও পিঠে দু'টি সাদা দাগ বিশিষ্ট সাপ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয় যে, সে (সাপ) দুটি এমন, যারা চোখের জ্যোতি নষ্ট করে দেয় এবং নারীদের গর্ভপাত ঘটায়।

ইসহাক ইবন মানসূর .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবদুল্লাহ ইবন উমার তার ভেঙ্গে ফেলা একটি দেয়ালের নিকট ছিলেন। অতঃপর একটি সাপের খোলস দেখতে পেয়ে বললেন, একে সন্ধান করে তা হত্যা কর। আবূ লুবাবাহ আনসারী বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি সেসব সাপ হত্যা করতে বারণ করেছেন যেগুলো বাড়ি-ঘরে অবস্থান করে; কিন্তু লেজ কাটা ও পিঠে দু'টি সাদা দাগযুক্ত সাপ (হত্যা করতে বলেছেন)। কারণ, এ দুটি এমন যারা দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেয় এবং স্ত্রীলোকদের গর্ভপাত ঘটায়।

হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ লুবাবাহ ইবন উমার এর নিকট দিয়ে গেলেন। সে সময় তিনি উমার ইবন খাত্তাব এর গৃহের নিকট অবস্থিত দালানের কাছে ছিলেন। তখন তিনি একটি সাপ হত্যা করার জন্য লুকিয়ে ছিলেন। শেষাংশ লায়স ইবন সা'দ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মতো।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে একটি (পাহাড়ী) গুহায় ছিলাম। সে সময় কেবল(আল-মুরসালাত) তার উপরে অবতীর্ণ হয়েছিল, আর আমরা তার কণ্ঠ থেকে তা সতেজভাবে (সরাসরি) শুনছিলাম। অকস্মাৎ একটি সাপ আমাদের সম্মুখে বের হয়ে আসলো। তিনি বললেন, তোমরা ওটাকে হত্যা করো। আমরা হত্যা করার জন্য তার পিছনে দৌড় প্রতিযোগিতা আরম্ভ করলাম। কিন্তু সে আমাদের হারিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা ওকে তোমাদের অনিষ্ট থেকে হিফাযাত করেছেন, যেমন তিনি তোমাদের হিফাযাত করেছেন তার অনিষ্ট হতে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক 'মুহরিম লোককে মিনায় একটি সাপ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উমার ইবন হাফস ইবন গিয়াস .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একটি (পাহাড়ী) গুহায় অবস্থান করছিলাম। বাকী অংশ জারীর ও আবূ মুআবিয়াহ্ বর্ণিত হাদীসের মতই।

আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ্ .... হিশাম ইবন যুহরাহ এর মুক্ত গোলাম আবূ সায়িব হতে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী এর নিকট তার গৃহে ঢুকলেন। তিনি বলেন, সে সময় আমি তাকে সালাতরত অবস্থায় পেলাম এবং তার নামাজ শেষ করা পর্যন্ত তার অপেক্ষায় বসে থাকলাম। সে সময় গৃহের কোণে রেখে দেয়া খেজুর ডালের স্তুপের মাঝে কিছু একটার নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। আমরা দেখতে পেলাম যে, এটি একটি সাপ। আমি সেটিকে হত্যা করার জন্য লাফ দেয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। তখন তিনি (সালাতে থেকেই) ইঙ্গিত করলেন যে, বসে থাকো। সালাত সমাপ্ত করে গৃহের একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বললেন, এ ঘরটি কি তুমি দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম, হ্যা! তিনি বললেন, সেখানে নববিবাহিত আমাদের এক যুবক থাকত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে খন্দক যুদ্ধে বের হলাম। ঐ যুবক মধ্যাহ্নের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিত এবং তার পরিবারের নিকট ফিরে যেত। একদিন সে (যথারীতি) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি কামনা করলে তিনি তাকে বললেন, তোমার যুদ্ধাস্ত্র তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও। কারণ, আমি তোমার উপরে বানু কুরাইযাহ (ইয়াহুদীদের আক্রমণ) এর সংশয় করছি। ব্যক্তিটি তার অস্ত্র নিয়ে (গৃহে) প্রত্যাবর্তন করল। সেখানে সে তার (সদ্য বিবাহিতা) স্ত্রীকে দু'দরজার মাঝে দণ্ডায়মান অবস্থায় লক্ষ্য করল এবং (তার প্রতি সন্দিহান হয়ে) তাকে বল্লম দিয়ে আঘাত হানার উদ্দেশে তা তার দিকে স্থির করে ধরল। আত্মসম্মানবোধ তাকে পেয়ে বসেছিল। তখন সে (স্ত্রী) বলল, তোমার বল্লমটি নিজের নিকট সংযত রাখো এবং ঘরে প্রবেশ করো। তুমি যাতে তা দেখতে পারো, যা আমাকে বের হতে বাধ্য করেছে। সে গৃহে ঢুকেই দেখতে পেল যে, এক বিশালাকার সাপ বিছানার উপরে কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। সে এর প্রতি বল্লম স্থির করে তার মাধ্যমে এটিকে গেঁথে ফেলল। অতঃপর বের হয়ে তা (বল্পমটি) বাড়ীর মধ্যেই পুঁতে রাখল। সে সময় তা নড়ে চড়ে তাকে ছোবল মারলো এবং (ক্ষণিকের মধ্যে) সাপ কিংবা যুবক এ দু'জনের কে বেশি দ্রুত মৃত্যুবরণকারী ছিল তা আচ করা গেল না। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যেয়ে ঘটনাটি বিবরণ দিয়ে তাকে বললাম, আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের মাঝে তাকে আবার তাজা করে দেন। সে সময় তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। তারপর বললেন, মদীনায় কিছু জিন রয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাই, (সাপ ইত্যাদিরূপে) তাদের কিয়দংশ তোমরা লক্ষ্য করলে তাকে তিন দিন সাবধান সংকেত দিবে; তারপরে তোমাদের সম্মুখে (তা) প্রকাশ পেলে তাকে হত্যা করবে। কারণ, সে একটি (অবাধ্য) শয়তান, (সে মুসলিম নয়)।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... (আবূ) সায়িব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ খুদরী এর নিকট গমন করলাম। আমরা উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় অকস্মাৎ তার খাটের নীচে একটা নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। তাকিয়ে দেখি যে, সেটা একটা সাপ .... ঘটনা সহ হাদীসটি (পূর্বোল্লিখিত) সাইফী হতে মালিক বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এসব গৃহে আরও কতক অধিবাসী রয়েছে। সুতরাং সে রকমের কোন কিছু তোমরা লক্ষ্য করলে তাদের প্রতি তিনবার সাবধান বাণী উচ্চারণ করবে, এতে যদি (তারা) চলে যায় তো ভাল! নতুবা তোমরা তাকে হত্যা করবে। কারণ সে কাফির (অবাধ্য)। আর তিনি তাদের (মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের) বললেন, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের সঙ্গীকে দাফন করো।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনায় জিনদের এমন একটি দল রয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাই যে লোক এসব গৃহের অধিবাসী (সাপ ইত্যাদির রূপধারী) এ ধরনের কোন কিছু দেখতে পায়, সে যেন তাকে তিনবার সাবধানী সংকেত দেয়; তারপরও যদি তার সম্মুখে তা প্রকাশ পায় তবে সে যেন তা হত্যা করে ফেলে, কারণ একটা (অবাধ্য) শয়তান।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার ..... উম্মু শারীক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাকে কাকলাস মেরে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ইবন আবূ শাইবাহ্ বর্ণিত হাদীসে (শুধু) নির্দেশ করেছেন রয়েছে, (তাকে শব্দটি নেই)।

আবূ তাহির, মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ ও আবদ ইবন হুমায়দ ... উম্মু শারীক হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে কাকলাস হত্যা করার বিষয়ে বিধান জানতে চাইলেন, তখন তিনি তাকে তা মেরে ফেলার নির্দেশ দিলেন। উম্মু শারীক হলেন বানু আমির ইবন লুওয়াই সম্প্রদায়ের জনৈক স্ত্রীলোক। এ হাদীসের রিওয়ায়াতে ইবন আবূ খালাফ ও আবদ ইবন হুমায়দ এর শব্দ অভিন্ন। আর ইবন ওয়াহব (প্রথম সূত্রে) এর বর্ণিত হাদীস (এর শব্দ) এর পাশাপাশি।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আমির ইবন সাদ এর পিতা সাঈদ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কাকলাস হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে ছোট্ট ফাসিক ক্ষুদে দুষ্কৃতিকারী নাম দিয়েছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাকলাসকে 'ছোট্ট ফাসিক' বলেছেন। হারামালাহ্ বর্ধিতাকারে বর্ণনা করেন যে, তিনি [আয়িশাহ্] বলেছেন যে, (তবে) আমি তাকে তা হত্যা করার আদেশ দিতে শুনিনি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রথম আঘাতে যে লোক কাকলাস মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত পরিমাণ সাওয়াব। আর যে লোক দ্বিতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করবে, তার জন্য এত এত পরিমাণ সাওয়াব, প্রথমবারের চাইতে কম। আর যদি তৃতীয় আঘাতে হত্যা করে ফেলে, তাহলে তার জন্য এত এত পরিমাণ সাওয়াব, তবে দ্বিতীয়বারের থেকে কম।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে সুহায়ল হতে সংকলিত খালিদ বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থ সম্পন্ন হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র (অনুরূপ সানাদের) বর্ণনাকারী জাবীর (এর বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে), তার বর্ণিত হাদীসে আছে, যে লোক প্রথম আঘাতে কাকলাস হত্যা করবে, তার জন্য একশ সাওয়াব লেখা হয়, আর দ্বিতীয় আঘাতে এর চেয়ে কম আর তৃতীয় আঘাতে তার থেকে কম (সাওয়াব লেখা হয়)।

মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথম আঘাতে (হত্যা করতে পারলে) সত্তরটি সাওয়াব।

আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, একটি পিপড়া নবীদের কোন নবীকে কামড় দিলে তিনি পিপড়ার বসতি সম্বন্ধে আদেশ দিলেন, ফলে তা জ্বলিয়ে দেয় হলো। সে সময় আল্লাহ তাআলা তার নিকট এ প্রেক্ষিতে ওয়াহী নাযিল করলেন যে, একটি (মাত্র) পিপড়া তোমাকে কামড় দিল, তাতেই কিনা সমস্ত উম্মাত ও সৃষ্টিকূলের এমন একটি সৃষ্টি জাতিকে জ্বলিয়ে দিলে যারা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছিল?

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নবীদের মধ্যে কোন একজন নবী একটি বৃক্ষের নিচে অবস্থান নিলেন, সে সময় একটি পিপড়া তাকে কামড় দিল। তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশ করলে তার আসবাবপত্র গাছতলা হতে সরিয়ে ফেলা হলো। তারপর তাদের পিপড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দিলে তাদের বাসা জ্বলিয়ে দেয়া হলো। তখন আল্লাহ তাআলা তার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেন, এমতাবস্থায় একটি মাত্র (অপরাধী) পিপড়াকে (শাস্তি) দিলেন না কেন?

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সেসব হাদীস যা আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এ বলে তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন, (সেগুলোর একটি হলো) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নবীকূলের একজন নবী একটি বৃক্ষের নিচে অবস্থান করলেন, তখন একটি পিপড়া তাকে কামড় দিল, সে সময় তিনি তার আসবাবপত্র (বের করার) বিষয়ে আদেশ দিলে তা বৃক্ষের নিচ থেকে বের করা হলো এবং তিনি নির্দেশ দিলে পিপড়াগুলো আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হলো। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেন, এহেন অবস্থায় একটি মাত্র পিপড়াকে (শাস্তি) দিলেন না কেন?

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা যুবাঈ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক স্ত্রী লোককে একটি বিড়ালের জন্য আযাব দেয়া হয় এজন্য যে, সে বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল, পরিশেষে সে-টি মারা গেল। যার জন্য সে জাহান্নামে গেল। যে মেয়ে লোকটি বিড়ালটিকে বেধে রেখেছে, নিজেও পানাহার করায়নি আর সেটিকে সে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাচতে পারে।

নাসর ইবন আলী জাহযামী .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবন জাফার ... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে এ রকম বর্ণনা করেছেন।

আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি মেয়ে লোককে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হয়। সে নিজেও বিড়ালটিকে পানাহার করায়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি যাতে করে সে (নিজে) জমিনের পোকা-মাকড় খেতে পারে।

আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হিশাম উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে আছে, সে তাকে আটকে রাখল। (এছাড়া প্রথম সানদের) বর্ণনাকারী আবূ মুআবিয়াহ্ এর বর্ণিত হাদীসে আছে, জমিনের কীটপতঙ্গ।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবূ হুরাইরাহ্ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে (পূর্বোল্লিখিত সানাদের) বর্ণনাকারী হিশাম ইবন উরওয়াহ্ বর্ণিত হাদীসের মর্মে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক লোক কোন রাস্তা দিয়ে হাটছিল, এমতাবস্থায় সে খুব তৃষ্ণার্ত হলো। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পড়ল এবং পানি পান করল। তারপর সে বেরিয়ে এলো। সে সময় দেখতে পেল যে, (তৃষ্ণায় কাতর) একটি কুকুর জিভ বের করে হাপাচ্ছে আর মাটি চাটছে। লোকটি (মনে মনে) বলল, কুকুরটিকে আমার মতো তীব্র তৃষ্ণায় পেয়েছে। তখন সে কুয়ায় নামল এবং তার (চামড়ার) মোজায় পানি ভরল। তারপরে সে তার মুখে বন্ধ করে উপরে উঠল এবং কুকুরটিকে পান করাল। মহান আল্লাহ তার (এ আমলের) কদর করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। (সাহাবীগণ) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে কি আমাদের জন্য এসব প্রাণীর ব্যাপারেও (সদাচরণে) সাওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন, প্রতিটি তাজা কলিজায় সাওয়াব রয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, এক বেশ্যা নারী কোন এক গরমের দিনে একটি কুকুরকে একটি কুয়ার পাশে ঘুরতে দেখতে পেল। সেটি তৃষ্ণায় তার জিভ বের করে হাপাচ্ছিল। তখন সে তার (চামড়ার) মোজা দ্বারা তার জন্য পানি তুলে আনল এবং পান করাল। অবশেষে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো।

আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি কুকুর একটি (পানি ভর্তি) কূপের চতুর্দিকে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তৃষ্ণায় যে প্রায় মৃত্যু পথযাত্রী হয়েছিল। সে সময় বনী ইসরাঈলের পতিতাদের এক পতিতা তাকে লক্ষ্য করলো এবং (দয়ার্দ্র হয়ে) সে তার (চামড়ার) মোজা খুলে ফেলল এবং তার জন্য পানি উঠিয়ে এনে তাকে পান করিয়ে দিল। যার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলে।