হজ্জ (২৬৮২-৩২৮৯)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জানতে চাইল যে, মুহরিম ব্যক্তি কী ধরনের পোশাক পরবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুহরম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। তবে কোন ব্যক্তি চপ্পলের অভাবে মোজা পরিধান করলে তাকে পায়ের গোছার নীচ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলতে হবে। তোমরা এমন কাপড় পরিধান কর না যা জাফরান বা ওয়ারস এর রংয়ে রঞ্জিত করা হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, টুপী, পায়জামা, জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু তার চপ্পল না থাকলে সে পায়ের গোছার নিম্নাংশ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলে তা পরিধান করতে পারবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহরিম ব্যক্তিকে জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, কারও চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরিধান করবে এবং পায়ের গোছার নীচ বরাবর এর উপরিভাগ কেটে ফেলবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ রবী আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার ভাষণে বলতে শুনেছি, মুহরিম ব্যক্তির কাপড় না থাকলে সে পায়জামা পরতে পারবে এবং তার চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরতে পারবে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবূ গাসসান আর রাযী .... আমর ইবন দীনার থেকে এ সানাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ইবন আব্বাস নবী (ﷺ) কে আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দিতে শুনেছেন- এরপর তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ কুরায়ব, আলী ইবন খাশরম ও আলী ইবন হুজুর সকলেই আমর ইবন দীনারের সূত্রে এ সনদে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুবাহ ছাড়া তাদের কারও বর্ণনায় নবী (ﷺ) "আরাফাতে ভাষণ দিয়েছেন" কথার উল্লেখ নেই।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার কাপড় নেই সে পায়জামা পরিধান করতে পারে, আর যার চপ্পল নেই সে মোজা পরতে পারে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... সাফওয়ান ইবন ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত অথবা বলেন, হলুদ রং এর চিহ্নযুক্ত জুব্বা পরিহিত অবস্থায় জিরানাহ নামক স্থানে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, উমরাহ পালনের সময় আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন? এ সময় নবী (ﷺ) এর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছিল এবং তিনি একটি কাপড় আচ্ছাদিত অবস্থায় ছিলেন। ইয়ালা বলতেন যে, নবী (ﷺ) এর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া অবস্থায় যদি আমি তাকে দেখতে পেতাম। তখন উমার ইবন খাত্ত্বাব বললেন, ওয়াহী নাযিল হওয়ার মুহুর্তে তুমি নবী (ﷺ) কে দেখে খুশি হবে কি? ইয়ালা বলেন, এরপর উমর কাপড়ের এক কোণ উন্মুক্ত করলেন এবং আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম যে, তার মুখ দিয়ে উঠতি বয়সের উটের আওয়াজের মতো আওয়াজ বের হচ্ছে। যখন তার এ অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, উমরাহ সম্বন্ধে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেন, তোমার দেহ থেকে হলুদ রং ধুয়ে ফেল, অথবা বললেন, সুগন্ধির চিহ্ন। তোমার জুব্বাহ খুলে ফেল। অতঃপর তুমি হজ্জের ইহরামে থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই কর।
ইবন আবূ উমর .... ইয়ালা ইবন উমায়্যাহ বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এলো। তখন তিনি জিরানাহ নামক স্থানে ছিলেন এবং আমি নবী (ﷺ) এর কাছেই ছিলাম। লোকটি (খালূক্ জাতীয়) সুগন্ধিযুক্ত একটি জুব্বাহ পরিহিত ছিল। সে বলল, আমি উমরার ইহরাম বেধেছি এবং আমার পরিধানে এ জুব্বাহ রয়েছে এবং আমি খালূক্ জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করেছি। নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি হজ্জের ইহরামে থাকলে কী করতে? সে বলল, আমি নিজের এ পরিধেয় খুলে এবং নিজের দেহ থেকে এ সুগন্ধি ধুয়ে ফেলতাম। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি হজ্জের ইহরামে থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই কর।
যুহায়র ইবন হারব, আবদ ইবন হুমায়দ ও আলী ইবন খাশরম .... ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ উমর ইবন খাত্ত্বাব কে বলতেন, আহা! নবী (ﷺ) এর উপর যখন ওয়াহী নাযিল হয়, আমি যদি সে অবস্থায় তাকে দেখতে পেতাম! একদা নবী (ﷺ) জিরানায় অবস্থান করছিলেন এবং একটি কাপড়ের সাহায্যে তার উপর ছায়া বিস্তার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে তার কিছু সংখ্যক সাহাবাও ছিলেন- যাদের মধ্যে উমর-ও ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত জুব্বাহ পরিহিত অবস্থায় তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি জুব্বায় সুগন্ধি মেখে তা পরিহিত অবস্থায় উমরার ইহরাম বেধেছে, তার সম্পর্কে আপনার কী অভিমত? নবী (ﷺ) তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, অতঃপর নীরব রইলেন। এ সময় তার উপর ওয়াহী আসল। উমার হাতের ইশারায় ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ কে বললেন, এদিকে আসো। ইয়ালা এসে নিজের মাথা (কাপড়ের মধ্যে) ঢুকিয়ে দিলেন (এবং দেখলেন) নবী (ﷺ) এর চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং তার মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরুচ্ছে। অতঃপর এ অবস্থা দূরীভূত হল এবং তিনি বললেন, এই মাত্র যে ব্যক্তি আমার নিকট উমরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল- সে কোথায়? লোকটিকে খুজে এনে তার নিকট উপস্থিত করা হল। নবী (ﷺ) বললেন, তোমার সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জুব্বাহ খুলে ফেল। অতঃপর যে নিয়মে হাজ্জ কর, ঠিক সে নিয়মে উমরাহ কর।
উকবাহ ইবন মুকরম আল আম্মী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জি'রানাহ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলো। লোকটি উমরার জন্য ইহরাম বাধা অবস্থায় ছিল। তার দাড়ি ও মাথার চুল হলুদ রং এ রঞ্জিত ছিল এবং তার পরনে ছিল একটি জুব্বাহ। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেধেছি এবং আমি কী অবস্থায় আছি তা আপনি দেখছেন। তিনি বললেন, তুমি জুব্বাহ খুলে ফেল এবং হলুদ রং ধুয়ে ফেল। অতঃপর হজ্জে যে সব অনুষ্ঠান পালন কর, উমরাতেও তাই কর।
ইসহাক ইবন মানসূর .... সাফওয়ান তার পিতা সূত্রে (ইবন উমাইয়্যাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তার নিকট এক ব্যক্তি জুব্বাহ পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হল। তাতে (খালূক জাতীয়) সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেধেছি, আমাকে কী করতে হবে? তিনি তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। যখন তার উপর ওয়াহী নাযিল হতে আরম্ভ হল তখন উমর তাকে ছায়া দেয়ার জন্য একখণ্ড কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন। আমি (ইয়ালা) উমর কে বলেছিলাম, তার উপর যখন ওয়াহী নাযিল হয় তখন আমি তার সঙ্গে কাপড়ের অভ্যন্তরভাগে আমার মাথা ঢুকাতে চাই। যখন ওয়াহী নাযিল হল, উমার তাকে একখণ্ড কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন। আমি তার নিকট এসে কাপড়ের ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে দিলাম এবং তাকে দেখলাম। এ অবস্থা দূরীভূত হলে তিনি বললেন, এই মাত্র উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি তার সামনে দাড়াল। তিনি বললেন, তোমার পরিধানের জুব্বাহ খুলে ফেল এবং সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেল। অতঃপর যেভাবে হাজ্জ সমাপন কর, ঠিক সেভাবে উমরাহ কর।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, খালাফ ইবন হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ্ ..... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য আল জুহফাই নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলামকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এগুলো ঐসব এলাকার লোকদের মীকাত এবং এর বাইরের যে সব লোক হাজ্জ ও উমরার উদ্দেশে ঐসব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাধবে, এভাবে যারা আরো ভিতরে, তারা সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকে তালবিয়াহ্ পাঠ করবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার অধিবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য আল-জুহফাহ, নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালাম্লামকে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এগুলো উল্লেখিত এলাকার লোকদের মীকাত এবং বাইরের যেসব লোক হাজ্জ ও উমরার উদ্দেশে ঐ সব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক মীকাতের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা যে স্থান থেকে ইহরাম বাধতে ইচ্ছা করে, সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকে ইহরাম বাধবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মদীনাবাসীগণ যুল হুলায়ফাহ থেকে, সিরিয়াবাসীগণ আল জুহফাহ থেকে এবং নাজদবাসীগণ কারন থেকে ইহরাম বাধবে। আবদুল্লাহ বলেন, আমার কাছে খবর পৌছেছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালাম্লাম থেকে ইহরাম বাধবে।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, মদীনাবাসীদের মুহাল (মীকাত) যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের মুহাল মাহইয়াআহ (মুহাইআহ) আল জুহফাহ এবং নাজদবাসীদের মুহাল কারন। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, লোকেরা বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইয়ামানবাসীদের মুহাল ইয়ালাম্লাম, কিন্তু আমি তা তার নিকট থেকে শুনিনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... ইবন দীনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন উমর কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাবাসীদের যুল হুলায়ফাহ্ থেকে, সিরিয়ার অধিবাসীদেরকে আল জুহফাহ্ থেকে এবং নাজদবাসীদেরকে কারন থেকে ইহরাম বাধার নির্দেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তিনি আরও বলেছেন, ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালাম্লাম থেকে ইহরাম বাধবে।
যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মদীনাবাসীগণ যুল হুলায়ফাহ থেকে এবং সিরিয়াবাসীগণ আলজুহফাহ্ থেকে, নাজদবাসীগণ কারন থেকে ইহরাম বাধবে। ইবন উমর বলেন, আমার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন, "ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালাম্লাম থেকে ইহরাম বাধবে" কিন্তু এ কথা আমি সরাসরি তার নিকট থেকে শুনিনি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর নিকট মুহাল স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছেন। এরপর তিনি হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। আবূ যুবায়র বলেন, আমি মনে করি যে, জাবির রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে সরাসরি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে মুহাল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তার জওয়াবে আবূ যুবায়র তাকে বলতে শুনেছেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি (রাবীর ধারণায় তিনি এ হাদীস তার সাথে সংযুক্ত করেছেনঃ) মদীনাবাসীদের মুহাল যুল হুলায়ফাহ্, অপর একটি পথ হচ্ছে আল জুহফাহ, ইরাকবাসীদের মুহাল হচ্ছে যাতু ইরাক, নাজদবাসীদের মুহাল হচ্ছে কারন এবং ইয়ামানবাসীদের মুহাল হচ্ছে ইয়ালাম্লাম।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তালবিয়াহ্ নিম্নরূপ ছিলঃ "লাব্বাইকালাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াল ওয়ান্নিয়মাতা লাকাওয়াল মূলক, লা শারিকা লাকা" "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হাযির হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার দরবারে উপস্থিত আছি। তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। যাবতীয় প্রশংসা ও নিআমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব তোমার। তোমার কোন শারীক নেই।" নাফি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর নিজের তরফ থেকে তালবিয়ার সাথে আরও যোগ করতেনঃ "তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার খিদমাতের সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল কাজ তোমারই জন্য"।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকট যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উষ্ট্রী তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াত, তখন তিনি তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতেন। তিনি বলতেন, "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা ... লা- শারীকা লাকা।" আবদুল্লাহ ইবন উমর বলতেন, এ হচ্ছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তালবিয়াহ। নাফি বলেন, আবদুল্লাহ এর সাথে আরও যোগ করতেনঃ "লাব্বায়কা লাব্বায়ক...ওয়াল আমলু"।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সরাসরি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখে তালবিয়াহ শিখেছি...অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা...লা- শারীকা লাকা"। তিনি এর সাথে আর কোন কথা যোগ করতেন না। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফায় দু' রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে যুল হুলায়ফার মসজিদের সামনে দণ্ডায়মান হতো তখন তিনি ঐসব শব্দ সহকারে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর আরও বলতেন, উমার ইবন খাত্ত্বাব ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এই তালবিয়াহ্ পাঠ করতেন এবং বলতেন, "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়ক...ওয়ার রগবাউ ইলায়কা ওয়াল আমলু।
"আব্বাস ইবন আবদুল আল আযম আম্বারী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা বলত, "লাব্বায়কা লা- শারীকা লাকা"। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, তোমাদের ক্ষতি হোক, ক্ষান্ত হও, ক্ষান্ত হও (সামনে আর বলে না)। তারা এর সাথে আরও বলত, "কিন্তু হে আল্লাহ! তোমার আরও একজন শারীক আছে- তুমিই যার মালিক এবং সে কিছুরই মালিক নয়।" তারা এ কথা বলত আর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন, তোমাদের এ বায়দা নামক স্থান সম্পর্কে তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবলমাত্র যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকটেই ইহরাম বাধতেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সালিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার কে যখন বলা হল, বায়দা নামক স্থানে ইহরাম বাধতে হবে তখন তিনি বললেন, এ বায়দাকে কেন্দ্র করেই তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে গাছের নিকট ইহরাম বেধে লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করতেন- যেখান থেকে তার উট তাকে নিয়ে রওনা হতো।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উবায়দ ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর কে বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখছি- যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে ইবন জুরায়জ! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোন রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করেন। আমি আরও দেখেছি যে, আপনি হলুদ বর্ণ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মক্কা-তে অবস্থানকালে (যিলহাজ্জ মাসের) আট তারিখে ইহরাম বাধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাধে। আবদুল্লাহ ইবন উমর বললেন, রুকনসমূহের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোন রুকন স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমবিহীন স্যান্ডেলের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওযুও করতেন। আমিও তাই এ ধরনের স্যান্ডেল পছন্দ করি। হলুদ রং-এর সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ রং ব্যবহার করতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রং পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলতে হয় যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তখনি তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি যখন তার উট যাত্রা শুরু করেছে।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... উবায়দ ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর এর সঙ্গে হাজ্জ ও উমরাহ মিলিয়ে ১২ বার করেছি। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান। আমি আপনাকে চারটি কাজ করতে দেখেছ.....অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের সমর্থবোধক। কিন্তু তালবিয়াহ্ পাঠ প্রসঙ্গে রাবী (ইবন কুসায়ত্ব) সাঈদ মাকবুরীর বিপরীত বর্ণনা করেছেন, তবে তার উল্লেখ ব্যতীত আর সব বর্ণনায় কোন বিরোধ হয়নি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পাদানীতে পা রাখতেন এবং তার বাহন দাড়িয়ে সোজা হয়ে রওনা করত, তখন তিনি যুল হুলায়ফায় "লাব্বায়কা" ধ্বনি উচ্চারণ করতেন।
হারন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বর্ণনা করতেন যে, নবী (ﷺ) এর উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে রওনা হতো, তখন তিনি "লাব্বায়কা" ধ্বনি উচ্চারণ করতেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে তার বাহনে আরোহণ করলেন, অতঃপর তা যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াল, তখন তিনি 'লাব্বায়কা' ধ্বনি উচ্চারণ করলেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (রহিমাহমাল্লাহ) .... আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি শুরু করার প্রারম্ভে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফায় রাত যাপন করেন এবং এখানকার মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাস .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইহরাম বাধার সময় এবং (হাজ্জ সমাপনান্তে) ইহরামমুক্ত হবার পর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বেও আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইহরাম বাধার প্রাক্কালে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর কিন্তু বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া (রযিঃ) .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম বাধার জন্য ইহরামের পোশাক পরিধান করার পূর্বে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিতাম।
ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইহরাম বাধার সময় এবং ইহরাম মুক্ত হবার পর আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের সময় নিজ হাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যারীরাহ (ভারতীয় সুগন্ধি) মেখে দিয়েছি- ইহরাম মুক্ত হবার সময় এবং ইহরাম বাধার সময়।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... উসমান ইবন উরওয়াহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইহরাম বাধার সময় তাকে কী জিনিস দিয়ে সুগন্ধিযুক্ত করেছিলেন? তিনি বললেন, সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্রব্যের (কস্তুরীর) সাহায্যে।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির সাহায্যে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ইহরাম বাধার পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত করতাম, অতঃপর তিনি ইহরাম বাধতেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্রব্যের সাহায্যে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার ইহরাম বাধার প্রাক্কালে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর কিন্তু তাওয়াফে ইফাযাহ করার পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত করেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ রবী, খালাফ ইবন হিশাম ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার সিঁথিতে কস্তুরীর ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, অথচ তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী খালাফের বর্ণনায়, "তিনি তখন ইহরামাবস্থায় ছিলেন" কথার উল্লেখ নেই। তবে তার বর্ণনায় আছে, "এটা তার ইহরামের সময়কার সুগন্ধি।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার সিঁথিতে কস্তুরীর ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, তিনি তখন তালবিয়াহ্ পাঠ করছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার সিঁথিতে সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, তিনি তখন তালবিয়াহ পাঠ করছিলেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস ... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি...ওয়াকী এর হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি।
ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখছি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইহরাম বাধার সংকল্প করতেন তখন তিনি যথাসাধ্য সর্বোত্তম সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। অতঃপর আমি তার মাথায় ও দাড়িতে তৈলের চাকচিক্য দেখেছি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ্ বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় কস্তুরীর চাকচিক্য দেখতে পাচ্ছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হাসান ইবন উবায়দুল্লাহ থেকে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আহমাদ ইবন মানী' ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে তার ইহরাম বাধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে কস্তুরী মিশ্ৰিত সুগন্ধি মেখে দিতাম।
সাঈদ ইবন মানসূর ও আবূ কামিল .... ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুনতাশির থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মুহাম্মদ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে সুগন্ধি মেখেছে, অতঃপর মুহরিম অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়েছে। তিনি বললেন, আমি ভোর বেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা মাখা অধিক পছন্দনীয় মনে করি। অতঃপর আমি (মুহাম্মদ) আয়িশাহ এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে অবহিত করলাম যে, ইবন উমার বলেন, "আমি ভোরবেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা লাগানো অধিক শ্রেয় মনে করি।" তখন আয়িশাহ্ বললেন, আমি নিজে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার ইহরাম বাধার সময় সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। এরপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিলেন, এরপর ভোরবেলা ইহরাম বাধলেন।"
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দেহে সুগন্ধি মেখে দিতাম। অতঃপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিতেন, অতঃপর ভোরবেলা সুগন্ধি ঝাড়তে ঝাড়তে ইহরাম বাধতেন।
আবূ কুরায়ব .... ইব্রাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুনতাশির এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বলতে শুনেছিঃ ভোরবেলা সুগন্ধির চিহ্ন দূরীভূত করা অবস্থায় ইহরাম বাধার তুলনায় ভোরবেলা আলকাতরা মাখা অবস্থায় ইহরাম বাধা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। রাবী বলেন, এরপর আমি আয়িশাহ এর কাছে গিয়ে তাকে ইবন উমারের উক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দেহে খুশবু লাগিয়েছি। এরপর তিনি তার স্ত্রীদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইহরাম অবস্থায় ভোর করলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সা'ব ইবন জাসসামাহ আল লায়সী থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বন্য গাধা (গোশত) উপহার স্বরূপ দিলেন। আর তিনি তখন আবওয়া অথবা ওয়াদান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার কাছে তা ফেরত পাঠালেন। সা'ব বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চেহারা মলিন দেখে বললেন, আমি তোমাকে তা ফেরত দিতাম না, শুধু ইহরামের কারণেই তা ফেরত দিয়েছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবন রুমহ, কুতায়বাহ, আবদ ইবন হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী .... যুহরী থেকে উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (সা'ব) তাকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলাম। ইমাম মালিক যেরূপ বর্ণনা করেছেন। লায়স ও সালিহ এর বর্ণনায় রয়েছে- সা'ব ইবন জাস্সামাহ্ তাকে অবহিত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ ..... যুহরী থেকে উক্ত সানাদে উল্লেখ আছে। তিনি (সা'ব) বলেন, আমি তাকে বন্য গাধার গোশত উপহার দিয়েছিলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'ব ইবন জাসসামাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য বন্য গাধার গোশত উপটৌকন পাঠিয়েছিলেন। আর তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী বলেন, তাই তিনি এ উপঢৌকন তাকে ফেরত দিলেন এবং বললেন, আমরা যদি ইহরাম অবস্থায় না থাকতাম তবে তোমার এ উপটৌকন অবশ্যই গ্রহণ করতাম।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, সাব ইবন জাস্সামাহ নবী (ﷺ) কে বন্য গাধার পায়ের গোশত উপহার দেন। তখন তা থেকে রক্ত ঝরছিল। আর হাকাম এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বন্য গাধার পেছনের অংশের কথা উল্লেখ আছে। আর হাবীব এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সা'ব) বন্য গাধার উরুর পার্শ্বের গোশত নবী (ﷺ) এর জন্য উপঢৌকন পাঠান। কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন।
যুহায়র ইবন হাব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবন আরকাম তার নিকট এলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শিকার করা জন্তুর গোশত উপটৌকন দেয়া হয়েছিল। সেটা যে হারাম এ কথা আপনি আমাকে কিভাবে অবহিত করেছিলেন? রাবী (ত্বাউস) বলেন, তিনি বললেন, তাকে শিকারকৃত জন্তুর একটি অঙ্গ হাদিয়াহ দেয়া হয়েছিল, তিনি তা ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আমরা এ গোশত খেতে পারি না, কারণ আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন আবূ উমার .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম, এমনকি 'ক্বাহাহ্' নামক স্থানে গিয়ে পৌছলাম। আমাদের কতক ইহরাম অবস্থায় এবং কতক ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার সঙ্গীরা একটা কিছুর দিকে তাকাচ্ছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম, তা একটি বন্য গাধা। অতএব আমি আমার ঘোড়ার জীন বাধলাম এবং বল্লম তুলে নিলাম। এরপর ঘোড়ার পিঠে চেপে বসলাম। এ অবস্থায় আমার চাবুক নিচে পড়ে গেল। আমি আমার সঙ্গীদের তা তুলে দিতে বললাম, তারা ইহরাম অবস্থায় ছিল। তাই তারা আল্লাহর শপথ করে বলল, আমরা তোমাকে এ ব্যাপারে কিছুমাত্র সাহায্য করতে পারব না। অতঃপর আমি নিচে নেমে এসে তা তুললাম। অতঃপর ঘোড়ায় চড়ে গাধার পশ্চাদ্ধাবন করলাম। তা ছিল একটি টিলার আড়ালে। আমি বল্লমের আঘাতে এটাকে হত্যা করলাম। অতঃপর আমার সঙ্গীদের কাছে নিয়ে এলাম। তাদের কতক বলল, তা খাও, আর কতক বলল, খেও না। নবী (ﷺ) আমাদের সম্মুখভাগে ছিলেন। আমি ঘোড়া হাকিয়ে তার নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা হালাল, অতএব তোমরা তা খাও।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ্ .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার একটি পথে যখন আমরা পৌছলাম তখন তিনি তার কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ নবী (ﷺ) এর পেছনে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চেপে বসলেন এবং সঙ্গীদেরকে তার চাবুকটি তুলে দিতে বললেন। তারা তা তুলে দিতে রাজী হলেন না। তিনি তাদেরকে নিজের বল্পমটি তুলে দিতে বললেন, এবারও তারা তার কথায় রাজী হলেন না। এরপর তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং ঘোড়া হাকিয়ে গাধাটি শিকার করলেন। নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং কতক তা প্রত্যাখ্যান করলেন। অতএব তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এতো খাদ্য, মহামহিম আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন।
কুতায়বাহ্ .... আবূ কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত যে, বন্য গাধা সম্পর্কিত হাদীসটি এ সূত্রেও আবূ নায্র বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু যায়দ ইবন আসলামের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি?
সালিহ ইবন মিসমার আস্ সুলামী ... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা হুদায়বিয়ার বছর রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর সঙ্গে গেলেন। তার সঙ্গীগণ ইহরাম বাধলেন, কিন্তু আবূ কতাদাহ ইহরাম বাধলেন না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অবহিত করা হল যে, শত্রুরা গয়কাহ নামক স্থানে ওঁৎ পেতে আছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখলেন। আবূ কতাদাহ্ বলেন, আমি তার সাহাবীগণের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কতক আমার দিকে চেয়ে হাসছিল। আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আমি বর্শার আঘাতে তার গতিরোধ করলাম এবং সাহাবীগণের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা এর গোশত খেলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকাবোধ করলাম। অতএব আমি তার কাছে পৌছার জন্য কখনো ঘোড়া হাকিয়ে, আবার কখনো পদব্রজে অগ্রসর হতে লাগলাম। মধ্যরাতে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কোথায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাৎ পেয়েছো? সে বলল, আমি তাকে তাহিন নামক স্থানে ছেড়ে এসেছি এবং তিনি সুফইয়া নামক স্থানে দুপুরের সময়টা যাত্রা বিরতি করার মনস্থ করেছেন। আমি (আবূ কাতাদাহ) তার সাথে মিলিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করছেন। অতএব আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতএব তিনি তাদের জন্য অপেক্ষা করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একটি শিকার ধরেছি এবং তার কিছু অংশ আমার কাছে অবশিষ্ট আছে। নবী (ﷺ) লোকদেরকে বললেন, তোমরা খাও। তারা ইহরাম অবস্থায় রয়েছে।
আবূ কামিল আল জাহদারী .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ্ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের উদ্দেশে রওনা হলেন এবং আমরাও তার সফরসঙ্গী হলাম। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভিন্ন পথ ধরলেন এবং আবূ কাতাদাহ সহ কতিপয় সাহাবাকে (অন্য পথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে) বললেন, তোমরা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী পথ ধরে অগ্রসর হও। আবূ কতাদাহ বলেন, অতএব তারা সমুদ্র উপকূল বরাবর পথ ধরলেন। তারা যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পথে মোড় নিলেন, তখন আবূ কাতাদাহ ছাড়া আর সকলে ইহরাম বাধলেন, তিনি ইহরাম বাধলেন না। এ অবস্থায় পথ চলতে চলতে তারা কতকগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন এবং আবূ কতাদাহ্ এগুলোকে আক্রমণ করে একটি গাধী শিকার করলেন। তারা যাত্রা বিরতি দিয়ে গাধীর গোশত খেলেন। আবূ কাতাদাহ বলেন, তারা বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের গোশত খেলাম। এরপর তারা এর অবশিষ্ট গোশত সঙ্গে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ইহরাম বেধেছি কিন্তু আবূ কাতাদাহ ইহরাম বাধেননি। এ অবস্থায় আমরা কয়েকটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবূ কতাদাহ্ এগুলোর উপর ঝাপিয়ে পড়ে একটি গাধী শিকার করেন। আমরা যাত্রা বিরতি দিয়ে এর গোশত খেয়েছি। অতঃপর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকৃত পশুর গোশত আহার করব কি অথচ আমরা মুহরিম? আমরা অবশিষ্ট গোশত সাথে করে নিয়ে এসেছি। নবী (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ কি তা শিকার করার নির্দেশ অথবা ইঙ্গিত করেছে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তাহলে অবশিষ্ট গোশতও খেতে পার।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... উসমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব থেকে উপরোক্ত সানাদ সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। শায়বানের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের কেউ কি তাকে (গাধীটি) আক্রমণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে অথবা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে?" আর শুবাহ্র বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি (শিকারের দিকে) ইঙ্গিত করেছিলে অথবা সাহায্য করেছিলে" অথবা "শিকার করেছিলে"। শুবাহ বলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'টো বাক্য বলেছেন কিনা তা আমার মনে নেই।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তার পিতা তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছাড়া আর সকলেই উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেধেছিলেন। আমি একটি বন্য গাধা শিকার করলাম এবং আমার মুহরিম সঙ্গীদের এর গোশত খাওয়ালাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে অবহিত করলাম যে, শিকারের অবশিষ্ট গোশত আমাদের সাথে আছে। তিনি বললেন, "তোমরা তা খাও"; তখন তারা ছিলেন মুহরিম।
আহমাদ ইবন আবদাল্লাহু আয যাব্বী .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কতাদাহ্ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে (সফরে) রওনা হলেন। তারা সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবূ কতাদাহ হালাল অবস্থায় ছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি? তারা বললেন, এর পায়ের গোশত আমাদের সাথে আছে। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিয়ে আহার করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, কুতায়বাহ ও ইসহাক .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কতাদাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ কতাদাহ ইহরামকারী একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু তিনি ইহরামমুক্ত ছিলেন। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা পূর্ববৎ। এতে আছেঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেউ কি শিকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে অথবা কোনরূপ নির্দেশ দিয়েছে? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! না। তিনি বললেন, তাহলে এটা খেতে পার।
যুহায়র ইবন হারব .... মুআয ইবন আবদুর রহমান ইবন উসমান আত তায়মী থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় ত্বলহাহ ইবন উবায়দুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলাম। তাকে (শিকার করা) পাখির গোশত উপটৌকন দেয়া হল। এ সময় তিনি ঘুমে ছিলেন। আমাদের কতক তা খেল এবং কতক বিরত থাকল। ত্বলহাহ ঘুম থেকে উঠে গোশত আহরণকারীদের অনুকূলে মত প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে (ইহরাম অবস্থায়) তা (শিকার করা প্রাণীর গোশত) খেয়েছি।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ এমন চার প্রকার দুষ্ট জন্তু হারাম এবং হারামের বাইরে নিধন করা যায়ঃ চিল (এবং শকুন), কাক, ইদুর এবং হিংস্র কুকুর। তিনি (উবায়দুল্লাহ) বলেন, আমি কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম, সাপের বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বললেন, তা হীনভাবে হত্যা করতে হবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ পাচ প্রকার দুষ্ট জন্তুকে হারাম এবং হারামের বাইরে নিধন করা যায়ঃ সাপ, আব্কা (যার বুক ও পিঠ সাদা বর্ণের) কাক, ইদুর, হিংস্র কুকুর এবং চিল।
আবূ রবী আয যাহরানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচটি অনিষ্টকর প্রাণীকে হারামের ভিতর হত্যা করা যায় বিচ্ছু, ইদুর, কাক, চিল ও হিংস্ৰ কুকুর।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচটি দুষ্ট জন্তু হারামের মধ্যেও হত্যা করতে হবেঃ ইদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল এবং হিংস্র কুকুর।
আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে এ সানাদে আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাচটি দুষ্ট অনিষ্টকর জন্তু হারাম ও হারামের বাইরে নিধনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ ইয়াযীদ ইবন যুরা'য় এর হাদীসের অনুরূপ।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচটি জন্তুর প্রতিটিই অনিষ্টকর। ইহরাম অবস্থায় তা হত্যা করা যাবেঃ কাক, চিল, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু ও ইদুর।
যুহয়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... সলিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ পাচটি জন্তু নিধনে কোন দোষ নেই, হারামের ভিতরে ও ইহরাম অবস্থায়ঃ ইদুর, কাক, চিল, বিচ্ছু ও হিংস্ৰ কুকুর। ইবন আবূ উমার তার বিওয়ায়াতে "হারাম শরীফে বা ইহরাম অবস্থায়" কথাটুকু উল্লেখ করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী হাফসাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচটি জন্তুর প্রত্যেকটিই অনিষ্টকর, কেউ তা হত্যা করলে তার কোন দোষ হবে নাঃ বিচ্ছু, কাক, চিল, ইদুর ও হিংস্র কুকুর।
আহমাদ ইবন ইউনুস .... যায়দ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবন উমর কে জিজ্ঞেস করল, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কোন্ জন্তু হত্যা করতে পারে? তিনি বললেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈকা সহধর্মিণী অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) ইদুর, বিচ্ছু, চিল, হিংস্র কুকুর ও কাক হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন অথবা রাবী বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... যায়দ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবন উমর এর নিকট জিজ্ঞেস করল, মুহরিম ব্যক্তি কোন কোন জন্তু হত্যা করতে পারে? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) এর জনৈকা সহধর্মিণী বলেছেন যে, তিনি হিংস্র কুকুর, ইদুর, বিচ্ছু, চিল, কাক ও সাপ হত্যা করার নির্দেশ দিতেন। এমনকি নামাজরত অবস্থায়ও তা হত্যা করা যায়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এমন পাচটি জন্তু আছে যা মুহরিম ব্যক্তি হত্যা করলে কোন দোষ হবে নাঃ কাক, চিল, বিচ্ছু, ইদুর এবং হিংস্র কুকুর।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন জুরায়জ বলেন, আমি নাফি এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ইবন উমর কে মুহরিম ব্যক্তির জন্য কোন কোন প্রাণী হত্যার বৈধতা ঘোষণা করতে শুনেছেন? নাফি আমাকে বললেন, আবদুল্লাহ বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, এমন পাচ প্রকারের প্রাণী আছে, কোন ব্যক্তি তা হত্যা করলে তার কোন গুনাহ হবে নাঃ কাক, চিল, বিচ্ছু, ইদুর ও হিংস্র কুকুর।
কুতায়বাহ, ইবন রুমূহ, শায়বান ইবন ফাররুখ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র, আবূ কামিল ও ইবন মুসান্না .... ইবন উমর থেকে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ইবন মালিক ও ইবন জুরায়জের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং একমাত্র ইবন জুরায়জ ব্যতীত নাফি "ইবন উমার থেকে নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি" কথাটি আর কেউ বলেননি। এ বর্ণনায় ইবন জুরায়জ ইবন ইসহাক এর অনুসরণ করেছেন।
ফাযল ইবন সাহল .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, পাচ ধরনের প্রাণী, এর কোন একটি হারাম শরীফে বা ইহরাম অবস্থায় হত্যা করা হলে কোন দোষ নেই....পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন পাচ ধরনের প্রাণী আছে, ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি সেগুলো হত্যা করলে তাতে তার কোন গুনাহ হবে নাঃ বিচ্ছু, ইদুর, হিংস্র কুকুর, কাক ও চিল। হাদীসের মূল পাঠ ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়ার বর্ণনা থেকে নেয়া হয়েছে।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী ও আবূ রবী .... কাব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এলেন এবং আমি তখন চুলায় আমার হাড়ি বা পাতিলের নীচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম-আর উকুন আমার চেহারার উপর গড়িয়ে পড়ছিল। নবী (ﷺ) বললেন, তোমার মাথার পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও অথবা একটি কুরবানী কর। আইয়্যুব বলেন, আমার মনে নেই তিনি (মুজাহিদ) কোন শব্দটি আগে বলেছেন।
আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী, যুহায়র ইবন হারব ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আইয়ূব থেকে এ সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে এবং এ কারণে সে মাথা মুড়িয়ে ফেলে, তবে তাকে ফিদইয়্যাহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সাদাকা দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে"(আল বাকরাহ ২ঃ ১৯৬)। রাবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম এবং তিনি বললেন, আরও নিকটে আসো। অতএব আমি নিকটবর্তী হলাম এবং তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? ইবন আওন (নিজস্ব সূত্র পরম্পরায়) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, হ্যা। কা'ব বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সওম অথবা সদাক্কাহ কর ছয়জন মিসকীনের মাঝে এক ফারাক (তিন সা) পরিমাণ, অথবা সহজলভ্য হলে কুরবানীর মাধ্যমে ফিদইয়্যাহ আদায়ের নির্দেশ দিলেন।
ইবন নুমায়র .... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট দাড়ালেন এবং তখন তার মাথা থেকে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে তোমার মাথা কামিয়ে ফেল। রাবী বলেন, অতএব আমার সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে (এবং এ কারণে মাথা মুড়িয়ে ফেলবে) তবে তাকে ফিদইয়্যাহ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সাদাকা দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে"(আল বাকরাহ ২ঃ ১৯৬)। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা এক ফারাক (তিন সা) খাদ্য ছয়জন মিসকীনকে দান কর অথবা কুরবানী কর- যা সহজলভ্য হয়।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমর .... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত।রসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন- মক্কায় প্রবেশের পূর্বে তিনি যখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের হাড়ির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তার (মাথা থেকে) মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমার মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক খাদ্য দান কর (এক ফারাক-এ তিন সা'), অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা একটি কুরবানী কর। ইবন আবূ নাজীহ এর বর্ণনায় আছে, "অথবা একটি বকরী কুরবানী কর।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্ৰব করছে? তিনি বললেন, হ্যা। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে তিন সা' খেজুর খেতে দাও।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাকিল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে কা'ব ইবন উজরাহ এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, "ফিদইয়াহ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সাদাকা দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" কা'ব বললেন, তা আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী (ﷺ) বললেন, আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে? আমি বললাম, না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, "ফিদইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে, সদাক্বাহ করতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" নবী (ﷺ) বললেন, তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে অর্ধ সা' করে খাদ্য দান কর। কা'ব বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় নবী (ﷺ) এর সাথে রওনা হলেন। তার মাথা ও দাড়িতে উকুন ধরে যায়। নবী (ﷺ) তা জানতে পেরে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং একজন নাপিতও ডাকলেন। সে তার মাথা মুড়িয়ে দিল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বললেন, আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম নই। অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে তিনদিন সওম পালনের অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে এক সা' করে খাদ্য দান করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তাআলা বিশেষ করে তার প্রসঙ্গে নাযিল করলেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে..."। অতঃপর এ আয়াতের নির্দেশ সাধারণভাবে সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়ে ছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইবন বুহায়নাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় মক্কায় (মক্কায়) যাবার পথে নিজের মাথার মধ্যস্থলে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... নুবায়হ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (ইহরাম অবস্থায়) আবান ইবন উসমান এর সাথে রওনা হলাম। আমরা মালাল নামক স্থানে পৌছলে উমার ইবন উবায়দুল্লাহর চোখে পীড়া দেখা দিল। রাওহা নামক স্থানে পৌছে তার চোখের ব্যথা আরও তীব্রতর হল। তিনি (নুবায়হ) আবান ইবন উসমান এর কাছে (কী করতে হবে তা) জিজ্ঞেস করার জন্য একজনকে পাঠালেন, তিনি বলে পাঠালেন, চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দাও, কারণ উসমান রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তির চোখরোগ দেখা দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হান্যালী .... নুবায়হ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত। উবায়দুল্লাহ ইবন মা'মার এর পুত্র উমারের চোখ ফুলে উঠলে তিনি সুরমা লাগানোর ইচ্ছা করলেন। কিন্তু আবান ইবন উসমান তাকে চোখে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং মুসব্বারের প্রলেপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি উসমান ইবন আফফান এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এও বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ আবওয়া নামক স্থানে পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধৌত করতে পারবে, কিন্তু মিসওয়ার বললেন, সে মাথা ধৌত করতে পারবে না। ইবন আব্বাস আমাকে (আবদুল্লাহ ইবন হুনায়নকে) এ সম্পর্কিত মাসআলাহ্ জানার জন্য আবূ আইয়ুব আল আনসারী এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে কুপের দু' খুটির মাঝে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তিনি একখণ্ড কাপড় টাঙ্গিয়ে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলেন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আপনার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন? আবূ আইয়ূব তার হাত টানানো কাপড়ের উপর রাখলেন এবং তা (সামান্য) নীচু করলেন- যাতে তার মাথা আমার দৃষ্টিগোচর হল। অতঃপর তিনি তার গোসলে সাহায্যকারী ব্যক্তিকে পানি ঢালতে বললেন। অতএব সে তার মাথায় পানি ঢালল। এরপর তিনি উভয় হাত সামনে ও পিছনে সঞ্চালন করে নিজের মাথা মললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করতে দেখেছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরম ..... যায়দ ইবন আসলাম থেকে এ সানাদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আবূ আইয়ূব তার উভয় হাত সামনে-পিছনে সঞ্চালন করে সম্পূর্ণ মাথা ভালভাবে মললেন। এরপর মিসওয়ার ইবন "আব্বাস কে বললেন, আমি আর কখনও আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন আব্বাস এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার উটের পিঠ থেকে পড়ে গেল। ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং মারা গেল। নবী (ﷺ) বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার দু' কাপড়েই কাফন দাও এবং তার মাথা অনাবৃত রাখ। কারণ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠবেন।
আবূ রবী আয যাহরানী ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি আরাফার ময়দানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে উকূফরত ছিল। হঠাৎ সে তার বাহন থেকে নীচে পড়ে গেল। এতে তার ঘাড় মটকিয়ে গেল এবং সে মারা গেল। নবী (ﷺ) কে তা অবহিত করা হলে তিনি বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার দুই কাপড় দিয়েই তার কাফনের ব্যবস্থা কর, তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথাও আবৃত কর না। (রাবী আইয়্যুব বলেন) কারণ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠবেন। আমর অনুরূপ বলেছেন।
আমর আন্ নাকিদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (আরাফাতে) অবস্থান করছিল। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা হাম্মাদ এর সূত্রে আইয়্যুবের অনুরূপ বর্ণিত।
আলী ইবন খাশরম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় নবী (ﷺ) এর সঙ্গে এসেছিল। সে উট থেকে পড়ে গেল এবং তার ঘাড় মটকে গেল। ফলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও এবং তার পরনের দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও এবং তার মাথার চুল আবৃত করো না। কারণ সে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উপস্থিত হবে।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এসেছিল .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, "তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।" এতে আরও আছে, কোথায় সে উটের পিঠ থেকে পড়ে গেল তা সাঈদ ইবন জুবায়র উল্লেখ করেননি।
আবূ কুরায়ব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে ইহরাম অবস্থায় তার বাহন পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও, তার পরিধেয় বস্ত্র দু'টি দিয়ে তার কাফন দাও, কিন্তু তার মুখমণ্ডল ও মাথা অনাবৃত রাখ। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।
মুহাম্মাদ ইবনস্ সব্বাহ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহয়া .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিল। তার উষ্ট্রী তার ঘাড় ভেঙ্গে দিল, ফলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও, তার পরিধেয় বস্ত্র দু'খানা দিয়ে তাকে কাফন পরাও, কিন্তু তার দেহে সুগন্ধি মাখিও না এবং তার মাথাও আবৃত করো না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় উঠানো হবে।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে তার উট নীচে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় (এবং সে মারা যায়)। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে, সুগন্ধি না লাগাতে এবং মাথা অনাবৃত রাখতে নির্দেশ দেন। কারণ কিয়ামতের দিন তাকে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি .... সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন আব্বাস কে বর্ণনা করতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় নবী (ﷺ) এর নিকট এসে উপস্থিত হল। হঠাৎ সে তার উষ্ট্রীর পিঠ থেকে পড়ে গেল এবং ঘাড় মটকে যাওয়ার ফলে মারা গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে, তার পরিধেয় দুখণ্ড বস্ত্রে কাফন দিতে, সুগন্ধি না লাগাতে এবং মাথা কাফনের বাইরে রাখতে নির্দেশ দিলেন। শুবাহ বলেন, অতঃপর আবূ বিশর আমাকে এভাবে বললেন, তাকে এভাবে কাফন পরাও যাতে তার মাথা ও মুখমণ্ডল বাইরে থাকে। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় উঠানো হবে।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... সাঈদ ইবন জুবায়র বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেন, এক ব্যক্তিকে তার বাহন নিচে ফেলে দিলে ঘাড় মটকে সে মারা যায়। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত লোকদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে এবং তার মুখমণ্ডল খুলে রাখতে। রাবী বলেন, আমি মনে করি যে, তার মাথা অনাবৃত রেখে কাফন পরাতে নির্দেশ দিলেন। কারণ তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সাথে ছিল। তার উষ্ট্রী তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, এতে সে মারা যায়। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে গোসল দাও, তার দেহে সুগন্ধি মাখিও না এবং তার মুখমণ্ডলও ঢেকে দিও না। কারণ তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী আল হামদানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাআহ বিনতু যুবায়র এর নিকট গেলেন এবং তাকে বললেন, তুমি হাজ্জের ইচ্ছা পোষণ করেছো? তিনি বললেন, হ্যা, আল্লাহর কসম! কিন্তু আমি প্রায়ই অসুস্থ থাকি। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি হাজ্জ কর এবং শর্ত রাখ ও বল, হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে আটকিয়ে দিবে (সেখানে আমি ইহরাম খুলব)। তিনি মিকদাদ এর স্ত্রী ছিলেন।
আব্দ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুবায়র ইবন আবদুল মুত্ত্বলিব কন্যা যুবাআহ এর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি হজ্জের সংকল্প করেছি- কিন্তু আমি অসুস্থ। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি হাজ্জের ইহরাম বাধ এবং এই শর্ত কর যে, আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে আটকিয়ে দিবে সেখানে আমি ইহরাম খুলব।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, যুবায়র ইবন আবদুল মুত্ত্বালিব কন্যা যুবাআহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বললেন, আমি একজন পীড়িত (ভারী) মহিলা এবং আমি হজ্জের সংকল্প রাখি। আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, তুমি হাজ্জের ইহরাম বাধ এবং শর্ত কর যে, আল্লাহ! তুমি আমাকে যেখানে আটকিয়ে দিবে সেখানে আমি ইহরাম খুলব। রাবী বলেন, তিনি হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালনে সক্ষম হয়েছিলেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, যুবাআহ হজ্জের ইচ্ছা করলেন। নবী (ﷺ) তাকে শর্তসাপেক্ষে ইহরাম বাধার নির্দেশ দিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ মুতাবিক তাই করলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবূ আইয়ুব আল গয়লানী ও আহমাদ ইবন খিরাশ ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাআহ কে বললেন, তুমি হাজ্জ কর এবং শর্ত রাখ যে, আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে থামিয়ে দিবে, সেখানে আমি ইহরাম খুলব। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) যুবাআহ কে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হান্নাদ ইবনস্ সারী, যুহায়র ইবন হারব ও উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতু উমায়স আশ শাজার নামক স্থানে আবূ বকর এর পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর এর মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাধার নির্দেশ দিলেন।
আবূ গাসসান মুহাম্মাদ ইবন আমর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আসমা বিনতু উমায়স যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে সন্তান প্রসব করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর কে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী তাকে গোসল করে ইহরাম বাধতে বললেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা উমরার জন্য ইহরাম বাধলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার সাথে হাদী কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে উমরার সাথে হাজ্জের ইহরাম বাধে, অতঃপর উমরাহ ও হাজ্জের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়। আয়িশাহ্ বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বযের মাঝে সাঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, হাজ্জের ইহরাম বাধ এবং উমরাহ পরিত্যাগ কর। আয়িশাহ বলেন, আমি তাই করলাম। আমাদের হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (আমার ভাই) আবদুর রহমানের সাথে তানঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেধে উমরাহ পালন করি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাধার) স্থান। যে সব লোক শুধু উমরার ইহরাম বেধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হাজ্জের তওয়াফ করল আর যারা উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে ইহরাম বেধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের কেউ শুধু উমরার ইহরাম বঁধল, আর কেউ শুধু হাজ্জের ইহরাম বাধল। এভাবে আমরা মক্কায় পৌছলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যারা উমরার জন্য ইহরাম বেধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা উমরার ইহরাম বেধেছে এবং সাথে কুরবানীর পশুও এনেছে, তারা কুরবানী করার পরই কেবল ইহরামমুক্ত হবে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেধেছে, তারা যেন হাজ্জ পূর্ণ করে। আয়িশাহ্ বলেন, আমার হায়য শুরু হয়ে গেল এবং আরাফাহ দিবস পর্যন্ত চলতে থাকল। আমি উমরার ইহরাম বেধেছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মাথার চুল খুলে ফেলতে, তাতে চিরুণী করতে, হাজ্জের ইহরাম বাধতে এবং উমরাহ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম এবং হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে (আমার ভাই) আবদুর রহমান ইবন আবূ বকরকে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তানইম থেকে ইহরাম বেধে উমরাহ করার নির্দেশ দিলেন- যেহেতু আমি উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বেধেছিলাম; অথচ আমি উক্ত উমরাহ সমাপ্ত করতে পারিনি।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর নবী (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি উমরার ইহরাম বাধলাম এবং সাথে কুরবানীর পশু নেইনি। নবী (ﷺ) বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে যেন তার উমরার সাথে হজ্জের ইহরামও বাধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। আয়িশাহ বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তোমরা চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, উমরাহ স্থগিত রাখ এবং হজ্জের ইহরাম বাধ। আয়িশাহ্ বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) আবদুর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরাহ করালেন- যেহেতু আমি উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।
ইবন আবূ উমার .... আয়িশাহ্ বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি একত্রে হাজ্জ ও উমরার ইহরাম বাধতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি শুধু হাজ্জের ইহরাম বাধতে চায়, সেও যেন তাই করে। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শুধুমাত্র হাজ্জের ইহরাম বাধলেন এবং তার সাথের লোকেরাও তাই করল। কতিপয় লোক উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাধল এবং কতিপয় লোক শুধু উমরার ইহরাম বাধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ্ বলেন, বিদায় হজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে (মক্কাহ) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি উমরার ইহরাম বাধতাম। আয়িশাহ বলেন, লোকদের মধ্যে কতক উমরার ইহরাম বাধল এবং কতক হাজ্জের ইহরাম বাধল। তিনি বললেন, আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মক্কায় পৌছে গেলাম। আরাফাহ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং উমরাহ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাধ। আয়িশাহ বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাসসাব এর রাত হলো এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের হাজ্জ সমাপন করার তাওফীক দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তার বাহনের পেছনে বসিয়ে তান'ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি উমরার ইহরাম বাধলাম। এভাবে আল্লাহ তাআলা আমাদের হাজ্জ ও উমরাহ সমাপনের তাওফীক দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সাদাকা বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওনা হলাম। হাজ্জ করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাধতে চায়, সে তাই করুক ... হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আবদাহ্ এর হাদীসের অনুরূপ।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার, কতক হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের এবং কতক শুধু হাজ্জের ইহরাম বাধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত (উভয়ের) হাদীসের অনুরূপ। তবে উরওয়াহর বর্ণনায় আছে, "আল্লাহ তাআলা আয়িশাহ কে তার হাজ্জ ও উমরাহ সমাপনের তাওকীক দিলেন।" আর হিশামের বর্ণনায় আছে, "এজন্য (উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বাধার কারণে তাকে) হাদী বা কুরবানীও করতে হয়নি, সওমও পালন করতে হয়নি, সাদাকাও দিতে হয়নি।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার উদ্দেশে, কতক হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের উদ্দেশে ইহরাম বাধল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল হাজ্জের ইহরাম বাধলেন। যারা উমরার জন্য ইহরাম বেধেছিল, তারা (উমরাহ সমাপনন্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামুক্ত হতে পারেনি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন্ নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব .. আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হজ্জের উদ্দেশে নবী (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী (ﷺ) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা এটা আদম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করবে না। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন।
সুলায়মান ইবন উবায়দুল্লাহ আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হজ্জের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম। তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা এটা আদম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করো না। আয়িশাহ বলেন, আমি যখন মক্কায় পৌছলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীগণের বললেন, তোমরা উমরার জন্য ইহরাম বাধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে উমরার ইহরাম বাধল। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বকর, উমার ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে তওয়াফে ইফাযাহ্ করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করছি। রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। আয়িশাহ বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তানঈম পৌছলাম। সেখান থেকে আমি আবার উমরার ইহরাম বাধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে।
আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী .... আয়িশাহ বলেন, আমরা হজ্জের জন্য ইহরাম বাধলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন- আমি তখন কাঁদছিলাম...অবশিষ্ট বর্ণনা (পূর্ববর্তী) মাজিশূনের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ "নবী (ﷺ), আবূ বকর, উমর ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে (হাদী) কুরবানীর পশু ছিল, তারা অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাধলেন।" তার বর্ণনায় আয়িশাহ এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই "আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার উত্তমরূপে মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমার মাথা বারংবার পালানের খুটির সাথে টক্কর খাচ্ছিল।"
ইসমাঈল ইবন আবূ উওয়াইস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইফরাদ হাজ্জ করেছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের মাসসমূহে, হজ্জের সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধিনিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের রাতসমূহে ইহরাম বেধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা উমরাহ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি উমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি নামাজ আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তাআলা তোমাকে উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদম এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। আয়িশাহ বলেন, অতএব আমি হাজ্জের জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাস্সাবে অবতরণ করলেন এবং আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে) উমরার জন্য ইহরাম বাধবে এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আয়িশাহ বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তানঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলাম এবং সাফামারওয়াহ সাঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উমরাহ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যা। তিনি তার সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তার তওয়াফ করলেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ কিরআন হাজ্জের এবং তামাত্তু হাজ্জের ইহরাম বাধল।
আবদ ইবন হুমায়দ .... কাসিম ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ হাজ্জ করার জন্য এসেছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আয়িশাহ বলেন, যিলকদাহ মাসের পাচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। আয়িশাহ বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেন, আমি এ হাদীস কাসিম ইবন মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আম্রাহ) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ উমর এ সানাদেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও কাসিম .... [আয়িশাহ্] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতসহ (হাজ্জ ও উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ইবাদাতসহ (হাজ্জ) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান'ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ উমরার সাওয়াব পাবে)।
ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ বলেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতের সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে...অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র হজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। আয়িশাহ্ বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশুর সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। আয়িশাহ আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হজ্জ ও উমরাহ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মক্কায় (মক্কায়) পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান'ঈম যাও এবং (সেখানে) উমরার ইহরাম বাধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উন্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যা, করেছি। নবী (ﷺ) বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মক্কার উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, আয়িশাহ এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন।
সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা উমরাহ কোনটিরই উল্লেখ করিনি। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর এর হাদীসের অনুরূপ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যিলহাজ্জ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, তুমি কি জান না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্ততঃ করছে? রাবী হাকাম বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্ততঃ করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জিলহাজ্জ মাসের চার অথবা পাচ তারিখে (মক্কায়) পৌছলেন ... পূর্বোক্ত গুনদার এর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, "তারা ইতস্ততঃ করেছে" উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমরার ইহরাম বাধলেন, এরপর (মক্কায়) পৌছলেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (তাওয়াফ ব্যতীত)। নবী (ﷺ) মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আবদুর রহমানের সাথে তানঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেধে উমরাহ করলেন।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি সারিফ নামক স্থানে ঋতুবতী হলেন এবং আরাফাহ্ দিবসে পবিত্র হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সাঈ তোমার হাজ্জ ও উমরাহ উভয়টির জন্য যথেষ্ট।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... সফিয়্যাহ বিনতু শায়বাহ বলেন, আয়িশাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দুটি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তান'ঈম যাওয়ার জন্য। আয়িশাহ বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তান'ঈম পৌছে) উমরার ইহরাম বাধলাম, অতঃপর মক্কায় ফিরে এসে (তাওয়াফ শেষে) হাসাবাহ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিলিত হলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দিলেন আয়িশাহ কে (বাহনে) তার পিছনে বসিয়ে তান'ঈম নিয়ে যাবার জন্য যাতে তিনি তাকে (তানঈম থেকে) উমরাহ করান।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বেধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে (মক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর আয়িশাহ্ উমরার ইহরাম বেধে আসলেন। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম, আয়িশাহ এর মাসিক ঋতু শুরু হল। অবশেষে আমরা মক্কায় (মক্কায়) পৌছে কাবাহ্ ঘর তওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না- রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, "সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।" অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন আরাফাহ দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তালবিয়াহ দিবসে (৮ই যিলহাজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাধলাম। এদিকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ক্ৰন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? আয়িশাহ বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহরও তওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হাজ্জের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তাআলা আদম এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হাজ্জের ইহরাম বাধ। তিনি তাই করলেন এবং হাজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কাবাহ ঘর তওয়াফ করলেন এবং সাফা মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এখন তোমার হাজ্জ ও উমরাহ উভয়টিই পূর্ণ হল। আয়িশাহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার অবস্থা এই যে, হাজ্জ না করা পর্যন্ত আমি (উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করতে পারিনি, কিন্তু হাজ্জ আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে "আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে চলে যাও এবং তান'ঈম থেকে তাকে উমরাহ করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স এর হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়নি।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর সাথে হাজ্জ উপলক্ষে আয়িশাহ্ উমরার ইহরাম বাধলেন... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব আয়িশাহ যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি আয়িশাহ্ কে আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তান'ঈম থেকে উমরার ইহরাম বাধলেন। (অধঃস্তন রাবী) মাত্বার বলেন, আবূ যুবায়র বলেছেনঃ আয়িশাহ্ যখনই হাজ্জ করতেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যেভাবে হাজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মক্কায় পৌছে বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, (সাধারণ) পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তালবিয়ার দিন আমরা হাজ্জের ইহরাম বাধলাম এবং পূর্বেকার তওয়াফ ও সাঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিটি কুরবানীর গরু এবং উটে সাতজন করে শারীক হবার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ইহরামমুক্ত হবার পর নবী (ﷺ) আমাদেরকে (পুনরায়) ইহরাম বাধার নির্দেশ দিলেন- যখন আমরা মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম। অতএব আমরা আল আবত্বাহ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাধলাম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, নবী (ﷺ) এবং তার সাহাবীগণ একবার মাত্র সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর-এর বর্ণনায় আছে, "তার প্রথমবারের তাওয়াফ।"
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের ইহরামই বাধলাম। রাবী আতা বলেছেন, জাবির বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) চার যিলহজ্জের ভোরে মক্কায়) পৌছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তার এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির বলেন, আরাফাহ দিবসের আর পাচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় আরাফায় পৌছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। আত্বা বলেন, জাবির তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রযিঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে দাড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছে। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। আত্বা বলেছেন, জাবির বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তার কথা শুনলাম এবং তার আনুগত্য করলাম। জাবির আরও বলেন, আলী (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কোন ধরনের ইহরাম বেধেছো? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) যে ধরনের ইহরাম বেধেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির বলেন, আলী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাকাহ ইবন মালিক ইবন জু'শুম বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সময়ের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য।
ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাধলাম। আমরা মক্কায় পৌছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তার এ নির্দেশ কঠোর মনে হল এবং আমাদের মনোকষ্ট হল। এ খবর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তার কাছে এ কথা পৌছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মক্কাহ ত্যাগ করলাম (মিনা ও আরাফার উদ্দেশে) এবং হজ্জের ইহরাম বাধলাম।
ইবন নুমায়র .... মূসা ইবন নাফি বলেন, আমি উমরাসহ তামাত্তু হাজ্জের ইহরাম বেধে তালবিয়াহ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মক্কায় পৌছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মক্কা-বাসীদের অনুরূপ হাজ্জ হয়ে যাবে। অতএব আমি আতা ইবন আবূ রাবাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসআলাহ জিজ্ঞেস করলাম। আতা বললেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (ইফরাদ হজ্জের) ইহরাম বেধেছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ কর, সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ কর, মাথার চুল ছাট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাধ এবং এটা তামাত্তু হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তুতে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হজ্জের ইহরাম বেধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রুপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মা'মার ইবন বিরূ'ঈ আল কায়সী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের ইহরাম বেধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মক্কায় পৌছলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তা উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (উমরাহ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ নাযরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবন যুবায়র তামাত্তু হাজ্জ করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি। উমার খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তাআলা রসূল (ﷺ) এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছে- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুতআর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব।
যুহায়র ইবন হারব .... কাতাদাহ এর সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, উমার বলেন, "তোমাদের হাজ্জ কে উমরাহ থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হাজ্জও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং উমরার পূর্ণাঙ্গ হবে।"
খালাফ ইবন হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে (মক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম হাজ্জের জন্য তালবিয়াহ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জা'ফার ইবন মুহাম্মাদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হুসায়ন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্ৰ! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বাৰ্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাঁদর আবৃত করে উঠে দাড়ালেন। তিনি যখনই চাঁদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন- তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাঁদর তার পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (বিদায়) হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হাজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হল যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বছর হাজ্জে যাবেন। সুতরাং মদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণ করতে এবং তার অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তার সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে পৌছলাম- আসমা বিনতু উমায়স মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকরকে প্রসব করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন- এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে (দু' রাকাআত) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর 'কাসওয়া' নামক। উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াল- আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তার উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্ পাঠ করলেনঃ "লাব্বাইকালাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াল ওয়ান্নিয়মাতা লাকাওয়াল মূলক, লা শারিকা লাকা"। অর্থঃ "আমি তোমার দরবারে হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির, তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, নিআমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শারীক নেই।" লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ্ পাঠ করল- যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির বলেন, আমরা হাজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ম করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তার সঙ্গে বায়তুল্লাহয় পৌছলাম- তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কাবাহ ঘর তুওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "অত্যাখিজু মিম্মাকমী ইব্রহীমা মুসল্লা"। অর্থঃ "তোমরা ইবরাহীমের দাড়াবার স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর"- (আল বাকারাহ ২ঃ ১২৫)। তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তার ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দু' রাকাআত নামাজ আদায় করলেন)। (জাফার বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু' রাকাআত সালাতে সূরা কুল হুওআল্ল-হু আহাদ ও কুল্ ইয়া আইয়্যুহাল কা-ফিরূন পাঠ করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ অর্থঃ "নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম"-(আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ তাআলা যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি কিলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ "লাব্বাইকালাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াল ওয়ান্নিয়মাতা লাকাওয়াল মূলক, লা শারিকা লাকা"। অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই। তার জন্য রাজত্ব এবং তার জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন।" তিনি এ দোয়া পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়াহ পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যাবৎ না তার পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন যতক্ষণ যাবৎ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়াহ পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ তওয়াফে যখন তিনি মারওয়াহ পাহাড়ে পৌছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাকাহ ইবন মালিক ইবন জুশুম দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সৰ্বকালের জন্য? রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাকে ঢুকালেন এবং দু'বার বললেন, উমরাহ হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য। এ সময় আলী ইয়ামান থেকে নবী (ﷺ) এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাতিমা কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমা বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়ছেন। রাবী বলেন, আলী ইরাকে থাকতেন, অতএব ফাতিমা যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ফাতিমা্ সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হাজ্জের ইহরাম বাধার সময় কী বলেছিলে? আলী বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম। বাধলাম, যেরূপ ইহরাম বেধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির বলেন, "আলী ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী (ﷺ) নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাড়ালো একশত। অতএব নবী (ﷺ) এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর যখন তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাধলো এবং মিনার দিকে রওনা হল। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নামিরাহ নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী (ﷺ) মাশআরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে আরাফায় পৌছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তার জন্য তাবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তার কাসওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হল। তখন তিনি বাতুনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।" "সাবধান জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবীআহ ইবন হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। "জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের আব্বাস ইবন আবদুল মুত্ত্বালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল।" "তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক্ব রয়েছে। "আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।" "আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?" তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌছিয়েছেন, আপনার হক্ব আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, "ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, "তিনবার এরূপ বললেন।" অতঃপর (মুয়াযযিন) আযান দিলেন ও ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এ দু' সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে মাওকিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তার কাস্ওয়া উটের পেট পাথরের স্তুপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাড়ালেন। সূর্য পর্যন্ত তিনি এভাবে উকুফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামাহ্ কে তার বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তুপের নিকট পৌছতেন, কাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দু' ইকামাতে মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। এ সালাতের মাঝখানে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফজরের ওয়াক্ত হল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামাত সহ ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে "মাশআরুল হারাম" নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন, তার মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমাহ তাওহীদ পড়লেন এবং তার একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফাযল ইবন আব্বাস সওয়ারীতে তার পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফাযল তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাত ফাযলের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফাযল অপরদিক দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় অন্যদিক হতে ফাযল এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি বাতুনে মুহাসসাব' নামক স্থানে পৌছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার আল্ল-হু আকবার' বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যাবাহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে আলী-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশতের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হল। তারা উভয়ে এ গোশত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে রওনা হলেন এবং মক্কায় পৌছে যুহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বানু আবদুল মুত্ত্বলিব এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের যামযামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে "আবদুল মুত্ত্বালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিবে, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন।
উমার ইবন হাফস্ ইবন গিয়াস .... জাফর ইবন মুহাম্মাদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর নিকট এলাম এবং তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম ... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবন ইসমাঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায়আরও আছেঃ আবূ সাইয়্যারাহ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফাহ্ থেকে) নিয়ে যেত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মুযদালিফাহ্ থেকে আল-মাশআরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না অবশেষে তিনি আরাফাতে পৌছে সেখানে অবতরণ করলেন।
উমর ইবন হাফস্ ইবন গিয়াস .... জাবির কর্তৃক বর্ণিত। তার এ হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "আমি এখানে কুরবানী করেছি এবং মিনার গোটা এলাকা কুরবানীর স্থান। অতএব তোমরা যার যার অবস্থানে কুরবানী কর। আর আমি এখানে অবস্থান করছি এবং গোটা আরাফাহই অবস্থানস্থল (মাওকিফ), মুযদালিফার সবই অবস্থানস্থল এবং আমি এখানে অবস্থান করছি।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কায় এসে পৌছলেন প্রথমে হাজারে আসওয়াদের নিকট এসে তাতে চুমু খেলেন, অতঃপর তওয়াফ করলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ বলেন, কুরায়শগণ এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা (জাহিলী যুগে) মুযদালিফায় অবস্থান করত। তারা নিজেদের নামকরণ করেছিল "আলহুম্স'। আর সমস্ত আরববাসীরা আরাফাতে অবস্থান করত। যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, আল্লাহ তাআলা তার নবী (ﷺ) কে আরাফায় অবস্থান করার ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্যও তাইঃ "অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে" (আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৯)।
আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, আল-হুমস্ ব্যতীত সকল আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করত। কুরায়শ ও তাদের বংশধরগণকে আল-হুমস্' বলা হতো। আরবরা উলঙ্গ অবস্থায়ই তওয়াফ করত। কিন্তু আল-হুমস্ তাদেরকে কাপড় দান করলে স্বতন্ত্র কথা। তাদের পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের কাপড় দান করত। আল-হুমস্ মুযদালিফার বাইরে যেত না, আর সব লোক আরাফায় চলে যেত। হিশাম বলেন, আমার পিতা (উরওয়াহ্) আয়িশাহ এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আয়িশাহ বলেছেন, আল হুমস্- যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেছেনঃ "অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে" (আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৯)। আয়িশাহ বলেন, লোকেরা আরাফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর আল-হুমস মুযদালিফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তারা বলত, আমরা কেবলমাত্র হারাম এলাকা থেকেই প্রত্যাবর্তন করব। অতঃপর যখন "তোমরা প্রত্যাবর্তন কর যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে" আয়াত নাযিল হল, তখন থেকে তারা আরাফায় গেল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... জুবায়র ইবন মুতাইম বলেন, আমার একটি উট হারিয়ে গেল। আরাফাহ দিবসে আমি তার খোজে বের হলাম। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানরত দেখলাম। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! ইনি তো হুমস্-এর অন্তর্ভুক্ত, কী ব্যাপার ইনি এখানে কেন? অথচ কুরায়শদেরকে হুমস্-এর মধ্যে গণ্য করা হতো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ মূসা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম। তিনি বাতহা নামক স্থানে উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি হাজ্জের নিয়্যাত করেছ? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, তুমি কী ধরনের ইহরাম বেধেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি- লাব্বায়কা, নবী (ﷺ) যে হাজ্জের ইহরাম বেধেছেন, আমিও তদ্রুপ ইহরাম বাধলাম। তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছ। এখন বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করলাম, সাফা-মারওয়ার সাঈ করলাম, অতঃপর কায়স গোত্রের এক স্ত্রীলোকের নিকট এলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাধলাম। আমি লোকদেরকে এভাবেই ফাতাওয়া দিতে থাকলাম উমার এর খিলাফাত পর্যন্ত। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে বলল, হে আবূ মূসা অথবা (বলল) আবদুল্লাহ ইবন কায়স! আপনার কিছু ফাতাওয়া আপাততঃ স্থগিত রাখুন। কারণ আমীরুল মুমিনীন (উমার) আপনার পরে হজ্জ সম্পর্কে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা আপনি জ্ঞাত নন। তখন আবূ মূসা বললেন, হে লোক সকল! আমি যাদের ফাতাওয়া দিয়েছি (ইহরাম খোলা সম্পর্কে) তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ আমীরুল মুমিনীন অচিরেই তোমাদের নিকট আসছেন, অতএব তার আনুগত্য করা তোমাদের কর্তব্য। রাবী বলেন, উমর এলেন এবং আমি তার সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলি, তবে তা আমাদের নির্দেশ দেয় (হাজ্জ ও উমরাহ) পূর্ণ করার। আমরা যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাতের উপর আমল করি, তবে কুরবানীর পশু তার (কুরবানীর) স্থানে না পৌছা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম খুলেননি।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ্ থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ মূসা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম। তিনি বাতহা নামক স্থানে উট বসিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেধেছ? আমি বললাম, আমি নবী (ﷺ) এর অনুরূপ ইহরাম বেধেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেল। অতএব আমি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর আমার গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথার চুল আচড়িয়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। আমি আবূ বকর ও উমর এর খিলাফতকালে লোকদেরকে অনুরূপ ফাতাওয়া দিতাম। হাজ্জের মৌসুম আগত, এ সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল, আপনি হয়ত জানেন না, আমীরুল মুমিনীন (উমার) হজ্জের ব্যাপারে কী নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন। আমি বললাম, হে জনগণ! আমি যাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে যে ফাতাওয়া দিয়েছি- তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই আমীরুল মুমিনীন তোমাদের মধ্যে এসে পৌছবেন। তোমরা তার অনুসরণ করবে। তিনি (উমার) এসে পৌছলে আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হাজ্জের ব্যাপারে নতুন কী বিধান দিচ্ছেন? তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব আকড়ে ধরি, তবে আল্লাহ বলেনঃ "তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ কর"(আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৬)। আর আমরা যদি আমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাতের অনুসরণ করি, তাহলে নবী (ﷺ) সাথে করে নিয়ে আসা পশু যবাহ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতেন না।
ইসহাক ইবন মানসূর ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যে বছর হজ্জ করেছিলেন, আমি সে বছর (হাজ্জ) এসে তার সঙ্গে মিলিত হলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবূ মূসা! ইহরাম বাধার সময় তুমি কী নিয়্যাত করেছিলে? আমি বললাম, লাব্বায়কা! আমার ইহরাম নবী (ﷺ) এর ইহরামের অনুরূপ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে যাও, বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ কর, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। ... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত শুবাহ ও সুফইয়ানের হাদীস দু'টির অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি তামাত্তু হজ্জের অনুকূলে ফাতাওয়া দিতেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি আপনার ফাতাওয়া স্থগিত রাখুন। আপনি হয়ত জানেন না, আপনার পরে আমীরুল মুমিনীন হাজ্জের ব্যাপারে কী বিধান প্রবর্তন করেছেন। পরে তিনি (আবূ মূসা) তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং (এ ব্যাপারে) তাকে জিজ্ঞেস করলেন। উমার বললেন, আমি অবশ্যই জানি রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ (তামাত্তু) করেছেন। কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি না যে, বিবাহিত লোকেরা গাছের ছায়ায় স্ত্রীদের সাথে যৌন সঙ্গম করবে, অতঃপর এমন অবস্থায় হজ্জের জন্য রওনা হবে যে, তাদের মাথার চুল দিয়ে পানি টপকে পড়ছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন শাকীক বলেছেন, উসমান তামাত্তু হাজ্জ করতে নিষেধ করতেন। আর আলী তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন। অতএব উসমান আলী এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর আলী বললেন, আপনি অবশ্যই জানেন, আমরা নিশ্চিত রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি। উসমান বললেন, হ্যা; কিন্তু আমরা তখন আতঙ্কিত ছিলাম।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী ..... শুবাহ এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ও উসমান উসফান' নামক স্থানে একত্রে হলেন। উসমান তামাত্তু ও উমরাহ করতে নিষেধ করতেন। আলী বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কাজ করেছেন, আপনি তা নিষেধ করেছেন- এতে আপনার উদ্দেশ্য কী? উসমান বললেন, আপনি আমাকে আপনার কথা থেকে রেহাই দিন। আলী বললেন, আমি আপনাকে ছাড়তে পারি না। আলী যখন এ অবস্থা দেখলেন, তিনি একত্রে হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাধলেন।
সাঈদ ইবন মানসুর, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু হাজ্জ মুহাম্মদ (ﷺ) এর সাহাবীগণের জন্যই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু হাজ্জ আমাদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে অনুমোদিত ছিল।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ যার বলেন, দুটি মুতআহ কেবল আমাদের যুগের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। মুতআহ বিবাহ ও তামাত্তু হাজ্জ।
কুতায়বাহ .... আবদুর রহমান ইবন আবূ শা'সা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম নাখাঈ ও ইবরাহীম আত্ তায়মীর নিকট এলাম এবং বললাম, আমি এ বছর হজ্জ ও উমরাহ একত্রে করতে চাই। ইবরাহীম নাখাঈ বললেন, কিন্তু তোমার পিতা তো এরূপ সংকল্প করেননি। কুতায়বাহ ইবরাহীম আত তায়মী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (পিতা) রাবাযাহ নামক স্থানে আবূ যার এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার সামনে এ প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলেন। আবূ যার বললেন, তা আমাদের জন্য (একটা সুবিধা স্বরূপ) নির্দিষ্ট ছিল, তোমাদের জন্য নয়।
সাঈদ ইবন মানসূর ও ইবন আবূ উমর .... গুনায়ম ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস কে তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমরা উমরাহ আদায় করেছি। এটা সে সময়কার কথা যখন তিনি (আমীর মুআবিয়াহ্) কাফির ছিলেন এবং মক্কার বাড়িতে বসবাস করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... সুলায়মান আত তায়মী থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তিনি এ রিওয়ায়াতে মুআবিয়াহ এর নাম উল্লেখ করেছেন।
আমর আন নাকিদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ খালাফ .... সুলায়মান আত তায়মী থেকে উক্ত সূত্রে উভয়ের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং সুফইয়ানের হাদীসে তামাত্তু হাজ্জের উল্লেখ রয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... মুতাররিফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবন হুসায়ন আমাকে বললেন, আমি আজ তোমাকে একটি হাদীস বলব, পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তোমাকে উপকৃত করবেন। জেনে রাখ, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে যিলহাজ্জ মাসের দশ তারিখের মধ্যে উমরাহ করিয়েছিলেন। এটা রহিত করে কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ইন্তিকাল পর্যন্ত তা করতে নিষেধ করেননি। পরে লোকেরা নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী মত পোষণ করে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আল জুরায়রী থেকে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে হাতিম তার রিওয়ায়াতে বলেছেন, "এক ব্যক্তি উমার তার নিজ ইচ্ছানুযায়ী মত পোষণ করেন।"
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... মুতাররিফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবন হুসায়ন আমাকে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদীস শুনাব। আশা করি, আল্লাহ তোমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জ ও উমরাহ একত্রে আদায় করেছেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এরূপ করতে নিষেধ করেননি এবং তা হারাম বলে কুরআনের কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। (রোগের কারণে) তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত আমাকে (ফেরেশতাগণ কর্তৃক) সালাম দেয়া অব্যাহত ছিল। আমি দাগ গ্রহণ করলে সালাম দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন দাগ দেয়া বন্ধ করলাম, পুনরায় সালাম দেয়া শুরু হয়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ... মুত্বাররিফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবন হুসায়ন আমাকে বললেন ... পরবর্তী অংশ উপরোক্ত মুআয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মুত্বাররিফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবন হুসায়ন মৃত্যুকালীন রোগে আমাকে ডেকে পাঠান। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কয়েকটি হাদীস বলব, আশা করি আল্লাহ তাআলা আমার পরে তোমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন। আমি বেচে থাকলে তুমি আমার সূত্রে বর্ণনা করা গোপন রাখবে। আর আমি মারা গেলে তুমি চাইলে তা বর্ণনা করতে পার। আমাকে সালাম করা হতো। জেনে রাখ, আল্লাহর নবী (ﷺ) হাজ্জ ও উমরাহ একত্রে আদায় করেছেন। অতঃপর এ বিষয়ে কোন আয়াতও নাযিল হয়নি এবং নবী (ﷺ) ও তা নিষিদ্ধ করেননি। এক ব্যক্তি (উমার) এ বিষয়ে যা ইচ্ছা করলেন, তা বললেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জেনে রাখ, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জ ও উমরাহ একত্রে (একই ইহরামে) আদায় করেছেন। এরপর এ বিষয়ে কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও অনুরূপ করতে আমাদেরকে নিষেধ করেননি। এরপর এক ব্যক্তি এ বিষয়ে নিজ ইচ্ছামত যা বলার, তা বললেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি। এ বিষয়ে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয়নি। এক ব্যক্তি ইচ্ছামত যা বলার, তাই বললেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... ইমরান ইবন হুসায়ন এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তামাত্তু হাজ্জ আদায় করেছেন এবং আমরাও তার সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি।
হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকদামী ..... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে মুতআহ্ তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কিত আয়াত রহিতকারী কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তা করতে নিষেধ করেননি। পরবর্তীকালে এক ব্যক্তি নিজ ইচ্ছামত যা বলার, তাই বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তিনি বলেছেন, "আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এ হাজ্জ করেছি।" তিনি এরূপ বলেননি "রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তামাত্তু করেছেন, প্রথমে উমরাহ ও পরে হাজ্জ করেছেন এবং পশু কুরবানী করেছেন। তিনি যুল হুলায়ফাহ থেকে সাথে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন। এখান থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে উমরার, অতঃপর হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণে হাজ্জের সাথে উমরাহ যুক্ত করে তামাত্তু করেছে। কতক লোকেরা কুরবানীর পশু সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানীর পশু ছিল না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা-তে উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে, হাজ্জ শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোন জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই- তারা যেন বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে মাথার চুল খাটো করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর তারা (৮ যিলহাজ্জ) পুনরায় হাজ্জের জন্য ইহরাম বাধবে এবং (নির্দিষ্ট দিনে) কুরবানী করবে। কোন ব্যক্তি কুরবানীর পশু না পেলে হাজ্জ চলাকালীন সময়ে তিনদিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাতদিন সওম পালন করবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌছে প্রথমে রুকনে (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করলেন- তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ সমাপ্ত করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু' রাকাআত নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাঈ করলেন। এরপর তিনি কোন জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হাজ্জ সমাপন করেন এবং কুরবানীর দিন নিজের পশু কুরবানী না করেন এবং কাবাহ ঘর-এর তাওয়াফ করেছেন। অতঃপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তার জন্য হালাল হয়ে গেল (তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল, তারাও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুরূপ করেছিল।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... উরওয়াহ্ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তামাত্তু হাজ্জ পালন এবং তার সাথের লোকদের তামাত্তু হাজ্জ সম্পাদন সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসাহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরামমুক্ত হল অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি আমার মাথার চুল জমাট করেছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেধেছি। অতএব আমি কুরবানী না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারি না।
ইবন নুমায়র .... হাফসাহ্ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, আপনি ইহরাম খুলেননি? ... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হাফসাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরাম খুলেছে অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেধেছি এবং মাথার চুল জমাট করেছি। অতএব হাজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারব না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। হাফসাহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! .... মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ- কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।
ইবন আবূ উমর .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসাহ আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের দিন তার স্ত্রীদের (উমরাহ সমাপনের পর) নির্দেশ দিলেন তারা যেন ইহরাম খুলেন। হাফসাহ বলেন, আমি বললাম, আপনাকে ইহরাম খুলতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, আমি মাথার চুল আঠালো করেছি এবং সাথে কুরবানীর পশু এনেছি। অতএব পশু কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারি না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নাফি থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উমার হাঙ্গামা [হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ও আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র এর মধ্যকার সংঘাত] চলাকালীন সময়ে উমরাহ করার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ পৌছতে আমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হই তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যেরূপ করেছিলাম, এখনও তদ্রুপ করব। অতএব তিনি রওনা হলেন এবং উমরার ইহরাম বাধলেন, তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন; যতক্ষণ না আল বায়দা নামক স্থানে পৌছলেন। এখানে তিনি নিজের সঙ্গীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি নিজের জন্য হাজ্জ-কে উমরার সাথে বাধ্যতামূলক করলাম। (রাবী বলেন) অতএব তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন, সাতবার তাওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং নিজের (হাজ্জ ও উমরার) জন্য এটাই (এক তাওয়াফ ও এক সাঈ) যথেষ্ট বিবেচনা করলেন এবং কুরবানী করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবন আবদুল্লাহ উভয়ে আবদুল্লাহ ইবন উমর এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তারা উভয়ে বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশংকা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌছতে পারবেন না। আবদুল্লাহ ইবন উমর বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তার ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি উমরার নিয়্যত করলাম। অতঃপর তিনি রওনা হয়ে যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌছে উমরার জন্য তালবিয়াহ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি উমরাহ পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ "তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ"(আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বায়দা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌছলেন। এখানে পৌছে তিনি বললেনঃ হাজ্জ ও উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হাজ্জের মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার উমরার সাথে হাজ্জ-কেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌছে কুরবানীর পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য এক তাওয়াফ (সাত চক্কর) ও এক সাঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হাজ্জ সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন।
ইবন নুমায়র .... নাফি থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ যে বছর ইবন যুবায়র এর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল- ঐ বছর উমর হাজ্জের সংকল্প করলেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ সূত্রে হাদীসের শেষাংশে উল্লেখ আছে যে, "তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি হাজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাধল, তার জন্য এক তাওয়াফই (সাত চক্কর) যথেষ্ট এবং উভয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না।
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ .... নাফি থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ যে বছর ইবন যুবায়র এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল- সে বছর আবদুল্লাহ ইবন উমার হজ্জে যাবার সংকল্প করলেন। তাকে বলা হল, লোকদের মধ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং আমাদের আশংকা হচ্ছে- তারা আপনাকে বাধা দিবে। তিনি বললেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ-"(আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। এরূপ পরিস্থিতিতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন, আমিও অনুরূপ করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি উমরার সংকল্প করেছি। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। অবশেষে যখন আল বায়দার উপকণ্ঠে পৌছলেন তখন তিনি বললেন, হাজ্জ ও উমরার অবস্থা একই, তোমরা সাক্ষী থাক। ইবন রুমূহের বর্ণনায় আছেঃ আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি নিশ্চয়ই আমার উমরার সাথে হাজ্জ অনিবার্য করে নিলাম। অতঃপর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিলেন যা তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ ও উমরার একত্রে ইহরাম বেধে অগ্রসর হলেন। অবশেষে মক্কায় পৌছে তিনি বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করলেন না। তিনি কুরবানীও করেননি। মাথা মুণ্ডান বা চুল ছাঁটেননি এবং (ইহরামের কারণে) যা কিছু তার জন্য হারাম হয়েছিল, তার কোনটি হালাল করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন ও মাথা কামালেন এবং তার মত অনুযায়ী তিনি তার প্রথম তাওয়াফ দ্বারাই হাজ্জ ও উমরার তাওয়াফ সম্পাদন করে ফেলেছেন। ইবন উমার বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
আবূ রবী আয যাহরানী, আবূ কামিল ও যুহায়র ইবন হারব .... নাফি সূত্রে ইবন উমর থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেন। তবে এ সূত্রে হাদীসের প্রথমাংশে তিনি নবী (ﷺ) এর উল্লেখ করেছেন- যখন তাকে বলা হল, আপনি বায়তুল্লাহ এ পৌছতে বাধাগ্রস্ত হবেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। তিনি হাদীসের শেষে উল্লেখ করেননি যে, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন" যেমন লায়স এর বর্ণনায় রয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ও আবদুল্লাহ ইবন আওন আল হিলালী ..... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। ইয়াহইয়ার রিওয়ায়াতে আছে যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বাধলাম। ইবন আওন এর রিওয়ায়াতে আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইফরাদ হাজ্জের ইহরাম বাধলেন।
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে একত্রে হাজ্জ ও উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি। (অধঃস্তন রাবী) বাকর বলেন, আমি এ হাদীস ইবন উমর এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করেছেন। অতঃপর আমি (বাকর) আনাস এর সাথে সাক্ষাৎ করে তার কাছে ইবন উমর এর বক্তব্য উল্লেখ করি। তখন আনাস বললেন, তোমরা আমাদেরকেও শিশুই মনে কর। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) একত্রে হাজ্জ ও উমরার তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি।
উমাইয়্যাহ্ ইবন বিসত্বাম আল আয়শী .... আনাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) কে একত্রে হাজ্জ ও উমরাহ আদায় করতে দেখেছেন। রাবী বলেন, আমি ইবন উমর কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা শুধু হাজ্জের ইহরাম বেধেছি। আমি (বাকর) পুনরায় আনাস এর নিকট ফিরে আসি এবং ইবন উমর যা বলেছেন, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলাম। আনাস বললেন, আমরা বুঝি তখন শিশু ছিলাম!
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ওয়াবারাহ বলেন, আমি ইবন উমার এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, আল মাওকিফ (আরাফাহ) এ যাবার পূর্বে বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করা আমার জন্য সঠিক হবে কি? তিনি বললেন, হ্যা। সে বলল, কিন্তু ইবন আব্বাস বলেন, তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো না- যে পর্যন্ত না মাওকিফে আসো ইবন উমর বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জ করেছেন এবং মাওকিফে যাবার পূর্বেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। অতএব তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে বল, তোমার কাছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা মত আমল করা উচিত, না ইবন আব্বাস-এর কথা মত?
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ওয়াবারাহ বলেন, এক ব্যক্তি ইবন উমার এর কাছে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করব অথচ আমি হাজ্জের ইহরাম বেধেছি? তিনি বললেন, কিসে তোমাকে বাধা দিচ্ছে? সে বলল, আমি অমুকের পুত্রকে দেখেছি, তিনি তা পছন্দ করেন না কিন্তু তার তুলনায় আপনি আমাদের অধিক প্রিয়। আমরা লক্ষ্য করছি যে, এ দুনিয়া তাকে প্রলুব্ধ করেছে। ইবন উমার বললেন, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যাকে দুনিয়া প্রলুব্ধ করেনি? অতঃপর তিনি বললেন, আমরা দেখেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জের ইহরাম বেধেছেন এবং বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন। অতএব তুমি সত্যবাদী হলে আল্লাহর হুকুম ও তার রসূল (ﷺ) এর সুন্নাত অমুকের সুন্নাতের তুলনায় অনুসরণের বেলায় অগ্রগণ্য।
যুহায়র ইবন হারব .... আমর ইবন দীনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবন উমার এর নিকট এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, উমরাহ করার উদ্দেশে আগমন করেছে, অতঃপর বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেছে কিন্তু সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেনি- সে কি তার স্ত্রীর সাথে মিলতে পারে? ইবন উমর বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাহ আগমন করে সাতবার বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেন, মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু' রাকাআত নামাজ আদায় করেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করেন। আর তোমাদের জন্য অবশ্যই আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ..... মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, ইরাকের অধিবাসী এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার পক্ষ থেকে আপনি উরওয়াহ ইবন যুবায়র কে জিজ্ঞেস করুন যে, এক ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বাধল, সে বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পর ইহরাম খুলতে পারবে কিনা? তিনি যদি আপনাকে বলেন, সে ইহরাম খুলতে পারবে না- তবে তাকে বলুন, এক ব্যক্তি বলেছে, সে ইহরাম খুলতে পারবে। রাবী বলেন, অতএব আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বেধেছে, সে তা সমাধান না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারবে না। আমি বললাম, কিন্তু এক ব্যক্তি তাই বলেছে। তিনি বললেন, সে যা বলছে তা দুঃখজনক। ইরাকের লোকটি আমার সাথে পুনরায় সাক্ষাৎ করলে আমি তাকে উপরোক্ত কথা বললাম। সে বলল, আপনি তাকে বলুন, কিন্তু এক ব্যক্তি বলে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাই করেছেন এবং আসমা ও যুবায়র অনুরূপ করেছেন কেন? রাবী বলেন, আমি তার নিকট গিয়ে এ বিষয় তাকে জানাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, তার কী হয়েছে যে, সে নিজে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করছে না? আমার মনে হয়, সে ইরাকী। আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাজ্জ সম্পর্কে আয়িশাহ আমাকে অবহিত করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌছে সর্বপ্রথম যে কাজ করেছেন তা ছিল এই যে, তিনি ওযু করেন, এরপর বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করেছেন, অতঃপর আবূ বকর হাজ্জ করেছেন। তিনি মক্কায় পৌছে) সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করেছেন এবং এরপর উমার-ও অনুরূপ করেছেন। অতঃপর উসমান হাজ্জ করেছেন। আমি তাকে সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে দেখেছি এবং এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর মুআবিয়াহ ও আবদুল্লাহ ইবন উমর-ও (অনুরূপ করেছেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবায়র ইবন আওওয়াম-এর সাথে হাজ্জ করেছি। তিনিও সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করেছেন। এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর আমি মুহাজির ও আনসারদের অনুরূপ করতে দেখেছি। এছাড়া তারা অন্য কিছু করেননি। অতঃপর সর্বশেষে আমি যাকে অনুরূপ করতে দেখেছি, তিনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবন উমর। তিনি হাজ্জকে উমরাহ দ্বারা ভঙ্গ করেননি। আর সে ইবন উমর তো তাদের মধ্যে বর্তমান আছে। তারা কেন তাকে জিজ্ঞেস করছে না? এভাবে যত লোক অতীত হয়েছে, তারা মক্কায় পা রেখেই সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর তওয়াফ করতেন। অতঃপর তারা ইহরাম খুলতেন না। আর আমি, আমার মা [আসমা বিনতু আবূ বকর] ও আমার খালা [আয়িশাহ]-কেও দেখেছি যে, তারা মক্কা (মক্কায়) পৌছে প্রথমেই বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করেছেন। এরপরও ইহরাম খুলেননি। আমার মা (আসমা) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তার বোন (আয়িশাহ), যুবায়র এবং অমুক অমুক শুধুমাত্র উমরার ইহরাম বেধে মক্কায় এসেছেন এবং তারা (ত্বওয়াফ ও সাঈর পরে) রুকন (হাজারে আওসয়াদ) চুম্বন করার পর ইহরাম খুলেছেন। এ ব্যক্তি (ইরাকী) এ ব্যাপারে যা বলেছে, মিথ্যা বলেছে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও যুহায়র ইবন হারব .... আসমা বিনতু আবূ বকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম বেধে রওনা হলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে যেন ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমার সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তাই আমি ইহরাম খুলে ফেললাম। কিন্তু (আমার স্বামী) যুবায়র এর সাথে কুরবানীর পশু ছিল, তাই তিনি ইহরাম খুলেননি। রাবী বলেন, আমি আমার স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করে বের হয়ে গিয়ে যুবাযর এর পাশে বসলাম। তিনি বললেন, আমার নিকট থেকে উঠে যাও। আমি বললাম, তুমি কি আশংকা করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ব?
আব্বাস ইবন আবদুল আযম আল আম্বারী .... আসমা বিনতু আবূ বকর বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেধে (মক্কায়) পৌছলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা ইবন জুরায়জের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, যুবায়র বললেন, "তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও, দূরে সরে যাও।" আমি (আসমা) বললাম, তুমি কি আশংকা করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ব?"
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... আসমা এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আসমা যখনই আল-হাজুন (হারাম শরীফের সীমার মধ্যে মক্কার উচ্চভূমিতে একটি পাহাড়) অতিক্রম করতেন, তখনই তিনি তাকে বলতে শুনতেন, সল্লাল্লাহু আলা রসূলহী (আল্লাহ তাআলা তার রসূল (ﷺ) কে অনুগ্রহ করুন)। আমরা তার সঙ্গে এখানে অবতরণ করেছিলাম, আমাদের বোঝা ছিল কম, বাহনের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং রসদও ছিল সামান্য। আমি, আমার বোন আয়িশাহ, যুবায়র এবং আরও অমুক অমুক উমরাহ পালন করেছিলাম। আমরা যখনই বায়তুল্লাহ স্পর্শ করলাম, তখনই ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর তৃতীয় প্রহরে হাজ্জের ইহরাম বাধলাম। অধঃস্তন রাবী হারূন তার রিওয়ায়াতে বলেছেন, "আসমা এর মুক্তদাস" এবং তিনি আবদুল্লাহ' নাম উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... মুসলিম আল কুররী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর নিকট তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি তার অনুমতি দিলেন কিন্তু ইবন যুবায়র তা নিষেধ করতেন। ইবন আব্বাস বললেন, এই তো ইবন যুবায়র এর মা, তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা করার অনুমতি দিয়েছেন। তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস কর। রাবী বলেন, আমরা তার কাছে গেলাম, তিনি ছিলেন স্থূলদেহী এবং তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তামাত্তু হাজ্জের অনুমতি দিয়েছেন।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ... শুবাহ থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অধঃস্তন রাবী আবদুর রহমানের বর্ণনায় "আল মুতআহ" উল্লেখ আছে- "মুতআতুল হাজ্জ" নয় এবং ইবন জাফার এর বর্ণনায় শুবাহ বলেন, মুসলিম আল কুররী বলেছেন, তামাত্তু হাজ্জ না মুতআহ বিবাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তা আমি জানি না।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... মুসলিম আল কুররী ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) উমরার ইহরাম বাধলেন এবং তার সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বাধলেন। নবী (ﷺ) এবং তার সাহাবীগণের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ইহরাম খুলেননি। অন্যরা (তওয়াফ ও সাঈর পর) ইহরাম মুক্ত হয়ে গেলেন। যারা সাথে কুরবানীর পশু এনেছিলেন, তলহাহ্ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তিনিও ইহরাম খুলেননি।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... শুবাহ থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় হাদীসের শেষাংশ এরূপঃ "যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, ত্বলহাহ ইবন উবায়দুল্লাহ এবং আরও এক ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তারা উভয়ে ইহরাম খুলে ফেলেন।"
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন জাহিলী যুগে লোকেরা হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ পালন করাকে পৃথিবীর বুকে সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধ মনে করত এবং মুহাররম মাসকে 'সফর মাস হিসেবে গণনা করত। তারা বলত, যখন উটের পিঠ ভালো হয়ে যাবে, হাজীদের পদচিহ্ন লুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফর মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ করতে চায়, তার জন্য তা করা জায়িয হবে। নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বেধে যিলহাজের চার তারিখে মক্কায় পৌছলে তিনি তাদের হাজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ তাদের কাছে গুরুতর কাজ বলে মনে হল। অতএব তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে ইহরামমুক্ত হব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হবে।
নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আবূল আলিয়াহ্ আল বাররা থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজ্জের ইহরাম বাধলেন। তিনি যিলহাজ্জ মাসের ৪ তারিখের পর (মক্কাহ পৌছলেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করতে চায়, সে তা করতে পারে।
ইবরাহীম ইবন দীনার, আবূ দাউদ আল মুবারাকী ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ থেকে বর্ণিত। এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাওহ ও ইয়াহইয়া ইবন কাসীর এর বর্ণনায় নাসর এর অনুরূপ কথা আছেঃ "রসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের ইহরাম বাধলেন।" আবূ শিহাব এর বর্ণনায় আছেঃ "আমরা হজ্জের ইহরাম বেধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম।" তাদের সকলের বর্ণনায় আছেঃ "রসূলুল্লাহ (ﷺ) আল বাত্বহা নামক স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করলেন।" কিন্তু আল জাহযামী এর বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বেধে (যিলহাজ্জ মাসের প্রথম) দশ দিনের চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মক্কায় (মক্কায়) উপনীত হন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে।
আবদ ইবন হুমায়দ ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) 'যি তুওয়া' নামক স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর (মক্কা-য়) পৌছলেন এবং তার সাহাবীগণের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন নিজেদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করে- কিন্তু যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে ব্যতীত।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই সে উমরাহ যা থেকে আমরা ফায়দাহ উঠিয়েছি। অতএব যার সাথে কুরবানীর পশু নেই- সে যেন সম্পূর্ণরূপে ইহরাম খুলে ফেলে। কেননা উমরাকে কিয়ামত পর্যন্ত হাজ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ জামরাহ্ আয যুবাঈ বলেন, আমি তামাত্তু হাজ্জ করলাম। কতিপয় লোক আমাকে তা করতে নিষেধ করল। আমি ইবন আব্বাস এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আমি বায়তুল্লাহতে আসলাম এবং ঘুমালাম। স্বপ্নে আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, উমরা কবুল হয়েছে এবং হাজ্জও কবুল হয়েছে। আমি ইবন আব্বাস এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ স্বপ্লের কথা বললাম। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! এতো আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাত।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে যুহরের নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর নিজের (কুরবানীর) উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বললেন এবং কুঁজের ডান দিক দিয়ে ফেড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হল। অতঃপর তিনি এর গলায় দু'টি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করলেন। অতঃপর তা যখন তাকে নিয়ে আল বায়দায় পৌছল, তখন তিনি হাজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ্ থেকে এ সূত্রে শুবাহ এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অবশ্য তিনি এখানে বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) যুল হুলায়ফাহ এলেন তবে যুহরের নামাজ আদায় করেছেন" এ কথা উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হাসসান আ'রাজ কে বলতে শুনেছি, আল হুযায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস কে বলল, আপনি এ কী ফাতাওয়া দিচ্ছেন যা নিয়ে লোকেরা জটিলতায় পড়েছে? (তা এই) যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ এ তওয়াফ করবে, সে ইহরামমুক্ত হতে পারবে। ইবন আব্বাস বললেন, এটা তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাত, তা তোমাদের মনঃপুত হোক বা না হোক।
আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী ... আবূ হাসসান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস কে বলা হল, এ ব্যাপারটি লোকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করে, সে হালাল হয়ে যায় এবং তার ইহরাম উমরায় পরিণত হয় (যদিও হাজ্জের ইহরাম হয়ে থাকে)। ইবন আব্বাস বললেন, এটা তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাত যদিও তোমাদের নাক ধূলিমলিন হয়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আতা বলেন, ইবন আব্বাস বলতেন, যে ব্যক্তি (মক্কায়) পৌছে) বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করল, সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেল- সে হাজ্জ পালনকারী হোক অথবা অন্য কিছু (উমরাহ) পালনকারী। আমি (ইবন জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কালামের ভিত্তিতেঃ "অতঃপর এগুলো কুরবানীর স্থান মর্যাদাবান ঘরের নিকট"(হাজ ২২ঃ ৩৩)। আমি বললাম, তা তো আরাফাহ থেকে ফেরার পর। তিনি বললেন, ইবন আব্বাস বলতেন, (কুরবানীর স্থান সম্মানিত ঘরের নিকট) তা আরাফায় উকুফের পর হোক অথবা পূর্বে। তিনি নবী (ﷺ) এর কার্যক্রম থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। নবী (ﷺ) স্বয়ং বিদায় হজ্জের সময়ে ইহরাম খোলার নির্দেশ দেন।
আমর আন নাকিদ .... ইবন আব্বাস বলেছেন, মুআবিয়াহ আমাকে বললেন, তুমি কি জান আমি কাঁচি দিয়ে মারওয়াহ পাহাড়ের নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার চুল ছেটে দিয়েছি? আমি তাকে বললাম, এটা আপনার বিরুদ্ধে দলীল।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান তাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি মারওয়াহ পাহাড়ে একটি কাঁচির সাহায্যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার চুল ছেটে দিয়েছি। অথবা আমি (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) মারওয়াহ পাহাড়ের উপর কাঁচির সাহায্যে তার মাথার চুল ছাঁটতে দেখেছি।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উচ্চস্বরে হজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা মক্কায় পৌছলে তিনি আমাদের তা উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন। তালবিয়ার দিন এলে আমরা হজ্জের ইহরাম বেধে মিনার দিকে রওনা হলাম।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ও আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা উচ্চস্বরে হাজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মক্কাহ (মক্কাহ) উপনীত হলাম।
হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী .... আবূ নাযরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, (তামাত্তু হাজ্জ ও মুতআহ বিবাহ) সম্পর্কে ইবন আব্বাস ও ইবন যুবায়র এর মধ্যে মতবিরোধ চলছে। জাবির বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে তা করেছি। এরপর উমর আমাদের তা করতে নিষেধ করেন। অতএব আমরা আর কখনও তা করিনি।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম ... আনাস থেকে বর্ণিত যে, আলী ইয়ামান থেকে আগমন করলে নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেধেছ? তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ) এর অনুরূপ উদ্দেশে ইহরাম বেধেছি। নবী (ﷺ) বললেন, আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি (উমরাহ করার পর) ইহরাম খুলে ফেলতাম।
হাজ্জাজ ইবন শাইর ও আবদুল্লাহ ইবন হাশিম .... সালীম ইবন হাইয়্যান থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এভাবে হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছিঃ "লাব্বায়কা উমরাতান ও হাজ্জান, লাব্বায়কা উমরাতান ওয়া হাজ্জান।"
আলী ইবন হুজর .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আমি উমরাহ ও হাজ্জ উভয়ের ইহরাম বাধছি।
সাঈদ ইবন মানসূর, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব ..... আবূ হুরায়রাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! মারইয়াম পুত্র ঈসা নিশ্চিত রাওহা উপত্যকায় হাজ্জ অথবা উমরাহ অথবা উভয়ের তালবিয়াহ পাঠ করবেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন শিহাব থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "সে সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রাণ"।
হারমালাহ ইবন ইয়াহয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আনাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) চারবার উমরাহ করেছেন এবং হাজ্জের সাথের উমরাহ ব্যতীত সকল উমরাহ্ই যুল কাদায় করেন। (১) হুদায়বিয়াহু থেকে বা হুদায়বিয়ার সময়ের উমরাহ যুল কাদাহ মাসে, (২) পরবর্তী বছরের উমরাহ যুল কাদাহ্ মাসে, (৩) জিরানাহ থেকে কৃত উমরাহ, যেখানে হুনায়নের গনীমাতের সম্পদ বণ্টন করা হয়েছিল, সে উমরাহ যুল কাদাহ্ মাসে এবং (৪) আর একটি উমরাহ যা হাজ্জের সাথে করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ্ বলেন, আমি আনাস কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কতবার হাজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, একবার এবং উমরাহ করেছেন চারবার। .... অবশিষ্ট বর্ণনা হাদ্দাবের হাদীসের অনুরূপ।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবন আরকাম কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে থেকে কয়বার যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, সতেরবার। রাবী বলেন, যায়দ ইবন আরকাম আমাকে আরও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উনিশবার যুদ্ধ করেছেন এবং তিনি হিজরত করার পর একবার হাজ্জ করেছেন, তা হল বিদায় হাজ্জ। আবূ ইসহাক আরও বলেন, তিনি মক্কাহ থেকেও একবার হাজ্জ করেছেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র বলেন, আমি ও ইবন উমার আয়িশাহ এর ঘরে ঠেস দিয়ে বসেছিলাম এবং আমরা মিসওয়াক দিয়ে তার দাত মাজার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান (ইবন উমার) নবী (ﷺ) কি রজব মাসে উমরাহ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি (উরওয়াহ্) বললাম, হে আম্মা! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আবূ আবদুর রহমান কী বলছেন? তিনি বললেন, সে কী বলছে? আমি বললাম, তিনি বলছেন, নবী (ﷺ) রজব মাসে উমরাহ করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা আবূ আবদুর রহমানকে ক্ষমা করুন। আমার জীবনের শপথ, তিনি রজব মাসে কখনও উমরাহ করেননি। আর তিনি যখনই উমরাহ করেছেন, অবশ্যই আবূ আবদুর রহমান তার সঙ্গে ছিল। রাবী বলেন, ইবন উমার কথাগুলো শুনছিলেন, কিন্তু তিনি হ্যা-ও বলেননি এবং না-ও বলেননি, বরং নীরব ছিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মুজাহিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও উরওয়াহ ইবন যুবায়র মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর আয়িশার হুজরায় বসা ছিলেন এবং লোকেরা মসজিদে চাশতের নামাজ আদায় করছিল। আমরা এদের সালাত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা বিদআত। তাকে উরওয়াহ্ বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান! রসূলুল্লাহ (ﷺ) কতবার উমরাহ করেছেন? তিনি বললেন, চারটি উমরাহ, এর একটি রজব মাসে। আমরা তার কথা অসত্য মনে করা ও তা রদ করা অপছন্দ করলাম। আমরা হুজরাহ থেকে আয়িশাহ এর মিসওয়াক করার শব্দ শুনতে পেলাম। উরওয়াহ বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন! আবূ আবদুর রহমান কী বলেছেন তা কি আপনি শুনছেন না? তিনি জিজ্ঞেস কররেন, সে কী বলে? উরওয়াহ্ বললেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) চারবার উমরাহ করেছেন, এর একটি ছিল রজব মাসে। আয়িশাহ্ বললেন, আল্লাহ তাআলা আবূ আবদুর রহমানকে রহম করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখনই উমরাহ করেছেন, সে তার সাথেই ছিল। তিনি কখনও রজব মাসে উমরাহ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মায়মূন .... ইবন আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসারী মহিলাকে বললেন যার নাম ইবন আব্বাস উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তার নাম ভুলে গেছি- আমাদের সাথে হাজ্জ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? মহিলা বলল, আমাদের পানি বহনকারী মাত্র দু'টি উট আছে। আমার ছেলের বাপ (স্বামী) ও তার ছেলে এর একটিতে চড়ে হাজ্জ করেন এবং অপরটি আমাদের জন্য রেখে যান পানি বহনের উদ্দেশে। তিনি বললেন, রমযান মাস এলে তুমি উমরাহ কর। কারণ এ মাসের উমরাহ একটা হাজ্জের সমান।
আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ আয যাব্বী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) উম্মু সিনান নাম্নী এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সাথে হাজ্জ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? মহিলা বলল, অমুকের পিতা- তার স্বামীর দু'টি পানি বহনকারী উট আছে। এর একটি নিয়ে সে ও তার ছেলে হাজ্জে গিয়েছে। অপরটির সাহায্যে আমাদের গোলাম পানি বহন করছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে রমাযান মাসের উমরাহ হাজ্জের সমান কিংবা তিনি বলেছেন, আমাদের সঙ্গে একটি হাজ্জের সমান।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শাজারার পথ দিয়ে (মদীনাহ থেকে) বের হতেন এবং মুআরাস এর পথ দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতেন। তিনি মক্কায় প্রবেশকালে উচ্চ গিরিপথ দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং নিম্নপথ দিয়ে বের হতেন।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... উবায়দুল্লাহ এর সূত্রে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রাবী বলেন, যুহায়রের রিওয়ায়াতে রয়েছে, বাতহার দিকের উচ্চপথ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মক্কায় পৌছলেন, তখন উচ্চ এলাকা দিয়ে প্রবেশ করলেন এবং নীচু এলাকা দিয়ে বের হলেন।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উচ্চভূমিতে অবস্থিত "কাদা" টিলা দিয়ে প্রবেশ করেন। হিশাম বলেন, আমার পিতা উভয় স্থান দিয়েই প্রবেশ করতেন, তবে অধিকাংশ সময় কাদা' টিলা দিয়ে প্রবেশ করতেন।
যুহায়র ইবন হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যী ত্বিওয়া নামক স্থানে ভোর পর্যন্ত রাত্রি যাপন করলেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করলেন। নাফি বলেন, আবদুল্লাহ-ও তাই করতেন। ইবন সাঈদের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। ইয়াহইয়া বলেন, অথবা তিনি (উবায়দুল্লাহ) বলেছেন, নবী (ﷺ) এখানে সকাল পর্যন্ত অবস্থান করলেন।
আবূ রবী আয যাহরানী ... নাফি থেকে বর্ণিত। ইবন উমর যী ত্বিওয়ায় ভোর পর্যন্ত রাত যাপন না করে মক্কায় উপনীত হতেন না। তিনি (সেখানে) গোসল করতেন, অতঃপর দিনের বেলায় মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং নবী (ﷺ)-ও তাই করতেন বলে তিনি বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক মুসাইয়্যাবী .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় আগমন করলে প্রথমে যী ত্বিওয়ায় অবতরণ করতেন, সেখানে রাত যাপন করতেন, এরপর ফজরের নামাজ আদায় করতেন (অতঃপর মক্কা শহরে প্রবেশ করতেন)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ সালাতের স্থান ছিল একটি অসমতল টিলার উপর, সেখানে নির্মিত মসজিদে নয়, বরং নিম্নদিকে অবস্থিত টিলায়।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী .... নাফি থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর তার কাছে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ও কাবার দীর্ঘ পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত দুই উপত্যকার দিকে মুখ করে দাড়ালেন। টিলার পাশে নির্মিত মসজিদ তার বা দিকে থাকত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের স্থান এ কালো টিলার পাদদেশে দশ হাত বা তার চেয়ে সামান্য কমবেশি দূরত্বে অবস্থিত ছিল। তিনি দুই টিলার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করলেন যা তার ও কাবার পার্শ্ববতী বড় পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ছিল। তার উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহয় প্রথমবারের ত্বওয়াফে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক পদক্ষেপে তওয়াফ করতেন। তিনি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর সময় (বাত্বনুল মাসীল) মাসীল উপত্যকার মধ্যবর্তী স্থানে দৌড়াতেন। ইবন উমার-ও তাই করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে মক্কায় পৌছে হজ্জ ও উমরার জন্য বায়তুল্লাহর যে তাওয়াফ করতেন, তাতে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক পদক্ষেপে সম্পন্ন করতেন। অতঃপর দু' রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতেন।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌছে যখন হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতেন, তখন তিনি সাত চক্করের মধ্যে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে সমাধান করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার ইবন আবান আল জু'ফী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন করেছেন।
আবূ কামিল আল জাহদারী .... নাফি থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমার হাজারে আসওয়াদ থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপে তওয়াফ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারে আসওয়াদ থেকে দ্রুত পদক্ষেপে তিন চক্কর দিয়েছেন এবং হাজারে আসওয়াদে পৌছে শেষ করেছেন।
আবূ ত্বাহির .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্রুত পদক্ষেপে হাজারে আসওয়াদ থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন তাওয়াফ সম্পন্ন করেছেন।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... আবূ তুফায়ল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করলাম, বায়তুল্লাহর চারদিক তিনবার দ্রুত গতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে প্রদক্ষিণ করা কি আপনি সুন্নাত মনে করেন? আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা তা সুন্নাত মনে করে। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্যও বলেছে। রাবী বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম- "তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে"- আপনার এ কথার ব্যাখ্যা কী? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় আগমন করলে মুশরিকরা বলল, মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণেরা শারীরিক দুর্বলতার কারণে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে সক্ষম হবে না। তারা তার প্রতি হিংসা পোষণ করত। তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণকে দ্রুত পদক্ষেপে তিনবার এবং স্বাভাবিক গতিতে চারবার (বায়তুল্লাহ) প্রদক্ষিণ করার নির্দেশ দেন। আমি তাকে (পুনরায়) বললাম, আপনি আমাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সওয়ার অবস্থায় প্রদক্ষিণ সম্পর্কে অবহিত করুন, তা কি সুন্নাত? কারণ আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা মনে করে তা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে। আমি তাকে বললাম, "তারা সত্য বলেছে এবং অসত্যও বলেছে"- আপনার এ কথার ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় এলেন। তার আশেপাশে প্রচুর লোক সমাগম হলো। এমনকি যুবতী মেয়েরা পর্যন্ত (তাকে একটু দেখার জন্য) ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। লোকেরা বলাবলি করছিল, ইনি মুহাম্মাদ ইনি মুহাম্মাদ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে থেকে লোকদেরকে হটিয়ে দেয়া হতো না। তার আশেপাশে প্রচুর লোক সমাগম হবার কারণে তিনি (উটে) আরোহণ করেন, অথচ স্বাভাবিক গতিতে পদব্রজে যাওয়া ও সাঈ করা উত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আল জুরায়রী সূত্রে অত্র সানাদে অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেন, "তারা মক্কাবাসী হিংসুক সম্প্রদায়।" তবে তিনি বলেননি তারা তার সঙ্গে হিংসা করে।
ইবন আবূ উমর .... আবূ তুফায়ল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে বললাম, আপনার সম্প্রদায় বলে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফে ও সাফা মারওয়ার সাঈতে রামাল করেছেন, আর এটা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবুত্ব-তুফায়ল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে বললাম, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখছি। তিনি বললেন, আমার কাছে তার বিবরণ পেশ কর। তিনি বললেন, আমি তাকে মারওয়ার নিকট একটি উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় দেখেছি। তার চারপাশে লোকের ভীড় ছিল। ইবন আব্বাস বললেন, হ্যা, তিনিই রসূলুল্লাহ (ﷺ)। কারণ সাহাবীগণের তাড়িয়ে দেয়া হতো না এবং তাদের ধমকও দেয়া হতো না।
আবূ রবী আয যাহরানী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ মক্কায় আগমন করলেন। ইয়াসরিবের জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মুশরিকরা বলল, আগামীকাল তোমাদের এখানে একদল লোক আসবে- যাদেরকে জ্বরে দুর্বল করে দিয়েছে এবং তারা তাতে ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়েছে। মুশরিকরা হাতীম-এ বসে থাকল। নবী (ﷺ) তার সাহাবীগণেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তিন চক্কর দ্রুতপদে এবং হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মাঝখানে স্বাভাবিক গতিতে চলে- যাতে মুশরিকদেরকে তাদের বীরত্ব দেখানো যায়। মুশরিকরা বলল, তোমরা তো এদের সম্পর্কে ধারণা করেছিলে যে, জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে অথচ তারা এমন শক্তিশালী। ইবন আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সাত চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেননি (যাতে তারা ক্লান্ত হয়ে না যায়)।
আমর আন নাকিদ, ইবন আবূ উমার ও আহমাদ ইবন আবদাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এজন্য দ্রুত পদক্ষেপে বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করেছেন- যাতে তিনি মুশরিকগণকে স্বীয় শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দুই ইয়ামানী রুকন ব্যতীত বায়তুল্লাহর অন্য কিছু স্পর্শ করতে দেখিনি।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ .... সালিম তার পিতার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকনে আসওয়াদ (হাজারে আসওয়াদ সংযুক্ত কোণ) এবং তৎসংলগ্ন দিকের কোণ যা জুমাহী গোত্রের বসতির দিকে অবস্থিত, ব্যতীত বায়তুল্লাহর আর কোন রুকন স্পর্শ করতেন না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ...... আবদুল্লাহ (ইবন উমর) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কিছু স্পর্শ করতেন না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, যুহায়র ইবন হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ দুই রুকন ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ কোণ স্পর্শ করা পরিত্যাগ করিনি- যখন থেকে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা স্পর্শ করতে দেখেছি। তা কষ্টকর বা সুবিধাজনক যে কোন অবস্থায় হোক না কেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... নাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে হাজারে আসওয়াদ স্বহস্তে স্পর্শ করে তাতে চুমু খেতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যে দিন তা করতে দেখেছি- তখন থেকে আমি তা কখনো পরিত্যাগ করিনি।
আবূ তাহির .... আবূ তুফায়ল আল বাকরী ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দুই রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত কখনও অন্য কিছু স্পর্শ করতে দেখিনি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... সালিম থেকে। তার পিতা তাকে বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছেন যে, উমার ইবন খাত্ত্বাব হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করে বললেন, আল্লাহর শপথ আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র। আমি যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। অনুরূপ একটি হাদীস যায়দ ইবন আসলাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকদ্দামী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। উমর হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে চুম্বন করছি বটে কিন্তু অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর পাত্র। কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তোমায় চুম্বন করতে দেখেছি।
খালাফ ইবন হিশাম, আল মুকদ্দামী, আবূ কামিল ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন সারজিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লৌহ মানব উমর ইবন খাত্ত্বাব কে কৃষ্ণ পাথর হাজারে আসওয়াদ চুমো দিতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই তোমাকে চুম্বন করব এবং আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও ক্ষতিও করতে পার না এবং উপকারও করতে পার না। আমি যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমায় চুম্বন করতাম না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আবিস ইবন রবীআ'হ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার কে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আমি অবশ্যই তোমায় চুম্বন করছি এবং আমি জানি যে, তুমি অবশ্যই একটি পাথর। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি কখনও তোমায় চুম্বন করতাম না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... সুওয়ায়দ ইবন গাফালাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর কে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতে এবং তা জড়িয়ে ধরতে দেখেছি। তিনি বলেছেন, আমি তোমার প্রতি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গভীর ভালোবাসা লক্ষ্য করেছি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সুফইয়ান থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর বলেছেন, কিন্তু আমি আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তোমার প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতে দেখেছি। এ বর্ণনায় "তিনি তা জড়িয়ে ধরলেন" কথার উল্লেখ নেই।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) উটে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেন এবং একটি ছড়ির (মিহজান) সাহায্যে রুকন (পাথর) স্পর্শ করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটনীর উপর থেকে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করেন এবং তার ছড়ির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করেন- যেন লোকেরা তাকে দেখতে পায়। তিনি উচুতে থাকেন যাতে তারা তাকে মাসআলাহ-মাসায়িল জিজ্ঞেস করতে পারে, কেননা তিনি লোক দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন।
আলী ইবন খাশরম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেনঃ বিদায় হজ্জে নবী (ﷺ) সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন- যাতে লোকেরা তাকে দেখতে পায়, তিনি সবার উপরে থাকেন এবং তার নিকট তারা (প্রয়োজনের বিষয়) জিজ্ঞেস করতে পারে। কারণ লোকেরা তাকে বেষ্টন করে রেখেছিল। ইবন খাশরমের বর্ণনায় "তারা যেন তাকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে" কথাটুকু উল্লেখ নেই।
হাকাম ইবন মূসা আল কানত্বারী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটে সওয়ার হয়ে কাবার চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করেন এবং রুকন স্পর্শ করেন- লোকদের তার নিকট থেকে হটিয়ে দেয়াটা অপছন্দ হওয়ার কারণে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মারূফ ইবন খাররাবুয থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ তুফায়ল কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে, তার সাথের লাঠি দিয়ে রুকন স্পর্শ করতে এবং লাঠিতে চুম্বন করতে দেখেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানলাম। তিনি বললেন, তুমি সওয়ার অবস্থায় লোকদের পেছন থেকে তওয়াফ কর। উম্মু সালামাহ বলেন, আমি (সেভাবে) তওয়াফ করলাম- তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর পাশে নামাজ আদায় করছিলেন। আর তিনি তাতে তিলাওয়াত করছিলেনঃ আত্ব তুর, ওয়া কিতাবিম্ মাস্তুর।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ থেকে তার পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ কে বললাম, আমি মনে করি কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ না করলে তার কোন ক্ষতি হবে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? আমি বললাম, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ 'সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ........ "(আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)। তখন আয়িশাহ বললেন, কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে আল্লাহ তার হাজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ করেন না। তুমি যা বলেছ যদি তাই হতো তবে আয়াতটি এভাবে হতো, "ঐ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন অসুবিধা নেই।" তুমি কি জান ব্যাপারটি কী ছিল? ব্যাপার তো ছিল এই যে, আনসারগণ জাহিলী যুগে দু'টি প্রতিমার নামে সমুদ্রের তীরে ইহরাম বাধত। একটির নাম ইনসাফ, অপরটির নাম নায়িলাহ। তারা এসে সাফা-মারওয়াহ সাঈ করত। অতঃপর মাথা কামাতো। ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা জাহিলী যুগে যা করত, সে কারণে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা খারাপ মনে করল। তাই আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম .........।" অতঃপর লোকেরা সাঈ করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উরওয়াহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে বললাম, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে এতে আমার জন্য কোন দোষ মনে করি না। তিনি বললেন, কেন? আমি বললাম, কেননা মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ "সাফা মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম .....।" তখন আয়িশাহ্ বললেন, তুমি যেরূপ বলছ, যদি তাই হতো, তবে আয়াতের বক্তব্য এরূপ হতোঃ "এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন দোষ নেই।" এ আয়াত আনসারদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়। জাহিলী যুগে তারা যখন লাব্বায়কা বলত- তা মানাৎ দেবীর নামে লাব্বায়কা ধ্বনি করত। তাই তারা মনে করত যে, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা তাদের জন্য ঠিক নয়। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (বিদায়) হজ্জে এসে তার নিকট এ বিষয়ে উল্লেখ করলে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। অতএব আমার জীবনের শপথ! যে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে- আল্লাহ তার হাজ্জ পূর্ণ করবেন না।
আমর আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমর .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ কে বললাম, কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে এতে আমি দোষের কিছু দেখি না এবং আমি নিজেও এতদুভয়ের মাঝে সাঈ বর্জন করায় কিছু মনে করি না। আয়িশাহ বললেন, হে বোনপুত্র! তুমি যা বলেছ তা মন্দ বলেছ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাফা-মারওয়ার মাঝে) তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন এবং মুসলিমরাও তাওয়াফ করেছে। অতএব তা সুন্নাত। যে সব লোক (জাহিলী যুগে) 'মুশাল্লাল' নামক স্থানে অবস্থিত নাফরমান মানাৎ দেবীর নামে ইহরাম বাধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তখন আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন, "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কাবাহ ঘরের হাজ্জ কিংবা উমরাহ্ পালন করে, এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ করলে এতে তার কোন পাপ নেই ........ "(আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)। তুমি যা বলেছ, ব্যাপারটি যদি তদ্রপ হতো তবে বলা হতো, "এ দু'টির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করলে তার কোন পাপ নেই।" ইমাম যুহরী বলেন, এ প্রসঙ্গটি আমি আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশামের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি তাতে বিস্মিত হলেন এবং বললেন, এর নামই জ্ঞান। তিনি আরও বললেন, জ্ঞানবান সমাজের অনেক লোককে বলতে শুনেছি- সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ বর্জনকারী আরবের অধিবাসীরা বলত, এ দুই পাথরের মাঝে তাওয়াফ করা জাহিলী যুগের কাজ। আর আনসার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলত, আমাদেরকে বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন : "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।" আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান বলেন, আমিও মনে করি যে, উল্লেখিত দুই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... উরওয়াহ্ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে- তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ কে খারাপ মনে করি। তখন আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেনঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ কিংবা উমরাহ পালন করে- এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই।" আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন। অতএব এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ বর্জন করার কারো অধিকার নেই।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ তাকে অবহিত করেছেন যে, আনসার সম্প্রদায় ও গাসসান গোত্রের নিয়ম ছিল, তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাধত। অতএব তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে পাপ মনে করত। এটা ছিল তাদের পূর্ব-পুরুষদের রীতি যে, তাদের কোন ব্যক্তি মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাধলে সাফা মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করত না। তারা ইসলাম গ্রহণের পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন এ প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ নাযিল করেনঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করে, এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে আল্লাহ পুরস্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ" (আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফকে খারাপ কাজ মনে করত। অতএব এই সঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়ঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করে এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ করলে, তার কোন দোষ নেই .... "।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ যুবায়র জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এবং তার সাহাবীগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে একবারের অধিক সাঈ করেননি।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "একবার মাত্র সাঈ (সাত চক্কর), তা হচ্ছে প্রথমবারের সাঈ।"
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইবন হুজুর ও ইয়াহইয়া .... উসামাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফার ময়দান থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে তার বাহনে আরোহণ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালফার নিকটবর্তী পাহাড়ের বামপাশে পৌছে উটকে হাটু গেড়ে বসালেন, এরপর (নেমে গিয়ে) পেশাব করলেন এবং ফিরে এলেন। আমি তাকে ওযুর পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি সংক্ষেপে (অল্প পানি ব্যবহার করে) ওযু সেরে নিলেন। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সালাতের সময় হয়েছে। তিনি বললেন, আরও সামনে গিয়ে নামাজ আদায় করব। অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহনে আরোহণ করলেন এবং মুযদালফায় পৌছে নামাজ আদায় করলেন। এরপর তিনি সকালবেলা ফাযল কে তার (বাহনে) পিছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন।
কুরায়ব বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ফযল এর সূত্রে আমাকে অবহিত করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পৌছার পূর্ব পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ্ পাঠ করছিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মুযদালিফায় ফযলকে বাহনে তার পিছনে বসলেন। রাবী বলেন, এরপর ইবন আব্বাস আমাকে অবহিত করলেন যে, নবী (ﷺ) জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকেন।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... ইবন আব্বাস থেকে তার ভাই ফাযল ইবন আব্বাস এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনে তার সফরসঙ্গী ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাতে সন্ধ্যাবেলা এবং মুযদালফায় ভোরবেলা লোকদের উদ্দেশে বললেন, যখন তারা অগ্রসর হচ্ছিল- "তোমরা ধীরে-সুস্থে অগ্রসর হও।" তিনিও নিজ উটের গতি ধীর করে অগ্রসর হচ্ছিলেন এবং এভাবে মুহাসসির পৌছলেন- যা মিনার অন্তর্গত। তিনি (এখানে) বললেন, তোমরা নুড়ি পাথর তুলে নাও যা জামরায় নিক্ষেপ করা হয়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ যুবায়র থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী এ কথাটি উল্লেখ করেননি- "রসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ্ পাঠ করতে থাকলেন।" কিন্তু এতে উল্লেখ আছেঃ "নবী (ﷺ) হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন (নিক্ষেপের জন্য) নুড়ি কিভাবে ধরবে।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বলেন, আমরা মুযদালিফায় (সমবেত) ছিলাম। এ সময় যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে, তাকে এ স্থানে বলতে শুনলামঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।"
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ মুযদালিফাহ রওনার প্রাক্কালে তালবিয়াহ্ পাঠ করলেন। বলা হল, এ সম্ভবত বেদুঈন (হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি সঠিকভাবে জানে না)। আবদুল্লাহ বললেন, লোকেরা কি (রসূলের সুন্নাত) ভুলে গেছে, না পথভ্রষ্ট হয়েছে। যার উপর সূরা আল বাকরাহ নাযিল হয়েছে, তাকে আমি এ স্থানে বলতে শুনেছিঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।"
হাসান আল হুলওয়ানী ... হুসায়ন থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইউসুফ ইবন হাম্মদ আল মানী ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ও আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ কে মুযদালিফায় বলতে শুনেছি যে, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে, তাকে আমি বলতে শুনেছিঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।" এরপর তিনি (ইবন মাসউদ) তালবিয়াহ পাঠ করলেন এবং আমরাও তার সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করলাম।
আহমাদ ইবন হাম্বাল, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা সকালবেলা যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মিনা থেকে আরাফার দিকে রওনা হলাম, তখন আমাদের মধ্যে কতক তালবিয়াহ পাঠকারী এবং কতক তাকবীর পাঠকারী ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী ..... আবদুল্লাহ ইবন উমর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আরাফাহ দিবসের সকালবেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করছিল, আর কতক তালবিয়াহ পাঠ করেছিল। আমরা তাকবীর ধ্বনি করেছি। অধঃস্তন রাবী (আবদুল্লাহ ইবন আবূ সালামাহ) বলেন, আমি (আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহকে) বললাম, কী আশ্চর্য আপনি তাকে (আবদুল্লাহ ইবন উমার) কেন জিজ্ঞেস করলেন না যে, আপনি এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কী করতে দেখেছেন?
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আস্ সাক্বাফী থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবন মালিক এর সাথে সকালবেলা মিনা থেকে আরাফায় যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা এ দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কিভাবে কী করতেন? তিনি বললেন, আমাদের কতক তালবিয়াহ পাঠ করত কিন্তু তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করত কিন্তু তাতেও বাধা দেয়া হতো না।
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাহ দিবসের সকালবেলা আনাস ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিন আপনারা তালবিয়ার ক্ষেত্রে কী বলতেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমি ও তার সাহাবীগণ এ পথ ভ্রমণ করেছি। আমাদের কতক আল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেছে এবং কতক তালবিয়াহ্ (লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা) উচ্চারণ করেছে। এতে আমাদের কেউ কারো দোষ ধরেনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব থেকে উসামাহ্ ইবন যায়দ এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, পাহাড়ের সরু পথের নিকট পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন, এরপর হালকা ওযু করলেন, পূর্ণ ওযু নয়। আমি তাকে বললাম, সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে নামাজ আদায় করব। এরপর তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, মুযদালিফায় পৌছে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। এরপর সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং (এখানে) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর প্রত্যেকে নিজ নিজ উট বসাল (বিশ্রামের জন্য), এরপর ইশার সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং তিনি ইশার নামাজ আদায় করলেন। এ দুই সালাতের মধ্যে তিনি অন্য কোন সালাত আদায় করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... উসামাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য কোন এক গিরিপথে গেলেন। এরপর আমি তার ওযুর পানি ঢেলে দিলাম, এরপর বললাম, নামাজ আদায় করবেন কি? তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে নামাজ আদায় করব।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... ইবন আব্বাস এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ ইবন যায়দ কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি গিরিপথের নিকটে পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন। উসামাহ্ এ কথা বলেননি যে, তিনি পানি ঢেলে দিয়েছেন। বরং বলেছেন, তিনি পানি চাইলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি নামাজ আদায় করবেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সালাত তো তোমার সম্মুখে রয়েছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি (ﷺ) চলতে থাকলেন এবং মুযদালফায় পৌছলেন। এরপর মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... কুরায়ব থেকে বর্ণিত। উসামাহ ইবন যায়দ কে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তার বাহনে আরোহণ করলেন, তখন আরাফাহ দিবসের সন্ধ্যায় আপনারা কী করেছিলেন? তিনি বললেন, যে উপত্যকায় লোকেরা মাগরিবের সময় নিজের উটকে (বিশ্রামের জন্য) বসায়, সেখানে এলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উট বসালেন এবং পেশাব করলেন। উসামাহ্ পানি ঢেলে দেয়ার কথা বলেননি। নবী (ﷺ) ওযুর পানি চেয়ে আনলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি নামাজ আদায় করবেন? তিনি বললেন, সালাত তোমার সম্মুখে। এরপর তিনি সওয়ার হয়ে রওনা করলেন। অবশেষে আমরা মুযদালিফায় আসলাম। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। লোকেরা নিজ নিজ স্থানে উট বসাল কিন্তু মাল-সামান খুলল না, এমনকি ইশার সালাতে দাড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর লোকেরা মাল-সামান নামাল। আমি (কুরায়ব) বললাম, ভোর হওয়ার পর আপনারা কী করলেন? তিনি (উসামাহ) বললেন, ফাযল ইবন আব্বাস তার বাহনে (তার পিছনে) সওয়ার হলেন এবং আমি কুরায়শদের অগ্রভাগে পদব্রজে রওনা হলাম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উসামাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। যে উপত্যকায় মক্কার সম্রান্ত লোকেরা অবতরণ করত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে অবতরণ করে পেশাব করলেন। তিনি পানি ঢেলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযুর পানি চাইলেন এবং হালকা ওযু করলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! নামাজ। তিনি বললেন, সালাত সামনে এগিয়ে আদায় করা হবে।
আবদ ইবন হুমায়দ .... উসামাহ্ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সওয়ারীতে পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উপত্যকায় পৌছে তিনি তার উটনী বসলেন, এরপর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন। তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি ওযু করলেন, এরপর সওয়ার হলেন এবং মুযদালিফায় পৌছে তিনি মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে আদায় করলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তনের জন্য রওনা হলেন। উসামাহ তার পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উসামাহ বলেন, তিনি মুযদালিফায় পৌছা পর্যন্ত অনবরত চলতে থাকলেন।
আবূ রবী আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... হিশাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, উসামাহ্ কে আমার উপস্থিতিতে জিজ্ঞেস করা হল অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) আমি উসামাহ্ ইবন যায়দ কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাকে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে ছিলেন, তখন তিনি কিভাবে চলেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি ধীর গতিতে সওয়ারী চালালেন, যখন খোলা জায়গা পেলেন, তখন দ্রুতগতিতে হাকালেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ্ .... হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হুমায়দের রিওয়ায়াতে আছে, রাবী হিশাম বলেন, "আনাক" এর চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে চলাকে "নাছু" বলা হয়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ আইয়ূব থেকে বর্ণিত। তিনি বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মুযদালফায় মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করেছেন।
কুতায়বাহ ও ইবন রুমূহ .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন রুমূহ তার বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আল খাত্বমীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, আবূ আইয়ুব আল আনসারী আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র এর খিলাফতকালে কুফার আমীর ছিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে আদায় করেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার পিতা বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন। তিনি এ দুই সালাতের মধ্যে অন্য কোন নামাজ (সুন্নাত বা নাফল) আদায় করেননি। তিনি মাগরিব তিন রাকাআত এবং ইশা দু'রাকাআত আদায় করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর-ও (মুযদালিফায়) অনুরূপভাবে সালাত আদায় করতেন এবং এ অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সাঈদ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি (মুযদালিফায়) মাগরিব ও ইশার নামাজ এক ইকামাতে একই সাথে আদায় করেছেন। এরপর তিনি ইবন উমার সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনিও অনুরূপভাবে সালাত আদায় করেছেন। আর ইবন উমর বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে, "তিনি একই ইকামাতে দু' ওয়াক্তের নামাজ আদায় করেছেন।"
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (মুযদালফায়) মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে (একই সময়ে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নিয়্যাতে) আদায় করেছেন। তিনি এক ইকামাতেই মাগরিবের সালাত তিন রাকাআত এবং ইশার সালাত দু'রাকাআত আদায় করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... সাঈদ ইবন জুবায়র বলেন, আমরা ইবন উমার এর সাথে (আরাফাহ থেকে মুযদালফায়) এলাম। তিনি আমাদের সাথে মাগরিব ও ইশার নামাজ এক ইকামাতে আদায় করেন। সালাত শেষ করে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ স্থানে আমাদের নিয়ে এভাবে সালাত আদায় করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ও আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নির্ধারিত ওয়াক্তেই নামাজ আদায় করতে দেখেছি। তবে মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করেছেন এবং রাতের ভোরে ফজরের সালাত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ এর সূত্রে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনার শেষাংশ নিম্নরূপঃ "ওয়াক্ত হবার সাথে সাথেই অন্ধকারের মধ্যে তা আদায় করেছেন।"
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদাহ মুযদালিফার রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগেই এবং রাস্তায় জনতার ভিড় হবার পূর্বেই মিনার উদেশে যাত্রার জন্য তার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি ছিলেন স্থূলদেহী। (অধঃস্তন রাবী) আল-কাসিম বলেন, সাবিতত শব্দের অর্থ ভারী। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন। অতএব তিনি তার আগেই রওনা হয়ে গেলেন এবং আমরা ফজর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলাম। তারপর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওনা হলাম। আমিও যদি সাওদাহ এর মতো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি নিয়ে আগে ভাগে চলে যেতাম, তবে তা আরও আনন্দদায়ক হতো- যে আনন্দ এখন আমি অনুভব করছি, তার তুলনায়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদাহ ছিলেন ভারী ও স্থূলদেহী। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মুযদালিফাহ্ থেকে রাত থাকতেই প্রস্থান করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। আয়িশাহ আরও বলেন, হায়! যদি সাওদাহ্ এর মতো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমিও অনুমতি প্রার্থনা করতাম! আয়িশাহ ইমামের সাথে মুযদালিফাহ্ হতে রওনা হতেন।
ইবন নুমায়র ..... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম আমিও যদি সাওদাহ এর অনুরূপ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতাম। তিনি মিনায় পৌছে ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং লোকদের পৌছার পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন। আয়িশাহ কে বলা হল, সাওদাহ কি তার নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যা, তিনি ছিলেন স্থূলদেহী এবং ভারী, তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুর রহমান ইবন কাসিম থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবন আবূ বকর আল মুকদ্দামী ... আসমা এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আসমা মুযদালিফাহ অবস্থানকালে জিজ্ঞেস করলেন, চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নামাজ আদায় করলেন। পরে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, আমার সাথে রওনা হও। আমরা রওনা হলাম এবং জামরাহ (পৌছে) তিনি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, এরপর নিজের তাবুতে সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, হে সম্মানিত মহিলা! আমরা খুব ভোরে রওনা হয়েছিলাম। তিনি বললেন, কোন অসুবিধা নেই হে বৎস! নবী (ﷺ) মহিলাদের খুব ভোরে রওনা হবার অনুমতি দিয়েছিলেন।
আলী ইবন খাশরম .... ইবন জুরায়জ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছেঃ "আসমা বলেন, হে বৎস! নবী (ﷺ) তার সহধর্মিণীকে অনুমতি দিয়েছিলেন।"
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আলী ইবন খাশরম ... (সালিম) ইবন শাওওয়াল উম্মু হাবীবাহ এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে অবহিত করেন যে, নবী (ﷺ) রাত থাকতেই তাকে মুযদালিফাহ থেকে মিনায় (পাঠিয়ে দেন)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... সালিম ইবন শাওওয়াল সূত্রে উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর আমল থেকে এরূপ করতাম, রাতের অন্ধকারেই মুযদালিফাহ্ থেকে মিনায় চলে আসতাম। নাকিদ এর বর্ণনায় আছে, "মুযদালিফাহ থেকে আমরা রাতের অন্ধকারেই রওনা হতাম।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মালপত্র নিয়ে অথবা (অপর বর্ণনা অনুযায়ী) দুর্বল লোকদের সাথে রাত থাকতেই মুযদালিফাহ থেকে (মিনার উদ্দেশে) পাঠিয়ে দেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পরিবারের যে দুর্বলদের (মুযদালিফাহ্ থেকে) সর্বাগ্রে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পরিবারের যে দুর্বলদের আগেভাগে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের সাথে ছিলাম।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার মালপত্র নিয়ে ভোর রাতে মুযদালিফাহ থেকে (মিনায়) পাঠিয়ে দেন। আমি (ইবন জুরায়জ) আত্বাকে বললাম, আপনি জানেন কি ইবন আব্বাস বলেছেন, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে গভীর রাতে পাঠিয়েছেন"? তিনি বললেন, না, কেবল ভোর রাতের কথাই আমি জানি। আমি তাকে পুনরায় বললাম, ইবন আব্বাস বলেছেন, "আমরা ফজরের সালাতের পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছি।" তাহলে তিনি ফজরের নামাজ কোথায় আদায় করেছেন? আতা বললেন, না, আমি এতটুকুই জানি।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর তার সাথের দুর্বল লোকদেরকে মুযদালিফার নিকটবর্তী স্থান মাশআরুল হারামে রাতে অবস্থানের জন্য আগে ভাগেই পাঠিয়ে দিতেন। অতএব তারা রাতের বেলা যতক্ষণ ইচ্ছা আল্লাহর যিকর করত। ইমামের অবস্থান ও ফিরে আসার পূর্বেই তারা (এখান থেকে) রওনা হতো। অতএব তাদের মধ্যে কেউ ফজরের সালাতের সময় মিনায় পৌছত এবং কেউ ফজরের সালাতের পরে। তারা এখানে পৌছে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করত। ইবন উমার বলতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুর্বল ও বৃদ্ধদের এ অনুমতি প্রদান করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ও আবূ কুরায়ব .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ উপত্যকার মধ্যখানে দাড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং প্রতিটি পাথরের সাথে তাকবীর বলেছেন। রাবী বলেন, তাকে বলা হল, লোকেরা তো উচ্চ স্থানে দাড়িয়ে পাথর নিক্ষেপ করে। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বললেন, সে সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, এ সেই স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর সূরা আল বাকারাহ নাযিল হয়েছে।
মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী .... আমাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবন ইউসুফকে মিম্বারে দাড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলতে শুনেছি; জিবরীল যে ক্রমবিন্যাসে কুরআন মাজীদ সাজিয়েছেন, তোমরা তদনুযায়ী তা সুবিন্যস্ত কর। যেমন, প্রথম সে সূরা যার মধ্যে গাভী সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। এরপর যে সূরায় মহিলাদের সম্পর্কে, এরপর সে সূরা যার মধ্যে ইমরান পরিবার সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। আমাশ বলেন, এরপর আমি ইবরাহীমের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে হাজ্জাজের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি তাকে গালি দিলেন। এরপর বললেন, আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ আমাকে বলেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর সাথে ছিলেন। তিনি জামরাতুল আকাবায় এলেন, উপত্যকার মাঝে দাড়ালেন এবং জামরাহকে নিজের সম্মুখভাগে রাখলেন, এরপর উপত্যকার মাঝে দাড়িয়ে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, প্রত্যেকবার নিক্ষেপের সাথে সাথে আল্ল-হু আকবার' বললেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান লোকেরা উপত্যকার উপরিভাগ থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। তিনি বললেন, সে সত্তার শপথ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, এ সেই স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর সুরাহ আল বাকারাহ নাযিল হয়েছিল।
ইয়াকুব আদ দাওরাকী ও ইবন আবূ উমর .... আমাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি, তোমরা বল না সূরাতুল বাকরাহ .... এরপর ইবন মুসহির বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) এর সাথে হজ্জ করেন। রাবী বলেন, তিনি (আবদুল্লাহ) জামরায় সাতটি কাকর নিক্ষেপ করেন- বায়তুল্লাহকে বামদিকে এবং মিনাকে ডানদিকে রেখে এবং তিনি বলেন, এই সে স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি সূরা আল বাকারাহ নাযিল করা হয়েছিল।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ্ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, "তিনি (আবদুল্লাহ) যখন জামরাতুল আকাবায় এলেন।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) কে বলা হল, লোকেরা আকাবার উচ্চভূমি থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ উপত্যকার মধ্যভাগে দাড়িয়ে তা নিক্ষেপ করলেন। এরপর তিনি বলেন, সে সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা'বুদ নেই, যার উপর সূরা আল বাক্বারাহ নাযিল হয়েছে, তিনি এই স্থান থেকে কাঁকর নিক্ষেপ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) কে সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেনঃ "আমার নিকট থেকে তোমরা হাজ্জের নিয়ম-কানুন শিখে নাও। কারণ আমি জানি না- এ হাজ্জের পর আমি আর হাজ্জ করতে পারব কিনা।"
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... উম্মুল হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বিদায় হাজ্জ করেছি এবং আমি দেখেছি, তিনি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করে সওয়ারীতে চড়ে ফিরে আসেন এবং তার সাথে ছিলেন বিলাল ও উসামাহ্। তাদের একজন উটের লাগাম ধরে তা টেনে নিচ্ছিলেন এবং অপরজন সূর্যের তাপের কারণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার উপর কাপড় ধরে রাখছিলেন। উম্মুল হুসায়ন আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক কথা বললেন। এরপর আমি তাকে বলতে শুনেছি- যদি নাক-কান কাটা কোন কাফ্রী (কালো) ক্রীতদাসকেও তোমাদের নেতা নিয়োগ করা হয় এবং সে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করে, তবে তার (নির্দেশ) শোন এবং আনুগত্য কর।
আহমাদ ইবন হাম্বাল ... উম্মুল হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বিদায় হাজ্জ করেছি। আমি উসামাহ্ ও বিলালকে দেখেছি যে, তাদের একজন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উটের লাগাম ধরে আছেন এবং অপরজন কাপড় দিয়ে তাকে রৌদ্র তাপ থেকে ছায়া দান করছেন। এমতাবস্থায় তিনি জামরায় কাঁকর নিক্ষেপ করেন। ইমাম মুসলিম বলেন, আবূ আবদুর রহীমের নাম খালিদ ইবন আবূ ইয়াযীদ যিনি মুহাম্মাদ ইবন সালামার মামা ওয়াকী এবং হাজ্জাজ আ'ওয়ার তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে জামরায় ক্ষুদ্র পাথর নুড়ি (পাথর) নিক্ষেপ করতে দেখেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন, পুনরায় দ্বিপ্রহরের পরে।
আলী ইবন খাশরম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইস্তিঞ্জায় ব্যবহৃত ঢিলার সংখ্যা বেজোড়, জামরায় নিক্ষিপ্ত পাথরের সংখ্যা বেজোড়, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর সংখ্যা বেজোড় এবং তাওয়াফও বেজোড়। অতএব তোমাদের যে কেউ যখন ইস্তিঞ্জায় ঢিলা ব্যবহার করবে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ব্যবহার করে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতায়বাহ .... আবদুল্লাহ (ইবন উমার) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা মুণ্ডন করলেন। তার কিছু সংখ্যক সাহাবীও মাথা মুণ্ডন করলেন আর কিছু সংখ্যক চুল খাটো করলেন। আবদুল্লাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক অথবা দু'বার বললেনঃ যারা মাথা মুণ্ডন করেছে, আল্লাহ তাদের উপর অনুগ্রহ করুন। অতঃপর তিনি বললেনঃ যারা চুল খাটো করেছে, তাদের উপরও।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদের প্রতিও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। তারা বললেন, চুল খাটোকারীদের জন্যও (দোয়া করুন) হে আল্লাহ রসূল! তিনি বললেন, এবং চুল খাটোকারীদের প্রতিও। ইমাম মুসলিম বলেন, আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন সুফইয়ান এ হাদীসটি মুসলিম ইবন হাজ্জাজ-এর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেন।
ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের জন্য (দোয়া করুন)। তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে আল্লাহ রহম করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের জন্যও। তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের প্রতিও। তিনি বললেন, চুল ছোটকারীদের প্রতিও।
ইবন মুসান্না .... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণনায় আছে, "চতুর্থবারে তিনি বললেনঃ চুল খাটোকারীদের উপরও (রহম করুন)।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে ক্ষমা করুন। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদের (ক্ষমার জন্য দোয়া করুন)। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদেরও। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের গুনাহ মাফ করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদেরও। তিনি বললেন, চুল খাটোকারীদেরও (গুনাহ ক্ষমা করুন)।
উমাইয়াহ ইবন বিসত্বাম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে এ সানাদ সূত্রেও নবী (ﷺ) এর উপরোক্ত হাদীসে অনরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইয়াহইয়া ইবন হুসায়ন থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদী) বিদায় হজ্জকালে নবী (ﷺ) কে মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার এবং চুল খাটোকারীদের জন্য একবার দোয়া করতে শুনেছেন। ওয়াকীর বর্ণনায় বিদায় হাজ্জ' কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হাজ্জকালে নিজের মাথার চুল মুণ্ডন করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনায় এলেন, অতঃপর জামরায় এসে পাথর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি মিনায় নিজ স্থানে ফিরে এলেন এবং কুরবানী করলেন। অতঃপর হাজ্জাম (ক্ষৌরকার)-কে ইশারায় বললেনঃ মাথার ডান পাশ থেকে শুরু কর, অতঃপর বাম পাশ। অতঃপর তিনি লোকদেরকে নিজের চুল দান করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ বকর তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, নবী (ﷺ) হাতের ইশারা দিয়ে হাজ্জামকে মাথার ডান পাশ থেকে শুরু করতে বললেন। অতঃপর তিনি কাছের লোকদের মাঝে নিজের মাথার চুল দান (বণ্টন) করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি হাজ্জামকে মাথার বাম পাশের চুল কাটার ইঙ্গিত করলেন। সে তাই করল। এ চুলগুলো তিনি উম্মু সুলায়ম-কে দান করলেন। আর আবূ কুরায়বের বর্ণনায় আছেঃ হাজ্জাম ডান পাশ থেকে ক্ষৌরকার্য শুরু করল। তিনি লোকদের একটি দু'টি করে চুল দিলেন। অতঃপর বা পাশের চুল কাটার নির্দেশ দিলেন এবং সে তাই (মাথা মুণ্ডন) করল। অতঃপর তিনি বললেনঃ আবূ তুলহাহ! এখানে আসো। অতএব তিনি এবারের চুলগুলো তাকে দান করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর কুরবানীর উটের নিকট ফিরে এসে তা যাবাহ করলেন। হাজ্জাম নিকটেই বসা ছিল। তিনি মাথার দিকে হাতের ইশারা করলেন এবং সে তার মাথার ডান পাশের চুল কামিয়ে দিল। তিনি তা নিকটস্থ লোকদের মধ্যে বণ্টন করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, মাথার অপরাংশ কামাও। তিনি বললেন, আবূ তুলহাহ কোথায়? তখন তিনি সেগুলো তাকেই দান করলেন।
ইবন আবূ উমার .... আনাস ইবন মালিক বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর কুরবানী করলেন, অতঃপর মাথা কামালেন- তিনি ক্ষৌরকারের প্রতি মাথার ডান পাশ এগিয়ে দিলেন এবং সে তা চেঁছে দিল। অতঃপর তিনি আবূ তলহাহ আল আনসারী কে ডাকলেন এবং তাকে (নিজের) চুল দান করলেন। অতঃপর তিনি মাথার বাম পাশ এগিয়ে দিলেন এবং বললেন, কামিয়ে দাও। (অতএব ক্ষৌরকার) তা কামিয়ে দিল। তিনি চুলগুলো আবূ তলহাহ কে দিয়ে বললেন, এগুলো লোকদের মধ্যে বণ্টন কর।
ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সঙ্গে মিনায় অবস্থান করলেন- যাতে তারা প্রয়োজনীয় বিষয় তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারে। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! না জানার কারণে আমি কুরবানী করার পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই, তুমি কুরবানী কর। অতঃপর এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হলে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না, ফলে পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে নিয়েছি। তিনি বললেন, অসুবিধা নেই, তুমি পাথর নিক্ষেপ কর। রাবী বলেন, অজ্ঞতাবশতঃ কাজ আগে অথবা পরে করা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলেই তিনি বলেন, তুমি এখন করে নাও, তাতে কোন দোষ নেই।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... ঈসা ইবন ত্বলহাহ আত তামীমী আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সওয়ারীর উপর অবস্থান করলেন। লোকেরা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকল। তাদের কেউ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না যে, কুরবানীর পূর্বে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। তাই আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ পাথর নিক্ষেপ কর, এতে কোন দোষ হবে না। অপর ব্যক্তি এসে বলল, আমি জানতাম না যে, মাথা কামানোর পূর্বে কুরবানী করতে হবে। অতএব আমি কুরবানীর পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, তুমি কুরবানী কর। রাবী বলেন, মানুষ অজ্ঞতাবশতঃ যে সব কাজের ক্ষেত্রে পরেরটি আগে করে ফেলেছে, এ সম্পর্কে বা এ জাতীয় বিষয় সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলেই আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তা করে নাও, এতে কোন দোষ হবে না।
হাসান আল হুলওয়ানী .... যুহরী থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
আলী ইবন খাশরম .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুরবানীর দিন ভাষণ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সামনে দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না যে, এ কাজ অমুক অমুক কাজের পূর্বে করতে হয়। এরপর আর এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মনে করেছিলাম এ কাজ অমুক অমুক তিনটি (পাথর নিক্ষেপ, কুরবানী, মাথা কামানো) কাজের পূর্বে করতে হয়। তিনি বললেনঃ করে নাও, কোন অসুবিধে নেই।
আবদ ইবন হুমায়দ ও সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... ইবন জুরায়জ থেকে এ সূত্রে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবন বাকর এর বর্ণনা ঈসার বর্ণনার অনুরূপ। তবে তার বর্ণনায় "ঐ তিন কাজ" কথাটুকু উল্লেখ নেই। ইয়াহইয়া আল উমাবীর বর্ণনায় আছেঃ "আমি কুরবানী করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করেছি, পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করেছি ইত্যাদি।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমি যব্হ করার পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, এখন যাবাহ কর। (অতঃপর একজন) বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই, তুমি এখন পাথর নিক্ষেপ কর।
ইবন আবূ উমার ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিনায় তার উটের উপর অবস্থানরত দেখেছি। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট এলো .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহ্যায .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার নিকট অবস্থানরত ছিলেন। আমি এক ব্যক্তিকে তার নিকট এসে বলতে শুনলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে মাথা কামিয়ে নিয়েছি। তিনি বললেন, কোন অসুবিধে নেই, পাথর নিক্ষেপ করে নাও। আরেক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, পাথর নিক্ষেপ করে নাও। অপর এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করে ফেলেছি। তিনি বললেন, পাথর নিক্ষেপ কর, তাতে কোন অসুবিধে নেই। রাবী বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি, সেদিন যে সম্পর্কেই (আগে-পিছে করার ক্ষেত্রে) তার নিকট জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বলেছেনঃ কোন দোষ নেই, এখন করে নাও।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর নিকট কুরবানী, মাথা মুণ্ডন, পাথর নিক্ষেপ, আগের অনুষ্ঠান পরে এবং পরের অনুষ্ঠান আগে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন ত্বওয়াফুল ইফাযাহ সম্পন্ন করেন, অতঃপর মিনায় ফিরে এসে যুহরের নামাজ আদায় করেন। নাফি বলেন, ইবন উমর-ও কুরবানীর দিন ত্বওয়াফুল ইফাযাহ সম্পন্ন করতেন, অতঃপর ফিরে এসে মিনায় যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী (ﷺ) এরূপ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল আযীয ইবন রুফাই' থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রযিঃ) কে বললাম, আপনার যা স্মরণ আছে সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তালবিয়ার দিন (৮ই যিলহাজ্জ) যুহরের নামাজ কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম (হাজ্জ সমাপনান্তে) বিদায়ের দিন তিনি আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবত্বাহ উপত্যকায়। অতঃপর তিনি বললেন, তোমার প্রশাসকগণ যা করেন, তদ্রুপ কর।
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আবূ বকর ও উমর আবত্বাহ নামক স্থানে অবতরণ করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মায়মুন .... নাফি থেকে বর্ণিত। ইবন উমার মুহাস্সাবে যাত্রা বিরতি সুন্নাত মনে করতেন। তিনি বিদায়ের দিন (১২ অথবা ১৩ যিলহাজ্জ) সেখানে যুহরের নামাজ আদায় করতেন। নাফি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাস্সাবে যাত্রা বিরতি করেছেন এবং তার পরে খলীফাগণও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবত্বাহে অবতরণ করা সুন্নাত নয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল এজন্য সেখানে যাত্রা বিরতি করেছিলেন যে, সেখান থেকে তার জন্য যাত্রা করা সহজতর ছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ রবী আয যাহরানী ও আবূ কামিল ... হিশাম থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
আবদ ইবন হুমায়দ .... সালিম থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ বকর, উমার ও ইবন উমর আবত্বাহে অবতরণ করতেন। যুহরী বলেন, আমাকে উরওয়াহ অবহিত করেছেন যে, আয়িশাহ্ আবতাহে যাত্রা বিরতি করতেন না। তিনি বলতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবলমাত্র (বিশ্রামের জন্য) এখানে যাত্রা বিরতি করতেন যাতে সামনের পথ অতিক্রম সহজ হয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন আবূ উমার ও আহমাদ ইবন আবদাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাসসাবে যাত্রা বিরতি বাধ্যতামূলক নয়। এটি একটি মাঞ্জিল যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যাত্রা বিরতি করেছেন।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ রাফি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মিনা থেকে রওনা হলেন তখন তিনি আমাকে আবত্বাহে যাত্রা বিরতির নির্দেশ দেননি। বরং আমি সেখানে পৌছে তাবু খাটালাম, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে সেখানে অবতরণ করলেন। আবূ রাফি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মালপত্রের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ছিলেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আগামীকাল সকালে খায়ফে বানী কিনানায় অবতরণ করব যেখানে তারা (কাফিররা) কুফরীর উপর অবিচল থাকার শপথ নিয়েছিল।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনায় থাকা কালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেন। আগামীকাল সকালে আমরা কিনানাহ গোত্রের ঘাটিতে অবতরণ করব যেখানে তারা কুফুরীর উপর অটল থাকার শপথ করেছিল। তা হচ্ছে- কুরায়শ ও কিনানাহ গোত্র হাশিম ও মুত্ত্বালিব গোত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, এরা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং বাণিজ্যিক লেনদেন করবে না- যতক্ষণ তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাদের হাতে অর্পণ না করবে- এ হচ্ছে সেই মুহাস্সাব।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের বিজয় দান করেন তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের মাঞ্জিল হবে খায়ফে, যেখানে কুরায়শরা কুফুরীর উপর অটল থাকার শপথ করেছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। আব্বাস ইবন আবদুল মুত্ত্বলিব মিনার রাতগুলো মক্কাতে (মক্কাতে) অতিবাহিত করার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। কারণ পানি সরবরাহের দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত ছিল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবদ ইবন হুমায়দ ... উবায়দুল্লাহ ইবন উমর থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল আয যারীর .... বাকর ইবন আবদুল্লাহ আল মুযানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর সাথে কাবার সন্নিকটে বসা ছিলাম। এ সময় এক বেদুঈন তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার? আমি দেখছি আপনার চাচাতো ভাইয়েরা (আগন্তুকদের) মধু ও দুধ পান করায়। আর আপনারা নবীয (খেজুরের তৈরি শরবত) পান করান? তা কি আপনাদের দরিদ্রতার কারণে, না কৃপণতার কারণে? ইবন আব্বাস "আলহামদু লিল্লাহ" উচ্চারণ করে বললেন, আমাদের না দারিদ্র্য আক্রান্ত করেছে, না কৃপণতা। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, নবী (ﷺ) তার সওয়ারীতে চড়ে এখানে এলেন এবং তাকে এক পেয়ালা নবীয দিলাম। তিনি তা পান করলেন এবং অবশিষ্টটুকু উসামাকে পান করালেন। এরপর তিনি বললেন, "তোমরা খুবই উত্তম কাজ করেছো এবং এরূপই করতে থাক।" অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের যা করার নির্দেশ দিয়েছেন- আমরা তার পরিবর্তন করতে চাই না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার কুরবানীর উটগুলোর নিকট দাড়াতে এবং এগুলোর গোশত, চামড়া ও ঝুল দান খয়রাত করে দিতে নির্দেশ দিলেন এবং তা দিয়ে কসাইয়ের মজুরি দিতে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে তার মজুরি পরিশোধ করে দেব।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব আবদুল করীম আল জাযারী থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আলী থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় কসাইয়ের মজুরির কথা উল্লেখ নেই।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, মুহাম্মাদ ইবন মারযুক ও আবদ ইবন হুমায়দ ... আলী ইবন আবূ তলিব থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে তার কুরবানীকৃত উটগুলোর নিকট অবস্থানের নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে উটের সমস্ত গোশত, চামড়া ও ঝুল মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করারও নির্দেশ দিলেন এবং তা থেকে কসাইকে মজুরি স্বরূপ কিছু দিতে নিষেধ করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আলী ইবন আবূ তলিব থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাকে নির্দেশ দিলেন .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর (৬ষ্ঠ হিজরী) আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম বেধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট বা গরু সাতজনে মিলে কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হাজ্জ সমাপন করি। আমরা সাত শারীকে একটি করে উট বা গরু কুরবানী করেছি।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ ও উমরাহ্ পালনকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাতজনে মিলে একটি উট কুরবানী করেছি। এক ব্যক্তি জাবির কে জিজ্ঞেস করল, জাযুর-এ যে ক'জন শারীক হতে পারে- বাদানাহ-তেও কি অনুরূপ শারীক হওয়া যায়? তখন তিনি বললেন, উভয় তো একই। জাবির হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ঐদিন ৭০টি উট কুরবানী করেছি। প্রতিটি উটেই ৭ জন শারীক ছিলাম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে নবী (ﷺ) এর বিদায় হাজ্জ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন। তিনি (জাবির বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ইহরাম খোলার সময় কয়েকজন শারীক হয়ে এক-একটি পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন। এটা সে সময়ের কথা যখন তিনি তাদেরকে (উমরাহ আদায়ের পর) হজ্জের ইহরাম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি। আমরা সাত শারীকে মিলে একটি গরু কুরবানী করেছি।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন আয়িশাহ এর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করেছেন। কিন্তু ইবন বাকর কর্তৃক আয়িশাহ থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, তিনি তার হাজ্জ উদ্যাপনকালে একটি গাভী কুরবানী করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যিয়াদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর এক ব্যক্তির কাছে এলেন। সে তার উটকে বসিয়ে কুরবানী করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বললেন, এটাকে দাড় করিয়ে কুরবানী কর। এটাই তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুম্হ ও কুতায়বাহ্ .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র ও আম্রাহ বিনতু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাহ থেকে তার কুরবানীর পশু (মক্কার হারামে) পাঠাতেন। আমি তার কুরবানীর পশুর (গলায় বাধার জন্য) মালা তৈরি করে দিতাম। এরপর তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে ইহরামধারীদের বিরত থাকতে হয়।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন শিহাব থেকে এ সানাদে (উপরোক্ত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
সাঈদ ইবন মানসূর, যুহায়র ইবন হারব, খালাফ ইবন হিশাম ও কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চোখে সে দৃশ্য ভাসছে- আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর (গলায় পরানোর জন্য) মালা তৈরি করে দিচ্ছি। .... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
সাঈদ ইবন মানসূর .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার হাত দিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর মালা বানিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না এবং তা পরিহার করতেন না (যা হাজ্জের ইহরামধারীকে পরিহার করতে হয়)।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর মালা বানিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কুরবানীর পশুকে চিহ্নিত করেন ও গলায় মালা বেধে দেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ পাঠিয়ে দেন এবং মদীনায় অবস্থান করেন। ফলে তার উপর এমন কোন জিনিস হারাম হয়নি যা তার জন্য হালাল ছিল।
আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী ..... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কুরবানীর পশু মক্কায় পাঠিয়ে দিতেন। আমি নিজ হাতে এর মালা তৈরি করে দিতাম। অতঃপর তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে কোন ইহরামবিহীন ব্যক্তি বিরত থাকে না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রঙিন পশমের সূতা যা আমাদের কাছে ছিল, তা দিয়ে এ সব মালা তৈরি করেছি। অতঃপর তিনি ভোরবেলা ইহরামবিহীন অবস্থায় উপনীত হন এবং আমাদের কাছে আসেন, ইহরামবিহীন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে যা করে, তিনিও তাই করেছেন; কিংবা তিনি বলেন, লোকে তার স্ত্রীর কাছে যেভাবে এসে থাকে, তিনিও সেভাবে আসেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন নিজেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর মেষের জন্য মালা তৈরি দেখতে পাচ্ছি। তিনি তা হারামে পাঠিয়ে দেন এবং আমাদের মাঝে অবস্থান করেন ইহরামবিহীন ব্যক্তির মতো।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম এবং তিনি তা নিজের কুরবানীর পশুর গলায় পরিয়ে দিতেন, এরপর তা মক্কায় পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (মদীনায়) অবস্থান করতেন এবং এমন কোন কিছু থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে ইহরামধারী ব্যক্তি বিরত থাকে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আয়িশাহ বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর হারামে (কুরবানীর উদ্দেশে) ছাগল পাঠান এবং এর গলায় মালা বাধেন।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বকরীর গলায় মালা পরিয়ে তা (কুরবানীর উদ্দেশে বায়তুল্লাহয়) পাঠিয়েছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিলেন এবং কোন জিনিস তার জন্য হারাম ছিল না (যা মুহরিমের জন্য হারাম)।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমারাহ বিনতু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। ইবন যিয়াদ আয়িশাহ এর কাছে লিখেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেনঃ "যে ব্যক্তি (মক্কার হারামে) কুরবানীর পশু পাঠায়, হাজীদের জন্য যা করা হারাম তার জন্যও তা করা হারাম যতক্ষণ না ঐ পশু কুরবানী করা হয়। আমি কুরবানীর পশু (হারামে) পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত আমাকে লিখে জানাবেন।" আমরাহ বলেন, আয়িশাহ বললেন, ইবন আব্বাস যেভাবে বলেছেন, ব্যাপারটি তা নয়। আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর (গলায় বাধার) জন্য মালা তৈরি করে দিয়েছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতে তা পশুর গলায় বেধেছেন, অতঃপর আমার পিতার মাধ্যমে তা (হারাম শরীফ) পাঠিয়েছেন। কিন্তু এর ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর এমন কোন জিনিস হারাম হয়নি- যা আল্লাহ তাআলা তার জন্য হালাল করেছেন। অতঃপর পশু কুরবানী করা হয়েছে।
সাঈদ ইবন মানসূর .... মাসরূক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ কে পর্দার আড়াল থেকে হাত তালি দিয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম। অতঃপর তিনি (তার) কুরবানীর পশু মক্কায় পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু পশু কুরবানী হওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না যা থেকে সাধারণত ইহরামধারী ব্যক্তিগণ বিরত থাকে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট টেনে নিয়ে যেতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ এর পিঠে সওয়ার হও। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা কুরবানীর উট। তিনি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়বারে বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ যিনাদ থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, একদা এক ব্যক্তি গলায় মালা পরিহিত একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর থেকে এ হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে একটি এই যে, তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি কুরবানীর একটি উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর গলায় মালা পরিহিত ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা কুরবানীর পশু। তিনি বললেন, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে চড়ে যাও।
আমর আন নাকিদ, সুরায়জ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে একটি উট টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন, এর পিঠে চড়ে যাও। সে বলল, এটা কুরবানীর উট। তিনি দু'তিনবার বললেন, এর পিঠে চড়ে যাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট দিয়ে কুরবানীর উট অথবা কুরবানীর পশু নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি বললেন, পিঠে চড়ে যাও। সে বলল, এটা কুরবানীর উট, কুরবানীর পশু। তিনি বললেন, তাহলেও।
আবূ কুরায়ব .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট দিয়ে একটি কুরবানীর উট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল...এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ যুবায়র বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর নিকট কুরবানীর পশু পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ প্রয়োজনবোধে এর পিঠে আরোহণ করতে পার, একে কষ্ট না দিয়ে- যতক্ষণ না অন্য সওয়ারী পাও।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... আবূ যুবায়র বলেন, আমি জাবির এর নিকট কুরবানীর পশুর পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি সহানুভূতির সাথে এর পিঠে আরোহণ কর- যদি অন্য সওয়ারী না পাও।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মূসা ইবন সালামাহ্ আল হুযালী বলেন, আমি ও সিনান ইবন সালামাহ উমরাহ পালনের জন্য রওনা হলাম। সিনানের একটি কুরবানীর উট ছিল। সে পশুটি হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পশুটি অচল হয়ে পড়লে এ ব্যাপারে সে অসহায় ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ল এবং (মনে মনে বলল) এ যদি সামনে অগ্রসর না হতে পারে, তবে এটাকে কী করে গন্তব্যস্থলে নেয়া যাবে? সে বলল, যদি মক্কা পর্যন্ত পৌছতে পারতাম তবে এ সম্পর্কে ভালরূপে মাসআলাহ জেনে নিতাম। রাবী বলেন, আমরা দিনের প্রথমভাগে আবার চলতে শুরু করলাম এবং বাতহা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম। সিনান বলল, চল আমরা ইবন আব্বাস এর নিকট গিয়ে (বিষয়টি) আলোচনা করি। রাবী বলেন, সিনান তার নিকটে নিজের উটের কথা বর্ণনা করল। ইবন আব্বাস বললেন, তুমি উত্তমরূপে অবহিত ব্যক্তির নিকটই বিষয়টি বর্ণনা করেছ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির মাধ্যমে ষোলটি উট (মক্কার হারামে) পাঠালেন এবং তাকে এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন। রাবী বলেন, সে রওনা হয়ে গেল এবং পুনরায় ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি এর মধ্যকার কোন পশু চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে, তবে কী করব? তিনি বললেনঃ তা যাবাহ কর এবং এর (গলায় বাধা) জুতা জোড়া রক্তে রঞ্জিত করে এর কুজের উপর রেখে দাও। এর গোশত তুমিও খাবে না, তোমার সঙ্গীদের কেউও খাবে না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আলী ইবন হুজর .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আঠারটি উট (কুরবানীর জন্য মক্কার হারামে) পাঠালেন। .... অবশিষ্ট আবদুল ওয়ারিসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে হাদীসের প্রথমাংশের (সিনানের সাথে সংশ্লিষ্ট) ঘটনা উল্লেখ নেই।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তার নিকট যুআয়বা আবূ কবীসাহ বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কুরবানীর উটসহ মক্কায় পাঠাতেন এবং বলে দিতেনঃ "এগুলোর মধ্যকার কোন উট দুর্বল হয়ে চলতে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং তুমি এর মৃত্যুর আশংকা করলে তা যাবাহ করে দিও। অতঃপর এর (গলায় বাধা) জুতা জোড়া রক্ত রঞ্জিত করে এর কুঁজে ছাপ মেরে দিও। তুমি এবং তোমার সঙ্গীদের কেউই গোশত খাবে না।"
সাঈদ ইবন মানসূর ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বিভিন্ন পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "কেউই যেন শেষবারের মতো বায়তুল্লাহ তওয়াফ না করা পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন না করে।" যুহায়রের বর্ণনায় (মাঝে) কী অব্যয়টি উল্লেখিত হয়নি।
সাঈদ ইবন মানসূর ও আবূ বকর ইবন শায়বাহ .... ইবন আব্বাস বলেন, লোকদেরকে (প্রত্যাবর্তনকালে) শেষবারের মত বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋতুবতী মহিলাদেরকে তা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ... তাউস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর সঙ্গে ছিলাম। যায়দ ইবন সাবিত ইবন আব্বাস কে বললেন, আপনি কি এ ফাতাওয়া দিচ্ছেন যে, হায়যগ্রস্ত মহিলা বিদায়ী তওয়াফ না করেই প্রস্থান করতে পারবে? ইবন আব্বাস তাকে বললেন, যদি আপনি আশ্বস্ত না হতে পারেন, তবে অমুক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাওস বলেন, যায়দ ইবন সাবিত হাসতে হাসতে ইবন আব্বাস এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি মনে করি আপনি সত্য কথাই বলেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আবূ সালামাহ্ ও উরওয়াহ্ থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ বলেন, উন্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আয়িশাহ আরও বলেন, আমি তার হায়িযের কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে কি আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে? আয়িশাহ্ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে সে রওনা হতে পারে।
আবূ তহির, হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা .... ইবন শিহাব থেকে এ সানাদে বর্ণিত। আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রী সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই বিদায় হাজ্জকালে পবিত্র অবস্থায় ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হন। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত লায়সের হাদীসের অনুরূপ।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, সফিয়্যাহ এর হায়য হয়েছে। অবশিষ্ট যুহরীর হাদীসের অনুরূপ।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, সফিয়্যাহ ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পূর্বেই হায়যগ্রস্তা হয়ে পড়লেন। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এলেন এবং বললেনঃ "সফিয়্যাহ আমাদের আটকে রাখবে হয়ত।" আমরা বললাম, তিনি তওয়াফে ইফাযাহ করেছেন। তিনি বললেনঃ "তাহলে আটকে পড়ার কোন কারণ নেই।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সফিয়্যাহ বিনতু হুইয়াই হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হয়ত সে আমাদের আটকে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেনি তারা বললেন, হ্যা। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা চল।
হাকাম ইবন মূসা .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, কোন পুরুষ স্ত্রীর সাথে সাধারণত যা করার ইচ্ছা করে, রসূলুল্লাহ (ﷺ)ও সফিয়্যাহ এর সাথে তাই করার ইচ্ছা করলেন। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি হায়যগ্রস্তা। তিনি বললেন, তাহলে সে তো আমাদের এখানে অবস্থান করতে বাধ্য করবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ-এর) যিয়ারাত করেছেন। তিনি বললেন, তাহলে সে তোমাদের সঙ্গে যাত্রা করুক।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সফিয়্যাকে তার তাবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্ৰস্তা দেখতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা নারী! তুমি আমাদের (এখানে) আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ) যিয়ারত করেছ? তিনি বললেন, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে রওনা হও।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব ... আয়িশাহ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাকামের হাদীসের অনরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে 'চিন্তিতা' ও 'অবসাদগ্রস্তা' শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নেই।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে এবং উসামাহ্, বিলাল ও উসমান ইবন তলহাহ্ আল হাজাবী কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলেন। ইবন উমর বলেন, বের হয়ে আসলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কী করেছেন? তিনি বললেন, তিনি দু'টি থাম নিজের বা দিকে, একটি থাম ডান পাশে এবং তিনটি থাম পিছনে রেখে নামাজ আদায় করলেন। তৎকালে বায়তুল্লাহ ছয়টি থামের উপর দণ্ডায়মান ছিল।
আবূ রবী আয যাহরানী, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় এলেন এবং কাবার চত্বরে অবতরণ করলেন। অতঃপর উসমান ইবন তলহাহ কে ডেকে পাঠালেন। তিনি চাবি নিয়ে এলেন এবং (কাবার) দরজা খুললেন। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বিলাল, উসামাহ্ ইবন যায়দ ও উসমান ইবন তলহাহ্ ভিতরে প্রবেশ করলেন। নবী (ﷺ) দরজা (ভিতর থেকে) বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন, অতএব তা বন্ধ করে দেয়া হলো। তারা কিছু সময় ভিতরে অবস্থান করলেন। অতঃপর দরজা খোলা হল। আবদুল্লাহ বলেন, আমি বাইরে সকলের আগে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিলিত হলাম এবং বিলাল তার পিছনে ছিলেন। আমি বিলালকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কাবার অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি বললাম, কোন জায়গায়? বিলাল বললেন, তার সামনের দুটি থামের মাঝখানে। ইবন উমর বলেন, তিনি কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন, বিলালের নিকট তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গেছি।
ইবন আবূ উমর .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাহ ইবন যায়দ এর উষ্ট্রীতে আরোহণ করে মক্কায় আগমন করেন। উসামাহ্ উষ্ট্রীকে কাবার চত্বরে বসান। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উসমান ইবন তলহাহ কে ডাকলেন এবং বললেন, আমার নিকট (কাবার) চাবি নিয়ে এসো। তিনি তার মায়ের নিকট উপস্থিত হয়ে চাবি চাইলেন কিন্তু তিনি তাকে চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। উসমান বললেন, আল্লাহর শপথ। তাকে চাবি দিন, অন্যথায় এ তরবারি আমার পিঠ ভেদ করে চলে যাবে। অতঃপর তিনি তাকে চাবি দিলেন। তিনি চাবি নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে তার নিকট হস্তান্তর করেন। তিনি কাবার দরজা খুললেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাম্মাদ ইবন যায়দের হাদীসের অনুরূপ।
যুহায়র ইবন হারব, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উসামাহ্, বিলাল ও উসমান ইবন তলহাহ্। লোকেরা অনেকক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখল। অতঃপর তা খোলা হল। আমিই সর্বপ্রথম (অগ্রসর হয়ে ভিতরে) প্রবেশ করে বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন স্থানে নামাজ আদায় করেছেন? বিলাল বললেন, সামনের দু' থামের মাঝখানে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন।
হুমায়দ ইবন মাসআদাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি কাবার নিকটে পৌছলেন। ইতোমধ্যে নবী (ﷺ), বিলাল ও উসামাহ কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। উসমান ইবন তুলহাহ্ দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারা কিছু সময় কাবার অভ্যন্তরে অবস্থান করলেন। অতঃপর দরজা খোলা হল এবং নবী (ﷺ) বেরিয়ে এলেন। আমি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম এবং বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কোথায় নামাজ আদায় করেছেন? তারা বললেন, এখানে। ইবন উমর বলেন, তিনি কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন তা আমি তাদের নিকট জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... সালিম থেকে তার পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাহ ইবন যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবন তলহাহ বায়তুল্লাহয় প্রবেশ করলেন। অতঃপর তারা দরজা বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর যখন তারা দরজা খুললেন, তখন প্রথমেই আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাথে মিলিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ভিতরে নামাজ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, তিনি দু' ইয়ামানী থামের মাঝখানে সালাত আদায় করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ), উসামাহ্ ইবন যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবন তলহাহ কে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখলাম। তাদের সঙ্গে আর কেউ প্রবেশ করেনি। অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, বিলাল অথবা উসমান ইবন তলহাহ আমাকে অবহিত করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাবার কেন্দ্রস্থলে ইয়ামানী দু স্তম্ভের মাঝখানে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ বলেন, আমি আতা কে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদেরকে কেবল ত্বওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়নি?" আতা বললেন, ইবন আব্বাস তো কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষেধ করেননি, বরং আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ উসামাহ্ ইবন যায়দ আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এর সকল পাশে দোয়া করেছেন কিন্তু বের হওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ আদায় করেননি। তিনি বের হয়ে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দুরাকাআত নামাজ আদায় করেছেন এবং বলেছেন, এ হল কিবলাহ্। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এর পার্শ্ব বলতে কী বুঝায়? তা দিয়ে কি কোণ বুঝানো হয়েছে? তিনি (আতা) আরও বললেন, এর সমস্ত পার্শ্ব ও কোণই কিবলাহ।
শায়ান ইবন ফারিখ ..... ইবন আব্বাস (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। আর তাতে ছিল ছয়টি স্তম্ভ। একটি থামের পাশে দাড়িয়ে তিনি দোয়া করেছেন কিন্তু নামাজ আদায় করেননি।
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... ইসমাঈল ইবন আবূ খালিদ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবূ আওফা কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) উমরাহ আদায়কালে বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন কি? তিনি বললেন, না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার জাতির লোকদের কুফর পরিত্যাগের যুগটি নিকটবর্তী না হলে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে তা ইবরাহীম এর ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করতাম। কারণ কুরায়শগণ কাবাহ্ ঘর নির্মাণের সময় এর আয়তন ছোট করে দিয়েছে। আর তার পেছনে একটি দরজা স্থাপন করতাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম থেকে এ সানাদে বর্ণিত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি কি দেখনি যে, তোমার গোত্রের লোকেরা কাবাহ ঘর নির্মাণের সময় তা ইবরাহীম এর ভিতগুলোর চেয়ে ছোট করে দেয়? আয়িশাহ্ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি তা ইবরাহীম এর ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করতে চান? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কওমের কুফরী পরিত্যাগের যুগটি যদি নিকটতর না হতো (তবে তাই করতাম)। আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, যদিও বা আয়িশাহ তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখে শুনে থাকবেন। কিন্তু হাজারের নিকটবর্তী উভয় রুকনের স্পর্শ ত্যাগ করতে দেখিনি। তবে বায়তুল্লাহ ইব্রাহীম এর গোটা ভিতের উপর পুনর্নির্মিত হয়নি।
আবূ ত্বাহির ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি জাহিলী যুগের কাছাকাছি না হতো অথবা নিকট অতীতে কুফুরী ত্যাগ না করত, তবে আমি অবশ্যই কাবায় পুঞ্জীভূত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতাম, এর দরজা ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম এবং হাতীমকে কাবার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... সাঈদ ইবন মীনা বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কে বলতে শুনেছিঃ আমার খালা আয়িশাহ আমাকে বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আয়িশাহ! তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিকট অতীতে শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে এর ভিত ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম। এর দুটি দরজা করতাম- একটি পূর্বদিকে, অপরটি পশ্চিমদিকে এবং আল হাজার (হাতীম) এর ছয় গজ স্থান কাবার অন্তর্ভুক্ত করতাম। কেননা কুরায়শরা কাবাহ ঘর নির্মাণকালে এর ভিত ছোট করে দেয়।
হান্নাদ ইবনস্ সারী .... আত্বা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবন মুআবিয়ার সময় কাবাহ ঘর দগ্ধীভূত হয়েছিল- যখন সিরীয় বাহিনী মক্কায় যুদ্ধে লিপ্ত ছিল (৬৩ হিজরী) এবং কাবার যা হবার তাই হল। হাজ্জের মৌসুমে লোকদের আগমনের সময় আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কাবাকে এ অবস্থায় রেখে দিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল লোকদেরকে উদ্দীপ্ত করা অথবা তাদের মধ্যে সিরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনোবল সৃষ্টি করা। লোকেরা সমবেত হলে তিনি বললেন, হে জনগণ! আমাকে কাবাহ ঘর সম্পর্কে পরামর্শ দিন। আমি কি তা ভেঙ্গে ফেলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলব, নাকি শুধু এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব? ইবন আব্বাস বললেন, আমার মনে একটি মতের উদয় হয়েছে, আমি মনে করি যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তুমি মেরামত করবে এবং লোকদের ইসলাম গ্রহণ ও নবী (ﷺ) এর নবুওয়াত লাভকালীন সময়ে কাবাহ ঘর ও পাথরসমূহ যে অবস্থায় ছিল, তা সে অবস্থায় রেখে দিবে। ইবন যুবায়র বললেন, আপনাদের কারো ঘর অগ্নিদগ্ধ হলে তা সংস্কার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন না। অতএব আপনাদের প্রতিপালকের ঘর কী করে এরূপ জীৰ্ণ অবস্থায় রাখা যেতে পারে? আমি আমার রব এর কাছে তিনদিন ইস্তিখারা করব (অভিপ্রায় অবগত হবার জন্য)। অতঃপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনদিন পর তিনি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। লোকেরা আশংকা করল যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কাবার ছাদে উঠবে, সে হয়ত কোন আসমানী গযবে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি (ছাদ ভাঙ্গার জন্য) কাবার ছাদে উঠল এবং তার একটি পাথর নীচে ফেলল। লোকেরা যখন দেখল সে কোন বিপদে পড়েনি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল এবং কাবাহ ঘর ভেঙ্গে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিল। অতঃপর ইবন যুবায়র কতগুলো থাম স্থাপন করে এগুলোর সাথে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। অবশেষে কাবার দেয়ালের গাথুনি উচ্চ হল। ইবন যুবায়র বললেন, অবশ্যই আমি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "লোকেরা যদি নিকট অতীতে কুফুরী ত্যাগ না করত এবং আমার নিকটও কাবাকে পুনর্নির্মাণ করার মত অর্থসামর্থ্যও নেই- তাহলে আমি অবশ্যই আল-হাজার (হাতীম) এর পাচ গজ স্থান কাবাহ ঘরের অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং লোকদের প্রবেশের জন্য ও বের হবার জন্য এর দু'টি দরজা বানাতাম।" ইবন যুবায়র বলেন, বর্তমানে আমার হাতে তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে এবং লোকদের তরফ থেকেও কোন প্রতিবাদের আশংকা নেই। রাবী বলেন, এরপর তিনি হাতীমের পাচ গজ এলাকা কাবার অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে তা (পুরাতন) ভিতের উপর গড়ে উঠল যার উপর ইবরাহীম তা গড়েছিলেন এবং লোকেরা তা অবলোকন করল। এ ভিতের উপর দেয়াল গড়ে তোলা হল। কাবার দৈর্ঘ্য ছিল আঠার গজ। তা যখন (প্রস্থে) বাড়ানো হল, তখন (স্বাভাবিকভাবেই দৈর্ঘ্য) তা ছোট হওয়ায় দৈর্ঘ্যে তা আরও দশ গজ বৃদ্ধি করা হল এবং এর দু'টি দরজা নির্মাণ করা হল, একটি প্রবেশের জন্য এবং অপরটি প্রস্থানের জন্য। ইবন যুবায়র শহীদ হলে হাজ্জাজ (ইবন ইউসুফ) আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানকে তা লিখে জানাল। সে আরও জানাল যে, ইবন যুবায়র (কাবাহ ঘর) সে ভিতের উপর নির্মাণ করেছে [যা ছিল ইবরাহীম-এর ভিত] এবং মক্কার বিশ্বস্ত লোকেরা তা যাচাই করে দেখেছে। আবদুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন যে, কোন বিষয়ে ইবন যুবায়রকে অভিযুক্ত করার প্রয়োজন আমাদের নেই। সে দৈর্ঘ্যে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা বহাল রাখ এবং হাতীমের দিকে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা ভেঙ্গে পূর্বাবস্থায় নিয়ে অসো। আর সে যে (নতুন) দরজা খুলেছে তা বন্ধ করে দাও। এরপর হাজ্জাজ তা ভেঙ্গে পূর্বের ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... হারিস ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ রবীআহ থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উবায়দ বলেন, হারিস ইবন আবদুল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের রাজত্বকালে তার নিকট গিয়েছিলেন। আবদুল মালিক বললেন, আমি মনে করি না যে, আবূ যুবায়র ইবন যুবায়র আয়িশাহ এর নিকট এমন কিছু শুনেছেন যার দাবি তিনি করে থাকেন। ইবরাহীম এর ভিতের উপর কাবাহ ঘরের পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অভিপ্রায় সম্পর্কিত কোন হাদীস তিনি আয়িশাহ এর নিকট শুনেননি। হারিস বলেন, হ্যা, আমি নিজেই তার নিকট এ হাদীস শুনেছি। আবদুল মালিক বললেন, আপনি তাকে কী বলতে শুনেছেন? হারিস বলেন, "আয়িশাহ বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "তোমার কওমের লোকের কাবাহ ঘরের ভিত (আয়তনে) ছোট করে ফেলেছে। অতীতে তারা শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু কাবার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি আমার পরে তা পুননির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এসো, আমি তোমাকে তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু দেখিয়ে দিই"- অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ-কে (হাতীম সংলগ্ন) প্রায় সাত গজ স্থান দেখিয়ে দিলেন। এ হাদীস আবদুল্লাহ ইবন উবায়দ কর্তৃক বর্ণিত। ওয়ালীদ ইবন আত্বা এ বর্ণনার উপর আরো বৃদ্ধি করেছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "আমি জমিনের সমতলে দুটি দরজাও নির্মাণ করতাম একটি পূর্বদিকে এবং অপরটি পশ্চিম দিকে। তুমি কি জান তোমার গোত্রের লোকেরা কাবার দরজা (ভূমি থেকে) উচুতে স্থাপন করেছে কেন?" আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, না। নবী (ﷺ) বললেনঃ "গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে (তারা এটা করেছে) যাতে কেবল সে ব্যক্তিই কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে যাকে তারা অনুমতি দিবে। যখন কোন ব্যক্তি কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের ইচ্ছা করত, তারা তাকে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দিত। এমনকি সে যখন তাতে প্রবেশ করত, তখন তারা তাকে টেনে নিচে ফেলে দিত।" আবদুল মালিক হারিসকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি আয়িশাহ্ কে এ কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। রাবী বলেন, কিছুক্ষণ তিনি হাতের ছড়ি দিয়ে মাটি খুড়তে লাগলেন, এরপর বললেনঃ আমি তার (ইবন যুবায়র) কাজ স্ব অবস্থায় বহাল রাখার আকাঙ্ক্ষা করছি।
মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ থেকে এ সানাদে ইবন বাকর এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ কাযাআহ থেকে বর্ণিত। আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান বায়তুল্লাহ তাওয়াফ-কালে বলে উঠলেন, আল্লাহ ইবন যুবায়রকে ধ্বংস করুন- যেহেতু সে [আয়িশাহ] এর উপর মিথ্যারোপ করেছে যে, সে তাকে নাকি বলতে শুনেছে, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আয়িশাহ! তোমার সম্প্রদায় যদি অতীতে কুফুরী পরিত্যাগকারী না হতো তবে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে তাতে হাতীমের অংশ যুক্ত করে দিতাম। কারণ তোমার সম্প্রদায় কাবার আয়তন ছোট করে দিয়েছে।" (আবদুল মালিকের এ কথার উপর) হারিস ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ রবীআহ বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! এ কথা আর বলবেন না। কারণ আমি নিজে আয়িশাহ কে এ কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আবদুল মালিক বললেন, কাবাহ ঘর ভাঙ্গার পূর্বে যদি আমি তা শুনতে পেতাম, তাহলে ইবন যুবায়রের ভিতের উপরই তা অটুট রাখতাম।
সাঈদ ইবন মানসূর .... আয়িশাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, হাতীমের দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, হ্যা। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তবে তারা কেন এটাকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করেনি? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী? তিনি বললেন, তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড, যাতে তাদের কাঙ্খিত ব্যক্তি তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। তোমার কওমের জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এ আশংকা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে- তা হলে আমি অবশ্যই (হাতীমের) দেয়াল বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং কাবার দরজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল হাজার (হাতীম) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। এরপর পূর্বোক্ত আবূল আহওয়াস-এর হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আছে [আয়িশাহ জিজ্ঞেস করলেন] "এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী যে, সিড়ি ব্যতীত তাতে উঠা যায় না?" এতে আরো আছেঃ "তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যাবার আশংকায়।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাযল ইবন আব্বাস সওয়ারীতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় খাসআম গোত্রের এক মহিলা তার নিকট মাসআলাহ জিজ্ঞেস করতে আসলো। ফাযলও তার দিকে তাকাচ্ছিল এবং মহিলাটিও ফাযলের দিকে তাকাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাযল এর মুখমণ্ডল অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তার বান্দাদের উপর যে হাজ্জ ফরয করেছেন- তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপরও ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনের উপর অবস্থান করতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যা। এটা বিদায় হাজ্জের সময়কার ঘটনা।
আলী ইবন খাশরম .... ইবন আব্বাস থেকে তার ভাই ফাযলের সূত্রে বর্ণিত খাসআম গোত্রের এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তার উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি উটের পিঠে বসে থাকতে সক্ষম নন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ কর।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) রাওহা নামক স্থানে একদল আরোহীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং তিনি বললেন, তোমরা কোন সম্প্রদায়ের লোক? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তারা আরও জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল। এরপর এক মহিলা তার সামনে একটি শিশুকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, এর জন্য হাজ্জ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যা এবং তোমার জন্য সাওয়াব রয়েছে।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার শিশু পুত্রকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! এর জন্য হাজ্জ হবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যা এবং তোমার জন্য রয়েছে সাওয়াব।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কুরায়ব থেকে বর্ণিত। এক মহিলা তার শিশুকে তুলে ধরে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এর হাজ্জ হবে কি? তিনি বললেন, হ্যা এবং তোমার জন্য সাওয়াব হবে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন আব্বাস থেকে এ সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের উপর হাজ্জ ফরয করা হয়েছে। অতএব তোমরা হাজ্জ কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! তা কি প্রতি বছর? রসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন এবং সে তিনবার কথাটি বলল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি হ্যা বললে তা ওয়াজিব হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা আমাকে ততটুকু কথার উপর থাকতে দাও যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই- তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ কর।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন সাথে মাহরাম ব্যক্তি ছাড়া একাকী তিন দিনের (দূরত্বে) সফর না করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... উবায়দুল্লাহ এর সূত্রে বর্ণিত। আবূ বকর এর বর্ণনায় রয়েছে তিন দিনের অতিরিক্ত' আর ইবন নুমায়র এর পিতার সূত্রে বর্ণনায় রয়েছে- সালাসাহ্ (তিনরাত)।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান এনেছে- তার জন্য সাথে কোন মাহরাম ব্যক্তি ছাড়া তিন দিনের দূরত্বে পথের সফর করা বৈধ নয়।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... কাযাআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট থেকে একটি হাদীস শুনে আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি তা সরাসরি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনিনি তা কেন তার নামে বলব। কাযাআহ্ বলেন, আমি আবূ সাঈদ কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "তোমরা কেবল তিনটি মসজিদের দিকেই (সাওয়াবের উদ্দেশে) সফর করঃ "আমার এ মাসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মাসজিদুল আকসা।" আমি তাকে আরও বলতে শুনেছিঃ "কোন মহিলা যেন দু' দিনের পথেও সফর না করে- তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ অথবা তার স্বামী ব্যতীত।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট চারটি কথা শুনেছি এবং তা আমার পছন্দ হয়েছে ও আমার কাছে ভাল লেগেছে। সাথে স্বামী অথবা কোন মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত কোন মহিলাকে দু' দিনের পথও সফর করতে তিনি নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক যেন সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত তিন দিনের দূরত্বের পথ সফর না করে।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কোন স্ত্রীলোক যেন তিন দিনের দূরত্বের পথ একাকী সফর না করেন- তার সাথে একজন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত।
ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ থেকে এ সানাদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আছেঃ "তিন দিনের অতিরিক্ত দূরত্ব সাথে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত"।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিম মহিলার জন্য সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এক রাতের পথও সফর করা বৈধ নয়।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার জন্য সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এক দিনের দূরত্বের পথ সফর করা হালাল নয়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে- তার জন্য সঙ্গে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত একাকী এক দিন ও এক রাতের দূরত্বের পথও সফর করা হালাল নয়।
আবূ কামিল আল জাহদারী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোকের জন্য তার সাথে কোন মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত তিন দিনের দুরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার পিতা অথবা তার ছেলে অথবা তার স্বামী অথবা তার ভাই অথবা তার অপর কোন মাহরাম আত্মীয় তার সফর সঙ্গী না হলে তার জন্য তিনদিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করা হালাল নয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আমাশ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে ভাষণ দিতে শুনেছিঃ সাথে মাহরাম পুরুষ না থাকা অবস্থায় কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে। কোন স্ত্রীলোক যেন সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকী সফর না করে। এক ব্যক্তি উঠে দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে- যা অমুক স্থানে যুদ্ধে যাবে। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হাজ্জ কর।
আবূ রবী আয যাহরানী .... আমর ইবন দীনার থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইবন আবূ উমর ... ইবন জুরায়জ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ "কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে, কিন্তু তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ থাকলে স্বতন্ত্র কথা।"
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন উমর বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথাও সফরের উদ্দেশে তার উটে আরোহণের সময় তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলতেন, এরপর যে দোয়া পাঠ করতেন তার অর্থ এইঃ "পবিত্র মহান সে সত্তা- যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ। আমাদের এ সফরে আমরা তোমার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং তোমার সন্তুষ্টি বিধানকার কাজের তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফর আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই (আমাদের) সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।" এরপর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখনও উপরোক্ত দোয়া পড়তেন এবং এর সাথে যোগ করতেনঃ (অর্থ) "আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী"।
যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন সারজিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফর করতেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন সফরের কষ্ট থেকে, দুঃখজনক প্রত্যাবর্তন থেকে, সুখময় অবস্থার পর দুঃখময় অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, মাযলুমের বদদোয়া থেকে এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতিকর দৃশ্য অবলোকন থেকে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও যুহায়র ইবন হারব .... আসিম আল-আহওয়াল থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য আবদুল ওয়াহিদের বর্ণনায় "ফীল মাল ওয়াল আহল" এবং মুহাম্মাদ ইবন হাযম এর বর্ণনায় প্রত্যাবর্তনকালে প্রথমে আহল' শব্দ রয়েছে। উভয়ের বর্ণনায় রয়েছেঃ "আয় আল্লাহ! "আমি সফরের কষ্ট ক্লান্তি হতে তোমার কাছে পানাহ চাই।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিহাদ, অভিযান, হাজ্জ অথবা উমরাহ করে ফিরে আসার সময় যখন কোন উচু টিলা বা কংকরময় উচ্চভূমিতে আরোহণ করতেন তখন তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ধ্বনি দিতেন, এরপর এ দোয়া পড়তেন। (অর্থ) "আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোন শারীক নেই। তারই রাজত্ব (বা সার্বভৌমত্ব), তার জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (আমরা) প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকার, আমাদের প্রতিপালককে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তার ওয়াদা পুরন করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।"
যুহায়র ইবন হারব, ইবন উমার ও ইবন রাফি .... ইবন উমর থেকে এ সূত্রে নবী (ﷺ) এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। শুধুমাত্র আইয়ুবের বর্ণনায় দু'বার তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে।
যুহায়র ইবন হারব ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবূ তলহাহ্ নবী (ﷺ) এর সাথে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং সফিয়্যাহ্ তার উষ্ট্রীর পিঠে পেছনে সওয়ার ছিলেন। আমরা যখন মদীনাহ শহরতলীতে পৌছলাম তখন নবী (ﷺ) এ দোয়া পড়লেনঃ (অর্থ) "আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রভুর ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী।" আমরা মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি অবিরত এ দোয়া পড়তে থাকতেন।
হুমায়দ ইবন মাসআদাহ্ .... আনাস ইবন মালিক থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার কংকরময় ভূমি (বাতহা)-তে তার উট বসালেন এবং সেখানে নামাজ আদায় রলেন। নাফি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমারও তাই করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির আল মিসরী ও কুতায়বাহ .... নাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার যুল হুলায়ফার বাতহা প্রান্তরে তার উট বসাতেন যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উট বসাতেন এবং নামাজ আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার হাজ্জ অথবা উমরাহ সমাপনান্তে ফেরার পথে যুল হুলায়ফার কংকরময় ভূমিতে নিজের উট বসাতেন যেখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উট বসাতেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। যুল হুলায়ফায় রাতের শেষ ভাগে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট (কোন আগন্তুক ফেরেশতা) আবির্ভূত হয়। তাকে বলা হল, আপনি বারাকাতপূর্ণ পাথরময় স্থানে (অবস্থান করছেন)।
মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থানকালে রাতের বিশেষ প্রহরে তার নিকট (কোন ফেরেশতা) আবির্ভূত হয় এবং বলা হয়ঃ আপনি বারাকাতপূর্ণ কংকরময় স্থানে (অবস্থান করছেন)। মূসা উকবাহ বলেন, সালিম আমাদের সাথে সফরকালে মসজিদের নিকট তার উট বসাতেন যেখানে আবদুল্লাহ ইবন উমর নিজের উট বসাতেন এবং এ স্থানকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অবতরণ (অবস্থান) স্থল মনে করতেন। স্থানটি উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে নির্মিত মসজিদের নিম্নদেশের সমতলে মাসজিদ ও কিবলার মাঝখানে অবস্থিত।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের পূর্ববতী (বছরের) যে হজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর সিদীক কে আমীর নিয়োগ করেছিলেন, সে হাজ্জের সময় তিনি (আবূ বকর) আমাকে সহ একদল লোকদের কুরবানীর দিন জনগণের মধ্যে নিম্নোক্ত ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেনঃ "এ বছরের পর মুশরিকরা আর হাজ্জ করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করবে না।" ইবন শিহাব বলেন, আবূ হুরায়রাহ এর এ হাদীস অনুযায়ী হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান বলতেন- "মহান হাজ্জের দিন হচ্ছে এ কুরবানীর দিন।"
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নেই- যেদিন আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তাআলা নিকটবতী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে মালায়িকার সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেনঃ তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)?
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত মাঝখানের গুনাহসমূহের কাফফারাহ স্বরূপ এবং ক্রটিমুক্ত (অথবা আল্লাহর নিকট গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।
সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন্ নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল উমাবী, ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ (কাবাহ) ঘরে (হাজ্জের উদ্দেশে) আসে, অতঃপর অশ্লীল আচরণও করে না এবং দুষ্কর্মও করে না সে এমন (নিষ্পাপ) ভাবে প্রত্যাবর্তন করে যে তার জননী তাকে (নিষ্পাপ অবস্থায়) প্রসব করেছেন।
সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন মুসান্না .... মানসূর থেকে এ সানাদের পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে হাদীসটি এভাবে শুরু হয়েছে "যে ব্যক্তি হাজ্জ করে এবং (এ সময়) কোনরূপ অশ্লীল আচরণও করে না, দুষ্কর্মও করে না।"
সাঈদ ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে এ সানাদে নবী (ﷺ) এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ ত্বহির, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উসামাহ্ ইবন যায়দ ইবন হরিসাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি মক্কায় আপনার বাড়িতে অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, "আকীল কি আমাদের জন্য কোন চার দেয়াল বা ঘর অবশিষ্ট রেখেছে?" আবূ তলিবের (মৃত্যুর পর তার পুত্র) আকীল ও ত্বলিব তার ওয়ারিস হয়, কিন্তু জাফার ও আলী তার কোন কিছুর ওয়ারিস হতে পারেনি। কেননা তারা উভয়ে (আবূ ত্বালিবের মৃত্যুর সময়) ছিলেন মুসলিম এবং আকীল ও তলিব ছিল কাফির।
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী .... উসামাহ্ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আগামীকাল কোথায় অবতরণ করবেন? এটা ছিল তার বিদায় হাজ্জকালীন ঘটনা, যখন আমরা মক্কার নিকটবর্তী হয়েছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাসস্থান অবশিষ্ট রেখেছে?
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... উসামাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর মর্জি আপনি আগামীকাল কোথায় অবতরণ করবেন? এটা মক্কা বিজয়কালের বক্তব্য। তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাসস্থান অবশিষ্ট রেখেছে?
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ... আলা ইবন হাযরামী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, হাজ্জ সমাপনান্তে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে মুহাজিরগণ তিনদিন মক্কায় অবস্থান করবে। তিনি যেন এ বাক্যের দ্বারা তিন দিনের অধিক না হবার কথা বলেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলা ইবন হাযরামী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুহাজিরগণ হজ্জ সমাপনান্তে মক্কায় তিনদিন অবস্থান করতে পারবে।
হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আলা ইবন হাযরামী বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ হাজ্জ সমাপনান্তে মুহাজিরগণ তিন রাত মক্কায় অবস্থান করবে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আলা ইবন হাযরামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ করার পর মুহাজিরগণ মক্কায় তিনদিন অবস্থান করতে পারবে।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... ইবন জুরায়জ থেকে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত অব্যাহত থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহবান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা এ শহরকে সম্মানিত করেছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক কিয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তখন "আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির (লম্বা ঘাস) সম্পর্কে (অনুমতি দিন)। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বললেন, কিন্তু ইযখির (তোলার অনুমতি দেয়া হল)।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি মানসূর থেকে এ সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি "যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন" কথাটুকুর উল্লেখ করেননি এবং কিতাল শব্দের পরিবর্তে কতল শব্দ ব্যবহার করেছেন।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ শুরায়হ আল আদাবী থেকে বর্ণিত। আমর ইবন সাঈদ (ইবন আস ইবন উমাইয়্যাহ) যখন মক্কা অভিযানের উদ্দেশে সৈন্য বাহিনীসহ রওনা করেন তখন আবূ শুরায়হ তাকে বলেন, হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলতে যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দু' কান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সে দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই মক্কা কে আল্লাহ তাআলা হারামে পরিণত করেছেন- কোন মানুষ তাকে হারামের মর্যাদায় উন্নীত করেনি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখেতার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তাআলা তার রসূল (ﷺ) কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি তাও এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সে হুরমাত (মর্যাদা) গতকালের মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন (এ কথা) অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দেয়। আবূ শুরায়হ কে জিজ্ঞেস করা হল- আমর আপনাকে কী জবাব দিল? তিনি বললেন, হে আবূ শুরায়হ! এ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম (কাবাহ্) কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না।
যুহায়র ইবন হারব ও উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন তার রসূল (ﷺ) কে মক্কা বিজয় দান করলেন- তখন তিনি লোকদের উদ্দেশে দাড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চিত আল্লাহ তাআলা হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদান করেছেন এবং তার রসূল (ﷺ) ও মুমিনদেরকে মক্কাহ অভিযানে বিজয়ী করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত বৈধ ছিল না। আর আমার জন্যও একদিনের কিছু সময় এখানে যুদ্ধ করা হালাল করা হয়েছিল। আমার পরে আর কারও জন্য তা কখনও হালাল করা হবে না। অতএব এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার কাটাদার গাছও উপড়ানো যাবে না এবং এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী (তা তুলে নিতে পারবে)। কারও কোন আত্মীয় নিহত হলে তার জন্য দুটি অবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের অধিকার রয়েছেঃ হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে নতুবা হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস যা আমরা কবরে দিয়ে থাকি এবং আমাদের ঘরের চালায় ব্যবহার করি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিন্তু ইযখির ঘাস (এর কাটার অনুমতি দেয়া হল)। ইয়ামানের অধিবাসী আবূ শাহ দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে (এ কথাগুলো) লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। ওয়ালীদ বলেন, আমি আওযাঈ-কে জিজ্ঞেস করলামঃ "হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন"-তার এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, যে ভাষণ তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দিতে শুনলেন তা।
ইসহাক ইবন মানসূর ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু লায়স কর্তৃক বানু খুযাআর এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ শেষোক্ত গোত্রের লোকেরা মক্কাহ বিজয়ের সময়ে প্রথমোক্ত গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি নিজ সওয়ারীতে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশ প্রতিরোধ করেন এবং তার রসূল (ﷺ) ও মুমিনদেরকে এর উপর বিজয়ী করেন। সাবধান আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কখনও কারও জন্য তা হালাল নয়। সাবধান! আমার জন্যও এক দিনের সামান্য সময় এখানে (রক্তপাত) বৈধ করা হয়েছিল। সাবধান! এ মুহুর্তে আবার তা (আমার জন্যও) হারাম হয়ে গেল। অতএব এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না এবং পথে পড়ে থাকা বস্তুও তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি (তা তুলতে পারবে)। যার কোন আত্মীয় নিহত হয়েছে তার দুটি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে, নতুবা কিসাস স্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করতে হবে। রাবী বলেন, আবূ শাহ নামক ইয়ামানের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। কুরায়শ বংশের এক ব্যক্তি বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস- আমরা তো তা আমাদের ঘর তৈরির কাজে এবং কবরে ব্যবহার করে থাকি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো জন্য মক্কায় অস্ত্র বহন করা হালাল নয়।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের সময়ে লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন। তিনি যখন তা মাথা থেকে নামিয়ে রাখলেন তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, ইবন খাত্বালা-কে কাবার গেলাফের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। [ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করেন যে, ইমাম যুহরী আনাস এর সূত্রে তাকে এ হাদীস বলেছেন, কিনা] তিনি বলেন, হ্যা।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ আস্ সাকাকী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় প্রবেশ করলেন। কুতায়বাহ্ বলেন, "তিনি মক্কাহ বিজয়ের দিন ইহরামবিহীন অবস্থায় কালো পাগড়ী পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করেন। কুতায়বাহ্ এর রিওয়ায়াতে উল্লেখ রয়েছে যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কালো পাগড়ী পরিধান করে মক্কাহ্ (মক্কাহ্) বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেন।
আলী ইবন হাকীম আল আওদী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর সূত্রে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কাহ বিজয়ের দিন কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক্ক ইবন ইবরাহীম .... জাফার ইবন আমর ইবন হুরায়স থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথায় কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় লোকদের উদ্দেশে (মক্কাহ বিজয়ের দিন) ভাষণ দেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও হাসান আল হুলওয়ানী ... জাফার ইবন আমর ইবন হুরায়স এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় মিম্বারের উপর (উপবিষ্ট) দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি পাগড়ীর দু' প্রান্ত কাঁধের মাঝ বরাবর ঝুলিয়ে রেখেছেন। আবূ বকর এর বর্ণনায় মিম্বারের উপর কথাটুকু উল্লেখ নেই।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আসিম থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইবরাহীম মক্কা কে হারাম বানিয়েছেন এবং এখানকার বাসিন্দাদের জন্য দোয়া করেছেন। আর আমি নিশ্চয়ই মদীনাকে হারামে পরিণত করলাম ঠিক যেভাবে ইবরাহীম মক্কা কে হারামে পরিণত করেছেন। আমি এখানকার মুদ ও সা' (ওজন পরিমাপের দুটি একক) এর জন্য দোয়া করলাম যেরূপ ইবরাহীম মক্কার অধিবাসীদের জন্য দোয়া করেছেন।
আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আমর ইবন ইয়াহইয়া আল মাযিনী থেকে এ সূত্রে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... রাফি ইবন খাদীজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইবরাহীম মক্কা কে হারামে পরিণত করেছেন, আর আমি দু'টি কৃষ্ণ প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। তিনি মদীনাকে বুঝিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... নাফি ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবন হাকাম লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি মক্কা ও তার বাসিন্দা এবং এর হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। তখন রাফি ইবন খাদীজ তাকে ডাক দিয়ে বললেন, কী ব্যাপার! আমি আপনাকে মক্কা, তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করতে শুনছি, অথচ মদীনাহ, তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি কিছুই বলেননি; অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার দু' প্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ হাদীস আমাদের নিকট একটি খাওলানী চামড়ায় লিপিবদ্ধ আছে। আপনি চাইলে আমি তা আপনার সামনে পড়ে শোনাতে পারি। রাবী বলেন, মারওয়ান চুপ হয়ে গেলেন, অতঃপর বললেন, অবশ্য আমিও এ রকম কিছু শুনেছি।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও আমর আন্ নাকিদ .... জবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় ইবরাহীম মক্কার হারাম নির্ধারণ করেছেন, আর আমি মদীনাকে হারাম বলে ঘোষণা করছি- এর দু' প্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে। অতএব এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আমির ইবন সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে হারাম বলে ঘোষণা দিচ্ছি। এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মদীনাহ তার অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর স্থান, যদি তারা বুঝে। যে ব্যক্তি অনাগ্রহবশতঃ মদীনাহ্ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার চাইতে উত্তম ব্যক্তিকে তার স্থলবর্তী করেন। আর যে ব্যক্তি এখানে ক্ষুধা ও কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করে, আমি তার জন্য কিয়ামতের দিন শাফাআতকারী অথবা বলেছেন, সাক্ষী হব।
ইবন আবূ উমর .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তৎপরবর্তী অংশ উপরোক্ত ইবন নুমায়রের অনুরূপ। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত আছে যে, (রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন) যে ব্যক্তিই মদীনাবাসীদের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের আগুনে এমনভাবে বিগলিত করবেন, যেভাবে আগুনের তাপে সীসা গলে যায় অথবা লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমির ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। সাদ আল-আকীকে তার আবাসে রওনা হলেন। পথিমধ্যে তিনি একটি ক্রীতদাসকে একটি গাছ কাটতে অথবা (লাঠি দিয়ে) এর পাতা ঝরাতে দেখলেন। অতএব তিনি তার অস্ত্র কেড়ে নিলেন। তিনি ফিরে এলে ঐ গোলামের মুনিব এসে তার সাথে আলাপ করলেন এবং তাদের গোলামের নিকট থেকে তিনি যা কেড়ে নিয়েছেন তা তাদের কাছে অথবা তাদের গোলামের কাছে ফেরত দিতে অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন, যে জিনিস রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছেন তা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। অতএব তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করলেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আমর ইবন আবূ আমর থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ তুলহাহ্ কে বললেনঃ তোমাদের বালকদের মধ্য থেকে একজন বালক আমার খিদমাতের জন্য খুজে আনো। অতএব আবূ তুলহাহ আমাকে বাহনে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখনই (বাহন থেকে) নামতেন, আমি তার প্রয়োজনীয় সেবা করতাম। এ হাদীসে তিনি আরও বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অগ্রসর হতে থাকলেন এবং উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হল- তিনি বললেনঃ "এ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী।" তিনি যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন তখন বললেনঃ "হে আল্লাহ! তাদের (মদীনার অধিবাসীদের) মুদ ও সা এ বারাকাত দান করুন।"
সাঈদ ইবন মানসূর .... আনাস ইবন মালিক থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত এই যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "আমি মদীনার দু' প্রান্তের কংকরময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম করছি।"
হামিদ ইবন উমার .... আসিম বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অতএব যে ব্যক্তি এখানে কোন পাপ করে, তিনি পুনরায় আমাকে বললেন, তা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার যে, এখানে কোন পাপ করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতা এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার ফরয অথবা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করবেন না। রাবী বলেন, আনাস এর পুত্র বললেন, "অথবা যে কোন পাপীকে আশ্রয় দিল।"
যুহায়র ইবন হারব .... আসিম আল আহওয়াল বলেন, আমি আনাস কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, তা হারাম। অতএব এখানকার উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না। যে ব্যক্তি তা করবে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতা্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! তাদের বারাকাত দান করুন দাড়িপাল্লায়, তাদের সা' এ এবং তাদের মুদ-এ।
যুহায়র ইবন হারব ও ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আস্ সামী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ। আপনি মক্কা তে বারাকাত দান করেছেন, মদীনায় তার দ্বিগুণ বারাকাত দান করুন।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... ইবরাহীম আত্ তায়মী থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবন আবূ তুলিব আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের (আহলে বায়ত) কাছে আল্লাহর কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, ঐ সহীফাহ্ যা তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী (ﷺ) বলেন, মদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরয ও নাফল ইবাদাত কবুল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। রাবী বলেন, আবূ বকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে "তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী" এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবতী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় "তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত" কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি।
আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আমাশ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে "যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করা হবে না। তাদের (আলী ও ওয়াকী) উভয়ের বর্ণনায় "যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকীর বর্ণনায় "কিয়ামতের দিন" কথাটুকুর উল্লেখ নেই।
আবদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আমাশ থেকে এ সূত্রে ইবন মুসহির ও ওয়াকীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় "গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়" কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লানাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মদীনাহ হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফরয বা নাফল (কিছুই) কবুল করা হবে না।
আবূ বকর ইবন নাযর ইবন আবূ নাযর .... আমাশ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি কিয়ামতের দিন কথাটুকু বলেননি। তিনি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, "মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর। কেউ যদি মুসলিম প্রদত্ত নিরাপত্তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তবে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফরয বা নাফল কিছুই কবুল হবে না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি মদীনায় হরিণ বিচরণ করতে দেখি তবে তাকে ভয় দেখাব না। (কেননা) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনার দু'পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম ঘোষণা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ বলেন, আমি যদি মদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশে হরিণ বিচরণ করতে দেখি, তবে আমি তাকে উত্যক্ত করব না এবং তিনি মদীনার চারপাশের বারো মাইল পর্যন্ত চরণভূমি ঘোষণা করেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন প্রথম (পাকা) ফল দেখতে পেত, তা নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসত এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তা গ্রহণ করতেন তখন তিনি নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেনঃ "হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে) বারাকাত দান করুন, আমাদের মদীনায় বারাকাত দান করুন, আমাদের সা'-এ বারাকাত দান করুন এবং আমাদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম আপনার বান্দা, প্রিয় বন্ধু ও নবী। আর আমিও আপনার বান্দা ও নবী। তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দোয়া করেছেন। আমিও আপনার নিকট মদীনার জন্য দোয়া করছি- যেমন তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দোয়া করেছিলেন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু।" রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কোন শিশুকে ডাকতেন এবং তাকে এ ফল দিয়ে দিতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, মৌসুমের প্রথম ফল রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেয়া হত। তিনি তখন বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমাদের মদীনায়, আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে), আমাদের মুদ-এ ও আমাদের সা'-এ বারাকাত দান করুন, বারাকাতের উপর বারাকাত দান করুন।" অতঃপর তিনি ফলটি তার নিকট উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুকে দিয়ে দিতেন।
হাম্মাদ ইবন ইসমাঈল ইবন উলাইয়্যাহ্ .... আবূ সাঈদ মাওলা আল মাহরী থেকে বর্ণিত। তারা মদীনায় কষ্ট ও দুঃখে পতিত হন। তিনি আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক এবং আমরা দুঃখ দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছি। তাই আমি আমার পরিবারকে কোন শস্য শ্যামল এলাকায় স্থানান্তরের মনস্থ করেছি। আবূ সাঈদ বললেন, তা করো না বরং মদীনাকে আকড়ে থাক। কারণ, একদা আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে বের হলাম, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেন যে এবং উসফান পর্যন্ত পৌছলেন। এখানে তিনি কয়েক রাত অবস্থান করলেন। লোকেরা বলল, আল্লাহর কসম আমরা এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি। অথচ আমাদের পরিবার পরিজন আমাদের পশ্চাতে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা তাদের (নিরাপত্তার) ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছি না। এ কথা নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌছলে তিনি বলেনঃ কী ব্যাপার, তোমাদের এ কথা আমার নিকটে পৌছেছে। রাবী বলেন, আবূ সাঈদ কথাটা কিভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তা আমার হুবহু মনে নেই। সে সত্তার নামে শপথ অথবা সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্য আমি মনস্থ করেছি, অথবা যদি তোমরা চাও- রাবী বলেন, আবূ সাঈদ কোনটি বলেছেন তা আমার সঠিক মনে নেই। তবে আমি নিশ্চিত আমার উষ্ট্রীকে অগ্রসর হবার নির্দেশ দিব এবং মদীনায় পৌছা পর্যন্ত তার একটি গিটও খুলব না। (যাত্রা বিরতি করব না)। অতঃপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম মক্কা কে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং তা পবিত্র ও সম্মানিত হয়েছে। আর আমি মদীনাকে হারাম ঘোষণা করলাম- যা দু' পাহাড়ের (আয়র ও উহুদ) মধ্যস্থলে অবস্থিত। অতএব এখানে রক্তপাত করা যাবে না, এখানে যুদ্ধের উদ্দেশে অস্ত্রবহন করা যাবে না এবং পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত গাছপালার পাতাও পাড়া যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের এ শহরে বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ আমাদের সা'-এ বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ আমাদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ! বারাকাতের সাথে আমাদের আরো দুটি বারাকাত দান করুন।" সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! মদীনার এমন কোন প্রবেশ পথ বা গিরি পথ, বা পাহাড়ের পথ নেই যেখানে তোমাদের মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু'জন করে ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত নেই। পুনরায় তিনি লোকদের উদ্দেশে বললেন, "তোমরা রওনা হও।" অতএব আমরা রওনা হলাম এবং মদীনাহ এসে পৌছলাম। সে সত্তার শপথ যার নামে আমরা শপথ করি অথবা যার নামে শপথ করা হয়- হাম্মাদ তার উধ্বতন রাবী কোনটি বলেছেন সে সম্বন্ধে সন্দেহে পড়েছেন। আমরা মদীনাহ প্রবেশ করে বাহনের পিঠের হাওদা তখনও খুলিনি ইত্যবসরে আবদুল্লাহ ইবন গাতফান গোত্রের লোকেরা আমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করে, অথচ ইতোপূর্বে এরূপ কিছু করার দুঃসাহস তাদের হয়নি।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আল্লাহ আমাদের মুদ ও সা'-এ বারাকাত দিন এবং বারাকাতের সাথে আরও দু'টি বারাকাত করুন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন মানসূর .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ মাওলা আল মাহরী থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল হাররার রাতগুলোতে আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট এলেন এবং মদীনাহ থেকে (কোথাও) চলে যাওয়ার পরামর্শ করলেন। তিনি তার কাছে এখানকার দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও নিজের বৃহৎ পরিবারের অভিযোগ করলেন। তিনি তাকে আরও জানালেন যে, তিনি এখানকার ক্লেশ ও রুক্ষ আবহাওয়া বরদাশত করতে পারছেন না। আবূ সাঈদ তাকে বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়, আমি তোমাকে মদীনাহ ত্যাগের পরামর্শ দিতে পারি না। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এখানকার কষ্ট সহ্য করে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন অবশ্যই আমি তার জন্য শাফাআত করব অথবা সাক্ষী হব, যদি সে মুসলিম হয়ে থাকে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ মদীনার দু' প্রান্তের প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে আমি হারাম ঘোষণা করছি, যেমন, ইবরাহীম মক্কা কে হারাম ঘোষণা করেছেন। (অধঃস্তন রাবী) আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আবূ সাঈদ যদি আমাদের কারও হাতে পাখি দেখতে পেতেন তবে তিনি তার হাত থেকে পাখিকে মুক্ত করে ছেড়ে দিতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... সাহল ইবন হুনায়ফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত দিয়ে মদীনার দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ ঐ স্থান হারাম ও নিরাপদ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় এলাম এবং তা ছিল অস্বাস্থ্যকর স্থান। আবূ বকর ও বিলাল অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীগণের অসুস্থতা লক্ষ্য করে দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের জন্য প্রিয় স্থান করুন যেমন মক্কা কে প্রিয় স্থান করেছেন অথবা আরও অধিক, তাকে স্বাস্থ্যকর স্থানে পরিণত করুন, আমাদের জন্য এখানকার সা' ও মুদ-এ বারাকাত দান করুন এবং জ্বর জুহফায় সরিয়ে দিন।"
আবূ কুরায়ব .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এখানকার দুঃখ কষ্ট সহ্য করে আমি কিয়ামতের দিন অবশ্যই তার জন্য শাফাআত করব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যুবায়রের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নিস থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফিৎনার সময় আবদুল্লাহ ইবন উমর এর নিকট বসা ছিলেন। তার নিকট তার এক আযাদকৃত বাদী সালাম দিয়ে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আমি (মদীনাহ থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করছি। আমাদের উপর দিয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আবদুল্লাহ তাকে বললেন, বোকা মেয়ে, থেকে যাও। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "যে ব্যক্তি মদীনার দুঃখ কষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে আমি কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী হব অথবা তার শাফাআতকারী হব।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এখানকার দুঃখকষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে আমি কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী হব অথবা তার শাফাআতকারী হব। এখানকার বলতে মদীনাকে বুঝানো হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি মদীনার দুঃখকষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে, তার জন্যই আমি কিয়ামতের দিন শাফাআতকারী হব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ হতে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইউসুফ ইবন ঈসা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদীনার দুঃখকষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করবে... অবশিষ্টাংশ আগের হাদীসের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনার প্রবেশ পথে মালায়িকাহ প্রহরারত। তথায় মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাসীহ (দাজ্জাল) মদীনাহ্ আক্রমণের উদ্দেশে এসে উহুদ পাহাড়ের পশ্চাতে অবতরণ করবে এবং মালায়িকাহ্ তার মুখ (গতি) সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দিবে আর তথায় সে ধ্বংস হবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (মদীনার) লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি তার চাচাত ভাইকে এবং নিকটাত্মীয়কে ডেকে বলবে, আসো, কোন উর্বর এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করি, আসো, কোন শস্য-শ্যামল এলাকায় গিয়ে বাস করি। কিন্তু মদীনাই তাদের জন্য উত্তম যদি তারা জানত। সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি কোন ব্যক্তি মদীনার উপর বিরক্ত হয়ে চলে যায় তবে আল্লাহ তাআলা তার চাইতে উত্তম ব্যক্তি তার স্থলবর্তী করবেন। সাবধান মদীনাহ হচ্ছে হাপর তুল্য, যা নিজের মধ্য থেকে নিকৃষ্ট জিনিস (ময়লা) বের করে দেয়। কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ মদীনাহ তার বুক থেকে নিকৃষ্ট লোকদের বের করে না দিবে যেমন হাপর লোহার ময়লা দূর করে দেয়।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি এমন একটি জনপদে (হিজরতের) জন্য আদিষ্ট যা সমস্ত জনপদ খেয়ে ফেলবে (আধিপত্য বিস্তার করবে)। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব নামে অভিহিত করেছে। অথচ তা হল মদীনাহ্। তা লোকদের এমনভাবে বের করবে যেমনিভাবে হাপর লোহার ময়লা বের করে।
আমর আন নাকিদ, ইবন আবূ উমার ও ইবন মুসান্না .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকেও এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এরা দু'জন বলেছেনঃ "যেমন হাপর ময়লা দূর করে" এবং "লোহা" শব্দের উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন (গ্রাম্য লোক) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট (ইসলামে দীক্ষিত হবার) বায়আত হল। অতঃপর বেদুঈন মদীনায় প্রবল জরে আক্রান্ত হল। সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। তিনি তার কথা প্রত্যাখ্যান করলেন। সে পুনরায় তার নিকট এসে বলল, আমার বায়আত ফিরিয়ে নিন। তিনি তা অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। অতঃপর বেদুঈন (মদীনাহ থেকে) চলে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "মদীনাহ হচ্ছে হাপর স্বরূপ, সে নিজের বুক থেকে ময়লা বহিষ্কার করে দেয় এবং পবিত্র জিনিস ধুয়ে মুছে সাফ করে"।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... যায়দ ইবন সাবিত এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হল ত্বয়বাহ (পবিত্র) মদীনাহ্, তা ময়লা দূর করে দেয় যেমন আগুন রূপার ময়লা দূর করে দেয়।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, হান্নাদ ইবন আস্ সারী ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা মদীনার নাম রেখেছেন ত্বাবাহ্'।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, ইবরাহীম ইবন দীনার ও মুহাম্মাদ রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শহরের মদীনার অধিবাসীদের ক্ষতি করতে চাইবে আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, ইবরাহীম ইবন দীনার ও ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এখানকার (মদীনার) অধিবাসীদের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে গলিয়ে ফেলবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে ও নবী (ﷺ) এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদীনাবাসীদের ক্ষতি করতে চাইবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... সা'দ ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে আকস্মিক আক্রমণ অথবা ক্ষতিসাধন এর কথা উল্লেখ আছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ ও সাদ ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ মদীনাবাসীদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন" ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এতে আরো আছেঃ "যে ব্যক্তি এখানকার অধিবাসীদের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন পানিতে লবণ গলে যায়।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... সুফইয়ান ইবন আবূ যুহায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শাম (সিরিয়া) বিজিত হবে। ফলে একদল লোক সপরিবারে মদীনাহ থেকে চলে যাবে উট হাকাতে হাকাতে। অথচ মদীনাহ তাদের জন্য কল্যাণকর ছিল যদি তারা বুঝতে পারত। এরপর ইয়ামান বিজিত হবে। ফলে একদল লোক উট হাকিয়ে সপরিবারে চলে যাবে (মদীনাহ থেকে)। অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা বুঝতে পারত। এরপর ইরাক বিজিত হবে। ফলে একদল লোক উট হাকিয়ে সপরিবারে মদীনাহ থেকে বের হয়ে যাবে অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সুফইয়ান ইবন আবূ যুহায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। ইয়ামান বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত। অতঃপর শাম (সিরিয়া) বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা বুঝতে পারত। অতঃপর ইরাক বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাহ সম্পর্কে বলেছেনঃ "এখানকার লোকেরা মদীনাহ ত্যাগ করবে, সে স্থান তাদের জন্য কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও। আর তা এমনভাবে জনশূন্য হয়ে যাবে যে, তা হিংস্র জন্তু ও পাখির আবাসে পরিণত হবে।" ইমাম মুসলিম বলেন, আবূ সফওয়ান- আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মালিক ছিলেন ইয়াতীম। তিনি ইবন জুরায়জের তত্ত্বাবধানে দশ বছর প্রতিপালিত হন।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ লোকেরা মদীনাহ ত্যাগ করবে তাদের জন্য তা (মদীনায় বসবাস) কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও এবং কেবল হিংস্র জন্তু ও পাখিরাই সেখানে বসবাস করবে। অতঃপর মুযায়নাহ গোত্রের দুটি রাখাল মদীনার উদ্দেশে রওনা হবে উচ্চস্বরে নিজেদের মেষপাল হাকিয়ে। তারা সে স্থান হিংস প্রাণীতে ভর্তি দেখতে পাবে। তারা সানিয়াতুল বিদা উপত্যকা পর্যন্ত পৌছে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন যায়দ আল মাযিনী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন যায়দ আল আনসারী থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন নুমায়র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান। আর আমার মিম্বার আমার (কাওসার নামক) হাওযের উপরে অবস্থিত।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ .... আবূ হুমায়দ বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে রওনা হলাম। অতঃপর আবূ হুমায়দ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে তিনি বললেন, (যুদ্ধ শেষে) আমরা পুনরায় অগ্রসর হলাম এবং ওয়াদিল কুরায় পৌছলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ)ঃ বললেন, "আমি দ্রুত অগ্রসর হই। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে চলতে চায় সে আমার সঙ্গে দ্রুত চলুক। আর যার ইচ্ছা সে থেমে থেমে আসুক। তখন আমরা রওনা হলাম এবং অবশেষে মদীনাহ আমাদের দৃষ্টিগোচর হলে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ (মদীনাহ) হচ্ছে ত্বাবাহ এবং এ হচ্ছে উহুদ আর উহুদ এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আনাস ইবন মালিক বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উহুদ এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকালেন এবং বললেন, উহুদ এমন একটি পাহাড় যে আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী।
আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, আমার এ মসজিদে (মসজিদে নবাবীতে) এক (রাকাআত) নামাজ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য কোন ৷ মসজিদে এক হাজার (রাকআত) সালাতের চেয়েও উত্তম।
মুহাম্মদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) নামাজ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে আদায়কৃত এক হাজার (রাকাআত সালাতের তুলনায় অধিক ফাযীলাতপূর্ণ)।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ্ এর শাগরিদ আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান ও আবূ আবদুল্লাহ আগার (জুহায়নাহ গোত্রের মুক্তদাস) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে আবূ হুরায়রাহ কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মসজিদে এক (রাকাআত) নামাজ আদায় মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে হাজার (রাকাআত) সালাতের তুলনায় অধিক ফাযীলাতপূর্ণ। কেননা, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নবীগণের সমাপ্তি (সর্বশেষ নবী) এবং তার মসজিদ (নবী-রসূলগণ কর্তৃক নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে) সর্বশেষ মসজিদ। আবূ সালামাহ্ ও আবূ আবদুল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে আবূ হুরায়রাহ যে সব কথা বলেছেন, তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস থেকেই বলেছেন। এজন্য আমরা তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তার নিকট থেকে এ হাদীস সত্যায়িত করে নেয়ার প্রয়োজনবোধ করিনি। আবূ হুরায়রাহ-এর ইন্তিকালের পর তার নিকট থেকে এ হাদীসের সত্যায়ন সম্পর্কে আমরা পরস্পর আলোচনা করি এবং একে অপরকে দোষারূপ করি যে, কেন আমরা এ হাদীস সম্পর্কে আবূ হুরায়রাহ কে জিজ্ঞেস করিনি যে, তিনি তা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন কিনা। এ অবস্থায় একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কারিয এর কাছে বসলাম এবং এ হাদীস ও তা আবূ হুরায়রাহ কর্তৃক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে বর্ণিত হওয়া সম্পর্কে আলোচনা উত্থাপন করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কারিয আমাদের বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চিত আমি আবূ হুরায়রাহ্ কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "অতএব অবশ্যই আমি নবীগণের সমাপ্তি এবং আমার মাসজিদ সর্বশেষ মাসজিদ"।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কারিয থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরায়রাহ কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) নামাজ অন্য সকল মসজিদে এক হাজার (রাকআত) সালাতের চেয়ে উত্তম অথবা এ মসজিদ ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাতের সমতুল্য কিন্তু মসজিদুল হারামের কথা স্বতন্ত্র।
যুহায়র ইবন হারব .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) নামাজ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাতের চেয়ে অধিক ফাযীলাতপূর্ণ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইবরাহীম ইবন মূসা .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি .... উক্ত হাদীসের অনুরূপ।
ইবন আবূ উমার .... ইবন উমর থেকে এ সূত্রে নবী (ﷺ) এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক রোগাক্রান্ত হওয়ার পর বলল, আল্লাহ আমাকে রোগমুক্তি দান করলে আমি গিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে অবশ্যই নামাজ আদায় করব। অতঃপর সে আরোগ্য লাভ করল এবং (বায়তুল মুকাদ্দাস) যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল এবং সে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মূনাহ্ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে সালাম দিয়ে এ সম্পর্কে অবহিত করল। তিনি বললেন, তুমি এখানে থাক, যা কিছু পাথেয় নিয়েছে তা খাও এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মসজিদে সালাত আদায় কর। কারণ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ "এ মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত আদায় মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাত আদায়ের চেয়েও অধিক ফাযীলাতপূর্ণ।
আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ উটের পিঠে হাওদা আটা যাবে না (সফর করা যাবে না) তিনটি মসজিদ ব্যতীতঃ এ মসজিদ, মাসজিদুল হারাম ও মুসজিদুল আকসা।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... যুহরী থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে নবী (ﷺ) এর কথা এভাবে শুরু হয়েছেঃ "তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবে।"
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযীঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেবলমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবেঃ কাবাহ মসজিদ, আমার এ মসজিদ এবং ঈলিয়ার মাসজিদ (বায়তুল মুকাদ্দাস)।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান বলেন, আবূ সাঈদ আল খুদরী এর পুত্র আবদুর রহমান আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে" সে মাসজিদ সম্পর্কে আপনার পিতাকে আপনি কিরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তার কোন এক স্ত্রীর ঘরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে মাসজিদ কোনটি যার ভিত্তি তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? রাবী (আবূ সাঈদ) বলেন, তিনি একমুষ্টি কাকর তুলে তা জমিনের বুকে নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর বললেনঃ "তা তোমাদের এ মসজিদ মদীনার মাসজিদ।" রাবী (আবূ সালামাহ) বলেন, এখন আমি বললাম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চিত আমিও আপনার পিতাকে এভাবেই ঐ মসজিদের উল্লেখ করতে শুনেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ সাঈদ থেকে এ সানাদে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সানাদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবন আবূ সাঈদের নাম উল্লেখিত হয়নি।
আবূ জাফর আহমাদ ইবন মানী' .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পদব্রজে অথবা বাহনে চড়ে মসজিদে যিয়ারাতের জন্য যেতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন উমর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পদব্রজে অথবা বাহনে চড়ে কুবা মসজিদে আসতেন। অতঃপর তিনি সেখানে দু' রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবূ বকর বলেছেন, ইবন নুমায়র বলেন, অতঃপর তিনি সেখানে দু' রাকাআত নামাজ আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পদব্রজে বা বাহনে চড়ে কুবায় আসতেন।
আবূ মান আর রাক্কাশী .... ইবন উমার থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহনে চড়ে এবং পদব্রজে কুবায় আসতেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহনে চড়ে ও পদব্রজে কুবায় আসতেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমার প্রতি শনিবার কুবায় আসতেন। তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রতি শনিবার এখানে আসতে দেখেছি।
ইবন আবূ উমর .... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি শনিবার কুবায় আসতেন। তিনি বাহনে চড়ে এবং পায়ে হেঁটে সেখানে আসতেন। ইবন দীনার বলেন, ইবন উমরও অনুরূপ আমল করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন হাশিম .... ইবন দীনার থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এ সূত্রে "প্রতি শনিবার" কথাটুকু উল্লেখ নেই।