শিকার, যাবাই এবং যেসব পশুর গোশত খাওয়া হালাল (৪৮৬৭-৪৯৫৮)
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি শিকারের উদ্দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেই এবং সেগুলো শিকার ধরে আমার জন্য রেখে দেয়, (নিজেরা খায় না) আমি কুকুরগুলোকে ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে ছাড়ি। তিনি বললেনঃ যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকো তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, যদি এরা শিকারকে হত্যা করে? তিনি বললেনঃ যদিও হত্যা করে ফেলে তবে তার সাথে যদি অন্য কুকুর শারীক না হয়। আমি তাকে বললাম, আমি শিকারের উদ্দেশে মিরায' (কাঠ বা তীক্ষ ছড়ি) নিক্ষেপ করে থাকি এবং শিকার পেয়েও থাকি? তিনি বললেনঃ তুমি মিরায নিক্ষেপ করার পর তাতে শিকারের সম্মুখভাগ প্রবিষ্ট হয়ে শিকার মারা গেলে তবে তুমি তা খেতে পারো। আর যদি নিক্ষিপ্ত ফলকের চ্যাপ্টা (বিপরীত) দিকের আঘাতে শিকার মারা যায়, তবে তুমি তা খেও না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা এমন সম্প্রদায় যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করে থাকি। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছাড়লে তাদের শিকার করা পশু খেতে পারো, যদিও তারা তা মেরে ফেলে। তবে কুকুর তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তা খাবে না। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে হয়তো এ শিকার নিজের জন্যেই ধরেছে। আর যদি এ শিকারে অন্য কুকুর শারীক হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা খাবে না।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিরায' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এর ধারালো অংশ দ্বারা শিকার মারা গেলে তুমি তা খেতে পারবে, আর যদি এর পাশের অংশের আঘাতে শিকার মারা যায় তবে তা (কুরআনে বর্ণিত) ওয়াকীয' বা পিটিয়ে নিহত করার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তুমি তা খাবে না। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কুকুর সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার কুকুর ছেড়ে থাকলে তুমি তা খেতে পারো। যদি কুকুর শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা সেটা সে তার নিজের জন্যেই ধরেছে। আমি বললাম, যদি আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখি এবং কে শিকার ধরেছে তা ঠিক করতে না পারি? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েছ, অন্যটির উপর নাওনি।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ..... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিরায' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন নাফি আবদী .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিরায সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম ... (অবশিষ্ট অংশ) পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিরায' দ্বারা শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তিনি বললেনঃ ধারালো অংশ দ্বারা নিহত হলে খেতে পারো। আর যদি তীরের পার্শ্ব ভাগ লেগে নিহত হয় তাহলে সেটা 'ওয়াকীয' শ্ৰেণীভুক্ত। আমি তাকে কুকুরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ সে তোমার জন্য যে শিকার ধরে রাখবে এবং তা থেকে সে না খায়, তাহলে তুমি তা খেতে পার। কারণ তার শিকার করাই ছিল যাবাহ গণ্য হবে। তবে যদি তুমি তার পাশে অন্য কুকুর দেখ এবং তোমার আশঙ্কা হয় যে, শিকার ধরায় সেটাও শামিল ছিল এবং সে কুকুরই হয়তো শিকার হত্যা করেছে, তবে তুমি তা খেও না। কেননা তুমি তো শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লা-হ' বলেছ, অন্য কুকুরের উপর তা বলনি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... যাকারিয়া ইবন আবূ যায়িদাহ্ হতে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ ইবন আবদুল হামিদ .... শা'বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদী ইবন হাতিম ছিলেন আমাদের প্রতিবেশী, ব্যবসায়ের অংশীদার এবং নাহরাইন-এ আমাদের সহকর্মী। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, আমি আমার কুকুরকে (শিকারের উদ্দেশে) ছেড়ে থাকি এবং পরে আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুরও দেখতে পাই, সেটির সাথে শিকারও দেখতে পাই। আমি অবহিত নই কোন কুকুরটি শিকার ধরেছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি কেবল তোমার কুকুর ছাড়ার সময়ই আল্লাহর নাম নিয়েছ; অন্যটির উপরে আল্লাহর নাম নাওনি।
মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ .... আদী ইবন হাতিম হতে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।
ওয়ালীদ ইবন শুজা আস-সাকূনী .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নেবে। তারপর যদি সে তোমার জন্য শিকার ধরে রাখে এবং তুমি তা জীবিত পাও, তবে তুমি তাকে যবহ করবে। আর যদি মৃত পাও অথচ সে এর কোন অংশ খায়নি, তাহলে তুমি তা খেতে পার। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখ আর শিকারও মৃত, তবে তা খাবে না। কেননা তুমি তো অবহিত নও, কোন্ কুকুরটি শিকার হত্যা করেছে। আর তুমি তীর ছোড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই ছুড়বে। অতঃপর শিকার একদিন পর্যন্ত নিরুদ্দেশ থাকার পর তা পেলে, তাতে যদি তোমার তীরের ক্ষত আঘাত ব্যতীত অন্য চিহ্ন না দেখ, তবে ইচ্ছে হলে তা খেতে পারো। তবে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পেলে তা খেও না।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ..... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে শিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে তখন বিসমিল্লা-হ' বলবে। যদি শিকার মৃত পাও, তবে তা খেতে পার। কিন্তু যদি তা পানিতে পাও তবে খেও না। কারণ তুমি তো অবহিত নও যে, পানিই তাকে হত্যা করেছে, নাকি তোমার তীর।
হান্নাদ ইবন সারী .... আবূ সা'লাবাহ খুশানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আহলে কিতাবের এলাকায় থাকি, আমরা তাদের পাত্রে আহার করে থাকি এবং আমরা শিকারের এলাকায় থাকি। আমি আমার ধনুক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করি, পাশাপাশি অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারাও শিকার করে থাকি। অতএব আমার জন্য কোনটি হালাল তা আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যে বললে তোমরা কিতাবধারীদের এলাকায় বাস করো এবং তাদের পাত্রে আহার করো; যদি তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র পাও তবে তাদের পাত্রে আহার করো না। আর যদি অন্য পাত্র না পাও, তবে তা ধুয়ে নেয়ার পর খাবে। তুমি যে বললে, তোমরা শিকারের এলাকায় বসবাস করো। এর বিধান হলো, তোমার ধনুক দ্বারা শিকার হত্যা করার সময় আল্লাহর নাম নিয়ে ধনুক ছুড়বে, তারপর তা খাবে। আর তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে তাও প্রেরণের সময় আল্লাহর নাম নিবে, অতঃপর তা খাবে। আর তোমার অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করবে তা যাবাহ করার সুযোগ পেলে তা খাবে।
আবূ তাহির ও যুহায়র ইবন হারব .... হাইওয়াহ্ হতে এ সানাদে এ হাদীসটি ইবন মুবারাক এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন ওয়াহব তার হাদীসে ধনুক দ্বারা শিকারের কথা উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী ..... আবূ সা'লাবাহ্ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তুমি তীর নিক্ষেপের পর শিকার যদি নিরুদ্দেশ হয়ে যায় এবং পরে তা পেয়ে যাও, তাহলে শিকার দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তা খেতে পারো।
মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ .... আবূ সালাবাহ্ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে কেউ তার শিকার তিনদিন পরে পেলে তা দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারবে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ সা'লাবাহ খুশানী নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তাতে তিনি দুর্গন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। আর তিনি কুকুর (এর শিকার) সম্পর্কে বলেছেনঃ তিন দিন পরেও তা খেতে পারবে- তবে পচে গেলে তা ফেলে দাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আবূ সা'লাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন। ইসহাক এবং ইবন আবূ উমার বর্ণিত হাদীসে আরো রয়েছে, যুহরী বলেছেন, আমরা এ হাদীসটি সিরিয়ায় আসার পূর্বে শুনিনি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ..... আবূ সা'লাবাহ খুশানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ধরনের হিংস্র জন্তু খেতে বারণ করেছেন। ইবন শিহাব বলেন, আমি এ হাদীসটি হিজাযে আমাদের আলিমদের কাছে শুনিনি। শেষ পর্যন্ত আবূ ইদরীস তা আমার কাছে বর্ণনা করেন। আর তিনি ছিলেন সিরিয়ার ফিকাহবিদদের অন্তর্ভুক্ত।
হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... আবূ সা'লাবাহ খুশানী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ধরনের হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন।
আবূ তাহির, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ যুহরী হতে এ সানাদে ইউনুস ও আমর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তারা সকলেই খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সালিহ্ ও ইউসুফ এর বর্ণনায় খাওয়ার কথা উল্লেখ নেই। তাদের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি হিংস্র পশু থেকে নিষেধ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সকল প্রকার হিংস্র জন্তুই খাওয়া হারাম।
আবূ তাহির ... মালিক ইবন আনাস থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ধরনের হিংস্র জন্তু এবং সব ধরনের নখরধারী পাখি খেতে বারণ করেছেন।
হাজ্জাজ ইবন শা'ইর .... শুবাহ এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবন হাম্বাল .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সকল প্রকার হিংস্র জন্তু এবং নখরধারী শিকারী পাখি (খেতে) নিষেধ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবন হাম্বাল ও আবূ কামিল জাহদারী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন ......। অবশিষ্ট অংশ শুবাহ হতে হাকাম এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ উবাইদাহকে আমাদের আমীর বানিয়ে আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন কুরায়শদের একটি কাফিলাকে রোধ করার জন্য। তিনি আমাদের সাথে এক থলে খেজুর দিয়ে দিলেন। এছাড়া আমাদের জন্য অন্য কিছু দেয়ার মত পেলেন না। আবূ উবাইদাহ আমাদেরকে একটি করে খেজুর দিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এই একটি মাত্র খেজুর দিয়ে আপনারা কিভাবে কী করতেন? আমি বললাম, আমরা তা চুষতাম যেভাবে শিশুরা চুষে থাকে। তারপর পানি পান করতাম, আর এটাই আমাদের দিবারাত্রের জন্য যথেষ্ট হতো। এছাড়া আমরা আমাদের লাঠি দিয়ে গাছের পাতা পেড়ে পানিতে তা ভিজিয়ে নিয়ে তা খেতাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা সাগর উপকূল দিয়ে চলতে লাগলাম। হঠাৎ সমুদ্রোপকূলে উচু ঢিবির মতো কী যেন একটি আমাদের সামনে ভেসে উঠলো। আমরা সেটির কাছে গিয়ে দেখলাম, তা একটি জন্তু, যাকে আম্বর' বলে অভিহিত করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ উবাইদাহ বললেন, এতো মৃত জন্তু। তারপর বললেন, না, বরং আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রেরিত দূত এবং আমরা আল্লাহর পথেই আছি। এখন তো তোমরা প্রাণান্তকর অবস্থায় রয়েছ, সুতরাং তোমরা তা খেতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দীর্ঘ একমাস আমরা তিনশ' লোক তা খেয়েই কাটালাম এবং আমরা মোটাতাজা হয়ে উঠলাম। রাবী বলেন, আমি দেখেছি, কিভাবে কলসীর পর কলসী ভরে তৈল (চর্বি) আমরা তার চোখর কোটর থেকে বের করি এবং তার দেহ থেকে এক একটি ষাড় পরিমাণ গোশতের টুকরা কেটে নেই। তারপর আবূ উবাইদাহ আমাদের মধ্যকার তের জনকে ডেকে নিলেন এবং ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে বসিয়ে দিলেন। তিনি জন্তুটির পাঁজরের একটি অস্থি তুলে দাড় করিয়ে আমাদের সর্বাধিক বড় উটটির উপর হাওদা চড়ালেন আর সে উটটি দিব্যি তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। তারপর অবশিষ্ট গোশত আমরা সিদ্ধ করে আমাদের পাথেয় রূপে নিয়ে আসলাম। যখন আমরা মদীনায় ফিরে এলাম তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এটা হচ্ছে রিযক যা আল্লাহ তোমাদের জন্যই বের করেছিলেন। তোমাদের কাছে তার অবশিষ্ট কিছু গোশত আছে কি আমাকে তা খেতে দিতে পারবে? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তার কিছু অংশ পাঠালাম এবং তিনি তা খেলেন।
আবদুল জাব্বার ইবন আলা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। আমরা তিনশ' আরোহী ছিলাম এবং আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ ছিলেন আমাদের দলনেতা। আমরা কুরায়শের একটি কাফেলার জন্য ওৎ পেতে ছিলাম। অর্ধমাস পর্যন্ত আমরা সমুদ্রোপকূলে অবস্থান করলাম। তখন আমরা খুবই খাদ্যাভাবে পড়লাম এবং আমরা (বাধ্য হয়ে) গাছের পাতা খেলাম। তাই এ বাহিনীর নাম দেয়া হলো 'জাইশুল খাবাত' বা লতা-পাতার বাহিনী। এ সময় সমুদ্র আমাদের জন্য একটি জন্তু (বিরাট মাছ) নিক্ষেপ করলো- যাকে আম্বর' বলা হয়। আমরা অর্ধমাস পর্যন্ত তা খেলাম এবং তার তেল আমাদের গায়ে মালিশ করলাম, তাতে আমাদের দেহ মোটাতাজা হয়ে উঠলো। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ উবাইদাহ জন্তুটির পাঁজরের একটি হাড় নিয়ে খাড়া করলেন, তারপর বাহিনীর সবচেয়ে লম্বা লোকটি এবং উচ্চতর উটটির উপরে তুলে ধরলেন। তারপর ঐ ব্যক্তিটিকে ঐ উটের উপর চড়িয়ে দিলেন। আর সে অনায়াসে এর নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে অনেকগুলো লোক একত্রে বসলেন। রাবী বলেন, আর আমরা তার চোখ থেকে এত এত কলস ভর্তি চর্বি বের করি। বর্ণনাকারী আরও বলেন, তখন আমাদের নিকট এক বস্তা খেজুর ছিল। আবূ উবাইদাহ প্রথমে আমাদের প্রত্যেককে এক মুষ্টি করে খেজুর দিলেন। তারপর শেষদিকে তিনি আমাদের জনপ্রতি একটি করে খেজুর দিতেন। যখন তাও শেষ হয়ে গেল তখন আমরা অভাব অনুভব করলাম।
আবদুল জাব্বার ইবন আলা .... আমর কে 'জাইশুল খাবাত সম্পর্কে বলতে শুনেছেনঃ এক ব্যক্তি প্রথমে তিনটি উট যবাহ করল, তারপর আরও তিনটি, অতঃপর আরও তিনটি। তারপর আবূ উবাইদাহ তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। বাহিনীতে আমরা ছিলাম তিনশ' জন। আমরা আমাদের রসদপত্র আমাদের কাঁধে বহন করেছিলাম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করে তিনশ' লোকের একটি বাহিনী পাঠালেন। তাদের পাথেয় প্রায় শেষ হয়ে গেলে আবূ উবাইদাহ সকলের পাথেয় একই পাত্রে জমা করে আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন খাদ্য সরবরাহ করতেন। তখন আমাদের প্রত্যেকের ভাগে দৈনিক একটি করে খেজুর পড়তো।
আবূ কুরায়ব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাহিনীকে সমুদ্রোপকূলে প্রেরণ করেন। আমি সে দলেই ছিলাম। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আমর ইবন দীনার ও আবূ যুবায়র বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে ওয়াহব ইবন কায়সান এর হাদীসে রয়েছে যে, সেনাবাহিনী আঠার দিন পর্যন্ত মাছটি খেয়েছিল।
হাজ্জাজ ইবন শা'ইর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাহিনীকে জুহাইনাহ গোত্রের এলাকায় পাঠালেন এবং এক লোককে তার সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। অবশিষ্ট অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। খাইবার যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলাদের সাথে মুত্আহ বিবাহ করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র ভিন্ন সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ তাহির, হারমালাহ, ইসহাক ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে ইউনুস এর বর্ণনায় রয়েছে, গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ সালাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহপালিত গাধার গোশত (খাওয়া) হারাম করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে বারণ করেছেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও ইবন আবূ উমার .... উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেন অথচ সেদিন লোকদের খাদ্যাভাব ছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আলী ইবন মুসহির শাইবানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা কে গৃহপালিত গাধার গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, খাইবারের দিন আমাদের ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছিল। এখনে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গেই ছিলাম। শহরের বাইরে আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। সুতরাং আমরা সেগুলো যাবাহ করলাম। আমাদের ডেগচীসমূহ যখন টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোষণা করল, ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবং গাধার গোশতের সামান্য অংশও খেয়ো না। আমি বললাম, কোন ধরনের গাধার গোশত হারাম? রাবী বলেন, আমরা নিজেরা এ বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং বললাম, একেবারেই হারাম অথবা গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বাদ না দিয়ে রান্না করার কারণেই তা হারাম করা হয়েছে।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... সুলাইমান শাইবানী বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা কে বলতে শুনেছি, খাইবারের রাতগুলোতে আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হই। অতঃপর খাইবারের দিন আমরা গৃহপালিত গাধা পেয়ে তাতে ঝাপিয়ে পড়লাম এবং সেগুলো যাবাহ করলাম। যখন এর গোশত ডেগচীতে টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোযণা করল যে, ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবং গাধাগুলোর গোশত একটুও খেয়ো না। রাবী বলেন, তখন কিছু লোক বললো, যেহেতু গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বের করা হয়নি তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা হারাম করেছেন। অন্যরা বললো, না, তা চিরকালের জন্যই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আদী ইবন সাবিত বলেন, আমি বারা এবং আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা কে বলতে শুনেছি, আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। যখন আমরা তা রান্না করছি তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোষণা করলো, তোমাদের ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... বারা বলেন, খাইবার যুদ্ধের দিন আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোষণা করলো, ডেগচীগুলো উল্টে ফেলে দাও।
আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সাবিত ইবন উবায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা কে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করা হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত কাঁচা বা রান্না করা যাই হোক তা ফেলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর তিনি কখনো তা খেতে নির্দেশ দেননি।
আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আসিম হতে এ সানাদে উক্ত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত।
আহমাদ ইবন ইউসুফ আযদী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবহিত নই, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিষেধ করার কারণ কি এটা ছিল কিনা যে, এগুলো লোকের সওয়ারী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই সওয়ারী নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এরূপ অপছন্দ করলেন। অথবা খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত তিনি চিরদিনের জন্য হারাম করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সালামাহ্ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে খাইবার অভিমুখে রওনা হলাম। আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ী করলেন। বিজয় দিবসের সন্ধ্যা বেলায় অনেক (চুলায়) আগুন জ্বালানো হয়। ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্ন করলেন, এসব কিসের আগুন? কি রান্না হচ্ছে? কোন জিনিসের উপর তোমরা আগুন জ্বালিয়েছ? লোকেরা বললো, গোশত রান্না করা হচ্ছে। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কিসের গোশত? জবাবে লোকেরা বললো, গৃহপালিত গাধার গোশত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এগুলো ফেলে দাও এবং হাড়ি-পাতিলগুলো ভেঙ্গে ফেল। তখন এক ব্যক্তি বলল, আমরা এগুলো ফেলে দিয়ে হাড়ি-পাতিলগুলো ধুয়ে নিব কি? তিনি বললেন, এটাও করতে পারো।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবূ বকর ইবন নাযর .... ইয়াযীদ ইবন আবূ উবায়দ থেকে এ সানাদে (অনুরূপ) হাদীস বর্ণিত।
ইবন আবূ উমার .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খাইবার জয় করেন তখন আমরা শহরের বাইরে কিছু গাধা পেলাম। আমরা কিছু গাধা (যাবাহ করে) রান্না করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোষণা করলোঃ জেনে রাখো, আল্লাহ ও তার রসূল তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিযেধ করেছেন। কেননা তা শয়তানের ঘৃণ্য কাজ। রাবী বলেন, তারপর ডেগচীগুলো গোশতসহ উল্টিয়ে ফেলা হলো।
মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের দিন এক আগম্ভক এসে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! গাধাগুলো যাবাহ করে খাওয়া হচ্ছে। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! গাধাগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ তালহাহ্ কে নির্দেশ দিলে তদনুযায়ী তিনি ঘোষণা করলেনঃ আল্লাহ এবং তার রসূল উভয়েই তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কারণ তা ঘৃণ্যবস্তু বা অপবিত্র। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর পাতিলগুলো গোশতসহ উল্টে ফেলে দেয়া হল।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ রাবী আতাকী ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিযেধ করেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, খাইবারে আমরা ঘোড়া এবং বন্য গাধার গোশত খেয়েছি। পক্ষান্তরে নবী (ﷺ) আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
আবূ তাহির, ইয়াকুব দাওরাকী ও আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী ইবন জুরায়জ থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমরা ঘোড়া যাবাহ করে খেয়েছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে এ সানাদে (অনুরূপ) হাদীস বর্ণিত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর ... ইবন উমার বলেন, নবী (ﷺ)-কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি তা খাই না, এবং তা হারামও বলি না।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। একদা এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আমি তা খাই না এবং তা (খাওয়া) হারামও বলি না।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইবন উমার বলেন, একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বারে বসা অবস্থায় দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তা খাই না এবং তা (খাওয়াকে) হারামও বলি না।
উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... উবাইদুল্লাহ হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।
আবূ রাবী, কুতাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... নাফি সূত্রে ও ইবন উমার কর্তৃক নবী (ﷺ) থেকে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে লায়স কর্তৃক নাফির মাধ্যমে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে আইয়্যুব বর্ণিত হাদীসে আরো রয়েছে, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত নিয়ে আসা হলো। তিনি তা খাননি এবং হারামও বলেননি। আর উসামাহ্-এর হাদীসে রয়েছে, 'এক লোক মসজিদে দাড়ালো, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে বসা ছিলেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে তার কতিপয় সাহাবী ছিলেন। যাদের মধ্যে সা'দ-ও ছিলেন। তাদের সম্মুখে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত আনা হলে নবী (ﷺ) এর এক স্ত্রী উচ্চস্বরে বললেন, এটা কিন্তু দব্বের গোশত! তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা খেয়ে নাও, কারণ এটা হালাল, তবে এটা আমার খাদ্য নয়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... তওবা্ আম্বরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শা'বী আমাকে বলেছেনঃ আপনি কি নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হাসান এর হাদীসটি শুনেছেন? আমি তো প্রায় দু'বছর কিংবা দেড় বছর ইবন উমার এর সাথে ছিলাম, কিন্তু তাকে এ হাদীসটি ছাড়া নবী (ﷺ) থেকে অন্য কিছু বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবীর মধ্যে সা'দ-ও ছিলেন, অতঃপর (বাকী অংশ) মুআয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং খালিদ ইবন ওয়ালীদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মাইমূনাহ এর নিকট গেলাম। তখন ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পরিবেশন করা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নেয়ার জন্য হাত বাড়ালেন। তখন মাইমূনাহ্ এর বাড়িতে উপস্থিত জনৈক মহিলা বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা খেতে চাইছেন সে সম্বন্ধে তোমরা তাকে জানাও। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) (খাবার থেকে) তার হাত তুলে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি হারাম? তিনি বললেন, না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকার প্রাণী নয়, তাই আমি তা অপছন্দ করি। খালিদ বলেন, এরপর আমি তা টেনে নিয়ে খেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দৃশ্য দেখছিলেন।
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... খালিদ ইবন ওয়ালীদ যাকে সাইফুল্লাহ বলা হয়, তার হতে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমূনাহ এর ঘরে ঢুকলেন। তিনি ছিলেন তার ও ইবন আব্বাস এর খালা। এ সময় রসূল (ﷺ) তার নিকট ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) দেখতে পান, যা তার (মাইমূনাহর) বোন হুফাইদাহ বিনতু হারিস নাজদ থেকে এনেছিল। তিনি দব্বটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পরিবেশন করলেন। তার অভ্যাস ছিল কোন খাদ্যের বিবরণ ও তার নাম উল্লেখ না করা পর্যন্ত তিনি সে দিকে কম-ই হাত বাড়াতেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দব্বটির দিকে হাত বাড়ালে উপস্থিত জনৈকা মহিলা বললেন, তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে যা পেশ করছে সে সম্বন্ধে তাকে জানিয়ে দাও। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! এটা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে)। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত তুলে নিলেন। খালিদ ইবন ওয়ালীদ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)। এটা কি হারাম? তিনি বললেন, না। তবে যেহেতু এটা আমার এলাকাতে নেই তাই আমি এটা পছন্দ করি না। খালিদ বলেন, অতঃপর আমি ওটা টেনে নিয়ে খাচ্ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা দেখছিলেন। তবে তিনি আমাকে নিষেধ করেননি।
আবূ বকর ইবন নাযর ও আবদ ইবন হুমায়দ .... তিনি বলেন, ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। খালিদ ইবন ওয়ালীদ তাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তার খালা মাইমূনাহ্ বিনতু হারিস এর ঘরে যান। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত পরিবেশন করা হয়, যা উম্মু হুফায়দ বিনতু হারিস নাজদ থেকে নিয়ে এনেছিলেন। তিনি ছিলেন বানু জাফার গোত্রের এক ব্যক্তির সহধর্মিণী। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন বস্তুর বিবরণ না জানা পর্যন্ত তা খেতেন না। বাকী অংশ বর্ণনাকারী ইউনুস এর হাদীসের অনুরূপ। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, ইবন আসাম মাইমূনাহ্ সূত্রে তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) তখন তার ঘরেই ছিলেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাইমূনাহ এর ঘরে ছিলাম। তখন নবী (ﷺ) এর সামনে দুটি ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পেশ করা হলো। বাকী অংশ উক্ত হাদীসসমূহের অনুরূপ। তবে বর্ণনাকারী (মা'মার) "মাইমূনাহ থেকে ইয়াযীদ ইবন আসাম এর সূত্র" কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাইমূনাহ্ এর ঘরে থাকা অবস্থায় তার নিকটে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত পরিবেশন করা হয়। তখন খালিদ ইবন ওয়ালীদ তার সাথেই ছিলেন। ইবন মুনকাদির বাকী অংশ যুহরী এর সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা উম্মু হুফায়দ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু ঘি, পনির এবং কয়েকটি দব্ব হাদিয়া স্বরূপ পাঠালেন। তিনি ঘি ও পনির থেকে কিছু খেলেন এবং দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) অরুচিকর হওয়ার দরুন খাওয়া বর্জন করলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দস্তরখানে তা খাওয়া হয়। তা হারাম হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দস্তরখানে তা খাওয়া হতো না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইয়াযীদ ইবন আসাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার এক নববিবাহিত ব্যক্তি আমাদেরকে দাওয়াত করলো এবং আমাদের সামনে তেরটি দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পরিবেশন করা হলো। কিছু লোক তা খেলো আর কিছু লোক তা বর্জন করলো। পরদিন আমি ইবন আব্বাস এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তার পাশের লোকজন নানা উক্তি করতে লাগলো, এমনকি তাদের একজন বললোঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি এটি খাইও না, নিষেধও করি না এবং হারামও বলি না। ইবন আব্বাস বললেন, তোমরা যা বলছ তা সঠিক নয়। নবী (ﷺ) কে হালাল ও হারাম নির্ণয় করার জন্যই পাঠানো হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা মাইমূনাহ এর ঘরে ছিলেন। তার সাথে ফাযল ইবন আব্বাস, খালিদ ইবন ওয়ালীদ ও অন্য এক মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তখন তাদের কাছে একটি পাত্র পেশ করা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখন মাইমূনাহ্ তাকে বললেন, এটা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত গুটিয়ে নিয়ে বললেন, এ গোশত আমি কখনোও খাইনি। তিনি তাদের বললেন, তোমরা খেতে পারো। ফাযল, খালিদ ইবন ওয়ালীদ এবং ঐ মহিলা তাথেকে খেলেন। মাইমূনাহ বললেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা খান, তাছাড়া অন্য কিছু আমি খাব না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) আনা হলে তিনি তা খেতে অস্বীকার করে বললেন, জানি না হয়তো এটা ঐসব উম্মাত থেকে হতে পারে, যাদের বিকৃত করা হয়েছিল।
সালামাহ ইবন শাবীব .... আবূ যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি তোমরা খেও না। তিনি তা নোংরা হিসেবে অবহিত করলেন। তিনি আরও বলেন, উমার ইবন খাত্তাব বলেছেন, নবী (ﷺ) এটিকে হারাম করেননি। মহান আল্লাহ এর দ্বারা অনেক লোককে উপকৃত করেছেন। কেননা, জনসাধারণের খাদ্য এ থেকে আসে। আমার নিকট থাকলে আমিও তা খেতাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এমন এলাকায় থাকি, যেখানে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পাওয়া যায়। সুতরাং এ ব্যাপারে আপনি আমাদের কী আদেশ করেন? অথবা বললেন, আপনি এ ব্যাপারে আমাদের কী ফাতাওয়া দেন? তিনি বললেনঃ আমাকে জানানো হয়েছে যে, বনী ইসরাঈলের একটি সম্প্রদায়কে বিকৃত করে দেয়া হয়েছিল। এরপর তিনি আদেশও করেননি, নিষেধও করেননি। আবূ সাঈদ বলেন, পরবর্তী সময়ে উমার বলেন, আল্লাহ এর দ্বারা অনেক লোককে উপকৃত করবেন। কারণ এটা এ উম্মাতের অধিকাংশের খাবার। আমার নিকট থাকলে আমি অবশ্যই তা খেতাম। তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এটি কেবল অপছন্দ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আমি এমন নিম্নাঞ্চলে বাস করি যেখানে প্রচুর দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পাওয়া যায়। এটা আমার পরিবারের সাধারণ খাদ্য। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কোন জবাব দিলেন না। আমরা তাকে বললাম, আবার জিজ্ঞেস করো। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলে তিনি এবারও কোন জবাব দিলেন না। অতঃপর তৃতীয়বারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে বললেনঃ হে বেদুঈন মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলের একটি সম্প্রদায়ের প্রতি অভিসম্পাত করেন, অথবা ক্রোধান্বিত হয়ে তাদের আকৃতি বিকৃত করে স্থলচর প্রাণীতে রূপান্তরিত করে দেন। আমি অবহিত নই যে, এটা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত কিনা। সুতরাং আমি তা খাইও না এবং এ থেকে নিষেধও করি না।
আবূ কামিল জাহদারী .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাতটি যুদ্ধে যোগদান করেছি, তখন আমরা টিডডি খেয়েছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার সকলেই ইবন উয়ায়নাহ্ এর সূত্রে আবূ ইয়া'ফুর হতে উল্লিখিত সানাদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ বকর তার বর্ণনায় সাতটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। ইসহাক বলেছেন, ছয়টি এবং ইবন আবূ উমার বলেছেন, ছয়টি কিংবা সাতটি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার আবূ ইয়াকুব হতে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাতটি যুদ্ধ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা চলতে চলতে মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌছলে সেখানে একটি খরগোশকে ধাওয়া করলাম। লোকজনও সেটাকে ধাওয়া করলো এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তিনি বলেন, অবশেষে আমি ধাওয়া করে ওটা ধরে ফেলি এবং আবূ তালহার কাছে নিয়ে আসি। তিনি এটাকে যাবাহ করলেন এবং এর পেছনের অংশ ও উভয় রান রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন। আমি এগুলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
যুহায়র ইবন হারব, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ..... শুবাহ হতে এ সানাদে হাদীসটি বর্ণিত। তবে ইয়াহইয়া বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, এর পিছনের অংশ কিংবা উভয় রান।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... ইবন বুরাইদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল তার সঙ্গীদের একজনকে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে তাকে বললেন, পাথর মারবে না। কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাথর মারা অপছন্দ করতেন। অথবা বলেছেন, নিষেধ করতেন। কারণ এর দ্বারা শিকার করাও যায় না এবং শত্রুকে ঘায়েল করাও যায় না; বরং এটি দাত ভাঙ্গে এবং চোখতে ক্ষত করে। পরবর্তীতে তাকে আবারো পাথর ছুড়তে দেখে তিনি বললেন, আমি তোমাকে জানালাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাথর নিক্ষেপ পছন্দ করতেন না, অথবা তা নিষেধ করতেন। তবুও তোমাকে পাথর ছুড়তে দেখছি? আমি তোমার সাথে এত এত দিন কথা বলব না।
আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন মাবাদ .... উসমান ইবন আমর বলেন, কাহমাস এ সানাদে আমাদের কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছোট ছোট পাথর ছুড়তে বারণ করেছেন। ইবন জা'ফার তার বর্ণনাতে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেনঃ এটা শত্রুকে পরাভূত করে না, শিকারও মারতে পারে না বরং এটা দাত ভাঙ্গে এবং চোখে আঘাত করে। ইবন মাহদী উল্লেখ করেছেন, এটা শত্রুকে আঘাত করে না। তিনি "চোখে আঘাত করার কথা" উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল এর একজন নিজের লোক ছোট ছোট পাথর ছুড়লে তিনি তাকে তা করতে বারণ করেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এটা না শিকার করতে পারে আর না শত্রুকে পরাভূত করতে পারে; বরং এটি দাত ভাঙ্গে আর চোখে আঘাত করে। সাঈদ বলেন, লোকটি যখন পুনরায় এ কাজ করল তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে হাদীস শোনাচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে নিষেধ করেছেন, এরপরও তুমি কঙ্কর নিক্ষেপ করছো? তোমার সঙ্গে আমি কখনো কথা বলবো না।
ইবন আবূ উমার .... আইয়্যুব হতে উল্লেখিত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... শাদ্দাদ ইবন আওস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমি দুটি কথা মনে রেখেছি, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর ইহসান অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গে হত্যা করবে; আর যখন যাবাহ করবে তখন দয়ার সঙ্গে যাবাহ করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার যাবাহকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া হুশায়ম, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, আবূ বকর ইবন নাফি গুনদার, শুবাহ, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী, মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ সুফইয়ান থেকে, ইসহাক ইবন ইবরাহীম জারীর মানসূর থেকে, তারা সকলে খালিদ হাযযা হতে ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের সানাদ ও অর্থের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবন যায়দ ইবন আনাস ইবন মালিক এর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আমার দাদা আনাস ইবন মালিক এর সাথে হকাম ইবন আইয়্যুব এর গৃহে গেলাম। সেখানে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি একটি মুরগী বেধে তার দিকে তীর নিক্ষেপ করছিল। তিনি বলেন, তখন আনাস বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন জন্তু বেধে সেটিকে তীরের লক্ষ্য বানাতে বারণ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, আবূ কুরায়ব প্রমুখ সকলেই শুবাহ্ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা এমন কোন বস্তুকে (তীর বা বন্দুকের) লক্ষ্যবস্তু বানিও না যার মধ্যে প্রাণ আছে।
মুহাম্মাদ ইবন জাফার ও আবদুর রহমান ইবন মাহদী উভয়ে শুবাহ হতে উল্লেখিত ধারাবাহিকতায় উপরের হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
শাইবান ইবন ফাররূখ ও আবূ কামিল .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি মুরগী বেধে সেটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করছিল। তারা ইবন উমারকে দেখে মুরগীটি ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। ইবন উমার বললেন, কে এ কাজ করলো? যে এমন কাজ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লানাত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার কতিপয় কুরায়শ যুবকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার একটি পাখি বেধে সেটির দিকে তীর নিক্ষেপ করছিল। আর প্রত্যেকটি নিশানা ব্যর্থ হওয়ার কারণে তারা পাখির মালিকের জন্য একটি করে তীর নির্ধারণ করছিল। তারপর তারা ইবন উমার কে দেখে আলাদা হয়ে গেল। ইবন উমার বললেন, কে এ কাজ করলো? যে ব্যক্তি এরূপ করেছে তার প্রতি আল্লাহর লানাত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লানাত করেছেন, যে কোন জীব-জন্তকে লক্ষ্যস্থল বানায়।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন জুরায়জ হতে, ভিন্ন সূত্রে আবদ ইবন হুমায়দ ইবন জুরায়জ হতে, আর একটি সূত্রে হারূন ইবন আবদুল্লাহ ইবন জুরায়জ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যুবায়র আমাকে বলেছেন যে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রাণীকে বেধে হত্যা করতে বারণ করেছেন।