বিচার-ফায়সালা (৪৩৬৩-৪৩৯০)
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি লোকের দাবী অনুসারে তাদের দিয়ে দেয়া হতো তবে কোন কোন লোক অপর ব্যক্তির জান-মাল দাবি করে বসতো। তাই বিবাদীর জন্য শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিবাদী থেকে (আল্লাহর নামে) শপথ নেয়ার মাধ্যমে ফায়সালা দিয়েছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিবাদী থেকে (কসম) শপথ গ্রহণ এবং একজন সাক্ষীর মাধ্যমে মুকদ্দমা নিষ্পত্তি করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মুকাদ্দামা নিয়ে আমার কাছে আগমন করে থাক এবং তোমাদের একজন অপরজন অপেক্ষা অধিক বাকপটু হয়ে যুক্তি খাটিয়ে স্বীয় দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কর। আমি কথা শুনে তার অনুকূলে রায় প্রদান করি। সুতরাং এতে যদি তার ভাইয়ের হকের কিছু তাকে প্রদান করি (বাস্তবে হয়ত এতে তার কোন অধিকারই নেই) তখন তার কর্তব্য হবে তা গ্রহণ না করা। কেননা, এতে যেন আমি তাকে জাহান্নামের এক খণ্ড আগুন প্রদান করলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হুজরার দ্বার প্রান্তে জনৈক ঝগড়াকারীর শোরগোল শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, আমি তো একজন মানুষ আর আমার কাছে কোন মুকদ্দমা দায়েরকারী আসে। তাদের একজনের চেয়ে অন্যজন খুব ভাল করে কথা বলতে জানে। আমি তখন মনে করি সেই সঠিক, তাতে আমি তার পক্ষে রায় প্রদান করি। আমি যার পক্ষে (অপর) মুসলিমদের হকের ব্যাপারে রায় দেই, তা বস্তুত জাহান্নামের একটি টুকরা। অতএব সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক।
আমর আন নাকিদ আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে একই সূত্রে ইউনুস এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী (ﷺ) জনৈক ঝগড়াকারীর শোরগোল উম্মু সালামার (হুজরার) দরজাতে শুনতে পেলেন।
আলী ইবন হুজুর সাদী ..... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, হিন্দা বিনত উতবা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। তিনি আমার এবং আমার সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করেন না। তবে আমি তাকে না জানিয়েই তার সম্পদ থেকে প্রয়োজনীয় খরচাদি গ্রহণ করে থাকি। এতে কি আমার কোন পাপ হবে? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তার সম্পদ থেকে ততটুকু গ্রহণ করতে পার, যা তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হয়।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি হিশাম এর সূত্রে উক্ত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিন্দা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে লাঞ্ছিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। আর এখন পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার পরিজনকে সম্মানিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে মহান আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তা আরো বাড়বে। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন কৃপণ স্বভাবের লোক। তবে আমি যদি তার বিনা অনুমতিতে তার সন্তান-সন্ততির জন্য তার সম্পদ থেকে খরচ করি, এতে কি আমার কোন অন্যায় হবে? তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাদের জন্য তুমি যথাবিধি খরচ করলে কোন দোষ হবে না।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিন্দা বিনত উতবা ইনু রবীয়াহ, এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! (মুসলিম হওয়ার পূর্বে) পৃথিবীর মধ্যে অন্যকোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে লাঞ্ছিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। আর আজ (মুসলিম হওয়ার পর) পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে সম্মানিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে মহান আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন, তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তারপর হিন্দা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন বড় কৃপণ স্বভাবের লোক। এমতাবস্থায় আমি যদি আমাদের সন্তানাদির খাবার (তারই অজান্তে) তার সম্পদ থেকে প্রদান করি তবে কি এতে আমার কোন দোষ হবে? তিনি বললেন, না। তবে তা যথাবিধি হতে হবে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য তিনি যা পছন্দ করেন, তা হলঃ ১. তোমরা তারই ইবাদাত করবে, ২. তার সঙ্গে কিছুই শারীক করবে না এবং ৩. তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে ধারণ করবে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যে সকল বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেনঃ ১. নিরর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা।
শাইবান ইবন ফাররুখ .... সুহায়ল হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেনঃ "এবং তিনি তোমাদের প্রতি তিনটি কাজে রাগাম্বিত হন"। "এবং তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" বাক্যটি তিনি উল্লেখ করেননি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন মায়েদের অবাধ্য হওয়া, জীবন্ত কন্যা সন্তানকে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং অন্যের হক আদায় না করা এবং না-হক কোন বস্তু প্রার্থনা করা। আর তিনটি বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন। তা হলঃ ১. নিরর্থক কথা-বার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা।
কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... মানসূর হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর হারাম করেছেন" স্থলে বলেছেন "রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের উপর হারাম করেছেন"।
আবূ বাকুর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... শাবি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবন শুবাহ এর লেখক আমাকে বলেছেন যে, মুআবিয়াহ্ মুগীরাহ এর কাছে পত্র লিখলেন, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন, এমন কিছু বিষয় আমাকে লিখে অবহিত করুন। তখন তিনি তাকে লিখলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য তিনটি কাজ অপছন্দ করেনঃ ১. অনর্থক কথাবার্তা বলা, ২. সম্পদ বিনষ্ট করা এবং ৩. বেশী বেশী প্রশ্ন করা।
ইবন আবূ উমর .... ওয়াররাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ্ মুআবিয়াহ্ এর নিকট পত্র লিখলেনঃ "আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তিনটি বিষয় হারাম করেছেন এবং তিনটি কাজ নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি হারাম করেছেন। পিতা-মাতার নাফরমানী, জীবন্ত কন্যা সন্তানকে মাটিতে পুঁতে রাখা এবং পাওনাদারের হক আদায় না করা। আর তিনি তিনটি কাজ নিষিদ্ধ করেছেন, তা হলোঃ ১. অনর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং ৩, ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামিমী .... আমর ইবন আস হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যদি কোন বিচারক যথাযথ চিন্তা-গবেষণার পর সমাধান প্রদান করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছেন, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। আর যদি তিনি চিন্তা-গবেষণা করে রায় প্রদান করেন তারপরও তিনি ভুল করেন, তবুও তার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমর আবদুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের শেষাংশে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন, রাবী ইযাযীদ বলেন, আমি হাদীসটি আবূ বকর ইবন আমর ইবন হাযম এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন যে, আমার কাছে আবূ হুরাইরাহ থেকে আবূ সালামাহ্ এরূপ বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী.... ইয়াযীদ ইবন আবদুল্লাহ এর সূত্রে হাদীসটি উভয় সূত্রে আবদুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ এর বর্ণিত রিওয়ায়াতের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুর রহমান ইবন আবূ বকরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমাকে একটি পত্র লেখালেন। তখন আমি সিজিস্তানের বিচারক আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকরাহ্ কে লিখলাম যে, আপনি রাগান্বিত অবস্থায় দু'জনের মধ্যে বিচার ফায়সালা দেবেন না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু'জনের মধ্যে বিচার না করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, শাইবান ইবন ফাররূখ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও আবূ কুরায়ব .... আবূ বকরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবূ আওয়ানাহ্ এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও আবদুল্লাহ ইবন আওন হিলালী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মীয় কাজের বিষয়ে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই (দলীলবিহীন), তা পরিত্যাজ্য।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সা'দ ইবন ইবরাহীম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাসিম ইবন মুহাম্মাদ কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যার তিনটি বাসস্থান ছিল। অতঃপর সে (মৃত্যুকালে) প্রত্যেক বাসস্থানের এক তৃতীয়াংশ দান করার ওয়াসিয়্যাত করে যায়। কাসিম বললেন, এ সকল অংশকে এক বাসস্থানে একত্রিত করা হবে। এরপর তিনি বললেন, আমাকে আয়িশাহ্ বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করলো যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যায়দ ইবন খালিদ জুহানী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কি আমি উত্তম সাক্ষীদের সম্পর্কে জানাবো না? উত্তম সাক্ষী হল সে ব্যক্তি, যে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাকে সাক্ষ্যের জন্য আহবানের আগেই।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একদা দু'জন মহিলা তাদের নিজ নিজ ছেলে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় এক বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলেকে নিয়ে যায়। তখন তাদের একজন তার সঙ্গীনীকে বলল, তোমার ছেলেকে বাঘে নিয়েছে। আর দ্বিতীয়া জন বলল, বরং তোমার ছেলেকে বাঘে নিয়েছে। এ নিয়ে উভয়ে দাউদ এর নিকট নালিশ নিয়ে গেল। তিনি বয়সে বড় মহিলার পক্ষে সন্তানের রায় দিলেন। তখন উভয়ে বেরিয়ে সুলাইমান ইবন দাউদ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে সে ঘটনা বলল। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে একটি ছুরি নিয়ে এসো, আমি সন্তানটিকে কেটে উভয়ের মাঝে ভাগ করে দেবো। তখন বয়সে ছোট মহিলাটি বলল, না, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। (আমি মেনে নিলাম)। ছেলেটি ঐ মহিলারই। তখন তিনি ছোট মহিলার পক্ষে ছেলে প্রদানের রায় দিলেন।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও উমাইয়াহ ইবন বিস্তাম .... আবূ যিনাদ হতে এ সূত্রে ওয়ারকা এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... মা'মারের মাধ্যমে হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ যে সকল হাদীস আমাদের বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একটি এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে এক খণ্ড জমি ক্রয় করে। যে ব্যক্তি জমি ক্রয় করেছিল সে তার কেনা সম্পত্তিতে একটি কলসী পেল। তাতে স্বর্ণ ছিল। যে ব্যক্তি জমিটি ক্রয় করেছিল সে বিক্রেতাকে বলল, তুমি আমার কাছ থেকে তোমার স্বর্ণ বুঝে নাও। আমি তো তোমার কাছে থেকে জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। তখন যে ব্যক্তি সম্পত্তি বিক্রি করেছিল সে বলল, আমি তো তোমার কাছে জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, তারপর উভয়েই এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে এর ফায়সালা চাইল। তখন সে বলল, তোমাদের কি কোন সন্তান আছে? তাদের একজন বলল যে, আমার একটি ছেলে আছে এবং অপর জন বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। তখন তিনি বললেন, তোমার ছেলেটিকে (তার) মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে দাও এবং এ উপলক্ষে তোমরা তোমাদের উপর তা ব্যয় কর এবং এ থেকে সাদাকাও কর।