জ্ঞান (ইলম) (৬৬৬৯-৬৬৯৮)
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেনঃ "তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাবকে অবতীর্ণ করেছেন, যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট মজবুত সাংবিধানিক; এগুলো কিতাবের মূলনীতি আর অন্যগুলো অস্পষ্ট। যাদের হৃদয়ে বক্রতা রয়েছে, শুধু তারাই ফিতনাহ এবং ভুল ব্যাখ্যার জন্য যা অস্পষ্টতার অনুকরণ করে। মূলতঃ আল্লাহ ভিন্ন অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না; আর যারা ইলমে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি, সবই আমাদের রবের নিকট থেকে সত্য এবং বুদ্ধিমান ছাড়া আর কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না"(আ-লি ইমরান ৩ঃ ৭)। তিনি (আয়িশাহ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন তোমরা সেসব লোকদের দেখতে পাবে যারা অস্পষ্ট আয়াতের অর্থের অনুসরণ করে, এরাই সে সব ব্যক্তি, যাদের কথা আল্লাহ আলোচনা করেছেন, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাক।
আবূ কামিল, ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একদিন ভোরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তিনি বলেন, একদা তিনি কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাপারে দু' লোকের মতপার্থক্যের আওয়াজ শুনতে পেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আসলেন, এ অবস্থায় তার চেহারায় রাগের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছিল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা একমাত্র আল্লাহর কিতাবে দ্বিমত করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের হৃদয়ে তার প্রতি আকর্ষণ থাকে। আর যখন তোমরা তাতে মতভেদ করবে তখন উঠে যাবে।
ইসহাক ইবন মানসূর .... জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মনের মধ্যে আকর্ষণ থাকে ততক্ষণ কুরআন পাঠ করো। আর যখন (মন) বিকর্ষিত হয়ে পড়ে তখন উঠে যাবে।
আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখর আদ দারিমী .... আবু ইমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ছোটবেলা আমরা কুফাতে ছিলাম। তখন জুনদুব বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো .... তাদের দু'জনের হাদীসের ন্যায়।
আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ্ ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা মন্দ সে লোক, যে সর্বাপেক্ষা বাক-বিতণ্ডাকারী।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের আগের লোকের নীতি-আদৰ্শ পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করবে, এক বিঘত এক বিঘতের সঙ্গে ও হাত হাতের সঙ্গে, এমনকি তারা যদি গোসাপের গর্তে ঢুকে থাকে তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে। আমরা আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তারা কি ইয়াহুদী ও নাসারা? তিনি বলেন, তবে আর কারা?
সাঈদ ইবন আবূ মারইয়াম .... যায়দ ইবন আসলাম হতে আমাদের কিছু সংখ্যক সাহাবা এ সূত্রে তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ .... আতা ইবন ইয়াসার এর সানাদে যায়দ ইবন আসলাম তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতিরিক্ত চাটুকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শন হলো ইলম উঠে যাওয়া, অজ্ঞতা সাব্যস্ত হওয়া, মদ্যপান ও যিনার প্রসার ঘটা।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের নিকট এমন একটি হাদীস আলোচনা করব, যা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি এবং আমার পরে এমন কেউ তা তোমাদের নিকট উল্লেখ করবে না যিনি সরাসরি তার কাছ থেকে তা শুনতে পেয়েছে? আমি তার নিকট শুনেছি যে, কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম হচ্ছে ইলম উঠিয়ে দেয়া, অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, ব্যভিচার প্রসার হবে, মদ্যপান প্রচলিত হবে, পুরুষ (-এর সংখ্যা) হ্রাস পাবে, নারীরা অবশিষ্ট থাকবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারী একজন পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইবন বিশর ও আবদাহ্ এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, 'তা তোমাদের নিকট আমার পরে কেউ উল্লেখ করবে না। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, .... এরপর তিনি (আবদাহ্) তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ .... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ও আবু মূসা আশআরী এর সাথে বসে ছিলাম। তারা উভয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের সন্নিকটকালে এমন কিছু সময় আসবে যখন ইলম তুলে নেয়া হবে। সে সময় অজ্ঞতা নেমে আসবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ মানে হত্যা।
আবু বকর ইবন নাযর ইবন আবূ নাযর .... আবদুল্লাহ ও আবু মূসা আল আশআরী থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনই বলেছেন। কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ও আবু মূসা আশআরী এর সাথে বসে ছিলাম। এহেন মুহুর্তে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তারা উভয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ .... এরপর তারা ওয়াকী ও ইবন নুমায়র এর হাদীসের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেন।
আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, আবু কুরায়ব, ইবন নুমায়র ও ইসহাক আল হানযালী .... আবূ মূসা এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ও আবু মূসা এর সাথে বসে ছিলাম। এমন সময় তারা হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তখন আবু মূসা বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হুবহু হাদীস বলেছেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সন্নিকটবর্তী হলে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনাহ প্রসার হবে, কৃপণতা বেড়ে যাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। লোকেরা বলল, হারজ কি? তিনি বললেন, কতল (হত্যা)।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যামানা সন্নিকটবর্তী হবে, ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে। তারপর তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যামানা সন্নিকটবর্তী হলে ইলম তুলে নেয়া হবে। তারপর মা'মার তাদের [ইউনুস ও শুআয়ব-এর] হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর, ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব ও আমর আন নাকিদ, মুহাম্মদ ইবন রাফি ও আবু তাহির .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, যুহরী হুমায়দ হতে আবূ হুরাইরাহ এর সনদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল। তবে সালিম, হাম্মাম ও আবু ইউনুস (কৃপণতা বিস্তৃত হয়ে পড়বে) কথাটি উল্লেখ করেননি।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... উরওয়াহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মানুষের হৃদয় হতে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না। তবে তিনি আলিম সম্প্রদায়কে কবয করে ইলম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন একজন আলিমও থাকবে না তখন মানুষেরা মূৰ্খ মানুষদেরকে নেতা বানিয়ে নিবে। মানুষ তাদের নিকট সমাধান চাইবে, এরপর তারা না জেনে ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরও গুমরাহ করবে।
আবু রাবী আল আতাকী', ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, আবু কুরায়ব, ইবন আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, আবু বাকর ইবন নাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন আমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে জারীর এর হাদীসের অবিকল বর্ণিত। হিশাম ইবন উরওয়াহ উমর ইবন আলী এর বর্ণিত হাদীসে এ অংশটুকু বর্ধিত বলেছেন- এরপর আমি (ইবন উরওয়াহ্) এক বৎসরের মাথায় (পরে) আবদুল্লাহ ইবন আমর এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম; এরপর তিনি হাদীসটি যেমন বর্ণনা দিয়েছিলেন, আমাকে হুবহু হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস এর সানাদে নবী হতে (ﷺ) হিশাম ইবন উরওয়াহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আয়িশাহ বললেন, হে আমার বোনের ছেলে! আমার নিকট সংবাদ এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর আমাদের সাথে হাজ্জব্রত পালনে এসেছেন। তার সাথে তুমি দেখা করে প্রশ্ন করো। কেননা, নবী (ﷺ) থেকে তিনি বহু জ্ঞানার্জন করেছেন। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, এমন সময় আমি তার সাথে দেখা করে এমন বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম, যা তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উল্লেখ করেছেন। উরওয়াহ বলেন, যা তিনি আলোচনা করেছিলেন সে সকল বিষয়ের মধ্যে একটি ছিল এই যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা মানুষের নিকট থেকে ইলম কেড়ে নিবেন না। তবে তিনি আলিমদের উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের সাথে ইলমও উঠে যাবে। আর মানুষের মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে মূর্খ নেতাকর্মীরা। তারা না জেনে-শুনে মানুষদের ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা পথভ্রষ্ট হবে এবং তাদেরও পথভ্রষ্ট করবে। উরওয়াহ্ বলেন, আমি যখন এ হাদীসটি আয়িশাহ-এর নিকট বর্ণনা করলাম তখন তিনি হাদীসটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন এবং বিরক্তিভাব প্রকাশ করে বললেন, তিনি [আবদুল্লাহ ইবন আমর] কি তোমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এটি বলতে শুনেছেন? উরওয়াহ্ বললেন, এমনকি পরবর্তী বৎসর হজ্জের সময় এসে গেলো তখন তিনি তাকে [উরওয়াহ কে] বললেন, অবশ্যই ইবন আমর (হাজ্জে) গমন করেছেন। তার সাথে দেখা করো। তারপর তাকে তুমি সে হাদীসের ব্যাপারে প্রশ্ন করো ইলম সম্পর্কে তিনি তোমার নিকট আলোচনা করেছেন। উরওয়াহ বললেন, তখন আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি তা আমার নিকটে আলোচনা করলেন, যেমন তিনি প্রথমবার আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন। উরওয়াহ বলেন, যখন আমি তাকে [আয়িশাহ কে] বিষয়টি অবহিত করলাম তখন তিনি বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর কে সত্য কথা বলে এমনটি মনে করি এবং তিনি এ হাদীসে বিন্দুমাত্র বেশি কিংবা কম করেননি।
যুহায়র ইবন হারব .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক যাযাবর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে আসলো। তাদের পরনে পশমী পোশাক ছিল। তিনি তাদের নিকৃষ্ট অবস্থা দেখলেন। তাদের অভাবে আক্রমণ করেছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষদের (তাদেরকে) দান-সাদাকা করার জন্যে উৎসাহিত করলেন। মানুষেরা দান-সাদাকা দিতে ইতস্তত করছিল। এমনকি এর প্রতিক্রিয়া তার চেহারায় দেখা গেল। রাবী বলেন, তারপর একজন আনসারী লোক একটি রূপার (টাকার) ব্যাগ নিয়ে আসলেন। তারপর অন্যজন আসলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আসতে লাগলেন, পরিশেষে তার মুখে আনন্দের চিহ্ন দেখা গেল। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে লোক ইসলামে কোন সুন্নাত চালু করলো এবং পরবর্তীকালে সে অনুসারে আমল করা হলো তাহলে আমলকারীর প্রতিদানের সমান প্রতিদান তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের প্রতিদানে কোন ঘাটতি হবে না, আর যে লোক ইসলামে কোন অশুভ নীতি চালু করলো এবং তারপরে সে অনুযায়ী আমল করা হলো তাহলে ঐ "আমলকারীর খারাপ প্রতিদানের সমান গুনাহ তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের পাপ সামান্য ঘাটতি হবে না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... জারীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবাহ দিলেন এবং মানুষদেরকে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। এরপর জারীর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনানুযায়ী।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক কোন ভাল কর্মের প্রবর্তন করে না, যা পরবর্তীকালে কাজে পরিণত করা হয়। তারপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল উমাবী .... জারীর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... জারীর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। আর যে লোক বিভ্রান্তির দিকে ডাকে তার উপর সে রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য হালকা হবে না।