bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আইনি শাস্তি (৪২৯১-৪৩৬২)

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক চতুর্থাংশ দীনার অথবা এর চেয়ে বেশী পরিমাণ মূল্যের মাল চুরির দায়ে চোরের হাত কাটতেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবদ ইবন হুমায়দ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... যুহরী হতে উক্ত সানাদে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়াহ ও ওয়ালীদ ইবন শুজা ..... আয়িশাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এক চতুর্থাংশ দীনার অথবা এর অধিক মাল মাল চুরি ব্যতীত চোরের হাত কর্তন করা যাবে না।

আবূ তাহির .... হারূন ইবন সাঈদ আইলী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, এক দীনারের চার ভাগের একভাগ অথবা এর বেশি মূল্যের সম্পদ চুরি ব্যতীত চোরের হাত কাটা যাবে না।

বিশর ইবন হাকাম আব্‌দী ..... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, এক দীনারের চার ভাগের এক ভাগ অথবা এর বেশি মূল্যের মাল চুরি ব্যতীত চোরের হাত কাটা যাবে না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইসহাক ইবন মানসূর ইয়াযীদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাদ হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে একটি ঢালের মূল্যের কম সম্পদ চুরির অপরাধে চোরের হাত কাটা হতো না। 'হাজাফাহ বা তুরস' উভয় শব্দের অর্থই আত্মরক্ষার মূল্যবান ঢাল।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্, আবূ বকর ইবন শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে একই সূত্রে উল্লেখিত বর্ণিত হাদীসটি হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান রওয়াসী হতে ইবন নুমায়র অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহীম এবং আবূ উসামাহ্-এর হাদীসে (তা তখনকার দিনে মূল্যবান বস্তু) এটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কেটে দেন। ঢালটির মূল্য ছিল তিন দিরহাম।

কতাইবাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমূহ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, আবু রাবী, আবু কামিল, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান দারিমী, মুহাম্মদ ইবন রাফি ও আবূ তাহির ..... ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উল্লেখিত মালিক এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ (তার মূল্য) শব্দটি উল্লেখ করেছেন এবং কেউ কেউ (সেটার মূল্য তিন দিরহাম) উল্লেখ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেন সে চোরের উপর, যে একটি ডিম (বা ডিমের মূল্যের পরিমাণ বস্তু) চুরি করল। এতে তার হাত কাটা যাবে। আর যে ব্যক্তি একটি দড়ি (কিংবা দড়ির মূল্যের পরিমাণ বস্তু) চুরি করল, তারও হাত কাটা যাবে।

আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরাম .... আমাশ হতে এ সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি (যদিও সে দড়ি চুরি করে এবং ডিম চুরি করে) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, মাখযুমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তার (প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরায়শগণ চিন্তান্বিত হয়ে পড়লো। তারা বলল, কে এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তারা বললেন, এ ব্যাপারে উসামাহ্ ব্যতীত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় ব্যক্তি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করতো, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করতো। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদ এর কন্যা ফাতিমা-ও চুরি করতো, তবুও নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম। ইবন রুমহ বর্ণিত অপর এক হাদীসে নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণিত রয়েছে।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, কুরায়শরা এক মহিলার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে মক্কাহ বিজয়ের সময় চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, এ ব্যাপারে কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কথা (সুপারিশ) বলবে? তখন তারা বলল, এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয়পাত্র উসামাহ্ ইবন যায়দ ব্যতীত আর কার হিম্মত থাকতে পারে? তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খুবই প্রিয় পাত্র। অতঃপর উক্ত মহিলাকে নিয়ে উসামাহ্ ইবন যায়দ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে এসে তার ব্যাপারে কথা বললেন। এতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ এর ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল। আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যখন সন্ধ্যা হল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) দণ্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এজন্য যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোন হীন লোক চুরি করতো, তখন তার উপর হদ' প্রয়োগ করতো। সে মহান আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করতো, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর যে মহিলা চুরি করেছিল, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেয়া হল। ইউনুস আয়িশাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাটিভাবে তওবা্ করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। আয়িশাহ্ বলেন, এ ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তার কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তুলে ধরতাম।

আবদ আবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মাখযুমী মহিলা বিভিন্ন জিনিস ঋণ নিয়ে পরে সে তা অস্বীকার করতো। এতে নবী (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। এরপর সে মহিলার পরিবারবর্গ উসামাহ্ এর কাছে এসে এ ব্যাপারে কথোপকথন করলো। তিনি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর তিনি লায়স ও ইউনুস ... এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির হতে বর্ণিত যে, একদা এক মাখযুমী মহিলা চুরি করল। অতঃপর তাকে (নিয়ে এসে) নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু সালামার মাধ্যমে ক্ষমা চাইলো। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ যদি ফাতিমাও চুরি করতো, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর মহিলাটির হাত কেটে দেয়া হল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামিমী ..... উবাদাহ্ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোন অবিবাহিত পুরুষ কোন কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ বেত্ৰাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোন বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রথমত একশ বেত্ৰাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।

আমর আন্‌ নাকিদ .... মানসূর হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও মুসান্না .... উবাদাহ্ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো, তখন তাকে ক্লান্ত মনে হতো এবং তার মুখমণ্ডলে ক্লান্তির চিহ্ন ফুটে উঠত। বর্ণনাকারী বলেন, একদা যখন তার ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হলো তখন তার অবস্থা ঐরূপ হল। এরপর যখন অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ হতে শিক্ষা গ্রহণ কর, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করে দিয়েছেন। যদি কোন বিবাহিত পুরুষ কোন বিবাহিতা মহিলার সাথে এবং কোন অবিবাহিত পুরুষ কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে, তবে বিবাহিত ব্যক্তিকে একশ বেত্ৰাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। আর অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাকে একশ বেত্ৰাঘাত করবে, এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য নির্বাসন দেবে।

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মদ ইবন বাশশার .... কাতাদাহ্ থেকে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, [অবিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা)-কে বেত্ৰাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দেয়া হবে। আর বিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা) কে প্রথমতঃ বেত্ৰাঘাত করা হবে এরপর পাথর মেরে হত্যা করা হবে।] কিন্তু তিনি (এক বছর এবং একশ') এ কথাটি তার হাদীসে উল্লেখ করেননি।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়াহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে (ব্যভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। সুতরাং রসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যভিচারের জন্য রজম করার হুকুম বাস্তবায়ন করেছেন। তার পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ এ কথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাই না। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এ ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যভিচারের শাস্তি (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) এর হুকুম সাব্যস্ত। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... যুহরী হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স ইবন সা'দ .... আবূ হুরাইরাহ্ বরাতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলো। তখন তিনি মসজিদে বসে ছিলেন। সে তখন উচ্চস্বরে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। তখন তিনি (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে লোকটি তার (রসূল (ﷺ) এর) চেহারার দিকে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করল। এরপর সে যখন চারবার নিজের উপর সাক্ষ্য দিল, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামী আছে? সে বলল, না। তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যা। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর। ইবন শিহাব বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে যিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন তিনি আমার কাছে বলেন যে, জাবির বলেছেন, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমরা তখন তাকে (ঈদের) সালাত পড়ার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করলাম। যখন তার উপর পাথর পড়তে লাগল তখন সে পলায়ন করল। আমরা তাকে 'হাররা' নামক স্থানে ধরে ফেললাম এবং পাথর মেরে হত্যা করলাম।

মুসলিম বলেন যে, লায়স ও আবদুর রহমান ইবন খালিদ ইবন মুসাফিরের মাধ্যমে ইবন শিহাব হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী আবূল ইয়ামান এবং শুআয়বের মাধ্যমে যুহরী এর বরাতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে ইবন শিহাব বলেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, যেমন উল্লেখ করেছেন উকায়ল।

আবূ তাহির, হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম তারা সবাই যুহরীর মাধ্যমে .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেভাবে উকায়ল যুহরীর মাধ্যমে আবূ হুরাইরার বরাতে নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন জাহদারী .... জাবির ইবন সামুরাহ এর বরাতে নবী (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি মাইয ইবন মালিক কে দেখলাম, যখন তাকে নবী (ﷺ) এর নিকট আনা হল। তিনি ছিলেন বেটে প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। তার গায়ে কোন চাদর ছিল না। তিনি নিজেই চারবার স্বীকারোক্তি করলেন যে, তিনি ব্যভিচার করেছেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি হয়ত (শুধু চুমু খেয়েছে অথবা স্পর্শ করেছ) তখন তিনি উত্তরে বললেন, না, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ হতভাগা ব্যভিচার করেছে। পরিশেষে তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ করলেন। এরপর তিনি এক ভাষণ প্রদান করে বললেনঃ সাবধান! আমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে গমন করি, তখন কেউ কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে (ছাগল যেমন সঙ্গমের সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করে তদ্রুপ) আর তাদেরকে সে অল্প দুধ দেয়। (সঙ্গম করে, দুধের অর্থ বীৰ্য।) আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ আমাকে এ শ্রেণীর কোন লোকের উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দেব। (যেন অন্যেরা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।)

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... জাবির ইবন সামুরাহ্ কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেটে আকৃতির, চুল ছিল অবিন্যস্ত এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। তার গায়ে ছিল একটি চাদর। তিনি ব্যভিচার করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'বার তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো; আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হই, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে। সে তখন কোন নারীকে অল্প দুধ প্রদান করে। (ব্যভিচার করে) নিশ্চয় আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর শক্তি দেন, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসই সাঈদ ইবন জুবায়র এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইব্রাহীম .... উভয়েই জাবির ইবন সামুরা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইবন জাফর এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর শাবাবা-ও তার বাণী (তিনি তার স্বীকারোক্তি দু'বার প্রত্যাখ্যান করেন) এর সাথে একমত হয়েছেন। আবূ আমির এর অপর এক হাদীসে (তিনি তার স্বীকারোক্তি দু'বার অথবা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছেন) বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল জাহদারী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মাইয ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে তা সত্য কিনা? তিনি বললেন, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কী সংবাদ পৌছেছে? তখন তিনি বললেন, আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি অমুক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছ। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যা। এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন স্বীকারোক্তি দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন। তাকে তখন পাথর মারা হলো।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের মাইয ইবন মালিক নামক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমি তো এক গৰ্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শারীআতের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী (ﷺ) তার এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা বলল, আমরা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি হদ' শারীআতের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিস্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন তাকে 'বাকীউল গারকাদ' নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাধলাম না এবং মাটিতে পুতলামও না। এরপর আমরা তাকে হাড়, মৃত্তিকা, চিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে "হাররাহ" নামক স্থানে উপনীত হল। আমরা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল মরে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশে দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে কোন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (ﷺ) তার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। (দোয়া এজন্য করেননি যে, হয়ত এ আশায় কেউ আবার পাপাচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে)

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম দাউদ হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেন। তিনি তার হাদীসে উল্লেখ করেন যে, এরপর নবী (ﷺ) সন্ধ্যাবেলায় দাড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা শেষে বললেন, তাদের কী পরিণতি হবে? যখন আমরা যুদ্ধে গমন করি তখন তাদের কেউ কেউ আমাদের পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। (ব্যভিচার করে।) কিন্তু তিনি তার বর্ণনায় আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে' কথাটি বর্ণনা করেননি।

সুরায়জ ইবন ইউনুস ও আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ দাউদ হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান এর বর্ণিত হাদীসে (অতএব, সে তিনবার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করেছে) এ কথা উল্লেখ রয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন আলা হামদানী সুলাইমান ইবন বুরাইদাহ্ তার পিতার বরাতে হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, মাইয ইবন মালিক নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তওবা কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো। এরপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্পদূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তওবা কর। তখন নবী (ﷺ) পূর্বের মতই কথা বললেন, যখন চতুর্থবার মাইয একই কথা বলল, আমাকে পবিত্র করুন হে আল্লাহর রসূল! রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, কোন বিষয়ে আমি তোমাকে পবিত্র করবো? তখন সে বলল, যিনার পাপ হতে। সুতরাং রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার (সঙ্গী-সাথীদের নিকট) জিজ্ঞেস করলেন, তার মধ্যে কি কোন পাগলামী আছে? তখন তাকে জানানো হলো যে, সে পাগল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে মদ্যপান করেছে কি? তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং তার মুখ শুকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি যিনা করেছ? প্রতি উত্তরে সে বলল, জী-হ্যা। অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রতি (ব্যভিচারের শক্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হল। সুতরাং এ ব্যাপারে জনগণ দু'দলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল বলতে লাগল, নিশ্চয় সে (মাইয) ধ্বংস হয়ে গেছে। নিশ্চয় তার পাপ কার্যত তাকে ঘিরে ফেলেছে। দ্বিতীয় দল বলতে লাগল, মাইয এর তাওবার চেয়ে উত্তম (তাওবার অনুশোচনা) আর হয় না। সে প্রথমে নবী (ﷺ) এর কাছে আগমন করলো এবং নিজের হাত তার হাতের উপর রাখলো। এরপর বলল, আমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, দু' তিন দিন পর্যন্ত মানুষ কেবল এ কথাই বলাবলি করছিল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমন করলেন এবং দেখলেন, যে, সাহাবাগণ বসে আছেন। তিনি প্রথমে সালাম দিলেন, এরপর বসলেন এবং বললেন, তোমরা মাইয ইবন মালিক এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তখন তারা বললেন, আল্লাহ! মাইয ইবন মালিককে ক্ষমা করুন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে এমনভাবে তওবা করেছে, যদি তা একটি উম্মাতের লোকদের মাঝে বণ্টিত হয়ে তবে সকলের জন্যই তা যথেষ্ট হতো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তার নিকট আযদ গোত্রের গামিদ পরিবারের এক মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তওবা কর। তখন মহিলা বলল, আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাইয ইবন মালিককে? তখন তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? মহিলা বলল, আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি। তিনি (রসূল (ﷺ)) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এমন কাজ করেছ? সে প্রতি উত্তরে বলল, জী-হ্যা। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, এক আনসারী ব্যক্তি তার গর্ভের সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ করল। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, গামিদীয় মহিলা তো সন্তান প্রসব করেছেন। তখন তিনি বললেন, এমতাবস্থায় তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে রজম করতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধপান করানোর মত কেউ নেই। তখন এক আনসারী লোক দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিলাম। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ এর বরাতে তার পিতা থেকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, মাইয ইবন মালিক আসলামী নবী (ﷺ) এর নিকট এলে বলল, হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর যুলম করেছি, ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন। তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরের দিন সে আবার তার (নবী (ﷺ)) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির। এরপর মাইয তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করলেন। তখনও তারা তাকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হল এবং তিনি (ﷺ) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ প্রদান করলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর গামিদী এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি (ﷺ) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাইযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী। তখন তিনি বললেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করল- তখন ভূমিষ্ঠ সস্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তার কাছে আগমন করলো এবং বলল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যাও তাকে (সন্তানকে) দুধ পান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হল তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তার কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো- এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সস্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করলেন। এরপর তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হল এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করল। খালিদ ইবন ওয়ালীদ একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (ইবন ওয়ালীদ) এর মুখমণ্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী (ﷺ) তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যার হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তওবা করেছে, যদি কোন "হক্কুল ইবাদ" বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তওবা করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেতো। এরপর তার জানাযার সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় সালাত আদায় করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো।

আবূ গাসসান মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ মিসমাঈ .... ইমরান ইবন হুসায়ন এর মাধ্যমে হাদীস শুনিয়েছেন যে, জুহাইনাহ গোত্রের এক মহিলা নবী (ﷺ) এর নিকট আগমন করল। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমি হদ (শারীআত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি) এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) তার অভিভাবককে ডাকালেন এবং বললেন, তাকে ভালভাবে দেখাশোনা করো। তারপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো। এরপর আল্লাহর নবী (ﷺ) তার প্রতি (শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার উপর জানাযার সালাত আদায় করলেন। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি তার (জানাযার) সালাত আদায় করলেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তওবা করেছে, যদি তা মদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তওবাকারী কখনও দেখেছো? সে-তো নিজের জীবন আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসির হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আবূ হুরাইরাহ এবং যায়দ ইবন খালিদ জুহানী হতে বর্ণিত। তারা বলেন, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর একব্যক্তি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিল বলল, হ্যা, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, তবে এর আগে আমাকে (কথা বলার) অনুমতি দিন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বলো। লোকটি বলল, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর শাস্তি আরোপিত হবে। সুতরাং আমি সেটার বিনিময় প্রদান করলাম একশ ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে আলিমগণের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের উপর একশ বেত্ৰাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর হুকুম কার্যকর হবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, সে মহান সত্তার শপথ যার হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিম্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল প্রত্যাখ্যাত হবে। (এগুলো তুমি ফিরিয়ে নেবে)। আর তোমার ছেলের উপর একশ বেত্ৰাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনায়স! (একজন সাহাবা) তুমি আগামীকাল সকালে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে (এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে।) যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন সকালে তিনি মহিলার কাছে গেলেন (এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন।) সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলার প্রতি শারীআতের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল।

আবূ তাহির, হারমালাহ, আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাকম ইবন মূসা আবূ সালিহ নাফি এর মাধ্যমে .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একজন ইয়াহুদী পুরুষ এবং একজন ইয়াহুদী মহিলাকে আনা হল, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তাওরাতে ব্যভিচার ব্যক্তির শাস্তি কী পেয়েছ? তারা বলল, এতে আমরা উভয়ের মুখমণ্ডলে কালি লাগিয়ে দেই এবং উভয়কে বিপরীতমুখী করে উটের উপর উঠিয়ে পরিভ্রমণ করাই। (এ হল তাওরাত বর্ণিত শাস্তি) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তাওরাত কিতাব নিয়ে এসো, যদি তোমরা এ ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা তখন তাওরাত কিতাব নিয়ে এলো এবং পাঠ করতে শুরু করল। যখন (ব্যভিচারের শাস্তি) এর আয়াত নিকটবর্তী হল তখন যে যুবকটি তাওরাত পাঠ করছিল সে আপন হাত (পাথর নিক্ষেপের আয়াত) এর উপর রেখে দিল এবং রক্ষিত হাতের আগের-পেছনের অংশ পাঠ করলো। তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম, (তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি তাকে নির্দেশ করুন- যেন সে আপন হাত উঠিয়ে ফেলে। সে তার হাত উঠিয়ে নিল। হঠাৎ দেখা গেল যে, এর নিচেই (পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। সুতরাং রসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়কে পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। সুতরাং উভয়কে পাথর মারা হল। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন যে, যারা উভয়কে পাথর মেরেছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, পুরুষটি মহিলাটিকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। (ভালবাসার আকর্ষণে নিজেই তার পাথরের আঘাত গ্রহণ করছে)।

যুহায়র ইবন হারব ও আবূ তাহির নাফি এর বরাতে .... ইবন উমর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'জন ইয়াহুদীকে ব্যভিচারের অপরাধে রজম (পাথর নিক্ষেপ করেন। তন্মধ্যে একজন ছিল পুরুষ এবং অপরজন মহিলা, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। ইয়াহুদীরা উভয়কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে এসেছিল। এরপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস .... ইবন উমর হতে হাদীস শুনিয়েছেন যে, ইয়াহুদীরা তাদের ব্যভিচার একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এলো। অতঃপর তিনি উবাইদুল্লাহ কর্তৃক নাফি হতে বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ..... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) এর সম্মুখ দিয়ে একজন ইয়াহুদীকে কালি মাখা এবং বেত্ৰাঘাতকৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন, তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি এরূপই পেয়েছ? তারা বলল, হ্যা। এরপর তিনি তাদের মধ্য হতে একজন আলিম (পাদরী) ব্যক্তিকে ডাকালেন এবং বললেন, তোমাকে সে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি মূসা এর প্রতি তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন, এরূপই কি তোমরা তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি পেয়েছ? তখন ইয়াহুদী আলিম ব্যক্তি বললেন, না। তিনি আরো বললেন, আপনি যদি আমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে এভাবে না বলতেন তবে আমি আপনাকে জানাতাম না যে, এর প্রকৃত শাস্তি রজম (পাথর নিক্ষেপ করা)। কিন্তু আমাদের সমাজের সম্ভান্ত ব্যক্তিদের মাঝে এর ব্যাপক প্রচলন হয়ে গেছে। অতএব, আমরা যখন এতে কোন সম্ভান্ত লোককে পেতাম, তখন তাকে ছেড়ে দিতাম এবং যখন কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তার উপর শারীআতের প্রকৃত শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। পরিশেষে আমরা বললাম, তোমরা সকলেই এসো, আমরা সবাই মিলে এ ব্যাপারে একটি শাস্তি নির্ধারিত করে নেই, যা ভদ্র ও অভদ্র সকলের উপরই প্রযোজ্য হবে। সুতরাং আমরা ব্যভিচারের শাস্তি কালি লাগানো এবং বেত্ৰাঘাত করাকেই স্থির করে নিলাম, পাথর নিক্ষেপের পরিবর্তে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তোমার নির্দেশ বাস্তবায়িত (পুনর্জীবিত) করলাম, যা তারা বাতিল করে ফেলেছিল। সুতরাং তিনি তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন। অবশেষে ঐ ইয়াহুদীকে পাথর মারা হল। এরপর মহান আল্লাহ এ আয়াতঃ "হে রসূল! যারা কুফরী কাজে দ্রুতগামী তাদের কার্যকলাপ যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। ... অতঃপর সেই বাণী পর্যন্ত যদি তোমরা তা প্রদত্ত হও, তবে তা ধারণ কর"-(ময়িদাহ ৫ঃ ৪১) পর্যন্ত অবতীর্ণ করেন। তারা (ইয়াহুদীরা) বলতো যে, তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিকট গমন করো, যদি তিনি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে- কালি লাগানো এবং বেত্ৰাঘাতের নির্দেশ প্রদান করেন, তবে তোমরা তা কার্যকর করবে; আর যদি তিনি রজমের নির্দেশ দেন তবে তা প্রত্যাখ্যান করবে। আল্লাহ তাআলা (এ মর্মে) আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত মুতাবিক বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারাই হলো কাফির (অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়"-(ময়িদাহ ৫ঃ ৪৪)। "আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুসারে বিচার করে না তারাই হলো অত্যাচারী দল"-(ময়িদাহ ৫ঃ ৪৫)। "আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুযায়ী বিচার করে না তারাই হলো সীমালঙ্ঘনকারী দল"(ময়িদাহ ৫ঃ ৪৭)। এ সবগুলো আয়াত কাফিরদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়।

ইবন নুমায়র ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ ..... আমাশ হতে একই সূত্রে "তখন নবী (ﷺ) এর (রজম করার) নির্দেশ প্রদান করলেন, এরপর (ঐ ইয়াহুদীকে) পাথর মারা হল" পর্যন্ত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু এরপরে বর্ণিত আয়াতসমূহ তিনি উল্লেখ করেননি।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আসলাম গোত্রের একজন পুরুষ এবং একজন ইয়াহুদী পুরুষ ও মহিলার প্রতি (ব্যভিচারের জন্য) পাথর নিক্ষেপ করার শাস্তি বলবৎ করেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন জুরায়জ থেকে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি "এবং একজন মহিলা" এ শব্দটি উল্লেখ করেন।

আবূল কামিল জাহদারী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ ইসহাক শাইবানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি (ব্যভিচারের জন্য) পাথর মেরেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি বললাম, সূরা নুর অবতীর্ণ হওয়ার আগে, না পরে? তখন তিনি বললেন, আমি তা জানি না।

ঈসা ইবন হাম্মাদ মিসরী .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যদি তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার কার্য প্রকাশিত হয়ে পড়ে তবে তাকে শারীআত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি অনুযায়ী বেত্ৰাঘাত করবে এবং তাকে কোন প্রকার তিরস্কার করবে না। এরপর যদি দ্বিতীয়বার সে ব্যভিচার করে, তবে তাকে শারীআত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি বেত্ৰাঘাত করবে এবং তাকে কোন প্রকার ধমকি দিবে না। এরপর যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার কার্য প্রকাশ পায় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, চুলের দড়ি পরিমাণ মূল্যে হলেও। (অতি কম মূল্য হলেও)

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবন ইবরাহীম আবদ ইবন হুমায়দ, হারূন ইবন সাঈদ আয়লী, হান্নাদ ইবন সারিয়্যি .... আবূ হুরাইরাহ্ এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে দাসীর বেত্ৰাঘাত সম্পর্কে, "যখন সে তিন তিনবার ব্যভিচার করে, এরপর চতুর্থবারে তাকে বিক্রি করে দেবে"।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ কানবী ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলো- যখন কোন অবিবাহিত দাসী ব্যভিচার করে এর হুকুম সম্পর্কে। তখন তিনি বললেন, যদি সে ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্ৰাঘাত করবে। আবার যদি সে ব্যভিচার করে তবে আবারও বেত্ৰাঘাত করবে। এরপরও যদি সে ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্ৰাঘাত করবে এবং পরিশেষে তাকে বিক্রি করে দেবে, একটি দড়ির মূল্য পরিমাণ মূল্যে হলেও। ইবন শিহাব (সন্দেহসূচক) বর্ণনা করেছেন যে, আমি জানি না (বিক্রি করার নির্দেশটি কি তৃতীয় বারের পরে, না চতুর্থ বারের পরে)। কানবী তার বর্ণনায় বলেন যে, ইবন শিহাব শব্দের অর্থ (দড়ি) বলেছেন।

আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, .... এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ এবং ইয়াহইয়া বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (ইবন ওয়াহব) ইবন শিহাবের কথা অর্থ (দড়ি) এ কথাটি উল্লেখ করেননি।

আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত। সালিহ এবং মা'মার তারা উভয়ে মালিকের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তারা তাদের হাদীসে দাসী বিক্রি সম্পর্কে (তৃতীয়বারে অথবা চতুর্থবারে) এ কথা সন্দেহসূচক বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকাদ্দামী .... আবূ আবদুর রহমান হতে তিনি বলেন, একদা আলী এক ভাষণে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের (ব্যভিচারী) দাসদাসীদের উপর শরীআতের হুকুম "হদ্দ কার্যকর কর, তারা বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত হোক। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক দাসী ব্যভিচার করেছিল। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আমি যেন তাকে (দাসীটিকে) বেত্ৰাঘাত করি। সে তখন (নিফাস) সদ্য প্রসূতি অবস্থায় ছিল। আমি তখন ভয় করলাম যে, এমতাবস্থায় যদি আমি তাকে বেত্ৰাঘাত করি তবে হয়ত তাকে মেরেই ফেলবো। এ ঘটনা আমি নবী (ﷺ) এর নিকট পেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছো।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... সুদ্দী থেকে একই সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি "তাদের মধ্যকার বিবাহিত এবং অবিবাহিত" এ কথার উল্লেখ করেননি। তার বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, "তুমি তাকে ছেড়ে দাও, যতক্ষণ না সে নিফাস থেকে পবিত্র হয়"।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... আনাস ইবন মালিক হতে নবী (ﷺ) এর নিকট একদিন একজন মদপানকারী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলো। তখন তিনি দু'টি খেজুরের ডাল দিয়ে চল্লিশ বারের মত তাকে বেত্ৰাঘাত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, আবূ বকর-ও (তার খিলাফত আমলে) তাই করেন। পরে যখন উমার খালীফা হলেন, তিনি এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ চাইলেন। তখন আবদুর রহমান (রাযীঃ) বললেন, অপরাধের শাস্তি কমপক্ষে আশি বেত্ৰাঘাত হওয়া প্রয়োজন। তাই উমার এরই নির্দেশ দিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীবুল হারিসী .... কাতাদাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, আমি আনাস কে বলতে শুনেছি, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হল.... অতঃপর রাবী আনাস উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মদ্যপানে খেজুরের ডাল ও জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। আবূ বকর তার আমলে চল্লিশটি বেত্ৰাঘাত করেছেন। উমার এর খিলাফতকালে মানুষের সমৃদ্ধি এলে তারা প্রচুর পানি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস আরম্ভ করলো। তিনি তাদেরকে বললেন, মদ্যপানের বেত্ৰাঘাত বিষয়ে আপনাদের মতামত কী? আবদুর রহমান ইবন আওফ বললেন, এ ব্যাপারে আমি মনে করি যে, আপনি সর্বনিম্ন দণ্ড নির্ধারণ করুন। তারপর উমর মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে আশিটি বেত্ৰাঘাত নির্ধারণ করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হিশাম হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) মদ্যপানের অপরাধে জুতো এবং খেজুরের ডাল দ্বারা চল্লিশটি আঘাত করতেন। অতঃপর ওয়াকী উল্লিখিত হাদীস বর্ণনাকারীদ্বয়ের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর তিনি.... "পানি ও বসতি" কথাটির উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, আলী ইবন হুজুর ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী হাদীসের শব্দগুলো তারই (বর্ণনা করা), হুসায়ন ইবন মুনযির আবূ সাসান .... হতে তিনি বলেন, আমি উসমান ইবন আফফান এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন ওয়ালীদকে তার কাছে আনা হল। সে ফজরের দু'রাকাআত সালাত আদায় করে বলেছিল, আমি তোমাদের উদ্দেশে আরো অধিক রাকাআত পড়ব। তখন দু'ব্যক্তি ওয়ালীদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিল। তন্মধ্যে একজনের নাম ছিল হুমরান। সে বলল, সে মদ খেয়েছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল যে, সে তাকে বমি করতে দেখেছে (মদ্যপানের কারণে)। তখন উসমান বললেন, সে মদ খাওয়ার পরই বমি করেছে। অতএব তিনি বললেন, হে আলী আপনি উঠুন এবং তাকে বেত্ৰাঘাত করুন। তখন আলী হাসান কে বললেন, হে হাসান! তুমি উঠ এবং তাকে বেত্ৰাঘাত কর। হাসান বললেন, যে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেছে সে তার তিক্ততা ভোগ করুক। এতে যেন আলী তার প্রতি মৰ্মাহত হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন জাফর! তুমি উঠ এবং তাকে দুররা (বেত্ৰাঘাত) মার। তিনি তাকে দুররা মারলেন। আর আলী তা গণনা করলেন। যখন চল্লিশটি দুররা মেরেছেন তখন আলী বলেন, তুমি বিরত হও। এরপর তিনি বললেন যে, নবী (ﷺ) চল্লিশটি বেত্ৰাঘাত করেছেন এবং আবূ বকর-ও তার খিলাফতকালে চল্লিশটি দুররা মেরেছেন। আর উমার (তার খিলাফাত কালে) আশিটি দুররা মেরেছেন। আর এতদুভয় সংখ্যার প্রতিটিই সুন্নাত। তবে এটি (শেষোক্তটি) আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আলী ইবন হুজুর তার বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল বলেন যে, আমি তা দানাজ থেকে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন তা আমার মনে নেই।

মুহাম্মাদ ইবন মিনহালুয যারীর .... আলী থেকে তিনি বলেন, কোন অপরাধীর উপর 'হদ্দ' (শারীআতের শাস্তি) প্রয়োগে যদি সে মারা যায় তাতে আমি ব্যথিত হয়নি। কিন্তু মদ্যপায়ীর শাস্তি প্রদানে আমি ভীত। কেননা, এতে যদি সে মারা যায় তবে আমি তার দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) প্রদান করবো। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে শাস্তির কোন পরিমাণ নির্ধারিত করে যাননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সুফইয়ান হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন ঈসা .... আবূ বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, কাউকে যেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অপরাধের নির্দিষ্ট হদ্দ (দণ্ড) ব্যতীত দশ বেত্ৰাঘাতের বেশী বেত্ৰাঘাত না করা হয়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... উবাদাহ্ ইবন সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা কোন এক মাজলিসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন যে, তোমরা আমার কাছে এর উপর বাইআত কর যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না এবং কাউকে হত্যা করবে না যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। কিন্তু ন্যায়সঙ্গতভাবে (কিসাস হিসেবে কিংবা বিয়ের পর যিনা করলে)। অতএব, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তা পূর্ণ করবে, সে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে পাবে। আর যদি কেউ উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে যাকে, তবে তাই তার জন্য কাফফারা (বদলা) হয়ে যাবে। আর যদি কোন ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয় অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন।

আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার হাদীসে শুধু এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, "অতএব, তিনি আমাদের কাছে সূরা নিসা এর আয়াত (অর্থঃ) তারা যেন আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে ..... আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন।"

ইসমাঈল ইবন সালিম .... উবাদাহ ইবন সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের থেকে অনুরূপ অঙ্গীকার নিলেন, যেরূপ অঙ্গীকার নিয়েছেন মহিলাদের থেকে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করি, চুরি না করি, ব্যভিচার না করি, আমাদের সন্তানদেরকে হত্যা না করি এবং একে অপরের ক্ষতি না করি। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে পাবে। আর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন কোন অপরাধ করে যাতে (হদ্দ) শরীয়তের শাস্তি অত্যাবশ্যকীয় হয়, অতঃপর তার উপর সে শাস্তি কার্যকরী হয়, তবে তা তার অপরাধের কাফফারা (বদলা) হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তির পাপ কার্য আল্লাহ গোপন রাখলেন, তার বিষয় আল্লাহর ইচ্ছাধীন। যদি তিনি ইচ্ছা করেন তবে তাকে শাস্তি দিবেন। আর যদি ইচ্ছে করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ... উভয়ে উবাদাহ ইবন সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি সেসব নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলাম, যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বাইআত নিয়েছিলেন। আমরা শপথ নিলাম যে, আমরা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করবো না, ব্যভিচার করবো না, চুরি করবো না, কাউকে হত্যা করবো না- যেগুলো (যাদেরকে হত্যা করতে) আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু ন্যায়সঙ্গতভাবে (কিসাস তথা অবৈধ হত্যার পরিবর্তে বা মুরতাদ হলে বা বিয়ের পর যিনা করলে হত্যা করবে)। আর ডাকাতি করবো না ও কোন প্রকার নিষিদ্ধ কর্মও করবো না। যদি আমরা ঐরূপ কার্যাবলী না করে চলতে পারি তবে আমাদের জান্নাত মিলবে। আর যদি আমরা উল্লিখিত অপরাধের কোনটিতে লিপ্ত হই, তবে এর ফায়সালা আল্লাহর কাছেই। ইবন রুমহ বলেন, এর ফায়সালা মহান আল্লাহর কাছেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পশুর আঘাত দণ্ডযোগ্য নয়, কূপে পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিদন্ডযোগ্য নয় এবং খনিতে নিপতিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতি দণ্ডযোগ্য নয়। (ঐসব কারণে যদি কেউ আহত বা নিহত হয়, তবে এতে কোন দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ নেই।) আর গুপ্তধন অথবা খনিজ পদার্থ প্রাপ্তিতে এক পঞ্চমাংশ নির্ধারিত (বাইতুল মালের জন্য)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যুহরী হতে লায়স এর সূত্র অনুসারে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির .... আবূ হুরাইরাহ এর সুত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কুপের মধ্যে পতিত হয়ে কেউ আহত বা নিহত হলে তা দণ্ডযোগ্য নয়, খনিতে আহত হলে তাও দণ্ডযোগ্য নয় এবং পশুর আক্রমণে আহত হলেও তা দণ্ডযোগ্য নয়। আর খনিতে অথবা গুপ্তধন প্রাপ্তিতে এক পঞ্চমাংশ নির্ধারিত (বাইতুল মালের জন্য)।

আবদুর রহমান ইবন সালাম, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, ইবন বাশশার .... সকলেই আবূ হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।