bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শিষ্টাচার (৫৪৮০-৫৫৩৯)

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা ও ইবন আবূ উমার .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকী' নামক স্থানে এক লোক আর এক লোককে ডাক দিল- হে আবূল কাসিম! তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে দৃষ্টি দিলেন। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি; আমি তো অমুককে ডেকেছি। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো; কিন্তু আমার উপনামে তোমরা নামকরণ করো না।

ইবরাহীম ইবন যিয়াদ যার উপাধি সাবলান .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার নিকটে তোমাদের নামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পছন্দনীয় নাম আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মাঝে এক লোকের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিল। সে তার নাম রাখল মুহাম্মাদ। সে সময় তার সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে বলল, আমরা তোমাকে ছাড়ব না রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামে নাম রাখা হলে। এরপর সে তার সন্তানটিকে পিঠে বয়ে নিয়ে চলল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম নিয়েছে আমি তার নাম রাখলাম মুহাম্মাদ। এতে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে বলছে, আমরা তোমাকে ছাড়ব না রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামে নাম রাখা হলে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনাম অনুসারে উপনাম রেখে না। কারণ, আমি একমাত্র "কাসিম"(বন্টনকারী), (আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ) তোমাদের মধ্যে বন্টন করে থাকি।

হান্নাদ ইবন সারী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমাদের মাঝে একজন লোকের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলো। সে তার নাম দিল মুহাম্মাদ। আমরা বললাম, তোমাকে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামের দ্বারা তোমার কুনইয়াত রাখতে দিব না, যতক্ষণ তুমি তার অনুমতি না নিবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে তার নিকট গিয়ে বলল যে, আমার একটি ছেলে জন্ম নিয়েছে। আমি রসূলুল্লাহর নামে তার নাম রেখেছি। ওদিকে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা সে নাম দিয়ে আমার উপনাম বলতে অস্বীকৃতি জানায়। (তারা বলল) যতক্ষণ তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুমতি গ্রহণ না করো। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো, আমার উপনামে নাম রেখো না। কারণ, আমাকে কাসিম' (বন্টনকারী) হিসেবে পাঠানো হয়েছে; আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করার দায়িত্ব পালন করি।

রিফাআহ ইবন হাইসাম ওয়াসিতী .... হুসায়ন হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। "কেননা একমাত্র আমাকে বণ্টনকারীরূপে পাঠানো হয়েছে; "তোমাদের মধ্যে বণ্টন করার দায়িত্ব পালন করি"- উক্তিটুকু বর্ণনা করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো এবং আমার উপনাম অনুসারে উপনাম রেখে না। কারণ, আমিই হলাম, আবূল কাসিম তোমাদের মধ্যে ভাগাভাগি করে থাকি।

আবূ কুরায়ব .... আমাশ হতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একমাত্র আমাকে 'কাসিম' (বন্টনকারী) রূপে সৃষ্টি করা হয়েছে; তোমাদের মধ্যে আমি বন্টন করে থাকি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, এক আনসারী লোকের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলে সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখা ইচ্ছা করল। তখন সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, তিনি বললেনঃ আনসারীরা ভাল কর্ম করেছে। আমার নামে তোমরা নাম রাখো, তবে আমার উপনামে উপনাম রেখো না।

আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ্ ইবন মুসান্না ও বিশর ইবন খালিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্‌যালী ও ইসহাক ইবন মানসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে ইতোপূর্বে আমরা যাদের হাদীস বর্ণনা করেছি তাদের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। শুবাহ এর সানাদে বর্ণিত হাদীসে নাযর বলেছেন যে, এতে হুসায়ন ও সুলাইমান আরো কিছু বর্ধিত বলেছেন। হুসায়ন বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তো বণ্টনকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি, আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে থাকি। আর সুলাইমান বলেছেন, 'একমাত্র আমিই বণ্টনকারী, তোমাদের মধ্যে বন্টন করে থাকি।

আমর আন্‌ নাকিদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মাঝে এক লোকের পুত্র জন্ম নিলে সে তার নাম রাখল কাসিম'। আমরা বললাম, আমরা তোমাকে আবূল কাসিম' (কাসিমের বাপ) উপনামে ডাকব না এবং তোমার চোখ শীতল করব না। সে তারপর নবী (ﷺ) এর সম্মুখে এসে ঐ ব্যাপরটি বলল। তিনি বললেন, তোমার সন্তানের নাম রাখো আবদুর রহমান।

উমাইয়াহ্ ইবন বিসতাম, আলী ইবন হুজর ... জাবির হতে ইবন উয়াইনাহ্ বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি "তোমার চোখ শীতল করব না" এ উক্তি বর্ণনা করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো এবং আমার উপনাম হিসেবে উপনাম রেখো না। আমর তার বর্ণনাতে বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত এবং তিনি এ উক্তিটি করেননি বলতে শুনেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনাযী .... আল মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যে সময় নাজরান গমন করলাম, তখন সেখানকার ব্যক্তির আমাকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা পড়েন (হে হারূনের বোন) অথচ মূসা ছিলেন ঈসা এর এত দিন আগে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমি যখন ফিরে আসলাম তখন এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তারা (ইয়াহুদী-খ্ৰীষ্টানরা) তাদের পূর্ববর্তী নবী ও সালিহগণের নামে (বাচ্চাদের) নাম রাখতো।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... সামুরাহ ইবন জুনদাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের গোলামদের চারটি নাম দ্বারা নামকরণ করতে বারণ করেছেনঃ আফলাহ, রাবাহ, ইয়াসার ও নাফি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সামুরাহ ইবন জুনদাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার ক্রীতদাসের নাম রাবাহ, ইয়াসার, আফলাহ ও নাফি রেখো না।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... সামুরাহ ইবন জুনদাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয় কালাম চারটি। সুবহানাল্লাহ "আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি", আলহামদুলিল্লাহ "যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর", লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ "আল্লাহ ছাড়া আর উপাস্য নেই" এবং আল্লাহু আকবার "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ"। এগুলোর যে কোন শব্দ দ্বারা তুমি আরম্ভ কর, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই এবং কক্ষনো তোমার ক্রীতদাসের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজীহ ও আফলাহ রাখবে না। কেননা, তুমি হয়তো বা ডাকবে- ওখানে সে আছে কি? আর সে (তখন) সেখানে নাও থাকতে পারে। তখন কেউ বলবে না এখানে নেই। (এ জবাবে কু-ধারণা তৈরি হতে পারে)। (বর্ণনাকারী বলেন), নবী (ﷺ) কেবল এ চারটি নাম বলেছেন। অতঃপর কেউ যেন আমার চাইতে অধিক সংযোজন না করে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, উমাইয়াহ ইবন বিসতাম, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার মানসূর হতে যুহায়র এর সানাদানুসারে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর ও রাওহ্ উল্লিখিত হাদীস যুহায়র বর্ণিত সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত হাদীসের অবিকল। তবে শুবাহ এর হাদীসে শুধু সন্তানের নাম রাখার কথা বর্ণনা আছে। তিনি (চার-এর) কথাটি বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়ালা, বারাকাহ, আফলাহ, ইয়াসার ও নাফি ইত্যাদি এ রকম নাম রাখা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। অতঃপর তাকে আমি লক্ষ্য করলাম যে, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ রইলেন, কিছু বললেন না। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উঠিয়ে নেয়া হলো এবং তিনি তা (শক্তভাবে) বারণ করেননি। পরে উমার তা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তারপর তিনিও তা পরিত্যাগ করেন।

আহমাদ ইবন হাম্বাল, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আছিয়াহ (অমান্যকারী) এর নাম পরিবর্তন করে দিলেন এবং বললেন, তুমি জামিলাহ (সুন্দরী)।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার এর এক মেয়েকে (আসিয়াহ) নামে ডাকা হত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নাম রাখলেন, 'জামীলাহ্'।

আমর আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমার .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুওয়াইরিয়াহ্ এর আসল নাম ছিল বাররাহ্ (পুণ্যবতী) রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়াহ্ (স্নেহময়ী কিশোরী)। কেননা বাররাহ (পুণ্যবতী) এর নিকট হতে বের হয়ে এসেছেন- এমন বাক্য তিনি পছন্দ করতেন না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, যাইনাব এর আসল নাম ছিল বাররাহ্'। তাই বলা হলো, তিনি আত্মশুদ্ধি করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নামকরণ করলেন যাইনাব।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবূ কুরায়ব .... যাইনাব বিনতু উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বে আমার নাম বাররাহ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নাম রাখলেন 'যাইনাব'। তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশ তার (ﷺ)-এর নিকট আসলো। তার (ও) নাম ছিল বাররাহ তার নামও তিনি 'যাইনাব' রেখে দিলেন।

আমর আন নাকিদ .... মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কন্যার নাম রাখলাম বাররাহ। সে সময় যাইনাব বিনতু আবূ সালামাহ্ আমাকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নাম রাখতে বারণ করেছেন। আমার নাম বাররাহ্- (পুণ্যবতী) রাখা হয়েছিল। তাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা স্বয়ং আত্মা পরিশুদ্ধ বলে দাবি করো না। আল্লাহ তাআলাই অধিকতর জানেন তোমাদের মাঝে পুণ্যবানদের সম্পর্কে। অতঃপর তারা বলল, তবে আমরা তার কি নামকরণ করবো? তিনি বললেন, তার নাম রাখো যাইনাব'।

সাঈদ ইবন আমর আশআসী, আহমাদ ইবন হাম্বাল ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর তাআলার নিকট অধিকতর ঘৃণিত নাম ঐ লোকের, যার নাম 'মালিকুল আমলাক'- (বাদশার বাদশাহ) রাখা হয়। ইবন আবূ শাইবাহ্ তার বর্ণিত হাদীসে বেশি বর্ণনা করেছেন- "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অন্য কোন মালিকা অধিপতি" নেই"। আশআসী বলেন, বর্ণনাকারী সুফইয়ান বলেছেন, এ শব্দ (ফারসী ভাষায়) শাহান শাহ-এর অবিকল। আর আহমাদ ইবন হাম্বাল বলেন, আমি আবূ আমরকে আখনার অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ সবচেয়ে জঘন্য।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি কিছু হাদীস বর্ণনা করলেন। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকটে সবচেয়ে রাগের কারণ, সবচেয়ে ঘৃণিত, অধিকতর ক্ষিপ্রতার সম্মুখীন হবে সে লোক যার নাম রাখা হয়েছে 'মালিকুল আমলাক' (রাজাধিরাজ সম্রাট), আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কেউ মালিক (সম্রাট) নেই।

আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবূ তালহাহ্ আনসারী এর জন্মকালে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে নিয়ে গেলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় গায়ে একটি আলখাল্লা জড়িয়ে তার উটের গায়ে তৈল মালিশ করছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হ্যা। তারপর আমি তার হাতে কয়েকটি খেজুর দিলাম। তিনি তার মুখে জড়িয়ে দিয়ে চিবালেন। তারপর শিশুটির মুখ ফাক করে তার মুখের ভিতরে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আনসারীদের খেজুরের প্রতি ভালবাসা' এবং তিনি তার নাম রাখলেন, আবদুল্লাহ।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। (একদিন) আবূ তালহাহ্ (তার কর্মে) বের হলো এদিকে তার বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবূ তালহাহ ফিরে আসলেন, তিনি (স্ত্রীকে) প্রশ্ন করলেন, আমার সন্তান কী করছে? (স্ত্রী) উম্মু সুলায়ম বললেন, সে পূর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উম্মু সুলায়ম বললেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো। যখন সকাল হলো আবূ তালহাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে তাকে (সব) ঘটনা অবহিত করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি (দোয়া করে) বললেন, হে আল্লাহ তাদের দু'জনের জন্যে বারাকাত দিন। তারপর তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করলেন। সে সময় আবূ তালহাহ্ আমাকে বললেন, তাকে (কোলে) তুলে নবী (ﷺ) এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রসূল (ﷺ) এর নিকট আসলেন। উম্মু সুলায়ম তার সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (শিশুটিকে) কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তারা বললো, হ্যা, কয়েকটি খেজুর। তখন নবী (ﷺ) সেগুলো বের করলেন ও চিবালেন। তারপর তা তার মুখ হতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তার জন্যে দোয়া করলেন এবং তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস হতে এ ঘটনা সহকারে রাবী ইয়াযীদ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সস্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম এবং একটি খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন।

হাকাম ইবন মূসা আবূ সালিহ্ .... উরওয়াহ্ ইবন যুবায়র ও ফাতিমা বিনতু মুনযির ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তারা বলেন, আসমা বিনতু আবূ বকর যে সময় হিজরত করলেন, সে সময় তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কে পেটে ধারণ করছিলেন। কুবায় পৌছলে তিনি আবদুল্লাহকে প্রসব করলেন। তারপর প্রসবের পর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে গেলেন যাতে তিনি তাকে (নবজাতককে) খেজুর চিবিয়ে বারাকাত দেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাচ্চাটিকে তার নিকট হতে নিয়ে নিজের কোলে রাখলেন। এরপর একটি খেজুর নিয়ে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশাহ বলেন, তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুজে যোগাড় করতে আমাদের কিছু সময় দেরী হলো। তারপর তিনি তা চিবিয়ে নিজ মুখে থেকে তার মুখের ভিতরে দিলেন। অতএব তার পেটে প্রথম যা ঢুকল তা ছিল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর লালা। আসমা আরও বলেছেন, তারপর তিনি তাকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন, আর তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। তারপর সাত কিংবা আট বছর বয়সে সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে বাইআত হওয়ার জন্য এলো। (পিতা) যুবায়র তাকে তা করার উপদেশ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এগিয়ে আসতে দেখে মুচকি হাসলেন। এরপর তাকে বাইআত করে নিলেন।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আসমা হতে বর্ণিত যে, তিনি মক্কায় (থাকাকালে) আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, আমি (মক্কাহ থেকে মদীনায় (হিজরতের উদ্দেশে) বের হলাম। সে সময় আমার গর্ভকাল পূর্ণ হয়ে আসছে। আমি মদীনায় এসে কুবায় গমন করলাম এবং কুবায় তাকে প্রসব করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাতে গেলাম। তিনি তাকে (নবজাতককে) তার কোলে রাখলেন, এরপর একটি খেজুর আনিয়ে তা চিবালেন, অতঃপর তার মুখ থেকে লালাসহ তার (বাচ্চাটির) মুখে দিলেন। অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর লালাই ছিল প্রথম খাদ্য, যা তার পেটে ঢুকলো। অতঃপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেয়ার পর তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাকে বারাকাত (এর দোয়া) দিলেন। এ সন্তানই ছিল (মদীনায়) হিজরতের পর ইসলামের প্রথম নবজাতক।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আসমা বিনতু আবূ বকর সিদ্দীক হতে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কে গর্ভে ধারণ করে হিজরত করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে পৌছলেন। অতঃপর উসামাহ্ এর হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে (নবজাতক) সন্তানদের নিয়ে আসা হত। তাদের জন্য তিনি বারাকাতের দোয়া করতেন এবং খেজুর চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে (নবজাতক) নিয়ে আসলাম তাকে তাহনীক করার জন্য। অতঃপর আমরা একটি খেজুর চাইলাম। তবে তা সংগ্রহ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো।

মুহাম্মাদ ইবন সাহল তামীমী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনযির ইবন আবূ উসায়দ কে তার জন্মের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আনা হলো। নবী (ﷺ) তার রানের উপরে তাকে রাখলেন। আবূ উসায়দ (পাশে) উপবিষ্ট। নবী (ﷺ) তার সামনে কোন বিষয় মনোযোগ দিলেন। আবূ উসায়দ তার সন্তানের ব্যাপারে (কাউকে) আদেশ করলেন। তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রানের উপর থেকে উঠিয়ে নিয়ে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিলো। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সজাগ হলেন এবং বললেন, বাচ্চাটি কোথায়? আবূ উসায়দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন করলেন, তার নাম কী? তারা বলল, 'অমুক' হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, না; বরং তার নাম মুনযির। এভাবে সেদিন থেকে তিনি তার নাম মুনযির রেখে দিলেন।

আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আতাকী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষের মাঝে চরিত্রগুণে সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, যাকে আবূ উমায়র বলে সম্বোধন করা হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখনই (আমাদের ঘরে) আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবূ উমায়রা! কি করেছো নুগায়র (চড়ুইছানা)? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ গুবারী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে বৎস!

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন আবূ উমার .... আল-মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট 'দাজ্জাল' সম্বন্ধে আমার চেয়ে বেশি কেউ প্রশ্ন করেনি যত প্রশ্ন আমি করেছি। তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! তার কোন বিষয় তোমাকে অস্থির করেছে? সে কিছুতেই তোমার অনিষ্ট করতে পারবে না। মুগীরাহ বলেন, আমি বললাম, তারা তো ধারণা করে থাকে যে, তার সাথে পানির নহরসমূহ এবং রুটির পাহাড়সমূহ থাকবে। তিনি বললেন, তা আল্লাহর নিকট তার থেকে সহজতর।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র, সুরায়জ ইবন ইউনুস, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইসমাঈল হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তাদের মাঝে ইয়াযীদ বর্ণিত হাদীস ছাড়া কারো হাদীসে মুগীরাহ এর প্রতি নবী (ﷺ) এর উক্তিটি "হে বৎস" শব্দের উল্লেখ নেই।

আমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন বুকায়র নাকিদ .... বুসর ইবন সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী কে বলতে শুনেছি, আমরা মদীনার আনসারীদের একটি বৈঠকে উপবিষ্ট ছিলাম। সে সময় আবূ মূসা অস্থির হয়ে, অথবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আমাদের নিকট এলেন। আমরা বললাম, আপনার সমস্যা কি? তিনি বললেন, উমার আমার নিকট লোক প্রেরণ করলেন, যেন আমি তার নিকট যাই। আমি তার চৌকাঠে তিনবার সালাম করলাম। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন না। তাই আমি ফিরে আসলাম। পরে আমাকে (ডেকে নিয়ে) তিনি বললেন, আমাদের নিকট আসতে কোন বিষয় তোমাকে নিষেধ করলো। অতঃপর আমি বললাম, আমি আপনার নিকট এসেছিলাম এবং আপনার চৌকাঠে (দাড়িয়ে) তিনবার সালাম করেছিলাম। তবে তারা (গৃহের কেউ) আমাকে সালামের উত্তর দিলেন না। তাই আমি ফিরে গেলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে যদি কেউ তিনবার অনুমতি চায়, আর তাকে অনুমতি দেয়া না হয়, তাহলে সে যেন ফিরে আসে। সে সময় উমার বললেন, এ ব্যাপারে প্রমাণ দাও। নতুবা তোমাকে প্রহার করব। সে সময় উবাই ইবন কা'ব বললেন, তার সাথে গোষ্ঠীর সবচেয়ে অল্প বয়সের সন্তানই যাবে। আবূ সাঈদ বলেন, আমি বললাম, আমি গোষ্ঠীর কনিষ্ঠতম। তিনি বললেন, তবে একে নিয়ে যাও।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন আবূ উমার .... ইয়াযীদ ইবন খুসাইফাহ্ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আবূ উমার তার বর্ণিত হাদীসে বাড়তি বলেছেন যে, আবূ সাঈদ বলেন, সে সময় আমি তার সাথে উঠে দাড়ালাম এবং উমার এর নিকট গিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করলাম।

আবূ তাহির .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উবাই ইবন কা'ব এর নিকট একটি মাজলিসে ছিলাম। তখন আবূ মূসা আশআর ক্রোধাম্বিত অবস্থায় এসে দাড়িয়ে বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমাদের মাঝে কেউ কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছ যে, অনুমতি গ্রহণ তিনবার, এতে যদি তোমাকে অনুমতি দেয়া হয়, 'ভাল', নতুবা-তুমি প্রত্যাবর্তন কর। উবাই বললেন, তাতে কী হয়েছে? তিনি বললেন, গতকাল (খলীফা) উমার ইবন খাত্তাব এর নিকট আমি তিনবার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপর আমি প্রত্যাবর্তন করলাম। পরদিন তার নিকট গমন করলাম এবং তার নিকট প্রবেশ করে তাকে সংবাদ দিলাম যে, আমি গতকাল এসেছিলাম এবং তিনবার সালাম করে (উত্তর না পেয়ে) চলে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, আমরা তোমার শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা তখন ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু যে পর্যন্ত না তোমাকে অনুমতি দেয়া হয় সে পর্যন্ত তুমি তা চাইতে থাকলে না কেন? তিনি বললেন, আমি তো সে অনুমতি চেয়েছি, যেরূপ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। উমার বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমার পিঠে ও পেটে আঘাত করব; অথবা তুমি এমন ব্যক্তি পেশ করবে, যে এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। সে সময় উবাই ইবন কা'ব বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের মধ্যে সবচেয়ে অল্প বয়সের লোকই তোমার সঙ্গে যাবে; তিনি বলেন, হে আবূ সাঈদ দাড়াও, অতঃপর আমি দাড়ালাম এবং উমার এর নিকট এসে বললাম, অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি।

নাসর ইবন আলী আল-জাহযামী ..... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ মূসা উমার এর দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন। উমার (শব্দ শুনে মনে মনে) বললেন, একবার হলো। অতঃপর দ্বিতীয়বার অনুমতি চাইলেন। উমার বললেন, দু'বার হলো। অতঃপর তৃতীয়বার অনুমতি চাইলেন। উমার বললেন, তিনবার হলো। অতঃপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন। পরে [উমার] তার পশ্চাতে লোক প্রেরণ করে তাকে ডেকে নিয়ে বললেন, এটি যদি এমন হয়, যা তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সংরক্ষণ করেছ, তাহলে তা উপস্থাপন করো। নতুবা আমি তোমাকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিব। আবূ সাঈদ বলেন, সে সময় তিনি আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কি জান না যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ 'অনুমতি গ্রহণ তিনবার' বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তখন (এ কথা শুনে) হাসাহাসি করতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তোমাদের নিকট একজন মুসলিম ভাই আগমন করেছেন, যাকে ভয় দেখানো হয়েছে, আর তোমরা হাসছ? (তাকে বললাম) চলুন। এ শাস্তিতে আমি আপনার অংশীদার হবো। সে সময় তিনি (আমাকে সাথে নিয়ে) তার নিকট গিয়ে বললেন, এ যে আবূ সাঈদ... (আমার সাক্ষী)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না এবং ইবন বাশশার আহমাদ ইবন খিরাশ ... আবূ সাঈদ খুদরী হতে আবূ মাসলামাহ্ হতে নেয়া বিশর ইবন মুফাযযাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... উবায়দ ইবন উমায়র হতে বর্ণিত। (খলীফা) উমার এর নিকট আবূ মূসা তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন (উত্তর না পেয়ে) তিনি যেন তাকে ব্যতিব্যস্ত মনে করে চলে গেলেন। সে সময় উমার বললেন, তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন কায়স (আবূ মূসা) এর শব্দ শোননি? তোমরা তাকে অনুমতি দাও! সে সময় তাকে উমারের নিকট ডাকা হলো। তখন তিনি তাকে বললেন, এ রকম করতে তোমাকে কোন বিষয় তোমাকে উৎসাহিত করেছে? তিনি বললেন, আমাদের এ রকম করার আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি এ বিষয়ে সাক্ষী হাজির করবে, নতুবা অবশ্যই আমি এমন করবো শাস্তি দিবো। তিনি বেরিয়ে গিয়ে আনসারীদের এক বৈঠকে পৌছলেন। তারা বললেন, আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সের লোকই এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। তখন আবূ সাঈদ উঠলেন এবং বললেন, আমাদের এরূপই নির্দেশ দেয়া হয়। তখন উমার বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ ব্যাপারটি আমার নিকট অজ্ঞাত রয়েছে। (কারণ) বাজারের বাণিজ্যে আমাকে এ ব্যাপারে উদাসীন রেখেছে।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও হুসায়ন ইবন হুরায়স .... ইবন জুরায়জ হতে উক্ত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী নাযর তার বর্ণিত হাদীসে বাজারের ক্রয়-বিক্রয় আমাকে এ বিষয় হতে উদাসীন রেখেছে' বাক্যটি বর্ণনা করেননি।

আবূ আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়স .... আবূ বুরদাহ এর সানাদে আবূ মূসা আশআর হতে বর্ণিত। আবূ বুরদাহ বলেন, আবূ মূসা উমার ইবন খাত্তাব এর নিকট এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম– এ (আমি) আবদুল্লাহ ইবন কায়স। তবে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন না। তখন (পুনরায়) বললেন, আসসালামু আলাইকুম- এ যে, আবূ মূসা। আসসালামু আলাইকুম-এ যে আশআরী। তারপর (উত্তর না পেয়ে) চলে গেলেন। সে সময় উমার বললেন, (তাকে) আমার নিকট ডেকে নিয়ে আসো। আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে আসো। প্রত্যাবর্তন শেষে তিনি বললেন, কিসে তোমাকে ফিরিয়ে দিল, হে আবূ মূসা? আমরা কোন কর্মে মশগুল ছিলাম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি 'অনুমতি প্রার্থনা তিনবার। এতে তোমাকে অনুমতি দেয়া হলে ভাল, নতুবা ফিরে যাবে। উমার বললেন, এ ব্যাপারে অবশ্যই তুমি আমার নিকট প্রমাণাদি নিয়ে আসবে। নতুবা আমি এমন করব, তেমন করব, (সাজা দিব)। তখন আবূ মূসা ফিরে গেলেন। উমার বললেন, প্রমাণ যোগাড় করতে পারলে, বিকালে তাকে তোমরা মিম্বারের নিকট দেখতে পাবে, আর যদি প্রমাণ না পায়, তাহলে তোমরা তাকে দেখতে পাবে না। বিকালে তিনি এলে তারা তাকে (মিম্বারের নিকট দেখতে) পেল। উমার বললেন, হে, আবূ মূসা কি বলছ? প্রমাণ পেয়েছ? তিনি বললেন, হ্যা- উবাই ইবন কা'ব! তিনি বললেন, ইনি ন্যায়পরায়ণ। তারপর উবাই ইবন কা'ব কে লক্ষ্য করে বললেন- হে আবূ তুফায়ল! ইনি কী বলেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমন বলতে আমি শুনেছি হে ইবন খাত্তাব! আপনি কখনো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণের জন্য শাস্তি স্বরূপ হয়ে পড়বেন না। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! (আমি তা কখনো চাই না)। আমি তো একটি বিষয় শোনার পর সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে আমার আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

আবদুল্লাহ ইবন উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবান .... তালহাহ ইবন ইয়াহইয়া হতে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, উমার (উবাইকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, হে আবূল মুনযির! আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ কথাটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। (তিনি আরো বলেন) হে ইবন খাত্তাব! আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের প্রতি শাস্তিদাতা স্বরূপ হবেন না। তবে তিনি উমার এর সুবহানাল্লাহ ও পরবর্তী উক্তিটি বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকটে এসে তাকে ডাকলাম। নবী (ﷺ) প্রশ্ন করলেন, এ কে? আমি বললাম, আমি'। বর্ণনাকারী জাবির বলেন, তখন তিনি বের হয়ে এলেন আর বলছিলেন, আমি! আমি!

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, "এ কে? আমি বললাম, আমি'। সে সময় নবী (ﷺ) বললেন, আমি! আমি!

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও আবদুর রহমান ইবন বিশর সবাই শুবাহ সূত্রে উল্লিখিত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি যেন তা (আমি আমি বলা) পছন্দ করলেন না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ আস-সাইদী হতে বর্ণিত যে, এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরজার একটি ছিদ্র দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি (মাথার চুল আচড়ানো) চিরুনি ছিল, যা দ্বারা তিনি তার মাথা আচড়াচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি যদি জানতাম যে, তুমি আমাকে দেখছ তাহলে নিশ্চয়ই তা দ্বারা তোমার চোখে খোচা দিতাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বললেনঃ চোখের জন্যেই তো অনুমতির বিধান করা হয়েছে।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন শিহাব হতে বর্ণনা করেন যে, সাহল ইবন সাদ আনসারী তাকে বলেছেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরের একটি দরজার ছিদ্র দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে একটি চিরুনি ছিল, যা দ্বারা তিনি তার মাথার চুল আচড়াচ্ছিলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, যদি আমি জানতাম যে, তুমি দেখছো, তাহলে সেটি দ্বারা তোমার চোখে খোচা দিতাম। চোখের জন্যই আল্লাহ অনুমতি নেয়ার বিধান করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন আবূ উমার ও আবূ কামিল জাহদারী .... সাহল ইবন সা'দ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আল-লায়স ও ইউনুস বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন ও কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, এক লোক নবী (ﷺ) এর কোন এক হুজরার ভিতরে তাকাল। তখন তিনি তাকে দেখে একটি তীরের ফলক অথবা বর্ণনাকারীর সংশয় কয়েকটি ফলক নিয়ে দাড়ালেন। আমি যেন (এখনও ঐ দৃশ্য) দেখছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে খোচা দেয়ার উদ্দেশে সুযোগ সন্ধান করছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক কোন গোত্রের ঘরে তাদের নির্দেশ ছাড়া উকি মারে, তাহলে তার চোখে আঘাত করা তাদের জন্য জায়িয হয়।

ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক যদি বিনা অনুমতিতে তোমার প্রতি উকি দেয় আর তুমি তাকে পাথর মেরে তার চোখ ফুড়ে দাও, তাতে তোমার কোন গুনাহ হবে না।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব ..... জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আচমকা নজর পড়া ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেন আমি আমার দৃষ্টি দ্রুত ফিরিয়ে নেই।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইউনুস হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।