বিবাহ (৩২৯০-৩৪৬০)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী .... আলকামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) এর সঙ্গে মিনায় পৌছলাম। এ সময় উসমান (ইবন আফফান) এসে তার সাথে মিলিত হলেন। তখন তিনি তার সঙ্গে দাড়িয়ে কথা বলতে লাগলেন। উসমান তাকে বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান! আমরা কি আপনার সঙ্গে এমন একটি যুবতী মেয়ের বিয়ে দিব না, যে হয়ত আপনার অতীত কিছু স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিবে? রাবী বলেন, আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) বললেন, আপনি যদি এ কথা বলেন তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেছেনঃ "হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে দাম্পত্য জীবনের ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা (বিবাহ) দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত করে। আর যে সক্ষম নয় তার রোজা পালন করা উচিত। কারণ তা তার জন্য যৌন কামনা দমনকারী।"
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আলকামাহ্ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ-এর সাথে মিনায় হাটছিলাম। এ সময় উসমান ইবন আফফান তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান! এখানে আসুন। রাবী বলেন, তিনি তাকে একান্তে ডেকে নিলেন এবং আবদুল্লাহ যখন দেখলেন গোপনীয়তার কোন প্রয়োজন নেই তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আলকামাহ! আসো, তখন আমি তাদের সাথে যোগ দিলাম। উসমান তাকে বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান! আমরা কি তোমাকে একটি কুমারী মেয়ের সাথে বিবাহ দিব না, হয়ত সে তোমার অতীত স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিবে? আবদুল্লাহ বললেন, আপনি যদি তাই বলেন...অবশিষ্ট বর্ণনা আবূ মুআবিয়ার হাদীসের অনুরূপ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেছেনঃ হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বৈবাহিক জীবনের ব্যয়ভার বহনে সক্ষম সে যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে নিচু করে দেয় এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যে (ভরণপোষণে) সমর্থ নয়, তাকে অবশ্যই সওম পালন করতে হবে। কারণ তা তার যৌবন কামনা দমনকারী।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচা আলকামাহ্ ও আল আসওয়াদ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর নিকট গেলাম। এ সময় আমি যুবক ছিলাম। তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি আমাকে লক্ষ্য করেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, "অতঃপর আমি বিয়ে করতে আর বিলম্ব করিনি।"
আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল আশাজ্জ .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) এর নিকট গেলাম এবং আমি ছিলাম দলের মধ্যে সব চাইতে তরুণ। ... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে "অতঃপর আমি বিযে করতে আর বিলম্ব করিনি" কথাটুকু উল্লেখ নেই।
আবূ বকর ইবন নাফি আল আবদী .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণীদের নিকট তার গোপন ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাদের মধ্যে কেউ বললেন, আমি কখনও বিয়ে করব না, কেউ বললেন, আমি কখনও গোশত খাব না, কেউ বললেন, আমি কখনও বিছানায় ঘুমাব না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেনঃ "লোকদের কী হল যে, তারা এরূপ এরূপ বলছে? অথচ আমি তো নামাজও আদায় করি আবার নিদ্ৰাও যাই, সওম পালন করি এবং ইফতারও করি এবং বিয়েও করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার কেউ নয়।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী (রহিমাহুমল্লাহ) .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উসমান ইবন মাযউন এর নারী সাহচর্য থেকে দূরে থাকার ইচ্ছাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন, তবে আমরা নিজেরা খোজা হয়ে যেতাম।
আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবন জাফার .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা'দ (ইবন আবূ ওয়াক্কাস) কে বলতে শুনেছি- উসমান ইবন মায'উন এর কৌমাৰ্যব্রত অবলম্বনের প্রস্তাব (রসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক) প্রত্যাখ্যাত হয়। তাকে অনুমতি দেয়া হলে আমরা অবশ্যই নিজেদের খোজা করে নিতাম।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত। তিনি সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস কে বলতে শুনেছেন, উসমান ইবন মাযউন কৌমাৰ্যব্রত অবলম্বনের প্রস্তাব করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (তা করতে) নিষেধ করে দেন। তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন তবে অবশ্যই আমরা নিজেদের খোজা করে নিতাম।
আমর ইবন আলী .... জাবির থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মহিলাকে দেখলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব এর নিকট আসলেন। তিনি তখন তার একটি চামড়া পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন। অতঃপর বের হয়ে সাহাবীগণের নিকট এসে তিনি বললেনঃ স্ত্রীলোক সামনে আসে শয়ত্বানের বেশে এবং ফিরে যায় শায়ত্বানের বেশে। অতএব তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোক দেখতে পেলে সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে। কারণ তা তার মনের ভেতর যা রয়েছে তা দূর করে দেয়।
যুহায়র ইবন হারব ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একটি স্ত্রীলোক দেখলেন...উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে আছেঃ "তিনি নিজ স্ত্রী যায়নাব এর নিকট এলেন, তখন তিনি একটি চামড়া পাকা করছিলেন" এবং "সে শয়ত্বানের বেশে চলে যায়" উল্লেখ নেই।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো যদি কোন স্ত্রীলোক দেখে মনে কিছু উদয় হয় তখন সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে এবং তার সাথে মিলিত করে। এতে তার মনে যা আছে তা দূর করে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র আল হামদানী .... কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করতাম এবং আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না। আমরা বললাম, আমরা কি খাসী হব না? তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র দানের বিনিময়ে আমাদের নির্দিষ্ট কালের জন্য নারীদের বিবাহ করার রুখসত দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ পাঠ করলেনঃ "হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন, সে সমুদয়কে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না"(আল মায়িদাহ ৫ঃ ৮৭)।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... ইসমাঈল ইবন আবূ খালিদ থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি উক্ত আয়াত পাঠ করলেন। তিনি বলেননি যে, আবদুল্লাহ পড়েছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইসমাঈল থেকে এ সূত্রে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ছিলাম যুবক। তাই আমরা বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমরা কি খাসী হব না? এতে 'জিহাদ' শব্দের উল্লেখ নেই।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ ও সালামাহ্ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমাদের সামনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক বেরিয়ে এসে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের মুতআহ বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছেন।
উমাইয়্যাহ্ ইবন বিস্তাম আল আয়শী .... সালামাহ্ ইবন আকওয়া ও জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এলেন এবং আমাদের মুত্আর (সাময়িক বিবাহের) অনুমতি দিলেন।
হাসান আল হুলওয়ানী .... আত্বা বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ উমরাহ পালন করতে এলেন। তখন আমরা তার আবাসে তার নিকট গেলাম। লোকেরা তার নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করল। অতঃপর তারা মুতআহ সম্পর্কে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হ্যা, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে এবং আবূ বকর ও উমার এর যুগে মুতআহ (বিবাহ) করেছি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ যুবায়র বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে এবং আবূ বকর এর যুগে মুতআহ বিবাহ করতাম। শেষ পর্যন্ত উমর আমর ইবন হুরায়স এর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন।
হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী .... আবূ নাযরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, ইবন আব্বাস ও ইবন যুবায়র দু' প্রকারের মুতআহ (তামাতু হাজ্জ ও মুতআহ বিবাহ) নিয়ে পরস্পর মতবিরোধ করছেন। তখন জাবির বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপস্থিতিতে দু' প্রকারের মুত্আহ করেছি। অতঃপর উমর আমাদের এ উভয়টিই করতে নিষেধ করলেন। অতএব আমরা তা আর করিনি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইয়াস ইবন সালামাহ্ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আওত্বাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুতআহ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... রাবী ইবন সাবরাহ আল জুহানী থেকে তার পিতা সাবরাহ এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত্আর অনুমতি দিলেন। অতঃপর আমি ও অপর এক ব্যক্তি বানু আমির গোত্রের একটি মহিলার নিকট গেলাম। সে ছিল দেখতে লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট তরুণ উষ্ট্রীর ন্যায়। আমরা নিজেদেরকে তার নিকট (মুত্আহ বিবাহের জন্য) পেশ করলাম। সে বলল, আমাকে কী দিবে? আমি বললাম, আমার চাঁদর। আমার সাথীও বলল, আমার চাঁদর। আমার চাঁদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাঁদরটি ছিল উৎকৃষ্টতর, কিন্তু আমি ছিলাম তুলনায় কম বয়সের যুবক। সে যখন আমার সঙ্গীর চাঁদরের প্রতি তাকায় তখন তা তার পছন্দ হয় এবং বলল, তুমি এবং তোমার চাঁদরই আমার জন্য যথেষ্ট। অতএব আমি তার সাথে তিনদিন অতিবাহিত করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কারো কাছে মুত্আহ বিবাহের সূত্রে কোন স্ত্রী লোক থাকলে সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (ত্যাগ করে)।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... রাবী ইবন সাবরাহ থেকে বর্ণিত। তার পিতা মক্কা বিজয়াভিযানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমরা তথায় ১৫ দিন পূর্ণ ১৩ দিন এবং এক দিন ও এক রাত অবস্থান করি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত্আর অনুমতি দিলেন। তখন আমি ও আমার গোত্রের এক ব্যক্তি বেরিয়ে পড়লাম। আমি তার তুলনায় আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী ছিলাম এবং সে ছিল প্রায় কুৎসিত। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাঁদর ছিল। আমার চাঁদরটি ছিল পুরাতন এবং আমার চাচাতো ভাইয়ের চাঁদরটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অবশেষে আমরা মক্কার নিম্নভূমিতে অথবা উচ্চভূমিতে পৌছে একটি যুবতী মেয়ের সাক্ষাৎ পেলাম, যাকে দেখতে অনেকটা উঠতি বয়সের চালাক এবং লম্বাঘাড় বিশিষ্ট উষ্ট্রীর মত। আমরা প্রস্তাব দিলাম, আমাদের দু'জনের কারো সাথে তোমার মুত্রআহ বিবাহ কি সম্ভব? সে বলল, তোমরা কী বিনিময় দিবে? তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ চাঁদর মেলে ধরল। সে তাদের উভয়ের দিকে তাকাতে লাগল। আমার সঙ্গীও তার দিকে তাকাল। যখন স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, তার এ চাঁদর পুরাতন এবং আমার চাঁদর একেবারে নতুন। স্ত্রীলোকটি তিনবার কি দু'বার বলল, তার চাঁদরটি গ্রহণে কোন ক্ষতি নেই। অতঃপর আমি তাকে মুতআহ বিবাহ করলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা হারাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফিরে আসিনি।
আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সখর আদ দারিমী .... সাবরাহ আল জুহানী এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কা বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মক্কায় রওনা হলাম .....বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে, স্ত্রীলোকটি বলল, "এটা কি ঠিক হবে? তার চাঁদরটি পুরাতন এবং ছিড়ে গেছে।"
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... সাবরাহ্ আল জুহানী বলেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুতআহ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তাআলা তা হারাম করেছেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছে তা কেড়ে নিও না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল আযীয ইবন উমর থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাবরাহ আল জুহানী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে (কাবার) দরজা ও রুকনের মাঝে দাড়িয়ে বলতে শুনেছি .... বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল মালিক ইবন রাবী ইবন সাবরাহ আল জুহানী থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমাদের মক্কায় প্রবেশকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুতআহ বিবাহের অনুমতি দান করেন। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত (নারী সঙ্গ ত্যাগ করে) বের হয়ে আসিনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সাবরাহ ইবন মাবাদ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর তার সাহাবীগণকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্আর অনুমতি দেন। সারাহ বলেন, তখন আমি এবং সুলায়ম গোত্রের আমার এক সাথী বের হয়ে পড়লাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি গোত্রের এক যুবতীকে পেয়ে গেলাম। সে ছিল দীর্ঘাঙ্গী যুবতী উটনীর ন্যায়। আমরা তার নিকট মুতআহ বিবাহের প্রস্তাব দিলাম এবং আমাদের চাঁদর তার সামনে পেশ করলাম। তখন সে তাকিয়ে দেখল এবং আমাকে আমার সঙ্গীর তুলনায় সুন্দর দেখতে পেল, অপরদিকে আমার চাঁদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাঁদর উৎকৃষ্টতর দেখল। সে মনে মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করল। অতঃপর আমার সঙ্গীর চাইতে আমাকে অগ্রাধিকার দিল। তারা আমাদের সাথে তিন দিনের মুতআহ করল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিদায় করে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।
আমর আন নাকিদ ও ইবন নুমায়র .... রাবী ইবন সাবরাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মুত্আহ (বিবাহ) করতে নিষেধ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... রাবী ইবন সাবরাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন মুত্আহ নিষিদ্ধ করেন।
হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... রাবী ইবন সাবরাহ আল জুহানী থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের কালে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্আহ করতে নিষেধ করেছেন। তার পিতা দুটি লাল চাঁদরের বিনিময়ে মুত্আহ করেছিলেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ..... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র মক্কায় (ভাষণ দিতে) দাড়িয়ে বললেন, কিছু লোক এমন আছে আল্লাহ তাআলা যেমন তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি অন্তরকেও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মুতআর পক্ষে ফাতাওয়া দেয়। এ কথা বলে তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। সে ব্যক্তি ইবন আব্বাস। তাকে ডেকে বললেন, তুমি একটি অসভ্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি। আমার জীবনের শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে মুতআহ প্রচলিত ছিল। ইবন যুবায়র তাকে বললেন, আপনি নিজে একবার করে দেখুন। আল্লাহর শপথ আপনি যদি তা (মুত্আহ) করেন তাহলে আপনার জন্য নির্ধারিত পাথর দিয়েই আপনাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করব। ইবন শিহাব বলেন, খালিদ ইবন মুহাজির ইবন সাইফুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির নিকট বসা ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে মুত্আহ সম্পর্কে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে মুতআর অনুমতি দিলেন। ইবন আবূ আমরাহ্ আল আনসারী তাকে বললেন, থামুন। সে বলল, কেন? আল্লাহর শপথ ইমামুল মুত্তাকীন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে তা করা হত। ইবন আবূ আমারাহ বললেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার অনুমতি ছিল (যেমন নিরুপায় অবস্থায়) মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের (গোশত ভক্ষণের) ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ তার দীনকে শক্তিশালী এবং সুদৃঢ় করলেন এবং তা নিষিদ্ধ করলেন। ইবন শিহাব বলেন, রাবী ইবন সাবরাহ আল জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তার পিতা বলেছেন, নবী (ﷺ) এর যুগে আমি দুটি লাল চাঁদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুত্আহ করেছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত্আহ করতে নিষেধ করেন। ইবন শিহাব আরও বলেন, আমি রাবী ইবন সাবরাহকে উমর ইবন আবদুল আষীয এর নিকট তা বর্ণনা করতে শুনেছি, আমি তখন (সেখানে) বসা ছিলাম।
সালামাহ ইবন শাবীব .... রাবী ইবন সাবরাহ আল জুহানী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুত্আহ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, সাবধান! আজকের এ দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মুতআহ হারাম। যে কেউ (ইতোপূর্বে) মুতআহ বাবদ যা কিছু দিয়েছে, সে যেন তা ফেরত না দেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলী ইবন আবূ তালিব থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের যুদ্ধের দিন মুত্আহ ও গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... মালিক থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে আছে, মুহাম্মাদ ইবন আলী বলেন, তিনি আলী ইবন আবূ তলিব কে জনৈক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলতে শুনেছেন, তুমি তো সৎপথ থেকে বিচ্যুত। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষিদ্ধ করেছেন .... উক্ত হাদীসের অনুরূপ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব .... আলী থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধের দিন মুতআহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি শুনতে পেলেন যে, ইবন আব্বাস নারীদের সাথে মুত্আর ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। আলী বললেন, থামো, হে ইবন আব্বাস কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধের দিন মুত্আহ ও গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করেছেন।
আবূ ত্বহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস কে লক্ষ্য করে আলী কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধের দিন মুতআহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ আল কানবী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক ও তার ফুফুকে এবং কোন স্ত্রীলোক ও তার খালাকে একত্র (একত্রে বিবাহ) করা যাবে না।
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) চারজন মহিলা গ্রহণের ব্যাপারে এ নিষেধাজ্ঞা করেছেন যে, তাদের যেন কোন স্ত্রীলোক ও তার ফুফুকে এবং কোন স্ত্রীলোক ও তার খালাকে একত্র করা না হয়।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ ভাইঝির উপর তার ফুফুকে বিবাহ করা যাবে না। অনুরূপভাবে খালার উপর বোনঝিকে বিবাহ করা যাবে না।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন মহিলা ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন। রাবী শিহাব বলেন, আমরা মনে করি, পিতার খালা ও পিতার ফুফু এ পর্যায়ের।
আবূ মান আর রাকাশী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলাকে বিবাহ করা যাবে না তার ফুফুর উপরে।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যেন তার (মুসলিম) ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়, তার ভাইয়ের দরদাম করার উপর দিয়ে দরদাম না করে। ফুফুর উপরে তার ভাইঝিকে এবং খালার উপরে তার বোনঝিকে বিবাহ করা যাবে না। কোন স্ত্রীলোক যেন নিজের পাত্র ভরে নেয়ার জন্য তার বোনের (অন্য স্ত্রী লোকের) তালাক দাবী না করে, বরং সে বিবাহ করুক। কারণ আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, সে তা পাবেই।
মুহরিয ইবন আওন ইবন আবূ আওন .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফুফুর উপরে তার ভাইঝিকে এবং খালার উপর তার বোনঝিকে বিবাহ করতে এবং কোন মহিলাকে তার নিজের পাত্র পূর্ণ করার জন্য তার বোনের তালাকের দাবী করতে নিষেধ করেছেন। কারণ আল্লাহই তার রিযকদাতা।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন কোন মহিলা ও তার ফুফুকে একত্র করতে এবং কোন মহিলা ও তার খালাকে একত্র করতে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আমর ইবন দীনার থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নুবায়হ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত যে, উমার ইবন উবায়দুল্লাহ্ শায়বাহ্ ইবন জুবায়রের কন্যার সাথে নিজ পুত্র তলহার বিবাহ দেয়ার মনস্থ করেন। অতএব তিনি উসমান এর পুত্র আবানের কাছে লোক পাঠালেন (তাকে বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদানের দাওয়াত দেয়ার জন্য)। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। আর তিনি এ সময় আমীরুল হাজ্জ ছিলেন। আবান বলেন, আমি উসমান ইবন আফফান-কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (হাজ্জ বা উমরাহ পালনের উদ্দেশে) ইহরামধারী ব্যক্তি নিজেও বিবাহ করবে না, অন্যকেও বিবাহ করাবে না এবং বিবাহের প্রস্তাবও দিবে না।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকাদ্দামী .... নুবায়হ ইবন ওয়াহব বলেন, উমার ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মা'মার আমাকে আবান ইবন উসমানের নিকট পাঠালেন এ উদ্দেশে যে, তিনি নিজ পুত্রের সাথে শায়বাহ্ ইবন উসমানের কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার মনস্থ করেছিলেন। তিনি (আবান) তখন হজ্জের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তো তাকে বেদুঈনের মতো আচরণ করতে দেখেছি।" কারণ (এটাতো সাধারণ জ্ঞানের ব্যাপার যে) ইহরাম বস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি না বিবাহ করতে পারে, না বিবাহ করাতে পারে।" রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ হাদীস উসমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
আবূ গাসসান মিসমাঈ ও আবূল খাত্ত্বাব যিয়াদ ইবন ইয়াহইয়া .... উসমান ইবন আফফান থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি না বিবাহ করবে, না বিবাহ করাবে, আর না বিবাহের প্রস্তাব দিবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব ... উসমান থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি বিবাহ করবে না এবং বিবাহের প্রস্তাবও দিবে না।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... নুবায়হ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত। উমার ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মা'মার হাজ্জের মৌসুমে শায়বাহ্ ইবন জুবায়রের কন্যার সাথে নিজ পুত্র ত্বলহার বিবাহ দেয়ার মনস্থ করলেন। এ সময় আবান ইবন উসমান ছিলেন আমীরুল হাজ্জ। অতএব তিনি (উমার) তার নিকট এ কথা বলে পাঠালেন, আমি ত্বলহাহ ইবন উমারের বিবাহ দিতে ইচ্ছা করেছি। অতএব আমি বিবাহ অনুষ্ঠানে আপনার উপস্থিতি কামনা করি। আবান তাকে বললেন, আমি তো তোমাকে নির্বোধ ইরাকীর মতো আচরণ করতে দেখছি। নিশ্চিত আমি উসমান ইবন আফফান কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইহরামধারী ব্যক্তি বিবাহ করবে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও ইসহাক আল হানযালী ... আবূ শা'সা থেকে বর্ণিত। ইবন আব্বাস তাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় (মায়মূনাকে) বিবাহ করেছেন। ইবন নুমায়রের বর্ণনায় আরো আছেঃ আমি (ইবন নুমায়র) যুহরীর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমাকে ইয়াযীদ ইবন আসাম অবহিত করেছেন যে, "তিনি ইহরামমুক্ত অবস্থায় তাকে বিবাহ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরামের অবস্থায় মায়মূনাহ কে বিবাহ করেছেন।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ্ .... ইয়াযীদ ইবন আসাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিসের কন্যা মায়মূনাহ্ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম মুক্ত অবস্থায় তাকে বিবাহ করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন আমার খালা এবং ইবন আব্বাস-এরও খালা।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অন্যের দামাদামীর উপর দর বাড়িয়ে না বলে এবং অন্যের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দর দামের উপর দরদাম না করে এবং তার বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। তবে সে অনুমতি দিলে (তা জায়িয)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সূত্রে (এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে)।
আবূ কামিল .... নাফি থেকে এ সূত্রে (অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে)।
আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন- গ্রামের লোকদের পক্ষ থেকে পণ্য দ্রব্য শহরের লোকদের বিক্রয় করে দিতে, অথবা কৃত্রিম ক্রেতা সেজে দাম বাড়িয়ে বলতে, একজনের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপরজনের প্রস্তাব দিতে, একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের দরদাম করার উপর অপরজনের দরদাম করতে এবং কোন স্ত্রীলোককে স্বীয় পাত্র পূর্ণ করার উদ্দেশে অপর স্ত্রীলোকের তালাক দাবী করতে। "আমরের বর্ণনায় আরো আছেঃ "একজনের দর করার উপর অপরজনকে দর বাড়িয়ে বলতে।"
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ... আবূ হুরায়রাহ বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (ক্রয়ের ইচ্ছা না থাকলে দালালী করার উদ্দেশে) দাম বাড়িয়ে বলবে না, কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে, শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রয় না করে, কোন ব্যক্তি যেন তার ভাই এর বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয় এবং কোন স্ত্রীলোক যেন নিজের পাত্র পূর্ণ করার জন্য অপর স্ত্রীলোকের তালাক দাবী না করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যুহরী থেকে এ সানাদের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে মা'মারের বর্ণনায় আছেঃ "কোন ব্যক্তি যেন ক্রয়-বিক্রয়ে তার ভাইয়ের দামের উপর দিয়ে দাম বাড়িয়ে না বলে।"
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কোন মুসলিম যেন অপর মুসলিমের দামের উপর দাম না করে এবং তার বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ্ নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা "তার ভাইয়ের দামের উপর" এবং "তার ভাইয়ের প্রস্তাবের উপর" কথা দুটি উল্লেখ করেছেন।
আবূ ত্বাহির .... উকবাহ ইবন আমির মিম্বারের উপর দাড়িয়ে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিন ব্যক্তির ভাই। অতএব মুমিনের জন্য তার ভাইয়ের দামের উপর দাম বলা এবং তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেয়া হালাল নয়। তবে সে (নিজের প্রস্তাব) প্রত্যাহার করলে স্বতন্ত্র কথা।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার পদ্ধতির বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন। শিগার হল- কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে অপর ব্যক্তির নিকট এ শর্তে বিবাহ দেয়া যে, শেষোক্ত ব্যক্তি তার কন্যাকে প্রথমোক্ত ব্যক্তির নিকট বিবাহ দিবে এবং তাদের মধ্যে মাহর দেয়া হবে না।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমর থেকে এ সানাদে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে উবায়দুল্লাহর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেনঃ "আমি নাফি এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, শিগার কী?"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার নিষিদ্ধ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "ইসলামে শিগার নেই"।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার পদ্ধতির বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন। ইবন নুমায়রের বর্ণনায় আরো আছেঃ "শিগার এই যে, কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলে, তোমার কন্যাকে আমার সাথে বিবাহ দাও এবং আমিও আমার কন্যাকে তোমার সাথে বিবাহ দিব। তোমার বোনকে আমার সাথে বিবাহ দাও, আমিও তোমার সাথে আমার বোনকে বিবাহ দিব।"
আবূ কুরায়ব .... উবায়দুল্লাহ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে ইবন নুমায়রের অতিরিক্ত বর্ণনা উল্লেখিত হয়নি।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার পদ্ধতির বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উকবাহ ইবন আমির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যা অবশ্যই পূরণ করতে হবে- তা হচ্ছে সে শর্ত যার মাধ্যমে তোমরা (স্ত্রীদের) লজ্জাস্থান বৈধ করে নিয়েছো।" হাদীসের মূল পাঠে উদ্ধৃত শব্দাবলী আবূ বকর ও ইবন মুসান্নার বর্ণনা থেকে গৃহীত। তবে ইবন মুসান্নার বর্ণনায় "শর্তাবলী" উল্লেখ আছে।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ব বিবাহিতাকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি না নিয়ে এবং কুমারীকে তার সম্মতি না নিয়ে বিবাহ দেয়া যাবে না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার (কুমারীর) সম্মতি কিভাবে নেয়া যাবে? তিনি বললেন, সে নীরব থাকলে।
যুহায়র ইবন হারব, ইবরাহীম ইবন মূসা, যুহায়র ইবন হারব, আমর আন্ নাকিদ, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী সকলেই .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর থেকে এ সানাদে হিশামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলামঃ যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিবাহ দেয়, তার নিকট থেকেও সম্মতি নিতে হবে কি না? রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ হ্যা, তার সম্মতি নিতে হবে। আয়িশাহ বলেন, আমি তাকে পুনর্বার বললাম, সে তো লজ্জায় পড়বে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার নীরবতাই তার সম্মতি।
সাঈদ ইবন মানসূর, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ব বিবাহিতা তার (নিজের বিবাহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে) নিজের ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার। কুমারীকে তার থেকে তার ব্যাপারে সম্মতি নিতে হবে, তার নীরবতাই তার সম্মতি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ব বিবাহিতা তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের তুলনায় অধিক কর্তৃত্বসম্পন্ন এবং কুমারীর সম্মতি নিতে হবে। নীরবতাই তার সম্মতি।
ইবন আবূ উমার .... সুফইয়ান থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, পূর্ব বিবাহিতা তার নিজের (বিবাহের) ব্যাপারে তার অভিভাবকের তুলনায় অধিক কর্তৃত্বসম্পন্ন এবং পিতা কুমারী কন্যার নিজের ব্যাপারে তার সম্মতি নিবে। নীরবতাই তার সম্মতি। কখনও তিনি বলেছেন, তার নীরবতাই তার স্বীকৃতি।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহু (রহিমাছমাল্লাহ) ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। আয়িশাহ বলেন, আমরা হিজরত করে মদীনায় পৌছার পর আমি একমাস যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে গিয়ে কানের কাছে (কিছু) থাকে। (আমার মা) উম্মু রূমান আমার নিকট এলেন, আমি তখন একটি দোলনার উপরে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার খেলার সাখীরাও ছিল। তিনি আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন, আমি তার নিকট গেলাম। আমি বুঝতে পারিনি যে, তিনি আমাকে নিয়ে কী করবেন। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে দরজায় নিয়ে দাড় করালেন। আমি তখন বলছিলাম, আহ, আহ। অবশেষে আমার উদ্বেগ দূরীভূত হল। তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসার মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে আমার কল্যাণ ও রহমতের জন্য দোয়া করলেন এবং আমার সৌভাগ্য কামনা করলেন। তিনি (মা) আমাকে তাদের নিকট সমর্পণ করলেন। তারা আমার মাথা ধুয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন। আমি কোন কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। চাশতের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং তারা আমাকে তার নিকট সমর্পণ করলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিবাহ করেন এবং আমার নয় বছর বয়সে তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তার আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিবাহ করেন, তার নয় বছর বয়সে তিনি তাকে নিয়ে বাসর যাপন করেন এবং আঠারো বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে শাওয়াল মাসে বিবাহ করেন এবং শাওয়াল মাসে আমার সাথে প্রথম মিলিত হন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন স্ত্রী তার নিকট আমার চাইতে অধিক সম্ভোগ্য ছিলেন? আয়িশাহ্ তার বংশের মেয়েদের শাওয়াল মাসে বাসর ঘরে পাঠানো উত্তম মনে করতেন।
ইবন নুমায়র .... সুফইয়ান থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আয়িশাহ এর কর্মপন্থা উল্লেখিত হয়নি।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট এসে তাকে বলল যে, সে আনসার সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি তাকে একবার দেখেছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, যাও! তুমি তাকে এক নযর দেখে নাও। কারণ আনসারদের চোখে কিছুটা ক্রটি আছে।
ইয়াহইয়া ইবন মাঈন .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলল, আমি জনৈকা আনসারী মহিলা বিবাহ করেছি। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি দেখে নিয়েছিলে? কেননা আনসারদের চোখে ক্রটি থাকে। লোকটি বললো, আমি তাকে দেখে নিয়েছি। তিনি বললেন, কী পরিমাণ বিনিময়ে তুমি তাকে বিবাহ করেছো? লোকটি বললো, চার উকিয়ার বিনিময়ে। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, চার উকিয়ার বিনিময়ে? মনে হয় তোমরা পাহাড়ের পার্শ্বদেশ থেকে রৌপ্য খুড়ে এনে থাক। আমাদের নিকট এমন কিছু নেই যা দিয়ে তোমাকে দান করতে পারি। তবে আমি তোমাকে শীঘ্রই একটি যুদ্ধাভিযানে পাঠিয়ে দিচ্ছি যার লব্ধ গনীমাত থেকে তুমি একাংশ লাভ করতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বানু আব্স-এর বিরুদ্ধে একটি অভিযান দল প্রেরণ করেন যার সাথে তিনি ঐ লোকটিকে পাঠিয়ে দেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ আস্ সাকাফী ও কুতায়বাহ .... সাহল ইবন সাদ আস্ সাইদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি নিজেকে আপনার জন্য হিবা করছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে লক্ষ্য করলেন এবং দৃষ্টি উপরের দিকে উঠিয়ে নিচে নামালেন। অতঃপর তিনি তার শির মুবারক নত করলেন। মহিলা যখন বুঝতে পারল যে, তার সম্বন্ধে কোন সিদ্ধান্তে পৌছেননি, তখন সে বসে পড়ল। অতঃপর জনৈক সাহাবী দাড়িয়ে আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! যদি আপনার প্রয়োজন না হয় তাহলে তাকে আমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কি কিছু আছে? সাহাবী বললেন, না, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, তুমি বাড়ী যাও দেখ, কোন কিছু পাও কিনা। সাহাবী বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, আমি বাড়িতে কোন কিছুই পাইনি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দেখ, লোহার আংটি হলেও (পাও কিনা)। সাহাবী আবার গেল এবং ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আমি লোহার একটি আংটিও পাইনি। তবে আমার এ লুঙ্গিটি আছে। (বর্ণনাকারী) সাহল বলেন, তার চাঁদরও ছিল না- যাতে অর্ধেক মহিলাটির জন্য হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার লুঙ্গি দ্বারা কী করবে? তা যদি তুমি পর তাহলে স্ত্রীর জন্য সেটির কোন অংশ অবশিষ্ট থাকবে না। আর যদি সে তা পরিধান করে তাহলে (তোমার জন্য) সেটির কোন অংশ অবশিষ্ট থাকবে না। এরপর সে ব্যক্তি বসে রইল। অনেক ক্ষণ বসার পর উঠে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ফিরে যেতে দেখে ডেকে পাঠালেন। যখন সে এল রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কুরআনের কোন অংশ তোমার জানা আছে? উত্তরে সে বললঃ অমুক সূরা, অমুক সূরা আমার জানা আছে। এভাবে সে সূরাগুলোর সংখ্যা বলে দিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এগুলো মুখস্থ পাঠ করতে পার? সাহাবী বলল, হা। তিনি বললেন, যাও, তোমাকে এসব সূরার কারণে এ মহিলাকে তোমার অধিকারে দিয়ে দিলাম। এ হল ইবন আবূ হাযিম এর বর্ণনা। আর ইয়াকুব এর বর্ণনা শব্দের দিকে দিয়ে এর কাছাকাছি।
খালাফ ইবন হিশাম, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ হাযিম এর সূত্রে সাহল ইবন সা'দ থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন। অবশ্য কেউ কেউ একে অপর থেকে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন। তবে যায়িদাহ এর হাদীসে রয়েছে, "নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যাও, আমি তোমার সাথে একে বিবাহ দিলাম। তুমি তাকে কুরআন শিক্ষা দাও।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার আল মাক্কী .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবাহে মাহর কী পরিমাণ ছিল? তিনি বললেন, তার বিবিগণের মাহরের পরিমাণ ছিল বারো উকিয়্যাহ্ ও এক নাশ। তিনি বললেন, তুমি কি জান এক নাশ এর পরিমাণ কতটুকু? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এক নাশ এর পরিমাণ হল আধা উকিয়্যাহ। সুতরাং মোট হল পাচশত দিরহাম। এ ছিল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণীগণের মাহর।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী, আবূ রাবী, সুলায়মান ইবন দাউদ আল আতাকী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আওফ এর কাপড়ে হলদে রং দেখে বললেন, একি? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি খেজুরের আটির সমপরিমাণ সোনার বিনিময়ে এক মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন, তুমি ওয়ালীমাহ কর, যদিও একটি বকরী দ্বারা হয়।
মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ গুবারী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আবদুর রহমান ইবন আওফ খেজুরের আটি পরিমাণ সোনার বিনিময়ে (মুহরানা দিয়ে) বিবাহ করেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ "তুমি ওয়ালীমাহ কর, যদি তা একটি বকরী দ্বারাও হয়।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আনাস থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ খেজুরের আটি পরিমাণ সোনার (মুহরানার) বিনিময়ে এক মহিলাকে বিবাহ করেন। আর নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ "তুমি ওয়ালীমাহ কর, যদি একটি বকরী দিয়েও হয়।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আহমাদ ইবন খিরাশ .... শুবাহ সূত্রে হুমায়দ থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে ওয়াহব-এর হাদীসের রয়েছে, আবদুর রহমান বললেনঃ আমি এক মহিলাকে বিবাহ করেছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন কুদামাহ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আওফ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চেহারায় বাসর যাপনের প্রফুল্লতা দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এক আনসার মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন, তুমি তাকে কী পরিমাণ মাহর দিয়েছো? আমি বললাম, এক নাওয়াত (এক খেজুর পরিমাণ স্বর্ণ)। ইসহাক্ক-এর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেনঃ 'এক খেজুর পরিমাণ স্বর্ণের'।
ইবন মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান খেজুরের একটি আটি পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে (মহরানা দিয়ে) এক মহিলাকে বিবাহ করেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... শুবাহ্ থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে এতে রয়েছে, তিনি বললেনঃ আবদুর রহমান ইবন আওফ এর কোন এক সন্তান (স্বর্ণের) শব্দও বর্ণনা করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধে যান। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা খায়বারের কাছে অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামাজ আদায় করলাম। তারপর নবী (ﷺ) এবং আবূ তলহাহ্ সওয়ার হলেন। আমি ছিলাম আবূ তলহাহ এর রাদীফ (তার বাহনে তার পশ্চাতে উপবিষ্ট) নবী (ﷺ) খায়বারের গলি দিয়ে রওনা দিলেন। এ সময় আমার হাটু রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উরুদেশ স্পর্শ করছিল এবং নবী (ﷺ) এর উরু থেকে লুঙ্গী সরে যাচ্ছিল। আর আমি নবী (ﷺ) এর উরুর শুভ্রতা দেখছিলাম। যখন তিনি বস্তিতে প্রবেশ করলেন তখন বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। বস্তুত আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ। এ কথা তিনি তিনবার বলেন। বর্ণনাকারী বলেন, ঐ সময় লোকজন তাদের কাজে বের হচ্ছিল। তারা বলতে লাগলো, মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) (এসেছেন)। বর্ণনাকারী আবদুল আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন উস্তায বলেছেন, "পুরো বাহিনী সহ"। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা খায়বার জয় করলাম এবং বন্দীদের একত্রিত করা হল। তখন দিহইয়া নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কয়েদীদের মধ্যে থেকে আমাকে একজন দাসী প্রদান করুন। তিনি বললেনঃ যাও, একজন দাসী নিয়ে নাও। তিনি সফিয়্যাহ বিনত হুয়াইকে নিয়ে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি বানু কুরায়যাহ ও বানু নাযার এর সর্দার হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাকে দিহইয়াকে দিয়ে দিয়েছেন। ইনি একমাত্র আপনারই উপযুক্ত হতে পারে। তিনি বললেন, তাকে সফিয়্যাহসহ ডাক। তারপর দিহ্ইয়া সফিয়্যাহসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী (ﷺ) তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, তখন তিনি দিহইয়া কে বললেন, তুমি সফিয়াহ ব্যতীত কয়েদীদের মধ্য থেকে অন্য কোন দাসী নিয়ে নাও। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সফিয়াকে আযাদ করলেন এবং তাকে বিবাহ করলেন। আনাসকে লক্ষ্য করে সাবিত বললেন, হে আবূ হামযাহ! তিনি তাকে কী মাহর দিলেন? তিনি বললেন, তিনি তার সত্তাকে মুক্তি দান করেন এবং এর বিনিময়ে তাকে বিবাহ করেন। তারপর তিনি যখন (ফেরার) পথে ছিলেন তখন উম্মু সুলায়ম সফিয়্যাহ কে তার জন্য প্রস্তুত করেন এবং রাতে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। নবী (ﷺ) তার সঙ্গে বাসর উদযাপনের পর ভোর হলে তিনি ঘোষণা করলেন, যার নিকট যা কিছু আছে তা নিয়ে যেন উপস্থিত হয়। আর তিনি চামড়ার বড় দস্তরখান বিছালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে কেউ পানীয়, কেউ খেজুর ও কেউ ঘি নিয়ে হাযির হল। তারপর এসব মিলিয়ে তারা হায়স তৈরি করেন। আর তাই ছিল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওয়ালীমাহ।
আবূ রবী আয যাহরানী, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সফিয়্যাকে আযাদ করলেন এবং তার আযাদ করাকে মাহর ধার্য করলেন। অপর এক হাদীসে মুআয তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, "নবী (ﷺ) সফিয়্যাকে বিবাহ করেন এবং তার আযাদ করাটাই ছিল মাহর।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে তার দাসী আযাদ করে তাকে বিয়ে করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধে আমি আবূ তলহাহ্ এর পিছনে সওয়ার ছিলাম। আমার পা তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কদম মুবারক স্পর্শ করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সূর্যোদয়ের সময় খায়বারবাসীদের নিকট পৌছলাম। তারা তখন চতুষ্পদ জন্তু, কোদাল, বস্তু ও রশি নিয়ে বের হচ্ছিল। তারা বলতে লাগলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পঞ্চবাহিনী (পূর্ণ বাহিনী) নিয়ে এসে গেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ খায়বার ধ্বংস হোক, আমরা যখন কোন শত্রু দলের আঙ্গিণায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃত লোকদের প্রভাত হয় মন্দ। বর্ণনাকারী বলেন, (ঐ অভিযানে) আল্লাহ তাদের পরাজিত করেছেন। দিহইয়া এর ভাগে পড়ে সুন্দরী দাসী। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতজন দাসের বিনিময়ে সে দাসীকে খরিদ করে নেন। অতঃপর তিনি তাকে উম্মু সুলায়ম এর হাওয়ালা করেন যাতে তিনি তাকে ঠিকঠাক করে প্রস্তুত করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় রাবী এ কথাও বলেছেন, সে যেন তার ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করে। তিনি ছিলেন হুয়াইর কন্যা সফিয়াহ। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ খেজুর, পানীয় ও ঘি দিয়ে তার ওয়ালীমাহ করলেন। এ উদ্দেশে জমিনের কিছু অংশ গর্ত আকারের করে তাতে চামড়ার বড় দস্তরখান বিছিয়ে দেয়া হয়। এতেই পানীয় ও ঘি রাখা হয়। সকলেই তা তৃপ্তির সাথে আহার করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বলতে লাগলঃ আমরা জানি না, তিনি তাকে বিবাহ করলেন, না উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) রূপে গ্রহণ করলেন। আবার কয়েকজন বলতে লাগল, যদি তিনি তার পর্দার ব্যবস্থা না করেন তবে তিনি তার উম্মু ওয়ালাদ। তিনি যখন বাহনে সওয়ার হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করলেন। এরপর সফিয়্যাহ উটের পিছনের দিকে বসলেন। তখন লোকেরা জানতে পারল যে, তিনি তাকে বিবাহ করেছেন। সাহাবীগণ যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন দ্রুত অগ্রসর হতে থাকলেন এবং আমরাও দ্রুত চললাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আদবা নামক উষ্ট্রী হোচট খেলে তিনি উটের পিঠ থেকে জমিনে পড়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমিনে পড়ে যান এবং সফিয়াহও পড়ে যান। তিনি দাড়িয়ে সফিয়্যাহ কে পর্দার দ্বারা আবৃত করে দেন। এ দেখে কতিপয় মহিলা বলতে লাগল, ইয়াহুদী মহিলাকে আল্লাহ তার রহমত থেকে বঞ্চিত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হামযাহ! সত্যিই কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) উটনী থেকে জমিনে পড়ে গিয়েছিলেন? তিনি শপথ করে বললেন, হ্যা।
আনাস বলেন, আমি নিজে যায়নাব এর ওয়ালীমাহ অনুষ্ঠানে ছিলাম। সে অনুষ্ঠানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের তৃপ্তি সহকারে রুটি ও গোশত আহার করিয়ে ছিলেন। সে ওয়ালীমার দাওয়াত দেয়ার জন্য তিনি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন ওয়ালীমার কাজ শেষ করে উঠলেন আমিও তার পিছনে চললাম। তখনও দু'জন লোক ঘরে কথাবার্তায় ব্যস্ত রইল, তারা বের হল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীগণের নিকট গেলেন এবং প্রত্যেককেই আসসালামু আলায়কুম' বলে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে গৃহবাসী! তোমরা কেমন আছো? উত্তরে প্রত্যেকেই বলেন, "আমরা ভাল আছি, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার নব পরিণীতাকে কেমন পেয়েছেন? বললেন, ভালই। তিনি যখন এ কাজ শেষ করে ফিরে এলেন আমিও তার সঙ্গে ফিরে এলাম। যখন তিনি দরজার কাছে এলেন- দেখলেন যে, সে দু'জন আলোচনায় রত আছে। তারা তাকে ফিরে যেতে দেখে উঠে চলে গেল। আনাস বলেন, আল্লাহর শপথ আমার মনে নেই, ঘর থেকে ঐ দু'জন লোকের বের হয়ে যাওয়ার কথা আমি তাকে জানিয়ে ছিলাম, না এ ব্যাপারে তার উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তিনি আবার ফিরে এলেন এবং আমিও তার সঙ্গে ফিরে এলাম। যখন তিনি দরজার চৌকাঠে পা রাখলেন তখন তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা টেনে দিলেন, আর আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন "তোমরা নবীর ঘরে তার বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করবে না।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ইবন হাইয়্যান (রহিমাহমাল্লাহ) .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফিয়াহ দিহইয়া এর ভাগে পড়েন। লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তার প্রশংসা করে বলতে লাগলো, আমরা কয়েদীদের মধ্যে তার কোন জুড়ি দেখিনি। আনাস বলেন, তখন তিনি দিহইয়াকে ডেকে পাঠালেন এবং সফিয়্যার বদলে তাকে যা তিনি চাইলেন তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি সফিয়্যাকে আমার মা (উম্মু সুলায়ম)-এর কাছে দিয়ে বললেন, তুমি তাকে (সাজিয়ে) ঠিকঠাক করে দাও। আনাস বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার থেকে বের হয়ে পড়লেন। যখন ছেড়ে আসলেন তখন অবতরণ করলেন। অতঃপর সফিয়্যার উপর একটি তাবু খাটিয়ে দিলেন। ভোরে উঠে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার কাছে উদ্ধৃত্ত খাদ্য আছে সে যেন তা আমার কাছে নিয়ে আসে। আনাস বলেন, তখন লোকজন তার উদৃত্ত খেজুর এবং উদ্ধৃত্ত ছাতু আনতে লাগল। এমনকি এগুলোর একটি স্তুপ পরিমাণ জমা করে হায়স তৈরি করল। অতঃপর সকলে হায়স থেকে খেতে লাগল এবং বৃষ্টির পানির হাওয থেকে তারা পানি পান করতে লাগল। বর্ণনাকারী (সাবিত) বলেন, আনাস বলেন, তাই ছিল সফিয়্যাহ এর ওয়ালীমাহ। তিনি বলেন, অতঃপর আমরা রওনা দিলাম এবং যখন মদীনার প্রাচীরগুলো দেখতে পেলাম তখন মদীনার জন্য আমাদের মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। আমরা আমাদের সওয়ারগুলোকে দ্রুত চালনা করলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সওয়ারীকে দ্রুত চালালেন। আনাস বলেন, সফিয়্যাহ তার পিছনে তার সাথে সওয়ার করে গিয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উটনী হোচট খায়। ফলে তিনি ও সফিয়্যাহ পড়ে যান। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা কেউ তার ও সফিয়্যার দিকে দৃষ্টিপাত করেননি। ইতোমধ্যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে তাকে আবৃত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপরাপর সহধর্মিণীগণ বের হয়ে সফিয়্যাকে একজন আর একজনকে দেখাতে লাগলেন এবং তার মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে আফসোস করতে লাগলেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মায়মুন ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যায়নাব এর ইদ্দত পূর্ণ হল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ কে বললেন, তুমি যায়নাবের নিকট আমার কথা উল্লেখ কর। আনাস বলেন, যায়দ রওনা হলেন এবং তার নিকট গেলেন। তখন তিনি আটা খামির করছিলেন। যায়দ বললেন, আমি যখন তাকে দেখলাম তার মর্যাদা আমার অন্তরে এমনভাবে জাগ্রত হল যে, আমি তার প্রতি তাকাতে পারলাম না। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে স্মরণ করেছেন। তাই আমি তার দিকে পিঠ ফিরে দাড়ালাম এবং পিছনের দিকে সরে পড়লাম। এরপর বললাম, হে যায়নাব! রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে স্মরণ করে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি এ সম্পর্কে কিছুই করব না যে পর্যন্ত না আমি আমার রবের কাছ থেকে নির্দেশ লাভ না করি। এরপর তিনি তার সালাতের জায়গায় গিয়ে দাড়ালেন। এদিকে কুরআন নাযিল হল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে যায়নাবের বিনা অনুমতিতেই তার ঘরে প্রবেশ করলেন। আনাস বলেন, আমরা দেখেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (যায়নাবের সে বিবাহ উপলক্ষে) দুপুর বেলায় আমাদের রুটি গোশত খাইয়েছেন। খাওয়া-দাওয়ার পর লোকেরা বের হয়ে গেল কিন্তু কয়েকজন লোক খাওয়ার পর আলাপে মশগুল থাকল। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে পড়লেন, আমিও তার অনুসরণ করলাম। তিনি তার বিবিগণের ঘরে ঘরে উপস্থিত হয়ে তাদের সালাম করতে লাগলেন। আর বিবিগণ তাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার এ স্ত্রীকে কেমন পেয়েছেন। আনাস বলেন, আমার মনে নেই, (আলাপরত) সে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার কথা আমিই তাকে জানিয়ে ছিলাম, না তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি চললেন এবং সে ঘরে প্রবেশ করলেন। আমিও তার সঙ্গে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলাম। তিনি আমার ও তার মধ্যে পর্দা টেনে দিলেন। আর পর্দার বিধান নাযিল হল। আনাস বলেন, লোকদের নাসীহাত দিলেন দেয়ার যা ছিল। ইবন রাফি তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করতে গিয়ে এ আয়াত উল্লেখ করেনঃ (অর্থ) "তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নবী গৃহে প্রবেশ করবে না...কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না" (আল আহযাব ৩৩ঃ ৫৩)।"
আবূ রবী আয যাহরানী, আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন ও কুতায়বাহ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কোন মহিলার জন্য- আবূ কামিল বলেন, তার কোন স্ত্রীর জন্য- সেরূপ ওয়ালীমাহ করতে দেখিনি যেমন ওয়ালীমাহ করেছেন যায়নাবের জন্য। তার জন্য তিনি একটি বকরী যাবাহ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আব্বাদ ইবন জাবালাহ্ ইবন আবূ রাওওয়াদ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়নাব এর জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) এত অধিক পরিমাণ অথবা উত্তমভাবে ওয়ালীমাহ করেছিলেন, যা তিনি তার সহধর্মিণীদের কারো জন্য করেননি। সাবিত বুনানী জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী দিয়ে ওয়ালীমাহ করেছিলেন? তিনি (আনাস) বললেন, সবাইকে তিনি রুটি ও গোশত খাওয়ালেন। এমনকি তারা উদ্ধৃত্ত রেখে গেল।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী, আসিম ইবন নায্র আত্ তায়মী এবং মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন যায়নাব বিনতু জাহশ কে বিবাহ করেন তখন তিনি লোকদের দাওয়াত করেন। তারা খাওয়া-দাওয়া করে বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। আনাস বলেন, তখন নবী (ﷺ) যেন দাড়াতে উদ্যত হলেন তবুও তারা উঠল না। এরূপ দেখে তিনি উঠে গেলেন। তারা উঠে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে যারা উঠবার তারা উঠে গেল। আসিম ও ইবন আবদুল আ'লা এর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে- আনাস বলেন, কিন্তু তিনজন লোক ঘরে বসে রইল। নবী (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করার জন্য এসে দেখতে পান যে, কয়েকজন লোক বসে আছে। এরপর তারাও উঠে চলে গেল। আনাস বলেন, আমি এসে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ নবী (ﷺ) কে দিলাম। আনাস বলেন, তিনি এসে প্রবেশ করলেন। আমিও তার সঙ্গে প্রবেশ করতে অগ্রসর হলাম। এ সময় তিনি আমার ও তার মাঝখানে পর্দা বুলিয়ে দিলেন। আনাস বলেন, আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ "তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে নবীগৃহে প্রবেশ করবে না... আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা গুরুতর অপরাধ"।
আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পর্দার হুকুম সংক্রান্ত ঘটনা সম্পর্কে সবার চাইতে বেশি অবগত। এ ব্যাপারে উবাই ইবন কা'ব আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়নাব বিনতু জাহশের স্বামী হন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিবাহ করেন মদীনায়। এ উপলক্ষে তিনি দ্বিপ্রহরের সময় খাওয়ার জন্য লোকদের দাওয়াত দেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বসলেন এবং তারা তার সঙ্গে বসল। লোকদের যারা উঠে যাওয়ার উঠে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠলেন এবং রওনা হলেন। আমিও তার সঙ্গে চলতে থাকলাম। তিনি আয়িশাহ এর হুজরায় পৌছলেন। যখন তিনি ধারণা করলেন যে, তারা (উপবিষ্ট লোকজন) বেরিয়ে গেছে তখন তিনি ফিরে এলেন এবং আমিও তার সঙ্গে ফিরে এলাম। দেখা গেল, তখন তারা তাদের জায়গায় বসা আছে। তখন তিনি ফিরে গেলেন এবং আমিও তার সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফিরে গেলাম। তিনি আয়িশাহ এর হুজরায় পৌছলেন। আবার তিনি যায়নাবের ঘরের দিকে ফিরলেন। দেখা গেল, লোকেরা চলে গেছে। তখন তিনি আমার ও তার মাঝখানে পর্দা টেনে দিলেন। আর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (যায়নাব বিনতু জাহশকে) বিবাহ করেন এবং তার সহধর্মিণীর কাছে গেলেন। আনাস বলেন, আমার মা উন্মু সুলায়ম হায়স (হালুয়া) তৈরি করেছিলেন এবং তা একখানি ছোট পাত্রে রেখে আমাকে বললেন, হে আনাস! এটা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে যাও এবং তাকে বল, এটা আমার মা আপনার খিদমাতে পাঠিয়েছেন এবং আপনাকে সালাম পৌছিয়েছেন। (আরও বলো যে) তিনি বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সামান্য (হায়স) আপনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে (দেয়া হল)। আনাস বলেন, আমি হায়স নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেনঃ এ সামান্য (হায়স) আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে দেয়া হল। তিনি বললেন, এটা রাখ। অতঃপর বললেনঃ তুমি যাও, অমুক অমুক অমুককে দাওয়াত দাও এবং সেসব লোককেও যাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে। এ বলে, তিনি লোকদের নাম বললেন। আনাস বলেন, আমি তখন বর্ণিত লোকদের দাওয়াত দিলাম এবং তাদেরও যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। সাবিত বলেন, আমি আনাস কে জিজ্ঞেস করলাম, (আমন্ত্রিত লোকদের) সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, প্রায় তিনশত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আনাস (হায়সের) পাত্রটি নিয়ে এসো। আনাস বলেন, দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকজন এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে ও তার চতুস্পার্শ্বে ভীড় করলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তোমরা দশ দশ জন করে একত্রিত হয়ে প্রত্যেকেই পাত্র থেকে নিজের সামনের স্থান থেকে খাদ্য গ্রহণ কর। আনাস বললেন, সকলেই খেয়ে তৃপ্ত হলেন। তিনি বলেন, একদল গেল আরেক দল প্রবেশ করল। এভাবে সকলে খাবার কাজ সেরে নিল। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আনাস (হায়সের পাত্র) উঠাও। তিনি বলেন, এরপর আমি পাত্রটি তুলে নিলাম। পাত্রটি রাখার সময় এতে খাদ্য বেশি ছিল কিনা সেটি উঠাবার সময় তা আমি বুঝতে পারিনি। আনাস বলেন, তাদের কিছু লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সেখানে) বসা ছিলেন এবং তার সহধর্মিণী (যায়নাব) দেয়ালমুখী হয়ে পিছনে ফিরে রইলেম। তাদের উপস্থিতি তার কাছে কষ্টকর মনে হল। অতঃপর তিনি তার অন্যান্য বিবিদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন। তারা যখন দেখল যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এসেছেন, তারা বুঝতে পারল যে, তাদের এ কাজ (আলাপচারিতা) তার ((ﷺ)-এর) জন্য কষ্টকর হয়েছে। আনাস বললেন, তখন তারা তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগিয়ে গেল এবং সবাই বেরিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং পর্দা টেনে দিলেন এবং পর্দার ভিতরে প্রবেশ করলেন। আমি ঘরে বসে রইলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি আমার কাছে ফিরে এলেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে এ আয়াতগুলো লোকদের কাছে পাঠ করে শোনালেন- (অর্থ) "হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতের জন্য অপেক্ষা না করে আহার গ্রহণের জন্য নবীর গৃহে প্রবেশ করবে না, তবে তোমাদের আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং আহারের পর তোমরা চলে যাবে এবং কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়বে না। কারণ তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়" ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত(আল আহযাব ৩৩ঃ ৫৩)। রাবী জাদ বলেন, আনাস বলেছেন, আমি লোকদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এ আয়াতের প্রতি অনুগত হওয়ার জন্যে। আর নবী (ﷺ) এর বিবিগণকে পর্দার আড়ালে নেয়া হল।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) যায়নাবকে বিবাহ করলেন তখন উম্মু সুলায়ম পাথরের একটি পাত্রে তার জন্য হায়স পাঠালেন। আনাস বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যাও, মুসলিমদের মধ্যে যার সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে আমার পক্ষ থেকে দাওয়াত দাও। অতঃপর যার সাথে সাক্ষাৎ হল আমি তাকে দাওয়াত দিলাম। তারা তার কাছে আসতে শুরু করল এবং খেয়ে চলে যেতে লাগল। আর নবী (ﷺ) তার হাত খাদ্যের উপর রাখলেন এবং তাতে দোয়া পড়লেন। এতে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি যা পাঠ করার তা পড়লেন। যারই সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাকেই দাওয়াত দিতে বাদ দেইনি। সকলেই খেল এবং তৃপ্ত হল। তারা বেরিয়ে গেল কিন্তু তাদের একদল রয়ে গেল। তারা তার সেখানে দীর্ঘালাপে লিপ্ত রইল। নবী (ﷺ) তাদের কিছু বলতে লজ্জাবোধ করছিলেন। তাই তিনি নিজেই বেরিয়ে গেলেন এবং তাদের ঘরে রেখে গেলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেন- (অর্থ) "হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে আহার্য প্রস্তুতের জন্য অপেক্ষা না করে আহার গ্রহণের জন্য তোমরা নবী গৃহে প্রবেশ করবে না।" কাতাদাহ্ বলেন, তোমরা আহার্য প্রস্তুতির সময়ের যদি অপেক্ষা না কর তবে তোমাদের আহবান করলে তোমরা প্রবেশ করবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র"-(আল আহযাব ৩৩ঃ ৫৩)।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে ওয়লীমার দাওয়াত দেয়া হয়, সে যেন ঐ দাওয়াতে সাড়া দেয়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত দেয়া হয়, সে যেন তা কবুল করে। (রাবী) খালিদ বলেন, উবায়দুল্লাহ্ একে বিবাহের ওয়ালীমাহ বলে গ্রহণ করেছেন।
ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কাউকে বিবাহের ওয়ালীমার দাওয়াত দেয়া হলে সে যেন তা কবুল করে।
আবূ রবী, আবূ কামিল ও কুতায়বাহ্ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেয়া হলে তাতে সাড়া দিবে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার ভাইকে দাওয়াত দেয় সে যেন তার দাওয়াতে সাড়া দেয়, বিবাহের অনুষ্ঠানই হোক বা সে রকম (অন্য কোন অনুষ্ঠান)।
ইসহাক ইবন মানসূর .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কাউকে কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে অথবা এ ধরনের অন্য কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, সে যেন সাড়া দেয়।
হুমায়দ ইবন মাসআদাহ্ আল বাহিলী .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "যখন তোমাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় তখন তোমরা দাওয়াতে আসবে।"
হারূন ইবন উবায়দুল্লাহ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা এ দাওয়াতে সাড়া দিবে যখন তোমাদেরকে তার জন্য দাওয়াত দেয়া হয়। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ বিবাহের দাওয়াতে বা বিয়ে ছাড়া অন্য যে কোন দাওয়াতে আসতেন। এমনকি তিনি সায়িম অবস্থায়ও (দাওয়াতে আসতেন)।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ... ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের বকরীর পায়া খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয় তখন তোমরা তাতে সাড়া দিও।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ..... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়া হয়, তখন সে যেন দাওয়াতে সাড়া দেয়। অতঃপর ইচ্ছা করলে আহার করবে, না হয় না করবে। ইবন মুসান্না তার বর্ণনায় 'পানাহারের দিকে কথাটি উল্লেখ করেননি।
ইবন নুমায়র .... আবূ যুবায়র থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেয়া হয় সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে সায়িম হয় তাহলে সে (ওখানে গিয়ে) দোয়া- সালাতরত থাকবে। আর যদি সায়িম না হয় তাহলে সে আহার করবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, সে ওয়ালীমার খাদ্য কতই না মন্দ যা খাওয়ার জন্য কেবল ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয়, আর গরীবদের তা থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে তারা তাতে যোগ দিতে পারে না। যে ব্যক্তি দাওয়াতে সাড়া দেয় না সে আল্লাহ তাআলা ও তার রসূল (ﷺ) এর নাফরমানী করল।
ইবন আবূ উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুফইয়ান বলেছেন, আমি যুহরী কে জিজ্ঞেস করলাম- হে আবূ বকর! "এই যে হাদীস- সব চাইতে মন্দ খাদ্য ধনীদের খাদ্য'- এ সম্পর্কে আপনার কী মত? শুনে তিনি হাসলেন এবং বললেন, না, ধনীদের খাদ্য সব চাইতে মন্দ খাদ্য নয়। সুফইয়ান বললেন, আমার পিতা যেহেতু ধনী লোক ছিলেন এজন্য হাদীসখানি আমাকে ঘাবড়িয়ে তুলেছিল, যখন আমি তা শুনতে পেলাম। তাই আমি এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম যুহরী-কে জিজ্ঞেস করি। (ইমাম) যুহরী উত্তর দিলেন, আমার নিকট আবদুর রহমান আল আ'রাজ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবূ হুরায়রাহ্ কে বলতে শুনেছেন যে, ওয়ালীমার খাদ্য সবচাইতে নিকৃষ্ট খাদ্য। অতঃপর তিনি মালিক-এর হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি, আবদ ইবন হুমায়দ ও আল আ'রাজ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিকৃষ্ট খাদ্য হলো ওয়ালীমার খাদ্য। মালিক এর হাদীসের অনুরূপ।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিকৃষ্টতম খাদ্য হল ওয়ালীমার খাদ্য যেখানে আগমনকারীদের বাধা দেয়া হয়। আর অনিচ্ছুকদের দাওয়াত দেয়া হয়। যে ব্যক্তি দাওয়াতে সাড়া দেয় না সে আল্লাহ এবং তার রসূল (ﷺ) এর নাফরমানী করল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফাআহ এর স্ত্রী নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমি রিফাআর নিকট ছিলাম। সে আমাকে তালাক দিয়েছে পূর্ণ তালাক। অতঃপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিবাহ করি। তার কাছে রয়েছে কাপড়ের ঝালরের মত। এতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসি হাসলেন এবং বললেন, তুমি কি রিফাআর নিকট ফিরে যেতে চাও? না, (তা হয় না) যে পর্যন্ত না তুমি তার স্বাদ গ্রহণ করবে এবং সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করবে। আয়িশাহ বলেন, তখন আবূ বকর ছিলেন তার কাছে এবং খালিদ ইবন সাঈদ ছিলেন দরজায়। তিনি (প্রবেশের) অনুমতির অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ডাক দিয়ে বললেন, হে আবূ বকর! আপনি কি শুনেন না এ মহিলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উচ্চস্বরে কী কথা বলছে।
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... উরওয়াহ ইবন যুবাযর বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রিফাআহ আল কুরায়ী তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সে তাকে পুরাপুরি তালাক দিয়ে দেয়। অতঃপর সে স্ত্রী লোকটি আবদুর রহমান ইবন যুবায়র কে বিবাহ করে। এরপর সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্ রসূল! সে ছিল রিফাআর অধীনে। সে তাকে পুরোপুরি তিন দিন তালাক দেয়। অতঃপর সে আবদুর রহমান ইবন যুবায়র কে বিবাহ করে। আল্লাহর কসম, তার সাথে তো রয়েছে কাপড়ের ঝালরের মতো। এ বলে মহিলা তার উড়নার আচল ধরে দেখাল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি সম্ভবত রিফাআর নিকট ফিরে যেতে চাও? না তা হয় না, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর। আবূ বকর তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলেন। আর খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আস ছিলেন হুজরার দরজায় বসা। তাকে (ঘরে প্রবেশ করার) অনুমতি দেয়া হয়নি। রাবী বলেন, তখন খালিদ আবূ বকর কে ডেকে বললেন, আপনি কেন মহিলাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তার এ সব কথা প্রকাশ করা থেকে বারণ করলেন না।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রিফাআহ্ আল কুরাযী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। এরপর সে আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিয়ে করে। অতঃপর সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! রিফাআহ তাকে পুরোপুরি তিন তালাক দিয়ে দেয়। এরপর ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যাকে একজন বিবাহ করে, অতঃপর সে তাকে তালাক দেয়। এরপর সে মহিলা আরেকজনকে বিয়ে করে। কিন্তু সে তার সাথে সঙ্গমের আগেই তালাক দেয়। এমতাবস্থায় উক্ত মহিলা প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে কি? তিনি বললেনঃ না, যে পর্যন্ত না সে ঐ স্ত্রীর স্বাদ গ্রহণ করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মুআবিয়াহ সহ সকলেই হিশাম থেকে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়। অতঃপর অন্য একজন তাকে বিয়ে করে। এরপর সে তাকে সঙ্গমের আগেই তালাক দিয়ে দেয়। পরে প্রথম স্বামী তাকে বিয়ে করতে চায়- এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেনঃ না, তা হবে না যে পর্যন্ত না তারা একে অন্যের স্বাদ গ্রহণ করবে, যেভাবে প্রথম স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করেছিল।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ সহ সকলেই উবায়দুল্লাহ থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। উবায়দুল্লাহ সূত্রে ইয়াহইয়া হাদীসে বলেন যে, কাসিম আয়িশাহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলতে চায় সে যেন বলে (অর্থ-) "বিসমিল্লাহ হে আল্লাহ আমাদের শায়ত্বান (শয়তান) থেকে রক্ষা করুন আর আমাদের যা তুমি দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখুন"। কেননা এ মিলনে তাদের ভাগ্যে যদি কোন সন্তান হয় তবে শায়ত্বান (শয়তান) কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, ইবন নুমায়র ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সকলেই সাওরী থেকে, তারা (শুবাহ ও আবদুর রাযযাক) উভয়ে মানসূর থেকে জারীরের হাদীসের মর্মানুযায়ী রিওয়ায়াত করেন। তবে শুবাহু তার হাদীসে "বিসমিল্লাহ" এর উল্লেখ করেননি এবং সাওরী সূত্রে আবদুর রাযযাক এর রিওয়ায়াতে "বিসমিল্লাহ" রয়েছে। আর ইবন নুমায়র এর রিওয়ায়াতে রয়েছে যে, মানসুর বলেছেন, আমি মনে করি তিনি বলেছেন, "বিসমিল্লাহ"।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন্ নাকিদ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়াহুদীরা বলত, কোন লোক স্ত্রীর পেছন দিক থেকে তার যোনী দ্বারে সঙ্গম করলে এতে সন্তান টেরা চোখ বিশিষ্ট হবে। এ প্রসঙ্গে নাযিল হয় "স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার"-(আল বাকারাহ ২ঃ ২২৩)।
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীরা বলত যে, স্ত্রীর পিছন দিক থেকে যোনী দ্বারে যদি সঙ্গম করা হয় এবং এতে সে যদি গর্ভবতী হয় তাহলে তার সন্তান হবে টেরা চোখ বিশিষ্ট। রাবী বলেন, এ প্রসঙ্গে নাযিল হল- "স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার"-(আল বাকারাহ ২ঃ ২২৩)।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ, হারূন ইবন আবদুল্লাহ, আবূ মান আর রাকাশী ও সুলায়মান ইবন মাবাদ ... জাবির থেকে যুহরী সূত্রে বর্ণিত। নুমান অতিরিক্ত বলেছেন, স্বামী ইচ্ছে করলে উপুড় করে, ইচ্ছা করলে উপুড় না করে তবে একই দ্বারে হতে হবে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ হুরায়রাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বামীর বিছানা পরিহার করে কোন স্ত্রী রাত্রি যাপন করলে ফজর পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার প্রতি লানাত করতে থাকে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদের বর্ণনায় বলেছেন, ফিরে না আসা পর্যন্ত কথার উল্লেখ আছে।
ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসম সে সত্তার যার হাতে আমার জীবন। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যখন বিছানায় আহ্বান করে, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে, নিঃসন্দেহে যে পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি না হয়, ততক্ষণ আসমানবাসী তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বামী যখন স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে এবং সে না আসায় তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে, সে স্ত্রীর প্রতি ফেরেশতাগণ ভোর হওয়া পর্যন্ত লানাত করতে থাকে।
আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযীঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি হবে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম পর্যায়ের, যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবূ করায়ব .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষ বড় আমনাত খিয়ানাতকারী যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে মিলিত হয়। অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।
ইয়াহইয়া ইবন আবূ আইয়ুব, কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর .... ইবন মুহায়রিয থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবূ সিরমাহ আবূ সাঈদ আল খুদরী এর নিকট গেলাম। আবূ সিরমাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ সাঈদ! আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বানু মুসতালিক এর যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধে আমরা আরবের সবচেয়ে সুন্দরী বাদীদের বন্দী করলাম। এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সাহচর্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম। অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী। এমতাবস্থায় আমরা বাদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং আযল (গর্ভধারণ এড়াতে বীর্যপাতের আগে পুরুষের যৌন অঙ্গ বের করে নেয়া) করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন। তার নিকট আমরা কি এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করব না! তাই আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই।
বানু হাশিমের মুক্ত দাস মুহাম্মাদ ইবন ফারাজ .... মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া হাব্বান থেকে উক্ত সানাদে রাবীআর হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সে হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "কেননা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যত মাখলুক সৃষ্টি করবেন তা লিখে দিয়েছেন।"
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দিনী লাভ করেছিলাম। (তাদের সাথে) আমরা আযল করছিলাম। এরপর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। (বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই।"
নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আনাস ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মাবাদ ইবন সীরীন কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে এ হাদীসটি শুনেছেন? তিনি [আবূ সাঈদ আল খুদরী] বললেন, হ্যা, নবী (ﷺ) থেকে। তিনি বলেন, এটা না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা এটা হল তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... শুবাহ এর সূত্রে আনাস ইবন সীরীন থেকে অনুরূপ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসে রয়েছে- নবী (ﷺ) আযল সম্পর্কে বলেছেনঃ এ কাজ না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা এটা তাকদীরের অন্তর্গত। রাবী বাহয এর বর্ণনায় রয়েছে যে, শুবাহ্ বলেছেনঃ আমি তাকে (আনাস ইবন সীরন) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে এ হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা।
আবূ রবী আয যাহরানী ও আবূ কামিল আল জাহদারী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, নবী (ﷺ)-কে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ তা না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, এ হল তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত। মুহাম্মাদ বলেন, নবী (ﷺ) এর উক্তি "লা আলায়কুম" (তোমাদের কোন ক্ষতি নেই)- নিষেধাজ্ঞারই নিকটবর্তী।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে আযল সম্পর্কে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা তা কেন করতে চাও? তারা বলল, এমন লোক আছে যার স্ত্রী সন্তানকে দুধ পান করায় সে তার সঙ্গে সঙ্গত হয়। অথচ এতে সে গর্ভবতী হোক তা সে পছন্দ করে না। আবার কোন লোকের দাসী আছে, সে তার সঙ্গে সঙ্গত হয় কিন্তু এতে সে গর্ভবতী হোক তা সে অপছন্দ করে। তিনি বললেন, তা না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, তা তাকদীরের উপর নির্ভরশীল'। ইবন আওন বলেন, আমি এ হাদীস হাসান এর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, এ হল সতর্কবাণী স্বরূপ।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... ইবন আওন সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ সূত্রে ইবরাহীমকে হাদীস বর্ণনা করেছি আযল সম্পর্কে। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন বিশর হাদীস বর্ণনা করেছেন।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মাবাদ ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী কে জিজ্ঞেস করলাম! আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আযল সম্পর্কে কোন আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা- এ বলে তিনি বর্ণিত ইবন আওনের হাদীসের ন্যায় ঐ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।"
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী ও আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযল সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করা হল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেন এ কাজ করে- তিনি এ ব্যাপারে এ কথা বলেননি, "তোমাদের কেউ যেন এ কাজ না করে। কোন সৃষ্টি জীব নেই যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেননি।"
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ সব পানিতেই সন্তান পয়দা হয় না। মূলত আল্লাহ যখন কোন বস্তু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন তখন কোন কিছুই তাকে বাধা দিতে পারে না।
আহমাদ ইবন মুনযিল আল বাসরী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... জাবির থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার একটি দাসী আছে যে আমাদের খিদমাত ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত। আমি তার নিকট আসা যাওয়া করে থাকি, কিন্তু সে গর্ভবতী হোক তা আমি পছন্দ করি না। তখন তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছে করলে তার সাথে আযল করতে পার। তবে তার তাকদীরে সন্তান থাকলে তা তার মাধ্যমে আসবেই। লোকটি কিছুদিন অতিবাহিত করল। অতঃপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, দাসীটি গর্ভবতী হয়েছে। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ মর্মে জানিয়ে ছিলাম যে, তার তাকদীরে যা আছে তা আসবেই।
সাঈদ ইবন আমর আল আশআসী ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করল, আমার একটি দাসী আছে। আমি তার সাথে আযল করে থাকি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ কাজ আল্লাহর ইচ্ছাকে কিছুতেই প্রতিহত করতে পারে না। রাবী বলেন, এরপর সে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যে দাসীটির কথা আপনার কাছে উল্লেখ করেছিলাম সে গর্ভবতী হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "আমি আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহর রসূল।"
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে সুফইয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আযল করতাম আর কুরআন নাযিল হত। এর উপর ইসহাক আরো বাড়িয়ে বলেছেন যে, সুফইয়ান বলেন, এতে যদি নিষেধ করার মতো কিছু থাকত, তবে কুরআন তা নিষেধ করে দিত।
সালামাহ ইবন শাবীব .... আতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির কে বলতে শুনেছি, "আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় আযল করতাম।"
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় আযল করতাম। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলে এ থেকে তিনি নিষেধ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ দারদা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা আসন্ন প্রসবা জনৈকা গর্ভবতী দাসীকে তাবুর দরজায় আনা হয়। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবত ঐ ব্যক্তি তার সাথে সঙ্গম করতে চায়। লোকেরা বলল, হ্যা। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি মনে করেছি, তাকে এমন লানাত দেই, যে লানাতসহ সে কবরে প্রবেশ করে। কিভাবে সে তাকে (দাসীর গর্ভস্থ সন্তানকে) ওয়ারিস বানাবে অথচ তা তার জন্য বৈধ নয়? কেমন করে সে তাকে (সন্তানকে) খাদিম বানাবে অথচ সে তার জন্য বৈধ নয়।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... শুবাহ সূত্রে এ সানাদে বর্ণিত।
খালাফ ইবন হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জুদামাহ বিনতু ওয়াহব আল আসাদিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, আমি স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ইচ্ছে করলাম। এরপর আমার নিকট আলোচনা করা হল যে, রোম ও পারস্যবাসী লোকেরাও তা করে থাকে, অথচ তাতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না। ইমাম মুসলিম বলেন, খালাফ তার সানাদ বর্ণনায় "জুদামাহ্ আল আসাদিয়্যাহ্" উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া বর্ণিত 'জুযামাহ' শব্দটিই সঠিক ও নির্ভুল।
উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমর .... উকাশার ভগ্নি জুদামাহ্ বিনতু ওয়াহব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন কিছু সংখ্যক লোকের সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন বলছিলেন, আমি স্তন্যদায়িনী মহিলার সাথে সঙ্গম করা নিষেধ করার ইচ্ছা করলাম, এমতাবস্থায় আমি রোম ও পারস্যবাসী লোকদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে অবগত হলাম যে, তারা তাদের স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে থাকে, কিন্তু তা তাদের সন্তান-সন্ততির কোনরূপ ক্ষতি করে না। অতঃপর লোকেরা তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা হল গোপন হত্যা। রাবী উবায়দুল্লাহ তার বর্ণনায় আল মুকরী সূত্রে আয়াতটুকুও উল্লেখ করেছেন "যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে" (আত্ তাকভীর ৮১ঃ ৮-৯)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জুদামাহ বিনতু ওয়াহব আল আসাদিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। (এরপর) সাঈদ ইবন আবূ আইয়ুব থেকে বর্ণিত আযল ও গীলাহ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে (গীলাহ এর পরিবর্তে) 'গিয়াল' উল্লেখ করেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে আযল করে থাকি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি এ কাজ কেন কর? লোকটি বলল, আমি তার সন্তানের ক্ষতির আশংকা করি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি এ কাজ ক্ষতিকর হত তাহলে তা পারস্য ও রোমবাসীদেরও ক্ষতিসাধন করত। রাবী যুহায়র তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, এ কাজ (আযল) যদি এ উদ্দেশেই হয় তাহলে তা করা সঠিক নয়। কেননা তা পারস্য ও রোমবাসীদের কোন প্রকার ক্ষতি করেনি।