bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ঋতুস্রাব (হায়য) (৫৬৬-৭২২)

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন ঋতুবতী হয়ে পড়ত তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে সে পরিহিত কাপড় ভাল করে বেধে নিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে মেলামেশা করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও আলী ইবন হুজুর আস্ সা'দী .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন ঋতুবতী হয়ে পড়ত তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হায়িয আসার স্থানে তাকে শক্ত করে কাপড় বেধে নেয়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর তার সাথে মেলামেশা করতেন। তিনি আয়িশাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে কে তার যৌনকামনা সেরূপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ যৌন কামনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম ছিলেন?

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মাইমুনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীদের সাথে পরিহিত কাপড়ের উপর ঋতুর অবস্থায় মেলামেশা করতেন।

আবূ তাহির, হারূন ইবন সাঈদ ও আহমাদ ইবন ঈসা ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমূনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমি ঋতুবতী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সঙ্গে একই বিছানায় শুইতেন। এ সময় আমার ও তার মাঝে কেবলমাত্র একখানা কাপড়ের আড়াল থাকত।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি রেখাযুক্ত চাঁদরের নিচে শুয়েছিলাম। ইতোমধ্যেই আমার হায়িয এলো। আমি চুপিসারে উঠে গিয়ে আমার হায়িয এর কাপড় পরে নিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, 'তোমার কি হায়িয এসেছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি আমাকে (কাছে) ডাকলেন। অতঃপর আমি তার চাঁদরটির নীচে শুইলাম। রাবী বলেন, তিনি (উম্মু সালামাহ) ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে (পানি নিয়ে) নাপাকির পবিত্র হওয়ার গোসল করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন আল মুসান্না .... আয়িশাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইতিকাফ করতেন তখন আমার দিকে তার মাথা ঝুকিয়ে দিতেন। আমি তা আচড়ে দিতাম। (ইতিকাফ কালে) তিনি ঘরে প্রবেশ করতেন না প্রাকৃতিক প্রয়োজন (যেমন প্রস্রাব পায়খানা) ছাড়া।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ইতিকাফের সময়) আমি যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরে প্রবেশ করতাম। ঘরে কোন রোগী থাকে তাহলেও তাকে কোন কথা জিজ্ঞেস না করেই চলে যেতাম। ইতিকাফের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাসজিদ থেকে আমার দিকে মাথা এগিয়ে দিতেন, আর আমি তার চুল আচড়ে দিতাম। ইতিকাফ থাকাবস্থায় তিনি (প্রাকৃতিক) কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। ইবন রুমহ বলেছেনঃ যখন তারা ইতিকাফের অবস্থায় থাকতেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী ... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফে থাকাবস্থায় (অধিকাংশ সময়) মাসজিদ থেকে তার মাথা আমার দিকে বের করে দিতেন। আমি ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে তার মাথা এগিয়ে দিতেন। আমার হুজরায় থেকে ঋতুবতী অবস্থায় আমি তার মাথা আচড়ে দিতাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা ধুয়ে দিতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, "মসজিদ থেকে আমার জায়নামাযটি (হাত বাড়িয়ে) নিয়ে এসো"। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বললেনঃ তোমার হায়িয তো তোমার হাতে নয়।

আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদ থেকে জায়নামায (হাত বাড়িয়ে) তুলে নিয়ে আসতে আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম যে, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বললেন, তুমি তো আমার কাছে নিয়ে এসো। কারণ হায়িয তোমার হাতে নেই (লেগে যায়নি)।

যুহায়র ইবন হারব, আবূ কামিল ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বললেন, হে আয়িশাহ! আমাকে কাপড়টা এগিয়ে দাও। তিনি [আয়িশাহ] বলেন, আমি যে ঋতুবতী! জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঋতু তো তোমার হাতে লাগে নেই। তারপর আমি তা এনে দিলাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (ﷺ) কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম তিনিও পাত্রের সে স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (ﷺ) কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন। তবে যুহায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে "পান করার" উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (অধিকাংশ সময়) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হায়িয অবস্থায় আমার কোলে মাথা রেখে কুরআন পাঠ করতেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীগণ তাদের মহিলাদের হায়িয হলে তার সাথে এক সঙ্গে খাবার খেত না এবং এক ঘরে বাস করত না। সাহাবায়ে কিরাম এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করলেন, "তারা তোমার কাছে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও যে, তা হলো নাপাক। সুতরাং হায়িয অবস্থায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাক....." (বাকারাহ ২ঃ ২২২)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা (সে সময় তাদের সাথে) শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর। এ খবর ইয়াহুদীদের কাছে পৌছলে তারা বলল, এ লোকটি সব কাজেই কেবল আমাদের বিরোধিতা করতে চায়। অতঃপর উসায়দ ইবন হুযায়র ও আব্বাদ ইবন বিশ্বর এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদীরা এমন এমন বলছে। আমরা কি তাদের সাথে (হায়িয অবস্থায়) সহবাস করব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের উপর ভীষণ রাগাম্বিত হয়েছেন। তারা (উভয়ে) বেরিয়ে গেল। ইতোমধ্যেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দুধ হাদিয়া এলো। তিনি তাদেরকে ডেকে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। (তারা এলে) তিনি তাদেরকে দুধ পান করালেন। তখন তারা বুঝল যে, তিনি তাদের উপর রাগ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বেশি বেশি মাযী বের হত। আমি এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। কারণ তার কন্যা ছিল আমার স্ত্রী। তাই আমি মিকদাদ ইবন আসওয়াদকে (এ সম্পর্কে জানতে) বললাম, তিনি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি বললেন, এতে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করে নিবে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে মাযী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছিলাম ফাতিমার কারণে। তাই আমি মিকদাদকে বললাম, তখন তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তাতে (মাযী বের হলে) শুধু ওযু করতে হয়।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবন আবূ তালিব বলেন, আমি একবার মিকদাদ ইবন আসওয়াদকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঠালাম। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন যে, কোন লোকের মাযী বের হলে সে তখন কি করবে? তিনি বললেন। পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) রাতে (ঘুম থেকে) জেগে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন (প্ৰস্ৰাব-পায়খানা), তারপর তার মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত ধুলেন। এরপর ঘুমিয়ে গেলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাপাকী অবস্থায় যখন ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন ঘুমাবার আগে সালাতের জন্য যেমন ওযু করতে হয় তেমন ওযু করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নাপাক থাকতেন তখন কিছু খেতে অথবা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে ওযু করে নিতেন যেমন, সালাতের ওযু করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না, ইবন বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয এর সূত্রে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন আল মুসান্না তার হাদীসে বলেছেনঃ আমাকে হাকাম বর্ণনা করে বলেন যে, আমি ইবরাহীমকে এ হাদীস বলতে শুনেছি।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকাদ্দামী ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। একদিন উমর জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ নাপাক অবস্থায় কি ঘুমাতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যা, যখন সে ওযু করে নিবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। উমর একবার নবী (ﷺ) এর কাছে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করলেন যে, আমাদের কেউ কি নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যা, সে যেন ওযু করে তারপর ঘুমায়। এরপর যখন ইচ্ছা গোসল করে নেয়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... ইবন উমর বলেন, উমার ইবন খাত্তাব একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, তিনি যদি রাতে (স্ত্রী সহবাসকালে) নাপাক হন (তাহলে কি করবেন)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি (তখন) ওযু করবে এবং তোমার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে তারপর ঘুমাবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কায়স হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সম্বন্ধে আয়িশাহ্ কে প্রশ্ন করলাম। তিনি (তৎবিষয়ে) হাদীস বর্ণনা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নাপাকির সময় কী করতেন, তিনি কি ঘুমাবার আগে গোসল করতেন, না গোসল করার আগে ঘুমাতেন? তিনি [আয়িশাহ] বললেন, সবই করতেন। কখনো গোসল করে ঘুমাতেন আর কখনো ওযু করে ঘুমিয়ে পড়তেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর যিনি সব কাজেই অবকাশ রেখেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও হারূন সাঈদ আল আইলী মুআবিয়াহ ইবন সালিহ-এর সূত্রে উক্ত সনদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও আমর আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে তারপর আবার মিলিত হবার ইচ্ছা করবে সে যেন ওযু করে নেয়। আবূ বকর তার হাদীসে উভয় মিলনের মধ্যে ওযু করবে' বাক্যটি বাড়িয়েছেন

হাসান ইবন আহমাদ ইবন আবূ শুআয়ব আল হাররানী .... আনাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সকল স্ত্রীর কাছে একই গোসলে যেতেন।

যুহারর ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম যিনি ছিলেন (এ হাদীসের রাবী) ইসহাকের দাদী- একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, আয়িশাহ তখন তার নিকট উপস্থিত ছিলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! পুরুষ যেমন স্বপ্নে দেখে, নারীও যদি তা দেখে, এমতাবস্থায় সে কি করবে? তখন আয়িশাহ্ বললেন, উম্মু সুলায়ম! তুমি নারী জাতিকে অপমানিত করেছ। তোমার অকল্যাণ হোক (তার এ কথা ছিল ভাল উদ্দেশ্যে)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ কে বললেন, বরং তোমার অকল্যাণ হোক! এরপর উম্মু সুলায়ম এর জবাবে বললেন হ্যা, উম্মু সুলায়ম! সে গোসল করে ফেলবে যখন ঐরূপ দেখবে।

আব্বাস ইবন ওয়ালীদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। উম্মু সুলায়ম বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সে মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে ঘুমে পুরুষ যা দেখে তাই দেখতে পায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মেয়েলোক যখন তেমনই দেখবে তখন সে গোসল করবে। উম্মু সালামাহ বলেন, এ কথায় আমি লজ্জাবোধ করলাম। তিনি বললেন, এ রকমও কি হয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ), হ্যা, তা না হলে ছেলে মেয়ে তার সদৃশ কেমন করে হয়? পুরুষের বীর্য গাঢ়, সাদা আর মহিলাদের বীর্য পাতলা, হলুদ। দুয়ের মধ্যে থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়।

দাউদ ইবন রুশায়দ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ঐ মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যে পুরুষ লোক ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায় সেও তাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ পুরুষের যা হয় (স্বপ্নদোষ) মহিলাদেরও এমন হলে সে গোসল করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। তাই মহিলাদের যখন স্বপ্নদোষ হয় তখন কি তার উপর গোসল করা জরুরী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, যখন সে বীর্য দেখবে। (এ কথা শুনে) উম্মু সালামাহ্ বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! মহিলাদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়"? তিনি বললেন, তোমার উভয় হাত ধূলিময় হোক! তাহলে তার সন্তান কেমন করে তার সদৃশ হয়?

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... উরওয়াহ হতে এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অর্থের অবিকল বর্ণিত আছে। তিনি আরো একটু বাড়িয়ে বলেন যে, তিনি উম্মু সালামাহ্ বললেন, তুমি নারী জাতিকে লজ্জিত করেছ।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবূ তালহার সন্তানদের মা উন্মু সুলায়ম একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে হিশামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসটিতে ব্যতিক্রম যা রয়েছে তা হল, আয়িশাহ্ বলেন, আমি বললাম, "ছিঃ ছিঃ (অসন্তোষ প্রকাশক শব্দ) মেয়েলোক কি ঐরুপ দেখে?"

ইবরাহীম ইবন মূসা আর রায়ী, সাহল ইবন উসমান ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলল, মেয়েলোকের যখন স্বপ্নদোষ হবে এবং সে বীর্যরস দেখতে পাবে তখন কি সে গোসল করবে? তিনি বললেন, হ্যা, এরপর আয়িশাহ মহিলাটিকে বললেন, তোমার উভয় হাত ধূলিময় হোক এবং তাতে অস্ত্রের খোচা লাগুক। তিনি [আয়িশাহ্] বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ছেড়ে দাও ওকে (ভৎসনা করো না) সন্তান মা-বাবার সদৃশের কারণেই হয়ে থাকে। যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের আগে জরায়ুতে প্রবেশ করে তখন সন্তানের আকৃতি তার মামাদের মতই হয়। আর যখন পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন তার আকৃতি চাচাদের মতই হয়।

আল হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম সাওবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দাড়িয়েছিলাম। ইতোমধ্যেই ইয়াহুদীদের এক আলিম এসে বলল, আসসালামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদ! এরপর আমি তাকে এমন এক ধাক্কা মারলাম যে, সে প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো! সে বলল, তুমি আমাকে ধাক্কা মারলে কেন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বলতে পার না। ইয়াহুদী বলল, আমরা তাকে তার পরিবার-পরিজন যে নাম রেখেছে সে নামেই ডাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নাম মুহাম্মাদ। আমার পরিবারের লোকই আমার এ নাম রেখেছে। এরপর ইয়াহুদী বলল, আমি আপনাকে (কয়েকটি কথা) জিজ্ঞেস করতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার কী লাভ হবে, যদি আমি তোমাকে কিছু বলি? সে বলল, আমি আমার কান পেতে শুনব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে যে খড়িটি ছিল তা দিয়ে মাটিতে আকাঝোকা দাগ কাটতে ছিলেন। তারপর বললেন, জিজ্ঞেস কর। ইয়াহুদী বলল, যেদিন এ জমিন ও আকাশমণ্ডলী পাল্টে গিয়ে অন্য জমিন ও আকাশমণ্ডলীতে পরিণত হবে (কিয়ামত হবে) সেদিন লোকজন কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা সেদিন পুলসিরাতের কাছে অন্ধকারে থাকবে। সে বলল, কে সর্বপ্রথম (তা পার হবার) অনুমতি লাভ করবে? তিনি বললেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ! ইয়াহুদী বলল, জান্নাতে যখন তারা প্রবেশ করবে তখন তাদের তোহফা কি হবে? তিনি বললেন, মাছের কলিজার টুকরা। সে বলল, এরপর তাদের দুপুরের খাদ্য কি হবে? তিনি বললেন, তাদের জন্য জান্নাতের ষাঁড় যাবাহ করা হবে যা জান্নাতের আশেপাশে চড়ে বেড়ায়। সে বলল, এরপরে তাদের পানীয় কি হবে? তিনি বললেন, সেখানকার একটি ঝর্ণার পানি যার নাম সালসাবীল। সে বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। সে আরো বলল যে, আমি আপনার কাছে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি যা নবী ছাড়া পৃথিবীর কোন অধিবাসী জানে না অথবা একজন কি দু'জন লোক ছাড়া। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাকে তা বলে দেই তবে তোমার কি কোন উপকার হবে? সে বলল, আমি আমার কান পেতে শুনব। সে বলল, আমি আপনাকে সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি। তিনি বললেন, পুরুষের বীর্য সাদা এবং মেয়েলোকের বীর্য হলুদ। যখন উভয়টি একত্রিত হয়ে যায় এবং পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে পুত্র সন্তান হয়। আর যখন মেয়েলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে কন্যা সন্তান হয়। ইয়াহুদী বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন এবং নিশ্চয়ই আপনি নবী। এরপর সে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ লোক আমার কাছে যা জিজ্ঞেস করেছে, ইতোপূর্বে আমার সে সম্পর্কে কোন জ্ঞানই ছিল না। আল্লাহ তাআলা এক্ষণে আমাকে তা জানিয়ে দিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান .... মুআবিয়াহ ইবন সাল্লাম একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনাতে এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বসে ছিলাম। আর তিনি বললেনঃ মাছের কলিজা'র টুকরা আর তিনি আযকারা' ও আ-নাসা' শব্দ দুটির একবচন রূপ ব্যবহার করেছেন, দ্বিবচন ব্যবহার করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন প্রথমে দুই হাত ধুতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুতেন। তারপর সালাতের ওযুর মত ওযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে তার আঙ্গুলগুলো চুলের গোড়ায় ঢুকাতেন। এমনিভাবে যখন মনে করতেন যে, চুল ভিজে গেছে তখন মাথায় তিন আজল (দুই হাতের তালু ভরা) পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন। তারপর তার উভয় পা ধুয়ে ফেলতেন।"

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব, আলী ইবন হুজুর ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে অবিকল সনদে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে। তবে তাদের হাদীসে পা ধোয়ার কথা উল্লেখ নেই।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অপবিত্রতা থেকে গোসলের সময় প্রথমে তার উভয় হাত কজি পর্যন্ত তিনবার ধুতেন। এরপর আবূ মুআবিয়ার হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেন কিন্তু তিনি উভয় পা ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি।

আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে প্রথমেই তার দুই হাত ধুতেন, তারপর সালাতের ওযুর মত ওযু করতেন।

আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার খালা মাইমূনাহ্ আমাকে বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপবিত্রতার গোসলের জন্যে পানির পাত্র এগিয়ে দিতাম। তিনি প্রথমে দুহাতের কজি পর্যন্ত দু'বার অথবা তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বাম হাতে লজ্জাস্থান ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। পরে বাম হাতখানা মাটিতে খুব করে রগড়ালেন, এরপর ধুয়ে নিলেন। অতঃপর উক্তস্থান থেকে একটু সরে গিয়ে পা দু'খানা ধুলেন। অতঃপর আমি তার শরীর মোছার জন্যে কাপড় বা রুমাল নিয়ে আসলে তিনি তা ব্যবহার না করে বরং ফেরত দিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, আল আশাজ্জ ও ইসহাক প্রত্যেকেই ওয়াকী হতে এবং ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব আবূ মুআবিয়াহ হতে উভয়ে আমাশ হতে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তাদের উভয়ের হাদীসে তিন আজলা পানি মাথায় ঢেলে দেয়ার কথা নেই। আর ওয়াকী এর হাদীসে ওযুর পূর্ণ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা তার হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আবূ মুআবিয়ার হাদীসে রুমালের কথা উল্লেখ নেই।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... মাইমুনাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা স্পর্শ করলেন না। তিনি পানি নিয়ে এরূপ করছিলেন পানি ঝেড়ে ফেলেছিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না আল আনাযী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন হিলাব এর (দুধ দোহন করার পাত্রের) মতো একটি পানির পাত্র চেয়ে নিতেন। অতঃপর এক হাত দিয়ে পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান দিকে ধুয়ে ফেলতেন তারপর বাম দিক ধুতেন, তারপর উভয় হাত দিয়ে পানি নিয়ে মাথায় ঢেলে দিতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ফারাক (সাড়ে সাত কেজি) পরিমাণ পাত্রের পানি দিয়ে অপবিত্রতার গোসল করতেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমহ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ফারাক পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। অনেক সময় আমি এবং তিনি একই পাত্রে গোসল করতাম। সুফইয়ানের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে "একই পাত্র থেকে"। কুতাইবাহ বলেন, সুফইয়ান বলেছেন, ফারাক হল তিন সা পরিমাণ।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আয়িশাহ্ এর দুধ ভাই একবার তার কাছে গেলাম। অতঃপর তার দুধ ভাই তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি একটি পাত্র আনালেন যা ছিল এক সা' পরিমাণ। তারপর তিনি গোসল করলেন। আমাদের এবং তার মধ্যে পর্দা ছিল। তিনি তার মাথায় তিনবার পানি ঢানলেন। আবূ সালামাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীগণ মাথার চুল কেটে রাখতেন তা ওয়াফরা এর ন্যায় হয়ে যেত (ঘাড় বরাবর লম্বা চুলই ওয়াফরা)।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন গোসল করতেন তখন ডানদিক থেকে শুরু করতেন। তিনি প্রথমেই ডান হাতে পানি ঢেলে তা ধুয়ে ফেলতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে শরীরের যেখানে নাপাকী থাকত সেখানে পানি ঢেলে দিতেন এবং বাম হাত দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতেন। এটা শেষ করে তিনি মাথায় পানি ঢালতেন। আয়িশাহ বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়েই অপবিত্র অবস্থায় একই পাত্র থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তিনি এবং নবী (ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতেন যাতে তিন মুদ বা তার সমপরিমাণ পানি ধরত।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। আমাদের দু'জনের হাত ভিন্ন ভিন্নভাবে তাতে লাগত। এ গোসল ছিল অপবিত্রতা থেকে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম যা আমার এবং তার মাঝখানে থাকত। তিনি আমার থেকে আগে তাড়াতাড়ি করে ফেলতেন। তখন আমি বলতাম, আমার জন্যে একটু রেখে দিন, আমার জন্য একটু রেখে দিন। তিনি [আয়িশাহ] বলেন যে, তারা উভয়েই অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ আমাকে বলেন যে, তিনি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্রে গোসল করতেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাইমুনাহ এর উদ্ধৃত্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্রে অপবিত্রতার গোসল করতেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাচ মাককূক পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মাককুক পানি দিয়ে ওযু করতেন। আর ইবন আল মুসান্না বলেছেনঃ পাচ মাককূক দ্বারা গোসল করতেন এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবন মুআয আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি 'ইবন জাবর' শব্দটি উল্লেখ করেননি। (মাককূক ও মুদ পৌনে এগার ছটাক পরিমাণ এবং এক সা' দু'সের এগার ছটাকের পরিমাণ)

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মুদ পানি দিয়ে ওযু করতেন এবং এক সা থেকে পাচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন।

আবূ কামিল আল জাহদারী ও আমর ইবন আলী .... সাফীনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সা পানিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপবিত্রতার গোসল সম্পন্ন হয়ে যেত এবং এক মুদ্ পানিতে ওযু হয়ে যেত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আলী ইবন হুজুর .... সাফীনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবা আবূ বকর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা' পানি দিয়ে গোসল এবং এক মুদ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন (ওযু) করতেন। আর ইবন হুজুর তার বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অথবা তিনি বলেছেন, এক মুদ (পানি) তাকে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করতেন। তিনি (আবূ রাইহানাহ) বলেনঃ সাফীনাহ অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তাই আমি তার বর্ণিত হাদীসের উপর নির্ভর করতে পারি না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জুবায়র ইবন মুতাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে লোকেরা গোসল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করল। কেউ কেউ বলল, আমি তো এ পরিমাণ পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তো আমার মাথায় তিন কোষ পানি ঢেলে থাকি।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জুবায়র ইবন মুতাইম থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কাছে একবার অপবিত্রতা থেকে গোসলের আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, আমি তো আমার মাথায় তিনবার পানি ঢেলে দেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসমাঈল ইবন সালিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দল এসে নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলঃ আমাদের এলাকাটি অত্যন্ত শীতপ্রধান, সেখানে আমরা (অপবিত্রতার) গোসল কিভাবে করব? তিনি বললেন, আমি তো আমার মাথায় তিনবার পানি ঢেলে থাকি। ইবন সালিম হুশায়ম ও আবূ বিশর এর মাধ্যমে তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দল এসে 'হে আল্লাহর রাসূল' বলে সম্বোধন করে বলেছিল।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অপবিত্রতার গোসল করার সময় মাথায় তিন আজলা পানি ঢালতেন। হাসান ইবন মুহাম্মদ তাকে (জাবিরকে) বললেন, আমার মাথায় তো চুল অনেক (কাজেই এটুকু পানি তো আমার জন্যে যথেষ্ট নয়) জবাবে জাবির বললেন, ভাতিজা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথায় চুল তোমার চেয়ে অনেক বেশি এবং উত্তম ও পরিচ্ছন্ন ছিল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, না। বরং তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিয়ে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে।

আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবন হুমায়দ এর সূত্রে এ সনদে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবদুর রাযযাকের হাদীসে রয়েছে যে, "আমি কি তা হায়িয ও অপবিত্রতা থেকে গোসলের জন্যে খুলব? তিনি বললেন, না"। এরপর ইবন উয়াইনার (উপরোক্ত) হাদীসের অনুরূপ।

আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী এর সূত্রে আইয়ুব ইবন মূসা হতে এ সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। সেখানে উল্লেখ আছে যে, "আমি কি তা খুলে অপবিত্রতা থেকে গোসল করব?" সেখানে তিনি হায়িযের কথা উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন শাইবাহ ও আলী ইবন হুজুর .... উবায়দ ইবন উমায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আয়িশাহ এর নিকটে খবর পৌছল যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর স্ত্রীলোকদেরকে গোসলের সময় তাদের মাথার চুল (বেনী) খোলার আদেশ দিয়ে থাকেন। এ কথা জানার পর আয়িশাহ বললেন, আশ্চর্য লাগে ইবন আমর এর মতো লোক মেয়েদেরকে গোসলের সময় মাথার চুল খোলার আদেশ করেন। তাহলে তো তিনি তাদেরকে মাথার চুল মুড়ে ফেলার আদেশ দিতে পারেন। অথচ আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সাথে একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে অপবিত্রতার গোসল করেছি। এ সময় আমি আমার মাথায় তিন কোষ (দুই হাতের তালুর) অধিক পানি ঢালিনি।

আমর ইবন মুহাম্মাদ আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করল যে, কিভাবে সে তার হায়িয থেকে গোসল করবে? হাদীসের রাবী বলেন, আয়িশাহ্ উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভদ্রমহিলাকে সে কিভাবে গোসল করবে, তা শিখিয়ে দিলেন তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা ব্যবহার করবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বলল, এ সুগন্ধ যুক্ত কাপড় দ্বারা আমি কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেন, তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! (এত সোজা কথাও বুঝ না)। এরপর তিনি (মুখ) সরিয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ নিজ মুখের ওপর হাত দিয়ে আমাদেরকে ইশারা করে দেখালেন। আয়িশাহ বলেন, আমি তাকে আমার দিকে টেনে আনলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমি বুঝে ফেললাম। অতঃপর আমি (মহিলাটিকে) বললাম, তুমি তা (সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা) রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) বুলিয়ে নিবে। ইবন উমার তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, তিনি বলেনঃ আমি বললাম, রক্তের স্থানে সুগন্ধযুক্ত কাপড়টি বুলিয়ে দিন।

আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল যে, আমি তুহুর-এর (হায়িয থেকে পবিত্রতার) সময় কিভাবে গোসল করব তিনি বললেন, এক টুকরো সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা নিবে তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। এরপর সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। একদা আসমা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হায়িযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ পানি এবং বরই এর পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালভাবে নাড়াচড়া করবে যাতে পানি সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে যায়। তারপর তার উপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল, তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আয়িশাহ তাকে যেন চুপি চুপি বলে দিলেন, রক্ত বের হবার জায়গায় তা বুলিয়ে দিবে। সে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, পানি নিয়ে তার দ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে নাড়াচড়া করবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিবে। আয়িশাহ বললেন, আনসারদের মহিলারা কত ভাল লজ্জা তাদেরকে দীন এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ হতে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। অতঃপর তিনি আড়াল করলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতু শাকাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ যখন হায়িয থেকে পবিত্র হবে তখন সে কিভাবে গোসল করবে? এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসটির মধ্যে অপবিত্রতার গোসলের কথা উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ বলেন, ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইসতিহাযাহ বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত নারী। কখনো এ রোগ থেকে মুক্ত হই না। তাই আমি এ সালাত আদায় করা কি ছেড়ে দিব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ না, তুমি সালাত আদায় ছাড়বে না। কেননা, এ হায়িয না বরং একটি শিরা-নিঃসৃত রক্ত। তাই যখন হায়িয দেখা দিবে তখন শুধু সালাত আদায় করবে না। আর যখন হায়িয ভাল হয়ে যাবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জারীর থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ ইবন আবদুল মুত্তালিব ইবন আসাদ যিনি আমাদের বংশের একজন মহিলা ছিলেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। আর হাম্মাদ ইবন যায়দ এর হাদীসে একটা অক্ষর অতিরিক্ত ছিল, আমরা তা উল্লেখ করিনি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মাসআলা জানতে চেয়ে বলল, আমার ইসতিহাযাহ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওটা হল একটা রগের (ধমনী) রক্ত। তাই তুমি গোসল করে ফেলবে তারপর সালাত আদায় করবে। এরপর সে প্রতি সালাতের সময়ই গোসল করত। রাবী লায়স ইবন সা'দ বলেন, ইবন শিহাব এ কথা উল্লেখ করেননি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু হাবীবাহকে প্রত্যেক সালাতের সময়ই গোসলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বরং এটা সে নিজের থেকেই করত। ইবন রূমহ তার বর্ণনায় জাহশের কন্যার কথা বলেছেন, উম্মু হাবীবার নাম উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শ্যালিকা এবং আবদুর রহমান ইবন আওফ এর স্ত্রী হাবীবাহ বিনতু জাহশ সাত বৎসর যাবৎ ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাইলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা হায়িয নয়; বরং ধমনীর (রগের) রক্ত। তাই তুমি গোসল করে ফেল এবং সালাত আদায় কর। আয়িশাহ বলেন, এরপর তিনি তার বোন যাইনাব বিনতু জাহশ এর ঘরে একটি পাত্রের মধ্যে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেত। ইবন শিহাব বলেন, আমি এ হাদীসটি আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম এর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা হিন্দ এর ওপর রহমত করুন। সে যদি এ ফাতাওয়া (মাসআলাহ) শুনতে পেত। আল্লাহর কসম! সে শুধু কাঁদত। কারণ সে সালাত আদায় করত না (এ মাসআলা তার জানা ছিল না। ফলে সালাত আদায় করতে না পারার কারণে কাঁদত)।

আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবন জা'ফার ইবন যিয়াদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলো। আর সাত বৎসর ধরে তার ইসতিহাযাহ চলছিল। এরপর রাবী আবূ ইমরান আমর ইবন হারিসের হাদীসের অনুরূপ "এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেত" পর্যন্ত বর্ণনা করেন এর পরবর্তী অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। জাহশ এর কন্যার সাত বৎসর যাবৎ ইসতিহাযাহ ছিল। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। এরপর আয়িশাহ বলেন, আমি তার পাত্র দেখেছি রক্তে পরিপূর্ণ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার হায়িয যে কয়দিন হয়, সে কয়দিন পরিমাণ তুমি অপেক্ষা কর। তারপর গোসল করে ফেল এবং সালাত আদায় কর।

মূসা ইবন কুরায়শ আত তামীমী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আবদুর রহমান ইবন আওফ এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তার রক্ত প্রদরের অসুবিধার কথা বলল। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মাসিক ঋতুর মেয়াদ পরিমাণ অপেক্ষা কর, এ সময়ে সালাত আদায় করবে না। এ সময় পার হলে তুমি গোসল করবে এরং সালাত আদায় করবে। তাই তিনি প্রত্যেক সালাতের সময়ই গোসল করতেন।

আবূ রাবী আয যাহরানী ও হাম্মদ .... মুআযাহ্ থেকে বর্ণিত। জনৈক মহিলা আয়িশাহ কে প্রশ্ন করল, আমাদের কেউ কি তার হায়িযের দিনগুলোর সালাত কাযা করবে? আয়িশাহ বললেন, তুমি কি হারূরিয়্যাহ' (খারিজীয়া)? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমাদের কারো হায়িয হলে পরে তাকে (সালাত) কাযা করার নির্দেশ দেয়া হতো না।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... মুআযাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ কে প্রশ্ন করলেন, ঋতুবতী মহিলা কি সালাত কাযা করবে? আয়িশাহ বললেন, তুমি কি হারূরিয়্যাহ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পত্নীগণের হায়িয হত, তিনি কি তাদেরকে (সালাত) কাযা করার হুকুম দিয়েছেন? মুহাম্মদ ইবন জাফার বলেনঃ সালাত কাযা করা।

আবদ ইবন হুমায়দ .... মুআযাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে প্রশ্ন করলাম, ঋতুবতী মহিলা সওম কাযা করবে এবং সালাত কাযা করবে না এটা কেমন কথা? তিনি বললেন, তুমি কি হারূরিয়্যাহ? আমি বললাম, আমি হারূরিয়্যাহ নই; বরং আমি (জানার জন্যই কেবল) জিজ্ঞেস করছি। তিনি আয়িশাহ বললেন, আমাদের এরূপ হত। তখন আমাদেরকে কেবল সওম কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত, সালাত কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন আমি তাকে এ অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন, আর তার কন্যা ফাতিমা একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে রেখেছিল।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন আল মুহাজির .... উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। তিনি তখন মক্কার উচু এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসল করতে গেলে ফাতিমা তাকে আড়াল করেন। এরপর তিনি নিজের কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন। তারপর আট রাকাআত চাশতের সালাত আদায় করলেন।

আবূ কুরায়ব .... সাঈদ ইবন আবূ হিন্দ হতে এ সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর তিনি বলেন, এরপর তার কন্যা ফাতিমা তার কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে রেখেছিল। গোসল শেষে তিনি ঐ কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন। তারপর দাড়িয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর সেটা ছিল চাশতের সময়।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... মাইমুনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে পানি রাখলাম এবং তাকে আড়াল করলাম। এরপর তিনি গোসল করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন পুরুষ অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না এবং কোন মহিলা অপর মহিলার লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নীচে (উলঙ্গ অবস্থায়) ঘুমাবে না এবং কোন মহিলা অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ের নীচে ঘুমাবে না।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যাহহাক ইবন উসমান এর সূত্রে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উলঙ্গ অবস্থায় পুরুষ পুরুষের দিকে এবং নারী নারীর দিকে তাকাতে পারবে না এবং একই বিছানায় ঘুমাবে না।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকটি হাদীসের উল্লেখ করে বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বনী ইসরাঈলগণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করত একে অপরের লজ্জাস্থানের দিকে দেখত। আর মূসা গোসল করতেন একাকী। তাই তারা বলাবলি করত, আল্লাহর কসম! মূসা আমাদের সাথে গোসল করে না কারণ তার একশিরা রোগ হয়েছে। একবার তিনি গোসল করতে গিয়ে একটি পাথরের ওপর তার কাপড় রাখলেন। এরপর পাথরটি তার কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। রাবী বলেন, মূসা তার পিছু পিছু ছুটলেন আর বলতে লাগলেন, পাথর! আমার কাপড়, পাথর! আমার কাপড়। এমনিভাবে বনী ইসরাঈলগণ মূসা-এর লজ্জাস্থান দেখে ফেলল এবং তারা বলল, আল্লাহর কসম! মূসার তো কোন খুত নেই। এরপর পাথর দাড়িয়ে গেল এবং তাকে দেখে নিল। রাবী বলেন, এরপর তিনি তার কাপড় তুলে নিলেন এবং (রাগে) পাথরকে মারতে শুরু করে দিলেন। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আল্লাহর কসম! পাথরের ওপর মূসা এর আঘাতের ছয়টি কি সাতটি চিহ্ন রয়েছে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমূন ও ইসহাক ইবন মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কাবাহ তৈরি করা হচ্ছিল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আব্বাস পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আব্বাস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, পাথর বহনের সুবিধার্থে তোমার লুঙ্গি কাঁধের উপর তুলে নাও। এরপর তিনি এরূপ করলেন। সাথে সাথেই তিনি (বেহুশ হয়ে) মাটিতে পড়ে গেলেন। আর তার উভয় চোখ আকাশের দিকে নিবদ্ধ হল। তারপর তিনি দাড়িয়ে বললেন, আমার লুঙ্গি আমার লুঙ্গি। এরপর তার লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। ইবন রাফি তার রিওয়ায়াতে কাঁধের স্থলে ঘাড়ের উল্লেখ করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সাথে কাবাহ মেরামতের জন্যে পাথর বয়ে নিচ্ছিলেন। আর তার পরনে ছিল লুঙ্গি। এরপর তার চাচা আব্বাস তাকে বললেন, ভাতিজা! তোমার লুঙ্গি খুলে যদি কাঁধের উপর পাথরের নিচে রেখে নিতে (তাহলে ভাল হত)। তিনি লুঙ্গি খুলে তার কাঁধের ওপর রাখলেন। সাথে সাথেই তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। জাবির বলেন, সেদিনের পর থেকে আর কখনো তাকে উলঙ্গ দেখা যায়নি।

সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি ভারী পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আর তখন আমার পরনে ছিল একটি পাতলা লুঙ্গি। তিনি বলেন, এরপর আমার লুঙ্গি খুলে গেল। পাথরটি তখন আমার কাছে ছিল। তাই আমি লুঙ্গি তুলে নিতে পারলাম না। এমনিভাবে আমি পাথরটি যথাস্থানে নিয়ে গেলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার কাপড়ের কাছে ফিরে গিয়ে তা নিয়ে এসো। আর কখনো উলঙ্গ হয়ে চলবে না।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার সওয়ারীর পিছন দিকে বসালেন এবং আমাকে চুপে চুপে এমন একটি কথা বললেন যা আমি কাউকে কখনও বলব না। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করার সময় উচু টিলা অথবা ঘন গাছগাছালির দ্বারা ঢাকা স্থানকে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। ইবন আসমা তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, খেজুর বাগানের আড়ালে মানবীয় প্রয়োজন সমাধা করাটাই বেশি পছন্দ করতেন।

ইয়াহইয়াহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুর রহমান ইবন আবূ সাঈদ আল খুদরী তার পিতা আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেছেন, কোন এক সোমবারে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে গেলাম। আমরা বানু সালিম গোত্রের মহল্লায় পৌছলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতবান এর বাড়ীর গেইটে দাড়ালেন এবং তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পরনের লুঙ্গি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হয়ে আসলেন। এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ইতবান বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং তাতে বীর্যপাত না হয় তখন তাকে কি করতে হবে? (তাকে গোসল করতে হবে কিনা?) জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, পানির (ধাতু বের হলে) দ্বারা পানি (গোসল) ফরয হয়।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবূল আলা ইবন শিখখীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক হাদীস অপর হাদীসকে মানসুখ (রহিত) করে দিত যেমনিভাবে কুরআনের এক আয়াত অপর আয়াতকে মানসুখ করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না এবং ইবন বাশশার ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসারীর (বাড়ীর) সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে সংবাদ পাঠালেন। সে বেরিয়ে এলো আর তার মাথা থেকে তখন ফোটা ফোটা পানি ঝরছিল। তিনি (ﷺ) বললেন, সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলেছি। সে বলল, হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, যখন (কোন কারণে) তোমাকে তাড়াতাড়ি (বীর্য বের হবার আগেই উঠে পড়তে হয়) অথবা বীর্য বের হতে বাধাপ্রাপ্ত হও তখন তোমার উপর গোসল করা (ফরয) নয় বরং তোমার উপর শুধু ওযু করা জরুরী। আর ইবন বাশশার বলেন, যখন তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলা হয়েছে। বা তোমাকে বীর্যপাত করতে বাধা দেয়া হয়েছে।

আবূ রাবী আয যাহরানী .... উবাই ইবন কাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করলাম সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে স্ত্রী সহবাস করে (অথচ) তারপর বীর্যপাত হলো না। তিনি বললেন, স্ত্রীর (লজ্জাস্থান) থেকে তার (লজ্জাস্থানে) যা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলবে। তারপর ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তারপর বীর্যপাত হয় না- তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন যে, সে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করবে।

যুহায়র ইবন হারব ও আবূদ ইবন হুমায়দ .... যায়দ ইবন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণিত। একদা তিনি উসমান ইবন আফফান কে প্রশ্ন করেন, কোন লোক যদি তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে এবং বীর্যপাত না হয় তাহলে তার হুকুম কি? উসমান বললেন, সে সালাতের ওযুর মতো ওযু করে নিবে এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান বলেন, আমি এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি।

আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ .... আবূ আইয়ূব থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমন শুনেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যখন কেউ তার স্ত্রীর চার-হাত পায়ের মাঝখানে বসবে এবং তার সাথে মিলবে তখন তার উপর গোসল ফরয হবে। মাতার-এর হাদীসে 'যদিও বীর্য বের না করে'- বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে। যুহায়র বলেছেন, তাদের মধ্য হতে কেউ যদি নারীর চার শাখার মধ্যে বসে।

মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আব্বাদ ইবন জাবালাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না এর সূত্রে কাতাদাহ্ হতে অবিকল বর্ণিত রয়েছে। তবে শুবার হাদীসে এরপর মিলিত হয় কথাটির উল্লেখ আছে। কিন্তু যদিও বীর্য বের না হয়"- কথাটি বর্ণনা নেই।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাজির ও আনসারদের একটি দল এ ব্যাপারে মতবিরোধ করল। আনসারগণ বলল, জোরে অথবা স্বাভাবিক গতিতে পানি (বীর্য) বের না হলে গোসল ফরয হয় না। আর মুহাজিরগণ বলল, স্ত্রীর সঙ্গে শুধু মিললেই গোসল ফরয (বীর্য বের হোক বা না হোক) আবূ মূসা বললেন, আমি এ ব্যাপারে তোমাদেরকে শান্ত করছি। এরপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশাহ এর কাছে (প্রবেশের) অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হল। আমি তাকে বললাম, মা! অথবা (তিনি বলেছিলেন) হে মুমিনদের মা! আমি আপনার কাছে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করছি। তিনি বললেন, তুমি তোমার গর্ভধারিণী মাকে যে ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারতে সে ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করতে লজ্জাবোধ করো না। আমি তো তোমার মা। আমি বললাম, গোসল কিসে ফরয হয়? তিনি বললেন, জানা-কোন লোকের কাছেই তুমি প্রশ্ন করেছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন কোন পুরুষ স্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝখানে বসবে এবং একের লজ্জাস্থান অপরের লজ্জাস্থানের সাথে লাগবে তখন গোসল ফরয হবে।

হারূন ইবন মারূফ ও হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কোন এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করল- যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে, অতঃপর বীর্য বের হবার আগেই তার পুরুষাঙ্গ বের করে ফেলে তাহলে কি তাদের উভয়ের উপর গোসল ফরয হবে? এ সময়ে আয়িশাহ সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি এবং আয়িশাহ ঐরূপ করি, এরপর আমরা গোসল করে ফেলি।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব .... যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে ওযু করতে হবে।

ইবন শিহাব বলেন, উমার ইবন আবদুল আযীয তাকে বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কারিয তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি একদিন আবূ হুরাইরাহ কে মসজিদের সামনে ওযু করতে দেখেছেন। আবূ হুরাইরাহ বললেন, আমি কয়েক টুকরো পনির খেয়েছি, তাই ওযু করছি। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তোমরা আগুনে রান্না করা খাবার খেলে ওযু করবে।

ইবন শিহাব বর্ণনা করেছেন, আমি সাঈদ ইবন খালিদ ইবন আমর ইবন উসমান এর কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে ওযু করা সম্পর্কে উরওয়াহ ইবন যুবায়রকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, তোমরা আগুনে রান্না করা খাবার খেয়ে ওযু করবে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন তারপর সালাত আদায় করলেন কিন্তু ওযু করলেন না।

যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হাড়ে লাগানো গোশত অথবা গোশত খেলেন। তারপর সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযু করলেন না এবং পানিও স্পর্শ করলেন না।

মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ .... আমর ইবন উমাইয়্যাহ আয যামরী হতে বর্ণিত। তিনি একবার দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বকরীর কাঁধের গোশত কেটে খাচ্ছেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন আর ওযু করলেন না।

আহমাদ ইবন ঈসা .... আমর ইবন উমাইয়্যাহ আয যামরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম তিনি একটি বকরীর কাধের গোশত (ছুরি দিয়ে) কাটছেন। এরপর তিনি তা খেলেন। ইতিমধ্যেই সালাতের জন্যে ডাকা হল। তিনি তখন দাড়িয়ে গেলেন এবং ছুরিটি ফেলে দিলেন এবং সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযু করলেন না। ইবন শিহাব বলেন, আলী ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তার পিতা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আমর বলেন, বুকায়র ইবন আল আশাজ্জ কুরায়ব এর সূত্রে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমূনাহ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তার কাছে বসে কাঁধের গোশত খেলেন, তারপর সালাত আদায় করলেন কিন্তু ওযু করলেন না।

আমর বলেন, জাফার ইবন রাবীআহ .... ইয়াকুব ইবন আল আশাজ্জ কুরায়ব এর সূত্রে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমুনাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আমর বলেন, সাঈদ ইবন আবূ হিলাল-এর সূত্রে আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে বকরীর পেটের গোশত ভুনা করতাম (তিনি তা খেতেন) তারপর পুনরায় ওযু না করেই সালাত আদায় করতেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার দুধ পান করলেন। তারপর পানি আনালেন। এরপর কুলি করলেন এবং বললেন, এতে তৈলাক্ত পদার্থ রয়েছে।

আহমাদ ইবন ঈসা, যুহায়র ইবন হারব, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া প্রত্যেকেই ইবন শিহাব থেকে উকায়ল এর সনদে যুহরী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আলী ইবন হুজুর .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার কাপড় পরে সালাতের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কিছু রুটি ও গোশত উপঢৌকন এলো। এরপর তিনি (সেখান থেকে) তিন লুকমা খেলেন। তারপর লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং পানি স্পর্শও করলেন না।

আবূ কুরায়ব .... মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন ইবন আব্বাস এর সাথে ছিলাম। তারপর তিনি ইবন হালহালাহ এর হাদীস (উপরোক্ত হাদীস) এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, ইবন আব্বাস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমন করতে দেখেছেন। আর এ হাদীসের রাবী শুধু সালাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। লোকদেরকে নিয়ে কথাটির উল্লেখ করেননি।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বকরীর গোশত খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা ওযু করতে পার আর নাও করতে পার। সে বলল, আমি কি উটের গোশত খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, হ্যা, উটের গোশত খেয়ে তুমি ওযু করবে। সে বলল, আমি কি বকরীর ঘরে সালাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যা। সে বলল, আমি কি উটের ঘরে সালাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও কাসিম ইবন যাকারিয়্যা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সনদে জাবির ইবন সামুরাহ হতে আবূ কামিল এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব এবং আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আব্বাদ ইবন আত তামীম তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলেন সালাতের মধ্যে যার এমন মনে হয় যেন কিছু (বায়ু) বের হল। তিনি (ﷺ) বললেন, সে (সালাত ছেড়ে) যাবে না যতক্ষণ না (বায়ু বের হবার) শব্দ শুনবে অথবা (তার) গন্ধ পাবে। আবূ বকর ও যুহায়র ইবন হারব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেন যে, ঐ ব্যক্তি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন যায়দ।

যুহারর ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু অনুভব করে তারপর তার সন্দেহ দেখা দেয় যে, পেট থেকে কিছু বের হল কি না। তখন সে যেন মাসজিদ থেকে কখনো বের না হয় যতক্ষণ না শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়। (ওযু ভঙ্গের পূর্ণ বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত যেন বের না হয়।)

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমর ... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ এর দাসীকে কেউ একটি বকরী সাদাকা দিল। পরে সে বকরীটি মারা যায়। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মরে পড়ে থাকা বকরীটির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থা দেখে তিনি বললেন, তোমরা কেন এর চামড়া খুলে নিয়ে তা পাকা করে তা দিয়ে উপকৃত হও না? সাহাবাগণ বললেন, এটা যে মৃত। তিনি বললেন, (তাতে কি) এটা খাওয়া হারাম (চামড়া ব্যবহার করা তো হারাম নয়)। আবূ বকর ও ইবন আবূ উমার মাইমুনাহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি মৃত বকরী দেখলেন যা মাইমূনাহ এর দাসীকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন? সাহাবাগণ বললেন, এটা তো মৃত। তিনি বললেন, এটা তো খাওয়া হারাম।

হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ এ সনদে ইউনুস এর রিওয়ায়াতের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন আবূ উমার ও আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আয যুহরী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফেলে দেয়া একটি মরা বকরীর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন যা মাইমুনাহ এর দাসীকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা এর চামড়া কেন খুলে নিল না? চামড়াটি পাকা করে তা দিয়ে উপকৃত হত।

আহমাদ ইবন উসমান আন নাওফালী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। মাইমুনাহ তাকে জানান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন এক স্ত্রীর একটি পালিত বকরী ছিল সেটি মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কেন এর চামড়া খুলে নিচ্ছ না সেটা দিয়ে উপকৃত হতে!

আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাইমুনাহ্ এর দাসীর একটি মরা বকরীর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন?

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

ইসহাক ইবন মানসূর ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .. আবূল খায়র (মারসাদ ইবন আবদুল্লাহ আল ইয়াযানী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন আমি ইবন ওয়া'লাহ আস সাবায়ীর গায়ে একটা নরম পশমের তৈরি জামা দেখে তা স্পর্শ করে দেখলাম। তখন তিনি বললেন, কি ব্যাপার স্পর্শ করে দেখছো যে? (নাপাক মনে করছে নাকি!) আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম, আমরা মাগরিবে (মরক্কো) বাস করি। আমাদের সাথে বার্বার এবং অগ্নিপূজকরাও বাস করে। তাদের যাবাহ করে মেষের পোশাক আমাদের কাছে আসে। অথচ আমরা তাদের যাবাহ করা পশুর গোশত খাই না। তারা আমাদের জন্য চর্বি ভর্তি মশকও নিয়ে আসে। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, আমরা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, চামড়া পাকা করলে পবিত্র হয়ে যায়।

ইসহাক ইবন মানসূর ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... ইবন ওয়া'লাহ আস্ সাবায়ী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমরা পশ্চিম দেশে থাকি। সেখানে আমাদের কাছে অগ্নিপূজকরা মশক নিয়ে আসে, সেটাতে পানি এবং চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে (আমরা সেগুলো ব্যবহার করব কি?)। তিনি বললেন, তা পান করে নাও। আমি বললাম, এটা কি আপনার নিজের অভিমত? ইবন আব্বাস বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া পাকা (দাবাগাত) করলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন এক সফরে আমরা তার সাথে বের হলাম। আমরা যখন বাইদা অথবা বাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমার হার খুলে পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খোজ করতে সেখানে থামালেন। আর লোকজনও তার সাথে সাথে থামালেন। তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি ছিল না এবং তাদের নিজেদের কাছেও পানি ছিল না। অতঃপর লোকজন আবূ বকর এর কাছে এসে বলতে লাগল, আপনি দেখছেন না আয়িশাহ কি করল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আটকে দিয়েছে এবং সে সাথে সমস্ত লোককে আটকে রেখেছে। অথচ তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি নেই আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে। অতঃপর আবূ বকর আমার কাছে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি এসে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং সমস্ত লোকজনকে আটকে রেখেছ। অথচ না তারা পানির কাছাকাছি রয়েছে, আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর আবূ বকর আমাকে ভৎসনা করলেন এবং যতদূর বলার বললেন। তিনি তার হাত দিয়ে আমার পাজরে আঘাত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়তেও পারলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়েই রইলেন। এমনি করে পানি বিহীনভাবে সকাল হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তারা তয়াম্মুম করলেন তখন উসায়দ ইবন হুযায়র যিনি ছিলেন নকীব (দলপতি)-দের অন্যতম বললেন, হে আবূ বকর পরিবার! এটাই আপনার প্রথম বারাকাত নয়"। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটিকে চলার জন্যে উঠালাম। তখন উক্ত হারটি তার নীচে পাওয়া গেল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আসমা থেকে একটি হার ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর তা হারিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবাদের মধ্যে কিছু লোককে খুজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সালাতের সময় হয়ে গেল। তখন তারা ওযু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসায়দ ইবন হুযায়র বললেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে (আয়িশাহ) উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার ওপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে তখন আল্লাহ তাআলা আপনার জন্যে এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্যে তাতে বারাকাত রেখেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবী শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... শাকীক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) ও আবূ মূসা এর কাছে বসেছিলাম। তখন আবূ মূসা বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান! কোন লোক যদি জুনুবী হয় (যার ফলে তার গোসল ফরয হয়) এবং সে এক মাস যাবৎ পানি না পায় তাহলে সে কিভাবে সালাত আদায় করবে? আবদুল্লাহ বললেন, সে তায়াম্মুম করবে না যদিও একমাস পানি না পায়। আবূ মূসা বললেন, তাহলে সূরাহ মায়িদাহ এর এ আয়াত- .... "যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর"- (মায়িদাহ ৫: ৬) এর কি হবে? আবদুল্লাহ বললেন, এ আয়াতের দ্বারা তাদেরকে যদি তায়াম্মমের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌছবে যে) পানি ঠাণ্ডাবোধ হলে তারা মাটি দিয়ে তায়াম্মুম শুরু করবে। আবূ মূসা তখন আবদুল্লাহ-কে বললেন, আপনি কি আম্মার-এর বর্ণনা শোনেননি (তিনি বলেন) যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন এক প্রয়োজনে পাঠালেন। (পথিমধ্যে) আমি অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম না। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম চতুষ্পদ জন্তু যেভাবে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এ ঘটনা বললাম। তিনি বললেন, তোমার জন্যে দু'হাত দিয়ে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তার দু'হাত একবার মাটিতে মারলেন। তারপর বামহাত দিয়ে ডানহাত মাসাহ করলেন এরং উভয় হাতের কব্জির উপরিভাগ ও মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখনি যে, উমার আম্মার এর কথা যথেষ্ট মনে করেননি?

আবূ কামিল আল জাহদারী .... শাকীক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আবদুল্লাহ কে বললেন, এরপর আবূ মুআবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার জন্যে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল- এ বলে তিনি তার উভয় হাত মাটিতে মারলেন। অতঃপর ঝেড়ে মুখমণ্ডল এবং উভয় হাতের কব্জি মাসাহ করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন হাশিম আল আবদী .... আবদুর রহমান ইবন আবযা হতে বর্ণিত। এক লোক উমার এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি কিন্তু পানি পাইনি (তখন কি করব?)। তিনি বললেন, তুমি সালাত আদায় করো না। তখন আম্মার বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমি ও আপনি কোন এক অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উভয়েই অপবিত্র হয়ে পড়লাম। আর কোথাও পানি পেলাম না তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ঘটনা জানালে তিনি বললেন, তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি দু'হাত জমিনে মারতে তারপর ফুক দিয়ে আলগা ধুলা ফেলে দিতে তারপর উভয় হাতের কব্জি দ্বারা মাসাহ করতে তোমার দু'হাতে ও চেহারা"। উমার বললেন, "আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর"। তিনি [আম্মার] বললেন, "আপনি চাইলে আমি এটা আর বর্ণনা করব না"। হাকাম বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবযার পুত্র তার পিতা আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যার এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর উমর বললেন, তোমার বর্ণনার দায়-দায়িত্ব তোমার উপর।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুর রহমান ইবন আবযা থেকে বর্ণিত। এক লোক উমার এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি এবং পানি পাইনি (তখন কি করব?) এরপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত আছে যে, আম্মার বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহ তাআলার আমার ওপর আপনার যে হক রেখেছেন (আপনাকে খলীফা বানিয়েছেন) তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলছি। আপনি চাইলে আমি আর কারো কাছে এটা বর্ণনা করব না এবং সালামাহ্ আমার কাছে যার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন কথাটি উল্লেখ করেনি।

মুসলিম বলেন, লায়স ইবন সাদ এর সূত্রে ইবন আব্বাস এর মুক্তকৃত দাস উমায়র থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছেন যে, আমি এবং উন্মুল মুমিনীন মাইমুনাহ এর মুক্তকৃত দাস আবদুর রহমান ইবন ইয়াসার একবার আবূল জাহম ইবন হারিস ইবনস সিম্মা আল আনাসারীর কাছে গেলাম। তখন আবূল জাহম বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বি'রি জামাল (মদীনার নিকটবর্তী একটি স্থান) এর দিক থেকে আসছিলেন, অতঃপর পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে সালাম দিল কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না বরং একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে তার মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ করলেন। তারপর তার সালামের জবাব দিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন প্রস্রাব করছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাম করল। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না।

যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি একবার মদীনার কোন এক রাস্তায় নবী (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবূ হুরাইরাহ) তখন (জানাবাত) অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তিনি আস্তে করে পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। নবী (ﷺ) তাকে খোজ করলেন। যখন তিনি আসলে নবী (ﷺ) বললেন, "হে আবূ হুরাইরাহ তুমি কোথায় ছিলে"? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্রাবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মাজলিসে বসা ভাল মনে করিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হুযাইফাহ থেকে বর্ণিত যে, একদিন অপবিত্র থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়, ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করে পরে এলেন এবং বললেন, আমি জানাবাত (গোসল ফরয হওয়ার কারণে নাপাক) অবস্থায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুসলিম তো নাপাক হয় না!

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা ও ইবরাহীম ইবন মুসা .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাবস্থায়ই আল্লাহর যিকর করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী ও আবূ রাবী আয যাহরানী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পায়খানা থেকে বের হলেন। ইতিমধ্যেই খাবার আনা হল। লোকজন তাকে ওযুর কথা আলোচনা করল। তিনি বললেন, আমি কি সালাত আদায়ের ইচ্ছা করছি যে, ওযু করব?

আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ছিলাম। তিনি পায়খানা থেকে এলেন। খাবার আনা হল। তাকে বলা হল, আপনি কি ওযু করবেন না? তিনি বললেন, কেন? আমি কি সালাত আদায় করছি যে, ওযু করব?

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার পায়খানায় গেলেন। পরে তিনি যখন (পায়খানা সেরে ফিরে) এলেন তখন তার সামনে খাবার দেয়া হল। অতঃপর তাকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ওযু করবেন না? তিনি বললেন, কেন? সালাতের জন্যে?

মুহাম্মাদ ইবন আমূর .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) পায়খানা থেকে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করে আসলে তার সামনে খাবার এনে দেয়া হল। তিনি তা খেলেন, কিন্তু পায়খানা থেকে বের হয়ে পানি স্পর্শও করেননি (ওযু করলেন না)। মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম বললেন, আমর ইবন দীনার সাঈদ ইবন হুওয়াইরিসের মাধ্যমে আমার কাছে এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী (ﷺ) কে বলা হল, আপনি তো ওযু করলেন না? জবাবে তিনি বলেছেনঃ আমি তো এখন সালাত আদায় করছি না যে ওযু করতে হবে? আমর ইবন দীনার বলেছেন যে, তিনি হাদীসটি সাঈদ ইবন হুওয়াইরিস এর নিকট থেকে নিজে শুনেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচাগারে প্রবেশ করার সময় বলতেন, "আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-য়িস" "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুষ্ট পুরুষ ও জিন ও নারী জিন থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল আযীয থেকে অবিকল বর্ণিত রয়েছে। এ বর্ণনায় "আউযু বিল্লা-হি মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-য়িস" এর উল্লেখ আছে।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বণিত। তিনি বলেছেন, একদা সালাতের ইকামাত দেয়া হয়ে গেল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনও এক লোকের সঙ্গে চুপে চুপে আলাপ করছিলেন। লোকেরা বসে বসে ঘুমিয়ে না পড়া পর্যন্ত তিনি সালাতে এসে দাড়াননি। সালাতে দাড়াতে দাড়াতে তার দেরি হওয়ায় লোকেরা (বসে বসে) ঘুমিয়ে পড়েছিল।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন সালাতের জন্যে ইকামাত দেয়া হয়ে গেল। কিন্তু নবী (ﷺ) তখনও এক ব্যক্তির সাথে চুপে চুপে আলাপ করছিলেন। তিনি দীর্ঘক্ষণ আলাপ করলেন। এমনকি সাহাবারা সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি আসলেন এবং তাদের সাথে করে সালাত আদায় করলেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .. কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাগণ ঘুমিয়ে যেতেন তারপর সালাত আদায় করতেন কিন্তু ওযু করতেন না। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেন, আমি কাতাদাহকে বললাম "আপনি কি নিজে আনাস এর কাছ থেকে শুনেছেন"? তিনি বললেন, "হ্যা, আল্লাহর কসম!"

আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখর আদ দারিমী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) ইশার জামাআত দাড়িয়ে গিয়েছিল। তখন এক লোক বলল, আমার কিছু প্রয়োজন আছে। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে তার সাথে আলাপ করতে লাগলেন। তিনি এতক্ষণ ধরে আলাপ করলেন যে, উপস্থিত সকলেই অথবা কিছু লোক ঘুমিয়ে পড়ল (বসে বসে)। তারপর তারা সালাত আদায় করল।