bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মসজিদ ও নামাজের স্থানসমূহ (১০৪৮-১৪৫৫)

আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আবূ যর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! পৃথিবীতে কোন মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি (মাসজিদটি)। তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মাকদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'টি মসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেন) যে স্থানেই সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মাসজিদ। আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই সালাতের সময় হবে তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মাসজিদ।

আলী ইবন হুজর আস সা'দী .... ইবরাহীম ইবন ইয়াযীদ আত তায়মী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে "সাদ্দাহ" মসজিদের দরজার বাইরে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনাতাম। আমি সাজদার আয়াত পড়লে তিনি তখন সিজদা করতেন। আমি তাকে বলতাম, আব্বাজান! আপনি রাস্তায় সিজদা করছেন? তিনি বলতেন, আমি আবূ যার কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম (সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল) আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন মসজিদ (নির্মিত হয়েছিল?) তিনি বললেন, মসজিদুল আকসা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এ দুটি মসজিদের (নির্মিত কাজের) মধ্যে কতদিনের ব্যবধান? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। এছাড়া গোটা পৃথিবীই তো মসজিদ। সুতরাং যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে এমন পাচটি বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোন নবীকে দেয়া হয়নি। প্রত্যেক নবীকে শুধু তার কওমের জন্য পাঠানো হতো। কিন্তু আমাকে সাদা ও কালো সবার জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে। আমার জন্য গনীমাত বা যুদ্ধলব্ধ অর্থ-সম্পদ হালাল করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার পূর্বে আর কারো (কোন নবীর) জন্য তা হালাল ছিল না। আমার জন্য গোটা পৃথিবী পাক-পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সালাতের সময় হলে যে কোন লোক যে কোন স্থানে সালাত আদায় করে নিতে পারে। আমাকে একমাসের পথের দূরত্ব পর্যন্ত অত্যন্ত শান শাওকাত সহকারে (শত্রুও অন্তর ভীতি দ্বারা) সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে শাফাআতের সুযোগ দান করা হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ... অতঃপর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ..... হুযায়ফাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অন্য সব লোকের চেয়ে তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে (উম্মাতে মুহাম্মাদীকে) মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাদের (সালাতের) কাতার বা সারি ফেরেশতাগণের (ফেরেশতাগণের) কাতার বা সারির মতো করা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী আমাদের জন্য মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। আর পানি না পেলে পৃথিবীর মাটিকে আমাদের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করলেন।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ ইবন আলা .... হুযায়ফাহ এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন .... এরপর এ কথা বলে তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমাতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকার এবং মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে।

আবুত ত্বহির ও হারমালাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হলো। আবূ হুরায়রাহ .... (এর ব্যাখ্যা করে) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তো বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছেন আর তোমরা তা আহরণ করে চলেছ।

হাজিব ইবন ওয়ালীদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, অতঃপর ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবুত তহির .... আবূ হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন, আমাকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দান করা হয়েছে। আর একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভণ্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাদ ইবন মুনাব্বিহ বর্ণনা করেন। আবূ হুরায়রাহ .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করে আমাদের শুনালেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে সংক্ষিপ্ত ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও শায়বান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরত করে মদীনায় আগমন করলেন, মাদিনার উচ্চভূমিতে বানী আমর ইবন আওফ গোত্রের এলাকায় অবতরণ করলেন, এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বানী নাজ্জার গোত্রের লোকজনকে ডেকে পাঠালেন তারা সবাই (খোলা) তরবারিসহ আগমন করলো। হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি যেন রসূলল্লাহ (ﷺ) কে তার সওয়ারী বা বাহনের উপর দেখতে পাচ্ছি। আবূ বকর তার পিছনে বসে আছেন এবং বানী নাজারের লোকজন তাকে ঘিরে আছে। অবশেষে তিনি আবূ আইয়ুবের (আনসারী) বাড়ীর আঙ্গিনায় অবতরণ করলেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেছেন, সালাতের সময় হলেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করে নিতেন। এমনকি তিনি বকরীর খোয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। পরে তিনি মসজিদ নির্মাণ করতে আদিষ্ট হলে বানী নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকদের ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এ বাগানটি অর্থের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করো। তারা বললো না, আল্লাহর শপথ, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া আপনার কাছে এর মূল্য দাবী করব না। আনাস বলেন, ঐ বাগানটিতে যা ছিল তা আমি বর্ণনা করছি, ঐ বাগানে ছিল খেজুর গাছ, মুশরিকদের কিছু কবর এবং কিছু ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তুপ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো। তারা (কর্তিত) খেজুর গাছের গুড়িসমূহ কিবলার দিকে সারি করে রাখল এবং দরজার দু'পাশে পাথর স্থাপন করল। আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেছেন। এসব কাজ করার সময় তারা একসুরে কবিতা আবৃত্তি করছিল। আর তাদের সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) একস্থানে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তারা বলছিল, "হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কোন কল্যাণ নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করো।"

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরীর খোয়াড়েও সালাত আদায় করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরে বর্ণিত হাদীসটির বিষয়বস্তুর অনুরূপ করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআন মাজীদের আয়াত "ওয়া হায়সু মা কুনতুম ফাওয়াল্লু উজুহাকুম শাত্বরাহ্" (এখন যেখানেই তোমরা অবস্থান করো না কেন, ঐ (কাবাহ ঘরের) দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা ষোল মাস যাবৎ বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নবী (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। নবী (ﷺ) সালাত আদায়ের পর এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। তখন সবার মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি উঠে রওয়ানা হলো। সে সালাতরত একদল আনসারের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তারা সবাই (সালাতরত অবস্থায়ই) মুখ ফিরিয়ে বায়তুল্লাহ বা কাবাহ ঘরের দিকে করে নিলো।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন খল্লাদ .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। আমরা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে ষোল কিংবা সতের মাস পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। এরপর আমাদেরকে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়। ষোল কিংবা সতের মাস পরে আমরা কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের নির্দেশ লাভ করি।

শায়বান ইবন ফাররূখ, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ [শব্দাবলী তার] .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কুবা নামক মসজিদে লোকজন ফজরের সালাত আদায় করছিল। ঠিক তখনই একজন আগন্তুক এসে তাদেরকে বলল, আজ রাতে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তাদের (মসজিদে কুবায় সালাত আদায়কারী মুসল্লীদের) মুখ ছিল শামের (বায়তুল মাকদিস বা মসজিদে আকসার, যা বর্তমানে ফিলিস্তনে অবস্থিত) দিকে। অতঃপর (সালাতরত অবস্থায়) তারা কাবার দিকে ঘুরে দাড়ালো।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ইবন উমার ও আবদুল্লাহ ইবন দীনার এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, লোকজন ফজরের সালাত আদায় করছিল। ঠিক তখন একজন সেখানে এসে হাজির হলো ... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু রর্ণনা করলেন।

আবূ বকর ইবন শায়বাহ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। তারপর এক সময় এ আয়াত অবতীর্ণ হলো "আমি বার বার তোমাকে আসমানের দিকে তাকানো দেখছিলাম। এখন আমি তোমাকে তোমার পছন্দনীয় কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। সুতরাং তুমি তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও"- (বাকারাহ ২ঃ ১৩৩)। এরপর জনৈক ব্যক্তি ভোরবেলা বানী সালামাহ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করছিল। সে দেখতে পেলো তারা ফাজর সালাতের এক রাকাআত আদায় করেছে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে রুকূরত আছে। তখন সে ডেকে বলল, কিবলাহ কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। (এ কথা শুনার পর) তারা সালাতরত অবস্থায়ই (নতুন) কিবলার দিকে ঘুরে গেল।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু স্ত্রী) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এমন একটি গীর্জার বর্ণনা দিলো যার মধ্যে মূর্তি বা ছবি যা তারা হাবশায় দেখেছিলেন। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা এরূপই করে থাকে। তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং তার মধ্যে ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে। কিয়ামতের দিন এরা হবে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট সৃষ্টি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পীড়িত তখন সাহাবীগণ তার কাছে কথা-বার্তা বললেন। তখন উম্মু সালামাহ ও উম্মু হাবীবাহ গীর্জার কথা বর্ণনা করলেন। এরপর বর্ণনাকার হাদীসটিতে পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন।

আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণ আবিসিনিয়ায় (যা বর্তমানে ইথিওপিয়া) মারিয়াহ নামক যে এক রকম গীর্জা দেখেছিলেন তার আলোচনা করলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী হাদীসটির অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার রোগ-শয্যায় বলেছিলেন, আল্লাহ ইয়াহুদ ও নাসারাদের প্রতি লানাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছেন। আয়িশাহ বলেছেনঃ যদি এরূপ করার আশঙ্কা না থাকতো তাহলে তাকে উন্মুক্ত স্থানে কবর দেয়া হত। কিন্তু যেহেতু তিনি আশংকা করতেন যে, তার কবরকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান করা হতে পারে তাই উন্মুক্ত স্থানে কবর করতে দেননি। বরং আয়িশাহ এর কক্ষে তার কবর করা হয়েছে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নবীদের কবরকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদ ও খৃষ্টানদের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তারা উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওয়াফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি চাদর টেনে টেনে মুখমণ্ডলের উপর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আবার যখন অস্বস্তিবোধ করছিলেন তখন তা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বলছিলেন ইয়াহুদ (ইয়াহুদী) ও খৃষ্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে (সেখানে তারা সিজদা করে)। আর ইয়াহুদ ও নাসারাদের মতো না করতে তিনি (ﷺ) বার বার হুশিয়ার করে দিচ্ছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম [শব্দাবলী আবূ বকর এর] ... জুনদুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পাচদিন পূর্বে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইবরাহীমকে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সে রকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবূ বকরকেই তা করতাম। সাবধান থেকো তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরসমূহকে মাসজিদ (সাজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান তোমরা কবরসমূহকে সাজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... উবায়দুল্লাহ আল খাওলানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবন আফফান যে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাসজিদ নির্মাণ করলেন এবং এ কারণে লোকজন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলো তখন উবায়দুল্লাহ খাওলানী উসমানকে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে মসজিদ নিৰ্মাণ করে। হাদীস বর্ণনাকারী বুকায়র বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন এর মাধ্যমে (মাসজিদ নির্মাণ) যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা করে তাহলে মহান আল্লাহ তাআলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইবন ঈসা তার বর্ণনায় (জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ) শব্দ ব্যবহার করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না [শব্দাবলী তার] ... মাহমূদ ইবন লাবীদ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) উসমান ইবন আফফান মাসজিদ নির্মাণ করতে মনস্থ করলে লোকজন তা করা পছন্দ করলো না। বরং মাসজিদ যেমন আছে তেমন রেখে দেয়াই তারা ভাল মনে করলো। তখন উসমান বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে কেউ মাসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তাআলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ একখানা ঘর তৈরি করেন।

মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী আবূ কুরায়ব .... আসওয়াদ ও আলকামাহ থেকে বর্ণিত। তারা (উভয়ে) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর বাড়ীতে তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এসব আমীর-উমারাহ এবং তাদের অনুসারীগণ যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে তারা কি সালাত আদায় করেছে? জবাবে আমরা বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে উঠে সালাত আদায় করে নাও। (কারণ সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে)। কিন্তু তিনি আমাদেরকে আযান কিংবা ইকামাত দিতে বললেন না। বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, সালাত আদায়ের জন্য আমরা তার পিছনে দাড়াতে গেলে তিনি আমাদের একজনকে ধরে তার ডানপাশে দাড় করিয়ে দিলেন এবং অপরজনকে বা পাশে দাড় করিয়ে দিলেন। তিনি রুকূতে গেলে আমরাও রুকূতে গিয়ে হাটুর উপর আমাদের হাত রাখলাম। তখন তিনি আমাদের হাত ধরলেন এবং হাতের দু' তালু একত্রিত করে দু' উরুর মধ্যখানে স্থাপন করলেন। পরে সালাত শেষে বললেন, অচিরেই এমন সব আমীর-উমারাহ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটবে যারা সময়মত সালাত না পড়ে বিলম্ব করবে এবং সালাতের সময় এত সংকীর্ণ করে ফেলবে যে, সূর্য অস্তমিত প্রায় হয়ে যাবে। তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা সময়মত সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে পুনরায় নাফল হিসেবে পড়ে নিবে (ইমামকে মাঝখানে রেখে)। তিনের অধিকজন থাকলে একজন ইমাম হবে (সামনে দাড়াবে) আর রুকূ করার সময় দু হাত উরুর উপর রেখে রুকূতে যাবে এবং উভয় (হাতের) তালু একত্রিত করে দু' উরুর মাঝখানে রাখবে। (এসব কথা বলার পর তিনি বললেন, এ মুহুর্তে) আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক হাতের অঙ্গুলি অপর হাতের অঙ্গুলিতে ঢুকাতে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি তা তাদেরকে দেখালেন।

মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী, উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি আলকামাহ ও আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা (উভয়ে) আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) এর কাছে গেলেন। এরপর তারা মুআবিয়াহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে ইবন মুসহির ও জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরস্পর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রাখা আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি রুকূ অবস্থায় আছেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী আলকামাহ ও আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা (আলকমাহ ও আসওয়াদ) এক সময়ে আবদুল্লাহর কাছে গেলে আবদুল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, যারা (আমীর-উমারাগণ) থেকে গেল তারা কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হ্যা। এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) তাদের দু'জনের মাঝখানে দাড়ালেন। তখন তিনি তাদের দু'জনের একজনকে ডানে এবং অপরজনকে বামে দাড় করালেন। এরপর আমরা (তার সাথে) রুকূ করলাম। এতে তিনি আমাদের হাত আমাদের হাটুর উপর রাখলেন। তিনি আমাদের হাত ধরে তা পরস্পর মিলিয়ে (একত্রিত করে) দিয়ে দু'উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী [শব্দাবলী কুতায়বাহ-এর] ..... মুসআব ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার পাশে দাড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ঐ সময় (পিতার সাথে সালাত আদায়ের সময়) আমি আমার হাত দুটি দু' হাটুর মাঝখানে রাখলে আমার পিতা আমাকে বললেন, তোমার হাত দুটি হাটুর উপর রাখো। কিন্তু আবারও ঐ রকম করলে তিনি আমার হাত দু'টি ধরে বললেন, আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাটুর উপরে রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে।

খালাফ ইবন হিশাম, ইবন আবূ উমর .... আবূ ইয়া'ফুর থেকে বর্ণিত। তিনি এ একই সানাদে (উপরে বর্ণিত হাদীসটি) "ফানুহীনা আনহু" পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়েই এর (ফানুহীনা আনহু) পরবর্তী অংশটুকু বর্ণনা করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... মুসআব ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক সময়ে সালাত আদায় করতে) আমি রুকূতে গিয়ে হাত দু'টি একত্রে মিলিয়ে দু' উরুর মাঝে রাখলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন, আমরাও এরূপ করতাম। কিন্তু এরপর আমাদেরকে হাটুর উপর হাত রাখতে আদেশ করা হয়েছে।

হাকাম ইবন মূসা .... মুসআব ইবন সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস এর পাশে দাড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। রুকূতে গিয়ে আমি এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অন্য হাতের আঙ্গলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে হাত দু'টি হাটুর মাঝে রাখলে তিনি আমার হাতে মৃদু আঘাত করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, প্রথমে আমরা এরূপই করতাম। কিন্তু পরে আমাদেরকে হাটুর উপর রাখার নির্দেশ করা হয়েছে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, হাসান আল হুলওয়ানী .... তাউস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে দু' পায়ের উপর নিতম্ব রেখে বসা (ইকআ করা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ করা তো সুন্নাত। (এ কথা শুনে) আমি তাকে বললাম, এভাবে বসা তো মানুষের জন্য কষ্টকর। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, এটা তো বরং তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাত।

আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনস্ সাব্বাহ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... মুআবিয়াহ ইবন হাকাম আস সুলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে (সালাত আদায়কারীদের মধ্যে) কোন একজন লোক হাচি দিলে (জবাবে) আমি "ইয়ারহামুকাল্প-হ" (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বললাম। এতে সবাই রুষ্ট দৃষ্টিতে আমার প্রতি তাকাতে থাকল। তা দেখে আমি বললামঃ আমার মা আমার বিয়োগ ব্যথায় কাতর হোক। (এভাবে আমি নিজেকে ভৎসনা করলাম)। কি ব্যাপার! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ যে? তখন তারা নিজ নিজ উরুতে হাত চাপড়াতে থাকল। (আমার খুব রাগ হওয়া সত্ত্বেও) আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চায় তখন আমি চুপ করে রইলাম। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করলে আমি তাকে সবকিছু বললাম। আমার পিতা ও মাতা তার জন্য কুরবান হোক। আমি ইতোপূর্বে বা এর পরে আর কখনো অন্য কোন শিক্ষককে তার চেয়ে উত্তম পন্থায় শিক্ষা দিতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি আমাকে ধমকালেন না বা মারলেন না কিংবা বকাঝকাও করলেন না। বরং বললেনঃ সালাতের মধ্যে কথাবার্তা ধরনের কিছু বলা যথোচিত নয়। বরং প্রয়োজনবশতঃ তাসবীহ, তাকবীর বা কুরআন পাঠ করতে হবে অথবা রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সবেমাত্র জাহিলিয়াত বর্জন করেছি এবং এরপর আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছে। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কথায় বিশ্বাস করে। তিনি (ﷺ) (এ কথা শুনে) বললেনঃ তুমি গণকদের কাছে যেয়ো না। সে বললঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা শুভ-অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। তিনি বললেনঃ এটা তাদের হৃদয়ের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এটি তাদেরকে (ভাল কাজ করতে) বাধা না দেয়। হাদীস বর্ণনাকারী সাববাহ বলেছেন, তা যেন তোমাকে বাধা না দেয়। লোকটি বর্ণনা করেছেন- আমি আবারও বললামঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একজন নবী এভাবে রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা যদি (নবীর রেখার) অনুরূপ হয় তাহলে তা ঠিক হবে। বর্ণনাকারী মুআবিয়াহ বলেন, আমার এক দাসী ছিল সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়াহ এলাকায় আমার বকরীপাল চরাত। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরী পাল থেকে বাঘে একটি বকরি নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মতো একজন মানুষ। তাদের মতো আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে (দাসী) মুক্ত করে দিব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ (বলো তো) আল্লাহ কোথায়? সে বলল-আকাশে। নবী (ﷺ) বললেন, (বলো তো) আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সালাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাকে সালাম দিলে তিনি (ﷺ) তার জবাব দিতেন। কিন্তু (হাবশায় হিজরতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন (সালাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।

ইবন নুমায়র .... আমাশ এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে সালাতরত অবস্থায় তার পাশে (সালাতে) দাড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলো: "আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাড়াও" (বাকারাহ ২ঃ ২৩৮)। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে সালাতের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলতে নিষেধ করা হলো।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইসমাঈল ইবন আবূ খালিদ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে (নফল সালাত আদায়রত) অতিক্রম করেছেন। কুতায়বাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি (ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়) তাকে সালাম দিলে তিনি (ﷺ) আমাকে ইশারা করলেন (ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন)। সালাত শেষ করে তিনি (ﷺ) আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি (ﷺ) পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী মুস্তালিক গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি (ﷺ) উটের পিঠে বসে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে বললাম (যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে) কিন্তু তিনি (ﷺ) আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র ইবন হারব তার হাত দিয়ে ইশারা করে তিনি (ﷺ) কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনছিলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। সালাত শেষ হলে তিনি (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারণে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন সালাত আদায় করছিলাম। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহারর ইবন হারব বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবূ যুবায়র কাবার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি (আবুয যুবায়র) হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাচ্ছিলেন তখন কাবার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন।

আবূ কামিল আল জাহদারী ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তিনি (ﷺ) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন আমি ফিরে এসে দেখতে পেলাম তিনি (ﷺ) তার সওয়ারীর পিছে বসে কিবলাহ ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি (ﷺ) আমার সালামের কোন জওয়াব দিলেন না। সালাত শেষ করে বললেনঃ আমি সালাত আদায় করেছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জওয়াব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সালাত নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তাআলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছা হলো তাকে মসজিদের একটি খুটির সাথে বেধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলে আমার ভাই নবী সুলায়মানের দুয়া'র কথা তিনি দুয়া করেছিলেন "হে প্রভু, তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করে যা আমার পরে আর কারো জন্য যেন না হয়"- (সোয়াদ ৩৮ঃ ৩৫)। (জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তাআলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবন মানসূর, শুবাহ, মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ..... শুবাহ থেকে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবন জাফার বর্ণিত হাদীসে নবী (ﷺ) এর কথা "ফ্যাদাহাততুহ" "আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম" বর্ণিত হয়নি। আর আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ বর্ণিত হাদীসে নবী (ﷺ) এর কথা "ফ্যাদাহাততুহ" বর্ণিত হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাড়ালে আমরা শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেনঃ "আউযু বিল্লা-হি-মিনকা" আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আমরা শুনলাম) এরপর তিনি বলছেনঃ "আল আনুকা বি লানাতিল্লা-হি" (আমি তাকে লানাত করছি যেমন আল্লাহ লানাত করেছিলেন)। তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় (যে সময় তিনি লানাত করছিলেন) তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন। সালাত শেষ করলে আমরা তাকে বললামঃ হে আল্লাহ রসূল! (আজ) আমরা সালাতের মধ্যে আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কোন দিন বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম যে আপনি হাতও বাড়িয়ে দিলেন। (এর কারণ কি?) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস আমার মুখের উপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নি-শিখা নিয়ে এসেছিল, তাই আমি "আউযু বিল্লা-হি-মিনকা" কথাটিও আমি তিনবার বললাম। এরপর তিনবার "আল আনুকা বি লানাতিল্লা-হি" বললাম, এ কথাটিও আমি তিনবার বললাম, কিন্তু তবুও সে পিছু হটল না। অবশেষে আমি তাকে পাকড়াও করতে ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সুলায়মান যদি দোয়া না করে থাকতেন তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাধা থাকত। আর সকাল বেলা মদীনাবাসীদের ছেলে সন্তানেরা তাকে নিয়ে আনন্দ করত বা মজা করে খেলত।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতরত অবস্থায় তার নাতনী আবূল আস ইবনর রাবী এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ বিনতু যায়নাবকে কাঁধে উঠিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি যখন দাড়াচ্ছিলেন তাকে (উমামাহ বিনতু যায়নাবকে) উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। আবার যখন সাজদাতে যাচ্ছিলেন তখন নামিয়ে রাখছিলেন। ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া বলেন, (আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞেস করলে) মালিক বলেনঃ হ্যা।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার .... আবূ কতাদাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে দেখেছি, তিনি (ﷺ) সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর তার নাতনী আবূল আস ইবনর রাবী এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ-কে (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা যায়নাবের গর্ভজাত মেয়ে) তার কাঁধের উপর রেখে ইমামাতি করতে দেখেছি। তিনি (ﷺ) যখন রুকূতে যাচ্ছেন তখন তাকে (কাঁধ থেকে) নামিয়ে রাখছেন, আবার সিজদা থেকে উঠার পর পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিচ্ছেন।

আবূত তহির .... আবূ কাতাদাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর (তার নাতনী) আবূল আস ইবন রাবী এর কন্যা উমামাহ (বিনতু যায়নাব) তার কাঁধে বসে আছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করার সময় তাকে নামিয়ে রাখছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ কতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা মসজিদে বসেছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ সালাতে ইমামতি করেছেন সে কথা তিনি এ হাদীসে উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবূ হাযিম) বলেছেনঃ সাহল ইবন সা'দ এর কাছে একদল লোক আসল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহল ইবন সা'দ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাকে দেখেছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাকে বললামঃ হে আবূ আব্বাস (সাহল ইবন সাদ) বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপর উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্লেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তরবিশিষ্ট মিম্বারটি তৈরি করে দিয়েছিল। আসনটি ছিল (মদীনার) গাবাহ নামক বনের বন্য-ঝাউ গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল ইবন সা'দ বলেনঃ আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপরে উঠে দাড়ালেন এবং তাকবীর বললেন সালাতের জন্য। তার সাথে সাথে লোকেরাও তাকবীর বলল। এ সময় তিনি মিম্বারের উপরে ছিলেন। এরপর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সিজদা করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিমবারে উঠলেন এবং এভাবে সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন। আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পার এবং আমি কিভাবে সালাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেনঃ কিছু সংখ্যক লোক সাহল ইবন সাদ-এর কাছে আসলো। (অন্য সানাদে) আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহরর ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ এর মাধ্যমে আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেন যে, তারা সাহল ইবন সাদ এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, নবী (ﷺ) এর মিম্বার তৈরি ছিল? এটুকু বর্ণনা করার পর ইবন আবূ হাযিম পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

হাকাম ইবন মূসা আল কানতারী .... আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ﷺ) কাউকে কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর আবূ বকরের বর্ণনায় নবী (ﷺ) এর পরিবর্তে রসূলুল্লাহ (ﷺ) শব্দ উল্লেখ আছে। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাউকে কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... মুআয়কীব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদের মধ্যে সালাতরত অবস্থায় পাথর-টুকরা সরানো সম্পর্কে নবী (ﷺ) আলোচনা করলেন। তিনি (ﷺ) বললেনঃ যদি তোমাকে এরূপ (পাথর-টুকরা সরানোর কাজ) করতেই হয়, তাহলে একবার মাত্র করতে পার।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মুআয়কীব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্যান্যদের সালাতরত অবস্থায় পাথর টুকরা সরানো সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। জবাবে নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ একবার মাত্র সরাতে পার।

উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... হিশাম থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে বলা হয়েছে যে, আমার নিকট মুআইকীব বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... মুআয়কীব থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে সালাতরত অবস্থায় সাজদার জায়গা (থেকে পাথর-টুকরা ইত্যাদি সরিয়ে) সমান করতে দেখে বললেনঃ তোমাকে যদি এরূপ (পাথর টুকরা ইত্যাদি সরিয়ে সাজদার জায়গা সমান) করতেই হয় তাহলে মাত্র একবারের জন্য করতে পার।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের কিবলার দিকে দেয়ালে কাশি লেগে থাকা দেখতে পেলেন। তিনি নখ দিয়ে আচড়ে আচড়ে উঠালেন। এরপর লোকদের সামনে গিয়ে বললেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাত আদায় করো তখন সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করো না। কারণ কেউ যখন সালাত আদায় করে তখন তার সম্মুখে থাকেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র, কুতায়বাহ ও মুহাম্মদ ইবন রুমূহ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন রাফি, হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ (একদিন) নবী (ﷺ) মসজিদের কিবলাতে কাশি বা শিকনি দেখতে পেলেন কথাটা উল্লেখিত হয়েছে। এরপর তারা মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমৃর আন নাকিদ ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী (ﷺ) কিবলায় (কিবলার দিকের দেয়ালের গায়ে) কাশি বা থুথু লেগে আছে দেখতে পেলেন। তিনি একটি পাথরের টুকরা দ্বারা ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন। এরপর মসজিদের মধ্যে তিনি কাউকে ডান দিকে কিংবা সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ (থুথু নিক্ষেপের প্রয়োজন হলে) সে যেন বা পায়ের নীচে নিক্ষেপ করে।

আবূত তহির ও হারমালাহ এবং যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) থুথু বা কাশি দেখতে পেলেন। (অবশিষ্ট) উয়াইনাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) নবী (ﷺ) কিবলার দেয়ালে (মসজিদের কিবলার দিকের দেয়াল গাত্রে) থুথু অথবা শ্লেষ্মা অথবা কাশি দেখতে পেলেন এবং ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মসজিদে কিবলার দিকে (কিবলার দিকের দেয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন। তিনি (ﷺ) তখন লোকদের কাছে এসে বললেনঃ তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কেউ তার প্রভুর সামনে দাড়িয়ে সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। কেউ তোমাদের মুখের উপর দাড়িয়ে মুখের উপর থুথু নিক্ষেপ করুক এটা কি তোমরা পছন্দ করবে? তোমাদের কাউকে (মসজিদে) থুথু নিক্ষেপ করতে হলে সে যেন বা দিকে পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে। আর যদি এরূপ করার অবকাশ না পায় তাহলে যেন এরূপ করে। কাসিম ইবন ইবরাহীম তা এভাবে করে দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি কাপড়ে থুথু ফেললেন এবং কাপড়খানা ঘষলেন।

শায়বান ইবন ফাররূখ, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) থেকে ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসে কতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আবূ হুরায়রাহ বললেনঃ আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাপড় ঘষছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাত আদায় করো তখন যেন সে তার রব বা প্রভুর সাথে কানে কানে কথা বলে। সুতরাং সে যেন সামনে বা ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে। বরং বা দিকে বা পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর ঐ থুথু মাটিতে পুঁতে দেয়াই এর কাফফারাহ।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর তা পুঁতে ফেলা হলো এর কাফফারাহ।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয্‌ যুবাঈ ও শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের সমস্ত আমল বা কাজ-কর্ম (ভাল-মন্দ উভয়ই) আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। আমি দেখলাম তাদের সমস্ত উত্তম কাজের মধ্যে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূরীকরণও একটি উত্তম কাজ। আর আমি এও দেখলাম যে, তাদের খারাপ আমলের মধ্যে রয়েছে মসজিদের মধ্যে কাশি বা থুথু ফেলা এরং তা মিটিয়ে না ফেলা।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবদুল্লাহ ইবন শিখখীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। আমি দেখলাম তিনি কাশি ফেলে তা জুতা দিয়ে ঘষে (মাটির সাথে মিশিয়ে) দিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শিখখীর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি দেখেছেন, নবী (ﷺ) কাশি ফেলেছেন এবং তা বা পায়ের জুতা দিয়ে ঘষে দিয়েছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ মাসলামাহ সাঈদ ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যা।

আবুর রাবী আয যাহরানী .... আবূ মাসলামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আনাস (ইবন মালিক) কে অনুরূপ জিজ্ঞেস করলাম।

আমর আন নাকিদ ও যুহরর ইবন হারব, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। একদিন নবী (ﷺ) একখানা নকশা অঙ্কিত কাপড়ের মধ্যে সালাত আদায় করলেন এবং (সালাত শেষে) বললেন, এ কাপড়ের নকশা ও কারুকার্য আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। এটা নিয়ে আবূ জাহম-এর কাছে যাও এবং তার সাদামাটা মোট চাদরখানা আমাকে এনে দাও।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একখানা নকশা ও কারুকার্য করা চাদরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাড়ালেন। সালাতের মধ্যে তিনি এর নকশার প্রতি দেখতে থাকলেন। (কাপড়খানার নকশা ও কারুকার্য সালাতে তার একাগ্রতা নষ্ট করে দিলো।) তাই সালাত শেষে তিনি (ﷺ) বললেন এ চাদরখানা নিয়ে আবূ জাহম ইবন হুযায়ফাহ-এর কাছে যাও। আর আমাকে তার কম্বলখানা এনে দাও। কারণ এ চাদরখানা এখন সালাতের মধ্যে আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী (ﷺ) এর একখানা নকশা করা চাদর ছিল। এ চাদর পরে সালাত আদায় করতে তার মন সেদিকে আকৃষ্ট হত। সুতরাং তিনি উক্ত চাদর আবূ জাহমকে দিয়ে তার সাদামাটা চাদরখানা নিলেন।

আম্‌র আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের খাবার উপস্থিত থাকবে। এমন অবস্থায় যদি সালাতের ইকামাতও দেয়া হয় তাহলে প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খাবার যদি সামনে হাজির করা হয় আর মাগরিবের সালাতের সময় হয়ে গেলেও সালাত আদায়ের পূর্বেই খাবার খেয়ে নিবে। খাবার রেখে সালাতের জন্য ব্যস্ত হয়ো না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ নবী (ﷺ) থেকে আনাস বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন নুমায়র ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে গিয়েছে সালাতের ইকামাত হয়ে গেছে। এমন অবস্থা হলে সে খাবার দিয়েই শুরু করবে। (প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে) আবার খাবার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাতের জন্য ব্যস্ত হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আস সালত ইবন মাসউদ .... ইবন উমর এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... ইবন আবূ আতীক (আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমি এবং কাসিম (ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর) আয়িশাহ এর কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করলাম। তবে কাসিম বর্ণনায় অধিক ভুল-ত্রুটি করতেন। তিনি ছিলেন উম্মু ওয়ালাদ বা দাসীর পুত্র। আয়িশাহ তাকে বললেনঃ কি ব্যাপার! আমার এ ভাতিজা আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর যেভাবে বর্ণনা করছে সেভাবে বর্ণনা করছ না কেন? তবে আমি জানি এরূপ কি করে হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদকে শিক্ষা দিয়েছে, তার মা (যিনি স্বাধীন) আর তোমাকে তোমার মা (যিনি ক্রীতদাসী ছিলেন) শিক্ষা দিয়েছে। এ কথা শুনে কাসিম ইবন মুহাম্মাদ রাগাম্বিত হয়ে উঠলেন এবং আয়িশাহ-এর প্রতি তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষ প্রকাশ করলেন। এরপর আয়িশাহ-এর খাবার (দস্তরখানা) আসা (প্রস্তুতি) দেখে উঠে দাড়ালেন। আয়িশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কোথায় যাচ্ছ? তিনি (কাসিম ইবন মুহাম্মাদ) বললেন, আমি সালাত আদায় করব। আয়িশাহ বললেনঃ বসো, অকৃতজ্ঞ কোথাকার। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি খাবার হাজির হলে কোন সালাত আদায় চলবে না। কিংবা পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে সালাত আদায় চলবে না।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজুর .... আয়িশাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মাদ সম্পর্কিত ঘটনাটি বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছের কোন একটি খায় রসুন বা অনুরূপ স্বাদ ও গন্ধের কোন কিছু খায় সে যেন মসজিদে না আসে। যুহায়র তার বর্ণনাতে "কোন একটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ" করেছেন। তিনি খায়বার যুদ্ধের নাম উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র (শব্দগুলো তার) .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ এসব সবজি রসুন ইত্যাদি খেলে (মুখ থেকে) তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন আমার মসজিদের কাছে না আসে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল আযীয ইবন সুহায়ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুন খাওয়া সম্পর্কে আনাস (ইবন মালিক)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে বা যারা এসব সবজি (দুর্গন্ধ জাতীয় গাছ) খায় সে বা তারা যেন আমাদের কাছে না আসে এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছ উদ্ভিদ খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটেও না আসে এবং রসুনের গন্ধ দ্বারা আমাদেরকে কষ্ট না দেয়।

আবূ বকর ইবন শায়বাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পিয়াজ ও গোরসুন খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু কোন এক সময় প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে তা খেলে তিনি বললেনঃ কেউ এসব দুর্গন্ধযুক্ত গাছ (উদ্ভিদ) খেলে সে যেন আমার মসজিদের নিকটে না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায় ফেরেশতাগণও (ফেরেশতামণ্ডলী) সেসব জিনিসে কষ্ট পায়।

আবুত তহির ও হারমালাহ্ ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আবুত তহির ও হারমালাহ্ ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে এ রসুন জাতীয় উদ্ভিদ খাবে- কোন কোন সময় আবার তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পিয়াজ, রসুন বা মূলা খাবে সে যেন আমার মসজিদের কাছেও না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় ফেরেশতাগণও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন জুরায়জ থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব সবজি জাতীয় গাছ রসুন খাবে সে যেন আমার মসজিদে- আমাদের কাছে না আসে। তবে তিনি (ইবন জুরায়জ) বর্ণিত হাদীসে পিয়াজ ও গো-রসুনের কথা উল্লেখ করেননি।

আমর আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজিত হলো। আমরা এখনো ফিরে আসিনি। ইতোমধ্যে আমরা, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ ঐ সবজি রসুনের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। কারণ লোকজন সবাই ছিল ক্ষুধার্ত। এরপর আমরা মসজিদে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রসুনের গন্ধ পেয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি এ কদৰ্য গাছ তথা সবজি খাবে সে যেন মসজিদে আমাদের নিকটেও না আসে। এ কথা শুনে সবাই বলতে শুরু করল রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নবী (ﷺ) এর কাছে এ খবর পৌছলে তিনি লোকজনকে সাক্ষ্য করে বললেনঃ হে লোক সকল! আমার জন্য আল্লাহ তাআলা যা হালাল করে দিয়েছেন তা হারাম করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে রসুন এমন একটি সবজি (গাছ) যার গন্ধ আমি অপছন্দ করি।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পিয়াজের ক্ষেতে গেলেন। সাথে তার সাহাবীগণও ছিলেন। কিছু সংখ্যক সাহাবী ঐ ক্ষেতের পিয়াজ খেলেন এবং অবশিষ্ট সাহাবীগণ খেলেন না। এরপর আমরা সবাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। কিন্তু যারা পিয়াজ খেয়েছিলেন না তিনি তাদেরকে প্রথমে কাছে ডেকে নিলেন। আর অন্যদেরকে যারা পিয়াজ খেয়েছিল পিয়াজের গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত কাছে ডাকলেন না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মাদান ইবন আবূ ত্বলহাহ্ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) কোন এক জুমুআর দিন উমর ইবন খাত্ত্বাব খুতবাহ প্রদান করলেন। সে বক্তৃতায় তিনি নবী (ﷺ) ও আবূ বকরের কথা উল্লেখ করে বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন একটি মোরগ আমাকে তিনটি ঠোকর দিল। আমি মনে করি এ স্বপ্নের অর্থ আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিছু সংখ্যক লোক বলছে আমি যেন পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত করে যাই (কিন্তু আমি যদি পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত না করেও যাই তাহলেও কোন ক্ষতি নেই)। কেননা, (আমি বিশ্বাস করি) মহান আল্লাহ এ দীনকে এবং তার খিলাফাত ব্যবস্থাকে বরবাদ করবেন না। কিংবা যা দিয়ে তিনি তার নবী (ﷺ) কে পাঠিয়েছি তাও ব্যর্থ করে দিবেন না। খুব শীঘ্রই যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত যাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন তাদের এ ছয়জনের মধ্যে থেকে পরামর্শের ভিত্তিতে খিলাফাতের ব্যাপারে ফায়সালা হবে। আমি জানি কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। আমি তাদের এ জন্য আমার নিজের এ হাতে শাস্তি দিয়েছি এরপরে আবারও যদি তারা অনুরূপ কাজ করে (এ ব্যাপারে ইসলামের বদনাম করে) তাহলে তারা আল্লাহর শত্রু, কাফির ও গোমরাহ। এছাড়া আরো একটি বিষয় আছে আমার পরে আমার দৃষ্টিতে কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয় ছাড়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কোন বিষয়ই রেখে যাচ্ছি না। (জেনে রেখো!) আমি কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যত বেশি জিজ্ঞেস করেছি অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে এত জিজ্ঞেস করিনি আর তিনিও এ বিষয়ে আমাকে যত কঠোরভাবে বলেছেন আর কোন বিষয়েই তত কঠোরভাবে বলেননি। এমনকি তিনি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুল ঠেসে ধরে বলেছেনঃ হে উমার! সূরাহ আন নিসার শেষের যে আয়াতটি গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ হয়েছিল (এ ব্যাপারে) সে আয়াতটিই কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি যদি আরো কিছু দিন বেচে থাকতাম তাহলে এ বিষয়ে (কালালাহ) এমন একটি ফায়সালা করতাম যা প্রত্যেকের মনের মতো হত। চাই সে কুরআন মাজীদ পড়ে থাকুন বা না পড়ে থাকুক। তিনি [উমার বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমাকে বিভিন্ন জনপদের উমারাদের (শাসনকর্তা) ব্যাপারে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের উদ্দেশ্য ঐসব এলাকার লোকদের শাসনকর্তা করে পাঠিয়েছি যে তারা তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে, লোকদের দীন সম্পর্কে শিক্ষাদান করবে, নবীর সুন্নাত সম্পর্কে অবহিত করবে এবং "ফাই" বা যুদ্ধের ময়দানে বিনাযুদ্ধে লব্ধ সম্পদ (সঠিকভাবে) বন্টন করে দিবে। আর তাদের কোন ব্যাপার কঠিন বা সমস্যাপূর্ণ হলে তা আমার কাছে জেনে নিবে। হে লোকজন! আরেকটি কথা হলো, তোমরা দুটি (সবজি জাতীয়) গাছ খেয়ে থাকো; পিয়াজ ও রসুন। আমি এ দুটি জিনিসকে অরুচিকর বলে মনে করি। আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের কোন লোকের মুখ থেকে ঐ দু'টি জিনিসের গন্ধ পেলে তাকে বের করে দিতে আদেশ করতেন। আর তাদেরকে বাকীর দিকে বের করে দেয়া হত। তবে কেউ এ দুটি জিনিস (পিয়াজ ও রসুন) খেতে চাইলে যেন রান্না করে গন্ধ দূর করে নেয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... কতাদাহ থেকে (পূর্ব-বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবুত তহির আহমাদ ইবন আম্‌র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ কোন লোককে মসজিদের মধ্যে হারানো কোন জিনিস খোজ করতে দেখলে (উচ্চস্বরে) যেন বলেঃ আল্লাহ করুন! তোমার জিনিস যেন তুমি না পাও। কারণ মাসজিদ তো এ উদ্দেশে তৈরি করা হয়নি।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করল। সে বলল, লাল বর্ণের উটের প্রতি কে ঘোষণা জানাল? অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যেন তোমার হারানো জিনিস না পাও। কেননা মসজিদ তো মসজিদের কাজের জন্য বানানো হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... বুৱায়দাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, নবী (ﷺ) এর সালাত আদায় শেষ হলে জনৈক ব্যক্তি দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, লোহিত বর্ণের উটের কথা কে বলল? এ কথা শুনে নবী (ﷺ) বললেন, তুমি যেন তা (তোমার হারানো বস্তুটি) না পাও। কারণ মাসজিদ মসজিদের কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরাইদাহ) বলেন, একদিন নবী (ﷺ) ফজরের সালাত আদায়ের পর এক গ্রাম্য আরব এসে মসজিদের দরজায় তার মাথা প্রবেশ করল। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি (মুহাম্মাদ ইবন শায়বাহ) আবূ মিসান ও সাওর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম বলেন, শায়বাহ ইবন নাআমাহ আবূ নাআমাহ। তার থেকে মিসআর, হুশায়ম, জারীর সহ অন্যান্য কূফীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাতে দাড়াও তখন শয়তান তার কাছে এসে তাকে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দেয়। এমনকি সে কয় রাকাআত সালাত আদায় করল তাও স্মরণ করতে পারে না। তোমরা কেউ এরূপ অবস্থা হতে দেখলে যেন বসে বসেই দু'টি (অতিরিক্ত) সিজদা করে নেয়।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... যুহরী থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের আযান শুরু হলে শয়তান পিঠ ফিরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে এবং এত দূরে চলে যায় যে, আর আযান শুনতে পায় না। অতঃপর আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। কিন্তু যে সময় তাকবীর দেয়া হয় তখন পুনরায় পিঠ ফিরে পালায়। কিন্তু তাকবীর শেষ হলে আবার ফিরে আসে এবং মানুষের (মুসল্লী) মনে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্ধের সৃষ্টি করে বলে অমুক কথা এবং অমুক কথা স্মরণ কর যেসব কথা কখনো তার স্মরণ করার নয়। অবশেষে সে (মুসল্লী) কত রাকআত আদায় করল তা স্মরণ করতে পারে না। এরূপ অবস্থায় তোমরা কেউ যখন স্মরণ করতে পারবে না কত রাকাআত আদায় করেছ তখন বসে বসেই সর্বশেষ দু'টি সিজদা করবে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সময় সালাতের তাকবীর বলা হয় সে সময় শয়তান বায়ু নিঃসরণ করতে করতে দৌড়ে পালায়। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে, সে (শয়তান) তাকে উৎসাহিত করে, আশান্বিত করে এবং যা সে কখনো স্মরণ করত না তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন বুহায়নাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় রাকাআতে) তিনি না বসে উঠে দাড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে সাথে উঠে দাড়াল। তিনি সালাত শেষ করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত প্রায় শেষ করলে আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে দুটি সিজদা করলেন। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়নাহ্ আল আসদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাতে (দু রাকাআতের পর) না বসেই দাড়িয়ে গেলেন সালাত শেষ করে, সালাতের শেষ পর্যায়ে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে ভুলে যাওয়া বৈঠকের পরিবর্তে বসে বসেই দু'টি সিজদা করলেন এবং প্রতিটি সাজদাতেই তাকবীর বললেন। লোকজন সবাই তার সাথে সাথে সাজাদাহ দুটি করলেন।

আবূ রাবী আয যাহরানী ... আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইবন বুহায়নাহ আল আযদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সালাতরত অবস্থায় যে দু' রাকাআত আদায় করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বসার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দাড়িয়ে পড়লেন। তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। অবশেষে সালাতের শেষ পর্যায়ে পৌছে সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন রাকাআত আদায় করা হলো না চার রাকাআত আদায় করা হলো- সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো এরূপ সন্দেহ হলে সে যে কয় রাকআত আদায় করেছে বলে নিশ্চিত হবে (তিন রাকাআত) সে কয় রাকাআতকে ভিত্তি ধরে অবশিষ্ট করণীয় করবে। এরপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করবে। (এখন) সে যদি পাচ রাকাআত আদায় করে থাকে তাহলে এ দু' সিজদা দ্বারা তার সালাতের জোড়া পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি তার সালাত চার রাকাআত হয়ে থাকে তাহলে (এই) সিজদা দুটি শয়তানের মুখে মাটি নিক্ষেপের শামিল হবে।

আহমাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন ওয়াহব .... যায়দ ইবন আসলাম থেকে একই সানাদে উপরোক্ত অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সুলায়মান ইবন বিলাল এর মতই বর্ণনা করেছেন যে, সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করবে।

আবূ শায়বার দু' পুত্র আবূ বকর ও উসমান এবং ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী ইবরাহীমের বর্ণনা মতে, এ সালাতে তিনি কিছুই কম বা বেশী করে ফেললেন। সালাম ফিরানোর পর তাকে (রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, নতুন হুকুম আবার কেমন? তখন সবাই বললঃ আপনি সালাতে এরূপ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি পা দু' খানা ভাজ করে কিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বললেনঃ সালাতের ব্যাপারে কোন নতুন হুকুম আসলে আমি তোমাদরকে জানতাম। (এটা তেমনি কিছু নয়) বরং আমি তো মানুষ বৈ কিছুই না। তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয়। সুতরাং আমি যদি কোন কিছু ভুলে যাই তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও। আর সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো কোন সন্দেহ হলে চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করবে। অতঃপর দু'টি সিজদা করবে।

আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... মানসূর থেকে একই সানাদে শব্দের সামান্য পরিবর্তন সহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... মানসূর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর বলেছেন, সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা সঠিক ধারণাটি গ্রহণ করতে হবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মনসুর থেকে একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মানসূর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে সেটিই গ্রহণ করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মানসূর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে সেটিই গ্রহণ করবে।

ইবন আবূ উমর .... মানসূর তাদের সবার বর্ণিত সানাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মানসূর বলেছেনঃ চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) যুহরের সালাত পাচ রাকাআত আদায় করলেন। তিনি যখন সালাম ফিরালেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাতের সংখ্যা কি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) বললেনঃ এ আবার কেমন কথা? তখন সবাই বলল, আপনি তো সালাত পাচ রাকাআত আদায় করলেন। এ কথা শুনে তিনি দু'টি সিজদা করলেন।

ইবন নুমায়র .... আলকামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি (আলকামাহ) একদিন তাদের সাথে (যুহরের) পাচ রাকাআত সালাত আদায় করলেন।

উসমান ইবন আবূ শায়বাহ [শব্দাবলী তার] .... ইবরাহীম ইবন সুওয়াইদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাম ফিরানোর পর লোকজন তাকে বলল, হে আবূ শিবল (আলকামার উপনাম)! আপনি সালাত পাচ রাকআত আদায় করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি কখনো এরূপ করিনি। কিন্তু লোকজন সবাই আবারো বলল, হ্যা, আপনি এরূপ করেছেন। ইবরাহীম ইবন সুওয়াইদ বলেছেন, আমি তখন বালক ছিলাম এবং সবার থেকে দূরে এক কোণে ছিলাম আমিও বললাম হ্যা, আপনি সালাত পাচ রাকাআত আদায় করেছেন। তিনি তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওরে কানা, তুমিও তাই বলছ! আমি বললামঃ হ্যা। ইবরাহীম ইবন সুওয়াইদ বলেন, তখন তিনি ঘুরে দু'টি সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরানোর পরে বললেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বর্ণনা করেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সালাত আদায় করতে পাচ রাকাআত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি ঘুরলে লোকজন পরস্পর কানাঘুষা করতে থাকল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কি? সবাই বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাতের রাকাআত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ না, তখন সবাই বলল, আপনি তো সালাত পাচ রাকাআত আদায় করেছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুরলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। অতঃপর বললেনঃ আমি তোমাদের মতোই মানুষ। আমিও ভুল করি যেমন তোমরা ভুল করো। ইবন নুমায়র তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, (সালাতের মধ্যে) তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দু'টি সিজদা করে।

আওন ইবন সাল্লাম আল কুফী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সালাত আদায় করতে পাচ রাকাআত আদায় করলেন। আমরা তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! সালাত (এর রাকাআত সংখ্যা) কি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ এ আবার কি কথা? তখন সবাই বললঃ আপনি তো সালাত পাচ রাকাআত আদায় করেছেন, এ কথা শুনে তিনি বললেন আমি তো তোমাদের মতই মানুষ। আমি স্মরণ রাখি যেমন তোমরা স্মরণ রাখো। আবার আমি ভুলে যাই যেমন তোমরা ভুলে যাও। এরপর তিনি দুটি সাহু সিজদা দিলেন।

মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি সালাতে কিছু কম বা কিছু বেশী করে ফেললেন। হাদীসের বর্ণনাকারী ইব্রাহীম বলেছেনঃ (তিনি কম করলেন না বেশী করলেন) এ সন্দেহটা আমার নিজের। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতে কি কিছু বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি বললেন আমি তোমাদের মতো মানুষ বৈ আর কিছুই নই। আমারও তোমাদের মতো ভুল হয়। সুতরাং সালাতে তোমাদের কেউ কিছু ভুলে গেলে সে যেন বসেই দুটি সিজদা করে নেয়। এ কথার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুরলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাতের সাহু সাজদার দু'টি সিজদা সালাম ফিরিয়ে কথা বলার পর করেছিলেন।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। (এ সালাতে) তিনি কিছু বেশী বা কম করলেন। (হাদীসের বর্ণনাকারী) ইবরাহীম বলেছেন, আল্লাহর শপথ, এ সন্দেহ (রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে বেশী করলেন না, কম করলেন) আমার নিজের। তিনি (ইবরাহীম) বলেছেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেনঃ না। (নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়নি)। তখন (সালাতে) তিনি যা করেছেন আমরা তাকে তা বললাম। তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি যদি সালাতে কোন কিছু বেশী বা কম করে ফেলে তাহলে (সিজদা-ই সাহুর) দুটি সিজদা করবে। বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেন এর (এ কথা বলার) পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি সিজদা করলেন।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে দিবাভাগের দু'ওয়াক্ত সালাতের কোন এক ওয়াক্ত সালাতে যুহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু রাকাআত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি রাগাম্বিত মনে মসজিদের কিবলার দিকে স্থাপিত এক বৃক্ষ শাখার উপর ভর দিয়ে দাড়ালেন। এ সময় সবার মাঝে আবূ বকর ও উমারও ছিলেন। কিন্তু তারা উভয়েই (এ পরিস্থিতিতে) কথা বলতে সাহস পেল না। আর যাদের তাড়াতাড়ি করে যাওয়ার ছিল তারা এই বলে দ্রুত মাসজিদ থেকে বের হয়ে গেল যে, সালাত কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর যুল ইয়াদায়ন উপনামে পরিচিত জনৈক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি কম করে দেয়া হয়েছে- না আপনি ভুলে গিয়েছেন? এ কথা শুনে নবী (ﷺ) ডানে বায়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন যুল ইয়াদায়ন যা বলছে তা কি ঠিক? সবাই জবাব দিলো, হ্যা সে যা বলেছে সত্য বলেছে। আপনি তো সালাত দু' রাকাআত মাত্র আদায় করেছেন। তখন তিনি (ﷺ) আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর তাকবীর বলে সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর মুহাম্মাদ ইবন সীরন বললেন, ইমরান ইবন হুসায়ন সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, এরপর নবী (ﷺ) সালাম ফিরালেন।

আবূ রাবী আয যাহরানী .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে দিবাভাগের দু ওয়াক্ত সালাতের এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সুফইয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করলেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আসরের সালাত আদায় করালেন। কিন্তু দু' রাকআত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। যুল ইয়াদায়ন দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করেছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এসব কিছুই হয়নি (সালাত কমিয়ে দেয়া বা আমার ভুল করা) কিছুই হয়নি। এ কথা শুনে যুল ইয়াদায়ন বলল, হে আল্লাহর রসূল! কিছু একটা অবশ্যই হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ যুল ইয়াদায়ন এর কথা কি ঠিক? সবাই বলল, হ্যা হে আল্লাহর রসূল! তখন রসূলুল্লাহ(ﷺ) সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর বসে বসেই দুটি সিজদা (সাহু সিজদা) করলেন।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত দু' রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তখন বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করলেন? এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ সালামাহ হাদীসটি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করেছিলাম। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'রাকাআত আদায় করেই সালাম ফিরালে বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উঠে দাড়াল। এরপর তিনি (শায়বান) হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আসরের সালাত আদায় করতে তিন রাকআত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি তার বাড়ীর মধ্যে চলে গেলেন। তখন দীর্ঘ হাত বিশিষ্ট খিরবাক নামক জনৈক ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এরপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছিলেন তা বর্ণনা করল। এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) রাগাম্বিত মনে চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে আসলেন এবং লোকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটি কি ঠিক কথা বলছে? সবাই জবাব দিলো, হ্যা সে ঠিক বলেছে। তখন তিনি আরো এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। এরপর দুটি সাহু সিজদা দিয়ে আবার সালাম ফিরালেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আসরের সালাত আদায় করতে তিন রাকআত আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং নিজ কামরার মধ্যে প্রবেশ করলেন। তখন লম্বা দুটি হাত বিশিষ্ট এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) রাগাম্বিত হয়ে বেরিয়ে আসলেন, অতঃপর যে এক রাকাআত সালাত তিনি ছেড়েছিলেন তা আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর সাহুর দুটি সিজদা করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন।

যুহায়র ইবন হারব, উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এ সময় তিনি এমন সব সূরাহও তিলাওয়াত করতেন যাতে সাজদার আয়াত আছে। তখন তিনি সিজদা করতেন, আমরাও তার সাথে সিজদা করতাম। এমনকি (এ সময়) আমাদের মধ্যে তার কপাল স্থাপনের (সিজদা করার) জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলে যখন তিনি সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন তখন আমাদের সাথে নিয়ে সিজদা করতেন। এ সময় খুব ভিড় বা জটলা হত। এমনকি আমাদের অনেকেই (কপাল স্থাপন করে) সিজদা করার মতো জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হত সালাতের বাইরে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সময় সূরাহ ওয়ান নাজমি' পাঠ করে সিজদা (তিলাওয়াতের সিজদা) করলেন। তার সঙ্গে অন্য সকলেও সিজদা করল। শুধু এক বৃদ্ধ ব্যক্তি (সিজদা না করে) এক মুঠো কঙ্কর উঠিয়ে বললঃ আমার জন্য এটাই যথেষ্ট। হাদীসটির বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি ঐ বৃদ্ধ লোকটিকে পরে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজুর .... আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তিনি একবার যায়দ ইবন সাবিতকে সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন জবাবে যায়দ ইবন সাবিত বলেছিলেনঃ সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআতের প্রয়োজন নেই। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে সূরাহ "ওয়ান নাজমি ইযা- হাওয়া-" তিলাওয়াত করলেন। কিন্তু (সূরাটি শুনার পরও) রসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করলেন না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) আবূ হুরায়রাহ তাদের সামনে "ইযাস সামা-উন্ন শাক্কাত" সূরাটি তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদা করলেন। সিজদা শেষে তিনি তাদেরকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরাটি তিলাওয়াত করে সিজদা করেছিলেন।

ইবরাহীম ইবন মূসা, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাক্কিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা "ইযাস সামা-উন্ন শাক্‌ক্বাত" এবং "ইক্‌রা বিস্‌মি রব্বিকা" এ দুটি সূরাতে নবী (ﷺ) এর সাথে সিজদা করেছি এ দু'টি সূরাহ তিলাওয়াতকালে নবী (ﷺ) সিজদা করেছেন। আমরাও তার সাথে সিজদা করেছি।

মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরাহ "ইযাস সামা-উন্ন শাক্‌ক্ক্বাত" এবং "ইক্‌রা বিসমি রব্বিকা" পাঠকালে সিজদা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ কর্তৃক রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ এর পিছনে ইশার সালাত আদায় করলাম। (এ সালাতে) তিনি সূরাহ "ইযাস সামা-উন্ন শাকক্বাত" পাঠ করে সিজদা (তিলাওয়াতের সিজদা) করলেন। (সালাত শেষে) আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিসের জন্য এ সিজদা? তিনি বললেনঃ আবূল কাসিম (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করা কালে এ সূরায় আমি সিজদা করেছি। সুতরাং তার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (আমৃত্যু) আমি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে থাকব। অবশ্য হাদীস বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা তারতম্য সহকারে কিছুটা বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমি এ সিজদা পরিত্যাগ করব না।

আমর আন নাকিদ, আবূ কামিল, আহমাদ ইবন আবদাহ .... ইবন আখযার থেকে এবং সকলে সুলায়মান আত তায়মী থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে কেউই আবূল কাসিম (ﷺ) এর পিছনে কথাটি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ কে সূরাহ "ইযাস সামা-উন শাক্‌ক্বাত" পড়ে সিজদা করতে দেখেছি। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু (ﷺ) কে এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে দেখেছি। সুতরাং তার ((ﷺ)-এর) সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে থাকব। হাদীসটি বর্ণনাকারী শুবাহ বলেনঃ আমি আতা ইবন আবূ মায়মূনাকে জিজ্ঞেস করলাম "আমার প্রিয়তম বন্ধু" বলতে কি আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) কে বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যা।

মুহাম্মাদ ইবন মা'মার ইবন রিবাঈ আল কায়সী .... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত আদায়ের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বৈঠক করতেন তখন বা পা'টি (ডান পায়ের) উরু ও নলার মধ্যে স্থাপন করতেন, ডান পা'টি বিছিয়ে দিতেন, আর বা হাতটি বা হাটুর উপর এবং ডান হাতটি ডান উরুর উপর স্থাপন করতেন। আর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন।

কুতায়বাহ (ইবন সাঈদ) ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন দোয়া করার জন্য বসতেন তখন ডান হাতটি ডান উরুর উপর এবং বা হাতটি বা উরুর উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং বা হাতের তালু (বা) হাটুর উপর রাখতেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আব্‌দ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাত আদায়ের সময় যখন বসতেন (বৈঠক করতেন) তখন দু'হাত দু' হাটুর উপর রাখতেন। আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বা হাত বা হাটুর উপর ছড়িয়ে রাখতেন।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের মধ্যে "তাশাহহুদ' পড়তে যখন বসতেন তখন বা হাতটি বা হাটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাটুর উপর রাখতেন। আর (হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মতো করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলী ইবন আবদুর রহমান আল মুআবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর আমাকে দেখলেন যে, আমি সালাতের অবস্থায় ছোট ছোট পাথর টুকরা নিয়ে অনর্থকভাবে নড়াচড়া করছি। সালাত শেষ করে তিনি আমাকে এরূপ কাজ করতে নিষেধ করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ করতেন তুমিও তাই করবে। আমি তখন জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতরত অবস্থায় কি করতেন? তিনি (আলী ইবন আবদুর রহমান আল মুআবী) বললেনঃ তিনি (ﷺ) সালাতে যখন বৈঠক করতেন তখন ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রেখে আঙ্গুলগুলো গুটিয়ে শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। আর বা হাতের তালু বা উরুর উপর স্থাপন করতেন।

ইবন আবূ উমর .... আলী ইবন আবদুর রহমান আল মুআবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমারের পাশে দাড়িয়ে সালাত আদায় করছি। এরপর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে যে, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ মুসলিমের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যুহারর ইবন হারব .... আবূ মা'মার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাতে একজন আমীর ছিলেন। তিনি সালাতে দু'বার সালাম ফিরাতেন (একবার ডানে এবং একবার বামে)। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বললেনঃ সে কোথা থেকে এ সুন্নাত শিখেছে? হাকাম তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতেন।

আহমাদ ইবন হাম্বাল .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আমির অথবা কোন এক ব্যক্তি দু'বার সালাম ফিরালেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন উমার বললেন, তুমি কোথা থেকে এটা পেয়েছ।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমির ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ডানে এবং বামে সালাম ফিরাতে দেখতাম। এমনকি (তিনি এমনভাবে মুখ ঘুরাতেন যে,) আমি তার গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।

যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ দ্বারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত শেষ হওয়া জানতে পারতাম। সালাত শেষ হলেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চস্বরে আল্ল-হু আকবার বলতেন। তখন আমরা বুঝতে পারতাম।

ইবন আবূ উমর .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত শেষ হওয়া তাকবীর পাঠ ছাড়া আর কিছু দ্বারা জানতে পারতাম না। আমর ইবন দীনার বলেছেনঃ আমি পরবর্তী সময়ে (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-এর নিকট থেকে হাদীসটির বর্ণনাকারী) আবূ মাবাদ-এর হাদীসটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেনঃ আমি তোমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করিনি। অথচ ইতোপূর্বে তিনি আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যুগে ফরয সালাত শেষে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর বা অন্য কোন যিকর পাঠ করত। আবূ মাবাদ বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আরো বলেছেনঃ ঐ উচ্চৈঃস্বর শুনেই আমি সালাত শেষ হওয়ার কথা বুঝতে পারতাম।

হারূন ইবন সাঈদ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইরে থেকে আমার কাছে আসলেন। তখন আমার কাছে একজন ইয়াহুদ মহিলা উপস্থিত ছিল। সে আমাকে বলছিলঃ তুমি কি জান কবরে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে? আয়িশাহ বলেনঃ ইয়াহুদ মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি অবশ্য বললেনঃ পরীক্ষা বা আযাব তো হবে ইয়াহুদদের। আয়িশাহ বলেনঃ আমরা এভাবে কয়েক রাত কাটালাম। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি জান আমার কাছে এ মর্মে ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। আয়িশাহ বলেন এর পরবর্তীকালে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

হারূন ইবন সাঈদ, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আমর ইবন সাওওয়াদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারপর থেকে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার দু'জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে আসলো। তারা বললঃ কবরে মানুষকে আযাব দেয়া হয়ে থাকে। আয়িশাহ বলেনঃ আমি তাদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমার ভাল লাগল না। পরে তারা চলে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলে আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! মদীনার দু'জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে এসেছিলেন। তারা বলল, কবরে মানুষকে আযাব দেয়া হয়। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা সত্য কথাই বলেছে। কেননা কবরে মানুষকে এমন আযাব দেয়া হয় যা চতুষ্পদ জীব-জন্তু পর্যন্ত শুনতে পায়। এ কথা বলে আয়িশাহ বললেনঃ এরপর আমি সব সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি।

হান্নাদ ইবনস্ সারী .... আয়িশাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আছে, আয়িশাহ বলেনঃ এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখনই সালাত আদায় করেছেন তখনই তাকে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাতে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে শুনেছি।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী, ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন (সালাতে) তাশাহহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করবে। এ বলে দোয়া করবেঃ "আল্লহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়ামিন আযা-বিল কবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল"– (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)।

আবূ বকর ইবন ইসহাক .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাতের মধ্যে এ বলে দোয়া করতেনঃ "আল্ল-হুম্মাইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-তি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল মা'সামি ওয়াল মাগরম" – (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।)। আয়িশাহ বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে এত আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? (এ কথা শুনে) তিনি (ﷺ) বললেনঃ কেউ যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ তাশাহহুদ পাঠ করবে তখন যেন সে চারটি জিনিস থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চায়। জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অপকারিতা থেকে।

হাকাম ইবন মূসা, আলী ইবন খশরাম .... আওযাঈ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, "তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ করবে"। তারা আ-খির বা শেষ তাশাহহুদ' শব্দটি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিল কবরি ওয়া আযা-বিন না-রি ওয়া ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়া শাররিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল" (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই)।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে তার আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় চাও। কবরের আযাব থেকে বাচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। আর জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে বাচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।

মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ .... আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ, আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কবর ও জাহান্নামের আযাব ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে যেভাবে কুরআন মাজীদের সূরাহ শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এ দোয়াটিও শিখাতেন। দোয়াটি হলোঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্না- না'উযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়া আউয়ুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-ত" (হে আল্লাহ আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।)। মুসলিম ইবন হাজ্জাজ বলেনঃ তাউস (একদিন) তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি সালাত আদায় করার সময় কি এ দোয়াটি পড়েছ? সে বলল, 'না'। এ কথা শুনে তাউস বললেন, তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর। কারণ তাউস (তোমার পিতা) তিন, চার বা তার বক্তব্য অনুসারে কম বা বেশী লোকের নিকট থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি এরূপ বলেছেন।

দাউদ ইবন রুশায়দ .... সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং বলতেন- "আল্ল-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম" (হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)। হাদীস বর্ণনাকার ওয়ালীদ বলেন- আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি (ﷺ) কিভাবে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বললেন, তিনি (ﷺ) বলতেন- আস্তাগফিরুল্ল-হ, আস্তাগফিরুল্ল-হ'

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে সালাম ফিরানোর পরে নবী (ﷺ) ততটুকু সময় বসতেন- "আল্ল-হুম্মা আনতাস সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম" (হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)- এ দোয়াটা পড়তে যতটুকু সময় লাগে। ইবন নুমায়র এর একটি বর্ণনায় "হে গৌরব ও সম্মানের অধিকারী" উল্লেখ আছে।

ইবন নুময়ের .... আসিম-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি "হে গৌরব ও সম্মানের অধিকারী" উল্লেখ করেছেন।

আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ .... আয়িশাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে এ কথাটুকু নেই যে, তিনি "হে গৌরব ও সম্মানের অধিকারী" বলতেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুগীরাহ ইবন শুবাহ মুআবিয়াহ-কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন– "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নিআ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ" (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও আহমাদ ইবন সিনান .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ থেকে নবী (ﷺ) এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ দোয়াটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মুআবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি।

মুহাম্মদ ইবন হাতিম .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ ইবন শুবাহ (আমীর) মুআবিয়ার কাছে ওয়াররাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি ... তবে এ বর্ণনায়ঃ "তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।" বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি।

হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, (আমীর) মুআবিয়াহ মুগীরাহ এর কাছে লিখেছিলেন। ... এরপর তিনি মানসুর ও আমাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

ইবন আবূ উমার আল মাক্কী .... আব্‌দাহ ইবন আবূ লুবাবাহ ও আবদুল মালিক ইবন উমায়র (উভয়ে) মুগীরাহ ইবন শুবাহ এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদকে বলতে শুনেছেন যে, (আমীর) মুআবিয়াহ মুগীরাহ ইবন শুবাহ এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ ইবন শুবাহ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি সালাত শেষে (এ দোয়াটি) বলতেন, "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লামা-নিআ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ" (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শরীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবুয যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না'বুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন নি'মাতু ওয়ালাহুল ফাযলু ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্‌দীনা ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন" (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শরীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।)। আর তিনি (ইবনয যুবায়র) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... উরওয়াহ তাদের আযাদকৃত দাস আবূয যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে ইবন নুমায়র-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলীল ("লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনয যুবারর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পর তাহলীল বা আল্লাহর প্রশংসা করতেন।

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... আবুয যুবায়র (রহ:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রকে এ মিম্বারে দাড়িয়ে এই বলে খুতবাহ দিতে শুনেছি যে, সালাতের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন .....। অতঃপর তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ্ আল মুরাদী .... আবুয যুবায়র আল মাক্কী থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন ঘুবায়র-কে প্রতি ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতে শুনেছেন হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দোয়ার অনুরূপ দোয়া করতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করতেন।

আসিম ইবন নায্‌র আত তায়মী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুতায়বাহও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ বলেছেনঃ একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বললেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নিআমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিভাবে? তারা বললেনঃ আমরা সালাত আদায় করি তারাও সালাত আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে আমরা দান করতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে আমরা দাস মুক্ত করতে পারি না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হতে পারবে না। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেক সালাতের পর তোমরা তেত্রিশবার করে তাসবীহ (সুবহানা-ল্ল-হ), তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লা-হ) বলবে। আবূ সালিহ বর্ণনা করেছেন এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেনঃ আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ তো আল্লাহর মেহেরবানী। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। কুতায়বাহ ছাড়া আর যারা এ হাদীসটি লায়স ও ইবন আজলান এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করেছেন তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই (হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী) বলেছেনঃ আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছেঃ তেত্রিশবার তাসবীহ বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার হামদ করবে আর তেত্রিশবার তাকবীর বলবে। সুতরাং (এ কথা শুনে) আমি আবূ সালিহ্-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ বরং তুমি বলবে "আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হ" (আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার)। এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবন আজলান বলেছেনঃ আমি রাজা ইবন হায়ওয়াহ এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবূ সালিহ ও আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন।

উমাইয়্যাহ ইবন বিসতাম আল আয়শী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন গরীব মুহাজিররা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নিআমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। এভাবে তিনি লায়স থেকে কুতায়বাহ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি আবূ হুরায়রাহ বর্ণিত হাদীসে আবূ সালিহ বর্ণিত হাদীসের "অতঃপর গরীব মুহাজিররা ফিরে আসল" কথাটা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর হাদীসটির মধ্যে তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সুহায়ল বলেন, এগার বার করে সবগুলো মিলিয়ে মোট তেত্রিশবার পড়তে হবে।

হাসান ইবন ঈসা .... ক'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক ফরয সালাতের পরে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (আলহামদু লিল্লা-হ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (সুবহা-নাল্ল-হ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ করা।

নাসর ইবন আলী আল জাহ্যামী ... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিছু দোয়া আছে প্রত্যেক ফরয সালাতের পরে যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা আমল করে সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দোয়াগুলো হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ, আল্লাহর প্রশংসা করা) পড়া এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার, আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করা) পড়া।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... হাকাম-এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুল হামীদ ইবন বায়ান আল ওয়াসিতী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে তেত্রিশবার আল্লাহর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর তাহমীদ বা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং তেত্রিশবার তাকবীর বা আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করতে বলবে "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা-লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর" (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও তার কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম- তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হয়।)।

মুহাম্মাদ ইবন সব্বাহ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এরপর উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শুরু করলে তাকবীরে তাহরীমা বলে কিরআত শুরু করার আগে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি সালাতের তাকবীরে তাহরীমা ও কিরআতের মাঝে যখন চুপ থাকেন তখন কি পড়েন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তখন বলিঃ "আল্ল-হুম্মা বা-ইদ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা-আদতা বায়নাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্ল-হুম্মা নাক্কিনী মিন খতা-ইয়া-ইয়া কামা- ইউনাক্কাস সাওবুল আবইয়াযু মিনাদ দানাস, আল্লহুম্মাগ সিলনী মিন খত-ইয়া-ইয়া বিস্‌সালজি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল বারাদ" (হে আল্লাহ আমার ও আমার পাপের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে তুমি যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমনভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও তুষারের শুভ্রতা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।)।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র, আবূ কামিল .... উমারাহ ইবন ক্বা-ক্বা'-এর মাধ্যমে একই সানাদে জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবন হাস্‌সান এবং ইউনুস আল মুআদ্‌দিব ও অন্যান্য আবদুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ ও উমারাহ ইবন ক্বা-ক্বা এর মাধ্যমে আবূ যুরআহ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আবূ যুরআহ বলেছেন, আমি আবূ হুরায়রাহ-কে বলতে শুনেছিঃ সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকাআত শেষে উঠে দাড়িয়ে "আল হামদুলিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীন" বলে শুরু করতেন। চুপ থাকতেন না (দ্বিতীয় রাকাআত থেকে উঠা এবং সূরাহ ফা-তিহাহ পাঠের মাঝখানে কোন বিরতি থাকত না)।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে সালাতের কাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাপাতে ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল "আল হামদুলিল্লা-হি হামদান কাসীরান তুইয়্যিবাম মুবা-রকান ফীহ" (সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তার অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।)। সালাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমি এসে যখন সালাতে শারীক হই তখন আমি হাপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি দেখলাম, বারোজন মালায়িকাহ ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে।

যুহারর ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ "আল্লহু আকবার কাবীরা- ওয়াল হামদুলিল্লা-হি কাসীরা- ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুকরাতান ওয়া আসীলা-" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করতে হবে।)। (সালাত শেষে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এ কথাগুলো কে বলল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রসূল আমি ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবন উমার বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথাগুলো বলতে শোনার পর থেকে তার ওপর আমল করা কখনো ছাড়িনি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন জাফার ইবন যিয়াদ, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া [শব্দাবলী তার] .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, সালাত শুরু হয়ে গেলে তোমরা তাতে শারীক হওয়ার জন্য দৌড়াবে না বা তাড়াহুড়া করবে না। বরং ধীরস্থিরভাবে হেঁটে হেঁটে যাও। তোমাদেরকে গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। এভাবে ইমামের সাথে সালাতের যে অংশ পাবে তাই আদায় করবে। আর যা পাবে না তা পূর্ণ করে নিবে।"

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজুর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হয়ে গেলে তোমরা দৌড়াদৌড়ি বা তাড়াহুড়া করে সালাতে এসো না। বরং প্রশান্তিসহ গাম্ভীর্য বজায় রেখে সালাতে শারীক হও। অতঃপর ইমামের সাথে যতটা সালাত পাও তা আদায় করো। আর যতটা না পাবে তা পূরণ করে নাও। কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাত আদায়ের সঙ্কল্প করে তখন সে সালাতরত থাকে বলেই গণ্য হয়।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস তিনি এ বলে বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আহবান করা (আযান দেয়া) হয় তখন তোমরা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে গিয়ে সালাতে শারীক হও। এ সময় তোমাদের উচিত প্রশান্তভাব ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা। এভাবে যতটুকু জামাআতের সাথে পাবে আদায় করবে। আর যতটুকু পাবে না তা পূরণ করে নিবে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, যুহারর ইবন হারব [শব্দগুলো তার] .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হয়ে গেলে তোমাদের কেউ যেন দৌড়িয়ে না যায়। বরং প্রশান্তভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে যেন যায়। জামাআতে বা ইমামের সাথে যতটুকু পাবে আদায় করবে। আর যা না পাবে তা পূরণ করে নিবে।

ইসহাক ইবন মানসূর .... কতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে তিনি শোরগোল ও কোলাহল শুনতে পেয়ে (সালাত শেষে) বললেনঃ কি ব্যাপার! তোমরা এরূপ করলে কেন? সবাই বলল, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না, এরূপ করবে না। বরং তোমরা সালাতে আসার সময় শান্তভাবে আসবে এভাবে জামাআতে সালাতের যে অংশ পাবে তা আদায় করে নিবে আর যে অংশ পাবে না তা পরে পূর্ণ করে নিবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... শায়বান-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত দেয়া হলেও আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাড়াবে না। হাদীসে "যখন ইকামাত দেয়া হয়" বলা হয়েছে না "যখন আহবান করা হয়" বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ইবন আবূ হাতিম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ কতাদাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইসহাক তার বর্ণনায় মা'মার ও শায়বান বর্ণিত হাদীসের "যতক্ষণ আমাকে বের হতে না দেখো" কথাটি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন মারূফ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে পৌছার আগেই আমরা দাড়িয়ে কাতার সোজা করে নিলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে সালাতের স্থানে দাড়ালেন। তখনও তাকবীর বলা হয়নি। ইতোমধ্যে তার কিছু স্মরণ হলে তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা নিজ-নিজ স্থানে অপেক্ষা করতে থাক। এ কথা বলে তিনি ফিরে গেলেন। আমরা তার পুনরায় না আসা পর্যন্ত দাড়িয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। ইতোমধ্যে তিনি গোসল করে আসলেন। তখনও তার মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছিল। এবার তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলে আমাদের সালাত আদায় করালেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলে লোকজন কাতার ঠিক করে দাড়াল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জায়গায় দাড়িয়ে ইশারা করে তাদের সবাইকে বললেনঃ তোমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গায় অপেক্ষা করো। এরপরে তিনি গিয়ে গোসল করে আসলেন। তখন তার মাথার চুল থেকে পানি চুইয়ে পড়ছিল। এবার তিনি সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

ইবরাহীম ইবন মূসা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উদ্দেশে সালাতের ইকামাত দেয়া হত। আর নবী (ﷺ) নিজের স্থানে দাড়ানোর পূর্বেই লোকজন কাতার বেধে দাড়িয়ে যেত।

সালামাহ ইবন শাবীব .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়লেই বিলাল আযান দিতেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে না আসা পর্যন্ত এবং তাকে না দেখা পর্যন্ত ইকামাত দিতেন না। বের হয়ে আসার পর তিনি তাকে দেখতেন তখনই কেবল ইকামাত দিতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি (জামাআতের সাথে) কোন সালাতের এক রাকাআত পেয়ে যায় সে উক্ত সালাত পেয়ে গেল।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (জামাআতে) এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারল সে উক্ত সালাতই ইমামের সাথে আদায় করল।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব, আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র, ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে মালিক এর মাধ্যমে ইয়াহইয়া কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে কারোর বর্ণিত হাদীসেই "মাআল ইমাম" (ইমামের সাথে) কথাটি নেই। তবে উবায়দুল্লাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সে পুরো সালাতই পেয়ে গেল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ যদি ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে ফজরের সালাত আদায় করল। আর তেমনি যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারলে সে যেন ঠিক ওয়াক্তেই আসরের সালাত আদায় করল।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। হাদীসটি যায়দ ইবন আসলাম মালিক এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবনর রাবী, আবূত তহির ও হারমালাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল সে উক্ত সালাত পেয়ে গেল। আর সিজদা অর্থ রাকাআত।

হাসান ইবনর রাবী .... আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সে ওয়াক্ত মতোই সালাত আদায় করল। আবার যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সেও ওয়াক্ত মতোই ফজরের সালাত আদায় করল।

আবদুল আ'লা ইবন হাম্মদ ... মামার থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমূহ .... ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয একদিন আসরের সালাত আদায় করতে দেরী করলে উরওয়াহ তাকে বললেনঃ একদিন জিবরীল এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। এ কথা শুনে উমর ইবন আবদুল আযীয উরওয়াহকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি যা বলছ তা ভালমতো চিন্তাভাবনা করে বলো। উরওয়াহ বললেনঃ আমি বাশীর ইবন আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। একদিন জিবরীল এসে আমার ইমামতি করলেন। আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর পুনরায় আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি আবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি আরো একবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এভাবে তিনি আঙ্গুল গুণে পাচ (ওয়াক্ত) সালাতের কথা বললেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী ... ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ উমার ইবন আবদুল আযীয একদিন সালাত আদায় করতে (বেশ দেরী করে ফেললেন) তাই উরওয়াহ ইবন মাসউদ তার কাছে গিয়ে বললেন, কুফায় (গভর্নর) থাকাকালীন একদিন মুগীরাহ ইবন শুবাহ (আসরের) সালাত আদায় করতে করতে দেরী করে ফেললেন। আবূ মাসউদ আল আনসারী গিয়ে তাকে বললেন, মুগীরাহ! একি করছ তুমি? তুমি কি জানো না যে, এক সময় জিবরীল এসে সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল আবার (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে আবার সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল পুনরায় (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। তিনি জিবরীল আবারও (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। এরপর জিবরীল বললেন, আপনি এভাবে সালাত আদায় করতে আদিষ্ট হয়েছেন। এ কথা শুনে উমার ইবন আবদুল আযীয উরওয়াহ ইবন যুবায়রকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি কি বলছ তা কি চিন্তা করে দেখেছে? জিবরীল নিজে কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য সালাতের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন? জবাবে উরওয়াহ বলেন, বাশীর ইবন আবূ মাসউদ তার পিতা আবূ মাসউদের নিকট থেকে তো এরূপই (সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া) বর্ণনা করতেন।

উরওয়াহ বললেনঃ নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত, তখনো তা দেয়ালের উপর উঠে যেত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্য কিরণ আমাদের কামরার মধ্যে ঝলমল করত। বেশ কিছুক্ষণ পরও কামরার মধ্যে ছায়া পড়ত না। আবূ বকর বলেছেনঃ এরপরও বেশ কিছুক্ষণ উপরে উঠত না।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন তখনো সূর্যের কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত এবং তা কামরার মধ্যে থেকে উপরের দিকে (দেয়ালে) উঠে যেত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন সূর্যের কিরণ তখনো আমার কামরার মধ্যেই থাকত।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন ফজরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখে ফজরের সালাতের সময় হলো সূর্যের প্রান্তভাগ বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত। তোমরা যখন ঘুহরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, এর সময় হলো- আসরের ওয়াক্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তোমরা যখন আসরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো আসরের সালাতের সময় হলো সূর্য বিবর্ণ হয়ে হলুদ (সোনালী বা তাম্রবর্ণও বলা যেতে পারে) বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। তোমরা যখন মাগরিবের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, মাগরিবের সালাতের সময় থেকে পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা বা লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর তোমরা যখন ইশার সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখ ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধেক রাত পর্যন্ত।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আসরের সালাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুহরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তৰ্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় থাকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত।

যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইয়াহইয়া ইবন আবূ বুকায়র উভয়ই শুবাহ-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি শুবাহ মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একের অধিকবার মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি।

আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যুহরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের সালাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হয় ফাজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়তনের দু শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়।

আহমাদ ইবন ইউসুফ আল আয্‌দী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সূর্যের উপর দিকের প্রান্তভাগ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ফাজর সালাতের সময় থাকে। যুহরের সালাতের সময় থাকে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্য গড়িয়ে আসরের সময় না হওয়া পর্যন্ত। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ করার পর উপরের প্রান্তভাগ অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী .... আবদুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, দৈহিক আরাম উপভোগের সাথে জ্ঞানার্জন কখনও সম্ভব নয়।

যুহায়র ইবন হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... বুরায়দাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে সালাতের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি আমাদের সাথে দু'দিন সালাত আদায় কর (লোকটি তাই করল)। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী (ﷺ) বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল আযান দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইকামাত দিতে বললে তিনি যুহরের সালাতের ইকামাত দিলাম (তখন নবী (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন)। এরপর (আসরের সময় হলে) তিনি তাকে আসরের সালাতের ইকামাত দিতে বললেন। বিলাল ইকামাত দিলেন। নবী (ﷺ) তখন আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল। তারপর আদেশ দিলে বিলাল মাগরিবের আযান দিলেন এবং নবী (ﷺ) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন তখন সূর্য ডুবে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ইশার সালাতের ইকামাত দিতে বললেন বিলাল ইকামাত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তৰ্হিত হওয়ার পরপরই ইশার সালাত আদায় করলেন। পরে বিলালকে তিনি ফজরের সালাতের ইকামাত দিতে বললেন এবং উষার অভ্যুদয়ের সাথে সাথেই ফজরের সালাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করলেন এবং বেশ দেরী করে যুহরের সালাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় দিনে) তিনি এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরী করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তৰ্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। আর রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাত আদায় করলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়? লোকটি তখন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তখন নবী (ﷺ) লোকটিকে বললেনঃ দুদিন যে দু'টি সময়ে আমি সালাত আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো সালাতের ওয়াক্তসমূহ।

ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন আরআরাহ আস সামী .... বুরায়দাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে এসে জিজ্ঞেস করলে নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে সালাত আদায় করো (জানতে পারবে)। অতঃপর ফজরের সালাতের জন্য বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলে তিনি (বিলাল) বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আযান দিলেন। তখন নবী (ﷺ) উষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলালকে যুহরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং যুহরের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলালকে আসরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর সান্ধ্যকালীন গোধূলি (বা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান রক্তিম আভা) অন্তৰ্হিত হওয়ার সাথে সাথে বিলালকে ইশার আযান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)। পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলালকে ফজরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর যুহরের সালাতের আযান দিতে বললেন এবং বেশ দেরী করে (সূর্যের উত্তাপ কমলে) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর সূর্য তাম্রবর্ণ ধারণ করার পূর্বেই এর আলো পরিষ্কার এবং ঝলমলে থাকতেই নবী (ﷺ) তাকে আসরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন) এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ (বর্ণনাকার হারামী ইবন উমারাহ সন্দেহ করেছেন) অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন (সালাতের সময় সম্পর্কে) প্রশ্নকারী কোথায়? (দু'দিন সালাত আদায়ের) সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো সালাতের সময়।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (ﷺ) তাকে জবাব দিলেন না তিনি (ﷺ) কাজের মাধ্যমে তাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন। বর্ণনাকার সাহাবী আবূ মূসা বলেন, উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখনও অন্ধকার এতটা ছিল যে লোকজন একে অপরকে দেখে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি (ﷺ) আযান দিতে আদেশ করলেন এবং লোকজন বলাবলি করছিল যে, দুপুর হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এ বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশী অবহিত। তারপর তিনি (ﷺ) আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সালাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (ﷺ) ইশার সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ইশার সালাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে। এর পরদিন সকালে তিনি (ﷺ) ফজরের সালাত দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সালাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় ঘটেছে বা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর যুহরের সালাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের আসরের সালাত যে সময় আদায় করেছিলেন প্রায় সে সময় এসে গেল। অতঃপর আসরের সালাতটাও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সালাত শেষ করলে লোকজন বলাবলি করতে লাগল- সূর্য রক্তিন বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর মাগরিবের সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা তখন অন্তর্নিহিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ইশার সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেল এবং অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর সকাল বেলা প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ এ দু'টি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই সালাতসমূহের সময় (দু' দিনে আমি একই সময়ে সালাত আদায় না করে একই সালাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকুই প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়)।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... আবূ মূসা আল আশআরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। তবে এ হাদীসের বর্ণনাকারী বলেছেন যে, দ্বিতীয় দিন নবী (ﷺ) সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা অন্তৰ্হিত হওয়ার পূর্বে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গরমের প্রচণ্ডতা দেখা দিলে (যুহরের) সালাত দেরী করে গরমের প্রচণ্ডতা কমলে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন .... পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী, আমর ইবন সাওওয়াদ ও আহমাদ ইবন ঈসা ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গরমের দিনে (যুহরের) সালাত (গরমের প্রচণ্ডতা হ্রাস পেয়ে ঠাণ্ডা হলে) আদায় করো। কারণ গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। আমর বলেছেনঃ আবূ ইউনুস আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উত্তাপ ঠাণ্ডা হলে যুহরের সালাত আদায় কর, কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। ইবন শিহাব, ইবন মুসাইয়্যিব এবং আবূ সালামাহ ও আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে আমর রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ (প্রচণ্ডতা) গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা (যুহরের) সালাত দেরী করে (গরম কমে গেলে) আদায় কর।

ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ আমার কাছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তীব্র গরমের সময় সালাত আদায় না করে পরে (গরম কমলে) সালাত আদায় কর। কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই সৃষ্টি হয়।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ যর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুয়াযযিন যুহরের সালাতের আযান দিলে নবী (ﷺ) তাকে বলেছেনঃ আরে একটু ঠাণ্ডা হতে দাও না। অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কিছু সময় অপেক্ষা কর। তিনি আরো বললেন যে, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং গরম প্রচণ্ডতা ধারণ করলে সালাত দেরী করে একটু ঠাণ্ডা হলে আদায় কর। আবূ যার (হাদীস বর্ণনাকারীর সাহাবী) বলেনঃ (প্রচণ্ড গরমের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় সালাত আদায় করতেন যে সময়) আমরা টিলার ছায়া দেখতে পেতাম।

আমর ইবন সাওওয়াদ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে এ বলে ফরিয়াদ করল যে, তার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে দু'বার শ্বাস প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। একবার শীতকালে এবং আরেকবার গ্রীষ্মকালে। তোমরা যে প্রচণ্ড গরমের অনুভব করে থাকো তা এ কারণেই।

ইসহাক ইবন মূসা আল আনসারী ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গরমের সময় যুহরের সালাত দেরী করে (গরমের প্রচণ্ডতা কমলে) আদায় কর। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়াতেই হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলে মহান আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি বছর দু'বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। শীতকালে একবার এবং গ্রীষ্মকালে একবার।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নাম অভিযোগ করে আল্লাহর কাছে বলল, হে আমার প্রভু! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আমাকে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি দিন। তাই আল্লাহ তাআলা তাকে দু'বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দান করলেন। একবার শীত মৌসুমে আরেকবার গ্রীষ্ম মৌসুমে। তোমরা শীতকালে যে ঠাণ্ডা অনুভব করে থাকো তা জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। আবার যে গরমে বা প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করে থাকো তাও জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য (মাথার উপর থেকে) হেলে পড়লেই নবী (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... খাব্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা গরমের সময় সালাত আদায় করা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস শব্দাবলী তার ও আওন ইবন সাল্লাম .... খাব্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে প্রচণ্ড গরমের (সালাত আদায়ের ব্যাপারে) অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি (ﷺ) আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন না। রর্ণনাকারী যুহায়র বললেন, আমি আবূ ইসহাককে জিজ্ঞেস করলামঃ তারা (খাব্বাব ও অন্য সাহাবীগণ) কি যুহরের সালাত (প্রচণ্ড গরমের মধ্যে) আদায় করা সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি (যুহায়র) আবারও জিজ্ঞেস করলাম (যুহরের সালাত) আগে ভাগে ওয়াক্তের প্রথম দিকে আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন? তিনি এবারও বললেন, হ্যা।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময়ও আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (যুহরের) সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ যখন (গরমের প্রচণ্ডতার কারণে সাজদার সময়) কপাল মাটিতে স্থাপন করতে পারত না তখন সে কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করত।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সময় সালাত আদায় করতেন সূর্য তখনও আকাশের অনেক উপরে অবস্থান করত এবং তখনও তার তেজ বিদ্যমান থাকত। (তেজ কমে বর্ণ পরিবর্তন হত না) সালাত শেষে যার দরকার পড়ত সে মদীনার আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত এবং সেখানে পৌছার পরেও সূর্য আকাশের বেশ উপরে থাকত(১)। তবে বর্ণনাকারী কুতায়বাহ তার বর্ণনায় "তারা আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত" কথাটা উল্লেখ করেননি।

হারূন ইবন সাঈদ আল লায়লী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করতেন যখন ছায়া প্রতিটি বস্তুর সমান হত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে সালাতের পর আমাদের মধ্যে থেকে কেউ চাইলে (মদীনার শহরতলীর) কুবা নামক স্থানে যেয়ে পৌছত। অথচ সূর্য তখনও অনেক উপরে অবস্থান করত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে তারপর লোকজন বানী আমর ইবন আওফ গোত্রের এলাকায় গিয়ে দেখতে পেত যে, তারা তখন মাত্র আসরের সালাত আদায় করছে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, মুহাম্মাদ ইবন সব্বাহ, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবন মালিক এর বসরাস্থ বাড়ীতে গেলেন। আর বাড়ীটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি (আলা ইবন আবদুর রহমান) তখন সবেমাত্র যুহরের সালাত আদায় করছেন। আলা ইবন আবদুর রহমান বলেনঃ আমরা তার (আনাস ইবন মালিকের) কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি আসরের সালাত আদায় করছ? আমরা জবাবে তাকে বললাম, আমরা এই মাত্র যুহরের সালাত আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ যাও আসরের সালাত আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের সালাত আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ ঐ সালাত হলো মুনাফিকের সালাত যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে আর যখন তা অস্তপ্রায় হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে চারবার ঠোকর মেরে আসে। এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করতে পারে।

মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম .... আবূ উসামাহ ইবন সাহর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন উমর ইবন আবদুল আযীয এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করলাম এবং সেখান থেকে আনাস ইবন মালিক এর কাছে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম তিনি আসরের সালাত আদায় করছেন। সালাত শেষে আমি জিজ্ঞেস করলামঃ চাচাজান, এখন আপনি কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করলেন? তিনি বললেনঃ আসর, আর এটিই হচ্ছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত যা আমরা তার সাথে আদায় করতাম।

আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমির, মুহাম্মদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী ও আহমদ ইবন ঈসা তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে বানী সালামাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা আমাদের একটা উট যাবাহ করতে চাই। আমরা চাই আপনিও সেখানে উপস্থিত থাকুন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আচ্ছা, ঠিক আছে। এরপর তিনি রওয়ানা হলে আমরাও তার সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা গিয়ে দেখলাম উটটি তখনও যাবাহ করা হয়নি। উটটি যাবাহ করতে প্রস্তুত করা হলো এবং তার কিছু গোশত রান্না করা হলো। সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা তা খেলাম।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী .... রাফি ইবন খাদীজ থেকে বর্ণিত। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে সালাতের পর উট যাবাহ করা হত। তা দশ ভাগে বিভক্ত করা হত। এরপর তা রান্না করে সূর্যাস্তের পূর্বেই সু-সিদ্ধ গোশত খেতাম।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আওযাঈ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমরা আসরের সালাতের পর উট যাবাহ করতাম। কিন্তু তিনি বলেননি যে, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (আসরের) সালাত আদায় করতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সালাত কাযা হয় তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ ..... ইবন উমার (রযিঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আমর শুধু বর্ণনাই করেছেন। আর আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সালাত কাযা হলো তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আলী ইবন আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ আল্লাহ তাআলা তাদের কবর ও ঘর-বাড়ী যেন আগুন দিয়ে ভরে দেন। কারণ তারা আমাদেরকে যুদ্ধের কাজ-কর্মে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসত্বা (আসরের সালাত), থেকে বিরত রেখেছে এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল।

মুহাম্মদ ইবন আবূ বকর আল মুক্বদ্দামী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদের (যুদ্ধ তৎপরতায়) ব্যস্ত রাখার কারণে আমরা আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা যেন তাদের কবর, বাড়ী-ঘর ও পেটসমূহ আগুন দ্বারা ভর্তি করে দেন। বর্ণনাকারী শুবাহ ঘর-বাড়ী ও পেটসমূহ কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে বুয়ুতাহুম ও কুবুরাহুম তাদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহারর ইবন হারব, উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয [শব্দাবলী তার] .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন খন্দকের একটি খাঁজ বা সংকীর্ণ পথের উপর বসে বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে "সালাতুল উসতা" (মধ্যবর্তী সময়ের সালাত বা আসরের সালাত) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এমনকি এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তাআলা ওদের কবর ও বাড়ি-ঘর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কবরসমূহ অথবা পেট আগুন দ্বারা যেন ভর্তি করে দেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা কাফিররা আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, আসরের সালাত) থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তাআলা ওদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। অতঃপর তিনি এ সালাত মাগরিব এবং ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলেন।

আওন ইবন সাল্লাম আল কুফী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন মুশরিকগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাত থেকে বিরত রাখল। এমনকি সূর্য লাল অথবা (বলেছেন) তাম্রবর্ণ ধারণ করল। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা (মুশরিকরা) আমাকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, আসরের সালাত) থেকে বিরত রাখল। আল্লাহ যেন তাদের পেট ও কবরকে আগুন দিয়ে ভরে দেন অথবা তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাদের পেট ও কবরকে আগুনে পূর্ণ করে দিন।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আয়িশাহ্ এর আযাদকৃত ক্রীতদাস আবূ ইউনুস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে আয়িশাহ আমাকে কুরআন মাজীদের এক কপি হাতে লিখে দিতে বললেনঃ লিখতে লিখতে যখন সালাতের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষতঃ মধ্যবর্তী সালাতের" এ আয়াত পর্যন্ত পৌছবে তখন আমাকে জানাবে। আবূ ইউনুস বলেন, আমি এ আয়াতের কাছে পৌছলে তাকে জানালাম। তখন তিনি আমাকে আয়াতটি এভাবে লিখতে বললেন, আর সালাতুল উসত্বা (মধ্যবর্তী সালাতের) ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ কর এবং আল্লাহর উদ্দেশে অনুগত ও বিনীত হয়ে দাড়াও" এভাবে লেখানোর পর আয়িশাহ বললেনঃ আমি আয়াতটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছি।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল "নামাজ ও আসরের নামাজের হেফাজত কর।" যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি 'মানসুখ' বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেন: "নামাযের হেফাজত কর এবং মধ্যবর্তী সালাত।" বর্ণনাকারী শ্বাকীক ইবন উকবাহ এর কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবন আযিবকে লক্ষ্য করে বললঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সালাতই বুঝায়। বারা ইবন আযিব তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা মানসূখ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তাআলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আশজাঈ ... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী (ﷺ) এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযায়ল ইবন মারযুক্‌ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন উমার ইবন খাত্ত্বাব কাফির কুরায়শদের ভৎসনা ও গালমন্দ করতে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সূর্য এখন ডুবন্ত প্রায়। কিন্তু আজ আমি এখন পর্যন্ত আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ, আমিও আজ এখন পর্যন্ত আসরের সালাত পড়িনি। এরপর আমরা একটি কংকরময় ভূমিতে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে ওযু করলেন, আমরাও ওযু করলাম। এরপর তিনি (আমারে সাথে নিয়ে) আসরের সালাত আদায় করলেন। তখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল। এর (আসরের সালাত আদায়ের) পর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর-এর মাধ্যমে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের বেলা ও দিনের বেলা মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) এক দলের পর আর একদল তোমাদের কাছে এসে থাকে এবং তাদের উভয় দল ফাজর ও আসর সালাতের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের সাথে রাত্রি যাপন করেছে তারা উঠে যায়। তখন তাদের প্রভু মহান আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কিরূপ অবস্থায় রেখে আসলে? যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। মালায়িকাহ তখন বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল। আবার তাদের কাছে আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মালায়িকাহ এক দলের পর আরেক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে। এরপর আবুয যিনাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসেছিলাম। এক সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই (জান্নাতে) তো তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহ তাআলাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে যেন এ চাঁদকে অবাধে দেখতে পাচ্ছ। (সুতরাং যদি এরূপ চাও) তাহলে সাধ্যমত সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত উত্তম সময়ে আদায়ের মাধ্যমে আয়ত্তে রাখ। এ কথা দ্বারা তিনি ফজর ও আসরের সালাত বুঝালেন। অতঃপর জারীর ইবন আবদুল্লাহ এ আয়াতটি পাঠ করলেন, "তুমি তোমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে" (সূরাহঃ ত্বহা ২০ঃ১৩০)

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ উসামাহ ও ওয়াকী-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেনঃ তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর দরবারে পেশ করা হবে। তখন তোমরা তাকে এমনভাবে স্পষ্ট দেখতে পাবে যেমনভাবে এ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তিনি আরো বলেছেনঃ অতঃপর তিনি (আয়াত) পাঠ করলেন। তবে জারীর (পাঠ করলেন) কথাটা উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ বকর ইবন উমারাহ ইবন রুআয়বাহ তার পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ এমন কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত ফাজর ও আসরের সালাত আদায় করে। এ কথা শুনে বাস্‌রার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি নিজে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে এ কথা শুনেছ? সে বললঃ হ্যা। তখন লোকটি বলে উঠল, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছি। আমার দু' কান তা শুনেছে আর মন তা স্মরণ রেখেছে।

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... উমর ইবন রুআয়বাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করবে সে জাহান্নামে যাবে না। এ সময় তার কাছে বাসরার অধিবাসী জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। সে বলল, তুমি কি সরাসরি নবী (ﷺ) এর নিকট থেকে এ হাদীসটি শুনেছ? তিনি বললেন, হ্যা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এ হাদীসটি নবী (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছি। এ কথা শুনে বাসরার অধিবাসী লোকটি বলল- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ হাদীসটি আমিও নবী (ﷺ) এর নিকট থেকে যে স্থানে তুমি শুনেছ সে স্থানেই শুনেছি।

হাদ্দাব ইবন খালিদ আল আযদী .... আবূ বকর তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দু'টি ঠান্ডা সময়ের (ফাজর ও আসর) সালাত ঠিকমত আদায় করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইবন আবূ উমার, ইবন খিরাশ ... হাম্মাম থেকে একই সানাদে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন খিরাশ ও বিশর ইবনস সারী আবূ বকরকে আবূ মূসার সাথে সম্পর্কিত করে আবূ বকর ইবন আবূ মূসা বলে উল্লেখ করেছেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সালামাহ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য অস্তমিত হয়ে অদৃশ্য হলেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিবের সালাত আদায় করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রায়ী .... রাফি ইবন খাদীজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর আমাদের কেউ তীর ছুড়ে তা পতিত হওয়ার জায়গা পর্যন্ত দেখতে পেত (ওয়াক্তের প্রথমেই শীঘ্র শীঘ্ৰ সালাত আদায় করা হত)।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... রাফি ইবন খাদীজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম (উপরে বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ।

আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত- যাকে আতামাহ্ বলা হত- আদায় করতে অনেক দেরী করলেন। অনেক রাত পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন না। এমনকি শেষ পর্যন্ত উমার ইবন খাত্ত্বাব যেয়ে বললেন, মেয়ে ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং এসে মসজিদের লোকদেরকে বললেনঃ এ সালাতের জন্য (এত রাতে) তোমরা ছাড়া এ পৃথিবীবাসীদের আর কেউ-ই অপেক্ষা করছে না। এ ঘটনাটি ছিল মানুষের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করার পূর্বের। হারমালাহ তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, ইবন শিহাব বলেছেনঃ আমার কাছে বলা হয়েছে যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেনঃ তোমাদের জন্য এটা ঠিক নয় যে, তোমরা আল্লাহর রসূলকে সালাতের জন্য তাকিদ করবে। উমর ইবন খাত্ত্বাব যখন উচ্চস্বরে ডাকলেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাটা বললেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... ইবন শিহাব থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ সনদে বর্ণিত হাদীসে তিনি যুহরীর কথা "ওজুকিরালী" থেকে শুরু করে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি।

ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, হারূন ইবন আবদুল্লাহ, হাজ্জাজ ইবন শাইর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে অনেক রাত করলেন। এমনকি রাতের বড় একটা অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের লোকজনও ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং সালাত আদায় করে বললেনঃ এটাই ইশার সালাতের উত্তম সময়। তারপর তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম (তাহলে এ সময়কে ইশার সালাতের সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করতাম)। আবদুর রাযযাক বর্ণিত হাদীসে কিছুটা বর্ণনার তারতম্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে না দাড়াত।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে ইশার সালাতে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা জানি না তিনি পারিবারিক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, না অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এসে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা এমন এক সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ যার জন্য তোমরা ছাড়া অন্য কোন দীনের লোকেরা অপেক্ষা করছে না। (তারপর তিনি বললেন) আমার উম্মাতের জন্য যদি ভাল না হত তাহলে আমি তাদের সাথে প্রতিদিন এ সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। এরপর মুয়াযযিন ইকামাত দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ইশার সালাত আদায় করতে খুব দেরী করে ফেললেন। এমনকি আমরা সবাই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আজকের এ রাতে তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ-ই সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না।

আবূ বকর ইবন নাফি আল আবদী .... সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা আনাসকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে দেরী করলেন। এত দেরী করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সালাতরত আছ। আনাস বলেছেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস তার বা হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে (ইশার সালাত আদায় করতে) আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এভাবে রাত প্রায় অর্ধেক হয়ে আসল। এরপর তিনি এসে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন। আমি যেন এ মুহুর্তেও হাতের আঙ্গুলে পরিহিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি।

আবদুল্লাহ ইবন সব্‌বাহ আল আত্বর .... কুররাহ-এর মাধ্যমে উক্ত সানদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনাতে 'পরে তিনি আমাদের দিকে ঘুরালেন' কথাটি উল্লেখ করেননি।

আবূ আমির আল আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে যেসব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাকী' নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিন রাতে ইশার সালাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে (তার সাথে ইশার সালাত আদায় করার জন্য) যেত। আবূ মূসা বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ইশার সালাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সালাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সু-সংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমাত যে, এ মুহুর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোন মানুষই সালাত আদায় করছে না। অথবা (আবূ মূসা বলেন,) এ দু'টি কথার মধ্যে কোন কথাটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। আবূ মূসা বর্ণনা করেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশী হয়ে ফিরে আসলাম।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন জুরায়জ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সালাত যাকে লোকে আতামাহ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সব চেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সালাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আতা বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসকে বলতে শুনেছি- নবী (ﷺ) একদিন ইশার সালাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর তারা আবার জেগে উঠলে উমার ইবন খাত্ত্বাব উঠে গিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, সালাতের সময় হয়েছে। আতা বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেছেন- অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন। আমি যেন এ মুহুর্তেও দেখছি নবী (ﷺ)-এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করার আদেশ করতাম। ইবন জুরায়জ বলেন- নবী (ﷺ)-এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তাকে বলেছেন আমি তা আতাকে দেখাতে বললাম। তখন আতা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমণ্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন। ইবন জুরায়জ বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) সে রাতে ইশার সালাত কত দেরী করেছিলেন বলে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সালাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রসুলুল্লাহ(ﷺ) ঐ যেভাবে দেরি করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরি করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামাআতে ইমাম হয়ে সালাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করা। বেশী আগেও আদায় করো না কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করো না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত দেরী করে আদায় করতেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের মতো করেই সালাত আদায় করতেন। তবে তিনি ইশার সালাত তোমাদের চেয়ে একটু দেরী করে আদায় করতেন। আর তিনি সালাত হালকা করে আদায় করতেন।

যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার না করে বসে। জেনে রাখো সালাতের নাম হলো ইশা। আর তারা উট দোহন করতে দেরী করে তাই এ সালাতকেও তারা আতামাহ' বলে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গেয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদেরকে ইশার সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাবান্বিত না করে বসে। কেননা আল্লাহর কিতাবে এ সালাতের নাম ইশা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো তারা (গ্রাম্য লোকেরা) উট দোহনে অনেক বিলম্ব করে থাকে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন মহিলারা নবী (ﷺ) এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং তারা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতো। কিন্তু যেহেতুরসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করতেন তাই সালাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী ও ইসহাক ইবন মূসা আল আনসারী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন যে, সালাত শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাসান ইবন আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ মদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচণ্ড গরম থাকতে, আসরের সালাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সালাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাসান ইবন আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ (ইবন ইউসুফ) সালাত দেরী করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... সাইয়্যার ইবন সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ আবূ বারযাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যা। আমার মনে হচ্চে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবন সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারাহ) রসূল (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ইশার সালাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সালাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সালাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। শুবাহ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবন সালামাহ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস কবলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সালাত আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষ করে লোক মদীনার শহরতলীর দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবন সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সালাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলেছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত। আবূ বারযাহ আরো বলেছেন, ফজরের সালাতে রসূলুল্লাহ(ﷺ) ষাট থেকে একশ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ বারযাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্ৰক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বললেনঃ অথবা রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশার সালাত আদায় করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভ্ৰক্ষেপ করতেন না।

আবূ কুরায়ব ... আবূ বারযাহ আল আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সালাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম।

খালাফ ইবন হিশাম, আবূর রাবী আয যাহরানী ও আবূ কামিল আল জাহদারী ..... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সালাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবূ যার বলেন- এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রসূল!), এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সালাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে ইমামের সাথে জামাআতে সালাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় "আন ওয়াকতিহা" কথাটা উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ যর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সালাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সালাতের উত্তম সময়ে) সালাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সালাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার সালাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করেছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন (জামাআতে) সালাত আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার সালাত হিফাযাত করেছ। অন্যথায় (তাদের সাথে জামাআতের সালাত পেলে) তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী ... আবূ যর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপর সজোরে হাত মেরে বললেনঃ যারা সময় মতো সালাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করে, তোমাকে যদি এমন লোকদের মাঝে থাকতে হয় তাহলে কী করবে? বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনস সাবিত বলেন- আবূ যার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নাও এবং নিজের কাজে চলে যাও। তারপর যখন সালাত আদায় করা হবে তখন যদি তুমি মসজিদে উপস্থিত থাক তাহলে (তাদের সাথে জামাআতে) সালাত আদায় করে নাও।

যুহারর ইবন হারব .... আবুল আলিয়াহ আল বারুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আবদুল্লাহ ইবন যিয়াদ সালাত আদায় করতে দেরী করল। এর পরেই আবদুল্লাহ ইবনস্ সামিত আমার কাছে আসলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবন যিয়াদ এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়িয়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন- আমিও এ ব্যাপারে আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর আমি যেভাবে তোমার উরুর উপরে সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামাআতে যদি সালাত আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করে নিবে- এ ক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি সালাত আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি সালাত আদায় করব না।

আসিম ইবনন নাযর আত তায়মী .... আবদুল্লাহ ইবনস সামিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার তাকে বললেন- তোমরা অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো সালাত আদায় না করে দেরী করে পড়ে তাহলে কী করবে? এরপর আবার নিজেই বললেন, তুমি সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। তারপর জামাআতে সালাত হলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

আবূ গাসসান আর মিসমাঈ .... আবুল আলিয়াহ আল বারা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমুআর সালাত আদায় করি যারা দেরী করে সালাত আদায় করে থাকে। মাতার বলেনঃ এ কথা শুনে আবুল আলিয়াহ আল বাররা আমার উরুর উপরে সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথাই পেলাম। এবার তিনি বললেন- এ বিষয়ে আমি আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপরে সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বললেন- আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামাআতের সালাতকে নাফল হিসেবে আদায় করবে। আবদুল্লাহ ইবনস সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (এ কথা বলার সময়) আল্লাহর নবী (ﷺ)-ও আবূ যার-এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতে সালাত আদায় করা তোমাদের কারো একাকী সালাত আদায় করার চাইতে পচিশগুণ বেশী উত্তম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতের সাথে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে পচিশগুণ বেশী উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ রাতের কর্তব্যরত মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) এবং দিনের কর্তব্যরত মালায়িকাহ ফজরের সালাতের সময় একত্র হয়। এ কথা বলে আবূ হুরায়রাহ বললেন, এক্ষেত্রে তোমরা ইচ্ছা করলে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করো- "ফজরের ওয়াক্তের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকে"- (ইসরা ১৭ঃ ৭৮)।

এ ধরনের একটি হাদীস আবু হুরায়রা শব্দের সামান্য পরিবর্তন সহ আরেকটি ট্রান্সমিটারের সাথে বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ওয়াক্ত সালাত জামাআতের সাথে আদায় করা পঁচিশ ওয়াক্ত একাকী সালাত আদায় করার সমান।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমামের সাথে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতের সাথে সালাত আদায় করা সালাত একাকী আদায় করা সালাত থেকে সাতাশগুণ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামাআতে সালাত আদায় করা তার একাকী আদায় করা সালাত থেকে সাতাশগুণ অধিক (মর্যাদাসম্পন্ন)।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন নুমায়র তার। পিতার মাধ্যমে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে "বিশগুণের কিছু বেশী" মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। আর আবূ বকর এর বর্ণনায় "সাতাশগুণ" মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে।

ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন বিশগুণের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন।

আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। কোন এক ওয়াক্ত সালাত জামাআতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে, কোন জনৈক ব্যক্তিকে আমি সালাতে ইমামাত করার আদেশ করি এবং যারা সালাতে জামাআতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বলিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বলিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানত যে তারা একখণ্ড গোশত হাড্ডি পাবে তাহলে তারা তাতে অবশ্যই উপস্থিত হত। ইশার সালাতে (উপস্থিত হত)।

ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব [শব্দগুলো তাদের দু'জনের] .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করা মুনাফিকদের সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ দু'টি সালাতের পুরস্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দু' ওয়াক্ত জামাআতে উপস্থিত হত। আমি ইচ্ছা করেছি সালাত আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ইমামতি করতে বলি। আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা সালাতের জামাআতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জালিয়ে দেই।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মনস্থ করেছি যে, লোকজনকে জ্বালানী কাঠের স্তুপ করতে বলি। তারপর একজনকে সালাতে ইমামাত করতে আদেশ করি এবং লোকজনসহ গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই, যারা জামাআতে উপস্থিত হয় না।

যুহায়র ইবন হারব, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরায়রাহ-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী (ﷺ) বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে সালাতে ইমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক অন্ধ লোক নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই। অতঃপর তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আবেদন জানাল। তিনি (ﷺ) তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু যে সময় লোকটি ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন? তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? সে বলল, হ্যা (আমি আযান শুনতে পাই)। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তুমি মসজিদে আসবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেছেন আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক যার নিফাক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সালাতের জামাআত পরিত্যাগ করে না। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সালাতের জামাআতে উপস্থিত হত। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের হিদায়াতের কথা শিখিয়েছেন। আর হিদায়াতের কথা ও পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো সে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা যে মসজিদে আযান দেয়া হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেন ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামাআতে উপস্থিত না হয়ে বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা-পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পদ্ধতি পরিত্যাগ করো তাহলে অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন, আমরা মনে করি যার মুনাফিকী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক ছাড়া কেউ-ই জামাআতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামাআতে উপস্থিত হত যাকে দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে সালাতের কাতারে দাড় করিয়ে দেয়া হত।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূশ শাসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রাহ এর সাথে মসজিদে বসেছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াজ্জিন (সালাতের জন্য) আযান দিলো। এ সময়ে জনৈক ব্যক্তি মাসজিদ থেকে উঠে চলে যেতে থাকল। আর আবূ হুরায়রাহ তার প্রতি তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। লোকটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। এ দেখে আবূ হুরায়রাহ বললেন এ ব্যক্তি তো আবূল কাসিম (ﷺ) এর নীতি ও পদ্ধতির নাফরমানী করল।

ইবন আবূ উমার আল মাক্কী ... আবূশ শাসা আল মুহারিবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযানের পর জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আবূ হুরায়রাহ বললেন, এ লোকটি তো আবূল কাসিম (ﷺ) এর আদেশ লঙ্ঘন করল।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুর রহমান ইবন আবূ আমরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের সালাতের পর উসমান ইবন আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন- ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ইশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করল।

যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ সাহল উসমান ইবন হাকীম থেকে একই সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

নাসর ইবন আলী আল জাহ্যামী .... জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুলাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোন অধিকার দাবী করেন না। যদি করেন তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... আনাস ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুনদুব (ইবন আবদুল্লাহ) আল কাসরীকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুলাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল। আর আল্লাহ তাআলা যদি তার নিরাপত্তা প্রদানের হাক্ব কারো থেকে দাবী করে বসেন তাহলে সে আর রক্ষা পাবে না। তাই তাকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জুনদুব ইবন সুফইয়ান এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি "তাকে উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন" কথাটি উল্লেখ করেননি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... মাহমুদ ইবনর রাবী আল আনসারী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসার সাহাবী ইতবান ইবন মালিক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার কওমের লোকদের ইমামাত করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাতে পারি না। (এভাবে আমিও জামাআতে সালাত আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই) হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়ীতে গিয়ে একটি জায়গায় সালাত আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিব। হাদীস বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনর রাবী আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ইতবান ইবন মালিক আল আনসারী বলেনঃ পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর আসলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমার বাড়ীতে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ীর ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করতে দাড়ালেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও তার পিছনে দাড়িয়ে গেলাম। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। ইতবান ইবন মালিক আল আনসারী বলেন- আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে (খবর ছড়িয়ে পড়াতে) আমাদের আশে-পাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালিক ইবনদ দুখশুন কোথায়? (তাকে তো দেখছি না!) অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক। সে আল্লাহ এবং তার রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" বলেছে। "আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই" বলে বিশ্বাস করেছে। ইতবান ইবন মালিক আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলল, আল্লাহ এবং তার রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলল, আমরা দেখি, সে মুনাফিকদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের (উপদেশ দানের মাধ্যমে) কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন। বর্ণনাকারী ইবন শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসায়ন ইবন মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমূদ ইবনর রাবী বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদীসটির সত্যতা স্বীকার করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইতবান ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনদ দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনদ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমুদ ইবনর রাবী বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সাহাবা) আবূ আইয়ুব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা বলেছেন। মাহমুদ ইবনর রাবী বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ইতবান ইবন মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার কওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকার যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফরয ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহকাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহকামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোকায় না পড়ে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মাহমুদ ইবনর রাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাড়ীতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুল্লি করেছিলেন তা এখনো আমার মনে আছে। মাহমূদ ইবনর রাবী বলেন, ইতবান ইবন মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, "তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য পাকানো জাশীশাহ নামক খাবার খেতে তাকে ঠেকিয়ে রাখলাম পর্যন্ত" উল্লেখ করলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মা'মার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদী মুলায়কাহ তার নিজের হাতে প্রস্তুত একটি খাবার খেতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাওয়াত দিলে তিনি (ﷺ) তা খেলেন। খাওয়া শেষে তিনি (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সবাই উঠে দাড়াও, আমি তোমাদের (বারাকাত বা শিক্ষাদানের) জন্য সালাত আদায় করব। আনাস ইবন মালিক বলেনঃ আমি উঠে গিয়ে আমাদের একটি চাটাইয়ের উপর দাড়ালাম যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে কালো বর্ণ ধারণ করেছিল। আমি সেটির উপর কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ চটাইয়ের উপর দাড়ালেন। আর বৃদ্ধ মহিলারা দাড়ালেন পিছনে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাথে নিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর চলে গেলেন।

শায়বান ইবন ফাররূখ ও আবূর রাবী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখলাক বা নৈতিক চরিত্রের বিচারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, তিনি (ﷺ) আমাদের ঘরে থাকতেই সালাতের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি (ﷺ) যে বিছানার উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের ইমামাত করতেন। আমরা তার পিছনে দাড়াতাম। তিনি (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী (আবূ তাইয়্যাহ) বলেনঃ তার (আনাস ইবন মালিক-এর) বাড়ীর বিছানা খেজুর পাতায় তৈরি ছিল।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) আমাদের বাড়ীতে আসলেন। তখন সেখানে শুধু আমি, আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম ছিলেন। তিনি (ﷺ) আমাদের লক্ষ্য করে বললেন, উঠ আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। তখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত ছিল না। তিনি (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। জনৈক ব্যক্তি (হাদীস বর্ণনাকারী) সাবিতকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (ﷺ) আনাসকে তার কোন পাশে দাড় করিয়েছিলেন? তিনি (সাবিত) বললেনঃ তিনি (ﷺ) তাকে ডান পাশে দাড় করিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) আমাদের পরিবারের সবার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সব রকম কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন। আমার মাতা তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার এ ক্ষুদ্র খাদিমের (আনাসের) জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি (ﷺ) আমার জন্য সব রকমের কল্যাণের দোয়া করলেন। দোয়ার শেষভাগে তিনি (ﷺ) যা বললেন তা হলোঃ হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দাও এবং এতে তাকে বারাকাত দান করো।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এবং তার মা অথবা খালাকে সাথে করে সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার ডানে দাড় করালেন এবং মেয়েদের পিছনে দাড় করালেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, যুহায়র ইবন হারব .... শুবাহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মুনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন আর আমি তার পাশেই থাকতাম। তিনি (ﷺ) যখন সিজদা করতেন তখন কোন কোন সময় তার কাপড় আমার শরীর স্পর্শ করত। আর তিনি (ﷺ) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম শব্দাবলী তার ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি (ﷺ) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করছেন এবং চটাইয়ের উপরই সিজদা করছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মসজিদে জামাআতের সাথে সালাত আদায় করলে তা তার বাড়ীতে বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে বিশগুণেরও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। কারণ কোন লোক যখন সালাতের জন্য ওযু করে এবং ভালভাবে ওযু করে মসজিদে আসে তাকে সালাত ছাড়া আর কিছুই মসজিদে আনে না; আর সে সালাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যও পোষণ করে না। সুতরাং এ উদ্দেশে সে যখনই পদক্ষেপ করে তখন থেকে মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতিটি নেকীর বদলে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ যেন সে সালাতরত থাকে। আর তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করার পর সালাতের স্থানেই বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য এ বলে দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল করো। এরূপ দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ওযু নষ্ট না করে।

সাঈদ ইবন আমর আল আশআরী, মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার ইবন রাইয়্যান, ইবন মুসান্না .... আমাশ থেকে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ এ বলে তার জন্য দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহমত দান করো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ সালাতরত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষামান থাকে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য বসে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতরত থাকে। আর মালায়িকাহও ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এ বলে দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহম করো। (আর মালায়িকাহ) ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ ওযু নষ্ট না করে। হাদীস বর্ণনাকারী রাফি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম হাদাস বা ওযু নষ্ট করা কাকে বলে? তিনি বললেনঃ নিঃশব্দে বা স্বশব্দে বায়ু নিঃসরণ করা।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এবং শুধু সালাতের কারণেই সে ঘরে (পরিবার-পরিজনের কাছে) ফিরে যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত সে যেন সালাতরত অবস্থায়ই থাকে (যতক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করল ততক্ষণ সে সালাত আদায় করল বলেই ধরে নেয়া হবে)।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতের জন্য অপেক্ষা করে তখন ওযু ভঙ্গ না করা পর্যন্ত সে যেন সালাতরত থাকল। এ সময়ে ফেরেশতাগণ এ বলে তার জন্য দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি রহম করো।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আল আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার হাটার পথ (ঘর) মসজিদ থেকে বেশী দূরে সে সালাতের অধিক সাওয়াব লাভের হাকদার। আর যে ব্যক্তি সালাতের জন্য অপেক্ষা করে ইমামের সাথে (জামাআতে) সালাত আদায় করে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী সাওয়াবের হাকদার যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। আবূ কুরায়ব-এর বর্ণনাতে "জামাআতে ইমামের সাথে সালাত আদায় করে" কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামাআতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবন কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সালাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। এ কথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদ থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আত তায়মী থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকুদ্দামী .... উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল যার বাড়ী মদীনার অন্য লোকদের বাড়ীর তুলনায় (মসজিদে নবাবী থেকে) দূরে অবস্থিত ছিল। কিন্তু সে জামাআতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক ওয়াক্ত সালাতও ছাড়ত না। উবাই ইবন কা'ব বলেন, আমরা তার জন্য সমবেদনা অনুভব করলাম। তাই তাকে বললাম, হে অমুক! আপনি যদি একটি গাধা খরিদ করে নিতেন তাহলে সূর্যের খরতাপ থেকে রক্ষা পেতেন এবং বিষাক্ত পোকা-মাকড় থেকেও নিরাপত্তা লাভ করতে পারতেন। সে বলল, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ঘরের সাথেই আমার ঘর হোক তা আমি পছন্দ করি না। তার এ কথা আমার কাছে খুবই দুর্বিষহ মনে হলো। তাই আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বিষয়টি তাকে জানালাম। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- সে পুনরায় অনুরূপ কথা বলল। সে এ কথাও বলল যে, এভাবে সে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব বা পুরস্কার আশা করে। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি যা আশা করেছ তা তুমি অবশ্যই লাভ করবে।

সাঈদ ইবন আমর আল আশআসী ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার, সাঈদ ইবন আযহার আল ওয়াসিতী .... আসিম-এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাজ্জাজ ইবনশ শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মসজিদের আশে-পাশে বাড়ী নির্মাণের জন্য ঐ ঘর-বাড়ী বেচে ফেলতে মনস্থ করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা করতে নিষেধ করেন। তিনি (আমাদের সম্বোধন করে) বললেনঃ (সালাতের জন্য মসজিদে আসার) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তোমাদের মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানু সালামাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের (বানু সালিমাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়।

আসিম ইবনন নায্‌র আত তায়মী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন মসজিদে নববীর কাছে এসে উক্ত খালি স্থানে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। মসজিদে নবাবীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী (ﷺ) অবগত হলে তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘর-বাড়ীতেই থাকো। সালাতের জন্য মসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ (পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব) লিখিত হয়। নবী (ﷺ) এর এ কথা শুনে তারা বললঃ আমরা এতে (এ কথায় এতো খুশী হলাম যে) আমাদের বাড়ী-ঘর স্থানান্তরিত করে মসজিদের কাছে আসলেও তত খুশী হতাম না।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) তারপর কোন ফরয সালাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপের একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ থেকে লায়স কুতায়বাহ ইবন সাঈদ হতে ইবন মুযার .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তবে বাকরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার সামনেই যদি একটি নদী থাকে আর সে ঐ নদীতে প্রতিদিন পাচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? এ ব্যাপারে তোমরা কী বলো? সবাই বললঃ না, তার শরীরে কোন প্রকার ময়লা থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটিই পাচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত। এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা সকল পাপ মুছে নিঃশেষ করে দেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... জাবির থেকে বর্ণিত, যিনি আবদুল্লাহর পুত্র। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচ ওয়াক্ত সালাতকে তোমাদের কারোর বাড়ীর দরজার পাশ দিয়ে দু'কুল ছাপিয়ে উঠা প্রবহমান নদীর সাথে উপমা দেয়া যেতে পারে। আর ঐ নদীতে সে প্রতিদিন পাচবার করে গোসল করে। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান বলেছেনঃ এভাবে (গোসল করলে) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।

আবূ বকর ইবন শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সালাত আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তাআলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া [শব্দাবলী তার] ..... সিমাক ইবন হারব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি (ফজরের সালাতের পর) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বসতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যা, অনেক দিন বসেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের যে জায়গায় ফজরের সালাত (অথবা বলেছেন ভোরের সালাত) আদায় করতেন সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থেকে উঠতেন না। সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে উঠতেন। লোকজন তখন জাহিলী যুগের ঘটনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করত। এসব ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে লোকজন হাসত আর তা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী (ﷺ) ফজরের সালাত আদায়ের পর সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সালাতের জায়গায় বসে থাকতেন।

কুতায়বাহ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সিমাক থেকে এ সানাদে বর্ণিত। কিন্তু তাতে 'ভালভাবে' শব্দটির উল্লেখ নেই।

হারূন ইবন মারূফ ও ইসহাক ইবন মূসা আল আনসারী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার কাছে সব চাইতে প্রিয় জায়গা হলো মাসজিদসমূহ আর সব চাইতে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনজন লোক একত্রিত হলে তাদের একজনকে তাদের ইমাম বা নেতা হতে হবে। আর তাদের মধ্যে ইমামাত বা নেতৃত্বের সবচাইতে বেশী হাক্বদার সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশী কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ..... কাতাদাহ্ থেকে একই সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, হাসান ইবন ঈসা .... আবূ সাঈদ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আবূ মাসউদ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদেরকে বললেনঃ যে সর্বাপেক্ষা বেশী কুরআনের পাঠক ও কুরআনী জ্ঞানের অধিকারী সে-ই কওমের (লোকজনের) ইমামাত করবে। সবাই যদি কুরআনের জ্ঞানের সমপর্যায়ের হয় সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সুন্নাত সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত হবে সে-ই ইমামাত করবে। সুন্নাহর জ্ঞানেরও সবাই সমান হলে হিজরতে যে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিজস্ব প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামাত করবে না কিংবা তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়ীতে তার বিছানায় বসবে না।

আবূ কুরায়ব, ইসহাক, আশাজ্জ, ইবন আবূ উমর .... তারা সকলে আমাশ এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেনঃ আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের জ্ঞান যা সবচেয়ে বেশী এবং যে কুরআন তিলাওয়াতও সুন্দরভাবে করতে পারে সে-ই সালাতের জামাআতে ইমামাত করবে। সুন্দর কিরআতের ব্যাপারে সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে হিজরতে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। হিজরতের ব্যাপারেও সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে বয়সে প্রবীণ সেই ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি যেন কারো নিজের বাড়ীতে (বাড়ীর কর্তাকে বাদ দিয়ে) কিংবা কারো ক্ষমতাসীন এলাকায় নিজে ইমামাত না করে। আর কেউ যেন কারো বাড়ীতে গিয়ে অনুমতি ছাড়া তার বিছানায় না বসে।

যুহারর ইবন হারব .... মালিক ইবন হুওয়াইরিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রায় এ বয়সের কিছু যুবক রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বিশ রাত (বিশ দিন) অবস্থান করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। আর এ বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে আদেশ করো। আর সালাতের সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দিবে। তবে বয়সে যে সবার বড় সে ইমামাত করবে।

আবূ রাবী আয যাহরানী ও খালাফ ইবন হিশাম .... আইয়ূব হতে একই সানাদে বর্ণিত।

ইবন আবূ উমর .... মালিক ইবন হুওয়াইরিস আবূ সুলাইমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সমবয়সী একদল যুবকের সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আসলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তারা সবাই ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আন হানযালী .... মালিক ইবন হুওয়াইরিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক বন্ধু নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট থেকে ফিরতে চাইলাম তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ সালাতের সময় হলে আযান দিবে এবং তারপর ইকামাত দিবে (সালাত আদায় করবে)। তবে তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় হবে সেই যেন ইমামাত করে।

আবূ সাঈদ ইবন আল আশাজ্জ .... খালিদ আল হাযযা থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাফস ইবন গিয়াস এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, হাযযা বলেছেন, তারা উভয়ে (মালিক ইবন হুওয়াইরিস এবং তার বন্ধু) কিরআতের ব্যাপারে সমকক্ষ ছিলেন।

আবূত তহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতে কিরআত শেষ তাকবীর দিয়ে রুকূতে গিয়ে রুকূ থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বনা- ওয়ালাকাল হামদ" – (যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন। হে আমাদের প্রভু! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট)। এরপর তিনি দাড়িয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদ, সালামাহ ইবন হিশাম ও আইয়্যাশ ইবন রবীআহ এবং দুর্বল ও নিপীড়িত মুমিনদের নাযাত দান করো। হে আল্লাহ! তুমি মুযার গোত্রকে কঠোর হস্তে পাকড়াও করো। আর ইউসুফ-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করো। হে আল্লাহ! তুমি লিহইয়ান, রি'লান, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করো। কেননা তারা আল্লাহ এবং তার রসূলের অবাধ্য হয়েছে। অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে, আয়াত- "হে নবী! এর ব্যাপারে তোমার কোন করণীয় নেই। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করুন আর তাদেরকে শাস্তি দান করুন এ ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ইখতিয়ারের অধিকারী। কেননা তারা তো যালিম" (আ-লি ইমরান ৩ঃ ১২৮)। অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী (ﷺ) এভাবে কুনুত পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে ইউসুফের সময়ে দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখী করা পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রায়ী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সময় একমাস যাবৎ ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাকাআতে রুকূ থেকে ওঠার পরে কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি যখন রুকূ থেকে উঠে "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন তখন কুনত পড়তে গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ, ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদকে মুক্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবন হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! আয়িশাহ ইবন আবূ রাবীআহকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! দুর্বল অসহায় মুমিনদেরকেও মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! তুমি মুবার গোত্রকে তোমার কঠোরতা দ্বারা পিষে মারো। হে আল্লাহ! তুমি তাদের ওপর ইউসুফ-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দান করো। আবূ হুরায়রাহ বলেছেন, পরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ দোয়া পরিত্যাগ করতে দেখেছি। এতে আমি বিস্মিত হয়ে বললামঃ আমি দেখছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এখন তাদের জন্য দোয়া করা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ আমাকে তখন বলা হলো তুমি কি দেখছ না যে, তারা সবাই মুক্ত হয়ে চলে এসেছেন?

যুহারর ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করেছিলেন। সিজদা করার পূর্বে রুকূ থেকে উঠে যখন তিনি "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বললেন তখন এ বলে দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ আইয়্যাশ ইবন আবূ রাবীআকে মুক্তিদান করো" এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ হুরায়রাহ্ আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের বা সিনী ইউসুফ [ইউসুফ-এর] যুগের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দিয়ে শাস্তি দান করো পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। এতে তিনি আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মতো করে (প্রায় অনুরূপ) সালাত আদায় করে দেখাব। এরপর আবূ হুরায়রাহ যুহর, ইশা ও ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন। এতে তিনি মুমিনদের জন্য দোয়া করতেন এবং কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে যে মুমিনদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের হত্যাকারীদের জন্য ত্রিশদিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে বদদোয়া করেছিলেন। আনাস বর্ণনা করেছেন, "বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে নিহতদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করেছিলেন যা আমরা পাঠ করতাম। অবশেষে তা মানসুখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছিল। আয়াতটি ছিল: "আমাদের কওমকে এ সংবাদ পৌছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর আমরাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।"

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যা, রুকূর পরে সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা [শব্দাবলী ইবন মুআয-এর] .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাস যাবৎ ফজরের সালাতে রুকূ করার পর কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি রি'ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের জন্য বদ-দোয়া করতেন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র সম্পর্কে বলতেন যে, উসাইয়্যাহ আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাস যাবৎ ফজরের সালাতে রুকূ থেকে উঠার পর কুনুতে বানু উসাইয়্যাহ গোত্রের জন্য বদ-দোয়া করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আসিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কুনুত রুকূ করার পূর্বে পড়তে হবে না পরে? জবাবে তিনি বললেনঃ রুকূ করার পূর্বে পড়তে হবে। তিনি বলেন, এ কথা শুনে আমি আবার বললাম যে, কোন কোন লোক বলে থাকে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ করার পর কুনুত পড়তেন। আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (রুকূ'র পরে) একমাস কুনুত পাঠ করেছেন। তখন তিনি ঐসব লোকদের জন্য বদ-দোয়া করতেন যারা তার (নবী (ﷺ)-এর) সাহাবীকে হত্যা করেছিল যাদেরকে 'ক্বারী' বলে সম্বোধন করা হত।

ইবন আবূ উমার .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বি'রি মাউনাহ-এর ঘটনায় 'ক্বারী' বলে পরিচিত সত্তরজন সাহাবীকে হত্যার কারণে নবী (ﷺ) যতখানি বেদনাহত হয়েছিলেন এমনটি আর কোন সেনাদলের ক্ষেত্রে হতে দেখিনি। এ ঘটনার পর তিনি এক মাস পর্যন্ত (ঐসব সাহাবাব) হত্যাকারীদের জন্য বদ-দোয়া করেছিলেন।

আবূ কুরায়ব, ইবন আবূ উমার .... আনাস ইবন মালিক এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে উভয়েই কিছুটা অতিরিক্ত শাব্দিক তারতম্যসহ বর্ণনা করেছেন।

আমর আন্‌ নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। এক সময়ে নবী (ﷺ) রি'ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রসমূহকে লানাত করে একমাস পর্যন্ত সালাতে কুনুত পড়েছেন। এরা সবাই আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে নাফরমানী করেছিল।

আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ (অর্থবোধক) হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরবে কিছু গোত্রের জন্য এক সময়ে একমাস যাবৎ বদ-দোয়া করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তা পরিত্যাগ করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাজর এবং মাগরিবের সালাতে কুনুত পড়তেন।

ইবন নুমায়র .... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাজর ও মাগরিবের সালাতে কুনুত পড়তেন।

আবূত তহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সাব্‌হ আল মিসরী .... খুফাফ ইবন ঈমা আল গিফারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বলে বদ-দোয়া করলেন হে আল্লাহ! তুমি বানী লিহইয়ান, রি'ল যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রসমূহের ওপর লানাত বর্ষণ করো। তারা আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে। আর গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে নিরাপদ রাখুন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজর .... হারিস ইবন খুফাফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খুফাফ ইবন ঈমা বর্ণনা করেছেন। তিনি (খুফাফ ইবন ঈমা) বলেন, একদিন সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ করলেন এবং তারপর রুকূ থেকে মাথা তুলে বললেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করুন। আসলাম গোত্রকে আল্লাহ নিরাপদে রাখুন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র তো আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি বানী লিহইয়ান গোত্রের ওপর লানাত বর্ষণ করো, রি'ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের ওপর লানাত বর্ষণ করো। এরপর তিনি সাজদায় চলে গেলেন। খুফাফ ইবন ঈম বলেছেনঃ এ কারণেই কুনুতে কাফিরদের লানাত করা হয়ে থাকে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... খুফাফ ইবন ঈমা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে "এ কারণেই কুনুতে কাফিরদের লানত করা হয়ে থাকে" কথাটি বলেননি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজায়বী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় রাতে সফররত ছিলেন। এক সময় রাতের শেষভাগে তাকে তন্দ্রায় পেয়ে বসলে তিনি সেখানেই অবতরণ করলেন। আর বিলালকে বললেনঃ "তুমি আজ রাতে আমাদের পাহারার কাজ করো। সুতরাং বিলাল যতটা সম্ভব রাতের বেলায় সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিলাল পূর্ব দিকে মুখ করে তার উটের সাথে হেলান দিলেন। এ সময় ঘুমে বিলালের দু'চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ), বিলাল কিংবা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণের কারোরই নিদ্রা ভঙ্গ হলো না। এ অবস্থায় তাদের গায়ে সূর্যের আলো এসে পড়ল। প্রথমে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ই ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠে বিলালকে ডাকলেন, হে বিলাল! বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যে কারণে জাগতে পারেননি আমিও ঐ একই কারণে জগতে পারিনি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) হুকুম দিলেন তাড়াতাড়ি যাত্রা করো। সুতরাং সবাই উটগুলো হাকিয়ে কিছু দূরে নিয়ে গেলে এবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযু করলেন এবং বিলালকে সালাতের জন্য আদেশ করলেন। বিলাল সালাতের ইকামাত দিলে তিনি তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন- "আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (ত্ব-হা- ২০ঃ ১৪)। ইউনুস বলেছেনঃ ইবন শিহাব (লিযিক্‌রী)-এর স্থানে (লিযযক্‌রা) আদায় করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন নবী (ﷺ) এর সাথে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য ঘুমালাম। কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে আমরা জাগিনি। (নিদ্রা থেকে জেগে উঠে) নবী (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেকে নিজের উটের লাগাম টেনে নিয়ে যাও। কারণ এ স্থানে আমাদের মাঝে শয়তান এসে হাজির হয়েছে। বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ বলেছেনঃ আমরা তাই করলাম। অতঃপর তিনি পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন (দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন)। ইয়াকুব বলেছেন, অতঃপর নবী (ﷺ) (ফজরের দু' রাকাআত) সুন্নাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তিনি (ﷺ) ফজরের (ফরয) সালাত আদায় করলেন।

শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন (যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়) রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেনঃ আজকের বিকাল থেকে সারারাত তোমাদেরকে পথ চলতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে পানির কাছে উপস্থিত হবে। সুতরাং লোকজন সেখান থেকে এভাবে যাত্রা করল যে, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না। আবূ কতাদাহ্ বলেন- রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও পথ চলছিল। এক সময় রাত্রি দ্বি-প্রহর হয়ে গেল। আমি তার পাশে পাশেই চলছিলাম। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিলেন। ঘুমের প্রভাবে এক সময় তিনি (ﷺ) তার সওয়ারীর উপর একদিকে ঝুকে পড়লেন। ঠিক সে সময় আমি তার কাছে গিয়ে তাকে ঠেলে ধরলাম (ঠেকনা দিলাম)। তিনি (ﷺ) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন, কিন্তু তাকে জাগালাম না। এরপর তিনি (ﷺ) চলতে থাকলেন এবং এ অবস্থায় রাতের বেশীর ভাগ অতিক্রান্ত হলে সওয়ারীর উপর থেকে আবার একদিকে ঝুকে পড়লেন। তখন আবার আমি তাকে না জাগিয়ে ঠেলে ধরলাম। এভাবে তিনি (ﷺ) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন। আবূ কতাদাহ বলেন- এরপর তিনি (ﷺ) আবার চলতে থাকলেন। রাত ভোর হয়ে আসলে তিনি (ﷺ) এবার প্রথম দু'বারের চেয়েও বেশী করে একদিকে ঝুকে পড়লেন, এমনকি তার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আমি পুনরায় ঠেস লাগিয়ে ধরলাম। এবার তিনি (ﷺ) মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম- আবূ কতাদাহ। তিনি (ﷺ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে তুমি আমার পাশে পাশে কতক্ষণ ধরে চলছ? আমি বললাম, আমি রাতের প্রথম থেকেই এভাবে আপনার সাথে চলছি। তিনি (ﷺ) তখন বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে হিফাযাত করুন। কারণ তুমি তার নবীকে দেখাশুনা করছ। তারপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম, হ্যা, এই তো একজন আরোহী। তারপর বললাম, এই তো আরো একজন আরোহী এসে উপস্থিত হলো। এভাবে আমরা সাতজন একত্র হলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তা থেকে কিছু দূরে সরে গেলেন এবং মাটিতে মাথা রাখলেন (শুয়ে পড়লেন)। এ সময় তিনি (ﷺ) আমাদের বললেনঃ সালাতের খেয়াল রেখো। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন আর তখন সূর্যের আলো তার পিঠের উপর এসে পড়েছিল। আবূ কতাদাহ্ বলেন- এরপর আমরা সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে পড়লাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সবাই যার যার সওয়ারীতে সওয়ার হও। তাই আমরা সওয়ারীতে চেপে যাত্রা করলাম। সূর্য বেশ কিছু উপরে উঠলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ারী থেকে অবতরণ করে আমার কাছে অল্প পানিসহ যে ওযুর পাত্র ছিল তা চেয়ে নিয়ে অন্য সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে ওযু করলেন। আবূ কতাদাহ্ বললেন- এরপরও ঐ পাত্রে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকল। তিনি (ﷺ) আবূ কাতাদাহ-কে বললেনঃ পাত্রটি রেখে দাও, দেখবে পরে বিস্ময়কর কান্ড ঘটবে। তখন বিলাল সালাতের আযান দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে দুরাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করলেন এবং তারপর প্রতিদিনের মতো করে ফজরের ফরয সালাত আদায় করলেন। আবূ কাতাদাহ্ বলেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করলে আমরাও সওয়ারীতে আরোহণ করে তার সাথে রওয়ানা হলাম। এ সময়ে আমরা পরস্পর চুপিসারে বলাবলি করছিলাম যে, আমরা সালাতের ব্যাপারে যে অবহেলা প্রদর্শন করলাম তার কাফফারাহ বা ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার জীবন ও কাজ-কর্ম কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নয়? এরপর তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ ঘুমানোতে কোন দোষ বা অবহেলা নেই। অবহেলা তখনই বলা হবে যদি কোন ব্যক্তি সালাত না আদায় করে দেরী করে এবং অন্য সালাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। কোন সময়ে কারো এরূপ হয়ে গেলে সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন সালাত আদায় করে নেয়। পরদিন সকালে যেন সে সময়মত সালাত আদায় করে। পরে তিনি বললেনঃ অন্য সবাই কী করেছে তা কি জান? সকালে লোকজন যখন তাদের নবীকে দেখতে পেল না তখন আবূ বকর ও উমার তাদেরকে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের পিছনে আছেন। তিনি তোমাদেরকে পিছনে ফেলে যেতে পারেন না। কিন্তু লোকজন বললঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের সামনে আছেন। (নবী (ﷺ) বললেন) এ ব্যাপারে তারা যদি আবূ বকর ও উমার-এর কথা মানতো তাহলে সঠিক কাজ করত। আবূ কতাদাহ বলেনঃ যখন বেলা বেড়ে দুপুর হলো এবং সবকিছু সূৰ্যতাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তখন আমরা লোকজনের কাছে গিয়ে পৌছলাম। তখন তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলছিলঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা পিপাসায় মরে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না, তোমরা মরবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ছোট পেয়ালাটা আনো। অতঃপর তিনি (ﷺ) ওযুর পাত্রটাও চেয়ে নিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালাতে পানি ঢালতে থাকলেন আর আবূ কতাদাহ পান করাতে থাকলেন। লোকজন যখন দেখল যে, পানি মাত্র একপাত্র আর এতগুলো লোক তখন তারা (পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে) ভিড় জমিয়ে তুলল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা ধীরে সুস্থে পানি পান করতে থাকো। সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করানো যাবে। সুতরাং লোকজন তাই করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি ঢালছিলেন আর আমি (আবূ কতাদাহ্) পান করাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া পানি পান করতে আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালার পানি ঢেলে আমাকে বললেনঃ পান করো। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান না করা পর্যন্ত আমি পান করব না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যিনি পানি পান করান তিনি সবার শেষে পান করেন। আবূ কতাদাহ বলেনঃ আমি তখন পানি পান করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করলেন। পরে অবশ্য লোকজন পানি পান করার ফলে শান্ত মনে তৃপ্তি সহকারে যেতে থাকল। হাদীসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেছেন যে, "আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ ও এ কথা শুনে বললেনঃ তাহলে তো আপনি এ হাদীসটি সম্পর্কে ভাল জানেন। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কোন কওমের লোক? আমি বললাম, আমি আনসারদের একজন। তিনি বললেন, তাহলে বর্ণনা কর। কেননা, তুমি তোমার হাদীস সম্পর্কে নিশ্চয়ই ভালভাবে অবহিত আছ। আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ বলেন- আমি ঐ রাতে কাফিলায় শরীক ছিলাম। তবে আমি জানতাম না যে, অন্য কেউও আমার মতো হাদীসটি স্মরণ করে রেখেছেন।

আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সখর আদ দারিমী .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কোন এক সফরে তার সাথে ছিলাম। এক রাতে আমরা রাতের বেলায়ই পথ চলছিলাম। রাতের শেষ দিকে আমরা বিশ্রামের জন্য একস্থানে অবতরণ করলে ঘুমের প্রভাবে আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এ অবস্থায় সূর্য উদিত হলো। ইমরান ইবন হুসায়ন বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন তিনি আবূ বকর। আমাদের নীতি ছিল নবী (ﷺ) ঘুমানোর পর নিজে নিজেই যতক্ষণ না জাগতেন ততক্ষণ আমরা কেউ তাকে নিদ্রা থেকে জাগাতাম না। আবূ বকরের পর যিনি প্রথম জাগলেন তিনি উমার। তিনি নবী (ﷺ)-এর পাশ গিয়ে দাড়িয়ে উচ্চ শব্দে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। এতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি (ﷺ) মাথা উঠিয়ে দেখতে পেলেন সূর্য আগেই উদিত হয়েছে। তখন তিনি (ﷺ) সবাইকে বললেনঃ তোমরা এখান থেকে যাত্রা শুরু করো। এরপর তিনিও আমাদের সাথে যাত্রা করলেন। অতঃপর সূর্যের কিরণ আরো পরিষ্কারভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সওয়ারী থামিয়ে অবতরণ করলেন এবং আমাদেরকে সাথে করে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি সবার থেকে দূরে থাকল এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন না। সালাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী কারণে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলে না? সে বলল- হে আল্লাহর নবী, আমার জন্য গোসল ফরয হয়েছে (তাই সালাত আদায় করতে পারলাম না)। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করতে বললেন। অতঃপর সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল। তারপর তিনি (ﷺ) আমাকে একদল লোকের সাথে সম্মুখের দিকে আগে আগে পাঠিয়ে দিলেন যাতে আমরা পানি খুজে বের করি। আমরা ইতোমধ্যেই যার পর নাই তৃষ্ণাৰ্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা পথ চলতে চলতে এক স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। সে তার সওয়ারীর উপর দুটি চামড়ার মশকের উপর দু দিকে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে পানি কোথায় পাওয়া যাবে? সে বলে উঠল হায়! হায়! এখানে তোমরা পানি কোথায় পাবে? আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তোমার গোত্রের বসতি এলাকা থেকে পানি কত দূরে? সে বললঃ একদিন ও একরাতের পথের ব্যবধান। আমরা তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে চলো। সে বললঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার কী? এরপর আমরা আর তাকে নিজের ইচ্ছামত কোন কিছুই করতে দিলাম না। বরং তাকে ধরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে আমাদেরকে যা বলেছিল তাকেও তাই বলল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আরো জানালেন যে, সে কয়েকজন ইয়াতীম শিশুর অভিভাবিকা। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটকে বসাতে আদেশ করলে সেটিকে বসানো হলো এবং তিনি চামড়ার মশকের উপর দিকের মুখ দুটিতে কুল্লি করে দিলেন। এরপর উটটিকে দাড় করানো হলো। আমরা তৃষ্ণার্ত চল্লিশ জনে সবাই এবার তৃষ্ণা দূর করে পানি পান করলাম। আমরা আমাদের মশক ও পানির পাত্রগুলো ভর্তি করে নিলাম এবং আমাদের সঙ্গী লোকটিকেও গোসল করালাম। তবে কোন উটকে আমরা পানি পান করালাম না। অথচ মশক তখনও পানির চাপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। এরপর নবী (ﷺ) আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের যার কাছে যা আছে নিয়ে এসো। সুতরাং আমরা ঐ মহিলার জন্য খেজুর ও খেজুরের টুকরা এনে জমা করলে সেগুলো দিয়ে তার জন্য একটি পুটলি বাধা হলো। (এগুলো দিয়ে) নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এবার তুমি গিয়ে তোমার বাচ্চাদের খাওয়াও। আর মনে রেখ যে, আমরা তোমার পানি আদৌ নেইনি। সে তার লোকদের কাছে ফিরে গিয়ে বললঃ আমি সবচেয়ে বড় যাদুকরের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অথবা সে সম্ভবত বলেছিল, একজন নবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি। এমন-এমন বিস্ময়কর দেখলাম তার ব্যাপারটা আল্লাহ তাআলা ঐ মহিলার দ্বারা উক্ত জনপদকে হিদায়াত দান করলেন। সুতরাং সেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং উক্ত জনপদের লোকেরাও ইসলাম গ্রহণ করল।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। আমরা রাতের বেলা পথ চললাম। রাতের শেষভাগে ভোর অল্প কিছু পূর্বে আমরা এমনভাবে পড়লাম (ক্লান্তিতে শরীর এলিয়ে দিলাম) যার চেয়ে অন্য কোন পড়াই কোন মুসাফিরের কাছে অধিক পছন্দনীয় বা সুখকর নয়। একমাত্র সূর্যতাপে আমরা জেগে উঠলাম। .... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি সালাম ইবন যারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ করে বর্ণনা করলেন। এ বর্ণনাতে তিনি হ্রাস-বৃদ্ধিও করলেন। হাদীসটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন- উমর ইবন খাত্তাব জেগে উঠে যখন লোকদের অবস্থা দেখলেন তখন উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। উমার ছিলেন উচু কণ্ঠস্বরের লোক। তার গুরুগম্ভীর শব্দে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠলে লোকজন তার কাছে তাদের অবস্থা জানিয়ে অভিযোগ করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ঘুমে কোন ক্ষতি নেই। তোমরা এখান থেকে যাত্রা করো। এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

ইসহাকু ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফররত অবস্থায় রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে তার ডান কাতে শুয়ে থাকতেন। আর ভোরের কাছাকাছি সময়ে জাগ্রত হলে তার বাহু দাড় করিয়ে হাতের তালুতে ভর রেখে শুয়ে থাকতেন।

হাদ্দাব ইবন খালীদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ কোন সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়। এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন কাফফারাহ তাকে দিতে হবে না। হাদীসের বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ তার বর্ণনায় "আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (ত্বহা ২০ঃ১৪) এ আয়াতটি উল্লেখ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ আওয়ানাহ, কাতাদাহ ও আনাস ইবন মালিক এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে "এর কাফফারাহ এ (স্মরণ হলেই আদায় করে নেয়া) ছাড়া আর কিছুই নয়"- কথাটি উল্লেখ করা হয়নি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কেউ কোন সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়লে তার কাফফারাহ হলো যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সালাত আদায় করতে না পারলে অথবা সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় করবে। কেননা, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ "আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (ত্বহা-২০ঃ১৪)।