bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কসম (৪১৪৭-৪২৩৪)

আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমার বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি, তখন থেকে আর কখনও সে নামে কসম করিনি, নিজের পক্ষ থেকেও নয়, আর অপরের উদ্ধৃতি দিয়েও নয়।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য উকায়ল বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনার পর থেকে সে নামে আর শপথ করিনি। আর ঐ নামের কসমের উচ্চারণও করিনি। তবে তিনি "নিজের পক্ষ থেকে এবং অপরের উদ্ধৃতি দিয়েও" কথাটি উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... সালিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) একদা উমর কে তার পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন। পরবর্তী অংশ ইউনুস ও মা'মার এর বর্ণনার অনুসারে বর্ণনা করেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সময় কাফিলায় উমার ইবন খাত্তাব কে পেলেন। উমর তখন তার পিতার নামে শপথ করছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সম্বোধন করে বললেনঃ সাবধান আল্লাহ তোমাদের বাপ দাদার নামে কসম করতে তোমাদের নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে কেউ কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে অথবা সে যেন চুপ থাকে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, মুহাম্মাদ মুসান্না, ইয়াহইয়া, বিশর ইবন হিলাল, আবূ কুরায়ব, ইবন আবূ উমার, ইবন রাফি, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন রাফি ... তারা সকলেই ইবন উমার হতে অনুরূপ ঘটনা নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজুর .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার জন্য মনস্থ করে, সে যেন আল্লাহর নাম ব্যতীত শপথ না করে। কুরায়শরা তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতো। কাজেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।

আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কসম করে এবং সে কসম করতে গিয়ে বলে, লাতের কসম সে যেন এর পরপরই বলে "আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই" আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এসো, তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন এর সাথে সাথেই কিছু সাদাকা করে দেয়।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... যুহরী সূত্রে বর্ণনা করেন। আর মা'মার এর হাদীস ইউনুস এর হাদীসের অনুরূপ। তবে মা'মার বলেছেন, "সে যেন কোন কিছু সাদাকা করে দেয়"। আর আওযাঈর হাদীসে আছে, যে 'লাত' ও 'মানাত এর শপথ করবে। আবূল হুসায়ন মুসলিম বলেন, এ কথাটি তার কথা "তুমি এসো, তোমার সাথে আমি জুয়া খেলি, তবে সে যেন সাথে সাথে সাদাকা দেয়" যুহরী ব্যতীত অন্য কেউই বর্ণনা করেননি। ইমাম মুসলিম আরো বলেন, নবী (ﷺ) থেকে প্রায় নব্বইটি হাদীস যুহরীর নিকট রয়েছে যা তিনি উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে আর কেউ শারীক নেই।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দেব-দেবীর নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না।

খালাফ ইবন হিশাম, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবন হাবীব হারিসী ... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আশআরী গোত্রের কিছু সংখ্যক লোককে নিয়ে বাহন চাওয়ার জন্যে নবী (ﷺ) এর নিকট আসি। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহনের সওয়ারী দিব না। আর আমার কাছে এমন কিছু নেই যাতে আমি তোমাদের সওয়ার করাতে পারি। আবূ মূসা আশআরী বলেন, আল্লাহ যতটা চাইলেন আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর তার কাছে উট আনা হলো। তিনি আমাদেরকে তিনটি সাদা কুঁজবিশিষ্ট উট দেয়ার নির্দেশ দেন। যখন আমরা (তা নিয়ে) চলে আসি। তখন আমরা বললাম, রাবী বলেন, অথবা আমাদের একে অপরকে বললেন যে, এতে আল্লাহ তাআলা আমাদের কল্যাণ করবেন না। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী বাহন চাইতে এসেছিলাম। তখন তিনি কসম করেছিলেন যে, আমাদেরকে সওয়ারী বাহন দিবেন না। এরপর আমাদেরকে সওয়ারী দিলেন। তারপর তারা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে তার কসমের কথা অবগত করালেন। তিনি বললেনঃ আমি নই; বরং আল্লাহ তোমাদের সওয়ারী দিয়েছেন। আর আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ের উপর কসম করি এরপর যদি এর তুলনায় অন্যটি কল্যাণকর মনে করি, তবে আমি আমার কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিব এবং যা উত্তম তাই করবো।

আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আলা মাহদানী ..... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সঙ্গে জায়গুল উসরা তাবুকের যুদ্ধের জন্যে সমবেত হওয়ার কালে আমার সাথীরা তাদের জন্যে সওয়ার চাইতে আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রেরণ করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার সঙ্গীরা আমাকে আপনার নিকট তাদেরকে সওয়ারী দেয়ার জন্যে পাঠিয়েছে। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কোন বাহন দেব না। আর যখন আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি তখন তিনি রাগাম্বিত ছিলেন, অথচ আমি বুঝতে পরিনি। আমি চিন্তিত মনে ফিরে আসি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসম্মতির কারণে এবং এ ভয়ে যে, সম্ভবত রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপর মনে মনে রাগান্বিত হয়েছেন। তখন আমি আমার সাথীদের কাছে চলে আসি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন, তা তাদের জানাই। অল্পক্ষণের বেশি দেরি করিনি, হঠাৎ শুনতে পাই যে, বিলাল ডাক দিচ্ছেন হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! আমি উত্তর দিলাম। তিনি বললেন, চলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে ডাকতে পাঠিয়েছেন। যখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি, তখন তিনি বললেন, এ জোড়া নাও, এ জোড়া নাও এবং এ জোড়া নাও। ছয়টি উট সম্পর্কে বললেন, যা সাদ থেকে সে সময়েই রসূল (ﷺ) ক্রয় করেছেন। সুতরাং তুমি তা নিয়ে তোমার সাথীদের কাছে চলে যাও এবং বল, আল্লাহ অথবা বলেন, আল্লাহর রসূল তোমাদের এগুলো বাহনের জন্যে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর উপর আরোহণ করো। আবূ মূসা বলেন, আমি এগুলো নিয়ে আমার সাথীদের নিকট আসি এবং বলি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো তোমাদের বাহন হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ছাড়বো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ আমার সাথে সে ব্যক্তির নিকট না যায়, যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা শুনেছে, যখন আমি তার নিকট তোমাদের জন্যে (বাহন) চেয়েছিলাম এবং তিনি প্রথমবার নিষেধ করেন এবং পরে আমাকে তা প্রদান করেন। তোমরা মনে করো না, তিনি (ﷺ) যা বলেননি, আমি তোমাদের এমন কথা বলেছি। তারা আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি আমাদের নিকট অবশ্যই সত্যবাদী। আর আপনি যা চাইছেন তা আমরা অবশ্যই করবো। তারপর আবূ মূসা তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ঐসব লোকদের নিকটে এলেন যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা এবং তাদের দিতে তার নিষেধাজ্ঞা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার দেয়া লক্ষ্য করেছিলেন। তারা তাদের কাছে হুবহু সে বর্ণনাই দিলেন যা আবূ মূসা তাদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন।

আবূ রাবী আতাকী ..... যাহদাম জারমী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসা এর নিকটে ছিলাম। তিনি তার (খানার) দস্তরখান নিয়ে আসতে বললেন। তাতে মুরগীর গোশত ছিল। ইত্যবসরে তাইমুল্লাহ গোত্রের লাল বর্ণের এক লোক প্রবেশ করে, যে গোলাম সদৃশ ছিল। আবূ মূসা তাকে বললেন, এসো। সে ইতস্ততঃ করে। আবূ মূসা বললেন, এসো। কারণ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা খেতে দেখেছি। লোকটি বললো, আমি একে এমন কিছু খেতে দেখেছি যাতে আমার খেতে ঘৃণার উদ্রেক হয়, তাই আমি কসম করেছি যে, তা আর খাবো না। আবূ মূসা বললেন, এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি। আমি একবার আশআরী গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী চাইতে আসি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারী দিব না। আর তোমাদের দেয়ার মত সওয়ারীও আমার কাছে নেই। তারপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা হয়, আমরা অপেক্ষা করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে কিছু গানীমাতের উট আসে। তিনি আমাকে ডাকতে পাঠান এবং সাদা কুঁজবিশিষ্ট পাচটি উট আমাদের দেয়ার জন্যে নির্দেশ দেন। যখন আমরা চললাম তখন আমাদের একে অন্যকে বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তার কসম সম্বন্ধে অবহিত করিনি, আমাদের জন্যে বারাকাত হবে না। তখন আমরা তার নিকট ফিরে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার নিকট এসেছিলাম বাহন চাওয়ার জন্য আর আপনি কসম করে ছিলেন যে, আমাদেরকে বাহন দিবেন না, অতঃপর আমাদেরকে বাহন দিলেন; হে আল্লাহর রাসূল আপনি কী ভুলে গেছেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ে কসম করি, তারপর তার বিপরীতটিকে উত্তম মনে হলে উত্তমটিই করি এবং কসম থেকে হালাল হয়ে যাই কাফফারাহ আদায় করি। সুতরাং তোমরা যাও, কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের সওয়ারী দান করেছেন।

ইবন আবূ উমর .... যাহদাম জারমী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'জারম' এর এ গোত্র এবং আশআরীদের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একবার আমরা আবূ মূসা আশআরীর নিকটে ছিলাম, তখন তার সামনে খাবার আনা হলো, যার মধ্যে মুরগির গোশতও ছিল। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আলী ইবন হুজুর সাদী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন নুমায়র, ইবন আবূ উমার ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... যাহদাম জারমী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসার নিকটে ছিলাম। অতঃপর সকলেই হাম্মাদ ইবন যায়দের হাদীসের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... যাহদাম জারমী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা এর নিকট গমন করি। তখন তিনি মুরগীর গোশত আহার করছিলেন। তিনি হাদীসের পরবর্তী অংশ উক্ত বর্ণনাকারীদের মতই বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কসম! আমি তা ভুলে যাইনি।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী চাইতে আসি। তিনি বললেনঃ আমার নিকট এমন কিছু নেই যা তোমাদেরকে সওয়ারী হিসেবে দিতে পারি। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারী দিব না। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কালো মিশ্রিত সাদা কুঁজবিশিষ্ট তিনটি উট আমাদের নিকট পাঠান। আমরা আলোচনা করলাম যে, সওয়ারী চাওয়ার জন্যে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসেছিলাম। তখন তিনি কসম খেয়েছিলেন যে, তিনি আমাদের সওয়ারী দিবেন না। এরপর আমরা তার নিকট গিয়ে তাকে কসমের বিষয় জানালাম। তিনি বললেনঃ আমি কোন বিষয়ের উপর কসম করলে তার বিপরীত কাজ যদি উত্তম দেখি, তবে সে উত্তমটি করি।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা তামীম ... আবূ মুসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা পদাতিক ছিলাম। তাই আমরা নবী (ﷺ) এর নিকটে সওয়ার চাইতে আসলাম। এরপর জারীরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

যুহায়র ইবন হারব ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকটে গভীর রাত পর্যন্ত বিলম্ব করে। এরপর তার গৃহে গিয়ে দেখে যে, বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে। তার স্ত্রী তার খাবার নিয়ে এলে সে সন্তানদের কারণে কসম করলো যে, সে খাবে না। পরে খাবার গ্রহণকে উচিত মনে করলে সে খেয়ে নিল। এরপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে উক্ত ঘটনা বলে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খায়, পরে অন্যটিকে তা থেকে উত্তম মনে করে, সে যেন তা করে ফেলে এবং নিজের কসমের কাফফারাহ দেয়।

আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, পরে অন্যটি তার চেয়ে উত্তম মনে করে, তবে সে যেন তার কসমের কাফফারা দেয় এবং ঐ (উত্তম) কাজটি করে ফেলে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম করে, পরে অন্যটিকে তার চেয়ে ভাল মনে করে, তবে সে যেন সেই ভাল বিষয়কে কার্যে পরিণত করে এবং কসমের কাফফারা আদায় করে।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... সুহায়ল এর সূত্রে উক্ত সানাদে মালিক বর্ণিত হাদীসের মর্মানুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু এতে রয়েছে, "সে যেন তার কসমের কাফফারাহ দেয় এবং তাই করে যা ভাল"।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... তামীম ইবন তারাফাহ্-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদী ইবন হাতিম এর নিকট একজন প্রার্থী আসল। সে একজন দাসের মূল্য কিংবা দাসের মূল্যের কিছু অংশ সাহায্য করার প্রার্থনা জানায়। তিনি বললেন, একটি বর্ম ও লোহার টুপি ব্যতীত আমার নিকট তোমাকে দেয়ার মত আর কিছুই নেই। আমি আমার ঘরে লিখে দিচ্ছি যেন তারা এ দুটি তোমাকে দিয়ে দেয়। রাবী বলেন, সে ব্যক্তি এতে রাজি হলো না। অাদী এতে ক্রোধাম্বিত হয়ে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে কিছুই দিব না। পরে লোকটি রাযি হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ জেনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, যে ব্যক্তি কোন ব্যাপারে কসম করে, অতঃপর তা অপেক্ষা বেশি আল্লাহর ভয়সম্পন্ন বিষয় দেখে, তবে সে যেন তাকওয়াপূর্ণ বিষয়টিই করে, তাহলে আমি আমার কসম ভঙ্গ করতাম না।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করে, এরপর অন্যটিকে উত্তম মনে করে, তবে সে যেন উত্তমটিই করে এবং কসম ছেড়ে দেয়।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন তারীফ বাজালী .... আদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কসম করে, এরপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখে, তবে সে যেন তার কাফফারাহ আদায় করে এবং তা-ই যেন করে যা উত্তম।

মুহাম্মাদ ইবন তারীফ .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বলতে শুনেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। একবার তার নিকট এক ব্যক্তি এসে একশ দিরহামের প্রার্থনা জানায়। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট একশ দিরহাম সওয়াল করছ! অথচ আমি হাতিমের ছেলে। আল্লাহর শপথ! তোমাকে আমি দান করব না। এরপর তিনি বললেন, আমি যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, যে ব্যক্তি কসম করে, পরে তদপেক্ষা উত্তম কিছু দেখে, তবে সে যেন সে উত্তমটিই পালন করে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার কাছে সাওয়াল করে। এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং অতিরিক্ত বলেন যে, আমার দান থেকে তুমি চারশ' দিরহাম নাও।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ! তুমি শাসন কর্তৃত্ব চেয়ো না। কারণ, যদি তোমাকে চাওয়ার কারণে তা দেয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপর পড়বে। আর চাওয়া ব্যতীত তোমাকে তা দেয়া হলে এ ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যখন তুমি কোন কাজের উপর কসম কর, তারপর তার বিপরীত কাজকে তুমি উত্তম মনে কর, তবে তুমি তোমার কসমের কাফফারাহ আদায় কর এবং যা উত্তম তা করে নাও। আবূ আহমাদ আল-জালূদী .... জারীর ইবন হাযিম হতে উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

আলী ইবন হুজুর সা'দী .... আবূ কামিল জাহদারী .... উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... ও উকবাহ ইবন মুকরাম আম্মী .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে মু'তামির তার পিতা সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শাসন কর্তৃত্ব (ইমারাত) এর কথা উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আমর আন্‌ নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার কসম ঐ উদ্দেশের উপর ধরে নেয়া হবে, যে উদ্দেশের উপর তোমার সঙ্গী তোমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। আমর বলেন, এ ভাবে যে, তোমার সঙ্গী যে উদ্দেশে তোমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসমকারীর নিয়াতের উপরই কসমটি হবে।

আবূ রাবী আতাকী ও আবূ কামিল জাহদারী ও ফুযায়ল ইবন হুসায়ন ... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান এর ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে সকল স্ত্রীর কাছেই গমন করবো। মিলিত হব। এতে প্রত্যেকেই গর্ভবতী হবে এবং প্রত্যকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা (ভবিষ্যতে) আল্লাহর পথে অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে লড়াই করবে। কিন্তু পরিশেষে একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউই গর্ভবতী হননি। এরপর তিনি অর্ধ মানবাকৃতির (নিষ্কর্ম) একটি সন্তান প্রসব করলেন। এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করতেন, যারা প্রত্যেকেই অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে আল্লাহর পথে লড়াই করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আল্লাহর নবী সুলাইমান ইবন দাউদ বলেছিলেন, অবশ্যই আমি আজ রাতে সত্তরজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছে যাব। এতে তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। তখন তার কোন সাথী অথবা ফেরেশতা তাকে বললেন যে, আপনি ইনশা আল্লাহ' বলুন। কিন্তু তিনি ভুলে যাওয়ার কারণে তা বলেননি। অতএব, তার স্ত্রীদের মধ্য হতে একজন ছাড়া আর কেউ সন্তান প্রসব করেননি। আর সে স্ত্রী যে সন্তানটি প্রসব করলেন, তাও আবার অপূর্ণাঙ্গ ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তিনি ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে তিনি শপথ প্রত্যাহারকারী হতেন না। আর তিনি তখন স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে সফলকাম হতেন।

ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান ইবন দাউদ একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে সত্তরজন স্ত্রীর কাছে যাব। এতে তাদের প্রত্যকেই এমন সব সন্তান জন্ম দেবে যারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে। তখন তাকে বলা হলো যে, আপনি ইনশা আল্লাহ' বলুন। কিন্তু তিনি (ভুলক্রমে) তা বলেননি। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর কাছে গমন করলেন। তাতে কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না, একজন স্ত্রীর একটি অর্ধ মানবাকৃতির (অপূর্ণাঙ্গ) সন্তান প্রসব করা ব্যতীত। রাবী বলেন যে, এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তিনি তখন ইনশা-আল্লাহ' বলতেন, তবে তিনি শপথ ভঙ্গকারী হতেন না। আর উদ্দেশ্য পূরণে তিনি সফলতা পেতেন।

যুহাইর ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুলাইমান ইবন দাউদ বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছেই গমন করবো। এতে তারা এমন যোগ্য সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তার কোন সাথী তাকে বললেন, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ' বলেননি। এরপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই সহবাস করলেন। কিন্তু মাত্র একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না। তিনি যে সস্তানটি প্রসব করলেন- তাও ছিল অপূর্ণাঙ্গ! সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মদ(ﷺ) এর জীবন, যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে তারা সকলেই (স্ত্রীদের জন্ম দেয়া সন্তান) আশ্বারোহী সৈনিক হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতো।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ যিনাদ হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করে বলেছেন যে- প্রত্যেক স্ত্রী এমন সন্তানদের প্রসব করবে, যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ স্বীয় পরিবারের সাথে (কোন বিষয়ে) আল্লাহর নামে কসম করে এর পুনরাবৃত্তি করে বা এর উপর অটল থাকে তা অধিক গুনাহর কারণ বলে বিবেচিত হবে- কসম করে আল্লাহর নির্ধারিত (শপথ ভঙ্গের) কাফফারাহ আদায় করার তুলনায়।

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকাদ্দামী মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না যুহাইর ইবন হারব .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, একদা উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি জাহিলিয়াতের জামানায় মসজিদুল হারামে এক রাত্রি ইতিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর।

আবূ সাঈদ আশাজ্জ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবন আলা, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালা ইবন আবূ রাওয়াদ .... সকলেই উবাইদুল্লাহ এর সূত্রে ইবন উমর থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তাদের মধ্য হতে হাফ্‌স উমর থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উসামাহ্ এবং সাকিফ উভয়ের বর্ণিত হাদীসে (এক রাত্রির ইতিকাফের) কথা উল্লেখ আছে। আর শুবাহ এর বর্ণিত হাদীসে (তিনি তার উপর একদিনের ইতিকাফ করা ধার্য করে নিয়েছিলেন)। উল্লেখিত হাফস এর বর্ণিত হাদীসে 'একদিন এবং এক রাত্রির কথা উল্লেখ নেই।

আবূ তাহির .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) তায়িফ থেকে ফিরে আসার পর জিরানাহ নামক স্থানে অবস্থান কালে উমার ইবন খাত্তাব তাকে জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রসূল! আমি অজ্ঞতার যুগে মাসজিদুল হারামে একদিন ইতিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তখন তনি বললেনঃ যাও এবং একদিন ইতিকাফ করো। বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত সম্পদের (গনীমতের) এক পঞ্চমাংশ থেকে একটি দাসী প্রদান করেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে মুক্ত করে দেন তখন উমর তাদের শোরগোল শুনতে পান। তারা বলাবলি করছিল যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। উমর বললেন, ব্যাপার কী? তখন তারা বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ বন্দীদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। তখন উমর বললেন, হে আবদুল্লাহ! ঐ দাসীটির কাছে গিয়ে তাকে মুক্ত করে দাও।

আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) হুনাইনের যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন- তখন উমর তার জাহিলী যুগে করা একদিনের ইতিকাফ করার মানৎ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করেন। এরপর জারীর ইবন হাযিম এর হাদীসের মৰ্মানুরূপ হাদীসটি উল্লেখ করেন।

আহমাদ ইবন অবদাতুয় যাব্‌বী ... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমর এর নিকট জিরানাহ থেকে ফেরার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উমরাহ করার কথা উল্লেখ করা হল। তখন তিনি বললেন, সেখান থেকে তিনি উমরাহ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন যে, উমার জাহিলী যুগে একরাত্রি ইতিকাফ করার মানৎ করেছিলেন। এরপর জারীর ইবন হাযিম ও মা'মার সূত্রে আইয়ূব হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী, ইয়াহইয়া ইবন খালাফ .... উভয়েই নাফি এর সূত্রে ইবন উমর (রযিঃ) থেকে মানত সম্পর্কে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে সকলেই (একদিনের ইতিকাফ) কথাটি বর্ণনা করেছেন।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন জাহদারী .... আবূ উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর এর কাছে আগমন করলাম, ইতোমধ্যে একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, তিনি মাটি থেকে একটি কাঠি অথবা অন্য কোন বস্তু নিয়ে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে তার সমতুল্য পুণ্যও নেই। কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজ ক্রীতদাসকে চপেটাঘাত করল অথবা প্রহার করল, এর কাফফারা হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... যযান হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার তার এক গোলামকে ডাকলেন। এরপর তার পিঠে (প্রহারের) দাগ দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এতে যন্ত্রণা অনুভব করছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি মুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি মাটি থেকে কোন বস্তু নিয়ে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে এতটুকু পুণ্যও মেলেনি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আপন গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপেটাঘাত করল, এর কাফফারাহ হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না উভয়েই সুফইয়ান এর সূত্রে ইবন মাহদী এর হাদীসের উল্লেখপূর্বক বলেন যে, এতে (বিনা অপরাধে) কথাটি উল্লেখ আছে। আর ওয়াকী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে (যে ব্যক্তি আপন গোলামকে চপেটাঘাত করল) বাক্যটির উল্লেখ আছে। তিনি তার হাদীসে (অপরাধের শাস্তি) কথাটি উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমাইর .... মুআবিয়াহ্ ইবন সুওয়াইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আমি আমাদের এক গোলামকে চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি পালিয়ে গেলাম এবং যুহরের সালাতের আগে আগে ফিরে এলাম। আমি আমার পিতার পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি তাকে এবং আমাকে ডাকালেন। গোলামকে বললেন, তুমি তার কাছ থেকে বদলা নাও। অবশেষে সে ক্ষমা করে দিল। এরপর তিনি বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে বানী মুকাররিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমাদের মাত্র একটি গোলাম ছিল। একদা আমাদের কোন একজন তাকে চপেটাঘাত করল এবং এ সংবাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছল। তখন তিনি বললেন, তাকে আযাদ করে দাও। তারা বলল, সে ব্যতীত তাদের কোন খাদেম নেই। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তার কাছ হতে সেবা গ্রহণ করতে থাক, যখনই তার প্রয়োজন মিটে যাবে তখনই তোমরা তাকে মুক্ত করে দিবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... হিলাল ইবন ইয়াসাফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃদ্ধ তার চাকরকে তড়িঘড়ি করতে গিয়ে চপেটাঘাত করল। সুওয়াইদ ইবন মুকাররিন তাকে বললেন, আপনি তার মূল্যবান চেহারা ছাড়া আর কোন স্থান পেলেন না। আপনি আমাকে বানী মুকাররিন গোত্রের সাত সদস্য বিশিষ্ট পরিবারে সপ্তম লোক হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের একজন গোলাম ব্যতীত অন্য কোন গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার সর্ব কনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে চপেটাঘাত করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে আযাদ করে দিতে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... হিলাল ইবন ইয়াসাফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নুমান ইবন মুকাররিন এর ভাই সুওয়াইদ ইবন মুকাররিন এর বাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলাম। এমন সময় একজন দাসী বেরিয়ে এসে আমাদের একজন লোকের সাথে তর্ক করল। তখন সে তাকে একটি চপেটাঘাত মারল। এতে সুওয়াইদ রাগাম্বিত হলেন। তখন তিনি ইবন ইদ্রিস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ .... সুওয়াইদ ইবন মুকাররিন হতে বর্ণিত যে, তার একজন দাসী ছিল। এক ব্যক্তি একদা তাকে এক চপোটাঘাত করল। তখন সুওয়াইদ তাকে বললেন, তুমি কি জাননা যে, চেহারায় চপেটাঘাত করা নিষিদ্ধ? নিশ্চয়ই তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ যে, আমরা সাত ভাই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় আমাদের একজনের গোলাম ব্যতীত আর কারো গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি তাকে চপোটাঘাত করল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদার এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? অতঃপর তিনি আবদুস সামাদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ কামিল জাহদারী .... আবূ মাসউদ বাদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক ক্রীতদাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছনে থেকে একটি শব্দ শোনলাম, হে আবূ মাসউদ! জেনে রেখো! রাগের কারণে আমি শব্দটি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার কাছাকাছি এলেন তখন দেখতে পেলাম, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তিনি বলছেনঃ হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চাবুকটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এ গোলামের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার উপর আল্লাহ তাআলা অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এরপর কখনও কোন কৃতদাসকে আমি প্রহার করবো না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ সকলেই আ'মশ সূত্রে আবদুল ওয়াহিদ এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর এর বর্ণিত হাদীস (তার ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল) এ বাক্যটি অতিরিক্ত সংযোজিত হয়েছে।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আ'লা .... আবূ মাসউদ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক দাসকে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শোনলাম। হে আবূ মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার উপর যেরূপ শক্তিমান, আল্লাহ তাআলা তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক শক্তিমান। হঠাৎ পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সাবধান! যদি তুমি তা না করতে তাহলে অবশ্যই দোযখ তোমাকে গ্রাস করতো। কিংবা (রাবীর সন্দেহ) দোযখ তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করতো।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ মাসউদ হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা তার গোলামকে মারছিলেন। তখন সে বলতে লাগলো- আমি আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চাই। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও তিনি তাকে প্রহার করছিলেন। এরপর সে বলল, আমি আল্লাহর রসূলের কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি তার উপর যতটুকু শক্তিমান, আল্লাহ তাআলা তোমার উপর তার চেয়ে অধিক শক্তিমান। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাকে আযাদ করে দিয়েছেন।

বিশর ইবন খালিদ উক্ত হাদীসটি শুবাহ্ হতে এ একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি (আমি আল্লাহর কাছে পরিত্রণ চাই, আমি আল্লাহর রসূলের কাছে সাহায্য চাই) এ বাক্যটির উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (মুহাম্মদ) (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন দাস দাসীর উপর ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনলো, কিয়ামত দিবসে তার উপর এ মিথ্যা অপবাদের শাস্তি আপতিত হবে। কিন্তু সে যা বলেছে তা যদি সত্য হয় তবে নয় (তবে অভিযোগকারী আর শাস্তি পাবে না)।

আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব ... উভয়ে ফুযায়ল ইবন গাযওয়ান থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তাদের উভয়ের হাদীসে (তাওবার নবী আবূল কাসিম (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি) এর উল্লেখ আছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... মা'রূর ইবন সুওয়াইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাবাযাহ নামক স্থানে আবূ যর এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তার গায়ে একটি চাদর ছিল এবং তার গোলামের গায়েও অনুরূপ একটি চাদর ছিল। তখন আমরা বললাম, হে আবূ যার! যদি আপনি উভয়টি একত্রিত করতেন, তাহলে এক জোড়া চাদর হতো। তিনি বললেন, আমার মধ্যে এবং আমার ভাই সম্পৰ্কীয় ব্যক্তিটির মধ্যে কিছু কথা আছে। তার মা একজন অনারব। একদা আমি তার মাকে উল্লেখ করে তাকে ভৎসনা করলাম। তখন সে আমার বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) এর কাছে নালিশ করল। এরপর যখন আমি নবী (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে জাহিলী যুগের কাজকর্ম রয়েছে (যে সময়ে একে অন্যের বাপ-মাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছজান করতো)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি মানুষদেরকে গালি দেয় তার প্রতি উত্তরে তারাও তার পিতা মাতাকে উল্লেখ করে গালি দেয়া স্বাভাবিক। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ যার! তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ড এখনও বিদ্যমান (তার মন্দ কথার বদলায় তার বাবা-মাকে গালি দেয়া অন্যায়)। তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যেমন পোশাক পরবে তাদেরকে তা পরাবে। তোমরা তাদের উপর এমন কোন কাজের ভার চাপিয়ে দিবে না, যা করতে তারা হিমশিম খেয়ে যায়। যদি তোমরা তাদেরকে কোন কাজে কষ্ট দাও, তাহলে এ কাজে তাদের সাহায্যও করো।

আহমাদ ইবন ইউনুস, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ..... সকলেই আমাশ .... থেকে এ একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যুহায়র ও আবূ মুআবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, হাদীসে "তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান" এ কথার পর কিছু বাড়িয়ে যোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তা কি আমার বয়োবৃদ্ধে হবে? তিনি বলেন, হ্যা। আর আবূ মুআবিয়াহর বর্ণনায় আছে- হ্যা, তোমার বয়োবৃদ্ধকালে। আর ঈসা এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যদি তুমি তাকে সাধ্যের বাইরে কোন কাজ করতে দাও, যা সে করতে অক্ষম, তবে তাকে বিক্রি করে দাও। আর যুহায়র এর হাদীসে আছে "অতএব তুমি তাকে তখন সাহায্যও করবে।" আবূ মুআবিয়াহ্ এর হাদীসে "তুমি তাকে বিক্রি করে দাও" অথবা "সাহায্য কর" কোন কথার উল্লেখ নেই। "তুমি তাকে এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না, যা করতে সে অক্ষম" এ কথা দ্বারাই হাদীস শেষ করা হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ... মা'রূর ইবন সুওয়াইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ যার কে দেখতে পেলাম যে, তার গায়ে একটি চাদর এবং তার গোলামের গায়েও অনুরূপ একটি চাদর রয়েছে। তখন আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন যে, কোন এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিল। প্রত্যুত্তরে সে ব্যক্তি তার মাকে উল্লেখ করে গালি দিল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকটি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে ঐ ঘটনা বর্ণনা করলো, নবী (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে অজ্ঞতা যুগের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান। তারা তোমাদের ভাই, তোমাদের গোলাম আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির অধীনে তার কোন ভাই থাকে তার উচিত তাকে এমন খাদ্য দেয়া যা সে নিজে খায় এবং এমন পোশাক দেয়া যা সে নিজে পরে। আর তোমরা তাদের উপর এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়। আর যদি তোমরা তাদেরকে সামর্থ্যের বাইরে কাজ দাও, তবে তোমরা তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতাও করো।

আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ কৃতদাসের জন্যে খাওয়া-দাওয়া ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা মনিবের দায়িত্ব। তার সাধ্যের বাইরে কোন কাজের জন্য তাকে কষ্ট দেয়া যাবে না।

কানবী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন গোলাম খাদ্য তৈরী করে তার মনিবের কাছে নিয়ে আসে যাতে তার তাপ ও ধোয়া সে সহ্য করেছে, তখন তার উচিত হবে তাকে কাছে বসিয়ে তা থেকে কিছু খাবার প্রদান করা। আর যদি খাবারের পরিমাণ অতি অল্প হয়, তবে সে যেন তার হাতে অন্ততঃ এক লোকম অথবা দু' লোকমা খাবার প্রদান করে। বর্ণনাকারী দাউদ .... বলেন যে, এক লোকমা অথবা দু' লোকমা।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন চাকর যখন কল্যাণকামিতার সাথে আপন মনিবের সেবা করে এবং উত্তমরূপে আল্লাহর ইবাদাতও করে- তখন সে দুটি পুরস্কার প্রাপ্ত হবে।

যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন নুমায়র, আবূ বকর আবূ শাইবাহ ও হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... সকলেই ইবন উমার সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মালিক .... এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সৎ গোলামের জন্যে দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। সে মহান আল্লাহর শপথ যার হাতে আবূ হুরাইরাহর জীবন, যদি আল্লাহর পথে জিহাদ করা, হজ্জ করা এবং আমার মায়ের সেবা করা অধিক পুণ্যের বিষয় না হতো, তবে গোলাম অবস্থায় মৃত্যু হওয়াকেই আমি অধিক পছন্দ করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জানতে পারলাম যে, আবূ হুরাইরাহ হজ্জে গমন করেননি তার মায়ের মৃত্যুর আগে। কেননা তিনি সর্বদা তার পাশে থেকে সেবা করতেন। বর্ণনাকারী আবূ তাহির তার বর্ণিত হাদীসে (সৎ গোলামের জন্যে) কথাটির উল্লেখ করেছেন। কিন্তু (ক্রীতদাস) শব্দটি তিনি উল্লেখ করেননি।

যুহায়র ইবন হারব .... ইবন শিহাব হতে উক্ত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি (আমাদের কাছে সংবাদ পৌছেছে থেকে নিয়ে এর পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি)।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে গোলাম আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক আদায় করল, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন যে, আমি হাদীসটি কা'ব এর নিকট বর্ণনা করলাম তখন কা'ব বললেন, কিয়ামতের দিন তার কোন হিসাব নেই এবং ঐ মুমিনের ওপরও কোন হিসাব নেই যার সম্পদ কম।

উপযুক্ত হাদীস মুহায়র ইবন হারব আমাশ থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ..... আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ ব্যাপারে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে উত্তমরূপে ইবাদাত করে মৃত্যুবরণ করেছে এবং আপন মনিবের উত্তম সেবা করেছে, ঐ গোলামের জন্য কতই না উত্তম পুরস্কার রয়েছে, তার জন্য কতই না উত্তম প্রতিদান রয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন গোলামে নিজের অংশ মুক্ত করে দেয় আর তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ আছে যা দ্বারা সে ঐ গোলামের সম্পূর্ণ মূল্য ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিশোধ করতে সক্ষম তখন সে যেন অন্যান্য অংশীদারদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করে দেয় এবং নিজ দায়িত্বে তাকে সম্পূর্ণভাবে আযাদ করে দেয়। অন্যথায় সে যে অংশ আযাদ করল, তাই শুধু আযাদ হবে।

ইবন নুমায়র .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথভাবে ক্রয় করা কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করে দিল, তার উপর কর্তব্য হবে সম্পূর্ণ গোলাম আযাদ করে দেয়া, যদি সম্পূর্ণ গোলামের মূল্য পরিশোধের মত সম্পদ তার কাছে থাকে। আর যদি এ পরিমাণ সম্পদ তার কাছে না থাকে, তবে সে যে অংশ আযাদ করল, তাই শুধু আযাদ হবে।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শারীকানায় ক্রয় করা কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করে দেয় এবং তার কাছে গোলামের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের মত সম্পদও থাকে তখন তার উপর কর্তব্য হবে ন্যায়সঙ্গতভাবে সকলের মূল্য পরিশোধ করে তাকে সম্পূর্ণ আযাদ করে দেয়া। অন্যথায় সে যে অংশ আযাদ করল তাই শুধু আযাদ হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ রাবী, আবূ কামিল, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন মনসুর, মুহাম্মদ ইবন রাফি, হারূন ইবন সাঈদ আইলী ..... সকলেই ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তাদের বর্ণিত হাদীসে (আর যদি তার কাছে সম্পদ না থাকে, তবে সে যে অংশ আযাদ করল তাই শুধু আযাদ হবে) এরূপ বাক্যের উল্লেখ করেছেন। আর তারা এ কথাও বলেছেন যে, আমরা জানি না যে, প্রকৃতপক্ষেই এ শব্দগুলো হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, না বর্ণনাকারী নাফি নিজের পক্ষ হতেই এগুলো বলেছেন। উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় "আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি"- এ কথাটি একমাত্র লায়স ইবন সা'দ এর হাদীস ব্যতীত অন্য কারো বর্ণনায় নেই।

আমর আন নাকিদ ও ইবন উমার .... উভয়েই, আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন গোলামকে আযাদ করল যার মধ্যে তার এবং অপরের অংশীদারিত্ব আছে, তবে তার সম্পদ থেকে অন্যের অংশ ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিশোধ করা কর্তব্য। যদি সে প্রাচুৰ্যশালী হয়, নিজ দায়িত্বে স্বীয় সম্পদ দ্বারা তাকে মুক্ত করে দেয়া উচিত।

আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথভাবে ক্রয় করা কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করল, বাকী অংশটুকু তার সম্পদ থেকে আযাদ করে দেয়া কর্তব্য, যদি তার এমন সম্পদ থাকে যা দিয়ে গোলামের মূল্য পরিশোধ করা যায়।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার উভয়েই .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ দুজনের অংশীদারিত্বে কোন গোলামের একজন মালিক যদি তার অংশ আযাদ করে দেয়, তবে সে (অপরের অংশের) যামিন হবে।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ সূত্রে হাদীসটি একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ যৌথভাবে ক্রয় করা কোন গোলামের এক অংশ আযাদ করল, সে স্বাধীন হবে তার মাল দ্বারাই। (নিজ দায়িত্বে স্বীয় সম্পদ দ্বারা তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেয়া তার কর্তব্য)।

আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানার কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করল, তবে তার মাল থেকেই তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেয়া কর্তব্য, যদি সে সম্পদশালী হয়। আর যদি তার সম্পদ না থাকে তবে গোলামের দ্বারা সেবা কার্য আদায় করবে বটে, কিন্তু তার উপর কোন কঠোরতা আরোপ করতে পারবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরাম ..... ইবন আবূ আরবাহ হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর ঈসা এর বর্ণিত হাদীসে "এরপর যে অংশ আযাদ হয়নি সে অংশ আযাদ করানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু তার উপর কোন কঠোরতা আরোপ করা যাবে না" বর্ণিত রয়েছে।

আলী ইবন হুজর সাদী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে নিজের ছয়জন গোলামকে আযাদ করল। অথচ গোলামগুলো ব্যতীত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে ডাকালেন এবং তাদেরকে তিনভাগে ভাগ করলেন। তারপর তাদের মধ্যে লটারী করে দু'জনকে সম্পূর্ণভাবে আযাদ করলেন এবং বাকী চারজনকে গোলাম বানিয়ে রাখলেন। আর তার (মৃতের) প্রতি শক্ত ভাষা প্রয়োগ করলেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমর .... আইয়্যুব থেকে উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ এর বর্ণিত হাদীসটি ইবন উলাইয়াহ এর হাদীসের অনুরূপ। আর সাকাফী এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, "আনসারী এক লোক তার মৃত্যুর সময় ওয়াসিয়্যাত করায় তার ছয়জন গোলামকে মুক্ত করা হলো"।

মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল দারীর ও আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ্ .... উভয়ে ইমরান ইবন হুসায়ন সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইবন উলাইয়্যাহ্ ও হাম্মদ এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আতাকী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আনসারী একজন লোক তার গোলামকে এ শর্তে আযাদ করল যে, তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন। সে গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। এ সংবাদ যখন নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছল তখন তিনি বললেন আমার কাছ থেকে তাকে কিনে নিবে, এমন কে আছে? তখন নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ আটশ দিরহামের বিনিময়ে তাকে কিনে নিল। তখন নবী (ﷺ) ঐ অর্থ আনসারীকে দিয়েছিলেন। আমর বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে, সে ছিল একজন কিবতী গোলাম। সে (আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র এর খিলাফতের) প্রথম বছর মৃত্যুবরণ করে।

আবূ বকর ইবনআবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ..... জাবির হতে বর্ণিত তিনি বলেন আনসারী এক লোক তার গোলামকে এই বলে আযাদ করল যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি স্বাধীন। কিন্তু সে গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিক্রি করেন। জাবির বলেন যে, ইবন নাহহাম তাকে ক্রয় করলো। সে গোলামটি ছিল একজন কিবতী ইবন যুবায়র এর খিলাফত কালের প্রথম বছর সে মৃত্যুবরণ করে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... জাবির সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুদাব্বার সম্পর্কে হাম্মদ কর্তৃক আমর ইবন দীনারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ, আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ও আবূ গাসসান মিসমাঈ, সকলেই নবী (ﷺ) থেকে হাম্মদ এবং ইবন উয়াইনাহ কর্তৃক আমর ও জাবির হতে বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।