মুসাফিরদের সালাত ও তার কসর (১৪৫৬-১৭২২)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাড়ীতে কিংবা সফরে যে কোন অবস্থায় প্রথমে সালাত দু' দু' রাকাআত করে ফারয করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সফরের সালাত দু' রাকাআত ঠিক রাখা হলেও বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাতের রাকাআত সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে।
আবুত তহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত ফরয করার সময় আল্লাহ তাআলা দু' রাকাআত করে ফরয করেছিলেন। তবে পরে বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাতে বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন সালাত পূর্বের মতো দু' রাকাআতই রাখা হয়েছে।
আলী ইবন খাশ্রম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। প্রথমে সালাত ফরয হয়েছিল দু' রাকাআত করে। পরবর্তী সময়ে সফরকালীন সালাত দু' রাকাআত ঠিক রাখা হয়েছে কিন্তু বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত পূর্ণাঙ্গ (চার রাকাআত) করা হয়েছে। বর্ণনাকার যুহরী বলেছেনঃ আমি উরওয়াহকে জিজ্ঞেস করলাম- তাহলে কী কারণে আয়িশাহ সফরকালীন সালাত পুরো আদায় করতেন? জবাবে উরওয়াহ বললেনঃ আয়িশাহ উসমানের ব্যাখ্যার মতো এ হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছেন।
আবূ বকর ইবন শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ (রাঘিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি উমার ইবন খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে এ আশঙ্কা থাকলে সালাত কসর করে আদায় করতে তোমাদের কোন দোষ হবে না"- (আন নিসা ৪ঃ ১০১)। কিন্তু এখন তো লোকেরা নিরাপত্তা লাভ করেছেন। (সুতরাং এখন কসর সালাত আদায় করার প্রয়োজন কী?) এ কথা শুনে উমার ইবন খাত্তাব বললেনঃ তুমি যে কারণে বিস্মিত হয়েছ আমিও ঠিক একই কারণে বিস্মিত হয়েছিলাম (আমিও কসর সালাত আদায়ের কোন যৌক্তিকতা খুজে পাচ্ছিলাম না)। তাই উক্ত বিষয়ে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটি তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সাদাকা বা দান। সুতরাং তোমরা তার দেয়া সাদাকা গ্রহণ কর।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকুদ্দামী .... ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ বলেন- আমি উমর ইবন খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি আবদুল্লাহ ইবন ইদরীস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসূর, আবুর রাবি ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের নবীর জবানীতে আল্লাহ তাআলা বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত চার রাকাআত, সফরের সালাত দু' রাকাআত এবং ভীতিকর অবস্থানকালীন সালাত এক রাকাআত ফরয করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী (ﷺ) এর জবানীতে মুসাফিরের সালাত দু' রাকাআত, মুকীম বা বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত চার রাকাআত এবং ভীতিকর অবস্থার সালাত এক রাকাআত ফরয করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মূসা ইবন সালামাহ আল হুযালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি মক্কায় অবস্থানকালে যদি ইমামের পিছনে সালাত আদায় না করি তাহলে কীভাবে সালাত আদায় করব। জবাবে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, দু' রাকাআত সালাত আদায় করবে। এটি আবূল কাসিম (ﷺ) এর সুন্নাত।
মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল আয্ যারীর, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... উমার ইবন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কার কোন একটি পথে আসিম ইবন উমার এর সাথে চলছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের সাথে করে যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং মাত্র দু' রাকআত আদায় করলেন। তারপর তিনি তার কাফিলার মধ্যে ফিরে আসলেন। আমরাও তার সাথে ফিরে আসলাম। তিনি সেখানে বসে পড়লে আমরাও তার সাথে বসে পড়লাম। এ সময় যে স্থানে তিনি সালাত আদায় করেছিলেন সে স্থানে তার দৃষ্টি পড়লে কিছু সংখ্যক লোককে সেখানে দাড়ানো দেখতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা ওখানে কী করছে? আমি বললাম, তার সুন্নাত পড়ছে। তিনি এ কথা শুনে বললেনঃ ভাতিজা, আমাদেরকে যদি সুন্নাত আদায় করতে হত তাহলে আমি ফরয সালাতও পূর্ণ আদায় করতাম। আমি সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে থেকে দেখেছি আমৃত্যু তিনি দু' রাকাআতের অধিক আদায় করেননি। আমি সফরে আবূ বকরের সাথে থেকে দেখেছি আল্লাহ তাকে ওফাত দান না করা পর্যন্ত তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। আমি সফরে উমারের সাথে দেখেছি তিনি দু' রাকাআত সালাতই আদায় করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের উত্তম নমুনা রয়েছে"- (আহযাব ৩৩ঃ ২১)।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... হাফস্ ইবন আসিম থেকে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি সাংঘাতিকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লাম। আবদুল্লাহ ইবন উমার আমাকে দেখতে আসলেন। সে সময় আমি তাকে সফরে সুন্নাত সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- আমি সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গী হয়েছি। কিন্তু কখনো তাকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। আর আমি যদি সফরে সুন্নাত সালাত আদায় করতাম তাহলে ফরয সালাতও পূর্ণ করে আদায় করতাম। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের জন্য উত্তম নীতিমালা রয়েছে"– (আহযাব ৩৩ঃ ২১)।
খালাফ ইবন হিশাম, আবূর রাবি আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। বিদায় হাজ্জের সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাহ থেকে যুহরের সালাত চার রাকাআত আদায় করে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং যুলহুলায়ফাতে পৌছে আসরের সালাত দু' রাকাআত আদায় করেছিলেন।
সাঈদ ইবন মানসূর .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সফরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মদীনায় যুহরের সালাত চার রাকাআত আদায় করে বের হয়েছি এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌছে তার সাথে আসরের সালাত মাত্র দু' রাকাআত আদায় করেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইয়াহইয়া ইবন ইয়াযীদ আল হুনায়ী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে সফররত অবস্থায় সালাতে কসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ দূরত্বে সফরে বের হতেন তখনই দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। ইয়াহইয়া ইবন ইয়াযীদ আল হুনায়ী তিন মাইল দূরত্বের কথা বলেছেন, না তিন ফারসাখ দূরত্বের কথা বলেছেন তাতে শুবার সন্দেহ রয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জুবায়র ইবন নুফায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুরাহবীল ইবন আস সিমত্ব এর সাথে সতের বা আঠার মাইল দূরবর্তী এক গ্রামে গেলাম। তিনি সেখানে (চার রাকাআতের পরিবর্তে) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ এ সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (শুবাহ) শুরাহবীল না বলে মুহাম্মাদ ইবনস সিমত উল্লেখ করেছেন। তিনি তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হিমস এর আঠার মাইল দূরবর্তী "দূমীন" নামে পরিচিত একটি স্থানে উপনীত হলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সফরে) আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মদীনাহ থেকে মক্কার দিকে বের হলাম। (এ সফরে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ওয়াক্তের সালাতই দু' রাকাআত করে আদায় করেছেন এবং মদীনায় ফিরে এসেছেন। বর্ণনাকারী ইসহাক ইবন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন- আমি আনাস ইবন মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি মক্কায় ক'দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন। জবাবে আনাস ইবন মালিক বললেনঃ দশদিন।
কুতায়বাহ্, আবূ কুরায়ব (রহ:) ..... আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) থেকে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছি, আমরা মদীনাহ থেকে হাজের উদ্দেশে যাত্রা করলাম ...। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।
ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব .... আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি হাজ্জের কথা উল্লেখ করেননি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া (বহঃ) .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ তার পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমার এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মিনা এবং অন্যান্য স্থানে মুসাফিরের মতো দু' রাকাআত করে সালাত আদায় করেছিলেন। আর আবূ বকর, উমার তাদের খিলাফাত যুগে এবং উসমান তার খিলাফাতের প্রথম দিকে সফরকালের সালাত দু' রাকাআত করে আদায় করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণ চার রাকআত আদায় করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... যুহরী থেকে বর্ণিত। তিনি এতে 'মিনাতে' কথাটি উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যান্য স্থানে কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনাতে (ফরয সালাত চার রাকাআতের পরিবর্তে) দু' রাকাআত আদায় করেছেন। পরে আবূ বকর তার খিলাফতকালে তাই করেছেন। আবূ বকরের পর উমারও তাই করেছেন। কিন্তু পরে চার রাকাআত আদায় করেছেন। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবন উমার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করলে চার রাকাআত আদায় করতেন। কিন্তু যখন তিনি একাকী সালাত আদায় করতেন দু' রাকাআত আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ, আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র ..... উবায়দুল্লাহ একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে মুসাফিরের ন্যায় দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আবূ বকর, উমার এবং উসমানও তাদের খিলাফতকালে আট বছর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহে) ছয় বছর যাবৎ তাই করেছেন। হাফস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার মিনাতে অবস্থানকালে সালাত দু' রাকাআত আদায় করতেন এবং পরে তার বিছানায় চলে আসলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা, আপনি আরও দু' রাকাআত সালাত আদায় করলে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আমাকে যদি এরূপ করতে হত তাহলে আমি ফরয সালাত পূর্ণাঙ্গ করে (চার রাকাআত) আদায় করতাম।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও ইবন মুসান্না .... শুবাহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত। তবে তারা তাদের বর্ণিত হাদীসে মিনাতে অবস্থানকালে কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং বলেছেন, তিনি (ﷺ) সফরে এভাবে সালাত আদায় করেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান মিনাতে অবস্থানকালে আমাদের সাথে নিয়ে ফরয সালাত চার রাকাআত আদায় করলেন। বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদকে অবহিত করা হলে তিনি "ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাই-হি র-জিউন" পড়লেন। পরে তিনি বললেনঃ আমি মিনাতে অবস্থানকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আবূ বকর সিদ্দীকের সাথেও দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আমি মিনাতে অবস্থানকালে উমার ইবন খাত্ত্বাবের সাথেও দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। চার রাকাআতের পরিবর্তে দু' রাকাআত সালাতই যদি আমার জন্য মাকবুল হত তাহলে কতই না ভাল হত।
আবৃ বাকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, উসমান ইবন আবূ শায়বাহ, ইসহাক ও ইবন খশরাম .... সকলেই আমাশ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ .... হারিসাহ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনাতে অবস্থানকালে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু রাকাআত সালাত আদায় করেছি। অথচ লোকজন নিরাপদ ও আতঙ্কহীন ছিল।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... হরিসাহ ইবন ওয়াহব আল খুযাঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি তখন দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছিলেন। তখন তার পিছনে বহু সংখ্যক লোক ছিল। ইমাম মুসলিম বলেনঃ হারিসাহ ইবন ওয়াহব খুযাঈ উবায়দুল্লাহ ইবন উমার ইবন খাত্ত্বাবের ভাই। তারা একই মায়ের গর্ভজাত সন্তান।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নাফি ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ঝড় ও শীতের রাতে আবদুল্লাহ ইবন উমর সালাতে আযান দিলেন। আযানে তিনি বললেনঃ তোমরা যার যার বাড়ীতে সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি বললেন যে, শীতের রাত অথবা মেঘাচ্ছন্ন রাত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়াযযিনকে এ কথা ঘোষণা করতে আদেশ দিতেনঃ 'তোমরা বাড়ীতে সালাত আদায় কর।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি শীত ও ঝড়-বৃষ্টি কবলিত এক রাতে সালাতের আযান দিলেন। তিনি তার আযান শেষে উচ্চস্বরে বলেন, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানস্থলে সালাত আদায় করে নাও। শোন! তোমরা অবস্থানস্থলে সালাত আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফররত অবস্থায় শীত বা বর্ষণমুখর রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করে নাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। একবার তিনি 'যজনান' নামক স্থানে সালাতের আযান দিলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বললেনঃ তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর কথা, "তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই সালাত আদায় করে নাও" কথাটি দ্বিতীয়বার বললেন না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গী ছিলাম। ইতোমধ্যে বৃষ্টি হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কেউ চাইলে নিজের জায়গাতে অবস্থান করে সেখানেই সালাত আদায় করে নিতে পারো।
আলী ইবন হুজুর আস্ সাদী.... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এক বৃষ্টিঝরা দিনে তিনি মুয়াৰ্যযিনকে বললেনঃ আজকের আযানে যখন তুমি "আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে শেষ করবে তার পরে কিন্তু "হাইয়া আলাস্ সলা-হ" বলবে না। বরং বলবে, "সল্লু ফী বুয়ুতিকুম" তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই সালাত আদায় করে নাও। হাদীসের বর্ণনাকারী (আবদুল্লাহ ইবন হারিস) বলেছেনঃ এরূপ করা লোকজন পছন্দ করল না বলে মনে হল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেনঃ তোমরা এ কাজকে আজগুবি মনে করছ? অথচ যিনি আমার চেয়ে উত্তম তিনি এরূপ করেছেন। জুমুআর সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তোমরা কাঁদাযুক্ত পিচ্ছিল পথে কষ্ট করে চলবে তা আমি পছন্দ করিনি।
আবূ কামিল আল জাহদারী .... আবদুল হামীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন হারিস কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, এক বৃষ্টিকর দিনে আবদুল্লাহ ইবন "আব্বাস আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। এতটুকু বর্ণনা করে তিনি পূর্বোক্ত ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি জুমুআর দিনের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, যিনি আমার চেয়ে উত্তম নবী (ﷺ) এরূপ করেছেন। আবূ কামিল বলেছেনঃ হাম্মদ আসিম এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবন হারিস থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূর রাবী আল আতাকী (আয যাহরানী) ... আইয়ুব ও আসিম আল আহওয়াল থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের 'নবী (ﷺ)' কথাটি উল্লেখ করেননি।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন হারিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃষ্টিকর জুমুআর দিনে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর (নিযুক্ত) মুয়াযযিন আযান দিলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস) বললেনঃ তোমরা কর্দময় ও পিচ্ছিল পথে চলবে তা আমার পছন্দ হয়নি।
আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবদুল্লাহ ইবন হারিস থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে তার (নিযুক্ত) মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। মা'মার-এর হাদীসে রয়েছে, বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে উক্ত বর্ণনাকারীর অনুরূপ এবং মামার-এর বর্ণিত হাদীসে এ কথাও আছে যে, যিনি আমার চেয়ে উত্তম নবী (ﷺ) এরূপ করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন হারিস এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে তার (নিযুক্ত) মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। এভাবে তিনি অন্য বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। সওয়ারীর মুখ যেদিকেই থাক না কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সওয়ারীর পিঠে বসে নফল সালাত আদায় করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। উটের মুখ যে দিকেই থাকুক না কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটের পিঠে বসেই নফল সালাত আদায় করতেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাহ থেকে মদীনায় আসার পথে যে দিকেই তার মুখ হোক না কেন সওয়ারীতে বসে সালাত আদায় করতেন। এ ব্যাপারেই আয়াত (অর্থ) "তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাবে সেটিই আল্লাহর দিক"- (আল বাকারাহ ২ঃ ১১৫) অবতীর্ণ হয়।
আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র .... সকলে আবদুল মালিক থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন মুবারাক ও ইবন আবূ যায়িদাহ বর্ণিত হাদীসে এ কথা উল্লেখিত হয়েছে যে, হাদীসটি বর্ণনার পর আবদুল্লাহ ইবন উমর "তোমরা যেদিকেই মুখ কর না কেন সবই আল্লাহর দিক"- (বাকারাহ ২ঃ ১১৫)। এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে বললেন, এ আয়াতটি এ ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে খায়বারের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে দেখেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সাঈদ ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবন উমারের সাথে মক্কার পথ ধরে চলছিলাম। ভোর হয়ে যাচ্ছে মনে করে এক সময় সওয়ারী থেকে নেমে বিতর সালাত আদায় করলাম এবং পরে তার কাছে গিয়ে পৌছলাম। তখন দেখে সওয়ার থেকে নেমে বিতর সালাত আদায় করলাম। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন উমার বললেন, রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর জীবনে কি তোমার অনুসরণের জন্য উত্তম আদর্শ নেই। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তা অবশ্যই আছে। তিনি বললেন, উটের পিঠে বসেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর সালাত আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওয়ারীর মুখ যেদিকেই থাক না কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সফরে) সওয়ারীর পিঠে সালাত আদায় করতেন। আবদুল্লাহ ইবন দীনার বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমরও এরূপ করতেন। (সফরে তিনি সওয়ারীর পিঠে আরোহণরত অবস্থায় নফল সালাত আদায় করতেন। সওয়ার কোন দিকে মুখ করে চলছে তাতে কোন দোষ আছে বলে মনে করতেন না।)
ঈসা ইবন হাম্মদ আল মিসরী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সওয়ারীর উপর বসেই বিতর সালাত আদায় করতেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওয়ার যে দিকেই মুখ করে চলুক না কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ারীর উপর বসে নফল সালাত আদায় করতেন এবং সওয়ারীর উপরেই বিতর সালাত আদায় করতেন। তবে তিনি (ﷺ) সওয়ারীর উপর ফরয সালাত আদায় করতেন না।
আমর ইবন সাওওয়াদ ও হারমালাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রবীআহ হতে বর্ণিত। তিনি সফররত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রাতের বেলা নফল সালাত সওয়ারীর পিঠে বসে যেদিকে সওয়ারীর মুখ ছিল সেদিকে মুখ করে আদায় করতে দেখেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আনাস ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আনাস ইবন মালিক যখন শাম (যা বর্তমানে সিরিয়া) থেকে (অথবা শামে) আসলেন, তখন আমরা তার সাথে আইন্ত তাম্র নামক স্থানে সাক্ষাৎ করলাম। তখন দেখলাম তিনি একটি গাধার পিঠে বসে ঐ দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। বর্ণনাকারী হুমাম কিবলার বাম দিকে ইশারা করে দেখালেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমি আপনাকে কিবলাহ ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে দেখলাম যে, তিনি বললেনঃ যদি আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করতে না দেখতাম তাহলে আমিও এরূপ করতাম না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন সফরে দ্রুত চলতে হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... নাফি থেকে বর্ণিত। কোন সফরে আবদুল্লাহ ইবন উমর কে দ্রুত পথ চলতে হলে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পর তিনি মাগরিব এবং ইশার সালাত একত্র করে আদায় করতেন। এ ব্যাপারে তিনি বলতেনঃ সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যখন দ্রুত চলতে হত তখন তিনি মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আম্র আন নাকিদ .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ এর মাধ্যমে তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন উমার) বলেছেনঃ আমি দেখেছি সফরে দ্রুত পথ চলার প্রয়োজন হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করে নিতেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি সফরে কখনো রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দ্রুত চলতে মাগরিব এবং ইশার সালাত দেরী করে একসাথে আদায় করতেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার পূর্বেই যদি তিনি সফরে রওয়ানা হতেন তাহলে আসরের সালাতের সময় পর্যন্ত দেরী করতেন এবং তারপর কোথাও থেমে যুহর ও আসরের সালাত একসাথে আদায় করতেন। কিন্তু রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই যদি সূর্য ঢলে পড়ত তাহলে তিনি যুহরের সালাত আদায় করে তারপর যাত্রা করতেন।
আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সফরে থাকাকালীন দু' ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করতে মনস্থ করলে যুহর সালাত আদায় করতে বিলম্ব করতেন। পরে আসরের ওয়াক্ত শুরু হলে তিনি যুহর ও আসরের সালাত এক সাথে আদায় করতেন।
আবুত তহির ও আমর ইবন সাওওয়াদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। সফররত অবস্থায় নবী (ﷺ) এর কোন তাড়াহুড়ো থাকলে আসরের সময় পর্যন্ত যুহরের সালাত আদায় করতে দেরী করতেন এবং আসরের প্রাথমিক সময়ে যুহর ও আসরের সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর এ অবস্থায় তিনি (ﷺ) মাগরিবের সালাতও দেরী করে পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভা অন্তর্হিত হওয়ার সময় মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভীতিকর অবস্থা কিংবা সফররত অবস্থা ছাড়াই যুহর এবং আসরের সালাত একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করেছেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও আওন ইবন সাল্লাম .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফররত বা ভীতিকর অবস্থা ছাড়াই রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় অবস্থানকালে যুহর এবং আসরের সালাত একসাথে আদায় করেছেন। আবূয যুবায়র বলেছেনঃ (এ হাদীস শুনে) আমি সাঈদ ইবন যুবায়রকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন? তিনি বললেনঃ তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমিও তেমনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-কে (বিষয়টি) জিজ্ঞেস করেছিলাম। জবাবে তিনি আমাকে বলেছিলেন, এ দ্বারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইচ্ছা ছিল তার উম্মাতের মনে যেন কোন প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না থাকে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তাবুক যুদ্ধকালে কোন এক সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) (একাধিক) সালাত একসাথে আদায় করেছিলেন। সুতরাং তিনি যুহর এবং আসর আর মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছিলেন। সাঈদ ইবন যুহারর বর্ণনা করেছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি কী কারণে এরূপ করেছিলেন জবাবে সাঈদ ইবন যুবায়র বললেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উম্মাতকে বাধ্য করতে বা কষ্ট দিতে চাননি।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... মুআয থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাবুক অভিযানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। (এ সফরে) তিনি যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে একই ওয়াক্তে আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... মুআয ইবন জাবাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক অভিযানকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহর ও আসরের সালাত এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করেছেন। আবূ তুফায়ল বর্ণনা করেছেনঃ আমি মুআয ইবন জাবালকে জিজ্ঞেস করলাম, কী কারণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন? জবাবে মুআয ইবন জাবাল বললেন- তিনি তার উম্মাতকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলতে বা কষ্ট দিতে চাননি (এ কারণেই তিনি এরূপ করেছেন)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ [শব্দগুলো আবূ কুরায়ব এর] .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় অবস্থানরত কোন ভীতিকর পরিস্থিতি কিংবা বৃষ্টি-বাদল ছাড়াই রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহর, আসর, মাগরিব এবং ইশার সালাত আদায় করেছেন। (ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে) এ কথার উল্লেখ রয়েছে যে, সাঈদ ইবন যুবায়র বলেছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন এজন্যে যাতে তার উম্মাতের কোন কষ্ট না হয়। তবে আবূ মুআবিয়াহ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে বলা হল- রসূলুল্লাহ (ﷺ)) কী উদ্দেশে এরূপ করেছেন? জবাবে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেনঃ তিনি (ﷺ) চেয়েছেন তার উম্মাতের যেন কোন কষ্ট না হয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর পিছনে আট রাকাআত (ফরয) সালাত এবং একত্রে সাত রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আমি বললামঃ হে আবূশ শা'সা! আমার মনে হয় নবী (ﷺ) যুহরের সালাত দেরী করে শেষ ওয়াক্তে এবং আসরের সালাত প্রথমভাগে আদায় করেছেন। আর তেমনি মাগরিবের সালাত দেরী করে এবং ইশার সালাত প্রথমভাগে আদায় করেছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমিও তাই মনে করি।
আবূর রাবী আয যাহরানী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। মদীনায় অবস্থানরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাত রাকাআত ও আট রাকাআত সালাত একত্রে আদায় করেছেন। যুহর ও আসরের আট রাকাআত একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাকাআত এক সাথে আদায় করেছেন।
আবূর রাবী আয যাহরানী .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আসরের সালাতের পর আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আমাদের সামনে বক্তব্য পেশ করতে থাকলেন। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল এবং তারকারাজি দৃষ্টিগোচর হতে থাকল। তখন লোকজন বলতে শুরু করল, সালাত! সালাত! (সালাতের সময় চলে যাচ্ছে, সালাত আদায় করুন)। আবদুল্লাহ ইবন শাকীক বলেনঃ এ সময় বানু তামীম গোত্রের একজন লোক তার কাছে আসল এবং শান্ত ও বিরত না হয়ে বারবার আস্ সালাত (সালাত! সালাত!) বলে চলল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেনঃ তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি আমাকে সুন্নাত (রসূলের পদ্ধতি) শিখাচ্ছ? পরে তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহর ও আসরের সালাত এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একত্র করে আদায় করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন শাকীক বলেন, এ কথা শুনে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জাগল। তাই আমি আবূ হুরায়রাহ এর কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর কথার সত্যতা স্বীকার করলেন।
ইবন আবূ উমার .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক আল উকায়লী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে বলল-সালাতের সময় হয়েছে, সালাত আদায় করুন। কিন্তু তিনি চুপ করে রইলেন। সে আবার বলল- সালাত আদায় করুন। তিনি এবারও চুপ করে থাকলেন। লোকটি পুনরায় বলল- সালাতের সময় হয়েছে, সালাত আদায় করুন। এবার আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেনঃ তুমি আমাকে সালাত সম্পর্কিত ব্যাপারে শিখাচ্ছ? আমরা তো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে দু' ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করতাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন তার পক্ষ থেকে শয়তানের জন্য কোন অংশ নির্ধারণ না করে। সে যেন এরূপ মনে না করে যে, সালাত শেষে ডান দিকে ছাড়া অন্য কোন দিকে মুখ ফিরানো যাবে না। কেননা আমি অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বাম দিকে মুখ ফিরাতে দেখেছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আলী ইবন খশরাম থেকে বর্ণনা করেছেন। উভয়ে আমাশ এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইসমাঈল ইবন আবদুর রহমান আস সুদ্দী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি সালাত শেষ করে কোন দিকে মুখ ফিরাব- ডানে না বায়ে? তিনি বললেনঃ আমি অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি (সালাত শেষ করে) ডান দিকে মুখ ফিরাতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। সালাত শেষে নবী (ﷺ) ডানদিকে (মুখ) ফিরাতেন।
আবূ কুরায়ব ... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করতাম তখন পিছনে তার ডান দিকে দাড়ানো পছন্দ করতাম যাতে তিনি ঘুরে বসলে আমাদের দিকে মুখ করে বসেন। বারা ইবন আযিব বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, "হে আমার রব! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরায় জীবিত করবে; অথবা বলেছেন, একত্রিত করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা কর।"
আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব .... মিসআর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- তবে এ সানাদে বর্ণিত হাদীসটিতে তিনি "আমাদের দিকে ঘুরে বসেন" কথাটি উল্লেখ করেননি।
আহমাদ ইবন হাম্বাল .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত দেয়া হলে ফরয সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাতের নিয়্যাত করা যাবে না।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইবন রাফি শাবাবাহ হতে, তিনি ওয়ারকা সূত্রে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফরয সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তখন উক্ত ফরয ব্যতীত অন্য কোন সালাত আদায় করা যাবে না।
আবদ ইবন হুমায়দ .... যাকারিয়্যা ইবন ইসহাকু থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাসান আল হুলওয়ানী .... আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছে। হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন- অতঃপর আমি উমার ইবন খাত্ত্বাবের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। তবে তিনি হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেননি।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী .... আবদুল্লাহ ইবন মালিক বুহায়নাহ থেকে বর্ণিত। একদিন ফজরের সালাতের ইকামাত দেয়া হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতরত জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কিছু বললেন যা আমরা বুঝতে পারলাম না। সালাত শেষে আমরা তাকে ঘিরে ধরলাম। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বললেন? সে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ মনে হচ্ছে কেউ ফজরের সালাত চার রাকাআত আদায় করছে। কানবী বর্ণনা করেছেন- আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইবন বুহায়নাহ তার পিতা বুহায়নাহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম মুসলিম বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মালিক তার পিতা বুহাইনাহ থেকে বর্ণনা করেন কানবীর এ উক্তি ভুল।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন বুহায়নাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ফজরের সালাতের ইকামাত দেয়া হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, মুয়াযযিন ইকামাত দিচ্ছে আর সে লোকটি সালাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি কি ফজরের (ফরয) সালাত চার রাকাআত আদায় করবে?
আবূ কামিল আল জাহদারী, হামিদ ইবন উমার আল বাকরাব, ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব শব্দগুলো তার ..... আবদুল্লাহ ইবন সারজিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে আসল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সময় ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। লোকটি মসজিদের এক পাশে গিয়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতে শামিল হল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফেরার পর তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে অমুক! তুমি কোন দু' রাকাআত সালাতকে ফরয সালাতরূপে গণ্য করলে? একাকী যে দু' রাকাআত আদায় করলে সে দু রাকাআতকে, না আমাদের সাথে যে দু' রাকাআত আদায় করলে সে দু' রাকাআতকে?
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ উসায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন বলবে, "আল্ল-হুম্মাফ তাহলী আবওয়া-বা রহমতিক" (হে আল্লাহ! তুমি তোমার অনুগ্রহের দরজা আমার জন্য খুলে দাও।)। যখন বের হয়ে যাব, তখন বলবে- "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফা্যলিক" (আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহপ্রার্থ)। ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আমি ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- আমি সুলায়মান ইবন হিলালের একটি গ্রন্থ থেকে এ হাদীসটি লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি আরো বলেছেন যে, ইয়াহইয়া আল হিমানী আবূ উসায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন।
হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী .... আবদুল মালিক ইবন সাঈদ ইবন সুওয়াইদ আল আনসারী এবং আবূ হুমায়দ অথবা আবূ উসায়দ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগেই যেন দু' রাকাআত সালাত আদায় করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবূ কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকজনে মধ্যে বসে আছেন। সুতরাং আমিও গিয়ে সেখানে বসে পড়লাম। এ দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ সবার আগে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে তোমার কী অসুবিধা ছিল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি দেখলাম আপনি বসে আছেন এবং আরো অনেক লোক বসে আছে (তাই আমিও বসে আদায় করেছি)। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ কোন সময় মসজিদে প্রবেশ করলে দু' রাকাআত সালাত আদায় না করে বসবে না।
আহমাদ ইবন জাওওয়াস আল হানাফী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি আমাকে তা পরিশোধ করে দিলেন এবং অধিক পরিমাণেই দিলেন। আমি একদিন মসজিদে তার কাছে গেলে তিনি আমাকে বললেনঃ দু'রাকাআত সালাত আদায় করে নাও।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট থেকে একটি উট কিনে ছিলেন। অতঃপর তিনি মদীনায় আগমন করলে আমাকে মসজিদে এসে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে বললেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে গিয়েছিলাম। (ফিরে আসার সময়) আমার উটটি বেশ দেরী করল। সেটি বেশ ক্লান্ত-শ্রান্তও হয়ে পড়েছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার আগেই এসে পৌছেছিলেন। আর আমি পরদিন সকালে পৌছলাম। আমি মসজিদে এবং সেখানে মসজিদের দরজায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি এখন এসে পৌছলে। আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেনঃ এখন উটটি রেখে মসজিদে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেছেনঃ এরপর আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করে আসলাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মাহমূদ ইবন গয়লান .... কাব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দিবাভাগে বেশ কিছু বেলা করা ব্যতীত সফর থেকে ফিরে আসতেন না। সফর থেকে ফিরে তিনি প্রথমেই মসজিদে যেতেন এবং সেখানে তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর সেখানে কিছুক্ষণ বসতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ না, তিনি সালাতুয যুহা আদায় করতেন না। তবে যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করতেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি যুহা বা চাশতের সালাত আদায় করতেন। তিনি বললেনঃ না, তবে তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে 'যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে আমি নিজে চাশতের সালাত আদায় করে থাকি। অনেক কাজ রসূলুল্লাহ (ﷺ) পছন্দ করা সত্ত্বেও এ আশঙ্কায় তা করতেন না যে, লোকজন সে অনুযায়ী কাজ করলে তা ফরয করে দেয়া হতে পারে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... মুআযাহ আয়িশাহ্ কে জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) 'যুহা' বা চাশতের সালাত কয় রাকাআত আদায় করতেন? জবাবে আয়িশাহ বললেনঃ তিনি 'যুহা' বা চাশতের সালাত সাধারণতঃ চার রাকাআত আদায় করতেন এবং অনেক সময় ইচ্ছামত আরো বেশী আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মুহাম্মাদ ইবন জা'ফার ও শুবাহ এর মাধ্যমে ইয়াযীদ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াযীদ তার বর্ণনায় "মা-শা-আল্লা-হ" (আল্লাহ যা চান) কথাটি উল্লেখ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) 'যুহা' বা চাশতের সালাত চার রাকাআত আদায় করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেশীও আদায় করতেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন বাশশার .... আবূ কাতাদাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র উম্মু হানী ছাড়া আর কেউ-ই আমাকে এ কথা বলেনি যে, সে নবী (ﷺ)-কে 'যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছে। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেন যে, মক্কাহ বিজয়ের দিন নবী (ﷺ) তার ঘরে গিয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (তিনি এ কথাও বলেছেন যে,) আমি নবী (ﷺ) কে আর কখনো এত সংক্ষিপ্ত করে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকূ ও সিজদাগুলো পূর্ণরূপে আদায় করছিলেন। ইবন বাশশার তার বর্ণিত হাদীসে 'কাত্তু' (কখনো) শব্দটি উল্লেখ করেননি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... আবদুল্লাহ ইবন হারিস ইবন নাওফাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোন লোকের সন্ধান পেতে আমি খুবই আকাঙ্ক্ষী ছিলাম এবং এ ব্যাপারে লোকদের জিজ্ঞেসও করতাম যে, এমন কেউ আমাকে এ মর্মে জ্ঞাত করতে পারবে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতুয 'যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করেছেন। তবে একমাত্র আবূ ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী ছাড়া আর কাউকেই এমন পাইনি যে, আমাকে এ ব্যাপারে কিছু অবহিত করতে পেরেছে। তিনি (উম্মু হানী) আমাকে জানিয়েছেন যে, মক্কাহ বিজয়ের দিন সূর্যোদয়ের পর বেলা কিছু বাড়লে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে আসলেন। একটি কাপড় আনা হল এবং তা দিয়ে পর্দা করে দিলে তিনি গোসল করলেন। তারপর সালাতে দাড়ালেন এবং আট রাকাআত সালাত আদায় করলেন। উম্মু হানী বলেছেন- এ সালাত তার কিয়াম (দাড়ানো) দীর্ঘতর ছিল, না রুকূ দীর্ঘতর ছিল, না সিজদা দীর্ঘতর ছিল তা আমি জানি না। তবে কিয়াম, রুকূ ও সিজদা সবগুলোই মনে হয় এক রকমের দীর্ঘ ছিল। উম্মু হানী বলেছেনঃ এর আগে কিংবা পরে আর কখনও আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে 'সালাতুয যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখিনি। হাদীসটির বর্ণনাকারী মুরাদী এটি ইউনুস এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আখবারানী' ইউনুস আমাকে বলেছেন কথাটি উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু হানী এর আযাদকৃত দাস আবূ মুররাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আবূ তুলিবের কন্যা উম্মু হানী কে বলতে শুনেছেন। (তিনি বলেছেন) মক্কাহ বিজয়ের বছরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি গোসল করছেন আর তার কন্যা ফাতিমা একটি কাপড় দিয়ে তাকে পর্দা করে রেখেছেন। উম্মু হানী বলেন- আমি তাকে সালাম দিলাম। তখন তিনি জানতে চাইলেন, কে? আমি বললামঃ আমি আবূ তুলিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি (খুশীতে) বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম। অতঃপর গোসল শেষ করে তিনি সালাতে দাড়ালেন এবং একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার ভাই আলী ইবন আবূ তুলিব বলেছেনঃ তিনি আবূ হুরায়রাহ-এর পুত্র অমুককে হত্যা করে ছাড়বেন অথচ আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। সব শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেনঃ এ ঘটনা ছিল 'যুহা' বা চাশতের সময়ের।
হাজ্জাজ ইবন শাইর ... উম্মু হানী থেকে বর্ণিত। মক্কাহ বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ঘরে একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে তার দু' প্রান্ত দু' দিকে উঠিয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসম আয যুবাঈ .... আবূ যার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিটি দিন শুরু হওয়ার সাথে সাথে তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি অস্থি-বন্ধনী ও গিটের উপর সাদাকা ওয়াজিব হয়। সুতরাং প্রতিটি তাসবীহ সুবহানাল্ল-হ' বলা সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়। প্রতিটি তাহমীদ আলহমদুলিল্লা-হ' বলা তার জন্য সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়। প্রতিটি আল্ল-হু আকবার' তার জন্য এবং নাহী আলিন মুনকার খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখার প্রতিটি প্রয়াসও তার জন্য অনুরূপ সাদাকা বলে গণ্য হয়। তবে 'যুহা' বা চাশ্তের মাত্র দু' রাকাআত সালাত যদি সে আদায় করে তাহলে তা এ সবগুলো সমকক্ষ হতে পারে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) আমাকে তিনটি কাজ করতে উপদেশ দিয়েছেন। সেগুলো হল- প্রতি মাসে তিনটি করে সওম (রোযা) পালন করতে, "যুহা" বা চাশতের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করতে।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ... আবূ হুরায়রাহ এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সুলায়মান ইবন মাবাদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু আবূল কাসিম (ﷺ) আমাকে তিনটি কাজ করতে আদেশ করেছেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি আবূ হুরায়রাহ থেকে আবূ উসমান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূদ দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি কাজ করতে আদেশ করেছেন। আমার জীবদ্দশায় তা কখনো পরিত্যাগ করব না। (তিনি আমাকে আদেশ করেছেন) প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করতে যুহা বা চাশতের সালাত আদায় করতে আর বিতর সালাত আদায় করার আগে না ঘুমাতে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। উন্মুল মুমিনীন হাফসাহ তাকে বললেন যে, ফজরের সালাতের আযানের পর মুয়াযযিন যখন থেমে যেত এবং ভোরের আলো প্রকাশ পেত তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরয সালাতের ইকামাত দেয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও ইবন রুমূহ, যুহায়রব ইবন হারব, উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ, যুহারর ইবন হারব ... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাজর উদিত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হালকা করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম .... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজির উদিত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হালকা করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... শুবাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ফজরের আলো প্রকাশিত হওয়ার পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযান শোনার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন আর তা সংক্ষিপ্ত আদায় করতেন।
আলী ইবন হুজর, আবূ কুরায়ব, আবূ বকর ও ইবন নুমায়র, আমর আন নাকিদ ..... সকলে হিশাম-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ উসামাহ বর্ণিত হাদীসে "যখন ফাজর উদিত হলো" কথাটি উল্লেখ আছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ফজরের সালাতের আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত এত সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করতেন যে, আমি বলতাম, তিনি (ﷺ) কি সালাতের দু' রাকাআতে সূরাহ ফাতিহাহ পড়েছেন?
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত ফজরের সময় ভোর হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। সালাত দু' রাকাআত এত সংক্ষিপ্ত হত যে, আমার মনে প্রশ্ন জাগত- তিনি (ﷺ) কি সালাতে সূরাহ ফাতিহাহ পড়েছেন?
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ফজরের (ফরয সালাতের) পূর্বের দু রাকাআত সুন্নাত আদায় করার প্রতি যত কঠোরভাবে খেয়াল রাখতেন অন্য কোন নফল সালাতের প্রতি ততখানি রাখতেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। ফজরের দু' রাকাআত নফল সালাতের জন্য আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যত ব্যস্ততা প্রকাশ করতে দেখেছি অন্য কোন নফল সালাতের জন্য ততটা ব্যস্ততা প্রকাশ করতে দেখিনি।
মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত দুনিয়া ও তার সব কিছুর থেকে উত্তম।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ... আয়িশাহ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ﷺ) ফজরের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে বলেছেন যে, ঐ দু' রাকাআত সালাত আমার কাছে সারা দুনিয়ার সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়।
মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ ও ইবন আবূ উমর ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু'রাকআত সালাতে "কুলহু ওয়াল্লাহু আহাদ" ও "কুল ইয়া আউউউহল কাফিরুন" পড়েছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু' রাকাআত সুন্নাত সালাতের প্রথম রাকাআতে সূরাহ বাকারার (বাকারাহ ২ঃ ১৩৬) আয়াতটি এবং দ্বিতীয় রাকাতে (আ-লি ইমরান ৩ঃ৬৪) আয়াতটি পড়তেন।
আবূ বকর আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু'রাকাআত সুন্নাত সালাতে (বাকারাহ ২ঃ ১৩৬) আয়াতটি এবং দ্বিতীয় রাকাআতে (আ-লি ইমরান ৩ঃ৬৪) আয়াতটি পড়তেন।
আলী ইবন খশরাম ..... উসমান ইবন হাকীম মারওয়ান আল ফাযারী হতে একই সানাদে হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আমর ইবন আওস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রোগে আম্বাসাহ ইবন আবূ সুফইয়ান মৃত্যুবরণ করেছেন- সে রোগ শয্যায় থাকাকালে তিনি আমার কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা খুবই খুশীর বা আনন্দের। তিনি বলেছেনঃ আমি উম্মু হাবীবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, দিন ও রাতে যে ব্যক্তি মোট ১২ রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে তার বিনিময়ে জান্নাত ও ঐ ব্যক্তির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ বলেছেনঃ আমি যে সময়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ সালাত সম্পর্কে শুনেছি তখন থেকে আর কখনো তা আদায় করা পরিত্যাগ করিনি। আম্বাসাহ ইবন আবূ সুফইয়ান বলেছেনঃ এ সালাত সম্পর্কে যখন আমি উম্মু হাবীবার কাছে শুনেছি, তখন থেকে আর ঐ সালাতগুলো কখনো পরিত্যাগ করিনি। আমর ইবন আওস বলেছেনঃ যে সময়ে এ সালাত সম্পর্কে আমি আম্বাসাহ ইবন আবূ সুফইয়ান এর নিকট থেকে শুনেছি সে সময় থেকে আর কখনো তা পরিত্যাগ করিনি। নুমান ইবন সালিম বলেছেনঃ যে সময় আমি এ হাদীসটি আমর ইবন আওস-এর নিকট থেকে শুনেছি তখন থেকে কখনো আর তা পরিত্যাগ করিনি।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... নুমান ইবন সালিম থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, (হাদীসটি হল) যে ব্যক্তি দিনে ১২ রাকাআত নফল (সুন্নাত) সালাত আদায় করে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। (তিনি বলেছেন) কোন মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয ছাড়াও আরো ১২ রাকাআত নফল সালাত আদায় করে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ বর্ণনা করেছেন- এরপর আর কখনো এ সালাতসমূহ আদায় করতে বিরত থাকিনি। আর আমর ইবন আওস বলেছেন- পরবর্তী সময়ে কখনো আমি এ সালাত আদায় করতে বিরত হই না। নুমান ইবন সালিমও অনুরূপ কথাই বলেছেন।
আবদুর রহমান ইবন বিশ্বর ও আবদুল্লাহ ইবন হাশিম আল আবদী .... উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিম বান্দা যদি উত্তমরূপে ওযু করে আল্লাহর উদ্দেশে প্রতিদিন সালাত আদায় করে- এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ..... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুহরের পূর্বে দু' রাকাআত, পরে দু' রাকাআত, মাগরিবের সালাতের পর দু' রাকাআত, ইশার সালাতের পর দু' রাকাআত এবং জুমুআর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। তবে মাগরিব, ইশা ও জুমুআর সালাতের পরের দু' রাকাআত সালাত নবী (ﷺ) এর সাথে তার বাড়ীতে আদায় করেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নফল সালাত সম্পর্কে আয়িশাহকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের (ফরয সালাতের) পূর্বে আমার ঘরে চার রাকাআত নফল আদায় করতেন। তারপর গিয়ে মসজিদে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতেন। পরে ঘরে এসে আবার দু' রাকাআত নফল আদায় করতেন। অতঃপর লোকজনের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন এবং ঘরে এসে দু' রাকাআত নাফল আদায় করতেন। আবার ইশার সালাত লোকজনের সাথে আদায় করে আমার ঘরে এসে দু'রাকাআত নফল আদায় করতেন। আর রাতের বেলা বিতরসহ নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তিনি (ﷺ) রাতের বেলা দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে দাড়িয়ে নফল সালাত আদায় করতেন, আবার দীর্ঘ সময় বসে বসেও নফল সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি (ﷺ) দাড়িয়ে কিরাআত পড়তেন তখন দাড়িয়েই রুকূ ও সিজদা করতেন। আবার যখন বসে কিরআত করতেন তখন রুকূ ও সিজদা বসেই করতেন। আর ফজরের সময় বা ভোর হলেও দু' রাকাআত নাফল আদায় করতেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাড়িয়ে সালাত আদায় করতেন তখন দাড়িয়েই রুকূ আদায় করতেন। আর যখন বসে সালাত আদায় করতেন তখন বসেই রুকূ করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন শাক্বীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পারস্যে অবস্থানকালীন সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি বসে বসে সালাত আদায় করতাম। পরে আমি আয়িশাহকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন শাক্বীক আল উকায়লী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাত্রিকালীন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে এবং দীর্ঘ সময় বসে সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাড়িয়ে কিরআত পড়তেন তখন দাড়িয়েই রুকূ করতেন এবং যখন বসে কিরআত পড়তেন তখন বসেই রুকূ করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শাকীক আল উকায়লী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (নাফল) সালাত সম্পর্কে আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিকাংশ সালাতই দাড়িয়ে এবং বসে আদায় করতেন। যখন তিনি (ﷺ) দাড়িয়ে সালাত শুরু করতেন তখন দাড়িয়েই রুকূ করতেন। আর যখন বসে সালাত শুরু করতেন তখন বসেই রুকূ করতেন।
আবূর রাবী আয যাহরানী ইবনর রাবী আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবন হারব [শব্দাবলী তার] .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রাতের সালাতে বসে কিছু পড়তে (কিরাআত করতে) দেখিনি। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বৃদ্ধ হয়ে পড়লে বসে বসেই কিরআত করতেন এবং শেষের সূরার ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত যখন অবশিষ্ট থাকত তখন দাড়িয়ে ঐ আয়াতগুলো পড়তেন এবং রুকূ করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নফল সালাত বসে আদায় করতেন তখন বসে বসেই কিরআত পড়তেন। এভাবে যখন আনুমানিক ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত পর্যন্ত পড়তে অবশিষ্ট থাকত তখন তিনি দাড়িয়ে যেতেন এবং দাড়িয়ে দাড়িয়ে কিরাআত করতেন। অতঃপর রুকূ ও সিজদা করতেন। পরে দ্বিতীয় রাকাআতে পুনরায় অনুরূপ করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নফল সালাতে বসে কিরাআত পড়তেন। অতঃপর রুকূ করতে মনস্থ করলে উঠে এতটুকু সময় পর্যন্ত দাড়ালেন, যে সময়ের মধ্যে একজন লোক চল্লিশ আয়াত পর্যন্ত পড়তে পারে।
ইবন নুমায়র .... আলকামাহ ইবন ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার রাতের বেলার দু' রাকাআত সালাত বসে কীভাবে আদায় করতেন জবাবে আয়িশাহ বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু' রাকাআত সালাতে কিরআত পড়তেন। তারপর রুকূ করার সময় উঠে দাড়িয়ে রুকূ করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন শাক্বীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি বসে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেনঃ হ্যা, লোকজন তাকে বৃদ্ধ করে দেয়ার পর আদায় করতেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ... আবদুল্লাহ ইবন শাক্বীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মৃত্যুর পূর্বে বেশীর ভাগ সালাত বসে বসে আদায় করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও হাসান আল হুলওয়ানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়স যখন বেশী হয়ে শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি অধিকাংশ সালাত বসে বসে আদায় করতেন।
ইয়াহইয়াহ ইবন ইয়াহইয়া .... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কখনো বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। পরবর্তী সময়ে তার ওয়াফাতের এক বছর পূর্বে তাকে বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি অতি উত্তমরূপে স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে সুরাহ পড়তেন। এ কারণে তার সালাত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যেত।
আবূত তহির, হারমালাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সবাই যুহরী থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে (ইবন ইউসুফ ও মা'মার) "এক বছর অথবা দু' বছর পূর্বে" কথাটি উল্লেখ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বসে সালাত না আদায় করে (বসে সালাত আদায়ের মত বার্ধক্যে পৌছার পূর্বে) মারা যাননি।
যুহারর ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ বসে সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাতের সমকক্ষ। আবদুল্লাহ ইবন আমর বর্ণনা করেছেন, এরপর একদিন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে দেখলাম তিনি বসে সালাত আদায় করেছেন। আমি তার মাথার উপর আমার হাত রাখলাম। তিনি বললেনঃ হে আবদুল্লাহ ইবন আম্র কী ব্যাপার? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আপনি বলেছেনঃ কেউ বসে সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাতের সমান হয়। কিন্তু এখন দেখেছি আপনি নিজেই বসে সালাত আদায় করছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, তবে আমি তোমাদের কারো মত না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার, ইবন মুসান্না .... উভয়ে মানসূর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুবাহ ইয়াহইয়া আল আ'রাজ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আশিয়াহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন। তার মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। সালাত শেষ করে তিনি ডান পাশে ফিরে শুতেন। অতঃপর ভোরে মুয়াযযিন আসলে তিনি (উঠে) সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগার রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন এবং প্রতি দু' রাকাআতে সালাম ফিরাতেন। ইশার সালাতকে লোকজন ঐ সময়ে আতামাহ বলত। মুয়াযযিন আযান দিয়ে শেষ করলে এবং ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে উঠলে মুয়াযযিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসত। তখন তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এরপর ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। পরে মুয়াযযিন পুনরায় ইকামাতের জন্য আসত (তখন উঠে তিনি সালাত আদায় করতেন)।
হারমালাহ .... ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হারমালাহ বর্ণিত হাদীসে- "ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে উঠলে মুয়াযযিন তার কাছে আসত" কথাটি উল্লেখ করেননি। আর তিনি ইকামাতের কথাও উল্লেখ করেননি। এছাড়া হাদীসের অবশিষ্ট অংশ তিনি আমর ইবন হারিস বর্ণিত হাদীসের মতো হুবহু বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাচ রাকআত আদায় করতেন বিতর এবং এতে একেবারে শেষে ছাড়া কোন বৈঠক করতেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ এবং আবূ কুরায়ব .... সকলে হিশাম থেকে একই সানাদে বর্ণনা করেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা ফজরের দু' রাকাআত সুন্নাতসহ তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রমযান মাসের (রাতের) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) রমাযান মাসে কিংবা অন্য কোন সময়ে রাতের বেলা এগার রাকাআতের বেশী সালাত আদায় করতেন না। প্রথম চার রাকাআত তিনি এমনভাবে আদায় করতেন যে, তার সৌন্দর্য সম্পর্কে আর কী জিজ্ঞেস করবে? তারপর চার রাকাআত তিনি এত সুন্দর করে আদায় করতেন যে, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে আর কি জিজ্ঞেস করবে? এরপর তিনি আরো তিন রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আয়িশাহ বলেন, এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বিতর সালাত আদায়ের পূর্বেই ঘুমাতেন? জবাবে তিনি বললেন, হে আয়িশাহ আমার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু আমার হৃদয়-মন ঘুমায় না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (রাতের) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তের রাকাআত আদায় করতেন। প্রথমে তিনি আট রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর বিতর আদায় করতেন। সবশেষে বসে বসে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। পরে রুকূ করার সময় উঠে দাড়িয়ে রুকূ করতেন। অতঃপর ফজরের সালাতের আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়েও দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
যুহারর ইবন হারব-ইয়াহইয়া ইবন বিশ্বর আল হারীর .... আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ-কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। .... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে দাড়িয়ে নয় রাকাআত সালাত আদায় করার কথা উল্লেখ আছে এবং তার মধ্যে বিতরের সালাতও অন্তর্ভুক্ত আছে।
আমর আন নাকিদ .... আবূ সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ এর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মাজান আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন তো। তিনি বললেনঃ রমাযান ও অন্যান্য মাসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাতসহ রাতের বেলা মোট তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের এক বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) দশ রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর এক রাকাআত বিতর এবং দু' রাকাআত ফজরের সুন্নাতসহ মোট তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ এর কাছে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন এবং শেষভাগে জাগতেন। এ সময় যদি স্ত্রীদের সাহচর্য লাভের প্রয়োজন হত তাহলে তা পূরণ করতেন এবং এরপর আবার ঘুমাতেন। ফজরের আযানের সময় (তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে) তিনি ত্বড়িত উঠতেন। আল্লাহর শপথ। তিনি [আয়িশাহ] বলেননি যে, তিনি গোসল করতেন। তার উদ্দেশে- আকাঙ্ক্ষা আমি ভাল করেই জানতাম। তিনি নাপাক না হয়ে থাকলে কোন লোক শুধু সালাতের জন্য যেভাবে ওযু করে থাকে সেভাবে ওযু করতেন এবং তারপর ফজরের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা যে সালাত আদায় করতেন তাতে সর্বশেষে আদায় করতেন বিতর সালাত।
হান্নাদ ইবনস্ সারী .... মাসরূক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আমল সম্পর্কে আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিয়মিত আমলকে পছন্দ করতেন। মাসরূক বলেন, আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলামঃ তিনি সালাত আদায় করতেন কোন সময়? আয়িশাহ বললেনঃ তিনি যখন মোরগের ডাক শুনতেন তখন উঠে সালাত আদায় করতেন।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ঘরে অথবা আমার কাছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় সব সময় 'সুবহে কাযিব' (সাহরীর শুরু) এর সময় হয়ে যেত।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, নাসর ইবন আলী ও ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের দু' রাকাআত নফল (সালাত) আদায় করার পর আমি জাগ্রত থাকলে নবী (ﷺ) আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন। অন্যথায় শুয়ে পড়তেন।
ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা সালাত আদায় করতেন। তার বিতর পড়া হয়ে গেলে তিনি আয়িশাহ-কে লক্ষ্য করে বলতেনঃ হে আয়িশাহ! ওঠে এবং বিতর পড়।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রাতের বেলা সালাত আদায় করতেন তখন আয়িশাহ তার সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। সালাত শেষে যখন তার শুধুমাত্র বিতর পড়া বাকি থাকত তখন তিনি আয়িশাহকে জাগিয়ে দিতেন। আর তিনি [আয়িশাহ্] তখন উঠে বিতর আদায় করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর আদায় করেছেন। এমন কি কোন কোন সময় রাতের শেষভাগেও তিনি (ﷺ) বিতর সালাত আদায় করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবৃ শায়বাহ্ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন অংশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর সালাত আদায় করেছেন। তিনি রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে, শেষভাগে এবং এমনি ভোরে বিতর আদায় করেছেন।
আলী ইবন হুজুর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের মধ্যে যে কোন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের সালাত আদায় করেছেন। এমনকি তিনি শেষ রাতেও বিতর আদায় করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আল আনাযী .... যুরারাহ থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবন হিশাম ইবন আমির আল্লাহর পথে (আজীবন) লড়াই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। তাই তিনি মদীনায় আগমন করলেন। তিনি চাচ্ছিলেন এ উদ্দেশে তিনি তার জমি-জমা বিক্রি করে তা দ্বারা অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়া কিনবেন এবং রোমান খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু জিহাদ করবেন। তাই মদীনায় এসে তিনি মদীনাহবাসী কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করলে তারা তাকে ঐরুপ করতে নিষেধ করলেন। তারা তাকে এ কথাও জানালেন যে, নবী (ﷺ) এর জীবদ্দশায় ছয়জন লোকের একটি দল এ একই কাজ করতে চাইলে আল্লাহর নবী (ﷺ) তা করতে নিষেধ করেছিলেন; আমার জীবন ও কর্মে কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নেই? তারা (মদীনাহবাসী) যখন তাকে এ কথাটি শুনালেন তখন তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলেন (রুজআত করলেন) এবং কিছু লোককে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখলেন। কেননা এ কাজের (জিহাদের) জন্য তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর কাছে এসে তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তাকে বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সালাত সম্পর্কে পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে আমি এমন একজন লোকের সন্ধান কি তোমাকে দিব না? তিনি (সাদ ইবন হিশাম ইবন আমির) বললেনঃ তিনি কে? আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেনঃ তিনি হলেন আয়িশাহ। তার কাছে গিয়ে তুমি জিজ্ঞেস করবে, তারপর তোমাকে দেয়া তার জবাব আমাকে এসে জানাবে। আমি তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। প্রথমে আমি হাকীম ইবন আফলাহ-র কাছে গেলাম। আমি তাকে আমার সাথে তার (আয়িশাহ) এ দু' দলের ব্যাপারে কোন কিছু বলতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি তা না শুনে বরং একটি পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। সা'দ ইবন হিশাম ইবন আমির বলেনঃ তখন আমি তাকে কসম দিয়ে যেতে বললাম। তাই তিনি যেতে রাজি হলেন। আমরা আয়িশাহ এর কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দান করলেন। আমরা তার কাছে গেলে তিনি হাকীম আফলাহকে চিনতে পারলেন। তাই বললেনঃ আরে, এ যে হাকীম? তিনি (হাকীম ইবন আফলাহ) বললেনঃ হ্যা। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাথে কে আছে? তিনি বললেনঃ সা'দ ইবন হিশাম (ইবন আমির)। তিনি প্রশ্ন করলেন। কোন হিশাম? হাকীম ইবন আফলাহ বললেনঃ আমিরের পুত্র হিশাম। এ কথা শুনে তিনি তার প্রতি খুব স্নেহপ্রবণ হলেন এবং তার ব্যাপারে ভাল মন্তব্য করলেন। কাতাদাহ্ বর্ণনা করলেনঃ আফলাহ উহুদের যুদ্ধে শাহীদ হয়েছিলেন। এরপর আমি বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আখলাক সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। এ কথা শুনে তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি কুরআন পড় না? আমি বললাম- হ্যা, পড়ি। তিনি বললেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) এর আখলাক তো ছিল কুরআন। সা'দ ইবন হিশাম ইবন আমির বলেছেন : আমি তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম উঠে চলে আসি এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করি। কিন্তু আমার মনে আবার একটি নতুন ধারণা জাগল। তাই আমি বললামঃ আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের ইবাদাত (কিয়ামুল লায়ল) সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। তিনি এবার আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সূরাহ "ইয়া আইইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল" পড় না? আমি বললাম- হ্যা পড়ি। তিনি বললেনঃ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এ সূরার প্রথমভাগে "কিয়ামুল লাইল" বা রাতের ইবাদাত বন্দেগী ফরয করে দিয়েছেন। তাই এক বছর পর্যন্ত নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ রাতের বেলা ইবাদাত করেছেন। মহান আল্লাহ বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ আসমানে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন (বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ করেননি)। অবশেষে (বারো মাস পরে) এ সূরার শেষে আল্লাহ তাআলা রাতের ইবাদাতের হুকুম লঘু করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন। আর এ কারণে রাত জেগে ইবাদাত যেখানে ফরয ছিল সেখানে তা নাফল বা ঐচ্ছিক হয়ে গেল। সা'দ ইবন হিশাম বলেনঃ আমি বললাম, হে উন্মুল মুমিনীন! রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সালাত সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ আমরা তার জন্য মিসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর রাতের বেলা মহান আল্লাহ যখন চাইতেন তখন তাকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক করতেন। ওযু করতেন এবং নয় রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। এতে অষ্টম রাকাআত ছাড়া বসতেন না। এ বৈঠকে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতেন, তার প্রশংসা করতেন এবং তার কাছে প্রার্থনা করতেন। অতঃপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে আমরা তা শুনতে পেতাম। এবার সালাম ফিরানোর পর ঘরে বসেই তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর বললেনঃ হে বৎস! এ এগার রাকাআত সালাত তিনি রাতে আদায় করতেন। পরবর্তী নবী (ﷺ) এর বয়স বেড়ে গিয়েছিল এবং শরীরও কিছুটা ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি সাত রাকাআত বিতর আদায় করতেন। এক্ষেত্রেও তিনি শেষের দু রাকাআত সালাত পূর্বের মতো করেই আদায় করতেন। হে বৎস! এভাবে তিনি নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী (ﷺ) কোন সালাত আদায় করলে তা সর্বদা নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যখন ঘুমের প্রাবল্য বা ব্যথা-বেদনার কারণে তিনি রাতে ইবাদাত (সালাত আদায়) করতে পারতেন না, তখন দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী (ﷺ) এক রাতে পুরো কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন বা সকাল পর্যন্ত সারা রাত আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ছাড়া সারা মাস সিয়াম (রোযা) পালন করেছেন এমনটি আমি কখনো দেখিনি। সা'দ ইবন হিশাম ইবন আমির বর্ণনা করেছেন পরে আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর কাছে এসে আয়িশাহ-এর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তিনি সঠিক বলেছেন। আমি যদি তার কাছে থাকতাম বা তার কাছে যেতাম তাহলে নিজে তার মুখ থেকে হাদীসটি শুনতে পেতাম। সা'দ ইবন হিশাম বললেনঃ আমার যদি জানা থাকত যে, আপনি তার কাছে যান না, তাহলে আপনাকে আমি তার কথা বলতাম না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সা'দ ইবন হিশাম থেকে বর্ণিত। তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নিজের জমিজমা বিক্রি করার জন্য মদীনায় আসলেন ..... পূর্বোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... সা'দ ইবন হিশাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এর কাছে গিয়ে তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি হুবহু পূর্বে বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশাহ বললেনঃ কোন হিশাম? তখন আমি বললাম আমির এর পুত্র হিশাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ আমির কত উত্তম মানুষ ছিলেন। তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত লাভ করেছিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যুরারাহ ইবন আওফা থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবন হিশাম ছিলেন তার প্রতিবেশী। তিনি যুরারাহকে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কথা জানালেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সাঈদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন যাতে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, আয়িশাহ জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন হিশাম এর কথা বলছ? তখন হাকীম ইবন আফলাহ বললেনঃ আমিরের পুত্র হিশামের কথা বলছি। এ কথা শুনে আয়িশাহ বলে উঠলেন- আমির কত ভাল লোক ছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে উহুদ যুদ্ধে শারীক হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। এ হাদীসে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, হাকীম ইবন আফলাহ বললেনঃ যদি আমার জানা থাকত যে, আপনি আয়িশাহ এর কাছে যান না তাহলে আমি আপনাকে তার সম্পর্কে বলতাম না।
সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন কারণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাত্রিকালীন কোন সালাত কাযা হয়ে গেলে দিনের বেলা তিনি বারো রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন।
আলী ইবন খশরাম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন আমল বা কাজ করলে তা সর্বদা নিয়মিতভাবে করতেন। আর রাতের বেলা ঘুমিয়ে পড়লে বা অসুস্থ হলে পরিবর্তে দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন। আয়িশাহ বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কখনো ভোর পর্যন্ত সারারাত জেগে ইবাদাত করতে এবং রমযান মাস ছাড়া এক নাগাড়ে পুরো মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি।
হারূন ইবন মারূফ এবং আবূত তহির ও হারমালাহ .... উমার ইবন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ তার (রাতের বেলার) অযীফাহ্ বা করণীয় কাজ কিংবা তার কিছু অংশ করতে ভুলে গেলে তা যদি সে ফাজর ও যুহরের সালাতের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে আদায় করে নেয় তাহলে তা এমনভাবে তার জন্য লিখে নেয়া হবে যেন সে তা রাতের বেলায়ই সম্পন্ন করেছে।
যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... কাসিম আশ শায়বানী থেকে বর্ণিত যায়দ ইবন আরকাম একদল লোককে 'যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ এখন তো লোকজন জেনে নিয়েছে যে, এ সময় ব্যতীত অন্য সময় সালাত আদায় করা উত্তম বা সর্বাধিক মর্যাদার। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ 'সালাতুল আওয়াবীন' বা আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী বান্দাদের সালাতের সময় হল তখন সূর্যতাপে উটের বাচ্চাদের পা গরম হয়ে যায়।
যুহায়র ইবন হারব .... যায়দ ইবন আরক্বাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুবাবাসীদের এলাকায় গেলেন। সে সময় তারা সালাত আদায় করছিলেন। এ দেখে তিনি বললেনঃ 'সালাতুল আওওয়াবীন' বা চাশতের সালাতের উত্তম সময় হল যখন সূৰ্যতাপে বালু গরম হাওয়ার কারণে উটের বাচ্চাগুলো পা উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। যখন তোর হওয়ার সম্ভাবনা দেখবে তখন এক রাকআত সালাত আদায় করে নিবে। যে সালাত সে আদায় করেছে এভাবে তা বিতরে পরিণত হবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব এবং মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ (হাদীসের শব্দগুলো তার) এবং যুহরী ..... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে রাতের (নাফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। তবে ভোর হয়ে আসছে দেখলে এক রাকাআত বিতর আদায় করে নিবে।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ... আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) জনৈক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল- হে আল্লাহর রসূল! রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে হবে? জবাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। অতঃপর যখন ভোর হয়ে আসছে বলে মনে করবে তখন এক রাকাআত বিতর আদায় করবে।
আবূর রাবী আয যাহরানী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রসূল! রাতের সালাত কিভাবে আদায় করতে হবে? আমি সে সময় প্রশ্নকারী ও নবী (ﷺ) এর মাঝে (দাড়িয়ে) ছিলাম। জবাবে নবী (ﷺ) বললেনঃ দু' রাকাআত দু' রাকাআত সালাত আদায় করবে। আর বিতর পড়ে তোমার সালাত শেষ করবে। (আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন) এক বছর পর জনৈক ব্যক্তি তাকে একই প্রশ্ন করল। আমি জানি না এ ব্যক্তি পূর্বের প্রশ্নকারী সে ব্যক্তি না অন্য আরেক ব্যক্তি। এবারও আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে একই স্থানে ছিলাম। তিনি তাকে পূর্বের মতই জবাব দিলেন।
আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করল। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়ে (আবূ কামিল ও মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী) পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তাদের বর্ণিত হাদীসে 'অতঃপর এক বছর পরে তাকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল' এবং এর পরের কথাগুলোর উল্লেখ নেই।
হারূন ইবন মারূফ, সুরায়জ ইবন ইউনুস এবং আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় কর।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমূহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাতের বেলায় নফল সালাত আদায় করবে সে যেন বিতর সালাত সর্বশেষে আদায় করবে। কেননা, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবেই সালাত আদায় করতে আদেশ করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন মুসান্না সকলেই উবায়দুল্লাহ ..... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের রাতের সালাত বিতর দিয়ে শেষ কর।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ রাতের বেলা সালাত আদায় করলে সে যেন ফজরের পূর্বে শেষ সালাত হিসেবে বিতর আদায় করে নেয়। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে (সাহাবীগণের) এভাবে (সালাত আদায় করতে) আদেশ করতেন।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শেষ রাতে বিতর সালাতের সময়। আর বিতর সালাত এক রাকাআত মাত্র (অথবা শেষ রাতে বিতর সালাত এক রাকাআত আদায় করবে)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বিতর সালাত রাতের শেষাংশে এক রাকাআত মাত্র আদায় করতে হয়।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ মিজলায থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (আবদুল্লাহ)-কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ এক রাকাআত সালাত রাতের শেষ ভাগে আদায় করতে হবে। তিনি (আবূ মিজলায) আরো বলেছেনঃ আমি একইভাবে ইবন উমার (আবদুল্লাহ)-কেও বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও বলেছিলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি বিতর সালাত এক রাকাআত, (সালাত) রাতের শেষ ভাগে আদায় করতে হবে।
আবূ কুরায়ব ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উচ্চস্বরে ডাকল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি রাতের সালাত কীভাবে বিতর বা বেজোড় সালাত আদায় করব? রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন কেউ রাতে (নাফল) সালাত আদায় করলে দু' রাকাআত দু' রাকাআত করে আদায় করবে। অতঃপর ভোর হওয়ার আভাস পেলে এক রাকাআত সালাত আদায় করে নিবে। এ এক রাকাআত সালাত সে যত সালাত আদায় করছে সেগুলোকে বিতর বা বেজোড় করে দিবে। আবূ কুরায়ব তার বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর নাম উল্লেখ না করে উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
খালাফ ইবন হিশাম ও আবূ কামিল .... আনাস ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর কে জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের সালাতের পূর্বের দু' রাকাআত সালাতে আমি কিরাআত দীর্ঘায়িত করে থাকি- এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আনাস ইবন সীরীন বলেন- এ সময় আমি বললামঃ আমি তো আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি না। (আমার এ কথা বলার পর) তিনি বললেনঃ তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি! তুমি কি আমাকে হাদীসটা (পুরো) বলতে দিবে না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং পরে এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আর ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত নফল এমনভাবে আদায় করতেন যেন তিনি ইকামাত' বা তাকবীর শুনতে পাচ্ছেন। খালাফ ইবন হিশাম তার বর্ণনাতে "ফজরের পূর্বের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে আপনার মতামত কী" কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি 'সালাত' শব্দটি উল্লেখ করেননি।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার কে জিজ্ঞেস করলাম" .... পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনাতে তিনি এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, আর তিনি রাতের শেষভাগে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। তার বর্ণনাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বললেনঃ আরে থামো থামো! তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের সালাত (নফল সালাত) দু' রাকাআত করে আদায় করবে। তবে যখন দেখবে যে, সকাল হয়ে যাচ্ছে তখন এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। আবদুল্লাহ ইবন উমর কে জিজ্ঞেস করা হল- দু' দু' রাকাআত কীভাবে আদায় করতে হবে? তিনি বললেনঃ প্রতি দু' রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরাবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ভোর (ফাজর) হবার পূর্বেই বিতর সালাত আদায় কর।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তারা নবী (ﷺ)-কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ ফজরের ওয়াক্তের পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শেষ রাতে জাগতে পারবে না বলে কারো আশঙ্কা হলে সে যেন রাতের প্রথমভাগেই (ইশার সালাতের পর) বিতর আদায় করে নেয়। আর কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে আগ্রহী থাকে (শেষ রাতে জগতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারে) তাহলে সে যেন শেষভাগে বিতর আদায় করে নেয়। কেননা শেষ রাতের সালাতে (ফেরেশতাগণের) উপস্থিতি থাকে। আর এটাই সর্বোত্তম ব্যবস্থা।
সালামাহ ইবন শাবীব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যদি শেষ রাতে জগতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে তাহলে বিতর সালাত আদায় করে ঘুমাবে। আর যার শেষরাতে জাগতে পারার আত্মবিশ্বাস বা নিশ্চয়তা আছে সে শেষ রাতে বিতর আদায় করবে। কেননা শেষ রাতের কুরআন পাঠে মালায়িকাহ উপস্থিত থাকে। আর এটা সর্বাপেক্ষা উত্তমও বটে।
আব্দ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে কিরআত পড়া হয় সে সালাতই সর্বোত্তম সালাত।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও কুরায়ব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ কোন সালাত সবচেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে যে সালাত আদায় করা হয় সে সালাত সবচেয়ে উত্তম। আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ বলেছেন যে, হাদীসটি আবূ মুআবিয়াহ আমাশের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ সারা রাতের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় আছে যে সময়ে কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। আর ঐ বিশেষ সময়টি প্রত্যেক রাতেই থাকে।
সালামাহ ইবন শাবীব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের মধ্যে একটি বিশেষ সময় আছে, সে সময় কোন মুসলিম বান্দা যদি আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণ প্রার্থনা করে তাহলে তিনি তাকে তা দান করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক মহান ও কল্যাণময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কে এমন আছ, যে এখন আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। এখন কে এমন আছ যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। আর কে এমন আছ, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ কে এমন আছ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে এমন আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। কে মন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব, ফজরের আলো ছড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ আলা এরূপ বলতে থাকেন।
ইসহাক ইবন মানসুর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের অর্ধেক অথবা দু' তৃতীয়াংশ অতিক্রম হলে মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কোন প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে দেয়া হবে? কোন আহবানকারী আছে কি যার আহবানে সাড়া দেয়া হবে? কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে ক্ষমা করা হবে? আল্লাহ তাআলা ভোর প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এরূপ বলতে থাকেন।
হাজ্জাজ ইবনশ শাইর .... ইবন মারজানাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাররাহ-কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের অর্ধেকের সময় অথবা শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কে আছে আহবানকারী? (আহবান কর) আমি তার আহবানে সাড়া দান করব। কে আছে প্রার্থনাকারী? (প্রার্থনা কর) আমি দান করব। এরপর আল্লাহ তাআলা বলতে থাকেনঃ এমন সত্তাকে কে কর্জ দিবে যিনি কখনো ফকির বা দরিদ্র হবেন না বা যুলম করতে পারেন না?" ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ ইবন মারজানাহ হলেন সাঈদ ইবন আবদুল্লাহ। মারজানাহ্ তার মায়ের নাম।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... সা'দ ইবন সাঈদ থেকে এই একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ নিজের দু' হাত প্রসারিত করে বলেনঃ যিনি কখনো দরিদ্র হবেন না, কিংবা যুলম করেন না এমন সত্তাকে ঋণ দেয়ার জন্য কে আছ?
আবূ শায়বাহ-এর দু' পুত্র উসমান ও আবূ বকর এবং ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী ... আবূ সাঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেন বা দেরী করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে বলতে থাকেনঃ কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি (যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব)? কোন তওবাকারী আছে কি (যে তওবা করবে আর আমি তার তওবা কবুল করব)? কোন প্রার্থনাকারী আছে কি (যে প্রার্থনা করবে আর আমি তার প্রার্থনা কুবুল করব)? কোন আহবানকারী আছে কি (আমি যার আহবানে দিব)? এভাবে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... শুবাহ-এর মাধ্যমে আবূ ইসহাক থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর বর্ণিত হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ ও বেশী স্পষ্ট।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তারাবীহ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমযান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমযান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত)। আবূ বকর এর খিলাফতকালে এবং উমর এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমান ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সালাত আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাতে জাগরণ করতে গিয়ে তা পেয়ে গেল, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি ঈমান ও সাওয়াবের আশায়' কথাটি বলেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তার সাথে কিছু সংখ্যক লোকও সালাত আদায় করল। পরের রাতেও তিনি মসজিদে সালাত আদায় করলেন। লোকজন সংখ্যায় অনেক বেশী হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও অনেক লোক এসে একত্ৰ হল। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) আর তাদের সাথে যোগ দিলেন না। সকাল বেলা তিনি সবাইকে বললেনঃ (গত রাতে) তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তবে শুধু এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের সাথে যোগদান করিনি যে, তোমাদের ওপর তা ফরয করে দেয়া হতে পারে। তিনি (আয়িশাহ) বলেছেনঃ ঘটনাটি রমযান মাসে সংঘটিত হয়েছে।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ী থেকে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, অনেক লোকও তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরো বেশী লোক (মসজিদে) একত্রিত হল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। রাতেও তিনি (ﷺ) মসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তার সাথে সালাত আদায় করল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশী হল যে, মসজিদে জায়গা সংকুলান হল না। কিন্তু রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক সালাত বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফজরের ওয়াক্তে বের হলেন। ফজরের সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর "আম্মাবাদ" বলে শুরু করলেন। তিনি বললেনঃ গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ সালাতটি তোমাদের জন্য ফরয করে দেয়া হতে পারে। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে।
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রায়ী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবন কা'ব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর রমযান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইনশা-আল্ল-হ বললেন না (তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই 'লায়লাতুল কদর' আছে)। এরপর তিনি (ﷺ) আবার বললেন আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটি সেই রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষণ হল- সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিত। তিনি 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে 'যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন' শুবাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু (আবদাল্লাহ ইবন আবূ লুবাবাহ) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শুবাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি।
আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ইবন হাইয়্যান আল আবদী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনাহ এর (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীর) ঘরে কাটালাম। (আমি দেখলাম) নবী (ﷺ) রাতের বেলা উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে মুখমণ্ডল এবং দু' হাত ধুলেন। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমালেন। পরে পুনরায় উঠে মশকের পাশে গেলেন এবং এর বন্ধন খুলে ওযু করলেন। ওযুতে তিনি (ﷺ) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন (ওযু করতে খুব যত্নও নিলেন না আবার একেবারে খুব হালকাভাবেও ওযু করলেন না)। তিনি (ﷺ) বেশী পানি ব্যবহার করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি সে সময় উঠলাম এবং তার কাজকর্ম দেখার জন্য জেগে ছিলাম বা সতর্কভাবে তা লক্ষ্য করছিলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা যেন না ভেবে বসেন তাই আড়মোড়া ভাঙ্গলাম। এবার আমি ওযু করলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাড়ালেন, অতঃপর আমিও তার বা পাশে দিয়ে দাড়ালাম। তিনি (ﷺ) আমাকে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে এনে তার ডান পাশে দাড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের সালাত তের রাকাআত শেষ হল। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি (ঘুমের মধ্যে তার) নাক ডাকতে শুরু করল। তিনি (ﷺ) স্বভাবতঃ যখনই ঘুমাতেন তখন নাক ডাকত। পরে বিলাল তাকে সালাতের কথা বলে গেলেন। তিনি (ﷺ) বললেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া ফী বাসারী নূরাও, ওয়া ফী সামঈ নূরাও ওয়া আই ইয়ামীনী নুরাওঁ, ওয়া আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ, ওয়া ফাওকী নূরাওঁ, ওয়া তাহতী নূরাওঁ, ওয়া আমামী নূরাওঁ, ওয়া খালফী নূরাওঁ,ওয়া আয্যিমলী নূরাওঁ" হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়ে আলো দান কর, আমার চোখে আলো দান কর, আমার কানে বা শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর। আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বা দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছনে আলো দান কর এবং আমার আলোকে বিশাল করে দাও।)। বর্ণনাকারী কুরায়ব বলেছেনঃ তিনি এরূপ আরো সাতটি কথা বলেছিলেন যা আমি ভুলে গিয়েছি। হাদীসের বর্ণনাকারী সালামাহ ইবন কুহায়ল বলেন- এরপর আমি আব্বাস এর এক পুত্রের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐগুলো (অবশিষ্ট সাতটি) আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করলেনঃ আমার স্নায়ুতন্ত্ৰীসমূহে, আমার শরীরের গোশতে, আমার রক্তে, আমার চুলে এবং আমার গাত্রচর্মে আলো দান কর। এছাড়াও তিনি আরো দুটি বিষয় উল্লেখ করে বললেনঃ এ দু'টিতে তিনি আলো চেয়েছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন মায়মুনাহ এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মুনাহ ছিলেন তার খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। এরপরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পরে তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমণ্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরাহ্ আ-লি ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বর্ণনা করেছেনঃ তখন আমিও উঠে দাড়ালাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তার পাশে গিয়ে দাড়ালাম এবং তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন। তিনি (ﷺ) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু' রাকাআত, এরপর আরো দু' রাকাআত এবং পরে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিতর পড়লেন।তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (ﷺ) উঠে সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... মাখরামাহ ইবন সুলাইমান থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর তিনি (ﷺ) একটি পুরনো মশকের কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করে ওযু করলেন। তিনি বেশী পানি খরচ না করেই উত্তমরূপে ওযু করলেন তারপর আমাকে ঝাকুনি দিলেন। তখন আমি উঠলাম। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশটুকু মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমূনাহর (খালা) ঘরে আমি ঘুমালাম আর সেই রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ঘরে ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তার ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে তিনি ওযু করে সালাত আদায় করতে দাড়ালে আমিও তার বাম পাশে দাড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাড় করালেন। ঐ রাতে তিনি তের রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ঘুমালেন। ঘুমের মধ্যে তিনি নাক ডাকলেন। আর তিনি যখনই ঘুমাতেন নাক ডাকত। পরে মুয়াযযিন তার কাছে আসলেন তিনি (মসজিদে) চলে গেলেন এবং নতুন ওযু না করেই সালাত আদায় করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আমর বলেছেন, আমি বুকায়র ইবন আশাজ্জ এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার কাছেও তিনি হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে আমি আমার খালা মায়মুনাহ বিনতু হারিস এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (রাতে) যখন উঠবেন তখন আপনি আমাকে জাগিয়ে দিবেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠলে আমিও উঠলাম এবং তার বাম পাশে গিয়ে দাড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে তার ডান পাশে নিলেন। পরে যখনই আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম তখন তিনি আমার কানের নিম্নভাগ ধরে টান দিচ্ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন- তিনি এগার রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে থাকলেন। আমি তার নাক ডাকানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি সংক্ষিপ্তাকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন।
ইবন আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি তার খালা (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে ঝুলিয়ে রাখা একটি পুরনো মশক থেকে পানি নিয়ে হালকাভাবে ওযু করলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসের আযাদকৃত ক্রীতদাস কুরায়ব বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন, তখন আমিও উঠলাম এবং নবী (ﷺ) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম এবং পরে গিয়ে তার বাম পাশে দাড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ডান পাশে নিয়ে দাড় করালেন। এরপর সালাত আদায় করে তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাকও ডাকলেন। পরে বিলাল এসে তাকে সালাতের সময়ের কথা জানালে তিনি গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু নতুন ওযু করলেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী সুফইয়ান বলেছেন, এ ব্যবস্থা শুধু (ঘুমানোর পর নতুন ওযু না করে সালাত আদায় করা) নবী (ﷺ) এর জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আমরা এ কথা জানি যে, তার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু হৃদয়-মন ঘুমায় না।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আমার খালা মায়মুনাহ এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কীভাবে সালাত আদায় করেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখলাম। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস) বলেছেনঃ (রাতে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে প্রস্রাব করলেন এবং মুখমণ্ডল ও দু' হাতের কজি পর্যন্ত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে আবার উঠে মশকের পাশে গেলেন, এর বাধন খুললেন এবং বড় থালা বা কাষ্ঠ নির্মিত প্লেটে পানি ঢাললেন। পরে হাত দিয়ে তা নীচু করলেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি উত্তম ওযু করলেন (অত্যধিক যত্নের সাথে ওযু করলেন না, আবার খুব হালকাভাবেও করলেন না)। অতঃপর তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাড়ালে আমিও উঠে গিয়ে তার বাম পাশে দাড়ালাম। তখন তিনি (ﷺ) আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাড় করিয়ে দিলেন। মোট তের রাকাআত সালাত দ্বারা তার সালাত শেষ হল। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নাক ডাকতে শুরু করল। আমরা নাক ডাকানোর আওয়াজ শুনে তার ঘুমানো বুঝতে পারতাম। তারপর সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে অথবা সাজদায় গিয়ে তিনি (ﷺ) এ বলে দোয়া করতে থাকলেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাওঁ ওয়া আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া আন শিমালী নূরাও ওয়া আমা-মী নূরাও ওয়া খলফী নুরাও ওয়া ফাওকী নুরাওঁ ওয়া তাহতী নুরাও ওয়াজ আল্লী নূরান আও কু-লা ওয়াজআলনী নুরা-" (হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়-মনে আলো দান কর, আমার শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাম দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর এবং আমার জন্য আলো সৃষ্টি কর। অথবা তিনি বললেনঃ আমাকে আলোতে পরিণত করে দাও।)।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর কাছে ছিলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি গুনদার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু উল্লেখ করলেন। এতে তিনি "ওয়াজআলনী নূরান" আমাকে আলো বানিয়ে দাও কথাটি বলতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করলেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও হান্নাদ ইবনস সারী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন কিন্তু হাতের কজিদ্বয় ও মুখমণ্ডল ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। বর্ণনাতে তিনি বলেছেনঃ পরে তিনি (ﷺ) মশকের পাশে গেলেন, এটির বাধন খুললেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি ওযু করলেন। এরপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে মশকের পাশে গিয়ে ওটির বন্ধন খুললেন এবং ওযু যেমনটি হওয়া দরকার তেমনি করলেন। আর তিনি আমাকে এতে বলেছেন, "আযিম্ লী নূরান" (হে আল্লাহ) আমার আলোকে বড় করে দাও। তবে এতে তিনি "ওয়াজআলনী নূরান" "আমাকে নূর বা আলো বানিয়ে দাও কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবূত তহির .... কুরায়ব থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলেন। তিনি বলেছেনঃ রাতের বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে একটি মশকের পাশে গেলেন এবং তা থেকে পানি ঢেলে ওযু করলেন। এতে তিনি অধিক পানি ব্যবহার করলেন না বা ওযু সংক্ষিপ্তও করলেন না। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাতে উনিশটি কথা বলে দোয়া করলেন। সালামাহ ইবন কুহায়ল বলেছেন- কুরায়ব ঐ কথাগুলো সব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তার বারোটি মাত্র মনে রাখতে পেরেছি আর অবশিষ্টগুলো ভুলে গিয়েছি। তিনি তার দোয়ায় বলেছিলেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার হৃদয় মনে আলো দান কর, আমার জিহবা বা বাকশক্তিতে আলো দান কর। আমার শ্রবণশক্তিতে আলো দান কর, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বা দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছন দিকে আলো দান কর, আমার নিজের মধ্যে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার আলোকে বিশালতা দান কর।"
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাতে আমার খালা (নবী (ﷺ) এর স্ত্রী) মায়মুনাহ এর ঘরে ঘুমালেন। উক্ত রাতে নবী (ﷺ) রাতে কিভাবে সালাত আদায় করেন তা দেখা ছিল আমার উদ্দেশ্য। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেছেনঃ তিনি তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। .... এতটুকু বলার পর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক আছে যে, তিনি উঠে ওযু ও মিসওয়াক করলেন।
ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। একদিন রাতে তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরে ঘুমালেন। রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক ও ওযু করলেন। এ সময় তিনি (কুরআন মজীদের এ আয়াতগুলো) পড়ছিলেনঃ "পালাক্রমে আগমন নির্গমনে সুধী ও জ্ঞানীজনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে"- (আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৯০)। এভাবে তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। এরপর উঠে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি (ﷺ) কিয়াম, রুকূ ও সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন এবং শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডেকে ঘুমালেন। তিনবার তিনি এরূপ করলেন এবং এভাবে তিনি ছয় রাকাআত সালাত আদায় করলেন প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করলেন, ওযু করলেন এবং এ আয়াতগুলো পড়লেন। সর্বশেষে তিন রাকাআত বিতর পড়লেন। অতঃপর মুয়াৰ্যযিন আযান দিলে তিনি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন। তখন তিনি এ বলে দোয়া করেছিলেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল ফী ক্বলবী নুরাওঁ ওয়াফী লিসা-নী নুরাওঁ ওয়াজআল ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়াজআল ফী বাসারী নুরাও ওয়াজআল মিন খলফী নূরাওঁ ওয়ামিন আমা-মী নূরাওঁ ওয়াজআল মিন ফাওকী নুরাও ওয়ামিন তাহতী নুরান, আল্ল-হুম্মা আত্বিনী নূরা-" (হে আল্লাহ আমার হৃদয়-মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ আমাকে নূর বা আলো দান কর।)।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমি আমার খালা (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা নবী (ﷺ) নফল সালাত আদায় করতে উঠলেন। তিনি মশকের পাশে গিয়ে ওযু করলেন এবং তারপর সালাত আদায় করতে দাড়ালেন। তাকে এরূপ করতে দেখে আমিও উঠে মশকের পানি দিয়ে ওযু করলাম। তারপর তার বাম পাশে গিয়ে দাড়ালাম। তখন তিনি (ﷺ) তার পিঠের দিক থেকে আমার হাত ধরে সোজা তার পিঠের দিক দিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাড় করিয়ে দিলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আত্বা বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নফল সালাত আদায়কালে এরূপ করেছিলেন। জবাবে তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস) বললেনঃ হ্যা।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমার পিতা আব্বাস আমাকে নবী (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন। সেদিন আমার খালা মায়মূনাহ-এর ঘরে ছিলেন। উক্ত রাতে আমি তার সাথে কাটালাম। রাতে তিনি সালাত আদায় করতে উঠলে আমিও উঠলাম এবং গিয়ে তার বাম পাশে দাড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাড় করিয়ে দিলেন।
ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী ইবন জুরায়জ ও কায়স ইবন সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... যায়দ ইবন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত দেখব। রাতের বেলা প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর অনেক অনেক দীর্ঘায়িত করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা এর পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। পরে আরো দু' রাকাআত আদায করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকেও কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর বিতর এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং এভাবে মোট তের রাকাআত সালাত হল।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এক সময়ে আমরা এক (পানির কিনারে) ঘাটে গিয়ে পৌছলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির তুমি কি ঘাট পার হবে না? আমি বললাম, হ্যা। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) অপর পাড়ে গিয়ে অবতরণ করলে আমিও পার হলাম। (জাবির ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে,) এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলে আর আমি তার ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। (তিনি বর্ণনা করেছেন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে ওযু করলেন এবং একখানা মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে সালাতে দাড়ালেন। কাপড়খানার আচল বিপরীত দিকের দু কাঁধে দিলেন। তখন আমি গিয়ে তার পিছনে দাড়ালাম। কিন্তু তিনি আমার কান ধরে নিয়ে তার ডান পাশে খাড়া করে দিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবৃ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে সালাত আদায় করতে উঠলে সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত (প্রথম দু' রাকাআত) সালাত শুরু করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতে সালাত আদায় করতে শুরু করলে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত দিয়ে শুরু করে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাতের বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ বলে দোয়া করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা নুরুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা ক্বইয়্যামুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আৱযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না আনতাল হাক্কু ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু ওয়াক্বাওলুকাল হাক্কু ওয়ালিকা-উকা হাক্কুন ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন ওয়ান্না-রু হাক্কুন ওয়াস সা-আতু হাক্কুন, আল্লহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলায়কা আনাব্তু ওয়াবিকা খাসামতু ওয়া ইলায়কা হা-কামতু ফাগফিরলী মা- ক্বদ্দাম্তু ওয়া আখখারতু ওয়া আস্রারতু ওয়া আলানতু আনতা ইলা-হী লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা" (হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। তুমি আসমান ও জমিনের নূর বা আলো। তোমার জন্যই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও জমিনের ব্যবস্থাপক। তোমার জন্যই সব প্রশংসা তুমিই আসমান ও জমিনের এবং এ সবের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক। তুমিই হাক্ব বা সত্য। তোমার ওয়া'দা সত্য, তোমার সব বাণী সত্য তোমার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য। জান্নাত সত্য, জাহান্নামও সত্য এবং কিয়ামতও সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার ওপরই তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করেছি, তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমারই জন্যে অন্যদের সাথে বিবাদ করেছি এবং তোমার কাছেই ফায়সালা চেয়েছি। তাই তুমি আমার আগের ও পরের এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত সব পাপ ক্ষমা করে দাও। একমাত্র তুমিই আমার ইলাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।)।
আমর আন নাকিদ, ইবন নুমায়র ও ইবন আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুধু দুটি শব্দ ছাড়া ইবন জুরায়জ বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহ মালিক বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহের অনুরূপ। দুটি স্থানের একটি ইবন জুরায়জ "কইয়াম" শব্দের পরিবর্তে "কয়্যিম" শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আর অপর স্থানটিতে শুধু "ওয়া মা আছ্রর্তু" এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবন উয়াইনাহ বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ হাদীসটিতে কিছু অতিরিক্ত শব্দ আছে এবং অনেকগুলো শব্দের ব্যাপারে তিনি মালিকের এবং ইবন জুরায়জ-এর সাথে পার্থক্য করেছেন।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। এই একই সানাদে হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের শব্দ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, আবদ ইবন হুমায়দ ও আবূ মান আররাক্বাশী .... আবদুর রহমান ইবন আওফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উন্মুল মুমিনীন আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) রাতের বেলা যখন সালাত আদায় করতেন তখন কীভাবে তার সালাত শুরু করতেন? জবাবে আয়িশাহ বললেনঃ রাতে যখন তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ দোয়াটি পড়ে সালাত শুরু করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা রব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইসরা-ফীলা ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্ব শাহা-দাতি আনতা তাহকুমু বায়না ইবা-দিকা ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফ নাহদিনী লিমাখ তুলিফা ফীহি মিনাক হাক্কি বি ইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশা-উ ইলা সিরা-ত্বিম মুসতাকীম" (হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে তুমিই সেগুলোর ফায়সালা করবে। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে পথ দেখাও। তুমিই তো যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকো।)।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকাদ্দামী .... আলী ইবন আবূ তুলিব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতে দাড়াতেন তখন এ বলে শুরু করতেনঃ "ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযা হানীফাওঁ ওয়ামা- আনা মিনাল মুশরিকীনা ইন্না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীনা লা শারীকা লাহু ওয়াবি যা-লিকা উমিরতু ওয়া আনা- মিনাল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আনতা রব্বী ওয়া আনা- আবদুকা যলামতু নাফসী ওয়া'তারাফতু বিযাম্বি ফাগফিরলী যুনুবী জামীআন ইন্নাহু লা- ইয়াগকরুত্ব যুনুবা ইল্লা- আনতা ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলা-কি লা- ইয়াহদী লিআহসানিহা- ইল্লা- আনতা ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়্যিআহা- লা- ইয়াসরিফু আন্নী সাইয়্যিআহা- ইল্লা- আনতা লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা ওয়াল খয়রু কুল্লুহু কী ইয়াদায়কা ওয়াশ শুররু লায়সা ইলায়কা আনা- বিকা ওয়া ইলায়কা তাবা-রাকত ওয়াতা আ-লায়তা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুব ইলায়ক" (আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি সারা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তার কোন শারীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী। হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম বাদশাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আর আমি তোমার বান্দা। আমি নিজে আমার প্রতি যুলুম করেছি। আমি আমার পাপ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমার সব পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম আখলাক বা নৈতিকতার পথ দেখাও। তুমি ছাড়া এ পথ আর কেউ দেখাতে সক্ষম নয়। আর আখলাক বা নৈতিকতার মন্দ দিকগুলো আমার থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ মন্দগুলোকে দূরে রাখতে সক্ষম নয়। আমি তোমার সামনে হাজির আছি- তোমার আনুগত্য করতে প্রস্তুত আছি। সব রকম কল্যাণের মালিক তুমিই। অকল্যাণের দায়-দায়িত্ব তোমার নয়। আমার সব কামনা-বাসনা তোমার কাছেই কাম্য। আমার শক্তিসামর্থ্যও তোমারই দেয়া। তুমি কল্যাণময়, তুমি মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছেই তওবা করছি।)। আর রুকূ করার সময় বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকা রাকা'তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামতু খশাআ লাকা সামঈ ওয়া বাসার ওয়া মুখখী ওয়া আযমী ওয়া আসাবী"- (হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশেই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং সব স্নায়ুতন্ত্রী তোমার কাছে নত ও বশীভূত হল)। আর রুকূ থেকে উঠে বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়াতি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- বায়নাহুমা- ওয়ামিলআ মা- শি'তা মিন শাইয়িন বাদু" (হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক, সব প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। আসমান ভর্তি প্রশংসা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য)। আর যখন সাজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামৃত্যু সাজাদা ওয়াজহী লিল্লায়ী খলাকাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়াশাক্বকা সামআহু ওয়া বাসারাহ্ তাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খ-লিকীন" (অর্থা- হে আল্লাহ! তোমারই উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম। তোমারই প্রতি আমি ঈমান পোষণ করেছি। তোমারই উদ্দেশে আমি আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল সে মহান সত্তার উদ্দেশে সিজদা করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দান করেছেন আর কান ও চোখ ফুটিয়ে শোনা ও দেখার উপযোগী করে তৈরি করেছেন। মহা কল্যাণময় আল্লাহ, তিনি কতই না উত্তম সৃষ্টিকার)। অতঃপর সবশেষে তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মাগফিরলী মা- ক্বদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা আসসারতু ওয়ামা আ'লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ'লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"- (হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে এবং প্রকাশ্যে কৃত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আর যে সব ব্যাপারে আমি বাড়াবাড়ি করেছি তাও ক্ষমা করে দাও। আমার কৃত যেসব পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চাইতে বেশী জান তাও ক্ষমা করে দাও। তুমিই আদি এবং তুমিই অন্ত, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।)
যুহায়র ইবন হারব এবং ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আ'রাজ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ সালাত শুরু করার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর বলতেন তারপরে "ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী" বলতেন। এরপর শেষের দিকে "ওয়া আনা- আওওয়ালুল মুসলিমীন" বলতেন। এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেনঃ যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" এবং তিনি "ওয়া সাওওয়ারাহ ফা আহসানা সুওয়ারাহু"-ও বলতেন (তিনি আকৃতি দান করেছেন এবং উত্তম আকৃতি দান করেছেন।)। এ বর্ণনাতে আরো আছে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন "আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী মা- কুদ্দামতু" কথাটি থেকে শুরু করে পূর্বোক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত বলতেন। আর তিনি তাশাহহুদ ও সালামের কথা বলেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন নুমায়র [শব্দগুলো তার] .... হুযায়ফাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (ﷺ) এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি বাকারাহ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (বাকরাহ) দ্বারা পুরো দু' রাকাআত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকূ করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরাহ আ-লি ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকূ করলেন। রুকূতে তিনি বলতে থাকলেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম" (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর "সামিআল্ল-ই লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তার প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-" (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার এ সাজদায়ও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো। হাদীসটির বর্ণনাকারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি (রসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু থেকে উঠে) বললেন, "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হামদ" (আল্লাহ শুনেন যে ব্যক্তি তার প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা)।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সালাতে তিনি কিরআত এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, আমি একটি মন্দ ইচ্ছা করে বসলাম। আবূ ওয়ায়িল বলেছেন তাকে (আবদুল্লাহ ইবন মাসউদকে) জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কী ধরনের মন্দ ইচ্ছা করেছিলেন? জবাবে তিনি বললেনঃ আমি বসে পড়ার এবং তার পিছনে এ সালাত পরিত্যাগ করার ইচ্ছা করেছিলাম।
ইসমাঈল ইবন খলীল ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ... আমাশ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক.... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বলা হল যে, সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটায় (রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে না) এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ ঐ লোকটি এমন যার কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে অথবা বলেছেন, দু' কানে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আলী ইবন আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একদিন রাতের বেলা তার ও ফাতিমা এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় কর না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ রসূল! আমরা সবাই তো আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি ইচ্ছা করলে আমাদেরকে জাগিয়ে দিতে পারেন। আলী বলেছেনঃ আমি এ কথা বললে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গেলেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন, আমি শুনলাম তখন তিনি উরুর উপরে সজোরে হাত চাপড়ে বলছেনঃ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিতর্ক করতে অভ্যস্ত।
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নিদ্রা যায় তখন শয়তান তার মাথার শেষ প্রান্তে ঘাড়ে তিনটা গিরা দেয়। প্রত্যেকটা গিরাতেই সে ফুক দিয়ে বলে, এখনো অনেক রাত আছে (ঘুমিয়ে থাক) তাই যখন সে ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তখন একটি গিরা খুলে যায়। এরপর সে ওযু করলে আরো একটি গিরাসহ মোট দুটি গিরা খুলে যায়। আর যখন সে সালাত আদায় করে তখন সবগুলো গিরা খুলে যায়। এভাবে সে কর্মতৎপর ও প্রফুল্ল মনের অধিকারী হয়ে সকালে জেগে উঠে। অন্যথায় মানুষ বিমর্ষ ও অলস মন নিয়ে জেগে উঠে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কিছু কিছু সালাত বাড়ীতে আদায় করবে। (বাড়ীতে কোন সালাত না আদায় করে) বাড়ীকে তোমরা কবর সদৃশ করে রেখো না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বাড়ীতেও সালাত আদায় কর। বাড়ীগুলোকে কবর সৃদশ করে রেখে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে সালাত আদায় করবে তখন সে যেন বাড়ীতে আদায় করার জন্যও তার সালাতের কিছু অংশ রেখে দেয়। কেননা তার সালাতের কারণে আল্লাহ তাআলা তার বাড়ীতে বারাকাত ও কল্যাণ দান করে থাকেন।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আ'লা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় আর যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দুটি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের ঘরসমূহকে কবর সদৃশ করে রেখো না (নফল সালাতসমূহ বাড়ীতে আদায় করবে, কারণ যে ঘরে সূরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... যায়দ ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুর পাতা অথবা চাটাই দিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ছোট কামরা তৈরি করে তাতে সালাত আদায় করতে গেলেন। এ দেখে কিছু সংখ্যক লোক এসে তার সাথে সালাত আদায় করলেন। যায়দ ইবন সাবিত বলেনঃ অন্য এক রাতেও লোকজন এসে জমা হল। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সে রাতে) দেরী করলেন এবং এমনকি তিনি সে রাতে আসলেন না। তাই লোকজন উচ্চস্বরে তাকে ডাকাডাকি করল এবং বাড়ীর দরজায় কঙ্কর ছুড়তে শুরু করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগাম্বিত হয়ে তাদের মাঝে এসে বললেনঃ তোমরা যখন ক্রমাগত এরূপ করছিলে তখন আমার ধারণা হল যে, এ সালাত হয়ত তোমাদের জন্য ফরয করে দেয়া হবে। অতএব তোমরা বাড়িতেই (নাফল) আদায় করবে। কেননা ফরয সালাত ছাড়া অন্যসব সালাত বাড়ীতে আদায় করা মানুষের জন্য সর্বোত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... যায়দ ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত। এক সময় নবী (ﷺ) চাটাই দ্বারা ঘিরে মসজিদের মধ্যে একটি কামরা বানালেন এবং কয়েক রাত পর্যন্ত সেখানে সালাত আদায় করলেন। তা দেখে কিছু লোক সেখানে সমবেত হল। এতটুকু বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। এর বর্ণনাতে এতটুকু অধিক বর্ণনা হয়েছে যে, এ সালাত যদি তোমাদের জন্য ফরয করে দেয়া হত তাহলে তোমরা তা আদায় করতে সক্ষম হতে না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একখানা চাটাই ছিল। রাতের বেলা তিনি এ চাটাই দিয়ে একটি কামরা বানাতেন এবং তার মধ্যে সালাত আদায় করতেন। লোকজন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এ সালাত আদায় করত এবং দিনের বেলা বিছিয়ে নিত। এক রাতে লোকজন বেশী ভীড় করলে তিনি (ﷺ) লোকজনকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে লোকজন যতটা আমল তোমরা স্থায়ীভাবে করতে সক্ষম হবে ততটা আমল করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের ইবাদাতের সাওয়াব দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমারই ইবাদাত বন্দেগী করতে করতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর কম হলেও আল্লাহর কাছে স্থায়ী আমল সর্বাপেক্ষা বেশী পছন্দনীয়। (বর্ণনাকার বলেন) মুহাম্মাদ (ﷺ) এর অনুসারী ও বংশধরগণ যে আমল করতেন তা স্থায়ীভাবে সর্বদাই করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আল্লাহ তাআলার কাছে কোন ধরনের আমল সবচাইতে বেশী প্রিয়। জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ কম হলেও যে আমল স্থায়ী (সে আমল আল্লাহ তাআলার কাছে সবচাইতে বেশী প্রিয়)।
যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আলকামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ কে জিজ্ঞেস করলাম। বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন! রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমল কেমন ছিল। তিনি কি কোন নির্দিষ্ট ইবাদাতের জন্য কোন বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করে নিতেন? জবাবে আয়িশাহ বললেনঃ না। তবে তার আমল ছিল স্থায়ী প্রকৃতির। আর তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কাজ করতে পারেন সেও সে কাজ করতে পারবে?
ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে এমন আমল সবচেয়ে প্রিয় যা কম হলেও স্থায়ীভাবে করা হয়। হাদীসের বর্ণনাকারী কাসিম ইবন মুহাম্মাদ বলেছেনঃ আয়িশাহ কোন আমল শুরু করলে তা স্থায়ী ও অবশ্য করণীয় করে নিতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন মসজিদের দুটি খুটির মাঝে রশি বেধে টানানো আছে। এ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কিসের জন্য? সবাই বললঃ এটা যায়নাবের রশি। তিনি সালাত আদায় করতে করতে যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন তখন এ রশিটা দিয়ে নিজেকে আটকে রাখেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি খুলে ফেল। তোমরা সানন্দ সগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে সালাত আদায় করবে। সালাত আদায় করতে করতে কেউ যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে তখন বসে আদায় করবে। যুহায়র বর্ণিত হাদীসে "কাআদ" শব্দ আছে যার অর্থ হল সে যেন বসে পড়ে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) থেকে অনুরপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ তাকে বলেছেন যে, হাওলা বিনতু তুওয়াইত ইবন হাবীব ইবন আসাদ ইবন আবদুল উযযা একদিন তার কাছে গেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তার কাছে গেলেন। আয়িশাহ বলেন, আমি বললামঃ এ হল হাওলা বিনতু তুওয়াইত। লোকজন বলে থাকে যে, সে রাতে ঘুমায় না। সারারাত ইবাদাত-বন্দেগী করে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথায় বিস্মিত হয়ে বললেনঃ সে রাতেও ঘুমায় না? তোমরা নাফল আমল ততটুকু কর যতটুকু তোমাদের সাধ্য আছে। আল্লাহর কসম, তিনি পুরস্কার দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমরাই (ইবাদাতে) ক্লান্ত হয়ে পড়বে।
আবৃ বাকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন কুরায়ব-যুহায়র ইবন হারব [শব্দাবলী তার] ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আমার কাছে আসলেন যখন আমার কাছে একজন মহিলা উপস্থিত ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? আমি বললামঃ এ সেই মহিলা যে রাতের বেলা না ঘুমিয়ে সালাত আদায় করে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ তোমরা ততটুকু পরিমাণ আমল করবে যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহ তাআলা (তোমাদের আমলের) সাওয়াব বা পুরস্কার দিতে অক্ষম হবেন না। বরং তোমরাই আমল করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দীনের ততটুকু আমল অত্যধিক পছন্দনীয় ছিল আমলকারী যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আবূ উসামাহ বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত আছে, উক্ত মহিলা ছিলেন বানী আসাদ গোত্রের একজন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ [শব্দাবলী তার] .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ সালাত আদায়কালে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শুয়ে ঘুমিয়ে নিবে এবং তন্দ্রা বা ঘুম দূর হলে পরে আবার সালাত আদায় করবে। কারণ, তোমরা কেউ হয়ত তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত আদায় করলে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার স্থলে নিজেকে ভৎসনা (বদ দোয়া) করে ফেলবে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ আমার কাছে আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ(ﷺ) থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাতে সালাত আদায় করতে ওঠে আর (ঘুমের প্রভাবে) তার কুরআন তিলাওয়াতে আড়ষ্টতা আসে সে কি বলছে সে সম্পর্কে তার কোন চেতনা না থাকে তাহলে যেন সে শুয়ে (ঘুমিয়ে) পড়ে।