bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দুই ঈদের নামাজ (১৯৩০-১৯৫৫)

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর এবং আবূ বকর, উমার ও উসমান-এর সাথে ঈদুল ফিতরের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তারা সবাই খুতবার আগে সালাত আদায় করেছেন এবং পরে খুতবাহ পাঠ করেছেন। তিনি বলেন, এরপর নবী (ﷺ) (মিম্বার থেকে) অবতরণ করলেন। যখন তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে লোকদের বসিয়ে দিচ্ছিলেন, তা যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি লোকদের মধ্য দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তার সাথে বিলাল ছিলেন। এরপর তিনি এ আয়াতটুকু পাঠ করলেন "হে নবী! ঈমানদার মহিলারা আপনার নিকট আসে, তখন তারা একথার ওপর বাইয়াত করবে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না"- (মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ১২)। এ আয়াত পাঠ সমাপ্ত করে নবী (ﷺ) তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমরা কি এ কথার ওপর অটল আছ? তখন মাত্র একজন মহিলাই উত্তর করল, হ্যা। হে আল্লাহর নবী! সে ব্যতীত তাদের মধ্যে থেকে আর কেউ প্রতি উত্তর করেননি। অবশ্যই মহিলাটি কে তখন তা জানা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তারা সাদাকা করতে লাগল আর বিলাল তার কাপড় বিছিয়ে দিলেন অতঃপর বললেন, তোমাদের প্রতি আমার মা-বাপ কুরবান হোক! এগিয়ে আসো। তখন মহিলারা তাদের ছোট বড় আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ের উপর ফেলতে লাগল।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন আবূ উমর .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি (ﷺ) ঈদের সালাত খুতবার পূর্বেই আদায় করেছেন। সালাতের পর তিনি (ﷺ) খুতবাহ দিয়েছেন। তাই তিনি (ﷺ) মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে বুঝালেন ও উপদেশ দিলেন এবং তাদেরকে দান সদাকার জন্যে আদেশ করলেন। বিলাল তার কাপড় বিছিয়ে রেখেছিলেন। মহিলাগণ নিজ নিজ আংটি, বালা অন্যান্য জিনিস এতে ঢেলে দিতে লাগল।

আবূর রাবী আয যাহরানী, ইয়াকুব আদ দাওরাকী .... উভয়েই আইয়ূব থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি ইবন রাফি .... আতা থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) ঈদুল ফিত্বরের দিন দাড়ালেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন। তিনি খুতবাহ দেয়ার আগে প্রথমে সালাত আদায় করেছেন, পরে জনতার উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছেন। নবী (ﷺ) খুতবাহ শেষ করে মহিলাদের কাছে এসে উপদেশ দিলেন। এ সময় তিনি (ﷺ) বিলালের হাতে ভর দিয়ে দাড়িয়েছিলেন এবং বিলাল তার কাপড় প্রসারিত করে রেখেছিলেন। মহিলারা এতে দান বস্তু ফেলছিল। আমি (ইবন জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কি ঈদুল ফিত্বরের যাকাত (সদাকায়ে ফিতর)? আতা বললেন, না, বরং তা সাধারণ সদাকাই ছিল। মহিলারা তাদের মূল্যবান আংটি (দানপাত্রে) ফেলছিল এবং সম্ভব সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছিল। আমি আত্বা কে জিজ্ঞেস করলাম, বর্তমানে কি ইমামের জন্য খুতবাহ সমাপ্ত করার পর মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে উপদেশ শুনানোর বিধি সম্মত? আতা বললেন, হ্যা। আমার জীবনের রবের শপথ! এটা ইমামদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। তাদের এ কাজ না করার কি কারণ থাকতে পারে?

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন-আযান ইকামাত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলালের ওপর ভর দিয়ে দাড়ালেন এবং "আল্লাহ ভীতি" অর্জন করার আদেশ করলেন ও তার আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তিনি সমবেত জনতাকে উপদেশ দিলেন। তারপর বললেন, তোমরা সাদাকা কর। কেননা তোমাদের বেশীর ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্যে থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একটি মেয়েলোক দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কেননা তোমরা বেশী অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলাগণ তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের ঝুমকা, রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন আব্বাস ও জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়) ঈদুর ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন (ঈদের জন্য) আযান দেয়া হত না। ইবন জুরায়জ বলেন, কিছু সময় পর আমি আতাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, আমাকে জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযানও নেই ইকামাতও নেই। কোন ডাক বা কোন প্রকার ধ্বনিও নেই। ঐ দিন ঈদের জন্য কোন আযান ও ইকামাতের নিয়ম নেই। ইমাম (সালাতের উদ্দেশে) বের হওয়ার সময় এবং বের হওয়ার পরেও আযানের কোন প্রয়োজন নেই।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আত্বা থেকে বর্ণিত। আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবন যুবায়র-এর নিকট প্রথমে লোকেরা যখন বাইয়্যাত নিচ্ছিল- ইবন আব্বাস তার কাছে এ সংবাদ পাঠালেন যে, ঈদুল ফিত্বরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযান দেয়া হতো না। অতএব তুমি ঈদের সালাতের জন্য আযানের প্রচলন করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, ইবন যুবায়র তার সময় আযানের প্রচলন করেননি। ইবন আব্বাস এ কথাটুকু ইবনয যুবায়র-এর নিকট বলে পাঠান যে, খুতবাহ সালাতের পরে হবে, আর এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব ইবন যুবায়র খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত সমাপন করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, হাসান ইবনর রাবী, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একবার দু'বার নয়, অনেক বার দু'ঈদের সালাত আযান ও ইকামাত ব্যতীত আদায় করেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ), আবূ বকর ও উমর ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবন হুজুর .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাড়াতেন। তারা নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সাদাকা কর, সাদাকা কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল মহিলাগণ। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তার হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দেখি কাসীর ইবন সালত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সালাতের দিকে টানা হেঁচড়া করছি। যখন আমি তার এ মনোভাব দেখলাম আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সালাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সাঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন।

আবূর রাবী আয যাহরানী .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। আমাদেরকে নবী (ﷺ) আদেশ করেছেন, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা মেয়েদেরকে ও পর্দানশীন মেয়ে লোকদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বলি এবং তিনি ঋতুবতী নারীদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন মুসলিমদের সালাতের স্থান থেকে কিছুটা পৃথক থাকে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মু আতিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়) ঈদের মাঠে বের হওয়ার আদেশ করা হত এমনকি গৃহবাসিনী পর্দানশীন মহিলা ও প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীকেও অনুমতি দেয়া হতো। উম্মু আতিয়াহ বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হয়ে আসত এবং সব লোকের সাথে তাকবীর পাঠ করত।

আমর আন নাকিদ .... উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন। আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে বের করে দেই- পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সবাইকে। তবে ঋতুবতী মহিলারা সালাত থেকে বিরত থাকবে। বাকী পুণ্যের কাজে ও মুসলিমদের দোয়ায় শারীক হবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো কারো চাদর ওড়না নেই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার জন্য বোন তাকে নিজ চাদর বা ওড়না পরিয়ে দিবে।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তার সাথে বিলাল ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে সাদাকা করতে আদেশ করলেন। মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার বিলিয়ে দিতে লাগল।

আমর আন নাকিদ, আবূ বকর ইবন নাফি ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... তারা শুবাহ থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। উমর ইবন খাত্ত্বাব আবূ ওয়কিদ আল লায়সী কে জিজ্ঞেস করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিত্বর ও আযহার সালাতে কি কিরআত পাঠ করতেন? আবূ ওয়াকিদ বললেন, তিনি এতে "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" (কাফ) এবং "ইক্বতারাবাতিস সা-আতু ওয়ান শাক্বক্বাল কামার" (কামার) পাঠ করতেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ ওয়াকিদ আল লায়সী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উমার ইবন খাত্ত্বাব জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের দিনে কোন সূরাহ পড়েছেন? আমি উত্তরে বললাম, তিনি (ﷺ) "ইক্বতারাবাতিস সা-আতু" (কামার) এবং "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" (কাফ) পাঠ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমার কাছে আনসার সম্প্রদায়ের দু'টি মেয়ে গান গাচ্ছিল। আনসারগণ বুআস যুদ্ধের সময় এ গানটি গেয়েছিল। আয়িশাহ বলেন, তারা অবশ্য (পেশাগত) গায়িকা ছিল না। আবূ বকর বললেন, একি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবূ বকর প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসবের ব্যবস্থা আছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের উৎসবের দিন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব .... উভয়ে হিশাম একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- দু'টি বালিকা দফ বাজিয়ে খেলা করছিল।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। আবূ বকর আইয়্যামে তাশরীকের দিনে আয়িশাহ এর নিকট গিয়ে দেখেন যে, তার কাছে দুটি বালিকা গান করছে এবং দফ বাজাচ্ছে। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) চাদর দিয়ে মাথা ঢাকা অবস্থায় ছিলেন। আবূ বকর এটা দেখে বালিকাদ্বয়কে খুব শাসলেন বা ধমক দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলেন, হে আবূ বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এ দিনগুলো হল ঈদের দিন। আয়িশাহ আরও বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি তিনি (ﷺ) আমাকে তার চাদর দ্বারা ঢেকে দিচ্ছেন, যখন আমি আবিসিনিয়ার যুবকদের (কৃষ্ণাঙ্গ) খেলার দৃশ্য অবলোকন করছিলাম। তখন আমি সবেমাত্র বালিকা। অতএব তোমরা অল্পবয়স্কা বালিকাদের সখের মূল্যায়ন কর। অল্পবয়স্ক বালিকারা অনেকক্ষণ আমোদ-ফুর্তিতে মেতে থাকে।

আবূত তহির .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম, তিনি আমার হুজরার দরজায় দাড়িয়ে আছেন আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা তাদের অস্ত্র দ্বারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মসজিদে নবাবীতে তাদের যুদ্ধের কলাকৌশল দেখাচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার চাদর দ্বারা আড়াল করে দিচ্ছেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। অতঃপর তিনি (ﷺ) আমার জন্য দাড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ আমি নিজে ফিরে না আসি। অতএব অল্পবয়স্কা বালিকাদের খেল-তামাশার প্রতি যে লোভ রয়েছে তার মূল্যায়ন কর (তার সখ পূর্ণ কর)।

হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা [শব্দগুলো হারূনের] ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, আমার কাছে দুটি বালিকা জাহিলিয়্যাত যুগে সংঘটিত বুআস যুদ্ধের গান গাইছে। তিনি বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন সময় আবূ বকর প্রবেশ করলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে শয়তানের বাদ্য চলছে? (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে ফিরে বললেন, হে আবূ বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এরপর তিনি যখন অন্যমনস্ক হলেন, আমি বালিকাদ্বয়কে আস্তে খোচা দিলাম। তারা বের হয়ে চলে গেল। এটা ঈদের ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা ঢাল-বল্লম দ্বারা রণকৌশল ও খেল-তামাশা করছিল। তখন হয়ত আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আবেদন করেছি না হয় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন তুমি কি তা দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম- জি হ্যা। তিনি (ﷺ) আমাকে তার পিছনে এমনভাবে দাড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গণ্ডদেশ তার গণ্ডদেশের উপর সংলগ্ন হল। এরপর তিনি (ﷺ) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী আরফিদাহ! তোমরা তোমাদের খেলা চালিয়ে যাও। অনেকক্ষণ পর আমি যখন একটু বিরক্তবোধ করলাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হয়েছে তো? আমি বললাম, জি হ্যা! তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক আবিসিনীয় লোক মদীনায় পৌছে ঈদের দিন মসজিদে নবাবীতে (অস্ত্র নিয়ে) খেলা করছিল। নবী (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। আমি তার কাঁধের উপর মাথা রেখে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম। অনেকক্ষণ এ দৃশ্য উপভোগ করে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন নুমায়র .... উভয়ে হিশাম থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তারা 'মসজিদের' কথাটি উল্লেখ করেননি।

ইব্রাহীম ইবন দীনার, উকবাহ ইবন মুকরাম আল আম্মী ও "আবদ ইবন হুমায়দ [শব্দাবলী উকুবাহ-এর] ... উবায়দ ইবন উমায়র থেকে বর্ণিত। আমাকে আয়িশাহ জানিয়েছেন, তিনি ক্রীড়া প্রদর্শনকারীদের বলে পাঠালেন যে, তিনি তাদেরকে দেখতে আগ্রহী। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আমি উভয়ে দরজার উপর দাড়ালাম। আমি তার দু'কানের মাঝে ও কাঁধ সংলগ্ন হয়ে দাড়িয়ে তা দেখেছিলাম তারা মসজিদে (হাতিয়ার নিয়ে) খেলছিল। আতা বলেন, তারা পারস্যের অথবা আবিসিনিয়ার অধিবাসী ছিল। আর ইবন আতীক আমাকে বলেনঃ বরং তারা আবিসিনিয়ার অধিবাসী ছিল।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আবিসিনীয় লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে খেলাধূলা করছিল। এমন সময় উমর ইবন খাত্ত্বাব সেখানে আসলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) প্রস্তর খণ্ড তুলে তাদের প্রতি নিক্ষেপ করতে উদ্যত হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এদেরকে খেলতে দাও হে উমার!