bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

নামায (৭২৩-১০৪৭)

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমরা মদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করতেন। এজন্যে কেউ আযান দিত না। একদিন ব্যাপারটি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকুসের অনুরূপ একটি নাকুস (ঘন্টা) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইয়াহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমার বললেন, তোমরা সালাতের জন্যে ডাকতে একটি লোক পাঠাও না কেন? রাসূলুল্লাহ বললেন (ﷺ) হে বিলাল! উঠো এবং সালাতের জন্যে ডাক।

খালাফ ইবন হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল কে আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাতের শব্দ বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইয়াহইয়া তার বর্ণনায় ইবন উলাইয়্যাহ এর সূত্রে বলেছেন, তিনি আইয়ূব এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেন, কিন্তু 'কাদ্‌কা- মাতিস্ সলা-হ্‌' শব্দটি ব্যতীত (এটি দু'বার বলবে) বাকী শব্দগুলো একবার করে বলবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (লোকেদের) সালাতের সময় জানানোর উদ্দেশে একটা কিছু নির্দিষ্ট করার জন্যে সাহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করলেন। তারা বললেন, আগুন জ্বালানো হোক অথবা নাকুস (ঘণ্টা) বাজানো হোক। বিলালকে আযানের শব্দগুলো দু'বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণ করার নির্দেশ দেয়া হল।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... খালিদ আল হাযযা হতে উল্লেখিত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন লোকসংখ্যা বেড়ে গেল, সাহাবাগণ সালাতের সময় জানানোর একটি উপায় খুজে বের করার জন্যে পরস্পর আলোচনা করলেন .... অতঃপর সাকাকী-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল কে আযান জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাত বেজোড় সংখ্যায় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ মাহযুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাকে এ আযান শিক্ষা দিয়েছেনঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)। পাঠে (চারবার)। "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই), "আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই)। "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল), "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। আবার তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ", "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ-" দু'বার। "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" (সালাতের জন্যে এসো) দু'বার। "হাইয়্যা আলাল ফালা-হ" (কল্যাণের জন্যে এসো) দু'বার। ইসহাক তার বর্ণনায় আরো দুটি বাক্য উল্লেখ করেছেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" এবং "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"।

ইবন নুমায়র .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু'জন মুওয়াযযিন ছিলঃ বিলাল এবং অন্ধ আবদুল্লাহ ইবন উম্মু মাকতুম।

ইবন নুমায়র ... আয়িশাহ থেকেও (উপরের হাদীসের) অবিকল বর্ণিত হয়েছে।

আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন মাকতুম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মতিতে আযান দিতেন। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ।

মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... হিশাম এর উল্লিখিত সনদ পরম্পরায় হিশাম থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রভাতে শত্রুর উপর আক্রমণ করতেন। তিনি আযানের শব্দ শুনার জন্যে কান পেতে অপেক্ষায় থাকতেন। তিনি আযান শুনতে পেলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন, অন্যথায় আক্রমণ করতেন। তিনি এক ব্যক্তিকে "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ ব্যক্তি মুসলিম। সে পুনরায় বলল, "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেলে। অতঃপর লোকটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলেন, সে মেষপালের রাখাল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরা তাই-ই বল।

মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ্ আল মুরাদী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা, ওয়াসীলাহ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা করবে তার জন্যে (আমার) শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

ইসহাক ইবন মানসুর .... উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন "আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। যখন মুওয়াযযিন বলে "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সেও বলেঃ "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা আলাল ফালা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ"। অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ "আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার" এর জবাবে সে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মুওয়াযযিনের আযান শুনে যে ব্যক্তি বলে, "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু, লা- শারীকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু, ওয়া রাসূলুহু, রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলামী দীনন" তার গুনাহ মাফ করা হবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... তালহাহ ইবন ইয়াহইয়া তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় মুওয়াযযিন তাকে সালাতের জন্য ডাকতে আসল। মুআবিয়াহ বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন মুওয়াযযিনদের গর্দান সবচেয়ে বেশি উচু হবে।

ইসহাক ইবন মানসূর .... ঈসা ইবন তালহাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ কে বলতে শুনেছি। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান সালাতের আযানের শব্দ শুনে পালাতে পালাতে রাওহা পর্যন্ত চলে যায়। সুলাইমান (আমাশ) বলেন, আমি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ স্থানটি মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আমাশ হতে এ সনদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ শয়তান যখন সালাতের আযান শুনতে পায় তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে যেন আযানের শব্দ তার কানে পৌছতে না পারে। মুওয়াযযিন যখন আযান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীর) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামাত শুনতে পায় আবার চলে যায় যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীদের অন্তরে) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে।

আবদুল হামীদ ইবন বায়ান আল ওয়াসিতী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন আযান দেয় তখন শইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।

উমাইয়্যাহ্ ইবন বিসতাম .... সুহায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বানু হারিসাহ গোত্রের কাছে পাঠালেন। রাবী বলেন, আমার সাথে একটি বালক অথবা আমার এক সাথী ছিল। একটি বাগানের ভিতর থেকে তার নাম ধরে কে যেন তাকে ডাকল। আমার সাথী বাগানের মধ্যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। আমি এ ঘটনা আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আমি যদি জানতে পারতাম যে তুমি এমন অবস্থার মুখামুখি হবে তবে তোমাকে পাঠাতাম না, কিন্তু যখন তুমি সেরূপ কোন শব্দ শুনতে পাও তখন সালাতের অনুরূপ আযান দিবে। কেননা আমি আবূ হুরাইরাহ কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয় শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয়, শয়তান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ সে শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং সালাত আদায়কারীদের মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, এটা স্মরণ কর। সে কথাগুলো সালাতের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত সালাত আদায়কারী দ্বিধায় পড়ে যে, সে বলতেও পারে না যে, কত রাকাআত পড়ল।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনার শেষের অংশ নিম্নরূপঃ এমনকি লোকের খেয়ালই থাকে না যে, সে কিভাবে সালাত শেষ করল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি- যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি রুকূতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার সময়ও এরূপ করতেন। কিন্তু তিনি দুই সাজদার মাঝখানে হাত উঠাতেন না।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। ইবন উমর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাতের জন্য দাড়াতেন তখন নিজের দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর তাকবীর তাহরীমা বলতেন। তিনি রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে উঠার সময়ও কাঁধ পর্যন্ত দুই (আল্লাহু আকবার) হাত তুলতেন। কিন্তু সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি (এরূপ) করতেন না।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহযায .... যুহরী এর সূত্রে উক্ত সনদে ইবন জুরায়জ এর অবিকল বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাতে দাড়াতেন, দুই হাত কাঁধ বরাবর উচু করতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীরে তাহরীমা করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ কিলাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবন হুওয়াইরিস কে দেখলেন যে, তিনি যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখনও উভয় হাত উত্তোলন করলেন এবং যখন রুকূ থেকে মাথা তুললেন তখনো হাত উত্তোলন করলেন। তিনি আরো বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করতেন।

আবূ কালিম আল জাহদারী .... মালিক ইবন হুওয়াইরিস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূতে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন "সামিআল্ল-হ লিমান হামিদাহ" বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... কাতাদাহ হতে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মালিক ইবন হুওয়াইরিস বলেন যে, তিনি নবী (ﷺ) কে কানের লতি বরাবর হাত তুলতে দেখেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ তাদের সালাত আদায় করে দেখাতেন। তিনি প্রতিবার ঝুকে পড়ার সময় এবং সোজা হওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি সালাত শেষে বলতেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাতে দাড়াতেন আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকূতে যেতেন। তিনি রুকু থেকে পিঠ সোজা করে দাড়ানাের সময় "সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ" (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন) বলতেন। অতঃপর দাড়ানো অবস্থায় "রাব্বানা লাকাল হামদ" (হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা) বলতেন। তিনি তাকবীর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাকআতে সালাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ বললেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাতের জন্য দাড়াতেন তখন তাকবীর বলে সালাত শুরু করতেন। .... উপরের (ইবন খুরায়য-এর) হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ বর্ণনায় আবূ হুরাইরার কথা, "আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি" কথাটুকু উল্লেখ নেই।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। মারওয়ান যখন আবূ হুরাইরাহ কে মদীনায় খলীফা নিযুক্ত করলেন- তিনি যখন ফরয সালাতে দাড়াতেন তখন তাকবীর বলে শুরু করতেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। উক্ত হাদীসেই রয়েছে, তিনি সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে মসজিদে উপস্থিত লোকেদের দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী .... আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ সালাতের মধ্যে যখনই ঝুকতেন অথবা উঠতেন তাকবীর বলতেন। আমরা বললাম, হে আবূ হুরাইরাহ! এটা কিসের তাকবীর? তিনি বললেন, এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের তাকবীর।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি প্রতিবার উঠা-বসায় তাকবীর বলতেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনই করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মুতাররিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবন হুসায়ন আলী এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সাজদায় যেতেন আল্লাহু আকবার বলতেন, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখনও "আল্লাহু আকবার" বলতেন এবং দুই রাকাআত পূর্ণ করে (তাশাহুদ পড়ার পর) উঠার সময়ও আল্লাহু আকবার বলতেন। আমরা যখন সালাত শেষ করলাম, ইমরান আমার হাত ধরে বললেন, তিনি (আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর অনুরূপ সালাত আদায় করালেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বললেন, তিনি (আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... উবাদাহ ইবন সামিত থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (সালাতে) সূরাহ্‌ ফা-তিহাহ্‌ পাঠ করে না তার সালাতই হয় না।

আবূ তাহির, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উবাদাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে উম্মুল কুরআন (ফা-তিহাহ্‌) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না।

আল হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... উবাদাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে লোক উম্মুল কুরআন (ফা-তিহাহ্‌) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম এবং আবদ ইবন হুমায়দ এর সূত্রে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রাযযাক। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মামার যুহরী হতে উক্তরূপ।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে উন্মুল কুরআন (ফা-তিহাহ্‌) পাঠ করেনি তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল, পূর্ণাঙ্গ হল না। এ কথাটা তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমরা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে আমি সালাতকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি এবং আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তাআলা তখন বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, "আররাহমানির রাহিম" (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বান্দা আমার প্রশংসা করেছে, গুণগান করেছে। সে যখন বলে, "মালিকি ইয়াওমিদ্দিন" (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, "ইয়্যাকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকানাস্তাইন" (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন। এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে, "ইহ্দিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন" আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের আপনি নিআমাত দান করেছেন, তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়। সুফইয়ান বলেন, আমি আলা ইবন আবদুর রহমান ইবন ইয়াকূবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করে শুনান। এ সময় তিনি রোগশয্যায় ছিলেন এবং আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি (আগের হাদীসের ন্যায়)।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে সূরাহ ফা-তিহাহ্‌ পাঠ করল না .. সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ। তাদের উভয়ের হাদীসে রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি, এর অর্ধেক আমার এবং আর অর্ধেক আমার বান্দার।

আহমাদ ইবন জা'ফার আল মাফিরী ... আবূ হুরাইরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সালাত আদায় করল, কিন্তু তাতে ফাতিহাতুল কিতাব (ফা-তিহাহ্‌) পাঠ করল না- তার এ সালাত ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তাদের হাদীসের অনুরূপ।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কুরআন পাঠ ছাড়া সালাতই হয় না। আবূ হুরাইরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সালাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করেছেন আমরাও তাতে তোমাদের জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করি। তিনি যে সালাতে চুপে চুপে কিরাআত পাঠ করেছেন আমরাও তাতে তোমাদের জন্য চুপে চুপে কিরাআত পাঠ করি।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আতা হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, সালাতের প্রতি রাকাআতে কুরআন থেকে পাঠ হবে (আমরা পাঠ করি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সালাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করেছেন, আমরাও সে সালাতে তোমাদের শুনিয়ে কুরআন পাঠ করি এবং যে সালাতে চুপিসারে কুরআন পাঠ করেছেন সে সালাতে আমরাও চুপিসারে কুরআন পাঠ করি। একজন লোক তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যদি সূরাহ ফা-তিহার বেশি না পড়ি তবে কি আমার সালাত যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, তুমি যদি সূরাহ ফাতিহার পর আরো আয়াত পাঠ কর তবে এটা তোমার জন্য কল্যাণকর আর যদি তুমি সূরাহ ফা-তিহাহ্‌ পাঠ করেই থেমে যাও তবে সেটাও তোমার জন্য যথেষ্ট।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আতা হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পাঠ করতে হবে। নবী (ﷺ) যে সালাতে আমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করি। তিনি যে সালাতে আওয়াজ না করে চুপিসারে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের না শুনিয়ে নিম্নস্বরে কিরাআত পাঠ করি। যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহাহ পাঠ করল তা তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আরো সূরাহ পাঠ করল, এটা তার জন্য বেশি ভাল।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন, অতঃপর এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে এসে তাকে সালাম দিলে তিনি তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেনঃ যাও পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ওয়া আলাইকাস সালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ যাও তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তোমার সালাত আদায় হয়নি। তিনি পরপর তিনবার তাকে এ রকম নির্দেশ দিলেন। অতঃপর লোকটি বলল, সে সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন; আমি এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যখন সালাতে দাড়াও, তাকবীর বল, অতঃপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাজে সহজ মনে হয় তা থেকে পাঠ কর। অতঃপর রুকূতে যাও এবং শান্তভাবে রুকূতে থাক। অতঃপর রুকূ থেকে সোজা মনে দাড়াও, অতঃপর সাজদায় যাও এবং সাজদার মধ্যে শান্তভাবে থাক, অতঃপর সিজদা থেকে উঠে আরামে বস। সমস্ত সালাত তুমি এভাবে আদায় কর।

আবূ বকর ইবন শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত আছে। এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মসজিদের) এক প্রান্তে বসা ছিলেন, হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বের হাদীসের মতোই। কিন্তু এ বর্ণনায় আরো আছেঃ তুমি যখন সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ কর তখন ভাল করে ওযু করে নাও। অতঃপর কিবলামুখী হও, অতঃপর আল্লাহু আকবার বল।

সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যুহর অথবা আসর এর সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে আমার পিছনে (আল আলা) পাঠ করেছ? এক ব্যক্তি বলল, আমি। এর মাধ্যমে কল্যাণই কামনা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছ থেকে কুরআন ছিনিয়ে নিচ্ছে।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এক লোক তার পিছনে সূরাহ "সাব্বিহিসমা রাবিকাল আ'লা" পাঠ করল। সালাত শেষে নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কে সূরাহ পাঠ করেছে? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেনঃ আমি অনুসন্ধান করেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) পাঠ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) ছিনিয়ে নিচ্ছো।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বকর, উমার ও উসমান এর সাথে সালাত আদায় করেছি। আমি তাদের কাউকে "বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম" (সশব্দে) পড়তে শুনিনি

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি উপরের হাদীসটি আনাস এর কাছে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, আমরা তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের এ হাদীস শুনান।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রায়ী .... আবদাহ থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবন খাত্তাব এ কথাগুলি উচ্চস্বরে পড়েতেন "হে আল্লাহ! তোমারই পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং তোমারই শুকর আদায় করি, তোমার নাম বড়ই বারাকাতপূর্ণ, তোমার মর্যাদা সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া আর কেউ মাবূদ নেই।" কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, আনাস ইবন মালিক তাকে বলেছেনঃ আমি নবী (ﷺ) ও আবূ বকর, উমার, উসমান এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তারা সকলে সালাতে "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" দিয়ে শুরু করতেন। তারা কিরাআতের শুরুতেও "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পড়তেন না, শেষেও না।

মুহাম্মাদ ইবন মিহরান .... ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ তালহাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি আনাস ইবন মালিক কে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন

আলী ইবন হুজুর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ তার উপর অচৈতন্য ভাব চেপে বসল। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি বললেনঃ এ মাত্র আমার উপর একটি সূরাহ অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি পাঠ করলেনঃ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম'৷ নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে কাওসার দান করেছি। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় কর এবং কুরবানী দাও। তোমার কুৎসা রটনাকারীরাই মূলত শিকড়কাটা, নির্মূল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান কাওসার কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ঝর্ণা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেয়ার জন্য ওয়া'দা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে, আমার উম্মতের লোকেরা কিয়ামতের দিন এ হাওযের পানি পান করতে আসবে। এ হাওযে রয়েছে তারকার মত অসংখ্য পানপাত্র (গ্লাস)। এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি তখন বলবঃ প্রভু! সে আমার উম্মতেরই লোক। আমাকে তখন বলা হবে, তুমি জান না, তোমার মৃত্যুর পর এরা কী অভিনব কাজ (বিদআত) করেছে। ইবন হুজরের বর্ণনায় আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আমাদের কাছে এসেছেন এবং আল্লাহ বলবেন, এ ব্যক্তি আপনার পরে বিদআত চালু করেছে।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি ইবন মুসহির বর্ণিত (উপরোল্লিখিত) হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর অচেতন ভাব দেখা গেল। .... ইবন মুসহির এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, কাওসার একটি সুন্দর ঝর্ণার নাম। আমার প্রতিপালক জান্নাতের এ ঝর্ণাধারা আমাকে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এ বর্ণনায় "তারকার মতো অসংখ্য পানপাত্রের' কথা উল্লেখ নেই।

যুহায়র ইবন হারব .... ওয়ায়িল ইবন হুজর থেকে বর্ণিত আছে। তিনি নবী (ﷺ) কে দেখলেন, তিনি সালাত শুরু করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবীর বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন; অতঃপর চাঁদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বা হাতের উপর রাখলেন। তিনি যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতঃপর উভয় হাত উত্তোলন করলেন, অতঃপর তাকবীর বলে রুকূতে গেলেন, তিনি যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বললেন দু'হাত উঠালেন। তিনি যখন সাজদায় গেলেন, দু' হাতের মাঝখানে সিজদা করলেন

যুহারর ইবন হারব, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করার সময় (বৈঠকে) বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলে, "আত্তাহিয়াতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত তাইয়িবা-তু আসসালা-মু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকুহু আসসালা-মু আলাইনা- ওয়াআলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন" "যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।" যখন সে এ কথাগুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। (অতঃপর বলবে) "আশ্বহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসূলুহু" "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল।" অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দোয়া পড়তে পারে।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মানসূর হতে উল্লেখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় "অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দোয়া পড়তে পারে" এ কথাটুকু উল্লেখ নেই।

আবদ ইবন হুমায়দ এর সনদে মানসূর হতে একই হাদীস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হচ্ছেঃ অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দোয়া পড়তে পারে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নবী (ﷺ) এর সাথে সালাতের মধ্যে বসতাম... মানসূরের হাদীসের অনুরূপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দোয়া পাঠ করবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত তার উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, (অধস্তন রাবী আবদুল্লাহ ইবন সাখবারাহ বলেন), অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি (ইবন মাসউদ) অনুরূপ তাশাহ্‌হুদের বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যা-তুল মুবা-রাকা-তুস্ সলাওয়া-তুত তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হিস্ সালা-মু আলাইকা আইয়ুহান্‌ নাবিইয়্যু ওয়ারহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহ আসসালা-মু আলাইনা ওয়াআলা- 'ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশ্‌হাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। "যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা, প্রাচুর্য, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী। আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" ইবন রুমহ এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন।

সাঈদ ইবন মানসূর, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ কামিল আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল উমাবী ... হিত্‌তান ইবন আবদুল্লাহ আর রাকাশী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশআরী এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহ্‌হুদে বসলেন, জামাআতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে। রাবী বলেন, আবূ মূসা সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নীরব থাকল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, হে হিততান সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি (হিত্তান) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্য রেগে যান কি-না! এমন সময় লোকেদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, আমি এরূপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবূ মূসা বললেন, নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন "গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যোল্লীন" বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকূতে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকূতে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকূতে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে, তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলবে, আল্লাহ তোমাদের এ কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তাআলা তার নবী (ﷺ) এর ভাষায় বলছেনঃ "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজদা থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সিজদা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ আত্তাহিয়াতুত তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু আলাইকা আইয়ুহান নবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ আসসালামু আলাইনা- ওয়াআলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।" সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর দাস ও তার দূত।"

আবূ বকর আবূ শাইবাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... কাতাদাহ্ হতে এ সূত্রেও একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সূত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবূ আওয়ানার সূত্রে কেবল আবূ কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলছেন, "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। আবূ ইসহাক বলেন, আবূ নাযর-এর বোনের ছেলে আবূ বকর বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ইমাম মুসলিম তাকে বললেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবূ বকর তাকে বললেন, আবূ হুরাইরাহ-এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বললেন, তার বর্ণনা সহীহ ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ইমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবূ বকর বললেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করি না। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... কাতাদাহ্ হতে উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী (ﷺ)-এর ভাষায় বলেনঃ "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আবূ মাসউদ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সা'দ ইবন উবাদাহ এর বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। বাশীর ইবন সা'দ তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনার উপর দুরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আফসোস করে বললাম, সে যদি তাকে এ প্রশ্ন না করত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা বল- "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ" "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো যেভাবে তুমি ইবরাহীম-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো যেভাবে তুমি ইবরাহীম এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।" আর সালাম দেয়ার নিয়ম যা তোমরা ইতিপূর্বে জেনেছ।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইবন আবূ লাইলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাব ইবন উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন, আমরা বললাম, আমরা আপনাকে কিভাবে সালাম করব তা জানতে পেরেছি কিন্তু আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমর বল, আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইত আলা- আ-লি ইবরহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা রা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রাকতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তার বংশধরদের উপর ঐরূপ রহমত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তার বংশধরদের উপর ঐরূপ বারাকাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।"

যুহায়র ইবন হারব, আবূ কুরায়ব .... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মিসআরের বর্ণনায় আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না' কথাটুকু নেই।

মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার .... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে "ওয়া বা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন" উল্লেখ করেছেন এবং "আল্লাহুম্মা" শব্দের উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন নুমায়র ও আমর ইবন সুলায়ম বলেন, আবূ হুমায়দ আস সাইদী আমাকে অবহিত করেছেন যে, তারা (সাহাবাগণ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পড়বো? তিনি বললেনঃ বল, "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা- সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-বা-রকতা আলা- আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তার বিবিগণ এবং তার বংশধরগণের প্রতি রহমত বর্ষণ কর, যেভাবে তুমি রহমত বর্ষণ করেছ ইবরাহীম এর পরিজনের প্রতি- তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মদ (ﷺ) ও তার বিবিগণের প্রতি যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম-এর পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইমাম যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বল। কেননা যার এ কথা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) কথার সাথে মিলে যাবে তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

কুতাইবা ইবন সাঈদ ..... এ সানাদেও আবূ হুরাইরাহ থেকে নবী (ﷺ) এর নিকট থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইমাম যখন 'আ-মীন' বলে, তোমরাও তখন 'আ-মীন' বল। কেননা যার 'আ-মীন' বলা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যাবে তার আগেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবন শিহাব বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আ-মীন' বলতেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি .... উপরের (মালিকের) হাদীসের অবিকল। কিন্তু এ বর্ণনায় ইবন শিহাবের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে আ-মীন' বলল এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও (ফেরেশতারাও) 'আ-মীন' বলল। একজনের 'আ-মীন' এর সাথে আরেকজনের "আ-মীন মিলে গেল। তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন 'আ-মীন' বলে এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও (ফেরেশতারাও) 'আ-মীন' বলে। উভয়ের "আ-মীন যদি একই সাথে মিলে যায়, তবে আল্লাহ তার আগের গুনাহ মাফ করে দিবেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে নবী (ﷺ)-এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারী (ইমাম) যখন সালাতে "গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লিন" বলে তখন তার পিছনের লোকেরাও (মুক্তাদীগণ) (আ-মীন) বলবে। তাদের এ কথা আকাশমণ্ডলীর অধিবাসী মালায়িকাদের কথার সাথে একত্রে উচ্চারিত হলে, তাদের (মুক্তাদী) পিছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আহত হল। আমরা তাকে দেখতে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। তিনি আমাদের নিয়ে বসে বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার পিছনে বসে বসে সালাত আদায় করলাম। তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম এজন্যই বানানো হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে। অতএব সে যখন আল্লাহু আকবার বলে তোমরাও "আল্লাহু আকবার" বল। সে যখন সিজদা করে, তোমরাও সিজদা কর। সে যখন হাত উচু করে দাড়ায় তোমরাও হাত উচু করে দাড়াও। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে, তোমরা তখন "রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বল। সে যখন বসে সালাত আদায় করে (ইমামতি করে), তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় কর।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হলেন। তিনি বসে বসে আমাদের সালাত আদায় করালেন। ..... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আহত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন দাড়িয়ে পড়ে, তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় কর।

ইবন আবূ উমর .... আনাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ায় সওয়ার হলেন। তিনি এর পিঠ থেকে নিচে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আঘাতপ্রাপ্ত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছেঃ সে (ইমাম) যখন দাড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় কর।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে তার শরীরের ডানপাশে আঘাত পেলেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় ইউনুস ও মালিকের বর্ধিত বর্ণনাটুকু নেই।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হলেন। সাহাবাদের কিছু সংখ্যক লোক তাকে দেখতে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে বসে সালাত আদায় করলেন। তারা তার সাথে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে শুরু করলে তিনি তাদেরকে ইশারায় বললেনঃ তোমরা বসে যাও। তারা বসে গেলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সে যখন রুকূতে যাবে তোমরাও তখন রুকূতে যাবে। সে যখন মাথা উঠাবে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে। সে যখন বসে বসে সালাত আদায় করবে তোমরাও বসে বসে সালাত আদায় করবে।

আবূ রাবী আয যাহরানী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ হতে উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তার পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বকর লোকদেরকে তার তাকবীর জোরে শুনিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে খেয়াল করে আমাদেরকে দাড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি আমাদের ইশারা করলেন। সেজন্য আমরা বসে গেলাম। আমরা তার সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ তোমরা পারস্য ও রোমের (সাম্রাজ্যের) লোকেদের মতোই করতে যাচ্ছিলে। তাদের বাদশারা বসে থাকে আর তারা দাড়িয়ে থাকে। তোমরা কখনো এমন করো না। সবসময় তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। সে যদি দাড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে। সে যদি বসে সালাত আদায় করে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাত আদায় করালেন। আবূ বকর তার পিছনেই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাকবীর বললেন, আবূ বকর আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে তাকবীর বললেন। .... হাদীসের অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইমাম এজন্য নিযুক্ত করা হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে, তোমরা কখনো তার উল্টো করো না। সে যখন আল্লাহু আকবার বলে, তোমরাও "আল্লাহু আকবার বলো। সে যখন রুকু করে, তোমরাও তখন রুকূ করো। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরাও তখন আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ' বলো। সে যখন সাজদায় যায়, তোমরাও তখন সাজদায় যাও। সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় করো।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছ থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (সালাতের) শিক্ষা দিয়ে বলতেনঃ ইমামের আগে কোন কাজ করে না। সে যখন আল্লাহু আকবার বলে, তোমরা আল্লাহু আকবার বলো। সে যখন, "ওয়ালায যোয়া-ল্লীন বলে, তোমরাও তখন আ-মীন বলো। সে যখন রুকূতে যায়, তোমরাও তখন রুকূতে যাও। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরা তখন আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ' বলো।

কুতাইবাহ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনায় ইমামের ওয়ালায যোয়া-ল্লীন' বলার পর 'আ-মীন' বলার কথা উল্লেখ নেই। তবে এতে আরো আছে, তোমরা ইমামের আগে হাত উঠাবে না।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম ঢাল স্বরূপ। সে যখন বসে বসে সালাত আদায় করে তোমরাও বসে বসে সালাত আদায় করো। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে তোমরা তখন আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ' বলো। জমিনবাসীর কথা আকাশমণ্ডলীর (ফেরেশতার) কথার সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হলে আল্লাহ তার (বান্দার) পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন।

আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম এজন্য নিয়োগ করা হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে। সে যখন তাকবীর বলে- তোমরাও তাকবীর বলো। সে যখন সিজদা করে, তোমরাও সিজদা করো। সে যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে- তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলো। সে যখন দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় করো। সে যখন বসে সালাত আদায় করে তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় করো।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম, আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (মৃত্যুকালীন) রোগের অবস্থা বর্ণনা করবেন কি? তিনি বললেন, হ্যা। নবী (ﷺ) এর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা সালাত আদায় করেছে কি? আমরা বললাম, না, আল্লাহর রাসুল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন, অতঃপর উঠতে গিয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, না তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি (ﷺ) বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেনঃ আমার জন্য পাত্রে করে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করে উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার অপেক্ষায় আছে। আয়িশাহ বলেন, লোকেরা ইশার সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপেক্ষায় বসেছিল। আয়িশাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকরের কাছে লোক পাঠালেন। সংবাদ বাহক (আবূ বকরের কাছে) এসে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বকর ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি বললেন, হে উমার! লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করো। উমর বললেন, এজন্য আপনিই অধিক উপযুক্ত। আয়িশাহ বলেন, এ কয়দিন আবূ বকর সালাত আদায় করালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থ হলেন। তিনি দু'জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যুহরের সালাত আদায় করতে বের হলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস। ইতিমধ্যে আবূ বকর লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করে দিয়েছিলেন, আবূ বকর তাকে আসতে দেখে পিছে সরে আসতে উদ্যত হলেন। নবী (ﷺ) তাকে ইশারায় বললেনঃ পিছনে হটে এসো না। তিনি তাদের উভয়কে বললেন, আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাকে আবূ বকর-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবূ বকর দাড়িয়ে নবী (ﷺ) এর অনুকরণে সালাত আদায় করলেন এবং লোকেরা আবূ বকর এর অনুকরণে সালাত আদায় করল। নবী (ﷺ) বসেই সালাত আদায় করলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম, নবী (ﷺ) এর অসুখ সম্পর্কে আয়িশাহ যা বলেছেন, আমি কি তা আপনার সামনে পেশ করব না? তিনি বললেন, হ্যা, বলো। আমি তার কাছে আয়িশাহ এর দেয়া বিবরণ তুলে ধরলাম। তিনি সামান্যতমও দ্বিমত করলেন না। শুধু বললেন, "আব্বাস এর সাথে যে অপর ব্যক্তি ছিল, তিনি কি তোমাকে তার নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন আলী।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বপ্রথম মাইমূনাহ-এর ঘরে রোগাক্রান্ত হন। তিনি সেবা-শুশ্ৰুষার জন্য তার [আয়িশাহ-এর] ঘরে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের স্ত্রীদের অনুমতি চাইলেন। তারা তাকে অনুমতি দিলেন। আয়িশাহ বলেন, তিনি এক হাত ফাযল ইবন আব্বাস এর কাঁধের উপর রেখে এবং অপর হাত অন্য এক ব্যক্তির কাঁধের উপর রেখে সামনে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে) গেলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি ইবন আব্বাস-এর কাছে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি জানো, আয়িশাহ যার নাম বলেননি তিনি কে? তিনি হলেন আলী।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং উত্তরোত্তর তা বাড়তে থাকল, তিনি তার স্ত্রীদের কাছে সেবা শুশ্ৰুষার জন্য আমার ঘরে আসার এবং থাকার অনুমতি চইলেন। তারা তাকে অনুমতি দিলেন। তিনি আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং অপর এক ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে মাটিতে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (মসজিদে সালাত আদায় করতে) গেলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি আয়িশাহ্ এর বর্ণনা ইবন আব্বাস-এর নিকট পেশ করলাম। ইবন আব্বাস আমাকে বললেন, আয়িশাহ যে (দ্বিতীয়) ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি তুমি তাকে চিনতে পেরেছ কি? উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, না। ইবন আব্বাস বললেন, তিনি হলেন আলী।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবূ বকর-কে ইমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে] আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তার স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশে আমি কথা কাটাকাটি করিনি। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তার স্থলাভিষিক্ত হবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ অবস্থায় আমার ঘরে এসে বললেনঃ আবূ বকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর হলেন কোমল হৃদয়ের লোক। কুরআন পাঠ করার সময় তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারবেন না। আপনি যদি আবূ বকর-কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন। আয়িশাহ বলেন, আল্লাহর শপথ আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমার আশঙ্কা ছিল, লোকেরা কুলক্ষণ মনে করবে যে, এ সে ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আয়িশাহ বলেন, আমি দু'-তিনবার আমার কথার পুনরাবৃত্তি বললাম। কিন্তু তিনি আগের মতই বললেনঃ আবূ বকর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুক। তোমরা তো ইউসুফ-এর ঘটনার মহিলাদের মতো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বিলাল এসে তাকে সালাতের কথা জানালেন। তিনি বললেনঃ আবূ বকর-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো। বর্ণনাকারী [আয়িশাহ্] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাড়াবে লোকেদের (কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। আপনি যদি উমার-কে নির্দেশ দিতেন। বর্ণনাকারী আয়িশাহ বলেন, আমি হাফসাহ কে বললাম- তুমিও তাকে বলো। হাফসাহ্ তাকে বলল, আবূ বকর কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থলে দাড়াবে, লোকদের (কিরাআত) শুনাতে সক্ষম হবেন না। আপনি যদি উমার-কে নির্দেশ দিতেন! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সাখী মহিলাদের মতই। আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করতে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। বর্ণনাকারী [আয়িশাহ] বলেন, তিনি দাড়িয়ে দু'ব্যক্তির কাধে ভর দিয়ে (মসজিদে) রওয়ানা হলেন। তার দু'পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। আয়িশাহ বলেন, তিনি যখন মসজিদে ঢুকলেন আবূ বকর তার আগমন অনুভব করে পিছে সরে আসতে প্রস্তুত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইশারায় বললেনঃ নিজের স্থানে দাড়িয়ে থাকো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে আবূ বকরের বাম পাশে বসলেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে বসে লোকেদের সালাত আদায় করালেন এবং আবূ বকর দাড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আবূ বকর নবী (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অনুসরণ করলেন আর লোকেরা আবূ বকরের সালাতের অনুসরণ করল।

মিনজাব ইবন আল হারিস আত তামীমী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক ও মিনজাবের বর্ণনায় আছেঃ "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তার মৃত্যুর রোগে আক্রান্ত হলেন।" ইবন মুসহিরের বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে আসা হলো এবং তার (আবূ বকরের) পাশে বসিয়ে দেয়া হলো। নবী (ﷺ) লোকদের সালাত আদায় করালেন এবং আবূ বকর তাদেরকে তাকবীর শুনালেন। ঈসার বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসলেন এবং লোকেদের সালাত আদায় করালেন। আবূ বকর তার পাশেই ছিলেন। আবূ বকর লোকেদের মুকাব্বির হলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার অসুস্থাবস্থায় আবূ বকরকে লোকেদের সালাতের ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তিনি তাদের সালাত আদায় করাতেন। উরওয়াহ্ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। তিনি সালাত আদায় করার জন্য বের হলেন। তখন আবূ বকর লোকেদের ইমামতি করছিলেন। আবূ বকর তার আগমন বুঝতে পেরে পিছু হটতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইশারায় বললেনঃ যেভাবে আছ সেভাবেই থাকো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোজাসুজি আবূ বকরের পাশে বসে গেলেন। সালাতের মধ্যে আবূ বকর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণ করলেন এবং লোকেরা আবূ বকরের অনুসরণ করল।

আমর আন নাকিদ ও হাসান আল হুলওয়ানী এবং আবদ ইবন হুমায়দ ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবূ বকর তাদের সালাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা সালাতের লাইনে দাড়ানো ছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তার মুখমণ্ডল মুসহাফ তথা কুরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। আমরা সালাতের মধ্যে থেকেই নবী (ﷺ)-এর আগমন অনুভব করে খুশীতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আবূ বকর অনুমান করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের হুজরায়) প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সোমবার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে শেষবারের মতো দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরিয়ে ছিলেন। এ মর্মে সালিহ-এর হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সোমবার দিন হলো, .... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন আল মুসান্না .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তিন দিন যাবৎ আমাদের কাছে আসতে পারেননি। সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো। আবূ বকর সামনে এগুতে যাচ্ছিলেন। নবী (ﷺ) নিজের হুজরার পর্দা উঠাতে বলে তিনি নিজেই তা উঠিয়ে ফেললেন। আমাদের সামনে নবী (ﷺ)-এর চেহারা দেখা গেল। তিনি যখন আমাদের জন্য দেখা দিলেন, তার চেহারা এত সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমরা ইতোপূর্বে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। রাবী (আনাস) বলেন, নবী (ﷺ) নিজের হাতের ইশারায় আবূ বকরকে সামনে এগিয়ে যেয়ে সালাত পড়াতে বললেন। অতঃপর আল্লাহর নবী (ﷺ) পর্দা টেনে দিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি আর বাইরে বের হতে পারেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং তা দিন দিন বাড়তে লাগল। তিনি বললেনঃ আবূ বকর-কে লোকেদের সালাতে ইমামাত করতে বলো। আয়িশাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর নরম হৃদয়ের মানুষ। আপনার জায়গায় দাড়িয়ে লোকদের সালাত পড়ানোর শক্তি তার নেই। তিনি বললেন, আবূ বকরকে নির্দেশ দাও, সে যেন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। তোমরা তো ইউসুফের ঘটনা সংক্রান্ত মহিলাদের মতই। রাবী বলেন, অতঃপর আবূ বকর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবিত থাকাবস্থায় তাদের সালাতে ইমামাত করলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সাহল ইবন সা'দ আস্ সাইদী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানী আমর ইবন আওফ গোত্রের মধ্যে (তাদের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। সালাতের সময় হয়ে আসলো। মুয়াযযিন এসে আবূ বকর-কে বলল, আপনি কি লোকেদের সালাত আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামাত দেই। তিনি বললেন, হ্যা। রাবী বলেন, আবূ বকর সালাত আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে গেলেন। তখন লোকেরা সালাত আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবূ বকর সালাতরত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশী তালি বাজাতে লাগল, তিনি এদিকে ফিরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো। আবূ বকর তার দু'হাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর আবূ বকর পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত সমাপ্ত করে তিনি বললেন, হে আবূ বকর! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আবূ বকর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপস্থিতিতে আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য সালাতে ইমামাত করা কক্ষনো মানায় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সালাতে কোন কিছু ঘটলে সে সুবহানাল্লাহ' বলবে। সে যখন সুবহানাল্লাহ বলল তখনই ইমামের কিছু আকর্ষণ করা হলো মহিলারাই কেবল তাসফীহ (হাততালি) দিবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ হতে মালিক-এর সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ আবূ বকর উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন।'

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাযী .... সাহল ইবন সা'দ আস সাইদী হতে উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) বানী আমর ইবন আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করতে গেলেন। .... পরবর্তী বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিছনের লাইন ভেঙ্গে সামনের লাইনে আসলেন। আর আবূ বকর উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুগীরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তার উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তার উভয় হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নীচের দিক দিয়ে বাইরে বের করলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। মুগীরাহ বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌছে দেখলাম, লোকেরা আবদুর রহমান ইবন আওফকে সামনে দিয়ে (তাকে ইমাম বানিয়ে) সালাত আদায় করছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাকাআত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জামাআতে আদায় করলেন। আবদুর রহমান ইবন আওফ সালাম ফিরানোর পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করার জন্য দাড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যধিক পরিমাণে তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। নবী (ﷺ) সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশীর সাথে বললেনঃ তোমরা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করো।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আল হুলওয়ানী .... হামযাহ ইবন মুগীরাহ হতে আব্বাদ-এর হাদীদের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরাহ বলেন, আমি আবদু রহমান ইবন আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং মহিলাদের জন্য তাসফীক (হাততালি)। হারমালাহ্ তার বর্ণনায় আরো বলেছেন, ইবন শিহাব বলেছেন, আমি কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আলিমকে দেখেছি তারা তাসবীহ বলতেন এবং ইশারা করতেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে এ সূত্রেও পূর্বের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে "সালাতের মধ্যে" কথাটুকু উল্লেখ আছে।

আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করে পিছনে ফিরে বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি! তুমি কি সুষ্ঠুভাবে তোমার সালাত আদায় করবে না? সালাত আদায়কারী কিভাবে তার সালাত আদায় করে তা কি সে দেখে না? কেননা, সে নিজের উপকারের জন্যই সালাত আদায় করে। আল্লাহর শপথ আমি সামনের দিকে যেভাবে দেখতে পাই পিছনেও সে মতই দেখতে পাই।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কি মনে করছ আমি শুধু আমার কিবলামুখী হয়ে আছি? আল্লাহর শপথ! তোমাদের রুকূ-সিজদা কিছুই আমার কাছে গোপন নয়। আমি আমার পিছন থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা রুকূ-সিজদা ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখি। আবার কখনো তিনি বলেছেনঃ তোমরা যখন রুকূ-সিজদা করো, আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ রুকূ-সিজদা ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ! তোমরা যখনই রুকূ-সিজদা করো, আমি আমার পিছন থেকে তোমাদের দেখতে পাই। সাঈদের বর্ণনায় আছেঃ যখন তোমরা রুকু ও সিজদা করো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাত আদায় করালেন। তিনি সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বলেনঃ হে লোকেরা! আমি তোমাদের ইমাম। অতএব, তোমরা আমার আগে রুকূ-সাজদায়, উঠা-বসা করবে না অতঃপর তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! আমি যা দেখতে পাই, তোমরাও যদি তা দেখতে পেতে তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি দেখতে পান? তিনি বললেনঃ আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখতে পাই।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, ইবন নুমায়র ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আনাস হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে "ওয়ালা বিইংসিরাফ" কথাটুকুর উল্লেখ নেই।

খালাফ ইবন হিশাম, আবূ রাবী আয যাহরানী ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (রুকূ-সিজদা থেকে) ইমামের আগে মাথা উঠায় তার কী (এ কাজের জন্য) ভয় হয় না যে, আল্লাহ তার মাথা গাধার মাথার মতো করে দিবেন।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে ইমামের আগে মাথা তোলে, আল্লাহ তার আকৃতিকে গাধার আকৃতির মতো করে দিবেন- এ ব্যাপারে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে নাকি?

আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম আল জুমাহী, আবদুর রাহমান ইবন রাবী ইবন মুসলিম ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, আবূ বকর ইবন শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী ইবন মুসলিম-এর বর্ণনায় এ হাদীসের শেষের অংশ নিম্নরূপঃ আল্লাহ তার মুখমণ্ডল গাধার মুখমণ্ডলের মতোই করে দিবেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যেসব লোক সালাতের মধ্যে আকাশের দিকে তাকায় তাদের এমন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না।

আবূ তাহির ও আমর ইবন সাওওয়াদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লোকেদের উচিত, তারা যেন সালাতের মধ্যে দোয়ার সময় আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখি কেন? মনে হয় যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায় করো, নড়াচড়া করো না। রাবী বলেন, তিনি আরেক দিন বের হয়ে আমাদের গোলাকারে দেখে বললেনঃ আমি তোমাদের পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন দেখছি কেন? রাবী বলেন, তিনি পুনরায় বের হয়ে এসে বললেনঃ মালায়িকারা (ফেরেশতারা) যেভাবে তাদের প্রতিপালকের সামনে লাইন বেধে দাড়ায় তোমরা কি সেভাবে লাইন বাধবে না? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হন? তিনি বললেনঃ তারা প্রথম লাইন (আগে) পূর্ণ করে এবং পরস্পরের সাথে মিলে দাড়ায়।

আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ হতে এ সনদেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতাম তখন, আসসালা-মু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ' আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ' বলে সালাত শেষ করতাম। তিনি (জাবির) হাত দিয়ে উভয় দিকে ইশারা করে দেখালেন। (সালামের সাথে সাথে হাতে ইশারাও করা হত)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা (সালামের সময়) দুষ্ট ঘোড়ার লেজ ঘুরানোর মতো দু'হাত দিয়ে ইশারা করো কেন? তোমরা উরুর উপর হাত রেখে ডানে-বায়ে মুখ ফিরিয়ে তোমাদের ভাইদের সালাম দিবে। এরূপ করাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।

কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করেছি। আমরা যখন সালাম ফিরাতাম হাত দিয়ে ইশারা করে বলতাম, আসসালা-মু আলাইকুম, আসসালা-মু আলাইকুম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেনঃ কি ব্যাপার তোমরা হাত দিয়ে ইশারা করছ, মনে হচ্ছে যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। তোমাদের কেউ যখন সালাম করে সে যেন তার সাথের লোকের দিকে ফিরে সালাম করে এবং হাত দিয়ে ইশারা না করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা সোজাসুজি দাড়াও এবং আগে পিছে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দাড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর মতভেদে লিপ্ত হয়ে পড়বে। বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা আমার কাছাকাছি দাড়াবে। অতঃপর এ গুণে যারা তাদের নিকটবর্তী তারা পর্যায়ক্রমে এদের কাছাকাছি দাড়াবে। আবূ মাসউদ বলেন, কিন্তু আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ-বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

ইসহাক, ইবন খাশরাম ও ইবন আবূ উমার .... ইবন উয়াইনাহ হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী ও সালিহ ইবন হাতিম ইবন ওয়ারদান .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও জ্ঞানী লোকেরা আমার নিকটবর্তী হয়ে দাড়াবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাদের কাছাকাছি যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা দাড়াবে। তিনি এ কথা তিনবার বলেছেন। সাবধান! তোমরা (মসজিদে) বাজারের মতো শোরগোল করবে না।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সালাতের লাইনগুলো সোজা কর। কেননা লাইন সোজা করা সালাত পুরোপুরিভাবে আদায় করার অন্তর্ভুক্ত।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সালাতের লাইন পূর্ণ কর। আমি আমার পিছন দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সালাতের লাইন সোজা করো। কেননা সঠিকভাবে লাইন সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা (সালাতে) নিজেদের লাইনগুলো অবশ্যই সোজা করে (দাড়াবে) সাজাবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডলকে বিকৃত করে দিবেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নুমান ইবন বশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের (সালাতের) লাইনগুলো সোজা করে দিতেন, মনে হত তিনি যেন কামানের কাঠ সোজা করছেন। যতক্ষণ না বুঝতে পারতেন যে, আমরা তার থেকে পুরোপুরি বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। অতঃপর তিনি স্বস্থানে দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন এক ব্যক্তি কাতার থেকে সামনে এগিয়ে আছে, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণ তোমাদের লাইন সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডল বিকৃত করে দিবেন।

হাসান ইবন রাবী, আবূ বকর ইবন শইবাহ্ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ আবূ আওয়ানাহ্ হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আযান দেয়া এবং প্রথম লাইনে দাড়ানোর মধ্যে যে কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি মানুষ জানতে পারত, তবে তা পাবার জন্য তারা প্রয়োজনবোধে লটারী করত। দুপুরের সালাতের যে মর্যাদা রয়েছে তা যদি তারা জানতে পারত, তবে তারা এটা লাভ করার প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে (তাদের জন্য) কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি জানতে পারত তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এসে সালাতে উপস্থিত হত।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কতিপয় সাহাবাকে প্রায়ই পিছনের লাইনে দাড়াতে দেখেন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে এসে আমার পিছনে অনুসরণ কর। তাহলে তোমাদের পূর্ববর্তীরা তোমাদের পিছনে অনুসরণ করবে। একদল লোক সবসময় দেরি করে এসে পিছনে দাড়ায়। আল্লাহর তাদেরকে (নিজের রহমত থেকে) পিছনে রাখবেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল লোককে মসজিদে পিছনের দিকে বসে থাকতে দেখলেন .... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।

ইবরাহীম ইবন দীনার ও মুহাম্মাদ ইবন হারব আল ওয়াসিতী .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যদি জানতে অথবা তারা যদি জানত যে, সামনের লাইনে দাড়ানো কত কল্যাণকর; তাহলে তারা এটা লাভ করার জন্য লটারী করত। ইবন হারব-এর বর্ণনায় প্রথম লাইনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে আরো আছেঃ তারা এ লাইনে স্থান লাভ করার জন্য লটারী করত।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষদের জন্য প্রথম লাইন উত্তম এবং শেষের লাইন মন্দ। মহিলাদের জন্য শেষের লাইন উত্তম এবং প্রথম লাইন মন্দ।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সুহায়ল হতে বর্ণিত। তিনি উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর পিছনে পুরুষদেরকে তাদের লুঙ্গি খাটো হওয়ার কারণে বালকদের মতো কাঁধের সাথে গিট দিয়ে তহবন্দ গলায় বেধে পরিধান করতে দেখেছি। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে নারী সমাজ! পুরুষদের মাথা উঠানোর আগে তোমরা মাথা উঠাবে না।

আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবন হারব .... সলিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো স্ত্রী তার স্বামীর কাছে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে সে যেন তাকে নিষেধ না করে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের স্ত্রীরা মসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদের বাধা দিও না। রাবী (সালিম) বলেন, বিলাল ইবন আবদুল্লাহ বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। রাবী (সালিম) বলেন, আবদুল্লাহ তার দিকে ফিরে তাকে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করলেন। আমি তাকে এর আগে কখনো এভাবে গালিগালাজ করতে শুনিনি। তিনি আরো বলেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর বাদীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না।

ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মহিলারা মসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদেরকে অনুমতি দিও।

আবূ কুরায়ব .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যেতে বাধা দিও না। আবদুল্লাহ ইবন উমারের এক ছেলে (বিলাল) বলল, আমরা তাদেরকে বের হতে দিব না। কেননা লোকেরা এটাকে ফ্যাসাদের রূপ দিবে। রাবী বলেন, ইবন উমর তাকে ধমক দিয়ে বললেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা তাদেরকে (বাইরে যেতে) ছেড়ে দিব না!

আলী ইবন খাশরাম .... আল আমাশ-এর সূত্রে এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইবন রাফি .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিও। আবদুল্লাহ ইবন উমারের ছেলে ওয়াকিদ তাকে (পিতাকে) বলল, এ সুযোগকে তারা বিপর্যয়ের কারণে পরিণত করবে। রাবী বলেন, এ কথা শুনামাত্র তিনি (ইবন উমার) ওয়াকিদ এর বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস (নির্দেশ) বলছি, আর তুমি বলছ- না!

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... বিলাল ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অধিকারে তোমরা বাধা দিও না। তারা যদি তোমাদের নিকট অনুমতি চায়। বিলাল বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। ইবন উমার উত্তরে বললেনঃ আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ তাদেরকে অবশ্যই বাধা দিব।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... সাকীফ গোত্রের যাইনাব আস্ সাকাফিয়্যাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের (মহিলাদের) কেউ যখন ইশার সালাতে শামিল হতে চায়, ঐ রাতে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবদুল্লাহর স্ত্রী যাইনাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেনঃ তোমাদের কোন মহিলা যখন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে (আসে)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন স্ত্রীলোক সুগন্ধি দ্রব্যের ধোয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সালাতে শামিল না হয়।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আবদুর রহমান-এর কন্যা আমরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ-কে বলতে শুনেছেন। মহিলারা (সাজসজ্জার যেসব) নতুন পন্থা বের করে নিয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো দেখলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের মতো তাদেরকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেন, আমি আমরাহকে জিজ্ঞেস করলাম, ইসরাঈল বংশের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যা।

মুহাম্মদ ইবন আল মুসান্না, আমর আন নাকিদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর উল্লেখিত সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনস্ সাব্বাহ ও আমর আন নাকিদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলার বাণী- "নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে)" (বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ঃ ১১০)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় (লোকচোখর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সাহাবাদের নিয়ে যখন সালাত আদায় করতেন উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত। মহান আল্লাহ তার নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ "তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।" তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। "আর নীচু স্বরেও পাঠ করবে না" তাহলে তোমার সাহাবারা তোমার কুরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী- "নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং নীচুস্বরেও পড়বে না"- এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দোয়া সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (দোয়া খুব উচ্চস্বরেও করবে না এবং খুব নিম্নস্বরেও করবে না)।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম-এর সূত্রে উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণী- "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওয়াহী আবূত্তি করবেন না"- (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিবরীল যখন নবী (ﷺ)-এর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ করতেন তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোট নাড়তেন। এটা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ত। তার অবস্থা থেকেই এটা বুঝা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেনঃ "এ ওয়াহী খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব"- (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। এটা তোমার অন্তরে পুঞ্জিভূত করে দেয়া এবং তোমাকে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো" (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। এ ওয়াহী আমি অবতীর্ণ করছি, তুমি তা মনোযোগ সহকারে শুন। এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব। "তোমার মুখ দিয়ে তা বলানো আমার দায়িত্ব"- (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৯)। এরপর থেকে যখন জিবরীল তার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতেন, তিনি মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী (নবী (ﷺ)) তা পাঠ করতেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না" – (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী (ﷺ) খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ব করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবন যুবায়র বলেন, ইবন আব্বাস আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তার ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি ইবন আব্বাস তার ঠোট নাড়ালেন। সাঈদ বলেন, ইবন আব্বাস যেভাবে ঠোট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি সাঈদ নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেনঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহবা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার" - (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তার অনুসরণ করতে থাকো" – (কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো এবং চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।" এরপর থেকে জিবরীল ওয়াহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল চলে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) তার পাঠ হুবহু পড়তেন।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার একদল সাহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শয়তানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামাহ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশে বের হলো। এ সময় নবী (ﷺ) নাখলাহ নামক স্থানে তার সাহাবাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের এবং আসমানের খবরাদির মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, 'হে আমাদের জাতির লোকেরা! "আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না" (জিন ৭২ঃ ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তাআলা তার নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ "বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে....." (জিন ৭২ঃ ১) নাযিল করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি "আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবন মাসউদ কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, "আলকামাহ বললেন, আমি ইবন মাসউদ-কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় এবং গিরিপথে তাকে খুজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী ইবন মাসউদ বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত কখনো আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোজাখুজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। তিনি বলেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে এক আহবানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে চলে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী ইবন মাসউদ বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন এবং আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তার কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন, যে জন্তু আল্লাহর নামে যাবাহ করা হয়েছে তার হাড় তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাদের) বললেনঃ এ দু'টাে জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দু'টাে তোমাদের ভাইদের (জিনদের) খাদ্য।

আলী ইবন হুজর আস সা'দী .... দাউদ থেকে এ সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে- "তাদের আগুনের চিহ্ন" পর্যন্ত।

শা'বী বলেন, এরা তার কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করে। এরা জায়ীরাতুল আরবের জ্বিন ছিল। শা'বীর এ বর্ণনা পর্যন্ত হাদীস শেষ হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদীস থেকে এ সূত্রে বর্ণনা কিছুটা ব্যাপক।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবদুল্লাহ কর্তৃক নবী (ﷺ) থেকে এ সূত্রে "তাদের আগুনের চিহ্ন" বক্তব্য পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং এর পরের অংশ উল্লেখ নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম না। আফসোস! আমি যদি তার সাথে থাকতাম।

সাঈদ ইবন মুহাম্মাদ আল জারমী ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... মান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি মাসরূককে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের রাত, কে নবী (ﷺ)-কে জানিয়ে দিল যে, তারা এসে তার কুরআন পাঠ শুনছে? মাসরূক বলেছেন, আমাকে তোমার পিতা ইবন মাসউদ বলেছেন যে, গাছই তাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জানিয়ে দিয়েছিল।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না আল আনায়ী .... আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও আসরের প্রথম দুরাকাআতে ফাতিহাহ এবং এর সাথে আরো দুটি সূরাহ পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যুহরের প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআত সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের সালাতেও তিনি এরূপ করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহর ও আসরের দুরাকাআতে ফাতিহার সাথে একটি করে সূরাহ পাঠ করতেন। তিনি কখনো কখনো আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। আর শেষের দুরাকাআত তিনি কেবল সূরাহ ফাতিহাই পাঠ করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কিয়ামের (দাড়ানোর) পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করতাম। যুহরের প্রথম দুরাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল সূরাহ "আলিফ, লাম, মীম, তানযীলুল সিজদা" পাঠ করার পরিমাণ সময়। তার পরবর্তী দু'রাকআত আমরা তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি ঐ সূরার অর্ধেক পাঠ করার পরিমাণ সময়। আমরা আসরের দু'রাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি যুহরের শেষের দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ সময়। আর আসরের শেষ দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল প্রথম দুরাকাআতের অর্ধেক পরিমাণ সময়। আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ তার বর্ণনায় সূরাহু "আলিফ লাম মীম তানযীলের" উল্লেখ করেননি। তিনি কিয়ামের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ সময় উল্লেখ করেছেন।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহরের প্রথম দুরাকাআতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দুরাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি (আবূ সাঈদ) বলেছেন, এর অর্ধেক পরিমাণ। তিনি আসরের প্রথম দু'রাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দু'রাকাআতে এর অর্ধেক পরিমাণ পাঠ করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফার অধিবাসীরা (তাদের গভর্নর) সা'দ-এর বিরুদ্ধে তার সালাত সম্পর্কে উমার ইবন খাত্তাব-এর কাছে অভিযোগ করল। উমার তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তার দরবারে উপস্থিত হলেন। উমার তার সালাত সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ তাকে শুনালেন। সা'দ বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুরূপ সালাত আদায় করি। এতে কোনরূপ ত্রুটি করি না। আমি প্রথম দুরাকাআত দীর্ঘ করি এবং শেষের দুরাকাআত সংক্ষিপ্ত করি। উমার বললেন, হে আবূ ইসহাক (সাদ) এটাই তোমার কাছে আশা করি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম আবদুল মালিক ইবন উমায়র এর সূত্রে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরার কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, উমর সা'দকে বললেন, তারা তোমার বিরুদ্ধে সব ব্যাপারেই অভিযোগ এনেছে; এমনকি সালাতের ব্যাপারেও। সা'দ বললেন, আমি তো প্রথম দুরাকাআত লম্বা করে থাকি এবং পরবর্তী দুরাকাআত সংক্ষেপ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত আদায়ের নিয়ম অনুসরণ করতে আমি মোটেও ত্রুটি করি না। উমার বললেন, তোমার কাছে এটাই আশা করি। অথবা তিনি বলেছেন, তোমার সম্পর্কে আমার এটাই ধারণা।

আবূ কুরায়ব .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো আছে, "সা'দ বললেন, বেদুঈনরা আমাকে সালাত শিখাতে চায়?"

দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যেত। অতঃপর কোন ব্যক্তি প্রয়োজন (প্ৰস্ৰাব-পায়খানা) পূরণের জন্য বাকী নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে ওযু করে এসে দেখত- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনো প্রথম রাকাআতেই আছেন। তিনি সালাত এতটা লম্বা করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... কাযআহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরীর কাছে আসলাম, এ সময় তার কাছে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। তারা তার কাছ থেকে চলে গেলে আমি তাকে বললাম, তারা আপনার কাছে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তা জিজ্ঞেস করব না। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। আবূ সাঈদ বললেন, এটা জানার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই। (কেননা, তুমি তার মতো সালাত পড়তে সক্ষম হবে না)। তিনি পুনর্বার তাই জানতে চাইলেন। তখন আবূ সাঈদ বললেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের কোন ব্যক্তি বাকী' নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে নিজ বাড়ীতে এসে ওযু করে পুনরায় মসজিদে যেত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনো প্রথম রাকআতেই থাকতেন।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন সায়িব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে মক্কায় ভোরের (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। তিনি মুমিনূন পড়া শুরু করলেন। তিনি তা পড়তে পড়তে মূসা ও হারূন অথবা ঈসা-এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌছে গেলেন। (এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ সন্দেহে পড়ে গেছেন অথবা রাবীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে)। এ সময় নবী (ﷺ) এর কাশি আসলে তিনি রুকূতে চলে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবন সায়িবও সালাতে উপস্থিত ছিলেন। আবদুর রাযযাকের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি কিরাআত পাঠ থামিয়ে দিয়ে রুকূতে চলে গেলেন। তিনি তার বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন "আমরের নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ইবন আস এর নাম উল্লেখ করেননি।

যুহায়র ইবন হারব, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আমর ইবন হুরায়স থেকে বর্ণিত। তিনি ফজরের সালাতে নবী (ﷺ)-কে "ওয়াল লাইলি ইযা- আসআসা' "শপথ রাতের যখন সে চলে যেতে থাকে"- (আত তাকবীর ৮১ঃ ১৭) পাঠ করতে শুনেছেন।

আবূ কামিল আল জাহদারী, ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... কুতবাহ ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালাত আদায় করেছি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাত আদায় করিয়েছেন। তিনি "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" "কাফ, সম্মানিত কুরআনের শপথ"- (কাফ ৫০ঃ ১) পাঠ করলেন। তিনি "ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন" "লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ..." (কাফ ৫০ঃ ১০) পর্যন্ত পাঠ করলেন। রাবী বলেন, আমিও তা পাঠ করলাম কিন্তু এর তাৎপর্য বুঝতে পারলাম না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... কুতবাহ ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি ফজরের সালাতে নবী (ﷺ)-কে "ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন লাহা- তাল-উন নাযীদ" "লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর"- (কাফ ৫০ঃ ১০) পাঠ করতে শুনেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... যিয়াদ ইবন ইলাকাহ হতে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (চাচা) নবী (ﷺ) এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথম রাকাআতে "ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন লাহা- তালাউন নাযীদ"- (কাফ ৫০ঃ ১০) পাঠ করলেন। কখনো তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) সূরাহ কাফ পাঠ করলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ফজরের সালাতে "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ"- (কাফ ৫০ঃ ১) পাঠ করতেন। এরপরে তার সালাতগুলো সংক্ষিপ্তাকারের ছিল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সিমাক ইবন হারব এর সূত্রে বর্ণিত। আমি জাবির ইবন সামুরাহ এর কাছে নবী (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তিনি হালকাভাবে সালাত আদায় করতেন। ঐসব লোকের মতো (বড় বড় সূরাহ দিয়ে) সালাত আদায় করতেন না। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতে সূরাহ কাফ বা এ আকারের সূরাহ পাঠ করতেন।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহরের সালাতে "ওয়াল লাইলি ইযা- ইয়াগশা-" (লায়ল ৯২ঃ ১) পাঠ করতেন এবং আসরের সালাতেও অনুরূপ কোন সূরাহ পাঠ করতেন। ফজরের সালাতে তিনি এর চেয়ে দীর্ঘ সূরাহ পাঠ করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যুহরের সালাতে "সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ'লা" "তুমি তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের ঘোষণা কর"- (আ'লা ৮৭ঃ ১) পাঠ করতেন এবং ভোরের (ফজরের) সালাতে এর চেয়ে লম্বা সূরাহ পাঠ করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ বারযাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরের (ফজরের) সালাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।

আবূ কুরায়ব .... আবূ বারযাহ আল আসলামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উম্মুল ফাযল বিনতু হারিস এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-কে "ওয়াল মুরসালা-তি উরফান" (মুরসালাত) পাঠ করতে শুনলেন। তিনি (উম্মু ফাযল) বললেন, হে বৎস! তুমি এ সূরাহ পাঠ করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সর্বশেষ যে সূরাটি শুনেছি তা ছিল এ সূরাহ (মুরসালাত)। তিনি এটা মাগরিবের সালাতে পড়েছিলেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সালিহ এর বর্ণনায় আরো অতিরিক্ত আছেঃ "এরপর ওফাত পর্যন্ত তিনি সাহাবাদের নিয়ে আর সালাত আদায়ের সুযোগ পাননি।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... মুহাম্মাদ ইবন জুবায়র ইবন মুতাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি (জুবায়র) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ আত তুর পাঠ করতে শুনেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহারর ইবন হারব, হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কোন এক সফরে থাকাকালীন ইশার সালাত আদায় করলেন এবং প্রথম দু'রাকাআতের এক রাকাআতে "ওয়াত্তীনি ওয়ায় যাইতুন" (আত তীন) পাঠ করলেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... বারা ইবন আবিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি তাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে ইশার সালাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করতে শুনেছি। আমি তার মতো সুললিত কণ্ঠস্বর আর কারো কাছে শুনিনি।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয নবী (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমাম হলেন। তিনি বাকারাহ পড়া শুরু করলেন। এক ব্যক্তি এতে বিরক্ত হয়ে পড়ল। সে সালাম ফিরিয়ে একাকি সালাত আদায় করে চলে গেল। লোকেরা তাকে বলল, হে অমুক তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি মুনাফিক হয়ে যাইনি। আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যাব এবং তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করব। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা উট চালক, দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করি। আর মুআয আপনার সাথে ইশার সালাত আদায় করে ফিরে এসে আমাদের ইমামতি করলেন এবং সালাতে বাকারাহ পড়া শুরু করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুআয এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মুআয! তমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি এ রকম এ রকম সূরাহ পাঠ করবে। সুফইয়ান বলেন, আমি আমরকে বললাম, আবূ যুবায়র জাবির এর সূত্রে আমাদের বলেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ) বলেছেন, তুমি সূরাহ আশ শামস সূরাহ আয যুহা লায়ল এবং আ'লা পাঠ করবে। আমুর বললেন, হ্যা, এ ধরনের সূরাই পাঠ করার কথা বলেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমহ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবন জাবাল আল আনসারী তার গোত্রের লোকেদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘায়িত করলেন। ফলে আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি (সালাত ছেড়ে দিয়ে) চলে গেল এবং একাকী সালাত আদায় করল। তার সম্পর্কে মুআযকে অবহিত করা হলে তিনি বললেন, সে তো মুনাফিক। লোকটি যখন এ কথা জানল- সে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে চলে গেল এবং মুআয যা বলেছেন তা তাকে জানাল। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ হে মুআয! তুমি কি ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী হতে চাও? তুমি যখন লোকেদের ইমামতি করবে তখন সূরাহ আশ শামস, আ'লা, সূরাহ আলাক এবং লায়ল পাঠ করবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। মুআয ইবন জাবাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় ঐ সালাত আদায় করতেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ রাবী আয যাহরানী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রের মসজিদে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় সালাত আদায় করতেন।

ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ মাসউদ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, অমুক লোকের কারণে আমি ফজরের সালাতে দেরীতে উপস্থিত হই। কারণ সে খুব লম্বা কিরাআত পাঠ করে। (রাবী বলেন) আমি সেদিনকার মতো আর কোন দিনের ওয়াজে নবী (ﷺ) কে এতোটা গোস্‌সা হতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মানুষকে ভাগিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউ ইমামতি করে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোকও রয়েছে।

আবূ বকর ইবন শাইবাহ, ইবন নুমায়র ও ইবন আবূ আমর .... ইসমাঈল এর সূত্রে উপরের সনদে হুশায়ম এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের ইমামতি করে- সে যেন সালাত হালকা এবং সংক্ষেপ কর। কেননা তাদের মধ্যে বালক, বৃদ্ধ, দুর্বল এবং রুগ্ন ব্যক্তিরাও রয়েছে। সে যখন একাকি সালাত আদায় করবে, তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ সূরাহ পড়তে পারে।

ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। এগুলোর মধ্যে একটি হাদীস এই- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি লোকেদের সালাতে ইমামতি করতে দাড়ালে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে যেমন বৃদ্ধরা রয়েছে তেমন দুর্বলরাও রয়েছে। যখন সে একাকি সালাত আদায় করে তখন নিজ ইচ্ছামত তার সালাত দীর্ঘ করতে পারে।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে সে যেন তা সংক্ষিপ্ত করে। কেননা এসব লোকের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যস্ত লোকও থাকতে পারে।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় রুগ্নের পরিবর্তে বৃদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... উসমান ইবন আবূল আস সাকাকী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমাদের গোত্রের লোকেদের সালাতে ইমামতি কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার অন্তরে কিছু একটা অনুভব করি। তিনি আমাকে বললেন, নিকটে আসো। তিনি আমাকে তার সামনে বসালেন। অতঃপর আমার বুকের মাঝখানে তার হাত রাখলেন। তিনি পুনরায় বললেন, ঘুরে বসো। তিনি আমার পিছে কাঁধ বরাবর হাত রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি তোমার গোত্রের লোকেদের ইমামতি করো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, অসুস্থ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোক রয়েছে। তোমাদের কেউ যখন একাকি সালাত আদায় করবে, সে তখন নিজ ইচ্ছামত সালাত আদায় করতে পারে।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... উসমান ইবন আবূল আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সর্বশেষ নির্দেশ ছিলঃ তুমি যখন কোন সম্প্রদায়ের ইমামাত করবে তখন তাদের সালাত সংক্ষিপ্ত করবে।

খালাফ ইবন হিশাম ও আবূ রাবী আয যাহরানী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত ছিল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজুর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে যত সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করেছি- এরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কখনো কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতরত অবস্থায় মায়ের সাথে আসা শিশুর কান্না শুনতে পেলে হালকা বা ছোটখাট সূরাহ দিয়ে সালাত শেষ করে দিতেন।

মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল আয যারীর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সালাত শুরু করে তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি। এমতাবস্থায় আমি শিশুর কান্না শুনতে পাই। আমি তখন তার মায়ের অস্থিরতার কথা চিন্তা করে সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেই।

হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... বারা ইবন আবিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাথে তার সালাত আদায় করার নিয়ম-কানুন ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তার দাড়ানো (কিয়াম), তার রুকূ এবং রুকূ থেকে সোজা হয়ে দাড়ানো, তার সিজদা এবং দু'সাজদার মাঝে তার বসা, অতঃপর তার দ্বিতীয় সিজদা, তার সালাম ফিরানো এবং সালাম ও সালাত শেষ করে চলে যাওয়ার মাঝখানে বসা- এর সবই প্রায় সমান (ব্যবধান) পেয়েছি।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আশআস এর সময়ে এক ব্যক্তি কুফাবাসীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। হাকাম তার নাম উল্লেখ করেছেন (মাতার ইবন নাজিয়াহ)। সে আবূ উবাইদাহ ইবন আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) কে লোকেদের সালাতে ইমামতি করার হুকুম দিলেন। তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে একটি দোয়া পড়ার পরিমাণ সময় দাড়িয়ে থাকতেন। দোয়াটি হচ্ছেঃ আল্লা-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা-শিতা মিন শাইয়িন বাদু আহলাস্ সান-য়ি ওয়াল মাজদি লা- মা-নিআ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ান্‌ফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ। "হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাচাতে পারবে না।" হাকাম বলেন, অতঃপর আমি এটা আবদুর রহমান ইবন আবূ লাইলার কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমি বারা ইবন আযিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত ছিলঃ তিনি রুকূতে যেতেন, রুকু থেকে মাথা তুলে দাড়াতেন, সিজদা করতেন এবং দু'সাজদার মাঝখানে বিরতি দিতেন- এসবগুলোর সময়ের পরিমাণ প্রায় একই ছিল। শুবাহ বলেন, আমি এটা আমর ইবন মুররাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি ইবন আবূ লাইলাকে দেখেছি। কিন্তু তার সালাত তো এরূপ ছিল না।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... হাকাম থেকে বর্ণিত। মাতার ইবন নাজিয়াহ যখন কুফার উপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল, আবূ উবাইদাকে লোকেদের সালাতে ইমামতি করার নির্দেশ দিল। অবশিষ্ট হাদীস পূর্ববৎ।

খালাফ ইবন হিশাম .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে সালাত আদায় করেছেন- আমি তোমাদের নিয়ে অনুরূপভাবে সালাত আদায় করতে মোটেই ত্রুটি করব না। অধস্তন রাবী বলেন, আনাস একটি কাজ করতেন যা আমি তোমাদেরকে করতে দেখি না। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাড়িয়ে যেতেন। এমনকি কেউ (মনে মনে) বলত, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। তিনি সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে বসে যেতেন, এমনকি কেউ (মনে মনে) বলত, তিনি (দ্বিতীয় সিজদা করতে) ভুলে গেছেন।

আবূ বকর ইবন নাফি আল আবদী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে যেরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করেছি অনুরূপ আর কারো পিছনে আদায় করিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের (রুকনগুলোর সময়ের) পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি ছিল। আবূ বকর এর সালাতের (রুকনগুলোও) পরস্পর কাছাকাছি ছিল। উমার ইবন খাত্তাব তার সময়ে ফজরের সালাত দীর্ঘ করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে দাড়িয়ে যেতেন- এমনকি আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি সাজদায় যেতেন। দু'সাজদার মাঝখানে তিনি এতক্ষণ বসতেন যে, আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (পরবর্তী সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে বারা এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করতেন। তিনি (ﷺ) রুকূ থেকে মাথা তোলার পর আমি কাউকে (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাকা করতে দেখিনি, যে পর্যন্ত না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের কপাল মাটিতে রাখতেন। অতঃপর সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়ত।

আবূ বকর ইবন খাল্লাদ আল বাহিলী .... আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে বারা এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন- আমাদের কেউই (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাকা করত না যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাজদায় না যেতেন। তার পরে আমরা সাজদায় যেতাম।

মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাহম আল আন্‌তাকী .... আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ মিম্বারে দাড়িয়ে বললেন, আমাদেরকে বারা বলেছেন, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন রুকূতে যেতেন, তারাও রুকূতে যেতেন। তিনি রুকূ থেকে মাথা তোলার সময় "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন। আমরা দাড়িয়ে থাকতাম, এমনকি যখন দেখতাম তিনি তার কপাল মাটিতে রেখেছেন তখন আমরা তার অনুসরণ করতাম।

যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমরা যতক্ষণ তাকে সাজদায় পৌছতে না দেখতাম, ততক্ষণ আমাদের কেউ নিজের পিঠ বাকা করতাম না। যুহায়র বলেন, আমাদেরকে সুফইয়ান বলেছেন, এমনকি যখন আমরা তাকে সাজদারত অবস্থায় দেখতাম'

মুহরিয ইবন আওন ইবন আবূ আওন .... আমর ইবন হুৱায়স হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আমি তাকে আমি শপথ করি পশ্চাদপসরণকারী নক্ষত্রের, যা প্রত্যাগমন করে ও দৃশ্য হয়"- (আত-তাকবীরঃ ১৫-১৬) পাঠ করতে শুনলাম। তিনি সম্পূর্ণভাবে সাজদায় না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ নিজের পিঠ বাকা করত না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্‌ শাইয়িন বাদু।" "প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।"

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (রুকু থেকে উঠে) এ দোয়া পড়তেন। "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্‌দু মিল্‌আস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শি'ত মিন শাইয়িন বাদু।" "প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।"

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু মিলআস সামা-য়ি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলুআ মা- শিতা মিন শাইয়িন বাদু, আল্লাহুম্মা তাহহিরনী বিস্‌সালজি ওয়াল বারাদ ওয়াল মা-য়িল বা-রিদি, আল্লাহুম্মা তাহহিরনী মিনায্‌ যুনুবি ওয়াল খাতা-য়া- কামা- ইউনাক্কাস সাওবুল আব্‌ইয়াযু মিনাল ওয়াসাখ।" "হে আল্লাহ! তোমার জন্য ঐ পরিমাণ প্রশংসা- যা আসমান ও জমিনকে পরিপূর্ণ করে দেয়। অতঃপর তুমি যা চাও তা দিয়ে পরিপূর্ণ করো। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, কুয়াশা এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পাকপবিত্র করে দাও। হে আল্লাহ! সাদা কাপড় যেভাবে ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়, আমাকেও তদ্রুপ যাবতীয় গুনাহ থেকে পবিত্র করে দাও।"

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও যুহায়র ইবন হারব .... শুবাহ এর সূত্রে মুআয হতে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুআয-এর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ "সাদা কাপড় যেভাবে ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়।" ইয়াযীদের বর্ণনায় 'দারণ' শব্দের পরিবর্তে 'ডানাস' শব্দের উল্লেখ রয়েছে (অর্থ একই)।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্‌ শাইয়িন বাদু আহলাস সান-য়ি ওয়াল মাজদি আহাক্কু মা-কা-লাল আবদু ওয়া কুল্লুনা- লাকা আবদুন, আল্লাহুম্মা লা- মা-নিআ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমামানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদি মিন্‌কাল জাদ।" "আমাদের প্রতিপালক তুমি আসমান-জমিন সম পরিপূর্ণ প্রশংসার অধিকারী, অতঃপর তুমি যা চাও তাও পূর্ণ করে প্রশংসা। তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী। তোমার প্রশংসায় বান্দা যা কিছু বলে তুমি তার চাইতে বেশি হকদার। আমরা সবাই তোমার বান্দা; হে আল্লাহ! তুমি যা দান করো তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কারো নেই এবং তুমি যা দেয়া বন্ধ করো, তা দান করার শক্তি কারো নেই। ধনবানের ধন তোমার সামনে কোন কাজে আসে না।"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিল্‌আস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামা- বাইনাহুমা ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন শাইয়িন বাদু আহলাস সান-য়ি ওয়াল মাজদি লা- মা-নিআ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদি মিনকাল জাদ।" "আমাদের প্রতিপালক তুমি আসমান-জমিন সম পরিপূর্ণ প্রশংসার অধিকারী, অতপর তুমি যা চাও তাও পূর্ণ করে প্রশংসার অধিকার। তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী। (হে আল্লাহ!) তুমি যাকে দান করো তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কারো নেই এবং তুমি যাকে দেয়া বন্ধ করো, তাকে দান করার শক্তি কারো নেই। চেষ্টা সাধনাকারীর প্রচেষ্টা তোমার সামনে কোন কাজে আসে না"।

ইবন নুমায়র .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর এ হাদীস "এবং এটি (তাদের) ব্যতীত যা আপনাকে খুশি করবে তা পূরণ করবে!" পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের পরবর্তী অংশ এ সুত্রে বর্ণিত হয়নি।

সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন সময়ে) হুজরার পর্দা তুলে দিলেন। লোকেরা এ সময় আবূ বকরের পিছনে সালাতের কাতারে দাড়ানো ছিল। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আর নুবুওয়াতের ধারা অবশিষ্ট থাকবে না। তবে মুসলিমরা সত্যস্বপ্ন দেখবে অথবা তাদের দেখানো হবে। সাবধান! আমাকে নিষেধ করা হয়েছে আমি যেন রুকু বা সাজদারত অবস্থায় কুরআন পাঠ না করি। তোমরা রুকু অবস্থায় মহান প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত বর্ণনা করবে এবং সাজদারত অবস্থায় অধিক দোয়া পড়ার চেষ্টা করবে, কেননা তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার উপযোগী।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ কক্ষের পর্দা সরিয়ে দিলেন এ সময় তিনি মৃত্যু শয্যায় ছিলেন। তার মাথা (কাপড় দিয়ে) বাধা ছিল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌছে দিয়েছি? এ কথা তিনি তিনবার বললেন। নুবুওয়াতের সুসংবাদ (ধারা) আর অবশিষ্ট থাকবে না। তবে ভাল স্বপ্ন অবশিষ্ট থাকবে। নেক বান্দারা তা দেখবে অথবা তাদেরকে দেখানো হবে। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা সুফইয়ানের বর্ণনার অনুরূপ।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রুকূ বা সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রুকূ এবং সাজদারত অবস্থায় কুরআনের আয়াত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রুকূ-সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। আমি বলছি না "তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন।"

যুহারর ইবন হারব ও ইসহাক .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম (নবী (ﷺ)) আমাকে রুকূ-সাজদার কিরাআত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ঈসা ইবন হাম্মদ আল মিসরী, হারূন ইবন আবদুল্লাহ, আল মুকাদ্দামী, হারূন ইবন সাঈদ আল লাইলী, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব ও কুতাইবাহ ইবন হুজর এবং হান্নাদ ইবন আস্ সারী .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। উল্লেখিত সব রাবীই রুকুর কথা বলেছেন। তারা নিজ নিজ বর্ণনায় 'সাজদার মধ্যে কুরআন পাঠ করা নিষেধ' এরূপ কথা উল্লেখ করেননি; যেমন- যুহরী, যায়দ ইবন আসলাম, ওয়ালীদ ইবন কাসীর এবং দাউদ ইবন কায়স নিজেদের বর্ণনায় এ নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেছেন।

কুতাইবাহ .... আলী হতে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে 'সাজদায় কুরআন পাঠ করা নিষেধ' এ কথার উল্লেখ নেই।

আমর ইবন আলী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে আমি যেন রুকূর মধ্যে কুরআন পাঠ না করি। এ সূত্রে আলীর নাম উল্লেখ নেই।

হারূন ইবন মারূফ ও আমর ইবন সাওওয়াদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বান্দার সিজদারত অবস্থায়ই তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভের সর্বোত্তম অবস্থা (বা মুহুর্ত)। অতএব তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া পড়ো।

আবূ তাহির ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাজদায় গিয়ে বলতেনঃ "আল্লাহুম্মাগ ফিরলী যামবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়াজিল্লাহু ওয়া আওওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়াতাহু ওয়া সিররাহু।""হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়।"

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ-সাজদায় এ দোয়া অধিক পরিমাণে পাঠ করতেন : "সুবহ-নাকা আল্লহুম্মা রব্বানা- ওয়াবি হামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলী"। "হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।" তিনি কুরআনের উপর আমল করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ইন্তিকালের পূর্বে এ দোয়াটি খুব বেশি মাত্রায় পাঠ করতেনঃ "সুবহানাকা ওয়াবি হামদিকা আস্তাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলায়ক"। "মহান পবিত্র আল্লাহ, সকল প্রশংসা প্রাপ্য একমাত্র তিনি, আমি তোমার নিকট সকল পাপের ক্ষমা চাচ্ছি ও তওবা করছি।" রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে যে এসব নতুন বাক্য পড়তে দেখছি- এগুলো কী? তিনি বললেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে আমার জন্য একটি চিহ্ন বা নিদর্শন রাখা হয়েছে। যখন আমি তা দেখি তখন এগুলো বলতে থাকি। আমি দেখেছিঃ "ইযা-জা-আ নাসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ" সূরার শেষ পর্যন্ত।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "ইযা- জাআ নসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ" (সূরাহু আন নাসর) নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি নবী (ﷺ) কে এ দোয়া পাঠ করা ব্যতিরেকে কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি। অথবা তিনি সেখানে (সালাতে) বলতেনঃ "সুবহা-নাকা রব্বী ওয়াবি হামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলী"। হে আমার প্রতিপালক আপনার জন্যই সকল পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।"

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আয়িশাহ্ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিক সংখ্যায় এ দোয়া পড়তেনঃ "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্‌দিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। "মহান পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তার কাছে তওবা করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি।" রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে অধিক সংখ্যায় এ কথা বলতে দেখছিঃ "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উন্মাতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। যখন আমি সে আলামাত দেখতে পাই তখন অধিক সংখ্যায় এ দোয়া পাঠ করতে থাকিঃ "সুবহানাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। সে নিদর্শন সম্ভবত এই "ইযা- জা-আ নসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ ....."। "যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং বিজয় লাভ হবে (মক্কা বিজয়), তুমি দেখত পাবে, দলে দলে লোক আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে; তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি খুবই তওবা গ্রহণকারী"- (আন নাসর)।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন জুরায়য হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকূতে কি পড়েন? তিনি বলেন, "সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। "হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই।" কেননা ইবন আবূ মুলাইকাহ আমাকে আয়িশার সূত্রে অবহিত করছেন যে, তিনি [আয়িশাহ] বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী (ﷺ) কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারণা করলাম, তিনি হয়ত তার অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তার খোজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকূ অথবা (রাবীর সন্দেহ) সাজদায় আছেন এবং বলছেনঃ "সুবহ-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারণায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খোজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তার উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সাজদায় ছিলেন এবং তার পা দু'টো দাড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলেছেনঃ "আল্লাহুম্মা আউযু বিরিযা-কা মিন সাখাতিকা ওয়াবি মুআ-ফা-তিক মিন উকবাতিকা ওয়া আউয়ুবিকা মিনকা লা- উহসি সানা-আন আলাইকা আনত কামা- আসনাইত আলা- নাফসিকা।" "হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চায়। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ ও সাজদায় এ দোয়া পড়তেনঃ "সুব্বুহুন কুদদূসুন্ন রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়ার রূহু"। "সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র"

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

যুহায়র ইবন হারব .... মাদান ইবন তালহাহ আল ইয়ামারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম আমি বললাম, আমাকে একটি কাজের কথা বলে দিন যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর প্রিয়তম ও পছন্দনীয় কাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন। আমি পুনর্বার জিজ্ঞেস করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। মাদান বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদাহ-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সাওবান আমাকে যা বলেছেন, তিনিও তাই বললেন।

হাকাম ইবন মূসা আবূ সালিহ .... রাবীআহ ইবন কাব আল আসলামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রাত যাপন করছিলাম। আমি তার ওযুর পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। তিনি আমাকে বললেনঃ কিছু চাও! আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এছাড়া আরো কিছু আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ রাবী আয যাহরানী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মাথার চুল ও কাপড় ধরে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসের এ বর্ণনাটি ইয়াহইয়ার। আবূ রাবী তার বর্ণনায় বলেন, সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড় আটকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (সাতটি হাড় বা অঙ্গ হচ্ছে-) দু'হাতের তালু, দু'হাটু, দু'পা এবং কপাল।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে ঠেকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

আমর আন নাকিদ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে গুটানো থেকে বারণ করা হয় (সালাতরত অবস্থায়)।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কপাল- এ বলে তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন; দু'হাত দু'পা (দু'হাটু) এবং দু'পায়ের পার্শ্বদেশ (পায়ের আঙ্গুলসমূহ)। আমি (আমরা) যেন (সাজদার সময়) চুল ও কাপড় ধরে না রাখি এ নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

আবূ তাহির .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এ সময়ে চুল ও পরিধেয় বস্ত্র গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে। অঙ্গগুলো হচ্ছে, কপাল ও নাক, উভয় হাত, উভয় হাটু এবং উভয় পায়ের পাতা।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে- তার মুখমণ্ডল, তার দু'হাতের পাতা, তার দু'হাটু এবং দু'পায়ের পাতা।

আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমির .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন হারিসকে তার মাথার চুল পিছন দিকে বেধে রেখে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি উঠে দাড়িয়ে তা খুলে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবন হারিস সালাত শেষ করে ইবন আব্বাসের দিকে ফিরে বললেন, কি ব্যাপার আপনি আমার চুল এরূপ করে দিলেন। তিনি (ইবন আব্বাস) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনছিঃ এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হচ্ছে- যে ব্যক্তি পিছন দিকে হাত বাধা অবস্থায় সালাত আদায় করে তার মতো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাজদার মধ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভারসাম্য বজায় রেখে (ঠিকভাবে) সিজদা করো। তোমাদের কেউ যেন নিজের বাহুদ্বয় কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবন জাফরের বর্ণনায় রয়েছেঃ "তোমাদের কেউ যেন সাজদার সময় তার বাহুদ্বয়কে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।"

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তুমি সিজদা করো তোমার হাতের তালু মাটিতে রাখো এবং উভয় কনুই উচু করে রাখো।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইবন বুহাইনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করার সময় দু'হাত (পাজর থেকে) এমনভাবে ফাকা রাখতেন যে, তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত।

আমর ইবন সাওওয়াদ .... জাফার ইবন রাবীআহ হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে আমর ইবন হারিস এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহু প্রসারিত করে রাখতেন। এর ফলে তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লায়স-এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, উভয় বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখতেন। এমনকি আমি (আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইবন বুহাইনাহ) তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইবন আবূ উমার .... মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, কোন মেষ শাবক ইচ্ছা করলে তার বাহুর ফাক দিয়ে চলে যেতে পারত।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হান্‌যালী .... নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মাইমুনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, দু'বাহু এমনভাবে (পাঁজর থেকে) ফাকা রাখতেন যে, তার পিছন থেকে তার বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। তিনি যখন বসতেন, বাম উরুর উপর শান্তভাবে বসতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মাইমুনাহ বিনতু হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, বাহুদ্বয় (পাঁজর থেকে) ফাকা রাখতেন। এমনকি তার পিছনের ব্যক্তিটি তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেত। ওয়াকী বলেন, মাইমূনাহ্ ঔজ্জ্বল্য দ্বারা 'শুভ্রতা' বুঝিয়েছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। তিনি যখন রুকু করতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করতেন না, উপরেও উচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সিজদা করতেন না। তিনি (প্রথম) সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (দ্বিতীয়) সাজদায় যেতেন না। তিনি প্রতি দুরাকাআত অন্তর "আত্তাহিয়াতু" পাঠ করতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দু'হাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি ঘোষণা করতেন। ইবন নুমায়র থেকে আবূ খালিদ-এর সূত্রে বর্ণিত আছেঃ তিনি শয়তানের মতো বসতে নিষেধ করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... মূসা ইবন তালহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজের সামনে হাওদার (উটের পিঠে আসনের পিছভাগে দাড় করা) কাঠের ন্যায় কিছু রেখে দিয়ে নিশ্চিন্তে সালাত আদায় করতে পারে। এ সুতরার পিছন দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে সেদিকে তাকে ভ্রক্ষেপ করতে হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... মূসা ইবন তালহাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত আদায় করতাম আর এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে জীবজন্তু চলাফেরা করত। এ ব্যাপারটি আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে উত্থাপন করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো সামনে হাওদার পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু দাড় করানো থাকলে, তার সামনে দিয়ে কোন কিছু যাতায়াত করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবন নুমায়র-এর বর্ণনায় আছেঃ তার সামনে দিয়ে যে লোকই অতিক্রম করুক তাতে কোন ক্ষতি হবে না।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাত আদায়কারীর সামনে সুতরাহ রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুটির মতো।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাত আদায়কারীর সামনের সুতরাহ (আড়াল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুটির ন্যায়।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ঈদের সালাত আদায় করতে বের হতেন, একটি বর্শা সাথে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। এটা তার সামনে দাড় করে রাখা হত এবং তিনি এর দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। উপস্থিত লোকেরা তার পিছনে থাকত। তিনি সফরে থাকাকালীন সময়েও এমন করতেন। তার পরবর্তী সময়ের শাসকগণও এটাকে সুতরাহ্ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র ..... ইবন উমর হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সামনের দিকে আনাযাহ (বর্শা) পুঁতে দিতেন। অধস্তন রাবী আবূ বকর এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি বল্লম পুঁতে দিতেন এবং সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। আবূ শাইবাহ বলেন, উবাইদুল্লাহ বলেছেন, এটা ছিল বর্শা।

আহমাদ ইবন হাম্বাল .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার উট আড়াআড়ি করে বসাতেন। অতঃপর তা সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার বাহনকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। ইবন নুমায়র এর বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী (ﷺ) (সফরে থাকাকালীন সময়ে) তার উট সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (জুহাইফাহ) বলেন, আমি মক্কায় নবী (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তিনি তখন আব্‌তাহ (মুহাসসাব) নামক স্থানে লাল চামড়ার তৈরি একটি তাবুতে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, বিলাল তার উয়ুর পানি নিয়ে আসলেন। কেউ পানি পেল, কেউ পেল না- সে অন্যের কাছ থেকে সামান্য নিয়ে নিল। নবী (ﷺ) বের হয়ে আসলেন। তার গায়ে লাল রং এর চাঁদর শোভা পাচ্ছিল। আমি যেন তার পায়ের গোছার শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি ওযু করলেন এবং বিলাল আযান দিলেন। আমি তার (বিলালের) অনুসরণ করে এদিকে-ওদিক মুখ ঘুরাতে লাগলাম। সে ডানে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে "হাইয়্যা আলাস সলাহ" ও "হাইয়্যা আলাল ফালাহ" বলল। রাবী বলেন, অতঃপর একটি বর্শা দাড় করিয়ে পুতে দেয়া হলো। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে যুহরের দু'রাকাআত (ফরয) সালাত আদায় করলেন। তার (সুত্রার) সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ইত্যাদি যাচ্ছিল কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। অতঃপর তিনি আসরের ফরয সালাতও দু'রাকাআত পড়লেন। মদীনায় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত তিনি এভাবে দু'রাকাআত করে সালাত আদায় করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লাল চামড়ার তৈরি তাবুর মধ্যে দেখতে পেলেন। আমি (আবূ জুহাইফাহ) বিলালকে তার ওযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হয়ে আসতে দেখলাম। যারা তা পেল তারা নিজেদের শরীরে তা মাখল। আর যারা তা পায়নি তারা নিজেদের সাথীদের ভেজা হাতের স্পর্শ লাভ করল। অতঃপর আমি দেখলাম, বিলাল একটি বর্শা বের করে এনে তা মাটিতে পুঁতে দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাল এক জোড়া চাঁদর পরিধান করে তা পায়ের গোছা পর্যন্ত উচু করে বের হলেন। অতঃপর তিনি বর্শাটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু'রাকাআত ফরয সালাত আদায় করলেন। আমি বর্শার বহিরাংশ দিয়ে মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তু অতিক্রম করতে দেখলাম।

ইসহাক ইবন মানসূর, আবদ ইবন হুমায়দ ও কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবন মিগওয়াল-এর বর্ণনায় আছেঃ যখন দুপুর হলো, বিলাল এসে সালাতের জন্য আযান দিল।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুপুর বেলা (তাবু থেকে বের হয়ে) মাঠের দিকে গেলেন, অতঃপর ওযু করলেন। অতঃপর তিনি যুহরের সময়ের দু'রাকাআত এবং আসরের সময়েরও দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তার সামনে একটি বর্শা ছিল। শুবাহ বলেন, আওন তার পিতা আবূ জুহাইফাহ-এর সূত্রে আরো বর্ণনা করেছেন যে, বর্শার অপরদিক দিয়ে মহিলা এবং গাধা অতিক্রম করছিল।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রে উপরোল্লিখিত সূত্রদ্বয়ের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাকাম-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ লোকেরা তার ওযুর অবশিষ্ট পানি (গায়ে মাখার জন্য বারাকাত স্বরূপ) নিতে লাগল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে (মিনায়) আসলাম। এ সময় আমি বয়ঃপ্রাপ্তির কাছাকাছি বয়সের ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মিনায় লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি লাইনের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। গাধার পিঠ থেকে নেমে এটাকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম এবং আমি লাইনের মধ্যে ঢুকে পড়লাম।এ ব্যাপারে আমাকে কেউ বাধা দেয়নি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি একটি গাধায় সওয়ার হয়ে (মিনায়) আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সময় মিনায় লোকেদের নিয়ে সালাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। এটা বিদায় হাজ্জের সময়কার ঘটনা। গাধাটি কোন কোন লাইনের সামনে দিয়ে চলাফেরা করছিল। তিনি এর পিঠ থেকে নেমে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... যুহরী হতে এ সনদে উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ নবী (ﷺ) আরাফাতের ময়দানে সালাতে রত ছিলেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে মিনা বা আরাফাহ কোনটিরই নাম উল্লেখ নেই। এতে বলা হয়েছে এ ঘটনাটি বিদায় হজ্জের সময়কার অথবা মক্কা বিজয়ের সময়কার।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (একাকি) সালাত আদায় করে সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে চলাচল করতে না দেয়। সে সাধ্যমত তাকে বাধা দিবে। অতিক্রমকারী যদি এ থেকে বিরত হতে না চায় তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... ইবন হিলাল হুমায়দ (বাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক সাখী কোন একটি ব্যাপারে আলাপ রত ছিলাম। এমন সময় আবূ সালিহ "আস সাম্মান" বলে উঠলেন, আমি আবূ সাঈদ-এর কাছে যা শুনেছি এবং দেখেছি তা তোমাকে বলছি। এক জুমুআর দিন আমি আবূ সাঈদ-এর সাথে ছিলাম। তিনি একটি জিনিস সামনে রেখে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় আবূ মুআয়ত গোত্রের একটি যুবক সেখানে এসে উপস্থিত হলো। সে আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করল। তিনি তার গলা ধরে ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু যুবকটি আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খুজে পাচ্ছিল না। সে পুনরায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করল। তিনি পূর্বের চেয়ে অধিক জোরে গলা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিলেন। সে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সামনাসামনি দাড়িয়ে গেল। ইতিমধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গেল। সে বের হয়ে সরাসরি মারওয়ানের কাছে উপস্থিত হয়ে (তার বিরুদ্ধে) অভিযোগ দায়ের করল। রাবী বলেন, ইতিমধ্যে আবূ সাঈদও মারওয়ানের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। মারওয়ান তাকে লক্ষ্য করে বলল, আপনার এবং আপনার ভাতিজার মধ্যে কি ঘটেছে? সে এসে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আবূ সাঈদ উত্তরে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন কোন কিছু দিয়ে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করে; এমতাবস্থায় যদি কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় সে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। যদি সে বিরত হতে অস্বীকার করে তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদর কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। যদি সে বিরত না হয়, তবে (সালাত আদায়কারী) তার (অতিক্রমকারীর) বিরুদ্ধে (লড়াই করবে) অস্ত্র ধারণ করবে। কেননা তার সাথে শয়তান রয়েছে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... বুসর ইবন সাঈদ হতে বর্ণিত। যায়দ ইবন খালিদ আল জুহানী তাকে আবূ জুহায়ম এর কাছে পাঠালেন। উদ্দেশ্য সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যা শুনেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা। আবূ জুহায়ম বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত সে কত বড় পাপ করছে; তাহলে সে তার সামনে দিয়ে চলাচল করার পরিবর্তে চল্লিশ পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভাল মনে করত। আবূ নাযর বলেন, তিনি কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন- তা আমার জানা নেই।

আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ইবন হাইয়্যান আল আবদী .... জুহায়ম আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... সাহল ইবন সা'দ আস্ সাইদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের স্থান এবং (তার সামনের) দেয়ালের মাঝখান একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল। (তিনি সুতরাহ এর খুব কাছাকাছি দাড়াতেন)।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... সালামাহ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) "মাসহ(মাসেহ)াফ" এর নিকটবর্তী স্থানটি খুজতেন। তিনি (সালামাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি (ﷺ) এ স্থানটি (সালাতের জন্য) নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন। এ স্থানটি ছিল মিম্বার এবং কিবলার মাঝখানে। স্থানটি একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল।

মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... ইয়াযীদ ইবন আবূ উবায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সালামাহ ইবন আকওয়া "মুসহাফ" এর নিকটবর্তী স্তম্ভ সংলগ্ন জায়গাটি খুজে সেখানে সালাত আদায় করতেন। আমি তাকে বললাম, হে মুসলিমের পিতা; আমি আপনাকে এ খুটি সংলগ্ন জায়গাটি খুজে সেখানে সালাত আদায় করতে দেখছি। তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ) কে এ খুটির সাথে সংলগ্ন স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাড়ায়, সে যেন হাওদার খুটির ন্যায় একটি কাঠি তার সামনে দাড় করিয়ে দেয়। যদি সে তার সামনে হাওদার পিছনের খুটির ন্যায় একটি কাঠি দাড় না করায়- এমতাবস্থায় তার সামনে দিয়ে গাধা, মহিলা এবং কালো কুকুর চলাচল করলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। [আবদুল্লাহ ইবন সীমিত বলেন] আমি বললাম, হে আবূ যার কালো কুকুরের কি অপরাধ, অথচ লাল ও হলুদ বর্ণের কুকুরও তা রয়েছে? তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ রকম প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছেনঃ কালো কুকুর হলো একটি শয়তান।

শাইবান ইবন ফাররূখ, মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না ও ইবন বাশশার, ইসহাক ইবন ইবরাহীম এবং ইউসুফ ইবন হাম্মদ আল মানী ... হুমায়দ ইবন হিলাল হতে বর্ণিত। তিনি ইউনুস কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল মাখযুমী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে নারী, গাধা এবং কুকুরের চলাচল সালাত নষ্ট করে দেয়। সালাত আদায়কারীর সামনে হাওদার পিছনের খুটির ন্যায় কিছু (সুতরাহ) থাকলে সালাত নষ্ট হয় না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাত্রি বেলায় সালাত আদায় করতেন। আমি তার এবং কিবলার মাঝামাঝি জানাযার মতো আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি রাত্রে সালাত আদায় করতেন। আমি তার এবং কিবলার মাঝে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন বিতর সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন আমাকে জাগাতেন। অতঃপর আমিও বিতর সালাত আদায় করে নিতাম।

আমর ইবন আলী .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ বললেন, কিসে সালাত নষ্ট হয়? রাবী বলেন, আমরা বললাম, স্ত্রীলোক এবং গাধার কারণে সালাত নষ্ট হয়। তিনি বললেন, তাহলে স্ত্রীলোক একটি অশুভ প্রাণী! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে জানাযার মতো আড়াআড়ি হয়ে শুয়ে থাকতাম, আর তিনি সালাত আদায় করতেন।

আমর আন নাকিদ, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও উমার ইবন হাফস্ ইবন গিয়াস ... আল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি (মাসরূক) বলেন, আয়িশাহ্ এর সম্মুখে সালাত বিনষ্টকারী জিনিস যেমন কুকুর, গাধা এবং মহিলাদের কথা উল্লেখ করা হলো। আয়িশাহ বললেন, তোমরা তো আমাদেরকে গাধা এবং কুকুরের সমতুল্য করে দিলে। আল্লাহর শপথ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। আমি বিছানার উপর তার এবং কিবলার মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। আমার উঠার প্রয়োজন দেখা দিলে (শোয়া থেকে উঠে) তার সামনে বসে থাকা এবং এভাবে তাকে কষ্ট দেয়া আমার কাছে খারাপ লাগত। তাই আমি খাটের পায়ের দিক দিয়ে ঘেসে ঘেসে নেমে বের হয়ে যেতাম।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সাথে তুলনা করলে। আমি খাটের উপর শুয়ে থাকতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে খাটের উপর দাড়িয়ে যেতেন, অতঃপর সালাত শুরু করে দিতেন। আমার উঠবার প্রয়োজন দেখা দিলে শোয়া থেকে উঠে তার সামনে বসে থেকে তাকে কষ্ট দেয়া আমার কাছে খারাপ লাগত। তাই আমি খাটের পায়ের দিকে ঘেসে ঘেসে আসতাম, অতঃপর লেপের মধ্য থেকে বেরিয়ে যেতাম।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে শুয়ে থাকতাম। আমার পা দুটি কিবলার দিকে থাকত। তিনি যখন সিজদা করতেন, আমাকে ইঙ্গিত দিতেন এবং আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। যখন তিনি দাড়িয়ে যেতেন, আমি আবার পা বিছিয়ে দিতাম। এ সময় ঘরে বাতি থাকত না।

ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন, আর আমি তার পাশেই সোজা হয়ে শুয়ে থাকতাম। আমি তখন হায়িয (মাসিক ঋতু) অবস্থায় ছিলাম। কখনো কখনো সিজদা করার সময় তার কাপড় আমার গায়ে এসে পড়ত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাত্রিতে সালাত আদায় করতেন। আমি তার পাশে শুয়ে থাকতাম। আমি এ সময় ঋতুবতী ছিলাম। আমার গায়ে চাঁদর ছিল, এর কোন কোন অংশ তার পার্শ্বদেশে ঠেকে যেত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দু'টো করে কাপড় আছে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আবদ আল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবূ হুরাইরাহ নবী (ﷺ) হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে উদ্দেশ্য করে বলল, আমাদের কোন ব্যক্তি একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারে কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে দু'টি করে কাপড় সংগ্রহ করার সামর্থ্য রাখে কি?

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর ইবন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন এক কাপড় পরে এমন অবস্থায় সালাত না পড়ে যে, তার কাঁধে ঐ কাপড়ের কোন অংশ নেই।

আবূ কুরায়ব .... উমার ইবন আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি কাপড় পরে উম্মু সালামার ঘরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। কাপড়ের দু'দিক তার কাঁধের উপর রাখা ছিল।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ হতে বণিত। তিনি তার বর্ণনায় "মুসতামিলান" শব্দের পরিবর্তে "মুতাওয়াস্সিহান" শব্দের উল্লেখ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উমার ইবন আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উম্মু সালামার ঘরে একটি কাপড় পড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি এর দু'দিক দু'বিপরীত কাঁধে রেখেছিলেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ঈসা ইবন হাম্মাদ .... উমার ইবন আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। এর দু'কিনারা দু'কাঁধের উপর দিয়ে সামনে টেনে এনে বুকের উপর গিট দিয়েছেন। ঈসা ইবন হাম্মাদের বর্ণনায় কাঁধের উপর বেধেছেন বলে অতিরিক্ত আছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে একটি কাপড় পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি কাপড়টির দু'মাথা পিছন দিক থেকে দু'কাঁধের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে এনে বুকের উপর বেধেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন আল মুসান্না .... সুফইয়ান হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবন নুমায়র এর বর্ণনায় আছেঃ আমি (জাবির) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশ করলাম।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ যুবায়র আল মাক্কী হতে বর্ণনা করেন। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে একটি কাপড়ে জড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। অথচ তার কাছে আরো কাপড় বর্তমান ছিল। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমনটি করতে দেখেছেন।

আমর আন্‌ নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেছেন, একদিন তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে আগমন করলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে একটি চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতে এবং সিজদা করতে দেখলাম। তিনি আরো বলেন, আমি একটি কাপড় দ্বারা জড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আল আমাশ হতে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আছে, কাপড়ের দু'কিনারা দু'কাঁধের উপর ছিল। আবূ বকর ও সুওয়াইদ এর বর্ণনায় আছে, তিনি ডান কাঁধের কাপড় বাম হাতের নীচে এবং বাম কাঁধের কাপড় ডান হাতের নীচে দিয়ে নিয়ে পরে একত্র করে বুকের উপর বেধেছিলেন।