bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কুরবানী (৪৯৫৯-৫০২১)

আহমাদ ইবন ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জুনদাব ইবন সুফইয়ান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ঈদুল আযহায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি অন্য কোন কাজ না করে নামাজ আদায় করলেন। সালাত শেষে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তিনি কুরবানীর গোশত দেখতে পেলেন, যা তার সালাত আদায়ের আগেই যাবাহ করা হয়েছিল। তারপর তিনি বললেন, যে লোক সালাত আদায়ের আগে তার কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি পশু যাবাহ করে। আর যে ব্যক্তি যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লা-হ বলে) যাবাহ করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জুন্দাব ইবন সুফইয়ান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ঈদুল আযহায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি মানুষের সাথে নামাজ শেষ করে একটি বকরী দেখতে পেলেন, যা সালাতের আগেই যাবাহ করা হয়েছে। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, সালাতের আগে যে লোক যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি বকরী যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন এখন আল্লাহর নাম নিয়ে যাবাহ করে।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার আসওয়াদ ইবন কায়স হতে উক্ত সূত্রে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং তারা আবূল আহ্ওয়াস এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... জুন্দাব বাজালী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করছিলেন। অতঃপর তিনি খুতবাহ দিতে গিয়ে বলেন, যে লোক সালাত সম্পন্ন হওয়ার আগে যাবাহ করেছে সে যেন এর জায়গায় আরেকটি (পশু) যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি, সে যেন এখন আল্লাহর নামে যাবাহ করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... শুবাহ হতে উল্লেখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আবূ বুরদাহ সালাতের আগে কুরবানী করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ওটা গোশতের বকরী। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে ছয় মাসের একটি বকরীর বাচ্চা রয়েছে। তিনি বললেন, সেটি যাবাহ করো। তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা ঠিক হবে না। অতঃপর তিনি বললেন, যে লোক সালাতের আগে যাবাহ করল, সে শুধু নিজের জন্যই যাবাহ করল (আল্লাহর জন্য হলো না)। আর যে লোক সালাতের পর যাবাহ করল, তার কুরবানী পূর্ণ হয়ে গেল এবং সে মুসলিমদের শরীআত অনুযায়ী কাজ করল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত যে, তার মামা আবূ বুরদাহ্ ইবন নিয়ার নবী (ﷺ) এর যাবাহ এর আগে যাবাহ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিনে গোশত খোজা ভাল নয়। তাই আমি আমার পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বীয় গৃহের লোকদেরকে খাওয়ানোর উদেশে দ্রুত কুরবানী করেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি আবার কুরবানী করো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে একটি দুধেল বকরী আছে, যেটি গোশতের (মাপে) দুটি বকরীর চেয়েও ভাল। তিনি বললেন, দুটির কুরবানীর মধ্যে এটিই তোমার উত্তম কুরবানী হবে। আর তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য ছয় মাসের বকরী যথেষ্ট হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) কুরবানীর দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের লক্ষ্য করে খুতবাহ দিলেন এবং বললেনঃ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যেন যাবাহ না করে। বারা বলেন, অতঃপর আমার মামা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিনে তো গোশত খোজা ভাল নয়। অতঃপর বর্ণনাকারী হুশায়ম বর্ণিত হাদীসের উপরোল্লিখিত বাক্য বর্ণনা করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক আমাদের মতো নামাজ আদায় করে, আমাদের কিলামুখী হয় এবং আমাদের মতো কুরবানী করে, সে যেন সালাতের পূর্বে যাবাহ না করে। পরে আমার মামা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো আমার ছেলের পক্ষ থেকে কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন, সেটা তো এমন জিনিস, যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য জলদি করে (যাবাহ করে) ফেলেছ। তিনি বললেন, আমার কাছে (এমন) একটি বকরী আছে, যা দুটি বকরীর চেয়েও উত্তম। তিনি বললেন, তুমি সেটা কুরবানী করো। কারণ সেটাই তোমার উত্তম কুরবানী হবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হলো নামাজ আদায় করা। তারপর আমরা ফিরে গিয়ে কুরবানী করব। যে লোক এরূপ করলো সে আমাদের সুন্নাত পালন করলো। আর যে লোক (সালাতের আগে) যাবাহ করলো, সেটা কেবল গোশত (খাওয়ার জন্য) হলো, যা সে নিজের পরিবারের জন্য অগ্রিম ব্যবস্থা করলো। সেটা কুরবানীর কিছুই হলো না। আবূ বুরদাহ ইবন নিয়ার পূর্বেই কুরবানীর নিয়্যাতে যাবাহ করে ফেলেছিলেন। তাই তিনি বললেন, আমার কাছে একটি ছয় মাসের বকরীর বাচ্চা আছে যা এক বছরের বাচ্চার চেয়েও হৃষ্টপুষ্ট। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি সেটিই কুরবানী করো। তোমার পরে আর কারো জন্য এটা যথেষ্ট হবে না।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... বারা ইবন আযিব নবী (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, হান্নাদ ইবন আস্ সারী, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইব্রাহীম .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন সালাতের পর আমাদের লক্ষ্য করে খুতবাহ দিলেন। তারপর রাবী উল্লেখিত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিলেন। তিনি এতে বললেনঃ সালাতের আগে কেউ যেন কুরবানী না করে। এক লোক বলল, আমার কাছে একটি দুধেল বকরী রয়েছে, যেটি গোশতের (হিসেবে) দুটি বকরীর চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, ওটা কুরবানী করো। তোমার পর অন্য কারো জন্য এ রকম ছ'মাসের বাচ্চা (কুরবানী করা) যথেষ্ট হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বুরদাহ সালাতের পূর্বে কুরবানী করলে নবী (ﷺ) বললেনঃ এটার পরিবর্তে অন্য একটি কুরবানী করো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট শুধু একটি ছ'মাসের বকরীর বাচ্চা আছে। শুবাহ বলেন, মনে হয় তিনি বলেছেন, সেটা এক বছরের বাচ্চার চাইতেও উত্তম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সেটির স্থানে এটি কুরবানী করো। আর তোমার পর অন্য কারো জন্য এটা যথেষ্ট হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম শুবাহ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটা "এক বছরের বাচ্চার চাইতেও উত্তম" এ বাক্যের বর্ণনায় সংশয়ের বর্ণনা করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হাৱব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন বললেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে যাবাহ করেছে, সে যেন আবার যাবাহ করে। এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিনে তো গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হয়ে থাকে। এ সময় সে তার প্রতিবেশীদের প্রয়োজনের কথাও উল্লেখ করে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেন তার কথাকে সত্য মনে করলেন। সে আরো বলল, আমার কাছে একটি ছ'মাসের বকরীর বাচ্চা রয়েছে, যেটি গোশতের (হিসেবে) অন্য দুটি বকরীর চাইতেও উত্তম, আমি কি সেটি যাবাহ করব? আনাস বলেন, পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন। আমার জানা নেই যে, ঐ অনুমতি এ লোক ব্যতীত অন্য কারো জন্যে ছিল কি-না। আনাস আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুটি দুম্বার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সে দুটি যাবাহ করলেন। আর লোকজন বকরীগুলোর দিকে (ঐ দুম্বাগুলোর দিকে) এগিয়ে গেল এবং সেগুলো বণ্টন করল। অথবা তিনি বলেছেন, তারা পরস্পর ভাগ-বাটােয়ারা করল।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাজ আদায় করলেন, এরপর খুতবাহ দিলেন। অতঃপর যে লোক সালাতের আগে কুরবানী করেছে তাকে আবার কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন। এরপর বর্ণনাকারী ইবন উলাইয়্যার হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।

যিয়াদ ইবন ইয়াহইয়া আল হাসসানী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিলেন। তারপর গোশতের গন্ধ পেয়ে (সালাতের আগে) কুরবানী করতে বারণ করলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করেছে, সে যেন আবার কুরবানী করে। তারপর বর্ণনাকারী ইবন উলাইয়্যাহ্ ও হাম্মদ এর হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মুসিন্নাহ্ (দুধ দাত পড়ে গেছে এমন পশু) ছাড়া কুরবানী করবে না। তবে এটা তোমাদের জন্য কষ্টকর মনে হলে তোমরা ছ'মাসের মেষ-শাবক কুরবানী করতে পার।

মুহাম্মদ ইবন হাতিম ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কুরবানীর দিন মদীনায় আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। তারপর কিছু লোক এ মনে করে আগেই কুরবানী করে ফেললো যে, নবী (ﷺ) সম্ভবত কুরবানী করেছেন। অতঃপর নবী (ﷺ) যারা তার পূর্বে কুরবানী করেছে, তাদেরকে আবার আর একটি কুরবানী করার আদেশ করেন এবং তিনি নির্দেশ দেন, কেউ যেন নবী (ﷺ) এর কুরবানী করার আগে কুরবানী না করে।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীগণের মধ্যে কুরবানীর পশু বন্টন করার জন্য তাকে কিছু বকরী দিলেন। একটি বাচ্চা (ছ'মাসের) বাকী রয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জানালে তিনি বললেন, তুমি এটা কুরবানী করো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... উকবাহ ইবন আমির আল-জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে কুরবানীর জন্তু ভাগ করলে আমার ভাগে একটি ছ'মাসের বাচ্চা ছাগল পড়ে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো ছ'মাসের একটি বাচ্চা (ছাগল) পেয়েছি। তিনি বললেন তা-ই তুমি কুরবানী করো।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... উকবাহ আমির জুহানী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীগণের মধ্যে কুরবানীর জন্তু ভাগ করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী উল্লেখিত অনুবাদের হুবহু রিওয়ায়াত করেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু' শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো ধূসর রংয়ের দুটি দুম্বা স্বহস্তে যাবাহ করেন। (যাবাহ করার সময়) তিনি বিসমিল্লাহ-হ' ও আল্লা-হু আকবার' বলেন এবং (যবাহকালে) তার একখানা পা দুম্বা দুটির ঘাড়ের পাশে রাখেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' শিংযুক্ত সাদা-কালো বর্ণের দুটি দুম্বা কুরবানী করেন। তিনি আরও বলেন, আমি-তাকে দুম্বা দুটি স্বহস্তে যাবাহ করতে দেখেছি। আরও দেখেছি, তিনি ও দু'টির ঘাড়ের পাশে নিজ পা দিয়ে চেপে রাখেন এবং বিসমিল্লাহ' ও আল্লাহু আকবার' বলেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানী করেন। রাবী পরবর্তী অংশ উল্লেখিত হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করেন। শুবাহ্ বলেন, আমি কাতাদাহকে বললাম, আপনি কি আনাস থেকে হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা (শুনেছি)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আমি তাকে "বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার" বলতেও শুনেছি।

হারূন ইবন মারূফ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানী করার জন্য শিংওয়ালা দুম্বাটি আনতে নির্দেশ দেন-যেটি কালোর মধ্যে চলাফেরা করতো (পায়ের গোড়া কালো ছিল), কালোর মধ্যে শুইতো (পেটের নিচের অংশ কালো ছিল) এবং কালোর মধ্য দিয়ে দেখতে (চোখের চারদিকে কালো ছিল)। সেটি আনা হলে তিনি আয়িশাহ কে বললেন, ছোরাটি নিয়ে এসো। অতঃপর বলেন, ওটা পাথরে ধার দাও। তিনি তা ধার দিলেন। পরে তিনি সেটি নিলেন এবং দুম্বাটি ধরে শোয়ালেন। তারপর সেটা জবাহ করলেন এবং বললেন, "আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার ও তার উম্মাতের পক্ষ হতে এটা কুবুল করে নাও।" তারপর এটা কুরবানী করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনায়ী .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আগামীকাল শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করবো। অথচ আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি কিংবা ভালভাবে দেখে নিখুতভাবে যাবাহ করবে। যা রক্ত প্রবাহিত করে, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয় (তা দিয়ে যাবাহকৃত জন্তু) খাও। তবে তা যেন দাত ও নখ না হয়। আমি তোমাদের কাছে এর কারণ বর্ণনা করছি। কেননা দাত হলো হাড় বিশেষ, আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি। রাবী বলেন, আমরা গনীমাতের কিছু উট ও বকরী পেলাম। সেখান থেকে একটি উট ছুটে গেলে এক লোক তীর মেরে সেটাকে আটকিয়ে ফেললো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এসব উটের মধ্যেও বন্য প্রাণীর মতো আচরণ রয়েছে। অতএব এগুলোর মাঝে কোন একটি যদি নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে যায় তবে তার সঙ্গে এরূপ ব্যবহারই করবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তিহামার অন্তর্গত যুল-হুলাইফাহ্ নামক জায়গায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। সেখানে আমরা বকরী ও উট পেলাম। লোকজন তাড়াতাড়ি করে ডেগের মধ্যে এগুলোর গোশত জ্বাল দিতে লাগলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে ডেগগুলোর পার্শ্বদেশ উল্টিয়ে দেয়া হলো। তারপর একটি উট দশটি ছাগলের সমান গণ্য করা হলো। রাবী হাদীসের অবশিষ্টাংশ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।

ইবন আবূ উমার .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আগামীকাল শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করবো। অথচ আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। (ধারালো) বাশের খোলস দ্বারা কি যাবাহ করবো? রাবী ইসমাঈল পুরো ঘটনাসহ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি [রাফি] আরও বলেন, উক্ত উটগুলোর মধ্য হতে একটি উট ছুটে গেলে আমরা তীর ছুড়ে সেটাকে পাকড়াও করলাম।

আল-কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... সাঈদ ইবন মাসরুক হতে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসে তিনি আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই, আমরা কি বাশ দ্বারা যাবাহ করবো' রাফি এর এ উক্তিটি উল্লেখ করেন।

মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ ইবন আবদুল হামীদ .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আগামীকাল দুশমনদের সঙ্গে মুকাবিলা করবো, অথচ আমাদের কাছে কোন ছুরি নেই। শুবাহ শেষ পর্যন্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তবে তিনি এ কথাটি উল্লেখ করেননি, "কিছু লোক তাড়াতাড়ি করে, পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আদেশে সেগুলো (ডেগ বা পাতিলগুলো) উল্টিয়ে দেয়া হয়।" তবে (এ অংশটি ব্যতীত) তিনি পুরো ঘটনাই বর্ণনা করেছেন।

আবদুল জাববার ইবন আলা .... আবূ উবায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব এর সাথে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার আগে নামাজ আদায় করলেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তিনদিনের পর কুরবানীর গোশত খেতে বারণ করেছেন।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ উবায়দ হতে বর্ণিত যে, তিনি উমার ইবন খাত্তাব এর সাথে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, (পরবর্তী সময়) আমি আলী ইবন আবূ তালিব এর সাথে নামাজ আদায় করেছি। তিনি খুতবার আগে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর লোকজনের উদ্দেশে খুতবাহ দেন। (খুতবায়) তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনদিনের পর কুরবানীর গোশত আহার করতে তোমাদের বারণ করেছেন। অতএব তোমরা তা খেয়ো না।

যুহায়র ইবন হারব, হাসান হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ, যুহরী হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... ইবন উমার এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কেউ যেন কুরবানীর গোশত তিনদিনের পরে না খায়।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে লায়স এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।

ইবন আবূ উমার ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন দিনের উপরে কুরবানীর গোশত আহার করতে বারণ করেছেন। সালিম বলেন, এজন্য ইবন উমার তিনদিনের উপর কুরবানীর গোশত খেতেন না। ইবন আবূ উমার 'তিনদিনের পর' কথাটি বর্ণনা করেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ..... আবদুল্লাহ ইবন ওয়াকিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন দিনের উপরে কুরবানীর গোশত খেতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর বলেন, আমি বিষয়টি আমরাহ এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ইবন ওয়াকিদ সত্যই বলেছেন। আমি আয়িশাহ্ কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় ঈদুল আযহার সময় বেদুঈনদের কিছু পরিবার শহরে আগমন করে, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তিনদিনের পরিমাণ জমা রেখে বাকী গোশতগুলো সাদাকাহ করে দাও। পরবর্তী সময়ে লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! মানুষেরা তো কুরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে পাত্র প্রস্তুত করছে এবং তার মাঝে চর্বি গলাচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাতে কি হয়েছে? তারা বলল, আপনিই তো তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশত খাওয়া হতে বারণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি তো বেদুঈনদের আগমনের কারণে এ কথা বলেছিলাম। অতঃপর এখন তোমরা খেতে পার, জমা করে রাখতে পার এবং সাদাকাহ করতে পার।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির কর্তৃক নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তিনদিনের পরেও কুরবানীর গোশত খেতে বারণ করেছেন। তারপর পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, এখন তোমরা খেতে পার, পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করতে পার এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনায় তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশত খেতাম না। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুমতি দিয়ে বললেনঃ তোমরা খেতে পার এবং অতিরিক্ত হিসেবে রাখতেও পার। (ইবন জুরায়জ বললেন) আমি আতাকে বললাম, জাবির কি 'মদীনায় আগমন করা পর্যন্ত' কথাটি বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যা।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশত জমা করে রাখতাম না। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনদিনের পরেও এ থেকে খাওয়ার এবং পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমাদের অনুমতি দেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূল (ﷺ) এর সময় মদীনায় পৌছা পর্যন্ত কুরবানীর গোশত পাথেয় হিসেবে নিয়ে আসতাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে, অন্য সানাদে আবদুল আ'লা ..... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে মদীনার লোকেরা! তোমরা যেন তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত না খাও। ইবন মুসান্না (তিনদিন) শব্দ উল্লেখ করেছেন। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে অভিযোগ (আপত্তি) করলো যে, তাদের পরিবার-পরিজন, কাজের লোক ও সেবক রয়েছে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং জমা করে রাখো।

ইসহাক ইবন মানসূর .... সালামাহ্ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি কুরবানী করবে, সে যেন ঈদের তৃতীয় রাতের পর তার বাড়িতে কুরবানীর পশুর কোন কিছু সঞ্চিত না রাখে। আগামী বছর যখন আগত হলো, তখন লোকজনেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি গত বছরের মতো করবো? তিনি বললেন, না। সে বছর তো মানুষ খুব দুর্দশায় ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম যাতে সকলের কাছে কুরবানীর (গোশত) পৌছে যায়।

যুহায়র ইবন হারব .... সাওবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কুরবানীর জন্তু যাবাহ করলেন। তারপর বললেন, হে সাওবান! এর গোশত উত্তমভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করো। তারপর থেকে তিনি মদীনায় আগমন করা পর্যন্ত আমি তাকে উক্ত গোশত হতে খাওয়াতে থাকি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন রাফি, ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্‌যালী .... মুআবিয়াহ্ ইবন সালিহ্ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন মানসূর .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোলাম সাওবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হাজ্জের কালে আমাকে বললেনঃ এ গোশত উত্তমরূপে সংরক্ষণ কর। আমি তা ভাল করে রেখে দিলাম। তিনি মদীনায় পৌছা পর্যন্ত এ গোশত খেতে থাকেন।

আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আদ দারিমী .... ইয়াহইয়া ইবন হামযাহ্ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বিদায় হাজ্জের সময় কথাটি উল্লেখ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... বুরাইদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কবর যিয়ারাত হতে তোমাদের বারণ করেছিলাম, এখন তোমরা যিয়ারাত করতে পার। আর আমি তোমাদের তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুপাতে জমা করে রাখতে পার। আমি আরো তোমাদের নিষেধ করেছিলাম চর্ম দ্বারা নির্মিত পাত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল পাত্রে তৈরি নবীয (খেজুর ভেজানো পানি) পান করতে, এখন তোমরা যে কোন পাত্র থেকেই পান করতে পারো। তবে যা কিছু নেশা সৃষ্টি করে তা পান করো না।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... বুরাইদাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের বারণ করেছিলাম ....। তারপর রাবী আবূ সিনানের হাদীসের অবিকল অর্থ বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অন্য সানাদে মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফারা' ও আতীরাহ (রজব মাসের প্রথম দশদিনের যাবাহকৃত পশু) বলতে (ইসলামে) কিছু নেই। ইবন রফি' তার রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন- ফারা হলো (পশুর) প্রথম বাচ্চা, যা তারা যাবাহ করতো।

ইবন আবূ উমার আল-মাক্কী .... উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)। সুফইয়ান কে বলা হলো, অনেকে তো হাদীসটিকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উল্লেখ করেন না। তিনি বললেন, আমি কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকেই উল্লেখ করি।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয় আর কারো নিকট কুরবানীর পশু উপস্থিত থাকে, যা সে যাবাহ করার নিয়্যাত রাখে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা যিলহাজ্জ মাসের (নতুন চাঁদ দেখতে পাও) আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল না ছাটে ও নখ না কাটে।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম হাশিমী .... উমার কিংবা আমর ইবন মুসলিম হতে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আমবারী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোকের কাছে কুরবানীর পশু আছে সে যেন যিলহজ্জের নতুন চাঁদ দেখার পর ঈদের দিন থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।

হাসান ইবন আলী আল-হুলওয়ানী .... আমর ইবন মুসলিম ইবন আম্মার আল-লাইসী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা গোসলখানায় ছিলাম কুরবানীর ঈদের কিছুদিন আগে। কতিপয় লোক চুন দিয়ে নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করল। গোসলখানায় উপস্থিত লোকদের একজন বললেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব এটা অপছন্দ করেন। পরে আমি সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব এর সাথে দেখা করে বিষয়টি তাকে জানলাম। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এ হাদীসটি তো মানুষ ভুলে গেছে এবং ছেড়ে দিয়েছে। নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ আমার কাছে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ .... রাবী মুহাম্মাদ ইবন আমর হতে মুআয বর্ণিত হাদীসের মতই অর্থবোধক শব্দাবলী উল্লেখ করেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আখী ইবন ওয়াহব .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন .... অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীসের সমার্থক।

যুহায়র ইবন হারব ও সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আবূ তুফায়ল আমির ইবন ওয়াসিলাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক লোক তার নিকট এসে বলল, নবী (ﷺ) আপনাকে আড়ালে কি বলেছিলেন? রাবী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বললেন, নবী (ﷺ) লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার নিকট একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল- হে আমীরুল মুমিনীন! সে চারটি কথা কি? তিনি বললেনঃ ১. যে লোক তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন, ২. যে লোক আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন কারো নামে যাবাহ করে আল্লাহ তার উপরও অভিসম্পাত করেন, ৩. ঐ ব্যক্তির উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোন বিদআতী লোককে আশ্রয় দেয় এবং ৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্নসমূহ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে, তার উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ তুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী কে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে গোপনে যা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন, মানুষের নিকট গোপন রেখেছেন এমন কিছুই তিনি আমার নিকট একান্তে বলেননি। তবে আমি তাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যাবাহ করে আল্লাহ তাকে লানাত করেন; যে লোক কোন বিদআতীকে ঠাই দেয়, আল্লাহ তাকে লানাত করেন; যে লোক আপন পিতা-মাতাকে লানাত করে আল্লাহ তাকে লানাত করেন এবং যে ব্যক্তি (জমিনের) চিহ্নসমূহ পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে লানাত করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ তুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী-কে প্রশ্ন করা হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাদের নিকট বিশেষভাবে কিছু বলে গেছেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করেননি এমন কোন ব্যাপারে আমাদেরকে বিশেষভাবে কিছু বলে যাননি, তবে একমাত্র আমার তলোয়ারের এ খাপটিতে যা আছে তা ব্যতীত। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একটি সহীফাহ্ (লিখিত কাগজ) বের করলেন, যাতে লেখা ছিল আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যাবাহ করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে লোককে, যে জমিনের সীমানা চিহ্নসমূহ চুরি করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে তার পিতাকে অভিসম্পাত করে। আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয়।'