দুধপান (৩৪৬১-৩৫৪৪)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ সূত্রে আমরাহ বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অবস্থান করছিলেন; তিনি তখন কোন ব্যক্তির হাফসাহ এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি লাভের আওয়াজ শুনতে পেলেন। আয়িশাহ বলেন, আমি তখন বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ লোক আপনার ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি জানি, অমুক, হাফসার দুধচাচা। আয়িশাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি তার (আয়িশার) দুধচাচা জীবিত থাকতেন তা হলে তিনি কি তার নিকট প্রবেশ করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হা, নিশ্চয় দুগ্ধ সম্পর্ক সে সব লোকদের হারাম করে দেয়, যাদের জন্মগত সম্পর্ক হারাম করে।
আবূ কুরায়ব ও আবূ মা'মার ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম আল হুযালী .... আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "দুগ্ধ সম্পর্ক সে সব লোকদের হারাম করে দেয়, যাদের জন্মগত সম্পর্ক হারাম করে।"
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর সূত্রে উপরোক্ত হিশাম ইবন উরওয়ার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উরওয়াহ আয়িশাহ্ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূল কুআয়স এর ভাই আফলাহ একবার তার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি ছিলেন তার দুধচাচা। এ ছিল পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হবার পরবর্তী ঘটনা। তিনি বলেন, আমি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। অতঃপর যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন আমি যা করেছি সে সম্পর্কে আমি তাকে অবহিত করলাম। তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন তাকে (দুধচাচাকে) আমার নিকট আসার অনুমতি দেই।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার দুধ চাচা আফলাহ ইবন আবূল কুআয়স আমার কাছে এলেন। অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেন। তবে রাবী তার বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেছেন, আমি বললাম, আমাকে এক মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোন পুরুষ তো করাননি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার দু' হাত অথবা ডান হাত ধূলিমলিন হোক।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উরওয়াহ বলেন, আয়িশাহ তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবূল কুআয়স এর ভাই আফলাহ এসে তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। এ ছিল পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হবার পরবর্তী ঘটনা। আবূল কুয়ায়স ছিলেন আয়িশাহ এর দুধপিতা। আয়িশাহ্ বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি আফলাহ-কে আমার কাছে আসার অনুমতি দিব না যে পর্যন্ত না রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ থেকে অনুমতি না নেই। কেননা, আবূ কুআয়স তো আমাকে দুধ পান করাননি, বরং আমাকে দুগ্ধপান করিয়েছে তার স্ত্রী। আয়িশাহ্ বললেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূল কুআয়স এর ভাই আফলাহ আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি চেয়েছেন, কিন্তু আমি আপনার অনুমতি না নিয়ে তাকে আমার কাছে আসতে দিতে অস্বীকার করলাম। রাবী বলেন, আয়িশাহ বলেছেন, নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে অনুমতি দাও। উরওয়াহ বলেন, এ কারণেই আয়িশাহ বলতেন, "তোমরা দুধপানের সম্পর্ক দ্বারা ঐ সব লোকদের হারাম গণ্য করবে যাদের তোমরা বংশগত সম্পর্কের দ্বারা হারাম গণ্য কর।"
আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে এ সানাদে বর্ণিত আছে যে, আবূল কুআয়স এর ভাই আফলাহ আয়িশাহ এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। উপরোক্ত হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী এতে আরো বর্ণিত আছে যে, সে তো তোমার চাচা। তোমার হাত ধূলিমলিন হোক! আর আবূল কুয়ায়স ছিলেন আয়িশাহ কে যে মহিলা স্তন্যদান করেছিলেন তার স্বামী।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার দুধচাচা আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসলেন এবং আমার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত আমি অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন তখন আমি তাকে বললাম, আমার দুধচাচা আমার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি অনুমতি দিতে অস্বীকার করি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার চাচা তোমার নিকট প্রবেশ করতে পারে। আমি বললাম, আমাকে তো দুধপান করিয়েছে নারী, কোন পুরুষ তো আমাকে দুধপান করায়নি। তিনি বললেন, অবশ্যই সে তোমার চাচা। অতএব সে যেন তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে।
আবূ রবী আয যাহরানী .... হিশাম এ সানাদে আবূল কুআয়স এর ভাই আয়িশার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হিশাম থেকে এ সানাদে অনুরূপ। অবশ্য তিনি বলেছেন, আয়িশাহ এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন আবূল কুআয়স।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ বলেন, একদা আমার দুধচাচা আবূল জাদ আমার নিকট প্রবেশ করার জন্য অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে ফিরিয়ে দিলাম। (রাবী) ইবন জুরায়জ বলেন, আমাকে হিশাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তি তো আবূল কুআয়স। যখন নবী (ﷺ) এলেন তখন আয়িশাহ্ তাকে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বললেন, কেন তুমি তাকে অনুমতি প্রদান করলে না? ধূলায় ধূসরিত হোক তোমার ডান হাত অথবা তিনি বলেছেন, ধূসরিত হোক তোমার হাত।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, আফলাহ নামক তার দুধচাচা তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে নিষেধ করে দেন। অতঃপর তিনি এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অবহিত করলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি তার থেকে পর্দা করবে না। কেননা দুধ পানের সম্পর্ক দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্ক দ্বারা হারাম হয়।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আফলাহ ইবন কুআয়স আমার সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি প্রদানে অস্বীকার করলাম। অতঃপর তিনি লোক পাঠিয়ে আমাকে জানালেন যে, আমি তোমার চাচা। আমার ভাইয়ের স্ত্রী তোমাকে দুধপান করিয়েছেন। এরপরও আমি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং আমি তার কাছে এ বিষয় উল্লেখ করি। তিনি বললেন, সে তোমার নিকট আসতে পারে। কেননা, সে তোমার চাচা।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন আ'লা .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার আপনি কুরায়শী মহিলাদের প্রতি আগ্রহী আর আমাদের প্রতি অমনোযোগী? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে নাকি? আমি বললাম, হ্যা, হামযার কন্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে আমার জন্য হালাল নয়। কেননা, সে আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা।
উসমান ইবন শায়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন নুমায়র, মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকদ্দামী .... সবাই আমাশ সূত্রে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর সঙ্গে হামযার কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি বললন, সে আমার জন্য হালাল নয়। কেননা সে আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা। আর দুধপান দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্কের দ্বারা হারাম হয়।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন মিহরান আল কুত্বা'ঈ ও আবূ বকর ইবন শায়বাহ্ .... সাঈদ ইবন আবূ আরুবাহ্ এর সূত্রে সকলে কাতাদাহ্ থেকে উক্ত হাম্মাদের সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন। তবে শুবার হাদীসে দুধ ভাইয়ের মেয়ে পর্যন্ত এবং সাঈদের হাদীসে এ-ও আছে, দুধ সম্পর্কে তারা হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্কে হারাম হয়।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বলা হল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি হামযার কন্যার সাথে বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন থেকে দূরে কেন অথবা বলা হল আপনি কেন হামযাহ্ ইবন আবদুল মুত্ত্বালিবের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন না? তিনি বললেন, হামযাহ হল আমার দুধ ভাই।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... উম্মু হাবীবাহ বিনতু আবূ সুফইয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে আসলেন। আমি তাকে বললাম, আপনার কি আমার বোন বিনত আবূ সুফইয়ানের প্রতি আগ্রহ আছে? তিনি বললেন, আমি কী করব? আমি বললাম, আপনি তাকে বিবাহ করবেন। তিনি বললেন, তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, আমি তো একাই আপনাকে চাচ্ছি না। আপনার সান্নিধ্য কল্যাণ লাভে আমার সঙ্গে যারা শারীক হয়েছে তাদের সাথে আমার বোনও থাকুক, আমি তাই বেশি পছন্দ করি। তিনি বললেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমি এ মর্মে অবহিত হয়েছি যে, আপনি আবূ সালামার কন্যা দুররাহ-কে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বললেন, উম্মু সালামার কন্যা? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, যদি সে আমার কোলে প্রতিপালিতা নাও হতো তাহলেও সে আমার জন্য হালাল হত না। যেহেতু সে হল আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা। আমাকে এবং তার পিতা আবূ সালামাকে সুওয়ায়বা দুধপান করিয়েছেন। অতএব তোমরা আমার সাথে তোমাদের কন্যা ও ভগ্নিদের বিবাহের প্রস্তাব পেশ করবে না।
সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ ও আমর আন নাকিদ .... হিশাম ইবন উরওয়াহ সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত।
মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার বোন আযযাহ-কে বিবাহ করুন। তিনি বললেন, তুমি কি তা পছন্দ কর? তিনি বললেন, হ্যা, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি তো আপনাকে একাকী চাচ্ছি না। আর কল্যাণে যে আমার শারীক হবে, সে আমার বোন হওয়াই বেশি পছন্দ করি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে তো বিবাহ করা আমার জন্য হালাল নয়। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে যে, আপনি আবূ সালামার কন্যা দুররাহ-কে বিবাহ করার ইচ্ছা রাখেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- আবূ সালামার কন্যা? তিনি উত্তর করলেন, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি সে আমার অভিভাবকত্বে প্রতিপালিতা নাও হতো তবু সে এ কারণে আমার জন্য হালাল হতো না যে, সে আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা। আমাকে ও তার পিতা আবূ সালামাকে সুওয়ায়বাহ দুধপান করিয়েছেন। তাই তোমরা আমার কাছে তোমাদের কন্যা ও ভগ্নিদের বিবাহের প্রস্তাব পেশ করো না।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স এবং আবদ ইবন হুমায়দ যুহরী সূত্রে ইবন আবূ হাবীব এর সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইয়াজীদ ইবন হাবীব ব্যতীত তারা কেউ নিজে হাদীসে আযযার নাম উল্লেখ করেননি।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সুওয়ায়দ ও যুহায়রের বর্ণনায় নবী (ﷺ) বলেছেন, দু'এক চুমুকে হারাম করে না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আমর আন্ নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ) এর কাছে এলো। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমার এক স্ত্রী ছিল। তার উপর আর একটি বিবাহ করলাম। এমতাবস্থায় প্রথমা স্ত্রী বলছে যে, সে আমার নবাগতা স্ত্রীকে এক চুমুক বা দু'চুমুক দুধ পান করিয়েছে। নবী (ﷺ) বললেন, এক চুমুক বা দু'চুমুক হারাম করে না। আমর বলেন, আবদুল্লাহ ইবন হারিস ইবন নাওফাল এর বর্ণনায় অনুরূপ আছে।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণিত যে, বানী আমির ইবন সাসাআহ এর এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী! একবার মাত্র দুধপানে কি (বিবাহ) হারাম সাব্যস্ত করে? তিনি বললেন, না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একবার দু'বার দুধপান অথবা এক চুমুক, দু'চুমুক হারাম সাব্যস্ত করে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আবূ আরবাহ সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত। ইসহাক ইবন বিশর এর রিওয়ায়াতে বলেন, দু'বার দুধপান অথবা দু'চুমুক। ইবন আবূ শায়বাহ বলেন, দু'বার দুধপান অথবা দু'চুমুক।
ইবন আবূ উমর .... উম্মুল ফাযল নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কিংবা দু'বার চুমুকে হারাম করে না।
আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী .... উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করল, এক চুমুক দুধপান কি হারাম করে? তিনি বললেন, না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে এ আয়াতটি নাযিল হয়েছিল "দশবার দুধপানে হারাম সাব্যস্ত হয়"। অতঃপর তা রহিত হয়ে যায় এর দ্বারা "পাচবার পান দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়"। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসেবে তিলাওয়াত করা হত।"
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ আল কানবী .... আমরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আমরাহ বললেন যে, আয়িশাহ বলেছিলেন, আল-কুরআনে নাযিল হয় "নির্ধারিত দশবার দুধপানে"। অতঃপর নাযিল হয় "নির্ধারিত পাচবার দুধপানে।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আমরাহ্ সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশাহ কে অনুরূপ বলতে শুনেছেন।
আমর আন্ নাকিদ ও ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুহায়ল এর কন্যা সাহলাহ নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তার হালীফ (পোষ্য পুত্র)। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। তিনি বললেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ। এতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসি দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ। আমর (রাবী) তার হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর ইবন আবূ উমারের বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী ও মুহাম্মদ ইবন আবূ উমর .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুযায়ফার মুক্তদাস সালিম আবূ হুযায়ফাহ্ ও তার পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত। একদা সুহায়লের কন্যা (হুযায়ফার স্ত্রী) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, সালিম বয়স্ক পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে, সে বুঝে লোকে যা বুঝতে পারে অথচ সে আমাদের নিকট প্রবেশ করে থাকে। আমি ধারণা করি এ কারণে আবূ হুযায়ফার মনে অভিযোগের ভাব সৃষ্টি হয়েছে। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তুমি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবূ হুযায়ফার মনের অভিযোগ দূরীভূত হবে। অতঃপর তিনি তার (আবূ হুযায়ফার) নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি তাকে (সালিমকে) দুধপান করিয়েছি। তাতে আবূ হুযায়ফার মনের অসন্তোষ দূর হয়ে যায়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, সুহায়ল ইবন আমর এর কন্যা সাহলাহ নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালিম আবূ হুযায়ফার মুক্তদাস আমাদের সাথে একই ঘরে থাকে; অথচ সে বয়স্ক ও জ্ঞান সম্পন্ন পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে তুমি তার প্রতি হারাম হয়ে যাবে। রাবী (ইবন আবূ মুলায়কাহ) বলেন, অতঃপর আমি এক বছর বা প্রায় এক বছর কাল ভয়ে উক্ত হাদীস বর্ণনা করিনি। অতঃপর কাসিমের সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনি আমার নিকট এতদিন এমনি এক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আমি অদ্যাবধি কারোর নিকট বর্ণনা করিনি। তিনি বললেন, তা কোন হাদীস? তখন আমি তাকে ঐ হাদীসখানার বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি তা আমা হতে এ সূত্রে বর্ণনা কর যে, আয়িশাহ্ আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... যায়নাব বিনতু উম্মু সালামাহ আয়িশাহ কে বললেন, তোমার নিকট বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী ছেলে প্রবেশ করে থাকে, কিন্তু আমার নিকট ঐ ধরনের ছেলের প্রবেশ করাকে পছন্দ করি না। রাবী বলেন, "আয়িশাহ বললেন, তোমার জন্য কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে সুন্দর আদর্শ বিদ্যমান নেই? তিনি আরো বললেন, একদা আবূ হুযায়ফার স্ত্রী আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে থাকে, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ এবং এজন্য আবূ হুযায়ফার অন্তরে কিছুটা অসন্তোষভাব বিদ্যমান। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে তোমার দুধ পান করিয়ে দাও যাতে সে তোমার নিকট প্রবেশ করতে পারে।
আবূ ত্বাহির ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ একদিন আয়িশাহ কে বললেন, আল্লাহর কসম আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের সম্পর্ক থেকে মুক্ত আমাকে দেখুক। তিনি বললেন, কেন? একদা সুহায়ল এর কন্যা সাহ্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম আমার নিকট সলিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আয়িশাহ বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে তোমার দুধপান করিয়ে দাও। সাহলাহ্ বললেন, সে (সালিম) তো দাড়ি বিশিষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও, তাতে আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে। সাহলার বর্ণনা, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবূ হুযায়ফার চেহারায় মলিনতা আর দেখতে পাইনি।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... উম্মু সালামাহ্ বলতেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সকল সহধর্মিণী দুধপান সম্পর্কের দ্বারা কাউকে তাদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করেন এবং তারা আয়িশাহ্ কে বলেন, আল্লাহর কসম আমরা এটাকে (প্রাপ্ত বয়সে দুধপান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়াকে) একটি বিশেষ অনুমতি মনে করি যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল সালিমের জন্য দিয়েছিলেন। অতএব এ ধরনের দুধপানের মাধ্যমে কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করতে পারবে না এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করতে পারবে না।
হান্নাদ ইবন আস সারী .... আয়িশাহ বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন তখন আমার নিকট একজন পুরুষ উপবিষ্ট ছিলেন। তাতে তার মন অতি ভারাক্রান্ত হয় এবং আমি তার চেহারায় ক্রোধের আলামত দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, আমি তখন বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার দুধভাই। তিনি বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কারা তোমাদের দুধ ভাই, তা তোমরা ভাল করে দেখে নিও। কেননা রযাআহ সাবিত হয় যখন দুধপানের দ্বারা সন্তানের ক্ষুধা নিবারিত হয়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্, যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সকলেই আশআস ইবন শা'সা আবূল আহওয়াস বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন। তবে তারা বলেন, "ক্ষুধার কারণ"।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল মায়সারাহ আল কাওয়ারীরী .... আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়ন এর যুদ্ধের সময় একটি দল আওত্বাস এর দিকে পাঠান। তারা শত্রু দলের মুখোমুখী হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবা যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন "এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ" তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে নিবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) হুনায়ন যুদ্ধের সময় একটি ছোট সেনাদল পাঠান- পরবর্তী অংশ ইয়াযীদ ইবন যুরা'য় এর হাদীসের মর্মানুসারে। তবে এতে রয়েছে- তাদের (সধবাদের) মধ্য থেকে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত তারা তোমাদের জন্য হালাল। এ বর্ণনায় "যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে নিবে" অংশটুকুর উল্লেখ নেই।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... কাতাদাহ্ এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী ... আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, আওত্বাস এর যুদ্ধে কিছু কয়েদী সাহাবীগণের হস্তগত হয়, যাদের স্বামী ছিল। তারা (তাদের সাথে সঙ্গম করতে) ভয় পেলেন। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়- "এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ।।"
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... কাতাদাহ্ থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদ ইবন যামআহ উভয়ে একটি সন্তানের ব্যাপারে ঝগড়া করেন। সা'দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সন্তান উতবাহ ইবন আবূ ওয়াক্কাস, আমার ভাইয়ের ছেলে। তিনি আমাকে ওয়াসিয়্যাত করেছেন যে, এ সন্তান তারই পুত্র। আপনি তার সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। আর আবদ ইবন যামআহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সন্তান আমার ভাই। আমার পিতার ঔরসে দাসীর গর্ভে জন্মলাভ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্তানটির গঠনাকৃতির দিকে লক্ষ্য করলেন। দেখতে পেলেন উতবার সাথে স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। তখন তিনি বললেন, হে আবদ (ইবন যামআহ) সন্তান তো বিছানার অধিপতির আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (এর শাস্তি)। হে সাওদা বিনত যামআহ! তুমি এর থেকে পর্দা করবে। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর সে কখনো সাওদাহ কে দেখেনি। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ "ইয়া আবদু" শব্দটি উল্লেখ করেনি।
সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে উভয়ে তাদের হাদীসে শুধু সন্তান তো বিছানার অধিপতির কথাটুকু বর্ণনা করেছেন এবং 'ব্যভিচারীর জন্য পাথর' অংশের উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিছানা যার সন্তান তার, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (এর শাস্তি)।
সাঈদ ইবন মানসূর, যুহায়র ইবন হারব, আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ ও আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে, সাঈদ ও আবূ সালামাহ্ অথবা তাদের একজন সূত্রে আবূ হুরায়রাহ থেকে, আমর থেকে মা'মার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনি আনন্দে আমার নিকট প্রবেশ করলেন যে, তার চেহারার রেখাগুলো চমকাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! তুমি কি জান না যে, সবে মাত্র মুজায্যিয যায়দ ইবন হারিসাহ এবং উসামাহ্ ইবন যায়দ এর দিকে দৃষ্টিপাত করে বলে গেল যে, এদের উভয়ের পাগুলো পরস্পরের অঙ্গ।
আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ..... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, খুব প্রফুল্ল চিত্তে। তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি জান না যে, এ মুজায্যিয-ই মুদলিজী আমার কাছে প্রবেশ করে উসামাহ্ এবং যায়দকে দেখতে পেল। তারা ঢাকা ছিল এবং তাদের মাথাও আবৃত ছিল ও পা বেরিয়ে ছিল। তখন সে বলল, এ পাগুলো পরস্পর পরস্পর থেকে অভিন্ন।
মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক কায়িফ এলো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উসামাহ্ ইবন যায়দ ও যায়দ ইবন হারিসাহ তখন ঘুমন্ত ছিলেন। কায়িফ তাদের দেখে বললেন, এদের উভয়ের পা-গুলো পরস্পর পরস্পর থেকে অভিন্ন। এ মন্তব্যে নবী (ﷺ) খুশী হলেন এবং আয়িশাহ্ কে অবহিত করেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সকলেই যুহরী সূত্রে তাদের সানাদে হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত আছে, তিনি ছিলেন একজন কায়িফ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালামাকে বিবাহ করেন, তখন তিনি তার কাছে তিনদিন অবস্থান করেন এবং তিনি বলেন, তোমার ব্যাপারে তোমার গৃহকর্তার কাছে কোন প্রকার অবজ্ঞা নেই। তুমি যদি চাও তাহলে আমি তোমার কাছে সাতদিন থাকব। যদি আমি তোমার কাছে সাতদিন থাকি তবে আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সঙ্গেও সাতদিন করে থাকব।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালামাহ কে বিয়ে করলেন এবং তিনি (উম্মু সালামাহ) (রাত যাপনের পরে) নবী (ﷺ) এর নিকট থাকা অবস্থায় যখন সকাল হল তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার প্রতি তোমার স্বামীর কোন অনাদর অনাগ্রহ নেই। তুমি চাইলে তোমার কাছে সাতদিন (একাধারে) অবস্থান করব এবং তুমি চাইলে তিনদিন করব, এরপর (পালা করে) পরিক্রমা করব। উম্মু সালামাহ্ বললেন, তিনদিন (অবস্থান) করুন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী .... আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালামাহ্ কে বিয়ে করলেন এবং তার সঙ্গে বাসর যাপনের পর বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন উম্মু সালামাহ্ তার কাপড় টেনে ধরলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি চাইলে তোমার এখানে (অবস্থানের মেয়াদ) বাড়িয়ে দিব এবং তোমার নামে তা হিসাবে ধরব। (নিয়ম হল নব বিবাহিতা) কুমারীর জন্য সাতদিন ও বিধবার জন্য তিনদিন (প্রাথমিক অধিকার)।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুর রহমান ইবন হুমায়দ সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম এর সূত্রে উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিয়ে করলেন এবং তিনি কতিপয় বিষয় উল্লেখ করেছেন যার মাঝে এ কথাটিও রয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি যদি চাও তবে আমি তোমাকে সাতদিন সময় দিব এবং আমার অন্য স্ত্রীদেরও সাতদিন করে সময় দিব। তোমাকে সাতদিন সময় দিলে আমার অন্য স্ত্রীদেরও সাতদিন করে সময় দিতে হবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিধবা (স্ত্রী ঘরে থাকা অবস্থায়) কুমারীকে বিয়ে করলে তার কাছে (প্রথমবারে লাগাতার) সাতদিন অবস্থান করবে এবং কুমারী স্ত্রী থাকা অবস্থায় বিধবাকে বিয়ে করলে তার কাছে তিনদিন অবস্থান করবে। (মধ্যবর্তী রাবী) খালিদ বলেন, যদি আমি বলি যে, তিনি (উর্ধ্বতন রাবী আনাস) হাদীসটির সানাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত উন্নীত করে মারফু করেছেন তবে আমি তা সত্য বলেই জানব। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, সুন্নাত সম্মত করেছেন তবে আমি তা সত্য বলেই জানব। বরং তিনি বলেছিলেন, (নতুন সহধর্মিণীর নিকট) অবস্থান করা সুন্নাতসম্মত।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নাত পদ্ধতি হল (নব বিবাহিতা) কুমারীর নিকট সাতদিন অবস্থান করা। খালিদ বলেন, আমি চাইলে বলতে পারি যে, তিনি আনাস হাদীসটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত মারফু সানাদে উন্নীত করেছেন।
আবূ বকর আবূ শায়বাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শেষ পর্যায়ে নবী (ﷺ) এর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন। নবী (ﷺ) তাদের মাঝে পালাবণ্টন কালে নয় দিনের আগে (পালার) প্রথম স্ত্রীর কাছে পুনরায় পৌছতেন না। প্রতি রাতে নবী (ﷺ) যে ঘরে অবস্থান করতেন সেখানে তারা (নবী পত্নীগণ) সমবেত হতেন। একরাতে তিনি যখন আয়িশাহ্ এর ঘরে ছিলেন তখন যায়নাব সেখানে আগমন করলে নবী (ﷺ) তার দিকে নিজের হাত প্রসারিত করলেন। আয়িশাহ বললেন, ও তো যায়নাব! ফলে নবী (ﷺ) তার হাত গুটিয়ে নিলেন। তখন তারা দু'জন (আয়িশাহ ও যায়নাব) কথা কাটাকাটি করতে লাগলেন। এমনকি তাদের কথা কাটাকাটিতে পরিণত হলো, ইতিমধ্যে সালাতের ইকামাত (এর সময় উপস্থিত) হলে আবূ বকর সেখানে দিয়ে (সালাতে) যাচ্ছিলেন। তিনি ঐ দু'জনের আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বের হয়ে আসুন এবং ওদের মুখে ধূলা-মাটি ছুড়ে (দিয়ে মুখ বন্ধ করে) দিন। তখন নবী (ﷺ) বের হয়ে এলেন। আয়িশাহ বললেন, এখন নবী (ﷺ) তার নামাজ আদায় করবেন, তার পরে তো আবূ বকর এসে আমাকে বকাঝকা ও গালমন্দ করবেন, পরে (তা-ই হল)। নবী (ﷺ) তার সালাত সমাধা করলে আবূ বকর আয়িশাহ এর নিকটে এসে তাকে কড়া কথা বললেন এবং বললেন, তুমি এমনটা করে থাক!
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদাহ বিনত যাম্আহ এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয়া কোন নারীকে আমি দেখিনি যার দেহের মধ্যে আমি আমার অবস্থান পছন্দ করব- এমন এক নারী যার মাঝে ছিল (ব্যক্তিত্ব সুলভ) তেজস্বিতা। আয়িশাহ বলেন, বৃদ্ধ হয়ে গেলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তার প্রাপ্য (পালার) দিনটি আয়িশাহ্ কে হিবা করে দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার কাছে আমার পালার দিনটি আয়িশার জন্য দিয়ে দিলাম। ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য দুদিন পালা বণ্টন করতেন, তার নিজের (এক) দিন এবং সাওদাহ এর (এক) দিন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও মুজাহিদ ইবন মূসা সকলে হিশাম সূত্রে পূর্বোক্ত সানাদে রিওয়ায়াত করেন যে, সাওদাহ যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন... (পূর্বোক্ত যুহায়র সানাদের ঊর্ধ্বতন রাবী) জারীর এর হাদীসের অনুরূপ। তবে (মুজাহিদ সানাদের ঊর্ধ্বতন রাবী) শাকীক তার হাদীসে অধিক বলেছেন যে, সাওদাহ্ বলেছেন, সে [আয়িশাহ] ছিল প্রথম নারী (কুমারী) যাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পরে বিয়ে করেছিলেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারীরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (স্ত্রী হওয়ার জন্য) আত্মনিবেদিতা হত আমি তাদের নির্লজ্জতায় বিস্ময় প্রকাশ করতাম এবং বলতাম, কোন নারী কি (এভাবে নির্লজ্জ হয়ে) আত্মনিবেদন করতে পারে? পরে যখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করলেন- "তুমি তাদের (স্ত্রীগণের মধ্যে) যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট হতে দূরে সরিয়ে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার এবং যাকে তুমি দূরে রেখেছো তাকে (পুনরায়) কামনা করলে তাতে তোমার কোন অপরাধ হবে না"-(আল আহযাব ৩৩ঃ ৫১)। আয়িশাহ বলেন, আমি তখন বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি তো দেখছি আপনার প্রতিপালক আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণে দ্রুতই সাড়া দিয়ে থাকেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন, কোন নারী কি কোন পুরুষের কাছে নিজেকে নিবেদন করতে লজ্জাবোধ করে না? অবশেষে আল্লাহ নাযিল করলেন, "তুমি তাদের যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট থেকে দূরে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার" তখন আমি বললাম, "অবশ্যই আপনার প্রতিপালক আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আত্বা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সারিফ নামক স্থানে ইবন আব্বাস এর সঙ্গে নবী পত্নী মায়মুনাহ এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তখন ইবন আব্বাস বললেন, ইনি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী। সুতরাং তোমার যখন তার কফিন (লাশ) তুলবে তখন তাকে খুব জোরে নাড়া দিবে না এবং কাপাবে না; নরম ও আলতোভাবে তাকে তুলবে। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নয়জন স্ত্রী ছিলেন। তাদের আটজনের জন্য রাত যাপনের পালা নির্ধারণ করতেন এবং একজনের জন্য করতেন না। (মধ্যবর্তী) রাবী আত্বা বলেন, যার জন্য পালা নির্ধারণ করতেন না তিনি হলেন সফিয়্যাহ্ বিনত হুয়াই ইবন আখতাব
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ এর সূত্রে ঐ সানাদে বর্ণিত। এ বর্ণনায় অতিরিক্ত বলা হয়েছে, আত্বা বলেছেন, তিনি (মায়মুনাহ) ছিলেন তাদের মাঝে সব শেষে মৃত্যুবরণকারিণী, তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে (সাধারণত) মেয়েদের বিয়ে করা হয়- কন্যার ধন-সম্পদের কারণে, তার বংশীয় আভিজাত্যের কারণে, তার রূপ-গুণের কারণে এবং তার দীনদারীর কারণে। তুমি ধাৰ্মিকাকে পেয়ে ভাগ্যবান হও, (যদি এটা না কর তবে) তোমার দু'হাত ধূলিমাখা হোক!
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আত্বা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে আমি একটি মহিলাকে বিয়ে করলাম। পরে আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বললেন, হে জাবির! তুমি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, জি হ্যা। তিনি বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম, বিধবা। তিনি বললেন, তবে কুমারী নয় কেন? তুমি তার সঙ্গে সোহাগ-স্ফূর্তি করতে পারতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার কয়েকটি (অবিবাহিতা) বোন রয়েছে তাই আমার আশংকা হল যে, বধূ (কুমারী হলে সে) আমার ও বোনদের মাঝে বাধা হয়ে দাড়ায় কিনা। তিনি (ﷺ) বললেনঃ তবে তা-ই ঠিক। মহিলাকে বিয়ে করা হয় তার দীনদারীর কারণে, তার সম্পদের কারণে ও তার রূপ-লাবণ্যের কারণে। তুমি ধাৰ্মিকাকে পেয়ে ভাগ্যবান হও, (যদি এটা না কর তবে) তোমার দু'হাত ধূলিমাখা হোক।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জনৈকা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, কোন কুমারীকে না বিধবাকে? আমি বললাম, একটি বিধবাকে। তিনি বললেন, তবে কুমারী ও তার আমোদ-স্ফূর্তি হতে তুমি কতদূরে? (মধ্যবর্তী) রাবী শুবাহ্ বলেন, পরে আমি আমর ইবন দীনার এর নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমিও তো জাবির এর নিকট তা শুনেছি। তিনি তো বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ তবে কোন কিশোর (তরুণী) কে কেন নয় যে তোমার সঙ্গে হাসি-তামাসা করত, তুমিও তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করতে?
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ রবী আয যাহরানী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ মৃত্যু (শাহাদাত) বরণ করলেন এবং নয়টি (কিংবা তিনি বলেছেন, সাতটি) কন্যা রেখে গেলেন। পরে আমি (জাবির) এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি বিয়ে করেছো? আমি বললামঃ হ্যা। তিনি (ﷺ) বললেন, তা কুমারী না বিধবা? আমি বললামঃ বরং বিধবা হে আল্লাহর রসূল! তিনি (ﷺ) বললেন, তবে তা কোন তরুণী (কুমারী) কেন নয় যে, (ইয়াহইয়া রিওয়ায়াতে) তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করবে, সেও তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করবে কিংবা তিনি (ﷺ) বলেছিলেন, তুমি তার সঙ্গে হাস্য-রস করতে, সেও তোমার সঙ্গে হাস্য-রস করত। জাবির বলেন, আমি তাকে বললাম, (আমার পিতা) আবদুল্লাহ নয়টি (কিংবা সাতটি) মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আমি তাদের মাঝে তাদের মতো একজনকে নিয়ে আসা অপছন্দ করলাম। তাই আমি এমন একটি মহিলাকে নিয়ে আসা পছন্দ করলাম যে তাদের দেখাশুনা করবে এবং তাদের শুধরে দিবে ও গড়ে তুলবে। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। তিনি আমাকে (এ ধরনের) কোন উত্তম কথা বললেন। আবূ রবী এর রিওয়ায়াতে রয়েছে- "তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করবে ও তার সঙ্গে হাস্যরস করবে, সেও তোমার সঙ্গে হাস্য রস করবে।"
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি কি বিবাহ করেছো, হে জাবির? তিনি হাদীসটির পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন- যার শেষে রয়েছে এমন একটি মহিলাকে যে তাদের তত্ত্বাবধান করবে এবং তাদের মাথা আচড়ে দিবে। নবী (ﷺ) বললেনঃ "তুমি সঠিক করেছো" .... এর পরের অংশ তিনি (কুতায়বাহ) উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন প্রত্যাগমন করতে লাগলাম তখন আমি আমার একটি ধীরগামী উটে করে দ্রুত চলার চেষ্টা করলাম। আমার পিছন থেকে একজন আরোহী আমার সঙ্গে মিলিত হল এবং সে তার হাতের একটি ছোট্ট বর্শা দিয়ে আমার উটকে খোচা দিল। ফলে আমার উটটি তোমার দেখা উটপালের শ্রেষ্ঠ উটের ন্যায় দ্রুতগতিতে চলতে লাগল। আমি তখন পিছনের দিকে তাকলাম- দেখি যে, আমি রয়েছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে। তিনি বললেন, হে জাবির তোমার এ ব্যস্ততা কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি ঘরে নতুন স্ত্রী রেখে এসেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোন কুমারীকে বিয়ে করেছে না কোন বিধবাকে? জাবির বলেন, আমি বললামঃ বিধবাকে। তিনি (ﷺ) বললেন, কোন তরুণী (কুমারী)-কে কেন বিয়ে করলে না যার সঙ্গে তুমি ক্রীড়া-কৌতুক করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে আমোদ-আহলাদ করত। জাবির বললেন, আমরা যখন মদীনার সন্নিকটে উপনীত হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে উদ্যত হলাম তখন তিনি (ﷺ) বললেন, একটু অবকাশ দাও, রাত পর্যন্ত ইশার সময় আমরা প্রবেশ করব- যাতে এলোকেশিনী তার কেশ বিন্যাস করে নিতে পারে এবং স্বামী প্রবাসিনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রস্তুতি নিতে পারে। জাবির বলেন, তিনি (ﷺ) আরো বললেন, তুমি যখন পৌছে যাবে তখন সঙ্গ সুখ লাভ করবে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একটি যুদ্ধের উদ্দেশে বের হলাম। আমার উটটি আমাকে ধীরগামিতার শিকার বানাল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, হে জাবির! আমি বললাম, জী। তিনি বললেন, তোমার ব্যাপার কী? আমি বললাম, আমার উট আমাকে ধীরগামিতায় ফেলে দিয়েছে এবং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গিয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) নেমে পড়ে তার (বাকামাথা) লাঠি দিয়ে উটকে গুতো দিলেন। এরপর বললেন, আরোহণ কর, আমি তখন আরোহণ করলাম। আমি (উটটিকে তার অতি দ্রুতগামিতার কারণে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অতিক্রম করে যেতে দেখে ঠেকাতে লাগলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, হ্যা। তিনি (ﷺ) বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে কোন (কুমারীকে) কেন বিয়ে করলে না, যার সঙ্গে তুমি ক্রীড়া-কৌতুক করতে, সেও তোমার সঙ্গে আমোদ ফুর্তি করত? আমি বললাম, আমার বেশ কটি বোন (অবিবাহিতা) রয়েছে। তাই আমি এমন নারীকে বিয়ে করা পছন্দ করলাম যে তাদের গুছিয়ে রাখবে, তাদের মাথা আচড়ে দিবে এবং তাদের দেখাশোনা করবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তো (মদীনায়) উপনীত হতে যাচ্ছ, তাই যখন পৌছে যাবে তখন স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে। পরে তিনি বললেন, তোমার উটটি বেচবে কি? আমি বললাম, জী হ্যা। তিনি তখন আমার নিকট হতে এক উকিয়্যার (চল্লিশ দিরহাম সমমূল্যের) বিনিময়ে কিনে নিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) যথাসময়ে মদীনায় পৌছলেন। আমিও সকালে আগমন করে মসজিদে (নবাবীতে) পৌছলাম এবং তাকে মসজিদের দরজায় পেয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আমি যখন এলাম তুমি কি তখন এসেছো? আমি বললাম, জী হ্যা। তিনি বললেন, তবে তোমার উটটি রেখে দাও এবং (মসজিদে) প্রবেশ করে দু'রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। জাবির বলেন, আমি প্রবেশ করে নামাজ আদায় করলাম। পরে ফিরে এলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক উকিয়াহ ওজন করে দেয়ার জন্য বিলাল কে হুকুম করলেন। বিলাল তখন আমাকে ওজন করে দিলেন এবং ওজনে পাল্লা ঝুকিয়ে দিলেন। জাবির বলেন, তখন আমি চলে যেতে লাগলাম। আমি কিছু দূর চলে গেলে তিনি (ﷺ) বললেনঃ জাবিরকে আমার কাছে ডেকে আন। তখন আমাকে ডাকা হল। আমি (মনে মনে) বললাম, এখন উটটি আমাকে ফিরিয়ে দিবেন অথচ আমার কাছে ওর চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কিছু ছিল না। তিনি বললেন, "তোমার উট তুমি নিয়ে যাও আর তোমার মূল্য তোমারই রইল"।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। আমি ছিলাম আমার একটি (পানিবাহী) উটের পিঠে। ওটি ছিল কাফিলার পশ্চাদ্বতীদের মাঝে। জাবির বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পিটুনী দিলেন কিংবা (বর্ণনা দ্বিধা) তিনি বলেছেন যে, তাকে খোচা দিলেন- আমার (আবূ নাযর) ধারণা তিনি (জাবির) বলেছেন যে, কোন কিছু দিয়ে যা তার সঙ্গে ছিল। জাবির বলেন, এরপরে সে (উট) কাফিলার লোকদের আগে আগে চলে যেতে লাগল এবং আমাকে (আমার ধরে রাখা লাগামসহ) টেনে নিয়ে যেতে লাগল। এমন কি আমি তাকে ঠেকিয়ে রাখছিলাম। জাবির বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-বললেন এত এত-এর বিনিময়ে এটি তুমি আমার কাছে বেচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির বলেন, আমি বললামঃ এটি আপনার জন্য, হে আল্লাহর নবী। তিনি বললেন, এত এত-তে সেটি তুমি আমার কাছে বেচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির বলেন, আমি বললাম, এটি আপনার। জাবির বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে আরও বললেন, তোমার পিতার (মৃত্যুর) পরে তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, জ্বি হ্যা। তিনি বললেন, বিধবাকে না কুমারীকে? জাবির বলেন, আমি বললাম, বিধবাকে। তিনি বললেন, "তবে তুমি কোন কুমারীকে বিয়ে করলে না কেন- যে তোমাকে আমোদ-প্রমোদে রাখত আর তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া ক্ষুর্তি করতে।" (রাবী) আবূ নাযরাহ বলেন, এ কথাটি (আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন!) ছিল একটি বাক্যাংশ যা মুসলিমগণ তাদের কথাবার্তায় (কথার মাত্রা ও বাচনভঙ্গী রূপে) উচ্চারণ করতেন। তারা বলতেন এরূপ ও এমন কর...আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র আল হামদানী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর এর সূত্রে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নারী পাঁজরের হাড়ের ন্যায় (বাকা)। যখন তুমি তাকে সোজা করতে যাবে তখন তা ভেঙ্গে ফেলবে আর তার মাঝে বক্রতা রেখে দিয়েই তা দিয়ে তুমি উপকার হাসিল করবে।
যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ ... ইবন শিহাব যুহরী এর সূত্রে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
আমর আন নাকিদ ও ইবন আবূ উমর (রহিমাহমাল্লাহ) .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের একটি হাড় দিয়ে। সে কখনো তোমার জন্য কোন নিয়মতান্ত্রিকতায় স্থির থাকবে না। সুতরাং তুমি যদি তাকে দিয়ে উপকৃত হতে চাও তবে তার বক্রতা অবশিষ্ট রেখেই তাকে দিয়ে উপকৃত হতে হবে। আর তাকে সোজা করতে গেলে তুমি তাকে ভেঙ্গে ফেলবে- আর তাকে ভেঙ্গে ফেলা অর্থ হল তাকে তালাক দেয়া।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যখন কোন বিষয় প্রত্যক্ষ করবে তখন হয়ত উত্তম কথা বলবে অন্যথায় চুপ থাকবে। আর নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) অঙ্গীকার গ্রহণ কর। কেননা পাজরের একটি হাড় দিয়ে নারী সৃজিত হয়েছে এবং পাঁজরের সবচেয়ে বেশি বাকা হল তার উপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে (যথাবস্থায়) ছেড়ে রাখলে তা সদা বাকা থেকে যাবে। নারীদের প্রতি কল্যাণের নাসীহাত গ্রহণ কর ও অঙ্গীকারাবদ্ধ হও।
ইবরাহীম ইবন মূসা আর রাযী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; (কেননা) তার কোন চরিত্র অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোন (চরিত্র-অভ্যাস) টি সে পছন্দ করবে। .... কিংবা (এ ধরনের) অন্য কিছু বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হারূন ইবন মারূফ .... আবূ হুরায়রাহ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যদি হাওওয়া না হতেন তবে যুগ যুগান্তরে কোন নারী তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাদ ইবন মুনাব্বিহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হল রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের কাছে আবূ হুরায়রাহ্ এর বর্ণিত হাদীস। তিনি অনেক হাদীস উল্লেখ করেছেন। তার মাঝে অন্যতম .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ বানূ ইসরাঈলীরা না হলে খাদ্য নষ্ট হত না এবং গোশত বিকৃত দুৰ্গন্ধযুক্ত হত না এবং হাওওয়া না হলে যুগ যুগান্তরে কোন নারী তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না।