হৃদয়ের কোমলতা (৬৮৩১-৬৮৪৫)
হাদ্দাব ইবন খালিদ, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবু কামিল, ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... উসামাহ্ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (মিরাজের রাতে) আমি জান্নাতের প্রবেশদ্বারে দাড়ালাম। প্রত্যক্ষ করলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রেণী, মিসকীন আর ধনীদেরকে দেখলাম বন্দী অবস্থায়। যারা জাহান্নামবাসী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আদেশ করা হয়েছে। আর আমি জাহান্নামের প্রবেশদ্বারে দাড়িয়ে দেখলাম যে, যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই মহিলা জাতি।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, আমি জান্নাতের দিকে উকি দিলাম, আর দেখতে পেলাম, তার অধিকাংশই দুঃস্থ গরীব লোক। তারপর আমি জাহান্নামের দিকে উকি দিলাম, আর দেখতে পেলাম জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশই মহিলা জাতি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) জাহান্নামের দিকে উকি দিলেন। অতঃপর আবুল আশহাব আইয়্যুব-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
আবু কুরায়ব .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ .... এরপর সাঈদ তার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবু তাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুতারিফ ইবন আবদুল্লাহ এর দু' স্ত্রী ছিল। তিনি একবার তাদের একজনের নিকট হতে আসলেন। তখন অপরজন বলল, আপনি তো অমুকের কাছ হতে আসছেন। তিনি বললেন, আমি ইমরান ইবন হুসায়ন এর নিকট হতে এসেছি। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে মহিলা জাতি সবচেয়ে কম।
মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ ইবন আবদুল হামীদ .... আবু তাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুতারিফকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, "সত্যিই তার দু'জন স্ত্রী ছিল"। মুআয এর হাদীসের মর্মে অবিকল হাদীস।
উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল কারীম আবু যুরআহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দোয়ার মধ্যে একটি ছিল এই যে, "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন যাওয়া-লি নি'মাতিকা ওয়াতা হাওউলি আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজা-য়াতি নিকমাতিকা ওয়া জামী'ই সাখাতিকা" "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নিআমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমার দেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে"।
সাঈদ ইবন মানসূর .... উসামাহ্ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার (ইন্তিকালের) পরে পুরুষদের জন্য মহিলাদের ফিতনার চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনাহ রেখে যাইনি।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... উসামাহ ইবন যায়দ ইবন হারিসাহ ও সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার (ইন্তিকালের) পরে মানুষের মধ্যে পুরুষদের জন্য নারীদের তুলনায় অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনাহ ছেড়ে যাইনি।
আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সুলাইমান আত তাইমী হতে এ সূত্রে তার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবু সাঈদ আল খুদরী এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই দুনিয়াটা চাকচিক্যময় মিষ্টি ফলের মতো আকর্ষণীয়। আল্লাহ তাআলা সেখানে তোমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তিনি লক্ষ্য করতেছেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করো। তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সতর্ক থেকো। কেননা বনী ইসরাঈলদের মাঝে প্রথম ফিতনাহ নারীকেন্দ্রিক ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পড়ে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ আমলের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সম্ভষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎ কর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ মহাবিপদ (পাথরটি সরিয়ে) হতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। (সন্ধ্যায়) ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোর দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। (ফিরে এসে) আমি তাদের (পিতা-মাতা) দু'জনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সস্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহূর্তে (আমার) সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু'পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেল। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সম্ভষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাকা করে দাও, যদ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাতে একটু ফাকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন। অপর জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই তাকে আমি অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং (অবশেষে) একশ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু'পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সম্ভষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাকা করে দিলেন। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ (সমস্ত) গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সম্ভষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাকা করে দাও। তখন আল্লাহ তাআলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাকা করে দিলেন।
ইসহাক ইবন মানসূর ও আবদ ইবন হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মদ ইবন তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবন হারব, হাসান আল হুলওয়ানী, আবদ ইবন হুমায়দ এরা সকলেই ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে, মূসা ইবন উকবাহ্ এর সানাদে আবূ যমাহ্ এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারা তাদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, "তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল"। সালিহ্-এর হাদীসে "তারা পায়ে হেঁটে চলছিল" বর্ণনা রয়েছে। উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে "তারা বের হলো" বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন সাহল আত তামীমী, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন বাহরাম ও আবু বাকর ইবন ইসহাক .... ইমাম যুহরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম ইবন আবদুল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেছেনঃ আমি রসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক কোন একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন... তারপর নাফি বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবন উমার বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যার খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবন উমার) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল।