bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কুরআনের মর্যাদাসমূহ ও এতদসংশ্লিষ্ট বিষয় (১৭২৩-১৮৩৬)

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) রাতের বেলা জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে শুনে বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক সূরার অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি অমুক সূরাহ থেকে বাদ দেয়ার উপক্রম করেছিলাম।

ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) মসজিদে জনৈক ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত শুনছিলেন। (তার তিলাওয়াত শুনে) তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে এমন একটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার স্মৃতি থেকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন হিফযকারীর দৃষ্টান্ত হল পা বাধা উট। যদি এর মালিক এটির প্রতি লক্ষ্য রাখে তাহলে ধরে রাখতে পারবে। আর যদি তার বাধন খুলে দেয় তাহলে সেটি ছাড়া পেয়ে চলে যাবে।

যুহারর ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন শায়বাহ, ইবন নুমায়র, ইবন আবূ উমার, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী ..... সকলে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবন উকবাহ বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অধিক বর্ণনা করা হয়েছে যে, "কুরআনের হাফিয যদি রাতে ও দিনে কুরআন মাজীদ পড়ে তাহলে তা স্মরণে রাখে, অন্যথায় ভুলে যায়।"

যুহারর ইবন হারব, উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ এভাবে বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি তাহলে তা তার জন্য খুবই খারাপ। বরং তাকে তো ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কুরআনকে স্মরণ রাখ। কারণ কুরআন মানুষের হৃদয় থেকে পা বাধা পলায়নপর চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পলায়নপর। ছাড়া পেলেই পালিয়ে যায় স্মরণ রাখার চেষ্টা না করলেই ভুলে যায়।

ইবন নুমায়র এবং ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া [শব্দাবলী তার] .... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেছেনঃ এই পবিত্র গ্রন্থের আবার কখনো বলেছেন এ কুরআনের রক্ষণাবেক্ষণ কর। কেননা মানুষের মন থেকে তা এক পা বাধা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও (অধিক বেগে) পলায়নপর। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ আরো বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন তোমরা কেউ যেন এ কথা না বলে যে, আমি (কুরআন মাজীদের) অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তার থেকে আয়াতগুলো বিস্মৃত হয়ে গিয়েছে (এরূপ বলা উত্তম)।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... শাকীক ইবন সালামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তির পক্ষে এরূপ কথা বলা খুবই খারাপ যে, সে অমুক অমুক সূরাহ বা অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছে। বরং বলবে যে ঐগুলো (বা আয়াত) তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ ইবন বাররাদ আল আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা (আশআরী) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কুরআন হিফযের প্রতি লক্ষ্য রাখ। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আমি সে মহান সত্তার শপথ করে বলছি, কুরআনের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াতসমূহ মানুষের মন থেকে পা বাধা উটের চেয়েও অধিক পলায়নপর (কুরআন মাজীদের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াত তাড়াতাড়ি বিস্মৃতিতে চলে যায়)।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হাবর ..... আবূ হুরায়রা পর্যন্ত এর সানাদ সূত্রটি পৌছিয়েছেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নবীর উত্তম ও মিষ্টি করে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ তাআলা যেভাবে শুনে থাকেন অন্য কোন জিনিস সেভাবে শুনেন না।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া, ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা .... উভয়ে ইবন শিহাব থেকে একই সানাদ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যেমন তিনি (আল্লাহ) শুনে থাকেন সুস্পষ্ট স্বরে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর তিলাওয়াত।

বিশর ইবন হাকাম .... আবূ হুরায়রাহ (রযিঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, মহান আল্লাহ এতটা খুশি হন না যতটা খুশি হয়ে থাকেন সুকণ্ঠের অধিকারী কোন নবীর প্রতি যিনি সুললিত কণ্ঠে ও সশব্দে তা তিলাওয়াত করে থাকেন।

ইবন আখী ইবন ওয়াহব ... ইবন হাদ থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি (রসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন) উল্লেখ করেছেন এবং "সামিয়া" (রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন) উল্লেখ করেননি।

হাকাম ইবন মূসা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন নবী কর্তৃক সুমিষ্ট কণ্ঠে উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহ তাআলা যেভাবে শুনেন অন্য কিছুই আর সেভাবে শুনেন না।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজুর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) থেকে ইয়াহইয়া ইবন কাসীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র .... বুরায়দাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবন কায়স অথবা বলেছেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) (আবূ মূসা) আল আশআর-কে দাউদ এর মতো মিষ্টি কণ্ঠ দান করা হয়েছে।

দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবূ মূসা (আল আশআরী) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ মূসা কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ গতরাতে আমি যখন তোমার কুরআন পাঠ শুনছিলাম তখন যদি তুমি আমাকে দেখতে তাহলে খুব খুশী হতে। তোমাকে তো দাউদ এর মতো সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর দেয়া হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল আল মুযানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ বিজয়ের বছরে সফরকালে নবী (ﷺ) তার সওয়ারীতে বসে ফাতহ পড়ছিলেন। আর কিরাআতে তিনি তারজী' (দ্বিরুক্তি) করছিলেন। মুআবিয়াহ ইবন কুররাহ বলেছেন আমি যদি আমার পাশে অধিক মাত্রায় লোকজনের জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তাহলে নবী (ﷺ) যেভাবে কিরআত করেছিলেন সেভাবে কিরআত করে তোমাদেরকে শুনাতাম।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ বিজয়ের দিন আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটনীর পিঠে বসে ফাতহ পাঠ করেছেন। মুআবিয়াহ ইবন কুররাহ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল তারজী'সহ (ফাতহ) পাঠ করে শুনলাম। মুআবিয়াহ বলেছেন, লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল নবী (ﷺ) এর অনুকরণ করে যেভাবে (সূরাহটি পাঠ করে) শুনিয়েছেন আমিও সেভাবে শুনাতাম।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী এবং উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে খালিদ ইবন হারিস বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ তিনি (ﷺ) তার সওয়ারীতে বসে ফাতহ পড়তে পড়তে পথ অতিক্রম করছিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি কাহফ পড়ছিল। সে সময় তার কাছে মজবুত লম্বা দু'টি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাধা ছিল। এ সময়ে একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হল। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করল। এসব কথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার [শব্দগুলো ইবন মুসান্না-এর] .... আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবন আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী (ﷺ) এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিবকে বলতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা "তানকুঝ" শব্দ উল্লেখ করেছেন।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবনশ শাইর [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। একরাতে উসায়দ ইবন হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করল। তিনি(কিছুক্ষণ পর)পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করল।(কিছুক্ষণ পরে) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবন হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহইয়াকে পদপিষ্ট করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মতো কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মতো জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না। তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়টি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করল। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ইবন হুযায়র! তুমি কুরআন পাঠ করতে থাকতে। ইবন হুযায়র বলেন, আমি পুনরায় পাঠ করলাম। ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ শুরু করে। আবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ইবন হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মতো কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মতো কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব শুনে বললেন। ওসব ছিল মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ)। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী .... আবূ মূসা আল আশআর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুমিন আল কুরআন মাজীদ পাঠ করে তার উদাহরণ হল কমলালেবু যা স্বাদে ও গন্ধে উত্তম। আর যে মুমিন আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হল খেজুর যার সুগন্ধ না থাকলেও স্বাদে মিষ্ট। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হল রায়হানাহ ফুল যার সুগন্ধি আছে এবং স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হল হানযালাহ (মাকাল) যার কোন সুগন্ধি নেই এবং স্বাদও খুব তিক্ত।

হাদ্দাব ইবন খালিদ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উভয়ে কাতাদাহ থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাম বর্ণিত হাদীসে "মুনাফিক" শব্দটিকে "ফাজির" শব্দ দ্বারা বদল করা হয়েছে।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঐসব ফেরেশতাগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়ে সে ব্যক্তির জন্য দু'টি পুরস্কার নির্দিষ্ট আছে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... উভয়ে কাতাদাহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি আছে "আর যে ব্যক্তি তার জন্য কঠোর ও কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে তার জন্য দু'টি পুরস্কার আছে।"

হাদ্দাদ ইবন খালিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ(ﷺ) উবাই ইবন কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবন কা'ব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তাআলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- হ্যা, আল্লাহ তাআলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবন মালিক বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবন কাব কাঁদতে শুরু করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান আল্লাহ তোমার সামনে আমাকে (আল-বায়্যিনাহ) পড়ার জন্য আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবন কাব বললেনঃ তিনি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস ইবন মালিক) বলেন, এ কথা শুনে তিনি (উবাই ইবন কাব) কেঁদে ফেললেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কাব কে লক্ষ্য করে অনুরূপ বলেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শারবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কুরআন শুনতে ভাল লাগে। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন- তাই এরপর আমি সূরাহ আন নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত "হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কি করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"- (আন নিসা ৪ঃ ৪১) তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে আমি মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

হান্নাদ ইবনস সারী ও মিনহাজ ইবন হারিস আত তামীমী .... আমাশ থেকে এই একই সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেনঃ আমাকে (কুরআন) পাঠ করে শোনাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ) বললেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালবাসি। হাদীস বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেনঃ অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ) সূরাহ্‌ আন নিসার প্রথম থেকে "হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উন্মাতের মধ্যে থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব" (আন নিসা ৪ঃ ৪১) এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শুনালেন। এতে তিনি (ﷺ) কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিসআর বলেছেনঃ মান আমার কাছে হাদীসটি জাফার ইবন আমর ইবন হুরায়স তার পিতা হুরায়স-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিসআর-এর সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, "যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম।"

উসমান ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) আমি হিমস এ ছিলাম। একদিন কিছু সংখ্যক লোক আমাকে বলল, আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান। আমি তাদেরকে সূরাহ ইউসুফ পাঠ করে শুনলাম। এমন সময় সবার মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আল্লাহর শপথ। সূরাটি এরূপ অবতীর্ণ হয়নি। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেছেনঃ আমি তাকে বললাম- তোমার জন্য দুঃখ। আল্লাহর শপথ, এ সূরাটি আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেনঃ 'খুব সুন্দর পড়েছ।' এভাবে তখনও আমি তার (লোকটির) সাথে কথা বলছিলাম। এ অবস্থায় আমি তার মুখ থেকে শরাবের গন্ধ পেলাম। আমি তাকে বললাম- তুমি শরাব পান কর আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চাও? আমার হাতে কোড়া না খেয়ে তুমি এখানে যেতে পারবে না। অতঃপর আমি তাকে কোড়া মেড়ে শরাব পানের শাস্তি দিলাম।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আলী ইবন খশরাম, আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ ও আবূ কুরায়ব ... সকলেই আমাশ হতে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ মুআবিয়াহ বর্ণিত হাদীসে তিনি আমাকে বললেনঃ 'খুব সুন্দর হয়েছে' কথাটির উল্লেখ নেই।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ কি চাও যে, যখন বাড়ী ফিরবে তখন বাড়ীতে গিয়ে তিনটি বড় বড় মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী দেখতে পাবে? আমরা বললামঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ সালাতে তিনটি আয়াত পড়লে তা তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনীর চেয়ে উত্তম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উক্‌বাহ ইবন আমির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন। তখন আমরা সুফফাহ বা মসজিদের চত্বরে অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ চাও যে, প্রতিদিন "বুত্বহান" বা আকীকের বাজারে যাবে এবং সেখানে থেকে কোন পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই বড় কুঁজ বা চুঁটবিশিষ্ট দু'টি উটনী নিয়ে আসবে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এরূপ চাই। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তোমরা কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দু'টি আয়াত শিক্ষা দিবে না কিংবা পাঠ করবে না? এটা তার জন্য ঐরুপ দু'টি উটনীর চেয়েও উত্তম। এরূপ তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। আর অনুরূপ সমসংখ্যক উটনীর চেয়ে তত সংখ্যক আয়াত উত্তম।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... আবূ উমামাহ আল বাহিলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে শাফাআতকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরাহ বাকারাহ এবং সূরাহ্ আ-লি ইমরান পড়। কিয়ামতের দিন এ দুটি সূরাহ এমনভাবে আসবে যেন তা দু খণ্ড মেঘ অথবা দু'টি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা বাকারাহ পাঠ কর। এ সূরাটিকে গ্রহণ করা বারাকাতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীগণ এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদীসটির বর্ণনাকারী আবূ মুআবিয়াহ বলেছেন- আমি জানতে পেরেছি যে, বাতিলের অনুসারী বলে যাদুকরদের কথা বলা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবূ মুআবিয়াহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (তুলনায়) উভয়স্থানে এবং সে দুটি যেন বলেছেন এবং তিনি আবূ মুআবিয়াহ এর উক্ত আমার কাছে তথ্য পৌছেছে' .... উল্লেখ করেননি।

ইসহাক ইবন মানসূর .... নাওওয়াস ইবন সামআন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআন অনুযায়ী যারা আমল করত তাদেরকে আনা হবে। বাকারাহ ও সূরাহ আ-লি ইমরান অগ্রভাগে থাকবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরাহ দু'টি সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন যা আমি কখনো ভুলিনি। তিনি বলেছিলেনঃ এ সূরাহ দুটি দু খণ্ড ছায়াদানকারী মেঘের আকারে অথবা দু'টি কালো চাদরের মতো ছায়াদানকারী হিসেবে আসবে যার মধ্যখানে আলোর ঝলকানি অথবা সারিবদ্ধ দু' ঝাক পাখীর আকারে আসবে এবং পাঠকারীদের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দিতে থাকবে।

হাসান ইবনর রাবী ও আহমাদ ইবন জাওওয়াস আল হানাফী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল নবী (ﷺ) এর কাছে বসেছিলেন। সে সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হল- ইতোপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এ দরজা দিয়ে একজন মালায়িকাহ পৃথিবীতে নেমে আসলেন। আজকের এ দিনের আগে আর কখনো তিনি পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেনঃ আপনি আপনাকে দেয়া দু'টি নূর বা আলোর সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর ঐ দু'টি নূর হল ফা-তিহাতুল কিতাব বা ফাতিহাহ এবং বাকারাহ-এর শেষাংশ। এর যে কোন হারফ আপনি পড়বেন তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে।

আহমাদ ইবন ইউনুস .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহর পাশে আবূ মাসউদ এর সাথে সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে বললাম বাকারার দু'টি আয়াত সম্পর্কে আপনার বর্ণিত একটি হাদীস আমি জানতে পেরেছি। আসলে সেটা হাদীস কিনা? তিনি বললেনঃ হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাকারাহ এর শেষ দুটি আয়াত এমন যে, যে ব্যক্তি কোন রাতে ঐ দু'টি পড়বে তা তার সে রাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মানসূর থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী .... আবূ মাসউদ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাকারার শেষের এ দু'টি আয়াত পড়বে তা সে রাতে ঐ ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। এ হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, একদিন আবূ মাসউদ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন এমন সময় আমি তাকে এ হাদীসটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন।

আলী ইবন খশরাম, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন মাসউদ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূদ দারদা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাহফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে নিরাপদ থাকবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার, যুহায়র ইবন হারব .... কাতাদাহ থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তবে শুবাহ বলেছেন, কাহফ এর শেষ থেকে আর হাম্মাম বলেন, কাহফ-এর প্রথম থেকে যেমনটি বলেছেন হিশাম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... উবাই ইবন কাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আবূল মুনযিরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আবূল মুনযির আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? আবূল মুনযির বলেন, জবাবে আমি বললামঃ এ বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ হে আবূল মুনযির! আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? তখন আমি বললাম, "আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম" (এ আয়াতটি আমার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ)। এ কথা শুনে তিনি আমার বুকের উপর হাত মেরে বললেনঃ হে আবূল মুনযির! তোমার জ্ঞানকে স্বাগতম।

যুহারর ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূদ দারদা থেকে বর্ণিত। (একদিন) নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করতে সক্ষম? সবাই জিজ্ঞেস করলেন, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়ব? তিনি বললেনঃ "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" সূরাটি কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম এবং আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... কাতাদাহ থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে নবী (ﷺ) এর কথার এ অংশটুকু উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা সমগ্র কুরআন মাজীদকে তিনটি অংশে ভাগ করেছেন আর "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" (ইখলাস)-কে একটি অংশ বলে নির্দিষ্ট করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সবাইকে লক্ষ্য করে) বললেনঃ তোমরা এক জায়গায় জমায়েত হও। কারণ আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পড়ে শুনাব। সুতরাং যাদের জমায়েত হওয়ার তারা জমায়েত হলে নবী (ﷺ) তাদের কাছে আসলেন এবং "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" সূরাটি পড়লেন। তারপর তিনি গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। তখন আমরা একে অপরকে বলতে থাকলাম, আমার মনে হয় আসমান থেকে কোন খবর এসেছে আর সে জন্যই তিনি ভিতরে প্রবেশ করেছেন। পরে নবী (ﷺ) বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করে শোনাব। জেনে রাখ এটি (ইখলাস) কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান।

ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ে শুনাচ্ছি। তারপর তিনি "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ, আল্ল-হুস সামাদ" সূরাটি শেষ পর্যন্ত পড়ে শোনালেন।

আহমাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন ওয়াহব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক সময় নবী (ﷺ) কোন এক যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তিকে সেনাদলের নেতা করে পাঠালেন। সে সালাতে তার অনুসারীদের ইমামাত করতে গিয়ে কুরআন পড়ত এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" (ইখলাস) পড়ে শেষ করত। সেনাদল ফিরে আসলে তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিষয়টি বললেন। তিনি বললেনঃ জিজ্ঞেস কর যে, সে কেন এরূপ করে থাকে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, যেহেতু এ সূরাতে মহান দয়ালু আল্লাহর গুণাবলীর উল্লেখ আছে, তাই ঐ সূরাটি পাঠ করতে ভালবাসি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালবাসেন।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... উকবাহ ইবন আমির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ আজ রাতে যে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর মতো আর কখনো দেখা যায়নি। সেগুলো হল- "কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক" (ফালাক) এবং "কুল আউযু বিরব্বিন না-স" (আন না-স)-এর আয়াত।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... উকবাহ ইবন আমির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) আমাকে বললেনঃ আমার প্রতি এমন কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে যার অনুরূপ আর কখনো দেখা যায়নি। আর সেগুলো হল মুআববিযাতায়ন বা ফালাক ও সূরাহ আন না-স এর আয়াতসমূহ।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... উভয়ে ইসমাঈল থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ উসামার উকবাহ ইবন আমির আল জুহানী থেকে এবং তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সম্মানিত সাহাবীগণের অন্যতম।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। একটি হল- এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী রাত-দিন আমল করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন। সে রাত-দিন তা (আল্লাহর পথে) খরচে করে। (এ দু' ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায়। এদের সাথে আমল ও দানের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুকূল ইলম ও মালের আকাঙ্ক্ষা করা যায়। তবে ঐ ব্যক্তির ইলম বিলুপ্ত হয়ে যাক কিংবা ঐ মালদারের মাল ধ্বংস হয়ে যাক- এরূপ কামনা করা যাবে না)।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ জায়িয নয়। একটি হল- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা এ কিতাবের (কুরআন) জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে তদনুযায়ী দিন-রাত আমল করে; এ ক্ষেত্রে ঈর্ষা পোষণ করার অর্থ তার চেয়ে বেশী করার (জ্ঞান আহরণের) চেষ্টা করা। আর অপরটি হল- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন আর সে রাত-দিন তা থেকে সাদাকা করে (এ ব্যক্তির সাথে এ অর্থে ঈর্ষা পোষণ করা যে, তার চেয়ে বেশী দান করবে)।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দু' প্রকারের লোক ছাড়া কারো সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক প্রকারের লোক হল- যাকে আল্লাহ অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন এবং হাক্ব পথে তা ব্যয় করার তাওফীক তাকে দিয়েছেন। আর অন্য ব্যক্তি হল যাকে আল্লাহ তাআলা হিকমাহ বা সঠিক জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী কাজ করে এবং তা অন্যদের শিক্ষা দেয়।

যুহায়র ইবন হারব .... আমির ইবন ওয়াসিলাহ থেকে বর্ণিত। নাফি ইবন আবদুল হারিস উসফান নামক স্থানে উমর এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। উমর তাকে মক্কায় (রাজস্ব আদায়কারী) নিয়োগ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি প্রাস্তরবাসীদের জন্য কাকে কাজে নিয়োগ করেছ? সে বলল- ইবন আবযা-কে। উমর বললেন, ইবন আবযা কে? সে (নাফি) বলল, আমাদের আযাদকৃত ক্রীতদাসের একজন। উমর বললেন, তুমি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করেছ? নাফি বললেন- সে (ক্রীতদাসটি) মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের একজন ভাল কারী বা আলিম। আর সে ফারায়িয শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ। তখন উমর বললেনঃ তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন। যারা এ কিতাবের অনুসারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ-দারিমী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আমির ইবন ওয়াসিলাহ আল লায়সী থেকে বর্ণিত। নাফি ইবন আবদুল হারিস আল খুযাঈ উসফান নামক স্থানে উমার ইবন খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন .... এভাবে তিনি যুহরী থেকে ইবরাহীম ইবন সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুর রহমান ইবন আবদুল কারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্ত্বাব কে বলতে শুনেছি, আমি যেভাবে ফুরকান তিলাওয়াত করি হিশাম ইবন হাকীম ইবন হিযাম-কে অন্যভাবে তিলাওয়াত করতে শুনলাম অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরাটি আমাকে এভাবে পড়িয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ আমি তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তাকে পড়ে শেষ করার অবকাশ দিলাম। তারপর তাকে গলায় চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে গিয়ে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে যেভাবে ফুরকান পড়তে শিখিয়েছিলেন এ লোকটিকে তার থেকে ভিন্ন রকম করে সূরাটি পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন- তুমি পড়। তখন সে আবার সেভাবে পড়ল যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তারপর পড়ার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি পড়। সুতরাং আমি পড়লেও তিনি বললেনঃ এভাবেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে যতটুকু যেভাবে তোমাদের কাছে সহজ সেভাবেই পড়।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... উমার ইবন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবন হাকীম (ইবন হিযাম) কে ফুরকান পড়তে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পরের অংশটুকু পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আমি তাকে সালাতের মধ্যেই বাধা দিতে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করলাম।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী ইউনুস থেকে সানাদসহ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরীল আমাকে একটি রীতিতে কুরআন মাজীদ পড়ালে আমি তা পড়ে নিলাম। আমি তার কাছে অতিরিক্ত চাইলে তিনি অতিরিক্ত বা অন্য রীতিতে পড়ে শুনতাম। এভাবে তিনি সাত সাতটি রীতি বা আঞ্চলিক নিয়মে আমাকে কুরআন মাজীদ পড়ে শুনিয়েছেন। ইবন শিহাব বলেছেনঃ আমি এ মর্মে অবহিত হয়েছি যে, এ সাতটি পদ্ধতি, রীতি বা নিয়মে কুরআন মাজীদ পড়ার কারণে হালাল হারামের ব্যাপারে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয় না বরং তা একই থাকে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে সালাত শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে কিরআত পড়ল যা আমার নিকট অভিনব মনে হল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়ল। আমরা সালাত শেষ করে সকলে নবী (ﷺ) এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে যে, আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে অতঃপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়ের কিরাআত সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে মিথ্যা অবিশ্বাসের উদ্ৰেক হল, এমনকি জাহিলী যুগেও এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি। আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘৰ্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীতবিহবল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে উবাই! আমার নিকট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ি। আমি অনুরোধ করে বললাম, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হল, তা দু' হরফে (পদ্ধতিতে) পড়ুন। আমি তাকে পুনরায় অনুরোধ করলাম যে, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। তৃতীয়বারে আমাকে বলা হল, তা সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করুন এবং আমার এ সাতবারের প্রতিবার প্রত্যুত্তরের পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট প্রার্থনা করতে পারেন (যা আমি কবুল করব)। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি আমি সেদিনের জন্য স্থগিত করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইবরাহীম পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ ..... আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উবাই ইবন কা'ব অবহিত করেছেন যে, তিনি মসজিদে উপবিষ্ট থাকাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। তিনি এমন এক পদ্ধতিতে কিরআত পড়লেন ... বর্ণনাকারী সংক্ষেপে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... উবাই ইবন কাব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) গিফার গোত্রের জলাশয়ের (কুপের) নিকট ছিলেন। তখন জিবরীল তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে এক হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না। জিবরীল তৃতীয়বার এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আমার উন্মাতকে তিন হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আমার উম্মাত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। জিবরীল চতুর্থবার তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে সাত হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন শিক্ষা দেন। তারা এর যে কোন পদ্ধতিতে পাঠ করলে তা যথার্থ হবে।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... শুবাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহীক ইবন সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর নিকট এসে বলেন, হে আবদুর রহমানের পিতা। নিম্নোক্ত শব্দটি আপনি কীভাবে পড়েন, আলিফ সহযোগে না ইয়া' সহযোগে "মিম্মাইন গাইরি সিনি" অথবা "মিম্মাইন গাইরি ইয়াসিনি" বর্ণনাকারী আবু ওয়াইল বলেন, আবদুল্লাহ বললেন, এ শব্দটি ছাড়া তুমি কি কুরআনের সবটুকু আয়ত্ত করে ফেলেছ? সে বলল, আমি তো মুফাস্‌সাল (সূরাহসমূহ) এক রাকাআতেই পড়ি। আবদুল্লাহ বলেন, দ্রুত গতিতে কবিতা পড়ার ন্যায় দ্রুত গতিতে? কোন কোন লোক কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। বরং (সুষ্ঠুভাবে পড়লে) তা যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং উপকারে আসে। সালাতের মধ্যে রুকূ-সিজদা হল সর্বাধিক ফযীলাতপূর্ণ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা আমি অবশ্যই জানি। তিনি প্রতি রাকাআতে দু'টি সূরাহ মিলিয়ে পড়তেন। অতঃপর আবদুল্লাহ উঠে দাড়ান, আলকামাহ্ও তার পিছনে পিছনে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন। ইবন নুমায়র-এর রিওয়ায়াতে আছেঃ বাজীলাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ-এর নিকট এলো। তার এ বর্ণনায় "নাহীক ইবন সিনান" নাম উল্লেখ করেননি।

আবূ কুরায়ব .... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহীক ইবন সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ-এর নিকট এলো ..... (পূর্ববর্তী সানাদের) ওয়াকী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছেঃ "আলকামাহ্ তার নিকট প্রবেশের জন্য এলেন। আমরা তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রাকাআতে যে সূরাহ পড়তেন তার দৃষ্টান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ এর কুরআন সংকলনের বিশটি মুফাস্‌সাল সূরাহ (কাফ থেকে পরবর্তী সূরাহ সমূহ)।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আমাশ একই সানাদে পূর্বোক্ত দু'জনের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরো আছে, আমি অবশ্যই সে দৃষ্টান্তগুলো জানি যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন। প্রতি রাকাআতে দু'টি করে সূরাহ, এভাবে দশ রাকাআতে বিশটি সূরাহ।

শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ফজরের সালাত আদায় করার পর আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর নিকট গেলাম। আমরা দরজার নিকট এসে সালাম করলে তিনি আমাদেরকে (ভিতরে প্রবেশের) অনুমতি দিলেন। আমরা কিছুক্ষণ দরজায় থেমে থাকলাম। তখন বাদী বের হয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি তাসবীহ পড়ছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অনুমতি দেয়ার পরও তোমাদের প্রবেশে কী বাধা ছিল? আমরা বললাম না, তেমন কোন বাধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়ত ঘরের মধ্যে কে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বললেন, তুমি উম্মু আবদের পুত্রের পরিবার সম্পর্কে অলসতার ধারণা করলে। বর্ণনাকারী বললেন, অতঃপর তিনি তাসবীহ পাঠে রত হলেন, শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী দেখ, সূর্য উদিত হল কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী। দেখ তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী। দেখো তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? সে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে। আবদুল্লাহ বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এ দিনটি আমাদের ফেরত দিয়েছেন। অধস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ "এবং আমাদের অপরাধের কারণে আমাদের ধ্বংস করেননি।" বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের একজন বলল, গত রাতে আমি (সালাতে) মুফাস্‌সাল সূরাহ সম্পূর্ণটা পড়েছি। আবদুল্লাহ বলেন, কবিতা পাঠের মতো দ্রুত আমরা অবশ্যই কুরআনের সূরাহসমূহের পাঠ শুনেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব সূরাহ্ (সালাতে) পড়তেন আমি সেসব সূরাহ মুখস্থ করে রেখেছিঃ মুফাসসাল সূরাহসমূহ থেকে আঠারো সূরাহ এবং হা-মীম গ্রুপের দুটি সূরাহ।

আবদ ইবন হুমায়দ .... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাজীলাহ গোত্রের নাহীক ইবন সিনান নামীয় জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ এর নিকট এসে বলল, আমি এক রাকাআতেই মুফাসসাল সূরাহ পড়ে থাকি। আবদুল্লাহ বলেন, কবিতা আবৃত্তির মতো দ্রুত গতিতে সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব সূরাহ পড়তেন তার দৃষ্টান্তসমূহ আমার জানা আছে। তিনি প্রতি রাকাআতে দুটি সূরাহ পড়তেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আমর ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ ওয়ায়িল কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইবন মাসউদ এর নিকট এসে বলল, আমি আজ রাতে সমস্ত মুফাসসাল সূরাহ সালাতের এক রাকাআতেই পড়েছি। আবদুল্লাহ বলেন, কবিতা আবৃত্তির ন্যায় দ্রুত গতিতে। আবদুল্লাহ আরো বলেন, আমি অবশ্যই সেসব দৃষ্টান্ত অবহিত আছি, যেসব সূরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) একত্রে মিলিয়ে পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মুফাসসাল সূরাহগুলো থেকে বিশটি সূরার উল্লেখ করলেন, যার দু'টি করে সূরাহ প্রতি রাকাআতে পড়া হত।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ (রযিঃ) মসজিদের মধ্যে কুরআন শিক্ষাদনরত অবস্থায় আমি জনৈক ব্যক্তিকে তার নিকট জিজ্ঞেস করতে দেখলাম যে, সে বলল, আপনি "ফাহাল মিম্মুদ্দাকির" আয়াত কিভাবে পড়েন "ম্মুদ্দাকির" শব্দে দাল হরফ সহযোগে অথবা "মুজাক্কির" জাল হরফ সহযোগে? তিনি বলেন বরং "ম্মুদ্দাকির" দাল সহযোগে।

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) "ফাহাল মিম্মুদ্দাকির" শব্দ পাঠ করতেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আলকামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সিরিয়ায় পৌছলাম, আবূদ দারদা আমাদের কাছে আগমন করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর কিরআত পড়ে? আমি বললাম, হ্যা আমি। তিনি বলেন, তুমি আবদুল্লাহ কে এ আয়াত "ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগসা" কীভাবে পড়তে শুনেছ? তিনি বললেন, আমি তাকে উক্ত আয়াত এভাবে পড়তে শুনেছি "ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগসা" আবূদ দারদা বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আয়াতটি এভাবে পড়তে শুনেছি। কিন্তু এরা চায়, আমি যেন "ওয়ামা খালাকা" সহযোগে পড়ি। আমি তাদের অনুসরণ করব না।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলকামাহ্ সিরিয়ায় এলেন। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর উঠে দাড়িয়ে একটি পাঠচক্রে গিয়ে বসলেন। আলকামাহ্ বলেন, জনৈক ব্যক্তি এলে আমি লোকদের মধ্যে তার প্রতি সপ্রতিভ সঙ্কোচবোধ লক্ষ্য করলাম। তিনি আমার পাশে বসলেন, অতঃপর (আমাকে) বললেন, আবদুল্লাহ যেভাবে পড়তেন, তুমি কি সেভাবে সংরক্ষণ করেছ .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

আলী ইবন হুজুর আস্ সা'দী .... আলকামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? আমি বললাম, ইরাকবাসী। তিনি বলেন, কোন এলাকার? আমি বললাম, কুফা এলাকার, তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর কিরআত পড়তে পার? আমি বললাম, হ্যা তিনি বলেন, তাহলে "ওয়ালাইলি ইযা ইয়াগসা" সুরাটি পড়। আমি পড়লাম "ওয়ালাইলি ইযা ইয়াগসা...." তিনি বলেন, আবূ দারদা হেসে দিয়ে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সূরাটি এভাবে পড়তে শুনেছি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আলকামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌছে আবূদ দারদা এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। .... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা ইবন উলাইয়্যাহ-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

দাউদ ইবন রুশায়দ ও ইসমাঈল ইবন সালিম .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একাধিক সাহাবীর নিকট শুনেছি, যাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম উমার ইবন খাত্ত্বাব-ও অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

যুহারর ইবন হারব, আবূ গাসসান মিসমাঈ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সকলে কাতাদাহ্ থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে সাঈদ ও হিশাম-এর বর্ণনায় আছেঃ ফজরের সালাতের পর সূর্য আলোকজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসরের সালাতের পর থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যেন সূর্যোদয়কালে এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করার সংকল্প না করে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যান্তের সময় তোমাদের সালাতের সঙ্কল্প করো না। কারণ সূর্য শয়তানের দুই শিং এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূর্যের কিনারা যখন প্রকাশিত হয় তখন সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর। আবার সূর্যের কিনারা যখন অদৃশ্য হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর।

কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ বাসরাহ আল গিফারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখাম্মাস নামক স্থানে আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেনঃ এ সালাত তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিকট পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ সালাত ধ্বংস করে দিল। যে ব্যক্তি এ সালাতের প্রতি যত্নবান হবে তাকে দ্বিগুণ সাওয়াব দেয়া হবে। এ সালাতের পর শাহিদ তারকা উদিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ বাসরাহ আল গিফারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উলাইয়্যি থেকে বর্ণিত। আমি উকবাহ ইবন আমির আল জুহানী কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি সময়ে আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্য যখন আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে উঠা পর্যন্ত, (২) সূর্য যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, (৩) সূর্য ক্ষীণ আলোক হওয়া থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।

আহমাদ ইবন জাফার আল মাকিরি .... 'ইকরামাহ বলেন, শাদ্দাদ, আবূ উমামাহ ও ওয়াসিলাহ এর সাক্ষাৎ লাভ করেছে এবং সিরিয়ায় আনাস-এর সাহচর্য লাভ করেছে এবং তার উচ্ছসিত প্রশংসা ও গুণগান করেছে। আবূ উসামাহ বলেন, আমর ইবন আবাসাহ আস সুলামী বলেছেন, আমি জাহিলী যুগে ধারণা করতাম যে, সব লোকই পথভ্রষ্ট ও তাদের কোন ধর্ম নেই। তারা দেব-দেবীর পূজা করত। এ অবস্থায় আমি শুনতে পেলাম যে, মক্কায় জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করেছেন। আমি আমার বাহনে উপবিষ্ট হয়ে তার নিকট এসে পৌছে দেখলাম যে, তিনি (ﷺ) নিজেকে জনসমাগম থেকে সরিয়ে রাখেন, তার সম্প্রদায় তাকে অত্যাচার-নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি তাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বলেনঃ আমি একজন নবী। আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, তিনি আপনাকে কোন জিনিস দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেনঃ তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, আল্লাহ এক বলে- ঘোষণা করতে এবং তার সাথে কোন কিছু শারীক না করতে পাঠিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, এ ব্যাপারে আপনার সাথে কারা আছে? তিনি বলেনঃ স্বাধীন ও দাসেরা। বর্ণনাকারী বলেন, সেকালে তার সাথে ছিলেন তার ওপর ঈমান আনয়নকারী আবূ বকর, বিলাল প্রমুখ। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই। তিনি বলেনঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তাতে সক্ষম হবে না। তুমি কি আমার অবস্থা এবং (ঈমান আনয়নকারী) অন্যদের অবস্থা দেখছ না? বরং তুমি তোমার পরিবারে ফিরে যাও, যখন তুমি শুনতে পাবে যে, আমি বিজয়ী হয়েছি তখন আমার নিকট এসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাই আমি আমার পরিবারে ফিরে এলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করলেন, আমি তখন আমার পরিবারের সাথে ছিলাম। তিনি মদীনায় আসার পর থেকে আমি খবরাখবর নিতে থাকলাম এবং লোকজনের নিকট জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। শেষে আমার নিকট ইয়াসরিব-এর একদল লোক একদল মদীনাহবাসী এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি মদীনায় এসেছেন তিনি কি করনে? তারা বলেন, লোকজন অতি দ্রুত তার অনুসারী হচ্ছে, অথচ তার জাতি তাকে হত্যা করতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয়নি। অতএব, আমি মদীনায় এসে তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যা, তুমি তো মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললামঃ হ্যা। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর নবী। আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং যে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ তা আমাকে শিক্ষা দিন, আমাকে সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ তুমি ফজরের সালাত আদায় কর, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার সময় শয়তানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে। অতঃপর তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত তুমি সালাত আদায় কর, কারণ এ সালাতে মালায়িকাহ উপস্থিত হন। অতঃপর সালাত থেকে বিরত থাক, কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর সূর্য যখন ঢলে যায় তখন থেকে সালাত আদায় কর এবং আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ (ফেরেশতামণ্ডলী) উপস্থিত থাকেন। অতঃপর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ তা শয়তানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! ওযু সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির নিকট ওযুর পানি পেশ করা হলে সে যেন কুলি করে, নাকে পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করে, এতে তার মুখমণ্ডলের ও নাক গহ্বরের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নির্দেশ মতো মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে, এমনকি দাড়ির আশপাশের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর তার দু' হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়ার সাথে সাথে তার আঙ্গুলসমূহ থেকে পানির সাথে গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পদদ্বয় ধৌত করে তখন তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তার পাপসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে, তার যথাযোগ্য মর্যাদা বর্ণনা করে এবং আল্লাহর জন্য নিজের অন্তরকে পৃথক করে নেয় তাহলে সে তার জন্মদিনের মতো গুনাহমুক্ত হয়ে যায়। আমর ইবন আবাসাহ এ হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহচর আবূ উমামাহ্-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি তাকে বলেন, হে আমর ইবন আবাসাহ। লক্ষ্য করুন আপনি বলছেন, এক স্থানেই লোকটিকে এত সাওয়াব দেয়া হবে! আমর বলেন, হে আবূ উমামাহ! আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি, আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যু সন্নিকটে। এ অবস্থায় আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি মিথ্যারোপে আমার কী ফায়দাহ। আমি যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ হাদীস একবার, দু'বার, তিনবার, এমনকি সাতবার গুনতাম তাহলে কখনো তা বর্ণনা করতাম না, কিন্তু এর অধিক সংখ্যক বার তার নিকট শুনেছি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ধারণা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যোদয় ও সূর্যস্তকালে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

হাসন আল হুলওয়ানী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত (আদায় করা) ত্যাগ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশাহ আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপেক্ষায় থেক না যে, তখন সালাত আদায় করবে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... কুরায়ব থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, আবদুর রহমান ইবন আযহার ও মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ প্রমুখ তাকে মহানবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ এর নিকট পাঠালেন। তারা বললেন, তুমি তাকে [আয়িশাহ কে আমাদের পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, আপনি সে দু' রাকাআত আদায় করেন, অথচ আমরা জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবন আব্বাস বলেন, আমিও উমার ইবন খাত্ত্বাব-এর সাথে লোকজনকে এ সালাত থেকে বিরত রাখতাম। আবূ কুরায়ব বলেন, তারা আমাকে যে বিষয়সহ পাঠিয়েছিলেন, আমি তার ঘরে প্রবেশ করে তা তাকে পৌছে দিলাম। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ কে জিজ্ঞেস কর। আমি বের হয়ে তাদের নিকট এসে আয়িশাহ এর কথা তাদেরকে অবহিত করলাম। অতঃপর তারা আমাকে যে বিষয়সহ আয়িশাহ এর নিকট পাঠিয়েছিলেন, সেই একই বিষয়সহ উম্মু সালামাহ-এর নিকট পাঠালেন। উম্মু সালামাহ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সে সালাত আদায় করতে নিষেধ করতে শুনেছি, তা সত্ত্বেও পরে আমি তাকে তা আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন এ সালাত আদায় করেছেন তার বিবরণ এই যে, তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত বানু হারাম-এর কতক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমি এক দাসীকে তার নিকট পাঠিয়ে বললাম, তুমি গিয়ে তার এক পাশে দাড়াবে, তারপর তাকে বলবে, উম্মু সালামাহ বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! এ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে আপনি নিষেধ করেছেন তা আমি শুনেছি, আর এখন দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, দাসী তাই করল। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষায় থাকে। তিনি সালাত থেকে অবসর হয়ে বলেনঃ হে আবূ উমাইয়্যাহ-এর কন্যা! তুমি আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছ। তার বিবরণ এই যে, আবদুল কায়স গোত্রের কতক লোক স্বগোত্রের পক্ষ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের উদ্দেশে আমার নিকট আসে। (তাদের নিয়ে) ব্যস্ত থাকার কারণে আমি যুহরের সালাতের পরবর্তী দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে পারিনি। এ হল সে দু' রাকাআত।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতায়বাহ ও আলী ইবন হুজুর .... আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ কে দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসর সালাতের পর আদায় করেছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসর সালাতের আগে ঐ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর ব্যস্ততার কারণে অথবা ভুলে গিয়ে তিনি তা আদায় করেননি। সে দু' রাকাআতই তিনি আসর সালাতের পর আদায় করেছেন, অতঃপর তা নিয়মিত পড়তে থাকেন। তিনি কোন সালাত আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন।

যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট (অবস্থানকালে) আসর সালাতের পরের দু' রাকাআত কখনো ত্যাগ করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আলী ইবন হুজর [শব্দাবলী তার] ... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে অবস্থানকালে দুটি সালাত প্রকাশ্যে বা গোপনে কখনো ত্যাগ করেননি; ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত এবং আসর সালাতের পর দু' রাকাআত।

ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আসওয়াদ ও মাসরূক বলেন, আমরা আয়িশাহ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পালার দিন আমার ঘরে অবস্থানকালে আসর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।

আবৃ বাকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... মুখতার ইবন ফুলফুল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক এর নিকট আসর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেন, উমর আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করার অপরাধে লোকদের হাতে আঘাত করতেন। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তা আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি আমাদেরকে এ সালাত আদায় করতে দেখতেন, কিন্তু তিনি তা আদায় করতে আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না।

শায়বান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় ছিলাম। মুয়াযযিন মাগরিবের সালাতের আযান দিলে তারা তাড়াহুড়া করে স্তম্ভের নিকট গিয়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এমনকি কোন আগন্তুক মসজিদে প্রবেশ করলে অধিক সংখ্যক সালাত আদায়কারীর কারণে তার মনে হত যে, (ফরয) সালাত শেষ হয়ে গেছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল আল মুযানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতি দু' আযানের মাঝখানে সালাত আছে। তিনি কথাটি তিনবার বলেন। তৃতীয়বারে তিনি বলেনঃ যে তা আদায় করতে চায় তার জন্য।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি চতুর্থবারে বলেছেনঃ যার ইচ্ছা হয়।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি দলের এক দলের সাথে এক রাকাআত সালাতুল খওফ আদায় করেন, তখন অপর দলটি শত্রুবাহিনীর মুকাবিলায় রত ছিলেন। অতঃপর প্রথম দলটি দ্বিতীয় দলের স্থানে গিয়ে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে এবং শেষোক্ত দলটি আসলে নবী (ﷺ) তাদের সাথে এক রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর উভয় দল পৃথক পৃথকভাবে এক রাকাআত করে সালাত আদায় করে।

আবূর রাবী আয যাহরানী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতুল খওফ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এ সালাত আদায় করেছি .... পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক যুদ্ধে সালাতুল খওফ (শঙ্কাকালীন সালাত) আদায় করলেন। সামরিক বাহিনীর একাংশ তার সাথে সালাতে দাড়াল এবং অপরাংশ শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল। তিনি তার সঙ্গের দলটিকে নিয়ে এক রাকআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তারা চলে গেল এবং অপর দলটি আসার পর তিনি তাদের নিয়ে আর এক রাকআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর উভয় দল স্বতন্ত্রভাবে এক রাকআত করে সালাত আদায় করে নিল। ইবন উমর বলেন, ভয়-ভীতি বা বিপদাশঙ্কা অধিক বৃদ্ধি পেলে আরোহী অবস্থায় বা দাড়ানো অবস্থায় ইশারায় সালাত আদায় করবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছি। তিনি আমাদেরকে দু' দলে বিভক্ত করলেন। একদল ছিল রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে আর শত্রুবাহিনী ছিল আমাদের ও কিবলার মাঝখানে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও সকলে তাকবীরে তাহরীমা বললাম। তিনি রুকূ করলে আমরা সকলেই রুকূ করলাম অতঃপর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠালে আমরা সকলেই মাথা উঠালাম। অতঃপর তিনি সাজদায় গেলেন এবং তার নিকটস্থ কাতারের লোকজনও, আর খানিক দূরের কাতারটি শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় দাড়িয়ে থাকল। নবী (ﷺ) যখন সিজদা সমাপ্ত করলেন এবং তার নিকটস্থ কাতারও দাড়িয়ে গেল, তখন খানিক দূরের কাতারটি সাজাদায় গেল। আর এরা দাড়িয়ে থাকল। অতঃপর পিছনের দলটি সামনে আসল এবং সামনের দলটি পিছনে সরে গেল। অতঃপর নবী (ﷺ) রুকূ করলে আমরাও সকলে রুকূ করলাম। অতঃপর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠালে আমরাও সকলে মাথা উঠালাম। অতঃপর তিনি সাজদায় গেলেন এবং তার নিকটবর্তী দলটি যারা প্রথম রাকাআতে পিছনে ছিল, তারাও। আর খানিক দূরের দলটি শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় দাড়িয়ে থাকল। নবী (ﷺ) তার নিকটবর্তী দলটিসহ সিজদা সমাপ্ত করার পর খানিক দূরের দলটি সাজদায় গেল এবং এভাবে সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী (ﷺ) সালাম ফিরালে আমরাও সালাম ফিরালাম। জাবির বলেন, যেমন তোমাদের প্রহরীগণ তাদের আমীরগণকে পাহারা দেয়।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস ... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে জুহায়নাহ গোত্রের একদল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তারা আমাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হল। আমরা যখন যুহরের সালাত আদায় করলাম তখন মুশরিকরা বলল, আমরা যদি একযোগে আক্রমণ করতাম তাহলে মুসলিমদেরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতাম। জিবরীল বিষয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অবহিত করলে তিনিও আমাদের অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ মুশরিকরা আরো বলেছে যে, মুসলিমদের নিকট শীঘ্রই এমন একটি সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হচ্ছে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয়। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, আসর সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে তিনি আমাদের দু' কাতারে বিভক্ত করেন। আর মুশরিকরা আমাদের ও কিবলার মধ্যখানে অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমাহ বললে আমরাও তাকবীর বললাম এবং তিনি রুকূ করলে আমরাও রুকূ করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করল প্রথম কাতারটি সাজদায় গেল। অতঃপর তারা যখন দাড়াল তখন দ্বিতীয় কাতারটি সাজদায় গেল। অতঃপর প্রথম কাতার পিছনে সরে গেল এবং পিছনের কাতার সামনে এগিয়ে এসে প্রথম কাতারের স্থানে দাড়াল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর দিলে আমরাও তাকবীর দিলাম এবং তিনি রুকূ করলে আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর প্রথম কাতার তার সাথে সাজদায় গেল এবং দ্বিতীয় কাতার দাড়িয়ে থাকল। দ্বিতীয় কাতার সিজদা করার পর সকলে বসে গেল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। আবূয যুবায়র বলেন, এরপর জাবির বিশেষভাবে বলেন, যেমন তোমাদের বর্তমান কালের শাসকগণ সালাত আদায় করেন।

উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী ... সাহল ইবন আবূ হাসমাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহচরদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায়ের উদ্দেশে তাদেরকে তার পিছনে দু' কাতারে কাতারবন্দী করেন। তার নিকটবর্তী কাতারের সাথে তিনি (ﷺ) এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাড়ালেন। তিনি (ﷺ) দাড়িয়ে থাকলেন যাবৎ না তার পিছনের কাতার এক রাকাআত সালাত আদায় করল, অতঃপর সামনে এগিয়ে আসল এবং তার নিকটবর্তী দল পেছনে সরে গেল। অতঃপর তিনি (ﷺ) এদের নিয়ে আরেক রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বসে থাকলেন যাবৎ না পিছনে সরে যাওয়া কাতার এক রাকাআত সালাত আদায় করল। অতঃপর তিনি (ﷺ) সালাম ফিরান।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সালিহ ইবন খাওওয়াত যাতুর রিকা যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতুল খওফ আদায়কারী এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। একটি দল কাতারবন্দী হয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করল এবং অপর দল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকল। তার সাথের দলটিকে নিয়ে তিনি (ﷺ) এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাড়িয়ে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরেক রাকআত আদায় করলো। অতঃপর তারা সরে গিয়ে শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে কাতারবান্দী হয়ে দাড়াল। অতঃপর পরবর্তী দলটি এগিয়ে আসলে তিনি (ﷺ) তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বসে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরো এক রাকআত আদায় করল।

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রওয়ানা হয়ে যাতুর রিকা নামক স্থানে পৌছে গেলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা কোন ছায়াদার গাছের নিকট পৌছলে তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য (বিশ্রামের) ছেড়ে দিতাম। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরবারিখানা একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত থাকা অবস্থায় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে তার তরবারিখানা হস্তগত করে তা কোষমুক্ত করল। অতঃপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলল, তুমি কি আমাকে ভয় কর? তিনি বলেনঃ না। সে বলল, কে আমাকে আমার (আক্রমণ) থেকে রক্ষা করবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ লোকটিকে হুমকি দিলে সে তরবারিখানা খাপের মধ্যে ঢুকিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সালাতের জন্য আযান দেয়া হলে তিনি (ﷺ) এক দলের সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এ দলটি পিছনে সরে গেল এবং তিনি (ﷺ) অপর দলের সাথে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হল চার রাকাআত এবং লোকদের হল দু' রাকাআত।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' দলের একটির সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর অপর দলের সাথে দু' রাকাআত আদায় করলেন। অতএব, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আদায় করলেন চার রাকাআত এবং অন্য সকলে আদায় করলেন দু' রাকাআত।