সাহাবা গণের মর্যাদা (৬০৬৪-৬৩৯৪)
যুহায়র ইবন হারব, আবদ ইবন হুমায়দ ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আবূ বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মস্তিষ্কের উপর মুশরিকদের পা লক্ষ্য করলাম। তখন আমরা গুহায় ছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায় তাহলে পায়ের তলায়ই আমাদের দেখতে পাবে। রসূল (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ বকর! তুমি এ দু'জন সম্বন্ধে কি মনে করো যাদের সঙ্গে আল্লাহ তৃতীয় জন হিসেবে রয়েছেন?
আবদুল্লাহ ইবন জাফার ইবন ইয়াহইয়া ইবন খালিদ .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর বসে বললেন, একজন বান্দাকে আল্লাহ তাআলা দুটি বিষয়ের মাঝে ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দিয়েছেন যে, (১) দুনিয়ার সম্পদ (প্রাচুর্য) দান করা, (২) এবং তার নিজস্ব অবস্থায় বহাল থাকা। সুতরাং এ বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা বেছে নিলেন। এ কথা শুনে আবূ বকর কান্নাকাটি করতে লাগলেন এবং বললেন, আমাদের পিতৃপুরুষ আপনার জন্য উৎসর্গকৃত হোক। ইখতিয়ারপ্রাপ্ত এ বান্দাটি ছিলেন স্বয়ং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে আবূ বকরই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উপর সর্বাধিক অনুগ্রহ আবূ বকরের- সম্পদের ও সঙ্গ দানেও। আমি যদি কাউকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকরকেই করতাম। এখন তো ইসলামী ভ্রাতৃত্বই রয়েছে। মসজিদের চতুস্পার্শে প্রবেশপথ যেন বন্ধ থাকে, শুধু আবূ বকরের দ্বার উন্মুক্ত থাকবে।
সাঈদ ইবন মানসুর .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষদের সম্মুখে বক্তৃতা দিলেন .... তারপর মালিক এর হাদীসের অবিকল।
মুহাম্মাদ ইবন বাশ্শার আল-আবদী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি বন্ধু বানাতাম তাহলে আবূ বকরকেই বন্ধু হিসেবে অগ্রাধিকার দিতাম। তবে তিনি আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী আর তোমাদের সঙ্গীকে আল্লাহ তাআলা বন্ধু বানিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝখান হতে কাউকে যদি আমি বন্ধু বানাতাম তাহলে আবূ বকরকেই বন্ধু বানাতাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি আমি কোন বন্ধু গ্রহণ করতাম তবে আবূ কুহাফার পুত্রকেই গ্রহণ করতাম।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়ার কাউকে যদি আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানাতাম তবে আবূ কুহাফার পুত্রকেই বন্ধু বানাতাম; কিন্তু তোমাদের সঙ্গী আল্লাহর বন্ধু।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জেনে রাখো! কারো সাথে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব নেই, যদি কাউকে বন্ধু বানাতাম তবে আবূ বকরকেই বানাতাম। তোমাদের সঙ্গী আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমর ইবন আস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে যাতুস সালাসিলের সেনা বাহিনীর সঙ্গে পাঠালেন, তখন আমি রসূলের নিকট এসে বললাম, আপনার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, আয়িশাহ। আমি বললাম, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ আয়িশাহর পিতা (আবূ বকর)। আমি বললাম, তারপর? তিনি বললেনঃ উমার। তারপর তিনি আরো কিছু সংখ্যক ব্যক্তির নাম বর্ণনা করলেন।
আল-হাসান ইবন আলী আল-হুলওয়ানী .... ইবন আবূ মুলাইকাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ হতে শুনেছি, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি কাউকে খলীফা বা প্রতিনিধি বানাতেন তাহলে কাকে নিযুক্ত করতেন? আয়িশাহ্ বললেন, আবূ বকরকে জিজ্ঞেস করা হলো, আবূ বকরের পর কাকে? বললেন, উমারকে। (পুনরায়) জিজ্ঞেস করা হলো, উমারের পর কাকে? তিনি বললেন, আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহকে- এটুকু বলেই তিনি সমাপ্তি করলেন।
আব্বাদ ইবন মূসা .... জুবায়র ইবন মুতাইম হতে বর্ণিত। জনৈক মহিলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু চাইলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অন্য এক সময় আসার জন্য বললেন। মহিলাটি বলল, যদি আমি এসে আপনাকে আর না পাই তবে রাবী বলেন, আমার পিতা বলেছেন, (মহিলাটি মৃত্যুর ব্যাপারেই বলেছিলেন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি আমাকে না পাও তবে আবূ বকর এর নিকট এসো।
হাজ্জাজ ইবনশ শাইর .... জুবায়র ইবন মুতইম হতে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা মুতইম তাকে বলেছেন যে, একজন স্ত্রী লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে কিছু বললেন, তিনি মহিলাটিকে আব্বাদ ইবন মূসা এর হাদীসের হুবহু আদেশ করলেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার রোগ শয্যায় বললেনঃ তোমার আব্বা ও ভাইকে তুমি আমার কাছে ডাকো। আমি একটা পত্র লিখে দেই। কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে, কোন উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, আর কেউ দাবী করে বসবে যে, আমিই হাকদার। অথচ আবূ বকর ব্যতীত ভিন্ন কাউকে আল্লাহ মেনে নিবে না এবং মুসলিমরাও মেনে নিবে না।
মুহাম্মাদ ইবন উমার মাক্কী .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ তোমাদের মাঝে কে সিয়াম পালনকারী? আবূ বকর বললেন, আমি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আজ তোমাদের মাঝে কে একটা জানাযাকে অনুকরণ করেছো? আবূ বকর বললেন, আমি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মাঝে কে একজন মিসকীনকে আজ খাবার দিয়েছো? আবূ বকর বললেন, আমি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মাঝে কে আজ একজন অসুস্থকে দেখতে গিয়েছো? আবূ বকর বললেন, আমি। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার মধ্যে এ কাজগুলোর সংমিশ্রণ ঘটেছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক লোক পিঠে বোঝা দিয়ে একটি গাভীকে হাকাচ্ছিল। গাভীটি ব্যক্তিটির দিকে দৃষ্টিপাত করে বলল, আমাকে তো এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমার সৃষ্টি তো হাল-চাষ করার জন্য। লোকেরা বিস্ময়কর ও ভীত হয়ে বলে উঠলো, সুবহানাল্লাহ! গাভী কথা বলে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা আমি বিশ্বাস করি এবং আবূ বকর, উমারও বিশ্বাস করে। আবূ হুরাইরাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক রাখাল ছাগল চড়াচ্ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে এসে একটা ছাগল কেড়ে নিয়ে গেলে রাখাল নেকড়ের কবল হতে ছাগলটিকে মুক্ত করল। সে সময় নেকড়ে রাখালটির দিকে তাকিয়ে বলল, যেদিন আমি ব্যতীত আর কোন রাখাল থাকবে না, সেদিন কে বকরীগুলো মুক্ত করবে? লোকেরা বলে উঠলো, সুবহানাল্লাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি, আবূ বকর এবং উমার এ বিষয়টি বিশ্বাস করি।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... এ সূত্রে ইবন শিহাব হতে এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন, যাতে রাখাল ও ছাগলের ঘটনা রয়েছে, তবে গাভীর ব্যাপারটি তিনি বর্ণনা করেনি।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যুহরী সূত্রে ইউনুস বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তাদের হাদীসে একই সঙ্গে গাভী ও ছাগলের কাহিনী আছে। তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ বিষয়টি আমি, আবূ বকর এবং উমার বিশ্বাস করি। তারা কেউই তখন সেখানে ছিলেন না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
সাঈদ ইবন আমর আল-আশআসী, আবূ রাবী আল-আতাকী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর কে তার খাটিয়ায় রাখা হলে ব্যক্তিরা তার কাছে জমা হয়ে দোয়া, প্রশংসা ও দুরূদ পাঠ করছিল, তখনও তার জানাযা হয়নি। আমিও লোকদের সাথে ছিলাম। জনৈক লোক পেছন থেকে আমার কাঁধে হাত রাখলে আমি শঙ্কিত হলাম। ঘুরে দেখি আলী। তিনি বললেন, আল্লাহ উমর এর উপর রহম করুন। এরপর উমারকে সম্বোধন করে বললেন, হে উমার! আপনি আপনার চেয়ে অধিক পছন্দের কোন লোক রেখে যাননি যার আমল এমন যে, তার মতো আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভে ভালবাসি। আমার মনে হত, আল্লাহ আপনাকে আপনার দু' সাথীর সাথেই রাখবেন। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রায়ই বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও উমার এসেছি। প্রবেশ করেছি আমি, আবূ বকর ও উমার; বেরও হয়েছি আমি, আবূ বকর ও উমার। এজন্যে আমার দৃঢ় প্রত্যয় ও আস্থা এই যে, আপনাকে আল্লাহ তাদের সঙ্গেই রাখবেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উমার ইবন সাঈদ হতে একই সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
মানসুর ইবন আবূ মুযহিম .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি শুয়ে ছিলাম, দেখি আমার সম্মুখে লোকদের আনা হচ্ছে, এদের গায়ে কাপড়। কারো জামা বুক পর্যন্ত, কারো বা এর নীচে। উমারকে আনা হলো, তার গায়ে একটা লম্বা চওড়া কাপড় মাটিতে গিয়ে ঠেকেছিল টেনে টেনে চলছে। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এর কি বিশ্লেষণ করেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দীন (দীনের নমুনা)।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... হামযাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর তার পিতা হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমিয়ে আছি, দেখলাম দুধ ভর্তি একটি পেয়ালা আনা হলো। আমি তা থেকে পান করলাম এমনকি আমি দেখলাম যে, আমার নখের মধ্যেও তৃপ্তি ও সজীবতা প্রবাহিত হচ্ছে। এরপর যা অবশিষ্ট রইল তা উমার ইবন খাত্তাবকে দিলাম। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! এর ব্যাখ্যা কি? তিনি বললেন, 'ইলম'।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সালিহ হতে ইউনুসের সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আমি ঘুমন্তবস্থায় একটি কূপ দেখলাম, তাতে একটি বালতিও আছে। আমি আল্লাহ তাআলার হুকুম মতো পানি তুললাম। তারপর আবূ কুহাফার ছেলে বালতি হাতে নিলো এবং এক বা দু' বালতি পানি তুলল। তার উঠানোর কাজে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে মাফ করে দিন। বালতিটি এবার বড় হয়ে গেল। ইবন খাত্তাব সেটি নিলো। আমি উমার ইবন খাত্তাবের মতো পারদর্শী পানি উত্তোলনকারী আর কাউকে দেখিনি। তখন লোকেরা নিজেদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে বিশ্রামের জায়গায় নিয়ে গেল।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... সালিহ্ হতে ইউনুস এর সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আল-হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইবন আবূ কুহাফাকে পানি উঠাতে দেখেছি। অবশিষ্টাংশ যুহরীর হাদীসের মতই।
আহমাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন ওয়াহব .... আবূ হুরাইরাহ হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘুমের মাঝে আমি দেখলাম, আমার হাওয হতে পানি উঠাচ্ছি এবং লোকদের পানি দিচ্ছি। আবূ বকর এসে আমাকে আরাম করার জন্য আমার হাত হতে বালতি নিয়ে দু'বালতি পানি উত্তোলন করলেন এবং তার উত্তোলনে শক্তি পাচ্ছিল না। আল্লাহ তাকে মাফ করুন। তারপর ইবন খাত্তাব এসে তার হাত থেকে বালতি নিলেন, তার তুলনায় বেশি শক্তিশালী উত্তোলনকারী আমি আর কোনদিন দেখিনি। লোকেরা আত্মতৃপ্ত সহকারে প্রত্যাবর্তন করল। আর তখনও হাওয পরিপূর্ণ ছিল যেন তা উপচিয়ে পড়ছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে লক্ষ্য করলাম যেন এক ছোট বালতি দিয়ে একটি কুয়া হতে পানি উত্তোলন করছি। তখন আবূ বকর এসে এক বালতি বা দু' বালতি উঠালেন। তার উত্তোলনে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে মাফ করুন। তারপর উমার এসে পানি তোলা আরম্ভ করলেন। আর বালতিটি বৃহদাকার ধারণ করল। মানুষদের মধ্যে এত বড় শক্তিশালী যুবক আমি আর দেখিনি যে তার ন্যায় কাজ করে। এমনকি মানুষেরা পরিতৃপ্তি লাভ করল এবং তথায় উটশালা বানিয়ে ফেলল।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে আবূ বকর ও উমর সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্বপ্ন তাদের হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করলেন।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব .... জাবির হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, ওখানে একটা বাড়ী বা অট্টালিকা প্রত্যক্ষ করলাম। বললাম, এটা কার? লোকেরা বলল, উমর ইবন খাত্তাবের। আমি এতে প্রবেশের আগ্রহ প্রকাশ করলাম। তখনি তোমার আত্মসম্মানবোধের কথা আমার মনে পড়ল। এ কথা শুনে উমর কেঁদে দিলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিও কি আত্মমর্যাদাবোধ চলে?
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আমর আন নাকিদ .... জাবির হতে ইবন নুমায়র ও যুহায়রের সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি শুয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমাকে আমি জান্নাতে দেখতে পাই। ওখানে একটি অট্টালিকার কিনারে একজন নারী ওযু করছিল। আমি জানতে চাইলাম। এটি কার? তারা বলল, উমর ইবন খাত্তাবের। তখন উমারের আত্মসম্মানবোধের কথা আমার স্মরণ হলে, আমি সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। আবূ হুরাইরাহ বলেন, এ কথা শুনে উমর কেঁদে দিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমরা সকলে এ মাজলিসে ছিলাম। তারপর উমর বললেন, আপনার উপর আমার মা-বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি আপনার প্রতি আত্মসম্মানবোধ দেখাবো?
আমর আন নাকিদ, হাসান হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন শিহাব হতে উপরোক্ত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম, হাসান হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সাদ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, উমর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন কুরায়শ নারীরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কথোপকথনে লিপ্ত ছিল এবং তারা উচ্চস্বরে বেশি বেশি কথা বলছিল। যখন উমর অনুমতি চাইলেন এরা উঠে অভ্যন্তরে চলে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন এবং তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসছিলেন। উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার মুখকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তাদের ব্যাপারে অবাক হচ্ছি যারা আমার নিকট উপবিষ্ট ছিল; আর তোমার' শব্দ শুনামাত্রই তারা অভ্যন্তরে চলে গেল। উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেই তো এদের অধিক ভয় করা উচিত। তারপর উমার বললেন, ওহে! নিজের প্রাণের শত্রুরা! তোমরা আমাকে ভয় করো এবং আল্লাহর রসূলকে ভয় করো না। তারা বলল, হ্যা, তুমি তো আল্লাহর রসূলের চাইতে অধিক তেজস্বী এবং রাগী। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার হাতে আমার জীবন তার কসম যখন শয়তান তোমাকে কোন রাস্তায় চলতে দেখে তখন সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ ধরে চলে।
হারূন ইবন মারূফ .... আবূ হুরাইরাহ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উমর আসলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কতিপয় মহিলা উচ্চস্বরে কথা বলছিল। যখন উমার প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, মেয়েরা সব সাথে সাথে ভিতরে চলে গেল। অবশিষ্টাংশ যুহরী এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... আয়িশাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন, নবী (ﷺ) বলতেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতসমূহের মাঝে কতিপয় ব্যক্তি ছিলেন মুহাদ্দাস, আমার উম্মাতের মাঝে যদি কেউ এমন থেকে থাকে তবে সে উমার ইবন খাত্তাবই হবে। ইবন ওয়াহব বলেন, "মুহাদ্দাস" এর ব্যাখ্যা হলো যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে গোপনে প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত হয়'।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... সাদ ইবন ইবরাহীম হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
উকবাহ ইবন মুকরিম আম্মী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে বর্ণিত। উমার বলেছেন যে, তিনটি বিষয়ে আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার অবিকল আগের মতোই উল্লেখ করেছি। মাকামে ইবরাহীমে নামাজ আদায় সম্পর্কে, মেয়েলোকের পর্দা এবং বদরের যুদ্ধ বন্দীদের প্রসঙ্গে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন, যখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল ওফাত হন তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে আরজ করলেন, তিনি যেন নিজ জামা তার পিতার কাফনের জন্য দান করেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে প্রদান করলেন। এরপর আবদুল্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার পিতার জানাযা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য উঠে দাড়ালেন। তখন উমর দাড়িয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গায়ের কাপড় ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ওর জানাযা পড়বেন? কেননা আল্লাহ আপনাকে তার জানাযা আদায় করতে বারণ করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ অবশ্য আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। বলেছেনঃ "আপনি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, যদি আপনি সত্তরবারও এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন" ....(আত তওবা ৯ঃ ৭০) অতএব আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিক মাফ চাইব। উমর বললেন, সে তো মুনাফিক। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করলেন। "মুনাফিকদের মাঝে কেউ মরে গেলে কক্ষনো তার জানাযা আদায় করবেন না; আর তার কবরের সন্নিকটেও দাড়াবেন না"- (আত তওবা ৯ঃ ৮৪)।
ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... উবাইদুল্লাহ থেকে এ সানাদে আবূ উসামাহর হাদীদের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং বর্ধিত বলেছেন, "তারপর তিনি তাদের উপর জানাযা আদায় ছেড়ে দেন"।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হাজর .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন, তার উরু কিংবা পায়ের নলা উন্মুক্ত ছিল। আবূ বকর এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতে কথপকথন করলেন। তারপর উমার অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বললেন। উসমান অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে বসলেন এবং তার কাপড় ঠিক করলেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, এ বিষয়টি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি দাবী করি না। অতঃপর উসমান এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা বললেন, আবূ বকর আসলেন, আপনি তাকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না, উমার আসলেন আপনি তাকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রূক্ষেপ করলেন না। উসমান প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি কি সে লোককে লজ্জা করবো না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স ইবন সা'দ .... নবী পত্নী আয়িশাহ ও উসমান হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বকর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন নিজের বিছানায় আয়িশাহর চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবূ বকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন, আবূ বকর তার প্রয়োজন শেষে চলে গেলেন। তারপর উমর অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অবস্থায়ই রইলেন। উমার তার কাজ সেরে চলে গেলেন। উসমান বলেন, তারপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আয়িশাহকে বললেন, ভালো মতো তোমার শরীরের কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলে আয়িশাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কি ব্যাপার, আবূ বকর ও উমার আসলে আপনাকে এমন ব্যস্ত হতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উসমান বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাকে আসতে বললে হয়ত সে তার প্রয়োজন আমার নিকট উথাপন করতে পারবে না।
আমর আন নাকিদ, হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... উসমান ও আয়িশাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বকর সিদীক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, অবশিষ্টাংশ যুহরী থেকে উকায়ল বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না আনাযী ... আবূ মূসা আশআর হতে রিওয়ায়াত করেন যে, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসাবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাঢ়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবূ বকর। আমি দরজা খুললাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমার। দরজা খুলে দিলাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন। দরজা খুলে দাও এবং তাকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবন আফফান। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান বললেনঃ "হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।"
আবূ রাবী আল-আতাকী .... আবূ মূসা আশআর হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাগিচায় গেলেন এবং আমাকে দরজায় পাহারা দিতে বললেন, তারপর উসমান ইবন আফফান বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মিসকীন ইয়ামামী .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত যে, তিনি তার গৃহ থেকে ওযু সেরে বেরিয়ে বলেন, আজকের দিন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে থাকবো। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। লোকেরা বলল, তিনি এ দিকে গিয়েছেন। আবূ মূসা লোকদের নিকট প্রশ্ন করে তার পদাংক অনুসরণ করে বি'রি আরীসে গিয়ে পৌছলেন। আবূ মূসা বলেন, আমি চৌকাঠে বসলাম। এর দরজাটি ছিল খেজুরের ডালের। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাজ শেষ করে ওযু করলে আমি তার নিকট গিয়ে দাড়ালাম। তিনি আরীস কূপের কিনারার মাঝখানে উপবিষ্ট হলেন। তার পা দু'টো হাটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করে কূপের ভেতর ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তাকে সালাম দিয়ে চৌকাঠের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আর বললাম, অবশ্যই আমি আজ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাহারাদার হবো। আবূ বকর এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম, কে? বললেন, আবূ বকর। আমি বললাম, দাড়ান। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূ বকর এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন। তাকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এগিয়ে গিয়ে আবূ বকরকে বললাম, প্রবেশ করুন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবূ বকর প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডান পাশে রূপে পা লটকিয়ে বসলেন আর পা দু'টো ইটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করলেন। যেমনটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছেন। এরপর আমি প্রত্যাবর্তন শেষে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি ওযু করছিলেন। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তাআলা যদি তার মঙ্গল চান তাহলে তাকে এখনই এনে দেবেন। এমন সময় এক লোক দরজা নাড়ল। বললাম, কে? উত্তর দিলো, উমর ইবন খাত্তাব। বললাম, দাড়ান। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে সালাম দিয়ে বললাম, উমার এসেছেন, তিনি প্রবেশের অনুমতি চান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমারের নিকট এসে বললাম, আসুন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উমর প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের ভাল চান তাহলে তাকে এনে দেবেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়ল। আমি বললাম, কে? বলল, উসমান ইবন আফফান। বললাম, দাড়ান। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ তাকে প্রবেশ করতে দাও এবং আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দাও। আমি এসে বললাম, প্রবেশ করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে একটি আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উসমান প্রবেশ করে দেখলেন কুপের একপাশ ভরাট হয়ে আছে। তিনি তাদের মুখোমুখি হয়ে কুপের অন্য পাশে বসলেন। শারীক বলেন, সাঈদ ইবন ইবন মুসাইয়্যাব বলেন, আমি এ বৈঠকের বিশ্লেষণ করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবরের অবস্থান।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সন্ধানে বের হয়ে দেখলাম তিনি বাগিচার দিকে গিয়েছেন। আমি একটি বাগিচায় গিয়ে দেখি তিনি কুয়ার চাকের উপর পা দু'টো বুলিয়ে বসে আছেন, তার পা দু'টো হাটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করলেন। এখানে সাঈদ এর কথা "আমি বিশ্লেষণ করলাম যে, তাদের কবরও এভাবেই" কথাটি উল্লেখ নেই।
হাসান ইবন আলী আল-হুলওয়ানী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কোন প্রয়োজনে মদীনায় এক বাগিচায় গেলেন। আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। তারপর সুলাইমান ইবন বিলাল এর হাদীসের অবিকলভাবে তিনি (রাবী) এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। এ হাদীসে এও বর্ণনা রয়েছে যে, ইবন মুসাইয়্যিব বলেন, আমি এর বিশ্লেষণ করলাম যে, তা হচ্ছে তাদের কবরের নিদর্শন। সকলে একত্রে আর পৃথকভাবে আছেন উসমান।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী, আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ, উবাইদুল্লাহ কাওয়ারীরী ও সুরায়জ ইবন ইউনুস .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী কে বলেছেনঃ তুমি আমার কাছে তেমন যেমন মূসা এর কাছে হারূন। তবে আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। সাঈদ বলেন, আমি মনে করলাম যে, হাদীসটি প্রত্যক্ষভাবে সা'দ হতে শ্রবণ করি। অতএব আমি সা'দের সঙ্গে একত্রিত হলাম এবং আমির আমাকে যা বলেছে আমি তাকে তা বললাম। তিনি বললেন, আমি এ কথা শুনেছি। আমি বললাম, আপনি কি এ কথা শুনেছেন? তিনি দু'কানে দু'টো আঙ্গুল ঢুকিয়ে বললেন, হ্যা শুনেছি, না শুনে থাকলে এ কান দু'টো বধির হয়ে যাবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত যে, তাবুকের যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী কে মদীনায় তার প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে মহিলা ও শিশুদের নিকট রেখে যাচ্ছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মূসা এর কাছে হারূন এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী আসবেন না।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয শুবাহ হতে এ সূত্রেই রিওয়ায়াত করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত যে, মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান সা'দ কে আমির (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, আপনি আলী কে কেন মন্দ বলেন না? সা'দ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সম্বন্ধে যে তিনটি কথা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমি মনে রাখবো ততক্ষণ পর্যন্ত কখনও তাকে খারাপ বলব না। সেসব কথার মধ্য হতে একটিও যদি আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর হত। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আলী এর উদ্দেশে বলতে শুনেছি- আলী কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মধ্যে আমাকে রেখে যাচ্ছেন, হে আল্লাহর রসূল? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা এর নিকট হারূন এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী নেই। খাইবারের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক লোককে পতাকা (ইসলামের ঝাণ্ডা) দেব যে আল্লাহ ও তার রসূল (ﷺ) কে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তার রসূলও তাকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা (অধির আগ্রহে) অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তার চোখ (অসুখ হয়েছিল) উঠেছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তার হাতে পতাকা সপে দিলেন। অবশেষে আল্লাহ তার হাতেই বিজয়মালা (পতাকা) তুলে দিলেন। আর যখন আয়াতঃ চলো আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি" (আ-লি ইমরান ৩ঃ ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসায়ন কে ডাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার-পরিজন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আলী-কে বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী নও যে, তোমার সম্মান আমার নিকট মূসা এর নিকট হারূন এর ন্যায়।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রা হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবারের দিন বললেন। নিশ্চয়ই আমি ঐ লোকের হাতে পতাকা তুলে দিবো, যে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে। তার হাতেই আল্লাহ তাআলা বিজয় দেবেন। উমর বলেন, শুধু ঐ দিনটি ব্যতীত আমি কখনো নেতৃত্ব লাভের আশা করিনি। এ প্রত্যাশা নিয়ে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবন আবূ তালিবকে ডেকে তার হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ অগ্রসর হও, এদিক-ওদিক দৃষ্টি দিও না যতক্ষণ আল্লাহ তোমাকে বিজয় দেন। অতঃপর আলী সামান্য অগ্রসর হয়ে থামলেন, এদিক-সেদিক দেখেননি। এরপর চিৎকার করে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কোন কথার উপর আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই, আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল। যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে তখনই তারা তাদের প্রাণ ও ধন-মাল তোমার হাত হতে মুক্ত করে ফেলবে। তবে কোন প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে মুক্ত হবে না। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবারের যুদ্ধের দিন বলেছেনঃ অবশ্যই আমি এমন এক লোকের হাতে পতাকা তুলে দিব যার হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় প্রদান করবেন। সে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে আর আল্লাহ তাআলা ও তার রসূলও তাকে ভালবাসেন। লোকেরা রাতভর এ কথোপকথনই করতে থাকল যে, কাকে এ পতাকা তুলে দেয়া হবে। প্রত্যুষে সবাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলো। প্রত্যেকের এটাই প্রত্যাশা যে, তাকেই হয়ত দেয়া হবে এ পতাকা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আলী ইবন আবূ তালিব কোথায়? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তার চোখে অসুখ। তারপর তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন, তাকে নিয়ে আসা হলো, তার চোখে থুথু লাগালেন এবং দোয়া করলেন তার জন্য। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন এমনভাবে যেন তার চোখে কোন রোগই ছিল না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পতাকা তুলে দিলেন। আলী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার পথে চলে যাও এবং ওদের মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান কর। আর তাদের উপর বর্তিত আল্লাহর হাকগুলোর ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে দাও। কারণ, আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একটা মানুষকেও হিদায়াত করেন তবে তা তোমার জন্য লাল উট থেকেও উত্তম।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সালামা ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাইবারের দিন আলী পিছনে রয়ে গেলেন। তার চোখ উঠেছিল। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রেখে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বের হলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিলিত হলেন। বিজয় প্রভাতের আগের দিন বিকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দিব কিংবা পতাকা এমন এক লোক গ্রহণ করবে, যাকে আল্লাহ ও তার রসূল ভালবাসেন, কিংবা যিনি আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসেন। আল্লাহ তার হস্তেই বিজয় দেবেন। অকস্মাৎ আমরা আলী কে লক্ষ্য করলাম। আমরা তাকে প্রত্যাশা করিনি। মানুষেরা বলল, ইনি তো আলী। আর একেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) পতাকা দিলেন এবং তার হাতেই আল্লাহ বিজয় প্রদান করলেন।
যুহায়র ইবন হারব ও শুজা ইবন মাখলাদ ..... ইয়াযীদ ইবন হাইয়্যান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, হুসায়ন ইবন সাবরাহ এবং উমার ইবন মুসলিম- আমরা যায়দ ইবন আরকাম এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট বসি তখন হুসায়ন তাকে বললেন, হে যায়দ আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ) কে দেখেছেন, তার হাদীস শ্রবণ করেছেন, তার সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন। আপনি অনেক কল্যাণ অর্জন করেছেন, হে যায়দ। আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যা শ্রবণ করেছেন তা আমাদের বলুন। যায়দ বললেন, ভাতুস্পুত্র আমার বয়স বেড়েছে, আমি পুরনো যুগের মানুষ। অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে যা আমি সংরক্ষণ করেছিলাম এর কিয়দংশ ভুলে গেছি। তাই আমি যা বলি তা গ্রহণ করো আর আমি যা না বলি সে সম্বন্ধে আমাকে কষ্ট দিও না। এরপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মক্কাহ ও মদীনার মাঝামাঝি খুম্ম' নামক স্থানে দাড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নাসীহাত করলেন। অতঃরপর বললেন, হুঁশিয়ার, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, অতি সত্বরই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আসবে, আর আমিও তার আহানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের নিকট ভারী দুটাে জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং আলোকবর্তিকা আছে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করো, একে শক্ত করে আকড়ে রাখো। তারপর তিনি কুরআনের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। এরপর বলেন, আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আহলে বায়ত। আর আমি আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আহলে বায়তের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। হুসায়ন বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আহলে বায়ত কারা, হে যায়দ? রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবিগণ কি আহলে বায়তের অধিভুক্ত নন? যায়দ বললেন, বিবিগণও আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু আহলে বায়ত তারাই তার (মৃত্যুর) পর যাদের উপর যাকাত নেয়া নিষিদ্ধ। হুসায়ন বললেন, এসব লোক কারা? যায়দ বললেন, এরা আলী, আকীল, জাফার ও আব্বাস (রায়িঃ) এর পরিবার-পরিজনেরা। হুসায়ন বললেন, এদের সবার জন্য যাকাত গ্রহণ নাজায়িয? যায়দ বললেন, হ্যা।
মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার ইবন রাইয়্যান ..... যায়দ ইবন আরকাম এর সনাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন হাইয়্যান হতে এ সূত্রেই ইসমাঈলের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেন। জারীরের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে, "আল্লাহর কিতাব, তাতে আছে হিদায়াত ও আলো, যে এটাকে আকড়ে রাখবে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে আর যে এটা ছেড়ে দেবে সে পথ হারিয়ে ফেলবে (পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে)।"
মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার ইবন রাইয়্যান .... যায়দ ইবন আরকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তার নিকট গিয়ে বললাম, আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে ছিলেন, তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন। তারপর আবূ হাইয়্যানের হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু এ হাদীসে আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান! আমি তোমাদের মাঝে দু'টো ভারী জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। তন্মধ্য থেকে একটি আল্লাহর কিতাব এটি আল্লাহর রশি, যে এর অনুসরণ করবে হিদায়াতের উপর থাকবে আর যে একে ছেড়ে দেবে সে পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হবে। এ বর্ণনায় আরো আছে যে, আমরা বললাম, রসূলের আহলে বায়তের মাঝে কি তার বিবিরা সংযুক্ত রয়েছেন? যায়দ বললেন, আল্লাহর কসম! স্ত্রীরা একটা সময় পুরুষদের সাথে থাকে, তারপর তাকে স্বামী তালাক দিলে সে তার পিতা এবং গোষ্ঠীর নিকট ফিরে যায়। আহলে বায়ত হলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মূল বংশ এবং তার স্বগোত্রীয়রা, যাদের জন্য নবীর ইন্তিকালের পর যাকাত গ্রহণ নিষিদ্ধ।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত যে, মারওয়ানের বংশের এক লোক মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগপ্রাপ্ত হলো, সে সাহলকে ডেকে এনে আলী কে গালি দিতে বলল। সাহল অস্বীকৃতি জানালেন। শাসক লোকটি বলল, তুমি যদি গালি নাই দাও তবে অন্তত এটুকু বলো যে, আবূ তুরাবের উপর আল্লাহর লানাত। সাহল বললেন, আলী এর নিকট কোন নামই এর চেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল না। এ নামে ডাকলে তিনি আনন্দিত হতেন। সে লোক বলল, তাহলে আবূ তুরাব নাম হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করো। তিনি বললেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতিমা এর গৃহে আসলেন; কিন্তু আলী কে গৃহে পেলেন না। ফাতিমা্ কে প্রশ্ন করলেন, তোমার চাচাত ভাই কোথায়? ফাতিমা্ বললেন, তার আর আমার মধ্যে একটা কিছু ঘটেছিল যার ফলে তিনি রাগ করে বের হয়ে গেছেন, আর তিনি আমার নিকট ঘুমাননি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক লোককে বললেন, দেখ তো, আলী কোথায়? লোকটি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট আসলেন। আলী শুয়েছিলেন। তার এক পাশের চাদর সরে গিয়েছিল, ফলে গায়ে মাটি স্পর্শ করেছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাটি ঝাড়তে শুরু করলেন এবং বললেন, হে আবূ তুরাব! উঠো, হে আবূ তুরাব উঠো।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, এক রাত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে রইলেন আর তিনি বললেন, আমার কোন সৎকর্মশীল সাহাবী যদি এ রাতটিতে আমাকে পাহারা দিতো এমন সময় আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে পেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইনি কে? উত্তর এলো, আমি সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস। আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি, হে আল্লাহর রসূল! আয়িশাহ্ বললেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় আমি তার নাক ডাকার আওয়াজও শুনতে পেলাম।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় আগমনের প্রথম দিকে এক রাত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে রইলেন। আর তিনি বললেনঃ আমার সাহাবীদের মধ্য হতে কোন নেক লোক আমাকে এ রাত্রের পাহারা দিলে কতই না ভাল হতো। আয়িশাহ বলেন যে, এমতাবস্থায়ই আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে পেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনি কে? বললেন, সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কেন এসেছ? সা'দ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্পর্কে আমার অন্তরে আশঙ্কা জেগেছে, তাই তাকে পাহারা দিতে আসলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্যে দোয়া করলেন, এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ইবন রুমূহের বর্ণনায় রয়েছে, "আমরা বললাম, ইনি কে"?
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... আয়িশা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে থাকলেন। (অবশিষ্টাংশ) সুলাইমান ইবন বিলালের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত রয়েছে।
মানসুর ইবন আবূ মুযাহিম .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি রলেন, সা'দ ইবন মালিক ব্যতীত আর কারো জন রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের মাতা-পিতা দুজনের উৎসর্গের কথা একত্রে বর্ণনা করেননি। উহুদ যুদ্ধের দিবসে তিনি সাদকে বলেছিলেন, তীর মারো, সা'দ। আমার পিতা-মাতা তোমার উপর উৎসর্গ হোন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, ইসহাক হানযালী ও ইবন আবূ উমর আলী এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত আছে।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্, ইবন কানাব .... সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পিতা ও মাতাকে একসাথে উৎসর্গ করেছেন উহুদ যুদ্ধের দিনে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ইবন রুমহ ও ইবন মুসান্না .. ইহাইয়া ইবন সাঈদ এর সূত্রে এ সানাদেই রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিবসে তার জন্য নিজের পিতা ও মাতাকে একসাথে উৎসর্গ করেছিলেন। সা'দ বলেন, মুশরিকদের এক ব্যক্তি মুসলিমদের উপর অগ্নিমূর্তি ধারণ করছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে সাদ! তীর নিক্ষেপ করো। আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি তাকে কেন্দ্র করে একটা তীর বের করলাম, যাতে ধারালো অংশটি ছিল না। ওটা তার পাজরে লাগতেই সে পড়ে গেল, এতে তার গুপ্তাঙ্গ উন্মোচিত হয়ে গেল। ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন; আমি তার মাড়ির দাত পর্যন্ত দেখতে পেলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... মুসআব ইবন সা'দ তার পিতা হতে বর্ণিত যে, তার সম্বন্ধে কুরআনের কতক আয়াত নাযিল হলো। তার মা কসম করে ফেলেছে যে, তিনি ইসলামকে যতক্ষণ অস্বীকার না করবেন ততক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলবে না, খাবেও না, পানও করবে না। সে বলল, আল্লাহ তাআলা তোকে নির্দেশ করেছেন, পিতা-মাতার কথা মেনে চলতে। আর আমি তোর মা। আমি তোকে এ আদেশ করছি। মা তিন দিন পর্যন্ত কোন খাদ্য গ্রহণ করল না। যাতনায় সে অজ্ঞান হয়ে গেলে উমারাহ নামক তার এক পুত্র তাকে পানি পান করাল। মা সা'দের উপর বদদোয়া করতে লাগল। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে এ আয়াত নাযিল করলেনঃ "আমি মানুষকে আদেশ করেছি তার পিতামাতার প্রতি উত্তম আচরণ করতে। তবে ওরা যদি তোমার উপর শক্তি প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শারীক করতে যার সম্বন্ধে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তুমি তাদের আনুগত্য করো না" (সূরাহ্ আল আনকাবূত ২৯ঃ ৮)। "আর পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সম্ভাবে বসবাস করবে"-(আল লুকমান ৩১ঃ ১৫)। সা'দ বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আসলো। এতে একটি তরবারিও ছিল। আমি সেটা নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললাম, এ তরবারিটি আমাকে দিন। আর আমার অবস্থা কি তা আপনি জানেনই। তিনি বললেন, এটা যেখান থেকে নিয়েছো সেখানেই রেখে দাও। আমি গেলাম এবং ইচ্ছে করলাম যে, এটাকে ভাণ্ডারে রেখে দেই; কিন্তু আমার মন আমাকে বঞ্চনা করল। অমনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফিরে আসলাম। বললাম, আমায় এটা দান করুন। তিনি উচ্চস্বরে বললেন, এটা যেখান থেকে এনেছো সেখানে রেখে দাও। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ "তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে"-(আল আনফাল ৮ঃ ১)। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ বিধায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আসতে বললাম, তিনি আসলেন। আমি বললাম, আমাকে অনুমতি দান করুন, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে আমার ধন-সম্পদ ভাগ করে দিয়ে দেই। তিনি অস্বীকার করলেন। আমি বললাম, তবে অর্ধেক ধন-সম্পদ দিয়ে দেই। তিনি তাও স্বীকৃতি দিলেন না। আমি বললাম, তবে তবে এক তৃতীয়াংশ সম্পদই দিয়ে দেই। তিনি চুপ হয়ে রইলেন। পরবর্তীতে এক তৃতীয়াংশ ধন-সম্পদ দান করাই অনুমোদিত হলো। সা'দ বলেন, একবার আমি আনসার ও মুহাজিরদের কতিপয় ব্যক্তির নিকট গেলাম। তারা আমাকে বলল, এসো তোমায় আমরা আহার করাব এবং মদ পান করাব। এ ঘটনা মদ হারাম হওয়ার পূর্বের। আমি তাদের নিকট একটি বাগিচায় গেলাম। সেখানে উটের মাথার গোশত ভুনা হয়েছিল আর মদের একটা মশক ছিল। আমি তাদের সাথে গোশত খেলাম এবং মদ পান করলাম। সেখানে মুহাজির ও আনসারগন আলোচনা কালে আমি বললাম, মুহাজিররা আনসারদের তুলনায় উত্তম। এক ব্যক্তি মাথার একটি হাড় দিয়ে আমাকে আঘাত করল। আমার নাকে যখম হয়ে গেল। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তা উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার সম্বন্ধে আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ "মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর ঘৃণ্য বস্তু যা শয়তানের কাজ"- (আল-ময়িদাহ ৫ঃ ৯০)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... মুসআব ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। অতঃপর পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করলেন। শুবাহ কেবল এটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন- "সা'দ বলেন, মানুষেরা আমার মাকে খাবার খাওয়ানোর সময় একটি কাঠি দিয়ে তার মুখ খুলত, পরে তার মুখে খাদ্য দিত।" এ বর্ণনায় এরূপ রয়েছে, "সাদের নাকে আঘাত হানল তাতে তার নাক ভেঙ্গে গেল। আর সাদের নাক ভাঙ্গাই ছিল"।
যুহায়র ইবন হারব .... সা'দ হতে বর্ণিত। "যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আহ্বান করে তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না"- (আল আনআম ৬ঃ ৫২)। এ আয়াতটি ছয় লোক সম্বন্ধে নাযিল হয়। তন্মধ্যে আমিও একজন ছিলাম এবং আবদুল্লাহ ইবন মাসউদও ছিলেন। মুশরিকরা বলত, এ ধরনের লোককে আপনি সঙ্গে রাখবেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ হতে বর্ণিত। আমরা ছয় লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। মুশরিকরা বলল, আপনি এসব লোকদেরকে আপনার নিকট হতে বিতাড়িত করুন। যাতে তারা আমাদের মাঝে আগমনের সাহস না পায়। সা'দ বলেন, তন্মধ্যে আমি, ইবন মাসউদ, বানু হুযায়লের এক লোক, বিলাল এবং আরও দু'জন লোক ছিলাম, যাদের নাম আমি নিচ্ছি না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মনে আল্লাহ যা চাইলেন তা জাগল। তিনি মনে মনেই কথা বললেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ "যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আহবান করে তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না" (আনআম ৬ঃ ৫২)।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকাদ্দামী, হামিদ ইবন আমর বাবরাবী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ উসমান হতে রিওয়ায়াত করেন যে, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন, তখন কোন কোন দিন তালহাহ এবং সা'দ ছাড়া আর কেউই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিল না। এটি তাদের দু'জনের বর্ণিত হাদীস।
আমর আন নাকিদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিবসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের জিহাদের অনুপ্রেরণা দিলেন। যুবায়র এর আহবানে সাড়া দিলেন। আবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) ডাকলেন। তখনও যুবায়রই সাড়া দিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় ডাকলেন। যুবায়রই সাড়া দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেক নবীরই একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকে, আর আমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলো যুবায়র।
আবূ কুরায়ব ও ইসহাক .... জাবির এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। হাদীসটি তিনি ইবন উয়াইনার হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
ইসমাঈল ইবন খলীল ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের দিবসে আমি এবং উমার ইবন আবূ সালামাহ, হাসসান (ইবন সাবিত) এর কিল্লায় নারীদের সঙ্গে ছিলাম। আমি দেখতাম কক্ষনো তিনি আমার দিকে ঝুকে পড়তেন আর কোন সময় আমি ঝুকে পড়তাম তিনি দেখতেন। আমার বাবাকে আমি চিনে ফেলতাম, যখন তিনি যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় ঘোড়ায় চড়ে বানু কুরাইযার দিকে যেতেন। অপর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র বলেন, তারপর আমি বাবাকে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, পুত্র! তুমি আমায় দেখেছিলে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম সেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য তার পিতা-মাতা উভয়কে একত্রে উৎসর্গ করেছেন এবং বলেছেনঃ তোমার উপর আমার বাবা-মা কুরবান হোক।
আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের দিবসে আমি এবং উমার ইবন আবূ সালামাহ্ ঐ কিল্লায় ছিলাম, যেখানে মহিলারা ছিলেন নবী (ﷺ) সহধর্মিণীগণ। এ সূত্রেই ইবন মুসহির এর হাদীসের হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেন। তবে আবদুল্লাহ ইবন উরওয়াহর বর্ণনা হাদীসে হয়নি। কিন্তু হিশাম তার বাবার সূত্রে ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত হাদীসে এ কাহিনীটি উল্লেখ করেছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেরা পাহাড়ের উপর ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবূ বকর, উমার, আলী, উসমান, তালহাহ ও যুবায়র। সে সময় পাথরটি কেঁপে উঠল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ থাম! তোর উপর নবী, সিদ্দিক বা শহীদ ব্যতীত আর কেউ নয়।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ ইবন খুনায়স ও আহমাদ ইবন ইউসুফ আযদী .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেরা পাহাড়ের উপর ছিলেন, পাহাড় নড়ে উঠলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ শান্ত হও, হেরা! তোমার উপর নবী, সিদ্দীক বা শাহীদ ব্যতীত আর কেউ নয়। তখন এর উপর নবী (ﷺ) আবূ বকর, উমার, উসমান, আলী, তালহাহ, যুবায়র ও সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস ছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ... হিশাম এর সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ্ আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! তোমার পিতা-মাতা ঐ সকল ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের কথা এ আয়াতে বর্ণিত রয়েছে- "আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর যারা আল্লাহ ও রসূলের আহবানে সাড়া দিয়েছেন"-(আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৭২)।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... হিশাম থেকে একই সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি "আবূ বকর এবং যুবায়র" কথাটি অতিরিক্ত বলেছেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা ..... উরওয়াহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ আমাকে বলেছেন, "আল্লাহ ও রসূল (ﷺ) এর আহানে যারা সাড়া দিয়েছেন আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও" তোমার দুই পূর্ব পুরুষ তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সকল উম্মাতের একজন আমীন (বিশ্বস্ত) থাকে। আর হে উম্মাত! আমাদের আমীন হলেন আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ্।
আমর আন নাকিদ .... আনাস হতে বর্ণিত। ইয়ামান থেকে কতিপয় লোক এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলল, আমাদের সাথে একজন লোক পাঠিয়ে দিন, যিনি আমাদের ইসলাম ও সুন্নাত শিক্ষা দিবেন। আনাস বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ উবাইদাহর হাত ধরে বললেন, ইনি হলেন এ উম্মাতের আমীন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... হুযাইফাহ হতে বর্ণিত যে, নাজরানবাসী কিছু লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে একজন আমীন (বিশ্বস্ত) লোক দিন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের মধ্যে একজন আমীন (বিশ্বস্ত) ব্যক্তিকে প্রেরণ করবো, যিনি সত্যই আমীন, সত্যই আমীন। লোকেরা প্রতীক্ষায় ছিল যে, তিনি কাকে পাঠান। বর্ণনাকারী বলেন, পরিশেষে তিনি আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহকে প্রেরণ করলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ ইসহাক হতে একই সূত্রে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আহমাদ ইবন হাম্বাল ..... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) হাসান সম্বন্ধে বলেন, হে আল্লাহ! আমি একে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর, আর যে তাকে পছন্দ করে তাকেও পছন্দ কর।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দিনের এক প্রহরে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমিও তার সঙ্গে কথা বলছিলাম না। অবশেষে বানু কাইনুকা' এর বাজারে পৌছলেন, তারপর তিনি ফিরে চললেন এবং ফাতিমা এর গৃহে ঢুকলেন। বললেন, এখানে কি শিশু আছে, এখানে কি শিশু আছে, হাসান। আমরা অনুমান করলাম যে, তার মা তাকে ধরে রেখেছেন গোসল করানো এবং সুগন্ধি মালা পরানোর জন্য। কিন্ত অল্পক্ষণের ভিতরেই হাসান দৌড়ে চলে এলেন এবং তারা পরস্পরকে গলায় জড়িয়ে ধরলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ। আমি তাকে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর, আর পছন্দ কর সে সব ব্যক্তিকে যে তাকে পছন্দ করে।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ... বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাসান ইবন আলী কে নবী (ﷺ) এর ঘাড়ের উপর দেখেছি। তিনি বলছেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবেসো।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন নাফি .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখলাম, হাসান ইবন আলীকে তার ঘাড়ে বসিয়ে রেখেছেন। তিনি বলছেন হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাসো।
আবদুল্লাহ ইবন রূমী ইয়ামামী ও আব্বাস ইবন আবদুল আযীম আম্বারী ইয়াস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি তার শুভ্র খচ্চরটিকে টেনে হেঁচড়ে নবী (ﷺ) এর কামরা পর্যন্ত নিয়ে গেলাম। এর উপর আরোহী ছিলেন, নবী (ﷺ) হাসান ও হুসায়ন। একজন সম্মুখে, একজন পশ্চাতে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সকালে বের হলেন। তার পরনে ছিল কালো নকশী দ্বারা আবৃত একটি পশমী চাদর। হাসান ইবন আলী এলেন, তিনি তাকে চাদরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। হুসায়ন ইবন আলী এলেন, তিনিও চাদরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লেন। ফাতিমা এলেন, তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। তারপর আলী এলেন তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপরে বললেনঃ "হে আহলে বায়ত আল্লাহ তাআলা তোমাদের হতে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করে তোমাদের পবিত্র করতে চান"- (আহযাব ৩৩ঃ ৩০)।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যায়দ ইবন হারিসকে কিছুই বলতাম না, তবে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলতাম যতক্ষণ না কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ "তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাক আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত" (আহযাব ৩৩ঃ ৫)। শায়খ আবূ আহমাদ ইবন ঈসা বললেন যে, আমাদেরকে আবূ আব্বাস আস্ সাররাজ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইউসুফ দুওয়াইরী উভয়েই বলেছেন, এ সানাদে কুতাইবাহ ইবন সাঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবন সাঈদ দারিমী .... আবদুল্লাহ হতে এর অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজুর .. ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সৈন্য পাঠালেন, এতে উসামাহ্ ইবন যায়দকে আমীর নিযুক্ত করলেন। মানুষেরা তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে বললেনঃ এর নেতৃত্বের যদি তোমরা সমালোচনা করো তাহলে তোমরা এর পিতার নেতৃত্ব নিয়েও পূর্বে সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! তার পিতা নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। সে আমার নিকট সর্বাধিক পছন্দের ছিল। আর যায়দের পর এখন আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় হলো উসামাহ্।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... সালিম এর সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর দাড়িয়ে বলেছেনঃ যদি তোমরা তার নেতৃত্বের বিষয়ে সমালোচনা করো। এখানে উসামাহ্ ইবন যায়দকে বুঝাতে চেয়েছেন- তবে তো তোমরা ইতোমধ্যে এর পিতার নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য ছিল। সে আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দেরও ছিল। আল্লাহর কসম! এও খুব যোগ্য- এখানেও উসামাহকে বুঝাতে চেয়েছেন; তারপরে এ-ই আমার সবচেয়ে বেশী প্রিয়। অতএব আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি, উসামাহর সাথে সুন্দর আচরণ করো। সে তোমাদের মতই একজন সৎকর্মপরায়ণ।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ মূলাইকাহ্ হতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন জাফার আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র-কে বললেন, তোমার স্মরণ আছে কি যখন আমি, তুমি এবং ইবন আব্বাস, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একত্রিত হয়েছিলাম? সে সময় আমাকে তিনি আরোহণ করালেন, আর তোমাকে ছেড়ে দিলেন। তিনি বললেন, হ্যা।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... হাবীব ইবন শাহীদ হতে ইবন উলাইয়্যাহ্ এর সানাদ ও হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন স্বীয় গৃহের শিশুদের দ্বারা তাকে স্বাগতম জানানো হত। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি সফর হতে আসলেন, প্রথমে আমাকে তার নিকট নিয়ে যাওয়া হল, তখন তিনি আমাকে তার সম্মুখে বসিয়ে দিলেন, তারপর ফাতিমা এর এক পুত্র নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে পশ্চাতে বসালেন। আমরা তিনজন একই সওয়ারীতে আরোহণ করে মদীনায় প্রবেশ করলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সফর হতে ফিরতেন তখন আমাদের দ্বারা তাকে স্বাগতম জানানো হত। একদা আমাকে এবং হাসান অথবা হুসায়নের দ্বারা স্বাগতম জানানো হল। আমাদের একজনকে বসলেন তার সম্মুখে, অন্যজনকে পশ্চাতে। এভাবে আমরা মদীনায় ঢুকলাম।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক দিন আমাকে তার পশ্চাতে আরোহণ করালেন এবং কানে কানে আমাকে একটা কথা বললেন, এটা আমি লোকদের মধ্যে কাউকে বলব না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলীকে কুফায় বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন পৃথিবীর স্ত্রীলোকদের মাঝে সর্বোত্তম হলেন (সে যুগে) মারইয়াম বিনতু ইমরান, আর (এ যুগে) খাদীজাহ বিনতু খুওয়াইলিদ। বর্ণনাকারী আবূ কুরায়ব বলেন, ওয়াকী ইশারা করলেন আকাশ ও জমিনের দিকে।
আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন, কিন্তু মেয়েদের মাঝে মারইয়াম বিনতু ইমরান ও ফিরআওনের স্ত্রী আসিয়াহ ব্যতীত অন্য কেউ পূর্ণতা লাভে সক্ষম হননি। আর অন্যান্য মেয়েদের মধ্যে আয়িশাহর ফাযীলাত অন্যান্য খাদ্যের উপর 'সারীদের ফাযীলাতের মতো।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে জিবরীল এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ তো খাদীজাহ্ আপনার নিকট একটা পাত্র নিয়ে আসছেন, যার মধ্যে কিছু তরকারী, খাদ্য ও পানীয় আছে। তিনি যখন আপনার নিকট আসবেন তখন তাকে তার প্রতিপালকের এবং আমার পক্ষ হতে সালাম বলবেন। আর তাকে জান্নাতের একটি গৃহের সুখবর দিবেন, যা এমন একটি মুক্তা দ্বারা প্রস্তুতকৃত, যার ভিতর উন্মুক্ত। যেখানে কোন হট্টগোল আর দুঃখ-বেদনা নেই। আবূ বকর সূত্রে আবূ হুরাইরাহ এর রিওয়ায়াতে এরূপ বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইসমাঈল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি খাদীজাহ্ কে জান্নাতের মাঝে কোন গৃহের সুখবর দিয়েছেন? বললেন, হ্যা তাকে জান্নাতের মাঝে একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি গৃহের সুখবর দিয়েছেন। যেখানে কোন রকম হট্টগোল আর দুঃখ-বেদনা নেই।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার তারা সকলেই ইবন আবূ আওফার বরাতে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদীজাহ্ বিনতু খুওয়াইলিদকে জান্নাতের একটা ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন স্ত্রীলোকের দিকেই আমি এত ঈর্ষান্বিত হইনি যতটুকু খাদীজাহর প্রতি হয়েছি অথচ আমার বিয়ের তিন বছর আগেই তার ইন্তিকাল হয়েছে। কেননা আমি তাকে (ﷺ)-কে তার আলোচনা করতে শুনতাম। আল্লাহ তাআলা তাকে নির্দেশ করেছিলেন যে, আপনি জান্নাতে খাদীজাহকে একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি গৃহের সুখবর দিন আর তিনি বকরী যাবাহ করলে খাদীজার বান্ধবীদের গোশত উপটৌকন দিতেন।
সাহল ইবন উসমান .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাদীজাহ্ ব্যতীত নবী সহধর্মিণীদের আর কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হইনি, অথচ আমার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বকরী যাবাহ করতেন তখন বলতেন, এর গোশত খাদীজাহর বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও। একদা আমি তাকে রাগিয়ে দিলাম এবং বললাম, খাদীজাহকে এতই ভালবাসেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ তার ভালবাসা আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে একই সূত্রে আবূ উসামাহ হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন.... বকরীর কাহিনী পর্যন্ত এর পরবর্তী কথাগুলো তিনি বর্ণনা করেননি।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সহধর্মিণীদের কারো উপর আমি এত ঈর্ষান্বিত হইনি যতটুকু ঈর্ষা করেছি খাদীজার উপর। কারণ নবী (ﷺ) তাকে বেশি স্মরণ করতো। অথচ আমি তাকে কক্ষনো দেখিনি।
আবূদ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খাদীজাহ্ থাকাবস্থায় আর কোন বিয়ে করেননি, যতদিন না তিনি ইন্তিকাল করেন।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাদীজাহ্ এর বোন হালাহ্ বিনতু খুওয়াইলিদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মনে হলো যেন খাদীজার অনুমতি। তাই তিনি আন্দোলিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ! এতো খুওয়াইলিদের কন্যা হালাহ্ খাদীজা নয়। এতে ঈর্ষার উদ্রেক হলে আমি বললাম, আপনি কেন স্মরণ করছেন কুরায়শের এমন এক লাল মাড় (দস্তবিহীন) এবং সরু পায়ের গোছাওয়ালা (পায়ের নালায় ফাটা ফাটা) বন্ধাকে? তিনি তো কত পূর্বেই মারা গেছেন। তারপর আল্লাহ তাআলা আপনাকে তার পরিবর্তে উত্তম স্ত্রীও প্রদান করেছেন।
খালাফ ইবন হিশাম ও আবু রাবী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বপ্নের মাধ্যমে তিনদিন তোমায় আমাকে দেখানো হয়েছে। একজন ফেরেশতা তোমাকে একটি রেশমী কাপড়ের টুকরায় ঢেকে নিয়ে এসে বলল, এটা আপনার সহধর্মিণী। আমি তোমার মুখের বস্ত্র সরিয়ে দেখি সেটি তুমিই। আমি বললাম, যদি এ স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে হয় তবে তা বাস্তবে প্রকাশিত হবে।
ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব তারা .... হিশাম হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা এর মাধ্যমে আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমায় বলেছেনঃ আমি কিন্তু আচ করতে পারি তুমি কখন আমার উপর সম্ভষ্ট থাকো, আর কখন আমার উপর ক্রোধাম্বিত হও। আমি বললাম, কিসের মাধ্যমে এটা বুঝতে পারেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যখন তুমি আমার উপর সম্ভষ্ট থাকো তখন তুমি বলে থাকো- না, মুহাম্মাদের প্রতিপালকের শপথ। আর যখন তুমি রাগাম্বিত হও তখন বলো- না, ইবরাহীমের প্রতিপালকের শপথ। আমি বললাম, হ্যা আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রসূল! আপনার নামটা শুধু বাদ দেই।
ইবন নুমায়র .... হিশাম এর উপরোক্ত সূত্রে "না, ইবরাহীমের প্রতিপালকের শপথ" বাক্য পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। অবশিষ্টাংশ বর্ণনা করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। তিনি বলেন, তখন আমার নিকট আমার সঙ্গীরা আসতো। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখে আড়ালে যেতো। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে আমার নিকট পাঠিয়ে দিতেন।
আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... হিশাম হতে উপরোক্ত সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। জারীর-এর হাদীসে রয়েছে, "আমি কন্যাদের নিয়ে তার গৃহে খেলা করতাম, আর কন্যার অর্থ হলো খেলনা।"
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। লোকেরা হাদিয়াসমূহ পাঠানোর জন্য আয়িশাহ এর পালার প্রতীক্ষা করতো। যেদিন আয়িশাহ এর পালা হতো সেদিন তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সম্ভষ্ট করার জন্য উপহার প্রেরণ করতো।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী, আবূ বকর ইবন নাযর ও আবদ ইবন হুমায়দ তারা মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমানের মাধ্যমে .... নবী সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সহধর্মিণীগণ রসূল কন্যা ফাতিমাকে তার নিকট প্রেরণ করলেন। সে এসে অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি আমার চাদর গায়ে আমার সাথে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। ফাতিমা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার স্ত্রীগণ আমাকে পাঠিয়েছেন, আবূ কুহাফার কন্যার সম্বন্ধে তারা আপনার ন্যায়-বিচার চান। আমি চুপ করে রইলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ হে আদরের কন্যা! আমি যা ভালবাসি, তা-কি তুমি ভালবাসো না? সে বললেন, হ্যা, নিশ্চয়ই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে একে ভালোবাসো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ কথা শুনে ফাতিমা্ নবী (ﷺ) এর স্ত্রীদের নিকট ফিরে গেলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তিনি যা বলেছেন, আর তিনি তাকে যা উত্তর দিয়েছেন তা তাদেরকে বললেন। সহধর্মিণীগণ বললেন, তুমি আমাদের কোন লাভ করতে পারলে না। তুমি পুনরায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাকে বলো, আপনার স্ত্রীগণ আবূ কুহাফার কন্যার সম্বন্ধে আপনার নিকট সুবিচার চাচ্ছেন। ফাতিমা বললেন, আল্লাহর শপথ! আয়িশাহ্ এর ব্যাপারে আমি কোন দিন কথা বলতে যাব না। তারপর রসূল সহধর্মিণীগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী যাইনাবকে তার নিকট প্রেরণ করলেন। তিনিই ছিলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমার সমমর্যাদার অধিকারিণী। যাইনাবের চেয়ে দীনদার, আল্লাহভীরু, সত্যভাষিণী, মায়াময়ী, দানশীলা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে ও দান-খয়রাতের জন্যে নিজেকে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার ন্যায় কোন নারী আমি দেখিনি। তবে তার মাঝে শুধু একটা ক্ষিপ্ততা ছিল, তবে তিনি খুব দ্রুত ঠাণ্ডাও হয়ে যেতেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ্ এর সাথে চাদরে ঢাকা থাকাবস্থায়ই অনুমতি দিলেন, যে অবস্থায় ফাতিমা্ তার নিকট এসে ছিল। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার স্ত্রীগণ আমাকে পাঠিয়েছেন। আবূ কুহাফার কন্যার সম্বন্ধে তারা আপনার সুবিচার প্রার্থনা করেন। আয়িশাহ বলেন, তারপর তিনি আমার সম্পর্কে মন্তব্য করতে লাগলেন এবং বড় বড় কতক কথা শুনালেন। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চোখের দিকে দেখছিলাম, তিনি আমায় কিছু বলার অনুমতি দেবেন কি-না? আমি বুঝতে পারলাম যে, যাইনাবের কথার জবাব দিলে তিনি কিছু মনে করবেন না। তখন আমিও তার উপর কথা বলতে লাগলাম এবং অল্প সময়ের মাঝে তাকে নিশ্চুপ করিয়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে বললেনঃ এটা তো আবূ বকরের কন্যা।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কাহযায .... যুহরী হতে উপরোক্ত সূত্রে এর মর্মার্থবোধক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি "যখন আমিও তার সঙ্গে কথা বলা আরম্ভ করলাম তখন কিছুক্ষণের মধ্যেই পরাভূত করলাম" এ বাক্যটি বলেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরের ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনি বলতেন, আমি আজ কোথায় থাকব? কালআমি কোথায় থাকব? এ কথা ভেবে যে, আয়িশাহ এর পালা সম্ভবত অনেক দেরী। আয়িশাহ্ বলেন, যখন আমার নিকট তার অবস্থানের দিন আসলো, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে আমার বক্ষ ও পাঁজরের মাঝ থেকে উঠিয়ে নিলেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি মৃত্যুর আগমুহুর্তে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি তার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন, আর তিনিও (আয়িশাহ) তার দিকে কান পেতে রেখেছিলেন; তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করো, রহম করো এবং আমাকে আমার বন্ধুর সঙ্গে শামিল করো।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে এ সূত্রেই অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনতাম যে, কোন নবীই মৃত্যুবরণ করবেন না, যতক্ষণ না তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝখান হতে কোন একটি বেছে নেয়ার অধিকার দেয়া হবে। মৃত্যু শয্যায় শায়িতাবস্থায় নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যখন তার উর্ধ্বশ্বাস শুরু হয়ে গিয়েছিল, "ওদের সঙ্গে, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেছেন; তারা হলেন সিদ্দীক, শাহীদ ও সৎকর্মশীল, তারা কতই না ঘনিষ্ঠ বন্ধু"- (আন নিসা ৪ঃ ৬৯)। আয়িশাহ্ বলেন, আমার মনে হল তখনই তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতের মাধ্যমে যা ভাল সেটি গ্রহণ করার) সুযোগ দেয়া হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স ..... নবী-পত্নী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থ থাকাবস্থায় বলেছেনঃ কোন নবীই ইন্তিকাল করেননি যে পর্যন্ত না তিনি জান্নাতে তার জায়গাটি দেখে নিয়েছেন। আর তাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। আয়িশাহ বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসলো আর তার মাথা আমার রানের উপর, তখন কিছু সময় তিনি বেহুশ হয়ে রইলেন। হুশ ফিরে আসলে তিনি ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত করো। আয়িশাহ্ বলেন, আমি মনে মনে বললাম, এখন আর তিনি আমাদের গ্রহণ করবেন না। আয়িশাহ্ বলেন, তখন আমার ঐ হাদীসটি মনে পড়ল যেটি তিনি সুস্থ থাকাকালে বলেছিলেন যে, কোন নবী মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি জান্নাতে তার জায়গাটি দেখে নেন। তারপর তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে যেটিকে ভাল মনে করেন সেটি গ্রহণ করার অনুমতি দেয়। আয়িশাহ্ বলেন, এটাই ছিল শেষ কথা যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুদের সঙ্গে"।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ও আব্দ ইবন হুমায়দ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে বের হতেন, তখন নিজ স্ত্রীদের সম্বন্ধে লটারী করতেন। একবার লটারিতে আয়িশাহ ও হাফসাহর নাম উঠল। দু'জনেই তার সঙ্গে বের হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রাতে সফর করতেন তখন তিনি আয়িশাহর সঙ্গে কথোপকথন করে চলতেন। হাফসাহ আয়িশাহকে বললেন, আজ রাতে তুমি আমার উটে চড় আর আমি তোমার উটে চড়ি। তারপর তুমি অপেক্ষা করবে আমিও অপেক্ষা করব। এরপর আয়িশাহ হাফসাহর উটে আর হাফসাহ্ আয়িশাহর উটে সওয়ারী হলেন। যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহর উটের নিকট আসলেন এবং এতে সওয়ার ছিলেন হাফসাহ তখন তিনি সালাম দিলেন এবং তার সঙ্গে চললেন। পরিশেষে মনযিলে গিয়ে অবতরণ করলেন। আয়িশাহ্ তাকে (ﷺ)-কে না পেয়ে চটে গেলেন। যখন সকলে মনযিলে যেয়ে নামলেন, আয়িশাহ্ তার পা "ইযখির" ঘাসের উপর রেখে বলতে লাগলেন, হে রব! একটা সাপ বা বিচ্ছু আমার দিকে পাঠিয়ে দিন যেন আমাকে দংশন করে। তিনি তো আপনার রসূল। আমি তাকে কিছু বলতেও পারি না।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, অন্যান্য মহিলাদের উপর আয়িশাহর মর্যাদা সকল খাদ্যের উপর "সারীদের" শ্রেষ্ঠত্বের মতো।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ও ইবন হুজুর .... আনাস এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অবিকল রিওয়ায়াত করেন। তাদের উভয়ের হাদীসে "রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি" এ কথা নেই। ইসমাঈলের হাদীসে "আনাস হতে শ্রবণ করেছি" আছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, জিবরীল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আমি বললাম, তার প্রতিও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম .... আয়িশাহ্ হতে তাদের হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
ইসহাক .... যাকারিয়া হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে রিওয়ায়াতকৃত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আয়িশাহ! এই যে জিবরীল তোমাকে সালাম বলছেন। আয়িশাহ বললেন, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ- তার উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তারপর আয়িশাহ বললেন, তিনি তো এমন কিছু লক্ষ্য করেন যা আমি দেখতে পাই না।
আলী ইবন হুজুর সা'দী ও আহমাদ ইবন জানাব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগারজন মহিলা একত্রে বসে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা নিজ নিজ স্বামীর বিষয়ে কিছুই গোপন করবে না। প্রথম মহিলা বললঃ আমার স্বামী দুর্বল উটের গোশতের মতো, যা দুর্গম এক পর্বতের চূড়ায় রক্ষিত। না ওখানে আরোহণ করা সম্ভব আর না এমন মোটা তাজা যা সংরক্ষণ করা যায়। দ্বিতীয় মহিলা বললঃ আমি আমার স্বামীর সংবাদ প্রকাশ করতে পারব না। আমার আশঙ্কা হয়, আমি তাকে ছেড়ে না দেই। আমি যদি তার বর্ণনা দিতে যাই তবে তার প্রকাশ্য ও গোপনীয় সব ক্রটিই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয় মহিলা বললঃ আমার স্বামী খুব লম্বা। ওর ক্রটি বললে আমি ত্যাজ্য হবো, আর চুপ থাকলে ঝুলে থাকবো। চতুর্থ মহিলা বললঃ আমার স্বামী তিহামাহ্-এর রাত্রের মতো। নাতিশীতোষ্ণ (গরমও নয় আর ঠাণ্ডাও নয়) ভয়ও নেই, ক্লান্তিও নেই। পঞ্চম মহিলা বললঃ আমার স্বামী যখন গৃহে প্রবেশ করে তখন চিতা বাঘ, আর যখন বাইরে যায় তখন সিংহ। সংরক্ষিত ধন-সম্পদ নিয়ে সে কোন প্রশ্ন করে না। ষষ্ঠ মহিলা বললঃ আমার স্বামী খেতে বসলে সব খেয়ে ফেলে, পান করলে একেবারে শেষ করে ফেলে। আর ঘুমাতে গেলে একেবারে হাত পা গুটিয়ে নেয়। আমার প্রতি হাত বাড়ায় না, যাতে আমার অবস্থা বুঝতে পারে। সপ্তম মহিলা বললঃ আমার স্বামী বোকা, অক্ষম ও বোবার মতো। সব ক্রটিই তার মধ্যে বিদ্যমান। ইচ্ছা করলে তোমার মাথায় আঘাত করবে কিংবা গায়ে মারবে অথবা উভয়টিই একত্রে সংঘটিত করবে। অষ্টম মহিলা বললঃ আমার স্বামীর 'যারনাব' নামক সুগন্ধির মতো, তার খরগোশের স্পর্শের ন্যায় কোমল। নবম মহিলা বললঃ আমার স্বামী এমন যার প্রাসাদের খুটিগুলো সুউচ্চ, তরবারির খাপগুলো দীর্ঘ, বাড়ীর উঠোনে অধিক ছাই। মজলিসের পাশেই তার গৃহ। দশম মহিলা বললঃ আমার স্বামী মালিক। আর মালিক এর কথা কি বলব, আমার এ প্রশংসার চেয়ে তিনি আরো শ্রেষ্ঠ। তার রয়েছে অনেক উট, উটশালায় উটের সংখ্যা অনেক, তবে চারণভূমিতে তার সংখ্যা কম। উটেরা যখন বাদ্য-বাজনার আওয়াজ শোনে তখন নিজেদের যাবাহের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়ে। একাদশ মহিলা বললঃ আমার স্বামীর নাম আবূ যার'ই। কী চমৎকার আবূ যার'ই। অলংকার দিয়ে সে আমার দু'কান বুলিয়ে দিয়েছে, বাহুদ্বয় ভরপুর করেছে চর্বিতে। আমাকে মর্যাদা দিয়েছে, আমিও নিজেকে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করছি। সে আমাকে পাহাড়ের কিনারায় ভেড়া ও বকরীওয়ালাদের ভিতরে পেয়েছিল। তারপর সে আমাকে উট, ঘোড়া, জমি-জমা ও ফসলাদির অধিকারী বানিয়েছে। তার নিকট আমি কথা বললে সে তা ফেলে না। আমি শুইলে ভোর পর্যন্ত শুয়ে থাকি আর পান করলে আত্মতৃপ্ত লাভ করি। আবূ যার'ই এর মা, কতই না ভালো আবূ যার'ই এর মা। তার সম্পদ-কোষ অনেক বড় আকারের। তার কুঠরী প্রশস্ত। আবূ যার'ই এর ছেলে, কত ভালো আবূ যার'ই এর ছেলে, তার শয্যা যেন তলোয়ারের কোষ। বকরির একটি হাতা খেয়েই সে তৃপ্তি বোধ করে। আবূ যার'ই এর মেয়ে, কতই না ভাল আবূ যার'ই এর মেয়ে। সে তার বাবা মায়ের অনুগত পোশাক পরিচ্ছদে ভরপুর তার প্রতিবেশীদের ঈর্ষার পাত্র। আবূ যার'ই এর দাসী, কতই না ভালো আবূ যার'ই এর দাসী। আমাদের কথা বলে বেড়ায় না। আমাদের খাদ্য বিনষ্ট করে না, বাড়ী-ঘর ময়লাস্তুপে পরিণত করে না। উম্মু যার'ই বলেন, একদিন আবূ যার'ই বাইরে বের হলেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিল এই যে, বড় বড় দুধের মাখন উঠিয়ে নেয়া হত। সে সময় জনৈক নারীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার সঙ্গে ছিল দু'টো শিশু। শিশু দু'টো ছিল দু'টো চিতার মতো। তারা তার কোলের নীচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলা করছিল। তখন আবূ যার'ই আমাকে তালাক দেয় এবং সে মহিলাকে বিবাহ করে। এরপর আমি জনৈক লোককে বিয়ে করলাম। সে ছিল সরদার, খুব ভালো ঘোড় সওয়ার ও বর্শা ধারণকারী। সে আমার আস্তাবলে বহু চতুস্পদ জন্তু জড়ো করে প্রত্যেক প্রকার হতে সে আমাকে একেক জোড়া দান করে এবং সে আমাকে বলে, হে উম্মু যার'ই! তুমি খাও এবং তোমার আপনজনকে বিলিয়ে দাও। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী আমায় যা কিছু দিয়েছে তার সব যদি জমা করি তবুও আবূ যার'ই এর ছোট্ট একটি পাত্রের সমতুল্য হবে না। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য আমি উম্মু যার'ই এর জন্য আবূ যার'ই-এর ন্যায়।
এই হাদিস হিশাম থেকে প্রেরিত হয়েছে। উরওয়া কিন্তু শব্দের সামান্য ভিন্নতা নিয়ে।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বারের উপর থেকে বলতে শুনেছেন, হিশাম ইবন মুগীরার ছেলেরা আমার নিকট অনুমতি চেয়েছে যে, তাদের কন্যাকে আলী ইবন আবূ তালিবের নিকট তারা বিবাহ দিতে চায়। আমি তাদের অনুমতি দিব না, আমি তাদের দিব না, আমি তাদের দিব না। কিন্তু যদি আলী ইবন আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়েকে বিবাহ দিতে চায়, সেটা আলাদা কথা। কারণ আমার কন্যা আমারই একটা অংশ। যা তাকে সম্মানহানি করে তা আমাকেও সম্মানহানি করে, তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়।
আবূ মা'মার ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম হুযালী .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফাতিমা আমারই অংশবিশেষ, তাকে যা কষ্ট দেয় তা আমার প্রতিও কষ্টদায়ক।
আহমাদ ইবন হাম্বাল ..... আলী ইবন হুসায়ন হতে রিওয়ায়াত করেন যে, হুসায়ন ইবন আলী এর শাহাদতের পর ইয়াযীদ ইবন মুআবিয়াহ এর নিকট হতে তারা যখন মদীনায় এলেন, মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ্ তখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে বললেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তলোয়ারটি কি আপনি আমাকে দান করবেন? কেননা আমার ভয় হয় যে, লোকেরা এটি আপনার নিকট হতে আয়ত্ত করে নিবে। আল্লাহর শপথ আপনি যদি সে তলোয়ারটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষণ আমার জীবন থাকে এটি কেউ ছুইতে পারবে না। (মিসওয়ার আরো বলেন) ফাতিমার জীবিতাবস্থায় আলী আবূ জাহলের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপার নিয়ে মানুষদের সম্মুখে মিম্বারে দাড়িয়ে বক্তৃতা দিতে শুনেছি। আমি তখন সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বললেন, ফাতিমা আমারই অংশ। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে তার দীনের সম্পর্কে ফিতনায় না পতিত হয়। তারপর তিনি আবদ-ই-শামস গোষ্ঠীয় তার জামাতার আলোচনা করলেন, তার আত্মীয়তার প্রশংসা করলেন এবং বললেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে আমার সাথে ওয়াদা করেছে, আর তা পালন করেছে। আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না, বা হারামকে হালাল করি না, তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা কক্ষনো এক স্থানে একত্র হতে পারে না।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন, আলী ইবন আবূ তালিব নবী-তনয় ফাতিমাকে ঘরে রেখেই আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফাতিমা্ যখন এ খবর শুনলেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, লোকেরা কথোপকথন করে যে, আপনি আপনার কন্যাদের সম্বন্ধে রাগ প্রকাশ করেন না। আর এই যে আলী আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছেন। মিসওয়ার বললেন, তখন নবী (ﷺ) দাড়ালেন। এ সময় আমি শুনলাম, তিনি তাশাহুদ পড়লেন এবং বললেনঃ আমি আবূল আস ইবন রাবীর নিকট বিয়ে দিয়েছি, সে আমাকে যা বলেছে তা বাস্তবে পরিণত করেছে। আর মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা আমারই একটা টুকরা, আমি অপছন্দ করি যে, লোকে তাকে ফিতনায় ফেলুক। আল্লাহর শপথ আল্লাহর রসূলের মেয়ে ও আল্লাহ শত্রুর মেয়ে কোন লোকের নিকট কক্ষনো একসাথে মিলিত হতে পারে না। মিসওয়ার বলেন, তারপর আলী প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন।
আবূ মান রাক্কাশী .... যুহরী হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কন্যা ফাতিমাকে ডেকে চুপিসারে কিছু বললেন। তখন তিনি ক্রন্দন করলেন। পুনরায় চুপিসারে তিনি কিছু বললেন, তখন তিনি হেসে ফেললেন। আয়িশাহ্ বলেন, আমি ফাতিমাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে চুপিচুপি কি বললেন যে, তুমি কান্নাকাটি করে ফেললে এবং এরপর কি বললেন যে, তুমি হেসে ফেললে? ফাতিমা বললেন, চুপিসারে তিনি আমাকে তার মৃত্যু সংবাদ দিলেন, তাই আমি কান্নাকাটি করলাম। অতঃপর চুপিচুপি তিনি বললেন, তার পরিবার-পরিজনদের মাঝে সর্বপ্রথম তার পেছনে যাবো আমি, তাই হাসলাম।
আবূ কামিল জাহদারী ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... আয়িশাহ হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীরা সবাই তার নিকট ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ বাদ ছিলেন না। এমন সময় ফাতিমা্ আসলেন। তার চলার ভঙ্গি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চলার ধরণ থেকে একটুও আলাদা ছিল না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাকে দেখলেন তখন তিনি এ বলে খোশ-আমদেদ জানালেন, মারহাবা, হে আমার আদরের মেয়ে! তারপর তাকে তার ডানদিকে অথবা বামদিকে বসালেন এবং তার সঙ্গে চুপিসারে কিছু বললেন। এতে তিনি খুব কান্নাকাটি করলেন। যখন তিনি তার অস্থিরতা দেখলেন, তিনি আবার তার সাথে চুপেচুপে কিছু বললেন, তখন তিনি হেসে দিলেন। আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীগণের উপস্থিতিতেই তোমার সাথে বিশেষভাবে কোন গোপন কথা বলেছেন। আবার তুমি কাঁদছ? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে গেলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার নিকট কি বলেছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা প্রচার করবো না। আয়িশাহ বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়ে গেল তখন আমি তার উপর আমার অধিকারের কসম দিয়ে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বলেছেন, আমাকে অবশ্যই বলতে হবে। তিনি বললেন, আচ্ছা, এখন তবে হ্যা। প্রথমবার তিনি আমাকে গোপনে বললেন, জিবরীল প্রতি বছর একবার কি দু'বার আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করান। এ বছর তিনি দু'বার পুনরাবৃত্তি করালেন, আমার ধারণা হয় আমার সময় সন্নিকটে এসে গেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্যধারণ করো। কারণ, আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসুরী। তখন আমি কাঁদলাম, যা আপনি দেখেছেন। তারপর আমার অস্থিরতা দেখে তিনি দ্বিতীয়বার চুপিসারে বললেন, হে ফাতিমা! মুমিন রমণীদের প্রধান ও এ উম্মাতের সকল মহিলাদের নেত্রী হওয়া কি তুমি অপছন্দ করো? ফাতিমা বললেন, তখন আমি হাসলাম, আমার যে হাসি আপনি তা প্রত্যক্ষ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সকল স্ত্রীগণ একত্রিত হলেন। তাদের মাঝে একজনও বাকী রইলেন না। তখন ফাতিমা্ হেঁটে আসলেন। তার হাটার ধরণ যেন একেবারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চলার ন্যায়। তিনি বললেন, হে কন্যা! তোমাকে স্বাগতম। অতঃপর তিনি তাকে তার ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন এবং চুপিসারে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমা্ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। এরপর তিনি তাকে চুপিসারে আবার কিছু বললেন, এতে তিনি হাসলেন। আমি তাকে বললাম, কিসে তোমাকে কাঁদাল? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা প্রকাশ করতে পারি না। আমি বললাম, আমি আজকের ন্যায় কোন আনন্দকে বেদনার এতো কাছাকাছি দেখিনি। আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাদ দিয়ে তোমাকে তার কথা বলার জন্য বিশেষত্ব দান করলেন। আর তুমি কাঁদছ? পুনরায় তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বলেছেন, তা প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা ফাস করতে পারি না। পরিশেষে যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হলেন তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি বললেন, তিনি (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, "জিবরীল প্রতি বছর একবার তার সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর এ বছর তিনি তার সাথে দু'বার পুনরাবৃত্তি করেছেন। এতে আমার ধারণা হয় নিশ্চয় মৃত্যু আমার সন্নিকটে। আর তুমিই আমার পরিবার পরিজনদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। তোমার জন্য আমি কতই না উত্তম অগ্রগামী। তখন আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে চুপিসারে বললেন, তুমি মুমিনা নারীদের প্রধান কিংবা এ উম্মাতের নারীদের নেত্রী হবে তা কি পছন্দ করো না? এ কথা শুনে আমি হেসেছি।"
আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা কাইসী .... সালমান হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তবে বাজারে প্রবেশকারীদের মাঝে তুমি প্রথম হয়ো না এবং সেখান থেকে বহির্গমনকারীদের মাঝে তুমি শেষ লোক হয়ো না। কেননা বাজার হলো শয়তানের আড্ডাখানা। আর সেখানেই সে তার ঝাণ্ডা উচু করে রাখে। সালমান বলেন, আমাকে এ সংবাদও দেয়া হয়েছে যে, জিবরীল নবী (ﷺ) এর নিকট আসলেন। তখন তার পাশে উম্মু সালামাহ্ ছিলেন। জিবরীল কথা বলতে লাগলেন এবং পরে চলে গেলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামাহকে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে ছিলেন? বা এমন কথা বললেন। উম্মু সালামাহ্ জবাব দিলেন, ইনি দিহয়াহ কালবী। উম্মু সালামাহ্ বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে দিহয়াহ কালবী বলেই মনে করেছিলাম। যে পর্যন্ত না রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তৃতা শুনলাম। তিনি আমাদের কথা বলছিলেন, কিংবা এমন বলেছিলেন। জিবরীল প্রবেশের বিবরণ দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাবী আবূ উসামাহকে প্রশ্ন করলাম যে, আপনি এ হাদীস কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইবন যায়দ হতে।
মাহমুদ ইবন গাইলান আবূ আহমাদ .... আয়িশাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সর্বপ্রথম সে-ই আমার সঙ্গে দেখা হবে যার হাত অধিক লম্বা। অতএব সব স্ত্রীরা নিজ নিজ হাত মেপে দেখতে লাগলেন কার হাত অধিক লম্বা আয়িশাহ্ বলেন, পরিশেষে আমাদের মাঝে যাইনাবের হাতই সবচেয়ে লম্বা বলে ঠিক হলো। কেননা, তিনি হাত দ্বারা কাজ করতেন এবং দান করতেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু আইমানের নিকট গেলেন। আমিও তার সাথে গেলাম। তিনি তার দিকে একটি শরবতের পাত্র এগিয়ে দিলেন। আমি জানি না যে, নবী (ﷺ) সিয়াম পালন করছিলেন, না এমনিতেই তা ফিরিয়ে দিলেন। উম্মু আইমান এতে চীৎকার শুরু করে উঠলেন এবং তার (ﷺ)-এর উপর (শরবত পানে) চাপ দিতে লাগলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর আবূ বকর উমর-কে বললেন, চলো উম্মু আইমানের নিকট যাই, তার সাথে দেখা করতে যাবো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে দেখা করতেন। যখন আমরা তার নিকট গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারা উভয়ে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহ তাআলার নিকট যা কিছু আছে তা তার রসূলের জন্য সর্বাধিক উত্তম। উম্মু আইমান বললেন, এজন্য আমি কাঁদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে, তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য উত্তম বরং এজন্য আমি কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওয়াহী আসা বন্ধ হয়ে গেল। উম্মু আইমানের এ কথা তাদেরকে কান্নাপ্লুত করে তুলল। অতএব তারাও তার সঙ্গে কাঁদতে শুরু করলেন।
হাসান হুলওয়ানী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন স্ত্রীদের ব্যতীত অন্য কোন নারীর গৃহে ঢুকতেন না। কিন্তু উম্মু সুলায়মের নিকট যেতেন। লোকেরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, এর উপর আমার বড় মায়া হয়। আমার সাথে থেকে তার ভাই নিহত (শাহীদ) হয়েছে।
ইবন আবূ উমার .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে আমি কারও চলার আওয়াজ পেলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, কে? লোকেরা বলল, তিনি আনাস ইবন মালিকের মাতা গুমাইসা বিনতু মিলহান।
আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবন ফারাজ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে যে, আমি আবূ তালহার সহধর্মিণীকে দেখলাম। তারপর আমার সম্মুখে পদধ্বনি শুনতে পেলাম, লক্ষ্য করে দেখি তিনি বিলাল।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমুন .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহার ঔরসজাত উম্মু সুলায়মের একটি ছেলে মৃত্যুবরণ করল। তখন উম্মু সুলায়ম তার পরিবার-পরিজনের ব্যক্তিদের বলল, আবূ তালহাকে তার পুত্রের সংবাদ দিও না, যতক্ষণ আমি না বলি। আবূ তালহাহ্ আসলেন। উম্মু সুলায়ম রাতের খানা সম্মুখে নিয়ে আসলে তিনি খাবার খেলেন। এরপর উম্মু সুলায়ম আগের চাইতে ভাল মতো সাজগোজ করলেন। আবূ তালহাহ্ তার সঙ্গে মিলিত হলেন। যখন উম্মু সুলায়ম দেখলেন যে, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত। তখন তাকে বললেন, হে আবূ তালহাহ! কেউ যদি কারো কোন জিনিস রাখতে দেয়, তারপর তা নিয়ে নেয় তবে কি সে তা ফিরাতে পারে? আবূ তালহাহ বললেন, না। উম্মু সুলায়ম বললেন, তাহলে তোমার ছেলের ব্যাপারে মনে কর (আল্লাহ তাকে নিয়ে নিয়েছেন)। আবূ তালুহাহ রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমাকে আগে বলেনি, এখন আমি অপবিত্র, এখন ছেলের সংবাদটা দিলে। অতঃপর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে ছেলের যা ঘটেছে সব জানালেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের গত রাতটিতে আল্লাহ তাআলা বারাকাত দিন। উম্মু সুলায়ম গর্ভবতী হলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন, উম্মু সুলায়মও এ সফরে তার সাথে ছিলেন। রসূল (ﷺ) যখন কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন রাতের বেলা মদীনায় ঢুকতেন না। যখন লোকেরা মদীনার কাছাকাছি পৌছলো তখন উম্মু সুলায়মের প্রসব বেদনা আরম্ভ হলো। আবূ তালহাহ তার নিকট থেকে গেলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন। আবূ তালহাহ্ বললেন, হে প্রতিপালক! তুমি তো জানো যে, আমার ভাল লাগে তোমার রসূলের সঙ্গে বের হতে যখন তিনি বের হন এবং তার সাথে প্রবেশ করত তখন তিনি প্রবেশ করেন। কিন্তু তুমি জানো, কেন আমি থেমে গেছি। উম্মু সুলায়ম বললেন, হে আবূ তালহাহ! আগের মতো যাতনা আমার নেই। চলুন আমরা চলে যাই। স্বামী-স্ত্রী মদীনায় পৌছলে উম্মু সুলায়মের ব্যথা আবার আরম্ভ হলো। আর তিনি একটি শিশু ছেলে প্রসব করলেন। আমার মা বললেন, হে আনাস! শিশুটিকে যেন কেউ দুধ না খাওয়ায়, যতক্ষণ তুমি তাকে ভোরবেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে না যাও। সকাল হলে আমি সন্তানটিকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তার হাতে উট দাগানোর যন্ত্র। আমাকে যখন তিনি দেখলেন, বললেন, হয়তো উম্মু সুলায়ম এ পুত্রটি প্রসব করেছে। আমি বললাম, হ্যা। তিনি সে যন্ত্রটি হাত থেকে রেখে দিলেন। আমি শিশুটিকে নিয়ে তার কোলে রাখলাম। তিনি মদীনার আজওয়া খেজুর আনালেন এবং নিজের মুখে দিয়ে চিবুলেন। যখন খেজুর গলে গেল, তখন শিশুটির মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দেখো আনসারদের খেজুর-প্রীতি। অবশেষে তিনি শিশুর মুখে হাত বুলিয়ে তার নাম আবদুল্লাহ' রাখলেন।
আহমাদ ইবন হাসান ইবন খিরাশ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহার একটি পুত্র মৃত্যুবরণ করল .... এর পরের অংশ উপরোল্লিখিত হাদীসের অবিকল।
উবায়দ ইবন ইয়াঈশ, মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরের সালাতের সময় বিলাল কে বললেন, হে বিলাল! তুমি আমাকে বলো, ইসলামের মধ্যে তুমি এমন কোন আমল করেছো যার উপকারের বিষয়ে তোমার অধিক প্রত্যাশা। কারণ, আজ রাতে আমি জান্নাতে আমার সম্মুখে তোমার জুতার শব্দ শুনেছি। রাবী বলেন, বিলাল বললেন, ইসলামের মাঝে এর চেয়ে অধিক লাভের প্রত্যাশা আমি অন্য কোন আমলে করতে পারি না যে, আমি দিনে বা রাতে যখনই পূর্ণ ওযু করি তখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেন ততক্ষণ ঐ ওযু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।
মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী, সাহল ইবন উসমান, আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন যুরারাহ হাযরামী, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও ওয়ালীদ ইবন শুজা .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে রিওয়ায়াত করেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের খাদ্য বস্তুর মধ্যে কোন অসুবিধা নেই, যখন তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং মুমিন হয়" .... (মায়িদাহ ৫ঃ ৯৩) শেষ পর্যন্ত, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, "আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হান্যালী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান হতে আসলাম। আমরা অনেকদিন পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ ও তার মাকে রসূল-পরিবারেরই লোক বলে ভেবেছি। কারণ তারা রসূলের নিকট ঘন ঘন যাতায়াত করতেন এবং তার কাছে অবস্থান করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান হতে পদার্পণ করি .... অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসে অনুরূপ।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম, আমার মনে হচ্ছিল যে, আবদুল্লাহ তারই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, কিংবা তিনি অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূল আহওয়াস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন মাসউদের ইন্তিকালের সময় আমি আবূ মাসউদ ও আবূ মূসার কাছে ছিলাম। তারা একজন অপরজনকে বললেন, কি মনে হয়, তার মতো আর কাউকে কি ছেড়ে গেছেন? অন্যজন বললেন, তুমি এ কথা বলছো, তার অবস্থায়ই এমন ছিল যে, যখন আমাদের বাধা দেয়া হতো তখনও তাকে অনুমতি দেয়া হতো; আমরা উপস্থিত থাকতাম না আর সে উপস্থিত থাকতো।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূল আহওয়াস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের সাথীদের একটি দলের সঙ্গে আবূ মূসার গৃহে ছিলাম। আবদুল্লাহ কতিপয় সাহাবীর সাথে তারা একটি কুরআন মাজীদ দেখছিলেন। আবদুল্লাহ উঠে দাড়ালেন। তখন আবূ মাসউদ বললেন, আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব সম্বন্ধে দণ্ডায়মান লোকের চেয়ে অধিক পরিজ্ঞাত কোন লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) রেখে গেছেন বলে আমি জানি না। আবূ মূসা বললেন, যদি আপনি এ কথা বলেন তবে তার কারণ, তার অবস্থা এই ছিল যে, আমরা যখন উপস্থিত থাকতাম না তখন সে থাকতো উপস্থিত, আর যখন আমাদের বাধা দেয়া হতো, তখন তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতো।
কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আবূল আহওয়াস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসার কাছে আসলাম। তখন আবদুল্লাহ ও আবূ মূসাকে পেলাম .... আবূ কুরায়ব সানাদে যায়দ ইবন ওয়াহব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযাইফাহ্ ও আবূ মূসার সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তারপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ রিওয়ায়াত করেছেন এবং কুতাইবাহ বর্ণিত হাদীস পরিপূর্ণ ও বেশি আস্থাশীল।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্যালী .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আর যে লোক কোন কিছু আত্মসাৎ করবে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে সে উপস্থিত হবে" (আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৬১)। তারপর বললেন, তোমরা আমাকে কার মতো তিলাওয়াতের কথা বলো? আমি তো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে সত্তরের উর্ধ্বে সূরা তিলাওয়াত করেছি। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাগণ জানেন যে, আমি তাদের মাঝে কুরআন সম্বন্ধে সর্বাধিক জানি। যদি আমি জানতাম যে, আর কেউ আমার তুলনায় অধিক কুরআন জানে তবে আমি তার দিকে উটে সওয়ার হয়ে তার কাছে যেতাম। শাকীক বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাহাবীদের একাধিক বৈঠকে বসেছি। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের এ কথাকে বাতিল করতে কাউকে শুনিনি এবং তার উপর দোষারোপ করতেও শুনিনি।
আবূ কুরায়ব .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই তার কসম! আল্লাহর কিতাবে এমন কোন সূরা নেই যা নাযিল হওয়ার জায়গার ব্যাপারে আমি না জানি, এরূপ কোন আয়াত নেই যার নাযিল হওয়ার স্পষ্ট কারণ আমার অজানা। যদি আমি এমন কোন লোককে জানতাম যিনি আমার তুলনায় অধিক কুরআন জানেন এবং তার নিকট উট যেতে পারে, তবে আমি তার নিকট যাওয়ার জন্য উটে আরোহণ করতাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... মাসরুক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন আমরের নিকট গিয়ে তার সাথে কথোপকথন করতাম। একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের বর্ণনা করলাম, তিনি বললেন, তোমরা এরূপ এক লোকের বর্ণনা করেছে, যাকে অত্র হাদীস শুনার পর হতে আমি ভালবেসে আসছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি তোমরা চারজনের নিকট কুরআন শিখ। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, মুআয ইবন জাবাল, উবাই ইবন কা'ব ও আবূ হুযইফাহর ক্রীতদাস সালিমের নিকট হতে। এখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বপ্রথম আবদুল্লাহর নাম বর্ণনা করেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, যুহায়র ইবন হারব ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... মাসরুক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন আমর এর নিকট ছিলাম। তখন আমরা ইবন মাসউদ এর একটি হাদীসের বর্ণনা করি। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবন আমর বললেন, তিনি ঐ লোক যাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একটি কথা শুনার পর হতে ভালবেসে আসছি। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা চার লোকের নিকট থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ কর। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, তার নামই প্রথমে বললেন এবং উবাই ইবন কা'ব, সলিম আবূ হুযাইফাহর ক্রীতদাস ও মুআয ইবন জাবাল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ থেকে জারীর ও ওয়াকীর সানাদে আবূ মুআবিয়াহ্ হতে আবূ বকর এর বর্ণিত সূত্রে মুআয ইবন জাবালকে উবাইয়ের আগে এনেছে। আর আবূ কুরায়বের বর্ণনায় উবাই এর নাম মুআয এর নামের আগে এসেছে।
ইবন মুসান্না ইবন বাশশার ও বিশর ইবন খালিদ .... আমাশ হতে তাদের সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে তাদের মাঝে শুবার সূত্রে চার (সাহাবার) নামের ক্রমধারায় পার্থক্য রয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মাসরূক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তারা আবদুল্লাহ ইবন আমর এর সম্মুখে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ কথা শুনার পর হতে আমি ঐ ব্যক্তিটিকে ভালবেসে আসছি, "চারজনের নিকট হতে তোমরা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে- ইবন মাসউদ, আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবন কা'ব ও মুআয ইবন জাবাল।"
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয তার বাবা মুআয হতে শুবাহ সূত্রে উপরোক্ত সানাদে রিওয়ায়াত করেন। মুআয বর্ধিত বলেছেন– "এ উভয়কে দিয়ে শুরু করেছে, কিন্তু প্রথমে কার নাম তা আমি জানি না"।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগেই চারজন কুরআন সংকলন করেছেন। এরা সকলেই আনসার। মুআয ইবন জাবাল, উবাই ইবন কা'ব, যায়দ ইবন সাবিত ও আবূ যায়দ। কাতাদাহ্ বলেন, আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, আমার চাচাদের মাঝে একজন।
আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন মাবাদ .... কাতাদাহ্ হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় কে কুরআন একত্রিত করেছিলেন? তিনি বললেন, চারজন, তাদের সকলেই আনসার। উবাই ইবন কা'ব, মুআয ইবন জাবাল, যায়দ ইবন সাবিত ও আনসারদের মাঝে একজন, তার কুনইয়াত আবূ যায়দ।
হাদ্দাব ইবন খালিদ ..... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাইকে বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে আদেশ করেছেন তোমাকে (কুরআন) পড়ে শুনানোর জন্যে। উবাই বললেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনার নিকট আমার নামোল্লেখ করে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, আল্লাহই আমার নিকট তোমার নাম নিয়েছেন। তাতে উবাই কাঁদতে শুরু করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কা'ব কে বললেন। আল্লাহ তাআলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমাকে(বাইয়্যিনাহ) পড়ে শুনাবার জন্য। উবাই বললেন, আল্লাহ তাআলা কি আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যা। আনাস বলেন, উবাই তখন কেঁদে দিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাইকে হুবহু অনুরূপ কথা বলেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন যখন সা'দ ইবন মুআয এর জানাযাহ সম্মুখে রাখা হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার জন্যে দয়াময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে।
আমর আন্ নাকিদ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সা'দ ইবন মুআযের মৃত্যুতে মহান আল্লাহর আরশ কম্পন করে উঠেছে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ রুযয়ী .... কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আনাস ইবন মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সা'দ ইবন মুআযের জানাযাহ যখন রাখা হয়েছিল, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বারা কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এক জোড়া রেশমী পোশাক উপহার দেয়া হলো। তখন সাহাবারা তা ছুঁয়ে তার কোমলতায় বিস্ময়বোধ করতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এর কোমলতায় অবাক হচ্ছো? জান্নাতের মাঝে সা'দ ইবন মুআয এর রুমালগুলো হবে এর তুলনায় অধিক উত্তম ও নরম।
আহমাদ ইবন আবদাহ দাব্বী .... বারা ইবন আযিব কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রেশমী কাপড় দেয়া হলো .... তারপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেন। ইবন আবদাল্লাহ্ আনাস ইবন মালিক হতেও অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ্ .... শুবাহ্ হতে এ দু'টো সূত্রেই আবূ দাউদের ন্যায় রিওয়ায়াত করেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিহি রেশমের একটি জুব্বা উপহার দেয়া হলো। অথচ নবী (ﷺ) রেশম পরিধান করতে বারণ করতেন। তখন লোকেরা তাতে বিস্ময়বোধ করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রাণ রয়েছে। নিঃসন্দেহে জান্নাতে সা'দ ইবন মুআযের রুমালগুলো এর তুলনায় অধিক উত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস হতে বর্ণিত যে, দাওমাতুল জান্দালের বাদশাহ উকাইদির রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একজোড়া বস্ত্র উপঢৌকন পাঠালেন .... এরপর অনুরূপ রিওয়ায়াত করলেন। কিন্তু তাতে "তিনি রেশম পরিধান করতে বারণ করতেন" এ বক্তব্যটি উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিন একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, এটা আমার কাছ থেকে কে নিবে? তখন তাদের উপস্থিত প্রত্যেকই হাত বাড়িয়ে বলতে লাগল আমি নিব, আমি নিব। তিনি বললেন, আরে এ তরবারির উপযুক্ত হক কে আদায় করতে পারবে? এ কথা শুনেই লোকেরা থমকে গেল। কিন্তু সিমাক ইবন খারাশাহ আবূ দুজানাহ বললেন, আমিই তার হক আদায় করতে পারব। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তা নিয়েই মুশরিকদের মাথার খুলি টুকরো টুকরো করলেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল-কাওয়ারীরী ও আমর আন্ নাকিদ .... জাবির কে বলতে শুনেছি যে, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, আমরের মেয়ে কিংবা বলল, আমরের বোন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশতারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ হলেন, আমি তার মুখায়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বারণ করেননি। আর আমরের মেয়ে ফাতিমাও তার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশতাগণ তার উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছো।
আব্দ ইবন হুমায়দ .... জাবির এর সানাদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে জুরায়জের বর্ণনায় ফেরেশতা ও ক্রন্দনকারীর কান্নার বর্ণনা নেই।
মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিবস আমার বাবাকে অঙ্গহানী অবস্থায় আনা হলো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে রাখা হলো ..... তারপর তাদের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
ইসহাক ইবন আমর ইবন সালীত .... আবূ বারযাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তার সাহাবাদের বললেন, তোমরা কেউ কি হারিয়ে যায়নি? লোকেরা বলল, হ্যা, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, হ্যা, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাকে সন্ধান করো। তখন তাকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারপর তারা সাতটা লাশের সামনে তাকে খুজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শত্রুরা তাকে মারে। তখন নবী (ﷺ) তার নিকট আসলেন এবং ওখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বললেন, সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শত্রুরা তাকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তার। সে আমার আর আমি তার। অতঃপর তিনি তাকে দু'বাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহুই তাকে বহন করছিল। তার কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাকে তার কবরে রেখে দিলেন। রাবী তার গোসলের বর্ণনা করেননি।
হাদ্দাব ইবন খালিদ আবাদী .... আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমরা আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তার সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকো তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তার বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল। আবূ যর বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে নামাজ আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার নামাজ আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরল এসে আমার উপর পড়ত। তারপর উনায়স বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স চলে গেল এবং মক্কায় পৌছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি, যিনি আপনার দীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি আবূ যার বললাম, ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে কী বলে? সে বলল, তারা তাকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তার বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলা ইসাফা ও নায়িলাকে ডাকছিল। তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত) পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর এর দেখা হলো। তখন তারা উভয়ে উচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু'জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, কাবাহ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এক বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে তার সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ'র তাওয়াফ করে নামাজ আদায় করলেন। যখন তিনি তার নামাজ আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার বললেন, আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী শার'ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ্ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তার হাত ঝুকালেন এবং তার হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তার হাত ধরতে চাইলাম। তার সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়। তারপর আবূ বকর বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর রওনা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরির (মদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু'জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ঈমা ইবন রাহাযাহ্ গিফারী তাদের ইমামাত করেন। তিনি ছিলেন তাদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা প্রদান করুন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... হুমায়দ ইবন হিলাল হতে এ সূত্রে (রাবী) আবূ যার এর কথা "আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান করো, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নেই।" তারপরে বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন, হ্যা, কিন্তু মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবেন। তারা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনায়ী .... আবদুল্লাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! নবী (ﷺ) এর আবির্ভাবের আগে আমি দু' বছর নামাজ আদায় করেছি। বর্ণনাকারী বললেন, আমি বললাম, আপনি কোন দিকে মুখ ফিরাতেন। তিনি আবূ যার বললেন, আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। তারপর তিনি সুলাইমান ইবন মুগীরাহ এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেন। আর তিনি হাদীসে বলেছেন, তারপর তারা দু'জনে এক গণকের নিকট গেলেন। তিনি [আবূ যার] বলেন, আমার ভাই উনায়স এ গণকের প্রশংসা করতে লাগল, পরিশেষে প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা তার জন্তুগুলো নিলাম এবং আমাদের জন্তুগুলোর সঙ্গে একত্রিত করে রাখলাম। তিনি তার হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুরাকাআত নামাজ আদায় করলেন। তিনি আবূ যার বলেন, আমি তার (ﷺ)-এর কাছে আসলাম এবং আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করে। তিনি বলেন, আমি বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ (ﷺ) (হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) তিনি (ﷺ) বললেন, 'ওয়া আলাইকুমুস্ সালাম' (তোমার প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি কে? তার বর্ণিত হাদীসে আরও রয়েছে যে, এরপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন ধরে আছ? আমি বললাম, পনের (দিন) ধরে অবস্থান করছি। এ হাদীসে আরও অতিরিক্ত রয়েছে, অতঃপর আবূ বকর বললেন, তাকে এক রাতের আতিথেয়তার অনুমতি আমাকে দিন।
ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আরআরাহ সামী ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ যার এর নিকট সংবাদ আসলো যে, মক্কায় নবী (ﷺ) এর আবির্ভাব হয়েছে, তখন তিনি তার ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে চড়ে সে (মক্কাহ) উপত্যকায় যাও এবং সে লোকের ব্যাপারে আমাকে অবহিত কর, যিনি মনে করেন যে, আসমান থেকে তার নিকট ওয়াহী আসে। তার কথা ভাল করে শুনবে এবং এরপর তুমি আমার নিকট আসবে। তখন অপর লোক (তার ভাই) রওনা হয়ে মক্কায় আসলো এবং তার কথা শুনল। এরপর সে আবূ যার এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল এবং সে বলল, আমি তাকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং এমন বাণী শুনান, যা কবিতার সাদৃশ্য নয়। তখন তিনি আবূ যার বললেন, আমি যা চেয়েছি তা তুমি পূরণ করতে পারনি। এরপর তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। পরিশেষে মক্কায় পৌছে তিনি মসজিদে আসলেন। আর। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সন্ধান করলেন। কিন্তু তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। আর তার ব্যাপারে (কারও নিকট) প্রশ্ন করাও পছন্দ করলেন না। পরিশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন আলী তাকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইনি একজন আগন্তুক, তখন তিনি তাকে দেখে তার অনুকরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারও নিকট কিছু প্রশ্ন করলেন না। এমনকি (এভাবে) সকাল হয়ে গেল। এরপর তিনি [আবূ যার] তার আসবাবপত্র ও মশক মসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী (ﷺ)-কে সাক্ষাৎ পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি তার ঘুমানোর স্থানে ফিরে এলেন। আলী তার নিকট এলেন এবং বললেন, এখনও সময় আসেনি, যাতে সে লোকটির গন্তব্য সম্বন্ধে জানা যায়। তারপর তিনি তাকে দাড় করালেন এবং তাকে সাথে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারোর নিকট কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এদিনও তেমনটি করলেন। তারপর আলী তার সাথে তাকে দাড় করিয়ে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন, কিসে আপনাকে এ শহরে এনেছে? তিনি [আবূ যার] বললেন, আপনি যদি আমাকে পথ দেখানোর ওয়াদাবদ্ধ হন তাহলে আমি আপনার নিকট বলব। তিনি (ওয়াদা) করলেন। তখন তিনি আবূ যার তাকে সব জানালেন। তারপর আলী বললেন, তিনি (ﷺ) হক এবং তিনি আল্লাহর রসূল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুকরণ করবেন। যদি আমি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার ভয় আছে, তখন আমি দাড়িয়ে যাব, যেন আমি প্রস্রাব করছি। পুনরায় যখন আমি চলতে শুরু করব তখন আমাকে অনুসরণ করবেন। পরিশেষে আমার প্রবেশ দ্বারে আপনি প্রবেশ করবেন। তিনি তা-ই করলেন। তিনি তার পশ্চাতে চললেন, শেষ অবধি তিনি [আলী] রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হলেন আর আবূ যারও তার সাথে উপস্থিত হলেন। অতঃরপর তিনি তার (ﷺ)-এর কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের নিকট (দীনের) সংবাদ পৌছে দাও। আমার আদেশ তোমার নিকট পৌছা পর্যন্ত (এ কাজ করতে থাক)। তারপর তিনি [আবূ যার] বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মক্কাবাসীদের মধ্যে চীৎকার করে প্রচার করব। এরপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মসজিদে ঢুকলেন। এরপর উচ্চস্বরে প্রচার করলেনঃ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল।" এতে ব্যক্তিরা ঝাপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। আব্বাস সেখানে এলেন এবং তার দিকে ঝুকে পড়লেন। তারপর তিনি [আব্বাস] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমাদের কি অজানা যে, তিনি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের এলাকা দিয়ে। এরপর তিনি তাকে তাদের নিকট হতে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতোই করলেন। ব্যক্তিরা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং তাকে বেদম প্রহার করল। আব্বাস তার দিকে ঝুকে পড়লেন এবং তাকে তিনি মুক্ত করলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামিমী ও আবদুল হামীদ ইবন বায়ান .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুলের পর হতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (তার নিকট প্রবেশে) বাধা দেননি এবং তিনি আমার দিকে হাসি মুখ ব্যতীত দৃষ্টিপাত করতেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ উসামাহ্ ও ইবন নুমায়র .... জারীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুল করার পর হতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট প্রবেশে আমাকে বাধা দেননি। তিনি আমার মুখমণ্ডলে মৃদু হাসি ব্যতীত দেখেননি। ইবন নুমায়র তার হাদীসে ইবন ইদরীস হতে বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন, "আমি তার নিকট অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তার হাত দ্বারা আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।"
আবদুল হামীদ ইবন বায়ান .... জারীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে একটি গৃহ ছিল, যেটিকে যুলখালাসহ বলা হত এবং এটাকে ইয়ামানী কাবাহ ও শামিয়াহ কাবাও বলা হত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (জারীরকে) বললেন, তুমি কি আমাদের যুলখালাসাহ, ইয়ামানী কাবাহ ও শামিয়্যাহ্ কাবাহ থেকে চিন্তা মুক্ত করতে পারবে? তখন আমি আহমাস সম্প্রদায়ের একশ পঞ্চাশজন ব্যক্তি সাথে নিয়ে রওনা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে দিলাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর আমি তার নিকট ফিরে এসে তাকে জানালাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের ও আহমাস সম্প্রদায়ের জন্য দোয়া করলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ বাজালী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাসআম গোষ্ঠীর ঘর (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসাহ থেকে চিন্তা মুক্ত করবে না? এটাকে ইয়ামানী কাবাও বলা হত। জারীর বলেন, এরপর আমি দেড়শ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওনা হলাম; অথচ আমি উটের পিঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এ ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি আমার বুকে তার হাত মারলেন এবং দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ তাকে (উটের পিঠে) স্থির রাখুন ও তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।" বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন এবং সেটি (যুল্খালাসাহ্ মূর্তি) আগুন লাগিয়ে জ্বলিয়ে দিলেন। এরপর জারীর আমাদের মাঝখান হতে আবূ আরতাহ নামধারী জনৈক লোককে সুখবর দেয়ার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে বললেন, আমরা যুলখালাসাকে পাচড়াযুক্ত উষ্ট্রের ন্যায় করে দিয়ে আপনার নিকট এসেছি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আহমাস গোত্রীয় ঘোড়া ও লোকদের জন্য পাচবার কল্যাণের প্রার্থনা করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইসমাঈল উপরোক্ত সূত্রে মারওয়ান এর হাদীসে বলেছেন যে, জারীর এর সুসংবাদদাতা আবূ আরতাত হুসায়ন ইবন রাবীআহ্ এলেন এবং নবী (ﷺ) কে সুসংবাদ দিলেন।
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন নাযর .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পায়খানায় গেলেন। আমি তার জন্য ওযুর পানি রাখলাম। তিনি হাজত শেষে প্রশ্ন করলেন, এ পানি কে রেখেছে? যুহায়র এর বর্ণনায় 'তারা বলল' এবং আবূ বকর এর বর্ণনায় আমি বললাম', ইবন আব্বাস রেখেছেন। নবী (ﷺ) দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! তাকে গভীর জ্ঞান দান করুন।"
আবূ রাবী আতাকী, খালাফ ইবন হিশাম ও আবূ কামিল জাহদারী .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে মোলায়েম রেশমী কাপড়ের একটি টুকরা এবং জান্নাতের যেখানে আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম সে কাপড়ের খণ্ডটি আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যেত। তিনি বলেন, তারপর আমি হাফসাহ এর নিকট কাহিনীটি রিওয়ায়াত করলাম। হাফসাহ তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট রিওয়ায়াত করলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি আবদুল্লাহকে একজন ভাল ব্যক্তি বলে জানি।
সহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবিতাবস্থায় জনৈক লোক স্বপ্নে দেখলে তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করতেন। আমি প্রত্যাশা করে ছিলাম যে, আমি কোন স্বপ্নে দেখলে তা নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করি। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি বলিষ্ঠ অবিবাহিত যুবক ছিলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় আমি মসজিদে ঘুমাতাম। তখন আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন দু'জন ফেরেশতা আমাকে ধরে তারা আমাকে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন দেখলাম যে, সেটি একটি গভীর গর্ত, একটি কূপের গর্তের ন্যায়। তাতে দুটি কাষ্ঠখণ্ড দেখলাম যা কূপের উপরে স্বাভাবিকভাবে থাকে। সেখানে কিছু ব্যক্তি ছিল যাদের আমি চিনলাম। আমি তখন বলতে শুরু করলাম- "আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই"। বর্ণনাকারী বলেন, সে দু' ফেরেশতার সাথে আরও কতিপয় ফেরেশতা মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কোন শঙ্কা নেই। অতঃপর আমি এ সপ্নের কথা হাফসাহ এর নিকট উল্লেখ করলাম। হাফসাহ্ তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আবদুল্লাহ কতই না উত্তম লোক! সে রাতে যদি (তাহাজুদ) নামাজ আদায় করত। সালিম বলেন, এরপর আবদুল্লাহ রাত্রে খুব কম সময়ই ঘুমিয়ে যেতেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাত্রে মসজিদে থাকতাম। সে সময় আমার কোন পরিবার-পরিজন ছিল না। একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে একটি কূপের কাছে নেয়া হয়েছে। অতঃপর বর্ণনাকারী (উবাইদুল্লাহ ইবন উমার) সালিম তদীয় পিতা সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যুহরীর হাদীসের অর্থানুরূপ উল্লেখ করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... উম্মু সুলায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার খাদিম আনাসের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন তিনি দুয়া করলেন, "হে আল্লাহ, তাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততিতে বারাকাত দিন এবং আপনি তাকে যা দান করেছেন তাতেও বারাকাত দিন।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি আনাস কে বলতে শুনেছেন যে, উম্মু সুলায়ম বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার খাদিম আনাস .... এরপর তার অবিকল বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত, তিনি অর্থানুরূপ বলেছেন।
যুহায়র ইবন হাব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন। সে সময় আমি, আমার মা ও আমার খালা উম্মু হারাম ছাড়া সেখানে কেউ ছিল না। আমার মা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ছোট খাদিমের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। রাবী বলেন, তিনি আমার জন্য সব ধরনের বারাকাতের দোয়া করলেন। তিনি আমার জন্য যে দোয়া করেছিলেন তার শেষাংশ ছিল "হে আল্লাহ! তাকে ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধি করুন এবং তাতে তাকে বারাকাত দিন"।
আ'বূ মান রাক্কাশী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা উম্মু আনাস আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে গেলেন। তখন তিনি তার ওড়নার অর্ধাংশ দিয়ে আমার ইযার (পায়জামা) এবং বাকী অর্ধাংশ দ্বারা আমার চাদর তৈরি করেছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ আমার বালক পুত্র উনায়স, আমি তাকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, সে আপনার সেবায় থাকবে। তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন তিনি দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! তার ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দিন।" আনাস বলেন, আল্লাহর শপথ আমার ধন-মাল অনেক আর সে যুগে আমার সন্তান ও সন্তানের নাতী-নাতনীর সংখ্যা ছিল একশ'র মতো।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথাও যাচ্ছিলেন। তখন আমার মা উম্মু সুলায়ম তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, এ ছোট বালক আনাস। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য তিনটি দোয়া করলেন। এর দুটি আমি দুনিয়াতেই পেয়েছি এবং আখিরাতে তৃতীয়টি পাওয়ার দৃঢ় প্রত্যাশা করি।
আবূ বকর ইবন নাফি .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন। আমি তখন বালকদের সঙ্গে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। তিনি বলেন, তিনি আমাদের সালাম করলেন। তিনি আমাকে কোন একটি বিশেষ প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি আমার মায়ের নিকট বিলম্বে ফিরে আসলাম। আমি মায়ের নিকট গেলে তিনি আমাকে প্রশ্ন কররেন, তোমাকে কিসে আটকিয়েছিল? আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, প্রয়োজনটি কী? আমি বললাম, তা গোপনীয়। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপনীয় বিষয় কক্ষনে কাউকে বলবে না। আনাস বললেন, আল্লাহর কসম, হে সাবিত! সে গোপনীয় ব্যাপার কারও নিকট উল্লেখ করলে তা তোমাকে অবশ্যই বলতাম।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে আমার নিকট বলেছিলেন। তারপরে আমি কারও নিকট তা প্রকাশ করিনি এমনকি (আমার মা) উম্মু সুলায়ম সে ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন; কিন্তু আমি তাকেও তা জানায়নি।
যুহায়র ইবন হারব .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আবদুল্লাহ ইবন সালাম ব্যতিরেকে ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থানকারী কোন জীবিত লোকের ব্যাপারে বলতে শুনিনি যে, সে জান্নাতে বিচরণ করছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কায়স ইবন আব্বাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনাতে এমন ব্যক্তিদের মাঝে ছিলাম, যাদের মধ্যে নবী (ﷺ) এর সতক সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন। ইত্যবসরে এক লোক এলো, যার মুখমণ্ডলে ভয়-ভীতির চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তখন লোকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বললেন, এ লোক জান্নাতীদের একজন, এ লোক জান্নাতীদের একজন। তিনি সেখানে দু' রাকাআত নামাজ আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গেলেন। আমি তাকে অনুকরণ করলাম। তিনি তার গৃহে ঢুকলেন। আমিও ঢুকলাম। এরপর আমরা আলাপচারিতায় ছিলাম। উভয়ের মধ্যে যখন অন্তরঙ্গতা তৈরি হলো তখন তাকে আমি বললাম, আপনি যখন একটু আগে (মসজিদে) প্রবেশ করেছিলেন, তখন জনৈক লোক এরূপ এরূপ বলেছিল (এ লোক জান্নাতীদের একজন)। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! কারো পক্ষে এমন কোন কথা বলা ঠিক নয়, যা সে অজ্ঞাত। তিনি বললেন, আমি তোমার সাথে আলাপ করব, কেন এমন হয়? (লোকেরা কেন এ কথা বলে) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে একদা আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি সে স্বপ্লের কথা তার নিকট প্রকাশ করেছিলাম। আমি নিজেকে একটি বাগিচায় দেখতে পাই। এ বাগানের ব্যাপকতা, উৎপন্ন ফসলাদি ও সৌন্দর্যের কথাও তিনি ব্যক্ত করেন। এ বাগানের মাঝখানে একটি লৌহস্তম্ভ ছিল যার নিম্নভাগ ছিল মাটির মাঝে এবং উপরিভাগ ছিল আকাশে। এর উপরিভাগে ছিল একটি রশি। তখন আমাকে বলা হলো, তুমি এতে সওয়ার হও। আমি বললাম, আমি সওয়ার হতে পারব না। তারপর একজন মিনসাফ আসলো। তিনি বলেন, ইবন আওন এর মতে মিনসাফ অর্থ খাদিম। তিনি বলেন, তিনি পশ্চাৎদিক থেকে আমার বস্ত্র ধরলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সে (খাদিম) তার হাত দিয়ে তার পেছন হতে তাকে তুলে দিল। আমি সওয়ার হলাম, এমনকি খুটি বেয়ে উঠলাম, তারপর রজ্জুটি ধরলাম। অতঃপর আমাকে বলা হলো একে আকড়িয়ে ধরো। আমি যখন জেগে গেলাম, তখনও ঐ রজ্জুটি আমার হাতেই ছিল। আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এ স্বপ্লের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, সে বাগানটি হলো ইসলাম। আর সে খুটিটি হলো ইসলামের খুটি এবং সে রজ্জুটি হলো সুদৃঢ় রজ্জু। তুমি আমৃত্যু শক্তভাবে ইসলামের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, আর সে লোকই আবদুল্লাহ ইবন সালাম।
মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আব্বাদ ইবন জাবালাহ্ ইবন আবূ রাওওয়াদ .... কায়স ইবন আব্বাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মজলিসে ছিলাম, যেখানে সা'দ ইবন মালিক ও ইবন উমর উপস্থিত ছিলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম যাচ্ছিলেন। তারা বললেন, এ ব্যক্তিটি জান্নাতীদের একজন। আমি দণ্ডায়মান হলাম এবং তাকে বললাম, তারা আপনাকে এমন এমন বলেছেন। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তাদের এমন কোন কথা ব্যক্ত করা ঠিক নয়, যে ব্যাপারে তাদের ইলম নেই। একবার (স্বপ্নে) আমি দেখতে পেলাম, যেন একটি খুটি রাখা হয়েছে একটি সবুজ শ্যামল বাগানের মধ্যস্থলে, এর চূড়ায় একটি রজ্জু ছিল। এর নিম্নে একটি ছোট্ট 'মিনসাফ' (দণ্ডায়মান) ছিল। মিনসাফ অর্থ খাদিম। তখন আমাকে বলা হলো, এতে সওয়ার হও। আমি তাতে সওয়ার হলাম। শেষ অবধি রজ্জুটি সুদৃঢ়ভাবে ধরলাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তা ব্যক্ত করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মজবুত রজ্জুটি আকড়ে ধরা অবস্থায় আবদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করবে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... খারাশাহ ইবন হুর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনার মসজিদে একটি সমাবেশে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বলেন, সে মাজলিসে বসা ছিলেন সুন্দর চেহারার অধিকারী একজন বৃদ্ধ লোক। তিনিই ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন সালাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি তাদের সম্মুখে ভাল ভাল কথা বলছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যখন তিনি সমাবেশ হতে উঠছিলেন সে সময় ব্যক্তিরা বলল, কোন লোক যদি জান্নাতীকে দেখে আনন্দিত হতে চায় তবে যেন সে ঐ লোকটির দিকে দৃষ্টিপাত করে। তিনি খারাশাহ্ বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি তার অনুসরণ করব, যাতে আমি তার আবাসস্থল জানতে পারি। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, এরপর আমি তাকে অনুসরণ করলাম। তিনি রওনা হলেন এবং মদীনাহ শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সন্নিকটবর্তী জায়গায় পৌছে নিজ ঘরে ঢুকলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমিও তার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! তুমি কি চাও? রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, আপনি যখন সমাবেশ থেকে উঠে আসছিলেন তখন আমি আপনার ব্যাপারে ব্যক্তিদের বলতে শুনেছি, যে লোক একজন জান্নাতীকে দেখে আনন্দ পেতে চায়, সে যেন এ লোকের দিকে তাকায়। তখন আমার মনে আপনার সঙ্গ লাভের আগ্রহ জাগে। তিনি বললেন, জান্নাতীদের ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। কিন্তু ব্যক্তিদের এ কথা বলার কারণ আমি তোমার নিকট উল্লেখ করছি। একবার আমি ঘুমে অচেতন ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম যে, জনৈক লোক আমার নিকট এসেছে। সে আমাকে বলল, দাড়িয়ে যাও। অতঃপর সে আমার হাত আকড়ে ধরল। আমি তার সাথে রওনা করলাম। আমি আমার বামপাশে কয়েকটি পথ দেখতে পেলাম এবং আমি সে পথ ধরে চলতে চাইলাম। সে আমাকে বলল, ওদিকে যেয়ে না। কারণ, এটা হলো বামপন্থীদের (কাফিরদের) পথ। তিনি বলেন, এরপর আমি আমার ডানপাশে কয়েকটি আলোক সরল পথ দেখতে পেলাম। এরপর সে বলল, এ রাস্তায় চলো। তিনি বলেন, অতঃপর সে আমাকে একটি পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে আসলো। অতঃপর আমাকে পাহাড়ে উঠতে বলল। আমি পাহাড়ে উঠতে চেষ্টারত ছিলাম। কিন্তু পাছায় হোচট খেয়ে পড়ে গেলাম। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকবার এরূপ চেষ্টা করতে লাগলাম। তিনি বলেন, এরপর সে আমাকে নিয়ে রওনা হলো এবং একটি খুটির নিকট পৌছল, যার মাথা ছিল আকাশে এবং তার নিম্নভাগ ভূ-পৃষ্ঠের নীচে ছিল। খুটির চূড়ায় একটি কড়া ছিল। সে বলল, এর উপরে উঠো। তিনি বলেন, আমি বললাম, এতে কিভাবে চড়ব? এর মাথা তো আকাশের উপরিভাগে। তিনি বলেন, এরপর সে আমার হাত ধরল এবং আমাকে উপরে ঠেলে দিল। অকস্মাৎ আমি দেখলাম যে, আমি কড়ার সাথে ঝুলে আছি। তিনি বলেন, এরপর সে খুটির উপর করাঘাত করল এবং তা পড়ে গেল। তিনি বলেন, আর আমি কড়ার সাথে ঝুলে গেলাম। এভাবে আমার সকাল হলো। তিনি বলেন, এরপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে স্বপ্নের কথা সবিস্তারে বিবরণ দিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার বামপাশে যে পথগুলো দেখেছ, তা হচ্ছে বামপন্থীদের রাস্তা এবং তোমার ডানপাশে যেসব রাস্তা দেখেছ, তা হচ্ছে আসহাবুল ইয়ামীন বা জান্নাতীগণের রাস্তা। তুমি যে পাহাড়টি দেখেছিলে তা হচ্ছে শাহীদগণের আবাসস্থল আর তা তুমি পাবে না। তুমি যে খুটিটি দেখেছিলে সেটা হচ্ছে ইসলামের খুটি। যে কড়াটি তুমি দেখেছিলে সেটা হচ্ছে ইসলামের কড়া। আর তুমি আমৃত্যু ইসলামের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।
আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, একবার উমর হাসসান এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তখন মসজিদে কবিতা আবৃতিতে মত্ত ছিলেন। উমর তার দিকে ডাকালেন। তখন তিনি বললেন, এমন অবস্থায় মসজিদে আমি কবিতা আবৃতি করছিলাম, যখন তাতে আপনার চাইতে ভাল লোক উপবিষ্ট ছিলেন। তারপর হাসসান আবূ হুরাইরাহ্ এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, "তুমি আমার পক্ষ হতে উত্তর দাও। হে আল্লাহ! তাকে পবিত্র আত্মা (জিবরীল) দ্বারা সহযোগিতা করো।" আবূ হুরাইরাহ্ বললেন, "ইয়া আল্লাহ! হ্যা।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন মুসায়্যাব হতে বর্ণিত যে, একবার হাসসান আবূ হুরাইরাহ্-সহ সাহাবীদের এক মাজলিসে বলেছিলেন, হে আবূ হুরাইরাহ! আল্লাহর শপথ আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন? তারপর তিনি উপরোল্লিখিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আবূ সালামাহ্ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি হাসসান ইবন সাবিত আনসারী কে আবূ হুরাইরাহ্ কে সাক্ষী করতে শুনেছেন যে, হে আবূ হুরাইরাহ! আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আপনি কি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, হে হাসসান! তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ হতে উত্তর দাও। হে আল্লাহ! তাকে রূহুল কুদ্দুসের (জিবরীলের) মাধ্যমে সাহায্য করুন। তখন আবূ হুরাইরাহ বললেন, আচ্ছা।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাসসান ইবন সাবিতের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তুমি তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে বিদ্রুপ কবিতা রচনা করো কিংবা বলেছেন, তুমি তাদের ব্যঙ্গ কবিতার জবাব দাও। জিবরীল তোমার সাথে আছেন।
যুহায়র ইবন হারব, আবূ বকর ইবন নাফি, ইবন বাশশার .... শুবাহ হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হিশাম হতে তার পিতার সানাদে রিওয়ায়াত করেন যে, হাসসান ইবন সাবিত সেসব ব্যক্তির মাঝে শামিল ছিলেন, যারা আয়িশার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন (দুর্নাম করেছেন)। তাই আমি তাকে ভৎসনা করেছিলাম। তখন আয়িশাহ্ বললেন, হে আমার ভগ্নিপুত্র! তাকে ছেড়ে দাও। কারণ তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ হতে কাফিরদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ কবিতা দিয়ে উত্তর দিতেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... হিশাম হতে এ সূত্রে রিওয়ায়াত রয়েছে।
বিশর ইবন খালিদ .... মাসরুক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আয়িশাহ্ এর নিকট গেলাম। তখন তার নিকট হাসসান ইবন সাবিত উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি তখন তার জন্য কবিতা তৈরি করছিলেন এবং তার কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি দ্বারা গান গাচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ "তিনি পবিত্র আত্মা! বুদ্ধিমতী, সন্দেহজনক বিষয়ে তাকে কোন অপবাদ দেয়া যায় না। তিনি উদাসীনদের গোশত হতে অভুক্ত হতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় শয্যা ত্যাগ করেন।" তখন আয়িশাহ তাকে বললেন, কিন্তু আপনি তো এমন নন। মাসরুক বলেন, আমি তাকে (আয়িশাহকে) বললাম, আপনি তাকে আপনার নিকট ঢুকার অনুমতি দিলেন কেন? অথচ আল্লাহ বলেছেন "এবং তাদের মাঝে যে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য আছে মহাশাস্তি"- (আন নূর ২৪ঃ ১১)। তখন আয়িশাহ বললেন, এর চাইতে ভয়ঙ্কর শাস্তি আর কি হতে পারে যে, সে অন্ধ হয়ে গেছে? অতঃপর তিনি বললেন, তিনি তো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরফ হতে তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে উত্তর দিতেন অথবা বিদ্রুপ করে কবিতার মাধ্যমে সমুচিত জবাব দিতেন।
ইবন মুসান্না .... শুবার সূত্রে এ সানাদে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, আয়িশাহ্ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরফ হতে উত্তর দিতেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় (পবিত্র) ও (পবিত্র আত্মা, বুদ্ধিমতী) শব্দটুকু বর্ণনা করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসসান বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে আবূ সুফইয়ানের তিরস্কার করার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, কিভাবে অনুমতি দিব? তার সাথে আমার আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে? তখন তিনি বললেন, সে মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আটার খামির হতে যেভাবে চুল আলাদা করে নেয়া হয়, আমি ঠিক সেভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব। তারপর হাসসান বললেনঃ "মান-সম্মান ও আভিজাত্য বানু হাশিমের বংশধরদের মাঝে বিনতু মাখযুমের সন্তানদের জন্য এবং তোমার পিতা তো দাস ছিল।" এ হলো তার কাসীদাহ (দীর্ঘ কবিতা)।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ এর এ সূত্রে বর্ণিত যে, আয়িশাহ্ বলেন, হাসসান ইবন সাবিত রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক কবিতা রচনার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু তারা এ বর্ণনায় আবূ সুফইয়ানের কথা বর্ণনা করেননি। আবদার বর্ণনায় (আটার খামির) এর স্থলে (ঘোলা আটা) আছে।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরায়শদের বিপক্ষে তোমরা বিদ্রুপ কবিতা তৈরি কর। কারণ, তা তাদের বিপক্ষে তীর ছোড়ার চেয়ে সর্বাধিক শক্তিশালী। তারপর তিনি আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাহ এর নিকট জনৈক লোককে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, ওদের বিপক্ষে বিদ্রুপ করে কবিতা তৈরি কর। অতঃপর তিনি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনা করলেন। কিন্তু তাতে তিনি সম্ভষ্ট হলেন না। তখন তিনি কা'ব ইবন মালিককে ডেকে পাঠালেন। তারপর তিনি হাসসান ইবন সাবিতের নিকট এক ব্যক্তি প্রেরণ করলেন। সে যখন তার নিকট গেল তখন হাসসান বললেন, তোমাদের জন্য সঠিক সময় হয়েছে যে, তোমরা সে সিংহকে ডেকে পাঠিয়েছ, যে তার লেজ দিয়ে আঘাত করে দেয়। তারপর তিনি তার জিহ্বা বের করে নাড়াতে লাগলেন এবং বললেন, সে মহান সত্তার শপথ, তিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আমার জিহবার মাধ্যমে তাদেরকে এমনভাবে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিব, যেমনভাবে হিংস্র বাঘ তার থাবা দিয়ে চামড়া টেনে ছিড়ে ফেলে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে হাসসান! তুমি তাড়াতাড়ি করো না। কারণ, আবূ বকর কুরায়শদের বংশ তালিকা সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী অভিজ্ঞ। কেননা, তাদের সাথে আমারও আত্মীয়তার বন্ধন বিদ্যমান। অতএব তিনি এসে আমার বংশ তোমাকে আলাদা করে বলে দিবেন। তারপর হাসসান তার [আবূ বকর এর] নিকট গেলেন এবং (বংশ তালিকা সম্বন্ধে জ্ঞাত হয়ে) ফিরে এলেন। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আপনার বংশপঞ্জীর ব্যাপারে আমাকে জানিয়েছেন। সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনাকে তাদের মাঝখান হতে এমন সুকৌশলে বের করে আনব, যেমনভাবে আটার খামির থেকে সূক্ষ্ম চুল বের করা হয়। আয়িশাহ্ বলেন, তারপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাসসান এর ব্যাপারে বলতে শুনেছি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তার রসূলের তরফ হতে কাফিরদের দাতভাঙ্গা উত্তর দিতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত রূহুল কুদুস' জিবরীল সারাক্ষণ তোমাকে সহযোগিতা করতে থাকবেন আর তিনি [আয়িশাহ্] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, হাসসান তাদের (কাফিরদের বিরুদ্ধে) ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি এনে দিলেন এবং কাফিরদের মান-সম্মানকে ভুলুষ্ঠিত করে আত্মতৃপ্তি লাভ করলেন। হাসসান বললেনঃ তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দুর্নাম করছ, আর আমি তার পক্ষ হতে জবাব দিচ্ছি। এর পুরস্কার ও প্রতিদান আল্লাহর কাছে। তুমি দুর্নাম করছ এমন মুহাম্মাদের, যিনি নেক লোক, সর্বশ্রেষ্ঠ পরহেযগার; তিনি হচ্ছেন আল্লাহর রসূল, যার চরিত্র মাধুর্য অনুপম। মুহাম্মাদের সম্মানের খাতিরে উৎসর্গিত হোক। আমি শপথ করে বলছি, কাদ্দা নামক পাহাড়ের দু' প্রান্তে (মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর) বিজয় ধূলি উড়বে, তা তোমরা দেখতে পাবে, কিংবা আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আনসারগণ পর্বত শৃঙ্গ থেকে কাঁধে ধারণ করবেন বর্শা, এবং তারা থাকবেন তৃষ্ণ-কাতর জানোয়ারের মতো ওঁৎ পেতে, (আনসারগণ শত্রু মুকাবিলায় সতত প্রস্তুত থাকেন)। আমাদের অশ্বারোহীরা এত দ্রুতবেগে চলে যেন মুষলধারে বারি বর্ষিত হচ্ছে। আর নারীরা তা হতে মুক্ত হওয়ার জন্যে পর্দা করে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে নিচ্ছে। তোমরা যদি আমাদের (ইসলামের) বিমুখ হও, তাহলেও ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে, আর অন্ধকার চিরদিনের জন্য বিদূরিত হয়ে যাবে। কিংবা তোমরা অপেক্ষায় থাকো ঐ সময়ের, যেদিন মুসলিমদের সঙ্গে কাফিরদের মুকাবিলা হবে; আর সেদিন আল্লাহ যাকে চান বিজয় মালা পরাবেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি আমার বান্দাকে রসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি; আর তিনি সবসময় লোকদের সত্যের দিকে ডাকেন, যার মধ্যে নেই কোন কপটতা, অস্পষ্টতা। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, আমি এমন মুজাহিদদের মদদ করি, যারা আনসার এবং যাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শত্রু মুকাবিলা করা। প্রত্যহ তারা শত্রু মুকাবিলায় থাকে সতত প্রস্তুত। কক্ষনো বা গাল-মন্দ, যুদ্ধ-বিগ্রহ অথবা নিন্দাবাদ দ্বারা। তোমাদের মাঝে এমন কার দুঃসাহস আছে যে, আল্লাহর রসূলের বিদ্রুপ করে; অথচ মাখলুকাত ব্যতীতও এক মহান সত্তা রয়েছেন, যিনি তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, এবং সর্বাবস্থায় তার সহায়ক। জিবরীল আমাদের জন্য আল্লাহর তরফ হতে নির্বাচিত সম্মানিত বাণীবাহক (দূত) এবং তিনি রূহুল কুদুস (পূতঃ-পবিত্র আত্মা) যার সাদৃশ্য ফেরেশতাকুলে দ্বিতীয় কেউ নেই।
আমর আন নাকিদ .... আবূ কাসীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমি আমার মাকে ইসলামের দিকে আহবান করতাম, তখন তিনি মুশরিকা ছিলেন। একদা আমি তাকে ইসলাম গ্রহণের জন্য আহ্বান জানালে তখন তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ব্যাপারে আমাকে এমন কথা শুনালেন, যা আমার নিকট অনেক অপছন্দনীয় মনে হচ্ছিল। আমি কাঁদতে কাঁদতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলাম আর তিনি আমার দাওয়াত অস্বীকার করে আসছেন। তারপর আমি তাকে আজ দাওয়াত দেয়াতে তিনি আমাকে আপনার ব্যাপারে এমন কথা শুনালেন, যা আমি সর্বদাই অপছন্দ করি। অতএব আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন তিনি আবূ হুরাইরার মাকে হিদায়াত দান করেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "হে আল্লাহ! আবূ হুরাইরার মাকে হিদায়াত দান করো।" তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দোয়ার কারণে আমি খুশী মনে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি ঘরে পৌছলাম তখন তার দরজা বন্ধ দেখতে পেলাম। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তারপর তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ্! একটু দাড়াও (থামো)। তখন আমি পানির কলকল শব্দ শুনছিলাম। তিনি বলেন, এরপর তিনি (আমার মা) গোসল করলেন এবং শরীরে চাদর দিলেন। আর তাড়াতাড়ি করে ওড়না জড়িয়ে নিলেন, তারপর বাড়ীর দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর বললেন, "হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও রসূল।" তিনি বলেন, তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাতে উপস্থিত হলাম। তারপর তার নিকট গেলাম এবং আমি তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে কাঁদছিলাম। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সুখবর শুনুন। আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করেছেন এবং আবূ হুরাইরার মাকে হিদায়াতপ্রাপ্ত করেছেন। তারপর তিনি (ﷺ) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন ও তার প্রশংসা করলেন। আর বললেন, উত্তম'। তিনি বলেন, তারপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের নিকট প্রিয়পাত্র করেন এবং তাদের ভালবাসা আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "হে আল্লাহ! তোমার এ বান্দা আবূ হুরাইরাকে এবং তার মাকে মুমিন বান্দাদের নিকট প্রিয়পাত্র করে দাও এবং তাদের নিকটও মুমিন বান্দাদের প্রিয়পাত্র করে দাও।" তারপর এমন কোন মুমিন বান্দা পয়দা হয়নি, যে আমার কথা শুনেছে কিংবা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালবাসেনি।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব ..... আ'রাজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা বলছ যে, আবূ হুরাইরাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অধিক হাদীস রিওয়ায়াত করছে। আর আল্লাহই হিসাব গ্রহণকারী। আমি ছিলাম একজন নিরীহ লোক। আমি সর্বদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেবায় থাকতাম (খেয়ে না খেয়ে তার সাহচর্যে থাকতাম)। তখন মুহাজিরগণ বাজারে ব্যবসায়-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করতেন এবং আনসারগণ তাদের ধনসম্পদের সংরক্ষণ ও হিফাযাতে ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে লোক তার বস্ত্রের আচল বিছিয়ে দিবে সে আমার নিকট হতে যা কিছু শুনবে তা ভুলবে না। আমি আমার কাপড়ের আচল বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি হাদীস রিওয়ায়াত করলেন। তারপর আমি সে বস্ত্রটা আমার বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম। তখন হতে আমি তার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি তার কিছুই ভুলে যাইনি।
আবদুল্লাহ ইবন জাফার ইবন ইয়াহইয়া ইবন খালিদ ও আব্দ ইবন হুমায়দ .... আ'রাজ এর সূত্রে আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু মালিক ইবন আনাস আবূ হুরাইরাহ্ এর উক্তি পর্যন্ত তার হাদীসের রিওয়ায়াত শেষ করেছেন এবং তিনি তার হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে "যে তার বস্ত্র বিছাবে" হতে বর্ণনার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া তুজীবী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হে উরওয়াহ্!) তোমার নিকট কি বিস্ময়কর বলে মনে হয় না যে, আবূ হুরাইরাহ্ আমার কক্ষে একদিকে বসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস রিওয়ায়াত করছেন এবং তিনি তা আমাকে শুনাচ্ছেন? কিন্তু আমি সে সময় তাসবীহ পাঠে (নফল সালাতে) মগ্ন ছিলাম। আর তিনি আমার তাসবীহ পাঠের ফারেগ হওয়ার আগেই উঠে চলে গেলেন। যদি আমি তখন তাকে পেতাম তাহলে তাকে প্রতিবাদ করতাম। কারণ, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ রকম তাড়াতাড়ি করে কথাবার্তা বলতেন না যেমন তোমরা বলছ। ইবন শিহাব ও ইবন মুসাইয়্যাব বলেন যে, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, লোকেরা বলাবলি করত যে, আবূ হুরাইরাহ বেশি সংখ্যক হাদীস রিওয়ায়াত করেন এবং আল্লাহই (এর প্রামাণ্যতা সম্পর্কে) অধিক অবহিত। তিনি বলেন যে, ব্যক্তিরা এ মর্মে আরও নালিশ করত যে, মুহাজির ও আনসারগণ আবূ হুরাইরার ন্যায় বেশি বেশি হাদীস রিওয়ায়াত করেননি কেন? এর প্রত্যুত্তরে আমি তোমাদের নিকট বলতে চাই যে, আমার আনসার ভাইয়েরা তো ফসলাদির কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন। আর আমার মুহাজির ভাইয়েরা হাট-বাজারে ব্যবসায়-বাণিজ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে মগ্ন থাকতেন। আর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুহবত আমার জন্য আবশ্যকীয় করে নিতাম এবং খেয়ে না খেয়ে তার সাহচর্যে থাকতাম। তারা যখন উপস্থিত না থাকতেন তখন আমি উপস্থিত থাকতাম এবং তারা ভুলে যেতেন আমি মুখস্থ করতাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা বললেনঃ তোমাদের মাঝে কে আছে, যে তার কাপড়ের আচল বিছিয়ে দিবে আর আমার হাদীস গ্রহণ করবে? এরপর তা আপন বক্ষে স্পর্শ করবে তাহলে সে যা শুনবে কখনো ভুলবে না। আমি আমার চাদর পেতে দিলাম এবং তিনি তার হাদীস বর্ণনার ইতি টানলেন। তারপর আমি চাদরখানি আমার বুকে জড়িয়ে নিলাম। সেদিন থেকে আমি কোন ব্যাপারেই ভুলে যাইনি যা তিনি বলেছেন (সবটুকুই মনে রয়েছে)। আল্লাহ তার কিতাবে দু'টি আয়াত যদি অবতীর্ণ না করতেন তাহলে আমি কখনো হাদীস রিওয়ায়াত করতাম না। আয়াত দুটি এই "আমি যে স্পষ্ট নমুনা ও পথ নির্দেশ মানুষের জন্য নাযিল করেছি, কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরও যারা তা লুকিয়ে রাখে আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত দেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও অভিশাপ দেয়; কিন্তু যারা তওবা্ করে এবং নিজেদের সংশোধন করে আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, এ সমস্ত ব্যক্তি তারাই যাদের প্রতি আমি ক্ষমা করে দিব। কেননা আমি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু"- (বাকারাহ ২ঃ ১৫৯-১৬০)।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব ও আবূ সালামাহ্ ইবন আবদুর রহমান রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, তোমরা বলাবলি করছ যে, আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বেশি সংখ্যক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসের অবশিষ্টাংশ তাদের বর্ণিত হাদীসের অবিকল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আলী এর কাতিব উবাইদুল্লাহ ইবন আবূ রাফি রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি আলী কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যুবায়র ও মিকদাদ কে (বিশেষ কাজে) প্রেরণ করে বললেনঃ তোমরা দ্রুত 'রাওযায়ে খাখ' (মদীনার সন্নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) যাও। সেখানে উষ্ট্রারোহিণী এক নারী রয়েছে তার কাছে একটি গোপনীয় পত্র রয়েছে। তোমরা তার নিকট হতে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহিত হয়ে ছুটে চললাম। সেখানে আমরা জনৈক নারীকে দেখতে পেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্র বের করে দাও। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তোমাকে পত্র বের করতেই হবে, আর না হলে গায়ের বস্ত্র খুলতে বাধ্য হব। তারপর সে তার চুলের বেণীর মাঝখান থেকে পত্র বের করে দিল। তখন আমরা তা নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। পত্র খুলে দেখা গেল যে, তা হাতিব ইবন আবূ বালতা এর পক্ষ হতে মক্কার কতিপয় মুশরিকের প্রতি লিখিত একটি চিঠি ছিল। তিনি এ চিঠিতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতক গুরুত্বপূর্ণ কাজের লুকানো তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে হাতিব! তুমি এমন কাজ কেন করলে? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে অনুগ্রহ করে দ্রুত রায় ঘোষণা করবেন না। আমি এমন একজন লোক, কুরায়শদের সঙ্গে যার সম্পর্ক রয়েছে (কিন্তু আমি তাদের বংশের কেউ নেই)। সুফইয়ান বলেন, তিনি তাদের মিত্র ছিলেন, কিন্তু তাদের (বংশোদ্ভূত) গোত্রভুক্ত ছিলেন না। আর আপনার মুহাজির সাহাবীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন সেখানে আছে, যাদের মাধ্যমে তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। তাই আমি স্থির করলাম যে, কুরায়শদের সাথে যখন আমার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই তখন এমন কোন কাজ করি যার দ্বারা আমার পরিবার-পরিজন মুক্তি পেতে পারে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির হয়ে গেছি অথবা মুরতাদ হয়েছি দীন থেকে। আর আমি ইসলাম কবুলের পরে কুফরের প্রতি আসক্ত হইনি। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে সত্যই বলেছে। উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান কেটে দিব। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শারীক হয়েছিল এবং তুমি কি জান না যে, আল্লাহ বাদরী সাহাবীদের সম্পর্কে অধিক অবহিত আছেন। তিনি বলেছেনঃ "তোমরা যা খুশী করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" এরপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- "হে মুমিনগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে না" (মুমতাহিনাহ্ ৬০ঃ ১)। আবূ বকর ও যুহায়র বর্ণিত হাদীসে আয়াতের বর্ণনা নেই। আর ইসহাক তার বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফইয়ানের তিলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং আবূ মারসাদ গানবী ও যুবায়র ইবন আওওয়াম কে প্রেরণ করলেন। আমরা সকলে অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা 'রাওযায়ে খাখ' নামক জায়গার দিকে রওনা হয়ে যাও। সেখানে এক মুশরিকা নারী রয়েছে। তার কাছে হাতিবের পক্ষ হতে মুশরিকদের নিকটে লেখা একটি পত্র রয়েছে। তারপর তিনি (বর্ণনাকারী) আলী হতে উবাইদুল্লাহ ইবন আবূ রাফি বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ..... জাবির হতে বর্ণিত আছে যে, হাতিবের এক দাস রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তার বিপক্ষে অভিযোগ উত্থাপন করল। সে বলল, হে আল্লাহর রসুল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নাম ঢুকবে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলেছ, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। কারণ সে বদর যুদ্ধে ও হুদাইবিয়ার প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছিল।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন যে, আমাকে উম্মু মুবাশ্শার অবহিত করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে হাফসাহ এর নিকট বলতে শুনেছেন, আল্লাহ চান তো বৃক্ষের নীচে বসে বাইআতে রিযওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে ঢুকবে না। তিনি (হাফসাহ) বললেন, হ্যা, হে আল্লাহর রসূল! (কেন যাবে না)। তখন তিনি তাকে নিন্দাবাদ করলেন। হাফসাহ্ বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যে তা অতিক্রম না করবে পুলসিরাত। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তো এও বলেছেনঃ "যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদের মুক্তি দিব এবং যালিমদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় রেখে দিব"(মারইয়াম ১৯ঃ ৭১-৭২)।
আবূ আমির আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেবায় ছিলাম। সে সময় তিনি মক্কাহ ও মদীনার মাঝামাঝি জিরানাহ নামধারী জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তার সাথে বিলালও ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক আরব বেদুঈন এলো। সে বলল, হে মুহাম্মাদ। আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা কি পূরণ করবেন না? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি সুখবর গ্রহণ করো। তারপর সে তাকে (রসূলুল্লাহকে) বলল, আপনি তো অনেকবারই বলেছেনঃ "সুখবর গ্রহণ করো।" তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে আবূ মূসা ও বিলালের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, দেখো এ লোকটি সুখবর প্রত্যাখ্যান করেছে। অতএব তোমরা উভয়ে এগিয়ে এসো। তখন তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমরা এগিয়ে এসেছি, আপনার সুখবর গ্রহণ করেছি। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তিনি তার দু' হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং তাতে কুলি করলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা দু'জনে এ থেকে পানি পান করো এবং তোমাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে জড়িয়ে দাও। আর তোমরা দু'জনে সুখবর কবুল করো। তারা উভয়ে পেয়ালাটি গ্রহণ করলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ মুতাবিক কাজ করলেন। তখন উম্মু সালামাহ পর্দার অন্তরাল হতে তাদের উভয়কে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্য তোমাদের পেয়ালায় কিছু পানি রেখে দাও। তারপর তারা অবশিষ্ট পানি হতে তাকে অল্প পরিমাণ দিলেন।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আবূ আমির আশআরী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ বুরদাহ এর পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন হুনায়ন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন তখন আবূ আমির কে একটি বাহিনীর পরিচালনায় দিয়ে আওতাস অভিযানে পাঠান। তিনি দুরায়দ ইবন সিম্মার পরস্পর একত্রিত হলেন। দুরায়দ ইবন সিম্মাহ মৃত্যুবরণ করলো এবং আল্লাহ তার বাহিনীকে বিজিত করলেন। তারপর আবূ মূসা বলেন, তিনি (ﷺ) আমাকে আবূ আমিরের সাথে প্রেরণ করেছিলেন। আবূ আমিরের হাটুতে তীরের আঘাত লেগেছিল। বানী জুশাম সম্প্রদায়ের এক লোক সে তীরটি নিক্ষেপ করেছিল। এ তীরটি তার হাটুতে বিদ্ধ হয়েছিল। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং বললাম, চাচাজান! কে আপনাকে তীর বিদ্ধ করেছে? তখন আবূ আমির এর ইঙ্গিতে আবূ মূসা-কে জানালেন, ঐ আমার ঘাতক, যাকে তুমি দেখতে পাচ্ছ, সে আমাকে তীরবিদ্ধ করেছে। আবূ মূসা বলেন, আমি তাকে আক্রমণ করে মারার ইচ্ছা পোষণ করলাম। আমি তার মুখোমুখি হলাম। সে আমাকে দেখামাত্র লুকিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে আক্রমণ করে বলছিলাম, হে বেহায়া, বেপরোয়া! পালাচ্ছ কেন? তুমি কি আরবীয় নও? বীরত্ব আছে তো দাড়িয়ে যাও, ভাগছো কেন? তখন সে থামল। তারপর সে ও আমি পরস্পর মুখোমুখি হলাম। আমরা পরস্পরে দু'বার পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করলাম। আমি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে ধরাশায়ী করলাম এবং শেষাবধি মেরে ফেললাম। তারপর আমি আবূ আমির এর নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললাম, আল্লাহ আপনার ঘাতককে মেরে ফেলেছেন। তখন আবূ আমির বললেন, এ তীরটি বের করে নাও। আমি তৎক্ষণাৎ তা বের করে ফেললাম। তখন তা থেকে পানি (রক্ত) বের হচ্ছিল। তারপর তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পপুত্র! তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম পৌছে দিও। আর তার নিকট গিয়ে আবেদন করবে, আবূ আমির আপনাকে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া চেয়েছেন। তিনি (আবূ মূসা) বলেন, উপস্থিত লোকদের সামনে আবূ আমির আমাকে এ দায়িত্ব দিলেন এবং কতক সময় স্থির থাকলেন। তারপর তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে গণ্য হলেন। আমি নবী (ﷺ) এর নিকট গেলাম এবং তার সেবায় উপস্থিত হলাম। তখন তিনি চাটাইপাতা খাটের উপর ছিলেন এবং ঐ খাটের উপর চাদর ছিল না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পৃষ্ঠে ও পাঁজরে চাটাইয়ের চিহ্ন বসে গিয়েছিল। তারপর আমি তার নিকট আমাদের ও আবূ আমিরের সংবাদ দিলাম এবং আমি তাকে বললাম, তিনি (আবূ আমির) বলেছেন, তার জন্য আপনাকে মাগফিরাতের দোয়া কামনা করতে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি আনালেন এবং তা দ্বারা ওযু করলেন। তারপর দু'হাত তুলে বললেন, "হে আল্লাহ! উবায়দ আবূ আমিরকে ক্ষমা করে দাও।" তখন আমি তার দু' বগলের শুভ্রতা দেখছিলাম। পুনরায় তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! তাকে কিয়ামতের দিন তোমার মাখলুকের মাঝে কিংবা মানুষের মধ্যে অনেকের উপরে জায়গা দিও।" তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমার জন্যও মাগফিরাতের দোয়া করুন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবন কায়সের গুনাহ মাফ করে দাও এবং তাকে কিয়ামতের দিনে সম্মানজনক জান্নাতে প্রবেশ করাও।" আবূ বুরদাহ বলেন, একটি দোয়া আবূ আমিরের জন্য এবং অপরটি আবূ মূসা আশআরীর জন্য
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি অবশ্যই আশআরী বন্ধুদের কুরআন তিলাওয়াতের কণ্ঠস্বর দিয়ে বুঝতে পারি যখন রাতে তারা প্রবেশ করেন। আর রাতের বেলা তাদের কণ্ঠস্বরের দ্বারা তাদের আবাসস্থল চিহ্নিত করতে পারি যদিও দিনের বেলা আমি তাদের মনযিলসমূহ দেখিনি। তাদের মাঝে আছে একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী লোক। যখন সে শত্রুপক্ষের বাহন অথবা খোদ শত্রুর মুখোমুখি করে তখন তাদের উদ্দেশে বলে, আমাদের লোকজন তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, একটু অবকাশ দাও অথবা একটু অপেক্ষা করো। আমরাও তৈরি।
আবূ আমির আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আশআরী সম্প্রদায়ের লোকজন যখন যুদ্ধের মাঠে উপস্থিত হয় কিংবা বলা হয়েছে মদীনাতে তাদের পরিবার-পরিজনের যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন তাদের নিকট যা কিছু থাকে তা এক বস্ত্রে একত্রিত করে নেয়। তারপর তা নিজেদের একটি পেয়ালা দিয়ে সমভাবে ভাগ করে নেয়। তখন তিনি বললেন, তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। আমি তাদের প্রতি খুশী।
আব্বাস ইবন আবদুল আযীয আল-আম্বারী .... ইবন আব্বাস বর্ণনা করেন যে, মুসলিমরা আবূ সুফইয়ানের প্রতি দৃষ্টি দিতেন না এবং তার সাথে উঠা-বসা করতেন না। তখন তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, হে আল্লাহর নবী! তিনটি জিনিস আমাকে দিন। তিনি বললেন, হ্যা। তিনি (আবূ সুফইয়ান) বললেনঃ আমার নিকট আরবের সবচেয়ে উত্তম ও সুন্দরী উম্মু হাবীবাহ বিনতু আবূ সুফইয়ান আছে, তাকে আমি আপনার সাথে বিবাহ দিব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা। আবূ সুফইয়ান পুনরায় বললেন, আমার পুত্র মুআবিয়াহকে আপনি ওয়াহী লেখক নিযুক্ত করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যা। আবূ সুফইয়ান বললেন, আমাকে কাফিরদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিন, যেমন আমি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) মুসলিমদের বিপক্ষে অস্ত্র ধারণ করেছিলাম। তিনি বললেন, আচ্ছা। আবূ যুমায়ল বলেন, যদি তিনি এসব ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আবেদন না করতেন তাহলে তিনি তা দিতেন না। কারণ, তার [আবূ সুফইয়ান-এর] নিকট চাওয়া হলে তিনি হ্যা বলতেন।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আলা আল-হামদানী ..... আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হিজরতের সংবাদ পৌছল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। তারপর আমি ও আমার দু' ভাই তার নিকট মিলিত হওয়ার জন্য হিজরত করলাম। আমি ছিলাম সে দু'জনের ছোট। তাদের মধ্যে একজনের নাম ছিল আবূ বুরদাহ, অন্যজন ছিলেন আবূ রুহম। তিনি হয়ত বলেছেন, তখন পঞ্চাশ জনের কিছু বেশি, নয়ত বলেছেন তিপ্লান্ন জন অথবা বায়ান্নজন ব্যক্তি আমাদের সম্প্রদায়ে ছিল। আমরা একটি নৌকায় আরোহিত হলাম। নৌকাটি আমাদের নিয়ে আবিসিনিয়ায় সন্নিকটে উপস্থিত হলো, যেখানে বাদশাহ ছিলেন নাজাশী। তখন আমরা তার নিকট জাফার ইবন আবূ তালিব ও তার সাথীদের দেখা পেলাম। তারপর জাফার বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন এবং অবস্থান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব আপনারা আমাদের সাথে অবস্থান করুন। তিনি বলেন, আমরা তার সাথে থাকতে লাগলাম, পরিশেষে আমরা সকলে একসাথে মদীনাহ প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি বলেন, তারপর খাইবার বিজয়কালে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে একত্রিত হলাম। তিনি আমাদেরও গনীমাতের সম্পদের অংশ দিলেন কিংবা তিনি বলেছেন, তিনি তা হতে আমাদেরও প্রদান করেছেন। তিনি তার সাথে যারা যুদ্ধের মাঠে সমবেত হয়েছিলেন তাদের ছাড়া কাউকে গনীমাতের অংশ দান করেননি। তবে জাফার ও তার সাথীদের সাথে আমাদের নৌকায় আরোহী সাথীদেরও তাদের সাথে অংশ প্রদান করেছিলেন। রাবী বলেন, লোকদের মধ্যে কেউ আমাদের নৌকা আরোহীদের বলে বেড়াত যে, আমরা তোমাদের অগ্রে হিজরতকারী।
রাবী [আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী] বলেন, অতঃপর আমাদের নৌকায় সফর সঙ্গিনী আসমা বিনতু উমায়স রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসাহ এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হন। যারা নাজাশীর নিকট হিজরত করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন। ইত্যবসরে উমার হাফসার নিকট আসলেন। তখন আসমা বিনতু উমায়স তার নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন উমার আসমাকে দেখে বললেন, ইনি কে? হাফসাহ বললেন, তিনি আসমা বিনতু উমায়স। উমার বললেন, "ইনিই কি হাবশায় হিজরতকারিণী, নৌকায় আরোহণকারিণী?" তখন আসমা বললেন, জ্বি হ্যা। উমর বললেন, হিজরতের দৃষ্টিকোণে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী। অতএব তোমাদের চেয়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্বন্ধে বেশি হকদার। তখন আসমা রাগান্বিত স্বরে বললেন, হে উমার! কথাটি সঠিক নয়। কক্ষনো সঠিক হতে পারে না। আল্লাহর শপথ! তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলে। তিনি তোমাদের ক্ষুধার্তদের খাবার দান করতেন, অজ্ঞদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করতেন। আর আমরা আবিসিনিয়ায় প্রবাসে বিপদের ঝুকি মাথায় নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এটা শুধু আল্লাহ ও তার রসূলের সান্নিধ্য লাভের জন্যই। আল্লাহর শপথ! তুমি যা বলেছ তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আলোচনা না করা পর্যন্ত আমি কোন খাবার খাব না এবং পানীয় দ্রব্যও ছুইবো না। আমরা (বিদেশ বিভুঁইয়ে) সার্বক্ষণিক বিপদ ও ভয়ভীতির মাঝে দিনাতিপাত করতাম। আমি ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উত্থাপন করব এবং প্রশ্ন করব। আল্লাহর শপথ আমি মিথ্যাচার করব না, বিপথগামীও হব না এবং প্রকৃত ঘটনার চেয়ে বাড়িয়েও কিছু বলব না। রাবী বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন তখন আসমা বললেন, হে আল্লাহর নবী! উমর এই এই বলেছেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার প্রতি তোমাদের তুলনায় তার হক অধিক নেই। কারণ, তার ও তার সঙ্গীদের জন্য আছে কেবল একটি হিজরত। আর তোমাদের নৌকারোহীদের জন্য আছে দু'টি হিজরত। তিনি আসমা বলেন, আমি আবূ মূসা ও নৌকারোহীদের দলবেধে এসে আমার নিকট এ হাদীসটি প্রশ্ন করতে দেখেছি। তাদের বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তাদের নিকট এর চেয়ে বেশি আনন্দদায়ক এবং বড় ও মহৎ কোন ব্যাপার দুনিয়াতে ছিল না। আবূ বুরদাহ বলেন যে, আসমা বলেছেন, আমি আবূ মূসা কে দেখেছি, তিনি আমার নিকট হতে এ হাদীসটি আনন্দের আতিশয্যে বারবার শুনতে চাইতেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িয ইবন আম্র হতে বর্ণিত আছে যে, আবূ সুফইয়ান একদল লোকের সঙ্গে সালমান ফারসী, সুহায়ব ও বিলাল এর নিকট আসলেন। তখন তারা বললেন, আল্লাহর তলোয়ারসমূহ আল্লাহর শক্ৰদের ঘাড়ে ঠিকসময়ে তার লক্ষ্যস্থলে এসে পড়েনি। রাবী বলেন, আবূ বকর বললেন, তোমরা কি একজন বয়োবৃদ্ধ কুরায়শ নেতাকে এরূপ কথা বলছ? তারপর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে ব্যাপারটি জানালেন। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ বকর! তুমি মনে হয় তাদের অসন্তুষ্ট করেছে। তুমি যদি তাদের অসন্তুষ্ট করে থাকো তবে তুমি তোমার প্রতিপালককেই অসন্তুষ্ট করলে। তারপর আবূ বকর তাদের নিকট এসে বললেন, হে আমার ভাইয়েরা! আমি তোমাদের অসন্তুষ্ট করেছি, তাই না? তারা বললেন, না, হে আমার ভাই। আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ও আহমাদ ইবন আবদাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "তোমাদের দু'টি দল যখন কাপুরুষতা ও সাহসহীনতা দেখাবার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল, অথচ আল্লাহই তাদের সাহায্যকারী হিসেবে বর্তমান ছিলেন"- (আ-লি ইমরানঃ ১২২) এ আয়াতটি আমাদের বানু সালিমাহ ও বানূ হারিসাহ সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। আর আমরা পছন্দ করতাম না যে, এ আয়াতটি অবতীর্ণ না হোক। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "আল্লাহ এদের দু'জনের সাহায্যকারী ও অভিভাবক।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... যায়দ ইবন আরকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! আনসারদের মাফ করুন, মাফ করে দিন তাদের সন্তানদের ও নাতী-নাতনীদেরকে"
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... শুবাহ হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ মান রাক্কাশী .... আবদুল্লাহ ইবন তালহার ছেলে ইসহাক হতে বর্ণিত। আনাস তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। রাবী বলেন, আমি মনে করি যে, তিনি বলেছেনঃ "আনসারদের সন্তান-সন্ততি ও তাদের গোলামদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।" এতে আমার কোন সংশয় নেই।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু বালক ও নারীকে কোন এক উৎসব-অনুষ্ঠান থেকে আসতে দেখেন। তখন তিনি তাদের সামনে গিয়ে বললেনঃ "আল্লাহর শপথ! তোমরা (আনসাররা) আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দের লোক, আমার নিকট তোমরা সবচেয়ে প্রিয় লোক।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... হিশাম ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক আনসারী নারী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে নীরবে আলাপ করছিলেন এবং বলছিলেন, যার হাতে আমার জীবন সে সত্তার শপথ, তোমরা আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দের লোক। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব অপর সূত্রে আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারগণ আমার পরম শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর লোকের সংখ্যা অনবরত বৃদ্ধি পাবে এবং আনসারদের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকবে। অতএব তাদের ভাল আচরণগুলো গ্রহণ করো এবং তাদের অসদাচরণ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারদের ঘরসমূহের মাঝে সবচেয়ে ভাল ঘর হলো বানু নাজ্জার সম্প্রদায়ের, তারপর বানু আশহালের ঘর, তারপর বানু হারিস ইবন খাযরাজের ঘর, তরপর হলো বানু সাইদাহ সম্প্রদায়ের গৃহ। আনসারদের প্রত্যেকটি গৃহেই কল্যাণ বিরাজ করছে। সা'দ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উপর অন্যদের গুরুত্ব দিয়েছেন। লোকেরা বলল, তোমাদেরকেও অনেকের উপর স্থান দিয়েছেন।
ইবন মুসান্না .... আবূ উসায়দ আনসারী এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণিত রয়েছে।
কুতাইবাহ ও ইবন রুমূহ অন্য সূত্রে কুতাইবাহ, তৃতীয় সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... আনাস এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু তিনি তার বর্ণিত হাদীসে সা'দ এর উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও মুহাম্মাদ ইবন মিহরান .... ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন তালহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উসায়দ কে ইবন উতবার নিকট ভাষণ দিতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারদের গৃহসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম গৃহ হলো বানু নাজ্জারের ঘর, বানু আশহালের ঘর, বানু হারিস ইবন খাযরাজের ঘর এবং বানু সাইদার ঘর। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি যদি আনসারদের উপরে কাউকে মর্যাদায় অগ্রাধিকার দিতাম তাহলে আমার কাওমকে অগ্রাধিকার দিতাম।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামিমী .... আবূ উসায়দ আনসারী হতে বর্ণিত। আবূ সালামাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারদের গৃহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে বানু নাজ্জারের ঘর, এরপর বানু আবদুল আশহালের, এরপর বানু হারিস ইবন খাযরাজের, এরপর বানু সাইদার ঘর। তাছাড়া প্রত্যেক আনসারীর গৃহেই কল্যাণ বিরাজ করছে। আবূ সালামাহ্ বলেন, আবূ উসায়দ বলেছেন, আমি যদি মিথ্যাচার করতাম তাহলে আমি আমার বংশ বানু সাইদাহ দিয়ে আরম্ভ করতাম। তাতে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর অপবাদকারীরূপে গণ্য হতাম। ব্যাপারটি সা'দ ইবন উবাদাহ এর কাছে পৌছলে তিনি অস্বস্তিবোধ করলেন এবং তিনি বললেন, আমাদের পেছনে দেয়া হয়েছে। অতএব আমরা চার জনের মধ্যে চতুর্থ (শেষ) স্থানে পড়ে গেছি। আমার গাধার পৃষ্ঠে গদি লাগীও আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট চলে যাব। তার সাথে তার ভাইয়ের ছেলে সাহলের কথোপকথন হচ্ছিল। সে বলেছিল, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রতিবাদ জানানোর জন্য যাবেন বরং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাধিক জ্ঞাত। চার জনের মাঝে চতুর্থ হওয়া কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তখন তিনি থামলেন এবং বললেন, আল্লাহ ও তার রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। তারপর তিনি তার গাধার জিন খুলতে নির্দেশ দিলেন এবং তা খুলে ফেলা হল।
আমর ইবন আলী ইবন বাহর .... আবূ উসায়দ আনসারী বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, সর্বাধিক উত্তম আনসার কিংবা আনসারদের সবচেয়ে উত্তম গৃহ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাদের বর্ণিত হাদীসের অবিকল। কিন্তু তিনি তার বর্ণনায় সা'দ ইবন উবাদার কাহিনী বর্ণনা করেননি।
আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ সালামাহ, উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ ইবন মাসউদ আবূ হুরাইরাহ্ কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের এক বিরাট সমাবেশে বলেছেনঃ আমি কি লোকেদেরকে আনসারদের সর্বাপেক্ষা ভাল গৃহ সম্বন্ধে উল্লেখ করব? তখন তারা বললেন, জি হ্যা, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বানু আবদুল আশহাল। তারা বললেন, তারপর কারা? হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তিনি বললেন, তারপর বানু নাজ্জার। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তারপর কারা? তিনি বললেন, এরপর বানূ হারিস ইবন খাযরাজ। তারা বললেন, এরপর কারা, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তিনি বললেন, বানু সাইদাহ। তারা বললেন, তারপর কারা? তখন তিনি বললেন, প্রত্যেক আনসারীর গৃহে কল্যাণ বিরাজ করছে। তখন সা'দ ইবন উবাদাহ রাগতস্বরে উঠে দাড়িয়ে বললেন, আমরা কি চারের মাঝে সর্বশেষে? যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নামোল্লেখ করলেন তখন তিনি তার কথার বিরুদ্ধাচরণ করার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তখন তার সম্পপ্রদায়ের কতক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি বসে পড়ুন। আপনি কি এতে খুশী নন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে চারটি সম্প্রদায়ের কথা বলেছেন তন্মধ্যে আপনার সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন? যাদের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের চাইতে যাদের কথা তিনি বর্ণনা করেননি তাদের সংখ্যাই তো বেশি। তখন সা'দ ইবন উবাদাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথার প্রত্যুত্তর করা হতে বিরত থাকলেন।
নাসর ইবন আলী জাহযামী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জারীর ইবন আবদুল্লাহ বাজালী এর সাথে এক সফরে বের হলাম। এ সফরে তিনি আমার সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। তখন আমি তাকে বললাম, এমন করবে না। তিনি বললেন, আমি নিশ্চিত দেখেছি যে, আনসারগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এমন খিদমাত করতেন। তখন আমি শপথ করেছি যে, আমি যখন আনসারদের কারো সঙ্গী হব তখন তার সেবায় থাকব। ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার তাদের বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, "জারীর আনাসের চাইতে বড় ছিলেন এবং ইবন বাশশার বলেছেন, তিনি আনাসের চেয়ে বৃদ্ধ ও বেশি বয়স্ক ছিলেন।"
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আবদুল্লাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন এবং আসলাম সম্প্রদায়ের লোকদের আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা দিয়েছেন।
উবাইদুল্লাহ আল-কাওয়ারীরী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ যার গিফারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট যাও এবং বলে দাও যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা বিধান করেছেন এবং গিফার গোত্রের লোকদেরকে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... শুবাহ হতে অত্র সানাদে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও ইবন আবূ উমার .... অপর সানাদে উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, অন্য এক সানাদে মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে। অপর এক সূত্রে ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবদ ইবন হুমায়দ আপর এক সূত্রে সালামাহ্ ইবন শাবীব জারীর হতে বর্ণিত। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আসলাম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দান করেছেন এবং গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন।
হুসায়ন ইবন হুরায়স .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা বিধান করেছেন এবং গিফার গোত্রের লোকেদের আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন। কিন্তু এ কথা আমি বলিনি বরং আল্লাহ তাআলাই বলেছেন।
আবূ তাহির ..... খুফাফ ইবন ঈমা আল-গিফারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সালাতের দোয়ায় বলেছেনঃ হে আল্লাহ! বানু লিহয়্যান, রি'ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রের উপর অভিসম্পাত করো। কারণ, তারা আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আর গিফারকে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন এবং আসলামকে নিরাপত্তা বিধান করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গিফার গোত্রের লোকেদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন, আসলাম গোত্রের লোকেদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং উসাইয়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
ইবন মুসান্না, অন্য সূত্রে আমর ইবন সাওয়াদ, অপর সূত্রে যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমর নবী (ﷺ) এর সূত্রে অবিকল বর্ণিত। কিন্তু সালিহ্ ও উসামাহ্ বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাড়িয়ে এ কথা বলেছেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবূ সালামাহ্ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, ইবন উমর পূর্ববর্তী হাদীসের অবিকল রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ আইয়্যুব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসার, মুযাইনাহ্, জুহাইনাহ, গিফার, আশজা' এবং বানু আবদুল্লাহ আমার বন্ধু মানুষ, অন্যরা নয়। আর আল্লাহ তাআলা ও তার রসূল এদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরায়শ, আনসার, মুযাইনাহ্, জুহাইনাহ, আসলাম, গিফার, আশজা' আমার বন্ধু মানুষ। আর আল্লাহ তাআলা ও তার রসূল ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক নেই।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... সা'দ ইবন ইবরাহীম থেকে এ সূত্রে অবিকল বর্ণিত আছে। তবে সা'দ তার বর্ণিত হাদীসে কোন কোন সময় বলেছেন, "আমার জানা মতে।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আসলাম, গিফার, মুযাইনাহ এবং যারা জুহাইনাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত অথবা জুহাইনাহ্ গোত্র বানু তামীম, বানু আমির এবং তাদের দু'মিত্র আসাদ ও গাতফানের তুলনায় উত্তম।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... অন্য সূত্রে আমর আন নাকিদ, হাসান আল্-হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আ'রাজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে সত্তার শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে মুহাম্মাদের জীবন! গিফার, আসলাম, মুযাইনাহ্ এবং যারা জুহাইনার অন্তর্ভুক্ত তারা আল্লাহর নিকট কিয়ামতের দিনে উত্তম বলে গণ্য হবেন আসাদ, তাইয়ী ও গাতফান গোত্র হতে।
যুহায়র ইবন হারব ও ইয়াকুব আদ-দাওরাকী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসলাম, গিফার, মুযাইনাহ ও জুহাইনার কিয়দংশ কিংবা জুহাইনাহ ও মুযাইনার কিছু লোক আল্লাহর নিকট বর্ণনাকারী বলেন যে, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, কিয়ামত দিবসে আসাদ, গাতফান, হাওয়াযিন ও তামীম গোত্রের তুলনায় উত্তম বলে গণ্য হবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ বকরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকরা' ইবন হাবিস রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন। তারপর তিনি বললেন, আপনার হাতে বাইআত কবুল করেছেন আসলাম, গিফার ও মুযাইনার হাজীদের মালপত্র লুটপাটকারী, আর আমি মনে করি জুহাইনাহও এর অন্তর্ভুক্ত। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তাই মনে করে? যদি আসলাম, গিফার, মুযাইনাহ এবং আমি মনে করি জুহাইনাহ্ ও বানু তামীম, বানু আমির, আসাদ ও গাতফানের তুলনায় উত্তম। আর তাহলে এরা ক্ষতির মুখোমুখী হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন তিনি বললেন, হ্যা। তারপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ সে সত্তার শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, অবশ্যই এরা তাদের তুলনায় উত্তম। কিন্তু ইবন আবূ শাইবার হাদীসে "মুহাম্মাদ সন্দেহে নিপতিত" কথাটির বর্ণনা নেই।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... বানু তামীম সম্প্রদায়ের দলপতি মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াকুব যাববিয়্যি এ সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন (এবং জুহাইনাহ্) এবং (আমি ধারণা করি) কথাটি উল্লেখ করেননি।
নাসর ইবন আলী আল্-যাহযামী .... আবূ বকরা এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আসলাম, গিফার, মুযাইনাহ ও জুহাইনার লোকজন বানু তামীম, বানু আমির এবং তাদের দু'মিত্র আসাদ ও গাতফানের তুলনায় উত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... অপর সানাদে আমর আন নাকিদ .... আবূ বিশর এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল বর্ণিত রয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ বকরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান যে, জুহাইনাহ, আসলাম, গিফার গোত্র বানু তামীম, বানূ আবদুল্লাহ ইবন গাতফান ও আমির ইবন সাসাআহ এর তুলনায় উত্তম? তখন তিনি তার কথাগুলো উচ্চস্বরে বলেছিলেন। তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তারা ধ্বংস হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, অবশ্যই এরা তাদের তুলনায় উত্তম। কিন্তু আবূ কুরায়ব এর বর্ণিত হাদীসে "তোমরা কি জান যে, জুহাইনাহ্, মুযাইনাহ, আসলাম ও গিফার" উক্তিটির বর্ণনা আছে।
যুহায়র ইবন হারব .... আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব এর নিকট আসলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, সর্বপ্রথম যে সাদাকাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীদের মুখমণ্ডল চমকিত করেছিল তা হচ্ছে তাইয়ী সম্প্রদায়ের সাদাকাহ- যা তুমি নিজে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে এসেছিলে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুফায়ল ও তার সঙ্গীরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! দাওস সম্প্রদায় কুফুরী অবলম্বন করেছে এবং ইসলাম কবুলে স্বীকৃতি দেয়নি। অতএব আপনি তাদের বিপক্ষে বদদোয়া করুন। তখন বলা হলো, দাওস ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বললেন, "হে আল্লাহ দাওসকে হিদায়াত দান করো এবং তাদেরকে (আমার নিকট) এনে দাও।"
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ যুরআহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ বলেছেন, আমি তিনটি কারণে বানু তামীমকে ভালবাসতে থাকব। এ তিনটি ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তারা আমার উম্মাতের মধ্যে দাজ্জালের উপর সবচেয়ে বেশী শক্তিধর। রাবী বলেন, যখন তাদের সাদাকাহ্ আসলো তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা আমার জাতির সাদাকা। রাবী বলেন, তাদের গোত্রের এক নারী আয়িশাহ্ এর বন্দিনী ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একে আযাদ করে দাও। কারণ, সে ইসমাঈল এর সন্তানদের একজন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু তামীম সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তিনটি কথা শোনার পর আমি তাদের পছন্দ করতে শুরু করি। তারপর তিনি পূর্বের ন্যায় অবিকল বর্ণনা করেন।
হামিদ ইবন উমার আল বাকরাবী ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বানু তামীম গোত্রের তিনটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে শুনেছি। তারপর হতে আমি তাদের পছন্দ করতে আরম্ভ করি। অতঃপর তিনি এ অনুরূপ অর্থে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেন। কিন্তু এ বর্ণনায় দাজ্জালের কথা বর্ণনা করেননি। এর জায়গায় "এরা যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী বীরত্ব প্রদর্শনকারী ছিলেন" কথাটি বলেছেন আর দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেননি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ব্যক্তিদের খনিজ ও গুপ্তধনের ন্যায় দেখতে পাবে। অতএব যারা জাহিলী যুগে উত্তম ছিল তারা ইসলামেও উত্তম বলে বিবেচিত হবে। যখন তারা দীনী জ্ঞানের অধিকারী হবে। কিংবা তোমরা এ ব্যাপারে ইসলামে উত্তম ব্যক্তি দেখতে পাবে যারা তার পূর্বে চরমভাবে ইসলামকে ঘৃণা করত। আর তোমরা সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাবে সে সকল লোককে, যারা দ্বিমুখী চরিত্রের লোক- এরা এ দলের নিকট একমুখী কথা বলে পুনরায় অপর এক দলের নিকট এসে আরেক ধরনের রূপ নিয়ে উপস্থিত হয়।
যুহায়য় ইবন হারব ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানব সম্পদ খনির ন্যায় মূল্যবান দেখতে পাবে। তার পরবর্তী অংশ যুহরীর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু আবূ যুরআহ ও আ'রাজের বর্ণিত হাদীসঃ "তোমরা কতক লোককে সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসেবে পাবে যারা এতে পতিত হওয়া এটাকে খুব বেশি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।"
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম মহিলা তারাই যারা উষ্ট্রে আরোহণ করে। রাবীদের একজন বলেন, কুরায়শ নারীই নেক বখ্ত সতী-সাধী। অন্যজন বলেন, কুরাইশী মহিলারা ইয়াতীমের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও মেহেরবান এবং তারা তাদের স্বামীর ধন-সম্পদের প্রতি বিশ্বস্ত রক্ষক।
আমর আন্ নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনায় এটুকু আলাদা আছে– "শৈশবে তারা তাদের শিশুদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল" এবং তিনি ইয়াতীম শব্দটি বলেননি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, উটের পিঠে আরোহণকারিণী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশী মহিলারা সর্বোত্তম নারী। তারা শিশুদের প্রতি স্নেহশীল এবং স্বামীন ধন-সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত রক্ষক। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ এভাবেই বলতেন। আর মারইয়াম বিনতু ইমরান কক্ষনো উটে সওয়ার হননি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো বার্ধক্যে পৌছে গেছি এবং আমার সন্তানাদিও রয়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উটে আরোহণকারিণীদের মধ্যে (তুমি) সর্বোত্তম নারী। তারপর মা'মার (রাবী) ইউনুস বর্ণিত হাদীসের হুবহু উল্লেখ করেন। কিন্তু তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন, "তারা শৈশবে সন্তানের প্রতি খুবই স্নেহশীল ও যত্নশীল"।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উটে আরোহণকারিণী নারীদের মধ্যে কুরাইশী সৎ নারীরাই উত্তম। তারা তাদের সন্তানদের প্রতি শৈশবে যত্নবান এবং স্বামীর ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে বিশ্বস্ত দায়িত্বশীল।
আহমাদ ইবন উসমান ইবন হাকীম আল-আরদী .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত মা'মার এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ ও আবূ তালহাহ এর মাঝে ভ্রাতৃসম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন।
আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ .... আসিম ইবন আহওয়াল বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক কে প্রশ্ন করা হলো, আপনার নিকট কি এ মর্মে রিওয়ায়াত পৌছেছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে কোন হলফ-মৈত্রী স্থাপন নেই? তখন আনাস বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরায়শ ও আনসারদের মাঝে তার গৃহে বসেই বন্ধুত্ব-চুক্তি করেছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরায়শ ও আনসারদের মাঝে মদীনাতে তার গৃহে বসেই সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জুবায়র ইবন মুতাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে অবৈধ চুক্তির কোন অবকাশ নেই। তবে জাহিলী যুগে ভাল কাজের উদ্দেশে যেসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তা ইসলামে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করে দিয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আবান .... আবূ বুরদাহ এর পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমরা বললাম, আমরা যদি তার সাথে ইশার নামাজ আদায় করা পর্যন্ত উপবিষ্ট হতে পারতাম (তাহলে কতই না ভাল হত)। রাবী বলেন, আমরা বসে থাকলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা এখনো পর্যন্ত এখানে উপবিষ্ট আছ? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছি। তারপর আমরা বললাম যে, ইশার নামাজ আপনার সাথে আদায় করার জন্যে বসে অপেক্ষা করি। তিনি বললেনঃ তোমরা অনেক ভাল করেছ কিংবা তোমরা ঠিকই করেছ। তিনি (রাবী) বলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং তিনি অধিকাংশ সময়ই আকাশের পানে তার মাথা তুলতেন। অতঃপর তিনি বললেন, তারকারাজি অবস্থানের কারণেই আকাশ স্থিতিশীল রয়েছে। তারকারাজি যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে তখন আকাশের জন্য ওয়াদাকৃত বিপদ আসন্ন হবে (কিয়ামত এসে যাবে এবং আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে)। আর আমি আমার সাহাবাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা স্বরূপ। আমি যখন বিদায় নিব তখন আমার সাহাবাদের উপর ওয়াদাকৃত সময় এসে সমুপস্থিত হয়ে যাবে (ফিতনা-ফাসাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে যাবে)। আর আমার সাহাবাগণ সকল উম্মাতের জন্য রক্ষাকবচ স্বরূপ। আমার সাহাবীগণ যখন বিদায় হয়ে যাবে তখন আমার উম্মাতের উপর ওয়াদাকৃত বিষয় উপস্থিত হবে।
আবূ খাইসামাহ্ যুহায়র ইবন হারব ও আহমাদ ইবন আবাদাহ্ আয যাববিয়্য ..... আবূ সাঈদ খুদরী এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদের উপর এমন সময় আসবে, তখন তাদের একদল জিহাদে লিপ্ত থাকবে। তারপর তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, তোমাদের মাঝে এমন কেউ আছেন যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রত্যক্ষ করেছেন? তারা সমস্বরে বলবে, জ্বি হ্যা। তারা তখন বিজিত হবে। তারপর মানুষের মাঝখান থেকে একদল জিহাদ করতে থাকবে। তাদের তখন প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণকে প্রত্যক্ষ করেছেন? তারা সমস্বরে বলে উঠবে, জ্বি হ্যা। তখন তারা জয়ী হবে। অতঃপর লোক অপর একটি দল যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন তাদের প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে এমন কেউ কি আছেন, যিনি সাহাবীদের সাহচর্য অর্জনকারী তাবি'ঈকে প্রত্যক্ষ করেছেন? তখন লোকেরা বলবে, জি হ্যা। তখন তাদের বিজয় এসে যাবে।
সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ উমাবী .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকজনের উপর এমন সময় আসবে, যখন তাদের মাঝখান থেকে কোন অভিযাত্রী দল পাঠানো হবে। তারপর মানুষেরা কথোপকথন করবে, সন্ধান করো তোমাদের মাঝে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণের কাউকে পাও নাকি। তখন কোন একজন সাহাবী পাওয়া যাবে। তারপর তার কারণে তাদের বিজয় আসবে। তারপর দ্বিতীয় সেনাদল প্রেরণ করা হবে। তখন মানুষেরা বলবে, তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের প্রত্যক্ষ করেছেন? তখন একজন (তাবিঈ)-কে পাওয়া যাবে। তারপর তাদের বিজয় লাভ হবে। তরপর তৃতীয় সেনাদল প্রেরণ করা হবে। তখন প্রশ্ন করা হবে, খোজ করে দেখো, তাদের মাঝে কাউকে দেখতে পাও কিনা, যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভকারী তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত? তারপর চতুর্থ সেনাদল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। তখন জিজ্ঞেস করা হবে দেখো, তোমরা এদের মাঝে এমন কাউকে পাও কি-না, যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের সাহচর্য অর্জনকারীদের সাহচর্য লাভ করেছে কোন তাবি-তাবি'ঈকে প্রত্যক্ষ করেছে? তখন এক লোককে পাওয়া যাবে। অতঃপর তার কারণে তারা বিজয় লাভ করবে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও হান্নাদ ইবন সারী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে সর্বাধিক উত্তম তারাই যারা আমার যুগের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকেরা (সাহাবাগণ)। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী সংযুক্ত যুগের লোক (তাবিঈগণ)। তারপর তাদের সংযুক্ত যুগ (তাবি তাবিঈন)। অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা শপথের পূর্বে সাক্ষী দিবে এবং সাক্ষীর পূর্বে শপথ করবে। আর হান্নাদ তার হাদীসে (যুগ বা সময়) কথাটি বর্ণনা করেননি এবং কুতাইবাহ বলেছেন, "অতঃপর অনেক সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হবে"।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল-হানযালী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম লোক কে? তিনি বললেন, আমার যুগের লোক। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ, তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। তারপর এমন এক সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হবে, যাদের সাক্ষীর পূর্বেই শপথ ত্বরান্বিত হবে এবং শপথের পূর্বেই সাক্ষ্য সংঘটিত হবে। ইবরাহীম বলেছেন, আমাদের শৈশবে লোকেরা আমাদেরকে শপথ ও সাক্ষাদান হতে বারণ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবূল আহওয়াস ও জারীরের সানাদে মানসূর হতে অবিকল বর্ণিত। তবে তাদের উভয়ের হাদীসে (রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল) বর্ণনা নেই।
হাসান ইবন আলী আল-হুলওয়ানী .... আবদুল্লাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (সাহাবীগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাবিঈগণ। তারপর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট (তাবি তাবিঈন)। তারপর তিনি বলেন, তৃতীয় অথবা চতুর্থটি সম্বন্ধে আমি অজ্ঞাত। তিনি (রাবী) বললেন, তারপর তাদের পরবর্তীতে এমন লোক আসবে, যাদের কেউ কেউ শপথের পূর্বে সাক্ষী দেবে এবং সাক্ষ্যের পূর্বে শপথ করবে।
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সৰ্বোত্তম লোক তারা, যাদের মাঝে আমি আদিষ্ট হয়েছি (সাহাবাগণ)। তারপর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন (তাবিঈ)। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। তারপর তিনি তৃতীয়টি বর্ণনা করেছেন কিনা মনে নেই। রাবী বলেন, তারপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যারা মোটা-সোটা হওয়া পছন্দ করবে এবং এবং সাক্ষ্য দিতে ডাকার আগেই সাক্ষ্য প্রদান করবে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ বিশর থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত। তবে শুবাহ বর্ণিত হাদীসে এতটুকু আলাদা রয়েছে, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, আমার স্মরণ নেই যে, তিনি দু'বার নাকি তিনবার বলেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... ইমরান ইবন হুসায়ন রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম আমার যুগের লোকেরা। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী যুগ। ইমরান বলেন, আমার স্মরণে নেই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তার যুগের পর দু' যুগের নাকি তিন যুগের কথা বলে বর্ণনা করেছেন। তারপর তাদের পরবর্তীতে এমন এক জাতির উদ্ভব হবে যারা সাক্ষ্য প্রদান করবে অথচ তাদের নিকটে সাক্ষ্য তলব করা হবে না। আর তারা খিয়ানাত করতে থাকবে এবং আমানতদারী রক্ষা করবে না। তারা মানৎ করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। আর তাদের দেহে মোটা-সোটা হওয়া প্রকাশ পাবে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল বর্ণিত। আর তাদের ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, বাহয ও শাবাবাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ "আমার স্মরণে নেই যে, তিনি কি তার যুগের পরে দু' যুগ কিংবা তিন যুগের কথা বর্ণনা করেছেন কি না?" শাবাবাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি যাহদাম ইবন মুদরাব হতে শুনেছি। তিনি আমার নিকটে ঘোড়ার পৃষ্ঠে সওয়ার হয়ে এক বিশেষ দরকারে এসেছিলেন। তারপর তিনি আমাকে হাদীস শুনান যে, তিনি ইমরান ইবন হুসায়ন হতে শুনেছেন। আর ইয়াহইয়া ও বাহয বর্ণিত হাদীতে বর্ণনা রয়েছে- "তারা মানৎ করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না।" আর বাহয বর্ণিত হাদীসে ইবন জাফার এর বর্ণনানুযায়ী শব্দটির বর্ণনা রয়েছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক উমাবী ... ইমরান ইবন হুসায়নের সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত। এ বর্ণনায় রয়েছে, এ উম্মাতের সর্বোত্তম হলো তারাই, যাদের মাঝে আমি আদিষ্ট হয়েছি (সাহাবাগণ)। আবূ আওয়ানাহ্ বর্ণিত হাদীসে বর্ধিত রয়েছে যে, তিনি বলেন, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত, তিনি তৃতীয়টি বর্ণনা করেছেন কিনা? ইমরান থেকে যাহদাম বর্ণিত হাদীসের অর্থানুসারে। কাতাদাহ্ এর সানদে হিশাম বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে, "তারা শপথ করতে থাকবে কিন্তু তাদের নিকট শপথ চাওয়া হবে না।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও শুজা ইবন মুখলাদ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করল, সর্বোত্তম লোক কে? তিনি বললেনঃ সে যুগ, যাতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। এরপর দ্বিতীয় যুগ, তারপর তৃতীয় যুগ।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জীবনের শেষ প্রান্তে একরাত্রে আমাদের সাথে ইশার নামাজ আদায় করলেন। তিনি সালাম ফিরে দাড়িয়ে বললেনঃ এ রাত্র সম্বন্ধে তোমরা কি ধারণা পোষণ করো? কারণ এর একশ বছরের মাথায় যারা আজ পৃথিবীর পৃষ্ঠে বিদ্যমান রয়েছে তাদের কেউ জীবিত থাকবে না। ইবন উমর বললেন, তখন লোকেরা একশ বছর সংশ্লিষ্ট এসব হাদীসের বর্ণনায় দ্বিধায় পড়ে গেল। অবশ্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "আজ যারা পৃথিবী পৃষ্ঠে বর্তমান আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না" দ্বারা এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, যুগের পরিসমাপ্তি হয়ে যাবে।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... মা'মার হতে যুহরী সূত্রে তার হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ রইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার ওফাতের এক মাস আগে বলতে শুনেছি যে, আমাকে তোমরা কিয়ামত সম্বন্ধে প্রশ্ন করছ, কিন্তু তার ইলম তো আল্লাহরই নিকট। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার উপর একশ বছর পূরণ হবে। (আজ থেকে একশ বছরের মাথায় বর্তমানে জীবিত ব্যক্তিরা বাকী থাকবে না)।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন জুরায়জের সূত্রে এ সানাদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি 'তার ইন্তিকালের এক মাস আগে' উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি তার ইন্তিকালের একমাস আগে বা অনুরূপ সময়ে বলেছেন যে, যেসব প্রাণী বর্তমান জীবিত আছে, তাদের উপর একশ বছর শেষ হতেই তারা আর অবশিষ্ট থাকবে না। আস্ সিকায়াহ্ গ্রন্থকার আব্দুর রহমান .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। আবদুর রহমান "আয়ুষ্কাল ক্ষীণ হয়ে গেছে" বলে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও সুলাইমান তাইমী সবাই তার অবিকল রিওয়ায়াত করেন।
ইবন নুমায়র .... অপর সানাদে আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন শেষে লোকেরা তাকে কিয়ামত সম্বন্ধে প্রশ্ন করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একশ বছর পরিসমাপ্তি হলে এখনকার কোন লোক আর অবশিষ্ট থাকবে না।
ইসহাক ইবন মানসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন প্রাণ (লোক) একশ বছর পর্যন্ত পৌছবে না। তখন সালিম বললেন, আমরা এ বিষয়টি তার (জাবির) নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, এ কথা দ্বারা আজ পর্যন্ত যে সকল নবজাতক পয়দা হয়েছে- সকলকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইযাহ্ইয়া তামিমী, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আ'লা .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার সাহাবীগণকে কুৎসা করো না। তোমরা আমার সাহাবীদের কুৎসা করবে না। সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, তোমাদের মাঝে কেউ যদি উহুদ পর্বতের ন্যায় স্বর্ণ খরচ করে তবুও তাদের কারোর এক মুদ কিংবা অর্ধ মুদের সমতুল্য হবে না।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার খালিদ ইবন ওয়ালীদ ও আবদুর রহমান ইবন আওফ এর মাঝে (অপ্রীতিকর) একটা কিছু ঘটেছিল। তখন খালিদ তাকে গাল-মন্দ করেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গাল-মন্দ করবে না। কারণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বতের সমতুল্য স্বর্ণ খরচ করে তবুও তাদের এক মুদ অথবা অর্ধ মুদের ন্যায় হবে না।
আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও আবূ কুরায়ব .... অপর সূত্রে উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... অন্য সূত্রে ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আমাশ হতে জারীর ও আবূ মুআবিয়ার সানাদে তাদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে শুবাহ্ ও ওয়াকী এর হাদীসে আবদুর রহমান ইবন আওফ ও খালিদ ইবন ওয়ালীদ এর বর্ণনা নেই।
যুহায়র ইবন হারব .... উসায়র ইবন জাবির হতে বর্ণিত যে, কুফার একটি প্রতিনিধি দল উমর এর কাছে আগমন করলো। তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিও ছিল, যে উওয়াইস কে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। তখন উমার বললেন, এখানে কারানী গোষ্ঠীর কোন ব্যক্তি আছে কি? তখন সে লোকটি আসলো। এরপর উমর বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামান থেকে এক ব্যক্তি আগমন করবে, যে উওয়াইস নামে খ্যাত। ইয়ামানে তার মা ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তার কুষ্ঠরোগ হয়েছিল। সে আল্লাহর নিকট দোয়া করার পরিবর্তে আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ দূর করে দেন। কিন্তু কেবল মাত্র এক দীনার কিংবা এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট থাকে। তোমাদের মাঝখান থেকে কেউ যদি তার দেখা পায় সে যেন নিজের জন্য তার নিকট মাগফিরাতের দোয়া প্রার্থনা করে।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, অবশ্যই তাবিঈনদের মধ্যে সে লোক শ্রেষ্ঠ যে উওয়াইস নামে খ্যাত। তার একমাত্র মা আছেন এবং তার কুষ্ঠরোগ হয়েছিল। তোমরা তার নিকট অনুরোধ করবে যেন সে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করবে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... উসায়র ইবন জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব এর অভ্যাস ছিল, যখন ইয়ামানের কোন সাহায্যকারী ফৌজ তার নিকট আসত তখন তিনি তাদের প্রশ্ন করতেন, তোমাদের মাঝে কি উওয়াইস ইবন আমির রয়েছে? পরিশেষে তিনি উওয়াইসকে পান। তখন তিনি বললেন, তুমি কি উওয়াইস ইবন আমির? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি প্রশ্ন করলেন, মুরাদ গোষ্ঠীর কারান কাওমের? তিনি বললেন, হ্যা। জানতে চাইলেন, তোমার কি কুষ্ঠরোগ হয়েছিল এবং তা নিরাময় হয়েছে, শুধুমাত্র এক দিরহাম জায়গা ছাড়া? তিনি বললেন, হ্যা। প্রশ্ন করলেন, তোমার মা আছেন কি? তিনি বললেন, হ্যা। তখন উমর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ "তোমাদের নিকট মুরাদ গোষ্ঠীর কারান বংশের উওয়াইস ইবন আমির ইয়ামানের সাহায্যকারী দলের সাথে আসবে। তার কুষ্ঠরোগ ছিল। পরে তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। কেবলমাত্র এক দিরহাম ব্যতীত। তার মা রয়েছেন। সে তার প্রতি অতি সেবাপরায়ণ। এমন লোক আল্লাহর উপর শপথ করে নিলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। সুতরাং তুমি যদি তোমার জন্য তার নিকট মাগফিরাতের দোয়া প্রার্থনার সুযোগ পাও তাহলে তা করবে।" কাজেই আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দোয়া কামনা করুন। তখন উওয়াইস তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করলেন। তারপর উমর তাকে বললেন, তুমি কোথায় যেতে চাও? তিনি বললেন, কুফাহ অঞ্চলে। উমার বললেন, আমি কি তোমার জন্য কুফার প্রশাসকের নিকট চিঠি লিখে দিব? তিনি বললেন, আমি বিনীত ও দারিদ্র্য-পীড়িত লোকদের মধ্যে অবস্থান করাই পছন্দ করি। রাবী বলেন, পরবর্তী বছরে তাদের অভিজাত লোকেদের মাঝে এক লোক হাজ্জ করতে আসলো এবং উমর এর সাথে তার দেখা হলো। তখন তিনি তাকে উওয়াইস কারানী এর অবস্থা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আমি তাকে নিঃস দরিদ্র অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের নিকট কারান বংশের মুরাদ গোত্রের উওয়াইস ইবন আমির ইয়ামানের একদল সাহায্যকারীর সাথে আসবে। তার ছিল কুষ্ঠরাগ। সে তা থেকে নিরাময় লাভ করে, এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ছাড়া। তার মা আছেন, সে তার অতি সেবাপরায়ণ। সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তা পূরণ করে দেন। তোমরা নিজের জন্য তার নিকট মাগফিরাতের দোয়া কামনার সুযোগ পেলে তা করবে। সে লোক উওয়াইসের নিকট এসে বলল, আমার জন্য মাগফিরাত এর দোয়া কামনা করুন। তিনি বললেন, আপনি তো নেক সফর থেকে সবেমাত্র এসেছেন। কাজেই আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দোয়া প্রার্থনা করুন। সে লোক বলল, আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দোয়া কামনা করুন। উওয়াইস বললেন, আপনি সদ্য নেক সফর করে এসেছেন, আপনি আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করুন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনি কি উমার এর দেখা পেয়েছেন? সে বলল, হ্যা। তখন তিনি তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া কামনা করলেন। তখন লোকেরা তার মর্যাদা সম্বন্ধে অবগত হলেন। এরপর তিনি তার সামনে চললেন। উসায়র বলেন, আমি তাকে একটি ডোরাদার চাদর পরিয়ে দিলাম। অতঃপর কোন লোক যখন তাকে দেখতো তখন জানতে চাইতো, উওয়াইসের নিকট এ চাদরটি কোথেকে আসলো?
আবূ তাহির ও হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... আবূ যার গিফারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই তোমরা এমন একটি ভূখণ্ড বিজয় লাভ করবে, সেখানে কীরাতের (দিরহাম বা দীনারের অংশবিশেষ) প্রচলন আছে। তোমর সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে, সদাচরণ করবে। কেননা তোমাদের উপর তাদের প্রতি আছে যিম্মাদারী এবং আত্মীয়তা। তোমরা যদি সেখানে দু' লোককে একটি ইটের জায়গার ব্যাপারে বিবাদ করতে দেখো তাহলে সেখান থেকে চলে এসো। রাবী বলেন, তারপর সুরাহবীল ইবন হাসানার পুত্রদ্বয় রাবীআহ ও আবদুর রহমানের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ইটের স্থান নিয়ে বিবাদ করতে দেখলেন। তিনি তখন সেখান থেকে চলে আসলেন।
যুহায়র ইবন হারব ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবূ যার গিফারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই তোমরা মিশর বিজয় লাভ করবে। সেটা এমন একটি দেশ, যেখানে 'কীরাত' নামে মুদ্রা খ্যাত। তোমরা যখন সে দেশ বিজয় লাভ করবে তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। কারণ তাদের জন্য দায়িত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। কিংবা তিনি বলেছেনঃ যিম্মাদারী ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তোমরা যখন সেখানে দু'লোককে একটি ইটের স্থান নিয়ে বিবাদ করতে দেখবে তখন সেখান থেকে চলে আসবে। আবূ যার বলেন, তারপর আমি যখন আবদুর রহমান ইবন শুরাহবীল ইবন হাসান ও তার ভাই রাবীআকে একটি ইটের স্থান নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখলাম তখন আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।
সাঈদ ইবন মানসূর .... আবূ বারযাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কোন এক আরব গোত্রের নিকট প্রেরণ করলেন। তারা তাকে গালি-গালাজ ও মারধর করল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে কাহিনী বর্ণনা করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি বংশধরগণের নিকট যেতে তাহলে তারা তোমাকে গালিও দিত না এবং মারধরও করত না।
উকবাহ ইবন মুকাররাম আল আম্মী .... আবূ নাওফিল বলেন যে, আমি (মক্কায়) উকবাতুল মদীনাহ নামে ঘাটিতে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র কে (শুলীকাষ্ঠে ঝুলতে) দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, তখন অন্যান্য লোকজন তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। পরিশেষে আবদুল্লাহ ইবন উমার তার কাছ দিয়ে যাওয়াকালে বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আসসালামু আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আসসালামু আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে নিষেধ করেছিলাম, আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ আমি যদ্দুর জানি আপনি ছিলেন সর্বাধিক সিয়াম পালনকারী, সর্বাধিক নামাজ আদায়কারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সম্মিলনকারী। আল্লাহর শপথ, শ্রেষ্ঠ উম্মাতের দৃষ্টিতে আজ আপনি (আপনার মতো মহৎ ব্যক্তিত্ব) নিকৃষ্ট মানুষে গণ্য হয়েছেন। তারপর আবদুল্লাহ ইবন উমার সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর এর এ অবস্থান (থামা) ও তার বক্তব্য হাজ্জাজের নিকট পৌছল। তখন সে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রের নিকট লোক প্রেরণ করল এবং তাকে শূলীর উপর থেকে নামানো হলো। তারপর ইয়াহুদীদের কবরস্থানে তাকে নিক্ষিপ্ত করা হলো। তারপর সে তার মা আসমা বিনত আবূ বকর কে ডেকে নেয়ার জন্য দূত পাঠায়। তিনি তার নিকট আসতে অস্বীকৃতি জানালেন। হাজ্জাজ আবার তার নিকট লোক পাঠাল তাকে তার নিকট আসার জন্য এই বলে যে, তোমাকে অবশ্যই আসতে হবে। অন্যথায় তোমার নিকট এমন লোক পাঠাব যে, তোমাকে চুলে ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বললেন, এরপরও তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সে পর্যন্ত তোমার নিকট আসব না যতক্ষণ না তুমি আমার নিকট এমন লোক পাঠাবে যে, আমার চুলে ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বলেন, তারপর হাজ্জাজ বলেন, আমার জুতা নাও। তারপর সে জুতা পরল এবং সদৰ্পে আসমা বিনত আবূ বকর এর নিকট পৌছল এবং সে বলল, তুমি তো দেখলে আল্লাহর শত্রুর সাথে আমি কী ব্যবহার করেছি। তিনি বললেন, "হ্যা আমি তোকে দেখছি, তুই তার দুনিয়া বরবাদ করে দিয়েছিস। আর সে তোর আখিরাত নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি যে, তুই তাকে (তিরস্কার স্বরূপ) দুটি কোমরবন্ধনীর ছেলে বলে সম্বোধন করে থাকিস। আল্লাহর শপথ! আমিই দু' কোমরবন্ধ ব্যবহারকারিণী। এর একটির মাঝে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবূ বকর এর খাদ্যদ্রব্য বেধে তুলে রাখতাম যাতে বাহনের পশু থেকে খেয়ে ফেলতে না পারে। অপরটি হলো যা স্ত্রীলোকের জন্য প্রয়োজন। জেনে রাখো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সাকীফ সম্প্রদায়ে এক মিথ্যুকের এবং নরহত্যাকারীর অভ্যুদয় হবে। মিথ্যুককে তো আমরা সকলে দেখেছি, আমি রক্ত প্রবাহকারী তোমাকে ব্যতীত আর কাউকে মনে করছি না।" এ কথা শুনে হাজ্জাজ উঠে দাড়াল এবং আসমা এর কথার কোন প্রত্যুত্তর করল না।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। দীন যদি আকাশের দূরবর্তী সুরাইয়া তারকারাজির নিকট থাকত তবে ইরানের যে কোন লোক তা নিয়ে আসত; কিংবা তিনি বলেছেন, কোন ইরানী সন্তান তা নিয়ে নিত।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। তখন তার উপর সূরাতুল জুমুআহ নাযিল হলো। যখন তিনি এ আয়াত পড়লেন- "আর (এ রসূলের আগমন) অপরাপর ব্যক্তিদের জন্যও যারা এখনো তাদের (মুমিনদের) সাথে এসে একত্রিত হয়নি" (জুমুআহ ৬২ঃ ৩)। তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! এ লোকেরা কারা? রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কোন প্রত্যুত্তর করলেন না। এমন কি সে একবার অথবা দু'বার অথবা তিনবার তাকে প্রশ্ন করল। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের মাঝে তখন সালমান ফারসী ছিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত সালমান এর উপর রাখলেন; তারপর বললেন, ঈমান যদি সুরাইয়া নক্ষত্ররাজির নিকট (বহু দূরে) থাকত তবে অবশ্যই তার সম্প্রদায়ের লোকেরা সেখানে পৌছে যেত।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মানুষদের মধ্যেও উটের দৃষ্টান্ত খুজে পাবে। আর তা হচ্ছে কোন লোক একশ উটের মধ্যে একটি আরোহণের উপযুক্ত উটের সন্ধান পাবে না। (অনুরূপভাবে মানুষের মাঝেও একজন যথেষ্ট দায়িত্ববান মানুষ পাওয়া যাবে না)।