bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ক্রয়-বিক্রয় (৩৬৯৪-৩৮৫৪)

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুলামাসাহ ও মুনাবাযাহ শ্রেণীর ক্রয়-বিক্রয় বারণ করেছেন।

আবূ কুরায়ব ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ (রযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুলামাসাহ ও মুনাবাযাহ এ দু'প্রকার কেনা-বেচা নিষেধ করেছেন। 'মুলামাসাহ' অর্থ চিন্তা-ভাবনা না করেই ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পরের কাপড় স্পর্শ করা। আর মুনাবাযাহ অর্থ (ক্রেতা ও বিক্রেতা) উভয়ে একে অন্যের প্রতি কাপড় ছুড়ে দেয়া এবং একজন আরেকজনের কাপড়ের দিকে খেয়াল না করা।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দু'প্রকার কেনা-বেচা করতে ও দু'প্রকার বস্ত্র পরিধান করতে বারণ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে তিনি 'মুলামাসাহ' ও 'মুনাবাযাহ' বারণ করেছেন। 'মুলামাসাহ' হল (ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে) রাতে হোক কিংবা দিনে হোক একজন অপরজনের কাপড় হাতে স্পর্শ করবে। এরূপ করা ছাড়া (মাল) উন্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখা হয় না। আর মুনাবাযাহ হল, পরস্পরের প্রতি কাপড় ছুড়ে মারবে এবং এরূপ করলেই উত্তমরূপে দেখে শুনে সম্মতি ছাড়াই উভয়ের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যেত।

আমর আন নাকিদ .... ইবন শিহাব হতে একই সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পাথরের টুকরা নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় ও ধোকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবন রুমূহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেতে বর্ণিত যে, তিনি "হাবালুল হাবালা" শর্তে কেনা-বেচা নিষেধ করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জাহিলী যুগের লোকেরা হাবালুল হাবালাহ্ শর্তে উটের গোশত কেনা-বেচা করত। "হাবালুল হাবালাহ" হল উটনীর বাচ্চা হবে, তারপর ঐ বাচ্চা গর্ভধারণ করলে মূল্য পরিশোধ করা হবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে একে অপরের দামের উপর দাম বাড়িয়ে যেন কোন বস্তু ক্রয় না করে।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন লোক যেন তার ভাইয়ের ক্রয় করার সময় তার উপর বেশী মূল্য বলে ক্রয় না করে এবং কেউ যেন তার অপর ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপরে তার অনুমতি ছাড়া প্রস্তাব না পাঠায়।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "কোন মুসলিম যেন অন্য মুসলিমের মূল্যের উপর মূল্য না বলে।"

আহমাদ ইবন ইবরাহীম দাওরাকী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, কোন ভাইয়ের দরদাম করার সময় কেউ যেন ঐ জিনিসের দরদাম না করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেনার উদ্দেশে কাফিলার সাথে আগেই গিয়ে সাক্ষাৎ করা যাবে না। তোমাদের কেউ যেন অপরের দাম বলার উপর দাম না বলে। কেনার উদ্দেশে ছাড়া মালের দাম বলে বৃদ্ধি করো না। শহরবাসী যেন পল্লীবাসী লোকের থেকে এগিয়ে গিয়ে দ্রব্য নিয়ে বিক্রি না করে। আর উট ও বকরীর ওলানে দুধ জমা করে রেখ না। এ অবস্থায় কেউ তা খরিদ করলে তার জন্য দু'পথের এক পথ অবলম্বনের অনুমতি রয়েছে- হয় সে তা রেখে দিবে, না হয় সে তা ফেরত দিবে এক সা' খেজুরসহ।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন- পণ্য দ্রব্য নিয়ে আগমনকারীদের দিকে সামনে অগ্রসর হয়ে খরিদ করার উদ্দেশে সাক্ষাৎ করতে, শহুরে লোকদেরকে এগিয়ে গিয়ে গ্রাম্য লোকের থেকে পণ্য ক্রয় করতে, কোন সতীনকে তার অপর সতীনকে তালাক দিতে (স্বামীর কাছে) বলতে, মূল্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশে দাম বলতে, বিক্রয়ের পূর্বে দোহন না করে ওলানে দুধ জমা করে রাখতে এবং অপর ভাইয়ের দরদামের উপর দরদাম করতে।

আবূ বকর ইবন নাফি, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ শুবাহ হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণমা করেন। তবে গুনদার ও ওয়াহব এর হাদীসে আছে, "নিষেধ করা হয়েছে।" আর আবদুস সামাদের হাদীসে আছে- রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, যেমনটি আছে শুবাহ থেকে মুআয বর্ণিত হাদীসে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। ক্রয় করার ইচ্ছা ছাড়া মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশে মূল্য বলতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, দ্রব্য বাজারে পৌছার আগেই এগিয়ে গিয়ে খরিদের জন্যে যেতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। এ হলো ইবন নুমায়রের বর্ণনা। আর অপর দু'জন বলেছেনঃ নবী (ﷺ) সামনে এগিয়ে গিয়ে পণ্য বহনকারী কাফিলার সাথে সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইসহাক ইবন মানসূর .... ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উবাইদুল্লাহ হতে ইবন নুমায়রের বর্ণনার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি পণ্যদ্রব্য আসার পথে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে ক্রয় করতে বারণ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পণ্য বহনকারীদের সাথে অগ্রগামী হয়ে সাক্ষাৎ করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন।

ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা এগিয়ে গিয়ে পণ্যবাহী কাফিলার সাথে মিলিত হয়ে না। যদি কেউ এরূপ করে এবং তার থেকে কোন বস্তু ক্রয় করে নেয় তবে বিক্রেতা বাজারে পৌছার পর বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিল করার ব্যাপারে ইখতিয়ার পাবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন শহরবাসী পল্লীবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করবে না। আর যুহায়র বলেন, নবী (ﷺ) কোন শহরবাসীকে পল্লীবাসীর পক্ষে দালালী করে বিক্রি করতে বারণ করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এগিয়ে গিয়ে পণ্যবহনকারী কাফিলার সাথে মিলিত হতে এবং শহরবাসীকে পল্লীবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী (তাউস) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম, শহরবাসী পল্লীবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করার মানে কী? তিনি বললেনঃ সে তার দালালী করবে না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ও আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শহরের লোক গ্রামের লোকের পক্ষ হয়ে বিক্রয় করতে পারবে না। লোকেদের একজনের দ্বারা অপরজনের রিযকের যে ব্যবস্থা আল্লাহ করে রেখেছেন সে ব্যবস্থা চালু থাকতে দাও।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আমর আন নাকিদ .... জাবির এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদেরকে এমনটি নিষেধ করা হয়েছে, গ্রামের লোকের পক্ষ হয়ে শহরের লোকেরা যেন বিক্রয় না করে, সে ভাই বা পিতাই হোক না কেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমাদেরকে নিযেধ করা হয়েছে যে, শহরের লোক যেন গ্রামের লোকের পক্ষ হয়ে বিক্রয় না করে।

"আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি দুধ দোহন না করে ফুলিয়ে রাখা ওলান বিশিষ্ট বকরী খরিদ করে, তবে বাড়ী নিয়ে দোহনের পরে সে ইচ্ছা করলে রাখতে পারে আবার ইচ্ছা করলে ফেরতও দিতে পারে। ফেরত দিতে চাইলে এক সা' খেজুরও সাথে দিবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওলান ফুলিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করবে, তিন দিন পর্যন্ত তার জন্যে ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকবে। ইচ্ছা করলে সেটি রাখতে পারে, আর যদি ফেরত দেয় তবে সে সাথে এক সা' খেজুরও দিবে।

মুহাম্মাদ ইবন আমর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওলান ফুলানো বকরী ক্রয় করবে, তিন দিন পর্যন্ত তার জন্য ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকবে। সে যদি উক্ত বকরী ফেরত দেয় তবে তার সাথে এক সা' খাদ্য বস্তুও দিবে। এজন্য উৎকৃষ্ট গম দিতে হবে এমনটি নয়।

ইবন আবূ উমার .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওলানে দুধ ফুলান বকরী কিনবে তার জন্যে ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকবে। ইচ্ছা করলে ক্রয় ঠিক রাখবে আর ইচ্ছা করলে এক সা' খেজুরসহ ফেরত দিবে- এজন্য উত্তম গম দেয়া জরুরী নয়।

ইবন আবূ উমার উপরে উল্লিখিত হাদীসটি আবদুল ওয়াহব থেকে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেন। যে ছাগল কিনবে তার বিকল্প আছে....।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণনা করেন। হাম্মাম বলেন যে, আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বেশ কিছু হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি ওলান ফুলিয়ে রাখা উষ্ট্রী বা বকরী খরিদ করে তবে দুধ দোহনের পরে তার ইচ্ছা-স্বাধীনতা থাকবে। হয় তা রেখে দিবে অথবা এক সা' খুরমাসহ(মাসেহ) ফেরত দিবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ রাবী আতাকী ও কুতাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে তা আয়ত্বে নেয়ার পূর্বে বিক্রি করতে পারবে না। ইবন আব্বাস বলেন, আমি মনে করি সকল বস্তুর বেলায় এ একই নিয়ম।

ইবন আবূ উমার, আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ্, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আমর ইবন দীনার হতে উক্ত সানাদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ ... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে নিজ আয়ত্বে নেয়ার পূর্বে তা বিক্রি করতে পারবে না। ইবন আব্বাস বলেন, আমার ধারণা খাদ্য দ্রব্যের যে বিধান, অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রেও এ একই বিধান প্রযোজ্য।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্য বস্তু ক্রয় করবে, সে তা মাপার আগে বিক্রি করতে পারবে না। বর্ণনাকারী তাউস বলেন, আমি ইবন আব্বাসের নিকট জিজ্ঞেস করলাম, এর কারণ কী? তিনি বললেন, তুমি কি দেখনি যে, লোকজন স্বর্ণ ও খাদ্যদ্রব্য বাকীতে ক্রয় করে? আবূ কুরায়ব 'বাকী' শব্দটি উল্লেখ করেননি।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ কানবী ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করলে তা পূর্ণ করায়ত্ব করার পূর্বে যেন বিক্রি না করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় দ্রব্য ক্রয় করতাম। তখন তিনি এ মর্মে আদেশ দিয়ে আমাদের নিকট লোক পাঠাতেন যে, এ মাল বিক্রি করার আগেই যেন ক্রয়ের জায়গা হতে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে তা পরিপূর্ণ করায়ত্বে নেয়ার আগে বিক্রি করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেনঃ আমরা কাফিলা থেকে দ্রব্য খরিদ করতাম। এরপর রসূলুল্লাহ আমাদেরকে (ﷺ) তা স্থানান্তরিত করার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে ততক্ষণ পর্যন্ত তা বিক্রি করতে পারবে না, যতক্ষণ না হস্তগত করে ও তাতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আলী ইবন হুজর .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক খাদ্যদ্রব্য খরিদ করে সে তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি করতে পারবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে আন্দাজ করে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে স্থান বদল করার পূর্বে বিক্রি করলে লোকদের শাস্তি দেয়া হত।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমলে লোকেরা অনুমান করে খাদ্যদ্রব্য খরিদ করে নিজেদের জায়গায় না নিয়েই ক্রয় স্থলে তা বিক্রি করার কারণে তাদের শাস্তি দেয়া হত। ইবন শিহাব উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা অনুমান করে খাদ্য বস্তু ক্রয় করত। এরপর তা বাড়ী নিয়ে আসত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে তা পরিমাপ করার আগে বিক্রি করতে পারবে না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি একদা মারওয়ানকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি সূদী কেনাবেচা বৈধ করে দিয়েছেন? মারওয়ান বললেনঃ না, আমি তো তা করিনি। আবূ হুরাইরাহ্ পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি রেশন কার্ড বিক্রি বৈধ করে দেননি? অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্যদ্রব্য পুরোপুরি হস্তগত করার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। এরপর মারওয়ান এক বক্তৃতায় তা বিক্রি করতে লোকদের নিষেধ করে দেন। রাবী সুলাইমান বলেনঃ আমি দেখলাম যে, মানুষের কাছ থেকে সরকারী কর্মচারীগণ রেশন কার্ড ফিরিয়ে নিচ্ছে।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন জুরায়জ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ তুমি যখন কোন খাদ্য বস্তু ক্রয় করো, তখন তা সম্পূর্ণরূপে বুঝে নেয়ার আগে বিক্রি করো না।

আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অজ্ঞাত পরিমাণ খেজুরের স্তুপ নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ধরনের বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তবে বর্ণনাকারী রাওহা হাদীসের শেষ অংশে খেজুরের কথা উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতার একজনের অপরের উপর (ক্রয়-বিক্রয় ভঙ্গ করার) ইচ্ছা-স্বাধীনতা থাকবে, যতক্ষণ তারা একে অপর থেকে আলাদা না হয়। তবে ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকলে তা ভিন্ন কথা।

যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র ... ইবন উমর থেকে, যুহায়র ইবন হারব ও আলী ইবন হুজুর এবং আবূ রাবী ও আবূ কামিল .... ইবন উমর থেকে, ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ উমার এবং ইবন রাফি .... ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উপরে উল্লিখিত নাফি থেকে মালিক এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... ইবন উমর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু'জন লোক পরস্পর কেনাবেচা করলে যতক্ষণ তারা একে অন্যের থেকে পৃথক না হয় বরং একত্রিত থাকে, ততক্ষণ তাদের প্রত্যেকেরই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার স্বাধীনতা থাকবে। কিংবা যদি একজন অপরজনকে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ইখতিয়ার প্রদান করে এবং এরূপ শর্তে ক্রয় বিক্রয় সমাধা হয় তবে এ ক্রয়-বিক্রয় ঠিক থাকবে। আর যদি ক্রয়-বিক্রয়ের পর তারা একজন অন্যজন থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং উভয়ের কোন একজন ক্রয়-বিক্রয় বাতিল না করে তবে তাও ঠিক থাকবে।

যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা যখন ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করে তখন তাদের প্রতেকেরই ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে সুযোগ থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা একে অন্যের থেকে পৃথক না হয়ে যায়। অথবা যদি ক্রয়-বিক্রয় খিয়ারের শর্তে (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় ঠিক রাখা না রাখার শর্ত) হয়ে থাকে তখনও খিয়ার বহাল থাকবে। ইবন আবূ উমারের বর্ণনায় আরো রয়েছে- নাফি বলেন, ইবন উমর যখন কারো সাথে ক্রয়বিক্রয় করতেন এবং তিনি তা বহাল রাখতে চাইতেন, তখন উঠে গিয়ে এদিক সেদিক কিছুক্ষণ হাটাহাটি করতেন, তারপর দ্বিতীয়পক্ষের নিকট আবার প্রত্যাৰ্তন করতেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... ইবন উমার (রামিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে কেনা-বেচা পুরোপুরি হবে না তারা পরস্পর আলাদা হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে; (পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও খিয়ার বহাল থাকবে)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আমর ইবন আলী .... হাকীম ইবন হিযাম সূত্রে, নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতার একজন আরেকজন থেকে পৃথক হওয়া পর্যন্ত খিয়ার থাকবে। উভয়ে যদি সত্য কথা বলে এবং দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে দেয় তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হবে। আর যদি তারা কেনা-বেচার মধ্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে তবে তাতে বরকত থাকবে না।

আমর ইবন আলী .... হাকীম ইবন হিযাম সূত্রে, নবী (ﷺ) থেকে এরকম হাদীস বর্ণনা করেন। মুসলিম ইবন হাজ্জাজ বলেন, হাকীম ইবন হিযাম কাবার ভিতরে ভূমিষ্ট হন ও একশ বিশ বছর বেচে থাকেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হজর ..... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জানাল যে, ক্রয়-বিক্রয়ে তাকে প্রতারিত করা হয়। তখন তিনি বললেনঃ তুমি যার সাথে কেনা-বেচা করবে তাকে বলবে, কোন প্রকার প্রতারণা থাকবে না। এরপর থেকে যখনই সে কিছু খরিদ করত, তখনই বলে দিত কোন প্রকার প্রতারণা থাকবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন দীনার হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এদের বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি নেই যে, "এরপর থেকে সে যখনই কিছু ক্রয় করত তখনই বলত কোন প্রকার প্রতারণা থাকবে না"।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফল উপযোগী হওয়ার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। নিষেধ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই।

ইবন নুমায়র .... ইবন উমার এর সূত্রে, নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

আলী ইবন হুজর সা'দী ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাকার আগে খেজুর বিক্রি করতে এবং সাদা হওয়ার আগে ও দুর্যোগ-মুক্ত হওয়ার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই তিনি নিষেধ করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পরিপক্ক হওয়ার আগে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পূর্বে তোমরা ফল ক্রয় করো না। বর্ণনাকারী বলেনঃ খাওয়ার যোগ্য হওয়ার অর্থ লাল বর্ণ ও হলদে বর্ণ ধারণ করা।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ উমার .... ইয়াহইয়া হতে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন, যতক্ষণ না তা পরিপক্ক হয়। এর পরবর্তী অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।

ইবন রাফি .... ইবন উমর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবদুল ওয়াহব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মালিক ও উবাইদুল্লাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পরিপক্ক হওয়ার আগে তোমরা ফল বিক্রি করো না।

যুহায়র ইবন হারব সুফইয়ান এর সূত্রে এবং ইবন মুসান্না শুবাহ সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন দীনার হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। অবশ্য শুবার বর্ণনায় এতটুকু অতিরিক্ত আছে যে, ইবন উমার এর কাছে পরিপক্ক হওয়ার অর্থ কী, জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পার হওয়া।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন অথবা তিনি বলেন, আমাদের নিষেধ করেছেন ফল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে তা বিক্রি করতে।

আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদিল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন ফল আহারযোগ্য হওয়ার আগেই বিক্রি করতে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূল বাখতারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর নিকট গাছে থাকা খেজুর বিক্রি বিষয়ে জানতে চাইলাম। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গাছের খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না তা খাওয়া যায় বা খাওয়ার যোগ্য হয় এবং ওজন করা যায়। রাবী বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে ওজন করবে? তখন তার পাশেই অবস্থানকারী জনৈক ব্যক্তি উত্তর দিল পরিমাণ করবে।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফল খাওয়ার উপযোগী হওয়ার আগে তোমরা ক্রয় করবে না।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইবন নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব ভিন্ন সূত্রে ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, খাওয়ার যোগ্য হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং শুকনা খেজুরের বিনিময়ে রসালো তাজা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

ইবন উমার বর্ণনা করেন, যায়দ ইবন সাবিত বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়া ধরনের কেনা-বেচার অনুমতি দান করেছেন।

আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি। বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ফল ক্রয় করো না খাওয়ার যোগ্য হওয়ার আগে এবং তাজা রসালো খেজুর খরিদ করো না শুকনো খেজুরের বিনিময়ে। ইবন শিহাব বলেনঃ সালিম তার পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমার এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন মুসাইয়্যিব হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ ও মুহাকালাহ নিষেধ করেছেন। মুযাবানাহ হল, গাছের খেজুর খুরমার (শুকনো খেজুর) বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা। আর মুহাকালাহ হল, ক্ষেতের শস্য অনুমান করে সংগৃহীত শস্যের বিনিময়ে বিক্রি করা এবং সংগৃহীত গমের পরিবর্তে জমি বর্গা দেয়া। ইবন শিহাব সালিম ইবন আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফল খাওয়ার যোগ্য হওয়ার আগে ক্রয় করো না। আর খুরমার বিনিময়ে তাজা খেজুর ক্রয় করো না। সালিম .... আবদুল্লাহ ইবন সাবিত সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর আরায়া' প্রক্রিয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে তাজা অথবা শুকনা খেজুরের ক্রয়-বিক্রয়ে অনুমতি দান করেছেন। এ ছাড়া অন্য কোন ফলের ব্যাপারে তিনি এমন অনুমতি দেননি।

ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়ার মালিককে এ অনুমতি দিয়েছেন যে, সে আরায়াকৃত গাছের তাজা খেজুর অনুমানের ভিত্তিতে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করতে পারবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়া পদ্ধতির অনুমতি প্রদান করেছেন। বাড়ীর মালিক আরায়া করা ফল অনুমান করে খুরমার বদলে রাখতে পারে তাজা রসযুক্ত খেজুর খাওয়ার জন্যে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি হতে একই সূত্রে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর সূত্রে উক্তরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি কিছু অতিরিক্ত বলেছেন যে, খেজুর গাছের আরায়া হল নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ কাউকে দান করা। এরপর তার ঐ গাছগুলোর খেজুর অনুমান করে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।

মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির .... যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়া পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয়ে অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। ইয়াহইয়া বলেন, আরায়া হলো নিজের পরিবারবর্গকে তাজা রসাল খেজুর খাওয়াবার জন্যে গাছের ঝুলন্ত খেজুর অনুমান দ্বারা পরিমাণ করে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে খরিদ করে রাখা।

ইবন নুমায়র .... যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দানকৃত খেজুর অনুমানে পরিমাপ করে বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।

ইবন মুসান্না .... উবাইদুল্লাহর সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন এবং বলেন, তা অনুমান করে নিবে।

আবূর রাবী, আবূ কামিল ও আলী ইবন হুজর .... নাফি সূত্রে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন যে, আরায়া প্রক্রিয়ার ক্রয়-বিক্রয় অনুমানের ভিত্তিতে করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুমোদন দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ কানবী .... সাহল ইবন আবূ হাসমাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শুকনা খেজুরের বদলে তাজা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ এটাই সুদ, এটাই 'মুযাবানাহ। অবশ্য তিনি আরায়াকৃত দু' একটা খেজুর গাছের খেজুর বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। বাড়ীর মালিক এর পরিমাণ অনুমান করে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে রেখে দিবে এবং তাজা ফল খাবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমহ .... বাশীর ইবন ইয়াসার এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণিত। তারা বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়াকৃত খেজুর গাছের ফল অনুমান করে খুরমার বিনিময়ে বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... বাশীর ইবন ইয়াসার এর সূত্রে তার মহল্লায় বসবাসকারী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন- বর্ণনাকার সাকাফী সুলাইমান ইবন বিলাল বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য ইসহাক ও ইবন মুসান্না 'সুদ' এর জায়গায় 'মুযাবানা' বলেছেন। আর ইবন আবী উমার বলেছেন "সুদ"।

আমর আন নাকিদ ও ইবন নুমায়র .... সাহল ইবন আবূ হাসমার সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উপরোক্ত বর্ণনায় অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও হাসান হুলওয়ানী .... রাফি ইবন খাদীজ ও সাহল ইবন আবূ হাসমাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) 'মুযাবানাহ্' শুকনা খেজুরের বদলে গাছের কাঁচা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু আরায়ার মালিকগণ ছাড়া। কেননা তাদেরকে তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরায়া প্রক্রিয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে ফলের পরিমাণ অনুমানের ভিত্তিতে পাচ ওয়াসাকের চেয়ে স্বল্প বা পাচ ওসকের ভেতরে করার জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। বর্ণনাকারী দাউদের এ ব্যাপারে সন্দেহ যে, কথা এভাবে বলেছেন- পাচ বা পাচের কম। তখন মালিক বললেন, হ্যা।

ইয়াহইয়া ইবন তামীমী .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ থেকে নিষেষ করেছেন। মুযাবানাহ হলো বৃক্ষের তাজা খেজুর পরিমাপ করে খুরমার বদলে বিক্রি করা এবং গাছের তাজা আঙ্গুর পরিমাপ করে কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রি করা।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .....আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুযাবানাহ করতে নিষেধ করেছেন। আর মুযাবানাহ হলো বৃক্ষের তাজা খেজুর অনুমানে খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা ও কাঁচা আঙ্গুর পরিমাপ নির্ধারণ করে কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রি করা এবং ক্ষেতের গম অনুমানে পরিমাপ করে সংগৃহীত গমের বিনিময়ে বিক্রি করা।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... উবাইদুল্লাহ সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন মাঈন, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হুসায়ন ইবন ঈসা .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিমি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। মুযাবানাহ্ হলো গাছের খেজুর পরিমাপ করে খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা এবং কাচা আঙ্গুর পরিমাপ করে কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রি করা। আর যে কোন ফল অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রি করতেও তিনি নিষেধ করেছেন।

আলী ইবন হুজর ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ নিষেধ করেছেন। মুযাবানাহ হলো গাছের মাথায় যে খেজুর আছে তার পরিমাণ অনুমান করে নির্ধারিত পরিমাণ শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা- এ শর্তের উপর যে, যদি বেশী হয় তবে তা আমার থাকবে। আর যদি কম হয় তবে সে ক্ষতি আমার উপরই আসবে।

আবূ রাবী ও আবূ কামিল .... আইয়্যুব এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ নিষেধ করেছেন। বাগানে যদি খেজুর গাছ থাকে তবে তার কাঁচা খেজুর পরিমাপ করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা। আর যদি আঙ্গুর থাকে তবে তা পরিমাপ করে কিশমিশের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা। আর যদি তা ক্ষেতের ফসল হয় তবে তার পরিমাণ অনুমান করে সে পরিমাণ খাদ্য ক্রয় করা- এসব করতে তিনি নিষেধ করেছেন। কুতাইবার অন্য বর্ণনায় রয়েছে "অথবা যদি তা ক্ষেতের ফসল হয়"।

আবূ তাহির, ইবন রাফি ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে নাফি হতে উক্ত সানাদে হাদীসটি অন্যান্যের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি খেজুরের রেনু প্রবিষ্ট করানো খেজুর গাছ বিক্রি করে তবে ঐ গাছের খেজুর বিক্রেতার প্রাপ্য। অবশ্য ক্রেতা যদি খেজুর নেয়ার শর্ত করে থাকে তবে তা তার হবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন নুমায়র ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন তাবিরকৃত খেজুর গাছ যদি মূলসহ ক্রয় করা হয় এবং ক্রেতা যদি ফল পাওয়ার শর্ত না দিয়ে থাকে, তবে তার ফল তাবিরকারীরই প্রাপ্য।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমহ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি খেজুর গাছে তাবির করার পর মূল গাছটি বিক্রি করে দিলে ঐ গাছের খেজুর তাবিরকারী পাবে, যদি ক্রেতা ফল পাওয়ার শর্ত করে না থাকে।

আবূর রাবী, আবূ কামিল ও যুহায়র ইবন হারব .... নাফির সূত্রে এ হাদীস ঐরকমই বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তাবিরকৃত খেজুর গাছ খরিদ করবে সে উক্ত গাছের ফল পাওয়ার শর্ত না করলে ঐ গাছের ফল বিক্রেতার প্রাপ্য এবং কেউ যদি গোলাম খরিদ করে এবং উক্ত গোলামের মাল পাওয়ার শর্ত না করে তবে সে মাল বিক্রেতারই প্রাপ্য।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব ..... যুহরী হতে উক্ত সানাদে এ হাদীস অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অনুরূপ বলতে শুনেছি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাকালাহ, মুযাবানাহ্, মুখাবারাহ ও পরিণত হওয়ার আগে ফল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। আর আরায়া প্রক্রিয়া ছাড়া দীনার ও দিরহামের বিনিময় ব্যতীত ফল বিক্রি করা যাবে না।

আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন- অতঃপর তিনি উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখাবারাহ, মুহাকালাহ, মুযাবানাহ এবং খাওয়ার যোগ্য হওয়ার পূর্বেই ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর দিরহাম ও দীনারের বিনিময়েই কেবল ফল বিক্রি করা যাবে, কিন্তু আরায়া প্রক্রিয়াটি স্বতন্ত্র (এতে ফলের বদলে ফল বিক্রয় চলবে)। আতা বলেনঃ ক্রয়-বিক্রয়ের ঐ ধরণগুলো সম্পর্কে জাবির আমাদেরকে খুলে বলেছেনঃ মুখাবারাহ হলোঃ এক ব্যক্তিকে শস্যহীন শুন্য ক্ষেত প্রদান করা হয়। এরপর সে তাতে ফসল উৎপন্ন করে তারপর মালিক উৎপন্ন ফসলে অংশগ্রহণ করে। আর মুযাবানাহ্ হলো- গাছের মাথায় থাকা তাজা খেজুর অনুমানে পরিমাপ করে খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা। আর মুহাকালাহ ফসলের মধ্যে অনুরূপ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে ক্ষেতের বিদ্যমান শস্যকে অনুমানে পরিমাপ করে ঘরে রাখা শস্যের বিনিময়ে বিক্রি করা।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাকালাহ, মুযাবানাহ, মুখাবানাহ, মুখাবারাহ এবং খেজুর লাল বা হলদে অথবা খাদ্যোপযোগী হওয়ার পূর্বে খরিদ করতে নিষেধ করেছেন। মুহাকালাহ হলো ক্ষেতের শস্য নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে বিক্রি করা। মুযাবানাহ্ হচ্ছে- গাছের খেজুর কয়েক অসক খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা। মুখাবারাহ বলা হয়- এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা এরূপ নির্দিষ্ট কোন অংশকে। যায়দ বলেনঃ আমি আতা ইবন আবূ রাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যা।

আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ, মুহাকালাহ, মুখাবারাহ এবং ফল পাকার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, আমি সাঈদকে জিজ্ঞেস করলাম পাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং খাওয়ার যোগ্য হওয়া।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার কাওয়ারীরী ও মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ গুবারী ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাকালাহ, মুযাবানাহ, মুআওয়ামাহ্ ও মুখাবারাহ নিষেধ করেছেন। দু'জনের একজনে বলেন, কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করার নাম মুআওয়ামাহ। তিনি (ﷺ) নিযেধ করেছেন কিছু অংশ বাদ দেয়া হতে আর অনুমতি দিয়েছেন আরায়ার বেলায়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও আলী ইবন হুজর ... জাবির এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ কথাটি উল্লেখ করেননি যে, কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করা হলো মুআওয়ামাহ্।

ইসহাক ইবন মানসূর ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে, কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করতে এবং ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ কামিল জাহদারী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন।

আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার কাছে জমি আছে সেটি তার চাষাবাদ করা উচিত। যদি সে নিজে তা না করে তবে যেন তার কোন ভাইকে চাষাবাদ করতে প্রদান করে।

হাকাম ইবন মূসা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবীর প্রয়োজনের চেয়েও বেশী জমি ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার নিকট প্রয়োজনের বেশী জমি আছে সে যেন তা চাষাবাদ করে অথবা তার কোন ভাইকে (চাষাবাদ করতে) দেয়। আর যদি সে তা না চায় তাহলে তার জমি সে আটকে রাখুক।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শ্রমের উপরে বা ফসলের অংশ দিয়ে জমি বর্গা নিতে নিষেধ করেছেন।

ইবন নুমায়র .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জমি আছে সে যেন তাতে চাষাবাদ করে। তা যদি সে না পারে অথবা অক্ষম হয়, তাহলে সে যেন তার অপর কোন মুসলিম ভাইকে (চাষাবাদ করতে) দেয়। কিন্তু বর্গা দিবে না।

শাইবান ইবন ফাররূখ হাম্মাম হতে বর্ণনা করেন যে, সুলাইমান ইবন মূসা আতা-কে জিজ্ঞেস করলেন আপনার নিকট জাবির ইবন আবদুল্লাহ কি এ কথা বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জমি আছে সে যেন তা চাষাবাদ করে অথবা তার অপর ভাইকে চাষ করার জন্যে দিয়ে দেয়। সেটা বর্গায় দিবে না। তিনি বললেন, হ্যা, তাই।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মুখাবারাহ নিষেধ করেছেন।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার নিকট অতিরিক্ত জমি আছে তার উচিত সেটি চাষাবাদ করা অথবা আবাদ করার জন্যে তার অপর ভাইকে দেয়া। তোমরা সেটা বিক্রি করো না। (রাবী বলেন) আমি সাঈদকে জিজ্ঞেস করলাম, বিক্রি করো না- এ কথা কি বর্গা দেয়া? তিনি বললেন, হ্যা, তা-ই।

আহমাদ ইবন ইউনুস ..... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে জমি বর্গায় নিতাম এবং প্রাপ্য হিসেবে শস্য মাড়াই করার পর ছড়ায় যা কিছু অবশিষ্ট থাকত তা এবং এ ধরনের সামান্য কিছু ভাগ পেতাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার জমি আছে সে সেটা আবাদ করুক অথবা তার অপর ভাইকে দিয়ে আবাদ করাক অন্যথায় সে নিজেই ধরে রাখুক।

আবূ তাহির .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমলে আমরা খালের সন্নিকটবর্তী জমিতে এক তৃতীয়াংশ ও এক চতুর্থাংশ ফসলের বিনিময়ে জমি বর্গা নিতাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তথায় দাড়িয়ে বললেন, জমি যার সে-ই তাতে চাষ করবে। আর যদি সে তা না করে তবে যেন তার ভাইকে আবাদ করতে দেয়। যদি তার ভাইকে তা না দেয়, তবে যেন তা আটকে রাখে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি- যার জমি আছে সে যেন তা দান করে অথবা সে যেন তা ধার দেয়।

হাজ্জাজ ইবন শাইর ... আমাশ এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। অবশ্য তিনি বলেছেন যে, সে যেন তা চাষ করে অথবা অন্য লোককে চাষ করতে দেয়।

হারূন ইবন সাঈদ আয়লী ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে নিযেধ করেছেন। বুকায়র নাফির সূত্রে ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের জমি বর্গায় দিতাম। এরপর রাফি ইবন খাদীজের হাদীস শুনে তা ছেড়ে দেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খালি জমি দু' বা তিন বছরের জন্যে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েক বছরের জন্য জমি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ইবন আবূ শাইবার বর্ণনায় আছে- কয়েক বছরের জন্যে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জমি আছে তার উচিত সে যেন তা চাষ করে অথবা তার অপর ভাইকে তা আবাদ করতে দেয়। এতে যদি সে রাজী না হয়, তাহলে তার জমি যেন সে আটকে রাখে।

হাসান হুলওয়ানী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মুযাবানাহ ও হুকুল থেকে নিষেধ করতে শুনেছেন। তখন জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, মুযাবানাহ্ হলো কাঁচা খেজুরের বিনিময়ে শুকনা খেজুর বদল করা। আর হুকুল হলো জমি বর্গা দেয়া।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাকালাহ ও মুযাবানাহ থেকে নিষেধ করেছেন।

আবূ তাহির .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানাহ্ ও মুহাকালাহ্ থেকে নিষেধ করেছেন। মুযাবানাহ্ হলো খেজুর গাছের মাথায় ঝুলে থাকা ফল ক্রয় করা, আর মুহাকালাহ হলো জমি ইজারা দেয়া।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ রাবী আতাকী .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুখাবারাহ করায় কোন দোষ মনে করতাম না। এভাবে যখন প্রথম বছর অতিবাহিত হলো, তখন রাফি বললেন, নবী (ﷺ) এ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আলী ইবন হুজর, ইবরাহীম ইবন দীনার ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমর ইবন দীনার হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য ইবন উয়াইনাহ্ বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত আছে যে- এরপর এ কারণে আমরা তা ছেড়ে দেই।

আলী ইবন হুজর .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাফি আমাদেরকে আমাদের জমি হতে ফায়দা হাসিল করা হতে বাধা দান করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার তার জমি ইজারা দিতেন নবী (ﷺ) এর যুগে এবং আবূ বকর, উমার, উসমান ও মুআবিয়াহ এর খিলাফাত কালের প্রথম যুগ পর্যন্ত। এরপর মুআবিয়াহ্ এর খিলাফাতের শেষ দিকে তার কাছে এ সংবাদ গেল যে, রাফি ইবন খাদীজ এ বিষয়ে নবী (ﷺ) এর নিষেধমূলক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবন উমার তার নিকট উপস্থিত হলেন। আমিও তার সাথে ছিলাম। এরপর তিনি তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি ইজারা দিতে নিষেধ করতেন। এরপরে ইবন উমার তা বাদ দেন। এরপর হতে যখন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হত, তিনি বলতেন- ইবন খাদীজ বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ থেকে নিষেধ করেছেন।

আবূর রাবী, আবূ কামিল ও আলী ইবন হুজর .... আইয়্যুব হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। ইবন উলাইয়্যার বর্ণনায় আইয়ূব বাড়তি আরও বলেছেন যে, এরপর ইবন উমার তা পরিত্যাগ করেন এবং আর কখনও জমি ইজারা দেননি।

ইবন নুমায়র .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আমি ইবন উমারের সাথে রাফি ইবন খাদীজের নিকট গেলাম। বালাত নামক স্থানে তার সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি তাকে অবহিত করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন।

ইবন আবূ খালাফ ও হাজ্জাজ ইবন শা-ইর .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি একবার রাফির নিকট আসেন। এরপর নবী (ﷺ) এর এ হাদীস উল্লেখ করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার জমি বর্গ দিতেন। নাফি বলেন, এরপর রাফি বর্ণিত একটি হাদীস তাকে জানান হলো। রাবী বলেন, তিনি আমাকে সাথে নিয়ে তার নিকট গেলেন। তিনি তার কোন চাচার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করলেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) জমি বর্গ দিতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, এরপর থেকে ইবন উমার এ কাজ ত্যাগ করেন এবং আর কোন সময় জমি বর্গা দেননি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আওন থেকে উক্ত হাদীস বর্ণিত। রাবী বলেন, এরপর তিনি তার চাচার সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স ইবন সা'দ .... সলিম ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার নিজের জমি বর্গা দিতেন। পরে তার কাছে এ সংবাদ পৌছল যে, রাফি ইবন খাদীজ আনসারী জমি বর্গ দিতে নিষেধ করে থাকেন। আবদুল্লাহ তার সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করেন, হে ইবন খাদীজ! জমি বর্গার ব্যাপারে আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কি হাদীস বর্ণনা করেছেন? রাফি ইবন খাদীজ আবদুল্লাহকে বললেন, আমি আমার দু'জন চাচার নিকট শুনেছি- যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা পরিবার-পরিজনের নিকট বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গ দিতে নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে আমি ভাল করেই জানতাম যে, জমি বর্গ দেয়া যায়। এরপর আবদুল্লাহ ভীত হলো যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হয়তো এমন কিছু বলেছেন, যা তিনি জানতে পারেননি। সুতরাং তিনি জমি বর্গা দেয়া ত্যাগ করেন।

আলী ইবন হুজর সা'দী ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... রাফি খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে জমির মুহাকালাহ করতাম এবং এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে ইজারা দিতাম। এরপর এক সময় আমার এক চাচা আমাদের নিকট এসে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এমন একটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন যা আমাদের জন্যে লাভজনক ছিল। আর আল্লাহ ও তার রসূলের কথা মেনে চলা আমাদের জন্যে অধিক কল্যাণকর। তিনি আমাদেরকে জমি মুহাকালাহ্ করতে এবং এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। আর জমির মালিককে নিজে চাষ করতে বা অপরের দ্বারা চাষ করাতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইজারা বা অন্য কিছু করার বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জমির মুহাকালাহ করতাম এবং এক তৃতীয়াংশ ও এক চতুর্থাংশের বিনিময়ে ইজারা দিতাম। এরপর ইবন উলাইয়্যার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, আমর ইবন আলী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইয়ালা ইবন হাকীম এর সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আবূ তাহির .... রফি'র সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। কিন্তু তাতে তার কোন এক চাচার কথা বলেননি।

ইসহাক ইবন মানসূর .... রাফি হতে বর্ণিত যে, যুহায়র ইবন রাফি তার চাচা হন। রাফি বলেন, যুহায়র একদা আমার নিকট এসে বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এমন একটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন যা আমাদের জন্যে ছিল লাভজনক। আমি বললাম, তা কী? রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তাই যথার্থ। তিনি বললেন, আমার নিকট তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, কিভাবে তোমরা মুহাকালাহ করো? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা খালের সন্নিকটবর্তী জমির ফসলের শর্তে কিংবা খুরমা বা যবের কয়েক অসক প্রদানের শর্তে জমি বর্গা দিয়ে থাকি। তিনি বললেন, আর এরূপ করো না। তোমরা নিজেরা চাষ করো অথবা অপরকে দিয়ে চাষ করাও, তা না হলে এমনি রেখে দাও।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... রাফি সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। কিন্তু এতে তার চাচা যুহায়রের নাম উল্লেখ করেননি।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হানযালাহ্ ইবন কায়স এর সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি রাফি ইবন খাদীজের নিকট জমি বর্গা দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, তখন আমি বললামঃ স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়েও কি নিষেধ? তিনি বললেন, স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে হলে কোন সমস্যা নেই।

ইসহাক .... হানযালাহ ইবন কায়স আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাফি ইবন খাদীজকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি বর্গা দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, এতে কোন সমস্যা নেই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমলে লোকেরা পানির ঝর্ণার পার্শ্ববর্তী অংশ, খালের অগ্রভাগের ভেজা অংশ ও ক্ষেতের অন্যান্য সুবিধা নেয়ার শর্তে জমি বর্গা দিত। এতে কখনও এক অংশ বিনষ্ট হত ও অপর অংশ ভাল থাকত। আবার কখনও এ অংশ ভাল থাকত আর অপর অংশ বিনষ্ট হত। আর এ ধরনের বর্গায় বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই হত না। এ কারণে তিনি এ থেকে নিষেধ করেন। আর যদি নির্দিষ্ট পরিমাণের (স্বর্ণ-রৌপ্যের) বিনিময়ে বর্গা দেয়া হয়, তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই।

আমর আন্‌ নাকিদ .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জমির মালিক ছিলাম। এ শর্তে আমরা জমির ইজারা দিতাম যে, এ অংশ আমাদের আর ঐ অংশ তাদের। এরপর অনেক সময় এ অংশে ফসল ফলত আর ঐ অংশে কিছুই ফলত না। এরপর নবী (ﷺ) এ কাজ থেকে আমাদেরকে নিষেধ করেন। আর রৌপ্যের বিনিময়ে ইজারা দিতে তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেননি।

আবূর রাবী ও ইবন মুসান্না .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন সায়িব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন মা'কালের নিকট মুযারাআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বললেন, সাবিত ইবন যাহহাক আমাকে জানিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযারাআ থেকে নিষেধ করেছেন। (এ নিষেধাজ্ঞা জমির নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসলের শর্তে হলে হবে। তবে খাইবারের ভূমি বর্গাচাষের হাদীস থেকে বর্গাচাষ বৈধ প্রমাণিত) ইবন আবূ শাইবাহ্‌র বর্ণনায় কথাটি এরূপ আছে যে, তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন- আমি ইবন মা'কালের নিকট জিজ্ঞেস করেছি। তিনি আবদুল্লাহর নাম বলেননি।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন সায়িব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন মা'কালের নিকট উপস্থিত হই এবং মুযারাআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, সাবিত বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযারাআহ করতে নিষেধ করেছেন এবং ইজারা দিতে আদেশ করেছেন আর বলেছেন- এতে কোন সমস্যা নেই।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আমর এর সূত্রে বর্ণিত যে, মুজাহিদ তাউসকে বললেনঃ আপনি আমাদের সাথে ইবন রাফি ইবন খাদীজের নিকট চলুন এবং তার পিতার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হাদীসটি শুনুন। রাবী আমর বলেন, তখন রাবী তাউস মুজাহিদকে তিরস্কার করে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি জানতাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন- তবে আমি তা করতাম না। কিন্তু তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী ইবন আব্বাস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পক্ষে তার কোন জমি অপর ভাইকে স্বেচ্ছায় চাষাবাদ করতে দেয়া তার উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসলের চুক্তিতে দেয়া অপেক্ষা ভাল।

ইবন আবূ উমার .... তাউস হতে বর্ণিত যে, তিনি মুখাবারাহ করতেন। আমর বলেন, আমি তাকে বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান! আপনি যদি এ মুখাবারাহ করা ছেড়ে দিতেন (তবে তা সুন্দর হত)। কেননা লোকেরা মনে করে যে, নবী (ﷺ) মুখাবারাহ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বললেন, হে আমর! তাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ইবন আব্বাস, তিনি আমাকে বলেছেন যে, নবী (ﷺ) এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি। তিনি শুধু বলেছেন, তোমাদের কোন ভাইকে কোন বিনিময় গ্রহণ ছাড়াই জমি চাষাবাদ করতে দেয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসলের চুক্তিতে দেয়া অপেক্ষা উত্তম।

ইবন আবূ উমার, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ও আলী ইবন হুজর .... ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আবদ ইবন হুমায়দ ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কারো ভূমি তার অপর ভাইকে নিঃস্বার্থভাবে চাষাবাদ করতে দেয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসলের বদলে দেয়ার চেয়ে উত্তম। রাবী বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেনঃ এটাকেই বলা হয় 'হাকল', আর আনসারদের পরিভাষায় বলা হয় "মুহাকালাহ্।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিয়ী .... ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার জমি আছে সে যদি তা অপর ভাইকে নিঃস্বার্থভাবে চাষাবাদ করতে দেয় তবে সেটি তার জন্যে উত্তম।