bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

বিভিন্ন ফিতনাহ ও কিয়ামতের লক্ষনসমূহ (৭১২৮-৭৩০৭)

আমর আন্‌ নাকিদ .... যাইনাব বিনতু জাহশ থেকে বর্ণিত। একদিন নবী (ﷺ) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ "লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ'-এর নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত ফিতনায় আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ ইয়াজুজ-মাজুজ এর দেয়াল এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় সুফইয়ান নিজ হাত দ্বারা দশের গিট বানালেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে নেক লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে হবে।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ, সাঈদ ইবন আমর আল আশআসী, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবু উমর .... যুহরী হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী যাইনাব বিনতু জাহশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলেন। তখন তার বারাকাতময় চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করলো। তিনি বলছিলেন, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ'। আরব বিশ্বের আগত অকল্যাণের দরুন বড়ই পরিতাপ যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। আজ ইয়াজুজ মাজুজ এর প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ সময় তিনি তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত অঙ্গুলির দ্বারা বেড় বানালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাদের মাঝে অনেক সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব? তিনি বললেন, হ্যা, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, আমর আন নাকিদ .... ইবন শিহাব থেকে ইউনুস এর সানাদে যুহরী বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবন শাইবাহ .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আজ ইয়াজুজ ও মাজুজ পরিবেষ্টিত প্রাচীর এ পরিমাণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ সময় রাবী উহায়ব নিজ হাতের দ্বারা নব্বই সংখ্যার গিরা বা বেড়ী তৈরি করে দেখালেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উবাইদুল্লাহ ইবন কিবতিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবন আবূ রাবীআহ এবং আবদুল্লাহ ইবন সুফইয়ান দু'জনেই উম্মু সালামাহ্ এর কাছে গেলেন। আমিও তাদের সঙ্গে ছিলাম। তারা তাকে ঐ বাহিনী সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন, যারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে। তখন ইবন যুবায়র এর খিলাফতকাল ছিল। উত্তরে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তার বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করা হবে। তারা যখন "বাইদা" নামক এক মাঠে অবস্থান নিবে তখন তারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ঐ লোকের ব্যাপারে এ কি করে প্রযোজ্য হতে পারে যে অসন্তুষ্ট হৃদয়ে এ অভিযানে শামিল হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের সঙ্গে তাকে সহ ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তবে কিয়ামতের দিন তার উত্থান হবে স্বীয় নিয়াতের ভিত্তিতে। বর্ণনাকারী আবু জাফার বলেন, এ "বাইদা" হলো মদীনার নিকটবর্তী স্থান।

আহমাদ ইবন ইউনুস .... আবদুল আযীয ইবন রুফাই হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাতে আছে, আমি আবু জাফার এর সঙ্গে দেখা করে বললাম, উম্মু সালামাহ্ তো "বাইদা" নামক এক ময়দানের কথা বলেছেন। আবূ জাফার বললেন, কক্ষনো নয়, আল্লাহর শপথ! এতো মদীনার "বাইদা" মাঠ।

আমর আন্‌ নাকিদ ও ইবন আবূ উমার .... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, একটি বাহিনী এ কাবা গৃহের বিপক্ষে যুদ্ধ করার ইচ্ছা করবে। তারপর তারা যখন "বাইদা" নামক এক ময়দানে পদার্পণ করবে তখন তাদের মাঝের অংশটি ভূমিতে ধ্বসে যাবে। এ সময় অগ্রভাগের সৈন্যরা পশ্চাতের সৈন্যদেরকে উচ্চঃস্বরে ডাকতে থাকবে। অতঃপর প্রত্যেকেই ভূমিতে ধ্বসে যাবে। বেচে যাওয়া একটি ব্যক্তি ছাড়া তাদের কেউ আর বাকী থাকবে না। সে-ই তাদের সম্বন্ধে অন্যদেরকে খবর দিবে। এ কথা শুনে এক লোক বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি হাফসাহ এর উপর মিথ্যারোপ করনি এবং হাফসাহ এর সম্বন্ধে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিও নবী (ﷺ) এর উপর মিথ্যারোপ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমূন .... হাফসাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন সম্প্রদায় এ গৃহ তথা কাবার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে না, থাকবে না তার উল্লেখযোগ্য সৈন্য সংখ্যা এবং থাকবে না তাদের আসবাব-সামগ্রী। তাদের বিপক্ষে একটি সৈন্যদল পাঠানো হবে। তারা উদ্ভিদ শূন্য এক ময়দানে আসতেই তাদেরকে ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। বর্ণনাকারী ইউসুফ বলেন, এ সময় সিরিয়াবাসীরা মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আসছিল। আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ। তারা এ সৈন্যবাহিনী নয়। বর্ণনাকারী যায়দ থেকে ইউসুফ ইবন মাহিক-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ান যে সৈন্যদলের কথা বর্ণনা করেছেন তিনি সে বাহিনীর কথা বর্ণনা করেননি।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত পা নাড়ালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আজ রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আপনি এমন আচরণ করেছেন, যা আগে আপনি কখনো করেননি। তিনি বললেনঃ আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কুরায়শ বংশীয় জনৈক লোক বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তার কারণে আমার উম্মাতের একদল লোক বাইতুল্লাহর উপর আক্রমণের ইচ্ছা করবে। তারা রওনা হয়ে গাছপালাশূন্য ময়দানে আসতেই তাদের ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! বিভিন্ন ধরনের মানুষই তো রাস্তা দিয়ে চলে। উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যা, তাদের মাঝে কেউ তো স্বেচ্ছায় আগমনকারী, কেউ অপারগ, আবার কেউ পথিক মুসাফির। তারা সবাই এক সঙ্গেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন মিল্লাতের অনুসারী হিসেবে তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের নিয়াতের ভিত্তিতে উখিত করবেন।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবু উমর ..... উসামাহ্ থেকে বর্ণিত। একদিন নবী (ﷺ) মদীনার সুউচ্চ এক অট্টালিকার উপর আরোহী হয়ে বললেন, আমি যা কিছু দেখি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগ নিপতিত হবার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি।

আব্‌দ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণিত আছে।

আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই এমন ফিতনাহর আত্মপ্রকাশ হবে, যখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর দণ্ডায়মান ব্যক্তি তখন চলমান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। যে ব্যক্তি সে ফিতনায় যখন জড়িয়ে পড়বে তাকে সে ফিতনাহ ধ্বংস করে দিবে। আর যে ব্যক্তি কোন আশ্রয়স্থল পাবে, তার সেটা দ্বারা আশ্রয় নেয়া বাঞ্ছনীয়।

আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... নাওফাল ইবন মুআবিয়াহ্ থেকে আবু হুরাইরাহ এর এ হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবু বাকর এতে সালাতের কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সালাতসমূহের মধ্যে এমন একটি সালাত আছে যার সে সালাত ছুটে গেল তার যেন পরিবার-পরিজন এবং সমুদয় ধন-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, অচিরেই ফিতনাহ দেখা দিবে। তখন ঘুমন্ত লোক জাগ্রত লোক থেকে ভাল থাকবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি তখন দাড়ানো ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে এবং দণ্ডায়মান লোক দ্রুতগামী লোক হতে তখন ভাল থাকবে। তখন যদি কোন লোক আশ্রয়স্থল অথবা মুক্তস্থান পায় তবে তাতে তার আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।

আবু কামিল আল জাহদারী ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... উসমান আশ শাহহাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিম ইবন আবূ বকরাহ্ তার স্বীয় ভূমিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি ও ফারকাদ সাবাখী তার নিকট গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে বিপদাপদ সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যা! আমি আবূ বকরাহ্ কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই দুর্যোগ দেখা দিবে। সাবধান, সেখানে ফিতনাহ দেখা দিবে। তখন বসে থাকা লোক চলমান লোক থেকে নিরাপদ থাকবে। আর চলমান লোক তখন দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে। সাবধান যখন ফিতনাহ আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে কি করবে? জবাবে তিনি বললেন, সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যদি চাপ সৃষ্টি করে দু' সারির কোন একটিতে অথবা দু' দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উসমান আশ শাহহাম হতে এ সূত্রে ইবন আবূ আদী এর হাদীসটি হাম্মদ এর হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। কিন্তু "নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক" পর্যন্ত ওয়াকী এর হাদীসটি সমাপ্ত হয়েছে। এর পরবর্তী অংশটি তিনি আর বর্ণনা করেননি।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... আহনাফ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি বের হলাম। এ লোকটিকে সহযোগিতা করা আমার অভিপ্রায় ছিল। এমন সময় আবু বাকরাহ এর সঙ্গে আমার দেখা হলো। তখন তিনি বললেন, হে আহনাফ! তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাচাত ভাই আলী-কে সহযোগিতা করার জন্য আমি যেতে চাচ্ছি। আহনাফ বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আহনাফ চলে যাও। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, যখন দু'জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধ করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি দু'জনেই জাহান্নামী হবে। এ কথা শুনে আমি বললাম অথবা বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ) হত্যাকারীর অবস্থা তো এ-ই, তবে নিহত ব্যক্তির অপরাধ কি? জবাবে তিনি বললেন, সে তার সাথীকে হত্যা করার প্রচেষ্টায় জড়িয়ে ছিল।

আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ আয যাব্বী .... আবূ বকরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি দু'জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে হত্যাকারী ও নিহত দু' ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আইয়্যুব হতে এ সূত্রে আবূ কামিল এর সানাদে হাম্মাদ এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবু বাকরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি দু'জন মুসলিমের একজন তার অন্য ভাইয়ের উপর অস্ত্র ধারণ করে তবে তারা দু'জনেই জাহান্নামের প্রান্তে এসে উপনীত হয়। তারপর যখন তাদের একজন তার অন্য সাথীকে হত্যা করে ফেলে, তখন তারা উভয়েই জাহান্নামে প্রবেশ করে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ঐ পর্যন্ত কায়িম হবে না, যে পর্যন্ত না দু'টি বড় দল পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হবে। অথচ তাদের উভয়ের দাবী হবে একই।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত কায়িম হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না 'হারজ' বেড়ে যায়। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! হারজ কি? উত্তরে তিনি বললেন, হত্যা, হত্যা।

আবু রাবী আল আতাকী ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সম্মুখে রেখে দিলেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব পৌছবে। আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দু' প্রকারের গুপ্তধন দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে এ দোয়া করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধবংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ছাড়া এমন কোন শক্ৰকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিবে। এ কথা শুনে আমার পালনকর্তা বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো পরিবর্তন হয় না, আমি তোমার দোয়া কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক একত্রিত হয়ে প্রচেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ নিজেদের মধ্যে পরস্পর একে অপরকে হত্যা করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।

যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... সাওবান থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তাআলা আমার সম্মুখে উপস্থিত করলেন। আমি এর পূর্বপ্রান্ত হতে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দেখে নিলাম। আল্লাহ তাআলা আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দু'টি ধন-ভাণ্ডার দান করেছেন। অতঃপর কাতাদাহ আইয়্যুব এর সূত্রে আবূ কিলাবাহ্ হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইবন নুমায়র .... সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আলিয়াহ্ হতে এসে বানু মুআবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের সন্নিকটে গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ সময় দোয়া করলেন এবং দোয়া শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মাতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দোয়া কবুল করেছেন। তার নিকট এ-ও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দোয়াও কবুল করেছেন। আমি তার নিকট এ মর্মেও দোয়া করেছিলাম যে, যেন মুসলিমরা পরস্পর একে অপরের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি আমার এ দোয়া কবুল করেননি।

ইবন আবূ উমার .... আমির ইবন সা'দ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি সাহাবাদের একটি দলের মাঝে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কোথাও থেকে আসলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু মুআবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইবন নুমায়র এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আবু ইদরীস খাওলানী বলতেন, হুযাইফাহ ইবন ইয়ামান বলেন, আমার ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ের মাঝে ঘটমান বিপদাপদ সম্পর্কে আমি সর্বাধিক জ্ঞাত। বস্তুতঃ বিষয়টি এমন নয় যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্যদের কাছে বর্ণনা না করে শুধুমাত্র আমার কাছেই এ ব্যাপারটি বর্ণনা করেছেন। তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। এতে তিনি ফিতনার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করছিলেন। আর এগুলোর তিনটি এমন, যা কোন কিছুকেই ছাড় দিবে না। এর কিছু সংখ্যক গ্রীষ্মের ঝঞা বায়ুর মতো। আবার কিছু সংখ্যক ছোট এবং কিছু সংখ্যক বড়। হুযাইফাহ্ বলেন, উক্ত মাজলিসে উপস্থিত লোকেদের মধ্যে আমি ছাড়া প্রত্যেকেই এ দুনিয়া হতে চির বিদায় নিয়েছেন।

উসমান ইবন আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সকল বিষয় ফিতনার কথা বর্ণনা করলেন। তারপর যে স্মরণ রাখবার সে স্মরণ রাখল এবং যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেল। তিনি বলেন, আমার এ সঙ্গীগণ জানেন যে, তন্মধ্যে কতক বিষয় এমন আছে, যা আমি ভুলে গেছি। কিন্তু সেটা সংঘটিত হতে দেখে আমার তা আবার মনে পড়ে যায়। যেরূপ কোন লোক দূরে চলে গেলে তার চেহারার কথা মানুষ ভুলে যায়। অতঃপর তাকে দেখে সে চিনে নেয়।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ হতে এ সূত্রে "যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে" পর্যন্ত অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফইয়ান বর্ণনা করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, আবু বকর ইবন নাফি .... হুযাইফাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমুদয় ফিতনা্ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। ফিতনাহ সম্পৰ্কীয় কতক বিষয় সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তবে মদীনাবাসীকে কোন কারণে মদীনাহ হতে বের করা হবে সে সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করিনি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ্ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী ও হাজ্জাজ ইবন আশ শাইর .... আবূ যায়দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর মিম্বারে আরোহণ করে ভাষণ দিলেন। পরিশেষে যুহরের সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি মিম্বার হতে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর পুনরায় মিম্বারে উঠে তিনি ভাষণ দিলেন। এবার আসরের সালাতের ওয়াক্ত হলে তিনি মিম্বার থেকে নেমে সালাত আদায় করে পুনরায় মিম্বারে উঠলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবাহ্ দিলেন, এমনকি সূর্যাস্ত হয়ে গেল, এ ভাষণে তিনি আমাদেরকে পূর্বে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে ইত্যকার সম্বন্ধে সংবাদ দিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যে লোক এ কথাগুলো সর্বাধিক মনে রেখেছেন আমাদের মধ্যে এ সম্বন্ধে তিনিই সবচেয়ে বেশী জানেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন আলা আবু কুরায়ব ..... হুযাইফাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমর এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনাহ বিষয়ক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী তোমাদের কার মনে আছে? আমি বললাম, আমার মনে আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ব্যস! তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বলো! তারপর আমি বললাম, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, স্বীয় নাফস, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় জড়িত হয়, তার সিয়াম, সালাত, সাদাকা এবং সৎকার্যের আদেশ ও অসৎকার্যে বাধা দানই হলো এগুলোর জন্য কাফফারাহ। এ কথা শুনে উমর বললেন, আমি তো এ ফিতনার ব্যাপারে শুনতে চাইনি বরং সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো যে ফিতনাহ নিপতিত হতে থাকবে, আমি তো শুধু তাই শুনতে চেয়েছি। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনাহ ও আপনার মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ দ্বার কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না, খোলা হবে না, বরং ভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে উমার বললেন, তবে তো তা আর কক্ষনো বন্ধ হবে না। বর্ণনাকারী শাকীক বলেন, আমরা হুয়াইফাহ কে প্রশ্ন করলাম, কে সে দ্বার, উমার তা কি জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা, আগামী দিনের পর রাত্র, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রুপ ঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুয়াইফাহ বলেন, আমি তাকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক বলেন, কে সে দরজা, এ বিষয়ে হুযাইফাহ্ কে প্রশ্ন করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরুক কে বললাম, আপনি তাকে প্রশ্ন করুন। তিনি হুযাইফাহ কে প্রশ্ন করলেন। হুযাইফাহ বললেন, এ দরজা হচ্ছে স্বয়ং উমার।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, উসমান ইবন আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন আবূ উমর ..... আমাশ হতে এ সূত্রে আবু মুআবিয়ার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা এর সানাদে শাকীক হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি হুয়াইফাহ্-কে এ কথা বলতে শুনেছি।

ইবন আবু উমর .... হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার বললেন, ফিতনাহ সম্পকীয় হাদীস আমাকে কে শুনাতে পারবে? তারপর সুফইয়ান পূর্ববর্তীদের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুনদুব বললেন, আমি জারাআয় (কুফার সন্নিকটবর্তী একটি স্থানে) আসলাম। দেখলাম এক লোক বসে আছে। আমি বললাম, আজ তো এখানে কয়েকটি খুন হবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, কক্ষনো না। আল্লাহর শপথ খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। সে আবারো বলল, আল্লাহর শপথ! কক্ষনো খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। আবার সে বলল, আল্লাহর শপথ খুন কক্ষনো হবে না। এ ব্যাপারে আমি একটি হাদীস শুনেছি, যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আজ থেকে তুমি আমার একজন অপ্রীতিকর সঙ্গী। কারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ যে, আমি তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছি। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস শুনা সত্ত্বেও তুমি আমাকে নিষেধ করছ না। তারপর আমি বললাম, এ অসন্তুষ্টির কি কারণ? তাই আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম পরে জানতে পেলাম, তিনি হলেন হুযাইফাহ।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না ফুরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দেয়। লোকেরা এ নিয়ে যুদ্ধ করবে এবং একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন মৃত্যুবরণ করবে। তাদের সকলেই বলবে, আমার মনে হয় আমি জীবন্ত থাকব।

উমাইয়্যাহ ইবন বিস্‌তাম .... সুহায়ল থেকে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তোমরা ঐ পাহাড় দেখো তবে তোমরা এর নিকটেও যেও না।

আবূ মাসউদ সাহল ইবন উসমান .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থত স্বর্ণভাণ্ডার বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে।

সাহল ইবন উসমান .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থত পাহাড়সম স্বর্ণ বের করে দিবে। তাই এ সময় যারা সমুপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে।

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন ও আবু মান আর রাকাশী .... আবদুল্লাহ ইবন হারিস ইবন নাওফাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবন কা'ব এর সাথে দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতঃ মানুষ জাগতিক সম্পদ উপার্জনের কাজে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। আমি বললাম, হ্যা, ঠিকই। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থিত স্বর্ণসম পর্বত বের করে দিবে। এ কথা শুনামাত্রই লোকজন সেদিকে চলতে রওনা হবে। সেখানকার লোকেরা বলবে, আমরা যদি লোকদেরকে ছেড়ে দেই তবে তারা সমস্ত কিছুই নিয়ে চলে যাবে। এ নিয়ে তারা পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং এতে একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন লোকই নিহত হবে। বর্ণনাকারী আবু কামিল তার হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, আমি এবং উবাই ইবন কা'ব হাসসান এর কিল্লার ছায়ায় দাড়িয়ে ছিলাম

উবায়দ ইবন ইয়াঈশ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইরাক তার রৌপ্য মুদ্রা এবং কাফীয দিতে বারণ করবে। সিরিয়াও তার মুদ এবং স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাবে। অনুরূপভাবে মিসরও তাদের আরদাব এবং স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাবে। পরিশেষে তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। এ কথার প্রতি আবু হুরাইরাহ এর রক্ত-গোশত সাক্ষ্য দিচ্ছে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না রোমীয় (সিরিয়ার অন্তর্গত) সেনাবাহিনী আমাক অথবা দাবিক নহরের কাছে অবতীর্ণ হবে। তখন তাদের মুকাবিলায় মদীনাহ হতে এ দুনিয়ার সর্বোত্তম মানুষের এক দল সৈন্য বের হবে। তারপর উভয় দল সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবার পর রোমীয়গণ বলবে, তোমরা ঐ সমস্ত লোকেদের থেকে পৃথক হয়ে যাও, যারা আমাদের লোকেদেরকে বন্দী করেছে। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমগণ বলবে, আল্লাহর শপথ আমরা আমাদের ভাইদের থেকে কক্ষনো সম্পর্কচ্ছেদ করব না। পরিশেষে তাদের পরস্পর যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধে মুসলিমদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পলায়নপর হবে। আল্লাহ তাআলা কক্ষনো তাদের তওবা্ গ্রহণ করবেন না। সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে এবং তারা হবে আল্লাহর কাছে শহীদানের মাঝে সর্বোত্তম শহীদ। আর সৈন্যদের অপর তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে। জীবনে আর কক্ষনো তারা ফিতনায় আক্রান্ত হবে না। তারাই কুম্ভনতিনিয়া বিজয় করবে। তারা নিজেদের তলোয়ার যাইতুন বৃক্ষে লটকিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভাগ করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে শয়তান উচ্চঃস্বরে বলতে থাকবে, দাজ্জাল তোমাদের পেছনে তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ কথা শুনে মুসলিমরা সেখান থেকে বের হবে। অথচ এ ছিল মিথ্যা সংবাদ। তারা যখন সিরিয়া পৌছবে তখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে। যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করা মাত্র সালাতের সময় হবে। অতঃপর ঈসা অবতরণ করবেন এবং সালাতে তাদের ইমামাত করবেন। আল্লাহর শত্রু তাকে দেখামাত্রই বিচলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়। যদি ঈসা তাকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তাআলা ঈসা এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ঈসা এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে দেখিয়ে দিবেন।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... মুসতাওরিদ আল কুরাশী থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবন আস এর নিকট বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, রোমীয়দের সংখ্যা যখন সবচেয়ে বেশী হবে তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ কথা শুনা মাত্র আমর ইবন আস তাকে বললেন, কি বলছ, চিন্তা-ভাবনা করে বলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যা শুনেছি আমি তাই বর্ণনা করছি। তারপর আমর ইবন আস বললেন, তুমি যদি বলো, তবে সত্যই বলছ। কেননা তাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে। প্রথমতঃ ফিতনার সময় তারা সবচেয়ে বেশী ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ মুসীবাতের পর দ্রুত তাদের মধ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তৃতীয়তঃ যুদ্ধ থেকে পলায়নের পর সর্বপ্রথম তারা আক্রমণ করতে সক্ষম হয় এবং, চতুর্থতঃ মিসকীন, ইয়াতীম ও দুর্বলের জন্য তারা সবচেয়ে বেশী শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর পঞ্চমতঃ সুন্দর গুণটি হলো এই যে, তারা শাসকবর্গের অত্যাচারকে অধিক প্রতিহত করে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... মুসতাওরিদ আল কুরাশী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যখন রোমীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হবে তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ খবর আমর ইবন আস এর কাছে পৌছার পর তিনি বললেন, এ কোন্‌ ধরনের হাদীস, যে সম্পর্কে লোকেরা বলছে যে, এ নাকি তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করছ? উত্তরে মুসতাওরিদ তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি আমি তাই বলছি। এ কথা শুনে আমর বললেন, তুমি যদি বলে থাকো তা ঠিকই আছে। কেননা তারা ফিতনার সময় সবচেয়ে বেশী ধৈর্য ধারণ করে এবং মুসীবাতের পর আবার দ্রুত তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তারা সর্বদা মিসকীন এবং অক্ষম মানুষের জন্য অধিক শুভাকাঙ্ক্ষী।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও আলী ইবন হুজর .... ইউসায়র ইবন জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কুফা নগরীতে লাল ঝঞ্ঝা বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো। এমন সময় জনৈক লোক কুফায় এসে বলল যে, হে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ সতর্ক হও, কিয়ামত এসে গেছে। (আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ) তিনি বসে রইলেন যেমন তিনি বসে ছিলেন, বললেন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষণ না মানুষেরা গনীমাতের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ না করবে। তারপর তিনি নিজ হাত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইশারা করে বললেন, আল্লাহর শত্রুরা একত্রিত হবে মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এবং মুসলিমগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য একত্রিত হবে। এ কথা শ্রবণে আমি বললাম, আল্লাহর শত্রু বলে আপনাদের উদ্দেশ্য হলো রোমীয় (খ্ৰীষ্টান) সম্প্রদায়। তিনি বললেন, হ্যা! এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম জাতি একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্য সম্মুখে এগিয়ে যাবে। বিজয় অর্জন করা ছাড়া তারা প্রত্যাবর্তন করবে না। এরপর পরস্পর তাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত্রি অতিবাহিত হয়ে যাবে। তারপর দু' পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ছাড়াই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের যে দলটি এগিয়ে গিয়েছিল তারা প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এদিনও পরস্পরের মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। পরিশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী বিজয়লাভ করা ছাড়াই স্বীয় শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবে। যে দলটি সামনে ছিল তারা সরে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন আবার মুসলিমগণ মৃত্যু বা বিজয়ের উদ্দেশে অপর একটি বাহিনী পাঠাবে। এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। পরিশেষে বিজয়লাভ করা ছাড়াই উভয় বাহিনী প্রত্যাবর্তন করবে। তবে মুসলিম বাহিনীর সামনের সেনাদলটি শাহীদ হয়ে যাবে। তারপর যুদ্ধের চতুর্থ দিনে অবশিষ্ট মুসলিমগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সামনে এগিয়ে যাবে। সেদিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তাআলা অকল্যাণ চক্র চাপিয়ে দিবেন। তারপর এমন যুদ্ধ হবে যা জীবনে কেউ দেখবে না অথবা যা জীবনে কেউ দেখেনি। পরিশেষে তাদের শরীরের উপর পাখী উড়তে থাকবে। পাখী তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে নিহত হবে। একশ মানুষ বিশিষ্ট একটি গোত্রে, মাত্র এক লোক বেচে থাকবে। এমন সময় কেমন করে গনীমাতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দোৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ ভাগ করা হবে। এমতাবস্থায় মুসলিমগণ আরেকটি ভয়ানক বিপদের খবর শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি শব্দ তাদের কাছে পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওনা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসেবে প্রেরণ করবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, দাজ্জালের খবর সংগ্রাহক দলের প্রতিটি লোকের নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম এবং তাদের ঘোড়ার রং সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি। এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... ইউসায়র ইবন জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন মাসউদ এর নিকট বসা ছিলাম। তখন লাল রক্তিম ঝঞা বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো। তারপর তিনি পূর্বের মতো অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইবন উলাইয়্যার হাদীসটি পরিপূর্ণ এবং প্রশান্তিদায়ক।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... উসায়র ইবন জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর গৃহে ছিলাম। গৃহটি তখন লোকে লোকারণ্য ছিল। ইবন উসায়র এর ন্যায় তিনিও বললেন, তখন কুফা নগরীতে লাল রক্তিম ঝঞা বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... নাফি ইবন উতবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন পশ্চিম দিক হতে নবী (ﷺ) এর কাছে এক দল লোক আসলো। তাদের শরীরে ছিল পশমের কাপড়। তারা এক টিলার কাছে এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে দেখা করল। এ সময় তারা ছিল দাড়ানো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন বসাবস্থায়। তখন আমার মন আমাকে বলল, তুমি যাও এবং তাদের ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝে গিয়ে দাড়াও, যেন তারা প্রতারণা করে তাকে হত্যা করতে না পারে। আবার আমার মনে হলো, সম্ভবতঃ তিনি তাদের সঙ্গে কোন গোপন আলাপরত আছেন। তথাপিও আমি গেলাম এবং তাদের ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝে দাড়িয়ে রইলাম। এমন সময় আমি তার থেকে চারটি কথা আয়ত্ত করলাম এবং তা আমার হাত দ্বারাই গণনা করলাম। তিনি বললেন, তোমরা জাযিরাতুল আরবে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা বিজিত করে দিবেন। অতঃপর পারস্যবাসীদের সঙ্গে লড়াই করবে, আল্লাহ তাও তোমাদের আয়ত্তে এনে দিবেন। এরপর রোমীয়দের সঙ্গে লড়াই করবে, আল্লাহ তাআলা এতেও তোমাদের বিজয় দান করবেন। পরিশেষে তোমরা দাজ্জালের সঙ্গে লড়াই করবে, এখানেও আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন। বর্ণনাকারী নাফি বলেন, হে জাবির! আমাদের মনে হয় রোম বিজিতের পর দাজ্জালের আগমন ঘটবে।

আবূ খাইসামাহ যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবু উমার আল মাক্কি .... হুযাইফাহ ইবন আসীদ আল গিফারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা (বিভিন্ন বিষয়ে) আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছ? উত্তরে তারা বললেন, আমরা কিয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা করছি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বিশেষ আলামত দেখবে। তারপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, মারইয়াম পুত্র ঈসা এর অবতরণ, ইয়াজুজ মাজুজ এবং তিনবার ভূখণ্ড ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব দিকে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিম দিকে ভূখণ্ড ধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বসের কথা বর্ণনা করলেন। এ আলামতসমূহের পর এক অগ্ন্যুৎপাতের প্রকাশিত হবে, যা তাদেরকে ইয়ামান থেকে হাশরের মাঠ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবূ সারীহাহ হুযাইফাহ ইবন আসীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) স্বীয় কক্ষে ছিলেন। আর আমরা তার নীচে বসে আলাপ আলোচনা করছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছিলে। আমরা বললাম, কিয়ামত সম্বন্ধে কথা বলছিলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত প্রকাশিত হবে। পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস পশ্চিমপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস, আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বস, ধূয়া ছড়িয়ে পড়া, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, দাব্বাতুল আর্‌য প্রকাশ পাওয়া, ইয়াজুজ-মাজুজ বের হওয়া, পশ্চিমপ্রান্ত হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং সর্বশেষ "আদন" দেশের প্রান্ত হতে আগুন উত্থিত হবে যা লোকেদেরকে তাড়িয়ে এক স্থানে একত্রিত করবে। শুবাহ্ বলেন, এ বর্ণনায় দশম আলামতের কথা বর্ণনা নেই। তবে অন্য বর্ণনায় দশম আলামত হিসেবে কোথাও ঈসা এর অবতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এমন দমকা হাওয়া প্রবাহিত হবে, যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ সারীহাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক গৃহের ভিতর ছিলেন। আমরা তার নীচে বসা ছিলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসটি পূর্বের অবিকল বর্ণনা করেছেন। শুবাহ্ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ তারা যেখানে অবতরণ করবে আগুনও সেখানে অবতরণ করবে এবং তারা যেখানে দ্বিপ্রহরে কইলুলা করবে আগুনও সেখানে তাদের সাথে থাকবে। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেন, এক লোক আবূ সারীহার এ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তবে মারফু হিসেবে তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি। এতে জনৈক লোক বলেছেন, দশম নিদর্শনটি হলো, ঈসা এর অবতরণ। কিন্তু অপর লোক বলেছেন, দশম নিদর্শনটি হলো, তখন এমন প্রবলবেগে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা মানুষদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু সারীহাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করছিলাম, এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সম্মুখে আসলেন। অতঃপর তিনি মুআয ও ইবন আবু জাফার এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি তার হাদীসের শেষভাগে বর্ণনা করেছেন যে, দশম নিদর্শনটি হলো, মারইয়াম পুত্র ঈসা এর অবতরণ। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেন, আবদুল আযীয এ হাদীসটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেননি।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ও আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না হিজায ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত হবে। যা বুসরায় অবস্থান রত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত করবে।

আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মদীনার (মানুষের) বাড়ি ঘর "ইহাব" অথবা "ইয়াহাব" পর্যন্ত পৌছে যাবে। যুহায়র বলেন, আমি সুহায়ল কে প্রশ্ন করলাম, সেটা মদীনাহ হতে কত দূরে হবে? তিনি বললেন, এতো এতো মাইল দূরে অবস্থিত।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অনাবৃষ্টির কারণেই কেবল দুর্ভিক্ষ হবে না। বরং অধিক বৃষ্টিপাত হতে থাকবে এবং জমিন কোন কিছু উৎপাদন করবে না (ফলে তা দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে থাকে)।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্বমুখী ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, ফিতনাহ এদিক থেকে, ফিতনাহ এদিক থেকে-যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারিরী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাফসাহ এর দরজার কাছে দাড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি তার আঙ্গুল দ্বারা পূর্বপ্রান্তের দিকে ইশারা করে বললেন, ফিতনাহ এদিক থেকে-যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। এ কথাটি তিনি দু' বা তিনবার বলেছেন। বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ এর দরজার কাছে দাড়িয়ে ছিলেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্বমুখী হয়ে বললেনঃ ফিতনাহ এদিক থেকে-ফিতনাহ এদিক থেকে-অবশ্যই ফিতনাহ এদিক থেকে-যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ এর ঘর থেকে বের হয়ে বললেনঃ কুফুরীর উৎস এদিক থেকে-যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। পূর্বদিক থেকে।

ইবন নুমায়র .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বদিকে ইশারা করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, সাবধান ফিতনাহ এদিক থেকে, সাবধান ফিতনাহ এদিক থেকে- এভাবে তিনবার উল্লেখ করে তিনি বললেন, যেদিক থেকে শয়তানের দুই শিং উদিত হবে। পূর্বদিক হতে।

আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন আবান, ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা ও আহমাদ ইবন উমার আল ওয়াকীঈ .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে ইরাকবাসী! আমি তোমাদেরকে সগীরা গুনাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছি না এবং যারা কাবীরাহ গুনাহ করছে তাদের সম্পর্কেও প্রশ্ন করছি না। আমি আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করে বলতে শুনেছি, ফিতনাহ এদিক থেকে আসবে-যেদিক থেকে শয়তানের দুই শিং উদিত হয়। অথচ তোমরা পরস্পর একে অপরের উপর হানাহানি করছ। অবশ্য মূসা ফিরআওনের বংশ হতে এক লোককে ভুলবশতঃ হত্য করেছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "(হে মূসা) এবং তুমি এক লোককে হত্যা করেছ, তারপর আমি তোমাকে চিন্তামুক্ত করে দিলাম। আমি তোমাকে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করেছি"- (তহা-২০ঃ ৪০)।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রীয় নারীদের নিতম্ব যুলখালাসাহ মূর্তির কাছে ঘর্ষিত হবে। যুলখালাসাহ্ একটি মূর্তি ছিল, দাওস গোত্রীয় লোকেরা জাহিলী যুগে তাবালাহ্ নামক স্থানে এর পূজা করত।

আবূ কামিল আল জাহদারী, আবু মান যায়দ ইবন ইয়াযীদ আর রাকাশী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, রাত্র ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ না লাত ও উযযা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হয়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন– "তিনিই তার রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দীনসহ, সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করে না"-(আত তওবা্ ৯ঃ ৩৩ ও আস-সাফ ২১ঃ ৯)। এ আয়াত নাযিলের পর আমি তো মনে করছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করা হবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরণ করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন প্রকার কল্যাণ নেই তারাই শুধু বেচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... আবদুল হামীদ ইবন জাফর হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না এক লোক অপর লোকের কবরের নিকট গিয়ে বলবে, হায়! আমি যদি তার স্থলে থাকতাম।

আবদুল্লাহ ইবন উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবান ইবন সালিহ্ ও মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ আর রিফা'ঈ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তার কসম করে বলছি, দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না এক লোক কবরের নিকট গিয়ে সেটার উপর গড়াগড়ি করে বলবে, হায়! এ কবরবাসীর স্থলে যদি আমি হতাম। তার নিকট দীন থাকবে না; থাকবে শুধু বিপদাপদ।

ইবন আবূ উমার আল মাক্কী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন, মানুষের কাছে এমন এক সময় আগমন করবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি দোষে সে হত্যা করলো এবং নিহত লোকও জানবে না যে, কি দোষে সে নিহত হলো।

আবদুল্লাহ ইবন উমার ইবন আবান ও ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের কাছে এমন এক যুগ আসে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি দোষে যে অন্যকে হত্যা করেছে এবং নিহত লোকও জানবে না যে, কি দোষে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করা হলো, কিভাবে এমন অত্যাচার হবে? তিনি জবাবে বললেন, সে যুগটা হবে হত্যার যুগ। এরূপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী হবে। বর্ণনাকার আবান হলো, ইয়াযীদ ইবন কাইসান। তিনি ইসমাঈল হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ ও ইবন আবু উমর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ আবিসিনিয়ার এক লোক কাবা ঘরকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে; তার উভয় পায়ের নলা ছোট ছোট হবে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আবিসিনিয়ার এক লোক কাবা ঘরকে ধ্বংস করবে; তার উভয় পায়ের নলা ছোট ছোট হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ছোট ছোট নলা বিশিষ্ট আবিসিনিয়ার এক লোক আল্লাহ তাআলার ঘরকে ধ্বংস করবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না কাহতান গোত্র হতে এক লোকের আগমন ঘটবে, যে লোকেদেরকে লাঠি দিয়ে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার আল আবদী .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাত দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাহজাহ নামে কোন লোক শাসনকর্তা হবে। মুসলিম বলেন, রাবী আবদুল কাবীর তারা চার ভাই- শারীক, উবাইদুল্লাহ, উমায়র ও আবদুল কাবীর। তারা সবাই আবদুল মাজীদের সন্তান।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন আবু উমর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে লড়াই করবে, যাদের চেহারা হবে চামড়া জড়ানো ঢালের মতো মাংসল। কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে লড়াই করবে, যাদের জুতা হবে পশমের তৈরি।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা এমন দলের সঙ্গে লড়াই করবে যারা পশমী জুতা পরিধান করবে। তাদের চেহারা হবে চামড়া জড়ানো ঢালের মতো মজবুত ও চ্যাপ্টা।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে লড়াই না করবে, যাদের জুতা হবে পশমের তৈরি। কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে লড়াই না করবে যাদের চোখ হবে ছোট ছোট এবং নাক হবে বাকা ও মোটা।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত মুসলিম বাহিনী তুর্কীদের সঙ্গে লড়াই না করবে। তারা এমন সম্প্রদায়, যাদের চেহারা হবে চামড়া জড়ানো ঢালের মতো মাংসল। তারা পশমের তৈরি পোশাক পরিধান করবে এবং পশমের উপর হাটবে।

আবূ কুরায়ব ও আবু উসামাহ্ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের আগে তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে লড়াই করবে, যাদের জুতা হবে পশমের। তাদের মুখমণ্ডল চামড়া জড়ানো ঢালের মতো মাংসল এবং রক্ত বর্ণ হবে এবং তাদের চোখ হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র।

যুহায়র ইবন হারব ও আলী ইবন হুজর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শীঘ্রই ইরাকবাসীরা না খাদ্যশস্য পাবে না দিরহাম পাবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, কি কারণে এ বিপদ সংঘটিত হবে? তিনি বললেন, অনারবদের কারণে। তারা তা (খাদ্যশস্য বা দিরহাম) দেয়া বন্ধ করে দিবে। তিনি পুনরায় বললেন, অচিরেই সিরিয়াবাসীদের নিকট কোন দীনার আসবে না এবং কোন খাদ্যশস্যও আসবে না। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এ বিপদ কোন দিক থেকে আবির্ভাব হবে? তিনি বললেন, রোমের দিক থেকে। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের শেষভাগে একজন খলীফা হবে, সে হাত ভরে ভরে ধন-সম্পদ দান করবে, গুণে গুণে দিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবু নাযরাহ ও আবুল আলাকে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের ধারণায় ইনি কি খলীফা উমার ইবন আবদুল আযীয? তারা উত্তরে বললেন, না।

ইবন মুসান্না .... জুরাইরী হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী ও আলী ইবন হুজর আস্ সা'দী .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের খলীফাগণের মধ্যে একজন খলীফা এমন হবে, যে হাত ভরে ভরে দান করবে এবং মালের কোন গণনাই করবে না।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু সাঈদ ও জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আখিরী যুগে এমন খলীফার আগমন ঘটবে, সে ধন-সম্পদ ভাগ করবে কিন্তু কোন প্রকার গণনা করবে না।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ .... আবু সাঈদ আল খুদরী এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার থেকে সেরা লোক আমাকে জানিয়েছেন যে, আম্মার যখন পরিখা খনন করেছিলেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাথায় হাত রেখে তাকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ইবন সুমাইয়ার জন্য দুঃখ হয়। একটি বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুআয ইবন আব্বাদ আল আম্বারী ও হুরায়ম ইবন আবদুল আ'লা, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইসহাক ইবন মানসূর, মাহমূদ ইবন গায়লান ও মুহাম্মাদ ইবন কুদামাহ্ ..... আবূ মাসলমাহ্ থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ, উকবাহ ইবন মুকাররম আল আম্মী ও আবূ বকর ইবন নাফি .... উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আম্মার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।

ইসহাক ইবন মানসূর .... উম্মু সালামাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ..... উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আম্মারকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, কুরায়শের এ সম্প্রদায়টি আমার উম্মাতকে ধ্বংস করবে। এ কথা শুনে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমাদেরকে কি আদেশ করবেন? উত্তরে তিনি বললেন, লোকেরা যদি তাদের থেকে পৃথক হয়ে যেত।

আমর আন নাকিদ ও ইবন আবু উমর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিসরা (পারস্য রাজ) মারা গেছে। অতঃপর পারস্য রাজ আর হবে না। আর যখন রোম সম্রাট ধ্বংস হবে তারপর আর কোন রোম সম্রাট হবে না। কসম ঐ প্রতিপালকের, যার হাতে আমার জীবন, অবশ্যই তাদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেয়া হবে। হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া অপর সূত্রে ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে সুফইয়ান এর সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হাদীস হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পারস্য রাজ মারা গেছে, তারপর আর কেউ পারস্য রাজ হবে না। রোম সম্রাট অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর আর কোন রোম সম্রাট হবে না। তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে বন্টন করে দেয়া হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পারস্য রাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর আর কোন পারস্য রাজ হবে না। অতঃপর জাবির আবু হুরাইরাহ এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী ..... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, অবশ্যই মুসলিম অথবা মুমিনদের একটি দল যা আবইয়ায নামক বালাখানায় সংরক্ষিত পারস্য রাজ্যের ধনভাণ্ডার অধিকার করবে। বর্ণনাকারী কুতাইবাহ দ্বিধাহীনভাবে মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং কোন প্রকার সন্দেহ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সিমাক ইবন হারব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরাহ হতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি আবু আওয়ানাহ্ এর হাদীসের অবিকল।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি ঐ শহরের কথা শুনেছ, যার একদিকে স্থলভাগ এবং একদিকে জলভাগ? উত্তরে সাহাবাগণ বললেন, হ্যা, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! শুনেছি। অতঃপর তিনি বললেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ইসহাক এর সন্তানদের সত্তর হাজার লোক এ শহরের লোকেদের সঙ্গে লড়াই না করবে। তারা শহরের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছবে কোন অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করবে না এবং কোন তীরও চালাবে না; বরং তারা একবার লাইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' 'ওয়াল্লা-হু আকবার বলবে, সাথে সাথে এর এক প্রান্ত ধ্বসে যাবে। বর্ণনাকারী সাওর বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে, আমার নিকট বর্ণনাকারী লোক সমুদ্রস্থিত প্রান্তের কথা বলেছিলেন। অতঃপর দ্বিতীয়বার তারা "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' ও 'ওয়াল্ল-হু আকবার" বলবে। এতে শহরের অপর প্রান্ত ধ্বসে যাবে। এরপর তারা তৃতীয়বার 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' ও 'ওয়াল্লা-হু আকবার' বলবে। তখন তাদের শহরের দ্বার খুলে দেয়া হবে। তারা যখন তাতে প্রবেশ করে গনীমাতের মাল ভাগাভাগিতে ব্যতিব্যস্ত থাকবে, তখন কেউ উচ্চঃস্বরে বলে উঠবে, দাজ্জালের আগমন ঘটেছে। এ কথা শুনা মাত্রই তারা ধন-সম্পদ ফেলে দেশে ফিরে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন মারযুক .... সাওর ইবন যায়দ আদ দীলী হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই ইয়াহুদীরা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে এবং তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে। পরিশেষে পাথর (সন্ধান দিয়ে) বলবে, হে মুসলিম। এ-ই যে ইয়াহুদী। এসো, তুমি তাকে হত্যা কর।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ উক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এই আমার পিছনে ইয়াহুদী লুকিয়ে আছে।

আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এবং ইয়াহুদী সম্প্রদায় পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে। অবশেষে পাথর বলবে, হে মুসলিম! এই যে আমার পিছনে ইয়াহুদী লুকিয়ে আছে, এসো তুমি তাকে হত্যা কর।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইয়াহুদী সম্প্রদায় তোমাদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে। তারপর তোমরা তাদের উপর জয়ী হবে। এমনকি পাথর বলে উঠবে, 'হে মুসলিম! এই তো ইয়াহুদী আমার পিছনে আছে, তুমি তাকে হত্যা কর।'

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের যুদ্ধ না হবে। মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে তারা পাথর বা গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর বা গাছ বলবে, হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা! এই তো ইয়াহুদী আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। এসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু 'গারকাদ' নামক গাছ দেখিয়ে দিবে না। কারণ এটা হচ্ছে ইয়াহুদীদের সহায়তাকারী গাছ।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, আবূ কামিল আল জাহদারী ..... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ উক্তি করতে শুনেছি, কিয়ামতের আগে কতক মিথ্যাবাদী ব্যক্তির আগমন ঘটবে। তবে আবুল আহওয়াস-এর বর্ণনায় এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, আমি জাবির কে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, শুনেছি।

ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সিমাক হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। সিমাক বলেন, আমি আমার ভাইকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, জাবির বলেছেন, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন মানসূর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন হয়। আগমনের পর তারা প্রত্যেকেই দাবী করবে, সে আল্লাহর রসূল।

মুহাম্মাদ ইবন রফি .... আবু হুরাইরাহ এর সানদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উসমান ইবন আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় আমরা কতক বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তাদের মাঝে ইবন সাইয়্যাদও ছিল। বালকেরা পালিয়ে গেল কিন্তু ইবন সাইয়্যাদ বসে রইল। তার এরূপ আচরণ দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা অপছন্দ করলেন। তারপর নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার উভয় হাত ভূলুন্ঠিত হোক। তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রসূল? সে বলল, না। বরং আপনি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। এ কথা শুনে উমার ইবন খাত্তাব বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সুযোগ দিন, আমি তাকে নিঃশেষ করে দেই। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি যা মনে করছ, যদি সে তাই (দাজ্জাল) হয়, তবে তো তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবু কুরায়ব ..... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে হাটছিলাম। নবী (ﷺ) ইবন সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার বিষয়ে আমি একটি কথা লুকায়িত রেখেছি। ইবন সাইয়্যাদ বলল, আপনার হৃদয়ে (ধুয়া) শব্দটি লুকায়িত রয়েছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর পরিমণ্ডল অতিক্রম করতে পারবি না। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছ সে যদি ঐ লোকই হয়ে থাকে তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মদীনার কোন পথে ইবন সাইয়্যাদ এর সঙ্গে রসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বাকর ও উমার এর সাক্ষাৎ হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবন সাইয়্যাদকে বললেনঃ তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও, আমি আল্লাহর রসূল? উত্তরে সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তো আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি ও তার কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ? সে বলল, আমি সমুদ্রের উপর আরশ দেখতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তো সমুদ্রে ইবলীসের আরশ দেখতে পাচ্ছ। তুমি আর কি দেখতে পাচ্ছ? সে বলল, আমি কিছু সংখ্যক সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে অথবা কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন একে ছেড়ে দাও। সে বিষয়ে নিজেই সন্দেহ পোষণ করছে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) ইবন সাইয়্যাদকে দেখলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আবু বাকর ও উমর-ও ছিলেন এবং কিছু বালকের সাথে ইবন সাইয়্যাদ ছিল। তারপর তিনি জুরাইরী এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মক্কাহ যাওয়ার পথে ইবন সাইয়্যাদ মক্কাহ পর্যন্ত আমার সফর সঙ্গী ছিল। পথে সে আমাকে বলল, এমন কতিপয় লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা ধারণা করে যে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যা, শুনেছি। তখন সে বলল আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জাল মক্কাহ ও মদীনাতে ঢুকতে পারবে না? আমি বললাম, হ্যা, শুনেছি। সে বলল, মনে রাখুন, আমি তো মদীনায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন মক্কাহ যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, অতঃপর এসব কথা বলার পর পরিশেষে সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই জানি দাজ্জালের জন্মস্থান, বাসস্থান এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে। আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, (এ কথা বলে) সে আমাকে দ্বিধা ও সংশয়ে ফেলে দিল।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ইবন সাইয়্যাদ আমার সঙ্গে কিছু কথা বলেছে যাতে আমার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে গেছে। তা হচ্ছে ইবন সাইয়্যাদ এর এ বক্তব্যঃ আমি মানুষকে এ বলে ওযর পেশ করছি। হে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সঙ্গী-সাথীগণ! আমার ব্যাপারে তোমাদের কি হয়েছে? আল্লাহর নবী (ﷺ) কি এ কথা বলেননি যে, দাজ্জাল ইয়াহুদী হবে? কিন্তু আমি তো মুসলিম। তিনি বলেছেনঃ দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না অথচ আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। তিনি তো এ-ও বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের উপর মক্কাহ প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অথচ আমি হাজ্জও করেছি। আবূ সাঈদ বলেন, সে অনর্গল এমনভাবে বলে যেতে লাগল, যার ফলে আমি তাকে সত্যবাদী মনে করার কাছাকাছি পৌছে গেলাম। অতঃপর সে বলল, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি জানি, দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে। আমি তার পিতামাতাকেও চিনি। লোকেরা ইবন সাইয়্যাদকে জিজ্ঞেস করল, তুমি যদি দাজ্জাল হও, তাতে কি তুমি আনন্দিত হবে? উত্তরে সে বলল, যদি আমাকে দাজ্জালরূপে সাব্যস্ত করা হয়, তবে আমি তাতে নারায হব না।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। আমাদের সঙ্গে ইবন সায়িদ ছিল। তারপর কোন এক মঞ্জিলে আমরা অবতরণ করলাম। লোকেরা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। কেবল আমি এবং সে থেকে গেলাম। লোকেরা ইবন সাইয়্যাদ এর ব্যাপারে যে কথা কথোপকথন করছে, এ কারণে আমি তার প্রতি অত্যধিক ভীত ও ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ইবন সাইয়্যাদ তার দ্রব্য-সামগ্ৰী আমার সাথে এনে রাখল। আমি বললাম, গরম খুব বেশী মনে হচ্ছে। তুমি যদি তোমার দ্রব্য-সামগ্ৰী ঐ গাছের নীচে রাখতে তবে ভালো হতো। এ কথা শুনে সে তা-ই করল। তারপর আমাদের জন্য কতগুলো বকরী নিয়ে আসা হলো। এ দেখে ইবন সাইয়্যাদ সেখানে গেল এবং এক পাত্র দুধ নিয়ে এলো। এরপর সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ! তুমি দুধ পান করে নাও। আমি বললাম, গরম খুব বেশী। দুধও গরম। আবু সাঈদ আল খুদরী বলেন, তার হাতে দুধ পান করা বা তার হাত হতে দুধ গ্রহণ করা আমি পছন্দ করিনি। এ দেখে ইবন সাইয়্যাদ বলল, হে আবু সাঈদ! লোকেরা আমার ব্যাপারে যে সব কথাবার্তা বলছে, এখন আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি একটি রশি নিয়ে সেটা গাছে লটকিয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাই এবং তাথেকে পরিত্রাণ লাভ করি। তারপর সে বলল, হে আবু সাঈদ! তোমাদের আনসার সম্প্রদায়ের চেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস আর কারো কাছে অজানা নেই? তুমি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, সে ব্যক্তি (দাজ্জাল) কাফির হবে? অথচ আমি মুসলিম। তিনি কি বলেননি যে, দাজ্জাল নিঃসন্তান? আর তার কোন সন্তান হবে না? অথচ মদীনায় আমি আমার সন্তান রেখে এসেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, দাজ্জাল মক্কাহ-মদীনাহ প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদীনাহ থেকে এসেছি এবং মক্কাহ যাবার ইচ্ছা করছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, তার কথায় আমি তাকে বিশ্বাস করার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলাম। অতঃপর ইবন সাইয়্যাদ বললঃ আল্লাহর শপথ আমি তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার জন্মস্থান চিনি এবং এখন সে কোথায় অবস্থান করছে, তাও আমি জানি। এ কথা শুনে আমি বললাম, তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক, অকল্যাণকর হোক।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবন সায়িদকে প্রশ্ন করেছেন, জান্নাতের মাটি কিরূপ হবে? সে বলল, হে আবুল কাসিম! জান্নাতের মাটি ময়দার মতো সাদা এবং খাটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, তুমি সত্য বলেছ।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতের মাটি কেমন হবে- এ সম্বন্ধে ইবন সাইয়্যাদকে নবী (ﷺ) প্রশ্ন করলে সে বলল, জান্নাতের মাটি ময়দার ন্যায় শুভ্র এবং খাঁটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ইবন সাইয়্যাদই হলো প্রকৃতপক্ষে দাজ্জাল। আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলছেন? তিনি বললেন, আমি উমর কে নবী (ﷺ) এর নিকট এ সম্পর্কে কসম খেতে শুনেছি। অথচ নবী (ﷺ) তার এ কথাকে অগ্রাহ্য করেননি।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন হারমালাহ্ ইবন ইমরান আত তুজীবী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। একদিন উমর ইবন খাত্তাব একদল মানুষসহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ইবন সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার কিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রীড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবন সাইয়্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রসূল? এ কথা শুনে ইবন সাইয়্যাদ তার প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) রসূল। অতঃপর ইবন সাইয়্যদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্তু তিনি বললেনঃ আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তার রসূলদের প্রতি। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? ইবন সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুকায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবন সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে (ধুয়া)। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করতে পারবি না। তারপর উমর ইবন খাত্তাব বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।

সালিম ইবন আবদুল্লাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার কে বলতে শুনেছি, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং উবাই ইবন কা'ব আনসারী সে বাগিচার দিকে চললেন, যেখানে ইবন সাইয়্যাদ বসবাস করত। বাগিচার মধ্যে এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) গাছের আড়ালে লুকাতে চেষ্টা করছিলেন, যাতে ইবন সাইয়্যাদ তাকে দেখার আগেই তিনি তার কথা শুনে নেন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখলেন যে, সে তার বিছানায় একটি মখমলের চাদর গায়ে দিয়ে তয়ে আছে এবং তার গুনগুন আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। এদিকে ইবন সাইয়্যাদের মা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখল যে, তিনি গাছের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করছেন। সে হঠাৎ ইবন সাইয়্যাদকে বলে উঠল, হে সাফ! এটা ইবন সাইয়্যাদ এর নাম। মুহাম্মাদ এসে গেছে। এ কথা শুনতেই ইবন সাইয়্যাদ বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার মা তাকে সতর্ক না করলে সে রহস্য উদঘাটিত হতো।

সালিম বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের উদ্দেশ্যে একটি বক্তৃতা দিলেন। তাতে তিনি আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করে দাজ্জালের কথা বর্ণনা করে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনার ব্যাপারে সাবধান করছি, যেমন প্রত্যেক নবী তার সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন। এমনকি নূহ-ও তার সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন। তবে এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি, যা কোন নবী তার সম্প্রদায়কে বলেননি। তা হলো এই যে, তোমরা জেনে রাখো, দাজ্জাল কানা হবে। আল্লাহ তাআলা কানা নন। ইবন শিহাব বলেন, আমাকে উমার ইবন সাবিত আল আনসারী জানিয়েছেন, জনৈক সাহাবা আমাকে অবহিত করেছেন যেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকেদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেছেন সেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছেন, তার চোখদ্বয়ের মধ্যস্থলে কাফির লেখা থাকবে। যে ব্যক্তি তার কার্যক্রম পছন্দ করবে না সে তা পাঠ করতে পারবে কিংবা প্রত্যেক মুমিন মাত্রই তা পাঠ করতে সক্ষম হবে। তিনি এ-ও বলেছেন যে, তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের কোন লোক মৃত্যুর আগে তার রবকে কক্ষনো দেখতে পারবে না।

হাসান ইবন আলী আল হলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সাহাবার সাথে রওনা হলেন। তাদের মধ্যে উমার ইবন খাত্তাব-ও ছিলেন। ইবন সাইয়্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌছেছে। তিনি তাকে বানী মুআবিয়্যার কিল্লার কাছে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলাধূলা অবস্থায় দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি উমর ইবন সবিত এর হাদীসের শেষ পর্যন্ত ইউনুস এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াকুব এর এ হাদীসের মধ্যে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, আমার পিতা এর ব্যাখ্যায় বলেছেন তার মা যদি তাকে ঐ অবস্থায় ছেড়ে দিতো তবে তার ব্যাপারটি উন্মোচন হয়ে যেত।

আবদ ইবন হুমায়দ ও সালামাহ্ ইবন শাবীব .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সাহাবাদের নিয়ে ইবন সাইয়্যাদ এর কাছে গেলেন। এদের মাঝে উমার ইবন খাত্তাব-ও ছিলেন। এমন সময় সে বানী মাগালার দুর্গের পাশে এক দল বালকের সঙ্গে ক্রীড়ারত অবস্থায় ছিল। তখন সে বালক ছিল। বর্ণনাকারী এ হাদীসটি ইউনুস এবং মালিক এর অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে আবদ ইবন হুমায়দ ইবন উমার এর হাদীস তথা উবাই ইবন কা'বের সঙ্গে নবী (ﷺ) এর বাগানের দিকে রওয়ানার হাদীসটি উল্লেখ করেননি।

আবদ ইবন হুমায়দ .... নাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার কোন এক রাস্তায় ইবন উমর ইবন সাইয়্যাদ এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে এমন কতিপয় কথা বলেন, যার ফলে সে ক্রোধাম্বিত হয়ে গেল। সে ক্রোধে এমন ফুলল যে, সমস্ত রাস্তা জুড়ে ফেলল। অতঃপর ইবন উমার হাফসাহ এর কাছে গেলেন। তিনি আগেই এ ঘটনার ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত ছিলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি ইবন সাইয়্যাদ সম্পর্কে কি ইচ্ছা পোষণ করছেন? আপনি কি জানেন না যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জাল সর্বপ্রথম ক্রোধের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... নাফি থেকে বর্ণিত। ইবন উমার বলেন, ইবন সাইয়্যাদ এর সঙ্গে আমার দু'বার দেখা হয়েছে। একবার দেখার পর আমি জনৈক লোককে প্রশ্ন করলাম, আপনি বলেন যে, ইবন সাইয়্যাদই দাজ্জাল? উত্তরে সে বলল, আল্লাহর শপথ, কখনো না। আমি বললাম, তাহলে তো তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছো। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এক লোক তো আমাকে এ মর্মে খবর দিয়েছে যে, সে মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের চাইতে সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সন্তানসন্ততি সম্পন্ন না হবে। আজ তো অনুরূপই হয়েছে বলে সে মন্তব্য করছে। তারপর ইবন সাইয়্যাদ আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করল। এরপর আমি তার থেকে সরে পড়লাম। ইবন সাইয়্যাদ এর সাথে আরেকবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তখন তার চোখ ফোলা অবস্থায় ছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার চোখের এ কি অবস্থা, আমি কি দেখতে পাচ্ছি? সে বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, তোমার মাথায় চোখ অথচ তুমি জান না! তারপর সে বলল, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার এ লাঠিতেও তিনি চোখ সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এরপর সে গাধার চেয়েও বিকট শব্দে চিৎকার করল যা আমি ইতোপূর্বে শুনিনি। আমার কোন সাথী ধারণা করছে যে, আমি তাকে আমার সাথে থাকা লাঠি দ্বারা সজোরে আঘাত করেছি যাতে লাঠি ভেঙ্গে গেছে। আল্লাহর শপথ, অথচ এ সম্পর্কে আমি একেবারে অজ্ঞাত ছিলাম। নাফি বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবন উমর হাফসাহ এর নিকট এলেন এবং তার কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ইবন সাইয়্যাদ এর নিকট আপনার কি প্রয়োজন ছিল? আপনি কি জানেন না যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কারো প্রতি ভীষণ রাগই সর্বপ্রথম দাজ্জালকে মানুষের সম্মুখে প্রকাশ ঘটবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষের মধ্যে দাজ্জালের আলাপ-আলোচনা করে বললেন, আল্লাহ তাআলা অন্ধ নন। কিন্তু সতর্ক হও! দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। আর তা আঙ্গুরের মতো ফোলা হবে।

আবূ রাবী ও আবু কামিল, মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সকল নবীই তার উন্মাতকে কানা মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) সম্পর্কে সাবধান করেছেন। সাবধান দাজ্জাল কানা হবে। তোমাদের রব কানা নন। দাজ্জালের দু' চোখের মধ্যস্থলে (কাফির) লেখা থাকবে।

ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, দাজ্জালের দু চোখের মধ্যস্থলে "কাফ ফা র" কাফির লেখা থাকবে।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের চোখ ফোলা হবে। তার উভয় চোখের মধ্যস্থলে কাফির লেখা থাকবে। অতঃপর তিনি এক একটি হরফ উচ্চারণ করে বললেন, "কাফ ফা র" আর প্রত্যেক মুসলিম মাত্রই এ লেখা পাঠ করতে পারবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, মুহাম্মাদ ইবন আলা ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের বামচোখ কানা হবে। তার দেহে ঘন পশম হবে। তার সাথে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র। প্রকৃতপক্ষে তার জাহান্নাম জান্নাত হবে এবং তার জান্নাত জাহান্নাম বলে গণ্য হবে।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ্ .... হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের সাথে কি থাকবে, এ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত অবগত আছি। তার সাথে প্রবাহমান দুটি নহর থাকবে। একটি দৃশ্যত ধবধবে সাদা পানি বিশিষ্ট এবং অপরটি দৃশ্যত লেলিহান অগ্নির মতো হবে। যদি কেউ সুযোগ পায় তবে সে যেন ঐ নহরে প্রবেশ করে যাকে দৃশ্যত অগ্নি মনে হবে এবং চোখ বন্ধ করতঃ মাথা অবনমিত করে সে যেন সেটা থেকে পানি পান করে। সেটা হবে ঠাণ্ডা পানি। দাজ্জালের চোখ লেপা হবে এবং তার চোখের উপর নখের মতো পুরু চামড়া থাকবে এবং উভয় চোখের মাঝখানে পৃথক-পৃথকভাবে কাফির লেখা থাকবে। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে সকল মুমিন ব্যক্তি এ লেখা পাঠ করতে পারবে।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হুযাইফাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জালের সাথে পানি ও আগুন থাকবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার অগ্নিই হবে সুশীতল পানি এবং তার পানিই হবে অগ্নি। সুতরাং নিজেকে ধ্বংস করো না।

বর্ণনাকারী আবু মাসউদ বলেন, আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শ্রবণ করেছি।

আলী ইবন হুজর .... উকবাহ ইবন আম্‌র ও আবু মাসউদ আনসারী থেকে বর্ণিত। রিবাঈ ইবন হিরাশ বলেন, আমি উকবাহ ইবন আমির আবূ মাসউদ আনসারী এর সাথে হুযাইফাহ্ ইবন ইয়ামান এর নিকট গেলাম। তারপর উকবাহ হুযইফাহ্ কে বললেন, আপনি দাজ্জাল বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা যা শুনেছেন তা আমাদেরকেও শুনান। তিনি বললেন, দাজ্জাল যখন আবির্ভূত হবে তখন তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে। কিন্তু মানুষ যেটাকে বাহ্যত পানি দেখবে সেটা হবে দাহনশীল অগ্নি। আর যেটাকে মানুষ বাহ্যত অগ্নি দেখবে সেটা হবে সুমিষ্ট ঠাণ্ডা পানি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ সময়কাল পায় সে যেন দৃশ্যত যাকে অগ্নি দেখা যাচ্ছে তাতেই প্রবেশ করে। কেননা প্রকৃতপক্ষে সেটা হবে সুমিষ্ট পানি। তারপর হুযাইফার সমর্থন করে উকবাহ্ বলেন, আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ হাদীস শুনেছি।

আলী ইবন হুজর আস্ সাদী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... রিবাঈ ইবন হিরাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযাইফাহ ও আবু মাসউদ একত্রিত হলেন। তখন হুযাইফাহ বললেন, দাজ্জালের সঙ্গে যা থাকবে এ সম্পর্কে আমি তাথেকে সর্বাধিক জ্ঞাত। তার সঙ্গে একটি পানির ঝর্ণা এবং একটি আগুনের নহর থাকবে। যেটাকে বাহ্যত অগ্নি মনে হবে সেটাই হবে পানি। আর যেটাকে বাহ্যত পানি মনে হবে সেটাই হবে অগ্নি। তোমাদের কেউ যদি এ সময়কাল পায় এবং সে পানি পান করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন যা দৃশ্যত অগ্নি মনে হবে তা থেকে পান করে। কেননা এখানেই সে পানি পাবে। বর্ণনাকারী আবু মাসউদ বলেন, আমিও এমনটিই নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি দাজ্জাল বিষয়ে তোমাদেরকে কি এমন একটি হাদীস বলব না, যা কোন নবী তার কাওমকে অদ্যাবধি বলেননি? শুনো, দাজ্জাল কানা হবে এবং তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম নামে দুটি প্রতারণার বস্তু থাকবে। সে যাকে জান্নাত বলবে সেটি আসলে হবে জাহান্নাম। দেখো, দাজ্জাল সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে ভীতি-প্রদর্শন করছি, যেমন নূহ তার কাওমকে সতর্ক করেছিলেন।

আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী .... নাওওয়াস ইবন সামআন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তাআলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির আবদুল উয্যা ইবন কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবন মারইয়াম কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তার শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তাআলা ঈসা এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবী ঈসা এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ঈসা এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর 'ঈসা এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আলী ইবন হুজর আস্ সাদী .... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে "এখানেও এক সময় পানি ছিল" এ কথার পর বর্ধিত এ কথাও উল্লেখ রয়েছে যে, এরপর তারা অগ্রসর হতে থাকবে। পরিশেষে যেতে যেতে তারা জাবালে খামার নামক স্থানে গিয়ে পৌছবে। এ হলো, বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি পর্বত। এখানে পৌছে তারা বলবে, আমরা তো পৃথিবী বাসীদেরকে নিঃশেষ করে দিয়েছি। এসো, আকাশমণ্ডলীর সত্তাকেও নিঃশেষ করে দেই। এ বলেই তারা আকাশের পানে তীর ছুড়তে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তীর রক্তে রঞ্জিত করে তাদের প্রতি আবার ফিরিয়ে দিবেন। বর্ণনাকারী ইবন হুজুরের বর্ণনায় এ কথাও বর্ধিত আছে যে, আল্লাহ বলবেন, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি কারো নেই।

আমর আন্‌ নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এক লম্বা বর্ণনা দিলেন। দাজ্জালের বিষয়ে তিনি এ-ও বললেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, কিন্তু মদীনার পথে ঘাটে প্রবেশ করা তার জন্য নিষিদ্ধ ও হারাম হবে। অতঃপর মদীনার নিকটবর্তী কোন এক রাস্তায় পৌছলে ঐ দিনই মদীনাহ হতে এক লোক তার নিকট যাবে, যে ব্যক্তি সে সময়কার শ্রেষ্ঠ মানব হবে। সে এসে তাকে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই সে দাজ্জাল, যার কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে শুনিয়েছিলেন। দাজ্জাল বলবে, হে লোক সকল! যদি আমি এ লোককে হত্যা করার পর পুনরায় জীবিত করি তবে তোমাদের মনে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকবে কি? লোকেরা বলবে, না। অতঃপর সে তাকে হত্যা করবে; তারপর জীবন দান করবে; জীবন দান করার পর সে লোক বলবে, আল্লাহর শপথ! এখন তো তোমার ব্যাপারে আমার জ্ঞান আরো বেড়ে গেছে, যা ইতোপূর্বে কখনো ছিল না। দাজ্জাল আবারো তাকে হত্যা করতে মনস্থ হবে। কিন্তু আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না। আবু ইসহাক বলেনঃ কথিত আছে যে, উক্ত ব্যক্তি (যাকে দাজ্জাল হত্যা করবে) খিযির।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... যুহরী হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহযায .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর কোন এক মুসলিম লোক তার দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর পথে অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সঙ্গে তার দেখা হবে। তারা তাকে প্রশ্ন করবে, কোথায় যাবে? সে বলবে, আবির্ভূত দাজ্জালের কাছে যাব। তারা তাকে আবারো প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আননি? সে বলবে, আমাদের প্রতিপালক গুপ্ত নন। দাজ্জালের লোকেরা তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমরা তাকে হত্যা করে দাও। তখন তারা একে অপরকে বলবে, আমাদের রব কাউকে তার সামনে নেয়া ব্যতিরেকে হত্যা করতে কি তোমাদেরকে বারণ করেননি? তারপর তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে। দাজ্জালকে দেখামাত্রই সে বলবে, হে লোক সকল! এ-তো সেই দাজ্জাল, যার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন। তারপর দাজ্জাল তার লোকদেরকে আগম্ভক লোকের মাথা ছিন-ভিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলবে, তাকে ধর এবং তার মাথা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দাও। তারপর তার পেট ও পিঠে আঘাত করা হবে। আবার দাজ্জাল তাকে প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে না। সে বলবে, তুমি তো মাসীহ দাজ্জাল। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দাজ্জাল তার ব্যাপারে নির্দেশ দিবে। দাজ্জালের হুকুমে মাথা হতে পা পর্যন্ত তাকে করাতে চিরে দু টুকরো করে দেয়া হবে। তারপর দাজ্জাল উভয় টুকরার মধ্যস্থলে দণ্ডায়মান হয়ে তাকে সম্বোধন করে বলবে, উঠো। সে সোজা দাড়িয়ে যাবে। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? অতঃপর আগম্ভক ব্যক্তি বলবে, তোমার সম্পর্কে কেবল আমার মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা বেড়েই চলবে। তারপর আগম্ভক লোক বলবে, হে লোক সকল! আমার পর দাজ্জাল আর কারো সঙ্গে এমন আচরণ করতে সক্ষম হবে না। এরপর যবাহ করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা ও ঘাড় তামায় রূপান্তর করা হবে। ফলে দাজ্জাল তাকে যবাহ করতে সক্ষম হবে না। উপায়ন্তর না দেখে দাজ্জাল তখন তার হাত-পা ধরে তাকে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। বস্তুতঃ সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ রবুল আলামীনের কাছে এ লোকই হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শাহাদাতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।

শিহাব ইবন আব্বাদ আল আব্‌দী .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জালের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার চেয়ে এতো বেশি আর কেউ জিজ্ঞেস করেনি। তিনি বলেছেনঃ তোমার কাছে যেটা পীড়াদায়ক তা তোমার কোন ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হবে না। জবাবে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! লোকেরা বলাবলি করছে যে, তার সাথে খাদ্য এবং পানির ঝর্ণা থাকবে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা তো আল্লাহর কাছে তার চেয়েও অনেক সহজ।

সুরায়জ ইবন ইউনুস .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জালের ব্যাপারে নবী (ﷺ) এর কাছে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আর তিনি আমাকে বলেছেন, তোমার কি প্রশ্ন? তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, লোকেরা কথোপকথন করছে যে, তার সাথে রুটি ও গোশতের পর্বত এবং পানির ঝর্ণা থাকবে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা তো আল্লাহর কাছে তার তুলনায় সহজ।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন আবূ উমার, আবু বকর ইবন শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, ইসমাঈল হতে এ সূত্রে ইবরাহীম ইবন হুমায়দ এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াযীদ এর হাদীসে এ কথা বর্ধিত রয়েছে যে, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, 'হে প্রিয় বৎস!

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... ইয়াকুব ইবন আসিম ইবন উরওয়াহ ইবন মাসউদ আস্ সাকাফী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আমর কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, একদা জনৈক লোক তার কাছে এসে বললেন, এ কেমন হাদীস আপনি বর্ণনা করছেন যে, এতো এতো দিনের মধ্যে কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ অথবা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' অথবা অবিকল কোন শব্দ। তারপর তিনি বললেন, আমি তো শুধু এ কথাই বলেছিলাম যে, অচিরেই তোমরা এমন ভয়াবহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে যা ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দিবে। এ ঘটনা কায়িম হবেই হবে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আমি জানি না চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর। এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মারইয়াম তনয় ঈসা কে প্রেরণ করবেন। তার আকৃতি উরওয়াহ ইবন মাসউদ এর অবিকল হবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করে তাকে ধ্বংস করে দিবেন। তারপর সাতটি বছর লোকেরা এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, দু' ব্যক্তির মধ্যে কোন শত্রুতা থাকবে না। তখন আল্লাহ তাআলা সিরিয়ার দিক হতে শীতল বাতাস প্রবাহিত করবেন। ফলে যার হৃদয়ে কল্যাণ বা ঈমান থাকবে, এ ধরনের কোন লোকই এ দুনিয়াতে আর বেচে থাকবে না। বরং এ ধরনের প্রত্যেকের জান আল্লাহ তাআলা কবয করে নিবেন। এমনকি তোমাদের কোন লোক যদি পর্বতের গভীরে গিয়ে আত্মগোপন করে তবে সেখানেও বাতাস তার কাছে পৌছে তার জান কবয করে নিবে। আবদুল্লাহ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তখন খারাপ লোকগুলো পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। দ্রুতগামী পাখী এবং জ্ঞানশূন্য হিংস্রপ্রাণীর ন্যায় তাদের স্বভাব হবে। তারা কল্যাণকে অকল্যাণ বলে জানবে না এবং অকল্যাণকে অকল্যাণ বলে মনে করবে না। এ সময় শয়তান এক আকৃতিতে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমরা কি আহবানে সাড়া দিবে না? তারা বলবে, আপনি আমাদেরকে কোন বিষয়ের আদেশ করছেন? তখন সে তাদেরকে মূর্তি পূজার নির্দেশ দিবে। এমতাবস্থায়ও তাদের জীবনোপকরণে প্রশস্ততা থাকবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন-যাপন করবে। তখনই শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। এ আওয়াজ সর্বপ্রথম ঐ লোকই শুনতে পাবে, যে তার উটের জন্য হাওয সংস্করণের কাজে নিযুক্ত থাকবে। আওয়াজ শুনামাত্রই সে অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়বে। সাথে সাথে অন্যান্য লোকেরাও অজ্ঞান হয়ে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ শুক্র ফোটার অথবা ছায়ার ন্যায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। বর্ণনাকারী নুমান সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এতে মানুষের শরীর পরিবর্ধিত হবে। আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অকস্মাৎ তারা দাড়িয়ে তাকাতে থাকবে। অতঃপর আহবান করা হবে যে, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আসো। অতঃপর (ফেরেশতাদের বলা হবে) তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। তারপর আবারো বলা হবে, জাহান্নামী দল বের করো। জিজ্ঞেস করা হবে, কত জন? উত্তরে বলা হবে, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শ' নিরানব্বই জন। অতঃপর তিনি বললেন, এ-ই তো ঐদিন, যেদিন কিশোরকে পরিণত করবে বৃদ্ধে এবং এ-ই চরম সঙ্কটাপন্ন অবস্থার দিন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইয়াকুব ইবন আসিম ইবন উরওয়াহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক লোককে শুনেছি যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমরকে প্রশ্ন করেছেন, আপনি কি বলেছেন, অমুক অমুক সময় কিয়ামত সংঘটিত হবে? এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমি ইচ্ছা করেছি, তোমাদেরকে কোন কথাই আমি আর বলব না। আমি তো এ কথাই বলেছি যে, অল্প কিছু দিন পরেই তোমরা একটি ভয়ানক কাহিনী দেখতে পাবে। যা ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দিবে। বর্ণনাকারী শুবাহ এ কথা বা অনুরূপ কথাই বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। অতঃপর তিনি মুআয এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, যার হৃদয়ে অণুপরিমাণ ঈমান থাকবে, এ ধরনের কোন লোকই তখন আর অবশিষ্ট থাকবে না। বরং তার জান কবয করে নেয়া হবে। মুহাম্মাদ ইবন জাফার বলেন, শুবাহু এ হাদীস আমার কাছে কয়েকবার বর্ণনা করেছেন এবং আমিও তার নিকট সেটা উথাপন করেছি।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমি একটি হাদীস আয়ত্ত্ব করেছি, যা কক্ষনো আমি ভুলিনি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হলো, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং একটা উদ্ভট জন্তু মানুষের নিকট চাশতের সময় বের হওয়া। এ দু'টির যে কোনটি প্রথমে প্রকাশ পাবে, পরক্ষণে অপরটিও দ্রুত প্রকাশ পাবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ যুরআহ থেকে বর্ণিত। 'তিনি বলেন, মদীনায় মারওয়ান ইবন হাকাম এর কাছে তিনজন মুসলিম বসে ছিলেন। তিনি কিয়ামতের আলামতসমূহের বর্ণনা করছিলেন এবং তারা তা শুনছিলেন। আলোচনায় তিনি বলছিলেন যে, কিয়ামতের আলামতসমূহের প্রথম আলামত হলো, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হওয়া। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন আমর বললেন, মারওয়ানের কথা কিছুই হয়নি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন একটি হাদীস আমি সংরক্ষণ করেছি, যা কক্ষনো আমি ভুলে যাইনি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। তারপর তিনি অবিকল বর্ণনা করেছেন।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী ..... আবু যুরআহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মারওয়ান এর কাছে লোকেরা কিয়ামতের বিষয়ে আলোচনা করল। তখন আবদুল্লাহ ইবন আমর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পূর্বোক্ত হাদীস দুটোর অবিকল বর্ণনা করতে শুনেছি। কিন্তু এতে তিনি পূর্বাহ্নের কথা উল্লেখ করেননি।

আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস্ সামাদ ইবন আবদুল ওয়ারিস ও হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আমির ইবন শারাহীল শা'বী থেকে বর্ণিত। তিনি যাহহাক ইবন কায়স এর বোন ফাতিমা বিনতু কায়স কে প্রশ্ন করলেন। যে সকল মহিলাগণ প্রথমে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যে হাদীস শুনেছেন, অন্যের দিকে সম্বোধন করা ছাড়া, এমন একটি হাদীস আপনি আমার কাছে পেশ করুন। তিনি বললেন, তবে তুমি যদি শুনতে চাও, অবশ্যই আমি তা বর্ণনা করব। সে বলল, হ্যা, আপনি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি ইবন মুগীরাকে বিয়ে করেছিলাম। তিনি কুরাইশী যুবকদের উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই তিনি শাহীদ হয়ে যান। আমি বিধবা হয়ে যাবার পর আবদুর রহমান ইবন আওফ আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আরো কতিপয় সাহাবারাও প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও তার আযাদকৃত গোলাম উসামাহ্ ইবন যায়দ এর জন্য প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ হাদীসটি আমি আগেই শুনেছিলাম যে, তিনি বলেছেন, যে লোক আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকেও ভালবাসে। ফাতিমা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা করার পর আমি তাকে বললাম, আমার বিষয়টি আপনার ইচ্ছামাফিক ছেড়ে দিলাম। আপনি যার সঙ্গে ইচ্ছা আমাকে বিবাহ দিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীক এর কাছে চলে যাও। উম্মু শারীক একজন আনসার ধনবান মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় সে বেশি খরচ করে এবং তার কাছে অনেক অতিথি আসে। এ কথা শুনে আমি বললাম, আমি তা-ই করব। তখন তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীকের নিকট যেয়ো না। কেননা উম্মু শারীক আপ্যায়নপ্রিয় মহিলা এবং আমি এটাও পছন্দ করি না যে, তোমার উড়না পড়ে যাক বা তোমার পায়ের গোছা বস্ত্রহীন হয়ে যাক আর লোকেরা তোমার শরীরের এমন স্থান দেখে নিক যা তুমি কক্ষনো পছন্দ করো না। তবে তুমি তোমার চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবন উম্মু মাকতুম এর নিকট চলে যাও। তিনি বানী ফিহর এর এক ব্যক্তি। ফিহর কুরাইশেরই একটি শাখা গোত্র। ফাতিমা যে খান্দানের লোক তিনিও সে খান্দানেরই লোক। আমি তার কাছে চলে গেলাম। তারপর আমার ইদ্দত শেষ হলে আমি এক আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বস্তুতঃ তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক নির্ধারিত আহ্বানকারী ছিলেন। তিনি এ মর্মে আহবান করছিলেন যে, সালাতের উদ্দেশে তোমরা সমবেত হয়ে যাও। এরপর আমি মসজিদের দিকে অগ্রসর হলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি বলেন, সম্প্রদায়ের পেছনে যে কাতারে মহিলাগণ ছিলেন আমি সে কাতারেই ছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায়ন্তে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় মিম্বারে বসে গেলেন। অতঃপর বললেন, প্রত্যেকেই আপন আপন স্থানে বসে যাও। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি জন্য তোমাদেরকে সমবেত করেছি? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে কোন আশা বা ভয়-ভীতির জন্য জমায়েত করিনি। তবে আমি তোমাদেরকে কেবল এজন্য জমায়েত করেছি যে, তামীম আদ দারী প্রথমে খ্রীস্টান ছিল। সে আমার কাছে এসে বাইআত গ্রহণ করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সে আমার নিকট এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেছে যদ্বারা আমার সে বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যায়, যা আমি দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলাম। সে আমাকে বলেছে যে, একবার সে লাখ্‌ম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশজন লোকসহ একটি সামুদ্রিক জাহাজে আরোহণ করেছিল। সামুদ্রিক ঝড় এক মাস পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। অতঃপর সূর্যাস্তের সময় তারা সমুদ্রের এক দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। তারপর তারা ছোট ছোট নৌকায় বসে ঐ দ্বীপে প্রবেশ করে। দ্বীপে নামতেই জন্তুর ন্যায় একটি জিনিস তাদের দেখতে পায়। তার পূর্ণ দেহ পশমে ভরা ছিল। পশমের কারণে তার আগা-পাছা চেনার উপায় ছিল না। লোকেরা তাকে বলল, হতভাগা, তুই কে? সে বলল, আমি জাস্‌সা-সাহ। লোকেরা বলল, "জাস্‌সা-সাহ! আবার কি? সে বললঃ ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষা করছে। তামীম আদ দারী বলেন, তার মুখে এক লোকের কথা শুনে আমরা ভয়ে শঙ্কিত হলাম যে, সে আবার শয়তান তো নয়! আমরা দ্রুত পদব্রজে গীর্জায় প্রবেশ করতেই এক দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। যা ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কক্ষনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাধা অবস্থায় দু' হাটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো। আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বলো, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম। আমরা সমুদ্রকে উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝড়ের কবলে থেকে অবশেষে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ পশমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। পশমের মাত্রাতিরিক্তের কারণে আমরা তার আগা-পাছা চিনতে পারছি না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক! তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি জাসসা-সাহ। আমরা বললাম, জাসসা-সাহ! আবার কি? তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষায় আছে। তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি। আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি না জানি এ আবার কোন জিন ভূত কিনা? অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বাইসানের খেজুর বাগানের সংবাদ বলো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বাইসানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যা, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে কোন ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা, তিবরিয়্যা সমুদ্রের ব্যাপারে আমাকে অবগত করো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যা, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না। সে আবার বলল, 'যুগার' এর ঝর্ণার ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবহিত করো। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদের নিকট জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর ঝর্ণাতে পানি আছে কি? আর এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি? আমরা বললাম, হ্যা, এতে অনেক পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পানির মাধ্যমেই তাদের ক্ষেত আবাদ করে। সে আবার বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নবীর ব্যাপারে খবর দাও। সে এখন কি করছে? তারা বলল, তিনি মক্কাহ থেকে হিজরত করে মদীনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞেস করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে কি? আমরা বললাম, হ্যা, করেছে। সে বলল, সে তাদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে খবর দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যা। সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগণের জন্য কল্যাণকর ছিল। এখন আমি নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ দাজ্জাল। অতি সত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মক্কাহ্ ও তাইবাহ এ দুটি স্থানে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু'টির কোন স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দুটি স্থানের সকল রাস্তায় ফেরেশতাদের পাহারা থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ছড়ি দ্বারা মিম্বারে আঘাত করে বললেন, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ। তাইবাহ অর্থ এ মদীনাই। সাবধান! আমি কি এ কথাটি ইতোপূর্বে তোমাদেরকে বলিনি? তখন লোকেরা বলল, হ্যা, আপনি বলেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তামীম আদ দারীর কথাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। যেহেতু তা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমার ঐ বর্ণনার, যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মদীনাহ ও মক্কাহ বিষয়ে ইতোপূর্বে বলেছি। জেনে রেখ। উল্লেখিত দ্বীপ সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরের পার্শ্বস্থ সাগরের মাঝে অবস্থিত। যা পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত। এ সময় তিনি নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারাও করলেন। বর্ণনাকারী ফাতিমা বিনতু কায়স বলেন, এ হাদীস আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সংরক্ষণ করেছি।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... শা'বী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ফাতিমা বিনতু কায়স এর কাছে গেলাম। তারপর তিনি আমাকে সতেজ খেজুর দ্বারা মেহমানদার করলেন। এ খেজুরকে (রুত্বাব ইবন ত্বাব) বলা হয় এবং যবের ছাতু পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার বিষয়ে প্রশ্ন করলাম যে, সে কোথায় ইদ্দাত পালন করবে? উত্তরে তিনি বললেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়ার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমার পিতার বাড়ীতে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফাতিমা বিনতু কায়স বলেন, তখন লোকদের উদ্দেশে ঘোষণা দেয়া হলো, সালাতের উদ্দেশে একত্রিত হয়ে যাও। তারপর এ ঘোষণা শুনে যারা সমবেত হলেন তাদের সাথে আমিও গেলাম এবং পুরুষের কাতারের পেছনে মহিলাদের কাতারের প্রথম সারিতে আমি দাড়ালাম। সালাতন্তে নবী (ﷺ) কে মিম্বারে খুৎবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, তামীম আদ দারীর চাচাতো ভাই একবার সমুদ্রে নৌকায় সফর করেছিল। অতঃপর তিনি হাদীসটি অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত আছে যে, ফাতিমা বলেন, আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ছড়ি দ্বারা মাটিতে আঘাত করে বলেছেন, এ হচ্ছে তাইবাহ অর্থ মদীনাহ।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও আহমাদ ইবন উসমান আন নাওফালী .... ফাতিমা বিনতু কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে তামীম আদ দারী আসলো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ মর্মে অবগত করল যে, একদা সে সমুদ্রে নৌকায় আরোহণ করল। তখন নৌকাটি তাকেসহ নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল এবং অবশেষে এক দ্বীপে এসে পড়ল। অতঃপর সে পানির উদ্দেশে দ্বীপ অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। সেখানে পৌছে সে এমন এক ব্যক্তিকে দেখল, যে তার পশম হেঁচড়িয়ে চলছে। অতঃপর তিনি হাদীসের পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন। তবে এতে এও রয়েছে যে, দাজ্জাল বলবে, আমাকে যদি বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয় তবে আমি তাইবাহ ছাড়া সমগ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণ করব। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তামীম আদ দারীকে লোকেদের মাঝে নিয়ে এলেন এবং সে তাদেরকে পূর্ণ বৃত্তান্ত বর্ণনা করে শুনাল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ শহরটি তাইবাহ এবং ঐ লোকই দাজ্জাল।

আবু বকর ইবন ইসহাক .... ফাতিমা বিনতু কায়স থেকে বর্ণিত। একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে বসে বললেন, হে লোক সকল! তামীম আদ দারী আমার কাছে বর্ণনা করেছে যে, এক সময় তার সম্প্রদায়ের কতিপয় লোক সমুদ্রে ভ্রমণ করছিল। অতঃপর সমুদ্রের মাঝে তাদের জাহাজটি ভেঙ্গে গেল। উপায়ান্তর না পেয়ে তাদের কেউ কেউ নৌকার কাষ্ঠে ভর করে সামুদ্রিক দ্বীপে গিয়ে পৌছে। অতঃপর আবূ যিনাদ হাদীসটি অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আলী ইবন হুজর আস্ সা'দী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মক্কাহ মদীনাহ ছাড়া পৃথিবীর গোটা শহরেই দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে। তবে মক্কাহ মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা এ দু' শহরের প্রতিটি রাস্তায়ই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে এর পাহারাদারীতে নিযুক্ত থাকবে। পরিশেষে দাজ্জাল মদীনার এক নিকটবর্তী স্থানে অবতরণ করবে। তখন মদীনাতে তিনবার ভূমিকম্প হবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক ও কাফির মদীনাহ হতে বের হয়ে তার কাছে চলে যাবে।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অতঃপর হাম্মাদ ইবন সালামাহ অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, দাজ্জাল এসে জুরুফ এর এক অনুর্বর জমিতে নামবে এবং এখানেই সে তার শিবির স্থাপন করবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক পুরুষ ও মহিলা তার কাছে চলে যাবে।

মানসূর ইবন আবী মুযাহিম .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আসবাহান এর সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুসারী হবে, তাদের শরীরে (তায়ালিসাহ) কালো চাদর থাকবে।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... উম্মু শারীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, লোকেরা দাজ্জালের আতঙ্কে পর্বতে পালিয়ে যাবে। এ কথা শুনে উম্মু শারীক বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সেদিন আরবের মানুষেরা কোথায় থাকবে? জবাবে তিনি বললেন, তখন তারা সংখ্যায় নগণ্য হবে।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবদ ইবন হুমায়দ ... ইবন জুরায়জ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ..... আবু দাহমা, আবু কাতাদাহ্ ও অনুরূপ আরো কতক ব্যক্তি হতে বর্ণিত। তারা বলেন, হিশাম ইবন আমির এর সামনে দিয়ে আমরা ইমরান ইবন হুসায়নের কাছে যেতাম। একদিন হিশাম বললেন, তোমরা আমাকে অতিক্রম করে এমন লোকের কাছে যাচ্ছ, যারা আমার চেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বেশি উপস্থিত হয়নি এবং যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীসের ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি জানে না। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আদম এর সৃষ্টির পর হতে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাজ্জালের চেয়ে মারাত্মক আর কোন (ফিতনা) সৃষ্টি হবে না।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... হুমায়দ ইবন হিলাল তার বংশধরদের তিন ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, যাদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ্ও রয়েছেন, আমরা হিশাম ইবন আমির এর সামনে দিয়ে ইমরান ইবন হুসায়ন এর নিকট যাচ্ছিলাম। তারা আবদুল আযীয ইবন মুখতার এর অনুরূপ বলেছেন। তবে পার্থক্য শুধু এই যে, 'এমন বিষয় যা দজ্জাল থেকে আরও মারাত্মক কথাটি উল্লেখ আছে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই তোমরা নেক আমলে দ্রুততা অবলম্বন করো, তা হলো- (১) পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, (২) ধোয়া উত্থিত হওয়া, (৩) দাজ্জাল আবির্ভাব হওয়া, (৪) দাব্বাহ অদ্ভুত জন্তুর আত্মপ্রকাশ, (৫) খাস বিষয় [কারো ব্যক্তিগত মৃত্যু] ও (৬) আম বিষয় সার্বজনিক বিপদ বা কিয়ামত।

উমাইয়্যাহ্ ইবন বিস্তাম .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ছয়টি (আলামত সংঘটিত হওয়ার আগে) দ্রুত তোমরা নেক আমল করতে শুরু করো। তা হলো দাজ্জাল প্রকাশিত হওয়া, ব্যাপক ধোয়া দেখা দেয়া, দাব্বাতুল আরয (অদ্ভুত জন্ত) বের হওয়া, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, কিয়ামত এবং মাওত।

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... মাকিল ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ হত্যাকাণ্ডের প্রাক্কালে ইবাদাত করা আগমন করার হিজরত করে সমতুল্য।

আবূ কামিল .... হাম্মদ হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে মধ্যম ও শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমি ও কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির সদৃশ (কাছাকাছি সময়ে)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ও কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির ন্যায় (নিকটবর্তী সময়ে)। শুবাহ বলেন, আমি কাতাদাহ্ এর কাছে শুনেছি, তিনি তার বর্ণনায় বলতেন, যেমন এক আঙ্গুল অন্য আঙ্গুলের চেয়ে বড়। তারপর শুবাহ বলেন, এ উক্তিটি কাতাদাহ্ আনাস হতে শুনে বর্ণনা করেছেন না নিজের থেকেই বলছেন, তা আমি নিশ্চিত জানি না।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এবং কিয়ামত এ দু'টির মতো প্রেরিত হয়েছি। এ কথাটি বর্ণনা করতে গিয়ে শুবাহ তার শাহাদাত ও মধ্যমা অঙ্গুলিকে এক সাথে মিলালেন (রসূলুল্লাহর অনুরূপ করছিলেন)।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু গাসসান মিসমাঈ .... আনাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি এবং কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির সদৃশ। এ সময় তিনি তার শাহাদাত ও মধ্যমা অঙ্গুলিদ্বয়কে একত্রিত করেছেন।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেদুঈন লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসেই তাকে কিয়ামত বিষয়ে প্রশ্ন করত, বলত, কিয়ামত কবে হবে? তখন তিনি তাদের মধ্যে কম বয়স লোকটির প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলতেন, এ যদি জীবিত থাকে তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তোমাদের কিয়ামত এসে উপস্থিত হবে।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ্ .... আনাস থেকে বর্ণিত। একদিন এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? তখন তার কাছে মুহাম্মাদ নামে এক আনসারী বালক উপস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ বালক যদি জীবিত থাকে তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে হবে।

হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করলেন যে, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করেন। এরপর তিনি সম্মুখস্থ ইয্‌দ গোত্রের এক যুবকের প্রতি তাকালেন, বস্তুতঃ ইযদ শানুয়ার একটি শাখা গোত্র। অতঃপর তিনি বললেন, এ ছোট ছেলেটি যদি দীর্ঘায়ু লাভ করে তবে তার বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। আনাস বলেন, তখন এ বালক আমার সমবয়স্ক ছিল।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সমবয়স্ক মুগীরাহ ইবন শুবাহ এর এক গোলাম একদিন পথ অতিক্রম করছিল, তখন নবী (ﷺ) বললেন যদি তার হায়াত দীর্ঘায়ু হয় তবে সে বার্ধক্যে পৌছার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এক লোক তার উষ্ট্রী দোহন করবে; কিন্তু পাত্র তার মুখের নিকটে পৌছার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে দু' লোক কাপড় ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে। তারা ক্রয়-বিক্রয় শেষ না করতেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। এমনিভাবে এক লোক তার হাওয মেরামত করতে থাকবে। কিন্তু মেরামত শেষ করে মুখ ফিরাবার আগেই কিয়ামত এসে উপস্থিত হবে।

আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উভয় ফুৎকারের মাঝে (ব্যবধান) চল্লিশ হবে। সাহাবাগণ বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! চল্লিশ দিন (ব্যবধান)? তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে সন্দিহান। তারা আবারো প্রশ্ন করলেন, এ কি চল্লিশ মাস? এবারো তিনি বললেন, এ সন্দেহ পোষণ করি। তারা আবারও বলল, তা কি চল্লিশ বছর? তিনি বললেন, আমি তা বলি না। তারপর আকাশ হতে বৃষ্টিপাত হবে, এতে মানুষ উদগত হবে যেমন উদ্ভিদ উদগত হয়। এরপর তিনি বললেন, একটি হাড় ছাড়া মানুষের সকল শরীর পচে যাবে। আর সে হাড়টি হলো, মেরুদণ্ডের হাড়। কিয়ামতের দিন এ হাড় হতেই পুনরায় মানুষকে পুনঃসৃষ্ট করা হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মানুষের সব কিছুই মাটি খেয়ে ফেলবে। কেবল মেরুদণ্ডের হাড় বাকী থাকবে। এর দ্বারাই প্রথমতঃ মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর দ্বারাই আবার তাদেরকে জোড়া লাগানো হবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের শরীরে এমন একটি হাড় আছে, যা জমিন কখনো ভক্ষণ করবে না। কিয়ামতের দিন এর দ্বারাই পুনরায় মানুষ সৃষ্টি করা হবে। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ আবার কোন হাড্ডি? তিনি বললেন, এ হলো, মেরুদণ্ডের হাড্ডি।