bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (৬৩৯৫-৬৬১৬)

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ইবন জামীল ইবন তারীফ আস্ সাকাফী ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা হাকদার ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তারপরও তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপর তোমার পিতা। আর কুতাইবাহ বর্ণিত হাদীসে "আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা যোগ্য কে" এর উল্লেখ আছে। তিনি (কুতাইবাহ) তার রিওয়ায়াতে "মানুষ" শব্দটি উল্লেখ করেননি।

আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! (মানুষের মধ্যে) সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকারী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপর তোমার পিতা। অতঃপর তোমার নিকটবর্তী জন। এরপর তোমার নিকটবর্তী জন।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট আগমন করলো। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর সে বলল, হ্যা। তোমার পিতার শপথ! তুমি অবশ্যই অবগত হবে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আহমাদ ইবন খিরাশ .... ইবন শুবরুমাহ থেকে এ সানাদে উহায়ব বর্ণিত হাদীসে (সর্বাপেক্ষা সদ্ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য কে?) উল্লেখ রয়েছে। আর মুহাম্মদ ইবন তালহার হাদীসে মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা বেশী অধিকার কার রয়েছে। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট আসলো। এরপর সে তার নিকট জিহাদে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেন, তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত আছেন? সে বলল, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে তাদের উভয়ের (খিদমাত করে) সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ..... আবুল আব্বাস বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস কে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর দরবারে আসলো। এরপর বর্ণনাকারী আগের মতো উল্লেখ করেন।

আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও কাসিম ইবন যাকারিয়্যা হাবীব এর সূত্রে এ সানাদে হুবহু বর্ণনা করেন।

সাঈদ ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর দরবারে আগমন করলো। এরপর সে বলল, আমি আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের জন্য বাইআত গ্রহণ করব। (এর দ্বারা) আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি। তিনি বললেন, তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যা, তারা দু'জনই জীবিত। তিনি আবার বললেন, সত্যিই কি! তুমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান আকাঙ্ক্ষা করছ? সে বলল, হ্যা! তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার মাতা-পিতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দু'জনের সঙ্গে সদাচরণ কর।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুরায়জ (বনী ইসরাঈলের একজন আবিদ ব্যক্তি) তার ইবাদাতখানায় ইবাদাতে নিমগ্ন থাকতেন। (একবার) তার মাতা তার কাছে আসলেন। হুমায়দ বলেন, আমাদের কাছে আবু রাফি এমন ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেন, যেমনভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মায়ের ডাকের ভঙ্গিতে আবু হুরাইরাহ এর কাছে ব্যক্ত করেছেন। কিভাবে তার হাত তার ভ্রুর উপর রাখছিলেন। এরপর তার দিকে মাথা উচু করে তাকে ডাকছিলেন। বললেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, আমার সাথে কথা বলো। এ কথা এমন অবস্থায় বলছিলেন, যখন জুরায়জ সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, "হে আল্লাহ! (একদিকে) আমার মা আর (অপরদিকে) আমার সালাত (আমি কী করি?)"। রাবী বলেন, অবশেষে তিনি তার সালাতকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং তার মা ফিরে গেলেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন, হে জুরায়জ। আমি তোমার মা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ! আমার মা, আমার সালাত। তখন তিনি তার সালাতে ব্যস্ত রইলেন। তখন তার মা বললেন, "হে আল্লাহ! এ জুরায়জ আমারই ছেলে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। সে আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করল। হে আল্লাহ তার মৃত্যু দিয়ো না, যে পর্যন্ত তাকে ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখাও।" তিনি (ﷺ) বলেন, যদি তার মাতা তার বিরুদ্ধে অন্য কোন বিপদের জন্য বদদোয়া করতেন তাহলে অবশ্যই সে, বিপদে পতিত হত। তিনি (ﷺ) বলেন, এক মেষ রাখাল জুরায়জ এর ইবাদাতখানার নিকটেই (মাঝে মাঝে) আশ্রয় নিত। তিনি বলেন, এরপর গ্রাম থেকে এক মহিলা বের হয়ে এলে উক্ত রাখাল তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এতে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, এ (সন্তান) কোথা থেকে? সে উত্তর দিল, এ ইবাদাতখানায় যে বাস করে, তার থেকে। তিনি বলেন, এরপর তারা শাবল কোদাল ইত্যাদি নিয়ে এলো এবং চীৎকার করে ডাক দিল। তখন জুরায়জ সালাতে মশগুল ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের সাথে কথা বললেন না। তিনি বলেন, এরপর তারা তার ইবাদাতখানা ধ্বংস করতে লাগল। তিনি এ অবস্থা দেখে নীচে নেমে এলেন। এরপর তারা বলল, এ মহিলাকে জিজ্ঞেস করো (সে কী বলছে)। তিনি বলেন, তখন জুরায়জ মুচকি হেসে শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তোমার পিতা কে? তখন শিশুটি বলল, আমার পিতা সে মেষ রাখাল। যখন তারা সে শিশুটির মুখে এ কথা শুনতে পেল তখন তারা বলল, (হে দরবেশ) আমরা তোমার ইবাদাতখানার (গীর্জার) যতটুকু ভেঙ্গে ফেলেছি তা সোনা-রূপা দিয়ে পুনঃনির্মাণ করে দেব। তিনি বললেন, না; বরং তোমরা মাটি দ্বারাই পূর্বের ন্যায় তা নির্মাণ করে দাও। এরপর তিনি তার ইবাদাতগাহে উঠে বসলেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তিনজন ব্যতীত কেউ দোলনায় কথা বলেনি। তাদের মধ্যে একজন ঈসা ইবন মারইয়াম, আরেকজন জুরায়জ সম্পর্কিত শিশুটি। জুরায়জ ছিলেন একজন ইবাদাতগুজার ব্যক্তি। তিনি একটি ইবাদাতখানা তৈরি করে সেখানে অবস্থান করতেন। এক সময় তার কাছে তার মা আসলেন। তিনি সে সময় সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। মা ডাকলেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বলতে লাগলেন, হে আমার প্রতিপালক! (একদিকে) আমার মা ও (অপর দিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মগ্ন থাকলেন। মা ফিরে গেলেন। পরের দিন তিনি আবার তার কাছে এলেন। তখনও তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক একদিকে আমার মা (আমাকে ডাকছেন) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মশগুল রইলেন। মা ফিরে গেলেন। এরপরের দিন আবার এলেন। তখনও তিনি সালাতেই রত ছিলেন। এবারও (মা) বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক! একদিকে আমার মা (আমাকে ডাকছেন)। (অন্যদিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতেই লিপ্ত রইলেন। এবার তার মা বললেন, হে আল্লাহ! বদকার স্ত্রীলোকের সম্মুখীন করার আগ পর্যন্ত তুমি তার মৃত্যু দিয়ো না। এরপর বানু ইসরাঈলদের মধ্যে জুরায়জ ও তার ইবাদাত সম্পর্কে আলোচনা হতে লাগল। (বনী ইসরাঈলের মধ্যে) সৌন্দর্য উপমেয় এক দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোক ছিল। সে বলল, যদি তোমরা চাও তাহলে আমি তোমাদের সামনে তাকে (জুরায়জকে) ফিতনায় ফেলতে পারি। তিনি বলেন, এরপর সে জুরায়জের সামনে নিজেকে পেশ করে। কিন্তু জুরায়জ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। অবশেষে সে এক মেষ রাখালের নিকট আসে। সে জুরায়জের ইবাদাতখানায় মাঝে মধ্যে যাওয়া-আসা করত। সে তাকে নিজের দিকে প্রলুব্ধ করল। সে (রাখাল) তার উপর অনুরক্ত হলো। এতে সে গর্ভবতী হয়ে গেল। যখন সে সন্তান প্রসব করল তখন বলে দিল যে, এ সন্তান জুরায়জের। লোকেরা (এ কথা শুনে) তার কাছে এসে জড়ো হলো এবং তাকে নীচে নামতে বাধ্য করল এবং তারা তার ইবাদাতখানা ভেঙ্গে ফেলল আর তাকে প্রহার করতে লাগল। তখন তিনি (জুরায়জ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের ব্যাপার কী? তারা বলল, তুমি তো এ দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোকের সাথে ব্যভিচার করেছে এবং তোমার পক্ষ থেকে সে সন্তান প্রসব করেছে। তখন তিনি বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটি নিয়ে এলো। এরপর তিনি বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দাও, আমি সালাত আদায় করে নেই। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে শিশুটির কাছে এলেন। এরপর তিনি শিশুটির পেটে টোকা দিয়ে বললেন, হে বৎস! তোমার পিতা কে? সে উত্তর করল। অমুক রাখাল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকেরা জুরায়জের দিকে এগিয়ে আসলো এবং তাকে চুম্বন করতে এবং তার গায়ে হাত বুলাতে লাগল। এরপর বলল, আমরা আপনার ইবাদাতখানা স্বর্ণ দ্বারা নির্মাণ করে দিব। তিনি বললেন, না বরং পুনরায় মাটি দিয়ে তৈরি করে দাও, যেমন ছিল। লোকেরা তাই করল। (তৃতীয় জন) একদা এক শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল। তখন উত্তম পোষাকে সজ্জিত এক লোক একটি হৃষ্টপুষ্ট সওয়ারীর উপর আরোহণ করে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তার মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মতো বানিয়ে দাও। তখন শিশুটি মাতৃস্তন ছেড়ে তার প্রতি লক্ষ্য করে বলল, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মতো বানিও না।" এরপর সে আবার স্তনের দিকে ফিরে দুধ পান করতে লাগল। রাবী বলেন, মনে হয় যেন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এখনো দেখছি যে, তিনি তার শাহাদাত অঙ্গুলি নিজ মুখে দিয়ে তা চুষে সে শিশুটির দুধ পানের দৃশ্য দেখাচ্ছেন। এরপর তিনি বর্ণনা করলেন যে, কিছু লোক একজন যুবতীকে নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাকে তারা প্রহার করছিল এবং বলাবলি করছিল যে, তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস। আর সে বলছিল, আল্লাহর উপরই আমার ভরসা; আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। তখন তার মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে এর (দাসীর) মতো বানিও না। তখন শিশুটি দুধপান ছেড়ে তার (দাসীর) প্রতি লক্ষ্য করে বলল, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর (এ দাসীর) মতো বানিয়ে দাও।" সে সময় মা ও পুত্রের মধ্যে কথোপকথন হলো। তখন মা বলল, ঠাটা পড়ুক (এ কেমন কথা)। সুদৰ্শন এক ব্যক্তি যাচ্ছিল। তখন আমি বললাম, "হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মতো বানিও"। আর তুমি বললে, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মতো বানিও না"। এরপর লোকেরা এ দাসীকে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তারা তাকে প্রহার করছিল এবং বলছিল, তুই ব্যভিচার করেছিস এবং তুই চুরি করেছিস। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে তার মতো বানিও না। আর তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানাও। সে বলল, সে আরোহী ব্যক্তি ছিল অত্যাচারী। তাই আমি বলেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানিও না। আর যে দাসীকে ওরা বলছিল, তুই যিনা করেছিস। আসলে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়নি এবং বলেছিল, চুরি করেছিস, অথচ সে চুরি করেনি। তাই আমি বললাম, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানিয়ে দাও"।

শাইবান ইবন ফাররূখ ..... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যক্তির, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার তার নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হলো, কার হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা তাদের একজনকে বার্ধক্যজনিত অবস্থায় পেল, এরপরও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তার নাক ধূলিমলিন হোক- কথাটি তিনবার বলেছেন। এরপর তিনি উক্ত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন।

আবূ তাহির, আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, মক্কায় এক রাস্তায় আবদুল্লাহ ইবন উমর এর সাথে এক বেদুঈনের সাক্ষাৎ হলো। আবদুল্লাহ তাকে সালাম দিলেন এবং তিনি যে গাধার পিঠে আরোহণ করতেন, সে গাধটি তাকে আরোহণের জন্য দিয়ে দিলেন। তিনি তার মাথার পাগড়ীটিও তাকে দান করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন দীনার তাকে বললেন যে, আমরা তাকে বললাম, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। বেদুঈনরা তো অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়। (এত দেয়ার প্রয়োজন কী ছিল?) তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর বললেন, এ ব্যক্তির পিতা উমার ইবন খাত্তাব এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম নেকীর কাজ হচ্ছে তার পিতার বন্ধুর সঙ্গে সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রাখা।

আবূ তাহির .. আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো পিতার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখা।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি মক্কাহ অভিমুখে রওনা হতেন তখন তার সাথে একটি গাধা থাকত। উটের সওয়ারীতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ক্ষণিক স্বস্তি লাভের জন্য তাতে আরোহণ করতেন। আর তার সঙ্গে একটি পাগড়ী থাকত, যা দিয়ে তিনি মাথা বেধে নিতেন। কোন এক সময় তিনি উক্ত গাধায় আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, তখন তার পাশ দিয়ে একজন বেদুঈন অতিক্রম করছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি অমুকের পুত্র অমুক নও? সে বলল, হ্যা। তখন তিনি তাকে গাধাটি দিয়ে দিলেন এবং বললেন, এতে আরোহণ কর। তিনি তাকে পাগড়ীটিও দান করলেন এবং বললেন, এটি দ্বারা তোমার মাথা বেধে নাও। তখন তার সঙ্গীদের কেউ কেউ তাকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি এ বেদুঈনকে গাধাটি দিয়ে দিলেন, যার উপর আরোহণ করে আপনি স্বস্তি লাভ করতেন এবং পাগড়ীটিও দান করলেন, যার দ্বারা আপনার মাথা বাধতেন। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো কোন ব্যক্তির পিতার ইন্‌তিকালের পর তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখা। আর এ বেদুঈনের পিতা ছিলেন উমর এর অন্তরঙ্গ বন্ধু।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমুন .... নাওওয়াস ইবন সামআন আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন, পুণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্ধ সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... নাওওয়াস ইবন সামআন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক বছর অবস্থান করি। আর একটি মাত্র কারণ আমাকে হিজরত থেকে বিরত রাখে। তা হলো দীনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার সুযোগ। আমাদের কেউ যখন হিজরত করে আসত তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কোন কিছুই জিজ্ঞেস করত না। তিনি বলেন, অতএব আমি তাকে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর দিলেন, সদাচারণই পুণ্য আর যা তোমার অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি পছন্দ করো না, তাই পাপ।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ইবন জামীল ইবন তারীফ ইবন আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী ও মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করে তা সমাপ্ত করলেন, তখন রহিম দণ্ডায়মান হলো এবং বলল, এ হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। তিনি বললেন, হ্যা। তুমি কি এতে সম্ভষ্ট নও যে, যে তোমাকে সংযুক্ত রাখবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব, আর যে তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে আমিও তাকে পৃথক করে দিব? তখন সে বলল, হ্যা। তিনি বললেন, তোমার জন্য তাই হবে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তোমরা চাও তাহলে তিলাওয়াত করতে পার, "তোমরা কি অস্বীকার করতে পারবে যে, তাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিবে, এরাই তারা-যাদের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। এরপর তিনি তাদের বধির করে দিয়েছেন ও তাদের চোখসমূহ দৃষ্টিহীন করে দিয়েছেন। তারা কি কুরআন সম্পর্কে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?"(মুহাম্মদ ৩৭ঃ০ ২২-২৪)

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রহিম আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবেন।

যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... জুবায়র ইবন মুতাইম থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (আত্মীয়তা) ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ইবন আবু উমর সুফইয়ান থেকে বর্ণনা করেন, আত্মীয়তা ছিন্নকারী।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... জুবায়র ইবন মুতাইম থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী এর সূত্রে এ সানাদে তার মতোই বর্ণিত আছে। আর তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার জীবিকার প্রশস্ততা কিংবা দীর্ঘায়ু পছন্দ করে, সে যেন তার আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করে।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার জীবিকার প্রশস্ততা চায় ও দীর্ঘায়ু কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন। আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি; কিন্তু তারা আমাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি তাদের উপকার করে থাকি; কিন্তু তারা আমার অপকার করে। আমি তাদের সহনশীলতা প্রদর্শন করে থাকি আর তারা আমার সঙ্গে মূৰ্খসুলভ আচরণ করে। তখন তিনি বললেন, তুমি যা বললে, তাহলে যদি প্রকৃত অবস্থা তাই হয় তুমি যেন তাদের উপর জলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করছ। আর সর্বদা তোমার সঙ্গে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকারী (ফেরেশতা) থাকবে, যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় বহাল থাকবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা প্রতিহিংসা করবে না, পরস্পর বিদ্বেষ করবে না এবং একে অপরের পশ্চাতে শক্ৰতা করবে না। তোমরা সবই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। আর কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য তার ভাই এর সাথে তিনদিনের বেশি সময় কথা-বার্তা পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।

হাজিব ইবন ওয়ালীদ ও হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মালিক এর বর্ণিত হাদীসের সদৃশ বর্ণিত।

যুহায়র ইবন হারব, ইবন আবূ উমর ও আমর আন নাকিদ .... যুহরী এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে ইবন উয়াইনাহ (এবং তোমরা পরস্পর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করো না) বাড়িয়ে বলেছেন।

আবূ কামিল, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে যুহরী এর সূত্রে ইয়াযীদ এর বর্ণনা, যুহরীর থেকে সুফইয়ান এর বর্ণনার অনুরূপ। তিনি চারটি বৈশিষ্ট্য একত্রে উল্লেখ করেছেন। আর আবদুর রাযযাক এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, (তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না অথবা সম্পর্ক ছিন্ন করবে না কিংবা পশ্চাতে শত্রুতা করবে না)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা একে অপরের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং পরস্পর শত্রুতা করবে না, পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে না এবং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকবে।

আলী ইবন নাসর আল জাহযামী .... শুবাহ উক্ত সানদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, (যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন)।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... আবু আইয়্যুব আল আনসারী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাই এর সঙ্গে তিন দিনের অধিক সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। দু'জনের সাক্ষাৎ ঘটলে একজন এদিকে মুখ ফিরিয়ে, অন্যজন ঐদিকে ঘাড় বাকিয়ে থাকে। তবে তাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে প্রথমে সালাম করে।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, হারমালাহ্ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে সকলেই মালিক এর সানাদে ও তার হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তার বক্তব্য (সেও মুখ ফিরিয়ে নিল এবং তিনিও মুখ ফিরিয়ে নিলেন) এর পরিবর্তে মালিক ব্যতীত তাদের সকলেই বর্ণনা করেন (তিনিও বিরত থাকলেন, সেও বিরত থাকল)।

মুহাম্মাদ ইবন নাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ঈমানদারের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি পরিত্যাগ করা জায়িয নয়।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন দিনের পরও হিজরত (কথাবার্তা পরিত্যাগ) বৈধ নয়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা খারাপ ধারণা করা থেকে বেচে থাকো। কেননা, খারাপ ধারণা প্রসূত বিষয় সর্বাপেক্ষা মিথ্যা। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, সুপ্তদোষ অনুসন্ধান করো না, তোমরা পরস্পর লিপ্সা করো না, পরস্পর পরস্পরের প্রতি শত্রুতা করো না, হিংসা করো না; একে অন্যের পিছনে লেগে থেকে না বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না। একে অন্যের পেছনে শত্রুতা করো না, একে অন্যের ছিদ্রাম্বেষণ করো না, অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর তুমি ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করো না; বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে বসবাস করতে থাকো।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পরকে হিংসা করবে না, একে অপরের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে না, সুপ্তদোষ সন্ধান করবে না, গুপ্ত ভুল-ভ্রান্তি অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরকে ধোকায় ফেলবে না। আর তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভ্রাতৃ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকো।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও আলী ইবন নাসর জাহযামী .... আমাশ থেকে এ সানাদে বর্ণিত যে, তোমরা একে অপরের সাথে আত্মীয়তা সম্পর্কচ্ছেদ করো না, একে অপরের পেছনে দুশমনি করো না, পরস্পরে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পরে হিংসা করো না। আর তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই পরিণত হয়ে যাও, যেমন আল্লাহ তাআলা তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করবে না, একে অন্যের পেছনে শত্রুতায় আবদ্ধ হয়ো না, পরস্পরে লিপ্সা করবে না বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর ধোকাবাজি করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশে অগোচরে শত্রুতা করো না এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না। তাকওয়া এখানে, এ কথা বলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার তার বক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় জ্ঞান করে। কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইযযত-আবরু হারাম।

আবূ তাহির, আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ... এরপর উসামাহ্ ইবন যায়দ যায়দ এর হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তবে এ বর্ণনায় তিনি সামান্য কম-বেশি করেছেন। তারা উভয়ে যতটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, তা হচ্ছে "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের দেহকায় ও বাহ্যিক আকৃতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তরসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। (এ বলে) তিনি তার আঙ্গুলের মাধ্যমে স্বীয় বক্ষের দিকে ইঙ্গিত করেন।

আমর আন নাকিদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক চাল-চলন ও বিত্ত-বৈভবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। এরপর বলা হবে, এ দু'জনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য অবকাশ দাও, এ দু'জনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও, এ দু'জনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও।

যুহায়র ইবন হারব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আহমাদ ইবন আবদাহ আয যাববী .... সুহায়ল এর পিতার সূত্রে মালিক এর সানাদে তার হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে দারাওয়াদী বর্ণিত হাদীসে ইবন আৱদাহ এর বর্ণনায় "কিন্তু সম্পর্কচ্ছেদকারী দু'ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হবে না" উল্লেখ আছে। আর কুতাইবাহ্ বলেছেন, (তবে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী দু'জনকে ক্ষমা করা হবে না)।

ইবন আবূ উমর .... মারফু সানাদে আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তাআলা সেদিন প্রত্যেক এমন বান্দাকে ক্ষমা করেন, যারা তার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করে না। তবে এমন ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা আছে। তখন বলা হবে, এ দু'জনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপোষ মীমাংসায় ফিরে আসে, এ দু'জনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা সংশোধনের দিকে ফিরে আসে।

আবু তাহির ও আমর ইবন সাওওয়াদ .... আবু হুরায়রা এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের আমল (সপ্তাহে দু'বার) সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর দরবারে) উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার দুশমনি রয়েছে। তখন বলা হবে, এ দু'জনকে বর্জন করো অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা মীমাংসার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া প্রদান করব। আজ এমন দিন, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই।

আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌছল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছো? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেশতা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোন অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালবাসি। ফেরেশতা বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তার দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তারই সম্ভষ্টি অর্জনের জন্য ভালবেসেছ।

শায়খ আবু আহমাদ .... হাম্মাদ ইবন সালামাহ্ এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ ইবন মানসূর ও আবু রাবী আয যাহরানী .... সাওবান থেকে বর্ণিত। আবু রাবী বলেছেন, তিনি হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদের হাদীসে রয়েছে যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোগীর সেবা শুশ্ৰুষাকারী বেহেশতের ফলমূল আহরণে রত থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে না প্রত্যাবর্তন করে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী ..... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতে থাকে সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত বেহেশতের ফলমূল আহরণে রত থাকে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... সাওবান থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের রোগ সেবায় নিয়োজিত হয় তখন সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত জান্নাতের ফল-ফলাদি আহরণে রত থাকে।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন রোগীর সেবা করে, সে খুরফাতুল জান্নাতে রত থাকে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! খুরফাতুল জান্নাত কী? তিনি বললেন, এর ফল-ফলাদি সংগ্রহ করা।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আসিম আহওয়াল থেকে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমুন .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনে বলবেন, হে আদম সন্তান আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমার সেবা-শুশ্রুষা করনি। সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমার সেবা শুশ্রুষা করব, অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, আর তুমি তার সেবা করনি, তুমি কি জানতে না যে, তুমি তার সেবা-শুশ্রুষা করলে আমাকে তার কাছেই পেতে। হে আদম সন্তান আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমাকে আহার করাতে পারি? তুমি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল? তুমি তাকে খেতে দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে আহার করাতে তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে। হে আদম সন্তান আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমাকে পান করাব, অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেয়ে যেতে।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ্ বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাইতে অধিকতর রোগ যন্ত্রণার কষ্ট অন্য কোন ব্যক্তির উপর দেখিনি।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, বিশর ইবন খালিদ, আবু বকর ইবন নাফি ও ইবন নুমায়র ... আমাশ থেকে জারীর এর সানাদে তার হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তখন তিনি জরাক্রান্ত ছিলেন। আমি তাকে আমার হাতে স্পর্শ করে বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনি তো ভীষণভাবে জরাক্রান্ত। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, আমি এ পরিমাণ জ্বরে ভুগছি, যে পরিমাণ তোমাদের দু'জনের হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আমি বললাম, এ কারণেই আপনার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির জ্বর কিংবা অন্য কোন কারণে বিপদ আপতিত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা এমনভাবে তার অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেন যেভাবে বৃক্ষাদি পাতা ঝরায়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ থেকে জারীর এর সানাদে তার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর আবু মুআবিয়াহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত আছে, তিনি বলেন, হ্যা। সে সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! পৃথিবীতে এমন কোন মুসলিম ব্যক্তি নেই .....' (শেষ পর্যন্ত)

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আসওয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন কুরাইশী যুবক আয়িশাহ্ এর কাছে আগমন করল। তখন তিনি মিনায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় তারা হাসছিল। আয়িশাহ বললেন, কোন বিষয় তোমাদেরকে হাসাচ্ছে? তারা বলল, অমুক ব্যক্তি তাবুর রশির উপর পড়ে গেছে। ফলে তার গর্দান কিংবা চোখ নিস্পিষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি বললেন, তোমরা হেসো না। কেননা আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিমের গায়ে একটি কাটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চেয়ে অধিক ছোট্ট কোন আঘাত লাগে, তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব ও ইসহাক আল হানযালী .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ঈমানদার ব্যক্তির শরীরে একটি মাত্র কাটার আঘাত কিংবা তার চাইতেও কোন নগণ্য আঘাত লাগলে আল্লাহ তাআলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা তার একটি গুনাহ মোচন করে দেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ঈমানদার ব্যক্তির দেহে একটি কাটা বিদ্ধ হলে কিংবা তার চেয়ে অধিক ক্ষুদ্র কোন মুসীবাত আপতিত হলে তার পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন।

আবূ কুরায়ব হিশাম এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু তাহির .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন কোন মুসলিমের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তার বিনিময়ে তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়, এমনকি ক্ষুদ্রতর কোন কাটা বিদ্ধ হলেও।

আবু তাহির .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তির উপর কোন বিপদাপদ আসলে, এমনকি একটি কাটা বিদ্ধ হলেও তার বিনিময়ে তার অপরাধ মোচন করা হয় কিংবা তার গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। ইয়াযীদ স্মরণ রাখতে পারেননি যে, উরওয়াহ্ কোন্‌ শব্দটি উল্লেখ করেছেন, (তবে শাব্দিক অর্থ একই, ক্ষমা করে দেয়া)।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ঈমানদার ব্যক্তির উপর কোন বিপদ আপতিত হলে, এমনকি কোন কাটা বিধলেও তার বিনিময়ে তাকে একটি প্রতিদান দেয়া হয়; কিংবা তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, কোন ঈমানদার ব্যক্তির এমন কোন ব্যথা-বেদনা, রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট পৌছে না, এমনকি দুর্ভাবনা পর্যন্ত, যার প্রতিদানে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করা হয় না।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত "যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তার প্রতিফল সে ভোগ করবে" (আন নিসা ৪ঃ ১২৩) অবতীর্ণ হলো তখন কতিপয় মুসলিম ভয়ানক দুশ্চিন্তগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং সঠিক পন্থা গ্রহণ করো। একজন মুসলিম তার প্রত্যেকটি বিপদের পরিবর্তে এমনকি সে আছাড় খেলে কিংবা তার শরীরে কোন কাটা বিদ্ধ হলেও তাতে তার (গুনাহের) কাফফারাহ হয়ে যায়। ইমাম মুসলিম বলেন, উমার ইবন আবদুর রহমান ইবন মুহাইসিন মক্কার অধিবাসী ছিলেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন উম্মু সায়িব কিংবা উম্মুল মুসাইয়্যাব এর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন। তখন তিনি বললেন, তুমি জ্বরকে গালমন্দ করো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের পাপরাশ মোচন করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচিকা দূরীভূত করে।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আতা ইবন রাবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে এক জান্নাতী মহিলার কথা বলব? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, এক কৃষ্ণকায় মহিলা নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলেছিল, আমি মৃগীরোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমি উলঙ্গ হয়ে পড়ি। অতএব আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তিনি বললেন, যদি তুমি চাও, ধৈর্যধারণ কর। তাহলে তোমার জন্য বিনিময় রয়েছে জান্নাত। আর যদি তুমি চাও তাহলে আমি আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন তিনি তোমাকে আরোগ্যতা দান করেন। তখন সে বলল, আমি ধৈর্যধারণ করব। তবে আমি যে সে অবস্থায় ছতর খুলে ফেলি! কাজেই আপনি আল্লাহর কাছে দু' আ করুন যেন আমি ছতর খুলে না ফেলি। তখন তিনি তার জন্য দোয়া করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন বাহরাম আদ দারিমী .... আবু যার থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ওহে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের উপর অত্যাচার করো না। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ছিলে দিশেহারা, তবে আমি যাকে সুপথ দেখিয়েছি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা কর আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে খাদ্য দান করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে আহার্য চাও, আমি তোমাদের আহার করাব। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, কিন্তু আমি যাকে পরিধান করাই সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে পরিধেয় চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাব। হে আমার বান্দারা! তোমরা রাতদিন অপরাধ করে থাকো। আর আমিই সব অপরাধ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব। হে আমার বান্দারা তোমরা কখনো আমার অনিষ্ট করতে পারবে না, যাতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হই এবং তোমরা কখনো আমার উপকার করতে পারবে না, যাতে আমি উপকৃত হই। হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর আমাকে সবচাইতে বেশী ভয় পায়, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব একটুও বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের সকল মানুষ ও সকল জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর সবচাইতে পাপিষ্ঠ তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাহলে আমার রাজত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পাবে না। হে আমার বান্দা! তোমাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি কোন বিশাল মাঠে দাড়িয়ে সবাই আমার কাছে আবদার করে আর আমি প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদা পূরণ করি তাহলে আমার কাছে যা আছে তাতে এর চাইতে বেশী হ্রাস পাবে না, যেমন কেউ সমুদ্রে একটি সূচ ডুবিয়ে দিলে যতটুকু তাথেকে হ্রাস পায়। হে আমার বান্দারা। আমি তোমাদের আমলই তোমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখি। এরপর পুরোপুরিভাবে তার বিনিময় প্রদান করে থাকি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন কল্যাণ অর্জন করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে তা ব্যতীত অন্য কিছু পায়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে। সাঈদ বলেন, আবু ইদরীস আল খাওলানী যখন এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তিনি দু'হাটুর উপর ভর দিয়ে বসতেন।

আবূ বকর ইবন ইসহাক .... সাঈদ ইবন আবদুল আযীয এ সানাদে রিওয়ায়াত করেন। তবে তাদের উভয়ের মধ্যে মারওয়ান পূর্ণাঙ্গ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু ইসহাক বলেন, বিশর এর পুত্রদ্বয় হাসান ও হুসায়ন এবং মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া বলেছেন, আমাদের নিকট আবূ মুসহির এ হাদীসটি পুরোটাই বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তার মহিমাম্বিত পরওয়ারদিগার ইরশাদ করেন, আমি আমার নিজের উপর ও বান্দাদের উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি। অতএব তোমরা পরস্পর পরস্পরকে অত্যাচার করো না। অতঃপর রাবী হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইদরীস বর্ণিত যে হাদীসটি আমরা বিবৃত করেছি তা এর চাইতে অধিক পূর্ণাঙ্গ।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাক। কেননা কিয়ামত দিবসে অত্যাচার অন্ধকারে পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতা থেকে সাবধান হও। কেননা এ কৃপণতাই তোমাদের আগেকার কাওমকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাদের খুন-খারাবী ও রক্তপাতে উৎসাহ যুগিয়েছে এবং হারাম বস্তুসমূহ হালাল জ্ঞান করতে প্রলোভন দিয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অবশ্যই যুলম কিয়ামত দিবসে ঘোরতর অন্ধকারে পরিণত হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সালিম-এর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি অত্যাচার করে না এবং তাকে দুশমনের হাতে সোপর্দও করে না। যে ব্যক্তি তার ভাই এর অভাব-অনটন পূরণ করবে আল্লাহ তার অভাব-অনটন দূরীভূত করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিদানে কিয়ামত দিবসে তাকে বিপদ থেকে পরিত্রাণ দিবেন। আর যে ব্যক্তি মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কি বলতে পার, অভাবী লোক কে? তারা বললেন, আমাদের মাঝে যার দিরহাম (টাকা কড়ি) ও ধন-সম্পদ নেই সে তো অভাবী লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মাতের মধ্যে সে প্রকৃত অভাবী লোক, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম ও যাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের সম্পদ ভোগ করেছে, অমুককে হত্যা করেছে ও আরেকজনকে প্রহার করেছে। এরপর সে ব্যক্তিকে তার নেক আমল থেকে দেয়া হবে, অমুককে নেক আমল থেকে দেয়া হবে। এরপর যদি পাওনাদারের হাক তার নেক আমল থেকে পূরণ করা না যায় সে ঋণের পরিবর্তে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক পাওনাদারকে তার পাওনা চুকিয়ে দিতে হবে। এমনকি শিং বিশিষ্ট বকরী থেকে শিং বিহীন বকরীর প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ মুসা আশআরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই মহান আল্লাহ যালিমকে সুযোগ দেন। এরপর তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে ছাড়েন না। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন, "এভাবেই তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও- যখন কোন অত্যাচারী জনপদবাসীকে তিনি পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তার পাকড়াও চরম মর্মাত্তিক, অতিশয় কঠোর"(হুদ ১১ঃ ১০২)।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরদের দু'টি গোলাম হাতাহাতি করছিল। তখন মুহাজির গোলাম এ বলে চীৎকার দিল, হে মুহাজিরগণ! পক্ষান্তরে আনসারী গোলামও ডাকল, হে আনসারগণ! তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে বললেন, এ কী ব্যাপার! জাহিলী যুগের লোকেদের মতো হাক-ডাক করছ? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! না, দু'টি গোলাম ঝগড়া করেছে। তাদের একজন অপরজনের পশ্চাতে আঘাত করেছে। তখন তিনি বললেন, এতো মামুলী ব্যাপার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত যেন সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে, সে অত্যাচারী হোক কিংবা অত্যাচারিত। যদি সে অত্যাচারী হয় তাহলে তাকে (যুলম থেকে) বিরত রাখবে। এ হচ্ছে তার জন্য সাহায্য। আর যদি সে অত্যাচারিত হয় তাহলে তাকে সাহায্য করবে।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, আহমাদ ইবন আবদাল্লাহু আয যাব্বী ও ইবন আবু উমর .... সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ্ বলেন যে, আমর জাবির কে বলতে শুনেছেন, আমরা এক যুদ্ধে নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তখন একজন মুহাজির একজন আনসারের পশ্চাতাঘাত করেছিল। সে সময় আনসারী চীৎকার করে বলল, হে আনসার! আর মুহাজির ব্যক্তি ডাক দিল, হে মুহাজিরগণ! তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কী ব্যাপার! জাহিলী যুগের মতো হাক-ডাক করছ কেন? তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! একজন মুহাজির একজন আনসারীর পশ্চাতে আঘাত করেছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা এ ধরনের হাক-ডাক ছেড়ে দাও। কেননা এতো নিন্দনীয় কাজ। এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবন উবাই শুনে বলল, তারা কি এরূপ কাণ্ড ঘটিয়েছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখানকার শক্তিশালীরা অবশ্যই দুর্বলকে বহিষ্কৃত করে দিবে। উমর বললেন, (হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)!) আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের মস্তক উড়িয়ে দেই। তখন তিনি বললেন, একে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার সাহাবাদের হত্যা করেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইসহাক ইবন মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মুহাজির একজন আনসারীকে পশ্চাতে আঘাত করেছিল। এরপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট এলো এবং তার কাছে প্রতিশোধ চাইল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এটা বাদ দাও। কেননা এ-তো নোংরা কাজ। ইবন মানসূর আমর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি জাবির কে বলতে শুনেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু আমির আল আশআরী, মুহাম্মাদ ইবন আলা, আবু কুরায়ব .... আবু মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ একজন মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিনের জন্য একটি অট্টালিকা সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... নুমান ইবন বাশীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানব দেহের ন্যায় যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্ৰা।

ইসহাক আল হান্‌যালী .... নুমান ইবন বাশীর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... নুমান ইবন বাশীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন সম্প্রদায় একজন ব্যক্তির ন্যায়। যখন তার মাথায় অসুস্থতা দেখা দেয় তখন সমস্ত দেহই তাপ ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ... নুমান ইবন বশীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সকল মুসলিম একজন ব্যক্তির সমতুল্য। যদি তার চোখ পীড়িত হয় তবে তার সমগ্র দেহ পীড়িত হয়ে পড়ে। যদি তার মাথা আক্রান্ত হয় তাহলে সমগ্র শরীরই আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ইবন নুমায়র .... নুমান ইবন বাশীর নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দু'ব্যক্তি যখন গালমন্দে লিপ্ত হয় তখন তাদের উভয়ের গুনাহ তার উপরই বর্তাবে, যে প্রথমে শুরু করে; যতক্ষণ না অত্যাচারিত সীমালঙ্ঘন করে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সাদাকা করাতে সম্পদের হ্রাস হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সম্ভষ্টি লাভে বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা সমুন্নত করে দেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কী জিনিস? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, (গীবাত হলো) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হলো, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই এর মধ্যে বাস্তবিকই থেকে থাকে তবে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তুমি তার সম্পর্কে যা বলছ তা যদি তার মধ্যে প্রকৃতই থেকে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।

উমাইয়াহ ইবন বিস্‌তাম আল আইশী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে যে বান্দার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রেখেছেন, কিয়ামত দিবসেও তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বান্দা যদি অপর কোন লোকের ক্রটি-বিচ্যুতি দুনিয়াতে আড়াল করে রাখে আল্লাহ তাআলা তার ক্রটি-বিচ্যুতি কিয়ামত দিবসে আড়াল করে রাখবেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেন, তোমরা তাকে প্রবেশের অনুমতি দাও। সে তো বংশের কুসন্তান, তার গোত্রের সর্বাপেক্ষা অসৎ লোক। অতঃপর সে যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশ করল তখন তিনি তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললেন। কাজেই আয়িশাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনি তো তার সম্বন্ধে যা বলার বললেন। এরপর তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললেন? তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নিকট ঐ ব্যক্তি সর্বাধিক নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে, যাকে লোকজন তার দুর্ব্যবহারের দরুন পরিত্যাগ করে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন মুনকাদির থেকে অত্র সনদে এ মর্মে বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি (গোত্রের সর্বাপেক্ষ নিকৃষ্ট ভাই এবং বংশের কুসন্তান) বলেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জারীর থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নম্র আচরণ থেকে বঞ্চিত সে প্রকৃত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, আবূ কুরায়ব, আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, যুহায়র ইবন হারব ..... জারীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত সে কল্যাণমূলক সব কিছু থেকে বঞ্চিত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নম্রতা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। কিংবা বলেছেন, যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত হবে সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আয়িশাহ্! আল্লাহ তাআলা নম্র ব্যবহারকারী। তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার দরুন এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার দরুন দান করেন না; আর অন্য কোন কিছুর দরুনও তা দান করেন না।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নম্রতা যে কোন বিষয়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর যে কোন বিষয় থেকে নম্রতা বিদূরিত হলে তাকে কলুষিত করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... শুবাহ মিকদাম ইবন শুরায়হ ইবন হানী কে এ সানাদে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি তার হাদীসে বাড়িয়ে বলেছেন, আয়িশাহ্ একটি উটের পিঠে সওয়ার হয়েছিলেন। উটটি ছিল কঠোর স্বভাবের। তাই তিনি তাকে শক্তভাবে ফিরাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার উচিত নম্র ব্যবহার করা। পরবর্তী অংশ রাবী উক্ত হাদীসের মতোই বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... ইমরান ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। সে সময় এক আনসার মহিলা একটি উষ্ট্রির পিঠে আরোহী ছিলেন। তিনি (তার আচরণে) বিরক্ত হয়ে তার উপর অভিসম্পাত করলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শুনে বললেন, এর উপরে যা আছে তা নিয়ে নাও এবং একে ছেড়ে দাও। কেননা সে তো অভিশপ্ত হয়ে পড়েছে। ইমরান বলেন, আমি যেন সে উষ্ট্রীটি এখনও দেখতে পাচ্ছি, যে মানুষের মাঝে হেঁটে বেড়াচ্ছে: অথচ কেউ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছে না।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবু রাবী ও ইবন আবূ উমার .... ইসমাঈলের সনদে আইয়্যুব থেকে তার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে ইমরান বলেছেন- (আমি যেন সে মেটে রং-এর উষ্ট্রিটি এখনো দেখতে পাচ্ছি)। আর সাকাকী বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এর উপর যা কিছু আছে তা নামিয়ে ফেলো এবং তাকে মুক্ত করে দাও। কেননা সে তো অভিশপ্ত'।

আবূ কামিল আল জাহদারী, ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... আবু বারযাহ আল আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একটি বালিকা একটি উটনীর উপর আরোহিত ছিল। সেটির উপরে তার গোত্রের কিছু মালামালও ছিল। হঠাৎ সে নবী (ﷺ) কে দেখতে পেল। আর পাহাড়ের কারণে তাদের পথটি ছিল সংকীর্ণ। ফলে উটের রশি টেনে বালিকাটি বলল (উট চালনার শব্দ) হে আল্লাহ! এর উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ যে উটিনীর উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে, সেটি যেন আমাদের সাথে না থাকে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... সুলাইমান আত তাইমী থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মু'তামির কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, "আল্লাহর কসম! আমাদের সাথে যেন সে উটিনীটি না থাকে, যার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ বর্ষণ করা হয়েছে, কিংবা তিনি এরূপ কিছু বলেছেন।"

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন সিদ্দীকের পক্ষে অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়।

আবু কুরায়ব .... আলা ইবন আবদুর রহমান সূত্রে অত্র সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... যায়দ ইবন আসলাম থেকে বর্ণিত যে, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান উম্মু দারদাহ এর নিকট তার নিজের পক্ষ থেকে সৌন্দর্য বর্ধক কিছু গৃহ সামগ্ৰী পাঠালেন। এক রাতে আবদুল মালিক নিদ্রা থেকে জেগে তার খাদিমকে ডাকলেন। সে তার নিকট আসতে দেরী করলে তিনি তাকে অভিসম্পাত করলেন। রাত্রি শেষে উম্মু দারদাহ তাকে বললেন, আমি শুনলাম যখন আপনি রাতে আপনার খাদিমকে ডেকেছিলেন তখন তাকে লানাত করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি আবু দারদাহ কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামত দিবসে সুপারিশকারী কিংবা সাক্ষ্যদাতা হতে পারবে না।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, আসিম ইবন নাযর আত তাইমী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... যায়দ ইবন আসলাম থেকে অত্র সানাদে হাফস্ ইবন মাইসারাহ এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ দারদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামত দিবসে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হতে পারবে না।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহকে বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনি মুশরিকদের উপর বদদোয়া করুন। তিনি বললেন, আমি তো অভিসম্পাতকারীরূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দু'জন লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে আসলো। তারা তার সঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা করল। তা কী ছিল, আমি জানি না। অতঃপর তারা তাকে রাগাম্বিত করেছিল। তিনি তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করলেন এবং তিরস্কার করলেন। যখন তারা বের হয়ে গেল আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যারা (আপনার কাছ থেকে) কল্যাণ লাভ করে। এরা দু'জনে তার কিছুই পাবে না। তিনি বললেন, সে কী ব্যাপার! তিনি [আয়িশাহ্] বললেন, আপনি তো তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন এবং ধিক্কার দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি জান আমার প্রতিপালকের সাথে এ বিষয়ে আমি কী শর্তারোপ করেছি? আমি বলেছিলাম, "হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষ। আমি কোন মুসলিমকে লানাত করলে কিংবা তিরস্কার করলে তা তুমি তার জন্য পবিত্রতা ও পুরস্কার বানিয়ে দিও।"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব, আলী ইবন হুজর আস্ সাদী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরাম .... আমাশ থেকে এ সানাদে জারীর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈসা বর্ণিত হাদীসে বলেন, এরপর তারা তার সঙ্গে একান্তে মিলিত হলেন, তখন তিনি তাদের উভয়কে তিরস্কার করলেন এবং তাদেরকে লানাত দিয়ে বের করে দিলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ। সুতরাং আমি কোন মুসলিমকে গাল-মন্দ করলে কিংবা তাকে অভিশাপ করলে অথবা আঘাত করলে তখন তুমি তার জন্য তা পবিত্রতা ও রহমত অর্জনের উপায় বানিয়ে দিও।"

ইবন নুমায়র .... জাবির এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ থেকে আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে (বানিয়ে দাও) উল্লেখ আছে।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট থেকে যে বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি, তুমি কখনো তার বিপরীত করো না। আমি তো একজন মানুষ মাত্র। সুতরাং আমি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে, গাল-মন্দ করলে, অভিসম্পাত করলে, তাকে কোড়া লাগালে তা তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্যের কারণ বানিয়ে দাও, যার দ্বারা সে কিয়ামত দিবসে তোমার নৈকট্য লাভ করতে পারে।

ইবন আবূ উমর .... আবূ যিনাদ এ সানাদে তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি বলেছেন (কিংবা আমি দোররা মেরেছি) আবু যিনাদ বলেন, এ শব্দটি আবু হুরাইরাহ এর পরিভাষা মাত্র। আসলে এর অর্থ (আমি তাকে শাস্তি দিয়েছি)।

সুলাইমান ইবন মাবাদ .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... নাসরিয়্যিন এর আযাদকৃত গোলাম সালিম থেকে বর্ণিত। আমি আবু হুরাইরাহ্ কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ তো একজন মানুষ। তিনি রাগাম্বিত হন যেভাবে একজন মানুষ রাগাম্বিত হয়। আর আমি আপনার কাছ থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি আপনি কখনো তার উল্টো করবেন না। অতএব কোন মুমিনকে আমি দুঃখ দিলে কিংবা তাকে তিরস্কার করলে অথবা তাকে কোড়া লাগালে তা আপনি তার জন্য কাফফারাহ ও নৈকট্য লাভের সোপান বানিয়ে দিন; যার দ্বারা কিয়ামত দিবসে সে আপনার নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, "হে আল্লাহ! আমি কোন ঈমানদার বান্দাকে মন্দ কথা বললে তুমি তা তার জন্য কিয়ামত দিবসে তোমার সান্নিধ্য লাভের ওয়াসীলা বানিয়ে দিও।"

যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট থেকে যে বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি, আপনি কখনো তার বিপরীত করবেন না। কাজেই আমি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে কিংবা গালি বা শাস্তি বিধান কায়িম করলে আপনি তার জন্য তা কিয়ামত দিবসে কাফফারাহ বানিয়ে দিন।"

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবন আশ শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি তো একজন মানুষ। অতএব আমি আমার পালনকর্তার সাথে এ শর্ত করে নিয়েছি যে, মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত কোন বান্দাকে আমি ভর্ৎসনা করলে কিংবা তিরস্কার করলে তা যেন তার জন্য পবিত্রতা ও পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইবন আবূ খালাফ ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ থেকে অত্র সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব ও আবু মান আর রাক্কাশী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস এর মা উন্মু সুলায়ম এর নিকট এক ইয়াতীম মেয়ে ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখে বললেন, এ তুমি সে মেয়ে? তুমি তো অনেক বড় হয়েছ; কিন্তু তুমি দীর্ঘায়ু হবে না। তখন ইয়াতীম মেয়েটি উম্মু সুলায়মের নিকট এসে কাঁদতে লাগল। তখন উম্মু সুলায়ম বললেন, তোমার কী হয়েছে? হে আমার স্নেহের মেয়ে! মেয়েটি বলল, নবী (ﷺ) আমাকে বদদোয়া করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি দীর্ঘায়ু হব না। সুতরাং এখন থেকে আমি বয়সে আর বড় হব না। অথবা সে (আমার সমবয়সী) বলেছিল। এ কথা শুনে উম্মু সুলায়ম তাড়াতাড়ি গায়ে চাদর দিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দেখা করেন। তখন তার উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কী ব্যাপার, হে উম্মু সুলায়ম! তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি কি আমার ইয়াতীম মেয়েটিকে বদদোয়া করেছেন? তিনি বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! এটা কেমন কথা! বদদোয়া করব কেন? উম্মু সুলায়ম বললেন, সে তো মনে করেছে যে, আপনি তাকে বদদোয়া করেছেন যেন তার বয়স না বাড়ে কিংবা তার সমবয়সীর বয়স বৃদ্ধি না পায়। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তুমি বোধহয় জান না যে, আমার রবের সাথে এ মর্মে আমি শর্ত করেছি এবং আমি বলেছি যে, আমি একজন মানুষ মাত্র। মানুষ যাতে সন্তুষ্ট থাকে আমিও তাতে সন্তুষ্ট হই। আমিও রাগাম্বিত হই যেভাবে মানুষ রাগাম্বিত হয়ে থাকে। সুতরাং আমি আমার উম্মাতের কোন লোকের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলে সে যদি তার যোগ্য না হয় তাহলে তা তার জন্য পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি ও নৈকট্যের সোপান বানিয়ে দাও, যার দ্বারা কিয়ামতের দিনে সে তোমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। আবু মান উল্লেখিত এক হাদীসে তিন জায়গায় শব্দ বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ ছোট ইয়াতীম মেয়ে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আল আনাযী ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একদিন আমি বালকদের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসলেন। তখন আমি একটি দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকলাম। তিনি বলেন, তিনি আমাকে তার হাতে (আদর করে) চড় দিলেন এবং বললেন, যাও, মুআবিয়াকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আসো। তিনি বলেন, তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং আমি তাকে বললাম, তিনি খাচ্ছিলেন। (আমি ফিরে আসলাম) তিনি বলেন, তারপর তিনি (ﷺ) আমাকে বললেন, যাও, মুআবিয়াকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আসো। তিনি বলেন, তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং (ফিরে এসে) বললাম, তিনি খাচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ যেন তার পেটভর্তি না করেন। ইবন মুসন্না বলেন, আমি উমাইয়াকে বললাম, আমাকে চড় মেরেছেন' এর অর্থ কি? তিনি বললেন, তিনি আমাকে আদর করেছেন।

ইসহাক ইবন মানসূর .... আবু হামযাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি ইবন আব্বাস কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি কিছু ছেলের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। অকস্মাৎ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তথায় আসলেন আমি তাথেকে লুকিয়ে থাকলাম। .... তারপর তিনি তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মানুষের মধ্যে দু' রূপধারী লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে এ দলের নিকট আসে একরূপ নিয়ে এবং অন্য দলের নিকট আসে অন্য আরেক রূপ নিয়ে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ দু রূপধারী লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে ব্যক্তি এ দলের নিকটে আসে একরূপ নিয়ে ও অন্যদলের কাছে আসে একরূপ নিয়ে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে দু' রূপধারী মানুষকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাবে। এ দলের নিকট আসে একরূপ নিয়ে অন্য দলের কাছে আসে আর একরূপ নিয়ে।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... হিজরতকারিণীদের মধ্যে নবী (ﷺ) এর হাতে প্রথম বাইআত গ্রহণকারিণীদের অন্যতমা সাহাবীয়া উম্মু কুলসূম বিনতু উকবাহ ইবন আবূ মুআয়ত থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, সে ব্যক্তি মিথ্যুক নয়, যে লোকের মধ্যে আপোষে সমাধা করে দেয়। সে কল্যাণের জন্যই মিথ্যা বলে এবং কল্যাণের জন্যেই চোগলখোরী করে। ইবন শিহাব বলেন, তিনটি স্থান ছাড়া আর কোন বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। যুদ্ধ কৌশলের ক্ষেত্রে, মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করার জন্য, সহধর্মিণীর সাথে স্বামীর কথা ও স্বামীর সাথে সহধর্মিণীর কথা বলার ক্ষেত্রে।

আমর আন নাকিদ .... মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন শিহাব হতে এ সানাদে হুবহু বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সালিহ বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। রাবী বলেন, আর লোকেরা যা বলে তাতে শুধু এ তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অনুমতি দানের কথা আমি শুনিনি, যা ইবন শিহাব এর কথা ইউনুস বর্ণনা করেছেন।

আমর আন্‌ নাকিদ .... যুহরী হতে এ সানাদে তার কথা (ভালোর জন্যই চোগলখোরী করে) পর্যন্ত বর্ণিত আছে। পরবর্তী অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, আমি কি তোমাদের হুশিয়ার করব না, চোগলখোরী কী? তা হচ্ছে কুৎসা রটনা করা, যা মানুষের মধ্যে বৈরিতার সৃষ্টি করে। মুহাম্মাদ (ﷺ) আরও বলেছেন, নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি সত্য কথা বলায় সত্যবাদী লিপিবদ্ধ হয়; আবার কেউ মিথ্যা কথা বলায় মিথ্যাবাদী লিপিবদ্ধ হয়।

যুহায়র ইবন হারব, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ..... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সততা সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে আর সৎকর্ম জান্নাতের পথপ্রদর্শন করে। নিশ্চয়ই কোন মানুষ সত্য কথা বলায় সত্যবাদী হিসেবে (তার নাম) লিপিবদ্ধ হয়। আর অসত্য পাপের পথপ্রদর্শন করে এবং পাপ জাহান্নামের দিকে পথপ্রদর্শন করে। নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি মিথ্যায় রত থাকলে পরিশেষে মিথ্যাবাদী হিসেবেই (তার নাম) লিপিবদ্ধ করা হয়।

আবূ বাকুর ইবন আবু শাইবাহ ও হান্নাদ ইবন সাররী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সততা তো পুণ্যের কাজ; আর পুণ্যময় কাজ জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেয়। কোন বান্দা সৎ বলার ইচ্ছা করলে অবশেষে আল্লাহর নিকট তার নাম সত্যবাদী বলে লিপিবদ্ধ হয়। আর মিথ্যা তো অপরাধ, এ অপরাধ জাহান্নামের পথপ্রদর্শন করে। আর কোন বান্দা মিথ্যা বলার চিন্তা করার কারণে অবশেষে সে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। ইবন আবূ শাইবাহ্ তার অপর বর্ণিত হাদীসটি আন্‌ আন্‌ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবু কুরায়ব .... আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সত্যকে ধারণ করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য। কেননা সততা নেক কর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে, আর নেককর্ম জান্নাতের পথপ্রদর্শন করে। কোন ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলার চেষ্টায় রত থাকলে, অবশেষে আল্লাহর নিকটে সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকো! কেননা মিথ্যা পাপের দিকে পথপ্রদর্শন করে। আর পাপ নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। কোন ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বললে এবং মিথ্যার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করলে, অবশেষে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়।

মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী ..... উভয়ে আমাশ থেকে এ সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ঈসা এর হাদীসে "সত্য বলার চেষ্টা করে এবং মিথ্যা বলার চেষ্টা করে" কথাটি উল্লেখ করেননি। আর ইবন মুসহির বর্ণিত হাদীসে "অবশেষে আল্লাহ তা লিখবেন" কথাটি উল্লেখ আছে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবু শাইবাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের মাঝে কাউকে নিঃসন্তান বলে মনে করো? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, যার সন্তান জন্মায় না তাকেই নিঃসন্তান মনে করি। তিনি বললেন, সে ব্যক্তি মূলতঃ নিঃসন্তান নয় বরং সে লোকই নিঃসন্তান, যে তার কোন সন্তানকে আগে পাঠায়নি (যার জীবিতাবস্থায় তার সন্তান মৃত্যুবরণ করেন)। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের মাঝে কাকে বীর বিক্রম বলে গণ্য করো? আমরা বললাম, যাকে মানুষেরা কুস্তিতে ঠকাতে পারে না। তিনি বললেন, মূলতঃ সে বীর বিক্রম নয়; বরং (প্রকৃত বীর সে-ই) যে রাগের মুহুর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ হতে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে লোক প্রকৃত বীর বিক্রম নয়, যে কুস্তিতে জয়ী হয় বরং প্রকৃত বীর বিক্রম সে-ই যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

হাজিব ইবন ওয়ালীদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, সে লোক প্রকৃত বীর বিক্রম নয়, যে কুস্তিতে সফল হয়। লোকেরা জানতে চাইল, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে প্রকৃত বীর কে? তিনি বললেন, প্রকৃত সাহসী বীর সে-ই, যে রাগের মুহুর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবু হুরাইরাহ্ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন আলী .... সুলাইমান ইবন সুরাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট এসে দু'ব্যক্তি কথা কাটাকাটিতে প্রবৃত্ত হলো এবং তাদের একজনের দু' চোখ (রাগে) লাল হয়ে গেল এবং তার রগরেশ খাড়া হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ বললেন, আমি এমন একটি কালিমাহ জানি, যা যে কেউ পাঠ করলে তার রাগ দূর হয়ে যায়। আর তা হচ্ছে (আমি বিতাড়িত শয়তানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)। (এ কথা শুনে) সে ব্যক্তি বলল, আপনি কি আমাকে পাগল মনে করেছেন? ইবন আলী তার বর্ণনায় বলেন, তারপর তিনি বললেন, তুমি কি মনে করছ? শব্দটি তিনি উল্লেখ করেননি।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... সুলাইমান ইবন সুরাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সামনে দু'ব্যক্তি কথা কাটাকাটি করতে উদ্যত হলো। তাদের একজন কঠিন রাগাম্বিত হলো এবং তার মুখমণ্ডল রাগে লাল হয়ে গেল। তখন নবী (ﷺ) তার প্রতি তাকিয়ে বললেন, আমি এমন একটি কালিমাহ জানি যদি সে তা পাঠ করে তাহলে তার থেকে এ রাগ চলে যাবে। (আর তা হলো) আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম – "আমি বিতাড়িত শয়তানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই"। সে সময় যারা নবী (ﷺ) এর বাণী শুনেছেন, তাদের মধ্য হতে একজন সে লোকটির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি কি জান, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটু আগে কী বলেছেন? তিনি (ﷺ) বলেছেন, অবশ্যই আমি এমন একটি কালিমাহ জানি, তা যদি সে পাঠ করত তাহলে তার হতে তা (রাগ) চলে যেত। (আর তা হলো) এ (আমি বিতাড়িত শয়তানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই) তারপর সে ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি কি আমাকে পাগল মনে করছ?

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা জান্নাতে যখন আদম এর আকৃতি সৃষ্টি করেন তখন আল্লাহ তাআলা তাকে নিজের ইচ্ছামত ফেলে রাখলেন। আর ইবলীস তার চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করতো এবং দেখতে থাকতো যে, পদার্থটি কি? সে যখন দেখতে পেল তা খালী পাত্র তখন সে বুঝল যে, তাকে এমন এক স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, যে নিজকে আয়ত্তে রাখতে পারে না।

আবু বাকর ইবন নাফি .... হাম্মাদ এ সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের মাঝে কোন ভাই তার ভাই এর সাথে ঝগড়াবিবাদ করে তখন সে যেন তার মুখের উপর আঘাত করা থেকে বিরত থাকে।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ যিনাদ থেকে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বলেছেন, তোমাদের কোন ভাই যখন অন্য ভাইকে মারে .....।

শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ভাই যখন কোন ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে তখন সে যেন মুখমণ্ডলকে পরহেয করে (মুখমণ্ডলে প্রহার না করে)।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী ..... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইয়ের সাথে মারামারি করে তখন সে যেন তার চেহারায় চপেটাঘাত না করে।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আর ইবন হাতিম এর বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ তার অন্য ভাইকে আঘাত করে সে যেন তার ভাইয়ের মুখমণ্ডলে আঘাত করা হতে বিরত থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলা আদম কে তার নিজ রূপে সৃষ্টি করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ভাই যদি তার অন্য ভাইকে আঘাত করে, সে যেন তার মুখমণ্ডলে আঘাত করা হতে বিরত থাকে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... হিশাম ইবন হাকীম ইবন হিযাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি একবার সিরিয়ায় কয়েকজন মানুষের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাদেরকে উত্তপ্ত সূৰ্যতে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তাদের মাথার উপর গরম তেল ঢালা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, এটা কী? তাকে বলা হলো যে, তাদেরকে খাযনার জন্যে সাজা দেয়া হচ্ছে। তখন তিনি বললেন, হুশিয়ার! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেসব লোকেদের সাজা দিবেন, যারা এ জগতে মানুষকে (অন্যায়) সাজা দেয়।

আবূ কুরায়ব .... হিশাম এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হিশাম ইবন হাকীম ইবন হিযাম সিরিয়ার কৃষকদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এদের কঠিন রৌদ্রে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বললেন, এদের কী হয়েছে? তারা বলল, জিযয়ার জন্যে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অতঃপর হিশাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের সাজা দিবেন যারা পৃথিবীতে (অন্যায়ভাবে) মানুষকে সাজা দেয়।

আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম থেকে এ সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসে এটুকু বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সে যুগে ফিলিস্তিনে তাদের শাসক (গভর্নর) ছিলেন উমায়র ইবন সা'দ। তিনি তার নিকট যান এবং তার সঙ্গে কথা-বার্তা বলেন। তিনি তাদের ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে তারপর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আবু তাহির .... হিশাম ইবন হাকীম থেকে বর্ণিত। তিনি হিমস এলাকার একব্যক্তি (আমীর)-কে দেখতে পান যে, তিনি জিযয়াহ্ আদায়ের জন্যে কৃষকদের সুর্যের তাপে সাজা দিচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, এ কী ব্যাপার! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেসব মানুষ সাজা দিবেন, যারা ইহজগতে মানুষকে (অন্যায়ভাবে) সাজা দেয়।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমর থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির কে বলতে শুনছেন, তিনি বলেন যে, এক ব্যক্তি তীরসহ মসজিদে আগমন করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এর ফলার দিকটা আকড়ে ধরে রেখো।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবু রাবী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি খোলা তীরসহ মসজিদে প্রবেশ করেছিল। সে তীরগুলোর ফলার দিক বের করে রেখেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফলার দিক আটকে রাখার জন্যে নির্দেশ দিলেন, যাতে কোন মুসলিমের গায়ে আঘাত না লাগে।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... জাবির এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে তীর সাদাকা করতেছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এর ফলার দিকটা ধরে রাখার নির্দেশ দেন। ইবন রুমহ বলেন, সে তীর (বর্শা) দান করতেছিল।

হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আবু মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ভাই যদি তার হাতে তীর নিয়ে কোন সভায় কিংবা বাজারে গমন করে তাহলে সে যেন এর ফলাটা ধরে (আটকে) রাখে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবূ মূসা বলেন, "আল্লাহর শপথ আমরা একে অন্যের উপর বর্শা হামলা না করা পর্যন্ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করব না।"

আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আল আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ মূসা এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কোন ভাই যখন হাতে বর্শা নিয়ে আমাদের মসজিদে গমন করে কিংবা আমাদের বাজারে গমন করে সে যেন এর ফলাটা নিজের হাতের মুঠ দিয়ে ধরে রাখে। নতুবা তা দ্বারা কোন মুসলিমের (শরীরে) খোচা লাগতে পারে। অথবা তিনি বলেছেন, সে যেন তার বর্শার ফলাটি আটকে রাখে।

আমর আন নাকিদ ও ইবন আবু উমর .... ইবন সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেন যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি (লৌহ নির্মিত) মরণাস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত করে সে তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাকে অভিসম্পাত করতে থাকে যদিও সে তার আপন ভাই হয়।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ্ .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ্ বলেন, আবু হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট অনেকগুলো হাদীস আলোচনা করেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ভাই যেন তরবারি দিয়ে তার ভাই এর প্রতি ইঙ্গিত না করে। কেননা তোমরা জাননা, শয়তান তার মধ্যে হাত রেখে টানতে থাকে তারপর সে জাহান্নামের গর্তে পড়ে যায়।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা এক ব্যক্তি চলাচলের পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তখন সে রাস্তার উপর একটি কাটাযুক্ত ডাল দেখতে পেলো তারপর তা সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এ ভাল কর্মটি পছন্দ করেছেন এবং তাকে (তার পাপ) মাফ করে দিলেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখে বলে, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই মুসলিমদের চলাচলের রাস্তা হতে এটা অপসারণ করবো, যাতে তাদেরকে কোন কষ্ট না দেয়। ফলে তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করানো হয়।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক লোককে একটি গাছের কারণে জান্নাতে আনন্দ ফুর্তি করতে দেখেছি। এ গাছটি সে রাস্তার উপর হতে দূর করেছিল, যেটি মানুষকে কষ্ট দিত।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি গাছ মুসলিমদের (পথ গমন করার সময়) কষ্ট দিত। এক ব্যক্তি এসে সে গাছটি কেটে ফেললো, এরপর সে জান্নাতে প্রবেশ করলো।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু বারযাহ বর্ণনা করেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় অবহিত করুন, যার সাহায্যে উপকৃত হতে পারি। তিনি বললেন, মুসলিমদের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিবে।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ বারযাহ্ আল আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমীপে আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি জানি না, হয়ত একদিন আপনি দুনিয়া ত্যাগ করবেন (ইনতিকাল করবেন) আর আপনার পর এ অবস্থায় হয়তো আমি বেচে থাকব। সুতরাং আমাকে এমন কিছু বাণী শিখিয়ে দিন যা দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটি করবে, এটি করবে। বর্ণনাকারী আবু বাকর তা ভুলে গেছেন। তিনি নির্দেশ করেছেন যে, চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করবে।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা ইবন উবায়দ আয যুবাঈ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি বিড়ালকে সাজা দেয়ার অপরাধে একটি মহিলাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এ বিড়ালটি সে আটকে রেখেছিল। অবশেষে সেটি মারা গেল। এরপর সে কারণে মহিলাটি জাহান্নামে গমন করলো। সে ঐ বিড়লটিকে আটকাবস্থায় খাবারও দেয়নি, পানিও পান করায়নি, ভূপৃষ্ঠের কীট-পতঙ্গ খেয়ে সেটাকে জীবন ধারণ করার সুযোগও দেয়নি।

হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবন জাফর ইবন ইয়াহইয়া ইবন খালিদ ... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে জুওয়াইরিয়াহ বর্ণিত হাদীসের অর্থের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্যে শাস্তি দেয়া হয়। সে (মহিলা) এটিকে বেধে রাখে, খাবারও দেয়নি এবং পানিও পান করায়নি এমনকি ভূ-পৃষ্ঠের কীট-পতঙ্গ খেতে (বেচে থাকার জন্যে) তাকে বন্ধন ছেড়ে দেয়নি।

নাসর ইবন আলী আল জাহযামী .... আবু হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট অনেকগুলো হাদীস উল্লেখ করছেন। তন্মধ্যে একটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গমন করে। সে এটিকে মজবুত করে আটকে রাখলো। সে মহিলা এটিকে খানা দেয়নি, পানীয় দেয়নি এবং তাকে বন্ধন ছেড়ে দেয়নি যে, জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাচতে পারে। পরিশেষে বিড়ালটি পানাহারে কাতর হয়ে মারা যায়।

আহমাদ ইবন ইউসুফ আল আযদী .... আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইজ্জত ও সম্মান আল্লাহর ভূষণ এবং গর্ব ও অহংকার তার চাদর। যে লোক এ ক্ষেত্রে আমার সাথে টানা-হেঁচড়া করবে আমি তাকে অবশ্যই সাজা দিব।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... জুনদাব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক লোক বলল, আল্লাহর শপথ আল্লাহ অমুক লোককে মাফ করবেন না। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, সে লোক কে? যে শপথ খেয়ে বলে যে, আমি অমুককে মাফ করব না? আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার আমল (শপথ) কে নষ্ট করে দিলাম, কিংবা সে যেমন বলেছেন।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এলোমেলো চুল বিশিষ্ট বহু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কোন ব্যাপারে শপথ করলে আল্লাহ তাআলা তা সত্যে পরিণত করে দেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন লোক বলে মানুষ বরবাদ হয়ে গেছে তাহলে সে সব লোকের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আবু ইসহাক বলেন, আমি জানি না যে, তিনি সে তাদের বরবাদ করেছে বলেছেন, না তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশী ধ্বংসপ্রাপ্ত বলেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবন উসমান ইবন হাকীম .... সুহায়ল হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ, আবূ বকর ইবন শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, জিবরীল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এতো উপদেশ প্রদান করেন যে, আমি মনে করছিলাম তিনি সম্ভবত তাকে ওয়ারিস বানিয়ে দিবেন।

আমর আন নাকিদ .... আয়িশাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরীল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এমনভাবে উপদেশ প্রদান করতে থাকেন যাতে আমি ভেবেছিলাম যে, তিনি হয়তো তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন।

আবূ কামিল আল জাহদারী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবু যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আবু যার! যখন তুমি তরকারি রান্না করবে তখন তাতে পানি (শুরুয়া বা ঝোল) বেশি দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে কিছু প্রদান করো।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবা ও আবূ কুরায়ব .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) আমাকে জোর নির্দেশ করেছেন, যখন তুমি তরকারি রান্না করবে তখন তাতে পানি বেশি করে দিবে। তারপর তুমি তোমার প্রতিবেশীর পরিজনের প্রতি খেয়াল রাখবে। অতঃপর তা হতে তাদেরকে কিছু সৌজন্য স্বরূপ পৌছিয়ে দিবে।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... আবু যর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ ভালো কোন কিছু দান করাকে হীন মনে করো না, এমনকি হোক সেটা ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ দেয়া।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমীপে কোন লোক প্রয়োজনের তাকিদ নিয়ে আসলে তিনি তার সাথীদের বলতেন, তোমরা এর জন্যে সুপারিশ করো, তাহলে তোমাদেরকেও সাওয়াব দেয়া হবে। আর আল্লাহ তাআলা তার নবীর মুখ থেকে এমন ফায়সালা দেবেন যা তিনি পছন্দ করেন।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আলা আল হামদানী .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গের উদাহরণ মিশক বিক্রেতা ও অগ্নিকুণ্ডে ফুৎকারকারীর (কামারের) ন্যায়। মিশক বিক্রেতা হয়ত তোমাকে কিছু দিবে। (সুগন্ধি নেয়ার জন্যে হাতে কিছুটা লাগিয়ে দিবে) অথবা তুমি তার কাছ হতে সামান্য ক্রয় করতে পারবে কিংবা তুমি তার থেকে সুঘ্রাণ লাভ করবে। আর অগ্নিচুলায় ফুৎকারকারী হয়ত তোমার কাপড়কে পুড়াবে কিংবা তুমি তার দুর্গন্ধপ্রাপ্ত হবে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহযায, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন বাহরাম ও আবু বকর ইবন ইসহাক ... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় আমার নিকট এক মহিলা আসলো। সে সময় তার সাথে তার দুটি কন্যাও ছিল। সে আমার সমীপে কিছু চাইল। সে মাত্র একটি খেজুর ছাড়া আমার নিকট কিছু পেল না। আমি সে খেজুরটিই তার হাতে দিলাম। সে খেজুরটি নিয়েই তা তার দু'কন্যার মাঝে বন্টন করে দিল। নিজে তা হতে কিছুই খেলো না। তারপর সে এবং তার দু কন্যা উঠে চলে গেল। এরপর নবী (ﷺ) আমার নিকট আসলে তার সমীপে আমি ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেন, যে লোক মেয়ে সন্তান প্রতিপালনের পরীক্ষায় আপতিত হয় আর তাদের সাথে সে সদাচরণ করে, তাহলে তার জন্যে এরা জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অসহায় স্ত্রী তার দুটি মেয়ে সন্তানসহ আমার নিকট আসলো। আমি তাদেরকে তিনটি খেজুর খেতে দিলাম। সে দু' মেয়ের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি নিজে খাবার জন্যে তার মুখে তুলল। সে মুহুর্তে মেয়ে দুটি এ খেজুরটিও খেতে চাইল। সে তখন নিজে খাবার জন্যে যে খেজুরটি মুখে তুলেছিল সেটি তাদের উভয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। তার এ আচরণ আমাকে আশ্চর্য করে দিল। পরে আমি সে যা করেছে তা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সমীপে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা এ কারণে তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক করে দিয়েছেন অথবা তিনি তাকে এ কারণে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়েছেন।

আমর আন্‌ নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুটি মেয়ে সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করে, কিয়ামতের দিনে সে ও আমি এমন পাশাপাশি অবস্থায় থাকব, এ বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে দিলেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবু হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তাকে জাহান্নামের আগুন ছুইবে না, শপথ কার্যকরের জন্যে যা দরকার তা ব্যতীত।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব, আবদ ইবন হুমায়দ ও ইবন রাফি ..... যুহরী মালিক এর সূত্রে তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া সুফইয়ান থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো আছে- সে জাহান্নামে গমন করবে না, শপথ কার্যকরী ব্যতীত।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু আনসারী নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের মধ্যে কারো তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করার পরও সে আল্লাহর প্রতিদানের আশা করে ধৈর্য ধারণ করলে সে জান্নাতে গমন করবে। অতঃপর এক স্ত্রী বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! দু'জন সন্তান মৃত্যুবরণ করলে? তিনি বললেন, দু'জনেও তাই।

আবূ কামিল আল জাহদারী, ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক নারী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! পুরুষ লোকজন আপনার হাদীস শুনতে পায়। কাজেই আপনি আপনার নিকট হতে আমাদের (নারী সমাজের) জন্যে একটি দিন ঠিক করে দিন (যেদিন আমরা আপনার নিকট একত্র হই)। আর আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দান করেন তা হতে আমাদেরকে শিক্ষা দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, বেশ ভালো তো, অমুক অমুক দিন তোমরা সমবেত হবে। তারা (নির্দিষ্ট দিনে) একত্র হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সমীপে আসলেন এবং আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তা হতে তাদেরকে শিখালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে যে কোন মহিলা তার জীবিত থাকতে সন্তান থেকে তিনটি সন্তান পাঠালেন (তিনটি সন্তান মারা গেল)। সে সন্তানরা বিচার দিবসে তার জন্যে আড়াল হবে। তখন এক স্ত্রী বলল, দু'জন, দু'জন, দু'জন হলে (কি বিধান)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যা, দু'জন, দু'জন, দু'জনেও এ বিধান।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, উবাদুল্লাহ ইবন মুআয ..... আবদুর রহমান ইবন আসবাহানী এ সূত্রে তার সমার্থ হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা সকলে আবদুর রহমান ইবন আসবাহানী হতে এটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি বলেন, আমি আবু হাযিমকে আবূ হুরাইরাহ হতে বলতে শুনেছি"। তিনি বলেন, এমন তিনটি সন্তান যারা সাবালক হয়নি।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবু হাসসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ কে বললাম, আমার দুটি ছেলে সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ হতে একটি হাদীস উল্লেখ করবেন, যাতে আমাদের মৃতদের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের মনে শান্তি দিতে পারেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি বললেন, হ্যা, তাদের জন্যে তার ছোট শিশুরা জান্নাতের প্রজাপতি তুল্য। তাদের মাঝে কেউ তার পিতার সাথে মিলিত হবে, অথবা তিনি বলেছেন বাবা মা দু'জনের সাথে মিলিত হবে। অতঃপর তিনি তার পরিধানের কাপড় কিংবা বলেছেন, হাত ধরবে, যেমনটি আমি তোমার কাপড়ের আচল ধরছি। এরপর আর তারা তাদের ছাড়বে না, কিংবা রাবী বলেছেন, ধরে থাকা শেষ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তার বাবা-মাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সুওয়াইদ এর বর্ণনায় আরো রয়েছে, আবু সালীল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আত তাইমী হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন কিছু শুনেছেন, যা আমাদের মৃতদের সম্পর্কে আমাদের হৃদয়কে খুশি করে দেয়? তিনি বললেন, হ্যা।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, উমার ইবন হাফস্ ইবন গিয়াস .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মহিলা একটি ছেলে সন্তান নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আপনি তার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। আমি তিনটি সন্তান কবরস্থ করেছি। তিনি বললেন, তুমি তিনটি সন্তান দাফন করেছ? মহিলা বলল, হ্যা। তিনি বললেন, তুমি তো অবশ্যই জাহান্নাম হতে একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করেছ। তাদের মাঝ থেকে উমার তার দাদার সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অবশিষ্টরা তাল্‌ক হতে রিওয়ায়াত করেছেন তারা 'দাদার' শব্দটি উল্লেখ করেননি।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার একটি ছেলে নিয়ে নবী (ﷺ) এর সমীপে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! নিশ্চয়ই সে, অসুস্থ এবং তার ব্যাপারে আমি ভয় করছি। আর আমি তিনটি সন্তান কবরস্থ করেছি। তিনি বললেন, তুমি জাহান্নাম হতে বাচার জন্যে একটি শক্ত দেয়াল তৈরি করেছ। যুহায়র তালক হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি কুনইয়াত (উপনাম) উল্লেখ করেননি।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যদি কোন বান্দাকে পছন্দ করেন তখন জিবরীল কে ডাক দেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুক লোককে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর। তিনি বলেন, তখন জিবরীল তাকে পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীতে ঘোষণা দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক লোককে পছন্দ করেন, সুতরাং আপনারাও তাকে পছন্দ করুন। তখন আকাশবাসীরা তাকে পছন্দ করে। তিনি বলেন, এরপর দুনিয়াতে তাকে নন্দিত, সমাদৃত করা হয়। আর আল্লাহ যদি কোন লোকের উপর রাগ করেন তখন জিবরীল কে ডাক দেন এবং বলেন, আমি অমুক বান্দার উপর রাগ করেছি, তুমিও তার প্রতি নারাজ হও। তিনি (ﷺ) বলেন, তখন জিবরীল তার উপর রাগাম্বিত হন। তারপর তিনি আকাশবাসীদেরকে ডাক দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অমুকের উপর রাগান্বিত। কাজেই আপনারাও তার উপর ক্রোধাম্বিত হোন। তিনি বলেন, তখন লোকেরা তার উপর দুশমনি পোষণ করে। তারপর তার জন্য পৃথিবীতে শত্রু বানিয়ে দেয়া হয়।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, সাঈদ ইবন আমর আল আসআশী ও হারুন ইবন সাঈদ আল আইলী ..... সুহায়ল এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণিত। তাছাড়া আলা ইবন মুসাইয়্যাব এর হাদীসে (শত্রুতা) শব্দটির উল্লেখ নেই।

আমর আন নাকিদ .... আবু সালিহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলাম। তখন উমর ইবন আবদুল আযীয গমন করলেন। সে সময় হজ্জের মৌসুম, লোকেরা তাকে দেখে দাড়িয়ে গেলেন। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমার মনে হয়, আল্লাহ তাআলা উমার ইবন আবদুল আযীয কে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, সে কি? তুমি কিভাবে বুঝলে? আমি বললাম, এ কারণে যে, মানুষের হৃদয়ে তার ভালবাসা বদ্ধমূল হয়ে আছে। তিনি বললেন, তোমার পিতার শপথ! তুমি শুনেছ আবু হুরাইরাহ কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে। তারপর তিনি সুহায়ল হতে জারীর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রুহসমূহ সমাজবদ্ধ। সুতরাং যারা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করছে তারা দুনিয়াতে পরস্পরে প্রতি বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর যারা সেখানে অপরিচিত তারা এখানেও ভিন্ন থাকে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে মারফু সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ স্বর্ণ ও রৌপ্যের খনি স্বরূপ। জাহিলিয়াতের সময় যারা সর্বোৎকৃষ্ট তারা ইসলামের সময়ও সর্বোৎকৃষ্ট, যখন তারা সূক্ষ্ম জ্ঞান অর্জন করেন (দীনের বুঝদার হয়ে থাকেন)। আর আত্মাসমূহ স্বভাবজাত সমাজবদ্ধ। সেখানে যেসব রূহ পরস্পরে পরিচিতি লাভ করেছিল দুনিয়াতে সেগুলো সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে আর সেখানে যেগুলো অপরিচিত ছিল, এখানেও তারা অপরিচিত।

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। এক যাযাবর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করল, কিয়ামত কবে হবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্যে কি পাথেয় প্রস্তুত করেছ? সে বলল, আমি বেশি কিছু প্রস্তুত করতে পারিনি। তবে আল্লাহ ও তার রসূলের মুহাব্বাত। তিনি বললেন, তুমি তারই সাখী হবে যাকে তুমি মুহাব্বাত কর।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও ইবন আবূ উমর .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? তিনি বললেন, তুমি তার জন্যে কি সংগ্রহ করেছ? তখন সে বেশি কিছু উল্লেখ করতে পারেনি। তিনি বলেন, কিন্তু আমি আল্লাহ ও তার রসূলকে মুহাব্বাত করি। তিনি বললেন, তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি মুহাব্বাত কর।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলো। তারপর তার মতো হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া এ বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, বেদুঈন লোকটি বলল, আমি কিয়ামতের জন্যে এমন কোন বেশি সম্বল তৈরি করিনি, যার জন্য আমি নিজেকে সাধুবাদ দিতে পারি।

আবু রাবী আল আতাকী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলো, অতঃপর বললো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? তিনি বললেন, তুমি সেদিনের জন্যে কি পাথেয় সংগ্রহ করেছ? সে বললো, আল্লাহ ও তার রসূলের মুহাব্বাত। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি তার সাথে থাকবে যাকে তুমি মুহাব্বাত কর। আনাস বলেন, ইসলাম কবুলের পরে আমরা এত বেশি আনন্দিত হইনি যতটা আনন্দবোধ করছি নবী (ﷺ) এর এ বাণী থেকে- "তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস"। আনাস বলেন, আমি আল্লাহ ও তার রসূল, আবু বাকর ও উমর কে পছন্দ করি। সুতরাং আমি আশা রাখি যে, কিয়ামতের দিনে আমি তাদের সাথে থাকব, যদিও আমি তাদের সমান আমল করতে পারিনি।

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ আল গুবারী .... আনাস ইবন মালিক এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তবে জাফর ইবন সুলাইমান এর বর্ণিত হাদীসে আনাস এর উক্তি "আমি ভালবাসি এবং তার পরবর্তী অংশ" উল্লেখ করেননি।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও রসুলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ে মসজিদে নববী হতে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় মসজিদের দরজায় এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলো। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্যে কি সম্বল সংগ্রহ করেছ? তিনি বলেন, তখন লোকটি নীরব থাকলো। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি তো সেজন্যে বেশি পরিমাণ সালাত, সিয়াম ও সাদাকা-খয়রাত সংগ্ৰহ করিনি। তবে আমি আল্লাহ ও তার রসূলকে মুহাব্বাত করি। তিনি বললেন, তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি মুহাব্বাত কর।

মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল আযীয আল ইয়াশকুরী .... আনাস এর সানদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

কুতাইবাহ, ইবন মুসানা, ইবন বাশশার, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... আনাস এর সানাদে হুবহু এ হাদীস নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলো। অতঃপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সে লোকটি সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন, যে একটি সম্প্রদায়কে মুহাব্বাত করে অথচ সে তাদের সাথে মিলিত হয়নি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে যাকে মুহাব্বাত করে সে তার সঙ্গেই থাকবে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, বিশর ইবন খালিদ ও ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক নবী (ﷺ) এর নিকট আসলো। অতঃপর তিনি আমাশ এর সানাদে জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের হুবহু উল্লেখ করেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আবু রাবী, আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন .... আবু যার গিফারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমীপে আবেদন করা হলো, ঐ লোক সম্পর্কে আপনার কি মতামত, যে সৎ আমল করে এবং মানুষেরা তার গুণ বর্ণনা করে? তিনি বললেন, এটা মুমিনের জন্যে দ্রুত সুবার্তা।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইব্রাহীম, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইসহাক .... হাম্মাদ ইবন যায়দ এর সূত্রে আবু ইমরান আল জাওনী হতে তার হুবহু হাদীস বর্ণিত। তাছাড়া আবদুস সামাদ ব্যতীত শুবার সানাদে অন্যান্যদের হাদীসে আছে, এবং লোকেরা তাকে এজন্য মুহাব্বাত করে উল্লেখ আছে। আর আবদুস সামাদ বর্ণিত হাদীসে হাম্মাদ যেভাবে বলেছেন তেমনি মানুষেরা তার শুকরিয়া করে উল্লেখ রয়েছে।