গুণাবলী (৫৮৩৩-৬০৬৩)
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রাযী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাহম ..... আবূ আম্মার শাদ্দাদ হতে বর্ণিত। তিনি ওয়াসিলাহ্ ইবন আসকা কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ মহান আল্লাহ ইসমাঈল এর সন্তানদের থেকে কিনানাহ-কে চয়ন করে নিয়েছেন, আর কিনানাহ ('র বংশ) হতে, কুরায়শ' কে বাছাই করে নিয়েছেন আর কুরায়শ (বংশ) হতে বানু হাশিমকে বাছাই করে নিয়েছেন এবং বানু হাশিম হতে আমাকে বাছাই করে নিয়েছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মক্কায় একটি পাথরকে জানি, যে আমার (নবীরূপে) প্রেরিত হওয়ার আগেও আমাকে সালাম করত; আমি এখনও তাকে সন্দেহাতীতভাবে চিনতে পারি।
হাকাম ইবন মূসা আবূ সালিহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার হব এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর খুলে যাবে এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি।
আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আতাকী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) পানি আনতে বললেন, তখন একটি প্রশস্ত তল বিশিষ্ট অগভীর বর্তন নিয়ে আসা হলো। (তিনি তাতে হাত রেখে বারাকাতের দোয়া করলেন) এবং লোকেরা ওযু করতে লাগল। আমি তাদের সংখ্যা ষাট হতে আশির মাঝে ধারণা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি পানির দিকে চেয়ে থাকলাম- যা তার আঙ্গুলসমূহের মাঝ থেকে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসছিল।
ইসহাক ইবন মূসা আনসারী ও আবূ তাহির .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লক্ষ্য করলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল আর লোকেরা ওযুর পানি সন্ধান করছিল; কিন্তু তারা খুজে পেল না। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু ওযুর পানি আনা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে পানির বর্তনে তার হাত রেখে দিলেন এবং লোকদের তা হতে ওযু করতে বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম, পানি তার অঙ্গুলিসমূহের নিচ থেকে উচ্ছল তরঙ্গের মত বেরিয়ে আসছে। তখন লোকেরা ওযু করল, এমনকি তাদের শেষ লোক পর্যন্ত সবাই ওযু করতে সক্ষম হলো।
আবূ গাসসান মিসমাঈ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এবং তার সাহাবীগণ যাওরা নামক স্থানে ছিলেন। রাবী বলেন, যাওরা হলো মদীনার বাজার ও মসজিদের সন্নিকটে একটি স্থান। সে সময় তিনি একটি পাত্র নিয়ে আসতে বললেন, যাতে অল্প পানি ছিল। তিনি তার (হাতের) মুষ্ঠি তাতে রাখলেন। তখন তার অঙ্গুলিসমূহের মধ্য হতে (পানি) উতড়িয়ে বের হতে লাগল আর তার সাহাবীগণ সবাই ওযু করলেন। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবূ হামযাহ! তারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, তারা ছিলেন তিনশ' জনের মতো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যাওরা'য় ছিলেন। সে সময় একটি পানির পেয়ালা নিয়ে আসা হলো, যার পানিতে তার অঙ্গুলিসমূহ ডুবছিল না অথবা ঐ পরিমাণ, যা তার অঙ্গুলিসমূহ ডুবাতে পারে না। তারপর (পূর্বোল্লিখিত হাদীসের) বর্ণনাকারী হিশাম বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির হতে বর্ণিত যে, উম্মু মালিক তার একটি চামড়ার পেয়ালায় নবী (ﷺ) এর জন্য ঘি উপঢৌকন পাঠাতেন। (কোন কোন সময়) তার ছেলেরা তার নিকট এসে (রুটি মাখাবার জন্য) তরকারি চাইত। কিন্তু তখন তাদের নিকট কিছু থাকত না। তাই তিনি (উম্মু মালিক) সে পেয়ালাটির নিকট যেতেন যাতে তিনি নবী (ﷺ) এর জন্য উপঢৌকন প্রেরণ করতেন। তখন তিনি তাতে কিছু ঘি পেয়ে যেতেন। তারপর তা তার ঘরের (রুটি মাখাবার) তরকারির কাজ দিতে থাকল। যে পর্যন্ত না সেটি (আঙ্গুল দিয়ে মুছে) নিংড়ে ফেললেন। সে নবী (ﷺ) এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি সেটি নিংড়ে ফেলেছ? তিনি বললেন, হ্যা! তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি সেটিকে (না মুছে) যথাবস্থায় রেখে দিলে তা কিছু মওজুদ থেকেই যেত।
সালামাহ ইবন শাবীব ... জাবির হতে রিওয়ায়াত করেন যে, জনৈক লোক খাবার চাইতে নবী (ﷺ) এর নিকট আসলো। তিনি তাকে অর্ধ ওয়াস্ক যব খাবার জন্য দিলেন। লোকটি তা থেকে আহার করতে থাকল আর তার স্ত্রী এবং তাদের (দু'জনের) মেহমানরাও। পরিশেষে সে (একদিন) তা মেপে দেখল। ফলে তা ফুরিয়ে গেলে। তারপরে সে নবী (ﷺ) এর নিকট (অভিযোগ নিয়ে) আসল। তিনি বললেন, যদি তুমি তা মেপে না দেখতে, তাহলে তোমরা তা থেকে আহার করতে থাকতে এবং তা তোমাদের জন্য (দীর্ঘ সময়) বিদ্যমান থাকত।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... মুআয ইবন জাবাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধের বছর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (যুদ্ধে) বের হলাম। (এ সফরে) তিনি (ﷺ) নামাজ একসাথে আদায় করতেন। যুহর ও আসর একসাথে আদায় করতেন, আর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। পরিশেষে একদিন (এমন) হলো যে, নামাজ দেরিতে আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে এসে যুহর ও আসর একসাথে আদায় করলেন, তারপর (তাবুতে) ঢুকলেন। অতঃপর আবার বেরিয়ে এলেন এবং মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনশাআল্লাহ তোমরা আগামীকাল তাবুক জলাশয়ে পৌছবে, তবে চাশতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌছতে পারবে না। তোমাদের মাঝে যে (ই) সেখানে (প্রথমে) পৌছবে সে যেন তার পানির কিছুই স্পর্শ না করে- যতক্ষণ না আমি এসে পৌছি। আমরা (ঠিক সময়েই) সেখানে পৌছলাম। (কিন্তু) ইতোমধ্যে দু' লোক আমাদের পূর্বে সেখানে পৌছে গিয়েছিল। আর প্রসবণটিতে জুতার ফিতার ন্যায় ক্ষীণ ধারায় সামান্য পানি বের হচ্ছিল। মুআয বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ দু'জনকে প্রশ্ন করলেন, তোমরা তা হতে কিছু পানি ছুয়েছে কি? ... তারা উভয়ে বলল, হ্যা! তখন নবী (ﷺ) তাদের দু'জনকে ভৎসনা করলেন। আর আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই তাদের বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাদের হাত দিয়ে অঞ্জলি ভরে ভরে প্রসবণ হতে অল্প অল্প করে (পানি) তুলল, পরিশেষে তা একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ জমা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাঝে তার দু'হাত এবং মুখ ধুলেন এবং তারপরে তা (পানি) তাতে (প্রসবণে) উল্টিয়ে (ঢেলে) দিলেন। ফলে পানির প্রসবণটি প্রবল পানি ধারায় কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হতে লাগল। আবূ আলী সন্দেহ করেছেন যে, বর্ণনাকারী এর মধ্যে কোনটি বলেছেন। এবার লোকেরা পানি প্রয়োজন মতো পান করল। পরে নবী (ﷺ) বললেন, হে মুআয! তুমি যদি দীর্ঘায়ু হও, তবে আশা করা যায় যে, তুমি দেখতে পাবে প্রসবণের এ জায়গাটি বাগানে ভরে গেছে।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আবূ হুমায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাবুক যুদ্ধের জন্য বের হলাম। আমরা 'ওয়াদিল কুরা' এলাকায় এক মহিলার একটি বাগানের নিকট পৌছলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা এর পরিমাণ ধারণা করো। আমরা এর পরিমাণ অনুমান করলাম। আর রসূলুল্লাহ দশ ওয়াস্ক (প্রায় পঞ্চাশ মণ) পরিমাণ ধারণা করলেন এবং (মেয়ে লোকটিকে) বললেন, ইনশাআল্লাহ আমরা তোমার এখানে ফিরে আসা পর্যন্ত এ পরিমাণ ধরে রাখো। তারপরে আমরা অগ্রসর হলাম এবং তাবুকে পৌছে গেলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ রাতে প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহ তোমাদের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। তাই তোমাদের কেউ যেন তার মধ্যে দাড়িয়ে না থাকে এবং যার উট আছে সে যেন তার দড়ি মজবুত করে বেধে রাখে। অতঃপর দেখা গেল, অনেক বাতাস প্রবাহিত হলো। জনৈক লোক দাড়ালে বাতাস তাকে তুলে নিয়ে পরিশেষে তাই নামক পাহাড়ে ফেলে দিল। আর (ঐ সময় নিকটবর্তী) আয়লার অঞ্চল প্রধান (শাসক) ইবন আলমা'-র দূত রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি পত্র নিয়ে আসলো এবং তিনি তাকে একটি সাদা খচ্চর উপটৌকন পাঠালেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তার নিকট চিঠি লিখে পাঠালেন এবং তাকে একটি চাদর উপটৌকন হিসেবে প্রেরণ করলেন। এরপর আমরা এগিয়ে চলতে চলতে 'ওয়াদিল কুরা পৌছলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীলোকটিকে (বাগানের মালিক) তার বাগান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন যে, তার ফল কি পরিমাণে পৌছেছে? সে বলল, দশ ওয়াস্ক। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি দ্রুত যাচ্ছি। তোমাদের মাঝে যার ইচ্ছা হয় সে আমার সাথে অবিলম্বে যেতে পারে। আর যার ইচ্ছা সে থেকে যেতে পারে। অতঃপর আমরা বেরিয়ে গেলাম। পরিশেষে মদীনার নিকটবর্তী এলাকায় পৌছলাম। সে সময় তিনি বললেন, এ (মদীনাহ) হলো 'তাবা' পবিত্র ও উত্তম জায়গা। আর এ হলো উহুদ। আর তা এমন পর্বত, যে আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। এরপর বললেন, আনসারীদের শ্রেষ্ঠ পরিবার বানু নাজ্জার, এরপর বানু আবদুল আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবন খাযরাজ, অতঃপর বানু সাইদাহ পরিবার। আর আনসারদের প্রতিটি সম্প্রদায়ই ভাল। সাদ ইবন উবাদাহ্ আমাদের সঙ্গে এসে একত্রিত হলে (তার সম্প্রদায়ের) আবূ উসায়দ তাকে বললেন, আপনি কি দেখেননি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসার সম্প্রদায়েরগুলোর মাঝে ধারাবাহিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের সম্প্রদায়কে তালিকার শেষে রেখেছেন। তখন সা'দ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আনসার সম্প্রদায়গুলোর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের শেষে রেখেছেন! তখন তিনি বললেন, শ্রেষ্ঠ তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়াও কি তোমাদের জন্য যথেষ্ঠ নয়?
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমর ইবন ইয়াহইয়া উল্লেখিত সূত্রে আনসারদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের কল্যাণ আছে পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিনি পরবর্তী অংশ– সা'দ ইবন উবাদাহ সম্বন্ধে বর্ণনা উল্লেখ করেননি। তবে উহায়ব তার বর্ণিত হাদীসে বেশি উল্লেখ করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার (ইবন আলমা)-র জন্য তাদের জনপদগুলো লিখে দিলেন। উহায়ব এর বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তার নিকট চিঠি লিখে প্রেরণ করলেন- উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
আবদ ইবন হুমায়দ, আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবন জাফর ইবন যিয়াদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নাজদ এর দিকে একটি জিহাদে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (পেছন হতে এসে) একটি কাটাবন যুক্ত উপত্যকায় আমাদের পেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গাছের তলায় অবতরণ করলেন এবং তার তলোয়ারটি সে বৃক্ষের একটি শাখায় লটকিয়ে রাখলেন। বর্ণনাকারী জাবির বলেন, আর লোকেরা গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জনৈক লোক আমার নিকট আসলো তখন আমি ঘুমন্ত। সে তলোয়ারটি হাতে নিল। আমি জেগে উঠলাম, আর সে আমার মাথার কাছে দণ্ডায়মান। আমি কিছু বুঝে না উঠতেই (দেখি) উন্মুক্ত তলোয়ারটি তার হাতে নিয়ে দাড়িয়ে। অতঃপর সে আমাকে বলল, কে তোমাকে আমা হতে রক্ষা করবে? তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ! সে দ্বিতীয় বার বলল, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ! রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে তখন তলোয়ারটি ভিতরে ঢুকিয়ে রাখল। আর ওই যে সে বসে আছে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কিছুই বললেন না।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... সিনান ইবন আবূ সিনান দুওয়ালী ও আবূ সালামাহ্ ইবন আবদুর রহমান হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেন যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী .... তিনি ছিলেন নবী (ﷺ) এর একজন সাহাবী। তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে নাজদ অভিমুখে একটি মিশনে গেলেন। নবী (ﷺ) যখন ফিরে এলেন তখন তিনিও তার সাথে ফিরে আসেন। এরপর দুপুরের বিশ্রামকালে সকলে উপস্থিত হলো .....। তারপর ইবরাহীম ইবন সা'দ ও মা'মার বর্ণিত হাদীসের হুবহু উল্লেখ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে এগিয়ে চললাম। পরিশেষে আমরা যখন যাতুর রিকায় পৌছলাম .....। এরপর যুহরী বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আর কোন কিছু বলেননি উক্তটি বর্ণনা করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ আমির আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ বুরদাহ ও আবূ মূসা এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম সহকারে প্রেরণ করেছেন; তার দৃষ্টান্ত সে বৃষ্টির মত যা কোন ভূমিতে বর্ষিত হলো, আর সে ভূমির উৎকৃষ্ট কতকাংশ পানি গ্রহণ করে এবং প্রচুর তরতাজা ঘাস-পাতা উৎপাদন করে। আর কতকাংশ হলো শক্ত মাটি, যা পানি আবদ্ধ রাখে, ফলে আল্লাহ তাআলা তা দ্বারা মানুষের উপকার করেন এবং তারা তা থেকে পান করেন, (অন্যদের) পান করায় ও পশু চড়ায়। আর বৃষ্টি সে জমির আরও কিয়দংশ বর্ষিত হলো- যা উচু অনুর্বর, যা কোন পানি আবদ্ধ করে রাখে না আর কোন লতা-পাতাও উৎপাদিত করে না। সে উদাহরণ হলো সেসব লোকের- যারা আল্লাহর দীনের জ্ঞান অর্জন করে এবং আল্লাহ তাদের সেসব বস্তু দিয়ে উপকৃত করেন যা নিয়ে আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন। ফলে সে ইলম অর্জন করে অন্যকেও শিক্ষা দেয়। আর তৃতীয় উদাহরণ হলো ঐ লোকদের যারা তার প্রতি মাথা উচু করেও তাকায় না এবং আল্লাহর ঐ হিদায়াতও কবুল করে না, যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উদাহরণ এবং আল্লাহ যা দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছেন তার উদাহরণ সে ব্যক্তির উপমার মতো যে তার স্বজাতির নিকট এসে বলে, হে আমার গোত্র! আমি আমার দু' চোখে (শত্রু) সেনা দেখে এসেছি, আর আমি (সুস্পষ্ট) সতর্ককারী। সুতরাং আত্মরক্ষা করো। তখন তার গোত্রের একদল তার কথা মেনে নিল এবং রাতের অন্ধকারে সুযোগে (জায়গা ত্যাগ করে) চলে গেল। আর এক দল তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে ভোর পর্যন্ত স্ব-স্থান হতে চলে গেল। ফলে (শত্রু) বাহিনী সকালে তাদের হামলা করল এবং তাদের সমূলে ধ্বংস করে দিল। সুতরাং এ হলো তাদের উপমা যারা আমার আনুগত্য করল এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুকরণ করল এবং ওদের উদাহরণ যারা আমার অবাধ্য হলো এবং যে সত্য আমি নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উপমা ও আমার উম্মাতের উপমা সে ব্যক্তির উপমার মতো, যে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করেছে ফলে মাকড় ও কীট-পতঙ্গ তাতে জুলতে লাগল। আমি তোমাদের কোমরবন্ধ ধরে (তোমাদের রক্ষার জন্যে) টানছি আর তোমরা সবাই যেন তাতে পড়তে যাচ্ছো।
আমর আন্ নাকিদ ও ইবন আবূ উমার .... আবূ যিনাদ হতে উপরোক্ত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো হলো সেসব (হাদীস), যা আবূ হুরাইরাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের নিকট রিওয়ায়াত করেছেন। এরপর সেগুলো হতে তিনি কিছু হাদীস বর্ণনা করেন। তার একটি হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার অবস্থা সে লোকের অবস্থার মতো যে আগুন জ্বলিয়েছিল, তখন তাতে তার চতুষ্পার্শ্ব আলোকিত হলো, তখন পতঙ্গ ও সেসব জন্তু যা আগুনে পড়ে থাকে, তাতে পড়তে লাগল আর সে লোক সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। তবে তারা তাকে হারিয়ে দিয়ে তাতে ঢুকে পড়তে লাগল। তিনি বললেন, এটাই হলো তোমাদের অবস্থা আর আমার অবস্থা। আমি আগুন থেকে রক্ষার জন্য তোমাদের কোমরবন্ধগুলো ধরে টানি ও বলি যে, আগুন হতে দূরে থাকো, আগুন থেকে দূরে থাকো এবং তোমরা আমাকে পরাস্ত করে তার মধ্যে ঢুকে পড়ছে।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উপমা ও তোমাদের উপমা সে লোকের উপমার মতো যে আগুন জ্বালালো, ফলে ফড়িং দল আর পতঙ্গ তাতে ঝাপিয়ে পড়তে লাগল আর সে লোক তাদের তা থেকে বিতাড়িত করতে লাগল। আমিও আগুন থেকে রক্ষার জন্য তোমাদের কোমরবন্ধ ধরে টানছি, আর তোমরা আমার হাত থেকে ছুটে যাচ্ছ।
আমর ইবন মুহাম্মাদ আন্ নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার দৃষ্টান্ত এবং নবীগণের দৃষ্টান্ত সে লোকের দৃষ্টান্তের সাথে তুলনীয়, যে একটি অট্টালিকা প্রস্তুত করল এবং সে তা সুন্দর ও সুদৃশ্যপূর্ণ করল। পরে (তা দর্শনে আগত) লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল (এবং) বলতে লাগল যে, এর চাইতে সুন্দর কোন অট্টালিকা আমরা দেখিনি। কিন্তু এ একটি ইটের স্থান সমাপ্ত হয়নি। [নবী (ﷺ) বলেন] আমিই হলাম সে ইটখানি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সে সব হাদীস, যা আবূ হুরাইরাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। তার একটি হলো, আবূল কাসিম (ﷺ) বলেছেন, আমার দৃষ্টান্ত ও আমার পূর্বেকার নবীগণের দৃষ্টান্ত সে লোকের উপমার মতো, যে কতকগুলো গৃহ বানালো, তা সুন্দর করল ও সুদৃশ্য করল এবং পূর্ণাঙ্গ করল; কিন্তু তার কোন একটির কোণে একটি ইটের স্থান ছাড়া (খালি রাখল)। লোকেরা সে ঘরগুলোর চারদিকে চক্কর দিতে লাগল আর সে ঘরগুলো তাদের মুগ্ধ করতে লাগল। পরিশেষে তারা বলতে লাগল, এখানে একখানি ইট লাগালেন না কেন? তাহলে তো আপনার অট্টালিকা পূর্ণাঙ্গ হত। অতঃপর মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন যে, আমি-ই হলাম সে ইটখানি।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আমার উপমা এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের উপমা সে লোকের উপমার মতো, যে একটি অট্টালিকা বানালো এবং তা সুন্দর ও সুচারুরূপে গড়ে তুলল, তবে তার কোণগুলোর কোন এক কোণায় একটি ইটের স্থান ব্যতীত। লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল আর তা দেখে আশ্চর্য হতে লাগল এবং পরস্পর বলতে লাগল, ঐ ইটখানি স্থাপন করা হলো না কেন? [নবী (ﷺ)] বলেনঃ আমি-ই সে ইটখানি আর আমি নবীগণের মোহর ও শেষ নবী।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আমার উপমা এবং নবীগণের উপমা .... তারপর পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উপমা এবং নবীগণের উপমা সে লোকের উপমা তুল্য, যে একটি বাড়ি তৈরি করল এবং সে তা সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ করল, তবে একটি ইটের স্থান ছাড়া। লোকেরা তাতে ঢুকতে লাগল এবং তা দেখে আশ্চর্য হতে লাগল এবং বলাবলি করতে থাকল, যদি এ একখানি ইটের স্থান খালি না থাকত (তবে কতই না উত্তম হত)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি হলাম সে ইটের স্থানে। আমি আগমন করলাম এবং নবীগণের পরম্পরা শেষ করলাম।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... সালীম ইবন হাইয়ান সূত্রে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি (পরিপূর্ণ করেছে)-এর স্থলে (সুন্দর করেছে) বলেছেন।
(ইমাম মুসলিম বলেন), আবূ উসামাহ্ সূত্রে এ হাদীসটি আমার নিকট রিওয়ায়াত করা হয়েছে, আবূ মূসা হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন তার বান্দাদের মধ্যে কোন উম্মাতের প্রতি রহমতের ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীকে তাদের পূর্বেই তুলে নেন এবং তাকে তাদের যুগের অগ্রগণ্য ও পূর্ববর্তী করেন। আর যখন কোন উম্মাতকে বিনাশ করার ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীর জীবিতাবস্থায় তাদের শাস্তি দেন এবং এ অবস্থায় তাদের বিনাশ করেন যে, তিনি (নবী) তা দেখতে পান। এরপর তাদের ধ্বংস দেখে তার চোখ শান্ত করেন, যেহেতু তারা তাকে অমান্য করেছিল ও তার আদর্শ অস্বীকার করেছিল।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... জুনদাব হতে বর্ণিত। তনি বলেন, নবী (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, আমি 'হাওয' এর নিকট তোমাদের জন্য অগ্রগামী হব।
আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ আবূ কুরায়ব, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... জুনদাব এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি আমি 'হাওয' (কাওসার) এর নিকট তোমাদের জন্য অগ্রগামী হব। যে সেখানে আসবে সে তা পান করবে এবং যে তা থেকে পান করবে, সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। আর আমার নিকট এমন কতিপয় দল আসবে, যাদের আমি চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। অতঃপর আমার ও তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে। বর্ণনাকারী আবূ হাযিম বলেন, আমি যখন তাদের নিকট এ হাদীস পেশ করি, তখন নুমান ইবন আবূ আইয়্যাশ শুনে বললেন, তুমি কি সাহল কে এমনই বলতে শুনেছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যা!
নুমান বলেন, আর আমি আবূ সাঈদ খুদরী এর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি অবশ্যই তাকে বর্ধিত বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলবেন, এরা তো আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, তারা আপনার পরে কি আমল করেছে। তখন যারা আমার পরে (দীনে) পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছে; আমি তাদের বলবঃ দূর হও, দূর হও।
হারূন ইবন সাঈদ আইলী .... আবূ হাযিম এর মাধ্যমে সাহল এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এবং নুমান ইবন আবূ আইয়্যাশ এর মাধ্যমে আবূ সাঈদ খুদরী এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে (পূর্ববর্তী) ইয়াকুব এর হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
দাউদ ইবন আমর যাব্বী ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার 'হাওয' এর ব্যবধান এক মাসের রাস্তা, তার সকল কোণ এক সমান, তার পানি রূপার চেয়ে শুভ্র, তার ঘ্রাণ মিশক-এর চেয়ে সুগন্ধযুক্ত এবং তার পাত্রের পরিমাণ আসমানের তারকার ন্যায়। যে লোক তা থেকে পান করবে, সে তার পরে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।
বর্ণনাকারী (ইবন আবূ মুলাইকাহ) বলেন, আর আসমা বিনতু আবূ বকর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি হাওযের সন্নিকটে থাকব, যাতে দেখতে পারি যে, তোমাদের মাঝে কারা আমার নিকট আসলো। আর আমার সম্মুখ থেকে কতক ব্যক্তিকে আটকানো হবে, তখন আমি বলব- ইয়া রাব! এরা তো আমার লোক এবং আমার উম্মাত। তখন বলা হবে, আপনি কি জানেন না যে, আপনার পরে এরা কি করেছে? আল্লাহর শপথ! এরা আপনার পরে এদের পিছনের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছে। বর্ণনাকারী (নাফি) বলেন, তাই বর্ণনাকারী ইবন আবূ মুলাইকাহ্ বলতেন, হে আল্লাহ! আমরা আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আমাদের পশ্চাতে ফিরে যাওয়া হতে এবং আমাদের দীনের বিষয়ে ফিতনায় আপতিত হওয়া থেকে।
ইবন আবূ উমার .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার সাহাবীগণের সামনে বলতে শুনেছি যে, আমি 'হাওয'-এর নিকট তোমাদের মধ্য হতে যারা আমার নিকট আসবে তাদের প্রতীক্ষায় থাকব। আল্লাহর শপথ! আমার কাছ থেকে অবশ্যই কিছু ব্যক্তিকে আলাদা করে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে রব্ব! (এরা তো) আমার-ই এবং আমার উম্মাতেরই (লোক)। আল্লাহ বলবেন, আপনি অবশ্যই জানেন না, তারা আপনার পরে কি আমল করেছে। তারা তো তাদের পশ্চাতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছে।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা সাদাফী .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাওযের (কাওসারের) ব্যাপারে লোকদেরকে আলোচনা করতে শুনতাম। কিন্তু আমি (নিজে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ সম্পর্কে কিছু শুনিনি। পরে যখন একদিন ঐ ব্যাপারে আলোচনা আসলো- এ সময় একটি মেয়ে আমার চুল আচড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সম্বোধন করতে শুনলাম, হে লোক সকল .....! তখন স্ত্রীলোকটিকে আমি বললাম, তুমি আমার হতে দূরে চলে যাও। সে বলল, তিনি তো পুরুষদের ডাক দিয়েছেন এবং স্ত্রীলোকদের ডাকেননি। আমি বললাম, আমিও তো লোকদের একজন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদের জন্য 'হাওয' এর নিকট অগ্রগামী হব। তাই হুঁশিয়ার! আমার নিকট তোমাদের এমন কেউ যেন না আসে, যাকে আমার নিকট হতে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়, যেমন হারানো উটকে ভাগিয়ে দেয়া হয়। আর আমি বলতে থাকব, কেন তাদের তাড়ানো হচ্ছে? তখন বলা হবে আপনি তো জানেন না, তারা আপনার পরে কী নতুন বিষয়ের আবিষ্কার করেছে? তখন আমিও বলব, দূর হও!
আবূ মান রাকাশী, আবূ বকর ইবন নাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ বর্ণনা করতেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বারে দাড়িয়ে বলতে শুনলেন, হে লোক সকল .....। এ সময় উম্মু সালামাহ্ চুল আচড়াচ্ছিলেন, তখন তিনি কেশ বিন্যাসকারিণীকে বললেন, আমার মাথা আচড়ানো বন্ধ রাখো। .... অবশিষ্টাংশ বর্ণনাকারী কাসিম ইবন আব্বাস এর সানাদে বুকায়র বর্ণিত হাদীসের অবিকল।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন বাইরে এসে উহুদবাসীদের জন্য জানাযার সালাতের মতো নামাজ আদায় করলেন। তারপর মিম্বারের দিকে ফিরে এসে বললেন, আমি তোমাদের জন্য অগ্রগামী এবং তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী। আল্লাহর শপথ আমি এ মুহুর্তে আমার হাওয দেখতে পাচ্ছি। আর আমাকে অবশ্যই দুনিয়ার ধন-ভাণ্ডারসমূহের চাবিকাঠি কিংবা বলেছেন, দুনিয়ার চাবিসমূহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ আমি তোমাদের সম্বন্ধে এ আশঙ্কা করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরকে জড়িয়ে পড়বে। তবে, আমি তোমাদের সম্বন্ধে এ সংশয় করি যে, তোমরা দুনিয়ার প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়বে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদের শহীদগণের জন্য নামাজ আদায় করলেন তারপর মিম্বারে চড়ে জীবিতদের ও মৃতদের বিদায় দানকারীর মতো বলেনঃ আমি হাওযের দিকে তোমাদের অগ্রগামী। আর জেনে রাখো! তার প্রস্থ যেমন আয়লা হতে জুহফার ব্যবধান। আমি তোমাদের সম্বন্ধে ভয় করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরকে লিপ্ত হবে। তবে, আমি তোমাদের সম্বন্ধে দুনিয়াকে ভয় করি যে, তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় তোমরা জড়িয়ে পড়বে এবং হানাহানি করবে; ফলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে। উকবাহ্ বলেন, এ ছিল মিম্বারের উপরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার সর্বশেষ দেখা।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি 'হাওযে'র নিকট তোমাদের অগ্রগামী। আর আমি অবশ্যই কিছু দলের সম্বন্ধে বাক-বিতণ্ডা করব এবং আমি অবশ্যই তাদের ব্যাপারে পরাজিত হয়ে যাব। তখন আমি বলব, হে রব! (এরা তো) আমার সহচর, আমার সঙ্গী। তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না যে, তারা আপনার পরে কি নিত্য-নতুন (বিষয়াদি) আবিষ্কার করেছে?
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ হতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি আমার সহচর, আমার সঙ্গী-উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম এবং ইবন মুসান্না .... আবূ ওয়ায়িল হতে আবদুল্লাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে .... পূর্বোল্লিখিত আমাশ এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু শুবাহ বর্ণিত হাদীসে মুগীরাহ এর সানাদে রয়েছে ... আমি আবূ ওয়ায়িল কে বলতে শুনেছি।
সাঈদ ইবন আমর আশআসী ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ... হুযাইফাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে মুগীরাহ ও আমাশ এর বর্ণিত হাদীসের হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাযী' .... হারিসাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, তার হাওয মদীনাহ এবং সানআর মাঝামাঝি ব্যবধানের সমান। অতঃপর মুসতাওরিদ তাকে বললেন, আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে পাত্রের ব্যাপারে আলোচনা শুনেছেন কি? হারিসাহ উত্তর দিলেন, না। তখন মুসতাওরিদ বললেন, সেখানে তারকার মতো পাত্রসমূহ লক্ষ্য করা যাবে।
ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আরআরাহ .... হারিসাহ ইবন ওয়াহব খুযা'ঈ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি এবং তিনি অবিকলরূপে হাওযের বিবরণ দিলেন। কিন্তু তিনি মুসতাওরিদ ও তার উক্তির বর্ণনা করেননি।
আবূ রাবী যাহরানী এবং আবূ কামিল জাহদারী .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সম্মুখে একটি হাওয থাকবে যার উভয় দিকের ব্যবধান হবে জারবা ও আযরুহার মাঝামাঝি জায়গার সমান।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ ... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সম্মুখে এমন একটি হাওয থাকবে যার প্রশস্ততা জারবা এবং আযরূহার মাঝামাঝি ব্যবধানের সমান। ইবন মুসান্নার বর্ণনা মতে, আমার 'হাওয' বর্ণিত হয়েছে।
ইবন নুমায়র ও আবূ বকর উভয়ে উবাইদুল্লাহ হতে উপরোল্লিখিত হাদীসের হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে উবাইদুল্লাহ বর্ধিত রিওয়ায়াত করেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি তাকে [নাফি-কে] (জারবা ও আযরূহা সম্বন্ধে) জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বললেন, শাম (সিরিয়া) দেশের সন্নিকটে দুটি গ্রামের নাম, উভয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান তিন রাতের রাস্তার সমান দূরত্ব। আর ইবন বিশরের বর্ণনাতে তিন দিনের রাস্তা'।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... এর বর্ণনা মতে, ইবন উমার নবী (ﷺ) হতে উবাইদুল্লাহর বর্ণিত হাদীসের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সম্মুখে একটা হাওয হবে যার প্রশস্ততা জারবা ও আযরূহার মাঝামাঝি ব্যবধানের সমান। সেখানে আকাশে তারকার ন্যায় অনেক পাত্র থাকবে। যে লোক এখানে এসে ঐ হাওযের পানি পান করবে, পরবর্তীতে সে কক্ষনো তৃষ্ণার্ত হবে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ যার গিফারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রসূল! হাওযের পাত্র কত হবে? তিনি বললেন, যার কবজায় আমার জীবন তার শপথ! সে হাওযের পাত্র মেঘবিহীন আধার রাতের আকাশের নক্ষত্র ও তারকারাজির চাইতেও বেশী। সে সব পাত্র জান্নাতেরই পাত্র। যে ঐ পাত্র হতে পান করবে শেষ পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। ঐ হাওযের মধ্যে জান্নাত হতে প্রবাহিত দু'টো নালার সংমিশ্রণ রয়েছে। যে লোক ঐ হাওয হতে পান করবে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না, সে হাওযের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হবে। সে হাওযের প্রশস্থতা আম্মান থেকে আয়লার মাঝামাঝি ব্যবধানের সমতুল্য। তার পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি মিষ্ট।
আবূ গাসসান মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সাওবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার হাওযের পাশে থাকবো। ইয়ামানবাসীদের জন্য সর্বসাধারণ লোককে সরিয়ে দেব। আমি আমার লাঠি দিয়ে হাওযের পানির উপর করাঘাত করবো যাতে তাদের উপর তা প্রবাহিত হয়। এরপর নবী (ﷺ) কে সে হাওযের প্রশস্ততা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, আমার এ স্থান থেকে আম্মানের ব্যবধানের সমান। পুনরায় সে হাওযের পানি সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, দুধের চেয়ে অধিক শুভ্র ও মধুর চেয়ে অতি মিষ্ট। জান্নাত থেকে প্রবাহিত দু'টো নালা দিয়ে সে হাওযের মাঝে পানি আসতে থাকবে। তার একটি (নালা) সোনার এবং অপরটি রূপার।
যুহায়র ইবন হারব বর্ণনা করেন, কাতাদাহ্ নবী (ﷺ) হতে সাওবান কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এতটুকু পার্থক্য যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কিয়ামতের দিন হাওযের পাশেই থাকবো।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার বর্ণনা করেন .... সাওবান নবী (ﷺ) হতে হাওযের হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তারপর তিনি ইয়াহইয়া ইবন হাম্মাদ কে বললেন, আমি আবূ আওয়ানাহ্ হতেও এ হাদীস শুনেছি। ইয়াহইয়া ইবন হাম্মাদ বললেন, আমি শুবাহ হতে এ হাদীস শুনেছি। তারপর আমি বললাম যে, আপনি এ হাদীস সম্বন্ধে আমাকে একটু সময় দিন, তিনি আমাকে সময় দিলেন এবং আমাকে হাদীসটি শুনালেন।
আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম জুমাহী .... আবূ হুরাইরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আমি আমার হাওয থেকে কতক সংখ্যক ব্যক্তিকে সরিয়ে দেব, যেরূপে অচেনা উটকে সরিয়ে দেয়া হয়।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পূর্বেকার হাদীসের হুবহু হাদীস বলেছেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাওযের প্রশস্ততার পরিমাণ হলো আয়লা এবং ইয়ামানের সানআর ব্যবধানের সমান। আর সেখানে পানির পাত্রগুলো আসমানের নক্ষত্রের ন্যায় অগণিত।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই হাওযের পাশে এমন কতিপয় লোক আসবে যারা পৃথিবীতে আমার সাহচর্য পেয়েছিল। এমন কি যখন আমি তাদের দেখতে পাব এবং তাদেরকে আমার সামনে নিয়ে আসা হবে, তখন আমার কাছে আসতে তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। অতঃপর আমি বলব, হে প্ৰভু! এরা আমার সঙ্গী, এরা আমার সঙ্গী। তখন আমাকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আপনি জানেন না, আপনার পর এরা কিভাবে দীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন করেছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আলী ইবন হুজর ও আবূ কুরায়ব .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অর্থানুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অতিরিক্ত রয়েছে যে, 'তার পাত্রগুলোর পরিমাণ নক্ষত্রের ন্যায়'।
আসিম ইবন নাযর তামীমী ও হুরায়ম ইবন আবদুল আ'লা .... আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমার হাওযের দু' পাশের ব্যবধান এতটুকু যতটুকু মদীনাহ ও সানআর মাঝে।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী .... আনাস এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হুবহু রিওয়ায়াত করেন। শুধু ব্যবধান এতটুকু যে, এ হাদীসে বর্ণনাকারীদ্বয় সংশয় প্রকাশ করেছেন, কিংবা মদীনাহ ও আম্মানের (জর্ডানের রাজধানী) ব্যবধানের সমান'।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব হারিসী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ রূযযী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হাওযের কাছে আকাশের তারকারাজির মতো অগণিত স্বর্ণ ও রূপার পানপাত্র দেখতে পাবে।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, কিংবা আকাশের নক্ষত্রের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
ওয়ালীদ ইবন শুজা ইবন ওয়ালীদ আস্সাকুনী .... জাবির ইবন সামুরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাওযের কাছে আমি তোমাদের অগ্রগামী হব। তার দু'পাশের দূরত্ব সানআ ও আয়লার ব্যবধানের সমান। তার পাত্রগুলো যেন নক্ষত্রের ন্যায়।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমির ইবন সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গোলাম নাফির মাধ্যমে জাবির ইবন সামুরার কাছে লিখে পাঠালাম যে, আপনি আমাকে এমন কোন হাদীস সম্বন্ধে অবহিত করুন যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছেন। তিনি বলেন, এরপর তিনি আমাকে লিখেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমি হাওযের উপর তোমাদের অগ্রগামী থাকবো'।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ উসামাহ্ .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উহুদ যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডানে এবং বামে দু' লোককে দেখতে পাই তাদের গায়ে সাদা পোশাক ছিল। এর আগে বা পরে আমি তাদেরকে আর কক্ষনো দেখিনি। আসলে তারা ছিলেন জিবরীল ও মীকাঈল।
ইসহাক ইবন মানসূর .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডানে ও বামে দু' লোককে দেখতে পাই, যাদের গায়ে ছিল সাদা বস্ত্র। তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষে কঠিনভাবে যুদ্ধ করছিলেন। এর আগে ও পরে আমি তাদের দেখিনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী, সাঈদ ইবন মানসূর, আবূ রাবী আতাকী ও আবূ কামিল .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সব লোকের মাঝে অতি সুন্দর, অতি দানশীল এবং শ্রেষ্ঠ বীর ছিলেন। কোন এক রাত্রে মদীনাবাসীরা ভীত হয়ে পড়েছিল। অতঃপর যেদিক থেকে শব্দ আসছিল, লোকেরা সেদিকে ছুটে চলল। রাস্তায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাদের দেখা হয়, তখন তিনি ফিরে আসছিলেন। কারণ শব্দের দিকে প্রথম তিনিই দৌড়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি আবূ তালহাহ এর গদিবিহীন ঘোড়ায় চড়ে ছিলেন। তার কাঁধে তলোয়ার ছিল। তিনি বলছিলেন, তোমরা শঙ্কিত হয়ো না, তোমরা শঙ্কিত হয়ে না। তিনি আরো বললেনঃ আমি এ ঘোড়াকে পেয়েছি সমুদ্রের মতো। কিংবা বললেন, এ তো সমুদ্র। ইতোপূর্বে এ ঘোড়ার গতি ছিল ক্ষীণ।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় মদীনায় ভয়ের কারণ সৃষ্টি হয়েছিল। নবী (ﷺ) আবূ তালহাহ্ এর একটি ঘোড়া চেয়ে নিলেন। এটিকে 'মানদূব' বলা হত। তিনি তার উপর সওয়ার হলেন। অতঃপর বললেন, আমি ঘাবড়ানোর কোন কারণ দেখতে পাইনি। আর এ ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মতো পেয়েছি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... শুবাহ থেকে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। ইবন জাফারের হাদীসে আমাদের ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে, আবূ তালহাহ্ এর কথা বলা হয়নি। কাতাদাহ্ এর সূত্রে খালিদ বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আমি আনাস হতে শুনেছি।
মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম ও আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবন জাফার ইবন যিয়াদ ..... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষের মাঝে দানশীলতায় সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী ছিলেন। তবে রমযান মাসে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন। কারণ জিবরীল প্রতি বছর রমযান মাসে তার সাথে দেখা করতেন। রমযান শেষ হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সম্মুখে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। যখন জিবরীল তার সাথে দেখা করতেন তখন তিনি বিক্ষিপ্ত বাতাসের চাইতেও বেশি দানশীল হতেন।
আবূ কুরায়ব ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
সাঈদ ইবন মানসূর ও আবূ রাবী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দশ বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমত করেছি। আল্লাহর শপথ তিনি কখনো আমাকে 'উহ' শব্দও বলেননি এবং কোন সময় আমাকে 'এটা কেন করলে', 'ওটা কেন করনি তাও বলেননি। আবূ রাবী বর্ধিত বলেছেন, 'কোন বিষয় সম্পর্কে যা খাদিমের করা ঠিক নয়' এবং তার রিওয়ায়াতে আল্লাহর শপথের বর্ণনা নেই।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আহমাদ ইবন হাম্বাল ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় আসেন তখন আবূ তালহাহ্ হাতে ধরে আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আনাস অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলে, সে আপনার সেবা করবে। আনাস বলেন, আমি তার খিদমাত করেছি সফর ও ইকামাত অবস্থায়। আল্লাহর শপথ! আমি যে কোন কাজই করেছি, তিনি আমাকে বলেননি যে, কেন এমনটি করলে? আর যে কোন কাজই আমি করিনি, কেন তুমি এটি করনি, এ রকমও বলেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নয় বছর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেবা করেছি। আমার জানা নেই, তিনি কখনো আমায় বলেছেন, কেন তুমি এ কাজ করলে? এবং কোন ব্যাপারে আমাকে কক্ষনো দোষারোপও করেননি।
আবূ মান রাক্কাশী .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। একদা তিনি আমাকে একটি কাজে যাওয়ার আদেশ করলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ আমি যাব না; কিন্তু আমার মনে এ বিশ্বাস ছিল, যে কাজে আমাকে নবী (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন আমি সে কাজে যাব। অতঃপর আমি বের হয়ে ছেলেদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা বাজারে খেলাধূলায় লিপ্ত ছিল। হঠাৎ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) পশ্চাৎদকে এসে আমার ঘাড় ধরলেন। আনাস বলেন, আমি তার প্রতি দৃষ্টি দিলাম তখন তিনি হাসছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, হে উনায়স! তুমি কি সেখানে গিয়েছিলে যেখানে তোমাকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যা! হে আল্লাহর রসূল! অবশ্যই আমি যাচ্ছি।
আনাস বলেন, আল্লাহর শপথ আমি নয় বছর তার সেবায় ছিলাম, কিন্তু আমার জানা নেই, কোন কাজ আমি করেছি সে ব্যাপারে বলেননি এরূপ কেন করলে কিংবা কোন কাজ করিনি, সে ব্যাপারে বলেননি, কেন অমুক অমুক কাজ করলে না?
শাইবান ইবন ফাররূখ ও আবূ রাবী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সমস্ত লোকের মাঝে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আমর আন নাকিদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কেউ কিছু কামনা করলে কোন দিন তিনি 'না' বলেননি।
আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদিরের সানাদে জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
আসিম ইবন নায্র তাইমী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তা দিয়ে দিতেন। আনাস বলেন, জনৈক লোক নবী (ﷺ) এর নিকট আসলো। তিনি তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দু' উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর সে লোক তার গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবুল কর। কারণ মুহাম্মাদ (ﷺ) অভাবের আশঙ্কা না করে দান করতেই থাকেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে দু' পাহাড়ের মাঝামাঝি ছাগলগুলো চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে লোক তার গোত্রের নিকট প্রত্যাবর্তন শেষে বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবুল কর। আল্লাহর শপথ মুহাম্মাদ (ﷺ) অভাবের আশঙ্কা না করে দান করেন। আনাস বলেন, যদিও মানুষ শুধু ইহকালের উদ্দেশেই ইসলাম গ্রহণ করে তবুও ইসলাম গ্রহণ করতে না করতেই ইসলাম তার কাছে পৃথিবী এবং পৃথিবীর সকল প্রাচুর্যের চাইতে অধিকতর প্রিয় হয়ে যায়।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ্ .... ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাহ্ বিজয়ের যুদ্ধ করেন। এরপর তার সাথে যে সব মুসলিম ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বের হন। আর তারা সবাই হুনায়নের যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে মহান আল্লাহ তাআলা তার দীনের এবং মুসলিমদের সাহায্য করেন। সেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফওয়ান ইবন উমাইয়াহকে একশ উট দান করেন। এরপর একশ উট, পুনরায় আরও একশ উট প্রদান করেন। ইবন শিহাব বলেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব আমাকে বলেছেন যে, সাফওয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দান করলেন এবং এমন পরিমাণে আমাকে দান করলেন যে, তিনি আমার কাছে সবচেয়ে নিম্নপ্রকৃতির লোক ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে অবিরাম দান করতে থাকলেন এমনকি আমার নিকটে সবচেয়ে পছন্দের লোক হয়ে গেলেন।
আমর আন্ নাকিদ, ইসহাক ও ইবন আবূ উমর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমাদের নিকট যদি বাহরাইন হতে মাল আসে তাহলে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব এবং তিনি উভয় হাত একত্র করলেন। এরপর বাহরাইন থেকে মাল আসার আগেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) পরলোক গমন করেন। তারপর আবূ বকর এর কাছে বাহরাইন হতে মাল আসে। তিনি একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, নবী (ﷺ) এর উপর যার কিছু ওয়াদা অথবা ঋণ রয়েছে সে যেন (আমার) নিকট আসে। তখন আমি দাড়িয়ে বললাম, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন যে, বাহরাইন থেকে যদি আমাদের কাছে মাল আসে তবে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব। এ কথা শুনে আবূ বকর এক অঞ্জলি উঠালেন এবং বললেন, গুনে দেখো। আমি তা গুনে দেখলাম তাতে পাচশ' আছে। অতঃপর তিনি বললেন, এর চেয়ে আরো দ্বিগুণ তুমি নিয়ে নাও।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমুন .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) ইন্তিকাল করলেন এবং আবূ বকর এর নিকট আলা ইবন হাযরামীর তরফ হতে মাল আসলো। তখন আবূ বকর ঘোষণা দিলেন, যার জন্য রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর ঋণ রয়েছে কিংবা তার তরফ হতে কোন ওয়া'দা রয়েছে, সে যেন আমার কাছে চলে আসে। অবশিষ্টাংশ হাদীস ইবন উয়াইনার অবিকল।
হাদ্দাব ইবন খালিদ ও শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাত্রে আমার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, আমি তার নাম আমার পিতা ইব্রাহীম এর নামে রাখি। এরপর তিনি উম্মু সায়ফ নামক একজন মহিলাকে ঐ সন্তানটি দিলেন। তিনি একজন কর্মকারের সহধর্মিণী। কর্মকারের নাম আবূ সায়ফ। নবী (ﷺ) একদিন আবূ সায়ফ এর নিকট যাচ্ছিলেন আর আমিও তার সঙ্গে যাচ্ছিলাম। যখন আমরা আবূ সায়ফের গৃহে উপস্থিত হই তখন সে তার হাপর বা ফুকনীতে ফুক দিচ্ছিল, সারা গৃহ ধুয়ায় ভরপুর ছিল। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগে দৌড়ে গিয়ে আবূ সায়ফকে বললাম, তুমি একটু থামো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসছেন। সে থামলো। এরপর নবী (ﷺ) ছেলেকে ডাকলেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন এবং যা আল্লাহর ইচ্ছা রয়েছে তা বললেন। আনাস বলেন, আমি এ ছেলেকে দেখলাম, সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে বড় বড় শ্বাস ফেলছিল। তা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু' নয়ন অশ্রু ভিজে গেল। আর তিনি বললেনঃ চোখ কাঁদছে, মন কাতর হচ্ছে, মুখে আমরা তাই বলব রব্বুল আলামীন যা পছন্দ করেন। হে ইবরাহীম! আল্লাহর শপথ! আমরা তোমার জন্য খুবই ব্যথিত।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাইতে শিশুদের প্রতি বেশী দয়াশীল আর কাউকে আমি দেখিনি। তিনি বলেন, (রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ছেলে) ইবরাহীম মদীনার গ্রামাঞ্চলে দুধ পান করতেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখার জন্য সেখানে যেতেন আর আমরাও তার সাথে যেতাম। তিনি দাইয়ের গৃহে ঢুকতেন, আর সেখানে ধুয়ায় আচ্ছন্ন থাকত। কেননা, তার দুধপিতা কর্মকার (কামার) ছিল। তিনি ছেলেকে কোলে তুলে চুমু খেতেন। পরে তিনি প্রত্যাবর্তন করতেন। আমর ইবন সাঈদ বলেন, যখন ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন ইবরাহীম আমার পুত্র, দুধ পান করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। তার জন্য দুধপিতা ও দুধমাতা রয়েছে, যারা জান্নাতে তাকে দুধ পান করার সময়-সীমা পর্যন্ত দুধ পান করাবে। আনাস বলেন, আমি এ ছেলেকে দেখলাম, সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে বড় বড় শ্বাস ফেলছিল। তা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু' নয়ন অশ্রু ভিজে গেল। আর তিনি বললেনঃ চোখ কাঁদছে, মন কাতর হচ্ছে, মুখে আমরা তাই বলব রববুল আলামীন যা পছন্দ করেন। হে ইবরাহীম! আল্লাহর শপথ! আমরা তোমার জন্য খুবই ব্যথিত।
আবূ বকর ইবন শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেয়ো আরবীয় লোক আসলো। তারা প্রশ্ন করল, আপনারা কি আপনাদের বাচ্চাদের চুমু দেন? উপস্থিত সবাই বললেন, হ্যা। তখন তারা বললেন, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমরা তো তাদের চুমু দেই না। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি কি করবো, আল্লাহ যদি তোমাদের হতে দয়া দূর করে নিয়ে থাকেন। ইবন নুমায়রের বর্ণনাতে আছে, তোমার অন্তর হতে .....।
আমর আন্ নাকিদ ও ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকরা ইবন হাবিস রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলেন যে, তিনি হাসান কে চুমু দিচ্ছেন। তখন আকরা ইবন হাবিস বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার দশটি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের কাউকে চুমু দেইনি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যারা দয়া করে না (আল্লাহ কর্তৃক) তাদের প্রতি দয়া করা হবে না।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না (কিয়ামতের দিন) আল্লাহও তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জারীর হতে আমাশের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্দানশীল কুমারী মহিলার চাইতেও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। আর যখন তিনি কোন জিনিসকে অপছন্দ করতেন আমরা তার মুখায়ব হতে তা বুঝতে পারতাম।
যুহায়র ইবন হারব .... মাসরুক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন আমর এর নিকট গিয়েছিলাম যখন মুআবিয়াহ্ কুফায় এসেছিলেন। মুআবিয়াহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্বন্ধে বর্ণনা দিয়ে বললেন, তিনি অশ্লীল ছিলেন না এবং অশ্লীল কথা বলতেন না। মুআবিয়াহ্ আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে উত্তম সে লোক যার চরিত্র উত্তম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আমাশ হতে একই সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সিমাক ইবন হারব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরাহ্ কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বসতেন? তিনি বললেন, হ্যা অনেকবার। তিনি ফজরের নামাজ যেখানে আদায় করতেন সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সেখান হতে উঠতেন না। এরপর যখন সূর্যোদয় হতো তখন তিনি উঠে দাড়াতেন। লোকেরা কথাবার্তা বলতো, জাহিলী যুগের ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতো এবং হাসতো আর রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও মুচকি হাসতেন।
আবূ রাবী আতাকী, হামিদ ইবন উমার, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ কামিল .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন, তখন আনজাশাহ নামক একজন হাবশী ক্রীতদাস গীত গাইছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আন্জাশাহ! ধীরে চলো এবং উটগুলোকে কাচপাত্রবাহী উটের মতো (সতর্কতার সাথে) ধাবিত করো।
আবূ রাবী আতাকী, হামিদ ইবন উমার, আবূ কামিল ও হাম্মাদ .... আনাস এর সানাদে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীদের নিকট আসলেন। আনজাশাহ্ নামধারী একজন উট চালক তাদের উটকে ধাওয়া করছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি বিনাশ হও, ওহে আনজাশাহ! কাচপাত্র নিয়ে আস্তে চলো। আবূ কিলাবাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন কথা বলেছেন যা তোমাদের কেউ বললে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হতো।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীদের সাথে ছিলেন এবং একজন উট চালক তাদের উট হাকাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনজাশাহ! কাচপাত্র নিয়ে আস্তে চলো।
ইবন মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন সুমধুর কণ্ঠের গায়ক ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ ওহে আন্জাশাহ! আস্তে চলো, কাঁচপাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেলো না দুর্বল নারীদের (কষ্ট দিও না)।
ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে 'সুললিত কষ্ঠের গায়ক' উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
মুজাহিদ ইবন মূসা, আবূ বকর ইবন নাযর ইবন আবূ নাযর এবং হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ভোরের নামাজ আদায় করতেন তখন মদীনার খাদিমরা তাদের পাত্রে করে পানি নিয়ে আসত আর তার নিকট কোন পাত্র আনা হলেই তিনি তাতে হাত ডুবিয়ে দিতেন। আর শীতের ঠাণ্ডা সকালেও মাঝে মাঝে তিনি হাত ডুবিয়ে দিতেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি নাপিত রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল ছাটছে আর সাহাবীরা তার চতুস্পার্শ ঘিরে রেখেছেন। তারা চাইতেন যে, কোন চুল যেন মাটিতে না পড়ে তা যেন কারো না কারো হাতে পড়ে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, এক মহিলার বিবেকে (জ্ঞানে) কিছু বিকৃতি ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সঙ্গে আমার একটা দরকার আছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে অমুকের মা! তোমার ইচ্ছামত কোন রাস্তায় তুমি অপেক্ষা কর যাতে করে আমি তোমার প্রয়োজন পুরো করতে পারি। তারপর তিনি কোন একটা জনপথে তার সাথে জনমানবশূন্য এলাকায় আলাপ করেন এবং মহিলাটি প্রয়োজনমুক্ত হয়।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) সহধর্মিণী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দু'টো বিষয়ের কোন একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত তখন তিনি সহজটি সাদরে গ্রহণ করতেন, যদি না তা দোষের হত। আর যদি তা দূষণীয় হতো তবে তা হতে তিনি সবার চেয়ে দূরে থাকতেন। নিজের জন্য তিনি কোন দিন প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না, তবে আল্লাহর মর্যাদা হানি হলে (প্রতিশোধ নিতেন)।
যুহায়র ইবন হারব, আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ্ .... আয়িশাহ উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া উপরোল্লিখিত একাধিক সূত্রের বর্ণনাকারীগণ এ সূত্রে মালিকের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে এমন দু'টো বিষয়ের স্বাধীনতা দেয়া হত যার একটি অপরটির তুলনায় সহজ তখন তিনি সহজটিকেই গ্রহণ করতেন, যদি সেটি দোষের না হত। আর দূষণীয় হলে তিনি তা হতে সর্বাধিক দূরে থাকতেন।
আবূ কুরায়ব ও ইবন নুমায়র .... হিশাম এর সানাদে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণিত দু'টোর মাঝে সহজটি পর্যন্ত উল্লেখ করেন এবং তিনি পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্বহস্তে কোন দিন কাউকে আঘাত করেননি, কোন নারীকেও না, খাদিমকেও না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ব্যতীত। আর যে তার অনিষ্ট করেছে তার থেকে প্রতিশোধও নেননি। তবে আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন বিষয়ে তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব একই সূত্রে হিশাম হতে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তাদের একে অন্য হতে কিছু বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন।
আমর ইবন হাম্মাদ ইবন তালহাহ কান্নাদ .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুহরের নামাজ আদায় করলাম। এরপর তিনি তার বাড়ীর উদ্দেশে বের হলেন, আমিও তার সাথে বের হলাম। সম্মুখে কয়েকটি শিশু আসলো। তিনি একজন একজন করে এদের সবার গালে হাত স্পর্শ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমার গালেও হাত বুলালেন। আমি তার হাতে এমন ঠাণ্ড পরশ ও সুগন্ধি পেয়েছি (মনে হলো) যেন তিনি খুশবুওয়ালার পাত্র হতে হাত বের করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (দেহের) চেয়ে অধিক সুগন্ধময় কোন আম্বার, মিশক বা ভিন্ন কোন বস্তুর ঘ্রান আমি গ্রহণ করিনি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (দেহের) চাইতে কোমল রেশম বা নরম বস্ত্র আমি ছুয়ে দেখিনি।
আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখ্র দারিমী ... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন শুভ্র উজ্জ্বল বর্ণের। তার ঘাম যেন মুক্তার মতো। তিনি চলার সময় সম্মুখ পানে ঝুকে চলতেন। আমি নরম কাপড় বা রেশমকেও তার হাতের তালুর মতো নরম পাইনি এবং মিশক ও আম্বারের মাঝেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শরীরের চেয়ে অধিক সুগন্ধ পাইনি।
যুহায়র ইবন হারব ..... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের গৃহে আসলেন এবং আরাম করলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলেন, আর আমার মা একটি ছোট বোতল নিয়ে মুছে তাতে ভরতে লাগলেন। নবী (ﷺ) জাগ্রত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, হে উম্মু সুলায়ম! একি করছ? আমার মা বললেন, এ হচ্ছে আপনার ঘাম, যা আমরা সুগন্ধির সঙ্গে মেশাই, আর এ তো সব সুগন্ধির সেরা সুগন্ধি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উম্মু সুলায়মের গৃহে যেতেন এবং তার বিছানায় আরাম করতেন আর উম্মু সুলায়ম তখন গৃহে থাকত না। আনাস বলেন, একদিন তিনি এলেন এবং তার বিছানায় ঘুমালেন। উম্মু সুলায়মকে বলা হলো, ইনি নবী (ﷺ) তোমার গৃহে, তোমার বিছানায় ঘুমিয়ে গেছেন। আনাস বলেন, উম্মু সুলায়ম গৃহে প্রবেশ করলেন, নবী (ﷺ) তখন ঘর্মাক্ত হয়েছেন, আর তার ঘাম চামড়ার বিছানার উপর জমে গেছে, উম্মু সুলায়ম তার কৌটা খুললেন এবং সে ঘাম মুছে মুছে ছোট একটি বোতলে ভরতে লাগলেন। নবী (ﷺ) হঠাৎ উঠে গেলেন এবং বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তুমি কি করছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের শিশুদের জন্য তার বারাকাত নিচ্ছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ভাল করেছ।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... উম্মু সুলায়ম হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার নিকট আসতেন এবং বিশ্রাম নিতেন, উম্মু সুলায়ম তার জন্য একটা চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিলে তিনি তার উপর কায়লুলা করতেন। তিনি প্রচণ্ড ঘামতেন আর উম্মু সুলায়ম তা একত্র করতেন এবং সুগন্ধির বোতলে তা মিশিয়ে রাখতেন। নবী (ﷺ) বলেন, হে উম্মু সুলায়ম! এ কী করছ? তিনি বললেন, আপনার ঘাম, আমি সেটা সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে রাখি।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শীতের দিনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হত আর তার কপাল বেয়ে ঘাম পড়তো।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, হারিস ইবন হিশাম নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট ওয়াহী নাযিল হয় কীভাবে? তিনি বললেনঃ কখনো তা আসে ঘণ্টার ধ্বনির মতো শব্দ করে আর তা আমার জন্য অনেক কষ্টকর হয়। এরপর ওয়াহী থেমে যায়, আর আমি মুখস্থ করে নেই। আবার কখনো (ওয়াহী নিয়ে) পুরুষের ছদ্মবেশে একজন ফেরেশতা আসেন এবং তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... উবাদাহ্ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর উপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তার খুব কষ্ট হত এবং তার মুখায়ব কেমন যেন শুকিয়ে যেত।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... উবাদাহ্ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর উপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তিনি শীর নত করে ফেলতেন এবং তার সাহাবীরাও শীর নত করতেন। অতঃপর যখন ওয়াহী নাযিল শেষ হয়ে আসত তিনি তার মাথা উঠাতেন।
মানসূর ইবন আবূ মুযাহিম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাবরা তাদের চুল কপালের সামনে ঝুলিয়ে রাখতো এবং মুশরিকরা সিথি কাটতো। যে বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি কোন নির্দেশ আসতো না, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের মতো পালন করা পছন্দ করতেন। তাই তিনি তার চুল কপালে (প্রথমে) বুলিয়ে রাখেন এবং পরবর্তী সময় সিথি কাটতে থাকেন।
আবূ তাহির ইবন শিহাব এর সূত্রে এ সানাদে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন মাঝারি আকৃতির পুরুষ। তার দুই কাঁধের ব্যবধান ছিল অধিক (তার কাঁধ ও বক্ষ প্রশস্ত ছিল)। চুল ছিল কানের লতিকা পর্যন্ত লম্বিত। তার গায়ে লাল পোশাক পড়া ছিল। তার চাইতে অতি সুন্দর কোন কিছু আমি কক্ষনো প্রত্যক্ষ করিনি।
আমর আন্ নাকিদ ও আবূ কুরায়ব .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চুলওয়ালা, লাল পোশাক পরিহিত কোন লোককে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেয়ে সুন্দর দেখিনি। তার চুল কাঁধ স্পর্শ করতো। উভয় কাঁধের মধ্যে বেশ দূরত্ব ছিল। তিনি লম্বাও ছিলেন না, বেটেও ছিলেন না। আবূ কুরায়ব বলেন, 'তার চুল ছিল'।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সবচেয়ে সুন্দর মুখায়বের অধিকারী ছিলেন। আর তিনি সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি খুব লম্বাও ছিলেন না এবং বেটেও ছিলেন না।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কেমন চুলের অধিকারী ছিল? তিনি বললেন, তিনি মধ্যম ধরনের চুলের অধিকারী ছিলেন, চুলগুলো একেবারে কোকড়ানোও ছিল না আর একেবারে সোজাও ছিল না, তা ছিল দু'কাঁধ এবং দু'কানের মাঝ বরাবর।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস এর সানাদে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল তার দু'কাঁধ স্পর্শ করত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল তার দু' কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশস্ত চেহারার অধিকারী ছিলেন, টানাটানা নয়ন এবং সুষম গোড়ালি বিশিষ্ট আকৃতির অধিকারী ছিলেন। রাবী শুবাহ্ কে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশস্ত চেহারা কেমন? তিনি বললেন, বড় মুখায়ব। শুবাহ বলেন, আমি বললাম, টানা চোখ কেমন? তিনি বললেন, চোখ দু'টো দীঘল দীর্ঘ ডাগর। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, সুষম গোড়ালি কেমন? তিনি বললেন, হাল্কা গোড়ালি।
সাঈদ ইবন মানসূর .... জুরাইরী সূত্রে আবূ তুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি (জুরাইরী) বলেন, আমি তাকে (আবূ তুফায়লকে) প্রশ্ন করলাম যে, আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রত্যক্ষ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা! তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময়, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। মুসলিম ইবন হাজ্জাজ বলেন, একশ হিজরীতে আবূ তুফায়ল মৃত্যুবরণ করেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের মাঝে সর্বশেষে তিনিই ইন্তিকাল করেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার কাওয়ারীরী .... আবূ তুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছেন আমি ব্যতীত এমন কেউ পৃথিবীতে আর বাকী নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তাকে কেমন দেখেছেন? তিনি বললেন, ফর্সা, লাবণ্যময় এবং মধ্যমাকৃতির।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র ও আমর আন নাকিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস কে জিজ্ঞেস করা হলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি খিযাব (কলপ) লাগাতেন? তিনি বললেনঃ এতটুকু বার্ধক্য তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু ইবন ইদরীস বলেন, তিনি যেন সামান্য করছিলেন। তবে আবূ বকর ও উমার মেহেদী এবং কাতাম দ্বারা কলপ লাগিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন বুকায়ল .... ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি খিযাব লাগিয়েছিলেন? উত্তরে আনাস বললেন, তিনি (ﷺ) খিযাব লাগানোর বয়সে পৌছেননি। এরপর তিনি বললেন, তার (ﷺ)-এর দাড়িতে কিছু সাদা লোম ছিল মাত্র। ইবন সীরীন বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবূ বকর লাগাতেন কি? তিনি বললেন, হ্যা। মেহেদী ও কাতাম দ্বারা খিযাব লাগাতেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর বর্ণনা করেন যে, ইবন সীরীন আনাস ইবন মালিক কে জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কলপ দিতেন? তিনি বললেন, তার মধ্যে কিছু মাত্র বার্ধক্য দেখা দিয়েছিল।
আবূ রাবী আতাকী রিওয়ায়াত করেন যে, আনাস ইবন মালিক কে নবী (ﷺ) এর কলপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, আমি যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে তার মাথার শুভ্র চুল গুনে ফেলতে পারতাম। তিনি বলেন, তিনি কলপ দেননি। তবে আবূ বকর মেহেদী এবং কাতাম (ঘাস জাতীয় এক ধরনের উদ্ভিদ) দ্বারা কলপ মেখেছেন এবং উমার কেবল মেহেদী দ্বারা কলপ লাগিয়েছেন।
নাসর ইবন আলী জাহযামী ... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো চুল ও দাড়ির সাদা চুল উঠিয়ে ফেলা মাকরূহ এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) কক্ষনো কলপ দেননি। কিছু সাদা তার অধরের নীচের ছোট দাড়িতে ছিল, তার কানপট্টিতে কিছু আর মাথায় কিছু ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না এ সূত্রেই হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, আহমাদ ইবন ইবরাহীম দাওরাকী ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ এরা সবাই রিওয়ায়াত করেন যে, নবী (ﷺ) এর বার্ধক্যের ব্যাপারে আনাস কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে বার্ধক্য দিয়ে সৌন্দর্যহীন করেননি।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .....আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এতটুকু সাদা হতে দেখেছি। আর যুহায়র এ কথা বলার সময় তার কতক অঙ্গুলি ছোট দাড়ির উপর রাখলেন। পরে লোকেরা আবূ জুহাইফাহকে বলল, আপনি তখন কেমন বয়সের ছিলেন? তিনি বললেন, আমি তীর তৈরি করা ও তাতে পাখা লাগানোর বয়সে উপনীত হয়েছি।
ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ জুহাইফাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি, তার রং ছিল শুভ্র, তিনি প্রায় বার্ধক্যেই উপনীত হয়েছিলেন, হাসান ইবন আলী দেখতে তার মতোই ছিল।
সাঈদ ইবন মানসূর ও ইবন নুমায়র .... আবূ জুহাইফাহ্ হতে এ হাদীসটিই রিওয়ায়াত করেছেন; তবে এর বর্ণনাকারীরা "ফর্সা এবং প্রায় বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন" এ কথাগুলো বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... সিমাক ইবন হারব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরাহ হতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর বার্ধক্যের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, যখন তিনি মাথায় তেল মাখতেন তখন সাদা বর্ণ দেখা যেত না। কিন্তু যখন তেল মাখতেন না তখন দেখা যেত।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা চুল) তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হত তখন (সাদা) দেখা যেত। তার দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলল, তার চেহারা ছিল তরবারির ন্যায়। জাবির বললেন, না, তার চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় (উজ্জ্বল) গোলাকার। আমি তার পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিম সদৃশ নুবুওয়াতের মোহর দেখেছি। এটির রং ছিল তার গায়ের রংয়ের মতো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিঠে মোহরে নুবুওয়াত দেখেছি- যেন তা দেখতে কবুতরের ডিমের ন্যায়।
ইবন নুমায়র .... সিমাক হতে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ .... সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি আমার বোনের পুত্র। সে রোগগ্রস্তু। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দোয়া করলেন। তারপর তিনি ওযু করলেন। আমি তার ওযুর পানি হতে পান করলাম। অতঃপর তার পশ্চাতে দাড়ালাম এবং তার দু'কাঁধের মাঝে মোহরে নুবুওয়াত প্রত্যক্ষ করলাম হজালার ডিমের ন্যায়।
আবূ কামিল সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও হামিদ ইবন উমার আল-বাকরাভী .... আবদুল্লাহ ইবন সারজিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি এবং তার সাথে গোশত ও রুটি খেয়েছি কিংবা বলেছেন, সারদ খেয়েছি। তিনি বলেন যে, আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি বললেন, হ্যা তোমার জন্যও। অতঃপর এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, "তোমার পাপের জন্য মার্জনা চাও এবং ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের জন্য"- (মুহাম্মদ ৪৭ঃ ১৯)। আবদুল্লাহ বলেন, এরপর আমি ঘুরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে গেলাম। আর মোহরে নুবুওয়াত দেখলাম, যা দু'কাঁধের মধ্যবর্তী বাম দিকের বাহুর হাড়ের নিকট অঙ্গুলির ন্যায়, যাতে তিলক ছিল।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেশি খাটোও ছিলেন না। আবার একেবারে সাদাও ছিলেন না এবং অতিরঞ্জিত সাদা কালো মিশ্রিতও ছিলেন না। তার চুল বেশি কোঁকড়ানোও ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাআলা তাকে নুবুওয়াত দান করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন এবং মদীনায় দশ বছর। ষাট বছরের মাথায় আল্লাহ তাআলা তাকে ওফাত দান করেন। এ সময় তার মাথায় ও দাড়িতে বিশটি কেশও সাদা ছিল না।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ আলী ইবন হুজর ও কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আনাস ইবন মালিক হতে মালিক ইবন আনাস বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। তারা তাদের হাদীসে "উজ্জ্বল সাদা বর্ণের ছিলেন" বর্ধিত বলেছেন।
আবূ গাসসান আর রাযী ও মুহাম্মদ ইবন আমর .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হয়েছে তেষট্টি বছর বয়সে, আবূ বকর সিদ্দিক-এরও তেষট্টি বছর বয়সে, উমার-এরও তেষট্টি বছর বয়সে।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .. আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হলো, তখন তার বয়স তেষট্টি বছর হয়েছিল। ইবন শিহাব বলেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব-ও আমাকে অনুরূপ জানিয়েছেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও আব্বাদ ইবন মূসা .... ইবন শিহাব হতে দু'টো সূত্রের মাধ্যমে উকায়ল এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ মা'মার ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম হুযালী .... আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উরওয়াহকে প্রশ্ন করলাম, নবী (ﷺ) মক্কায় কতদিন ছিলেন তিনি বললেন, দশ বছর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইবন আব্বাস তো বলেন, তেরো বছর।
ইবন আবূ উমার ..... আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উরওয়াকে প্রশ্ন করলাম, নবী (ﷺ) মাকায় কত দিন অবস্থান করেছিলেন তিনি বললেন, দশ বছর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইবন আব্বাস তো বলেন, দশ বছরের বেশি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ইবন আব্বাসের জন্য দোয়া করে বললেন, তিনি এ তত্ত্ব কবিদের থেকে গ্রহণ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, মক্কায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তের বছর ছিলেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন।
ইবন আবূ উমার .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় তের বছর অবস্থান করেছিলেন, সে সময় তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হয় এবং মদীনায় দশ বছর ছিলেন। আর তার যখন ওফাত হয়, তখন তার বয়স ছিল তেষট্টি বছর।
আবদুল্লাহ ইবন উমার ইবন মুহাম্মদ ইবন আবান আল-জু'ফী ..... আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন মানুষেরা রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়স নিয়ে আলচনায় লিপ্ত হল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, আবূ বকর (বয়সে) রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর তুলনায় বড় ছিলেন। আবদুল্লাহ বললেন, যখন রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয় তখন তার বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। আর আবূ বকর এর যখন ওফাত হয়, তখন তার বয়সও তেষট্টি বছর হয়েছিল। আর উমার যখন শাহদাত বরণ করেন তখন তার বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। বর্ণনাকারী বলেন, লোকদের মাঝে আমর ইবন সা'দ নামধারী একজন বলল, জারীর আমাকে বলেছেন যে, আমরা মুআবিয়াহ এর নিকট বসা ছিলাম। মানুষেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়সের বর্ণনা করল। সে সময় মুআবিয়াহ বললেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয় তখন তার বয়স ছিল তেষট্টি বছর। আর যখন আবূ বকর ইস্তিকাল করেন তখন তার বয়স ছিল তেষট্টি বছর এবং যখন উমার শাহাদাতপ্রাপ্ত হন তখন তার বয়সও তেষট্টি বছর ছিল।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... জারীর হতে বর্ণিত যে, তিনি মুআবিয়াহ কে খুতবাহ দিতে শুনেছেন। মুআবিয়াহ্ বললেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হয়, তখন তার বয়স ছিল তেষট্টি বছর। আবূ বকর উমার-ও তেষট্টি বছর (বয়সে ইন্তিকাল করেন) এবং আমি তেষট্টি বছর (বয়সের)।
ইবন মিনহাল যারীর ..... বানু হাশিমের মুক্তদাস আম্মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন ওফাত হয় তখন তার (বয়স) কত ছিল? ইবন আব্বাস বললেন, আমি চিন্তা করিনি যে, তুমি তার গোত্রের ব্যক্তি হয়েও এ কথাটা অজানা রইবে। আমি বললাম, আমি লোকদের প্রশ্ন করেছি, তারা ভিন্ন মতাবলম্বন করেছেন। তাই এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানা আমি বেশি ভাল মনে করলাম। ইবন আব্বাস বললেন, তুমি কি হিসাব করতে জানো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, আচ্ছা চল্লিশ স্মরণ রেখ। এ সময় তিনি রসূল হন। এর সাথে পনের বছর যোগ করো, মক্কায় যখন অবস্থান করেন ভয় এবং নিরাপত্তায়। আরো দশ হিজরতের পর হতে মদীনায়।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইউনুস হতে উপরোক্ত সূত্রে ইয়াযীদ ইবন যুরাই এর হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
নাসর ইবন আলী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পঁয়ষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ এ সূত্রে খালিদ হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পনের বছর থাকেন, সাত বছর শব্দ শুনতেন এবং আলো দেখতে পেতেন, কিন্তু ভিন্ন কিছু দেখতেন না। আর আট বছর তার নিকট ওয়াহী আসত। অতঃপর মদীনায় দশ বছর থাকেন।
যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার ... জুবায়র ইবন মুত'ইম হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন। আমি মুহাম্মদ (প্রশংসিত), আমি আহমদ (অত্যধিক প্রশংসাকারী), আমি আল-মাহী' (বিলুপ্তকারী) এমন লোক যে, আমার মাধ্যমে কুফুরকে নিঃশেষ করা হবে। আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন ব্যক্তি যে, আমার পেছনে লোকেদের একত্রিত করা হৰে! আমি আল-আকিব (সর্বশেষ) আর আল-আকীব, ঐ লোক যার পর আর কোন নবী নেই।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ..... জুবায়র ইবন মুতাইম হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার বহু নাম রয়েছে। আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি আল-মাহী' (বিলোপ সাধনকারী) ঐ লোক যে, আমার মাধ্যমে আল্লাহ কুফুরকে নিঃশেষ করবেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন লোক যে, আমার পায়ের নিকট লোকেদের একত্রিত করা হবে। আমি আল-আকীব' (শেষ) এমন লোক যার পর কেউ (নবী) নেই এবং আল্লাহ তার নাম রেখেছেন রউফ ও রহীম।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, আবদ ইবন হুমায়দ ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... যুহরী হতে এ সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। শুআয়ব এবং মা'মার বর্ণিত হাদীসে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি তিনি বর্ণনা করেছেন। আর মা'মারের হাদীসে আছে, তিনি বলেন, আমি যুহরী কে প্রশ্ন করলাম, আল-আকিব কী? তিনি বললেন, এমন লোক যার পর আর নবী নেই। মা'মার ও উকায়ল এর হাদীসে রয়েছে আল-কাফারাতা', আর শুআয়ব এর হাদীসে আছে আল-কুফুর।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ... আবূ মুসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট তার নিজের নামগুলো রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ, আহমদ, আল-মুকাফ্ফী (সর্বশেষ), আল-হাশির (একত্রকারী), তাওবার নবী ও রহমতের নবী।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি কাজ রসূলুল্লাহ (ﷺ) করলেন এবং এটি জারি রাখলেন। এ খবর তার কিছু সাহাবার নিকট পৌছলে তারা এ কাজটি পছন্দ করলেন না এবং এ থেকে বিরত রইলেন। এ কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) জানতে পেরে দাড়িয়ে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেনঃ জনগণের কি হলো, তাদের নিকট এ খবর পৌছেছে যে, একটা কাজে, আমি সম্মতি দিয়েছি, তারপরও তারা একে নিকৃষ্ট মনে করছে এবং এ থেকে বিরত থাকছে। আল্লাহর শপথ আল্লাহ সম্পর্কে আমি বেশি জানি এবং আল্লাহকে তাদের তুলনায় অতধিক ভয় করি।
আবূ সাঈদ আশাজ্জ ইসহাক ইরনু ইবরাহীম ..... আমাশ হতে এ সূত্রে জারীর এর হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি কাজকে জায়িয করলেন, অন্য কিছু লোক তো খারাপ মনে করল। এ কথা নবী (ﷺ) এর নিকট পৌছলে তিনি রেগে গেলেন; এমনকি তার মুখায়বে রাগ প্রকাশ পেল। তখন তিনি বললেনঃ লোকদের কী হলো যে, আমার জন্য বৈধ একটা কাজে তারা আগ্রহ প্রকাশ করছে না। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই আল্লাহ সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক জানি এবং তাকে অধিক ভয় করি।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত যে, আনসারদের জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে যুবায়র এর সাথে পানি সেচের নালা নিয়ে বিতর্ক করল যা থেকে তারা খেজুর গাছে পানি দিত। আনসার ব্যক্তিটি বললেন, পানি ছেড়ে দাও, তা প্রবাহিত হতে থাকুক। যুবায়র তা মানলেন না। শেষ অবধি সকলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে তর্ক করলে তিনি যুবায়রকে বললেন, হে যুবায়র! তোমার পানি নেয়া হলে তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। সে সময় আনসার ব্যক্তিটি রাগাম্বিত স্বরে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! যুবায়র তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে নবী (ﷺ) এর চেহারার রং পাল্টে গেলো। তিনি বললেন, হে যুবায়রা নিজের বৃক্ষগুলোকে পানি দাও এবং পানি আটকিয়ে রাখো, যে পর্যন্ত না পানি বাধ পর্যন্ত পৌছে যায়। যুবায়র বলেন, আল্লাহর শপথ আমার ধারণা হয় এ আয়াত সে ব্যাপারেই নাযিল হয়ঃ "তোমার প্রতিপালকের কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুমিন হতে পারবে না ....." (আন নিসা ৪ঃ ৭৫)।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া তুজীবী .... আবদুর রহমান ও সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব হতে বর্ণিত। তারা দু'জনে বলেন, আবূ হুরাইরাহ বলতেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, আমি তোমাদের যা বারণ করেছি তা হতে বিরত থাকো এবং যা তোমাদের নির্দেশ করেছি তা যা সম্ভব পালন করো। কেননা, অধিক জিজ্ঞাসা ও স্বীয় নবীগণের সঙ্গে মতবিরোধ তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে।
মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... ইবন শিহাব হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তারা সবাই বলেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "আমি তোমাদের জন্য যা ছেড়ে দিয়েছি তোমরাও আমাকে সে বিষয়ে ছেড়ে দাও" (সে বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না)। হাম্মাম এর হাদীসে আছে, "যে বিষয়ে তোমাদের ছাড় দেয়া হয়েছে।" কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে, এরপর তারা আবূ হুরাইরাহ হতে যুহরী এবং আবূ সালামাহ্ এর হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমদের মাঝে সর্বাধিক দোষী ঐসব লোক, যে এমন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, যা মুসলিমদের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ ছিল না। আর তার জিজ্ঞেস করার কারণে সে ব্যাপারটি মুসলিমদের উপর হারাম করে দেয়া হয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমদের মধ্যে সর্বাধিক অপরাধী মুসলিম সে-ই, যে মুসলিমদের জন্য যা অবৈধ নয়, এমন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, আর সে ব্যাপারটি তার জিজ্ঞেস করার কারণে লোকদের উপর অবৈধ ঘোষণা দেয়া হয়।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ইউনুস থেকে এবং আবদ ইবন হুমায়দ মা'মার থেকে, উভয়ে উক্ত সানাদে যুহরী হতে রিওয়ায়াত করেন। তবে মা'মার এর হাদীসে যুহরীর রিওয়ায়াতে বর্ধিত আছে- "কোন লোক কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে এবং তৎসম্পর্কে অধিক জিজ্ঞেস করে"। ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত ইউনুসের হাদীসে আছে যে, যুহরী বলেছেন, তিনি আমির ইবন সাদ হতে শুনেছেন।
মাহমুদ ইবন গাইলান, মুহাম্মাদ ইবন কুদামাহ সুলামী এবং ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ লু'লুঈ ..... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার সাহাবীদের কোন কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছল। তখন তিনি এক বক্তৃতা দিলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম উপস্থিত করা হয়। আজকের মতো ভাল এবং মন্দ আমি আর কখনো দেখিনি। আমি যা জানতে পেরেছি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই খুবই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে। আনাস বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের উপর এর চাইতে বিভীষিকাময় কোন দিন আর আসেনি। তারা নিজেদের মাথা আবৃত করল এবং তাদের ভেতর হতে কান্নার আওয়াজ আসতে লাগল। আনাস বলেন, তারপর উমার দাড়িয়ে বললেন, আমরা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসেবে মেনে নিলাম। অতঃপর এক লোক দাড়িয়ে বলল, আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ "হে মুমিনগণ! তোমরা সেসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যা উন্মোচিত হলে তোমরা বেদনার্ত হবে" (মায়িদাহ ৫ঃ ১০১)।
মুহাম্মাদ ইবন মা'মার ইবন রিব'বঈ কায়সী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। আর তখনই নাযিল হয়ঃ হে মুমিনগণ! তোমরা সেসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না যা উন্মোচিত হলে তোমরা বেদনার্ত হবে".... আয়াতের শেষাংশ পর্যন্ত।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন হারমালাহ্ ইবন ইমরান তুজীবী ..... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর বের হলেন এবং লোকদের নিয়ে যুহরের নামাজ আদায় করলেন। যখন সালাম ফিরালেন তখন মিম্বারে দাড়িয়ে কিয়ামতের আলোচনা করে বর্ণনা করলেন যে, এর পূর্বে বহু বড় বড় বিষয় ঘটবে। তারপর বললেনঃ তোমাদের মাঝে যে লোক আমাকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে চায় সে যেন ঐ সম্বন্ধে আমাকে জিজ্ঞেস করে। আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি এ স্থানে রয়েছি ততক্ষণ তোমরা আমাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞেস করবে আমি তা বলে দিব। আনাস ইবন মালিক বলেন, এ কথা শুনে লোকেরা অনেক চিৎকার আরম্ভ করে দিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারবার বলতে থাকলেন, আমাকে জিজ্ঞেস করো। তখন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফাহ দাড়িয়ে বললেন, আমার পিতা কে? হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন; তোমার পিতা হুযাফাহ। তারপর যখন রসূল (ﷺ) বারবার বলতে থাকলেন, আমাকে জিজ্ঞেস করো। তখন উমার হাটু গেড়ে বসে বললেন, সন্তুষ্টচিত্তে আমরা আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে রসূল হিসেবে মেনে নিয়েছি। আনাস ইবন মালিক বলেন, যখন উমার এ কথা বললেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেমে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বিপদ সন্নিকটবর্তী। মুহাম্মাদের জীবন যার হাতে তার শপথ! এ দেয়ালটির পাশে এখনই আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। অতএব, আজকের মতো ভাল এবং খারাবী আমি আর দেখিনি। ইবন শিহাব বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন হুযাফার মা আবদুল্লাহ ইবন হুযাফাহকে বলেছেন, তোর চাইতে অধিক অবাধ্য কোন সন্তানের ব্যাপারে আমি শুনিনি। তুই কি এ কথা হতে নিশ্চিন্ত ছিলি যে, তোর মাও হয়ত এমন কোন পাপ করে বসেছে যা জাহিলী যুগের নারীরা করত, আর তুই তোর মাকে লোকদের সম্মুখে অপমান করতিস? আবদুল্লাহ ইবন হুযাফাহ জবাবে বললেন, আল্লাহর শপথ আমাকে যদি একটা কালো হাবশীর সঙ্গেও সম্পর্কিত করতেন তাহলে আমি তা মেনে নিতাম।
আবদ ইবন হুমায়দ ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। উবাইদুল্লাহর হাদীসটিও এর সাথে রয়েছে, তবে শুআয়ব যুহরীর সূত্রে তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি জনৈক আহলে ইলম থেকে শুনেছেন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফার মা ইউনুসের হাদীসের অনুরূপ বলেছেন।
ইউসুফ ইবন হাম্মাদ মানী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। এমনকি তারা তাকে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে ফেলল, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে মিম্বারে দাড়িয়ে বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন করো, যে কোন ব্যাপারে তোমরা আমাকে প্রশ্ন করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের নিকট তা বর্ণনা করে দিব। লোকেরা এ কথা শুনে তাকে জিজ্ঞেস করা হতে মুখ বন্ধ রাখল এবং ঘাবড়িয়ে গেল, না জানি সামনে কোন ঘটনা সামনে এসে পড়ে। আনাস বলেন, আমি ডানে বামে দেখতে লাগলাম। সকল লোক স্ব স্ব মাথা আবৃত করে কান্নাকাটি করছিল। তখন মসজিদ হতে জনৈক ব্যক্তি উঠল যার সাথে ঝগড়া লাগলে তার পিতা ছাড়া অন্যের দিকে তাকে সম্পর্কিত করা হতো। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! কে আমার পিতা? তিনি বললেন, তোমার পিতা হুযাফাহ। তারপর উমার দাড়িয়ে বললেন, (আমরা আন্তরিকতার সাথে) আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে রসূল হিসেবে মেনে নিলাম। আর আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি ফিতনার অকল্যাণ থেকে। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আজকের মতো ভাল এবং খারাপ আমি কক্ষনো দেখিনি। আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমি উভয়টিকে এ দেয়ালের পাশে দেখতে পাই।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আসিম ইবন নাযর তাইমী .... আনাস হতে এ বিবরণই রিওয়ায়াত করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবন আলী হামদানী .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে এমন কতক ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো যা তিনি অপছন্দ করেন। যখন এ রকম প্রশ্ন বারবার করা হলো, তিনি রাগাম্বিত হয়ে লোকদেরকে বললেনঃ যা ইচ্ছে তোমরা আমাকে প্রশ্ন করো। জনৈক লোক বলল, আমার পিতা কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা হুযাফাহ। আরেক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেন; তোমার পিতা শাইবার গোলাম সালিম। উমার যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডলে রাগের লক্ষণ দেখতে পেলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আল্লাহর নিকট তওবা করছি। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় (কেবল এটুকু) আছে, বলল, কে আমার পিতা, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, তোমার পিতা শাইবার দাস সালিম।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ সাকাকী ও আবূ কামিল জাহদারী .... তালহাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে খর্জুর (খেজুর) বৃক্ষের মাথায় দাড়ানো একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এরা কি করছে? মানুষেরা বলল, এরা খেজুর গাছের পরাগায়ণ করছে। নরকে মাদীর (কেশর) সংমিশ্রণ করে, ফলে তা গর্ভ ধারণ করে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার মনে হয় না এতে কোন লাভ হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ বক্তব্য সাহাবাদের নিকট পৌছলে তারা প্রজনন কর্ম থেকে বিরত থাকেন। তারপর এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেয়া হলো। তিনি বললেন, এতে যদি তাদের লাভ হয়ে থাকে তবে তারা করুক। আমি তো ধারণাপ্রসূত এ কথা বলেছি। তাই তোমরা আমার অনুমানকে ধরে রেখো না। কিন্তু আমি যদি আল্লাহর তরফ হতে কোন কথা বলি, তবে সেটার উপর আমল করো। কারণ আমি আল্লাহর উপর কখনই মিথ্যা অপবাদ দেই না।
আবদুল্লাহ ইবন রূমী ইয়ামামী, আব্বাস ইবন আবদুল আযম আম্বারী ও আহমাদ ইবন জাফার মাকিরী .... রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসলেন। সে সময় লোকেরা খেজুর বৃক্ষ তাবীর করত। বর্ণনাকারী বলেন, খেজুর বৃক্ষকে পরাগায়ন করাত। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি করছ? তারা বলল, আমরা তো এমন করে আসছি। তিনি বললেন, (আমার মনে হয়) তোমরা এমন না করলেই ভাল হয়। তাই তারা তা ছেড়ে দিল। আর এতে করে খেজুর ঝরে পড়ল কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার উৎপাদন হ্রাস পেল। বর্ণনাকারী বলেন, মানুষেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ ঘটনা ব্যক্ত করল। তখন তিনি বললেন, আমি তো একজন মানুষ মাত্র এতে কোন সন্দেহ নেই। দীনের ব্যাপারে যখন তোমাদের আমি কোন নির্দেশ দেই তোমরা তখন তা পালন করবে, আর যখন কোন কথা আমি আমার ধ্যান-ধারণা থেকে বলি, তখন (বুঝতে হবে) আমি একজন মানুষ মাত্র। বর্ণনাকারী ইকরামাহ্ বলেন, নবী (ﷺ) অনুরূপ বলেছেন। আর মা'কিরী নিঃসন্দেহে শুধু নাফাযাত' (ঝরে পড়ল) বলেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আমর আন্ নাকিদ .... আয়িশাহ্ হতে বিভিন্ন সানাদে আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যারা খেজুর বৃক্ষ তাবীর করত এদের কতক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এটি যদি না করতে তাহলে তোমাদের ভাল হতো। লোকেরা বিরত থাকল। এতে চিটা খেজুর উৎপন্ন হলো। তারপরে কোন এক সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের খেজুর বৃক্ষের কি হলো? ব্যক্তিরা বলল, আপনি এরূপ এরূপ বলেছিলেন (সেটি করায় এমন হয়েছে)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের দুনিয়াবী ব্যাপারে তোমরাই ভাল জানো।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের নিকট রিওয়ায়াত করেছেন, তার মাঝ হতে একটি হাদীস হলো এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তার শপথ! তোমাদের উপর এমন এক মুহূর্ত আসবে যখন তোমরা আমার সাক্ষাৎ পাবে না; আর আমার সাক্ষাৎ লাভ তোমাদের নিকট তখন তোমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও অধিক আকাঙ্ক্ষার বস্তু হবে। আবূ ইসহাক বলেন, হাদীসের শব্দের মধ্যে কিছু তাকদীম ও তাখীর হয়েছে। আমার মতে, হাদীসের অর্থ হল "আমাকে তাদের সাথে দেখতে পাওয়াটা তাদের নিকট তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চেয়ে অধিক প্রিয় হবে।"
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আমি মারইয়ামের পুত্রের সর্বাধিক কাছাকাছি। নবীগণ একে অপরের ভাইয়ের মতো এবং আমার ও তার মাঝে কোন নবী নেই।
আবূ বকর ইবন শাইবাহ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঈসা এর সর্বাধিক কাছাকাছি। নবীগণ একে অপরের (বৈমাত্রেয় ভাইয়ের) পিতৃসন্তানের মতো এবং আমার ও ঈসার মধ্যবর্তী সময়ে কোন নবী নেই।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে আমি ঈসা এর সর্বাধিক নিকটবর্তী। লোকেরা বলল, এটি কিভাবে হে আল্লাহর রসূল? তখন তিনি বললেনঃ নবীগণ একই পিতার সন্তানের মতো। তাদের মাতা ভিন্ন। তাদের দীন একটিই। আর তার এবং আমার মাঝে কোন নবীও নেই।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ হুরাইরা হতে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন এমন কোন নবভূমিষ্ঠ সন্তান নেই যাকে শয়তান স্পর্শ করে না। আর সে নবজাত সন্তান শয়তানের স্পর্শে কান্নাকাটি শুরু করে, কেবল মারইয়াম পুত্র এবং তার মা ব্যতীত। তারপর আবূ হুরাইরাহ বলেন, তোমাদের ইচ্ছে হলে পড়োঃ "অবশ্যই আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি"-(আ-লি ইমারান ৩ঃ ৩৬)।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... যুহরী হতে উপরোক্ত সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন, "জন্মের সময় সে তাকে স্পর্শ করে, তখন শয়তানের স্পর্শে সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।" শুআয়বের হাদীসে আছে "শয়তানের স্পর্শ"।
আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরা এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক বানী আদমকেই শয়তান স্পর্শ করে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করে, কেবল মারইয়াম ও তার পুত্র ঈসা এর ব্যতিক্রম।
শাইবান ইবন ফারুখ .... আবূ হুরাইয়াহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রাক্কালে বাচ্চার চিৎকার শয়তানের খোচার কারণে হয়।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মারইয়াম পুত্র ঈসা জনৈক লোককে চুরি করতে দেখলেন। সে সময় তিনি তাকে বললেন, তুমি চুরি করেছো। সে বলল, কক্ষনো না। যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মাবূদ নেই, তার কসম! (আমি চুরি করিনি)। তখন ঈসা বললেন, আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম আর আমি নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করলাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবা ও আলী ইবন হুজর সা'দী .. আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে সৃষ্টির সেরা! তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন। তিনি (সৃষ্টির সেরা) তো ইব্রাহীম।
আবূ কুরায়ব .... আনাস হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইব্রাহীম খৎনা করেছেন কুড়ালজাত অস্ত্র দ্বারা, সে সময় তার বয়স হয়েছিল আশি বছর।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমরা ইবরাহীম-এর চেয়ে সর্বাধিক সন্দেহপরায়ণ। যখন তিনি বলেছিলেনঃ হে আমার প্রতিপালক আপনি মৃতকে কিভাবে জীবিত করেন, আমাকে দেখান। তিনি বললেনঃ তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেনঃ কেন করব না, তবে তা শুধু আমার আত্মার প্রশান্তির জন্য। লুত কে আল্লাহ রহম করুন, তিনি মজবুত-কঠিন স্তম্ভের আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আমি যদি ইউসুফ-এর মত দীর্ঘ সময় জেলখানায় কারাবদ্ধ হতাম তবে আহবানকারীর ডাক শুনামাত্র সাড়া দিতাম।
ইনশা-আল্লা-হ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে ইউনুস তার সানাদে যুহরী হতে বর্ণিত হাদীসের মর্মে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ লুত কে মাফ করে দিন, তিনি শক্ত-কঠিন খুটির আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।
আবূ তাহির .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন নবী ইবরাহীম কক্ষনো মিথ্যা বলেননি; তিনবার ছাড়া। দু'বার আল্লাহ সম্পর্কিত। একবার তো তিনি বলেছিলেন, "আমি রোগগ্রস্ত", আর তার কথা, "বরং এদের বড়টাই এ কাজ করেছে"। অন্যটা সারা সম্বন্ধে। যে সময় তিনি এক যালিম শাসকের দেশে গিয়েছিলেন, সারাও তার সাথে ছিলেন। সারা ছিলেন সুন্দরীদের সেরা। সে সময় ইবরাহীম সারাকে বললেন, এ যালিম শাসক যদি অবহিত হন যে, তুমি আমার সহধর্মিণী তবে তোমাকে জোরপূর্বক নিয়ে নেবে। সুতরাং তোমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, তুমি বলবে যে, তুমি আমার বোন। ইসলামের দিক দিয়ে তুমি তো আমার বোনই হও। কারণ তুমি আর আমি ব্যতীত দুনিয়াতে আর কোন মুসলিম রয়েছে বলে আমার জানা নেই। যখন ইবরাহীম সে যালিম শাসকের দেশে পৌছলেন, তখন শাসকের লোকজন তার নিকট সারাকে দেখতে পেয়ে শাসকের নিকট এসে বলল, আপনার ভূমিতে এমন একজন নারী এসেছে, আপনিই কেবল তার উপযুক্ত। শাসক সারাকে ডেকে পাঠালে ইবরাহীম সালাতে দাড়িয়ে গেলেন। যখন সারা শাসকের নিকট পৌছলেন, সে বেহুশের মতো সারার দিকে হাত বাড়াতেই তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এটে গেল। শাসক বলল, তুমি আল্লাহর নিকট আমার হাত খুলে যাওয়ার দোয়া করো। আমি তোমাকে বিরক্ত করব না। তিনি দোয়া করলেন। আবার সে হাত বাড়াল, তখন প্রথম মুষ্টির চেয়ে অধিক শক্ত হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। সারাকে সে আগের মতই বলল। তিনি দোয়া করলেন। পুনরায় সে হাত বাড়াল। তখন প্রথম দু'বারের চেয়ে আরো বেশি শক্তভাবে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। তখন শাসক বলল, তুমি আল্লাহর কাছে আমার হাত খুলে দেয়ার জন্য দোয়া করো, আল্লাহর শপথ! তোমাকে আমি উত্যক্ত করব না। তিনি দোয়া করলেন। তার হাত খুলে গেল। তখন সে ঐ ব্যক্তিটিকে ডাকলো যে সারাকে এনেছিল। বলল, তুই তো আমার নিকট শয়তান নিয়ে এসেছিস, মানুষ আনিসনি। একে আমার ভূমি হতে বের করে দে। সঙ্গে হাজেরাকে দিয়ে দে। রাবী বলেন, সারা এগিয়ে চললেন। ইবরাহীম তাকে দেখে এগিয়ে আসলেন এবং তাকে প্রশ্ন করলেন, কি ঘটল? তিনি বললেন, ভালই। আল্লাহ তাআলা আমার উপর হতে এ দুস্কৃতির হাতকে ফিরিয়ে রেখেছেন। আর একটা সেবিকাও দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ বলেন, এ সেবিকাই তোমাদের মা, হে আকাশের পানির সন্তানেরা।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলরা বস্ত্রবিহীন অবস্থায় গোসল করত। তারা পরস্পরের গুপ্তাঙ্গ দেখত। আর মূসা একাকী গোসল করতেন। লোকেরা বলত, মূসা আমাদের সঙ্গে গোসল করে না। কেননা [মূসা এর] অণ্ডকোষে রোগ আছে। বর্ণনাকারী বলেন, একদা মূসা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল দিচ্ছিলেন। সে সময় পাথরটি তার বস্র নিয়ে ছুটতে লাগল। তখন মূসা "ও পাথর। আমার কাপড় দে", "হে পাথর। আমার কাপড় দে" বলে পাথরটির পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলেন, এতে বনী ইসরাঈল (প্রকাশ্যে) তার গুপ্তাঙ্গ দেখে ফেলল এবং বলল, আল্লাহর শপথ! মূসার তো কোন রোগ নেই। তারপর পাথরটি থেমে গেল, যখন ভালভাবে তা দৃষ্টিপাত হলো। মূসা কাপড় নিলেন এবং পাথরটিকে মারতে শুরু করলেন। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আল্লাহর কসম! এ পাথরটির গায়ে মূসা এর ছয় থেকে সাতটি মারের চিহ্ন রয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব হারিসী ..... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মূসা অতি লজ্জাশীল লোক ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে কেউ বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখেনি। বনী ইসরাঈলরা বলতেছিল, মূসার অণ্ডকোষ রোগগ্রস্ত। একদা তিনি পানিতে গোসল করতে গিয়ে কাপড়গুলো একটা পাথরের উপর রাখলেন। পাথরটি (কাপড়সহ) দৌড়ে পালাতে লাগলো। তিনি তার লাঠি হাতে পাথরটিকে মারতে মারতে এর পশ্চাতে ছুটলেন। বলতে লাগলেন, (হে পাথর) আমার কাপড়, হে পাথর! আমার কাপড়। পাথরটি বনী ইসরাঈলের এক জনসমাবেশে গিয়ে থামলো। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হলোঃ "হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের ন্যায় হয়ো না যারা মূসা কে অপবাদ দিয়েছে। তাদের দেয়া অপবাদ হতে আল্লাহ তাকে পবিত্র করে দিয়েছেন এবং তিনি আল্লাহর নিকট ছিলেন সম্মানিত"-(আল আহযাব ২৩ঃ ৬৯)।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি এবং আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা এর নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। যখন ফেরেশতা তার নিকট আসলেন তখন মূসা তাকে একটা চড় মারলেন। তাতে তার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেল। তারপর তিনি আল্লাহর নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতার দৃষ্টি পুনর্বহাল করে দিয়ে বললেন, পুনরায় তার কাছে যাও এবং তাকে বলে, সে যেন তার হাত একটি বলদের পৃষ্ঠের উপর রাখে। এতে যতগুলো লোম তার হাতের নীচে পড়বে প্রতিটি লোমের পরিবর্তে সে এক বছর হায়াত পাবে। মূসা বললেন, তারপর কি হবে? আল্লাহ বললেন, তারপর মরণ। মূসা বললেন, তাহলে এখনই। তিনি বললেন, হে আল্লাহ আমাকে পবিত্র ভূমির এক ঢিলের কাছাকাছি করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে পথের পাশে লাল বালির স্তুপের নিকট মুসা এর কবর দেখিয়ে দিতাম।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা মালাকুল মাওত মূসা এর নিকট এসে বলল, মূসা তোমার প্রতিপালকের নিকট চলো। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তার চোখের উপর মূসা তাকে একটা চপেটাঘাত করলেন, এতে তার চোখ নষ্ট হয়ে গেল। তারপর ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না এবং সে আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। আল্লাহ তার চোখ ঠিক করে দিলেন এবং বললেন, আমার বান্দার নিকট আবার যাও এবং বলো, তুমি কি আরও দীর্ঘায়ু চাও? যদি তা চাও তবে তোমার হাত একটি বলদের পৃষ্ঠের উপর রাখো। এতে তোমার হাতের নিচে যতগুলো পশম পড়বে, তত বছর তুমি জীবিত থাকবে। মূসা বললেন, তারপর কি? আল্লাহ বললেন, তারপর মৃত্যুবরণ করবে। মূসা বললেন, তবে এখনই ভাল। হে আল্লাহ আমাকে পবিত্র ভূমির একটি পাথরের টিলের দূরত্বে নিয়ে মৃত্যু দান করুন। রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন আল্লাহর কসম! যদি আমি সেখানে থাকতাম পাথরের কিনারে লাল বালুকা স্তুপের পাশে তার কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।
আবূ ইসহাক, মা'মার হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক ইয়াহুদী কিছু মাল বিক্রি করছিল, দাম দেয়া হলে সে তাতে মনোতুষ্ট হলো না, কিংবা এটাকে খারাপ মনে করল, সে বলল, না হবে না, তার কসম যিনি মূসা কে লোকদের জন্য মনোনীত করেছেন। এ কথা এক আনসারী শুনতে পেয়ে ইয়াহুদীর গালে একটি চড় মারলেন এবং বললেন, তুই বলিস, মূসা কে লোকদের মধ্য হতে মনোনীত করেছেন অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদ্যমান রয়েছেন। ঐ ইয়াহুদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আবূল কাসিম! আমি জিম্মি এবং মুসলিম দেশের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত মানুষ, আমাকে অমুক লোক চড় মেরেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্ন করলেন, কেন তুমি তার গালে চড় দিলে? আনসারী বললেন, সে বলেছে যিনি মানুষের মধ্যে মূসা কে মনোনীত করেছেন অথচ আপনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান। আবূ হুরাইরাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুব ক্রোধাম্বিত হলেন। রাগের চিহ্ন তার মুখমণ্ডলে ফুটে উঠল। আর বললেনঃ নবীদের মাঝে একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদা দিও না। কারণ যখন কিয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখন আসমান ও জমিনের সবাই বেহুশ হয়ে পড়বে, কেবল আল্লাহ যাদের চাইবেন তারা ব্যতীত। তারপরে দ্বিতীয়বার যখন ফুৎকার দেয়া হবে তখন সর্বপ্রথম আমিই উত্থিত হব এবং দেখতে পাব যে, মূসা আরশ ধরে রয়েছেন। আমার জানা নেই যে, তুর পাহাড়ে তার বেহুশ হওয়াটাই তার এখনকার বেহুশ না হওয়ার কারণ, না আমার আগেই তাকে চেতনা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে? আর আমি এ কথাও বলি না যে, কোন পয়গম্বর ইউনুস ইবন মাত্তা এর তুলনায় অনেক মর্যাদাবান।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবদুল আযীয ইবন আবূ সালামাহ হতে একই সূত্রে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব এবং আবূ বকর ইবন নায্র .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী ও এক মুসলিম পরস্পর গলাগলি করল। মুসলিম বলল, তার কসম! যিনি সারা দুনিয়ার মাঝে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নির্বাচিত করেছেন। ইয়াহুদী বলল, কসম তার যিনি মূসা কে নির্বাচিত করেছেন সারা দুনিয়ার মাঝে! বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় মুসলিম হাত তুলল এবং ইয়াহুদীর গালে চড় মারল। অতঃপর ইয়াহুদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেল এবং তার ও মুসলিমের ঘটনা বলল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসা এর উপর মর্যাদা দিও না। কেননা মানুষেরা যখন বেহুশ হবে। সর্বপ্রথম আমি হুশ ফিরে পাব, তখন দেখতে পাব যে, মূসা আরশের কিনারা ধরে রয়েছেন। জানি না, তিনি কি বেহুশ হয়ে আমার আগেই হুশ ফিরে পেয়েছেন, নাকি যারা বেহুশ হননি তিনি তাদের মাঝে রয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী এবং আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মুসলিম ও এক ইয়াহুদী পরস্পর গালাগালি করল তারপর ইবরাহীম ইবন সাঈদ ইবন শিহাব হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
আমর আন্ নাকিদ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল তার গালে চড় দেয়া হয়েছে- যুহরীর হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি শুধু এ কথাই বলেছেন যে, "জানি না তিনি কি অচেতন হয়ে আমার পূর্বেই হুশ ফিরে পেয়েছেন, না-কি তুরের অচেতনই তার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নবীদের মাঝে একের উপরে অন্যকে প্রাধান্য দিও না।
হাদ্দাব ইবন খালিদ এবং শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস ইবন মালিক হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে রাত্রে আমার মিরাজ হয়েছিল সে রাত্রে আমি মূসা এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। লাল বালুকা স্তুপের নিকট তার কবরে তিনি দাড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন।
আলী ইবন খাশরাম, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মূসা এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি তার কবরে নামাজ আদায় করছিলেন। ঈসার হাদীসে বর্ধিত আছে যে, "আমাকে যে রাত্রে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে রাত্রে আমি যাচ্ছিলাম।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন, আমার কোন বান্দার ক্ষেত্রেই এ কথা বলা ঠিক নয় যে, "ইউনুস ইবন মাত্তা হতে আমি উত্তম।"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... নবী (ﷺ) এর চাচাত ভাই ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বান্দার ক্ষেত্রেই এ কথা বলা ঠিক নয়, "আমি ইউনুস ইবন মাত্তা হতে উত্তম।" ইউনুস কে এখানে তার পিতা মাত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! মানুষের মাঝে সবচাইতে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেনঃ তাদের মাঝে সর্বোত্তম মুত্তাকী ব্যক্তি। প্রশ্নকারীরা বললেন, আমরা এ ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করছি না। তিনি বললেনঃ তবে ইউসুফ আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর নবীর সন্তান, যিনি আল্লাহর খলীলের পুত্র। তারা বলল, এ ব্যাপারেও আমরা আপনাকে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেনঃ তবে কি তোমরা আরবের বংশ-উৎস সম্বন্ধে প্রশ্ন করছ? জাহিলী যুগে যারা তাদের মাঝে উত্তম ছিল ইসলামের পরও তারাই উত্তম বলে গণ্য, তারা যদি দীনের ইলম অর্জন করে।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকারিয়্যা কাঠমিস্ত্রী ছিলেন।
আমর ইবন মুহাম্মাদ নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্যালী, উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার মাক্কী .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করলাম, নাওফ বিকালী বলেন যে, বনী ইসরাঈলের নবী মূসা খাযির এর সঙ্গী মূসা নন। ইবন আব্বাস বলেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যারোপ করেছে। আমি উবাই ইবন কা'ব হতে শুনেছি, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, মূসা বনী ইসরাঈলের মধ্যে বক্তৃতা দিতে দাড়ালেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন লোক সর্বাধিক জ্ঞানী? তিনি জবাব দিলেন, "আমি সর্বাধিক জ্ঞানী।" আল্লাহ তাআলা (এ উত্তরে) তার প্রতি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করলেন। কেননা, মূসা জ্ঞানকে আল্লাহর প্রতি ন্যস্ত করেননি। তারপর আল্লাহ তার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করলেন যে, দু'সাগরের মধ্যস্থলে আমার বান্দাদের মাঝে এক বান্দা আছে, যে তোমার তুলনায় বেশি জ্ঞানী। মূসা জিজ্ঞেস করলেন, হে প্রতিপালক! আমি কিভাবে তার সন্ধান পাব? তাকে বলা হলো, থলের ভেতর একটি মাছ নাও। মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে সেখানেই তাকে পাবে। তারপর তিনি রওনা হলেন। তার সাথে তার খাদিম ইউশা' ইবন নূনও চললেন এবং মূসা একটি মাছ ব্যাগে নিয়ে নিলেন। তিনি ও তার খাদিম চলতে চলতে একটি চটানে উপস্থিত হলেন। এখানে মূসা শুয়ে পড়লেন। তার সঙ্গীও শুয়ে পড়ল। মাছটি নড়েচড়ে ব্যাগ হতে বের হয়ে সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়ল। এদিকে আল্লাহ তাআলা পানির গতিরোধ করে দিলেন। এমনকি একটি গর্তের মতো হয়ে গেল এবং মাছটির জন্য একটি সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে গেল। মূসা ও তার খাদিমের জন্য এটি একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো। তারপর তারা আবার দিবা-রাত্রি চললেন। মূসা এর সঙ্গী সংবাদটি দিতে ভুলে গেল। যখন সকাল হলো মূসা তার খাদিমকে বললেন, আমাদের নাশতা বের করো। আমরা তো এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদেশকৃত জায়গা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লান্ত হননি। খাদিম বলল, আপনি কি জানেন, যখনই আমরা বড় পাথরটার নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম তখন আমি মাছের কথাটি ভুলে গেলাম? আর শইতানই আমাকে আপনাকে বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে মাছটি সমুদ্রে তার নিজের পথ বের করে চলে গেছে। মূসা বললেন, এ স্থানটিই তো আমরা সন্ধান করছি। তারপর দু'জনেই নিজ নিজ পায়ের চিহ্ন অনুকরণ করে বড় পাথর পর্যন্ত পৌছলেন। সেখানে চাদরে আচ্ছাদিত জনৈক লোককে দেখতে পেলেন। মূসা তাকে সালাম দিলেন। খাযির বললেন, তোমাদের এ ভূমিতে সালাম কথেকে আসলো? মূসা বললেন, আমি মূসা। তিনি প্রশ্ন করলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যা। খাযির বললেন, আল্লাহ তার ইলম হতে এমন এক ইলম তোমাকে দিয়েছেন যা আমি জানি না এবং আল্লাহ তার ইলম হতে এমন এক ইলম আমাকে দিয়েছেন যা তুমি জান না। মূসা বললেন, আমি আপনার সঙ্গে থাকতে চাই যেন আপনার মতো ইলম আমাকে দান করেন। খাযির বললেন, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর কী করেই তুমি ধৈর্য ধারণ করবে, যা সম্বন্ধে তুমি অজ্ঞাত? মূসা বললেন, ইনশাআল্লহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল অবস্থায় পাবেন। আর আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না। খাযির বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুকরণ করে তবে আমি নিজে কিছু বর্ণনা না করা পর্যন্ত কোন ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। মূসা বললেন, আচ্ছা। খাযির এবং মূসা দু'জনে সমুদ্রের তীর ধরে পথ চলতে লাগলেন। সামনে দিয়ে একটি নৌকা আসলো। তারা নৌকাওয়ালাকে তাদের তুলে নিতে বললেন। তারা খাযির কে চিনে ফেলল, তাই দু'জনকেই বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর খাযির নৌকার একটি তক্তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তা উঠিয়ে ফেললেন। (তা দেখে) মূসা বললেন, তারা তো এমন ব্যক্তি যে, আমাদের বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিয়েছে; আর আপনি তাদের নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে নৌকা ডুবে যায়? আপনি তো সাংঘাতিক কাজ করেছেন। খাযির বললেন, আমি কি তোমায় বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে সক্ষম হবে না। মূসা বললেন, আপনি আমার এ ভুল মাফ করে দিবেন। আর আমাকে কঠিন অবস্থায় ফেলবেন না। তারপর নৌকার বাইরে এলেন এবং উভয়ে সমুদ্র তীর ধরে চলতে লাগলেন। হঠাৎ একটি বালকের সম্মুখীন হলেন, যে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলা করছিল। খাযির তার মাথাটা হাত দিয়ে ধরে ছিড়ে ফেলে হত্যা করলেন। মূসা তাকে বললেন, আপনি কোন প্রাণের বিনিময় ব্যতীত একটা নিম্পাপ প্রাণকে শেষ করে দিলেন? আপনি তো বড়ই মন্দ কাজ করলেন। খাযির বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, আমার সঙ্গে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না এবং এ ভুল প্রথমটার তুলনায় আরো মারাত্মক। মূসা বললেন, হ্যা! তারপর যদি আর কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি তাহলে আমাকে সাথে রাখবেন না। নিঃসন্দেহে আপনার প্রতি আমার ক্রটি চরমে পৌছেছে। তারপর দু'জনেই পথ চলতে লাগলেন এবং একটি গ্রামে পৌছে গ্রামবাসীর নিকট খাদ্য কামনা করলেন। তারা তাদের আতিথেয়তা করতে আপত্তি জানালেন। তারপর তারা একটি দেয়াল পেলেন, যেটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে ঝুকে পড়েছে। খাযির আপন হাতে সেটি ঠিক করে সোজা করে দিলেন। মূসা বললেন, আমরা এ গোত্রের নিকট আসলে তারা আমাদের মেহমানদারী করেনি এবং খেতে দেয়নি। আপনি চাইলে এদের কাছ থেকে মজুরি নিতে পারতেন। খাযির বললেন, এবার আমার ও তোমার মাঝে ব্যবধান সূচিত হলো। এখন আমি তোমাকে এসব মর্মার্থ বলছি, যে সবের উপর তুমি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হওনি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ মূসা এর উপর রহম করুন, আমার ইচ্ছা হয় যে, যদি তিনি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে আমাদের নিকট তাদের আরো ঘটনাসমূহের বর্ণনা দেয়া হতো। বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রথমটা মূসা ভুলবশত করেছিলেন। এ-ও বলেছেন, একটা চড়ুই পাখি এসে নৌকার কিনারে বসে সমুদ্রে চঞ্চু মারল। সে সময় খাযির মূসাকে বলেন, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের চেয়ে ততই কম, যতটি সমুদ্রের পানি হতে এ চড়ুইটি কমিয়েছে। সাঈদ ইবন জুবায়র বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস পড়তেনঃ (এদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, যে সকল ভাল নৌকা কেড়ে নিত) তিনি আরো পড়তেন, (আর সে বালকটি কাফির ছিল)।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা কায়সী .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কে বলা হলো, নাওফ দাবী করে যে, মূসা যিনি জ্ঞান অনুসন্ধানে বেরিয়ে ছিলেন, তিনি বনী ইসরাঈলের মূসা নন। ইবন আব্বাস বলেন, হে সাঈদ। তুমি কি তাকে এ কথা বলতে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যা! তিনি বললেন, নাওফ মিথ্যারোপ করেছে।
উবাই ইবন কা'ব আমাদের নিকট রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, মূসা একদা তার গোষ্ঠীর সম্মুখে আল্লাহ তাআলার নিআমাত এবং বালা-মুসীবাত মনে করিয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলে ফেললেন, দুনিয়াতে আমার তুলনায় উত্তম এবং অধিক জ্ঞানী কোন লোক আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ মূসা এর প্রতি ওয়াহী পাঠালেনঃ আমি জানি মূসার চাইতে উত্তম কে বা কার নিকট কল্যাণ রয়েছে। পৃথিবীতে অবশ্যই এক লোক রয়েছে যে, তোমার তুলনায় অধিক জ্ঞানী। মূসা বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তার পথ জানিয়ে দিন। তাকে বলা হলো, লবণাক্ত একটি মাছ সাথে নিয়ে যাও। এ মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে খানেই সে, ব্যক্তি আছে। মূসা এবং তার খাদিম রওনা হলেন, পরিশেষে তারা একটি বড় পাথরের নিকট পৌছলেন। সে সময় মূসা তার সঙ্গীকে রেখে গোপনে চলে গেলেন। তারপর মাছটি ছটফট করে পানিতে নেমে গেল এবং পানিও ছিদ্রের মতো রয়ে গেল, মাছের রাস্তায় সংমিশ্রণ হলো না। মূসা এর খাদিম বললেন, হ্যা, আমি আল্লাহর নবীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাকে এ বিবরণ দিব। তারপরে তিনি ভুলে গেলেন। তারা যখন আরো সম্মুখে চলে গেলেন। তখন মূসা বললেন, আমার নাশতা দাও, এ সফরে তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নবী (ﷺ) বলেন, যতক্ষণ তারা এ জায়গাটি ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের ক্লান্তি আসেনি। তার সাথীর যখন স্মরণে আসলো তখন বলল, আপনি কি জানেন যখন আমরা পাথরের নিকট আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গেছি। আর শয়তানই আমাকে আপনার নিকট বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং অবাক করার মতো মাছটি সমুদ্রে তার রাস্তা করে নিয়েছে। মূসা বললেন, এ-ই তো ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। সুতরাং তারা পথ অনুসরণ করে প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তার খাদিম মাছের জায়গাটি তাকে দেখালো। মূসা বললেন, এ জায়গার বর্ণনাই আমাকে দেয়া হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর মূসা সন্ধান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি কাপড়ে ঢাকা খাযির কে গলদেশের উপর চীৎ হয়ে ঘুমানো দেখতে পেলেন। কিংবা অন্য বর্ণনায়, গলদেশের উপর সোজাসুজি। মূসা বললেন, আসসালামু আলাইকুম। খাযির মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, ওয়া আলাইকুমুসসালাম, তুমি কে? মূসা বললেন, আমি মূসা। তিনি বললেন, কোন মূসা? মূসা উত্তর দিলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা। খাযির বললেন, তোমার এ মহান আগমন কিসের জন্য? মূসা বললেন, আমি এসেছি যেন আপনাকে যে জ্ঞান দান করা হয়েছে তা হতে আপনি আমায় কিছু শিক্ষা দেন। খাযির বললেন, আমার সাথে তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না। আর এমন ব্যাপারে কেমন করে তুমি ধৈর্য ধরবে, যার ইলম তোমাকে দেয়া হয়নি। এরূপ বিষয় হতে পারে যা করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তুমি যখন তা দেখবে তখন তুমি ধৈর্য ধারণ করবে না। মূসা বললেন, ইনশাআল্লাহ্ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যেই পাবেন। আর আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। খাযির বললেন, তুমি যদি আমার অনুগামী হও তবে আমাকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যতক্ষণ না আমি নিজেই এ ব্যাপারে বর্ণনা করি। তারপর উভয়ই চললেন, পরিশেষে একটি নৌকায় চড়লেন। তখন খাযির নৌকার একাংশ ভেঙ্গে ফেললেন। মূসা তাকে বললেন, আপনি কি নৌকাটি ভেঙ্গে ফেললেন, নৌকারোহীদের ডুবিয়ে ফেলার জন্যে? আপনি তো বড় মারাত্মক কাজ করেছেন। খাযির বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না? মূসা বললেন, আমি ভুলে গিয়েছি, আপনি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। আমার ব্যাপারটিকে আপনি কঠিন করবেন না। পুনরায় উভয়ে চলতে লাগলেন। এক স্থানে দেখতে পেলেন বালকরা খেলায় লিপ্ত। খাযির অবলীলাক্রমে একটি শিশুর নিকট গিয়ে তাকে হত্যা করলেন। এতে মূসা খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আপনি প্রাণ বিনিময় ছাড়াই একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি বড়ই নৃশংস কাজ করেছেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের ও মূসা এর উপর তিনি যদি জলদি না করতেন তাহলে অবাক হওয়ার আরো মতো অনেক ঘটনা দেখতে পেতেন। তবে তিনি খাযির এর সম্মুখে লজ্জিত হয়ে বললেন, তারপর যদি আমি আপনাকে আর কোন কিছু জিজ্ঞেস করি তবে আপনি আমায় সাথে রাখবেন না। সত্যিই আমার ব্যাপার খুবই আপত্তিকর হয়েছে। যদি মূসা ধৈর্য ধরতেন তাহলে আরো বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পেতেন। যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন নবীর বর্ণনা করতেন, প্রথমে নিজকে দিয়ে আরম্ভ করতেন আর বলতেন, আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন এবং আমার অমুক ভাইয়ের উপরও। এভাবে নিজেদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করতেন। অতঃপর দু'জনে চললেন এবং মন্দ লোকদের একটি লোকালয়ে গিয়ে উঠলেন। তারা লোকদের অসংখ্য জায়গায় ঘুরে তাদের নিকট খাবার চাইলেন। তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তারা ধ্বসে পড়ার উপক্রম একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। খাযির সেটি মেরামত করে দিলেন। মূসা বললেন, আপনি চাইলে এর বিনিময়ে মজুরি নিতে পারতেন। খাযির বললেন, এখানেই আমার আর তোমার মাঝে সম্পর্কচ্ছেদ। খাযির মূসা-এর বস্ত্র ধরে বললেন, তুমি যেসব বিষয়ের উপর ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছিলে সে সবের ঘটনা বলে দিচ্ছি। নৌকাটি ছিল কিছু গরীব লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত'- আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তারপর যখন এটাকে দখল করতে লোক আসলো, তখন ছিদ্রযুক্ত (অচলাবস্থা) দেখে ছেড়ে দিল। অতঃপর নৌকাওয়ালারা একটা কাঠ দ্বারা নৌকাটি মেরামত করে নিলো। আর বালকটি সূচনালগ্নেই ছিল কাফির। তার মা-বাবা তাকে বড়ই আদর করত। সে বড় হলে ওদের দু'জনকেই অবাধ্যতা ও কুফুরীর দিকে নিয়ে যেত। অতএব আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম, আল্লাহ যেন তাদেরকে এর বিনিময়ে আরো উত্তম পবিত্র স্বভাবের ও অধিক স্নেহভাজন ছেলে দান করেন। আর দেয়ালটি ছিল শহরের দু'টো ইয়াতীম বালকের'- আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আবূ ইসহাক হতে এর অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রা) এ হাদীসটি উবাই (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। কা'ব বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটি পাঠ করতেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, ইবন আব্বাস এবং কায়স ইবন হিসন, মূসা এর সঙ্গী সম্পর্কে তর্ক করলেন। ইবন আব্বাস বললেন, সঙ্গীটি খাযির ছিলেন। অতঃপর সেখানে উবাই ইবন কা'ব আসলেন, ইবন আব্বাস তাকে বললেন, হে আবূ তুফায়ল! এদিকে আসুন, আমি এবং সে তর্ক করছি মূসা এর সঙ্গীর সম্বন্ধে যার নিকট তিনি গিয়েছিলেন। আপনি কি এ সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কিছু জেনেছেন? উবাই ইবন কা'ব বললেন, আমি রসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, মূসা এক সমাবেশে কিছু বলছিলেন, এমতাবস্থায় একটা লোক এসে জিজ্ঞেস করল, আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কোন লোক সম্বন্ধে কি আপনার জানা আছে? মূসা বললেন, না। তখন আল্লাহ ওয়াহী প্রেরণ করলেন, আমার বান্দা খাযির তোমার তুলনায় অধিক জানেন। মূসা খাযির এর সাথে দেখার করার উপায় জানতে চাইলেন। আল্লাহ তাআলা মাছকে নমুনা হিসেবে চিহ্নিত করলেন এবং আদেশ করা হলো, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরবে আর তার দর্শনও পাবে। মূসা আল্লাহর ইচ্ছা মতো চললেন। তারপর তার সঙ্গীকে বললেন, আমাদের নাস্তা বের করো। খাদিম বলল, আপনার কি জানা আছে যে, যখন আমরা সাখরাহ্ (পাথরের নিকট) পৌছলাম তখন মাছের কথা ভুলে গিয়েছি; আর শয়তানই আমাদের ভুলে দেয়ার কারণ। মূসা বললেন, এটাই তো আমরা প্রত্যাশা করতাম। সুতরাং দু'জনেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফিরলেন এবং খাযির কে পেলেন। পরবর্তী ঘটনা আল্লাহ তাআলা তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইউনুস এর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তারা সমুদ্রগামী মাছটির নিদর্শন অনুসরণ করে ফিরলেন'।