bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মানৎ (৪১২৮-৪১৪৬)

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী, মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির ও কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন উবাদাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সে মানতের কথা জিজ্ঞেস করেন, যা তার মায়ের যিম্মায় ছিল, কিন্তু তিনি তা পূর্ণ করার আগেই মারা যান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা আদায় কর।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া, আবদ ইবন হুমায়দ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ সবাই যুহরী এর সূত্রে লায়স এর বর্ণিত সানাদের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন।

যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সময় আমাদেরকে মানৎ করতে বারণ করতেন এবং বলতেন যে, তা (তাকদীরের) কিছুই ফিরিয়ে দেয় না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণের হাত থেকে কিছু বের করা হয়।

মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, মানৎ কোন কিছুকে না এগিয়ে আনতে পারে, আর না পিছিয়ে দিতে পারে। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ থেকে কিছু (মাল) বের করা হয়।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মানৎ নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়।

মুহাম্মদ ইবন রাফি, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... উক্ত সনদে জারীরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মানৎ করো না। কারণ, মানৎ তাকদীর থেকে কোন উপকার করে না। তার মাধ্যমে কেবল কৃপণের সম্পদই বের করা হয়।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মানৎ করতে বারণ করেছেন এবং বলেছেন, তা তাকদীরকে ফিরাতে পারে না। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃপণের থেকে কিছু বের করা হয়।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজুর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মানৎ এমন কোন জিনিসকে মানুষের নিকটে এনে দেয় না, যা আল্লাহ তার তাকদীরে রাখেননি। কিন্তু মানৎ যদি তাকদীরের অনুকূলে হয়ে যায় তখন এর দ্বারা কৃপণের সে মাল বের করা হয়, যা বের করতে সে ইচ্ছুক ছিল না।

কুাতাইবাহ ইবন সাঈদ ..... আমর ইবন আবূ আমর এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

যুহায়র ইবন হারব ও আলী ইবন হুজর সা'দী .... ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাকীফ গোত্র ছিল বানু উকায়ল গোত্রের মিত্র। সাকীফ গোত্রের লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু'জন সাহাবীকে বন্দী করে। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীরা বানু উকায়ল গোত্রের এক ব্যক্তিকে বন্দী করে এবং তার সাথে আযবা নাম্নী উষ্ট্রীকেও আটক করে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে আসলেন। তখন সে বাধা অবস্থায় ছিল। সে ডাক দিল, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট এলেন এবং বললেন, তোমার কী অবস্থা? সে বললো, আমাকে কী কারণে বন্দী করেছেন? আর কেনই বা হাজীদের অগ্রগামী উষ্ট্রটিকে আটক করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বিরাট অপরাধের কারণে। তোমার মিত্র সাকীফ গোত্রের অপরাধের জন্য তোমাকে বন্দী করেছি। এরপর তিনি তার কাছ থেকে ফিরে আসলেন। সে আবার তাকে ডেকে বললো, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন বড়ই দয়ালু এবং নম্র স্বভাবের। তাই তিনি তার দিকে আবার এলেন এবং বললেন, তোমার কী অবস্থা? সে বললো, আমি একজন মুসলিম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি যদি এ কথা তখন বলতে, যখন তোমার ব্যাপার তোমার অধিকারে ছিল, তবে তুমি পুরোপুরি সফল হতে। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। সে আবারও তাকে ডাক দিয়ে বললো, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! তিনি পুনরায় তার কাছে এসে বললেন, তোমার কী হয়েছে? সে বললো, আমি ক্ষুধার্ত, আমাকে খাবার দিন, এবং পিপাসিত, আমাকে পান করান। নবী (ﷺ) বললেন, এ-ই তোমার প্রয়োজন? অতঃপর তাকে সেই দু'ব্যক্তির বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়। রাবী বলেন, একবার এক আনসার মহিলা বন্দী হয় এবং আযবা নাম্নী উষ্ট্রী (তাদের হাতে) ধরা পড়ে। মহিলাটি বাধা অবস্থায় ছিল। গোত্রের লোকদের অভ্যাস ছিল তারা তাদের পশু গৃহের সামনে রাখত। এক রাত্রে রমণীটি বন্ধন মুক্ত হয়ে পলায়ন করে এবং উটের কাছে আসে। সে যখনই কোন উটের কাছে আসতো, উট আওয়াজ করতো এবং তখন সে তাকে পরিত্যাগ করতো। অবশেষে সে আযবার কাছে এসে পৌছে। আযবা কোন আওয়াজ করলো না। এ উটনী ছিল বড়ই অনুগত। সে তার পিঠের উপর বসে এবং তাকে হাকায়, আর সে চলতে থাকে। তখন তারা তার পলায়ন টের পেয়ে গেল এবং তার খোজে ছুটল। কিন্তু আযবা তাদেরকে ব্যর্থ করে দেয়। রাবী বলেন, মহিলাও আল্লাহর নামে মানৎ করে যে, আল্লাহ যদি এ উষ্ট্রীর সাহায্যে তাকে মুক্তি দেন, তবে সে অবশ্যই তাকে কুরবানী দিবে। তারপর যখন মহিলাটি মদীনায় আসলেন আর লোক সকল তাকে দেখাদেখি করছেন এবং বলাবলি করছেন। এ আযবা নাম্নী উষ্ট্রীটি রসূল (ﷺ) এর। তারপর তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে ঘটনাটি তাকে বললেন। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ কী মন্দ প্রতিদান, যা সে তাকে দিয়েছে। সে আল্লাহর নামে মানৎ করেছে যে, যদি আল্লাহ তাকে এ উষ্ট্রীর উপর রক্ষা করেন তবে সে তাকেই কুরবানী করে দিবে। (জেনে রেখ) পাপের ব্যাপারে মানৎ করলে সে মানৎ পূরণ করতে নেই। আর সে বস্তুর মানৎ ও পূরণযোগ্য নয়, যার মালিক সে ব্যক্তি নয়। ইবন হুজুর-এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে মানৎ সংঘটিত হয় না।

আবূ রাবী আতাকী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আইয়্যুব এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মদ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আযবা ছিল উকায়ল গোত্রর কোন এক ব্যক্তির এবং হাজীদের উটের মধ্যে অগ্রগামী। তার হাদীসে আরও আছে যে, মহিলাটি একটি উষ্ট্রীর নিকট আসে, যা ছিল অনুগত ও সওয়ারীতে অভ্যস্ত। আর সাকাফীর হাদীসে আছে যে, তা ছিল একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উষ্ট্রী।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ও ইবন আবূ উমার ..... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একবার এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সে তার দু' পুত্রের উপর ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এর কী হলো? তারা বললো, সে হেঁটে চলার মানৎ করেছে। তিনি বললেন, এভাবে নিজেকে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কিছু আসে যায় না। অতঃপর তিনি তাকে সওয়ারিতে আরোহী হতে বলেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজুর .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) এক বৃদ্ধকে তার দু'পুত্রের মাঝে তাদের উপর ভর দিয়ে চলতে দেখেন। নবী (ﷺ) বললেন, এ ব্যক্তির কী হলো? তার দু'পুত্র বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার উপর (হেঁটে যাওয়ার) মানত ছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ ওহে বৃদ্ধ! তুমি বাহনে উঠ। কেননা আল্লাহ তোমার ও তোমার মানতের ব্যাপারে অমুখাপেক্ষী! এ শব্দ হল কুতাইবাহ ও ইবন হুজুর এর।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ..... আমূর ইবন আবূ আমর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

যাকারিয়্যা ইবন ইয়াহইয়া ইবন সালিহ মিসরী .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বোন খালি পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ যাওয়ার মানৎ করে। সে আমাকে তার জন্যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফাতাওয়া জানার জন্যে আদেশ করে। আমি তার কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সে যেন পায়ে হেঁটে ও আরোহণ করে যায়।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... উকবাহ ইবন আমির জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বোন একবার মানত করে, পরবর্তী অংশ মুফাযযাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এ হাদীসে (নগ্ন পায়ে) শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি এবং অতিরিক্ত বলেছেন যে, "আবূল খায়র উকবাহ থেকে পৃথক হতেন না।"

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইবন আবূ খালাফ ..... ইয়াযীদ ইবন আবূ হাবীব এর সূত্রে উক্ত সানাদে আবদুর রাযাক এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হারূন ইবন সাঈদ আইলী, ইউনুস ইবন আবদুল আলা আহমাদ ইবন ঈসা ..... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসমের কাফফারাই মানতের কাফফারাহ।