ইচ্ছাপত্র বা উইল (ওয়াসিয়াত) (৪০৯৭-৪১২৭)
আবূ খাইসামাহ্ যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনাযী .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কিছু অর্থ সম্পদ রয়েছে, আর সে এ সম্পর্কে ওয়াসিয়্যাত করতে চায়, সে মুসলিম ব্যক্তির উচিত হবে না ওয়াসিয়্যাত লিখে না রেখে দুটি রাতও অতিবাহিত করা।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র উবাইদুল্লাহ থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে আছে, তারা উভয়ে বলেছেন, তার কাছে ওয়াসিয়্যাত করার মত কিছু আছে। তারা এ কথা বলেননি যে, সে ওয়াসিয়্যাত করার ইচ্ছা করে।
আবূ কামিল জাহদারী আরো বিভিন্ন সূত্রে .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে উবাইদুল্লাহ বর্ণিত হাদীসের অনরূপ বর্ণনা করেন। আর তারা সবাই এভাবে বলেছেন যে তার কাছে এমন সম্পদ আছে, যাতে সে ওয়াসিয়্যাত করতে পারে। কিন্তু আইয়ূব এর হাদীসে রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, সে তাতে ওয়াসিয়্যাত করতে চায়। উবাইদুল্লাহ থেকে ইয়াহইয়ার বর্ণনার মতই।
হারূন ইবন মারূফ .... সলিম এর সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্যে সঙ্গত নয়, তার কাছে ওয়াসিয়্যাত করার মতো সম্পদ আছে এমতাবস্থায় ওয়াসিয়্যাত লিখিত না রেখে তিন রাত অতিবাহিত করা। আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শোনার পর এক রাতও আমার উপর পার হয়নি যে, আমার ওয়াসিয়্যাত আমার কাছে ছিল না।
আবূ তাহির ও হারমালাহ, আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব, ইবন লায়স, ইবন আবূ উমার আবদ ইবন উমর সকলেই যুহরী সূত্রে উক্ত সানাদে আমর ইবন হারিস এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ..... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন; এমন রোগের সময় যাতে আমি মৃত্যুর কাছাকাছি হয়ে পড়েছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! রোগের কারণে আমার কী অবস্থা হয়েছে, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন? আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, অথচ একটি মাত্র কন্যা সন্তান ব্যতীত আমার আর কোন ওয়ারিস নেই। সুতরাং আমি আমার সম্পদের দু-তৃতীয়াংশ দান করতে পারব কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক মাল সাদাকা করতে পারব? তিনি বললেন, না। বরং এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও বেশি হয়ে যায়। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া তোমার জন্যে উত্তম, এমন অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ছেড়ে সাওয়ার চেয়ে যে, তারা মানুষের নিকট হাত পাতবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে তুমি যা কিছুই খরচ কর তার উপর তোমাকে প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি, সে লোকমাটির বদৌলতেও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো আমার সাথীদের পর তাদের পিছনে রয়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন, তুমি পেছনে রয়ে গেছো (জীবিত রয়ে গেছো), তাতে তুমি এমন আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পার যাতে তোমার মর্যাদা বাড়বে ও উচু হবে। আর সম্ভবত তুমি পরবর্তীতেও থাকবে দীর্ঘায়ু লাভ করবে। এমনকি বহু সম্প্রদায় তোমার দ্বারা লাভবান হবে এবং বহু লোক তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (নবীজী দোয়া করলেন) ইয়া আল্লাহ! আমার সাথীদের হিজরত অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং তাদেরকে পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু সা'দ ইবন খাওলার জন্যে আফসোস! বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। কারণ, তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ তাহির, হারমালাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ হুমায়দ .... সহ সকলেই যুহরীর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবন মানসূর ..... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার রোগের খোজ-খবর নেয়ার জন্যে আমার নিকট আগমন করেন। তারপর যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন এবং সা'দ ইবন খাওলার প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) এর উক্তির উল্লেখ নেই। তবে এতে এ কথা রয়েছে, কোন ব্যক্তি যেখান থেকে হিজরত করেছে তথায় মৃত্যুবরণ করুক, এটা নবী (ﷺ) পছন্দ করেন না।
যুহায়র ইবন হারব .... মুসআব ইবন সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং নবী (ﷺ) এর কাছে সংবাদ প্রেরণ করি। (তিনি আসলেন) আমি বললাম, আমার সম্পত্তি যে পরিমাণ ইচ্ছা বণ্টন করার অনুমতি দিন। তিনি সম্মতি জানালেন না। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক? তিনি তাও স্বীকার করলেন না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? রাবী বলেন, একতৃতীয়াংশ বলার পর নবী (ﷺ) নীরব থাকেন। রাবী বলেন, এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ জায়িয হয়ে যায়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... সিমাক এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি "এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ বৈধ হয়ে যায়" কথাটি বর্ণনা করেননি।
কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... মুসআব ইবন সা'দ এর সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার রোগের খোজ-খবর নিতে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওয়াসিয়্যাত করে যাব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হ্যা এবং বললেন এক-তৃতীয়াংশ অনেক।
মুহাম্মদ ইবন আবূ উমার মাক্কি .... সা'দ এর তিন পুত্র তাদের পিতার থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কায় নবী (ﷺ) সা'দের অসুখ দেখার জন্যে তার নিকট আসেন। সা'দ কেঁদে ফেলেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কেন কাঁদছ? তিনি বললেন, আমি ভয় পাচ্ছি, যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সেথায় না আমি মারা যাই; যেমনিভাবে মারা গিয়েছেন সা'দ ইবন খাওলা। নবী (ﷺ) বললেন, ইয়া আল্লাহ! সাদকে সুস্থতা দান করুন তিন বার বললেন। সা'দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার প্রচুর সম্পদ আছে। আর একমাত্র কন্যাই আমার উত্তরাধিকার হবে। তবে কি আমার সমুদয় সম্পদ ওয়াসিয়্যাত করতে পারি? তিনি বললেন, না। সা'দ বললেন, তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, না। সা'দ বললেন, তা হলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। সা'দ বললেন, তাহলে এক তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হ্যা, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার সম্পদ থেকে তুমি যা সাদাকা কর তা তো সাদাকা-ই এবং তোমার পরিবারের জন্যে যা খরচ কর তাও সাদাকা আর তোমার মাল থেকে তোমার স্ত্রী যা খায় তাও সাদাকা। তোমার পরিবার-পরিজনকে যদি তুমি সম্পদশালী রেখে যাও, অথবা বলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে রেখে যাও, তবে তা তাদের মানুষের কাছে হাতপাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় ভাল। আর এ কথা বলতে তিনি নিজ হাত দিয়ে ইশারা করলেন।
আবূ রাবী আতাকী ..... সা'দ এর তিন পুত্র হতে বর্ণিত। তারা বলেছেন, সা'দ মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার খোজ খবর নেয়ার জন্যে তার কাছে আসেন। পরবর্তী অংশ সাকাফীর হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট সা'দ ইবন মালিকের তিন পুত্র বর্ণনা করেছেন। তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, সাদ মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়লো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার খোজ-খবর নেয়ার জন্যে তার কাছে আসেন। পরবর্তী অংশ আমর ইবন সাঈদ সূত্রে বর্ণিত হুমায়দ হিমইয়ারী এর হাদীসের অনুরূপ।
ইবরাহীম ইবন মূসা রাযী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হায়! লোকজন যদি এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এক চতুর্থাংশ করতো। কেননা, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশই বেশী। ওয়াকী এর হাদীসে আছে 'বড়' বা 'বেশি"।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজুর ... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলো, আমার পিতা মারা গেছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন; কিন্তু ওয়াসিয়্যাত করেননি। তার পক্ষ থেকে সাদাকা করা হলে কি তার গুনাহ ক্ষমা হবে? তিনি বললেন, হ্যা।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে বললো, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তার ব্যাপারে আমি ধারণা করি, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সাদাকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সাদাকা করি, তবে কি আমার এ কাজের কোন সাওয়াব হবে? নবী (ﷺ) বললেন, হ্যা।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন এবং কোন ওয়াসিয়্যাত করেননি। তার প্রতি আমার ধারণা যে, যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পেতেন তবে সাদাকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সাদাকা করি, তবে কি তিনি সাওয়াব পাবেন? নবী (ﷺ) বললেন, হ্যা।
আবূ কুরায়ব হাকাম ইবন মূসা, উমাইয়াহ ইবন বিসতাম ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... এ সকল সূত্রে হিশাম ইবন উরওয়াহ্ থেকে উক্ত সানাদে হাদীসটি উল্লেখ করেন। তবে উসামাহ ও রাওহ এর বর্ণিত হাদীসে আছে, আমার কি সাওয়াব হবে? যেমন বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ। আর শুআয়ব ও জাফার এর বর্ণনায় আছে, তার কি সাওয়াব হবে? যেমন রয়েছে ইবন বিশরের রিওয়ায়াতে।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ও কুতাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। ১. সাদাকা জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দোয়া করতে থাকে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর খাইবারে একখণ্ড জমি লাভ করেন। তখন এ সম্পর্কে পরামর্শের জন্যে তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি খাইবারে এমন একখণ্ড জমি লাভ করেছি যে, এর চেয়ে উৎকৃষ্টতর সম্পদ আমি কখনও লাভ করিনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দেন। তিনি বললেন, তুমি যদি চাও, তবে তার মূল মালিকানা রেখে তা সাদাকা করতে পার। রাবী বলেন, তারপর উমর তা সাদাকা করে দেন এ শর্তে যে, এর মূলস্বত্ব বিক্রি করা যাবে না, খরিদ করা যাবে না, উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যাবে না এবং দানও করা যাবে না। সুতরাং উমর এর আয় দরিদ্র, আত্মীয়, দাস মুক্তি, জিহাদ, পথিক ও মেহমানের উদ্দেশে সাদাকা করে দেন। অবশ্য যে ব্যক্তি এর তত্ত্বাবধায়ক হবে তার জন্যে এর থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ খাওয়া বা কোন বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো দূষণীয় হবে না, যদি সে এর থেকে সঞ্চয় না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মদ এর নিকট বর্ণনা করতে গিয়ে যখন এ স্থানে পৌছি, "যদি সে এর থেকে সঞ্চয়কারী না হয়" তখন মুহাম্মাদ বললেন "সম্পদ সঞ্চয়কারী হবে না।" ইবন আওন বলেন, এ কিতাব যিনি পড়েছেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, --- এ স্থলে রয়েছে "গাইরা মতাশালীনমালাং"।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সূত্রে ইবন আওন থেকে উক্ত সানাদে হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন আবূ যায়িদাহ ও আযহার এর হাদীস এ পর্যন্ত এসে শেষ হয়েছে যে, "অথবা কোন বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ায় এতে সঞ্চয়কারী না হয়ে", পরের অংশ তিনি উল্লেখ করেননি। আর ইবন আদী এর হাদীসে তাই আছে, যা সুলায়ম উল্লেখ করেছেন "অতঃপর আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদ এর নিকট বর্ণনা করি .... শেষ পর্যন্ত।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাইবারের এলাকায় একখণ্ড জমি লাভ করি। তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলি, আমি এমন একখণ্ড জমি লাভ করেছি, যার চেয়ে বেশি প্রিয় এবং আমার কাছে উত্তম কোন মাল আর পাইনি। রাবী এ হাদীসে পরবর্তী অংশ অন্যান্যের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ কথা বর্ণনা করেননি যে, অতঃপর আমি মুহাম্মদ এর নিকট বর্ণনা করি এবং এর পরেরটুকু।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী .... তালহাহ ইবন মুসারিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা কে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কেন মুসলিমদের উপর ওয়াসিয়্যাত ফরয করা হলো? অথবা বললেন, কিভাবে তাদেরকে ওয়াসিয়াতের হুকুম দেয়া হলো? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) ওয়াসিয়্যাত করেছেন, আল্লাহ তাআলার কিতাব সম্পর্কে (আমল করতে)।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... মালিক ইবন মিগওয়াল এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য ওয়াকী এর বর্ণনায় আছে- আমি বললাম, "তাহলে কী করে মানুষকে ওয়াসিয়াতের হুকুম করা হলো"? আর ইবন নুমায়র এর বর্ণনায় আছে, আমি বললাম, কিভাবে মুসলিমের উপর ওয়াসিয়্যাত ওয়াজিব হলো?
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন দীনার, দিরহাম, বকরী বা উট রেখে যাননি এবং কোন কিছুর ওয়াসিয়্যাত করেননি।
যুহায়র ইবন হারব, উসমান ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম আর সকলে জারীর হতে ও আলী ইবন খাশরাম .... আমাশ হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা আয়িশাহ এর কাছে উল্লেখ করেন যে, আলী তো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওয়াসিয়াতের ব্যাপারে দায়িত্ববান ছিলেন। তিনি বললেন, কখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ওয়াসিয়্যাত করেছেন? আমি তো তাকে (নবী (ﷺ) কে) আমার বুকে ভর দিয়ে রেখেছিলাম, অথবা বলেছেন, আমার কোলে; তখন তিনি একটি রিকাব চাইলেন, এরপর আমার কোলে ঢলে পড়েন। আমি বুঝতেও পারিনি যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি কখন তাকে ওয়াসিয়্যাত করলেন?
সাঈদ বিনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আমর আন নাকিদ .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় ইবন আব্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার দিন, হায়রে বৃহস্পতিবার দিন! বলে তিনি কেঁদে ফেলেন। এমনকি তার অশ্রুধারায় কংকর ভিজে যায়। আমি বললাম, হে আবূ আব্বাস! বৃহস্পতিবার দিনের ব্যাপার কী? তিনি বললেন, সেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোগ বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, আমার নিকট এসো, আমি তোমাদের এমন একটি লিপি লিখে দিই, যাতে আমার পরে তোমরা আর পথহারা হবে না। তখন উপস্থিত সাহাবাগণ পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হলেন। অথচ নবী (ﷺ) এর কাছে তর্কবিতর্ক করা উচিত নয়। তারা বললেন, নবী (ﷺ) এর অবস্থা কী হলো? তিনি তা অর্থহীন বলতে পারেন না? তোমরা তার কথা বুঝার চেষ্টা কর। রাবী বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, তোমাদের তিনটি বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত করছি, মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বহিষ্কার কর। প্রতিনিধি (আগন্তক) দলকে উপঢৌকন দাও, যেমনি আমি তাদেরকে উপহার দিতাম। বর্ণনাকারী বললেন, ইবন আব্বাস তৃতীয়টা থেকে নীরব থাকেন অথবা তিনি বলেছেন, কিন্তু তা ভুলে গেছি। আবূ ইসহাক বলেন, হাসান ইবন বিশর সুফইয়ান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। (তিনি কোন এক সময় বললেন,) বৃহস্পতিবার দিন, আর কী সে বৃহস্পতিবার দিন! এরপর তার অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে। এমন কি, আমি দেখলাম যে, তার উভয় গালের উপরে যেন মুক্তার লহরী। রাবী বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার কাছে হাড় ও দোয়াত নিয়ে আস, অথবা বলেছেন কাষ্ঠফলক ও দোয়াত। আমি তোমাদের এমন একটি কিতাব লিখে দিব যে, এরপর আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। অতঃপর তারা বললো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত) কথা বলছেন?
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং ঘরে বেশ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উমার ইবন খাত্তাবও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এসো, আমি তোমাদের এক কিতাব লিখে দিই। এরপরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। উমর বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তোমাদের কাছে কুরআন বর্তমান আছে। আল্লাহর কিতাব আমাদের জন্যে যথেষ্ট। তখন ঘরের লোকজনের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় এবং তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হন। তাদের কেউ কেউ বলেন, তোমরা (কাগজ) কাছে নিয়ে এসো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের এমন এক কিতাব লিখে দিবেন, যার পরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর কেউ কেউ সে কথা বলেন, যা উমর বলেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যখন তাদের এ ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি বৃদ্ধি পায়, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা উঠে যাও। উবাইদুল্লাহ বলেন, এরপর থেকে ইবন আব্বাস আক্ষেপ করে বলতেন, বিপদ সে যে কত বড় বিপদ! রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাদের জন্য সে কিতাব লিখে দেয়ার মাঝখানে তাদের মতবিরোধ ও ঝগড়া যে অন্তরায় হয়ে পড়ল।