যাকাত (২১৫৪-২৩৮৫)
আমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন বুকায়র আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, পাচ ওসাকের কম পরিমাণ শস্যে কোন যাকাত নেই, পাচ উটের কম সংখ্যায় কোন যাকাত নেই এবং পাচ উকিয়ার কমে (রৌপ্যের জন্য/পণ্যদ্রব্যের জন্য) যাকাত নেই।
মুহাম্মাদ ইবন রুম্হ ইবন মুহাজির ও আমর আন্ নাকিদ .... আমর ইবন ইয়াহইয়া এ সানাদের মাধ্যমে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার হাতের পাচ আঙ্গুলের সাহায্যে ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছি। .... উপরে বর্ণিত ইবন উয়ায়নার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ শস্যের কোন যাকাত ধার্য হয় না। পাচ উটের কম সংখ্যক হলে কোন যাকাত ধার্য হয় না এবং পাচ উকিয়্যার কমে (রৌপ্যের) কোন যাকাত নেই।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খেজুর ও শস্য পাচ ওয়াসাকের কম হলে তাতে যাকাত ধার্য হয় না।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ সাঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ শস্য ও খেজুর পূর্ণ পাচ ওয়াসাক না হলে তাতে কোন যাকাত নেই, উটের সংখ্যা পাচের কম হলে তাতে যাকাত নেই এবং পাচ উকিয়্যার (বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের) কমে কোন যাকাত নেই।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইসমাঈল ইবন উমাইয়্যাহ থেকে এ সানাদে আবদুর রহমান ইবন মাহদী এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... ইসমাঈল ইবন উমাইয়্যাহ্ এর সূত্রে এ সানাদে আবদুর রহমান ইবন মাহদী ও ইয়াহইয়া ইবন আদম এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি খেজুরের পরিবর্তে 'ফল' উল্লেখ করেছেন।
হারূন ইবন মারূফ ও হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রৌপ্য পরিমাণ পাচ উকিয়্যার কম হলে তাতে কোন যাকাত নেই, উটের সংখ্যা পাচের কম হলে তাতে কোন যাকাত নেই, আর খেজুর পাচ ওয়াসাকের কম হলে তাতেও যাকাত নেই।
আবূ তহির, আহমাদ ইবন আমর ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর সারহ, হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী, আমর ইবন সাওওয়াদ এবং ওয়ালীদ ইবন শুজা .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যে জমি নদী-নালা ও বর্ষার পানিতে সিক্ত হয় তাতে উশর (উৎপাদিত শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত) ধার্য হয়। আর যে জমিতে উটের সাহায্যে পানি সরবরাহ করা হয় তাতে অর্ধেক উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত) ধার্য হবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামীমী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির ক্রীতদাস ও ঘোড়ার উপর কোন যাকাত নেই।
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মুসলিম ব্যক্তির ক্রীতদাস ও ঘোড়ার উপর কোন সাদাকা (যাকাত) ধার্য হয় না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও আবূ বকর ইবন আবী শায়বাহ .... আবূ হুরায়রাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ ত্বহির, হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমদ ইবন ঈসা ..... আবূ হুরায়রাহ্-এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গোলামের জন্য (মনিবের উপর) যাকাত নেই। তবে সদাকায়ে ফিতর আছে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর কে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলা হলো, ইবন জামীল এবং খালিদ ইবন ওয়ালীদ ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাচা আব্বাস যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন। এখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইবন জামীল দরিদ্র ছিল আল্লাহ তাকে ধনী করে দিয়েছেন সে প্রতিশোধ সে নিচ্ছে। আর খালিদ ইবন ওয়ালীদের কাছে তোমরা যাকাত চেয়ে অবিচার করেছো। কারণ সে তার বর্ম এবং সম্পদ আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে রেখেছে। আমার চাচা আব্বাস, তার এ বছরের যাকাত ও তার সমপরিমাণ আরও আমার জিন্মায়। অতঃপর তিনি বললেন, হে উমার! তুমি কি উপলব্ধি করছ না যে, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব, কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিম দাস-দাসী এবং স্বাধীন পুরুষ ও মহিলা সকলের উপর এক সা' হিসেবে খেজুর বা প্রত্যেক রমাযান মাসে সদাকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন।
ইবন নুমায়র ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক স্বাধীন বা ক্রীতদাস ব্যক্তি সে প্রাপ্তবয়স্ক হোক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সকলের উপরই এক সা' খেজুর বা সদাকায়ি ফিতর নির্ধারণ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আযাদ গোলাম, পুরুষ, স্ত্রী সবার উপর রমযান মাসের ফিতরা ফরয করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, এরপর কতক লোক অর্ধ সা' গমকে এর সমান করে নিয়েছে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা' খেজুর বা যব দিয়ে সদাকায়ি ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে লোকেরা দু'মুদ গমের মূল্য এক সা' খেজুর বা যবের সমান ধরে নেয়।
মুহাম্মাদ রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা' খেজুর বা যব রমযানের পরে সদাকায়ি ফিতর ধার্য করেছেন- সে (মুসলিম ব্যক্তি) স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস, পুরুষ বা মহিলা, ছোট বা বড় (সকলকেই ফিতরা দিতে হবে)।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেনঃ আমরা এক সা' খাদ্য গম, অথবা এক সা' খেজুর বা এক সা' পনির বা এক সা' শুষ্ক আঙ্গুর সদাকায়ি ফিতর হিসেবে বের করতাম।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় আমরা ছোট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস- প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা' খাদ্য (গম) বা এক সা' পনির, বা এক সা' যব বা এক সা' খেজুর বা এক সা' শুষ্ক আঙ্গুর ফিতরা হিসেবে বের করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন মুআবিয়াহ হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে আমাদের মাঝে গমন করলেন, তিনি লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করলেন এবং বললেনঃ আমি জানি যে, সিরিয়ার দু' মুদ্দ লাল গম এক সা' খেজুরের সমান। সুতরাং লোকেরা তার এ অভিমত গ্রহণ করল। আবূ সাঈদ বলেন, কিন্তু আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন পূর্বের ন্যায় যে পরিমাণে ও যে নিয়মে দিচ্ছিলাম সেভাবেই দিতে থাকব।
মুহাম্মদ ইবন রাফি ... আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা ছোট-বড়, আযাদ-গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তিন ধরনের জিনিস যথা- এক সা' খেজুর অথবা এক সা' পনির অথবা এক সা' বার্লি (যব) দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। অতঃপর মুআবিয়াহ্ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে রায় দিলেন যে, দু মুদ্দ গম এক সা' খেজুরের সমান (বিনিময়ের দিক থেকে)। আবূ সাঈদ বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের নিয়মেই ফিতরা আদায় করে আসছি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তিন প্রকারের জিনিস যথা- পনির, খেজুর ও বার্লি দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম।
আমর আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। মুআবিয়াহ এক সা' খেজুরের পরিবর্তে অর্ধ সা' গম (ফিতরার জন্য) নির্ধারণ করলে আবূ সাঈদ এর বিরোধিতা করলেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় যেভাবে এক সা' খেজুর বা শুকনা আঙ্গুর বা যব বা পনির দিতাম এখনো আমি সে পরিমাণেই দিব।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদেরকে (ঈদের) সালাতের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের সালাতের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বেই সদাকায়ি ফিতর পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হাক (হক) (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপালদেশ ও পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের আর জাহান্নামের দিকে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, যে উটের মালিক তার উটের হাক (হক) আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হাক (হক), যখন কিয়ামতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হাক (হক) আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, ঘোড়া তিন প্রকারের- (ক) যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, (খ) যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং (গ) যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হাক (হক) ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চারণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সাওয়াব লেখা হবে। আর যদি তা রশি ছিড়ে একটি বা দুটি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার আমলনামায় সাওয়াব লেখা হবে। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে কোন আয়াত আমার কাছে অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক এ আয়াতটি আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে (আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, গাধার যাকাত দিলে তারও সাওয়াব পাওয়া যাবে।)
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা আস্ সদাফী .... যায়দ ইবন আসলাম থেকে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রে হাফস্ ইবন মায়সারাহ কর্তৃক বর্ণিত (উপরের) হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। "উটের মালিকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাদের প্রাপ্য পরিশোধ করে না," কিন্তু বলেননি "তাদের মধ্যে তাদের প্রাপ্য (যাকাত)।" এতে আরো উল্লেখ আছে "উটের একটি দুধের বাচ্চাও যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে না।" এ সূত্রে আরো আছে, সঞ্চিত সোনা-রূপা গরম করে তা দিয়ে তার উভয় পার্শ্বদেশ, কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল উমাবী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে সব ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজেদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তাদের এ সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের দেহের উভয় পার্শ্ব ও ললাটে দাগ দেয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে। আর যে সব উটের মালিকেরা যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি মাঠে উপুড় করে শুইয়ে রাখা হবে এবং ঐ সব উট স্থূলদেহ নিয়ে আসবে যেমনটি তারা পৃথিবীতে ছিল এবং এগুলো তাদের পা দিয়ে মাড়াতে মাড়াতে অগ্রসর হবে। এভাবে যখনই সে দলটি অতিক্রম করবে পুনরায় এর প্রথম দল এসে পৌছবে। এগুলো এভাবে তাদেরকে মাড়াতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের বিচার শেষ না করবেন। আর এ কাজ এমন একদিন করা হবে, যা পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে- হয় জান্নাতের দিকে না হয় জাহান্নামের দিকে। আর যে সব ছাগলের মালিকরা তার যাকাত আদায় করবে না, তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে এবং তার সে ছাগলগুলো যেমনটি পৃথিবীতে ছিল তার চেয়ে মোটা তাজা অবস্থায় এসে তাদের খুর দিয়ে দলিত করতে এবং শিং দিয়ে আঘাত করতে করতে অগ্রসর হবে। অথচ সেদিন কোন একটি শিং বাকা, শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যখন এদের শেষ দল অতিক্রম করবে পুনরায় প্রথম দল এসে পৌছবে। আর এভাবে আযাব চলতে থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করেন। এ শাস্তি এমন দিনে হবে যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাবানুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে। বর্ণনাকারী সুহায়ল বলেন, তিনি গরুর কথা বলেছেন কিনা তা আমি জানি না। এবার সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়া সম্পর্কে কী হবে? উত্তরে তিনি বললেন, ঘোড়ার ললাটে কল্যাণ রয়েছে; অথবা বললেন, করা হয়েছে। বর্ণনাকারী সুহায়ল বলেন, আমার সন্দেহ হচ্ছে তিনি হয়ত বলেছেনঃ ঘোড়ার মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ থাকবে। অতঃপর তিনি বলেন, ঘোড়া তিন প্রকার। ঘোড়া কারো জন্য গুনাহের কারণ, কারো জন্য আবরণ, আবার কারো জন্য সাওয়াবের বিষয়। ঘোড়া সাওয়াবের কারণ হবে সে ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে পোষে এবং এজন্য প্রস্তুত রাখে। এ ঘোড়া যা কিছু খাবে বা পান করবে তার মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। যদি সে এটাকে কোন মাঠে চরায় তাহলে এ ঘোড়া যা খাবে তা তার আমলনামায় সাওয়াব হিসেবে লেখা হবে। আর যদি কোন জলাশয়ে এ ঘোড়া পানি পান করে তবে এর প্রতি ফোটা পানির বিনিময়ে তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর প্রস্রাব ও পায়খানার পরিবর্তেও মালিক সাওয়াব পাবে বলে উল্লেখ করেছেন। আর যদি এটি দু' একটি টিলা অতিক্রম করে তাহলে প্রত্যেক কদম অতিক্রমের বিনিময়েও সাওয়াব লেখা হবে। আর সেই ঘোড়া মালিকের জন্য আবরণ স্বরূপ যা সে অপরের উপকার করার জন্য এবং নিজের সৌন্দর্যের জন্য লালন পালন করেছে এবং সে সকল সময়ই এর পেট ও পিঠের হক আদায় করেছে (ঘোড়ার পানাহারের প্রতি যত্নবান ছিল এবং বন্ধু ও গরীবদেরকে মাঝে মাঝে চড়তে ও ব্যবহার করতে দিয়েছে)। আর যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হবে তা হলো- যে একে লোক দেখানো, গর্ব এবং অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য লালন পালন করেছে। অতঃপর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে কী হবে? উত্তরে তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে আমার কাছে কোন আয়াত নাযিল হয়নি। তবে এ অতুলনীয় ও ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি নাযিল হয়েছে, "যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভাল কাজ করবে সে তার প্রতিদান পাবে, আর যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিফল ভোগ করবে"(যিলযাল ৯৯ঃ ৭-৮)।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সুহায়ল থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাযী ..... সুহায়ল ইবন আবূ সালিহ থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি "আকছা" এর স্থলে "আদবা" বলেছেন এবং ললাটে দাগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা ছাড়া কেবল "পার্শ্ব এবং পার্শ্ব দাগ দেয়া হবে" কথাটি উল্লেখ করেছেন।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "যখন কোন ব্যক্তি তার আল্লাহর হাক (হক) অথবা তার উটের সাদাকা (যাকাত) আদায় করবেন না ..." অবশিষ্ট বর্ণনা সুহায়ল থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ উটের যে কোন মালিক তার হক (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে এবং উটগুলোও কয়েকগুণ বড় হয়ে আসবে। অতঃপর তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলা হবে। এসব পশু নিজ নিজ পা ও খুর দিয়ে তাকে পদদলিত করতে থাকবে। আর যে সব গরুর মালিক এর হক (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন ঐ গরুগুলো অনেক মোটা তাজা হয়ে আসবে। তাকে এক সমতল মাঠে ফেলে এগুলো তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে এবং পা দিয়ে মাড়াবে। আর যে সব ছাগলের মালিক এর হাক (হক) আদায় করবে না কিয়ামতের দিন এগুলো অনেক অনেকগুণ বড় দেহ নিয়ে এসে তাকে এক সমতল ময়দানে ফেলে শিং মারতে থাকবে এবং পা দিয়ে মারতে থাকবে আর এগুলোর কোন একটিও শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যে সব ধনাগারের মালিক এর হক আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তার গচ্ছিত সম্পদ একটি টাক মাথার বিষধর অজগর সাপ হয়ে মুখ হা করে তার পিছু ধাওয়া করবে। মালিক পালাবার জন্য দৌড়াতে থাকবে আর পিছন থেকে ঐ সাপ তাকে ডেকে ডেকে বলতে থাকবে তোমার গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে যাও। কারণ এগুলো আমার প্রয়োজন নেই। অতঃপর যখন সে (মালিক) দেখবে এ সাপ তাকে ছাড়ছে না, তখন সে এর মুখে নিজের হাত ঢুকিয়ে দিবে। সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে। যুবায়র বলেন, আমি উবায়দুল্লাহ ইবন উমায়রকেও এই একই কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও উবায়দ ইবন উমায়রের অনুরূপ কথা বললেন। আবূ যুবায়র বলেন, আমি উবায়দ ইবন উমায়রকে বলতে শুনেছি- এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রসূল! উটের হাক (হক) কী? তিনি বললেনঃ পানির কাছে বসে দুধ দোহন করা, তার পানির বালতি ধার দেয়া, আর প্রয়োজনের জন্য উট চাইলে তাও ধার দেয়া, এর বীর্য (বীজ) দেয়া এবং আল্লাহর পথে এর পিঠে অপর লোকদেরকে (জিহাদের জন্য) আরোহণ করতে দেয়া।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর হক (হক) আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে; অতঃপর খুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে। আর সে দিন এর কোন একটি জন্তুই শিং বিহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। আমরা (সাহাবীগণ) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এদের হাক (হক) কী? তিনি বললেন এদের নরগুলো (মাদীগুলোর জন্য) বীর্য গ্রহণের জন্য দেয়া, পানি পানের জন্য বালতি চাইলে দেয়া, দুধ পান করতে চাইলে পান করানো, পানি পান করার সময় দুধ দোহন করা এবং গরীব মিসকীনকে দেয়া, আর আল্লাহর পথে পিঠে অপরকে আরোহণ করানো এবং যোদ্ধা বহনের জন্য চাইলে দেয়া। আর যে সব সম্পদের মালিক তার মালের যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার এ মাল সম্পদকে একটি টাক পড়া বিষধর অজগর সাপে রূপান্তরিত করা হবে এবং সে তার মালিকের পিছু ধাওয়া করবে। মালিক পালানোর উদ্দেশে যেখানে যাবে এটাও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, এ হলো তোমার সে সম্পদ যাতে তুমি কৃপণতার আশ্রয় নিয়েছিলে এবং যাকাত দেয়া থেকে বিরত ছিলে। অতঃপর যখন সে দেখবে যে সাপের কবল থেকে আর পালানোর কোন উপায় নেই তখন সে তার (সাপের) মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে এবং সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন আল জাহদারী .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন গ্রাম্য লোক এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, কোন কোন যাকাত আদায়কারী আমাদের কাছে গিয়ে আমাদের উপর যুলুম করে। (ভাল ভাল জন্তু ও মালামাল যাকাত হিসেবে নিয়ে আসে অথচ শারীআতের বিধানানুযায়ী মধ্যম ধরনের বস্তু যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকে সম্ভষ্ট করে দিবে (যদিও তারা কিছু বাড়াবাড়ি করে)"। জারীর বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ কথা শুনার পর যখনই কোন যাকাত আদায়কারী আমার কাছে আসত আমি তাকে সন্তুষ্ট না করে ছাড়তাম না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবন বাশশার ও ইসহাক্ক .... মুহাম্মাদ ইবন আবূ ইসমাঈল তারা সকলেই মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাবার ছায়ায় বসা ছিলেন। এমন সময় আমি গিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেনঃ কাবার প্রভুর শপথ। তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি গিয়ে তার কাছে বসলাম কিন্তু অনতিবিলম্বে দাড়িয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, সে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা কারা?" তিনি বলেনঃ এরা হলো সব ধনাঢ্য ব্যক্তি তবে তারা নয় যারা এদিকে ওদিকে সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে অকাতরে (আল্লাহর পথে) খরচ করে। তবে সংখ্যায় এরা খুব কম। আর যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন উট, গরু, ছাগল মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে একং তাকে (মালিককে) ওদের পা ও খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। এর শেষ পশুটি অতিক্রম করলে প্রথমটি পুনরায় এসে ঐরপ করতে আরম্ভ করবে। আর এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বান্দাদের বিচার শেষ হবে।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাবাহ শরীফের ছায়ায় বসে ছিলেন। এমন সময় আমি তার কাছে গিয়ে হাজির হলাম। হাদীসটির বাকী অংশে বর্ণনাকারী ওয়াকী এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি বলেছেন "সে মহান প্রভুর শপথ যার হাতে আমার জীবন যেসব লোক উট, গরু ও ছাগল রেখে মারা যায় এবং যাকাত আদায় করেনি।"
আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম আল জুমাহী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় এবং তিন দিনের বেশী আমার কাছে এক দীনারও অবশিষ্ট থাকুক- এটা আমি চাই না। তবে আমার উপর যে ঋণ রয়েছে তা পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ আমার কাছে থাকুক।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ থেকে নবী (ﷺ) এর উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দুপুরের পর আমি নবী (ﷺ) এর সাথে মদীনার কঙ্করময় মাঠ দিয়ে চলছিলাম এবং আমরা উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ "যদি এ উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় তাহলে তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ ছাড়া অতিরিক্ত একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাক তা আমি পছন্দ করি না। তা আমার হস্তগত হলে আমি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিব। তিনি সামনের দিকে, ডানে এবং বামে হাতের ইঙ্গিতে এক এক ভরা মুঠ দেখালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা আবার অগ্রসর হলাম। তিনি আবার বললেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমি হাজির আছি। তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন অঢেল সম্পদের মালিকেরা কম সাওয়াব লাভ করবে। তবে যারা সৎপাত্রে যথোচিতভাবে এভাবে দান করবে তাদের সাওয়াব কোন অংশেই কম হবে না। তিনি মুষ্ঠিভরে পূর্বের ন্যায় ইঙ্গিত করে দেখালেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা চলতে থাকলাম। কিছু দূর অগ্রসর হলে তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি এখানে অপেক্ষা কর এবং আমার ফিরে না আসা পর্যন্ত কোথাও যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলেন। তারপর আমি কিছু গোলমাল ও শব্দ শুনতে পেয়ে মনে করলাম, বোধ হয় রসূলুল্লাহ (ﷺ) শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। আমি তাকে খোজার জন্য মনস্থ করলাম। কিন্তু সাথে সাথে এ স্থান ত্যাগ না করার জন্য তার নির্দেশ আমার মনে পড়ে গেল। তাই আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। অতঃপর তিনি ফিরে আসলে আমি যা কিছু শুনেছিলাম তা তাকে জানালাম। তিনি বললেন, তুমি যার শব্দ শুনেছো তিনি ছিলেন জিবরীল। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে বলেছেন, "আপনার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন প্রকার শির্ক না করা অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, যদি সে যিনা করে এবং চুরি করে (তবুও কি) তিনি বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে তবুও।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি বাইরে বের হলাম। হঠাৎ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একাকী চলতে দেখলাম, তার সাথে অন্য কোন লোক ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি ধারণা করলাম, তিনি বোধ হয় কাউকে সাথী করতে পছন্দ করছেন না, তাই এভাবে একাকী চলছেন (অন্যথায় সাহাবীগণ তো কোন সময়েই তাকে একাকী বের হতে দিতেন না)। আবূ যার বলেন, তাই আমি চাঁদের আলোকে বা ছায়ায় চলতে লাগলাম (যাতে তিনি আমাকে দেখতে না পান)। তিনি পিছনের দিকে ফিরে আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, "আবূ যার! আল্লাহ আমাকে আপনার খিদমাতে উৎসর্গকারী হিসেবে কবুল করুন।" তিনি বললেন, হে আবূ যার! আমার সাথে এসো। আবূ যার বলেন, তারপর কিছু সময় তার সাথে চলার পর তিনি বললেন, যারা এ পার্থিব জীবনে অগাধ সম্পদের মালিক তারা কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে। তবে যাদেরকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দানের পর তারা নিজেদের সম্পদ ডানে, বামে, সামনে, পিছনে ছড়িয়ে দিবে এবং এর দ্বারা বিভিন্নমুখী পুণ্যের কাজ করবে তারা এর ব্যতিক্রম। (এরা ধনী হলেও পরকালে মর্যাদার দিক থেকে কোন প্রকার পিছিয়ে থাকবে না)। আবূ যার বলেন, অতঃপর আমি তার সাথে কিছু সময় হাটার পর তিনি আমাকে বললেন, এখানে তুমি বসে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে এমন একটি পরিষ্কার স্থানে বসালেন যার চতুস্পার্শ্বে পাথর ছিল। তিনি আমাকে বললেন, আমার ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে বসে থাকবে। আবূ যার আরও বলেন, অতঃপর তিনি পাথুরে মাঠের মধ্যে চলে গেলেন এবং এতদূরে গেলেন যে, আমি তাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবস্থান করলেন। তারপর আমি তাকে আসতে আসতে এ কথা বলতে শুনলাম, "যদিও চুরি করে, যদিও যিনা করে।" তিনি যখন ফিরে আসলেন আমি আর ধৈর্য ধরতে পারলাম না। তাই তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ হিসেবে কবুল করুন, ঐ পাথুরে স্থানে আপনি কার সাথে আলাপ করছিলেন? আমি তো আপনার কথার জবাব দানকারী কাউকে দেখতে পাইনি। তিনি বললেন, জিবরীল। পাথুরে স্থানে আমার আগেই তিনি এসেছিলেন এবং আমাকে বলেছেন, "আপনি আপনার উম্মাতকে সুসংবাদ দিন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে যাবে। অতঃপর আমি বললাম, হে জিবরীল! যদি আমার সে উন্মত চুরি করে এবং যিনা করে? তিনি এবারও বললেন, তবুও। তিনি বলেন, আমি পুনরায় বললামঃ যদিও সে চুরি করে এবং যিনায় লিপ্ত হয়? তিনি বললেন, হ্যা যদিও সে শরাব (মাদকদ্রব্য) পান করে।
যুহায়র ইবন হারব .... আহনাফ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় আসার পর একদা কুরায়শদের এক সমাবেশে বসা ছিলাম। সেখানে তাদের (গোত্রীয় নেতা) দলপতিও উপস্থিত ছিল। এমন সময় মোটা কাপড় পরিহিত সুঠাম দেহের অধিকারী ও রুক্ষ চেহারার এক ব্যক্তি আসল। এসে দাড়িয়ে বলল, সম্পদ কুক্ষিগতকারীদের সুসংবাদ দাও যে, একটি পাথর জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে, তাদের কারো বুকের মাঝখানে রাখা হবে। এমনকি তার কাঁধের হাড় ভেদ করে বেরিয়ে যাবে এবং কাঁধের হাড়ের উপর রাখা হলে তা স্তনের বোটা ভেদ করে বেরিয়ে যাবে এবং পাথরটি (আগুনের উত্তাপের ফলে) কাঁপতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকেরা সবাই মাথা নত করে থাকল এবং তার বক্তব্যের প্রত্যুত্তরে কাউকে কিছু বলতে দেখলাম না। অতঃপর সে পেছন দিকে ফিরে এসে একটি খুটির কাছে বসে পড়ল, আমিও তাকে অনুসরণ করলাম। তার কাছে এসে বসলাম। তারপর আমি বললাম যে, এরা তো তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে বলে আমি দেখতে পাচ্ছি। তিনি (উত্তরে) বললেন, এরা (দীন সম্পর্কে) কিছুই বোঝে না বা জ্ঞান রাখে না। আমার বন্ধুবর আবূল কাসিম (ﷺ) একবার আমাকে ডাকলেন এবং আমি উপস্থিত হলাম। অতঃপর তিনি বললেন, "তুমি উহুদ পাহাড় দেখতে পাচ্ছ? আমি তখন সূর্যের দিকে আমার দৃষ্টি নিবন্ধ করলাম এবং ধারণা করলাম, হয়ত তিনি আমাকে তার কোন কাজে পাঠাবেন। আমি বললাম, হ্যা দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি বললেন, আমি এটা চাই না যে, এ পাহাড় আমার জন্য সোনা হোক আর যদি এত অঢেল সম্পদের মালিক আমি হয়েও যাই তাহলে ঋণ পরিশোধের জন্য, শুধু তিন দীনার রেখে বাকি সব খরচ করে দিব। অতঃপর এরা শুধু দুনিয়া সঞ্চয় করছে, আর কিছুই বুঝছে না।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে বললাম, তুমি ও তোমার কুরায়শ গোত্রীয় ভাইদের কী হয়েছে; তুমি তাদের কাছে প্রয়োজনে কেন যাও না মেলামেশা করো না আর কেন বা কোন কিছু গ্রহণ করো না? উত্তরে সে বলল, তোমার প্রভুর শপথ আমি আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে (মৃত্যু পর্যন্ত) তাদের কাছে পার্থিব কোন কিছু চাই না এবং দীন সম্পর্কেও কোন কিছু জিজ্ঞেস করব না।
শায়বান ইবন ফাররূখ ..... আহনাফ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি কুরায়শ গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় আবূ যার সেখানে এসে বলতে লাগলেন, অগাধ সম্পদ পুঞ্জীভূতকারীদেরকে এমন এক দাগের সুসংবাদ দাও যা পিঠে লাগানো হবে এবং পার্শ্বদেশ ভেদ করে বের হবে। আর ঘাড়ে লাগানো হবে এবং তা কপাল ভেদ করে বের হবে। অতঃপর তিনি একপাশে গিয়ে বসলেন। আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা (উত্তরে) বলল, ইনি হলেন আবূ যার। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি তার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে বললাম, একটু আগে আপনাকে যে কথাটি বলতে শুনলাম তা কী কথা ছিল? তিনি (আবূ যার) বললেন, আমি তো সে কথাই বলছিলাম যা আমি নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে শুনেছি। রাবী বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এসব দান (আমীরগণ গনীমাতের মালের যে অংশ মুসলিমদেরকে দিচ্ছে) এ সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন, তোমরা তা গ্রহণ করতে থাক, কেননা ব্যয়ভার বহনের জন্য এর দ্বারা এখন সাহায্য হচ্ছে। কিন্তু যখন এ দান বা গনীমাত তোমার দীনের বিনিময়ে (মানে হলো দীন ও ঈমান বিক্রি করা তোমাকে দীনের পরিপন্থী কাজে ব্যবহারের চেষ্টা কল্পে হয়) তখন এ দান গ্রহণ করো না।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "হে আদম সন্তানেরা তোমরা অকাতরে দান করতে থাক, আমিও তোমাদের উপর ব্যয় করব।" নবী (ﷺ) আরও বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। রাত দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার একটি নিম্নরূপ। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আমাকে বলেছেন, 'খরচ কর, তোমার উপরও খরচ করা হবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেন, আল্লাহ তাআলার হাত আরো প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। রাত দিন ব্যয় করা সত্ত্বেও তা মোটেই কমছে না। একটু ভেবে দেখ! আসমান জমিন সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত যে বিপুল পরিমাণ ব্যয় করেছেন এতে তার হাত একটুও খালি হয়নি। তিনি বলেন, তার (আল্লাহর) আরশ পানির উপর এবং তার অপর হাতে রয়েছে মৃত্যু। যাকে ইচ্ছে করেন উপরে উঠান ও উন্নত করেন। আর যাকে চান নীচু করেন, অবনত করেন।
আবূ রবী আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যে সব দীনার (বা স্বর্ণমুদ্রা) ব্যয় করে থাকে এর মধ্যে ঐ দীনারটি উত্তম যা সে তার পরিবার-পরিজনের উদ্দেশে খরচ করে। অনুরূপভাবে আল্লাহর পথে (জিহাদের উদ্দেশে) তার আরোহণের জন্তুর জন্য সে যে দীনার ব্যয় করে তা উত্তম এবং আল্লাহর পথে তার সঙ্গীসাথীদের জন্য যে দীনার ব্যয় করে তা উত্তম। আবূ কিলাবাহ বলেন, তিনি পরিবারের লোকজন দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর আবূ কিলাবাহ আরও বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কে বেশী সাওয়াবের অধিকারী যে তার ছোট ছোট সন্তানদের জন্য খরচ করে এবং আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাদেরকে পবিত্র রাখেন, উপকৃত করেন এবং অভাব মুক্ত রাখেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, একটি দীনার গোলাম আযাদ করার জন্য এবং একটি দীনার মিসকীনদেরকে দান করলে এবং আর একটি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করলে। এর মধ্যে (সাওয়াবের দিক থেকে) ঐ দীনারটিই উত্তম যা তুমি তোমার পরিবারের লোকদের জন্য ব্যয় করলে।
সাঈদ ইবন মুহাম্মাদ আল জারমী .... খায়সামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার কোষাধ্যক্ষ আসলেন। তিনি বললেন, তুমি কি গোলামদের খাবারের ব্যবস্থা করেছো? তিনি বললেন, না! অতঃপর তিনি বলেন, তুমি গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসো। বর্ণনাকার বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাদের ভরণ-পোষণ করা, ব্যয়ভার বহন করা কর্তব্য তা না করে আটকে রাখাই কোন ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু উযযাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার কথা দিলেন। অতঃপর এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলে তিনি বললেন, এ ছাড়া তোমার কাছে কি আর কোন সম্পদ আছে? তিনি বললেন, না। নবী (ﷺ) বললেন, এমন কে আছ যে আমার কাছ থেকে এ গোলামটিকে ক্রয় করবে? নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ আল আদাবী তাকে আটশ' দিরহামে ক্রয় করলেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ দিরহামগুলো নিয়ে আসলেন। তিনি তা গোলামের মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, "এ অর্থ তুমি প্রথমে তোমার নিজের জন্য ব্যয় কর। তারপর যদি কিছু বাকী থাকে তাহলে তোমার পরিবারের লোকদের জন্য তা ব্যয় কর, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যয় কর, এরপরও যদি কিছু অবকাশ থাকে তাহলে তা এদিকে সেদিকে ব্যয় কর।" এ বলে তিনি সামনে, ডানে ও বামে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন।
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... জাবির থেকে বর্ণিত। আবূ মাযকুর নামে আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ছিল। তার মৃত্যুর পর তার গোলাম আযাদ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার নাম ছিল ইয়াকুব। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ লায়স বর্ণিত হাদীসের সমর্থবোধক।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় আনসার সম্প্রদায়ের মধ্যে আবূ তলহাহ্ প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তার সকল সম্পদের মধ্যে "বায়রুহা" নামক বাগানটি তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল। এটি মসজিদে নাবাবীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বাগানে যেতেন এবং এর মিষ্টি পানি পান করতেন। আনাস বলেন, যখন এ আয়াত- "তোমরা যতক্ষণ তোমাদের নিজেদের প্রিয় জিনিস (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করবে- ততক্ষণ কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না"(আ-লি ইমরান ৩ঃ ৯২) অবতীর্ণ হলো, আবূ তলহাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দাড়িয়ে বললেন, মহান আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে বলেন, "তোমরা কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।" আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো "বায়রাহা" নামক বাগানটি, আমি তা আল্লাহর পথে সাদাকা (দান) করলাম। আমি এর থেকে কল্যাণ পেতে চাই এবং আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব জমা হওয়ার আশা রাখি। কাজেই হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার ইচ্ছামত তা ব্যয় করুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, অত্যন্ত ভাল কথা; এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। তোমার প্রিয়জন ও নিকটবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও। অতঃপর আবূ তলহাহ এটা তার আত্মীয়-স্বজন ও তার চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই প্রকৃত সাওয়াব লাভ করতে পারবে না"- এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হলো আবূ তলহাহ বলেন, এ তো মহা সুযোগ। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের মাল থেকে চাচ্ছেন। তাই হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমার "বায়রাহ" নামক বাগানটি আল্লাহর জন্য দান করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার এ বাগান তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আনাস বলেন, তিনি এটা হাসসান ইবন সাবিত ও উবাই ইবন কাব এর মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একটি দাসী আযাদ করে দেন। অতঃপর আমি এ কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানালাম। তিনি বললেন, "যদি তুমি এ দাসীটি তোমার মামাদের দান করতে তাহলে অনেক বেশী সাওয়াব পেতে।
হাসান ইবন রবী .... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, হে নারী সমাজ! তোমরা (দান) সাদাকা কর যদিও তা তোমাদের গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়। যায়নাব বলেন, এ কথা শুনে আমি গিয়ে আমার স্বামী আবদুল্লাহকে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাদাকা করতে বলেছেন। আর তুমি তো গরীব অভাবী মানুষ, তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস কর, তোমাকে দান করলে তা দান হিসেবে গণ্য হবে কিনা? তা না হলে অপর কাউকে দান করব। রাবী বলেন, আমার স্বামী আবদুল্লাহ আমাকে বললেন, বরং তুমিই যাও। অতঃপর আমিই গেলাম এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরজায় আনসার সম্প্রদায়ের অপর এক মহিলাকে একই উদ্দেশে দাড়ানো দেখলাম। কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হলেন অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও প্রভাবশালী লোক। অতঃপর বিলাল বের হয়ে আসলে আমরা তাকে বললাম, আপনি গিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলুন, দু'জন মহিলা দরজায় দাড়িয়ে আছে। তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে- যদি তারা তাদের নিজ স্বামীকে দান করে এবং তাদের ঘরেই প্রতিপালিত ইয়াতীমকেই দান করে তাহলে কি তা আদায় হবে? আর অনুরোধ হলো আমাদের পরিচয় তাকে জানাবেন না। রাবী বলেন, অতঃপর বিলাল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, মহিলাদ্বয় কে কে? তিনি বললেন, জনৈক আনসার গোত্রের এবং অপরজন যায়নাব? তিনি বললেন, আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব। অতঃপর তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা উভয়েই তাদের দানের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। এক- নিকটাত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য। দুই- সাদাকা করার জন্য।
আহমাদ ইবন ইউসুফ আল আযদী .... আবদুল্লাহ এর স্ত্রী যায়নাব থেকে বর্ণিত। .... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও আছে– যায়নাব বলেন, আমি মসজিদের ভিতরে ছিলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখে বললেন- "সাদাকা দাও যদিও তা তোমার গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়।"
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... যায়নাব বিনতে আবূ সালামাহ থেকে উম্মু সালামাহ্ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সালামার সন্তানদের জন্য আমি যা খরচ করি তার বিনিময়ে আমি কি সাওয়াব পাব? আর আমি চাই না যে, তারা আমার হাত ছাড়া হয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ুক। কেননা তারা তো আমারই সন্তান। অতঃপর তিনি (উত্তরে) বললেন হ্যা, তাদেরকে তুমি যা দান করবে তার সাওয়াব পাবে।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... হিশাম উরওয়াহ থেকে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আনবারী .... আবূ মাসউদ আল বাদরী থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মুসলিম ব্যক্তি সাওয়াবের আশায় তার পরিবার-পরিজনের জন্য যা কিছু খরচ করবে তা সবই তার জন্য সাদাকা দান হিসেবে গণ্য হবে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, আবূ বকর ইবন নাফি ও আবূ কুরায়ব .... শুবাহ্ থেকে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমার আম্মা এসেছেন। তবে তিনি আমাদের দীনের অনুসারী হতে আগ্রহী নন বা ইসলাম গ্রহণে বিমুখ, এখন আমি কি তার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করব? তিনি বললেন, হ্যা।
আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আবূ বকরের কন্যা আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার আম্মা আমার কাছে এসেছেন যে সময় কুরায়শদের সাথে সন্ধি বলবৎ ছিল আর তখন তিনি মুশরিকা ছিলেন। আসমা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললাম, আমার মা আমার কাছে এসেছেন আশা নিয়ে। আমি কি আমার আম্মার সাথে সদ্ব্যবহার করব? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তোমার আম্মার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ কর।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা হঠাৎ করে মারা গেছেন এবং কোন ওয়াসিয়্যাত করতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তাহলে ওয়াসিয়্যাত করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদাকা করি তাহলে কি তিনি এর সাওয়াব পাবেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা।
যুহায়র ইবন হারব, আবূ কুরায়ব, আলী ইবন হুজুর ও হাকাম ইবন মূসা .... বর্ণনাকারী হিশাম এ সানাদের মাধ্যমে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উসামার হাদীসে "তিনি ওয়াসিয়্যাত করেননি" বলা হয়েছে যেমনটি ইবন বিশর এর বর্ণনায় রয়েছে। কিন্তু বাকী রাবীগণ এ কথা বর্ণনা করেননি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... হুযায়ফাহ থেকে বর্ণিত। তবে কুতায়বাহ্ এর হাদীসে রয়েছে যে, "তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন"। আর ইবন আবূ শায়বাহ্-এর হাদীস আছে যে, নবী (ﷺ) বলেন, "প্রতিটি ভাল কাজই সাদাকা দান হিসেবে গণ্য।"
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকেরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে নামাজ আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে রোজা পালন করি তারাও সেভাবে রোজা পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা কি তোমাদেরকে এমন অনেক কিছু দান করেননি যা সাদাকা করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সাদাকা, প্রত্যেক তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) একটি সাদাকা, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সাদাকা। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সাদাকা রয়েছে। আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদাকা। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাত বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদম সন্তানকেই ৩৬০টি অস্থিসন্ধি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ আল্লা-হু আকবার বলবে, আলহামদু লিল্লাহ' বলবে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলবে, সুবহা-নাল্ল-হ' বলবে, আসতাগফিরুল্ল-হ' বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে একটি পাথর বা একটি কাটা বা একটি হাড় সরাবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করবে যে, সে নিজেকে ৩৬০ (অস্থিসন্ধি) সংখ্যা পরিমাণ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে বেচে থাকবে। আবূ তওবা তার বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, সে এ অবস্থায় সন্ধ্যা করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... মুআবিয়াহ থেকে এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার ভাই যায়দ এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এখানে "আও আমারা বিল মারূফ" (সৎকাজের আদেশ দিবে) এ কথাটি ব্যতীত উল্লেখ করেছেন এবং অন্য সূত্রে তিনি বলেছেন যে, "সে ঐ দিন ঐ অবস্থায় সন্ধ্যা করে।"
আবূ বকর ইবন নাফি আল আবদী .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর রাবী যায়দের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তার হাদীসের মধ্যে "সেদিন সে চলাফেরা করবে" কথাটি বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... সাঈদ ইবন আবূ বুরদাহ তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর সাদাকা করা ওয়াজিব। প্রশ্ন করা হল, যদি সাদাকা করার জন্য কিছু না পায়? তিনি বললেন, তবে সে নিজ হাতে উপার্জন করবে এবং নিজে উপকৃত হবে ও সাদাকা করবে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয় তবে কী হবে? তিনি বললেন, তাহলে সে অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্য করবে। রাবী বলেন, আবার জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয়? তিনি বললেন, তাহলে সৎ কাজের কিংবা কল্যাণের আদেশ করবে। আবারো জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে তাও না করে? তিনি বললেন, তবে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটাও সাদাকা।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ থেকে বর্ণিত।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। এর মধ্যে একটি হলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের প্রত্যেকটি গ্রন্থির উপর প্রতিদিনের জন্য সাদাকা ধার্য রয়েছে। দু' ব্যক্তির মধ্যে ইনসাফ করে দেয়াও একটি সাদাকা। কোন ব্যক্তিকে সওয়ারীর উপর আরোহণে সাহায্য করা অথবা তার মালামাল সওয়ারীর উপরে তুলে দেয়াও একটি সাদাকা। তিনি আরো বলেন, সকল প্রকার ভাল কথাই এক একটি সাদাকা, নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যেতে যতটি পদক্ষেপ ফেলা হয় তার প্রতিটিই এক একটি সাদাকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও একটি সাদাকা।
কাসিম ইবন যাকারিয়্যা .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বান্দা যখন সকালে ওঠে দু'জন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের জনৈক বলেন, "হে আল্লাহ খরচকারীর ধন আরো বাড়িয়ে দাও" এবং দ্বিতীয়জন বলেন, "হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দাও।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হারিসাহ ইবন ওয়াহব বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা সাদাকা দাও, এমন এক সময় আসবে মানুষ তার সাদাকা নিয়ে যাকে দিতে যাবে সে বলবে, যদি তুমি গতকাল আসতে তাহলে আমি এটা গ্রহণ করতাম। এখন আমার আর প্রয়োজন নেই। অতঃপর সে সাদাকা নেয়ার মতো কোন লোক পাবে না।
আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আল আশআরী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে যখন কোন লোক তার স্বর্ণের সাদাকা নিয়ে ঘুরতে থাকবে কিন্তু নেয়ার মতো কোন লোক পাবে না। আর একজন পুরুষের পিছনে চল্লিশ জন করে নারীকে অনুসরণ করতে দেখা যাবে। পুরুষের সংখ্যা কম এবং স্ত্রী লোকের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে তারা এদের কাছে আশ্রয় নিবে।
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত সম্পদের প্রাচুর্য না আসবে। এমনকি কোন ব্যক্তি সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘুরবে কিন্তু নেয়ার মতো লোক পাবে না। আরবের মাঠ ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে।
আবূ তাহির .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে এর প্লাবণ সৃষ্টি না হবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর তখন মানুষের প্রাচুর্য এমন চরম রূপ লাভ করবে যে, ধন-সম্পদের মালিকেরা এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়বে যে, তার যাকাত কে গ্রহণ করবে ও এমন লোক কোথায় পাওয়া যাবে। সাদাকা গ্রহণের জন্য কাউকে ডাকা হলে সে বলবে, আমার এর প্রয়োজন নেই।
ওয়াসিল ইবন আবদুল্লাহ আবদুল আ'লা, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ আর রিফাঈ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জমিন তার বক্ষস্থিত সোনা রূপা স্তম্ভের ন্যায় কলিজার টুকরাসমূহ বমি করে দিবে। অতঃপর হত্যাকারী এসে বলবে, আমি তো এর জন্যই খুন করেছিলাম। আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্নকারী এসে বলবে, এর জন্যই তো আমি আত্মীয়তা ছিন্ন করেছিলাম এবং তাদের হক্ব নষ্ট করেছিলাম। চোর এসে বলবে, এসবের জন্যই তো আমার হাত কাটা হয়েছে। তারপর সকলেই একে ছেড়ে দিবে এবং কেউই এর থেকে কিছুই নিবে না।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পবিত্র হালাল দ্বারা সাদাকা দেয়- আর আল্লাহ পবিত্র বা হালাল মাল ছাড়া গ্রহণ করেন না- করুণাময় আল্লাহ তার সাদাকা ডান হাতে গ্রহণ করেন, যদিও তা একটি খেজুর হয়। অতঃপর এ সাদাকা দয়াময় আল্লাহর হাতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অবশেষে তা পাহাড়ের চেয়েও অনেক বড় হয়ে যাবে- যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বা উটের বাচ্চাকে লালন পালন করে এবং সে দিন দিন বড় হতে থাকে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি তার হালাল ও পবিত্র উপার্জিত একটি খেজুর দান করলে আল্লাহ তাআলা ডান হাতে তা গ্রহণ করেন এবং তোমাদের কেউ যেভাবে উটের বা ঘোড়ার বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে থাকে, তিনিও সেভাবে এটা বাড়াতে থাকেন। অবশেষে তা পাহাড় অথবা এর চেয়েও অনেক বড় হয়।
উমাইয়্যাহ ইবন বিসত্বাম ও আহমাদ ইবন উসমান আল আওদী .... সুহায়ল থেকে এ সানাদের মাধ্যমে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে (রাবীদের বর্ণনায় কিছুটা শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে) রাওহ্ এর হাদীসে রয়েছে বৈধ উপার্জন হতে, অতঃপর খরচ করে সে তা তার প্রাপ্য স্থানে এবং সুলায়মানের হাদীসে "অতঃপর সে ব্যয় করে তা যথাস্থানে"।
আবূ ত্বাহির .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ..... উপরের হাদীসের অনুরূপ।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ ইবন আলী ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তাআলা তার প্রেরিত রসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।"(আল মুমিনূন ২৩ঃ ৫১) তিনি (আল্লাহ) আরো বলেছেন, "তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযক হিসেবে দিয়েছি তা খাও"(আল বাকারাহ ২ঃ ১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, "হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দোয়া তিনি কী করে কবুল করতে পারেন?"
আওন ইবন সাল্লাম আল কুফী .... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে বেচে থাকার সামর্থ্য রাখে সে যেন একটা খেজুর দিয়ে হলেও তাই করে। (দান যতই ক্ষুদ্র হোক তাকে খাটো করে দেখা যাবে না। সামান্য দানও কবুল হলে নাযাতের ওয়াসীলাহ্ হতে পারে)।
আলী ইবন হুজ্র আস্ সাদী, ইসহাক্ ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরাম ..... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেককেই আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলতে হবে তা এমনভাবে যে, আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে কোন দোভাষী থাকবে না। সে ডান দিকে তাকালে তার পৃথিবীতে করা যাবতীয় কাজ দেখতে পাবে। আর বাম দিকে তাকালেও সে তার কৃতকর্ম (ছাড়া আর কিছু) দেখতে পাবে না- যা তার মুখের কাছেই থাকবে। সুতরাং এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিস্কৃতি লাভ কর। ইবন হুজ্র .... খায়সামাহ্ থেকে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণনায় "একটি পবিত্র এবং ভাল কথার মাধ্যমে হলেও" কথাটি বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে। ইসহাক্ আমর ইবন মুররাহ্-এর সূত্রে খায়সামাহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ করে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং চরম অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করলেন- "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর"। তিনি পুনরায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও এমন ভাব প্রকাশ করলেন যাতে আমাদের মনে হচ্ছিল যে, তিনি তা দেখেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরা খেজুরের বিনিময়েও হয়। আর যার এ সামর্থ্যটুকু নেই সে যেন ভাল কথার মাধ্যমে তা করে।" বর্ণনাকারী আবূ কুরায়ব-এর বর্ণনায় "কাআন্নামা" যেন শব্দটির উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, আবূ মুআবিয়াহ আমার কাছে বলেন এবং আমাশ তার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের কথা উল্লেখ করে (আল্লাহর কাছে) এর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং তিনবার মুখ ফিরিয়ে অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরা খেজুরের মাধ্যমেও হয়। আর যদি তোমরা এতটুকু দান করতেও সমর্থ না হও তাহলে ভাল কথার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বাচো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আল আনাযী .... মুনযির ইবন জারীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা ভোরের দিকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার কাছে পাদুকাবিহীন, বস্ত্রহীন, গলায় চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুযার গোত্রের লোক ছিল। অভাব অনটনে তাদের এ করুণ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত ও বিষন্ন হয়ে গেল। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বিলাল কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল আযান ও ইকামাত দিলেন। নামাজ শেষ করে তিনি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেনঃ "হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে আদম থেকে সৃষ্টি করেছেন। .... নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী"- (আন নিসা ৪ঃ ১)। অতঃপর তিনি সূরা হাশরের শেষের দিকের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে"- (আল হাশর ৫৯ঃ ১৮)। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দীনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক সা' আটা ও কেউ এক সা খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি বললেন, অন্ততঃ এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, আনসার সম্পপ্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলি নিয়ে আসলেন। এর ভারে তার হাত অবসাদগ্ৰস্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা অবশ হয়ে গেল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দু'টি স্তুপ হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা মুবারক খাটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে হাসতে লাগল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এক কাজের সাওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করবে সে এর বিনিময়েও সাওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সাওয়াব কোন অংশে কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলামের পরিপন্থী) কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা (গুনাহ এবং শাস্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আনবারী .... মুনযির ইবন জারীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দিনের প্রথম ভাগে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম .... ইবন জাফারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আর মুআয থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ "অতঃপর তিনি (ﷺ) যুহরের নামাজ আদায় করলেন এবং ভাষণ দিলেন" উক্তিটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ আবদুল মালিক আল আল উমাবী .... মুন্যির ইবন জারীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় চামড়ার আবা পরিহিত একদল লোক আসলেন .... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, অতঃপর তিনি যুহরের নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর ছোট একটি মিম্বারে উঠে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে নাযিল করেছেন- "হে মানব গোষ্ঠী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর।
যুহায়র ইবন হারব .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় গ্রাম থেকে কয়েক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসল। তিনি তাদের দুরবস্থা দেখেন। তারা অভাব অনটনে নিমজ্জিত আছে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের হাদীসসমূহের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন মাঈন ও বিশর ইবন খালিদ .... আবূ মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বোঝা বহনকারী শ্রমিক ছিলাম, আমাদেরকে দান-খয়রাত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। অতঃপর আবূ আকীল অর্ধ সা' সাদাকা করল এবং আরেক ব্যক্তি এর চেয়ে কিছু বেশী নিয়ে আসল। মুনাফিকরা বলতে লাগল আল্লাহর কাছে সামান্য দানের কোন মূল্য নেই এবং তিনি এর মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি (আবূ আকীল) শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশেই দান করেছেন। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হলোঃ "যারা বিদ্রুপ করে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা প্রদানকারী মুমিনদেরকে, আর তাদেরকে যাদের পরিশ্রমিক ছাড়া কোন আয় বা সামর্থ নেই"- (আত্ত্বওবা ৯ঃ ৭৯)।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইসহাক ইবন মানসূর .... শুবাহ থেকে এ সূত্রে এ হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবন রবী এর বর্ণনায় আছেঃ আবূ মাসউদ বলেন, আমরা পিঠে করে বোঝা বহন করতাম।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ "যে ব্যক্তি কোন পরিবারকে এমন একটি উষ্ট্ৰী দান করে যা সকাল ও সন্ধ্যা বড় একটি পাত্র ভর্তি দুধ দেয়, এর বিনিময়ে তার অনেক সাওয়াব হয়।"
মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... আবূ হুরায়রাহ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি কিছু সংখ্যক কাজ ও অভ্যাস পরিত্যাগের নির্দেশ দান করলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মানীহাহ্ (দুগ্ধবতী জন্তু বিনামূল্যে দুধ পানের জন্য) দান করে, সকাল সন্ধ্যায় যখনই এর দুধ পান করা হয় তখনই সে একটি করে সদাকার সাওয়াব লাভ করে।
আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেনঃ খরচকারী ও দান-খয়রাতকারী (এখানে বর্ণনাকারীর ভুল হয়ে গেছে সঠিক কথা হলো- কৃপণ ও সদাকাকারীর) উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার পরনে দুটি জামা অথবা দুটি বর্ম রয়েছে (বর্ম সম্পর্কে বর্ণনাকারী বলেন, যখন সদাকাকারী সাদাকা দিতে ইচ্ছে করে) তখন ঐ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায় এবং তার সমস্ত শরীরে ছেয়ে যায়। আর যখন কৃপণ ব্যক্তি ব্যয় করতে চায় তখন ঐ বর্ম তার জন্য সঙ্কীর্ণ হয়ে এবং বর্মের পরিধি স্ব-স্ব স্থানে কমে যায়। এমনকি তার সব গ্রন্থিগুলো আবৃত করে ফেলে এবং তার পায়ের চিহ্নগুলোও মুছে ফেলে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ হুরায়রাহ তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, "অতঃপর নবী (ﷺ) বলেন, সে তা প্রশস্ত করতে চায় কিন্তু প্রশস্ত হয় না।"
সুলায়মান ইবন উবায়দুল্লাহ আবূ আইয়ুব আল গায়লানী ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(ﷺ) কৃপণ ও দাতার উদাহরণ দিতে গিয়ে এমন দু' ব্যক্তির উল্লেখ করেন যাদের গায়ে রয়েছে দুটি লৌহবর্ম। এর কারণে তাদের দু' হাত তাদের বুকের ও গলার হাসুলির সাথে লেগে গেছে। অতঃপর দাতা যখন দান করতে চায় ঐ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায় এবং তার গ্রন্থগুলো আবৃত করে ফেলে। এমনকি তার পদচিহ্নকেও মুছে দেয়, আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে চায় তখন তার বর্ম সংকুচিত হয়ে কষে যায় এবং এর প্রতিটি কড়া নিজ নিজ স্থানে ফেঁসে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার হাত দিয়ে জামার কলারের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখেছি। আর যদি তোমরা তাকে দেখতে তাহলে সে বলত, প্রশস্ত করতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ঐ বর্ম প্রশস্ত হচ্ছিল না।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীলদের উদাহরণ হচ্ছে এমন দু' ব্যক্তির মতো যাদের পরনে দু'টাে লৌহবর্ম রয়েছে। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখন দান করার ইচ্ছা করল তার বর্ম প্রশস্ত হয়ে গেল এমনকি তার পায়ের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে ফেলতে লাগল। কিন্তু যখন কৃপণ ব্যক্তি দান করার ইচ্ছা করল তখন তা সঙ্কীর্ণ হয়ে গেল এবং তার হাত গলার সাথে আটকে পড়ল আর প্রতিটি গ্রন্থি অপরটির সাথে কষে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তারপর সে তা প্রশস্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু তা করতে সক্ষম হয় না।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ এক ব্যক্তি বলল, আমি আজ রাতে কিছু দান-খয়রাত করব। অতঃপর সে সাদাকা নিয়ে বের হয়ে এক যিনাকারীকে তা অর্পণ করল। ভোরে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক ব্যক্তি যিনাকারীকে দান-খয়রাত করেছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার প্রদত্ত সাদাকা তো যিনাকারীর হাতে গিয়ে পড়েছে। এরপর সে (আবার) বলল, আজ আমি আরো কিছু সাদাকা করব। অতঃপর সে তা নিয়ে বের হয়ে এক ধনী লোকের হাতে অর্পণ করল। লোকজন ভোরে আলাপ করতে লাগল যে, আজ রাতে কে যেন এক ধনী লোককে সাদাকা দিয়ে গেছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার সাদাকা তো ধনীর হাতে গিয়ে পড়েছে। তারপর সে পুনরায় বলল, আমি আজ রাতে কিছু সাদাকা দিব। সাদাকা নিয়ে বের হয়ে সে এক চোরের হাতে অৰ্পণ করল। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে লাগল। আজ রাতে কে যেন চোরকে সাদাকা দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারই। আমার প্রদত্ত সাদাকা যিনাকারী, ধনী ও চোরের হাতে পড়ে গেছে। অতঃপর এক ব্যক্তি (ফেরেশতা বা সে যুগের কোন নবী) এসে তাকে বলল, তোমার প্রদত্ত সকল সাদাকাই কবুল হয়েছে। যিনাকারীকে দেয়া সাদাকা কবুল হওয়ার কারণ হলো- সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে যিনা থেকে বিরত ছিল (কেননা সে পেটের জ্বালায় এ কাজ করত) ধনী ব্যক্তিকে যে সাদাকা দেয়া হয়েছিল তা কবুল হওয়ার কারণ হলো ধনী ব্যক্তি এতে লজ্জিত হয়ে হয়ত নাসীহাত গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে সেও দান করবে বলে সঙ্কল্প করেছে। আর চোরকে দেয়া সাদাকা কবুল হওয়ার কারণ হলো সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে চুরি থেকে বিরত ছিল। কেননা সেও পেটের তাগিদে চুরি করত।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ আমির আল আশআরী, ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে মুসলিম আমানতদার কোষাধ্যক্ষ নির্দেশ মুতাবিক যথাযথভাবে হুকুম পালন করে বা দান করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাপককে পূর্ণমাত্রায় দান করে, সেও জনৈক দাতা হিসেবে গণ্য, সেও মূল মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক ক্ষতির মনোভাব না নিয়ে স্বামীর ঘরের খাদ্যদ্রব্য দান করে, সে তার দানের সাওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও তার উপার্জনের সাওয়াব পাবে। অনুরূপভাবে এ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারীও মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। এতে একজনের দ্বারা অপরজনের প্রাপ্য সাওয়াব মোটেও কমবে না।
ইবন আবূ উমর .... মানসূর এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে "তার ঘরে খাদ্যশস্যের" পরিবর্তে তার "স্বামীর খাদ্যশস্যের" কথা উল্লেখ আছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোনরূপ ক্ষতির মনোভাব ছাড়া স্ত্রী যখন তার স্বামীর ঘর থেকে খরচ করে, স্বামী স্ত্রী উভয়েই এর সমান সাওয়াব লাভ করে। স্বামী সাওয়াব পায় তার উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রী সাওয়াব পায় তার দানের জন্য। অনুরূপভাবে কোষাধ্যক্ষও সাওয়াব পাবে। তবে এদের সাওয়াব লাভের কারণে পরস্পরের সাওয়াবের কোন কমতি হবে না।
ইবন নুমায়র .... আমাশ এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, ইবন নুমায়র ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ লাহম-এর [আবদুল্লাহ] আযাদকৃত গোলাম উমায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম ক্রীতদাস। তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আমার মালিকের সম্পদ থেকে কিছু দান করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যা; আর তোমরা দু'জনেই এর অর্ধেক সাওয়াব পাবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ... আবূ লাহম এর মুক্ত গোলাম উমায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মালিক আমাকে গোশত শুকানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। আমার কাছে জনৈক মিসকীন আসলো। আমি তাকে এ থেকে খাওয়ার জন্য দিলাম। এটা টের পেয়ে আমার মালিক আমাকে মারধর করলেন। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে ব্যাপারটি জানালাম। তিনি তাকে ডেকে এনে বললেন, তুমি একে মারলে কেন? আমার মালিক বলেন, আমার খাদ্যদ্রব্য আমার অনুমতি ছাড়াই সে দান করে। তিনি বলেন, তোমরা দু'জনেই এর সমান সাওয়াব পাবে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তার একটি এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী যেন (নাফল) রোযা না রাখে। তার উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সে যেন তার ঘরে প্রবেশ করার জন্য অন্য কাউকে অনুমতি না দেয়। তার (স্বামীর) নির্দেশ ছাড়া সে তার উপার্জিত সম্পদ থেকে যা কিছু দান করবে তাতেও সে (স্বামী) অর্ধেক সাওয়াব পাবে।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ সম্পদ থেকে আল্লাহর রাস্তায় জোড়া খরচ করে জান্নাতে তাকে এই বলে ডাকা হবে যে, ওহে আল্লাহর বান্দা! এখানে আসো, এখানে তোমার জন্য উত্তম ও কল্যাণ রয়েছে। যে ব্যক্তি নামাযী তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। সাদাকা দানকারীকে সদাকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে এবং রোযাদারকে রোযার দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবূ বকর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তিকে সবগুলো দরজা দিয়ে ডাকা হবে কি? এমন কোন ব্যক্তি হবে কি যাকে সবগুলো দরজা দিয়েই ডাকা হবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হ্যা, আর আমি আশা করি তুমিই হবে তাদের মধ্যে সে ব্যক্তি।
আমর আন্ নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী-এর সূত্রে ইউনুস এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়ায় খরচ করবে জান্নাতের দরজাগুলোর প্রত্যেক কোষাধ্যক্ষ তাকে ডেকে বলবে, হে অমুক! এখানে আসো, এখানে আসো। আবূ বকর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যাকে এভাবে সবগুলো দরজা থেকে ডাকা হবে সে অসুবিধায় পড়ে যাবে না তো? তার কোন প্রকার অনিষ্টের সম্ভাবনা নেই তো? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি নিশ্চিতই আশা করি তুমিই হবে তাদের সে ব্যক্তি।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আজ তোমাদের মধ্যে কে রোযা রেখেছে? আবূ বকর বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাযার সাথে গেছে? আবূ বকর বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে মিসকীনকে খাবার দিয়েছে? আবূ বকর বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেছে? আবূ বকর বললেন, আমি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তির মধ্যে এসব কাজের সমাবেশ ঘটে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবূ বকরের কন্যা আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ খরচ করো তবে কত খরচ করলে তা গুণে রেখো না। তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাকে গুণে গুণে দিবেন। (কম দিবেন)
আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খরচ করো আর কত খরচ করলে তার হিসাব রেখো না। আর যদি তাই কর তাহলে আল্লাহ তাআলাও তোমাদেরকে গুণে গুণে দিবেন। আর জমা করে রেখো না তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। (আল্লাহ তোমাকে দিবেন না)
ইবন নুমায়র .... আসমা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে বললেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবূ বকরের কন্যা আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল যুবায়র আমাকে যা কিছু দেয়, এছাড়া আমার কাছে আর কোন মালামাল নেই। আমি যদি এ থেকে দান করি তাহলে আমার কি গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী দান কর; কিন্তু পুঞ্জীভূত করে রেখে না। যদি জমা করে রাখ তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। তোমাকে দিবেন না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ হে মুসলিম মহিলাগণ! তোমাদের কোন প্রতিবেশী যদি ছাগলের খুরও উপহার দেয় তবুও তা তুচ্ছজ্ঞান করবে না দাতা যেন লজ্জার বশীভূত হয়ে দান থেকে বিরত না থাকে এবং গ্রহীতাও যেন অল্প বলে অবজ্ঞা না করে।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তাআলার ইবাদাতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (জামাআতের সাথে নামাজ আদায়ে যত্নবান), (৪) সে দু'ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে একে অপরকে ভালবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যেই (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহবান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি; (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দু'টো (আল্লাহর ভয় বা ভালবাসায়) অশ্রুপাত করে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন .... উবায়দুল্লাহর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। সেখানে এ কথা রয়েছে যে ব্যক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে পুনরায় এখানে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের সাদাকা বা দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, তুমি এমন অবস্থায় দান করবে, যখন তুমি সুস্থ-সবল, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শনকারী, দারিদ্র্যকে ভয়কারী ও এবং ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষাকারী। আর (সাদাকা প্রদানে) বিলম্ব করবে না জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্ব করে প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে গেলে তখন তুমি বলবে, এটা অমুকের ওটা অমুকের- এরূপ ঠিক নয়। তখন তো এগুলো অমুকের হয়েই যাচ্ছে। তোমার মরার সাথে সাথে উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের দানে বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়? তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ। (আমি অবশ্য তোমাকে জানাচ্ছি) তুমি সুস্থ, সবল ও অনুরক্ত অবস্থায় দান করবে যে, তুমি দারিদ্র্যকে ভয় কর এবং ধনী হওয়ার বাসনা রাখ। আর দানের ব্যাপারে জীবন বায়ু কণ্ঠনালী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে, তখন বলতে থাকবে অমুকের জন্য এটা, অমুকের জন্য ওটা। বরং তখন তো এসব অমুকের হয়েই যাবে। (তোমার আর দান করার প্রয়োজন হবে না বরং তোমার মৃত্যুর পর এ সব উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে)।
আবূ কামিল আল জাহদারী .... উমারাহ ইবন ক্বা-ক্বা থেকে এ সূত্রেও জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি "আইয়ুসাদাকাতি আজম" এর স্থলে "আইয়ুসাদাকাতি অফদ্যাল" বলেছেন। এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ কোন ধরনের দান-খয়রাত সর্বোত্তম?
কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাড়িয়ে নাসীহাত করলেন। তিনি বললেন, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হলো দানকারী। আর নীচের হাত হলো দান গ্রহণকারী।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আহমাদ ইবন আবদাহ .... হাকীম ইবন হিযাম থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম দান। উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (বা ভিক্ষাকারীর) চেয়ে উত্তম। আর যাদেরকে লালন পালন করো তাদেরকে দিয়ে নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দান-খয়রাত শুরু কর।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ .... হাকীম ইবন হিযাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য আবেদন করলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার আবেদন করলাম। তিনি আবারও দিলেন। আমি পুনরায় আবেদন করলে। তিনি দিলেন এবং বললেনঃ "এ সম্পদ টাটকা এবং মিষ্টি।" সুতরাং যে ব্যক্তি না চেয়ে এবং দাতার স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান হিসেবে এ মাল লাভ করল তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কাকুতি মিনতি করে নিজেকে হীন ও অপমানিত করে তা লাভ করল তাকে এ মালের মধ্যে বারাকাত দেয়া হয় না। তার অবস্থাটা ঐ ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ তুষ্ট হয় না। আর উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (গ্রহণকারীর) চেয়ে উত্তম।
নাসর ইবন আলী আল জাহযামী, যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ ... আবূ উমামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "হে আদম সন্তান! তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে মালামাল রয়েছে তা খরচ করতে থাক; এটা তোমার জন্য উত্তম। আর যদি তুমি তা দান না করে কুক্ষিগত করে রাখো তাহলে এটা তোমার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। তবে প্রয়োজন পরিমাণ রাখায় কোন দোষ নেই। এজন্য তোমাকে ভৎসনাও করা হবে না। যাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদেরকে দিয়েই দান শুরু কর। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন আমির আল ইয়াহসাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়াহ বলেন, তোমরা হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে। কেবলমাত্র সে সকল হাদীস বর্ণনা করতে পারো যা উমার এর সময় ছিল। কেননা উমার লোকদের মনে আল্লাহর ভয় বদ্ধমূল করার প্রয়াস পেতেন। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।" মুআবিয়াহ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আরো বলতে শুনেছিঃ "আমি তো শুধুমাত্র জনৈক খাজাঞ্চি। যাকে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করি, তাতে তার বারাকাত হয়। আর যাকে আমি তার সনির্বন্ধ মিনতি ও উত্যক্ত করার পর দেই তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারে না।"
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... মুআবিয়াহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কোন কিছু পাওয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত কাকুতি মিনতির আশ্রয় নিও না। কেননা, আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চায়, আর তার মিনতিপূর্ণ আকুল প্রার্থনাই আমাকে দানে বাধ্য করে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তাহলে এতে কী করে বারাকাত হবে?
ইবন আবূ উমার আল মাক্কি .... আমর ইবন দীনার থেকে ওয়াহব ইবন মুনাব্বিহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সনাআ নামক স্থানে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আখরোট দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। তার (ওয়াহব ইবন মুনব্বিহ) ভাই বর্ণনা করেন, আমি আবূ সুফইয়ান এর পুত্র মুআবিয়াহ কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি ... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।"
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি খুতবাহ দেয়ার সময় বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি জনৈক বণ্টনকারী আর দান করার মালিক আল্লাহ এবং তিনিই দিয়ে থাকেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং দু' এক গ্রাস খাবার বা দু' একটা খেজুর ভিক্ষা নিয়ে ফিরে যায় তারা (প্রকৃত) মিসকীন নয়। এ কথা শুনে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে মিসকীন কে? (উত্তরে) তিনি (ﷺ) বললেন, মানবীয় মৌলিক প্রয়োজন মিটানোর মত সামর্থ্য যার নেই আর সমাজের মানুষও তাকে অভাবী বলে জানে না যাতে তাকে দান করতে পারে এবং সে নিজেও (মুখ খুলে) কারো কাছে কিছু চায় না।"
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব ও কুতায়বাহু ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি দু' একটি খেজুর বা দু' এক গ্রাস খাবার ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায় এবং এ নিয়ে চলে যায় সে মিসকীন নয়। বরং প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে হাত পাতে না। প্রকৃত মিসকীনের স্বরূপ জানতে চাইলে এ আয়াত পাঠ করো- "তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতির সাথে হাত পাতে না"-(আল বাকারাহ ২ঃ ২৭৩)।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবূ হুরায়রাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন .... এ সূত্রেও ইসমাঈল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাইতে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে তার মুখমণ্ডলে গোশতের কোন টুকরা অবশিষ্ট থাকবে না।
আমর আন নাকিদ .... মা'মার যুহরীর ভাই এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে "টুকরা" শব্দটির উল্লেখ নেই।
আবূ তাহির .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতাকে (আবদুল্লাহ) বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি অনবরত লোকের কাছে হাত পেতে প্রার্থনা (ভিক্ষা) করতে থাকবে। পরিণামে কিয়ামতের দিন যখন সে উপস্থিত হবে তার মুখমণ্ডলে গোশতের কোন টুকরা থাকবে না।
আবূ কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি (অভাবের তাড়না ছাড়াই) নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে বেড়ায় বস্তুতঃ সে আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে। কাজেই এখন তার ভেবে দেখা উচিত সে বেশী নিবে না কম নিবে।"
হান্নাদ ইবন আস্ সারী .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "কোন ব্যক্তি সকালে উঠে গিয়ে লাকড়ি সংগ্রহ করে তা নিজের পিঠে বহন করে এনে অপরকে দান করে এবং এ দিয়ে অপরের দ্বারস্থ হওয়া থেকে মুক্ত থাকে। তার এ কাজ মানুষের দরজায় দরজায় বেড়ানোর চেয়ে উত্তম- তারা কিছু দিক বা না দিক। কেননা উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত তাদের দিয়েই দান শুরু কর।"
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "আল্লাহর শপথ। যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি সকালে গিয়ে এক বোঝা কাঠ সংগ্রহ করে তা পিঠে করে নিয়ে এসে বিক্রি করে।" .... হাদীসের বাকি অংশ বায়ান বর্ণিত (উপরের) হাদীসের অনুরূপ।
আবূ তহির ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরায়রাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি নিজের পিঠে করে লাকড়ির বোঝা বয়ে এনে তা বিক্রি করে তবে এটা তার জন্য কোন লোকের কাছে ভিক্ষা চেয়ে বেড়ানো থেকে উত্তম। কেননা তার জানা নেই যে, সে ব্যক্তি তাকে দিবে না বিমুখ করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী ও সালামাহ ইবন শাবীব .... আওফ ইবন মালিক আল আশজাঈ বলেছেন, আমাদের সাত বা আট বা নয় জন লোকের উপস্থিতিতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "তোমরা কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়আত করছো না? অথচ আমরা ইতোপূর্বে বায়আত গ্রহণের সময় তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেনঃ "তোমরা কেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়আত হচ্ছে না? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো ইতোপূর্বেই আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করেছি, এখন আবার আপনার কাছে কিসের বায়আত করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করবে না, পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর আনুগত্য করবে। তিনি আর একটি কথা বললেন চুপে চুপে, তা হলো লোকের কাছে কিছুর জন্য হাত পাতবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি দেখেছি, সে বায়আত গ্রহণকারী দলের কারো কারো উটের পিঠে থাকা অবস্থায় হাত থেকে চাবুক পড়ে গেছে কিন্তু সে কাউকে তা তুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেনি বরং নিজেই নীচে নেমে তুলে নিয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ .... কবীসাহ ইবন মুখারিক আল হিলালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি (দেনার জমিন হয়ে) বিরাট অঙ্কের ঋণী হয়ে পড়লাম। কাজেই আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এজন্য তার নিকট চাইলাম। তিনি বললেন, "যাকাত বা সদাকার মাল আসা পর্যন্ত আমার কাছে অপেক্ষা কর। তা এসে গেলে আমি তোমাকে তা থেকে দিতে নির্দেশ দিবো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ হে কবীসাহ! মনে রেখো, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য হাত পাতা বা সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল নয়। (১) যে ব্যক্তি (কোন ভাল কাজ করতে গিয়ে বা দেনার জমিন হয়ে) ঋণী হয়ে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা তার জন্য হালাল। যখন দেনা পরিশোধ হয়ে যাবে তখন সে এ থেকে বিরত থাকবে। (২) যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে এবং এতে তার যাবতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার জন্যও সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। রাবীর সন্দেহ- তিনি কি 'কিওয়াম' শব্দ বলেছেন না 'সিদাদ' শব্দ বলেছেন? (উভয় শব্দের অর্থ একই)। (৩) যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়েছে যে, তার গোত্রের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে, "সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে" তার জন্য জীবিকা নির্বাহের পরিমাণ সম্পদ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল। হে কবীসাহ! এ তিন প্রকার লোক ছাড়া আর সকলের জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। অতএব এ তিন প্রকার লোক ছাড়া যে সব লোক সাহায্য চেয়ে বেড়ায় তারা হারাম খায়।
হারূন ইবন মারূফ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কিছু উপঢৌকন দিতেন এবং আমি বলতাম, এটা আমাকে না দিয়ে যে আমার চেয়ে বেশী অভাবী তাকে দিন। এমনকি একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার তুলনায় যার প্রয়োজন বেশী এটা তাকে দিন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা গ্রহণ কর এবং এছাড়া ঐ সব মালও গ্রহণ কর, যা কোন প্রকার লালসা ও প্রার্থনা ব্যতীতই তোমার কাছে এসে যায়। আর যা এভাবে আসে তা পাওয়ার ইচ্ছাও রেখো না।
আবূ তহির .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উমার ইবন খাত্ত্বাব কে কখনো কখনো কিছু মাল দান করতেন। উমর তাকে বলতেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ মালের প্রয়োজন নেই। আমার চেয়ে যার প্রয়োজন ও অভাব বেশী তাকে দিন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ "এ মাল লও এবং নিজের কাছে রেখে দাও অথবা সাদাকা করে দাও। তোমার কামনা ও প্রার্থনা ছাড়াই যে মাল তোমার কাছে এসে যায় তা রেখে দাও। আর যা এভাবে না আসে তার জন্য অন্তরে আশা পোষণ করো না। বর্ণনাকারী সালিম বলেন, এ কারণে ইবন উমর কারো কাছে কিছু চাইতেন না এবং কেউ যদি (না চাওয়া সত্ত্বেও) তাকে কিছু দিতেন তাহলে তিনি এটা ফেরতও দিতেন না।
আবূ ত্বাহির .... উমার ইবন খাত্ত্বাব এর সুত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইবন সাইদী আল মালিকী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর আমাকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করলেন। অতঃপর আমি যখন এ কাজ সমাধা করলাম এবং আদায়কৃত সম্পদ তার কাছে দিলাম- তিনি আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, আমি এ কাজ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছি। সুতরাং আমার পারিশ্রমিক শুধু আল্লাহর কাছেই পাওয়ার আশা করি। তিনি (উমার) বললেন, আমি যা দিচ্ছি, নিয়ে নাও। আমিও একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় এ কাজ করেছি। তিনি আমাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু দিয়ে দিলেন তখন আমিও তাকে তোমার মত একই কথা বলেছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছিলেনঃ "যদি তোমার আবেদন ছাড়াই কেউ কোন কিছু দান করে তুমি তা গ্রহণ করবে এবং অপরকেও দান করবে।"
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... ইবন আস্ সাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্ত্বাব যাকাত আদায় করার জন্য কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করলেন .... অবশিষ্ট অংশ লায়স বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, জীবন ও সম্পদ- এ দুটির ভালবাসার ক্ষেত্রে বৃদ্ধের অন্তর চির যৌবনের অধিকারী। বেচে থাকার মায়া ও অর্থের মায়া।
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দু'টি জিনিসের ভালবাসায় বৃদ্ধের অন্তর চির যৌবনের অধিকারী- দীর্ঘ জীবন এবং ধন-সম্পদের মোহ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ..... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম সন্তান বার্ধক্যে পৌছে যায়, কিন্তু দুটি ব্যাপারে তার আকাঙ্ক্ষা যৌবনে বিরাজ করে- সম্পদের লালসা এবং বেচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন .... উপরের হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ... আনাস ইবন মালিক থেকে নবী (ﷺ) এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসূর ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ..... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম সন্তান যদি দুটি মাঠ ভর্তি সম্পদের অধিকারী হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় মাঠ ভর্তি সম্পদ খুজে বেড়াবে। আদম সন্তানের পেট- মাটি ছাড়া কোন কিছুই ভরাতে পারে না। যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ রাবী বলেন, তবে আমি সঠিক বলতে পারব না যে, তার উপর এ কথাগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল, না তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেছিলেন। এ সূত্রে বর্ণিত হাদীস উপরোল্লিখিত আবূ আওয়ানার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি কোন আদম সন্তান একটি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হয়ে যায় তাহলে সে এরূপ আরেকটি উপত্যকা পেতে আকাজক্ষা করে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুই তার পেট ভরাতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেন।
যুহায়র ইবন হারব ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যদি কোন আদম সন্তানের পূর্ণ এক উদ্যান সম্পদ থাকে তাহলে সে অনুরূপ আরো সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না। যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। ইবন আব্বাস বলেন, এটা কুরআনের আয়াত কিনা তা আমি জানি না। যুহায়রের বর্ণনায় আছে- এটা কুরআনের আয়াত কিনা তা আমি জানি না। এখানে তিনি ইবন আব্বাসের নাম উল্লেখ করেন।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূল আসওয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আল আশআরী (রাযীঃ) একবার বাসরার কারীদেরকে (আলিমদের) ডেকে পাঠালেন। অতঃপর সেখানকার তিনশ' কারী তার কাছে আসলেন এবং কুরআন পাঠ করলেন। তিনি (তাদের উদ্দেশে) বললেন, আপনারা বাসরার মধ্যে উত্তম লোক এবং সেখানকার কারী। সুতরাং আপনারা অনবরত কুরআন পাঠ করতে থাকুন। অলসতায় দীর্ঘ সময় যেন কেটে না যায়। তাহলে আপনাদের অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে যেমন আপনাদের পূর্ববর্তী একদল লোকের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা একটি সূরা পাঠ করতাম যা দীর্ঘ এবং কঠোর ভীতি প্রদর্শনের দিক থেকে সূরা বারাআতের সমতুল্য। পরে তা আমি ভুলে গেছি। তবে তার এতটুকু মনে রেখেছি- "যদি কোন আদম সন্তান দুই উপত্যকা সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় আর একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না।" আমি আরো একটি সূরা পাঠ করতাম যা মুসাব্বিহাত (গুণগানপূর্ণ) সূরাগুলো সমতুল্য। তাও আমি ভুলে গেছি, শুধু তা থেকে এ আয়াতটি মনে আছে– "হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা কর না"- (সুরাহু সফ ৬১ঃ ২)। আর যে কথা তোমরা শুধু মুখে আওড়াও অথচ করো না তা তোমাদের ঘাড়ে সাক্ষী হিসেবে লিখে রাখা হয়। কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়ালেন, অতঃপর লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! না, আল্লাহর শপথ! তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন কিছুর আশঙ্কা নেই। তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পার্থিব সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এ সম্পর্কে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা রয়েছে। এক ব্যক্তি বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণের পরিণামে কি অকল্যাণও হয়ে থাকে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী বলেছিলে? সে বলল, আমি বলেছিলাম, "হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণের সাথে কি অকল্যাণ আসবে?" রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যেসব তৃণলতা ও সবুজ ঘাস উৎপন্ন হয় এটা কোন পশুকে ডায়রিয়ার প্রকোপে ফেলে মারে না বা মৃত্যুর কাছাকাছিও নিয়ে যায় না। কিন্তু চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর এগুলো খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর সূর্যের দিকে তাকিয়ে পেশাব-পায়খানা করতে থাকে, অতঃপর জাবর কাটতে থাকে। এগুলো পুনরায় চারণভূমিতে যায় এবং এভাবে অত্যধিক খেতে খেতে একদিন মৃত্যুর শিকার হয়। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি অসৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- সে অনেক খাচ্ছে কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।
আবূ তহির .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি এর মধ্যে অনন্য হলো পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা হলো দুনিয়ায় সম্পদের প্রাচুর্য। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! "কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, তবে কথা হলো বসন্তকালে যে সব গাছপালা, তরুলতা ও সবুজ ঘাস জন্মায় কোন পশু সেগুলো অতিরিক্ত খেলে কলেরা হয়ে মারা যায় বা মরার নিকটবর্তী হয়। এসব তৃণভোজী পশু অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর রোদে দাড়িয়ে জাবর কাটে ও পেশাব করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এরপর আবার চারণভূমিতে গিয়ে অতিরিক্ত খেতে থাকে। (এ অতি ভোজের কারণে কোন সময় পেট খারাপ হয়ে মারা যায়) এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ তিক্ত ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎ পস্থায় উপার্জন করল, সে সে পথেই থাকল। সে কতই না সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি তা অসৎ পস্থায় উপার্জন করল তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- এক ব্যক্তি খাচ্ছে অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।
আলী ইবন হুজর .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মিম্বারের উপরে বসলেন এবং আমরা তার চারদিকে বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি (আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ "আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি তার মধ্যে অন্যতম হলো- পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য বের করবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে? বর্ণনাকারী বলেন, (লোকটির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে) নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন। এতে (উপস্থিত লোকদের মধ্যে) কেউ কেউ তাকে বলল, কী দুর্ভাগা তুমি! তুমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। রাবী আরো বলেন, আমাদের মনে হলো, তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর তিনি তার (মুখমণ্ডল থেকে) ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি মনে হলো তার প্রশংসাই করলেন। তিনি বললেন, কল্যাণ মূলতঃ অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যে সব সবুজ লতাপাতা ও তৃণরাজির আবির্ভাব ঘটে এগুলো অতি ভোজনে মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কতিপয় তৃণভোজী পশু তা খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে, অতঃপর রোদের দিকে তাকিয়ে মলমূত্র ত্যাগ করে ও পেশাব করে এবং জাবর কাটতে থাকে। অতঃপর তা চারণভূমিতে ছুটে চলে এবং বেশী করে খায় (এভাবে অতিভোজের কারণে বদহজম হয়ে মারা যায়)। এ দুনিয়ায় ধন সম্পদ সবুজ এবং সুমিষ্ট। এ ধন কোন মুসলিমের কতই উত্তম বন্ধু যা থেকে সে নিঃস্ব, অনাথ, ইয়াতীম ও অসহায় এবং প্রবাসী পথিককে দান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি না- হাক (হক)ভাবে এ ধন সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টাত্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তি আহার করে অথচ তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাড়াবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ.... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। আনসার সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করলেন। তারা আবারও চাইল, তিনি আবারও দিলেন। এমনকি তার কাছে যে সম্পদ ছিল তাও ফুরিয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আমার কাছে যখন কোন মালামাল থাকে তা তোমাদের দিতে কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করি না। আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বেচে থাকতে চায় আল্লাহ তাকে (পরের কাছে হাত পাতার অভিশাপ থেকে) বাচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হতে চায় আল্লাহ তাকে বেপরোয়া ও স্বনির্ভর করে দেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথে অগ্রসর হয় আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহর দেয়া অবদানগুলোর মধ্যে ধৈর্য শক্তির চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত অবদান আর কিছু নেই।
আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী এর সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিযক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ারও শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিযক (বা পানাহারের ব্যবস্থা) প্রয়োজন পরিমাণ রাখুন।"
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী .... উমর ইবন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু যাকাতের মাল বণ্টন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃতপক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হলো অন্য লোক। উত্তরে তিনি বললেন, তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি যদি তাদেরকে না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপণ বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই (কৃপণ নই)।
আমর আন্ নাকিদ ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পথ চলছিলাম, তার পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আচল বিশিষ্ট চাঁদর। এক বেদুঈন তার কাছে আসল। সে তার চাঁদর ধরে তাকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তার ঘাড়ে দাগ পড়ে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাঁদরের আচলও পড়ে গেল। সে (বেদুঈন) বলল, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আল্লাহর দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
যুহায়র ইবন হারব ও সালামাহ্ ইবন শাবীব .... আনাস ইবন মালিক থেকে এ সূত্রে নবী (ﷺ) এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। "আমরের বর্ণিত হাদীসে আরো আছে "তারপর সে (বেদুঈন) এমন জোরে চাঁদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহর নবী বেদুঈনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছেঃ এমন জোড়ে তার চাঁদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আচল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘাড়ে থেকে গেল।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু সংখ্যক কাবা (শেরওয়ানী) বন্টন করলেন। কিন্তু (আমার পিতা) মাখরামাহকে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ্ বললেন, বৎস! আমার সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে চলো। আমি তার সাথে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি ঘরের ভিতরে গিয়ে তাকে ((ﷺ) কে) ডাক। আমি তাকে ডাকলাম। তিনি যখন বেরিয়ে আসলেন, ঐ কাবাগুলোর একটি তার পরনে ছিল। তিনি বললেন, "এটা আমি তোমার জন্যেই রেখেছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মাখরামার দিকে তাকালেন এবং বললেন, "মাখরামাহ্ সম্ভষ্ট হয়েছে।"
আবূল খাত্ত্বাব যিয়াদ ইবন ইয়াহইয়া আল হাসসানী .... মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে কিছু সংখ্যক কাবা (পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধানের জন্য জামা বিশেষ) আসল। আমার পিতা মাখরামাহ্ আমাকে বললেন, "আমার সাথে তার (নবী (ﷺ)) এর কাছে চল, হয় তো তিনি আমাদেরকে তা থেকে দু' একটা দিতে পারেন।" বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা গিয়ে তার দরজায় দাড়িয়ে কথা বললেন। নবী (ﷺ) তার কণ্ঠস্বর বুঝতে পারলেন। তিনি একটি কাবা সাথে করে তার কারুকার্য ও সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বের হলেন এবং বলতে থাকলেনঃ "আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম; আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম।"
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী এবং আবদ ইবন হুমায়দ .... সাদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহর শপথ আমি জানি সে মুমিন লোক। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সদগুণাবলী ও ঈমানী চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহর কসম, আমি জানি সে মুমিন লোক। তিনি (এবারও) বললেন বরং সে মুসলিম। আমি আবার কিছু সময় চুপ থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করল। তাই আমি বললাম, আল্লাহর রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহর শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মুমিন। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বললেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে- যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়ত তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দু'বারের উল্লেখ আছে।
ইবন আবূ উমার, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে সালিহ এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... মুহাম্মাদ ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। এ সূত্রেও যুহরী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরো আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (স্নেহ ভরে) আমার ঘাড় ও কাঁধের মাঝে হাত মেরে বললেনঃ হে সাদ! তুমি কি আমার সাথে লড়তে চাও। নিশ্চয়ই আমি কোন ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। হুনায়নের দিনে আল্লাহ তাআলা তার রসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা (গনীমাত হিসেবে) দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরায়শদের কয়েকজন লোককে একশ উট প্রদান করলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলল, "আল্লাহ তার রসূলকে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরায়শদের দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত করছে।" আনাস ইবন মালিক বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলে তিনি আনসারদের ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাবুতে তাদের একত্রিত করলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌছেছে তার মানে কী? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন- আল্লাহ তাআলা তার রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরায়শদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট (ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট) থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা (গনীমতের) মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সাথে নিয়ে ঘরে যাবে? আল্লাহর শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বললেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের (দানের ব্যাপারে) প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন তোমরা আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকবে। তারা বললেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব।
হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ ... আনাস ইবন মালিক থেকে এ সূত্রেও হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরো আছেঃ আনাস বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারিনি এবং আমাদের কিছু লোক' শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস বলেছেন যে, তারা বললেন, "আমরা ধৈর্য ধারণ করব।" যেমন যুহরী থেকে ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে।
মুহাম্মাদ ইবন ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি কোন উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)।
মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বণ্টন করা হলে আনসারগণ বললেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বললেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌছেছে? তারা বললেন, হ্যা; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব (আমি আনসারদের সাথেই থাকব)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আরআরাহ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী (ﷺ) দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মক্কার (মক্কা) তুলাকাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং (নবী (ﷺ)) একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দু'টি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ "হে আনসার সম্প্রদায়"! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি (ﷺ) সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বললেন, "আমি আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাকাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বললেন, "বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বণ্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাদের এ উক্তি তার কানে গিয়ে পৌছল। তিনি তাদেরকে একটি তাবুর নীচে একত্র করে বললেন, হে আনসার সম্পদ্রায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌছেছে? তারা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরবে? তারা (উত্তরে) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, "যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই অনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তাকে ছেড়ে কোথায় যাব?"
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয, হামিদ ইবন উমার ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা ..... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কা বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবন ওয়ালীদ আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগল। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বললেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার আরো বলেন, আল্লাহর শপথ আমাদের পৌছার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মক্কায় (মক্কা) ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশটি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ কাতাদাহ্, আবূ তাইয়াহ ও হিমাম ইবন যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার আল মাক্কি .... রাফি ইবন খাদীজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ সুফইয়ান ইবন হা্রব, সফওয়ান ইবন উমাইয়্যাহ্, উয়াইনাহ্ ইবন হিসন ও আকরা ইবন হাবিসকে একশ'ট করে উট দিলেন এবং আব্বাস ইবন মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ আপনি কি আমার ও আমার উবায়দ' নামক ঘোড়াটির অংশ উয়াইনাহ ও আকরা'-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করছেন? বস্তুতঃ উয়াইনাহ এবং আকরা উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে অধিক অগ্রসর হতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না। আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দু'জনের তুলনায় পিছিয়ে নেই। আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটের সংখ্যাও একশ পূর্ণ করে দিলেন।
আহমাদ ইবন আবূদাহ আয যাববী .... উমার ইবন সাঈদ ইবন মাসরূক থেকে এ সানাদে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বণ্টন করলেন এবং আবূ সুফইয়ানকে একশ উট দিলেন। .... অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে তিনি আলকামাহ্ ইবন উলাসাকেও একশ উট দিলেন।
মাখলাদ ইবন খালিদ .... উমার ইবন সাঈদ থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আলকামাহ্ ইবন উসালাহ্ এবং সফওয়ান ইবন উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই।
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আবদুল্লাহ ইবন যায়দ থেকে বর্ণিত। হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমাতের মাল মুয়াল্লাফাতুল কুলুব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দান করলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ "হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?" তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তারা বলতেন, আল্লাহ ও তার রসূল অত্যন্ত আমানতদার। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথার জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তারা বললেন, অত্যন্ত আমানতদার। (তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। আমর বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে।
যুহায়র ইবন হারব, উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ..... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আকরা ইবন হাবিসকে একশ উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বণ্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সম্ভষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ আমি এ কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছাব। রাবী বলেন, আমি তার কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তার রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তাআলা মূসা কে রহমত করুন, তাকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনো এ ধরনের কোন ব্যাপার তাকে জানাব না। (কেননা এতে তার কষ্ট হয়)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমাতের কিছু মাল বণ্টন করলেন। এক ব্যক্তি বলল, এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গিয়ে এ কথা তাকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগাম্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাকে আর কখনো বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রুমহ ইবন মুহাজির .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিরানাহ্ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিলাল এর কাপড়ে কিছু রৌপ্য ছিল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুঠি ভরে তা লোকদেরকে দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল- "হে মুহাম্মাদ! ইনসাফ কর।" তিনি বললেন, হতভাগা, আমিই যদি ইনসাফ না করি তাহলে কে ইনসাফ করবে? আর আমি যদি সুবিচার না করি তাহলে তুমি তো হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। এ কথা শুনে উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এ মুনাফিকটাকে হত্যা করি। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি। তাহলে লোকে বলবে, আমি আমার সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করি। আর এ ব্যক্তি ও তার সাথীরা কুরআন পাঠ করবে- কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না (অন্তরে কোন প্রকার আবেদন সৃষ্টি করবে না)। তারা কুরআন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন আবূ শায়বাহ্ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) গনীমাতের মাল বণ্টন করছিলেন .... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।
হান্নাদ ইবন আস্ সারী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আলী ইয়ামান থেকে কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তা চার ব্যক্তি যথা- (১) আকরা ইবন হাবিস আল হানযালী, (২) উয়াইনাহ্ ইবন বাদর আল ফাযারী, (৩) আলকামাহ্ ইবন উলাসাহ্ আল আমির ও (৪) বানী কিলাব গোত্রীয় এক ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করলেন এবং এরপর তায়ী গোত্রীয় যায়দ আল খায়র ও বানী নাহান গোত্রের এক ব্যক্তিকে এ থেকে দান করলেন। এতে কুরায়শ গোত্রের লোকেরা ক্ষেপে গিয়ে বললেন, "আপনি কেবল নাজদের নেতৃস্থানীয় লোকদের দান করছেন আর আমাদের বাদ দিচ্ছেন, এটা কেমন ব্যাপার?" এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তাদের শুধু চিত্তাকর্ষণ তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টির জন্য দিচ্ছি। এমন সময় ঘন দাড়ি, স্ফীত গাল, গর্তে ঢোকা চোখ, উচু ললাট ও নেড়া মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় কর। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমিই যদি আল্লাহর অবাধ্য হই, তাহলে কে তার অনুগত হবে? আল্লাহ আমাকে দুনিয়াবাসীদের জন্য আমানাতদার হিসেবে পাঠিয়েছেন আর তুমি আমাকে আমানাতদার মনে করছো না। এরপর লোকটি ফিরে চলে গেল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। লোকদের ধারণা, হত্যার অনুমতি প্রার্থী ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালীদ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এর মূলে এমন একটি সম্প্রদায় রয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে অথচ তাদের এ পাঠ কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না (হৃদয়ে আবেদন সৃষ্টি করে না)। এরা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করে এবং মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দেয়। তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। যদি আমি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে এমনভাবে হত্যা করতাম যেভাবে আদ সম্প্রদায়ের লোকদেরকে হত্যা করা হয়েছে (সমূলে নিপাত করতাম)।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আলী ইয়ামান থেকে বাবুল গাছের ডাল দিয়ে রঙিন করা একটি চামড়ার থলিতে করে কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করলেন। তারা হলোঃ উয়াইনাহ ইবন বাদর, আকরা ইবন হাবিস, যায়দ আল খায়ল এবং চতুর্থ ব্যক্তি হয় আলকামাহ ইবন উলাসাহ অথবা আমির ইবন তুফায়ল। তার সাহাবীগণের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল, তাদের তুলনায় আমরা এর হকদার ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এ খবর নবী (ﷺ) এর কাছে পৌছলে তিনি বললেনঃ "আসমানের অধিবাসীদের কাছে আমি আমানাতদার বলে গণ্য অথচ তোমরা কি আমাকে আমানাতদার মনে করছ না? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসছে। অতঃপর গর্তে ঢোকা চোখ, ফোলা গাল বা স্ফীত গাল, উচু কপাল ঘন দাড়ি নেড়া মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি নিজের পরনের কাপড় সাপটে ধরে অপবাদের সুরে দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তার ঘাড়ে আঘাত হানব না, হত্যা করব না? তিনি বললেনঃ না, কারণ হয়তো সে নামাজ আদায়কারী হতে পারে। খালিদ বললেন, অনেক নামাযী আছে যে মুখে এমন কথা বলে যা তার অন্তরের বিপরীত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মানুষের অন্তর বা পেট চিরে দেখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, এর মূল থেকে এমন সব লোকের আবির্ভাব হবে যারা সহজেই আল্লাহর কিতাব (কুরআন) পড়তে পারবে, কিন্তু এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ যদি আমি তাদেরকে পাই, তাহলে সামূদ জাতির ন্যায় তাদেরকে হত্যা করব।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ্ ...... উমারা ইবন ক্বা-ক্বা থেকে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে "আলকামাহ ইবন উলাসার নাম উল্লেখ আছে, আমির ইবন তুফায়লের নাম উল্লেখ নেই। এ বর্ণনায় "স্ফীত কপাল' উল্লেখ আছে এবং 'নাশিযু' শব্দের উল্লেখ নেই। এতে আরো আছে, উমর ইবন খাত্ত্বাব তার সামনে দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তার ঘাড়ে আঘাত হানব না? তিনি বললেন, না। তিনি আরো বললেন, অচিরেই এদের বংশ থেকে এমন একটি দলের আবির্ভাব হবে যারা সুমিষ্ট সুরে সহজে কুরআন পাঠ করবে। উমার বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, আমি যদি তাদের সাক্ষাৎ পেতাম তাহলে সামূদ জাতির মতো হত্যা করতাম।
ইবন নুমায়র .... উমারা ইবন ক্বা-ক্বা থেকে বর্ণিত। কিছুটা শাব্দিক পার্থক্য সহকারে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সালামাহ্ ও আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে আবূ সাঈদ আল খুদরী এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে হারুরিয়াহ (খারিজী জাতি) সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, 'হারুরিয়াহ কে তা আমি জানি না, তবে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "এ উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে (কিন্তু তিনি তখনকার উম্মাতকে নির্দিষ্ট করে বলেননি) যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা নিজেদের নামাজকে নিম্নমানের মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, অথচ এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে- তীর ছুড়লে যেভাবে বেরিয়ে যায়। অতঃপর শিকারী তার ধনুক, তীরের ফলা এবং এর পালকের দিকে লক্ষ্য করে। সে এর লক্ষ্য বস্তুর দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করে চিন্তা করে তীরের কোন অংশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে কিনা (তাদের মধ্যে ইসলামের নামগন্ধ এবং সামান্যতম চিহ্নও থাকবে না)।
আবূ ত্বহির, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন আবদুর রহমান আল ফিহরী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি কিছু জিনিস বণ্টন করছিলেন। এমন সময় বানী তামীম গোত্রের যুল-খুওয়াই সিরাও নামক এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! ইনসাফ করুন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হতভাগ্য, তোমার জন্য আফসোস! আমি যদি ইনসাফ না করি, তাহলে কে ইনসাফ করবে? আমি যদি ইনসাফ না করি তাহলে তুমি তো ক্ষতিগ্রস্ত ও বিফল হয়ে যাবে। অতঃপর উমর ইবন খাত্ত্বাব বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে তার শিরোশ্ছেদ করার অনুমতি দিন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও, কেননা তার এমন কিছু সঙ্গী সাথি রয়েছে যাদের নামাজ সিয়ামের তুলনায় তোমাদের নামাজ রোজা নিম্নমানের বলে মনে হয়। তারা কুরআন পাঠ করবে অথচ তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তারাও সেভাবে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে। অতঃপর সে (ধনুকধারী) তীরের ফলার মূলভাগ পরীক্ষা করে দেখে। এতেও সে কিছুই দেখতে পায় না, তারপর সে তীর পরীক্ষা করে দেখে এতেও সে দেখে না। অবশেষে সে তীরের পালক পরীক্ষা করে দেখে এতেও সে কিছু পায় না, তীর এত দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায় যে, রক্ত বা মলের দাগ এতে লাগতে পারে না। এ সম্প্রদায়কে চেনার উপায় হলো, এদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যার এক বাহুতে মহিলাদের স্তনের ন্যায় একটি অতিরিক্ত মাংসপেশী থাকবে এবং তা থলথল করতে থাকবে। এদের আবির্ভাব এমন সময় হবে যখন মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেবে। আবূ সাঈদ বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ কথা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শুনেছি এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী ইবন আবূ তলিব তাদের সাথে যখন যুদ্ধ করেছিলেন, আমি স্বয়ং তার সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিকে খুজে বের করে আনার জন্য নির্দেশ দিলেন। তাকে খুজে পাওয়া গেল এবং আলীর সামনে উপস্থিত করা হলো। আমি তাকে প্রত্যক্ষ করে দেখলাম তার মধ্যে সব চিহ্ন ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সম্বন্ধে বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এমন এক সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করলেন যারা তার কওমের মধ্যে আবির্ভাব হবে। সমাজে যখন বিভেদ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে এ সময় আত্মপ্রকাশ করবে। আর তাদেরকে চিনার উপায় হলো- তারা নেড়া মাথা বিশিষ্ট হবে। তিনি আরো বলেছেন, এরা হবে নিকৃষ্টতম সৃষ্টির নিকৃষ্ট লোক তাদেরকে দু' দলের মধ্যে এমন দলটি হত্যা করবে যারা হবে হকের নিকটতর। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী (ﷺ) তাদের জন্য একটি উদাহরণ অথবা একটি কথা বলেন। তা হলো- কোন ব্যক্তি শিকারের দিকে অথবা লক্ষ্যবস্তুর দিকে তীর নিক্ষেপ করল। অতঃপর সে তীরের ফলার দিকে লক্ষ্য করল। কিন্তু কোন চিহ্ন দেখতে পায় না, সে তীরের দিকে তাকিয়ে দেখে- তাতেও কোন চিহ্ন দেখতে পায় না। আবূ সাঈদ বলেন, হে ইরাকের অধিবাসীগণ! তোমরাই তাদেরকে আলী এর সাথে মিলে হত্যা করেছো।
শায়বান ইবন ফাররুখ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন মুসলিমের মধ্যে কলহ ও মতভেদ সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং এ দু' দলের মধ্যে যেটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে।
আবূ রবী আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মত দু'দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকদের মাঝে যখন কলহ ও বিবাদের সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিক নিকটতর হবে সেটিই অপরটিকে হত্যা করবে।
উবায়দুল্লাহ আল কাওয়ারীরী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী অপর এক হাদীসে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ যখন বিভিন্ন প্রকার কলহের আবির্ভাব হবে তখন একটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং দু'দলের মধ্যে যেটি সত্যের অধিক নিকটতর সেটি তাদেরকে হত্যা করবে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল আশাজ্জ ... সুওয়াইদ ইবন গাফালাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী বলেছেনঃ আমি কোন কথা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে বানিয়ে বলার চেয়ে- আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করি। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপার নিয়ে কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে কৌশল ও চাতুরতার আশ্রয় নেয়া বৈধ। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনিঃ সে যুগে (কিয়ামতের পূর্বে) এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা অল্প বয়স্ক ও স্বল্প বুদ্ধি-সম্পন্ন হবে। তারা সৃষ্টি জগতের চেয়ে ভাল ভাল কথা বলবে, তারা কুরআন মাজীদ পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের গলার নীচে যাবে না। তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে। অতএব, তোমরা তাদের সাথে মুখোমুখী হলে তাদের হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে যারা হত্যা করবে তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাবে।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম, মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকদ্দামী, আবূ বকর ইবন নাফি .... আমাশ এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব ... আমাশ থেকে অপর এক সানাদে উপরে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে- "তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারা অনুরূপভাবে দীন থেকে বেরিয়ে যাবে" কথাটির উল্লেখ নেই।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর আল মুকদ্দামী, কুতায়বাহ্ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আলী থেকে বর্ণিত। তিনি খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি থাকবে যার হাত খাটো বা মহিলাদের স্তনের ন্যায় হবে। তোমরা যদি অহংকারে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পার তাহলে আমি তোমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর যবানে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে আলাপ করব যা তিনি তাদের হত্যাকারীদের সম্পর্কে করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মুহাম্মাদ ইবন আবীদাহ্ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সরাসরি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মুখে এ কথা শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যা, কাবার প্রভুর শপথ! হ্যা কাবার প্রভুর শপথ হ্যা, কাবার প্রভুর শপথ।
আবদ ইবন হুমায়দ .... যায়দ ইবন ওয়াহব আল জুহানী থেকে বর্ণিত। যে সৈন্যদল আলী এর সাথে খারিজীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল- তিনি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। আলী বললেন, হে লোক সকল! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ "আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে। তোমাদের পাঠ তাদের পাঠের তুলনায় নিম্নমানের হবে। অনুরূপভবে তাদের সালাত ও সিয়ামের তুলনায় তোমাদের সালাত-রোজা সামান্য বলে মনে হবে। কুরআন পাঠ করে তারা ধারণা করবে এতে তাদের খুব লাভ হচ্ছে। অথচ এটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণই হবে। তাদের নামাজ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর বেরিয়ে যায় শিকার থেকে। আর যে সৈন্যদল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে তারা যদি তাদের নীরব মাধ্যমে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে জানতে পারত তাহলে তারা এক কাজের (পুরস্কারের) উপরই ভরসা করে বসে থাকত। সে দলের চিহ্ন হলো- তাদের মধ্যে এমন এক লোক থাকবে যার বাহুর অগ্রভাবে স্ত্রী লোকের স্তনের বোটার ন্যায় একটি মাংসপেশী থাকবে। এর উপর সাদা পশম থাকবে। আলী বলেন, অতএব তোমরা মুআবিয়াহ ও সিরিয়ার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছো। অপরদিকে তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের পিছনে এদেরকে (খারিজী) রেখে যাচ্ছ। আল্লাহর শপথ! আমার বিশ্বাস এরাই হচ্ছে সেই সম্প্রদায় (যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করার ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে)। কেননা এরা অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং মানুষের গবাদি পশু লুট করেছে। সুতরাং আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু কর। সালামাহ্ ইবন কুহায়ল বলেন, অতঃপর যায়দ ইবন ওয়াহব প্রতিটি মঞ্জিলের বর্ণনাই আমাকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, "আমরা একটি পুলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে খারিজীদের মুখোমুখী হলাম। এ দিন আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব আর রাসিবী খারিজীদের সেনাপতি ছিলেন। সে তাদেরকে বলল, তোমরা বল্লম ফেলে দিয়ে খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তার হারূরার দিনের ন্যায় আজও তোমাদের উপর চরম আঘাত হানবে। সুতরাং তারা ফিরে গিয়ে বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি খাপ থেকে বের করে নিল। লোকজন বল্লম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল। তারা একের পর এক নিহত হতে থাকল। সেদিন আলী এর দল থেকে মাত্র দু'জন লোক নিহত হলো। অতঃপর আলী বললেন, তোমরা এদের মধ্যে থেকে সে বিকলাঙ্গ ব্যক্তিকে খুজে বের কর। অতঃপর তারা তাকে খুজে পেল না। তখন আলী নিজেই দাড়ালেন এবং নিহতদের কাছে গিয়ে লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে জমিনের উপর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে- "আল্লাহু আকবার" বলে উঠলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, "আল্লাহ তাআলা সত্য কথাই বলেছেন এবং তার রসূল সঠিক সংবাদই পৌছিয়েছেন।" রাবী বলেন, এরপর আবীদাহ আস্ সালমানী তার কাছে দাড়িয়ে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন সে মহান আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবূদ নেই। আমিও এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শুনেছি। এভাবে তিনি (আলী) তিনবার শপথ করে আবদাহ্ আস্ সালমানীকে একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন।
আবূ তহির ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুক্ত গোলাম উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। যখন হারূরিয়াহ্ বের হলো এবং যখন সে আলী এর সাথে ছিল তখন বলল, "আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম দেয়ার অধিকার নেই।" আলী বলেন, "এ কথাটি সত্য কিন্তু এর পিছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।" রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন, আমি তাদের মধ্যে সে চিহ্নগুলো ভালভাবেই লক্ষ্য করছি। তারা মুখে সত্য কথা বলে কিন্তু তা তাদের এটা থেকে অতিক্রম করে না। এ বলে তিনি (উবায়দুল্লাহ) তার কণ্ঠনালীর দিকে ইঙ্গিত করলেন। (সত্য কথা গলার নীচে যায় না)। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে এরা তার চরম শত্রু। তাদের মধ্যে কালো বর্ণের এক ব্যক্তি রয়েছে যার একটি হাত বকরীর স্তন বা স্তনের বোটার ন্যায়। অতঃপর আলী তাদেরকে হত্যা করার পর বললেন, তোমরা তাকে খুজে বের কর। কিন্তু তারা তাকে খুজে পেল না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা গিয়ে আবার খোজ কর। আল্লাহর শপথ আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমার কাছেও মিথ্যা বলা হয়নি। (নবী (ﷺ) আমার কাছে মিথ্যা বলেননি এবং আমিও তোমাদের কাছে মিথ্যা বলছি না)। এ কথাটি তিনি দু' অথবা তিনবার বললেন। তারা তাকে ধ্বংস-স্তুপের মধ্যে পেয়ে গেল এবং নিয়ে এসে তার সামনে রাখল। উবায়দুল্লাহ বলেন, তাদের এ তৎপরতার সময় এবং আলী খারিজীদের সম্বন্ধে এ উক্তিটি করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ইউনুসের বর্ণনায় আরো আছে, বুকায়র বলেনঃ আমার কাছে এক ব্যক্তি ইবন হুনায়নের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "সে কালো লোকটিকে আমি দেখেছি।"
শায়বান ইবন ফাররুখ .... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পরে আমার উম্মাতের মধ্যে বা অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে- তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে চলে যায় তারাও তেমনিভাবে দীন থেকে বেরিয়ে যাবে, আর ফিরে আসবে না। সৃষ্টিকুলের মধ্যে তারা নিকৃষ্ট ও অধম। ইবন সামিত বলেন, আমি হাকাম আল গিফারীর ভাই রাফি ইবন আমর আল গিফারীর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমি আবূ যার থেকে এ ধরনের যে হাদীস শুনেছি এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তার সামনে এ হাদীসটিও উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমিও এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শুনেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইউসায়র ইবন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবন হুনায়ফ কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমি নবী (ﷺ) কে খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছিঃ এরা এমন এক সম্প্রদায়, তারা কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার থেকে বেরিয়ে যায়।
আবূ কামিল .... সুলায়মান আশ শায়বানী এর সূত্রে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ উম্মাতের থেকে কতিপয় সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক .... সাহল ইবন হুনায়ফ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, "মাথা নেড়া এক সম্প্রদায় (খারিজী) পূর্ব দিক থেকে বেরুবে।"
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ইবন আলী যাকাতের খেজুর থেকে একটি খেজুর তুলে মুখে দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি থুথু করে ফেলে দাও। তুমি কি জান না আমরা সাদাকা বা যাকাত খাই না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... শুবাহ থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, "আমাদের জন্য সাদাকা-যাকাতের মাল হালাল নয়।"
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইবন মুসান্না .... শুবাহ থেকে বর্ণিত। এ সূত্রেও ইবন মুআয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ "আমরা যাকাত-সাদাকা ইত্যাদি খাই না।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি ঘরে ফিরে গিয়ে (কোন কোন সময়) আমার বিছানার উপর খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। আমি তা খাওয়ার জন্য তুলে নেই। কিন্তু পরক্ষণেই সদাকার খেজুর হতে পারে এ আশঙ্কায় তা ফেলে দেই (এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকি)।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেন। তার মধ্যে একটি হাদীস নিম্নরূপঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ "আল্লাহর শপথ আমি ঘরে ফিরে আমার বিছানায় অথবা (তিনি বলেছেন) আমার ঘরের মধ্যে খেজুর পড়ে থাকতে দেখতে পাই। আমি তা খাওয়ার জন্য হাতে তুলে নেই। পরক্ষণেই আমার সন্দেহ হয়, এটা সদাকার খেজুর হতে পারে। তাই আমি তা ফেলে দেই।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) রাস্তায় একটি খেজুর পেয়ে বললেন, যদি এটা সদাকার খেজুর হওয়ার সম্ভাবনা না থাকত তাহলে আমি এটা খেয়ে নিতাম।
আবূ কুরায়ব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তায় একটি খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি বলেন, এটি যদি সদাকার খেজুর হওয়ার সম্ভাবনা না থাকত তাহলে আমি এটা তুলে খেয়ে নিতাম (নষ্ট হতে দিতাম না)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একটি খেজুর দেখতে পেয়ে বললেন, এটা যদি সদাকার খেজুর হওয়ার সম্ভাবনা না থাকত তাহলে আমি এটা তুলে খেয়ে নিতাম (এভাবে নষ্ট হতে দিতাম না)।
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আয যুবাঈ .... আবদুল মুত্ত্বালিব ইবন রবীআহ ইবন হারিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রবীআহ ইবন হারিস ও আব্বাস ইবন আবদুল মুত্ত্বালিব সম্মিলিতভাবে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা এ ছেলে দু'টিকে আমি ও ফাযল ইবন আব্বাস কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যদি পাঠিয়ে দিতাম এবং তারা উভয়ে তার কাছে গিয়ে তাদেরকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করত। অতঃপর তারা অন্যান্য আদায়কারীদের ন্যায় যাকাত আদায় করে এনে দিতে এবং অন্যান্যরা যেভাবে পারিশ্রমিক পায় তারাও সেভাবে পারিশ্রমিক পেত। রাবী বলেন, তারা এ ব্যাপার নিয়ে আলাপ করছিলেন, এমন সময় আলী ইবন আবূ তলিব এসে তাদের মাঝে দাড়ালেন। তারা এ প্রস্তাবটি তার কাছে উত্থাপন করলেন। আলী বললেন, তোমরা এ কাজ করো না। আল্লাহর শপথ তিনি এটা করবেন না (কারণ আমাদের জন্য যাকাত হারাম)। তখন রবীআহ ইবন হারিস তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ "তুমি শুধু বিদ্বেষের বশীভূত হয়েই আমাদের সাথে এরূপ করছো। অথচ তুমি যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামাতা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছো এজন্যে তো তোমার প্রতি আমরা কোন প্রকার বিদ্বেষ পোষণ করছি না। তখন আলী বললেন, এদের দু'জনকে পাঠিয়ে দাও। অতঃপর তারা উভয়ে চলে গেল এবং আলী বিছানায় শুয়ে থাকলেন। আবদুল মুত্ত্বলিব ইবন রাবীআহ বলেন,রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। আমরা তাড়াতাড়ি করে তার প্রত্যাবর্তন করার পূর্বেই তার কামরার কাছে গিয়ে তার অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকলাম। তিনি এসে আমাদের দু'জনের কান ধরে (স্নেহসিক্ত কণ্ঠে) বললেন, "কোন মতলবে এসেছে, আসল কথাটা সাহস করে বলে ফেলো।" তারপর তিনি ও আমরা হুজরার মধ্যে প্রবেশ করলাম। এ সময় তিনি যায়নাব বিনতু জাহশ এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, এবার আমরা পরস্পরকে কথাটি তোলার জন্য বলছিলাম। অবশেষে আমাদের একজনে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! "আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী। আমাদের এখন বিয়ের বয়স হয়েছে, অথচ আমরা বেকার। তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি, অন্যান্য যাকাত আদায়কারীদের মত আপনি আমাদেরকেও যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ করুন; অন্যান্যরা যেভাবে যাকাত আদায় করে এনে দেয় আমরা তাই করব এবং তাতে আমরাও কিছু পারিশ্রমিক পাব।" এ কথার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা পুনর্বার আমাদের কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পর্দার আড়াল থেকে যায়নাব কথা না বলার জন্য আমাদেরকে ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার-পরিজন তথা বংশধরদের জন্য 'যাকাত' গ্রহণ করা সমীচীন নয়। কেননা যাকাত হলো মানুষের (সম্পদের) ময়লা। বরং তোমরা গিয়ে খুমুসের কোষাধ্যক্ষ মাহমিয়্যাহ এবং নাওফাল ইবন হারিস ইবন আবদুল মুত্ত্বালিবকে আমার কাছে ডেকে আনো। রাবী বলেন, তারা দু'জনে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি (ﷺ) মাহমিয়াকে বললেনঃ "তুমি তোমার কন্যাকে এ ছেলে ফাযল ইবন আব্বাসের সাথে বিয়ে দাও। তিনি তাই করলেন। অতঃপর তিনি নাওফাল ইবন হারিসকে বললেনঃ তুমি এ ছেলের (আমার) সাথে তোমার কন্যার বিয়ে দাও। তিনি আমাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি মাহমিয়্যাকে বললেন, এ দু'জনের পক্ষ থেকে এত এত পরিমাণ মহরানা খুমুসের তহবিল থেকে আদায় করে দাও। যুহরী বলেন, আমার শায়খ আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ আমার কাছে মহরের নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ উল্লেখ করেননি।
হারূন ইবন মারূফ .... আবদুল মুত্ত্বালিব ইবন রবীআহ্ ইবন হারিস ইবন আবদুল মুত্ত্বলিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল মুত্ত্বলিব ইবন রাবীআহ ইবন হারিস ও আব্বাস ইবন আবদুল মুত্ত্বলিব উভয়ে নিজ নিজ পুত্র আবদুল মুত্ত্বলিব ইবন রবীআহ ও ফাযল ইবন আব্বাসকে বললেন, তোমরা দু'জন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যাও। হাদীসের বাকী অংশ মালিক কর্তৃক বর্ণিত উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে- তারপর আলী নিজের চাঁদর বিছিয়ে শুয়ে পড়লেন এবং বললেন, "আমি হাসানের পিতা এবং সাইয়্যিদ। আল্লাহর শপথ! তোমরা যে কথা বলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তোমার ছেলেদের পাঠিয়েছো তারা তার জবাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না। এ হাদীসে আরো আছে, তিনি আমাদের উদ্দেশে বললেনঃ "যাকাতের এ অর্থ হলো মানুষের (সম্পদের) আবর্জনা। তাই এ অর্থ রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার বংশধরদের জন্য হালাল নয়।" অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মাহমিয়্যাহ ইবন জায-কে আমার কাছে ডেকে আনো। তিনি বানী আসাদ গোত্রের লোক ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে খুমুসের (গনীমাতের মালের) কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী জুওয়াইরিয়্যাহ তাকে এ হাদীস অবহিত করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ঘরে এসে বললেনঃ খাওয়ার কিছু আছে কি? তিনি (উত্তরে) বললেন, আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে খাওয়ার কিছু নেই। তবে বকরীর কয়েকটি হাড় আছে। এটা আমার মুক্ত দাসীকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ তা আমার কাছে নিয়ে এসো, কেননা সাদাকা তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে গেছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... যুহরী থেকে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয ... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ নবী (ﷺ) কে কিছু গোশত উপহার দিলেন। এটা তাকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ গোশত তার (বারীরার) জন্য সাদাকা কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়্যাহ্ বা উপটৌকন হিসেবে গণ্য।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) এর কাছে কিছু গরুর গোশত আনা হলো। অতঃপর বলা হলো এ গোশত বারীরাকে সাদাকা হিসেবে দান করা হয়েছে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এটা তার জন্য সাদাকা কিন্তু আমাদের জন্য উপহার বা উপটৌকন।"
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ কে মুকদামার প্রেক্ষিতে শারীআতের তিনটি হুকুম প্রবর্তিত হয়। লোকজন তাকে সাদাকা দিত এবং তিনি তা আমাদেরকে উপহার হিসেবে দান করতেন। এ ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ) কে জানালাম। তিনি বললেন, এটা তার জন্য সাদাকা এবং তোমাদের জন্য হাদিয়্যাহ্। সুতরাং তোমরা তা খাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ্ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ আর একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, "এ তো আমাদের জন্য তার পক্ষ থেকে উপহার।
আবূ তহির .... আয়িশাহ্ নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ আর একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, "এ তো আমাদের জন্য তার পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্"।
যুহায়র ইবন হারব .... উম্মু আত্বিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য সদাকার একটি বকরী পাঠালেন। অতঃপর আমি এ থেকে কিছু গোশত আয়িশাহ্ এর জন্য পাঠালাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ এর কাছে এসে বললেন, তোমাদের কাছে খাওয়ার কিছু আছে কি? তিনি (উত্তরে) বললেন, না; তবে আপনি নুসায়বার (উম্মু আতিয়াহ্) কাছে (সদাকার) বকরী পাঠিয়ে ছিলেন। এ থেকে সে আমার জন্য কিছু গোশত পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, এ (সাদাকা) তো তার যথাযথ স্থানে পৌছে গেছে (উম্মু আতিয়ার জন্য সাদাকা ছিল। সে তা হস্তগত করার পর এখন তোমার জন্য এটা হাদীয়াহ। কাজেই তুমি খাও, আমাকে দাও)।
আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম আল জুমাহী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কাছে কোন প্রকার খাদ্যদ্রব্য আসলে তিনি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে নিতেন। যদি বলা হত, এটা উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে, তাহলে তিনি এটা খেতেন। আর যদি বলা হত এটা সাদাকা তাহলে তিনি তা খেতেন না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কোন গোত্ৰ সাদাকা নিয়ে আসলে তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! আপনি তাদের উপর সদয় হোন। একবার আমার পিতা আবূ আওফা তার সাদাকা নিয়ে তার কাছে আসলে তিনি দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! আবূ আওফার পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করুন।"
ইবন নুমায়র .... শুবাহ্ এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনায় আছেঃ (হে আল্লাহ)। তাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও যুহায়র ইবন হারব .... জারীর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাছে যাকাত আদায়কারী আসলে তার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার কর, যাতে সে তোমাদের উপর সন্তুষ্ট অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।