bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আয-যারিয়াত (বাতাস যা ছড়িয়ে দেয়)

কসম ধূলিঝড়ের,

অতঃপর, পানির বোঝা বহনকারী মেঘমালার,

অতঃপর মৃদুগতিতে চলমান নৌযানসমূহের,

অতঃপর [আল্লাহর] নির্দেশ বণ্টনকারী ফেরেশতাগণের।

তোমরা যে ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছ তা অবশ্যই সত্য।

নিশ্চয় প্রতিদান অবশ্যম্ভাবী।

কসম সৌন্দর্যমন্ডিত আকাশের

নিশ্চয় তোমরা মতবিরোধপূর্ণ কথায় লিপ্ত।

যে পথভ্রষ্ট হয়েছে তাকেই তা থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মিথ্যাচারীরা ধ্বংস হোক!

যারা সন্দেহ-সংশয়ে নিপতিত, উদাসীন।

তারা জিজ্ঞাসা করে, ‘প্রতিদান দিবস’ কবে’?

‘যে দিন তারা অগ্নিতে সাজাপ্রাপ্ত হবে’।

বলা হবে, ‘তোমাদের আযাব আস্বাদন কর, এটিতো ‘তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে।’

নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতসমূহে ও ঝর্ণাধারায়,

তাদের রব তাদের যা দিবেন তা তারা খুশীতে গ্রহণকারী হবে। ইতঃপূর্বে এরাই ছিল সৎকর্মশীল।

রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো।

আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত।

আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক।

সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য যমীনে অনেক নিদর্শন রয়েছে।

তোমাদের নিজদের মধ্যেও। তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না?

আকাশে রয়েছে তোমাদের রিয্ক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।

অতএব আসমান ও যমীনের রবের কসম, তোমরা যে কথা বলে থাক তার মতই এটি সত্য।

তোমার কাছে কি ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে?

যখন তারা তার কাছে আসল এবং বলল, ‘সালাম’, উত্তরে সেও বলল, ‘সালাম’। এরা তো অপরিচিত লোক।

অতঃপর সে দ্রুত চুপিসারে নিজ পরিবারবর্গের কাছে গেল এবং একটি মোটা-তাজা গো-বাছুর [ভাজা] নিয়ে আসল।

অতঃপর সে তা তাদের সামনে পেশ করল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’

এতে তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হল। তারা বলল, ‘ভয় পেয়োনা, তারা তাকে এক বিদ্বান পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল’।

তখন তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসল এবং নিজ মুখ চাপড়িয়ে বলল, ‘বৃদ্ধা-বন্ধ্যা’।

তারা বলল, ‘তোমার রব এরূপই বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ’।

ইবরাহীম বলল, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কী?

তারা বলল, ‘আমরা এক অপরাধী কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি’।

‘যাতে তাদের উপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করি’।

‘যা তোমার রবের পক্ষ থেকে চি‎‎‎হ্নিত সীমালংঘনকারীদের জন্য’।

অতঃপর সেখানে যেসব মুমিন ছিল আমি তাদেরকে বের করে নিয়ে আসলাম।

তবে আমি সেখানে একটি বাড়ী ছাড়া কোন মুসলমান পাইনি।

আর আমি তাদের জন্য সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে।

আর মূসার কাহিনীতেও নিদর্শন রয়েছে, যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফিরআউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম।

কিন্তু সে তার দলবলসহ মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘এ ব্যক্তি যাদুকর অথবা উম্মাদ।’

ফলে আমি তাকে ও তার সৈন্য-সামন্তকে পাকড়াও করলাম। অতঃপর তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে তো ছিল তিরস্কৃত।

আর ‘আদ জাতির ঘটনায়ও [নিদর্শন রয়েছে], যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অমঙ্গলজনক বায়ু।

ঐ বায়ু যার উপরে এসেছিল তাকে রেখে যায়নি, বরং সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।

আর সামূদ জাতির ঘটনায়ও [নিদর্শন রয়েছে]। যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত ভোগ করে নাও’।

অতঃপর তারা তাদের রবের আদেশ সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। ফলে বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল, আর তারা তা দেখছিল।

অতঃপর তারা উঠে দাঁড়াতে পারল না এবং প্রতিরোধও করতে পারল না।

আর ইতঃপূর্বে নূহের কওমকেও [আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম]। নিশ্চয় তারা ছিল ফাসিক কওম।

আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।

আর আমি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কতইনা সুন্দর বিছানা প্রস্তুতকারী!

আর প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।

অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।

আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।

এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে যে রাসূলই এসেছে, তারা বলেছে, ‘এ তো একজন যাদুকর অথবা উন্মাদ।’

তারা কি একে অন্যকে এ বিষয়ে ওসিয়াত করেছে? বরং তারা সীমালংঘনকারী কওম।

অতএব, তুমি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, এতে তুমি তিরস্কৃত হবে না।

এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।

আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।

আমি তাদের কাছে কোন রিয্ক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে।

নিশ্চয় আল্লাহই রিয্কদাতা, তিনি শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

যারা যুলম করেছে তাদের জন্য রয়েছে তাদের সমমনাদের অনুরূপ আযাব; সুতরাং তারা যেন আমার কাছে [আযাবের] তাড়াহুড়া না করে।

অতএব, যারা কুফরী করে তাদের জন্য ধ্বংস সেদিনের যেদিনের ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।