আল-মুরসালাত (অবমুক্ত)
কসম কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত বাতাসের,
আর প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত ঝঞ্ঝার।
কসম মেঘমালা ও বৃষ্টি বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর,
আর সুস্পষ্টরূপে পার্থক্যকারীর [আল-কুরআনের আয়াতের]।
অতঃপর কসম, উপদেশগ্রন্থ আনয়নকারী [ফেরেশতাদের],
অজুহাত দূরকারী ও সতর্ককারী।
তোমাদেরকে যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে।
যখন তারকারাজি আলোহীন হবে,
আর আকাশ বিদীর্ণ হবে,
আর যখন পাহাড়গুলি চূর্ণবিচূর্ণ হবে,
আর যখন রাসূলদেরকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে;
কোন্ দিনের জন্য এসব স্থগিত করা হয়েছিল?
বিচার দিনের জন্য।
আর কিসে তোমাকে জানাবে বিচার দিবস কী?
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি?
তারপর পরবর্তীদেরকে তাদের অনুসারী বানাই।
অপরাধীদের সাথে আমি এমনই করে থাকি।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি দিয়ে সৃষ্টি করিনি?
অতঃপর তা আমি রেখেছি সুরক্ষিত আধারে
একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
অতঃপর আমি পরিমাপ করেছি। আর আমিই উত্তম পরিমাপকারী।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
আমি কি ভূমিকে ধারণকারী বানাইনি
জীবিত ও মৃতদেরকে?
আর এখানে স্থাপন করেছি সুদৃঢ় ও সুউচ্চ পর্বত এবং তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুপেয় পানি।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[তাদেরকে বলা হবে], তোমরা যা অস্বীকার করতে সেদিকে গমন কর।
যাও তিন শাখা বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়,
যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোন কাজেও আসবে না।
নিশ্চয় তা [জাহান্নাম] ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ।
তা যেন হলুদ উষ্ট্রী।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
এটা এমন দিন যেদিন তারা কথা বলবে না।
আর তাদেরকে অজুহাত পেশ করার অনুমতিও দেয়া হবে না।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
এটি ফয়সালার দিন; তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তীদেরকে আমি একত্র করেছি।
তোমাদের কোন কৌশল থাকলে আমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ কর।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া ও ঝর্ণাবহুল স্থানে,
আর নিজদের বাসনানুযায়ী ফলমূল-এর মধ্যে।
[তাদেরকে বলা হবে] ‘তোমরা যে আমল করতে তার প্রতিদানস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর;
সৎকর্মশীলদের আমরা এমন-ই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[হে কাফিররা!] তোমরা আহার কর এবং ভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তোমরা অপরাধী।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
তাদেরকে যখন বলা হয় রুকূ কর, তখন তারা রুকূ করত না।
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
সুতরাং কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ বাণীর প্রতি তারা ঈমান আনবে?