bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আন-নাজম (তারা)

কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।

তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।

আর সে মনগড়া কথা বলে না।

তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।

তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর,

প্রজ্ঞার অধিকারী। অতঃপর সে স্থির হয়েছিল,

তখন সে ঊর্ধ্ব দিগন্তে।

তারপর সে নিকটবর্তী হল, অতঃপর আরো কাছে এল।

তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।

অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।

সে যা দেখেছে, অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি।

সে যা দেখেছে, সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে?

আর সে তো তাকে আরেকবার দেখেছিল।

সিদরাতুল মুনতাহার নিকট।

যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া অবস্থিত।

যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল।

তার দৃষ্টি এদিক-সেদিক যায়নি এবং সীমাও অতিক্রম করেনি।

নিশ্চয় সে তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে।

তোমরা লাত ও উযযা সম্পর্কে আমাকে বল’?

আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি?

তোমাদের জন্য কি পুত্র আর আল্লাহর জন্য কন্যা?

এটাতো তাহলে এক অসঙ্গত বণ্টন!

এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।

মানুষের জন্য তা কি হয়, যা সে চায়?

বস্তুতঃ পরকাল ও ইহকাল তো আল্লাহরই।

আর আসমানসমূহে অনেক ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট, তার ব্যাপারে অনুমতি দেয়ার পর।

নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।

অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনই কাজে আসে না।

অতএব তুমি তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।

এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।

আর আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে।

যারা ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।

তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়?

আর সামান্য দান করে, তারপর বন্ধ করে দেয়?

তার কাছে কি আছে গায়েবের জ্ঞান যে, সে দেখছে?

নাকি মূসার কিতাবে যা আছে, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি?

আর ইবরাহীমের কিতাবে, যে [নির্দেশ] পূর্ণ করেছিল।

তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।

আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।

আর এই যে, তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।

তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে।

আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকটই হলো শেষ গন্তব্য।

আর নিশ্চয় তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।

আর নিশ্চয় তিনিই মৃত্যু দেন এবং তিনিই জীবন দেন।

আর তিনিই যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী।

বীর্য থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়।

আর নিশ্চয় পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁর উপরই।

আর তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন।

আর তিনিই শিরার [নক্ষত্র] রব।

আর তিনিই প্রাচীন আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন।

আর সামূদ জাতিকেও। কাউকে তিনি অবশিষ্ট রাখেন নি।

আর পূর্বে নূহের কওমকেও। নিশ্চয় তারা ছিল অতিশয় যালিম ও চরম অবাধ্য।

আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করেছিলেন।

অতঃপর সেটাকে আচ্ছন্ন করেছিল, যা আচ্ছন্ন করার ছিল।

তাহলে তুমি তোমার রবের কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?

অতীত সতর্ককারীদের মত এই নবীও একজন সতর্ককারী।

কিয়ামত নিকটবর্তী।

আল্লাহ ছাড়া কেউই তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।

তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ?

আর হাসছ এবং কাঁদছ না?

আর তোমরা তো গাফিল।

সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর। ۩