জুমুআহ (১৮৩৭-১৯২৯)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত তামিমী ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির, কুতায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ জুমুআর সালাতে আসতে মনস্থ করলে সে যেন গোসল করে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, ইবন রুমূহ .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর দাড়ানো অবস্থায় বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে যায় সে যেন গোসল করে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন উমর নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত একদা জুমুআর দিন উমর ইবন খাত্ত্বাব জনগণের উদ্দেশে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করলে উমর তাকে ডেকে বলেন, এটা কোন সময়? তিনি বলেন, আমি আজ খুব ব্যস্ত ছিলাম এবং বাড়ীতে যাওয়ার অবসর পাইনি। এমতাবস্থায় আযান শুনতে পেলাম। তাই আমি ওযুর অতিরিক্ত কিছুই করতে পারিনি। উমর বলেন, শুধু ওযুও চলে, তবে তুমি জান যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসল করার নির্দেশ দিতেন।
ইসহাক্ ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জুমুআর দিন উমার ইবন খাত্ত্বাব লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন উসমান ইবন আফফান প্রবেশ করেন। উমর তার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, লোকদের কী হল যে, তারা আযানের পরও (মসজিদে আসতে) বিলম্ব করে। উসমান বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আযান শোনার পর ওযু করা ছাড়া অতিরিক্ত আর কিছু করিনি, অতঃপর এসে পৌছেছি। উমর বলেন, ওযুও চলে তবে আপনারা কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি, তোমাদের কেউ যখন জুমুআর সালাতে আসে সে যেন গোসল করে?
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জুমুআর দিন গোসল করা অপরিহার্য।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন তাদের বাড়ি-ঘর থেকে এবং মদীনার উপকণ্ঠ থেকে জুমুআর সালাত আদায় করতে আসত। তারা আবা (এক প্রকার ঢিলা পোশাক) পরিধান করে আসত এবং তাতে ময়লা লেগে যেত। এতে তাদের দেহ নিৰ্গত ঘাম থেকে দুর্গন্ধ ছড়াত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা যদি তোমাদের দিনটিতে অধিক পবিত্রতা অর্জন করতে, তোমরা যদি এ দিনে পবিত্রতা অর্জন করতে!
মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন ছিল শ্রমজীবী। তাদের কাজের জন্য বিকল্প লোক ছিল না। তাদের (ঘৰ্মাক্ত) দেহে দুৰ্গন্ধ ছড়াত। তাই তাদের বলা হল, তোমরা যদি জুমুআর দিন গোসল করতে!
আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমির .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জুমুআর দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে। অধস্তন বর্ণনাকারী বুকায়র আবদুর রহমান-এর উল্লেখ করেননি এবং সুগন্ধির ব্যাপারে তার বর্ণনায় আছেঃ "এমনকি স্ত্রীর সুগন্ধি থেকে হলেও।"
হাসান আল হুলওয়ানী, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি জুমুআর দিন গোসল সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী উল্লেখ করেছেন। তাউস বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে বললাম, সে সুগন্ধি ব্যবহার করবে, না তৈল ব্যবহার করবে, যদি তা তার পরিবারের মওজুদ থাকে? তিনি বলেন, আমি তা জানি না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... উভয়ে একই সানাদে ইবন জুরায়জ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন প্রত্যেক মুসলিমদের ওপর আল্লাহর অধিকার এই যে, সে প্রতি সাতদিন অন্তর গোসল করবে, মাথা ও দেহ ধৌত করবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাতের (ফরয গোসল) গোসলের মতো গোসল করল, অতঃপর দিনের প্রথমভাগে মসজিদে এলো, সে যেন একটি উট কুরবানী করল। অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি ভেড়া কুরবানী করল, অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল, অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন খুতবাহ দিতে (দাড়ালেন) তখন ফেরেশতাগণ খুতবাহ শোনার জন্য উপস্থিত হন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন রুমূহ ইবন মুহাজির .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইমামের খুতবাহ দানরত অবস্থায় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল, 'চুপ কর' তবে তুমি অনৰ্থক কাজ করলে।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শুনেছি .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন শিহাব থেকে উভয় সানাদ সূত্রে এ হাদীস পূর্বোক্ত সানাদে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবন জুরায়জ ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন কারিয' বলেছেন (আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কারিয স্থলে)।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ জুমুআর দিন ইমামের খুতবাহ চলাকালে তুমি তোমার সার্থীকে যদি বল "চুপ কর" তবে, তুমি অনৰ্থক কাজ করলে। আবূয যিনাদ বলেন, "লাগিতা" আবূ হুরায়রাহ এর গোত্রের ভাষায়, আসলে তা হবে "লাগাওতা"।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতীয়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমুআর দিন সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তাতে এমন একটি মুহুর্ত আছে যখন কোন মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে অবশ্যই তিনি তাকে তা দান করেন। কুতায়বাহ-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ তিনি তার হাত দ্বারা মুহুর্তটির স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআর মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহুর্ত আছে যখন কোন মুসলিম সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করে তিনি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করেন। তিনি তার হাত দ্বারা সে মুহুর্তটির স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করেন।
ইবন মুসান্না .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (ﷺ) বলেছেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
হুমায়দ ইবন মাসআদাহ আল বাহিলী ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (ﷺ) বলেছেন ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম আল জুমাহী .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, জুমুআর দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহুর্ত আছে যখন কোন মুসলিম আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেনঃ সে মুহুর্তটি অতি স্বল্প।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, এ সানাদ সূত্রে "সে মুহুর্তটি স্বল্প" কথাটি উল্লেখ নেই।
আবুত তহির, আলী ইবন খশরাম, হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবন ঈসা ... আবূ মূসা আল আশআর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে জুমুআর দিনের বিশেষ মুহুর্তটি সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছ? বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি বললাম, হ্যা। আমি পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ ইমামের বসা থেকে সালাত শেষ করার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সে মুহুর্তটি নিহিত।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে এবং এ দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিন সেখান থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, জুমুআর দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা সর্বশেষ উম্মাত কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হব অগ্রগামী। যদিও সকল উম্মাতকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আর আমাদের কিতাব দেয়া হয়েছে সকল উম্মাতের শেষে অতঃপর যে দিনটি আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, সেদিন সম্পর্কে তিনি আমাদের হিদায়াতও দান করেছেন। সেদিনের ব্যাপারে অন্যান্যরা আমাদের পিছনে রয়েছে, (যেমন) ইয়াহুদীরা (আমাদের) পরের দিন এবং খৃষ্টানরা তাদেরও পরেন দিন।
ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা সবশেষে আগত উম্মাত এবং আমরা কিয়ামতের দিন হ'ব অগ্রবর্তী ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও যুহারর ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা সবশেষে আগত উম্মাত, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হব সর্বগ্রবর্তী, আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব। অথচ তাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে এবং আমাদেরকে তা দেয়া হয়েছে তাদের পরে। তারা বিরোধে লিপ্ত হয়ে পড়ল কিন্তু তারা যে সত্য দীনের ব্যাপারে বিরোধে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ আমাদেরকে সে দিন সম্পর্কে হিদায়াত দান করেছেন। তিনি বলেনঃ আমাদের জন্য আজকে জুমুআর দিন আর ইয়াহুদীদের জন্য পরের দিন এবং খৃষ্টানদের জন্য তারও পরের দিন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমরা সবশেষে আগত উম্মাত কিন্তু হিদায়াতের দিন থাকব সবার অগ্রবর্তী। অথচ তাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের আগে এবং আমাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। এটি তাদের সেদিন যা তাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ দিনটি সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হল। আল্লাহ আমাদেরকে দিনটির ব্যাপারে হিদায়াত দান করেছেন। অতএব, তারা আমাদের পশ্চাদগামী, ইয়াহুদীরা পরের দিন (শনিবার) এবং খৃষ্টানরা তারও পরের দিন (রবিবার)।
আবূ কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমাদের পূর্ববতীদেরকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথের সন্ধান দেননি বিরোধে লিপ্ত হওয়ার কারণে। তাই ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবার জুমুআহ নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে (পৃথিবীতে) আনলেন এবং আমাদেরকে জুমুআর দিনের সঠিক সন্ধান দিলেন। অতএব তিনি জুমুআর দিন, শনিবার ও রবিবার এভাবে (বিন্যাস) করলেন, এভাবে তারা কিয়ামতের দিন আমাদের পশ্চাদবর্তী হবে। আমরা পৃথিবীবাসীর মধ্যে শেষে আগমনকারী উম্মত এবং কিয়ামতের দিন হ'ব সর্বপ্রথম। যাদের সমগ্র সৃষ্টির সর্বপ্রথম বিচার অনুষ্ঠিত হবে। অধস্তন বর্ণনাকার ওয়াসিল এর বর্ণনায় আছে "সকলের মধ্যে"।
আবূ কুরায়ব .... হুযায়ফাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদেরকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথের সন্ধান দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দেননি। .... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা বর্ণনাকারী ইবন ফুযায়ল এর বর্ণনার অনুরূপ।
আবূত ত্বহির, হারমালাহ ও আমর ইবন সাওওয়াদ আল আমির .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআর দিন এলে মসজিদে যতগুলো দরজা আছে তার প্রতিটিতে ফেরেশতারা নিযুক্ত হন এবং তারা আগমনকারীদের নাম ক্রমানুসারে নথি বন্ধ করেন। ইমাম যখন (মিম্বারে) বসেন তখন তারা নথিপত্র গুটিয়ে নিয়ে আলোচনা শোনায় চলে আসেন মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী মুসল্লী উট কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী গরু কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী মেষ কুরবানীকারীর সমতুল্য, অতঃপর আগমনকারী মুরগী কুরবানীকারীর সমতুল্য, তৎপরে আগমনকারী ডিম দানকারীর সমতুল্য নেকী পাবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরায়রাহ নবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মসজিদের দরজাগুলোর প্রতিটিতে একজন করে মালায়িকাহ নিয়োজিত থাকেন। তিনি আগমনকারীদের নাম (তাদের আগমনের) ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেন। মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী উট কুরবানীকারীর সমতুল্য .... এভাবে পর্যায়ক্রমে তুলনা করা হয়েছে, এমনকি একটি ডিমের মতো ক্ষুদ্র বস্তু দানের তুলনা দিয়েছেন। ইমাম যখন (খুতবাহ দেয়ার উদ্দেশে মিম্বারে) বলেন তখন নথিপত্র গুটিয়ে ফেলা হয় এবং ফেরেশতাগণ খুতবার আলোচনা শুনতে হাজির হন।
উমাইয়্যাহ ইবন বিস্তাম .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি গোসল করে জুমুআর সালাতে আসল, অতঃপর সাধ্যমত (সুন্নাত) সালাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুতবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সাথে (জুমুআর) সালাত আদায় করল, এতে তার দু' জুমুআর মধ্যকার দিনসমূহের এবং আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করার পর জুমুআর সালাতে এলো, নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনল, তার পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত এবং আরো অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (অহেতুক) কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক, বাতিল, ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ করল।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম, অতঃপর ফিরে আসতাম এবং আমাদের উষ্ট্রীগুলোকে বিশ্রাম দিতাম। অধস্তন বর্ণনাকারী হাসান বলেন, আমি উধ্বতন বর্ণনাকারী জাফার কে বললাম, সেটা কোন সময় হত? তিনি বলেন, সূর্য চলে যাওয়ার সময়।
কাসিম ইবন যাকারিয়্যা, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবূ জাফার থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন মুহুর্তে জুমুআর সালাত আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি সালাত শেষ করার পর আমরা আমাদের উটের পালের নিকট যেতাম এবং সেগুলোকে বিশ্রাম দিতাম। অধস্তন বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ এর বর্ণনায় আরো আছেঃ যখন সূর্য ঢলে যেত, পানিবাহী উটগুলো (বিশ্রাম নিত)।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কা'নব ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আলী ইবন হুজর .... সাহল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআর সালাত আদায়ের পরই বিশ্রাম গ্রহণ করতাম এবং দুপুরের আহার করতাম। ইবন হুজর এর বর্ণনায় আরো আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সালামাহ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম, অতঃপর ছায়া অনুসরণ করতে করতে ফিরে আসতাম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সালামাহ ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে জুমুআর সালাত আদায়ের পর যখন ফিরে আসতাম তখন আমাদের ছায়া গ্রহণের উপযোগী প্রাচীরের কোন ছায়া পড়ত না (সূর্য ঢলে যাওয়ার পরপরই সালাত আদায় করা হত)।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী ও আবূ কামিল আল জাহদারী .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমুআর দিন দাড়িয়ে খুতবাহ দিতেন, অতঃপর বসতেন, অতঃপর দাড়াতেন, যেমন আজকাল তোমরা করে থাক।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, হাসান ইবনর রাবী ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দুটি খুতবাহ দিতেন, উভয় খুতবার মাঝখানে বসতেন এবং (খুতবায়) কুরআন পড়তেন এবং জনগণকে উপদেশ দিতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়ানো অবস্থায় খুতবাহ দিতেন, অতঃপর বসতেন, অতঃপর দাড়িয়ে আবার (দ্বিতীয়) খুতবাহ দিতেন। যে ব্যক্তি তোমাকে অবহিত করেছে যে, তিনি বসা অবস্থায় খুতবাহ দিতেন, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চয়ই তার সাথে দু'হাজারেরও অধিকবার সালাত আদায় করেছি (জুমুআর পাচ ওয়াক্ত সালাত)।
উসমান ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দাড়ানো অবস্থায় জুমুআর দিন খুতবাহ দিতেন। একদা জুমুআর সালাতের খুতবাহ চলাকালে সিরিয়ার একটি বণিক এসে পৌছলে বারোজন লোক ব্যতীত সকলে তাদের নিকট ছুটে চলে গেল। তখন সূরাহ জুমুআর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ (অর্থ) "যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল"- (জুমুআহ ৬২ঃ ১১)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ... হুসায়ন থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবাহ দিতেন এবং তিনি "দাড়ানো অবস্থায়" কথাটুকু উল্লেখ করেননি।
রিফাআহ ইবন হায়সাম আল ওয়াসিতী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআর দিন নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় কিছু ছাতুর চালান এসে পৌছল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকজন সেদিকে চলে গেল এবং বারোজন ব্যতীত আর কেউ ছিল না। আমি এদের সাথে ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন (অনুবাদঃ) "যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল ....."- (জুমুআহ ৬২ঃ ১১) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
ইসমাঈল ইবন সালিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক জুমুআর দিন নবী (ﷺ) দাড়ানো অবস্থায় ছিলেন (জুমুআর খুতবাহ দিচ্ছিলেন)। এমতাবস্থায় একটি বণিক দল মদীনায় এসে পৌছল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ সেদিকে ছুটে গেলেন। এমনকি বারোজন ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। আবূ বকর ও উমর-ও এদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয় তখন তারা তোমাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল- (জুমুআহ ৬২ঃ ১১)"
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... কা'ব ইবন উজরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তখন আবদুর রহমান ইবন হাকাম বসা অবস্থায় খুতবাহ দিচ্ছিলেন। কা'ব বলেন, তোমরা এ নরাধমের প্রতি লক্ষ্য কর, সে বসে বসে খুতবাহ দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ "এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল- (জুমুআহ ৬২ঃ ১১)।"
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার ও আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার মিম্বারের সিড়িতে দাড়িয়ে বলতে শুনেছেনঃ যারা জুমুআর সালাত ত্যাগ করে তাদেরকে এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে সীল মেরে দিবেন, অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
হাসান ইবনর রাবী ও আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতাম। তার সালাত ও খুতবাহ ছিল মধ্যম (দীর্ঘও নয় অতি সংক্ষিপ্তও নয়)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সাথে বহু ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছি। তার সালাতও ছিল সংক্ষিপ্ত এবং তার খুতবাহও ছিল মধ্যম। অধস্তন বর্ণনাকারী আবূ বকর যাকারিয়্যা-এর বর্ণনায় আছেঃ সিমাক থেকে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুতবাহ (ভাষণ) দিতেন যখন তার চোখদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হত এবং তার রাগ বেড়ে যেত, এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর বলছেনঃ তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে, তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। তিনি (ﷺ) আরো বলতেনঃ আমি ও কিয়ামত এ দুটির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধান) প্রেরিত হয়েছি, তিনি মধ্যম ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। তিনি (ﷺ) আরো বলতেনঃ অতঃপর উত্তম বাণী হল- আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হল মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল (ধর্মের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবন (বিদআত)। প্রতিটি বিদআদ ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে অধিক উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জুমুআর দিন আল্লাহর প্রশংসা ও তার গুণগান করে তার খুতবাহ (ভাষণ) শুরু করতেন, অতঃপর প্রয়োজনীয় কথা বলতেন। (ভাষণে) তার কণ্ঠস্বর জোরালো হত .... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশে প্রদত্ত খুতবায় আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করতেন, অতঃপর বলতেনঃ আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। সর্বোত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব, ... অতঃপর হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা সাকাফী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। যিমাদ মক্কায় আগমন করেন। তিনি আযদ শানুয়াহ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুক করতেন। তিনি মক্কার কতক নির্বোধকে বলতে শুনলেন, মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই উম্মাদ। যিমাদ বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম তাহলে আল্লাহ হয়ত আমার হাতে তাকে আরোগ্য দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুক করাতে চান? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তার প্রশংসা করি, তার সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, কেউ তাকে বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হিদায়াত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শারীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রসূল। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বললেন, আপনি এ কথাগুলো আমাকে পুনরায় শুনান। অতএব, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলোর অনুরূপ কথা আমি শুনিনি। এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌছে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলেন, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়আত করালেন (ইসলাম গ্রহণ করালেন)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও কি (বায়আত প্রযোজ্য)? যিমাদ বলেন, আমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ক্ষুদ্র সামরিক বাহিনী (সারিয়্যা) প্রেরণ করলে তারা তার সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। তখন বাহিনী প্রধান সৈন্যবাহিনীকে বলেন, তোমরা কি এদের থেকে কিছু গ্রহণ করেছ? দলের একজন বলল, আমি তাদের থেকে একটি পানি পাত্র নিয়েছি। সেনা নায়ক বলেন, তোমরা সেটি ফেরত দাও। কারণ তারা যিমাদ-এর সম্প্রদায় (তাদের কিছুই গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেননা যিমাদ নিজে এবং নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বায়আত গ্রহণ করেছেন)।
সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার আমাদের উদ্দেশে সংক্ষেপে একটি সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি মিম্বার থেকে নামলে আমরা বললাম, হে আবূল ইয়াকযান। আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষণ দিয়েছেন, তবে যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করতেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা সালাতকে দীর্ঘ এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আদী ইবন হাতিম থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সামনে ভাষণ দিল। সে বলল, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্যচরণ করল, সে পথভ্রষ্ট হল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা, তুমি এভাবে বল, "যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করল ও রসূলের অবাধ্যতা করল।" ইবন নুমায়র বলেন, "পথভ্রষ্ট হল"।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শারবাহ ও ইসহাক আল হান্যালী ..... সফওয়ান ইবন ইয়ালা ইবন উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে মিম্বারের উপর থেকে পাঠ করতে শুনলেনঃ "তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক (জাহান্নামের দারোগা)"- (যুখরুফ ৪৩ঃ ৭৭)।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান থেকে তার এক বোনের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমুআর দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ থেকে শুনে সূরাহ কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর দিন মিম্বারে দাড়িয়ে এ সূরাহ পড়তেন।
আবুত তহির .... আমরাহ তার এক বোনের সূত্রে বর্ণিত। যিনি তার বয়োজ্যেষ্ঠা ছিলেন। .... সুলায়মান ইবন বিলালের হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... হারিস ইবন নুমান এর এক কন্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ থেকে শুনেই সূরাহ কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর খুতবায় এ সূরাহ পড়তেন। বর্ণনাকার আরো বলেন, আমাদের ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একই রন্ধনশালা ছিল।
আমর আন নাকিদ .... উম্মু হিশাম বিনতু হারিসাহ ইবন নুমান এর জনৈকা কন্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, দেড়-দুই বছর যাবৎ আমাদের ও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একই রান্না ঘর ছিল। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ থেকে শুনেই "কফ" সূরাটি মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর দিন মিম্বারে দাড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে প্রদত্ত খুতবায় এ সূরাটি পড়তেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... উমারাহ ইবন রুয়াইবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বিশর ইবন মারওয়ানকে মিম্বারে দাড়িয়ে তার উভয় হাত উত্তোলন করতে দেখে বলেন, আল্লাহ এ হাত দুটিকে ধ্বংস করুন। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা ব্যতীত আর কিছু দেখিনি। বর্ণনাকারী তার তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... হুসায়ন ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমুআর দিন বিশর ইবন মারওয়ানকে তার দু' হাত উপরে তুলতে দেখলাম। উমারাহ ইবন রুয়াইবাহ বলেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
আবুর রাবী আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) জুমুআর দিন খুতবাহ দিচ্ছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি উপস্থিত হলে নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তিনি বলেনঃ উঠে দাড়িয়ে সালাত আদায় কর (তাহিয়্যাতুল মাসজিদ)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী .... জাবির থেকে বর্ণিত। .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় দু' রাকাআত সালাতের উল্লেখ নেই।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমর থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমুআর দিন জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি (তাহিয়াতুল মাসজিদ) সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ ওঠো এবং দু'রাকাআত সালাত আদায় কর। কুতায়বার বর্ণনায় আছে, তিনি বললেনঃ তুমি দু' রাকাআত সালাত আদায় কর।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আমর ইবন দীনার থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন। নবী (ﷺ) জুমুআর দিন মিম্বারের উপর খুতবাহ দানরত অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে এসে উপস্থিত হল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি দু'রাকাআত সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তিনি বলেন, সালাত আদায় কর।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আমর থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবাহ দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ জুমুআর দিনে (মসজিদে) এলো আর তখন যদি ইমাম (হুজরা থেকে) বের হয়ে থাকেন, তবে সে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে নিবে।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... জাবির থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমুআর দিন মিম্বারে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় সুলায়ক আল গাত্বাফানী মসজিদে এসে (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) সালাত আদায় করার আগেই বসে পড়ল। নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি কি দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছো? সে বলল, না। তিনি বলেন, তুমি উঠে দু' রাকাআত সালাত আদায় কর।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খশরাম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমুআর দিন সুলায়ক আল গাত্বাফানী এসে উপস্থিত হল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে বসে পড়লে তিনি তাকে বলেনঃ হে সুলায়ক উঠে সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় কর। .... অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, জুমুআর দিন তোমাদের কেউ যখন আসে এমতাবস্থায় যে, ইমাম খুতবাহ দিচ্ছেন তখন সে যেন সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে।
শায়বান ইবন ফাররূখ .... আবূ রিফাআহ বলেন, আমি যখন নবী (ﷺ) এর নিকট পৌছলাম, তখন তিনি খুতবাহ দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকার বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এক আগন্তুক তার দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছে। সে জানে না তার দীন কি? বর্ণনাকারী বলেন, একটি চেয়ার আনা হল, মনে হয় এর পায়াগুলো ছিল লোহার। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে বসে আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তা আমাকে শিক্ষা দিতে লাগলেন, অতঃপর এসে তার অবশিষ্ট খুতবাহ শেষ করেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... ইবন আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ কে মারওয়ান মদীনাহর প্রশাসক নিয়োগ করে মক্কায় চলে যান। আবূ হুরায়রাহ আমাদেরকে নিয়ে জুমুআর সালাত আদায় করতেন। তিনি সূরাহ জুমুআর পর দ্বিতীয় রাকাতে "আল-মুনাফিকূন" সুরাহ পড়েন। (সালাত শেষে) আবূ হুরায়রা (রাযীঃ) বলেন নিশ্চয় আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জুমুআর দিন এ সূরাহ দু'টি পাঠ করতে শুনেছি।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন শায়বাহ, কুতায়বাহ .... উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। মারওয়ান আবূ হুরায়রাহ-কে প্রশাসক নিয়োগ করলেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে অধস্তন বর্ণনাকারী হাতিম এর বর্ণনায় আছে, তিনি প্রথম রাকাআতে জুমুআহ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে "ইযা- জা-আকাল মুনাফিকূন" (মুনাফিকুন) পাঠ করেন। আবদুল আযীয এর রিওয়ায়াতে সুলায়মান ইবন বিলাল-এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও ইসহাক .... নুমান ইবন বাশীর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' ঈদের সালাতে ও জুমুআর সালাতে "সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ'লা-" ও "হাল আতা-কা হাদীসুল গ-শিয়াহ" সূরাদ্বয় পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ঈদ ও জুমুআহ একই দিন হলেও তিনি উভয় সালাতে ঐ সূরাদ্বয় পাঠ করতেন।
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ .... ইব্রাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুনতাশির সানাদ একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আমর আন নাকিদ .... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যহহাক ইবন কায়স নুমান ইবন বাশীর কে চিঠি লিখে জিজ্ঞেস করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমুআর দিন সূরাহ জুমুআহ ব্যতীত আর কোন সূরাহ পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি "হাল আতা-কা হাদীসুল গ-শিয়াহ" সূরাহ পাঠ করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জুমুআর দিন ফজরের সালাতে "আলিফ লা~ম মী~ম তানীলুস সাজুদাহ" (আস সিজদা) ও "হাল আতা- আলাল ইনসা-নি হীনুম নিনাদ দাহর" (আদ দাহর) এবং জুমুআর সালাতে সূরাতুল জুমুআহ ও সূরাহ মুনাফিকুন পাঠ করতেন।
ইবন নুমায়র, আবূ কুরায়ব .... সুফইয়ান থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... মুখাওওয়াল থেকে একই সানাদ সূত্রে ঈদ ও জুমুআর সালাতের সূরাহ সম্পর্কে সুফইয়ান এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জুমুআর দিন ফজরের সালাতে "আলিফ লা~ম মী~ম তানীল" ও "হাল আতা-" সূরাদ্বয় পাঠ করতেন।
আবূত তহির .... আবূ হুরাররাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জুমুআর দিন ফজরের সালাতে প্রথম রাকাআতে "আলিফ লা~ম মী~ম তানীল" (আস সিজদা) এবং দ্বিতীয় রাকআতে "হাল আতা আলাল ইনসা-নি হীনুম মিনাদ দাহরি লাম ইয়াকুন শায়আম মাযকুরা"(দাহর) সূরাদ্বয় পাঠ করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন জুমুআর সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার পরে চার রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ ... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা জুমুআর সালাতের পর আরো সালাত আদায় করলে চার রাকাআত (সুন্নাত) আদায় কর। আমর তার রিওয়ায়াতে আরো বলেন, ইবন ইদরীস বলেছেন যে, সুহায়ল বলেন, তোমরা তাড়াহুড়ায় থাকলে মসজিদে দু' রাকাআত এবং (বাড়িতে) ফিরে গিয়ে দু' রাকআত আদায় করো।
যুহায়র ইবন হারব, আমর আন নাকিদ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জুমুআর সালাতের পর সালাত আদায় করতে চাইলে সে যেন চার রাকাআত আদায় করে। জারীর এর রিওয়ায়াতে 'তোমাদের মধ্যে' কথাটুকু যুক্ত হয়নি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ, কুতায়বাহ (ইবন সাঈদ) .....আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি জুমুআর সালাত আদায় করে ফিরে এসে নিজ বাড়িতে দু'রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। তিনি পুনরায় বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাই করতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নফল সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি জুমুআর সালাতের পর ফিরে না আসা পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, অতঃপর নিজ বাড়িতে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। ইয়াহইয়া বলেন, মনে হয় আমি আদায় করেছি (বর্ণনা করেছি), তিনি সালাত আদায় করতেন অথবা অবশ্যই (সালাত আদায় করতেন)।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জুমুআর সালাতের পর দু'রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... উমর ইবন আতা ইবন আবূল খুওয়ার থেকে বর্ণিত। নাফি ইবন জুবায়র তাকে নামির-এর ভাগ্নে সায়িব-এর নিকট একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পাঠান যা মুআবিয়াহ তার সালাতের ব্যাপারে লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, হ্যা, আমি মাকসূরায় দাড়িয়ে তার সাথে জুমুআর সালাত আদায় করলাম। ইমামের সালাম ফিরানোর পর আমি আমার জায়গায় দাড়িয়ে (সুন্নাত) সালাত আদায় করলাম। তিনি প্রবেশ করে আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন, তুমি যা করেছে তার পুনরাবৃত্তি করো না। তুমি জুমুআর সালাত আদায় করার পর কথা না বলা পর্যন্ত অথবা বের না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কোনরূপ সালাত আদায় করো না। কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা কথা না বলা অথবা বের হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত যেন সালাত না আদায় করি।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... উমার ইবন আত্বা থেকে বর্ণিত। নাফি ইবন জুবায়র তাকে নামির এর ভাগ্নে সারিব ইবন ইয়াযীদ এর নিকট পাঠান। .... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের ন্যায়। তবে তিনি বলেনঃ তিনি সালাম ফিরালে আমি আমার জায়গায় গিয়ে দাড়িয়ে গেলাম। এ সূত্রে ইমাম' শব্দটি যুক্ত হয়নি।