উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধান (৪০৩৩-৪০৫৫)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... উসামাহ্ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তি কাফিরের ওয়ারিস হবে না এবং কাফিরও কোন মুসলিমের ওয়ারিস হবে না।
আবদুল আ'লা ইবন হাম্মাদ নারসী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অংশীদারদের নির্ধারিত প্রাপ্য অংশ দিয়ে দাও। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা (আসাবা হিসেবে) নিকটতম পুরুষ লোকের প্রাপ্য।
উমাইয়াহ্ ইবন বিসতাম আল-আইশী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ প্রদান কর। তারপর যে অংশ অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষের প্রাপ্য।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সম্পদ অংশীদারদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা অনুযায়ী বন্টন কর। তারপর যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষের প্রাপ্য।
মুহাম্মাদ ইবন আলা আবূ কুরায়ব হামদানী .... ইবন তাউস এর সূত্রে উপযুক্ত হাদীস, ওয়াহায়ব ও রাওহ্ ইবন কাসিমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
আমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন বুকায়র নাকিদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসেন। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযু করেন এবং ওযু র অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, আর বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিরূপে বন্টন করবো? তিনি আমাকে কোন উত্তর দেননি, মীরাস সংক্রান্ত আয়াত ("লোকে আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়, বলুন, পিতামাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ জানাচ্ছেন....."(আন নিসা ৪ঃ ১৭৬) নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবন মাইমুন .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও আবূ বকর পায়ে হেঁটে বানু সালামায় আমাকে দেখতে আসেন। তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় পান। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি আনতে বলেন। এরপর তিনি ওযু করেন, তারপর তা থেকে কিছু পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, আর বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করবো? তখন এ আয়াত নাযিল হয়- "আল্লাহ তোমাদের সন্তানাদি সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন; এক পুত্রের অংশ দু' কন্যার অংশের সমান....."-(আন নিসা ৪ঃ ১১)।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার কাওয়ারীরী ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখতে আসেন। আমি রোগাক্রান্ত ছিলাম। তার সঙ্গে ছিলেন আবূ বকর। তারা উভয়েই পায়ে হেঁটে আসেন। তিনি এসে আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযু করেন এবং অবশিষ্ট পানির কিছু আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখতে পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করবো? আমাকে তিনি কোন উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না মীরাসের আয়াত নাযিল হয়।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আগমন করেন। আমি তখন রোগে জ্ঞানহারা হয়ে পড়ি। তারপর তিনি ওযু করেন। তার ওযুর পানির কিছু অংশ লোকেরা আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কালালাহ অবস্থায় আমার মীরাস বন্টন হবে। অতঃপর মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হয়। আমি মুহাম্মদ ইবন মুনকাদিরকে বললাম 'আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন 'পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি' সম্পর্কে। (৪:১৭৬) তিনি বললেন, এমনটিই অবতীর্ণ হয়েছে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম নাযর ইবন শুমায়ল ও আবূ আমির আকাদী এবং মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ওয়াহব ইবন জারীর হতে এবং তারা সকলেই শুবাহ হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। ওয়াহব ইবন জারীর এর হাদীস আছে ফারায়িয'-এর আয়াত নাযিল হলো। আর নাযর ও আকীদার বর্ণনায় আছে ফারয-এর আয়াত নাযিল হলো। কিন্তু তাদের কারও বর্ণনায় এ কথা নেই যে, শুবাহ ইবন মুনকাদির বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন বাকর মুকাদ্দামী ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... মাদান ইবন তালহাহ্ হতে বর্ণিত। উমার ইবন খাত্তাব এক জুমুআর দিনে খুতবাহ প্রদান করেন। তিনি নবী (ﷺ) ও আবূ বকর এর কথা বললেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার পরে এমন কোন বিষয় রেখে যাব না, যা আমার নিকট কালালার চেয়ে বেশী জটিল। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বারবার কোন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করিনি, যেমনটি বারবার জিজ্ঞেস করেছি কালালাহ সম্পর্কে। আর তিনিও অন্য কোন বিষয়ে এমন কঠোরতা আমাকে দেখাননি যেরূপ কঠোরতা দেখিয়েছেন এ বিষয়ে। এমনকি তিনি তার আঙ্গুল আমার বুকের উপর চেপে ধরে বলেছেন, হে উমার! গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ সূরা নিসার শেষের আয়াত কি তোমার জন্যে যথেষ্ট নয়? আর আমি যদি জীবিত থাকি তবে এ ব্যাপারে এমন ফায়সালা করবো যা দেখে কুরআন পাঠকারী আর যে কুরআন পড়ে না উভয়েই ফায়সালা করবে।
আবূ বকর ইবন শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন রাফি ..... কাতাদার সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
আলী ইবন খাশরাম .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের সর্বশেষ যে আয়াত নাযিল হয় তা হলো 'আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন 'পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি' সম্পর্কে। (৪:১৭৬)
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব (রামিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত কালালা'র আয়াত এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরা বারাআত।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... বারা হতে বর্ণিত যে, সর্বশেষ অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা, সূরা তওবা আর সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত 'কালালাহ্' আয়াত।
আবূ কুরায়ব ..... বারা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে অতিরিক্ত এ কথাটি বলেন যে, 'সর্বশেষ অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা'।
আমর আন নাকিদ ..... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত 'আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন... (৪:১৭৬)
যুহায়র ইবন হারব ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যদি এমনও মৃত দেহ (জানাযার জন্যে) আসতো যার উপর ঋণ থাকতো, তবে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে কি তার ঋণ পরিশোধের জন্যে ঐ পরিমাণ সম্পদ রেখে গেছে, যা দ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে? যদি জানান হতো যে, সে ঋণ পূর্ণ করার পরিমাণ সম্পদ রেখে গেছে, তবে তিনি তার জানাযাহ পড়তেন। অন্যথায় বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযাহ পড়ো। যখন আল্লাহ তার জন্য সম্পদের সমৃদ্ধির পথ খুলে দেন, তখন তিনি বলেন যে, আমি মুমিনদের জন্যে তাদের নিজেদের অপেক্ষাও বেশি নিকটবর্তী। সুতরাং যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যাবে, তার সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার উপর। আর যে লোক সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য।
আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন নুমায়র ..... যুহরী এর সূত্রে উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঐ সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! পৃথিবীর উপর এমন কোন মুমিন নেই, যার সবচেয়ে নিকটতম (অধিকতর আপন) লোক আমি নই। সুতরাং যে লোক ঋণ অথবা সন্তান রেখে যাবে, আমি হবো তার অভিভাবক। আর তোমাদের কেউ যদি সম্পদ রেখে যায় তবে সে মাল পাবে তার নিকটজনেরা; সে যেই হোক না কেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ..... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি কতগুলো হাদীস বর্ণনা করেন। তার মধ্যে একটি এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর কিতাব মুতাবিক অন্য সব লোক অপেক্ষা আমি মুমিনদের সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নিঃসম্বল পরিজন রেখে যায়, তখন আমাকে ডাকিও, আমি তার অভিভাবক। আর তোমাদের মধ্যে যে সম্পদ রেখে যায়, তার সম্পদের অধিকারী হবে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যেই থাকুক।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সম্পদ ছেড়ে যায়, তা তার উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য। আর যে নিঃসম্বল পরিজন রেখে যায়, তার দায়িত্ব আমাদের।
আবূ বকর ইবন নাফি গুনদার থেকে এবং যুহায়র ইবন হারব আবদুর রহমান ইবন মাহদী হতে উভয়ে শুবাহ হতে উপরক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। অবশ্য গুনদার বর্ণিত হাদীসে আছে, আর যে ব্যক্তি নিঃসম্বল পরিজন রেখে যায়, আমি তাদের অভিভাবক হবো।